Page 1


HEARTIEST FELICITATIONS ON DURGA MATA POOJA CELEBRATIONS

ESTABLISHED IN 1921, ICIJ IS THE OLDEST ASSOCIATION OF THE

INDIAN DIASPORA. AFFILIATED WITH ALL MAJOR COMMERCE AND INDUSTRY INSTITUTIONS OF INDIA AND JAPAN. THE MEMBERSHIP COMPRISES SEVERAL OF THE LARGEST CORPORATE GROUPS. ICIJ

ENGAGES AS AN APEX BODY FOR ORGANIZING INDIA TRADE FAIRS,

EXHIBITIONS, SEMINARS AND SYMPOSIUMS.INDO-JAPANESE TRADE, ECONOMIC AND INVESTMENT POTENTIAL HAS EXPANDED

SIGNIFICANTLY, AND ICIJ OFFERS DEPENDABLE COMPREHENSIVE

SERVICES TO JAPANESE MANUFACTURERS, GENERAL CONTRACTORS AND OTHER INVESTORS FOR FRUITION OF THE INDIA-JAPAN ECONOMIC AGENDA

CHAIRMAN: MR. RYUKO HIRA, PRESIDENT: MR. JAGMOHAN S CHANDRANI, DIRECTORS: MR. A.S. LAKSHMINARAYANAN, MR. V. SRIRAM, MR. NITIN HINGARH, MR. MARKUS, MR. VASHDEV RUPANI, MRS. POPI KURODA, MR. SUBRAMANIA NATARAJAN, INTERNAL AUDITOR: MR. S. K. RANGWANI, AUDITOR: MR. VEERASURESHKUMAR VEERAPPAN TEN SPECIALISED COMMITTEES, GOVERNED BY: INFORMATION, COMMUNICATIONS & TECHNOLOGY - MR. V. SRIRAM AND MR. HARSH OBRAI, FOOD AND AGRICULTURE AND FOOD PROCESSING - MR. NITIN HINGARH, INDIAN RESTAURANTS - MRS. POPI KURODA, TOURISM AND TRAVEL INDUSTRY - MR. MARKUS, EDUCATION AND CULTURAL - MS. NIRMAL JAIN, LEGAL AND REGULATORY AFFAIRS - MR. VEERASURESHKUMAR VEERAPPAN, KANSAI REPRESENTATIVE - MR. KIRAN SETHI, NORTH JAPAN REPRESENTATIVE - MR. DILIP MANSUKHANI, INDIAN JEWELLERS - MR. ALOK RAKYAN, MERCHANDISE TRADING - MR. V. B. RUPANI 24-2-306 Yamashita-cho, Naka-ku, Yokohama 231-0023 Tel: 045-662-1905 Fax: 045-263-8109 Web: www.icij.jp Mail: info@icij.jp


Anjali

Durga Puja Program October 6, 2019 Puja Anjali Prasad & Lunch Cultural Program Puja & Arati

… … … … …

11:00 AM 12:00 PM 12:30 PM 2:00 PM 4:00 PM

Cultural Program Opening dance Durga Vandana

Advika, Akanksha, Anaya, Ashmita, Rhitwikaa

Chorus song:

Children’s dance:

Classical fusion dance:

Chaitali Paul, Meeta Chanda, Maitrayee Majumdar, Purbita Datta, Biswanath Paul, Mayukh Datta Ananya, Ashmika, Atreyee, Ayana, Gandharbee, Rajeshwari, Suvechha, Tosani, Zinniya Kaajal Misra, Ishvaryaa Chandan, Arpana Mitra

Festivals of India and Japan

Children: Aahan, Advika, Ananya, Ashmika, Ayana, Diaan, Hrihan, Kiaan Dancers: Arpana Mitra, Priya Panda, Payel Roy Chanda, Priyanka Basu, Pamela Maiti, Reimi Dasdeb, Rituparna Misra, Sumana Kar, Joyita Dutta, Maitrayee Majumdar, Meeta Chanda, Purbita Datta, Tuli Patra Singers: Amit Roy, Biswanath Paul, Chaitali Paul, Kalapi Roy, Aparna Karmokar, Arjyama Choudhury, Chaitali Paul, Joyita Dutta, Meeta Chanda, Maitrayee Majumdar, Purbita Datta, Sangeetha Krishnamoorty, Shatabdi Ghosh, Sayantani Dasgupta, Tuli Patra, Arun Sarkar, Snehashish Dutta, Mayukh Datta, Krishana Das, Sanjib Chanda, Somenath Kar, Angan Pati, Debjani Ray, Sanskrita Bhattacharjee

Guest artists: Dance groups - Mayukas, Nihon Kairali, Natyanjali Online, Japan dance school of Noriko Kuroe and Chisato Miura Narrators: Sneha Kundu, Sangeetha Krishnamoorty, Keiko Chattopadhyay, Purnima Ghosh, Amit Roy

Bengali comedy Aschorjo Indian: Stage, Light and Sound Compered by

Arjyama Choudhury, Angan Pati, Arnab Karmokar, Arpana Mitra, Kasturi Bhattacharyya, Pamela Maiti, Somik Ghosh Prabir Patra, Sanjib Chanda, Biswanath Paul, Mayukh Datta, Snehasish Dutta, Manas Mitra, Atsushi Suzuki, Kaori Izumida, Rita Kar Partha Kumar and Keiko Chattopadhayay Program coordinated by Rita Kar

Venue: Ota City Industrial Plaza (PiO), Main Exhibition Hall, 1-20-20, Minami Kamata, Ota-ku, Tokyo 144-0035, Tel: 03-3733-6425/6600

© Bengali Association of Tokyo, Japan (BATJ). All rights reserved. Disclaimer: The articles compiled in this magazine are personal opinion of the authors and in no way represent any opinion of BATJ.


সম্পাদকীয় তিরিশ বছর সিংহাসনে আসীন থেকে ২০১৯ সালে, স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করলেন জাপানের প্রাক্তন সম্রাট আকিহিত�ো। সমাপ্ত হ�োল তাঁর সময়কালকে চিহ্নিত করা হেইসেই যু গ। যু বরাজ নারুহিত�ো অভিষিক্ত হলেন জাপানের পরবর্তী সম্রাট হিসাবে এবং শুরু হ�োল নতুন যু গ রেইওয়া। ইতিহাসের কাজই হ�োল�ো অতীতকে ধরে রাখা। বিভিন্ন দৃ ষ্টিক�োণ থেকে তার পুঙ্খানু পুঙ্খ বিশ্লেষণ করা। ইতিহাসের পাতায় নথিবদ্ধ হেইসেই অধ্যায় এখন সেই পর্যাল�োচনার বিষয়বস্তু। দেশের আভ্যন্তরীন ও বহির্বিশ্বের শান্তি কামনা করে নামকরণ করা হয়েছিল যে যু গের, বাস্তবে সেই যু গ বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহে কতটা সার্থক হয়েছে মানু ষের আশাপূ রণ করায় তার হিসেবনিকেশ করছে মানু ষ। বিগত তিরিশ বছরে বিশ্বায়ন, অর্থনীতির উত্থান পতন, বিজ্ঞান ও প্রযু ক্তির অগ্রগতি, সাধারণ মানু ষের ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করেছে। বিজ্ঞান ও প্রযু ক্তির অগ্রগতিতে মানু ষের জীবনে সৃ ষ্টি হয়েছে নতুন আশা, আকাঙ্খা। অপরদিকে কিছু কিছু সমস্যারও উদ্ভব হয়েছে। বুদবুদ অর্থনীতি ফেটে যাওয়ায় জাপানের অর্থনীতি, দীর্ঘস্থায়ী যে মন্দার কবলে আক্রান্ত হয়, তার প্রভাবে অনেক পরিবর্তন এসেছে জাপানি সমাজে মানু ষের চিন্তাধারায়। সাবেক জাপানি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চাকরীর নিরাপত্তার যে অলিখিত শর্ত বহুদিন পর্যন্ত বলবৎ ছিল, অর্থনৈতিক চাপে মানু ষ হারিয়ে ফেলল সেই নিরাপত্তা। টলে গেল প্রচলিত ব্যবস্থার উপর জাপানিদের আস্থা ও নির্ভরশীলতা। চিকিৎসাশাস্ত্রের উন্নতিতে বৃ দ্ধি পেল মানু ষের আয়ু ষ্কাল, আবার একই সাথে জন্মহারের পতন জাপানি সমাজকে পরিণত করে দিয়েছে বয়�োবৃ দ্ধ সমাজে। জন্ম নিল এক নতুন সমস্যা – বয়�োবৃ দ্ধের সেবাযত্নের অর্থনৈতিক চাপ ও ল�োকবলের অভাব। হেইসেই যু গে জাপানী সমাজকে মুখ�োমুখি হতে হয়েছে আরও অনেক অনাকাঙ্খিত বাস্তব সমস্যার। সেইসব শুভ অশুভ পরিণতির প্রেক্ষিতে হেইসেই যু গকে বিশ্লেষণ করার প্রয়�োজন আছে। হেইসেই যু গ সম্পর্কে অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, প্রাযু ক্তিক এবং সামাজিক দৃ ষ্টিক�োণ থেকে সু শীল সমাজের ব্যক্তিগত মূ ল্যায়ণভিত্তিক প্রবন্ধ সংকলন এবারকার অঞ্জলির একটি মূ খ্য নিবেদন। আমাদের দুর্গাপূ জার গ�োড়াপত্তনও হয় হেইসেই যু গের সূ চনা থেকে। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে তিরিশ বছর ধরে অনু ষ্ঠিত হয়ে চলেছে আমাদের দুর্গোৎসব। এই জাতীয় একাধিক উৎসবের মধ্যে দিয়ে সংঘবদ্ধ হয়েছে ত�োওকিয়�োর ভারতীয় বাঙালি। অঞ্জলি পত্রিকা সেই প্রবাসী ভারতীয় বাঙ্গালী সমাজের চিন্তাধারা এবং সৃ জনশীলতা প্রকাশের একটি অপেশাদারী ক্ষু দ্র প্রয়াস। এটি মুখ্যতঃ বাঙালি সমাজ দ্বারা পরিচালিত হলেও এই পত্রিকায় সর্বজনীনতার আবেদনকে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যার প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় পত্রিকাটিতে একাধিক ভাষার উপস্থিতির মধ্যে দিয়ে। ২০১৯ সালে আমাদের সকলের প্রিয় BATJ-র দুজন সদস্য, ইহল�োকের মায়া ত্যাগ করে অমৃতধামে যাত্রা করেছেন। এই পত্রিকায় তাঁদের উদ্দেশ্যে জানান�ো হয়েছে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি। মঙ্গলদায়িনী মা দুর্গার কাছে সকলের সু খ ও শান্তি কামনা করি। অঞ্জলির সমস্ত পাঠকদের জানাই আমাদের শারদীয় শুভেচ্ছা।

www.batj.org

সমস্তা ল�োকা সু খীন�ো ভবন্তু...।।

Durga Puja 2019


Editorial Heisei era began in 1989 with the ascension of Emperor Akihito to the throne of Japan. It continued for thirty years, and finally came to an end in 2019 following Emperor’s abdication. Soon after, crown prince Naruhito ascended to the throne making the start of new era - Reiwa. History is meant for recording the past. A recorded history gives an opportunity for detailed analysis of the past from all possible different perspectives. Well documented Heisei era thus has now become the subject of review. This era, as the name signifies began with the dream of establishing peace all over the world. Time has come when people can reflect on the past thirty years and try to understand if this era, under the influence of various events, could fulfil the wish of the dreamers. In last thirty years, globalization, economic ups and downs, astounding progress in science and technology have brought various changes in the lives of individuals and of the societies in general. Progress in science and technology has given new hopes and aspirations to human beings. On the other hand several unexpected problems have also surfaced up in recent years. With the burst of bubble economy amplified by the effects of long recessions, changes started happening in the way Japanese people used to think traditionally. With life time employment in Japan in its heydays, common people were all guaranteed for a settled life. All of a sudden they discovered that during economic slump, this was not true anymore. This gave a big blow to their confidence and dependences on the existing systems. Medical science on the other hand, through great deal of improvements in recent years has continuously increased life expectancy of people. However, with the drop of childbirth, Japanese society rapidly turned into a super aged society, which in turn posed a severe challenge of providing care to the elderly people, especially due to the lack of human resources. There are further examples which tell us that Japanese society encountered many unwelcoming challenges during Heisei period. There is a need to review Heisei period objectively. A compilation of essays based on personal opinion of the civil society reviewing Heisei period from the perspectives of economy, science and technology, is the main theme of this year’s Anjali. Our Durga puja was also started in the same year when Heisei era began. Since then, we have been organizing this event for last thirty years. This and many other similar events have helped us to act as a responsible organized community in Japan. Anjali, our annual publication is an amateurish effort to offer a forum for expressing our thoughts and creativities. This magazine is primarily managed by Bengalis living in Tokyo, yet a flavor of universality can be observed in its multi-lingual nature. In 2019, two of our dear BATJ members had left us for their heavenly abode. We have offered our tribute to both of them in special sections. We earnestly pray to Goddess Durga to shower her grace on all readers of Anjali, and let there be peace everywhere for all time to come.


Anjali 2019

CONTENTS

Theme - Heisei 10 মেইজি থেকে রেইওয়া – একজন জাপানির অনু ভূতি   - কাজুহির�ো ওয়াতানাবে 12 Japan Industry in the Current of Inclusive Change    

- Manikchandra Ghosh

14 History of Indians in Japan  

- Yogendra Puranik

15 Japan’s Emergence  

- Partha Kumar

18 Scientific Achievements in Heisei Era  

- Prabir Patra

20 Japan and the Earthquakes  

- Ashoke Karmokar

Feature, Story, Travelogue, Poetry 23 গিরিশ চন্দ্র ঘ�োষ   - তপন কুমার রায় 26 ক্ষু দ্‌দা ও তেলের ব্যবহার   - অনু পম গুপ্ত 27 সংগ্রামী মা   - গ�ৌতম সরকার 28 প্রবাসী গৃ হবধূ   - আগমনী পাঠক 29 যে কথা রয় প্রাণের ভিতর অগ�োচরে   - দু হিতা সেনগুপ্ত 30 দেশ   - শঙ্কর বসু 31 শহর ট�োকিও, শীতকাল   - শ্রীকান্ত চট্টোপাধ্যায় 32 সাম্যবাদ ও স্বপ্ন দেখা   - সু ব্রত বনিক 33 দেশ   - শান্তনু চক্রবর্তী 34 দু ঃস্বপ্ন   - ক�ৌশিক ভট্টাচার্য্য 35 ফিরে দেখা   - বিশ্বনাথ পাল 36 The Bhagavad Gita - Nature of Work

- Suneel Bakhshi

38 How I wish to be Ravan from this Dussehra!

- Somik Ghosh

40 Future of Ageing society

- R.Selvacanabady

41 What’s My City?

- Shoubhik Pal

42 Tokiwadai Diaries~ Niku Ya san

- Piyali Bose

43 Grandfatherly Legacy

- Udita Ghosh

44 A Warm Welcome

- Nishant Chanda

45 There Is A City/ Elegy for Yokohama

- Utso Bose

46 Intelligence Re-invented

- Debraj Dasgupta

47 The Heart and the Angel

- Soumitra Talukder

48 Kurseong - My Mountain Home

- Joyita Basu Dutta

49 A Man Playing a Guitar

- Purnima Ghosh

- 若林 眞美子

50 インド・コルカタにてインド舞踊公演会 51 すばらしいインドの手工芸

- 矢部 正江

52 未解読の手紙

- 奥田由香

54 わっこひろば宙これから・・

- 山田 さくら

39 Arrival of the Pet Puja - The Feast vs. Fast!!!

6

- Arjyama Choudhury

Anjali

www.batj.org


55 माँ दुर्गा

- पूर्णिमा शाह

- नीलम मलकानिया

- शारं ग

- चिन्मय दीक्षित

- सुनील शर्मा

- रिमझिम मोहन्ती

56 कहानी - घर नहीं खोता 57 सुअवसर

58 शक्ति पर्व

61 दीपावली संदश े

62 माँ, मित्र, मातृभूमी

Children's Section 63 Poems

- Abheek Dutta, Grade V

64 Kutcheri Experience In Chennai

- Saikarthik Natarajan, Grade VI

65 The Haunted Mansion

- Ashmita Paul, Grade VII

67 Basketball War

- Arnab Karmokar, Grade VII

69 Change is the only Constant

- Akanksha Mukherjee, Grade IX

70 Drawings

74 Photography 76 New Borns 77 Arts

Tributes 80 শ্রদ্ধাঞ্জলি (জ্যোতির্ময়দা) 82 জ্যোতির্ময়দাকে স্মরণ করে   - রঞ্জন গুপ্ত 83 সমুখে শান্তি পারাবার   - স�ৌগতা মল্লিক 84 Jyotirmoy da

- Rita Kar

www.batj.org

86 শ্রদ্ধাঞ্জলি (মঞ্জুলিকাদি) 88 モンジュリカ追悼文

- 羽成 すなお

90 লেখিকা মঞ্জুলিকাদি   - রুমা গুপ্ত 91 কেমন আছ মঞ্জুলিকাদি?   - শুভা ক�োকুব�ো চক্রবর্তী 92 স্মৃতিটুকু থাক   - চন্দ্রিমা কুন্ডু 94 আমাদের মঞ্জুলিকাদি   - চৈতালি পাল, প্রীতিকণা সরকার 95 কী ভয় অভয়ধামে   - ভাস্বতী ঘ�োষ (সেনগুপ্ত)

Durga Puja 2019

7


Acknowledgements We are pleased to bring out our autumnal publication of Anjali on this auspicious occasion of Durga Puja celebration. Year 2019 marks the end of thirty years of Heisei era and beginning of new era Reiwa. In order to commemorate this major historical event within our limited scope, we decided to make a special section reviewing Heisei era from various viewpoints of the civil society. We are thankful to all contributors who have made it possible by their individual contribution. Anjali’s continuing success is made possible by the overwhelming support of many wellwishers. The Embassy of India in Tokyo extended their gracious support for which we are very thankful. We hope to receive the same patronage in future as well. We would like to thank all advertisers who have sponsored this year’s publication. We thank Amitava Ghosh, Biswanath Paul, Sanjib Chanda, Partha Kumar and Syamal Kar who on behalf of BATJ collected advertisements from our sponsors. Every year Anjali is being enriched by the valuable contributions from native speakers of different languages and various cultural backgrounds. We sincerely thank each of them for their overwhelming support. We convey our gratitude to the contributors who have sent us their contributions from outside Japan. We are happy to note that readership of our online version is expanding. At different stages of this process, we received valuable advices from many well wishers. We tried to incorporate their suggestions as much as possible. We convey our sincere thanks to all of them.

Editorial Team

Editorial Team Ranjan Gupta Ruma Gupta Sanjib Chanda Meeta Chanda Sudeb Chattopadhyay Keiko Chattopadhyay

Cover Artwork & Collages Meeta Chanda

Articles Integration & Design Sanjib Chanda

Ads Compilation Sudeb Chattopadhyay

(Digital version of Anjali 2019 will be available later at BATJ website.) 8

Anjali

www.batj.org


মেইজি থেকে রেইওয়া – একজন জাপানির অনু ভূতি – ��������������������������� গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১৮৬৮ সালে থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত চলা মেইজি যু গে প্রণীত জাপানের প্রথম আধু নিক সংবিধানে এমন বিধান ছিল যে একজন সম্রাটের শাসনামলের জন্য একটি করে যু গের নাম প্রদান করা হবে। তার আগে অমঙ্গল দূ র করা ইত্যাদির উদ্দেশ্যে ক�োন�ো একজন সম্রাটের আমলে ঘনঘন যু গের নাম পরিবর্তন করা ক�োন�ো বিরল ঘটনা ছিল না। নতুন করে প্রবর্তিত আইন অনু যায়ী মেইজির পর প্রত্যেকটি যু গের সঙ্গে একজন করে সম্রাটের সংশ্লিষ্টতা থাকে। তাই যু গের নাম শুনলে সেই নাম বহনকারী সম্রাটের প্রতিরূপ মনের পটে আঁকে, এমন ল�োক থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু আমার বেলায় সে রকম কখন�ো হয় না। তার পরিবর্তে মনে ভেসে আসে পরল�োকগত ঠাকুমা সহ আত্মীয়-স্বজনদের মুখ। আমার ঠাকুমার জন্ম মেইজি যু গের ২০তম বছরে, অর্থাৎ ১৮৮৭ সালে। বাবা-মা জন্মেছিলেন যথাক্রমে তাইশ�ো যু গের ১৪ ও ১৫তম বর্ষে। মেইজির পর তাইশ�ো যু গের আয়ু ষ্কাল ছিল স্বল্প; ১৫ বছর। এর কারণ সম্রাট ইয়�োশিহিত�ো মাত্র ৪৭ বছর বয়সে পরল�োক গমন করেন। ১৯২৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে একই মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত এক সপ্তাহ শ�োওয়ার প্রথম বছর হিসাবে গণ্য করা হয়। তার পর প্রায় ৬৪ বছর ধরে চলে শ�োওয়া যু গ। আমার নিজের জীবনের সূ চনা হয় এই শ�োওয়াতে। তার পর পুত্র-কন্যাদের জন্ম একই শ�োওয়াতে হলেও তাদের পরের প্রজন্মের সকলের এই পৃ থিবীতে আবির্ভাব প্রত্যক্ষ করতে পেরেছি ১৯৮৯ সালে হেইসেই যু গ শুরু হওয়ার পর। আমি ঠাকুরদাকে ক�োন�ো দিন দেখি নি। তিনি দ্বিতীয় মহাযু দ্ধ শুরু হওয়ার আগেই মারা গিয়েছিলেন। মৃ ত্যুর আগে তিনি নাকি নাগ�োয়া শহরে স্থানীয় সরকারের অফিসে চাকরি করতেন। একথা সম্ভবত ঠাকুমার কাছ থেকে শ�োনা। তবে ঠাকুমা তাঁর স্বামী সম্বন্ধে তেমন কিছু আমাকে বলতেন না। ছ�োট ছিলাম বলে আমিও ঠাকুরদার জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার তাগিদ অনু ভব করিনি। ঠাকুমা মধ্য জাপানের আইচি জেলার এক ছ�োট্ট শহরে আমাদের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর জন্ম ও বড় হওয়া একই জেলার প্রধান শহর নাগ�োয়াতে। ১৯৪১ সালে হাওয়াই দ্বীপের পার্ল হারবারে আকস্মিক বিমান হামলা পরিচালনার মাধ্যমে যু ক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরীয় যু দ্ধে লিপ্ত হবার পর জাপান কিছু দিনের জন্য আধিপত্য বজায় রাখতে পারলেও সেই গতি ধরে রাখতে পারেনি। অচিরেই অন্যান্য বড় শহরের মত নাগ�োয়াতেও মার্কিন বাহিনীর বিমান আক্রমণ শুরু হয়। অধিকন্তু দ্বিতীয় মহাযু দ্ধের অবসানের আগের বছর ১৯৪৪ সালে ঠাকুমার বড় ছেলে (অর্থাৎ আমার জ্যাঠামহাশয়) যক্ষ্মার�োগে আক্রান্ত হয়ে অল্প বয়সে মারা যান। আদরের ও নির্ভরশীল সন্তানকে হারিয়ে, সেই সঙ্গে নিজেদের জীবন রক্ষার জন্য ঠাকুমা সিদ্ধান্ত নেন নাগ�োয়া শহরের জীবন চুকিয়ে একই আইচি জেলার অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার। সেখানে তাঁর বড় মেয়ে বিয়ে সূ ত্রে বসবাস করতেন। ঠাকুমা ছ�োট ছেলে ( মানে আমার বাবা)-র সঙ্গে তাঁর মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিলেন। বাবা তখন সবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। যু দ্ধ শেষ হবার পরও ঠাকুমা সেই শহরে থেকে গেলেন। আমার বাবা ততদিনে পড়াশ�োনার পর্ব শেষ করে সেই শহরে চাকরি নিলেন। বিয়েও করেন সেখানেই। শ�োওয়ার ২৭তম বছরে আমার জন্ম হয়। ঠাকুমা আমাকে খুব আদর করতেন। আমিও ঠাকুমাকে ভীষণ ভালবাসতাম। তিনি ১৯৭৫ সালে ৮৯ বছর বয়সে মৃ ত্যু বরণ করেন। জীবনের শেষ ৩০ বছর নাগ�োয়ার বাইরে কাটালেও ঠাকুমা আজীবন নাগ�োয়ার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেন। আইচি জেলার মধ্যে নাগ�োয়াসহ পশ্চিম ভাগ এবং আমি যেখানে বড় হয়েছি সেই পূ র্ব ভাগে ভাষাগত পার্থক্য বিদ্যমান। আমি ঠাকুমার মুখে নাগ�োয়ার ভাষা শুনে শুনে বড় হয়েছি। এখন�ো নাগ�োয়াতে গিয়ে হঠাৎ সেখানকার টানের কথ�োপকথন - বিশেষ করে ক�োন�ো বয়স্কা মহিলার মুখ থেকে উচ্চারিত- কানে এলে ঠাকুমার কথাই মনে পড়ে যায়। ঠাকুমার মত মা-বাবারও জীবনের পথ বদলে যায় যু দ্ধের কারণে। দ্বিতীয় মহাযু দ্ধ চলাকালে মা ট�োকিওতে লেখাপড়া করতেন। ঠাকুমা ও বাবার মত মাও যু দ্ধের অগ্নিশিখা এড়াতে আইচি জেলায় আশ্রয় নিতে চলে যান। সেখানে তাঁর পিতৃপক্ষের বাড়ি ছিল। ঠাকুমা, বাবা ও মা- সবাই যু দ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। মায়ের মুখ থেকে শুনেছি তাঁর অভিজ্ঞতা করা বিভীষিকা ঘটনার কথা; একদিন ট�োকিওতে মার্কিন বাহিনীর বিমান আক্রমণ 10

এড়ান�োর জন্য তিনি যখন ছু টে পালাচ্ছিলেন, হঠাৎ দেখেন একজন তরুণী মা পিঠে শিশু বেঁধে দিয়ে তাঁর পাশ দিয়ে ছু টে চলে গেলেন। মা তখন লক্ষ্য করলেন, শিশুটির মাথা ফেটে গিয়ে ততক্ষণে সে মারা গেল। হয়ত ব�োমার টুকর�ো তার মাথার উপরে পড়লে সে সঙ্গে সঙ্গে নিহত হয়। কিন্তু শিশুটির মার তাতে খেয়াল হয়নি। তিনি তাঁর নিজের এবং সন্তানের জীবন রক্ষার জন্য নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করছিলেন। যু দ্ধের পর খাদ্যের অভাব সহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার মধ্যে অন্য সকলের মত আমার ঠাকুমা ও মাবাবাদেরও রীতিমত কষ্ট করতে হত। ৬০ বছরেরও বেশি দিন ধরে চলা শ�োওয়াকে তিন ভাগে ভাগ করে প্রথম ২০ বছরের মধ্যে অথবা তার আগে যারা জন্মেছিলেন, তাদের বাধ্য করা হত মেইজি যু গে প্রবর্তিত সংবিধানের অধীনে সম্রাটকে নরেশ্বর হিসাবে বিশ্বাস করতে। কিন্তু মাত্র একদিনে সব কিছু পালটে যায়। ১৯৪৫ সালের ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত সবাই শত্রু পক্ষের গালাগালি দিয়ে বলত যু ক্তরাষ্ট্র শয়তানের দেশ, কিন্তু সেই দিন জাপানের পরাজয় মেনে নিয়ে সম্রাট ঘ�োষণা দেওয়ার পর প্রাপ্ত বয়স্করা হঠাৎ মত পরিবর্তন করে বলতে শুরু করে যে যু ক্তরাষ্ট্র চমৎকার একটি দেশ এবং জাপানকে তার অনু করণ করতে হবে। এটা দেখে শিশুদের মনের মধ্যে বড়দের প্রতি যে অবিশ্বাস জন্মেছিল সেটাই স্বাভাবিক। ১৯৪৬ সালে জারি হওয়া নতুন শাসনতন্ত্রে বিধান করা হয়, সম্রাট দেশের প্রতীক। তিনি ক�োন�ো রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী নন। একই বছরে দেওয়া এক ঘ�োষণায় সম্রাট নিজেই বলেন, তিনি দেবতা নন, মানু ষ। আমার পরিবারের ল�োকেরা এসব পরিবর্তনকে কিভাবে নিলেন, জানি না। আমার বয়স যখন মাত্র তিন, বাবা গুরুতর অসু খে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়েছিলেন। পরিবার ভরণপ�োষণের দায়িত্ব একা মায়ের উপরে বর্তায়। কঠিন জীবন সংগ্রামের মধ্যে যু দ্ধোত্তর নতুন সামাজিক ব্যবস্থার মানে বা তাৎপর্য নিয়ে ভাববার মত সময় ও মানসিকতা মায়েদের ছিল বলে মনে হয় না। কিন্তু একথা মনে আছে যে জাতীয় ছু টির দিনে ক�োন�ো ক�োন�ো বাড়ির সদর দরজার পাশে জাতীয় পতাকা টাঙ্গাতে দেখা দিলেও আমার বাড়িতে সেই অভ্যাস ছিল না। শ�োওয়া যু গের দ্বিতীয় ভাগে অর্থাৎ ১৯৪৫ সাল থেকে ৬৫ বা ৭০ সাল পর্যন্ত জাপানের অর্থনীতি ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু হলেও দেশটি তখনও ছিল যথেষ্ট গরিব। আমার পরিবার অন্যান্য পরিবারের তুলনায় আর�ো গরিব, কারণ এক ওষু ধের দ�োকানে খণ্ডকালীন চাকরি করে মা যে আয় করতেন, তা দিয়ে গ�োটা পরিবারকে চালান�ো সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু সেই কঠিন আর্থিক অবস্থার মধ্যে একদিন আমাদের বাড়িতেও টেলিভিশন এল। আমি তখন ক্লাস থ্রি অথবা ফ�োর-এ পড়ি। বিভিন্ন হিসাব মতে সেই ১৯৬০ দশকের গ�োড়ার দিকে জাপানে প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারে টেলিভিশন ছিল। আর গড়পড়তা টেলিভিশনের দাম তখন ছিল প্রায় ৬০ হাজার ইয়েন। আমার এখন�ো মনে আছে, আমি যখন প্রাথমিক স্কুলের তৃতীয় বর্ষে পড়ি, সেই সময় জানতে পারলাম মা এক মাসে ৩০ হাজার ইয়েন বেতন পেতেন। এই অবস্থায় মা কিভাবে টেলিভিশন কেনার ব্যবস্থা করলেন, বু ঝতে পাচ্ছি না। সে যাই হ�োক, টেলিভিশনে প্রচারিত মার্কিন নির্মিত সিরিয়ালে সে দেশের সাধারণ নাগরিকদের জীবনে প্রাচুর্য দেখে অবাক হতাম। প্রত্যেক পরিবারে ম�োটরগাড়ি ও ফ্রিজ, আর সু ন্দর ও বড় কুকুর বাড়ির ভিতরে দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ! তখন ভাবতেও পারিনি একদিন আমরাও তাদের মত সমৃ দ্ধ জীবন যাপন করতে পারব। তার পর জাপান বিশ্বকে চমক লাগিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে দ্রুত চলতে শুরু করে। আমার বাড়িতেও বাবা অনেক দিন পর বিছানা ছেড়ে আবার কাজ করতে সক্ষম হওয়ায় পারিবারিক অর্থনীতিতেও ম�োটামুটি সচ্ছোলতা এল। ৭০-এর দশকে বিশ্বব্যাপী তেল সংকটের কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃ দ্ধির গতি কিছু টা মন্থর হলেও জাপান ততদিনে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশের তালিকাভূ ক্ত হয়। অনেকেই ধারণা করতে শুরু করে যে একদিন জাপান যু ক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃ হত্তম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে। কিন্তু সেই মায়া কেটে গেল ৯০-এর দশকের গ�োড়ার দিকে অর্থনৈতিক বু দবু দ ফেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। ১৯৮৯ সালে হেইসেই যু গ শুরু হওয়ার পর কিছু দিন জাপানে অর্থনীতির সক্রিয় গতি থাকলেও অচিরেই সেটা হারিয়ে যায় এবং দেশটি দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক স্থবিরতায় ভুগতে শুরু করে।

Anjali

www.batj.org


মেইজি থেকে রেইওয়া – একজন জাপানির অনু ভূতি – ব্যক্তিগতভাবে শ�োওয়ার শেষ ২০-২৫ বছরে জাপানি ও বিশ্ব সমাজের গতিপ্রকৃতিতে সংশয় বা বিদ্বেষ অনু ভব করতে শুরু করি। ১৯৭০ সালের আগে ও পরে সারা জাপানে বিশ্ববিদ্যালয়গুল�োকে কেন্দ্র করে ছাত্র বিক্ষোভ ডানা বেঁধে উঠেছিল। কখন�ো এসব আন্দোলনে জড়িত না হলেও তরুণ প্রজন্মের একজন হিসাবে আমি আন্দোলনকারীদের ক�োন�ো ক�োন�ো দাবির ব্যাপারে সহানু ভূতিশীল হতাম। তবে এই আন্দোলন অতি হিংস্র হয়ে উঠে গিয়ে যখন সামাজিক বিশৃ ঙ্খলা সৃ ষ্টি করতে শুরু করে, তখন আন্দোলনকারীদের মাত্রাতিরিক্ত কার্যক্রম ও তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষে সঠিক সাড়া দিতে না পারার কর্তৃপক্ষ, উভয়েরই বিরুদ্ধে ক্ষোভ জন্ম নিল আমার মনের মধ্যে। ব্যক্তিগত জীবনে পরিবার এবং কর্মস্থলে সু খ ও আনন্দের মুহূর্ত প্রায়ই অনু ভব করলেও জাপানি সমাজ সম্বন্ধে আমার সংশয় কখন�ো মিলিয়ে যায় নি—আর সেই একই প্রবণতা এখন�ো রয়ে গেছে। শ�োওয়া যু গের শেষ বছরে সম্রাট গুরুতর অসু স্থ হয়ে পড়েন। টেলিভিশনের খবরে র�োজ শুনতে হত সম্রাট কত সিসি রক্তকরণ করলেন, তাঁর রক্তের চাপ কত ইত্যাদি ইত্যাদি। টেলিভিশনের পর্দায় যারা আসেন, সকলের গায়ে অনু জ্জ্বল রঙের জামা। মনে হল যেন সারা জাপান শুধু সম্রাটের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা গ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সম্রাট দেশের প্রতীক, তাই তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে দু শ্চিন্তা অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু অবাক হয়ে ভাবতাম, এটা বেশী মাত্রায় হয়ে যাচ্ছে না ত�ো? ১৯৮৯ সালের ৭ই জানু য়ারি সম্রাট হির�োহিত�োর জীবনাবসান ঘটে। সেই সঙ্গে শ�োওয়াও শেষ হয়ে শুরু হয় হেইসেই যু গ। ‘হেইসেই’ নামটি নাকি নেওয়া হয়েছে চীনের দু টি ঐতিহাসিক আখ্যান থেকে এবং এর অর্থ ‘দেশের ভিতরে ও বাইরে তথা আকাশে ও ভূ মিতে শান্তি অর্জন’। অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা কামনা করে এই নামকরণ করা হয়। বাস্তবে অবশ্য হেইসেই হয়েছিল অশান্তিপূ র্ণ ঘটনাবহুল একটা যু গ। যে বছরে হেইসেই শুরু হয়, সে বছরে পূ র ও পশ্চিম জার্মানিকে বিভক্তকারী বার্লিনের প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলা হয়। আমরা প্রত্যক্ষ করেছি দু ই জার্মানির একীভূ তকরণ। স�োভিয়েত ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সমাজতান্ত্রিক বিশ্বে পরের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন ঘটতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত স�োভিয়েত ইউনিয়ন তার অস্তিত্ব হারায়। স�োভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বের একটিমাত্র পরাশক্তিতে পরিণত হয় মার্কিন যু ক্তরাষ্ট্র। কিন্তু যু ক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও সেই মর্যাদা দীর্ঘ দিন উপভ�োগ করা সম্ভব হয় নি। উপসাগরীয় যু দ্ধ এবং ইরাক যু দ্ধে হস্তক্ষেপের ফলে যু ক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষকে মাথা চালা দিয়ে উঠতে দেখা যায়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রসহ যু ক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যু গপৎভাবে পরিচালিত হয় সন্ত্রাসী হামলা।

www.batj.org

অর্থনীতির ক্ষেত্রেও যু ক্তরাষ্ট্র শান্তিতে থাকতে পারেনি। দেশটিতে ঘটে যাওয়া সাবপ্রাইম মর্টগেজ সংকট অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে এবং ২০০৮ সালে ব্যাপক অর্থনৈতিক মন্দার খপ্পরে পড়ে সারা বিশ্ব। ১৯৯১ সালে অর্থনৈতিক বু দবু দ ফেটে যাওয়ার পর মন্দায় কবলিত জাপানের অর্থনীতি এই ধাক্কায় আর�ো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাপানের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমতে থাকে, মুদ্রা সংক�োচনে ভুগতে হয় দেশটির অর্থনীতিকে। সেই প্রবণতা এখন�ো পুর�োপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি জাপান। অধিকন্তু হেইসেই যু গে ঘনঘন ব্যাপক প্রাকৃতিক দু র্যোগের শিকার হতে হয় জাপানকে। ১৯৯৫ সালে পশ্চিম জাপানের ক�োবে শহরকে বিনষ্ট করে ঘটে গেল এক মহা ভূ মিকম্প। সেই দু ঃস্বপ্ন কাটতে না কাটতেই ২০১১ সালের ১১ মার্চ অপর একটা মহা ভূ মিকম্প পূ র্ব জাপানে আগাত হানে। এর বাইরে প্রায় প্রত্যেক বছরের মত জাপানে ঘটে যাচ্ছে ঘূ র্ণিঝড় বা ম�ৌসু মি বৃ ষ্টির কারণে সৃ ষ্ট অনেক প্রাণহানির ঘটনা। হেইসেই যু গের অবসান ঘটে সম্রাট আকিহিত�োর ঘ�োষণা অনু যায়ী এবছর ৩০ এপ্রিলে, ঘটনাচক্রে যে দিন ছিল আমাদের ৪০তম বিবাহ বার্ষিকী। নতুন যু গের নাম দেওয়া হয় রেইওয়া। জাপান সরকারের ব্যাখ্যা অনু যায়ী রেইওয়ার মানে ‘মন�োহর সামঞ্জস্য’। নামটিতে হয়ত সু ন্দর সমন্বয়ের মাধ্যমে এক সাথে শান্তিপূ র্ণভাবে বসবাস করতে পারার মত সমাজের জন্য আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এই নামের মত শান্তিপূ র্ণ বিশ্ব যদি সত্যি সত্যিই দেখতে পারা যায়, তাহলে ত�ো কথাই নেই। কিন্তু হেইসেই যু গে সেই নামে অন্তর্গত প্রার্থনার মত কাঙ্ক্ষিত ঘটনাবলীতে যে ভরপুর ছিল না, সেই সত্যতা আমরা দেখেছি। শ�োওয়া নামটিও নাকি বিশ্বের শান্তিপূ র্ণ সহাবস্থানের কামনা থেকে দেওয়া হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূ র্ণ হয়নি। শ�োওয়া যু গের শেষের দিনগুলিতে সম্রাট হির�োহিত�োর অসু স্থতার কারণে জাপানি সমাজের যে প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, তাঁর পুত্র সম্রাট আকিহিত�ো মেইজির পর প্রতিষ্ঠিত অভ্যাস ভেঙ্গে দিয়ে আগেভাগে সিংহাসন ত্যাগের ঘ�োষণা দেওয়ায় এবার সেরকম পরিস্থিতি হয়নি। বরং সারা দেশ জুড়ে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা হল। তবে খুলে বলি, আমি নিজে তার সঙ্গে একাত্ম ব�োধ করতে পারিনি। যু গের নাম পরিবর্তনের ফলে যে কিছু যে বদলে যাবে, সে কথা সহজে বিশ্বাস করা আমিসহ অনেকের পক্ষে কঠিন, যদিও আমি মনের অন্তর থেকে কামনা করি যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যেন তাদের জীবনে কখন�ো যু দ্ধ বাধতে দেখতে হয় না, আর তারা যেন সু খের জীবন কাটাতে পারে। মনে মনে ভাবি, আমার ঠাকুমা, বাবা ও মা—যারা দ্বিতীয় মহাযু দ্ধের আগে ও পরে জাপানি সমাজের এবং জাপানি মূ ল্যব�োধের বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন, তাঁরা এবারের ঘটনাবলি দেখে কী বলবেন। 

Durga Puja 2019

11


Japan Industry in the Current of Inclusive Global Change in Heisei era

  - Manikchandra Ghosh

J

apan, the Industrial nation, began a new chapter in its history marking a new era ‘Reiwa-the Beautiful Harmony’ with the ascending of Crown Prince Naruhito to the Throne on May 1st, 2019, after the voluntary abdication of his father Akihito declaring the end of thirty-year long ‘Heisei era-the Peace Everywhere’ on April 30th, 2019. It was not only a great event that filled with many expectations and aspirations of all people in Japan but also an important landmark in Japan’s history. On the 30th celebration of our Durga puja in this new Japan era, we, therefore, look back at the leading events of the past three decades and beyond, and see specifically how Japanese industry sailed in the current of inclusive changes across the globe in the Heisei era.

(1) As Japanese Industry had grown and it had demonstrated its superior manufacturing skills through launching several new products in almost in every domain of production, history also witnessed that the favorable atmosphere for cooperation from foreign countries that accelerated its growth had disappeared. It experienced competition from all corners. It had lost its easy access to foreign technology. For further growth, Japan Industry became dependent on its own basic research and innovation. (2)

After World War–II, Japan made tremendous progress in almost all industrial domains including heavy industry, chemical and petrochemical industry, electrical and electronics industry, consumer goods production and pharmaceutical industry. Japanese innovative ideas, systematic approach, quality consciousness, and unique skill of adaptation grew Japan’s Industry quickly after post war, on the world stage and received recognition as a techno-industrial superpower.

(3) Foreign investment that boomed at the early Heisei era had declined sharply after bubble economy collapsed. It had an adverse effect on Japan’s Industrial growth. (4) Japan faced two major natural disasters during Heisei era–(a) the Great Hanshin Earthquake in 1995 and (b) the Great East Japan Earthquake and tsunami in 2011. Those two disasters had an impact on Japan’s Economy and industry.

Japanese Industry initially triggered its growth and rapid recovery from war devastated damage mainly with close interaction with USA that favored the inflow of technology and expertise from the United States to Japan, through both industrial relationships and interactions involving government laboratories and universities. However, Japanese Industry acclimatized those imported technologies and expertise by amalgamation with its own innovation, quality and miniaturization. This approach made Japanese Industry successful in inventing new kind of products that created its own market in the contemporary world. For instance, utilizing imported transistor technology, Sony launched its small radio that became popular across the globe. Flat panel displays in calculator in early 1970s by Sharp, utilizing imported liquid crystal technology that was developed in 1960 is another instance. Indeed, the proper acquisition, effective adaptation, and improvisation of the imported technologies by Japanese industry served as the basis for Japan’s rapid economic growth and its international competitiveness. It is also true that certain economic cum political crisis in the past also worked in favor of Japan in achieving its accelerated growth. For instance, during 1980s when oil price became high, demand for large size cars decreased. Japan took that opportunity and exported their small cars to the USA. It ultimately helped Japan capture the Automobile Market. During Korean War, Japan Automobile Industry boosted its exports as the U.S. military procured special vehicles from Japan.

(5) Information technology (IT) and Internet that was born in the United States in Heisei era, integrated the world with the flow of knowledge, and information at an amazing speed. It created new kinds of diverse businesses that the world could not imagine before. However, it appears that Japanese electronics Industry had failed to recognize its potential in a timely manner. As a result, Japanese Firms lagged in exploiting its full potential and boosting industrial growth for the electronic market in comparison to other nations. Eventually, Japanese firms were forced to share the mobile phone market with Chinese, South Korean and American Company in Heisei era and that trend still continues today. Historical events show that Japanese industry recognized the issue of stagnation subsequent to the economic bubble burst and looked for several options to escape from it. Some effort of Japanese Industry as early as 1991 carries the signature of its attempt. Most important measures that Japanese Industry took in Heisei era are highlighted below:

This trend of rapid advancement of Japan’s industry continued up to the early Heisei era, when Economic empowerment of Japan led Sony to go for the acquisition of Hollywood’s Columbia Pictures and Mitsubishi Estate to buy New York’s Rockefeller Center. That success drew the international attention and admiration. However, only three years later, Japan’s asset-price bubble collapsed, triggering a full-fledged financial system crisis and setting the stage for long stagnation of Japanese Industry. Several factors could possibly be attributed to the long stagnation of Japanese Industry growth and its economy. Major ones are briefly described below: 12

Watching the phenomenal growth rate, other nations had also adopted strategy of their own industrial growth, like the one followed by Japan after World War II. Those measures helped them to some extent to make reasonable progress in developing their industry. With that effort, they ultimately, became competitors to the Japanese companies in some areas.

Anjali

(1) Japanese Industry always gave importance to productivity. The secret of achieving productivity in Japanese Way was revealed by Toyota. Based on management innovation, ‘Toyota Production system’ was made public by Toyota Motor Corporation in 1992. It was applied extensively to achieve the several goals. Most important ones were to reduce cost through minimizing waste, to make the process easier and maintain high quality, to create a business focused work culture, and to nurture a lean production system capable of responding immediately to demands in the market. (2) Anticipating difficulties in obtaining technology from foreign companies, both Japan’s Industry and government gave emphasis on indigenous innovation and industrial research. (3) As early as around 1991, in line with the concept of www.batj.org


Japan Industry in the Current of Inclusive supply chain management, some Japanese firms started shifting some of their manufacturing units abroad with an aspiration and expectation of harvesting the advantage of growing emerging markets and the lower cost of manufacturing goods abroad due to lower cost of work force and material. As a result offshore operations of Japanese firm were increased about 3.3 times in year 2016 in comparison to that of 1990. (4)

Japanese industry, particularly electronics industry, adopted modularization approach in manufacturing and started integrating their offshore units located mostly in neighboring Asian Countries in the main stream of management horizontally in around 1990. One of the oblivious merits of that integration was noticed in improvement in regional cooperation and liberalization of investment without compromising quality.

(5) Japanese Corporate took a radically new decision at the level of the corporate culture in order to align with concept of globalization in the end of 1990s. It started hiring non-Japanese and accepting English as a medium of international communication in parallel to Japanese. That approach helped Japanese Firm lead their business effectively across the globe.

In the new era ‘Reiwa-the Beautiful Harmony’ Japanese Industry has confidently moved forward with its strong work force treasuring its worldwide reputation as a quality conscious nation. It is expected that all the positive thoughtful measures already taken by the Industry in the past will continue in the new era. Emphasis will be given more on innovative research and technology development particularly in the newly emerging high-tech areas such as robotics, artificial intelligence, etc. and preparing itself for the next phase of industrial revolution. With all these sincere efforts by Japanese industry together with the industrial policy recently introduced by Japan Government, it is likely that it will be ready to move forward on the path of harmony for embracing the global business market with full understanding of the diverse needs across the world in order to overcome its stagnation. On the auspicious occasion of the new era ‘Reiwa’, like Japanese Industry, we, a group of individuals, also cherish our experience and learning from the past ‘Heisei era’. We uphold the spirit of ‘Reiwa –the harmony’, through our celebration of Druga puja. We pray to goddess Durga for achieving the beautiful harmony, the motto of new era in true sense in our every effort and action for advancement, and wellbeing of every individual, our society, and industry. 

Reference [1] Maximizing U.S. Interests in Science and Technology Relations with Japan (1997), Chapter 2, Science, Technology, and Innovation in Japan, The National Academies Press Open book[ URL: NAP.edu/10766] URL https://www. nap.edu/read/5850/chapter/5 [2] Offshoring by Japanese Companies during the Heisei Period by Tomikazu Hiraga, Ph.D. Professor, Faculty of Management, Osaka Seikei University, Adjunct Research Fellow, NLI Research Institute URL: https://www.iist. or.jp/en-m/2019/0288-1099/ [3] Editorial: After Heisei slump, innovation and skills key to Japan’s economic future, April 27,2019(Mainichi Japan) URL: https://mainichi.jp/english/articles/20190427/p2a/00m/0na/017000c [4] Japan Enters Reiwa Era with New Identity: Heisei Changes Were Subtle Yet Profound by Nobuko Kobayashi https://www.jef.or.jp/journal/ Japan SPOTLIGHT • July / August 2019 51 URL: https://www.jef.or.jp/journal/pdf/226th_Special_Article_02.pdf [5] ‘Heisei to Reiwa – Japan enters a new age’ by Nicolas Tranter Lecturer in Japanese Studies, University of Sheffield, The Conversation, 10 Apr 2019, the World Economic Forum. URL:https://www.weforum.org/agenda/2019/04/ japan-spring-and-prosperity-the-watchwords-as-country-announces-a-new-era/ [6] ‘A new emperor, a new era. A new Japan? After an Imperial age marked by stagnation, nation hopes for a “reset” ‘by HIROSHI MARUTANI, Nikkei Political Editor, MARCH 20, 2019 16:12 JST URL:https://asia.nikkei.com/Spotlight/Cover-Story/A-new-emperor-a-new-era.-A-new-Japan

www.batj.org

Durga Puja 2019

13


History of Indians in Japan   - Yogendra Puranik Councillor of Edogawa City in Tokyo

T

he India-Japan relation started in the 6th century when Hinduism and Buddhism were conveyed to Japan. Bodhisena, an Indian Buddhist scholar and monk, visited Japan in the 7th century, lived here for 25 years and preached Buddhism. He met the Japanese Emperor and was treated with great honour. Thereafter he stayed in a temple called Daian where he started Kegon school of Buddhism and taught Sanskrit. He participated in the eye-opening ceremony of the giant Buddha statue in Nara Todai temple. Bodhisena’s bones were laid in Ryoujusen mountain in 760. Records say that thereafter Japanese scholars and monks started visiting India to study at Nalanda University. The history of modern Indian settlement in Japan started from 1870s when some Sindhi and Parsi businessmen and their families settled down in Yokohama and Okinawa. Before that few Indians came to Japan on Portuguese boats in the 16th and 17th century and on the British boats in the 18th and 19th century. As per the statistics released by Japanese government, there were 30 Indians in Japan in 1901. Thereafter Indians started settling in Hyogo prefecture. By 1905 there were around 70 Indians in Hyogo prefecture. In the aftermath of the Great Kanto earthquake in 1923, many Indians moved from Yokohama to Kobe. The Indian population in Japan grew to 632 in 1939 which reduced to 114 in 1942 owing to British sanctions against Japan. The Indian National Army and Japanese army collaboration formed under the leadership of R. B. Bose, for achieving Indian independence, is well known. As a part of this collaboration, the INA youngsters joined Japanese military schools for training. However, the whole plan stopped after the sudden disappearance of INA Chief S. C. Bose. After the end of world war, the Indian population in Japan grew again, just to a few hundreds, mainly the businessmen community around Kobe. India, represented by R. B. Pal, supported Japan in the post-war international tribunal. In 1949, the then Indian prime minister Nehru gifted an elephant to Japan. Thereafter, as Japan became an ally of the US and India of the Soviet Union, India and Indians were not looking east. By 1980 the Indian population in Japan was a bit less than 2000, led by the businessmen community, 40% of which lived in Hyogo prefecture. Kobe was the largest port heading towards Asia. In Kobe, places of worship were established during these times. It was only in the 1990s, when the Indian immigrants to Japan showed a steep increase and that too around Tokyo area. The year 2000 issue of information systems opened the flood gates for Indian IT engineers. For the Japanese, it was just a oneoff activity they needed help from the Indian IT industry. However, this gave a realization to some corporates about the usefulness of Indian IT engineers, project managers and business managers. By 2001, the Indian population in Japan was around 10,000. In the meantime, Indian scholars started coming to Japan, in very low numbers though as compared to neighbouring countries. For Indians, Russia, Germany, and later the Americas were most popular destinations. However, during the last few years, as the India and Japan ties have strengthened, the number of scholarships offered to Indian students and vice versa, have significantly increased.

Indian restaurant business in Japan started from 1970s in Tokyo. The north Indian food was quite popular in Japan until the year 2000 after which south Indian food restaurants also started picking up. Today, there are around 1300 to 1400 Indian restaurants only in Tokyo out of which only a handful are run by Indians and rest by the Nepalese. Since 2001, the demand of Indian IT engineers increased steadily on a continuing basis. In the beginning, the Indian IT companies would largely work as partner with the Japanese IT companies to offer services to customers in Japan. Over years, a good number of customers have chosen to work directly with Indian IT companies to reap the advantages of labour arbitrage. Given this, the large Japanese IT companies have also opened their centres in India and started direct recruitments from India. This development has led to change in life styles of the Indians in japan. As compared to a project-based visit to Japan in the past, more Indians are now coming to Japan for long term jobs, along with their families. The Indian community in Tokyo now has more than 1000 school going kids. These kids attend schooling primarily in the Indian and other international schools in and around Tokyo. Education is yet a challenge as Indian parents are looking for better schooling for their kids. Getting admissions into Japanese universities is a further challenge due to the big language barrier. Most of the kids opt to go overseas for their under-graduate and graduate studies. The change in durations of stay in Japan also brought a lot of changes in the life styles of people. Many Indians are buying homes in Japan. The number of permanent residency applicants is showing a steep rise over last few years and many are even considering citizenship of Japan. Many IT engineers, girls and boys of age around 25 are single when they come to Japan. Once they like Japan they want to stay here for long for which I am seeing a trend that they are seeking life partners within Japan. Many region-based Indian communities are active in Japan like the Tokyo Marathi Mandal, Tamil Sangham, Odisha community, Bengali community and so on. Hindu Swayamsevak Sangh is also very active in Japan. Japan is prone to natural calamities. Many Indians left Japan after the large earthquake in 2011. Learning from those lessons, the newly formed All Japan Association of Indians (AJAI) is trying to put up a national framework or network to offer social support, information to all Indians across Japan. As the daily life becomes complex, people need all sorts of information and support spanning legal, medical/ health, childcare, education, social and other areas. As of the end of year 2018, there were around 39,000 Indians in Japan comprising of approximately 10000 engineers, 2000 students, 6000 skilled labour, 500 entrepreneurs and business managers, 500 teachers, 300 plus diplomats, around 3000 on short term visits and rest are family, dependents and other categories. The Indian community started its journey to Japan in the Meiji Era and started building up in the Showa era mainly through the businessman community, grew its presence through the IT population in the Heisei Era and will now become a part of the local Japanese community in the Reiwa Era. Japanese and Indians are coming closer than ever. 

References: https://en.wikipedia.org/wiki/India%E2%80%93Japan_relations, https://en.wikipedia.org/wiki/Bodhisena, http://www.lib.kobe-u.ac.jp/repository/90000733.pdf, https://www.e-stat.go.jp/

14

Anjali

www.batj.org


Japan’s Emergence

as an Economic Power House   - Partha Kumar

W

ith the devastation that followed towards the end of World war II, rising of Japan from the debris and ashes and reinvent herself as a leader in global economy almost seems to be a fairy tale. Over past 70 years, Japan not only did that but also led the way for others to follow in the post crisis world. If 80s was time for Japanese companies to lead the market by consumer products, recent years have shown marked improvement in financial product development, technology adaption and compliance policies creating one of the largest and robust market in the world. Japanese Yen has also replaced Swiss franc over the years as currency of choice in time of distress. Following the recovery of the US economy in the 80s under the Reagan administration, Japan’s exports began to expand on a massive scale. This development was supported by an appreciating dollar and a budget deficit in US created by significant tax cut without a complimentary expense reduction measure. The favorable condition propelled Japan’s export led growth strategy which was replicated successfully by Japan’s neighbors in later years. When Japan emerged as a major creditor in the global financial system many economists started believing that Japan was bound to surpass US at some point. From the postwar days to early 1980s, Japan had been continuously a net borrower. With large current account surplus fueled by export oriented growth strategy Japan started running a large surplus from 1982. Only in next four years, Japan had positioned herself as the largest net creditor. Annual net export towards late 80s used to run into 100 billion USD and net external asset touched 300 billion USD, both numbers were not seen or heard in that era. Needless to say that Japan’s monetary easing post bubble 80s created nothing but cynicism and Governor Hayami’s policy were dissected many times by economist and politicians of the west until a similar bubble erupted in the US with the crash of mortgage backed securities and Lehman bankruptcy. Despite hesitation and criticism, it only took months to determine that the only path forward to recover from the crisis lies in same policies Japan had adopted almost two decades before. The ultimate reason for Japan’s emergence as a creditor can be found in Japanese developmental state that relied mostly on a system of financial repression to sustain rapid economic growth. A high savings rate allowed the policy makers to fund industrial sectors which are thought to be strategic for the growth. Some criticism is appropriate in this regard as western policy makers focused on improving average life of the population with the surplus, which came to Japan much later in the cycle. When economic growth slowed somewhat in the 1970s and demand for corporate investment decreased, the policy makers refrained from reforming the financial system for the sake of maintaining control over the economic development. Even though the financial system was subject to liberalization pressure and eventually it started opening up in late 90s, some elements of repression were always there. Following the financial big-bang of late 90s and advent of technology, Japan became second largest market in early 2000s. The period also saw rapid introduction of modern derivatives products in Japanese markets, significant reform of locally traded Bond and Equities markets and continuous reform to position Japanese market as an efficient, open marketplace for global asset managers. Sadly, the tax structure has not helped all the way towards the re-positioning of Japan. I will discuss briefly the reason in next section. Post Lehman shock, as US started implementing various regulations, Japan still kept herself ahead with the introduction of first derivatives clearing infrastructure in the world and continued to leap forward with disclosure and compliance while introducing waves of changes for ultra-high speed trading technology and implementing schemes to trade Japanese products from overseas markets.

www.batj.org

Durga Puja 2019

15


Japan’s Emergence as an Economic Power House The challenges ahead can be explained with the help of two charts below published by Ministry of Finance, showing gap between total expenditure and tax revenue which has only widened since 90s, however thankfully trending a recovery since 2009 and(2) increasing servicing and: social security related expendituresand which needIssues no further Centraldebt Government Tax Revenue, Expenditure Bond in explanation. General Account (trillion yen) 120 【Flow】

(Unit: trillion yen) FY2017

100

Bond Dependency Ratio

35.3%

General Account Primary Balance

-10.8

101.0

100.7

100.2 100.2 98.8 98.2 97.5 97.1

【Stock 】 As of end-FY2017 (Percentage of GDP)

80

Government Bonds Outstanding (General Bonds Outstanding)

865(156%)

Long-Term Debt Outstanding of Central and Local Governments

1,093(198 %)

89.0 89.3 84.8 83.7

84.4

75.1 69.3

70.5 70.5

73.6

75.9

82.4

84.9 85.5

78.8 78.5

95.3 81.4 81.8 84.7

Total Expenditure

65.9 61.5 57.7

60 50.6 51.5

53.0 53.6

46.9 47.2 38.8

24.5

20

13.8

5.3

0

3.2 2.1

15.7

7.2 3.7 3.5

29.0

30.5

32.4

34.9

18.4

5.0

6.3

4.5

4.3

7.1 6.3

7.2

7.0 5.9

34.0

7.0

6.8

6.4

6.3

6.2

7.0

6.7

6.4

6.0

5.0

9.4 6.9 2.5

10.7

9.5 7.2

6.6

6.3

6.7

6.2

6.4

6.3

6.7

1.0

16.2 9.5

6.7

8.7

27.5 7.8

9.1

9.9

6.4

12.3

24.3 16.9

9.2

21.9 20.9

25.8

28.7 26.8

47.5

43.9

38.7

18.5

16.4

0.8

0.2

19.9

9.1

47.0

15.0

33.2

31.3

30.0 11.1

17.0

44.3

35.0 35.3 35.5

33.0 13.2

45.6

23.5

57.7

54.0

52.0

51.0

42.3 42.8

41.5 42.8 7.6

8.4

40.9

11.4

38.5

7.0 6.6

39.0 34.9

34.4 8.9

6.5

25.4 7.0

6.1

6.0 36.9

13.2 12.3 11.3

49.1 49.1

47.9

37.5

Construction Bond Issues

16.2 13.5 14.2 12.9 14.0 13.5 12.8 7.0

50.7 47.2

43.8 43.3

17.3

9.6

49.4

Special Deficit-Financing Bond Issues

23.7

10.7

56.3 55.9

38.2

26.9

21.9

20.9

50.8

51.0 51.9 52.1

53.9

41.9

34.1 29.1

54.4 54.1

46.8

43.4

40

Tax revenue

60.1 59.8 54.9

21.1 19.3

34.7 34.4 36.0 33.8 31.9

26.2

28.4 30.1 28.3

8.5

2.0

75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 00 01 02 03 04 05 06 07 08 09 10 11 12 13 14 15 16 17 (FY)

(Note1) FY1975 - FY2015: Settlement, FY2016: Including supplementary budget, FY2017: Draft budget (Note2) Following various bonds are excluded: Ad-hoc Special Deficit-Financing Bonds issued in FY1990 as a source of funds to support peace and reconstruction activities in the Persian Gulf Region, Tax reduction-related Special Deficit-Financing Bonds issued in FY1994 - FY1996 to make up for decline in tax revenue due to a sereis of income tax cuts preceding consumption tax hike from 3% to 5%, Reconstruction Bonds issued in FY2011 as a source of funds to implement measures for the Reconstruction from the Great East Japan Earthquake, Pension-related Special Deficit-Financing Bonds issued in FY2012 and FY2013 as a source of funds to achieve the targeted national contribution to one-half of basic pension. (Note3) General Account Primary Balance is calculated by subtracting Primary Expenditure from the sum of Tax Revenue and Other Revenue: It is different from the Central Government Primary Balance on SNA basis.

(7) Evolution of Major Expenditure Items in the General Account

90 80 70 60

2

(trillion yen) 97.5

100 (FY1960) 1.7 trillion yen

(FY1970) 8.2 trillion yen

・Social Security related Expenditures 0.2

・Social Security related Expenditures 1.2 ・Local Allocation Tax Grants, etc. 1.8 ・Public Works related Expenditures 1.4

(breakdown)

・Local Allocation Tax Grants, etc. 0.3 ・Public Works related Expenditures 0.3 ・Others 0.9

・Others 3.5

・National Debt Service 0.03

89.3

(breakdown)

・National Debt Service 0.3

23.5 21.4

69.3

Others 19.9

14.3 22.5

6.0

50

43.4

40

5.5

30

15.9

Natinal Debt Service

20.6 11.9

15.6

7.0

・Education & Science ・National Defense, etc.

Public Works related Expenditures Local Allocation Tax Grants ,etc.

15.8

20

6.9 7.0

10

8.2

0

15.9

FY1960

FY1970

FY1980

11.5 FY1990

32.5 17.6

FY2000

Social Security related Expenditures

FY2017

(note) FY1960-FY2000: Actual, FY2017: Draft budget

Tax reform is an integral part of this recovery and recent years have shown how rigorously it can be followed. My colleagues in Singapore and Hong Kong had moved offices and businesses over past years due to high corporate and individual tax structures in Japan, needless to say that it is hurting a few growth opportunities for Japan, but mounting costs of debt servicing and social security won’t leave any other options.

16

Anjali

www.batj.org

7   


Japan’s Emergence as an Economic Power House Fellow readers are likely to get a little nervous with the next chart which shows a comparison of General Government Gross debt. Some consolation can be offered by the facts that most of these debt is held within Japan (and in recent times more than half is held by Bank of Japan). Also, you might find it particularly interesting that the trend of growth for Japan and US in this comparison is very similar, especially after 2008.

Reference 2: International Comparison of General Government Gross Debt (%) CY 2002 2003 2004 2005 2006 2007 2008 2009 Japan 164.0 169.6 180.7 186.4 186.0 183.0 191.8 210.2 U.S. 55.4 58.5 65.5 64.9 63.6 64.0 72.8 86.0 U.K. 34.2 35.8 38.7 40.0 41.0 42.2 50.3 64.2 Germany 59.2 62.9 64.7 66.9 66.3 63.5 64.9 72.4 France 60.1 64.2 65.7 67.2 64.4 64.4 68.1 79.0 Italy 101.9 100.5 100.1 101.9 102.6 99.8 102.4 112.5 Canada 79.9 76.2 72.1 70.9 70.1 66.8 67.8 79.3

(%) 270

CY 2010 2011 2012 2013 2014 2015 2016 2017 Japan 215.8 231.6 238.0 244.5 249.1 248.0 250.4 253.0 U.S. 94.7 99.0 102.5 104.6 104.6 105.2 108.2 108.4 U.K. 75.7 81.3 84.8 86.0 87.9 89.0 89.0 88.8 Germany 81.0 78.3 79.5 77.1 74.5 71.0 68.2 65.9 France 81.7 85.2 89.6 92.4 95.3 96.1 97.2 97.8 Italy 115.4 116.5 123.3 129.0 132.5 132.7 133.2 133.4 Canada 81.1 81.5 84.8 86.1 86.2 91.5 92.1 90.5

180

Japan 240

210

150

Italy 120

U.S. France Canada U.K.

(Source) IMF "World Economic Outlook Database" (October 2016). (Note) FY2017 draft budget data is not reflected.

90

Germany 60

30

0 2002 2003 2004 2005 2006 2007 2008 2009 2010 2011 2012 2013 2014 2015 2016 2017 (CY)

11

A comparison of household assets among Japan, US and UK would instantly point the lack of investment in securities, and despite low interest rates, the inclination of keeping liquid assets. Although the rate of household asset accumulation in recent times has not been able to keep pace with global peers, the trend has improved with Abe administration’s policies, however investment returns have not really helped much when compared to others.

I meant to end the article in a positive note due to two reasons, one being it is written on the occasion of Puja and secondly I want all the readers who are mostly long term residents of Japan to understand that all hopes are not lost. Japan has tremendous potential to reinvent her over next two decades in services industry where it still leads light years, tourism is a growing business and Japan has already shown a niche sector of tourism for ultra-high net worth individuals, the combination of rich heritage, history, safety and reliable transportation can rarely be replicated in another country. Japan is a late entrant to the aviation and defense industry, but it is already creating waves with the introduction of some of the first line of products in these segment. Creativity has been at the core of Japan during the entire period, the new generation is taking it to the next level with augmented reality, a new generation of gaming and entertainment industry has already born. Lastly, Japan may not have a silicon valley but a good part of the investment dollars working hard in silicon valley are from a Japanese company Softbank, who have shown how to do it at a large scale. 

References: Bank of Japan, The First Hundred Years’ Editing Committee (1982), Nippon Ginko Hyakunen-Shi Dai 1 Kan (Bank of Japan: The First Hundred Years, Vol.1). Ohnuki, Mari (2007), “The Bank of Japan Network and Financial Market Integration: From the Establishment of the Bank of Japan to the Early 20th Century,” Monetary and Economic Studies, 25-1, pp.95-127. Public Finance statistics, Ministry of Finance, Japan 2016

www.batj.org

Durga Puja 2019

17


Scientific Achievements in Heisei Era (1989 – 2019)

T

he Heisei Era has seen many ups and downs in science, education, and sports. Natural disasters have also thrown many challenges: Japan has experienced severe typhoons, earthquakes, and tsunamis. Some say natural disasters and tougher living conditions force people to innovate through scientific and technological developments. The tsunami of March 11th, 2011 claimed more than 12,000 lives and triggered the infamous nuclear accident. This forced the Japanese government to take a bold step to shutdown all nuclear power plants (NPPs) across the country, where nuclear power supplies about 25% of the electricity. This was to ensure upgradation of all apparatus in the NPPs and make other associated arrangements to minimize the effect of tsunamis on the NPPs in the future. It is thought that the tsunami water damaged the cooling system of the nuclear rods at the ill-fated Fukushima Dai-ichi Power Plant. A major technological development in terms of nuclear fusion is needed to make the NPPs even safer and to avoid piling up of nuclear waste. We are hoping that the International Thermonuclear Experimental Reactor (ITER) will achieve the milestone through Japanese investment that has started in the Heisei Era. The hi-tech science is at its forefront in Japan. It is one of the only few places on earth which has produced Nobel laureates in the same department from the same institution successively. The first was the Niels Bohr – Max Planck institution, and now the University of Tokyo, which oversees the neutrino observatory at the Super-Kamiokande. Prof. Masatoshi Koshiba first won the Nobel Prize in 2002 for the detection of cosmic neutrinos, massless virtual particles which gives insight into the origin of the universe (or the so-called Big Bang Theory). Soon after, Prof. Takaaki Kajita further improved the detection technology, thus helped prove the existence of neutrino oscillations and that neutrinos are, in fact, not massless, which earned him a Nobel Prize in 2015. The other hi-tech research of note are the achievements of Shinya Yamanaka, from Kyoto University, on developing Induced Pluripotent Stem (iPS) cells. Such is the importance of this discovery, the iPS cells are now under testing for treatment of Parkinson’s Disease in Japan. For this, he won a Nobel Prize in 2012. In the same discipline, Prof. Tasuku Honjo won a Nobel Prize in 2018 for his pioneering work for discovering a protein for treating cancer cells. A practice I appreciate, living in Japan, is how quickly advanced research is applied to the betterment of our lives. The scientists involved in this process are obvious choices for the Nobel Committee to choose as Laureates. For example, Professors Isamu Akasaki, Hiroshi Amano, and Shuji Nakamura first discovered the blue LED, and Prof. Satoshi Omura was the first to make use of naturally occurring microorganisms to treat infections caused by roundworm parasites. Once the blue LED was developed, it was put to immediate use in making household lightbulbs; the medicine produced by Omura’s discovery was already widespread when he was awarded the Nobel Prize. What further surprised me was the Nobel Committee’s work to find Mr. Koichi Tanaka, of the Shimadzu Corporation, a man who had no academic recognition but had created the method used in MRI scanning based on nuclear magnetic resonance (NMR) spectroscopy. These successes do not come overnight or easily: Japan has invested heavily in R&D many centuries ago, and the citizens have performed their duties with utmost dignity. I remember from my early days, when the then-Prime Minister Junichiro Koizumi once said that Japan wanted to have 50 Nobel Laureate in a certain time. It is now clear that high returns come from heavy investment and such visions. This is something the present generation is enjoying, including myself.

18

  - Prabir Patra

I came to Japan in H-12 (2001), the year Japan became the only other nation, apart from the US, to develop the fastest supercomputer in the world. What was fascinating was that this supercomputer system was built for civilians’ use to develop numerical models for predicting Earth’s climate 100-200 years in advance, to learn about the past of some millions of years ago, and to develop models to predict weather a week in advance at very high resolutions (of city scale at hourly timestamps). Aptly known as the Earth Simulator, other research relating to our solar and planetary systems are also conducted using the supercomputer. Major scientific groups from the US and Europe were stationed in Yokohama to access to the facility, which had no external connectivity. We felt so privileged to have that access in-house. Because of that investment in the 1990s, Japan has become an integral part of the Intergovernmental Panel for Climate Change (IPCC) assessment reports, which was also conferred a Nobel Peace Prize in 2007. While there is no apparent financial gain to us, why was this investment in the supercomputer so important? Apart from the technological prowess, we can model the history of the Earth, which will allow us to understand trends of climate change, and what we have to do to protect the planet we live in, or even the only known planet in our solar system to have life (as far as our knowledge goes). The early planet has gone through many adjustments millions of years ago for the initiation of life. Until 20 million years ago, the level of carbon dioxide (CO2) was too high for the planet to be habitable. When Homo Sapiens came to be, around 0.2 million years ago, the CO2 level was already stabilized at about 270 ppm (1 ppm = 1 part per million molecules). This evolution of Earth’s atmosphere is well recorded in various proxies we derive from the Arctic and Antarctic ice cores. The pre-industrial conditions of the Earth (circa. 1750) is believed to be the most comfortable for human civilization. For example, the seasonal climate variations in the temperate regions provides survivable winters and pleasant summers, and the tropics had pleasant winters and slightly difficult summers. The monsoons bring respite from the summer heat to the billions of people and provides the much-needed water for livelihood (water from the temperate regions came from snowfall or cold precipitation). Since the use of fossil fuels during the Industrial Revolution, CO2 levels in the atmosphere have been rising, leading to an increase in Earth’s surface temperature. Although there are no visible or accountable benefits of keeping the Earth’s climate to the pre-industrial state, the United Nations Framework Convention for Climate Change (UNFCCC) has come up with the Paris Agreement (2016), a target to limit o the global mean surface-air temperature change at 2 C or lower, relative to the pre-industrial era, by the year 2100. This is a daunting task for rich and poor nations alike: the rich nations are already major emitters of greenhouse gases (e.g. CO2), while the poor nations are likely to rely on fossil fuel to sustain their economic transition. For a reference, the mean air temperature has already increased by about 1oC from the decade of the 1890s to the 2010s, caused primarily due to the human activities. Are we depriving people of equality by introducing policies to limit global warming? Perhaps not. I am conscious, though, that everyone in the world could not afford the “American lifestyle”. We simply do not have the resources on the Earth, not at least for the space and fossil fuel resources. For a bit of clarity, Japan would not be as beautiful as it is today if every one of us lived in a three-story bungalow. More than 68% of Japanese land comprises of national parks or restricted land. Being content in what they have and refraining from wasting precious resources

Anjali

www.batj.org


Scientific Achievements in Heisei Era was arguably what separated many of the Asian nations from Western ideologies in the first place. Recently, towards the end of the Heisei Era, Japan has again started to promote the idea of wastefulness through the term “Mottainai” to reduce unnecessary industrial consumptions. The per capita fossil fuel consumption in Japan and India are at about 50% and 0.1%, respectively, of that of the average American. This is due to smaller Japanese houses, compromises in room temperatures, smaller cars, and the use of public transportation. To achieve something as big and drastic as the Paris Agreement, we need a more proactive approach. Thus, each country has to have a goal to reduce fossil fuel emissions either in total or in terms of emission intensity, that is, how much emission per economic output. There are several options to achieve these goals: simply make the energy resources “green”. Actually, nuclear power is considered green for climate change; that’s why I am personally interested to see the nuclear industry become safer and more sustainable. We already see other widespread use of small-scale green energy, such as from solar panels and wind turbines. The scale is small because the current level of energy production from solar and wind does not support large scale industrial operation. Also, we have seen the recent power failure in England is blamed on the green energy sources, as its energy production cannot be increased when needed. However, the situation is changing dramatically. About 10% of energy in China comes from green sources, and Germany plans to go green by 2050, just 30 years from now. The Cochin Airport in India is fully run by solar power. Despite all this progress, many argue it may be too little too late, because we have failed to take GHG emission mitigation actions since the Kyoto Protocol in 1996. Now time has come to enforce strong policies top-down, from the UNFCCC in negotiation with the Conference of Parties (COP). We now have experience and confidence in implementing policies for environmental protection. In the beginning of the Heisei Era, the Montreal Protocol was successfully implemented for protection of the stratospheric ozone (O3) layer, which protects us from the biologically harmful ultraviolet radiation from the sun. The chlorofluorocarbons (CFCs) and Halons were introduced in the market in the 1940s for common use as coolants, fire retardants or solvents, because of their inert nature in the troposphere. Scientists found them to destroy ozone in the stratosphere where these man-made chemicals can be broken down to chlorine and bromine atoms. Banning the use of these ozone depleting substance was easy because the chemicals were both produced and used by the rich nations and those countries mostly located in the high latitudes were most affected by the ozone depletion. Finding of replacement chemicals in hydrogenated halocarbons (HCFCs and HFCs) was easy without affecting the operation of

refrigerant industry. All these changes over the past 50 years are well recorded by direct measurements. The policy implementation for mitigating global warming is a much tougher proposition. Replacing coal, oil and gas which is part of our daily life and available abundantly in our planet (Mother Earth) poses a much difficult task without sacrificing our luxurious lifestyle and dampening economic growth in each country. First of all, we are not aiming at removal of all the CO2 in atmosphere which has increased due to our industrial activities. CO2 being a very stable gas converting it to another form through natural processes takes longer than 100 years once in the atmosphere. Our aim has been modified to become “carbon-neutral” by means of environmentally friendly lifestyle and technology development for greater efficiency. The thermal power plants now produce more energy by more complete combustion, coal and oil fields are better managed, the Earth’s surface is greening overall due to afforestation - to name a few. The carbon-neutrality cannot be achieved solely by these processes. On the contrary the demand for energy-intensive meat-protein production becoming a cause of concern. Restoration of forested land and their sustenance to store carbon at multidecadal timescale is also an issue. We have heard the burned area due to forest fires in 2019 is almost twice of that in 2013. Deforestation (forest clearing for urban settlements and farm land) and forest fires is the second largest cause of atmospheric CO2 increase since the preindustrial time. Given these situations, CO2 emission reduction policies are very complicated, particularly when the cumulative major emitters do not want to comply with international policy decisions considering own economic growth. Action was only needed from the rich and affected nations under the Montreal Protocol, but we need participation of every nation under the Paris Agreement. The poor nations are most likely to face major challenges from sea-level rise due to global warming or ocean acidification, both are manifestation of the activities in the rich nations. The ocean acidification is direct cause of enhanced CO2 level in atmosphere, which dissolves in the seawater to free up hydrogen ions. The stakes are high to take action for reduction of CO2 emissions in order to mitigate the rise of Mother Earth’s surface air temperature. Hopefully nations take responsibility for their own actions. The Heisei Era has been a pivotal time in scientific advancement and technological development within Japan. Foundations have been laid for achieving greater feats in the present Reiwa Era. For that, the present generation and the next have to take responsibilities under international frameworks: diversification and collaboration is becoming increasingly important, as the challenges we face as a human race is greater than ever, and goes beyond the boundaries of any individual country. 


Japan and the Earthquakes:

Technology Evolutions in the Heisei-era   - Ashoke Karmokar

B

eyond doubt, Japan is one of the most earthquake-prone countries in the world. Feeling tremors is rather a regular unpleasant fact of life here. On the other hand, Japan is also a leader in disseminating earthquake management technologies to the world. The effort to achieve advanced technology has become possible by constantly involving innumerable researchers. Besides, the R&D refinements prosper by leveraging on the experiences of past earthquakes. However, the Great Hanshin earthquake in 1995, which struck Kobe city, was a wakeup call for Japan’s national authorities. Many significant turnarounds in the policies were enacted since this early Heisei-era (Heisei-era started from 1989). As a matter of fact, there was no notable earthquake that directly struck a large city in Japan since the Great Kanto earthquake in 1923 till the Great Hanshin earthquake in 1995. Further, the authority believed that major destruction would not happen in case of a quake due to significant advancements in design and construction technologies. The Great Hanshin earthquake on January 17, 1995, had changed the situation. This massive earthquake hit the western part of Japan. A quake of 6.8 magnitude in the Japanese earthquake scale wreaked havoc in the Kobe city of Hyogo prefecture. It was so-called the biggest natural disaster in postwar Japan. Over 6,000 people lost their lives, and around 300,000 people became homeless. Many people were crushed to death under rubbles, and many others died in the fires caused by the tremor. The lifelines mostly halted, expressways collapsed; railroads and telephone lines were disrupted. Many buildings were toppled, destroyed, or became uninhabitable in the worst-hit areas. In Japan, the building design standards law was amended in 1981 to enforce advanced design and construction for earthquake resistance buildings, which was known as ‘new basic earthquake-resistant standards’ (Shin-Taishin). However, the aftermaths in the Great Hanshin earthquake changed Japanese Government’s minds. Since then, many new regulatory policies got introduced based on a foresighted vision that they should do more to disseminate advanced technologies toward developing quake-resistant structures. Under the Government’s umbrella, the Central Disaster Management Council of Japan implemented a project on Earthquake Disaster Management Reduction plan. It defined concrete goals for disaster mitigation by promoting strategic policies on making public facilities and housings earthquake resistant. This strategy gave particular importance to probable tools for reducing economic damages from a major earthquake.

and might get thrown out; reinforced structure with low earthquake-resistance may collapse and buildings with high reinforcement may tilt). Damage from the Great Hanshin earthquake in 1995 provided strong evidence that a higher number of buildings constructed with the 1981 amended ‘new basic earthquakeresistant standard’ performed well. However, a collective opinion was that the compliance to this new earthquakeresistant standard alone could not provide safety to the building from collapsing or suffering damages in the event of a major earthquake. Moreover, the fact that people in the society did not realize the beneficial effects of earthquake-resistant technologies before the Hanshin earthquake, the importance of technology dissemination and implementation were further recognized. In fact, quake-resistant building construction technologies grabbed the critical spotlight after 1995, and in course, Japan became a world leader in earthquake-resistant technologies, especially in constructions of earthquakeresistant buildings. To mention a few on the type of technologies evolved, the major designated systems are ‘basic earthquake-resistant system’ (Taishin), ‘vibration control system’ (Seishin), and ‘seismic base isolation system’ (Menshin), as shown in Fig.1. In the ‘basic earthquake-resistant’ system, the load-bearing pillar and/or wall reinforced with specific stiffening materials make them stronger against shaking. In ‘vibration control system,’ the building is designed to equip with dampening devices (like shock absorbers) for dissipating kinetic energy.

Fig.1 Earthquake-resistant system used in Japan. In ‘base isolation system,’ a device is used for separating the building from the ground, and thus prevent transmitting of shock waves to the structure. Although designed with any system constructs structure with better earthquake-resistance, base-isolated system claimed to be the best for lowering the total amount of shaking in the structure. Compared to the two other systems, it limits the shaking to moderately horizontal movements. Structures with the base-isolated system experience only about two-thirds less shakeup as evident in simulated measurements shown Fig.2 Results of simulated analysis.

Japan Meteorological Agency (JMA) measures quake levels based on the degree of shaking units. This measurement procedure considers the degree of shaking at target points on the ground level, instead of the amount of energy released at the earthquake epicenter. In the Japanese standard of earthquake scale, seismic tremors are divided from 0 to 7, with 7 being the harshest level. Before the implementation of ‘new basic earthquake-resistant standard’ in 1981, buildings were designed only to withstand damage from tremors registering level5 on the Japanese earthquake scale (level#5 implies that walking is difficult without holding onto something stable; unreinforced concrete block walls may collapse, etc.). After 1981, however, buildings had to be designed to withstand damage from tremors registering levels 6-7 on the Japanese earthquake scale (level 6-7 implies that people need to crawl 20 Anjali

www.batj.org


Japan and the Earthquakes in Fig.2. As a result, the acceptances of introducing the base isolation technologies are increasing. The use of rubber bearing is the most prevalent technology in Japan, and it is also becoming popular around the world. The system performs by placing several specially designed rubber bearings under the building. In the event

started to introduce the base-isolation system for their office buildings and production plants. As an example, Fig.4 shows the R&D center building of a corporate company situated in the western outskirt of Tokyo constructed with the base-isolation system. Fig. 5 shows the rubber bearing used at the basement of this building.

Fig.3 Model of rubber bearing. of a quake, these bearings absorb tremors and support the building constructed above. The rubber bearings are high-tech engineered component composed of thin rubber layers and steel plates placed alternately in a layered structure (Fig.3). The layers firmly bonded to each other in the rubber vulcanization process. These steel plates prevent the bulging of rubber, which is in contrast to the simple rubber block that easily deforms and bulges outside under compression. Due to such engineering, the bearings, when placed under the building, can move flexibly in a horizontal direction and has strong capability of dissipating the quake tremors. As a core device, the bearing needs to have high vertical stiffness for durability and safe sustaining of the structure above. As explained, the base isolation system protects the building by installing isolating components between its foundation and the structure, so the system decouples the building from the shaking foundation. Structural parameters, including height, diameter, etc., are determined by the overburden load of the building to be supported. The largest available seismic isolating bearing available in Japan, called supersized seismic isolating bearing, is 1800mm in diameter and 684mm in height including flanges. It is said to be competent to support a maximum load of 3800ton per bearing (suitable for about 150m high-class building). These bearings do not buckle under a substantial building overload because of the number of steel plates included in the engineered composite device. Currently, priorities are given mainly to important establishments in Japan, such as hospitals, art museums, embassies, data-centers, high-rise housing, etc., for the application of the base isolation system. Considering the importance of sustaining corporate activities for current business environments, and for mitigating the risk management issues, a significant number of companies in Japan have also

Fig.4 The building used seismic base-isolation system. www.batj.org

Fig.5 Rubber bearing used for seismic base isolation system. As evident now, there is well-established technology in which focus has been paid to apply the quake-resistant base isolation technology to existing buildings, old heritage structures, etc. Apart from the technologies those employed in the green-field constructions, base isolation retrofitting technologies for the existing buildings demand a very high

Fig.6 Retrofitted Japan Railway Tokyo station Marunouchi building. degree of skills. As an example, the retrofit project of Tokyo Station Marunouchi building (Fig.6) completed by installing around 350 base isolating bearings at its base. Now, there is a more favorable scenario that depicts Japan is moving forward to cope with the possible massive earthquakes in the future with the base isolation system. Thanks to the Great Hanshin earthquake.

Some of the damaged/collapsed buildings in the Great Hanshin earthquake essentially engineered to fulfill enhanced earthquake-resistant performances and thoughtfully designed to be safe in case of a major quake. However, the surprising failures of such buildings expose an issue to the policymakers in Japan; calculations alone are insufficient to predict the very complex movement that could bring down buildings in case of a major earthquake. So to complement, Japan’s National Institute for Earth Science and Disaster Prevention (NIED) has established an earthquake simulator named ‘E-Defense’ shaking table. The simulator, located in the outskirt of Kobe city, is a platform fitted with numerous pneumatic pistons attached at the bottom and controlled by large hydraulic systems. The shaking table (platform) measuring 20m by 15m is the world’s largest simulator, which is capable of testing wooden and/or 21 Durga Puja 2019


Japan and the Earthquakes concrete structures with a payload of up to 1200 tons. It could test structures with quake magnitudes as high as level7.0 in Japanese earthquake scale.

Heisei-era for ensuring earthquake-readiness of the Super-Fast Express trains (Shinkansen, the high-speed rails linking cities throughout Japan).

As in earthquake, the platform receives thrust because the waves generated in the simulator move outward from the quake’s epicenter. The seismographs record ground motion along the 3-axes as displacement occurs in all three directions, and considerations of 3D forces make structural behavior more realistic to predict. The ability to replay and/or reproduce of any recorded earthquake in its vectors is a unique feature of this ‘E-Defense’ simulator. Multiple cameras also record shakings both inside and outside of the structure during testing, thus projects the structure’s ability to absorb quake shocks and identify weak points that can lead to the structure’s failure. Experimenting with two structures placed side-by-side on the same platform could also be performed to evaluate the efficacy of earthquake measuring systems versus structure without any such measurements. This simulator is also used to test old houses/homes constructed in Japan’s post-war boom for studying technologies required for retrofitting those structures against earthquake damages.

Along with the improvements of strengthening structures such as stations, bridges, etc., the efforts of preventing derailment also by installing various measures continued after the Great Hanshin earthquake. The East Japan Railway Company (JR East) introduced the ‘Earthquake Early Warning System’ for the Super-Fast Express trains. The system detects preliminary tremors from the seismographs located at various points in their network and then brings the train to stop by interrupting the electricity supply, if needed. Emergency stops in case of a crisis, thus prevent massive accidents during a major earthquake. Many media lauded the fact that all trains operating then throughout the Tohoku Super-Fast Express train tracks brought to a stop position safely, during the Great East Japan earthquake that struck the Tohoku region in 2011. There are reports now that other Japan Railways companies have their plan to introduce such early earthquake warning systems in turn.

As expected, the implementation of this base-isolated earthquake-resistant system that rolled-out in the Heisei-era will vastly be proliferated in this Reiwa-regime. It is because the natural issues and geographical position of Japan place more demands on the high-rise multistory structures, and that is where the competent earthquake-resistant technology essentially called on to play the part. However, high-rise structures are not the only area that brings benefits from the advancements in earthquake mitigation technologies. There is also a much-focused research area for earthquake countermeasures in the mobility and transportation area. As an example, technical innovation progressed enormously in the

It is important to note that Japan’s geographic position means that it will continue to face earthquakes regardless of the magnitude. Under such circumstances, structures could only be designed to mitigate damages rather than avoiding total losses from an earthquake on whatever scale that the forces of nature determine. In that sense, ‘E-Defense’ facility may be the most sophisticated and world’s largest earthquake simulator. However, it is still meant to help minimizing structural damages, and not to perform the impossible of eliminating total economic and human loss. Similarly, in the mobility and transportation area as described before, safety measures never end, and improving safety further will also be the ongoing concern in the Reiwa-regime. 

(The above content is based on information gathered from various booklets, brochures, reports, literature, etc., available in the public domains. A few to mention are: Bridgestone Corporation Seismic Isolation and Vibration Control Products Business Department, ‘Seismic Isolation Bearing brochures; https://resources.realestate.co.jp/buy/earthquake-building-codes-and-technology-in-japan/; https://www.japantimes.co.jp/news/2009/07/08/national/japan-leads-the-way-with-quake-resistant-technology/#. XU4ACej7Suk; https://resources.realestate.co.jp/living/are-you-prepared-for-the-next-big-earthquake-in-japan/; https://www.japan.go.jp/regions/resilientjapan/; https://www.telegraph.co.uk/news/worldnews/asia/japan/8375591/Japan-earthquake-country-better-preparedthan-anyone-for-quakes-and-tsunamis.html; https://www.japan.go.jp/regions/resilientjapan/earthquake.html; https://resources.realestate.co.jp/news/the-worlds-largest-earthquake-simulator-japans-e-defense/. The author gratefully acknowledges the usefulness of such information sources collectively.)

22

Anjali

www.batj.org


গিরিশ চন্দ্র   ‘গিরিশ ঘ�োষ? সে আবার কে? ওঃ নবীন সরকার মহাশয়ের জামাই? সে ত কেরানীগিরি করে। শেক্সপীয়ার আওড়াবে কি করে? কলাপাতার প্রকাণ্ড ঠ�োঙ্গায় মুড়ে সাজা পান নিয়ে তাকে র�োজ আপিসে যেতে দেখি.... শেক্সপীয়ারের সে কি ব�োঝে?’ প্রশ্নটি করেছিলেন বঙ্গ রঙ্গমঞ্চেরই অন্যতম শ্রেষ্ঠ নট, নাট্যকার ও পরিচালক রসরাজ অমৃ তলাল বসু । কালক্রমে সেই ‘স্নেহের অনু জশিষ্য’ অমৃ তলালই ‘নাট্য-রবি-কবি বিশ্বে’ বলে গিরিশকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এই গিরিশ ঘ�োষই “Father of the Native Stage” নামে পরবর্তী সময়ে পরিচিত হন। যে নাট্য শিল্প অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়েছিল তার মজ্জায় রসসঞ্চার করে, তাকে যিনি আনন্দপূ র্ণ করে তুলে ছিলেন তিনি হলেন এই গিরিশ চন্দ্র ঘ�োষ। গিরিশের সারা জীবনটাই ছিল বৈচিত্র্যময়। উত্তর ক�োলকাতার বাগবাজারে ১৮৪৪ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি অত্যন্ত সাধারণ এক মধ্যবিত্ত পরিবারে নীলকমল ও রাইমনির একাদশ সন্তানের মধ্যে অষ্টম সন্তান গিরিশের জন্ম। বাবা নীলকমল ছিলেন বৈষয়িক ও সওদাগরি আপিসে একজন দক্ষ এ্যাকাউন্টান্ট। মা রাইমনি ছিলেন আর পাঁচজন গৃ হিণীর মত ধর্মভীরু ও শান্ত স্বভাবের। দাদা দিদিদের সঙ্গে গিরিশ বড় হয়ে উঠছিল। শিশুকালে স্থানীয় এক পাঠশালায় গিরিশের হাতেখড়ি। মাত্র এগার�ো বছর বয়সে গিরিশ ওঁর মাকে হারালে মাতৃস্নেহ বঞ্চিত কিশ�োর গিরিশের মায়ের অভাব অনেকটাই দূ র করেন ওর বাবা। অতিরিক্ত আদর দিয়ে হয়ত�ো তার ভবিষ্যতের ‘অধ�োগতি’র পথ সু মসৃ ণ করেছিলেন তিনিই। কিন্তু পিতৃস্নেহের সঙ্গে যেটুকু বাঁধন ছিল সেটুকুও ঘুচে গেল তার চ�োদ্দ বছর বয়সে যখন বাবাকেও হারালেন। গিরিশের ভয় করার আর কেউ রইল না। বিদ্যালয়ের শিক্ষা এ-অবস্থায় খুব বেশী দূ র এগ�োয়নি। প্রথম পাঠশালায় পাঠ শেষ করে ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে দু ’বছর। এর পর হেয়ার স্কুলে পড়তে পড়তে পিতৃবিয়�োগ হলে ওখানকার পর্ব শেষ হয়। হালচাল দেখে অভিভাবিকা জ্যেষ্ঠা ভগিনী ওর পনের�ো বছর বয়সেই নবীন সরকারের মেয়ে প্রম�োদিনীর সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিলেন। বিয়ের পর ১৮৬০ সালে আবার ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে ভর্তি হলেন কিন্তু পরীক্ষা দেওয়া হল না। ১৮৬১ সালে পাইকপাড়া গভর্নমেন্ট এডেড স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়ে জন্মের মত স্কুলের পাট চুকিয়ে দিলেন। অর্থাৎ গিরিশের জীবনে প্রথাগত ক�োন শিক্ষালাভ হল না। কলকাতায় সে সময় নব্য যু বকেরা ইংরেজি শিক্ষার স্বাদ পেয়েছে। আর সমাজে ইংরেজি ভাষা না জানা মানু ষদের খানিকটা নীচু চ�োখে দেখা হত। ব্যাপার স্যাপার দেখে গিরিশ তখন বিয়ের য�ৌতুক পাওয়া গয়না বিক্রি করে ইংরেজি ক্লাসিক সাহিত্যের বই কিনে নিয়ে দিনরাত পড়তে থাকেন। শেক্সপিয়ার থেকে বায়রন আর মাইকেল থেকে বঙ্কিম ও নবীনচন্দ্রের লেখা ওকে কেমন যেন মন্ত্রমুগ্ধ করে দিল। তার সঙ্গে চলতে লাগল হ�োমিওপ্যাথি ও বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে চর্চা। ঠিক এই সময়ে গিরিশের দ্বিতীয় সন্তান সু রেন্দ্রনাথের জন্ম হয় যিনি পরবর্তী কালে দানীবাবু নামে বিখ্যাত নটশিল্পী হিসেবে পরিচিত। এর পরের তিন বছরে গিরিশের ভবঘুরে জীবন দেখে প্রম�োদিনীর বাবা নবীন সরকার গিরিশকে নিজের আপিস Atkinson Tilton Company-তে ১৮৬৪ সালে book keeping-এর কাজে ঢুকিয়ে দেন যাতে ওর সংসার খরচের খানিকটা সু রাহা হয়। এই সময় খেয়ালের বশে কাজের ফাঁকে আপিসে বসে উনি ম্যাকবেথের বাংলা অনু বাদ করেছিলেন। পাড়ায় যাত্রাথিয়েটার দেখার নেশা গিরিশের ছ�োটবেলা থেকেই ছিল। সু য�োগ আসতেই বাগবাজার এ্যামেচার থিয়েটারে ১৮৬৭ সালের দু র্গাপুজ�োর সময় প্রাণকৃষ্ণ হালদারের বাগবাজারের বাড়িতে দীনবন্ধু মিত্রের ‘সধবার একাদশী’ নাটকে নিমচাদের ভুমিকায় অভিনয় করে গিরিশ দর্শক মহলে আল�োড়ন তুলে দিয়ে স্থানীয় থিয়েটার-প্রেমী মানু ষের কাছে অভিনেতা হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করে নিলেন। চরিত্রের মুখে বেশ খানিকটা ইংরাজি সংলাপ ছিল। ওর উচ্চারণ-বাচনভঙ্গি এবং অভিনয় দেখে নাটকের রচয়িতা স্বয়ং দীনবন্ধু এক কথায় অভিভূ ত হয়েছিলেন। ১৮৭১ সালে এই শখের থিয়েটার গ�োষ্ঠীর নতুন নাম হয় National Theatre যাদের প্রথম নাট্য প্রয়াস ছিল দীনবন্ধু www.batj.org

- তপন কুমার রা

মিত্রের লীলাবতী। দর্শক হিসেবে নাট্য রচয়িতা দীনবন্ধু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার এবং অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি। গিরিশের জীবনে শুরু হল নতুন এক অধ্যায়। থিয়েটারের শেষে দীনবন্ধু গিরিশকে বলেন ত�োমার মুখে আমার লেখা কবিতার আবৃ ত্তি শুনে মনে হল আমার রচনা সার্থক হয়েছে। ইস্কুল ফেল করা গিরিশেকে এই কটা কথা বিরাট ভাবে অনু প্রেরণা দেয়। আবার এই সময়েই গিরিশ ইয়ারবক্সী নিয়ে নিত্য নতুন আনন্দের গ�োলক ধাঁধায় ঘুরে বেড়িয়েছেন যখন প্রণয়সু খ বঞ্চিতা নিঃসঙ্গ প্রম�োদিনীকে বহু রাত্রি জাগরণের বেদনা সহ্য করতে হয়েছে। ১৮৭২ সালে Atkinson-এর ব্যবসা লাটে ওঠার অবস্থা হলে সাহেব আপিসটি নিলামে তুলে নিজের স্বদেশভুমি আমেরিকায় ফিরে গেলেন। গিরিশ আবার বেকার হলেন আর তার সঙ্গে হারালেন আপিসের দেরাজে থাকা ম্যাকবেথের বাংলা অনু বাদের পাণ্ডুলিপি কারণ যেদিন নিলাম হয়ে আপিসের আসবাব ইত্যাদি বিক্রি হয় সেদিন তিনি স্ত্রীর অসু স্থতার কারণে কাজে আসতে পারেন নি। চাকরীর সঙ্গে তিনি হারালেন তার বেশ কিছু দিনের পরিশ্রমের ফল। এর কিছু দিন পর গিরিশ Fribarga & Company-তে নতুন চাকরীতে য�োগ দেন। ১৮৭৪ সালের ২৪শে ডিসেম্বর গিরিশের জীবনে নেমে আসে নতুন এক বিপর্যয় যেদিন গিরিশের দু ই সন্তানের জননী প্রম�োদিনী ওকে চিরদিনের জন্য ইহজগত ছেড়ে চলে যান। গিরিশ জীবনে এই প্রথম অবসাদের স্বীকার হলেন। মুক্তির পথ হিসেবে বেছে নিলেন কবিতা ও গান রচনা যার বেশির ভাগই ছিল করুণ রসের। ভগ্নস্বাস্থ্য গিরিশের তখন চতুর্দিকে অশান্তি। মন�োবল ভেঙে গেছে, অর্থাভাব প্রবল আর বন্ধুর দল হয়েছে শত্রু। গিরিশ সে সময় ঈশ্বরে বিশ্বাস হারিয়ে ফেললেন এবং হয়ে উঠলেন পুর�োপুরি নাস্তিক। কিন্তু সৃ ষ্টিশীল মানু ষের চিন্তা কখনও থেমে থাকে না। কবিতা রচনা চলতে থাকল। নতুন আপিসের কাজে ওকে প্রায়ই ক�োলকাতার বাইরে যেতে হত। একবার ভাগলপুরে কাজের জন্য প্রায় পাঁচ মাস থাকতে হলে উনি কলকাতায় ফিরেই ইস্তফা দিয়ে দেন আর ১৮৭৬ সালে India League নামে এক সংস্থায় হেড ক্যাশিয়ার হিসেবে এক বছর কাজ করার পর Parker Company-তে এ্যাকাউন্টান্ট হিসেবে য�োগ দেন। ১৮৭৬ সালে গিরিশ দ্বিতীয় বার বিবাহ সু ত্রে আবদ্ধ হন বিহারিলাল মিত্রের কন্যা সু রতকুমারীর সঙ্গে। অফিসের কাজের পরে অনেক রাত পর্যন্ত চলতে থাকল নতুন নতুন নাটকের পরিকল্পনা আর মহলা। তখন নবীনচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্র আর মাইকেল মধু সুদনের নাম ল�োকের মুখে মুখে ফিরত তাদের রচনা উপন্যাসের নাটক দেখে। কারণ ক’জনের আর ক্ষমতা ছিল সেগুল�ো পড়ার মত বিদ্যাশিক্ষা? সাহেবদের তৈরি দু ’একটা থিয়েটার এখানে ওখানে হলেও তাতে না ছিল দেশীয় মানু ষের প্রবেশাধিকার না ছিল তাদের ঐ ইংরিজি নাটক ব�োঝবার মত ক্ষমতা। বিন�োদনের জন্য সাধারণ মানু ষকে খ�োলা আকাশের তলায় যাত্রাপালা দেখে, আর কবিগান আর পাঁচালি শুনেই সন্তুষ্ট থাকতে হত। ১৮৭২ সালের ১০ই ডিসেম্বর শরত চন্দ্র ঘ�োষের প্রতিষ্ঠা করা ন্যাশনাল থিয়েটারের প্রথম অভিনয় হয় দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটকের অভিনয় দিয়ে। এর পরের নাটক হয় ২২শে ফেব্রুয়ারি ১৮৭৩ সালে মাইকেলের ঐতিহাসিক নাটক কৃষ্ণকুমারী দিয়ে যা ছিল এক রাজপুত রাজকন্যার জীবনী নিয়ে। ১০ই মে ১৮৭৩ সালে রাজা রাধাকান্ত দেবের শ�োভাবাজারের রাজবাড়িতে বঙ্কিমচন্দ্রের কপালকুণ্ডলা অভিনীত হয় স্বয়ং বঙ্কিমের উপস্থিতিতে। ন্যাশনাল থিয়েটারে এই সময় শরত ঘ�োষ মশায় নাটক নির্বাচনের জন্য একটি কমিটি তৈরি করেন যাতে বঙ্কিম, মাইকেল, বিদ্যাসাগরের মত মানু ষেরা ছিলেন। বিধবা বিবাহ, নবনাটক ইত্যাদি কয়েকটি মঞ্চ সফল নাটকের পরে এঁরা মনে করেন যে এতে বিন�োদনের মাধ্যমে মানু ষের শিক্ষা লাভ হলে সমাজ উপকৃত হবে। এই সময় মাইকেল তাঁর শর্মিষ্ঠা নাটকটি কমিটিতে দিলে গিরিশ এক কথায় এটি মঞ্চস্থ করতে চান। মাইকেল কিন্তু মহাভারতের প্রেম কাহিনী নিয়ে রচনা করা নাটকটিতে পুরুষদের নারী চরিত্রে অভিনয় করাতে আপত্তি জানান। কিন্তু সে কালে ‘ভদ্র’-বাড়ীর মেয়েদের নাটকে অংশগ্রহণ করাকে অসামাজিক মনে করা হত। অগত্যা গিরিশ কয়েকজন বারাঙ্গনাকে শিখিয়ে পড়িয়ে অভিনয় জগতে নিয়ে আসায় প্রতিবাদ-স্বরূপ বিদ্যাসাগর মশায় এই কমিটি থেকে ইস্তফা দেন। মাইকেলও সে সময় খুবই অসু স্থ হলে

Durga Puja 2019

23


গিরিশ চন্দ্র পাঁচ’শ টাকার বিনিময়ে নাটকের স্বত্ব শরত ঘ�োষ মশায়কে বিক্রি করে দেন এবং তাঁর কয়েক দিন পরে ২৯শে জুন, ১৮৭৩ সালে মাইকেলের জীবনাবসান হয়। নাটকটি প্রথম মঞ্চস্থ হয় ১৬ই অগাস্ট ১৮৭৩ সালে। ন্যাশনাল থিয়েটারের পরের নাটকটি ছিল বঙ্কিমের দু র্গেশনন্দিনী যেটি সেই বছরের ২০শে ডিসেম্বর প্রথম মঞ্চস্থ হয়। এর পর বছর পাঁচেক গিরিশচন্দ্র বিভিন্ন নাটক মঞ্চস্থ করেন যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখয�োগ্য হল মাইকেলের মেঘনাদবধ কাব্য। সাধারণ দর্শকের ব�োঝার সু বিধার জন্য মাইকেলের এই মহাকাব্যের চতুর্দশপদী অমিত্রাক্ষর ভেঙে নতুন এক খ�োলা ছন্দে গিরিশ এর নাট্যরূপ দিয়েছিলেন যা পরবর্তী সময়ে ‘গৈরিশ ছন্দ’ নামে পরিচিত হয়। এই নাটকে গিরিশ নিজে দ্বৈত ভুমিকায় অভিনয় করেন- রাম এবং মেঘনাদ। মধু সূদন ছিলেন গিরিশচন্দ্রের প্রিয় কবি। মধু সূদনের এই কাব্যটি ওঁর জাতীয়তাবাদের মূ ল প্রশ্নে এক বিস্ময়। তিনি খ্রিস্টান, চালচলনে পুর�োদস্তুর ইংরেজ, ইংরেজের চেয়ে বেশী ইংরেজ অথচ ভারতের পুরাণে নিমগ্ন। তাঁর রচনার বিষয় রাম-রাবণ-মেঘনাদ-রাধাকৃষ্ণ-জনা। ভারতের পুরাণকে কি ভাবে আধু নিক দৃ ষ্টিতে দেখতে হবে মধু সুদনের কাছে এই শিক্ষাই পেয়েছিলেন গিরিশ। গিরিশ মাইকেলের রচনার মধ্যে কাব্যরস ছাড়াও পেয়েছিলেন জাতীয়তাবাদ এবং সমাজ সংস্কারের ভাবনা। ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ বেলগাছিয়ায় অভিনীত হতে পারেনি ‘বাবু ’-দের সমবেত প্রতির�োধে। কিন্তু এই নাটকের বক্তব্য দাবানলের মত ল�োকগীতির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গিরিশের পক্ষে আপিসের কাজ আর নাটক একসঙ্গে চালান�ো এর পরে কঠিন হয়ে দাঁড়ালে ১৮৭৯ সালে পার্কার ক�োম্পানি থেকে পার্কার সাহেবের একান্ত অনু র�োধ ও আপত্তি উপেক্ষা করে ইস্তফা দিয়ে পুর�ো সময়ের জন্য নাট্য জগতের সঙ্গে যু ক্ত হলেন। ১৮৮০ সালে যখন গিরিশের বয়স মাত্র ৩৬ তখন থেকে গিরিশের জীবনে শুরু হয় এক নতুন অধ্যায় – ম্যানেজার, নাট্যকার, পরিচালনা ও অভিনেতা হিসেবে দ্য গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারে। নতুন মালিক প্রতাপ চাঁদ জহুরী ওঁকে ম্যানেজার হিসেবে মাসিক এক’শ টাকার বেতনের চাকরীতে বহাল করেন। আগেই উল্লেখ করেছি যে এর আগে পর্যন্ত নাট্য জগতে নবীনচন্দ্র, মাইকেল ও বঙ্কিমের মূ ল রচনার নাট্যরূপই ছিল নাটকের প্রধান বিষয়। গিরিশের নাট্য রচনা, অভিনয় বা পরিচালনার আল�োচনা করতে গেলে সে সময়ের বাঙলার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট জানা দরকার। ক�োম্পানির রাজত্বের শেষ ভাগে সারা ভারতে এক অস্থির অবস্থার সৃ ষ্টি হয় সিপাহি বিদ্রোহের সময়। বিদ্রোহ দমন করার পরে রানীর শাসন কায়েম হলে ইংরেজি-জানা ও ইংরাজ-ভক্ত শহুরে মধ্যবিত্ত সমাজ ১৮৫৭ সালের এই গ�ৌরবময় বিদ্রোহের মত স্মৃতিকে এক কথায় ধর্মীয় উন্মাদনা বলে উপহাস করতেন। এই বিশৃ ঙ্খল সময়ে একজন ‘অশিক্ষিত’ মানু ষ ‘ভদ্রল�োকদের’ ভাষায় ‘মূ র্খ’, যার ভাষা ‘অশ্লীল’, গ্রাম্য তীব্র কথায় ব�োঝায়ঠিক যেমন কবিয়াল ও যাত্রাওয়ালারা- এই মানু ষটি বিনয়ের হাসি মুখে নিয়ে এসে দাঁড়ালেন সমাজের মুখ�োমুখি। ইংরেজ-ভক্তরা যখন কারণে অকারণে হিন্দু শাস্ত্রের শ্রাদ্ধ করছেন প্রকাশ্যে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যখন তাঁর হিংস্রতম স্তরে পৌঁছেছে, খৃস্টধর্ম যখন সাম্রাজ্যবাদের অস্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে তখন রামকৃষ্ণ পরমহংসের উদয়। সামাজিক ও রাজনৈতিক এই পরিস্থিতিতে গিরিশের কথায় ফিরতে হলে প্রথমেই আসে ওঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্বন্ধে দু ’একটি কথা। দৈনন্দিন জীবনে উনি কিন্তু কখনই প্রথাগত সামাজিক ক�োন নিয়ম কানু নের ধার ধারেন নি। নাট্য জগতে মনপ্রাণ দিয়ে কাজ করার মধ্যে চলতে থাকল অপরিমিত মদ্যপান ও চূ ড়ান্ত বিশৃ ঙ্খল যাপন। এইরকম টালমাটালের সময় ১৮৮৪ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর গিরিশের জীবনে ঘটে গেল বিরাট এক পরিবর্তনের ঘটনা। তখন গিরিশের প্রয�োজনায় স্টার থিয়েটারে অভিনীত হচ্ছে ওঁর নিজের রচনা চৈতন্যলীলা যাতে চৈতন্যের ভুমিকায় অভিনয় করছেন বিন�োদিনী। লক্ষণীয় যে সে সময়কার রক্ষণশীল সমাজে উলটপুরাণ হিসাবে পুরুষ চরিত্রে মেয়েদের দিয়ে অভিনয় করান ছিল গিরিশের এক বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত। এই নাটকে ওনার নিজের ক�োন চরিত্র ছিল না। নাটকটি সাধারণ মানু ষের কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল এবং ল�োকমুখে তার প্রচার হয়েছিল। দক্ষিণেশ্বরের ভক্ত-শিষ্যরা পরমহংস রামকৃষ্ণদেবকে সেদিন সন্ধ্যায় নাটকটি দেখাতে নিয়ে আসার প্রস্তাব করলে গিরিশ ঠাকুরের জন্য বক্সে একটা আসন বিনামূ ল্যে দিতে রাজী হলেও অন্যান্য সঙ্গিসাথীদের থেকে প্রবেশ মুল্য নিয়ে ছিলেন। ঠাকুরকে সম্মানের সঙ্গে আপ্যায়ন করে ওঁদের সবার জন্য বসার ব্যবস্থা করে দিয়ে সন্ধ্যের মুখে গিরিশ কিন্তু থিয়েটার ছেড়ে বাড়ি চলে যান। নাটকটি দেখে রামকৃষ্ণদেব এক কথায় অভিভূ ত হয়ে ছিলেন যা আমরা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন লেখার মধ্যে পাই। চৈতন্যলীলার সেদিনের ‘শ�ো’ গিরিশের জীবনে আর তার সঙ্গে বাংলা তথা 24

ক�োলকাতার নাটকের জগতে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিল। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব চৈতন্যের অভিনয় দেখে অভিভূ ত হয়ে মন্তব্য করে ছিলেন ‘এঁরা আসল নকল সব একাকার করে দিল’। কথাকটি ল�োকমুখে গিরিশ পরে শুনতে পান। এর পরে বিভিন্ন সময়ে রাসমণির বাগান দক্ষিণেশ্বর থেকে বিভিন্ন জায়গায় গিরিশের ঠাকুরের সঙ্গলাভ করার সু য�োগ হয় আর এই সময়টাই গিরিশের জীবনে দ্বিতীয় ‘পানিপথ’ হিসেবে উপস্থিত হয়। প্রথম দর্শনে গিরিশ ঠাকুরের কাছে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন একজন পাপী হিসেবে। ঠাকুর ওঁর এই ‘পাপ’ ঘ�োচাবার জন্য ৺মা-ভবতারিণীর কাছে প্রার্থনা করতে বলেন এবং গিরিশ তাতে সময়াভাবের অজুহাত দিয়ে প্রার্থনা করতে রাজী না হলে গিরিশের কাছে ঠাকুর ‘বকলমা’ নিয়ে নেন ওঁর হয়ে পাপ মকুবের জন্যে আর্জি জানাবার। ঠাকুরের কাছে এই দায়ভার দিয়ে গিরিশ যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন আর তার সঙ্গে ক্রমশ তাঁর হারিয়ে যাওয়া ধর্ম-বিশ্বাস নতুন এক ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসতে শুরু করে। উপরি হিসেবে ঠাকুরের কাছে পেলেন ‘পাপ’ এবং ‘পাপী’র সম্বন্ধে নতুন এক ব্যাখ্যা। ঠাকুর তাঁকে ব�োঝাতে সক্ষম হলেন যে সব সাধু -সন্তের যেমন অতীত আছে তেমনি সব পাপীরও ভবিষ্যৎ আছে। বেদান্তবাদের ব্যাখ্যাও যেন নতুন করে পেলেন এক গ্রাম্য মানু ষের থেকে একান্ত গ্রাম্য ও চলিত ভাষায়। ওঁর দৈনন্দিন জীবনেও এল এক অদ্ভুত পরিবর্তন। উনি তখন সংসার ও কর্মজীবনের বদলে সর্বত্যাগী সন্ন্যাস জীবন চাইলে ঠাকুর আদেশ করলেন কর্মের মধ্যে থেকে সাধারণ নিরক্ষর মানু ষের জন্য ‘থ্যাটার থেকে ল�োকশিক্ষে’ দিয়ে যাবার জন্য। গিরিশ এক কথায় আদেশ শির�োধার্য করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গুরুর আদেশ পালন করে গেলেন। লক্ষ্য করার বিষয় হল ১৮৮৪ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর থেকে ঠাকুরের প্রয়াণ ১৬ই অগাস্ট ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত সময়টা কিন্তু খুব বেশী নয়। প্রথম দর্শনের অল্প সময় পরেই ঠাকুরের গল-র�োগ হবার পর গিরিশ শ্যামপুকুরের বাড়ি থেকে কাশীপুর উদ্যানবাটীতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঠাকুরের সেবায় নিজেকে নিয়�োজিত করে ছিলেন। গিরিশের জীবনে এল এক নতুন অধ্যায়। মদ এবং বিলাস বিহীন নতুন এই সরল জীবনযাত্রার সম্বন্ধে ল�োকে জিগ্যেস করতে থাকলে উনি বলতেন ‘পাপ রাখার এত বড় একটা জায়গা আছে আগে জানলে চুটিয়ে আরও একটু পাপ করে নিতাম’। ঠাকুরের মন্ত্রশিষ্যদের মধ্যে প্রায় সকলেই গিরিশের চেয়ে বয়সে অনেক কম হলেও ওঁদের মধ্যে গিরিশের প্রতি একটা শ্রদ্ধা মিশ্রিত সম্পর্ক বরাবরই ছিল। বেলু ড় মঠ থেকে এঁরা অনেকবার স্টার ও অন্যান্য মঞ্চে গিরিশের নাটক দেখতে এসেছেন। মার্গারেট ন�োবল ভগিনী নিবেদিতা নামে পরিচয় পাবার আগে ১৮৯৮ সালে স্টার থিয়েটারেই স্বামীজী ওঁকে জনসাধারণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। স্বামীজীর ও অন্যান্য গুরুভাইদের সঙ্গে গিরিশের কথ�োপকথন এবং পত্রালাপ আজ ইতিহাসের দলিল। গিরিশের অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৮৬৭ সালে যখন ওঁর বয়স ছিল তেইশ। আর নাট্যকার হিসেবে রচনা শুরু করেন তেত্রিশ বছর বয়সে ১৮৭৭ সালে। এই দ্বৈত ভূ মিকা উনি নিষ্ঠার সঙ্গে আমৃ ত্যু পালন করেন ১৯১২ সাল পর্যন্ত। ওনার নিজের রচনা ম�োট আশিটি নাটক যার মধ্যে আটটি অসমাপ্ত। অন্যের রচনার নাট্যরূপ দেন প্রায় এক ডজন যার মধ্যে বঙ্কিমেরই সাতটি। ঐতিহাসিক, সামাজিক, প�ৌরাণিক, স্বাদেশিকতা ও হাস্যরসের বিষয়বস্তুই ছিল গিরিশের নাট্য রচনার প্রধান বিষয়। এ ছাড়া অন্যান্য রচনার মধ্যে উল্লেখয�োগ্য হল ছ�োটগল্প ২৫টি, কাব্য ১টি, জীবনী ১টি, রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ আর হিন্দু ধর্মের ওপর প্রবন্ধ ১৮টি, নাটক সম্বন্ধীয় প্রবন্ধ ১৪টি, সামাজিক প্রেক্ষাপটের ওপর প্রবন্ধ ২টি, গান ১৩৭০টি, বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ ২টি। গিরিশের ম�ৌলিক রচনা অন্য ভাষায় অনূ দিত হয় যার মধ্যে উল্লেখয�োগ্য হল, বু দ্ধদেব-চরিত ইংরাজিতে (যা লন্ডনের Court Theater-এ অভিনীত হয়), নল-দময়ন্তী ফরাসী ভাষায়, বিল্বমঙ্গল ইংরাজিতে (ভগিনী নিবেদিতা সম্পাদিত) ও চিত্ত-চমকপ্রদ নাটক ‘বিপদ’ হিন্দিতে ‘দু খিয়া’ নামে, যা এলাহাবাদে বহু রজনী অভিনীত হয়। গিরিশের সম্পূর্ণ রচনা পাঁচটি খণ্ডে প্রকাশিত ম�োট ৩৭১৭ পৃ ষ্ঠায়। গিরিশের নিজের হাতে তৈরি নটশিল্পীদের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন অমৃ তলাল মিত্র, অমৃ তলাল বসু , নীলমাধব চক্রবর্তী, অঘ�োরনাথ পাঠক, প্রব�োধ ঘ�োষ এবং নিজের সন্তান সু রেন্দ্রনাথ ঘ�োষ, যিনি দানীবাবু নামে নাট্যজগতে বিখ্যাত। নটিদের অনেকের মধ্যে বিন�োদিনী, তারাসু ন্দরী ও তিনকড়ি বিখ্যাত হয়েছিলেন। এঁদের অভিনয় সম্বন্ধে বহু বিদগ্ধ নাট্য ব্যক্তিত্বের অনেক লেখা আছে। গিরিশের দু র্ভাগ্য হল তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ গিরিশকে খণ্ড খণ্ড করে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে বিচার ও মন্ত্যব্য করেছে। যেমন ‘এইখানে রামকৃষ্ণের প্রভাব’, ‘এইটে বিবেকানন্দের কাছে শেখা’, ‘এইটে তখনকার দর্শকদের খুশী করার প্যাঁচ’ ইত্যাদি। তারা কেউই গিরিশের সৃ জনী

Anjali

www.batj.org


গিরিশ চন্দ্র প্রতিভার পরিচয় খ�োঁজার চেষ্টা করেনি। অবশ্যই গিরিশ রামকৃষ্ণের শিষ্য, বিবেকানন্দের অন্তরঙ্গ গুরু-ভ্রাতা। কিন্তু তাঁর চেয়েও গুরুত্বপূ র্ণ বিষয় হল- ক�োন সমাজে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ-গিরিশচন্দ্রের জন্ম, পুষ্টি, বিকাশ ও কর্মকাণ্ড, সমাজ বিবর্তনের ক�োন সন্ধিক্ষণে তাঁদের আবির্ভাব এবং সে বিবর্তনে তাঁদের ভূ মিকা কি- তার বিচার করা। গিরিশ বাবু রা নাট্যশিল্পকে বড়ল�োকের জলসাঘর থেকে বের করে এনে অত্যন্ত সফল ভাবে সাধারণ মানু ষের অর্থের ওপর দাঁড় করালেন। বহু দরিদ্র ও সাধারণ মানু ষ একত্রে বসে যেমন নাটক দেখতেন তেমনি তাদের চাহিদার প্রতিফলনও নাটকে ঘটাতেন। কারণ গিরিশ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন বাস্তব জীবন থেকেই নাটকের সৃ ষ্টি। এইখানেই গিরিশের সঙ্গে সমসাময়িক তথাকথিত ‘শিক্ষিত বাঙ্গালীর’ একটা তফাত গড়ে উঠল। তাদের বিচারে গিরিশ হল পাঠশালায় শিক্ষিত ইস্কুল ফেল করা ছেলে। তাঁর আনু ষ্ঠানিক শিক্ষা পাঠশালায় আর বাকিটা ঘরে বসে। ইংরেজের চাকুরি যাদের কাছে ছিল স্বর্গলাভের সু খ তাদের সঙ্গে গ�োড়াতেই গিরিশের ছাড়াছাড়ি। উপরন্তু তিনি ‘সেকেলে’, ‘কুসংস্কারাচ্ছন্ন’, আর ছিলেন ‘নেটিভ’ কবি ঈশ্বর গুপ্তের গুণমুগ্ধ আর দিগম্বর কথকের প্রায়-শিষ্য, নিজে হাফ আখড়াইতে গান বাঁধতেন। সু তরাং গিরিশ প্রথম থেকেই নিজশ্রেনী থেকে বিচ্ছিন্ন। গিরিশের চিন্তাভাবনা গড়ে উঠেছে তাঁর ‘ছ�োটল�োক’ দর্শকদের নিয়ে, বারাঙ্গনা-অভিনেত্রীদের ঘিরে, তাঁর সমাজচ্যুত অভিনেতাদের নিয়ে। তিনি থিয়েটারওয়ালা শুধু নন, মধ্যবিত্তের ক্ষু দ্র প্রাঙ্গনে তিনি ছিলেন ‘মাতাল’ যাত্রাওয়ালা। তথাকথিত ‘ভদ্র’-সমাজ থেকে গিরিশরা পেয়েছিলেন শুধু ধিক্কার, উপহাস আর কাপুরুষ�োচিত টিটকিরি আর কুরুচিপূ র্ণ ব্যঙ্গ। ফলেই না দীর্ঘশ্বাসের মত গিরিশের উক্তি “অভিনেতার শবদেহের সংস্কার-স্থান পাওয়া কষ্টকর হয়”। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নীলদর্পণের অভিনয় করার পর সরকারী নির্দেশে নাটকের অভিনয় বন্ধ করতে হয়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সেই উত্তাল সময়ে গিরিশের সিরাজুদ্দৌলা নাটকটি জনমানসে তীব্র প্রতিক্রিয়া জাগালে তৎকালীন শাসক গ�োষ্ঠী আইন প্রয়�োগ করে এই নাটকের অভিনয় নিষিদ্ধ ঘ�োষণা করেন। পরে বিপ্লবী বিপিন চন্দ্র পাল বলেছিলেন ক�োলকাতার নাটক জনমানসে জাতীয়তাব�োধ ও দেশপ্রেম জাগাতে প্রভূ ত সাহায্য করেছে।ভারতে আবহমানকাল ধরে জ্ঞান মার্গের সু -উচ্চ শিখরে বেদ, বেদান্ত, উপনিষদের বিমূ র্ত চিন্তায় সাধারণ মানু ষ ক�োন�োদিনই উঠতে পারেনি। নীচেকার অসংখ্য মানু ষের জন্য ভক্তিমার্গ, সাকার দেবতা, প্রতিমাই হল ধর্মের রূপ। ক�োলকাতার ‘ভদ্র’ সমাজের শাসনে এই গান-যাত্রার ক্ষেত্রে অন্তত এই বাধা ভাঙল। যাত্রা ও শখের থিয়েটার সৃ ষ্টি করল বড় এক দর্শক গ�োষ্ঠী। তারই ফলে সম্ভব হল গণ-নির্ভর পেশাদার নাট্যশালার সৃ ষ্টি। গিরিশচন্দ্র এই গণ ঐতিহ্যের ফল, নাট্যশালায় কবিগান-পাঁচালীর প্রতিনিধি। ১৯১২ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি এক বর্ষণমুখর রাতে ১টা বেজে কুড়ি

মিনিটে (বাংলা মতে ৮ই ফেব্রুয়ারি) ক�োলকাতায় নিজের বাড়িতে গিরিশ চন্দ্র ঘ�োষের অন্তিমশ্বাস শ্রীরামকৃষ্ণ চরণে বিলীন হল গুণমুগ্ধ ভক্ত, বন্ধু , আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে অসংখ্য নাট্যকর্মীর উপস্থিতিতে। পরের দিন সকাল হলে ক�োলকাতার বিখ্যাত গুণীজনের উপস্থিতিতে প্রায় সহস্র মানু ষের উপস্থিতিতে কাশী মিত্রের ঘাটে রামকৃষ্ণ-হরিব�োল ধ্বনিতে চন্দনকাঠ, ধু না ও কর্পূরে বাগদেবির বরপুত্রের দেহ ভস্মে পরিণত হল। গিরিশের জীবনী ও নাট্যশিল্পের উপর ওঁকে নিয়ে বহু মানু ষ লিখেছেন ও মন্তব্য করেছেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখয�োগ্য কয়েকজনের নাম উল্লেখ করতে হলে প্রথমেই বলতে হয় কথামৃ ত-কার শ্রী ‘ম’-এর নাম। এর পরেই আসে অবিনাশ চন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়, হেমেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত, কুমুদবন্ধু সেন, ভগিনী নিবেদিতা, সারদানন্দ মহারাজ, অভেদানন্দ মহারাজ, স্বামী বিবেকানন্দ, দিলীপ কুমার রায়, শ্রীশ চন্দ্র মতিলাল, ক্রিস্টোফার ঈশারউড, কিরণ চন্দ্র দত্ত, বিন�োদিনী দাসী, প্যারীম�োহন মুখ�োপাধ্যায়, মতিলাল ঘ�োষ, রামেন্দ্রসু ন্দর ত্রিবেদী, ভূ পেন্দ্রনাথ বসু , সু রেশ সমাজপতি, ক্ষীর�োদপ্রসাদ বিদ্যাবিন�োদ, অহীন্দ্রনাথ চ�ৌধু রী, রাসবিহারী সরকার, শিশির কুমার ভাদু ড়ী, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, বিধায়ক ভট্টাচার্য, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, অনিল চট্টোপাধ্যায়, পাহাড়ী সান্যাল, উৎপল দত্ত, স�ৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় ও নাট্য জগতের সঙ্গে যু ক্ত আরও অনেক গুণী মানু ষ। বড় পর্দায় মহাকবি গিরিশ্চন্দ্র চলচ্চিত্রে নাম ভুমিকায় পাহাড়ি সান্যালের সফল অভিনয়ের পর বিশ্বরুপার কর্ণধার রাসবিহারী সরকারের অনু র�োধে উনি এটির নাট্যরূপে বেশ কিছু দিন অভিনয় করে ছিলেন। আধু নিক থিয়েটারের যু গে নান্দীকার গ�োষ্ঠীর প্রয�োজনায় ১৯৭২ সালে ৫ই ডিসেম্বর থিয়েটার র�োডের কলামন্দির প্রেক্ষাগৃ হে ‘নটী বিন�োদিনী’ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। বিংশ-শতাব্দী পত্রিকার ১৯৬৫ শালের শারদীয়া সংখ্যায় চিত্তরঞ্জন ঘ�োষের লেখা ঐ অভিনেত্রীর জীবনী নির্ভর একটি গল্প থেকে এটির নাট্যরূপ দেন ‘শের আফগান’, তিন পয়সার পালা’ বা ‘নাট্যকারের সন্ধানে ছ’টি চরিত্র’ খ্যাত নাট্যগ�োষ্ঠী। উৎপল দত্ত সত্তরের দশকে মিনার্ভা থিয়েটারে ‘কল্লোল’ ও ‘অঙ্গার’ প্রয�োজনার পর ব�োম্বে শহরে একটা কাজে থাকা কালীন গ্রেফতার হয়ে আর্থার জেলে ও তারপরে ক�োলকাতায় দমদম সেন্ট্রাল জেলে কিছু দিন কারাবাসের পর মুক্তি পেলে প্রথম প্রয�োজনা করেন ‘টিনের তল�োয়ার’ যা ছিল ওঁর গিরীশ ঘ�োষের প্রতি এক শ্রদ্ধার্ঘ। ওঁর সমসাময়িক অভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে অনু প্রেরণা পেয়ে গিরিশ ঘ�োষের নাট্য শিল্প নিয়ে চর্চা করে নটগুরুকে আবিষ্কার করেন ও গিরিশের নাট্য জীবন নিয়ে ‘গিরিশ মানস’ নামে একটা সম্পূর্ণ বই লেখেন যা উনি ওনার নাট্য জীবনের সহকর্মী ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন। 

গ্রন্থঋণঃ ১) Girish Chandra Ghosh- A Bohemian Devotee of Sri Ramkrishna By Swami Chetananda ২) শ্রী রামকৃষ্ণ ও বঙ্গ রঙ্গমঞ্চ- নলিনীরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। ৩) গিরিশ মানস – উৎপল দত্ত ৪) Towards A Revolutionary Theatre By Utpal Dutta তথ্যঋণঃ সাংবাদিক তরুণ কুমার গ�োস্বামী, নাট্য বিশারদ বিপ্লব দাশগুপ্ত ও স্নেহের পুত্র ক�ৌস্তভ রায়

www.batj.org

Durga Puja 2019

25


ক্ষুদ্‌দা ও তেলের ব্যবহার  

ক্ষু

দিরাম চাকলাদার রমলা ব�ৌদিকে নিয়ে পঞ্চমবার জাপানে গেলেন পুত্র, পুত্রবধূ এবং নাতনী ফুচা বা খুকুর টানে। দাদা ব�ৌদি নাতনী খুকুকে খুবই ভালবাসেন। ভালবাসারই ত�ো কথা। বিদেশে থাকার জন্য নাতনী বাংলা কবিতা খুব একটা জানে না। ব�ৌদি ক�োন�ো এক ছু টির দিন সকালে নাতনীকে অন্নদাশংকর রায়ের “তেলের শিশি ভাঙ্গল�ো বলে খুকুর পরে রাগ কর” কবিতটি শেখাচ্ছেন। খুকু যখন একটা ব্রেক নেওয়ার জন্য অন্য ঘরে গেল, তখন ক্ষু দ্‌দা ব�ৌদিকে জিজ্ঞেস করলেন যদি ক�োন�ো শিশু-দরদী ব্যক্তি এসে প্রশ্ন করে খুকুর নাগালে শিশিটা এল�ো কি করে? খুকু নিশ্চয়ই উঁচু তাক থেকে তার নাগালের বাইরে থেকে তেলের শিশি নামিয়ে আনেনি। জাপানে রান্নার সরঞ্জাম, নানা রকম মশলা, তেলের শিশি উঁচু তাকেই থাকে। খুকুর মা-ই হয়ত�ো তেলের শিশি নামিয়ে রেখেছে খুকুর বাবাকে দেবে। বাবা হয়ত�ো তার বস্‌কে তেল দেবে যাতে পরের প্রম�োশনটা বাবাকেই দেওয়া হয়। শিশিটা যে খুকুর কাকা নামিয়ে রাখেনি এটাও জ�োর দিয়ে বলা যাচ্ছে না, কারণ কাকাকে নাকি দেশে ফেরৎ পাঠান�োর কথা হচ্ছে। জাপানের মত উন্নত দেশ ছেড়ে ব্যাঙ্গাল�োর বা সল্টলেকের সেকটর ফাইভে ট্রান্সফারের ক�োন�ো মানে হয়? বস্‌কে তেল দিয়ে এই ট্রান্সফারটা আটকাতেই হবে। ব�ৌদি বললেন, তার মানে গ�োপনে তেল অনেকেই দেয়। বেচারা খুকু অত কিছু না জেনে তেলের শিশিটা ভেঙ্গে ফেলল�ো বলে ত�োমরা সবাই ধরা পড়ে গেলে। দাদা বললেন, তা যতই বল�ো, ত�োমার নিজের ছ�োট পিসেমশাই সরকারি অফিসের অত বড় একজন জাঁদরেল অফিসার, যাঁর আয়ের সঙ্গে গচ্ছিত সম্পত্তির মিল কিছু তেই করা যাচ্ছিল না বলে উঁচু মহলে কত তেল খরচ করতে হয়েছিল মনে আছে? ব�ৌদির সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁঝাল�ো উত্তর, আহা হা, ত�োমার নিজের ছ�োট ভাই প্রফুল্ল চাকলাদার, মাল্টিন্যাশনাল ক�োম্পানির উঁচু পদের অফিসার। মুম্বাইয়ের পানশালার এক বার-ড্যান্সারের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে নিজের নাম জড়িয়ে যাওয়ার জন্য ল�োক জানাজানি হওয়ার হাত থেকে এবং গৃ হশান্তি বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন জায়গায় কত লিটার তেল খরচ করেছিল ভুলে গেছ কি? ব্রেকের পরে নাতনী ঠাকুমার কাছে চলে এসেছে। এসে দেখছে তার তেলের শিশির কবিতা নিয়ে ঝগড়া চলছে। তবে ঝগড়ার বিষয়বস্তু সে কিছু ই বু ঝতে পারছে না। তেলের শিশিটা অ্যাক্সিডেন্টালি ভেঙ্গে গেছে, তাই নিয়ে এত কথা বলার কি থাকতে পারে? ক্ষু দ্‌দা রমলা ব�ৌদিকে ব�োঝাচ্ছেন, তেল দেওয়ার রীতি আগেও ছিল, এখন�ো আছে, ভবিষ্যতেও হয়ত�ো থাকবে। এই দেখ�ো না, ভূ তের রাজা গ্রাম বাংলার ক্যাবলা ভবঘুরে দু ট�ো ছেলেকে কি রকম তেল দিল! ব�ৌদি বললেন, তুমি এর মধ্যে তেল দেওয়ার কি দেখলে? দাদা বললেন, বাঘের ভয়ে ভীত দাঁতকপাটি লাগা দু ট�ো ছেলেকে ভূ তের রাজা তিন তিনটে বর দিলেন কেন? কারণ নিরীহ দু ট�ো ছেলে ভূ তের রাজার মাহাত্ম্য দেশ বিদেশে প্রচার করবে এবং “দু ষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন” আপ্ত বাক্যটি কাজে লাগাবে। শুন্ডির রাজা এবং হাল্লার রাজা দু জনেই এর প্রমাণ পেয়েছেন। হীরক রাজাও এমন প্রমাণ পেলেন যে জনগণের স্লোগানে রাজা নিজেই গলা মেলালেন “দড়ি ধরে মার টান, রাজা হবে খান খান”। এখানেও পাঁচ বছর অন্তর দড়ি ধরে টান মারা হচ্ছে, কিন্তু রাজা খান খান হচ্ছে, নাকি দড়িটাই ছিঁড়ে যাচ্ছে সেটা নির্ভর করছে মিডিয়া, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনে কতটা তেল দেওয়া হয়েছে তার ওপর। ক্ষু দ্‌দা রমলা ব�ৌদিকে সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী সিনেমা করার সময় তাঁর আর্থিক সংকটের কথা মনে করিয়ে দিলেন। সত্যজিৎ রায় পশ্চিম বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গে দেখা করেন এবং গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের মিঃ মাথু রের কাছে তাঁকে যেতে হল এবং চলচ্চিত্রের সারাংশটা ব�োঝাতে হল। ওনাদের আপত্তি হরিহর গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যাবে কেন? আর তা ছাড়া গ্রামের অত কাশফুল দেখিয়ে লাভ কি? কাশফুল দিয়ে কি গ্রামের ব্যবসা বাণিজ্য ভাল হবে? এগুল�ো পাল্টাতে হবে। সত্যজিৎ রায় অতিকষ্টে হাসি চেপে বললেন, এগুল�ো পাল্টালে সদ্যপ্রয়াত বিভূ তিভূ ষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী আপত্তি করবেন। রমলা ব�ৌদি মনে করিয়ে দিলেন বিজয়া রায়ের লেখা “আমাদের কথা” বইটাতে তিনি

26

- অনু পম গু

পড়েছেন। ক্ষু দ্‌দা বললেন এটা ব�োধহয় রিফাইনড অয়েল। দাদা বললেন, এই ধর তুমি রাগ করে আহিরীট�োলায় বাপের বাড়ীতে চলে যাও এবং প্যাসিভ ভয়েসে বল যে এক মাসের আগে আর আসছ না। কিন্তু দু এক দিন পরেই আলমারীর চাবিগুল�ো ঠিকমত রাখা হয়েছে কি না এই অজুহাতে চলে আস না? ব�ৌদির ঝাঁঝাল�ো উত্তর, সে ত�ো তুমি পরের দিনই বাবা মাকে তেল দিয়ে আস, তাই ত�ো চলে আসি। ম�োদ্দা কথা তেল সবাইকে দিতে হয়। ছ�োট রাজ্য বড় রাজ্যকে তেল দেয়। গ�োয়ালিয়রের রাজা, পাতিয়ালার রাজা, কুচবিহারের রাজা স্বাধীন হলেও বৃ টিশ রাজশক্তিকে তেল দিয়েছে। বালী এবং সু গ্রীব রামকে তেল দিয়েছে। সু গ্রীব রামকে ঠিক তেলই বরাবর দিয়ে যাচ্ছে। বালী একবার রামকে ভুল করে অন্য তেল দিয়ে ফেলেছে, ফলে বালীকে বেঘ�োরে প্রাণ হারাতে হল। আরে বাবা মেশিন অয়েল দিয়ে কি আর মাছ ভাজা যায়? সব তেল নিশ্চয়ই এক নয়। সীতাকে রাবণ কিডন্যাপ করে নিজের দেশে নিয়ে গেছে। সু ন্দরী স্ত্রী সীতার জন্য ডার্ক কমপ্লেকশানের রাম চিন্তিত। লংকা রাজ্যের ক�োন�ো খবর ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে না। সীতা কেমন আছে, কি করছে, কতটা কাঁদছে, রামের জন্য আদ�ৌ কাঁদছে কিনা, কিংবা লংকার অন্যান্য সু দর্শন বীর্যবান রাজপুরুষদের দিকে নজর চলে যাচ্ছে, কি খাচ্ছে, সঙ্গে ত�ো টাকাপয়সা নেই যে কিনে খাবে। যদিও বনবাসে টাকা থাকার কথাও নয়, তবে সীতা বিপদ আপদের জন্য কিছু টাকা লু কিয়ে রাখলেও রাখতে পারে (যেমন রমলা ব�ৌদি কিছু টাকা লু কিয়ে রাখেন)। কিন্তু মুশ্‌কিল হচ্ছে অয�োধ্যার কারেন্সি ন�োট ত�ো লংকায় অচল। স�োনার গয়নাও রামকে পথ ব�োঝান�োর জন্য জঙ্গলে ফেলতে ফেলতে গেছে। যদিও সীতার বনবাসে গায়ে অত গয়না থাকার কথা নয়। যাইহ�োক, সীতার ক�োন�ো খবরই পাওয়া যাচ্ছে না। ক�োন�ো সিক্রেট এজেন্সি, স্পাই, প্রাইভেট গ�োয়েন্দা, ব্যোমকেশ, ফেলু দার মত কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না। তখন বিভীষণকে তেল দিয়েই রামের কার্য সিদ্ধি হল। তবে এর জন্য বিভীষণের চরিত্রে চিরদিনের মত একটা কলঙ্ক থেকে গেল। ঘরের শত্রু ---নাঃ থাক, রামভক্ত হনু মানের সংখ্যা কম নয়। তার মানে তেলের বিনিময়ে কলঙ্ক? ক্ষতি কি? ফুচা বা খুকু অনেকক্ষণ ধরে ওদের কথা শুনছিল। ব�োঝার চেষ্টাও করছিল। সবাই চেনা চরিত্র। কিন্তু আল�োচ্য বিষয়বস্তু মাথায় ঢুকছে না। তেলের শিশিটা হয়ত�ো হাত ফস্‌কে পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে গেছে। এর মধ্যে তার বাবা, কাকা, বালী, সু গ্রীব, রাম, সীতা, বিভীষণদের টেনে আনার ক�োন�ো মানে হয়? ওর মাথায় ট্যানজেন্ট হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, ভেতরে ঢুকছে না। ঢ�োকার কথাও নয়। সীতার ত�ো রামের জন্য কাঁদাই উচিত। রামেরও উচিত কাঁদা। রমলা ব�ৌদি দাদাকে বললেন, “হ্যাঁ গ�ো আমাকে কেউ যদি কিডন্যাপ করে তুমি আমার জন্য কাঁদবে”? দাদা বললেন, সে কি! আমি ত�ো হাউ হাউ করে কাঁদব�ো। আর মনে মনে গেয়ে উঠলেন “এমন দিন কি হবে মা তারা”? তেলের ব্যবহারের কথা জানা গেল। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনয�ো আবে ভ�োটারদের কি রকম তেল দেন সেটা অবশ্য জানা গেল না। আমাদের দেশে তেলের ব্যবহার ওয়ান ইজ টু ফাইভ, মানে ভ�োটপ্রার্থী একবার ভ�োটারদের তেল দেবেন, আর জিতলে ভ�োটাররা পাঁচ বছর ধরে ওনাকে তেল দিয়ে যাবেন। যাই হ�োক, তেল ব্যবহারের কথা নানাভাবে বলা হল, সেটা সঠিক কি বেঠিক পাঠকদের বিচার্য। অন্নদাশংকরের “তেলের শিশি” কবিতাটা খুকু বা ফুচার আর মুখস্ত করা হল না। ও দেখল�ো যে ঠাকুর্দা আর ঠাকুমার মধ্যে যতই ঝগড়া হ�োক না কেন, ওরা দু জনেই খুব হাসছে। এ কেমন ঝগড়া? তবে ফুচা আজকাল খুব দু শ্চিন্তা নিয়ে ঘুম�োতে যায় এবং সকালে ঘুম ভাঙলে দ�ৌড়ে রান্নার জায়গায় গিয়ে কিছু একটা দেখে খুব নিশ্চিন্ত হয়ে ওখান থেকে বেরিয়ে যায়। ক্ষু দ্‌দা বললেন, হয়ত�ো তেলের শিশিটা ঠিক আছে কি না দেখে নেয়।। 

Anjali

www.batj.org


সংগ্রামী �������������������

ছ�ো

টবেলার স্কুলের বন্ধু শুভাশিস আমার মাকে স্মরণ করায়, ওকেই লেখা চিঠি -

সেই ক�োন ছ�োটবেলার কথা, মানু ষটাকে ভুলে যাওয়ারই কথা! তবু ও তুই মনে রেখেছিস। এটা জেনে বিস্মিতও হলাম, আবার ত�োর স্মৃতি-শক্তির ওপর আমার শ্রদ্ধাও বাড়ল। আমাদের বেড়ে ওঠার সময়ত�ো আর ‘মাদারস ডে’ বলে কিছু ছিল না, পরে বড় হয়ে বিদেশে এসে এটা শিখি। এখন দেখছি ভারতেও এটা হয়! তবে তুই, আমি যখন বালিগঞ্জ গভর্নমেন্টের ক্লাস ওয়ানে পড়ি, তখনকার একদিনের কথা আমার এখনও বেশ মনে পড়ে। তখন ত�ো মাদারস ডে থাকার কথা নয়, তবে ক�োন বিশেষ দিন ছিল নিশ্চয়। কারণ সেদিন আমাদের ক্লাস-টিচার ইন্দিরা-দি ব্ল্যাক ব�োর্ডের ওপর কেন জানি না লিখেছিলেন মাকে আমার পড়ে না মনে শুধু যখন খেলতে গিয়ে হঠাৎ অকারণে একটা কি সু র গুন গুনিয়ে কানে আমার বাজে মায়ের কথা মিলায় তখন আমার খেলার মাঝে। লেখার পর ইন্দিরা-দি যখন ব্ল্যাকব�োর্ড থেকে আমাদের দিকে মুখ ফেরালেন, আমার পরিষ্কার মনে পড়ে, দেখি উনি অঝ�োরে কাঁদছেন! কে যেন একজন জিগ্যেস করেছিল�ো যে ওনার চ�োখে জল কেন? তখন উনি বলেছিলেন - "বড় হ�োলে বু ঝবে, এখন নয়"। সেই দিন আমি সত্যিই বু ঝতে পারিনি যে ঐ ঠাকুমা-দিদিমার বয়সী ইন্দিরা-দি কেন কেঁদে ছিলেন। যখন বু ঝলাম, তখন�ো কিন্তু আমি ছ�োট�োই! শুধু মনে হয়েছিল�ো এই যে, ইন্দিরা-দি ভুল বলেছিলেন, তা না হ�োলে আমার বড় হওয়া পর্যন্ত ত�ো অন্তত মায়ের বেঁচে থাকার কথা! খুব ছ�োটবেলায় মাকে মিস করতাম; জুত�োর ফিতে বেঁধে দেওয়ার জন্য, জামার ব�োতাম সেলাই করার জন্য, স্নান করার সময় মাথায় জল ঢালার জন্য, নারক�োল-নাড়ু, নিমকি বা রসবড়া খাওয়ার জন্য, শীতকালে হাতে ব�োনা স�োয়েটার পড়ার জন্য, এইসব। তারপর মানু ষটাকে আমি প্রায় ভুলেই যেতে বসেছিলাম, যদিও বাবা যতদিন বেঁচে ছিলেন তত

দিন আমাদের তিন ভাইকে কিছু তেই মানু ষটাকে পুর�োপুরি ভুলে যেতে দেননি। বাৎসরিক পরীক্ষার ফল বেড়�োন�োর দিন, বা ভাল�ো কিছু করার পর বাবাকে প্রনাম করতে গেলেই বাবা পা সরিয়ে নিতেন; দেওয়ালে টাঙান�ো মায়ের ছবিটা দেখিয়ে বলতেন "উঁহু, আগে মা-কে"! এছাড়া মায়ের আর তেমন ক�োন অস্তিত্বই থাকল�ো না তখন আমার জীবনে। আর থাকবেই বা কি ক�োরে? বন্ধু -বান্ধব, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, ফুটবল, সিনেমা, পড়াশ�োনা - এইসবের মাঝে মায়ের আর জায়গা হ�োল না। মাকে আবার মনে পড়ল�ো সেই উনিশের শেষে - যখন দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি প্রায় আসন্ন। বাবা ব�োধ হয় প্রথমে ঠিকঠাক বিশ্বাস করে উঠতে পারেননি যে আমার পক্ষে এই ‘বিদেশে-পাড়ি’ ব্যাপারটা আদ�ৌ ঘটান�ো সম্ভব! কিন্তু যেদিন বু ঝলেন যে আমাকে আর আটকান�ো সম্ভব নয়, সেদিন কাছে ডেকে বেশ কিছু গম্ভীর কথা বলেছিলেন, যা শুনে আমি একেবারে আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ এর আগে বাবা ক�োনদিন আমাকে ক�োন গম্ভীর কথা বলেননি। বাবা সেদিন কথা শেষ করেছিলেন এই বলে যে "্ক�োনও ভয় নেই, ত�োমার মায়ের আশীর্বাদ সঙ্গে থাকবে”। দেশ ছাড়ার দিন মনে হয়েছিল�ো যে বাবার আশীর্বাদটা পেলাম কি পেলাম না তা ঠিক ব�োঝা গেল�ো না, কিন্তু বাবা মারফৎ মায়ের আশীর্বাদটা ঠিকই পেলাম! এরপর আবার সেই একই ঘটনা - মাকে আবার ভুলে গেলাম। তখন বিদেশে থিতু হওয়ার সংগ্রাম, পায়ের নিচে জমি খ�োঁজার সংগ্রাম; তার ওপর মজলাম মেমে! মায়ের কথা ভাবার সময় ক�োথায়? মাকে আবার মনে পড়ল�ো যখন শুরু হ�োল আমার ‘সিঙ্গল-ফাদারহুড’ – আমার তিন কন্যাকে নিয়ে, যখন ওদের বয়েস মাত্র ১, ৩ আর ৪! কারণ সেই একই - ওদের জুত�োর ফিতে বাঁধা, স্নানের সময় ওদের মাথায় জল ঢালা, ওদের জামার ব�োতাম সেলাই করা, এমনকি ক্রমে ওদের সাথেই নারক�োল-নাড়ু আর রসবড়া বানান�ো! স�োয়েটারটা এখনও ওদের জন্য বা ওদের সাথে বু নে উঠতে পারিনি, পারলে গর্বিতই হতাম! তবে হ্যাঁ, মেয়েদের মাফলার ব�োনা শিখিয়েছি – এই আমার ‘মায়ের ছেলে’ আমিই! আমার মধ্যম কন্যা মায়ার বানান�ো মাফলার সযত্নে রাখা আছে আমার কাছে। এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে আমার বছর দু ই ডাক্তারি পড়ার অভিজ্ঞতা, যখন শিখেছিলাম সার্জারিতে মানু ষের চামড়া সেলাই! তবে এইসবের ক�োনটাই আমার কাছে তেমন বিশেষ কিছু নয়। বিশেষ যা, তা হ�োল আমার মাকে আমার চিনতে পারা। যা আমি পেরেছি বিগত ১৫ বছরে, আমার তিন কন্যাকে ‘সিঙ্গল-ফাদার’ হিসাবে বড় করতে গিয়ে। ফেলে আসা স্মৃতি বা টুকর�ো ঘটনা মনে পড়ায় প্রায়ই মনে হয়েছে যে কি অসাধারণ ছিলেন এই মহিলা! সহায়-সম্বলহীন (দেশ বিভাগের পর মায়ের বাপের বাড়ি হয়েছিল�ো বিহারের গয়ায়, যা তখনকার দিনে ক�োলকাতার তুলনায় ছিল বিদেশ), আত্মীয়-পরিজনহীন (মায়ের একমাত্র ভরসা ছিল আমার বাবা, যিনি কর্মসূ ত্রে প্রায়ই থাকতেন অন্যত্র, আর আমরা তিন ভাই ছিলাম খুবই ছ�োট), প্রায়ই কপর্দক-শূ ন্য অবস্থায় এক ভীষণ প্রতিকূল পরিবেশে আমাদের তিন ভাইয়ের মুখ চেয়ে মায়ের বেঁচে থাকার সংগ্রাম বিগত ১৫ বছরে অনেক রসদ জুগিয়েছে আমাকে – অনেকটা প্রায় একই রকম অবস্থায় আমার তিন মেয়েকে বড় করার সংগ্রামে। প্রায়ই আমার মনে হয়েছে (বিশেষত বাচ্চাদের অসু খ-বিসু খের দিনগুল�োয়, যখন ক�োনটা আগে সামলাব�ো সে ব্যাপারে হালে পানি পেতাম না) যে আমার মা পেরেছিলেন, আমাকেও পারতে হবে, পারতেই হবে! আমার মেয়েরা বড় হয়ে গেল�ো, আমার এই সংগ্রাম প্রায় শেষ। মায়ের ছবিতে ফুলের মালা দেওয়া ছাড়া মাকে আর কিছু দেওয়ার সু য�োগ হয়নি ক�োন দিন। তবে প্রতিকূল পরিবেশে আমার সিঙ্গিল-ফাদারহুডের সংগ্রাম হয়ে থাকল�ো আমার মায়ের প্রতি আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য। 

www.batj.org

Durga Puja 2019

27


প্রবাসীগৃহব  

মি অনু , অনু মিতা। আজ ভাবলাম আপনাদের কাছে আমার জীবনের টক মিষ্টি তেত�ো নানান স্বাদের কথা ভাগ করে নিই। আমি একজন প্রবাসী গৃ হবধূ । হ্যাঁ, প্রবাসে থাকা আমার গৃ হবধূ কাজের জন্যই। কি বললেন? এটা ক�োন�ো কাজ নয়? এটা আপনাদের চ�োখে তথাকথিত কাজের লিস্টে না থাকলেও এই কাজেই আমি ২৪x৭ ঘন্টা ব্যাস্ত থাকি। আমি আমার জীবনের গল্প শ�োনাচ্ছি বলে আবার ভাবতে বসবেন না যেন যে আমি আমার জীবনের ক�োন�ো কষ্ট শ�োনাতে বসেছি, আমি শুধু আমার র�োজ নামচাই একটু বর্ণনা করতে চাই। আমার স্বামী এখানে এক নামি সফটওয়্যার ক�োম্পানির আই টি ইঞ্জিনিয়ার। আমাদের প্রেমের বিয়ে, প্রেম পর্ব মিটে যাওয়ার পর দু ই বাড়ির মতে খুব ধু মধাম করে বিয়ে আমাদের। আমাদের বিয়ের পরে পরেই ওনার পদ�োন্নতি, আর বিদেশে বদলির সু খবরটি পেয়েছিলাম। তারপর আর কি আমার র�োজকার জীবনযাত্রা ছেড়ে ডিপেন্ডেন্ট ভিসাতে চলে এলাম এখানে সু খী গৃ হক�োণ বাঁধব�ো বলে। বিয়ের পর বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের ছেড়ে শুধু মাত্র বরের সঙ্গে থাকাটা, প্রথম কয়েক মাস লেগেছিল�ো এক দীর্ঘ মধু চন্দ্রিমার মত�ো। প্রথম প্রথম বললাম তার কারণ সময় কখন�ো থেমে থাকে না, সবকিছু রই শেষ হয়, তাই এটাও শেষ হল�ো। সকাল সকাল উঠে ব্রেকফাস্ট রেডি করা তারপর দু পুরের খাবার তৈরি করে প্যাক করে দিই, আর আমারটা ঢাকা দিয়ে রাখি।” উনি তবে প্রতিদিন আলিঙ্গন না করে যান না আমাকে,,”--- ঠিকই ধরেছেন কথা গুল�ো বলার সময় সত্যিই একটু রক্তিম হলাম লজ্জায়। এরপরই শুরু হয় আমার অখণ্ড অবসর। এখানে প্রথম আসার পর একা একাই বেড়িয়ে পড়তাম নতুন দেশ দেখতে, তখন সব কিছু ই খুবই নতুন, কখন যে সময়ের কাঁটা ঘুরে যেত বু ঝতেই পারতাম না। তারপর ফিরে এসে স�োশ্যাল মিডিয়াতে কাটিয়ে দিতাম সমস্ত প্রাণবন্ত সময়টুকু। কিন্তু নতুন পুরান�ো হতে ত�ো শুধু সময়ের অপেক্ষা। এরপর অখণ্ড অবসরের সময়গুল�ো ও আমাকে জিজ্ঞাসা করত�ো কখন যাবে ! তখন শুরু হল�ো আর এক নতুন জীবন, প্রতিদিনই সময় কাটান�োর ফন্দি ফিকির খুঁজতে শুরু করি, কখন�ো অলসতার পথ বেছে নিই, বা কখন�ো ক�োন�ো সৃ জনাত্মক কাজ। অলসতার মধ্যে বেছেছিলাম মুভি দেখা, ইউ টিউব এ নানান রকম ভিডিও দেখা আর বই বিশেষ সাথে নেই, কিছু আমার সাবজেক্ট এর বই আছে ভাল�ো লাগলে নেড়েচেড়ে দেখি। অতিরিক্ত ব্যাস্ততা যেমন আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্য ভেঙ্গে দেয় তেমনি অতিরিক্ত অবসর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে দেয়, আমার ও তাই হল�ো। যে সমস্ত পরীক্ষার প্রস্তুতি একসময়ের ব্যাস্ততার কারণে নিয়ে উঠতে পারিনি, আজ এই অফুরুন্ত সময়েও সেই প্রস্তুতি নেওয়ার উদ্যম আসেনা আর।

28

- আগমনী পাঠক

অতিরিক্ত অবসর ব্রেন বু দ্ধিকেও অবসরে পাঠিয়ে দিয়েছে। কাজ না করলে কি আর ছু টির মজা আসে? কিন্তু নিজের ইচ্ছাশক্তিকে মরতে দিইনি। তাই নতুন নতুন কাজের সন্ধান চলতেই থাকে। প্রবাসে থাকা ব্যাপারটা ফ্যান্টাসি তখন পর্যন্তই থাকে যতক্ষণ না প্রবাসে বসবাস শুরু হচ্ছে। প্রবাসী গৃ হবধূ দের জগৎ ওই একজন ল�োককে ঘিরেই থাকে, তার হাঁসি কান্না সব কিছু ই ওই একজন কে ঘিরে আবর্তিত হতে শুরু করে, তার অন্যতম কারণ আপন মানু ষ জনের অভাব। এখানে সবথেকে দু র্ভাগ্যজনক ব্যাপারটা আসে, যাকে ঘিরে আমাদের জগৎ আবর্তিত হয় তার জগতের সব কিছু কিন্তু আমরা নয়। সেকারণেই তাদের ব্যবহারের ত্রূটি বিচ্যুতি অনেক বড় আকারে দেখা যায় আমাদের জীবনে। শিকড় ছেঁড়া গাছের মত�ো অবস্থা আমাদের, জঙ্গল থেকে উঠিয়ে ইট কাঠ পাথরের মাঝে সাজান�ো বাগানে থাকা পাখিটির মত�ো বলতে পারেন, যাদের পুরান�ো কথা মনে করে মন খারাপের অধিকার থাকলেও ফিরে যাওয়ার উপায় নেই। পুরান�ো সব বন্ধু বান্ধবরাও আর মন খারাপের কথা শুনতে চায় না তাই আমি সীমা স্বর্গের ইন্দ্রানী হয়েই খুশি। যাকগে ওই সময় কাটান�োর সব থেকে অসাধারণ উপায় রন্ধন। নিজেকে নতুন ভাবে আবিষ্কার করলাম তখন। পাশের জন ও ধীরে ধীরে উপলব্ধি করল�ো, তারই পরামর্শে শুরু হল�ো আমার নিজের ইউ টিউব চ্যানেল। এই কাজে সত্যিই নতুন আমাকে খুঁজে পেলাম। আমাদের দেশে ইংলিশ শেখা আর বলা দু ইই খুব আভিজাত্যের ব্যাপার, কিন্তু যে দেশে আমি আছি ওখানে কিন্তু ইংলিশে সকলে এত পটু নয়, এদের সমস্ত কাজ এরা এদের মাতৃভাষাতেই করতে পারে। কি ভাল�ো না ব্যাপার টা বলু ন ! তবে এদের ইংলিশের অপটুতা আমাকে আমার নতুন কাজ দিল�ো। স্পাউস ভিসা তে পার্ট টাইম জব এর অনু মতি আছে দেখে নিয়েই নিলাম ইংলিশ টিচিং এর পার্ট টাইম জব। এবার সত্যিকারের নতুন এক গতি পেল�ো আমার জীবন। তবে আজ সকাল এ আর�ো একটা সু খবর পেলাম, কয়েকদিন আগে করা প্রজেক্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট এর এপ্লিকেশন এর পসিটিভ রিপ্লাই পেলাম। কয়েকদিনের মধ্যেই য�োগদান করতে পারব�ো। তাই গৃ হবধূ র কাজের সাথে এই নতুন ফুল টাইম কাজের পারমিশন নেওয়ার প্রসিজার দেখতে বসে ভাবলাম আপনাদের ও জানাই একটু। এবার আসি, আবার পরে কথা হবে আপনাদের সাথে, ভাল�ো থাকবেন। 

Anjali

www.batj.org


যে কথা রয় প্রাণের ভিতর অগোচর   “আলস্যের সাথে লড়াইয়ে যদি জয়ী হতে পার�ো মা, এ জীবন ত�োমার" - এই শব্দগুল�ো কে চূ ড়ান্ত অবহেলায় মাড়িয়ে-যাওয়া দিন যাপনের পরেও প্রতি ১৫ই মে, প্রতি ৬ই সেপ্টেম্বর নতুন করে ঘুম ভাঙ্গে। মন পিছলে যায় একদিন থেকে আরেকদিনের গল্পে। মনে পড়ে তখন আমি ক্লাস থ্রী-তে, প্রতিদিন বিকাল ৩:৩০ থেকে ৫টা অবধি দাদু র পাঠশালায় পাঠ চলত। সে পড়ায় ক�োন�ো syllabus-এ tick পরত না। ক�োন�ো weekly, yearly, monthly চ�োখরাঙানিদের আস্কারা দেওয়া হতনা। প্রতিদিনই শুরু হত যেক�োন�ো বইয়ের প্রথম পাতার অনিবার্য ওই stanza দিয়ে, "The Constitution of India", একবার বাংলায়, একবার ইংলিশ-এ। তারপর প্রতি শব্দের মানে ও তা প্রতিনিয়ত মনে রাখার অঙ্গীকার। তখন, বারবারই বলেছি, ''দাদু , তুমি জাননা, এটা স্কুলে পড়ায় না, পরীক্ষায় আসেনা'', শুধু হাসত�ো। তারপর ছিল দু ই থেকে কুড়ি অবধি নামতা মুখস্থ বলার পালা। তখন মন, মুগ্ধতা, বিস্ময়, অনু ভূতি-- সবকিছু রই বয়স এত কম, যে একটা ৭৮ বছর বয়েসী আওয়াজে ঝড়ের গতিতে ১৯ এর নামতা শুনে অবাক লাগত না। ভাবতাম এ এমন কি বড় ব্যাপার, গুনটা তালে শিখলাম কি করতে। এখন বু ঝি, মাথা যে ক্যালকুলেশন এ অভ্যাস গড়ে, তাকে digitize করে কার সাধ্য ! একদিন মনে আছে, ৩:৩০ র বদলে ৩:৪০ এ ঢুকেছিলাম, বই নিয়ে আসতেই দাদু বলল, ত�োমার আর লেখাপড়া হবেনা। কেন জানি মনে হত দাদু একটা ঘড়ি আর ঠাম্মা তার কাঁটা। দাদু breakfast করছে মানে সকাল ৯টা, তেল মাখতে উঠছে মানে ঠিক ১০:৩০টা, বিকেলে চা এর জন্য লক্ষী ডাকটা আমাদের কাছে ৪টে বাজার ঘন্টা।  মাসের আর�ো একটা দিন এর অপেক্ষায় আমি আর হিয়া বসে থাকতাম, সেদিন ছিল দাদু র পেনশন পাওয়ার দিন, আমরা স্কুল থেকে ফিরতাম ১১টা

www.batj.org

- দুহিতা সেনগ

নাগাদ, তারপর রিকশা করে, দাদু মাঝে, আমি একধারে, আরেকধারে হিয়া। পেছনে থাকত আশীষ কাকু সাইকেল নিয়ে। পুরুলিয়ায় এ রিকশা বেশ আরামের, বড় আর নীচু। যারা নিজেকে এবং যাদেরকে সবাই, র�োগা বলে মনে করে, সেরকম তিনজনের একটা রিক্সায়, পনের কুড়ি মিনিটের এর যাত্রা বিশেষ বিড়ম্বনা নয়। কিন্তু আমাদের সাথে আরেকজন ও যেত, সে ছিল দাদু র লাঠি, সে আর ওই রিক্সায় জায়গা করে উঠতে পারতনা, তাকে আড়া আড়ি ভাবে ধরতে গেলে প্রত্যেক গাড়ির সাথে একবার করে ধাক্কা খায়, আর লম্বা করে ধরলে বারবার রাস্তায় পড়ে যায়, ওটা রিক্সাওলার একটা extra দায়িত্ব ছিল, প্রতি দু বার প্যাডেল অন্তর লাঠিটাকে পিছন থেকে কুড়িয়ে আনা… যে রাস্তা দিয়ে যেতাম, তার ম�োটামুটি ল�োকজন দ�োকানদার থেকে শুরু করে সকলেই দাদু র ‘’জয় মা’’ রবে কেঁপে উঠে ওই মহাযাত্রায় সামিল হত… আমাদের মজা ছিল অন্য জায়গায়, ফেরার পথে সারামাসের বায়নার লিস্ট এ টিক মেরে দীর্ঘদিন এর ইচ্ছাপূ রণ, গলিতে ঢুকতে না ঢুকতে সক্কলে জেনে যেত�ো, আজ দাদু পেনশন পেয়েছে, আর ঠাম্মাকে কেউ কখন�ো চ�োখে না দেখলেও এটুকু প্রত্যেকেই জানত যে দাদু র বউ এর নাম লক্ষী। এর পরের দৃ শ্যে লক্ষীরানী সেনগুপ্ত দরজার মুখে দাঁড়িয়ে, দাদু প্রথমেই মিষ্টির হাঁড়িটা তার হাতে দিত। আমরা একপ্রকার যু দ্ধজয়ের ভঙ্গিতে ঘরে ঢুকতাম। আসলে সময় থাকলে, বা অসময় না থাকলে মাথা ফাঁকা থাকলে, বা অপ্রিয় ভাবনায় ভর্তি থাকলে, সব ক্ষেত্রেই ব�োর�োলীন হয়ে ওঠে এই দিন গুল�ো। আজ ও হল�ো, ভাবলাম কাল�ো হরফ চড়াই এদের ওপর। 

Durga Puja 2019

29


দেশ  

- শঙ্কর ব

দেশ নামের চুম্বকের মেরুকরণ আমার হাতে ছিলনা যারা হাত দিলেন তাদের সচেতন বলতে বাধে ফুলচন্দনের আবডালে ঢাকা পড়ে দেশ আমার ক্রমশ অবস্থান স্পষ্ট করে গ্রাম-শহর-সড়ক আকাশের নীল, রক্তের লাল আর সব রঙ হল বিভাজনের তীক্ষ্ণ ছু রি ফালাফালা ছবি মার্ক্স, গান্ধী, রবীন্দ্র, নজরুল; আমার দেশপ্রেমের আগুন নিয়ে ছু টল তন্দ্রাহীন অল�ৌকিক চন্দ্রযান অন্তরীক্ষে চর্কিপাকে চাঁদের বুকে ঝড় নামিয়ে থামে সে। এই সময়ের কথা কি ভেবেছিলে সু ভাষ? ত�োমার রক্ত কি ধু ল�োয় মিশেছিল এই স্বপ্নের বিহ্বলতায়? আর�ো যারা হেঁটেছিল শৃ ঙ্খলপায়ে দ্বীপান্তরে... তাদের স্বপ্নেও কি সবুজ সাদা আর গেরুয়া রঙ এমনি তীক্ষ্ণধার ছিল? বড় কঠিন এই দেশ প্রেম এর খেলা বড় অবান্তর। তার চেয়ে এস�ো আমরা কথা সাজিয়ে যাই ভাল থাকার কথা, ভাল কিছু ভাবনার কথা কথার নির্মোকে চাপা পড়ে যাক শতাব্দীর ইতিহাস শিক্ষার আল�ো, চেতনার বাতাস তথ্যের চাদরে মুড়ে ফেলি যু ক্তির উষ্ণতা আর ক�োন ভয় নেই, সব শান্তি, ওম শান্তি... শুধু সিঙ্গুর-নন্দিগ্রাম আজও অপেক্ষায় শিল্পের ওম মেখে রাতের অন্ধকারে।

30

Anjali

www.batj.org


�����������������  

- শ্রীকান্ত চট্টো

পাঁচতলার কাঁচের জান্‌লা দিয়ে যতদূ র দেখা যায় শুধু ই বসতি, দিগন্ত নিঁখ�োঁজ। ব্যস্ত জনপদ, মানু ষের সদর্প গ�ৌরব। সারি সারি বাড়ী; হলু দ সবুজ কাল�ো নীল সব ছাদ, আর ল�োহার রেলিং। রাস্তায় গাড়ীর সারি, আর বিজলীবাতির স্তম্ভ, ব্যবসায়ী মানু ষের অবিরাম আনাগ�োনা। গাছ কই? আর পাখি? পাখি বলতে শুধু ই সরব কাক? ল�োভের তাগিদে নির্বিচার সর্বভূ ক। সভ্যতার অজস্র সম্ভার সাজিয়ে শহর ট�োকিও ঘ�োষণা করছে আধু নিক, ধনিক জাপানের জয় জয়কার। ব�ৌদ্ধ, শিন্তো মন্দির? পুরাতন, চিরন্তন সম্পদ? তারাও আছে এখানে-সেখানে – প্রায় লু কিয়ে, যেন মুখচ�োরা, পিছিয়ে-পড়া, বয়স্ক সহযাত্রীর মত। স্নেহ পায় সভ্যতার, হয়ত�ো বা শ্রদ্ধাও। বিশেষত বৎসরান্তের এই ছু টির মরসূ মে। আবার তাকাই বাইরে, প্রকৃতির, সবুজের, প্রত্যাশায়। আত্ম-সমর্পিত গাছগুল�ো শীতে পত্রহীন, যেন মৃ ত। ঘাসেরাও বরফের নীচে, যেন মরে বেঁচেছে। কি হবে হংস-মধ্যে-বকের মত বিসদৃ শ হয়ে! হঠাৎ চ�োখ পড়ে নড়ে-ওঠা মরা গাছের ডালে। অবাক কান্ড – একটা ছ�োট পাখি – নীল আর সবুজে মেশান�ো। দু ট�ো ডাল যেখানে মিশেছে সেখানে ছ�োট্ট গর্ত্তে জড়�ো করছে মুখে করে বয়ে-আনা খড়কুট�ো বাঁধছে বাসা সযত্ন নৈপুণ্যে, নিঃশব্দে একটু একটু করে। তার মনে কি বসন্তের স্বপ্ন? আর অজানা প্রেয়সীর? সে কি গ্রাহ্য করে না মানু ষের এত কীর্তি, এত দম্ভকে? যেমন করেন নি বুদ্ধ, যেমন করে না প্রকৃতি।

www.batj.org

Durga Puja 2019

31


সাম্যবাদ ও স্বপ্ন  

- সু ব্রত বন

বিদ্রোহী কবি নজরুল তুমি সাম্যবাদের কবি রঙ, তুলির বদলে লেখনি হাতে এঁকেছিলে এ সাম্যের ছবি। ত�োমার চ�োখের তারায় তারায় ম�োর এ স্বপ্ন দেখা, ‘ত�োমার স্বপ্ন’ ম�োরে দেয় প্রেরণা তাই নবরূপে বাঁচতে শেখা। বাঁচব�ো হয়ত আমি আর�ো কয়েকটি বছর ধরে, ‘রঙিন’ গাছের ফুলগুলি যেন অকালে না যায় ঝরে। চ�োখের সামনে গড়ে উঠু ক সু ন্দর পবিত্র এ পৃ থিবী, যেন দেখে তারে মনে হয় কবিতায় আঁকা এক ছবি। আমার সেই পৃ থিবীতে না যেন কেউ মরে অনাহারে, কেউ যেন না জানায় তারি ক্ষু ধা, ‘ক্ষু ধার কাতর স্বরে’। অশিক্ষার আঁধার যেন যায় কেটে, আসে ‘শিক্ষার নব প্রভাত’, চিকিৎসাহীনতায় না যেন মরে কেউ সংসার না হয় হাভাত। সকলে যেন বাঁচে এ সংসারে মাথা উঁচু করে, বাঁচতে যেন না হয় কাহারেও কাহার�ো দয়ার তরে। বন্ধ হ�োক সেই সু ন্দর পৃ থিবীতে যত ধর্ষণ, খুন ও হানাহানি, চেতনার উন্মেষে সে সব একদিন হবেই নিশ্চয় তা জানি।

32

Anjali

www.batj.org


দেশ  

- শান্তনু চক্

ব�োকাবাক্সে চেঁচামেচি, পথের ম�োড়ে গলাবাজি ! চায়ের কাপে উঠছে তুফান, সেনাই শুধু কাজের কাজী | দেশ বাঁচাতে ক�োমর বেঁধে, ফেসবুকেতে বমি করা, টুইটারই বা ব্রাত্য কেন, স্বল্প কথায়  গালটি পারা ! গলা এবং ন�োট এর জ�োরে, জনাদেশ আজ যায় যে কেনাl “সহিষ্ণুতা দেশবির�োধী”, এমন কথাও বড়ই চেনা ! অপর দেশের সর্বনাশে, নিজ দেশের প�োয়া বার�ো, মেনে নিতে কষ্ট হলে, মানে মানে কেটে পড়�ো ! দেশের সংজ্ঞা বুঝতে হলে, নিজের শিক্ষা ভুলতে হবে ! আদিকাব্যের বিশ্লেষণে, দেশের কথা জুড়তে হবে ! পছন্দসই নির্যাসে যে দেশের মানে যাবে ব�োঝা,  জবরদস্তি কেন আবার সর্বধর্ম শান্তি খ�োঁজা! অর্থনীতি, বিদেশনীতি, গালভরা সব নীতি’র কাহন,  সবার উপর ধর্মনীতি, বাকি সবাই তারই বাহন  বির�োধিতা, দেশদ্রোহে নেই যে তেমন ক�োন ফারাক  জেলে যাওয়ার হলে মতি, বির�োধীদের লাইনে দাঁড়াক ! রামরাজ্য গড়ার  পথে, প্রয়�োজন যে বানরসেনা, গ�ো-ভক্তের ভক্তিস্রোতে, সংখ্যাধিক্য ভীষণ চেনা ! সংখ্যালঘু সমুদায়ের, বাক্যি যেন থাকে মাপা,  বুকনিপ্রবণ হলেই, সংখ্যাগুরু’র ভারে পরবে চাপা ! অতএব ভাবছি বসে, দেশ কি? আমি আদ�ৌ জানি? প্রথাগত পুঁথি পড়া, অতীতের সব কেরেস্তানি ! দেশভক্তি’র প্রচার সভায়, আমার ক�োন নেই প্রয়�োজন, দেশটি আমার থাকুক বুকে, রন্ধ্রে বহুক তারই রণন !

www.batj.org

Durga Puja 2019

33


দুঃস্  

- কৌশিক ভট্টাচার ্

মৃ ত সন্তানের দেহের টুকর�ো কুড়িয়ে শেষকৃত্য করে আসে যে পিতা  তার সন্তানের রক্ত  রক্তবীজ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে মধ্যরাতে। বীজমন্ত্রে  হাজার হাজার পিতা সেই রাতে  স্বপ্ন দেখে মৃ ত্যুর। জানু পেতে  করজ�োড়ে বসে  তারা প্রার্থনা করে  হে করুণাময় পরমপিতা  ক্ষমাঘেন্না করে  যেন আমাকে আগে ধ্বংস করে দিও দাঙ্গায়।

Dr. Sankar Bose, BATJ member and former resident of Japan, Professor of Geology at Presidency University, Kolkata receiving Shiksha Ratna award on Teacher’s day 2019 from Chief Minister of West Bengal, Mamata Banerjee.

34

Anjali

www.batj.org


ফিরে দেখা  

- বিশ্বনাথ প

ভূ মধ্যসাগর তীরে নিথর নিষ্পাপ শিশুটি মনে পড়ে? তার লাল টুকটুকে জামা নিশব্দে ধিক্কার জানায় পৃ থিবীকে সভ্যতা..... ত�োমার দু হাত আজও রক্তে রাঙা অনেকটা পথ এগিয়ে এসেছি আমরা প্রস্তর যু গ... মধ্য যু গ পেরিয়ে আজ এই আধু নিক আন্তরজাল এর দু নিয়ায় প্রযু ক্তি আজ হাতের মুঠ�োয় তবু স্থবির মন কেন এক পাও এগ�োয়না? ব�োতামের হালকা চাপে সবকিছু ই দ�োরগ�োড়ায় তবু ভুখা মানু ষের মিছিল কেন ফুরয়না? গগনচুম্বী অট্টালিকায় সেজে ওঠে পৃ থিবী বিলাস বৈভবের অফুরন্ত আয়�োজন তবু এক টুকর�ো আস্তানার খ�োঁজে সাগরে ঝাঁপ দেওয়া শঙ্কিত ভীতিবিহ্বল অগনিত মানু ষের ছবি একটুও কি নাড়া দেয় না? শীতল ঘরে বসে থাকা শীতল কঠিন মনটাকে চাঁদ ছাড়িয়ে আজ আমরা মঙ্গল এর পথে লাল গ্রহে ঘর বাধার স্বপ্ন হায়....লাল আমাদের বড় প্রিয় রঙ তাই এই সবুজ পৃ থিবী কেমন রক্তিম করে তুলেছি অসহায় মানু ষের অবিরত রক্তক্ষরণে ফিরে দেখা বড়ই প্রয়�োজন মুখ�োশের আড়াল আর নয় ক�োথায় সভ্যতার সঠিক প্রতিচ্ছবি? লাল গ্রহে উড়ে চলা মহাকাশযান না ওই লাল টুকটুকে জামায় মৃ ত শিশু।

www.batj.org

Durga Puja 2019

35


The Bhagavad Gita - Nature of Work - Suneel Bakhshi

T

he Bhagavad Gita, as is well known, is a beautiful and powerful text that is overflowing with wisdom.

One of the central Truths in the Gita is that the fruit of all action should be renounced. This Truth is explored in many ways across the Shlokas of the Gita to ensure the underlying rationale is well understood, so that true conviction for this chosen path can be attained. For this short article, I have selected a few Shlokas which explain the nature of work, and which subtly guide us towards mastering the approach to that necessary part of our daily lives which is to do with work. These selected Shlokas, enumerated in Chapter 18, allow a glimpse of the depth of thinking, the hope and optimism, as well as the succinct expression of the seers of ancient India. The Gita says : WORK IS A FUNCTION OF NATURE Chapter 18, Shloka 13:

pañchaitāni mahā-bāho kāraṇāni nibodha me sānkhye kṛitānte proktāni siddhaye sarva-karmaṇām

पञ्चैतानि महाबाहो कारणानि निबोध मे | साङ्ख्ये कृ तान्ते प्रोक्तानि सिद्धये सर्वकर्मणाम् ||

O Mighty Armed (Arjuna), learn of Me, the five factors, for the accomplishment of all actions, as declared in this wisdom. Chapter 18, Shloka 14:

adhiṣhṭhānaṁ tathā kartā karaṇaṁ cha pṛithag-vidham vividhāśh cha pṛithak cheṣhṭā daivaṁ chaivātra pañchamam

अधिष्ठानं तथा कर्ता करणं च पृथग्विधम् | विविधाश्च पृथक्चेष्टा दैवं चैवात्र पञ्चमम् ||

(1) The seat of action and likewise (2) the agent, (3) the instruments of various sorts, (4) the many kinds of efforts and (5) providence being the fifth. The doctrine explains that there are five factors contributing to action. First, our physical body (ADHISTHANAM) - the seat of desire, hatred, happiness, misery, knowledge and the like, i.e. the seat of their manifestation. Second, the AGENT (the actor): the phenomenal ego or enjoyer is simply one of the determining causes. Third, the VARIOUS INSTRUMENTS - for example, we may take the sense of hearing as an instrument by which we perceive sound. Fourth, the FUNCTIONS, or the various kinds of effort. One can visualise these starting simply with inbreathing and outbreathing. The final of the five causes of action is THE WILL OF THE DIVINE. In the words of Swami Ranganathan of the Ramakrishna Mission, a profound thinking underlies this statement. It is the faith that there is an infinitely wise, all-seeing will that is constantly at work in the world. Crucially, this doctrine says that this fifth factor is not simply “Lady Luck”. It is much, much more than that. It is the grace of divinity. What can be the meaning of such “providence”, or the “grace of divinity”? The Gita says that, while it rules unnoticed by our five senses, it exists and works in each individual for its own divine “incalculable purposes”. Mankind may be only dimly aware of the aim of this grace. But from ancient times in India, it has been seen as the fruit of of our past actions which, step by step, allows a rise from our animal ancestry to the divine ideal. This will of the divine, manifested in man, continues to overcome the presence of nature, of heredity and of the environment. Chapter 18, Shloka 15:

śharīra-vāṅ-manobhir yat karma prārabhate naraḥ nyāyyaṁ vā viparītaṁ vā pañchaite tasya hetavaḥ 36

शरीरवाङ्मनोभिर्यत्कर्म प्रारभते नर: | न्याय्यं वा विपरीतं वा पञ्चैते तस्य हेतव: || Anjali

www.batj.org


The Bhagavad Gita - Nature of Work Whatever action a man undertakes by his body, speech or mind, whether it is right or wrong, these five are its factors. Chapter 18, Shloka 24:

yat tu kāmepsunā karma sāhankāreṇa vā punaḥ kriyate bahulāyāsaṁ tad rājasam udāhṛitam

यत्तुकामेप्सुना कर्म साहङ्कारे ण वा पुन: | क्रियते बहुलायासं तद्राजसमुदाहृतम् ||

But the action which is performed desiring results, or with self-conceit and with much effort, is declared to be Rajasika. Doing necessary but unpleasant things from a sense of duty, feeling the unpleasantness all the time, is of the nature of a Rajasik (whose fruit is pain) action. The consciousness that we are grimly passing through toil takes away the value of the act. But doing it gladly, recognising that one of its factors is the Will of the Divine, is of the nature of a Saatvik (whose fruit is wisdom) action. In the words of Pandit Radhakrishnan, it is the difference between an act of love and an act of law, an act of grace and an act of obligation. Together, these four Shlokas constitute an extraordinary statement and ideal. They say that, to attain freedom man must learn to be free of attachment, and learn to do his work as the instrument of the universal spirit and for the maintenance of the cosmic order. Man performs even terrific deeds without any selfish aim or desire, but because it is the ordained duty. What matters then is truly not the work but the spirit in which it is done. Such a man knows that all fruit (phalam) decays, and that only ONE fruit is eternal: the purified mind that follows from detachment. It is this purified mind that goes forward into even future lives, and so into eternity. 

www.batj.org

Durga Puja 2019

37


How I wish to be Ravan from this Dussehra! - Somik Ghosh

N

o you heard me right. It’s not a printing mistake in this magazine. Yes, this Dussehra I want to be Ravan (not RA-One) and I invite you all to take up this challenge.

By now you must have made a perception about the writer and more offended with the shamelessness he is declaring his aspirations to be “Ravan”. Please don’t get me wrong and go through this short introspection which I want to share with you today. Our experience in life make us so routine that at a young age we start identifying good and bad by magic words like “Ram” is positive and “Ravan” is negative. We pass on this simplistic learning unhesitantly to the next generation too. When we remember Ravan the first thing that comes to our mind is a kidnapper of someone else’s spouse isn’t it? Well that aspect of this mythological monster is very well known to us but how about the other aspects of his life. Ravan was bestowed with ten heads at the time when his contemporary mortals like Shree Ram had only one head overlooking only one aspect of life. Ram exhibited ideal behavior. He was goodness personified and showed how to do things “right” as the society expects you to do. There were little or no controversies and a proven way of life. Ravan, I feel preached practicality and how to co-exist in different characters in one single life. He brings in versatility and thrill not only his life but others around his life including Ram. You may simply disagree on this thinking my thoughts are devoid of logic or maybe you semi-agree but reluctant taking Ravan side openly may jeopardize your social status. Well you don’t have to do anything as of now. I am not here to take any one’s side and preach right or wrong like some modern day Guru. Right or wrong anyway is a function of time and situation and I believe and you are the best judge. Readers, I am going to present to you a modern day Ravan (V 2.0) whom I (and after sometime you!) would aspire to be. Some mythology or myth says Ravan was a multi-faceted allrounder, an expert musician, great warrior, a laureate, intelligent and a philosopher besides being evil. Anyways. keeping this morality dilemma and mythology aside let’s imagine of a human being with ten active heads. Each head is dedicated to each task and aspect of life. The first one is the biological head visible to the world. Second one concentrating hard to prosper at job (Career head), one struggling hard to clear JLPT exams (Academic head), one calculating EMI’s and investments (financial head), one planning weekend and utilizing season leaves (travelling head). One head trying to mitigate problems at home and render family “less” complaining (family head, not “head” of the family by the way) while other head trying

38

hard to be socially popular amongst friends and acquaintances through SNS like Facebook and Instagram (e-Social head). One head is thinking how to contribute to Sharodia magazine (creative head) while other head is thinking about how to get entertained (food /fun/love/hobby/dress/make-up etc.). And the list continues……. Don’t you identify yourself with modern Ravan (V 2.0)? You are already a Ravan with more than ten heads on your mortal body. I’m sure all the “lady” Ravans will have few more heads to add on to the list. To be honest all the heads I mentioned is part of the first head the biological head residing in different compartments. There’s the problem dear readers. Like 狭い(narrow) streets in Tokyo city where people tend to collide against each other, our thoughts from different compartments of small biological brain collide against each other. It Inflicts pain and instills dilemma in our mind. Today most of us are stranded in a “To do or not to do” situation like the Shakespearian Hamlet. One priority collides with other one. For example, working late at office to reach zenith of your career can eat away your time to make weekend plans or travelling places every now and then may shrink your savings and financial planning. All are equal priority. Isn’t? When we are prioritizing one thing we tend to believe we have to compromise on other things. Why it has to be like that always ? I feel being Shree Ram is relatively easy. Just lead life one way, do all-good how society wants to see us, bound by cob-web of morality. All other heads remain dormant like a beautiful Mt. Fuji to look at. Go ahead if you are happy with it, nothing right or wrong about it. But if we want to explore this life and your capabilities further we need to be Ravan V 2.0. Just shedding one head which thinks about kidnapping your beloved, can set Ravan as a modern day example to lead life. Prioritizing every aspects of life and thinking about these independently at the same time is the essence of modern day Ravan’s character. He is also fearless, adventurous, un-yielding and not hesitant to explore all possibilities that life has to offer. Choose Ram or Ravan, who you want to be but please don’t be a Hamlet lost in the Tokyo or Barabazzar streets. Also, let’s stop identifying Ravan only with evil and negative, since you realize we are all Ravans already in our life striving hard to strike balance. These are my thoughts on the onset of Sharod-utsob and I invite you all to take up this challenge to be a Ravan (V 2.0) by next Pujo 2020. Remember it’s not an easy task by any way! Are you ready? I’m.

Anjali

Asche bochor abar hobe, dekha hobe! 

www.batj.org


Arrival of the Pet Puja - The Feast vs. Fast!!! - Arjyama Choudhury

I

will begin with an Apology note to the Readers as you will find a few Bengali phrases being used in this blog in a few places. This is because when I write about Pujo, the so called “Bong” in me which normally lies neutral within the cosmopolitan surroundings we live in, becomes very dominant. Though a Non-Kolkatan (Probashi) Bangali and have spent all my life outside Kolkata, but when it comes to a few things like Pujo, Rabindra Sangeet o Rachana, Uttam Suchitra movies, Maacher Jhol with Fulkoi, or my parents` rich knowledge about the bengali art and culture which they have instilled in me with each and every small act, I become a true Bengali. Mane jeno hotath akta excitement jege othe moner bhetor. May be that is why I was always sure that I wanted to get married only to a Bong and I am glad to have found the one :) Coming to Pujo: Pujo manei sei Shefali Phuler Gondho, Dhaaker shobdo, Pujo manei sei Aaroti, Dhanuchi Naach, Sei chhotobalar pistol e nokli guli bhore phatano, Sei thakurer pae boi chhoano. Pujo mane koto kichu. Pujo manei notun jama, laal paar shaari, sindoor khala. Pujo manei khawa dawa. Ha khawa dawa. Fast noi. Feast. Ar sei jonnei aro besi ami erom life partner cheyechilam je amar pujor requirements gulo na bujhleo amar feast er requirements gulo bujhte parbe. Yes true, no matter however different our food habbits are but when it comes to feasting in Pujo, me and my life partner always stand united. And now our daughter is also joining the united club and she is a die hard chicken fan!!! So what is the basic difference between Navratri and Durga Puja celebrations? Nothing to do with Religion. Its purely Gastronomical! Yes, while the own country fasts at this time, we bongs feast!!! As in there are very limited fasts among the bongs like Shiv Ratri, Shashti, Ashtami & Saraswati Puja (till Anjali). That too are not mandatory among all caste of Bongs. No wonder I have dealt with a big time struggle all these years with my husband for keeping all these fasts and with the addition of the Karwa Chauth, the struggle was even bigger!!!   Navratri folks:

Fast, No meat, No onions, No garlic

Durga Puja folks:

Anandamela begins with the mini feast where every household participating jumps out into venturing whatever possible they can. From Mutton Chop to Chicken Chaap, From Dimer Devil to Egg Roll, From Chicken Tikka to Mughlai. And mind it. We call it starters. The main course is incomplete without Biriyani. My husband who is otherwise not a fan of these stuffs, also gulps onto it at this time. The amount of stuffs that is in display in the stalls across the Pandals is unimaginable. So? Which gang are you in? 

www.batj.org

Durga Puja 2019

39


Future of Ageing society - R.Selvacanabady

B

efore we get into this topic let us look at the following statistics* that we need to be aware of:

• Between 2015 and 2050, the proportion of world`s population over 60 years of age will increase from 12% to 22% • In 2010, an estimated 524 million people were aged 65+ and by 2050 this number is expected to touch 1.5 billion people ( expecting 16% of world`s population ) • By 2020, the number of people aged 60 years and older will outnumber children younger than 5 years old • In India by 2050 the people aged 65+ will be closer to 225+ million and in China it will touch 325+ million people • Already in Japan one third of the population is aged 60+ • By 2050, 80% of the older people will be living in low and middle income countries

The above statistics sounds alarming from the aspect of the preparedness of the society to accommodate elderly population. With advancement in the medical technology including diagnosis and treatment of the diseases increased the life expectancy. For instance in Japan the government started preparing the society to live for hundred years. The key aspect to the longer life expectancy is “how healthier one lives”. Let us discuss different facets of the ageing society.

*Source: World health organization / United Nations. World population prospects Social aspect of the Ageing society: With the long life expectancy one can re-invent their hobbies and passion post retirement and that will help them to see engaged. On the other hand, as we live in a more nuclear family society with the rapid increase of the aging population, they tend to live alone and start feeling isolated. As more and more older people tend to live alone, there will always be concerns among their loved ones regarding safety and well-being. If the age related diseases are not diagnosed at appropriate time then it might impact healthier life span. In developed countries like UK and Japan, the health care cost borne by the government to support the ageing society is increasing every year and it has impacted national pension system. The above situations in the future will lead us to an important question on how we are going to address the social aspects of the ageing society? Are the above challenges might lead us to new opportunities or only to worries ?

40

At this point of time we might not have answers to all the challenges but with the advancement of technology around the world few of them are already being addressed. I would like to highlight few technology areas that are being considered to address these challenges.: Big Data and artificial intelligence (AI) : By analyzing huge data sets to identify the trends and patterns, with the advanced AI algorithms the treatment can be personalized for individual patients. By bringing together clinical, biological and life style information we can paint a unique picture of the patient and target treatment to achieve the prevention or management of patients disease. AI can be used to detect the disease at an earlier stage and apply more preventive measure rather than spending efforts on treatment. This might improve the healthier life span as well. Smart homes: As more elderly population will or are already living alone, there are more focus on turning their home to a smarter home by installing smart devices such as robots that can talk and monitor the moods of the people, cameras that can monitor the elderly ones movement etc. These devices are connected to internet and their family members can monitor elderly people remotely as well. There are social innovation coming into this space to address the challenge. Research shows that loneliness might deteriorate health as well. The device like KOMP addresses the issue of loneliness. This startup came up with an idea to address loneliness by creating a device that can be easily used by elderly people to communicate with the family members by message, video call and sharing the photos. Easy to use with minimum features are the salient points about this device. The spectrum of Smart homes will become norm for the future homes. With the increase in internet speed and more & more devices connected to the internet, Smart homes are already becoming a reality rather than a fiction. Conclusion: I would like to conclude this with some thoughts for us to think further. We are obliged to create a good society for the aged people to live happily and this should be social responsibility for us in the future. This cannot be achieved by an individual or a corporate or non-profit organization or government alone. There has to be strong collaboration among all of us. Technology can be just a tool that can be leveraged to address the challenge in front of us but won`t solve the social issue. More important aspect towards the aged society is to create the “Empathy” with them. 

Anjali

www.batj.org


What’s My City? - Shoubhik Pal

E

veryone seems to have a city. I’m a Delhi boy. Mumbaikar for life. Proud to be a Bangalorean.

And in many cases, personality traits seem to be derived from the city people identify with. It goes into conversations with others - where you’re from often gives others preconceived notions over what you should be. That’s such a Delhi thing to do. Of course she’s well dressed – she’s a Juhu girl. It makes sense that you’re chilled out – you’re from Bangalore, no? All throughout my life, I have found myself struggling to identify with a city I can truly call my own. Here’s a rundown in percentages of places I’ve stayed at in my 26 years on this strange world: 19% in Mumbai during my formative years, the same percentage for my time in Japan, the same in USA for my undergrad studies and 8% in Delhi during a recent job, which leaves a solid 35% for the city I currently reside in – Bengaluru. Theoretically, Bengaluru should be the place I identify with the most. I stayed here for most of my teenage years – a unique time where growing pains collide with personality consolidation. You have an idea of who you think you’re going to be as an adult without realizing you don’t have a clue. Location is important during these confusing times. It’s also where I’ve spent most of my work life, an ascending period of hysteria where you’re perpetually busy but there’s an asterisk over how much you’re actually learning and growing. Professional and personal life collide, detach, push each other aside – all heady stuff where location should again take precedence. But consider this: the only Kannada I know is how to say ‘I don’t know Kannada’ and ‘Come to location’ (usually reserved for Uber drivers and Swiggy delivery executives). Doesn’t that make it an automatic disqualification? What exacerbates the situation is the fact that my parents are true blue Bengalis yet I’ve never stayed in Calcutta for more than a month. In a world where everyone hails from somewhere, I hail from many places yet no one place in particular. This opened a completely different can of worms: while everyone is unique through their interests and reaction patterns, there’s a certain overlap in personality traits when it comes to certain factors. Here’s the simple one: family. Characteristics and, more importantly, principles are derived from your parents and elders of your family. They are the figures you look up to at your formative years, thus what they preach gets instilled inside you.

(eating at a late night famous restaurant, attending spaces that are renowned for creativity) (c) An affinity for enjoying the local food (for me, there’s no better breakfast than South Indian breakfast) (d) The kind of music you enjoy (for example, Shillong is a city where EVERYONE listens to heavy metal) (e) Championing local heroes because of a misplaced belief that a part of you is inside them as well (you should really see how movies with Rajnikanth are greeted with mega fanfare in Tamil Nadu – even Tamilians I’ve met in Bangalore go for the first day, first show when his movies release) Obviously, there’s many more observations I can put, but I’ll spare you the redundancy. The point remains: we’re different yet strangely similar in certain ways to the people around us. But now, the rules have changed thanks to the smartphone. You not only are a physical being, you now are a digital being with your profile on Facebook and your handle on Instagram. And your digital being is not restricted by location because you can interact with anyone across the world. A great example of this is the sudden hip hop movement in Mumbai. The Mumbaikar rappers who champion this movement derive their experiences from Western rappers. Rap is not a product of Mumbai but it’s become part of the culture – it’s inorganic but perfectly fitted to the way these rappers want to convey themselves. You don’t need to be there – you just need to have identified with it.

But location is interesting. It’s not just people who govern your characteristics (family, neighbors, friends) but also knowhow.

Moving forward, will these interactions make the concept of hailing from a city redundant? After all, kids are being given smartphones at an alarmingly young age these days and thus, are subjected to worldwide content that transcends location. Will the concept of a Delhi boy or a Bangalore girl be irrelevant in the near future?

Let’s dive into this. I’ll list out the various traits you can possibly derive from your city:

I wish I knew the answers to this – predicting human behavior is tough business. It’s good then that I don’t work in a job that concerns this.

(a) Various catchphrases and sayings that people around you use that goes into your daily verbiage (it can be as simple as constantly using ‘bhai’ to address people – ‘macha’ in Bangalore)

Just kidding. As a digital advertising professional, that is my job. Isn’t that great? 

(b) Quintessential activities that everyone in your city does www.batj.org

Durga Puja 2019

41


Tokiwadai Diaries~ Niku Ya san - Piyali Bose

T

okiwadai, in Yokohama, was a small neighborhood near the Yokohama National University, with its cluster of small establishments, a cake shop, a meat shop, a book shop, a medicine shop a small supermarket, a traditional soba restaurant and a barber shop too. The local hospital and the elementary school were very near to our place. It was a self-sufficient place with a distinct character of its own; a small world within a larger one. The distinctness of the Japanese society with its old world charm and the fast paced developing one seemed to reside in tandem. The old world charm was hugely brought about by the small business establishments which were run by aged couples. They were the Niku ya san (meat shop lady),the Hon ya san (the book shop lady) and so on. These old souls, ever smiling would get hold of my son, inquiring about his studies, family and people back in India. The boy would come back with goodies and over the years, this almost became a daily ritual with them becoming an extended family. After our return in 2009 and in the years that followed we received news of the closing down of these shops, due to rising cost of maintenance and also with fierce competition from the big retailers. Cake ya san, was the first closed shop and our friend Atsuko traced her to her small home in a nearby condominium which she shared with her son and therein she lovingly had adorned her wall with one of son’s picture! Cut to circa 2017, A nostalgia filled trip after 8 years, more so for a 17 year old, who left a part of his childhood there. Most shops, were closed, old age giving away, or broken down for big retailers! The character of the neighborhood, somewhat alien, somewhat distant. Niku ya san (the meat shop lady),never knew of our

42

visit. When we stood before her on this sunshiny day, it was a customer standing at first, a foreign customer at second and then a look at Atsuko san (our friend) and recognition flashed through her face! A wide grin and then a search, for the little boy, was it? The tall teenager somewhat shy, somewhat reticent but with a twinkle in his eyes, asks, oboyete imaska? (do you remember?). The nod and the loving gaze turn into a broad grin as she settles to compose and understand her disbelief! Conversations follow, her husband joined in . She rued, she may no longer be around as old age is catching up soon and such hard work is becoming increasingly difficult. The boy extends a small packet of okashi (savories from India).The lady overwhelmed, tears in her eyes, turns back and among the rack of papers in her shop takes out an old letter and photograph of hers with the kid and says, her day isn’t over without having one look at it! Speechless, we bid adieu to visit the others, with similar stories to tell when we find her calling my son back. He returns with a small piece of paper which has been forced into his palm and puzzled when he opens the fold, finds a currency note of sen yen (10,000,yen)! The lady meantime is busy attending her customers (its noon and lunchtime) and as we stand on the road overwhelmed with emotions, the boy runs back to return the money. We look from afar, as she holds hands, pleads and says, “I may not be around next time, take this as a memento and COME BACK SOMEDAY”. Her gesture of love was not perhaps in giving away her month’s profit but more of a future in which she could have one more glimpse of a youngster, more a man then reminding her of hay days in his eyes! 

Anjali

www.batj.org


Grandfatherly Legacy - Udita Ghosh 19 April 2019. On some year, Indu Bhushan Ghosh’s birthday fell on Good Friday, and so it was set that my grandfather’s birthday would always be marked on Good Friday. Not that he would have cared - I never met him, but his modest reputation is wellknown - as remarked by my uncle Satyasri Ukil, on a Facebook post my mother shared about his birthday, he wouldn’t have wanted the “pronam/pranam”s that people are offering. This short remark is also what set me off on a trajectory thinking about my 2 grandfathers; about how similarly they stood for principles on individual convictions against accepted wisdom, and against continuing inherited conventions thoughtlessly. What does it matter whether one says or performs what we call “pronam kora” – it must seem to most people. Yet like many politically-minded men of that generation, the performance (or rejection of) of personal rituals in one’s own life mattered to my Dadu in his effort towards shedding all hierarchical and vestigial practices. I.B. Ghosh was an artist, with multiple talents – a bonafide painter; make-up artist in theatre, a carpenter, and craftsman, building beautiful and exquisitely detailed furniture from scratch, also knitting a sweater for his dog, not to mention the large and beautiful paintings in graceful Oriental Art style. He was a socialist, and an atheist – but a quiet man, who married a austerely vegetarian, Brahmin, religious woman and never obstructed her ritualism, though he practiced his principles to the end, living modestly and eschewing many customs. Last year, my grandmother revealed to us that he even told her when he proposed to her that he did not care that she had ever been close to another man before, he did not wish to know more and certainly did not believe it made her any less eligible. I cannot stress enough at how I marvel at such behaviour from an Indian man in the 1940s. The habit of foregoing pronam is not the pinnacle of his ethical endeavours; rather it is a small symptom of his greater campaign towards living by his principles. My other grandfather, TK Sengupta was equally remarkable. He grew up in a village in Birbhum, moved to the city and helped bring along many others from the village who were looking to work and support their families. He was a religious man, yet one who chose to forego superstitious, ritualistic behaviour, teaching his children to focus on what is really important in faith than on the performative customs. He was the fatherly figure to many, and never seemed bowed by the responsibility and expectation. He was ever the authoritarian decision-maker, often enacting very harsh punishments towards his own children for what appears today like minor transgressions. Yet he was also the peacemaker, holding the bridges open between warring egos, and hurt pride. He stood in support of inter-caste marriage for his children, his nieces and nephews, even in the face of family opposition, disallowing dowry in the weddings in his family, and even as a stern disciplinarian and patriarch, encouraged his children to

www.batj.org

search their own hearts in seeking life partners whether of their own choosing or arranged. I had the good fortune of living with him in my early years, by which point he had mellowed down considerably, and my earliest memories are of sitting next to him and watching in wonder as he prayed every morning and evening, singing, chanting and finally weeping with devotion for his gods, while I sometimes helped make the sandalwood paste, and eat bataashaa out of the side of the plate meant for the gods and goddesses. Yet he heartily embraced an atheist son-in-law, just as by contrast, and atheist I.B. Ghosh did his religious wife. Both men were warmly loved and cherished by the people around them, and though unfortunately, they may not have been the feminist husbands to their wives they should have been, they were very much the fathers who helped raise strong, independent daughters, and encouraged their wilfulness. Much of this is of course from what I have heard in anecdotes of both. I wish I had the opportunity to ask them this directly --- where did such conviction come from, to do things differently from the people around, from the people before? How did you live within traditional society and still think for yourself, examining the practices you inherit and choosing which ones to keep and which to let go? And how, most importantly, did you do all this without the bitter anger towards your narrowminded peers, without alienating everyone around you? I guess this about IB Ghosh, but certainly know that the TK Sengupta I met in my early years, seemed to have done away with most of the human ego – and I cannot think of a greater stepping stone towards a free and liberated mind than the lack of personal pride or arrogance – or a greater resource for social progress, than millions and billions of free liberated minds stretching their thoughts towards growth and knowledge into that heaven of freedom. […let my country awake, Rabindranath Tagore] When I consider how much more orthodox society was in the times I.B. Ghosh and T.K. Sengupta lived in, and how even now with many years of hard-fought social reform, younger people who are reaping the benefits of this progress, are still often loathe to question traditions in their own families, fearful of challenging people they love and respect, or just uninterested in doing more to move forward and build on the progress previous generations have made to eliminate social evils – it is truly extraordinary to me how these ordinary men lived their lives 2 generations before, pushing forward on class, caste, and gender dynamics in their own lives and families with all the confidence of independent men in a newly independent nation free to envision a better future.

Happy Birthday Dadu(s). 

Durga Puja 2019

43


A Warm Welcome - Nishant Chanda

T

he transition between high school and college is a tough one as one is let out from a bubble under the affectionate care of his or her parents into the vast world where anything can happen. I was fortunate enough to be dropped off by my parents all the way to my dorm, but it wasn’t all pleasant. We had a great trip in Switzerland prior to my first day in Germany, and that day was when I made a rather big mistake. After arriving in Germany, on 4th August, my family and I reached Karlsruhe Hauptbahnhof by train. From there we took a tram to our hotel, dropped out stuff and decided to explore the city on tram on Route 4 from Waldstadt to Tivoli. After a while, I was getting hungry so we decided to get off and eat. I ordered a subway and that’s when I realized I’d left my phone on the tram. I felt uncomfortable as it was rather expensive and I had just bought it intending to use it for the many years to come. I told my parents about my realisation and we set about immediately to find my phone. Initially, we went to the police office at the station. There was only one officer on duty as it was a Sunday so he said he didn’t want to come out and help. However, he told us that we could try asking the tram station office right outside the building. We went there, but it was closed as most stores are since it was a Sunday. Calling their numbers using payphones also brought no results. We then used Google Maps to figure out what time the tram with my phone would come back again to the stop we got off on if it went all the way around again. We split into two and got on the tram we guessed it would be on as

Primary Tram#330

Secondary Tram#347

well as the next tram in case we estimated wrong. On the tram we scanned the seats from the front all the way to the back to no avail. At the end of the line we knocked on the driver’s cabin and asked him for suggestions for a lost phone. He told us to go to their office center in Europaplatz the next day. We did the same for the other tram. Finally we decided to stop trying for the day and try again on Monday when everything would open and went to find dinner. We found an excellent Mexican buffet, however I couldn’t fully enjoy the meal with the lost phone on my mind.

44

I remembered seeing my friends use “Find My iPhone” all the time back in high school so I searched on my father’s phone if the Samsung version existed and it did. I tried all sorts of combinations of emails and passwords and in the end one worked and led to a screen showing the location of my phone. I was really excited. We left the restaurant almost immediately to see if we could track my phone down. It was at the end of the line of the tram I’d left it on. Every time I refreshed the tracking site, I could see the phone come closer and closer. Finally it reached the station we were at so we all got on. We scanned the seats again, but couldn’t find it. Refreshing the tracking site showed a location quite a bit behind where we currently were so I thought it could be on the tram behind us. We got off at the next station with our hopes still up. As the tram left, I refreshed again and suddenly it showed my phone going further down the track, on the tram we just got off from. I started running after it and ignored all the people staring at me hysterically chase down the tram. I narrowly missed the tram at the next station. Upon seeing that, my dad started chasing me leaving my mom on the street while she helplessly stayed back, praying for us. I continued running station after station. Wrestling season had ended four months ago so I was totally out of shape and having the Mexican buffet just before didn’t help at all. My mobile was in the tram that I was chasing, my dad’s mobile was with me for tracking my lost mobile and my mom’s mobile (without a data plan) was with my dad. So we were all disconnected during this crisis period on our first day in Germany. For a while, the tram had left my sight and I realized I was nearing the end of the line. I had run for 4-5 kms already. I decided to catch my breath and try to catch it on its way back. I saw it coming in my direction then heard someone call towards me. It was the driver. The driver I had asked what to do about my lost phone about an hour ago. He had a smile on his face and said he had my phone. He opened the door to his cabin and told me to climb the ladder and stand next to him till the next station. This was a special treat for me. I obeyed and upon reaching, he took out my phone from a pouch and asked me to unlock it to prove it was mine, which I did successfully. I left the driver’s cabin at the next stop. Meanwhile, my dad had lost sight of me too and had followed the tram line until Karlsruhe Hauptbahnhof station and got into the same tram that was on it’s way back towards our hotel. He didn’t find me in the tram, so he went to the hotel and connected to wifi to discover with relief that I had found the phone and was coming back by the next tram. After the whole ordeal, I found my way back to the tram station for the hotel, where I found my parents waiting for me. 

Anjali

www.batj.org


There Is A City/ Elegy for Yokohama - Utso Bose Let me tell you a story: There is a city which never sleeps Which believes it has to be Busy Busier Because of its neighbour It runs, Like an abject steam engine suffering from April asthma Or Perhaps something like this: It is the grasshopper turning brown And turning Turning to stone and dust It is also the mantis in a Kabuki costume Looking at the clouds, Discolored cotton candy and/or Mansions built of and on plastic tiles A city wearing earthquake caps There is a city which never sleeps, Because winning ideology says, Sloth is a sin And New is always better. The neon signs blare: “Shop till you drop.” And as time goes by, All the shops vanish like camphor No one can compete with the Corporations But what of the conversations at The local cake shop? Yamashita is named after a mountain’s base, It is a freckle On the cheek of the Ring Of Fire Named after a mountain’s base, (A mountain’s base) The margin of the city, City by the bay. The sea and the sky meet At Kataware doki

www.batj.org

When time breaks, And shards of glass Shafts of dying light Images of a dead past Of another city Come to life, momentarily Like the memory of a Tasmanian wolf. Minatomirai is the promise of A future Growing, Like the tail of a spider, A future like a Ferris wheel? Ferris wheels are Sisyphean But sunsets can be seen Like clockwork oranges, Yolks being Eaten by the sky. Kanto is an upturned palace with Walls of cicadas And floors of afternoon rain, Yokohama, Brilliant, grotesque, My Autumn colored memory, Also Walks by the sea and Xenophobia in the fourth period Of Junior school. Racism is a spectrum staircase, Gradation: ascending order of melanin. The stronger bullying the weaker, Chopsticks are superior to hands. There is a city which never sleeps, It hangs by the rings around its eyes. There is a city which never sleeps, It wants to, and it cries.

Durga Puja 2019

45


Intelligence Re-invented - Debraj Dasgupta Wherefrom have we come and Where shall we go We ponder For the next generation A world divided Roiled by hatred, nationalism and greed Intelligence is what we need But insanity is what we breed Common sense is not so common any more As human intelligence is on decline And artificial intelligence is on the rise They say AI will make better decisions As if they know better They say AI will make us more efficient  As if they know better We built social media on the promise of good We got fed junk instead of real food And we got our privacy murdered  And our democratic process compromised And we elected leaders we can only hate We created climate change And got our kids to shame us For the lack of future we portrayed We made education expensive to all When newsbots have a free for all We breed hatred for fellow humans And love for people who breed hatred While rich evade taxes and get tax breaks Ordinary folks are working double jobs and no breaks We gave away privacy, honesty, sympathy and simplicity And settled in for hatred, narrow-mindedness and duplicity I say its time we brought back human intelligence More than ever we need it Its time we listen to our children More than ever we need it Listen to the sounds of birds and animals Rather than the shrillness of the news media Because when we bring back real human intelligence Even artificial intelligence will survive

46

Anjali

www.batj.org


The Heart and the Angel - Soumitra Talukder There was a placid bliss in the abode of peace, Hidden in the hushed pantheon of silence The quiescence of solitude lay like the haze of mist As if the heavens resided in measure of the spirit The seraphs took upon the burden of pain To go through the discourse of the parson The verity lost as a virtue of a bygone fable And the content of life seemed in deceit of illusion As the sermons grew more suasive, The “Heart� draped the serape closer To hide the abrade of the truth. It stood baffled in the choice of probity, It whispered, which is the world you made! O God! One with the cross of thorns to bear the rectitude, Or the other in glitterati, a realm of delude! Between the province of the promised Avalon Or amidst the camouflage of our demesne, All it wanted was a console of love and a touch to care!! As if it was the path of the destiny, The angel smiled in the glow of her own radiance, She would take care of the heart now and forever.

www.batj.org

Durga Puja 2019

47


Kurseong - My Mountain Home - Joyita Basu Dutta Tender memories of nimble daisies, flitting gently in the breeze, misty Himalayan mountains, enduring pine tree curtains, cheery picnics on rocky ledges, crashing into prickly hedges, unadulterated rambunctious laughter, intangible keepsakes ever after, vibrant hues and crimson skies, manifestation of a force in disguise. Mornings ushered with a ruckus, birds chirping songs so joyous, I part the curtains for the first sight, my treasured mountains of pure delight, through the valley the river meandering, the water lazes, gliding and shimmering, the piercing blue and soothing green, my soul satiated and my heart serene, to feel such beauty always around me, blessed in the midst of nature’s bounty.

Pristine unrestrained streams, gurgling music weaving dreams, scattered crusty pine tree cones, paths carved out of pebbly stones, exotic orchids in delicate clusters, adding to tree trunks a mellow lustre, enchanting pink rhododendrons, dancing amidst green cauldrons, precious moments of happy serendipity, scarlet sunsets echoing divinity.

Adding to the morning din, it’s whistle blasting shrill and thin, the toy train approaches with a chug, it’s tracks flanked by a mossy rug, spewing smoke while it exhales loud, that rise and join the billowing clouds, crisscrossing along the curvy frills, traversing verdant undulating hills, disappearing into a fleeting white shroud, of mist and smoke and puffy white clouds.

Thick fogs heavy and grey descend, silhouettes of frolicking friends, running, treading uphill breathless, drizzly drops chasing us relentless, exhaling misty swirls of smoke, in the chilly nights as we spoke, lightning bolts and thunder storms, ensconced in our wooden dorms, with steaming mugs on window sills, young hearts that shared the same thrills. Heavens dazzling with a million stars, hamlets glimmering on hillocks afar, that retreat into oblivion every morning, vanishing like wonder years so charming, indelible memories of a childhood, held together faithfully for eternity, those joyous calming sights, and dreamy restful nights, in the shadows of the beauteous, ethereal Kanchenjungas.

48

Anjali

www.batj.org


A Man Playing a Guitar - Purnima Ghosh Up above the spring sky, the bright sun is shining. Leaves dance happily, as the cool breezes are passing. A lonely young man sits beneath the tree on a chair, Nearby the convalescent center; his home for many a year. I often see him playing the guitar, But haven’t seen his happy face so far. No rhythm. Sounds only. No matter! The music makes him feel better. Does he share his untold story with nature? The story he couldn’t share with others! Oh man! You are not alone. Smile and cheer! Nature is with you. Gentle winds whisper in your ear.

A

www.batj.org

NJALI EDITORIAL TEAM

Durga Puja 2019

49


インド・コルカタにてインド舞踊公演会、 ハードな9日間の旅を振り返って!

- 若林 眞美子

る2018年12月8日から16日までの9日間インド・コルカタからアーメダバードまでのハードな旅をしました。その中2018年12 月10日 私達インド舞踊の仲間7名で、アノンドニケトンは、コルカタで全3時間の公演会を致しました。

アノンドニケトンは、三島、沼津市 富士市在住のインド舞踊仲間で、沼津在住の石井シュクリシュナ先生が、20年以上インド舞踊 を通じて、家族のような仲間になっており、日々の練習もさることながら、熱心な先生のご指導のもと、みんな練習に練習を重ね、7年 前の公演会より、さらに濃密な後援会ができたこと、懐かしい方々との再会が大きな喜びになっています。今回の公演会にあたり、場 所の確保が困難をきたし、先生、インドのご家族の方々には、大変ご心配おかけし、お骨折りいただきました。弟様には特に、手続 き等に奔走頂いたことは、誠に申し訳なく感謝に絶えません。 また、公演会会場に着くや否や早くから大きな看板が道路に堂々と立っていたのも感激ひとしおでした。 私達が踊る舞台の前には たくさんのお客様がご観覧くださり、舞台後ろ側には、有名・著名な演奏家の方々の温かい眼差しの 応援があり、この公演会の誇り高き豪華さが漂っておりました。舞台進行と共に私たちは、 第1部自然;オープニングダンスから早替え(暗い舞台袖で着替)をしながら、      次々と4曲おどり 第2部恋、色々の情景、祈りなどの設定 全11曲を夢中かつ優雅におどりこなし、      絶賛の声を聴きました。 その後 先生の弟様はじめ、すばらしいプロ歌手、演奏家の出演応援がありました。 続いて 第3部 日本舞踊3曲(松の緑・お祝いの踊り、滑稽な・おてもやん、16歳の琴演奏にイメージした・晒し踊り)を披露し、アン コールの声を聞きながら夜遅く幕を引きました。 この最後の晒しの踊りは、仲間が図書館で借りてきてくれた琴の演奏を聴いてイメージが沸き、器用な彼女が晒しを うちわと透き 通るような布で7名分を作成してくれ、衣装も浴衣にブルーのズボン(インド舞踊仲間で作成してくれた器用な方あり) 足袋にブルー の鼻緒を縫い付け草履風に工夫を凝らし、沖縄風に襷(たすき)や頭に巻く帯のようなスカーフなど、フィナーレを飾るに相応しい衣 装に仕上げたと思っています。振付は、波をイメージし、舞台構成にも現代風エグザイル風に動きをとってみました。この踊りは、振 付もなく、私の苦心作でした。インドでスモークを焚いてこの踊りの雰囲気を作ってくださった舞台照明の方々に驚きと感激は、日本 に帰ってから じわじわとDVDをみながら感じ取ったような訳でした。遅まきながら感激と感謝を振り返って永く感動しております。 今回の日本舞踊は、特に70歳過ぎた私にとって元気の塊魂を象徴すべき物になりました。 日本舞踊は、幼少3歳から長い間自分の体作りに続けていただけでしたし、師範をするつもりもなくおりましたので、シュクリシュナ 先生から、「インドで是非に日本舞踊を披露してください」と依頼されました時は、正直自信がありませんでした。インド舞踊の仲間が その意欲を支えてくれました。正統派の踊り,滑稽な踊り、琴に合わせて波を現代風に踊りたいと私のイメージ通りに仲間が熱心に練 習し、慣れない日本舞踊によく挑戦してくれたと感激でしたが、20年以上インド舞踊で鍛えた踊りの表現や身のこなしは相通じるも のがあり、舞踊をやっている人の強みだと練習する度に感じました。扇をもった手、表現力豊かさは、インド舞踊で培った表現力の賜 物だと思いました。舞踊は命ある限り続けて行きたいと思いました。 

50

Anjali

www.batj.org


すばらしいインドの手工芸 - 矢部 正江 コルカタ出身のシュクリシュナさんと初めて出会ったのは、20 年程前の地元の国際交流のイベントだった。 その時シュクリシュナさんはインド文化の紹介で、タゴールダ ンスを踊っていた。しばらくして直接お話しする機会があり、もと もと美術大学で染織を専攻していた私は、インドの染織や刺繍 にとても興味があることを話すと、今度インド刺繍の教室を開くの でよかったらとお誘いを受けた。ちょうど子供にも手がかからなく なってきた頃で、是非にと教えてもらうことになった。 インド刺繍といわれて私たち日本人がまず思い浮かべるの は、鮮やかな色合いでミラーの入ったキラキラ光るゴージャスな ものだと思う。だけど東インドのベンガル地方の刺繍はそうでは なかった。もっとシンプルなカンタステッチ。技法的にはフランス 刺繍に近く、学び始めるには入りやすい。では、どこがインド的 かというと、シュクリシュナさんが描くデザインと色合わせ。特に 色合わせに関しては、たぶん日本人的感覚ではちょっと考えら れない感じだった。デザインをまえにして選び出されたいくつか の刺繍糸を見て、どうしてもイメージがわかなかった。地味な色 合いがどちらかというと好みな私なので、特にそう感じるのかな とも思ったけれど、みんなも同じことを言っていたので、やっぱり 日本人の感覚とは違っているものだったと思う。この配色でどう なってしまうのだろうと思っていても、出来上がった刺繍布を見る と、意外とちゃんとしっくりとしていて不思議だった。やがて私た ちもインドの色合いにも慣れ、シュクリシュナさんも日本の色合い に慣れ、みんなの好みを把握されて、私たちの作るインド刺繍 の作品は、どちらかというと落ち着いた色合いのものになってい るかもしれない。今はカンタステッチだけでなく、ミラーワークや インド各地のステッチもいろいろ教えてもらい、作品作りを楽しん でいる。 もう何年も前になるのだけれど、シュクリシュナさんが、自分が インドから持ってきたサリーがたくさんあって、このまま箪笥にし まっておくのはもったいないので、日本のみんなに見てもらい たいけれど、どこか展示できるようなところはないかなと話してい た。その時私の頭にぱっと思い浮かんだのは、地元沼津の街中 にある沼津信用金庫のストリートギャラリー。歩道に面した建物 の北側がずっとウィンドーギャラリーになっていて、1ヶ月ごとに 作家さんの作品を展示していた。デパートのショーウィンドーの ようにサリーを飾れたら、とても映えてそれはそれはすばらしい だろうなと思った。そしてなにより自分がシュクリシュナさんのサリ ーを見たかった。

www.batj.org

しかし残念ながら伝手があるわけでなく私の夢だけで終わっ ていたのが、数年後運よくギャラリーの担当の方とお話しする機 会に恵まれた。シュクリシュナさんのことは人伝ですでに知って おられて、本当にいいのかと思うくらい話を進めていただけた。 そして「インドの染織展 サリーとインドの手仕事の魅力」という 形で展示をさせてもらえることになった。 すでに向こう1年間のスケジュールが組まれていたため、展示 は次の年の8月ということで準備が始まった。インドを大まかに東 西南北に分けて、それぞれの地方の染織という形で展示をする ことに決め、シュクリシュナさんのサリーを中心に展示するものを 選んだ。シュクリシュナさんはコルカタの出身で東インドのサリー が多かったため、何度もインドを旅し、西インドの染織、刺繍布 に造詣の深いタゴールダンスの生徒さんのコレクションからも出 してもらったり、少しながら私のコレクションからも展示させてもら った。建物の出入り口を挟んだ隣には、小さめながらインド刺繍 教室の生徒の作品を展示するスペースもいただいた。 そして刺繍教室のみなさん、タゴールダンス教室のみなさん のお手伝いをいただき、8月の展示を迎えることができた。絵画 の展示が多いギャラリーに、サリーを着たトルソーや天井から 掛けられたサリーは、いつもの感じとは違って、面白いものにな ったのではないかと思う。ギャラリーは夜10時までライトアップさ れ、とてもきれいだった。 それぞれの布の説明まで用意することができなかったなど、 準備不足のところもあったけれど、全体としてよい展示になった と満足している。そして沼津信用金庫さんのご厚意で、1日イン ド文化体験フェアも開催することができた。インド刺繍教室の生 徒の作品展示やタゴールダンス、サリーの着付け体験やインド 民族衣装のファッションショーなどを行い、盛況に終わることがで き、皆さんに喜んでいただけた。 ストリートギャラリーの開催中は、何度か前を通ってみた。常 にその場にいるわけではないので、どのくらいの人が足を止め て見てくれたのかわからないのが残念ではあったけれど、このよ うなすばらしい機会をいただき、たくさんの方々のお力に助けら れて、インドの文化の紹介ができたことに大変感謝している。 

Durga Puja 2019

51


未解読の手紙 - 奥田由香 I woke up and found his letter with the morning. I do not know what it says, for I cannot read. I shall leave the wise man alone with his books, I shall not trouble him, for who knows if he can read what the letter says. Let me hold it to my forehead and press it to my heart. When the night grows still and stars come out one by one I will spread it on my lap and stay silent. The rustling leaves will read it aloud to me, the rushing stream will chant it, and the seven wise stars will sing it to me from the sky. I cannot find what I seek, I cannot understand what I would learn; but this unread letter has lightened my burdens and turned my thought into songs. -- “Fruits Gathering” by R.Tagore

目覚めると、朝を連れて一通の手紙が届いていた。 何が書かれているのだろう、わたしには読み取れないな。 けれど学者に頼るつもりもない、この手紙を解読できるとは思えないから。 わたしは手紙を額に当てては、胸に押しつけてみたりもする。 夜も更けて、一つ、また一つ星々の元で、膝にひろげて じっと待つ さらさらと囁く木の葉が読んでくれるだろう、河のせせらぎが唱えてくれるだろう。 そして、七つの賢い星々が空から歌ってくれるに違いない。 求めているのは何か、どこへ向かってゆくのか 解き明かすことはできないけれど、 未解読のこの手紙が わたしの心を和らげ、思いを歌にしてくれるのだ ー 『果実籠』 ラビンドラナート・タゴール ダゴールの‘未解読の手紙’は、何を伝えようとしているのでしょう。読み取れはしないけれど、心の重荷を軽くしてくれて、思いを 歌にしてしまう、そのような手紙が、私たちの朝には届いていないと言い切れるでしょうか。ともすると、慌ただしい日常に追われ目に 入らないか、或いは現実と切り離された世界の出来事のように、ぼんやりと境界線を引いてしまっているのかもしれません。 折しも、横浜美術館で開催された原三渓展を訪れた時のこと、その‘未解読の手紙’らしきものがはらり と舞い落ちるのを見た気がしたのです。それは、原三渓の「美術品のコレクター」「茶人」「アーティスト」「芸 術家のパトロン」としての側面を紹介する展覧会でした。私にとって原三渓への関心は、ダゴールとの交流 が原点であり、来日当時ダゴールが感銘を受けたという下村観山の『弱法師』を拝見できるという好機でし た。ダゴールは盲目の俊徳丸を目の前にした時、この作品を譲ってはもらえないかと三渓に懇願したと聞 きます。洛陽を拝む俊徳丸の心に映し出された光景には、音なき調べが静かに漂っているかのようで、タ ゴールはもしかしたら、その掌の上に‘未解読の手紙’を見たのかもしれない、などと想像が膨らんでくるの でした。しかし、『弱法師』に強く惹かれたダゴールの願いとはいえ、三渓はこの画を頑として手放しはしま せんでした。日本の美を守り、後世へ繋いでゆくという三渓の強い信念に、タゴールもきっと圧倒されたこ とでしょう。そんなエピソードも実感できるのが、本物に触れる醍醐味ではないでしょうか。そしてまた、後世 に残る芸術家を育てようと奮闘した原三渓という人は、美しいものを一人占めするのではなく、誰もが鑑賞 できるようにと惜しげなく公開したという、その偉大なる人間性にも触れることができました。

52

Anjali

『弱法師』 下村観山

www.batj.org


未解読の手紙 ところで、その日私にとって‘未解読の手紙’と思しきは、もう一つ別の、ささやかな一枚の画にありました。 源実朝による日課観音の掛け軸。日課観音とは、写経をするように日課として描く観音さまのことだそうで、 実朝の観音さまは、柔らかな息と迷いのない筆で、なんとも言えぬ温もりを滲ませていました。これは、三渓 の長男、善一郎氏が急逝し、一週間後に開かれた哀悼の茶事の掛け軸でした。茶人である父、三渓の最高 のもてなしに、客人は皆、哀しみの美学のようなものを感じたことでしょう。今、こうして拝している私にも、三 渓の言葉に尽くせぬ祈りが伝わってくるようでした。そして、その喪失感を鎮めた実朝の日課観音から聞こえ てくる声なき声は何なのだろうと、気づけば、その糸を探っているのでした。

『日課観音』 源実朝 源実朝、鎌倉幕府第3大将軍、12歳で征夷大将軍に任ぜられた武士は、万葉集を愛誦する歌人だったと言われています。鎌 倉幕府と言えば、安らぎとはほど遠い、流血の上に成り立っていた時代。そんな武士の世界において、歌を詠むということへの逆風 は、いかほどであったか。生きとし生けるすべてのものを愛しんだ実朝の歌の根底に、孤独と悲劇の激流が蠢いていただろうことを 思えば、時空を超えて、あの日課観音の慈しみが聞こえてくるのは不思議ではないと思えてきたのです。その理由は、実朝と彼を支 える最大の理解者であった葛山景倫(かずらやま かげとも)との美しき信頼関係からも、痛いほど伝わってきます。 (以下、森本房 子著『朱い雪』を参照) 実朝は、宋の国に渡り文物を学びたいと願っていましたが、将軍という地位に翻弄された末、その希望さえ最早消えかけようとし ていました。そんな時、景倫が涙ながらに告げたのですー「実現させましょう。宋の国はおおらかで、和歌とは違うにしろ、詩歌を重 んじ、絵画、物語など盛んで、それらの担い手は尊ばれております。・・・生きることの意味や悦びが発見されるにちがいありませぬ。 そして、上様の優しいお心は、悩み多くの人たちを慰め、励ますことができましょう。必ずや行き止まりの洞窟ではない世界が、開け るはずでございます」と。実朝はしばし沈黙の後、「そなたは余の光であった。常にそなただけが光であった」と。景倫に向けた柔ら かな眼差しが目に浮かぶようです。そして、景倫はこう言いました「・・・心は一つ。ですが、それがしごときが光なのではありませぬ。 上様の生きとし生けるものすべてに注ぐ優しさこそが光です。その埋もれた光こそ、かかげとうございます。・・・大好きな山や川や森 や、そこに咲く花々や、鳥たちや動物たち。それらに包まれ囲まれて、いつかお話しくださった林のなかの木漏れ日のきらめきのよう に、つつましくも、命のきらめく日々を待ちましょう」と。あゝ、そうであったか、日課観音のあの声は、光、生きとし生けるものすべてに 注ぐ優しい光だったのだ!‘未解読の手紙’が葉擦れの如くささやくのが聞こえる、古の哀しみにふれよ、その心を聞けよ、と。    世の中は常にもがもな渚こぐ海人の小舟の綱手かなしも  『金槐和歌集』より    出で去なば主なき宿となりぬとも軒端の梅よ春をわするな  『吾妻鏡』より  実朝の歌に溢れる世の無常や人々への哀れみ、平和の願いを、三渓は日課観音に聞いていたのではないでしょうか。 三渓自身も画家であり、晩年には蓮をモチーフに美しい作品を残しています。空間と花の堺が溶け合い、言いしれぬ調べを奏で る蓮の池。美しきものは目に見えるものでも、解き明かされるものでもない、そこに流れる哀しみをただ聞くことだと、三渓の静かな情 熱が私たちの「今」を引き寄せていると思いました。 「原三渓展」は、こうしてタゴールから三渓、そして実朝へ結ばれた結び目の感触を私に残してくれました。そして、‘未解読の手 紙’が心を和らげ、歌に変えてくれるというその歌に、再び新たな輝きを見いだせるような気がしてくるのでした。

অজানা সু র কে দিয়ে যায় কানে কানে, ভাবনা আমার যায় ভেসে যায় গানে গানে। 未知なる調べを 届けてゆくのは誰でしょう、耳元にそっと わたしの思いは 歌となり 流れゆく 遥かな記憶のむこうに ゆれる影 失われたヴィーナの哀しみに 泣きながら 彷徨う調べ 遠き春の縁の星を わたしの思いは 歌となり漂う ―タゴールソング 

www.batj.org

Durga Puja 2019

53


わっこひろば宙これから・・ - 山田 さくら わっこひろば宙の開園から10年が経とうとしています。 今も当初と同様、保育内容・季節の行事・イベント、そして宙 を起ち上げた際の主旨、子ども達への自然体保育などにほとん ど変化はありません。 毎年行っている一大イベント「千年の森」での野外料理や山 歩きを7月に楽しんできました。

全国的に少子化が進み子ども達の人口減少が著しいこの 国。幼児教育、学校教育の在り方、そして真の子育てを見直す べき時が矢のように過ぎていくのを懸念しています。 インドから帰国した時、日本の幼児保育のあり方に疑問を持 ったからこそ起ち上げた「わっこひろば宙」。少しでも何か良い 変化の兆しが見えるのなら嬉しいのですが・・ あのね かあさん あのね かあさん  わたし とべたよ ピョーンと ひといき ヒマラヤまで あのね かあさん わたし あったよ しろーい ゾウに あのアスワッタのもりで あのね かあさん わたし みつけたよ おいしーい みず あのネクターのうみで あのね かあさん わたし おしゃべりしたよ

そのお陰か宙の子ども達は、戸外でも室内でも自分達でしか りと遊びを見つけられ、訪問者が来ても物怖じすることなく接し ている姿が見られます。数か月前、息子のインドの友人夫婦が 宙に遊びに来てくれたのですが、子ども達はいつもと全く変わら ない様子で接していました。

かみさまたちと バンヤンのきのしたで あのね かあさん わたし おどったよ かぜのように ひかりのように

英語で話しかけられると「わかんな~い」とは言っていました が・・ すぐ近くにある神社の森を通って神社や畑へ行ったり、 公園へ行けば北アルプスが一望出来たり、環境に恵まれた中 で育っている宙の子ども達。幼児期の育ちがこれからの成長に 大きな影響を与えていくとすれば、とても幸せな環境と言えるの でしょう。 ただ・・ここ長野の片田舎でも子ども達が元気に戸外で遊ん でいる姿が見られたり声がしたりすることはほとんどないと言って も過言ではありません。もちろん宙の周りでも。

54

シバのおひざで あのね かあさん わたし かえるよ はじめもない おわりもない むげんのあなたに いだかれて 宙の子ども達が、この大町市から一望出来る北アルプスにい だかれて、すくすくと成長していくことを祈るだけです。 

Anjali

www.batj.org


माँ दुर्ग - पूर्णिमा शा

दु

र्गा जिसे हम आदी पराशक्ति कहते हैं, वह हिन्दू धर्म में सर्वश्रेष्ठ देवी मानी जाती है l वह एक सैनिक की तरह हमारी रक्षा करती है, उन लोगों और शक्तियों से जो लोग शांति भंग करना चाहते हैं l

वह देवी एक शेर या सिंह पर सवार करती है और उनके असंख्य हाथों में अस्त्र और शस्त्र धारण करती ह।ै माँ दुर्गा के तीन रूप हैं: महा दुर्गा, चण्डिका और अपराजिता। इनमें से चण्डिका देवी के दो रूप हैंः एक है चण्डी जो लक्ष्मी सरस्वती और पार्वती देवी की शक्तियों का मिलन है और दूसरा चामुण्डा जो माँ काली ह।ै उनकी पूजा करने से ना के वल मन को शांति मिलती ह,ै ब्लकि शारिरिक और मानसिक ताकत भी मिलती ह।ै एक माँ जो अपने बच्चों के रक्षा करने के लिए किसी भी हद तक जा सकती है उसी प्रकार देवी दुर्गा कोई भी स्वरूप लेकर हमारी रक्षा में सदैव आ जाती है। माँ के नौ स्वरूप हैं: हर एक स्वरूप में उनकी अलग अलग शक्ति है। नवरात्रि का अवसर शैलपुत्री से आरम्भित होता है जिसका मतलब है पर्वत की पुत्री। इन्हें सत्ती भवानी पार्वती या हेमवन्ती जो पर्वत हेमावन्त की पुत्री है। माता शैलपुत्री  को सबसे पवित्र अवतार माना जाता है और वो प्रकृ ति की माता है। वह एक सांड पे सवार हैै और उनके हाथ में त्रशूल और दूसरे में कमल ह।ै   नवरात्र के दूसरे दिन पे माता  ब्रह्मचारिणी की पूजा होती है। जिनका अर्थ है दृढ़ तपस्या उनके एक हाथ में माला और पानी का बर्तन दूसरे हाथ में है। वे अपने भक्तों को शान्ति, सुख, वैभाव और समृद्धि प्रदान करती हैं। तीसरे दिन पे माता चंद्रघंटा की पूजा होती है। उनके चेहरे पर अद्भुत तेज है और वह सिंह की सवारी करती ह।ै उनके दस हाथ और तीन नेत्र ह।ै वह हमेशा बुराई का संहार करने को तैयार है।।  कू ष्मांडा माता को चौथे दिन में पूजा करते है। उनका नाम का मतलब है जननी। उनके हाथों मे हथियार, माला और

दूसरे पवित्र चीजें है। वह भी सिंह के उपर सवारी करते हैं। स्ककं द माता स्कन्द की माता है। स्कन्द मतलब कार्तिके य। उन्हें देवों ने अपना प्रमुख सैनिक बनाया है। वह एक कमल पर विराजमान है और उनके चार हाथ है और तीन नेत्र है। वह स्कन्द को दाएं हाथ में पकड़ते हैं और बाएं हाथ से आशीर्वाद देते ह।ै कात्यायनी माता को छठे दिन पे पूजते हैं, उनका चेहरा भयानक है उनके लंबे बाल और उनके चार हाथ है और हर एक हाथ में हथ्यार ह।ै उनका अटूट तेज बुराई को नाश करता है, और उनका ध्यान करने से शान्ती मिलती है। सातवें दिन पे माता काल रात्रि की पूजा होती है। वह श्याम वर्णी है और उनके बाल खुले हैं। उनके तीन नेत्र हैं और उनमें एक अद्भुत चमक ह।ै अपनी नासिका से अग्नि निकालती है और उनका वाहन है एक शव उनके दाएं हाथ में तलवार है और उनके बाएँ हाथ में एक जलती मशाल है। क्यूंकि वह एकदम शुद्ध है उन्हें शुभंकरी कहा जाता ह।ै आठवें दिन में महागौरी की पूजा होती है। वह श्वेत वर्णीय है, उनकी उम्र आठ साल ह।ै उनके तीन नेत्र हैं और वह एक सांड पे सवार करती है। उनका बायां हाथ अभय मुद्रा में है और दायें हाथ में डमरू। उन्हें महा गौरी इसलिए कहा जता है। क्योंकि उनका शरीर जब गंदा हो गया था तब शिव नें उन्हें गंगा के पानी से साफ किया था। नौंवे दिन पे सिद्धीदात्री की पूजा होती है। आठ सिद्धियां होती है वह है अणिमा, महिमा, गरिमा, लघिमा, प्राप्ति, प्राकाम्य, ईशित्व और वशित्व। यह माता सब सिद्धियां प्रदान करती है। उनकी कृ पया से शिव का  आधा शरीर देवी बन गया है। इसलिए उन्हें अर्धनारे श्वरी कहते है। वह एक सिंह पे सवारी करती हैं उनके चार हाथ है और उनका मुख बहुत आनंदित है। यह रूप की पूजा हर एक देवी देवता करते हैं ऋषि मुनि सिद्ध, योगी, साधक,और भक्त सब उनकी पूजा करते है। तो आइये इस दुर्गा पूजा से और माँ के आशिर्वाद से हम, अपने और पूरे दुनिया के कल्याण की प्रार्थना करें । 

- जय माता दी -

www.batj.org

Durga Puja 2019

55


कहानी - घर नहीं खोत - नीलम मलकानिया

द की वजह से मेट्रो स्टेशन पर बहुत भीड़ थी। उत्सव के माहौल के बीच अवंतिका पर गहरी उदासी छाई थी। बेचैनी की वजह से इतनी भीड़ में भी वो ख़ुद को एकदम अके ली महसूस कर रही थी। बहुत उम्मीद लेकर वो सुजान अंकल से मिलने आई थी पर उन्होंने तो साफ़ मना कर दिया कि पिताजी को इसके लिए तैयार नहीं किया जा सकता। यानी उसका सपना अधूरा ही रह जाएगा।

“जापान बहुत ही सुंदर देश है ना सर।... एक मज़बूत अर्थव्यवस्था और साथ ही सभ्यता का जीता जागता स्वरूप।”  

“ख़बरदार..जो ऐसा सोचा तो”  “विदेश जाकर पढ़ने से आपकी इज्जत खराब ना होगी माँ”  “जबान ना चला री छोरी...चुपचाप घर आ जा..दिल्ली देख ली बहुत..बस अब नहीं चाहिए तेरी पढ़ाई” “ मेरा ख़र्चा भी नहीं देना पड़ेगा..मैं वहाँ काम करूँगी।” “घर-गिरस्थी का काम करना है अब तो” “ माँ.. सरकारी योजना से मेरी सारी पढ़ाई आसानी से हो जाएगी।” अचानक पिताजी की कड़क....रूखी और रौबदार आवाज़ सुनाई दी... “दो दिन में घर आ जा...नहीं तो हमें तेरा कु छ सोचना पड़ेगा” धमकी के साथ फोन बंद। यही थी उसकी कल रात की बातचीत अपने घर वालों से। 

“ वहाँ तो बहुत अलग तरीक़े से पढ़ाई होती होगी ना। मेरी फ़ैं ड ने तो मेरे लिए युनिवर्सिटी में सीट भी रिज़र्व करवा दी है सर... पर मेरी फैमिली….”

मैट्रो में बैठते ही अवंतिका गहरी निराशा में डू ब गई। मन फिर घर पहुँच गया था। वो जानती थी कि पिताजी उसे भेजने के लिए कभी तैयार नहीं होंगे। तीन साल पहले भी ऐसा समय आया था... जब बारहवीं के बाद हरियाणा के एक छोटे से गांव से दिल्ली आकर पढ़ने की ज़िद की थी तो घर में सब लोगों ने बवाल मचा दिया था। सारी बहनें लंबी-चौड़ी और सुंदर थीं। इसलिए माँ को लगता था कि इनकी शादी तो आसानी से हो जाएगी लेकिन इस काली-कलूटी को कौन ब्याहेगा। परिवार में पाँचवी बेटी और ऊपर से छोटे क़द की गहरी रं गत की लड़की। कोई भी लड़का मिलते ही वे उसके बोझ से मुक्त होना चाहते थे। फिर बेटी की पढ़ाई में इतना ख़र्च करना उन्हें नासमझी ही लगती थी। वो तो भला हो उसकी चार बड़ी बहनों और कु छ मंगल दोष वाली कुं डली का कि उनकी शादी में देर होती गई और अवंतिका अपनी पढ़ाई के लिए जैसे-तैसे पैसे जुटाकर दिल्ली आ गई। सुजान अंकल ने पिता जी को मनाने में बहुत साथ दिया था। गाँव के ज़मीन के क़ानूनी मामलों के सिलसिले में वे अक्सर उनके घर रुकते थे। पेशे से वकील सुजान अंकल अवंतिका के पिताजी के दोस्त हैं और यहां दिल्ली में उसके लोकल गार्जियन भी। उन्होंने कई मौक़ों पर अवंतिका का पक्ष उसके पिता के सामने रखा और उस की बात मनवाई थी। इस वजह से कई बार उनके बीच बहस भी हुई। शायद इसीलिए आज सुजान अंकल ने भी मना कर दिया। बहुत मेहनत की थी अवंतिका ने पढ़ाई के लिए। अपनी क्लासमेट्स के कहने पर समय और पैसा दोनों बचाते हुए उसने अपनी बी.ए.की पढ़ाई के साथ-साथ एक साल का अंग्रेज़ी भाषा का और एक साल का जापानी का कोर्स तो कर लिया था लेकिन अब सवाल ये था कि आगे क्या किया जाए। उसकी एक क्लासमेट दो साल के लिए जापान जा चुकी थी और उसे भी वहां बुला  रही थी। अवंतिका के प्रोफ़े सर तोमर भी चार साल जापान में कार्यरत रहे थे। इसीलिए अवंतिका ने जब उन्हें यह बात बताई तो वे बहुत ख़ुश हुए थे। अब अवंतिका के मन में परसों की बातचीत घूमने लगी। मैट्रो के शोर में भी उसे सर के कहे शब्द साफ़ सुनाई देने लगे। “अरे वाह! ऐसा मौक़ा बिल्कु ल नहीं छोड़ना चाहिए बेटा। इन दो सालों में तुम ऐसा बहुत कु छ सीखोगी जो जीवन भर तुम्हारे काम आएगा।” 56

“हाँ ... मैं अपना जापान प्रवास कभी नहीं भूल सकता। कभी वहाँ का शिष्टाचार तो कभी अनुशासन और कभी कोन्नीचिवा ...सायोनारा करते मददगार लोग याद आ जाते हैं।”

“अपनी फैमिली को समझाओ अवंतिका। अपनी पढ़ाई बेकार मत होने दो। जब तुम एनवायरमेंट कं ज़र्वेशन में डिग्री लेकर वापस आओगी तो यहाँ नौकरी के बहुत अच्छे अवसर मिलेंगे।” नौकरी के अच्छे अवसर की बात सुनते ही अवंतिका की आंखों में एक चमक आ गई थी। उसने जापान जाने की प्रवेश परीक्षा भी तो पास कर ली थी। अब इं टरनेट और तस्वीरों में देखे जापान को वो ख़ुद महसूस करना चाहती थी। तोमर सर उसे समझाते जा रहे थे... “ तुम्हें आगे चलकर पर्यावरण विज्ञान के क्षेत्र में जाना है ना।... तुम्हें तो वहाँ जाकर और भी फ़ायदा होगा क्योंकि वहां प्रकृ ति को तुम उस रूप में समझ सकोगी जो आज हम अपने यहाँ खोते जा रहे हैं।... वैसे तो प्रकृ ति हमारे सनातन धर्म का अभिन्न हिस्सा है। हम आज भी प्राकृ तिक उपादानों में ही आस्था ढू ंढते हैं... अपने देवी-देवताओं का वास मानते हैं.. लेकिन फिर भी आधुनिकता की दौड़ में हम अपना नुक़्सान कर रहे हैं।... तभी तो कभी बाढ,.. कभी सूखा ..कभी कोई और आपदा।... एक समय था जब हमने दुनिया को बहुत कु छ दिया था पर आज अपना दिया ही भूल रहे हैं। तुम्हारे जैसे होनहार बच्चे जब कु छ नया सीख कर आएंगे तो हमारे पूरे समाज को लाभ मिलेगा।….” सर के शब्द उसके कानों में गूँजते रहे। मैट्रो अपनी रफ़्तार से आगे बढ़ती रही। पर अवंतिका का गुज़रा समय जैसे एक शून्य बनकर उसके सामने तैरने लगा। अपनी कुं ठाओं और अवहेलना का सामना करते-करते अवंतिका पूरी तरह से बस अपनी किताबों में ही खोई रहती थी। दिल्ली में पढ़ाई के समय दोस्तों ने उसका हौसला बढ़ाया था और अब भी लगातार उसे प्रोत्साहित करते रहते हैं। किसान की बेटी मिट्टी से कु छ अधिक जुड़ी होती ह।ै दिल्ली आकर उसने पर्यावरण को ही अपना विषय चुना और अब क़िस्मत से जापान जाकर पढ़ाई करने का सुनहरा अवसर मिल रहा है। पर उसके लिए पास के ही गाँव का एक लड़का पसंद कर चुके पिताजी को ये सब समझाना मुश्किल है।  लम्बी गहरी साँस लेकर अवंतिका ने अपने सीने की घुटन को थोड़ा कम किया। मैट्रो अब थोड़ी ख़ाली लग रही थी। अचानक उसका ध्यान सामने खड़ी दस-ग्यारह साल की दो बच्चियों पर गया।  दोनों बच्चियाँ आंखों में जिज्ञासा भरे पूरे मेट्रो स्टेशन को देख रही थीं, लोगों की भीड़, उनके बीच कु छ परिचित चेहरे तलाशने की कोशिश करते हुए मेट्रो की पूरी व्यवस्था को निहार रही थीं। कु छ समझ आता तो एक बच्ची दूसरी को बताती और कभी दूसरी कु छ देखती तो पहली के कान में कु छ फु सफु साती। दोनों बच्चियां दरवाज़े के काँच पर अपनी नाक चिपकाए हुए बाहर झांक रही थीं। फिर दोनों किसी बहस में व्यस्त हो गईं थीं। धीरे -धीरे आपस में बात कर रही थीं। अवंतिका सुनने लगी...

Anjali

www.batj.org


सुअवसर “तुझे डर तो नहीं लग रहा” “ना..जैसे आए थे...वैसे ही चले जाएंगे।” “किसी से पूछ ले ना” “तू पूछ ले” “न तू पूछ…” अवंतिका को लगा कि कु छ गड़बड़ है। उसने तुरंत पूछा।   “कहाँ जाना है बच्चों” “सिलमपुर” “अरे … ये तो पिंक लाइन है। ये सिलमपुर नहीं जाती। तुम्हें वैलकम मैट्रो स्टेशन से मैट्रो बदलनी होगी और तुम लोग तो काफ़ी दूर आ गए हो। तुम्हारे साथ कोई और नहीं है क्या” “नहीं..”दोनों ने एक साथ कहा।  अवंतिका को लगा बच्चियाँ कहीं डर से रोने ना लगें पर दोनों खिलखिला कर हँस पड़ीं। उन्हें शायद ये कौतुहल हुआ कि कोई उनकी जगह के बारे में जानता है और रास्ता भी बता रहा है।  “अगला स्टेशन कड़कड़डू मा कोर्ट है”.. मैट्रो में उद्घोषणा हुई। दरवाज़े खुलते ही अवंतिका दोनों को लेकर बाहर निकल आई और वापसी की मैट्रो ली। उसने सोचा बच्चों को सिलमपुर पहुँचाकर हॉस्टल चली जाएगी और घर लौटने की तैयारी करे गी। कोई और रास्ता तो बचा ही नहीं अब।   स्नेह भरे इस छोटे से परिचय में ही नए चमकीले कपड़ों में सजीं

और मोती वाले रिबन से चोटी सजाए बच्चियों ने बता दिया कि वे ईदी के थोड़े से रुपयों से घूमने निकली हैं। बाक़ी बच्चे तो चाट-पकौड़ी खाने गए हैं और कु छ खिलौने लेने। पर ये दोनों बच्चियाँ दो-तीन स्टेशन का टिकट लेकर मैट्रो देखने आईं थीं। कु छ ग़लतफ़हमी हुई तो पिंक लाइन में चली गई थीं। वापसी की मैट्रो में अवंतिका तो सीट मिलते ही बैठ गई लेकिन बच्चियाँ फिर से जाकर दरवाज़े से नाक सटाकर बाहर का नज़ारा देखने लगीं। अवंतिका ने उन्हें बैठने के लिए बुलाया। बच्चियाँ नहीं आईं। भीड़ के डर से अवंतिका ने फिर बुलाया ...एक बच्ची आई और प्यार से उसके कान के पास आकर कहने लगी “जो बैठ गए तो दुनिया कै से देखेंगे…” “तुम लोगों को डर नहीं लगता... तुम्हारा घर खो गया तो” “तो हम नया घर बना लेंगे...जहाँ अच्छा लगेगा वहाँ... हीहीहीही” फिर से दोनों बच्चियाँ हँसने लगीं। बच्चों की बात...फिर से शीशा..चपटी नाक और बाहर का नज़ारा.. लेकिन जैसे एक बिजली कौंधी। अवंतिका को अपने बहुत सारे सवालों का जवाब एक साथ मिल गया। डीयू में पढ़ने वाली लड़की... परिवार की पांचवी और उपेक्षित बेटी.. पता नहीं किस अंजाने डर का शिकार हो चली थी। उसके पास खोने के लिए था ही क्या। पर हिम्मत करे गी तो बहुत कु छ पा ज़रूर लेगी।  छोटी-छोटी बच्चियों से आज जीवन का सबक मिल गया।…. जो बैठ गए तो दुनिया कैसे देखेंगे….तो हम नया घर बना लेंगे...जहाँ अच्छा लगेगा वहाँ… 

सुअवसर - शारं ग कुछ दबी सी चाह में न था घुटना, बादलों का सरू ज से यंु छिपना, रोशनी का जमीन से लिपटना, खोज रहा था नया मायना, सवालों से धूमिल मन का आईना, समझ गया दे ख आसमान, सरू ज सा नहीं अब कोई बेफिक्र, ये सीख निकल चला वो अपनी ढगर, इक अकेला पर झम ू ता जैसे क़ौम हो या कारवां, आंधी ने पराग बन बहाया, नई शाखों से उसका परिचय कराया, गुलाब सा खिल रहा हे यारों से दोसताना, जमीन पकड़ रही है नन्ही जड़, नई जगह नया नगर, टूटे गी डाली, फिर आएगी पतझड़, कभी वर्षा दे गी जल अमत ृ , कभी सख ा छीन ले ग ा जीने का अर्थ, ू अलबेला है पर अब नहीं रहा वो नासमझ, दे र लगे पर अब सन ु ता है दिल की गजर । www.batj.org

Durga Puja 2019

57


शक्ति प - चिन्मय दीक्

भा

विशेषज्ञ(हिन्दी) एनएचके वर्ल्ड-जापान)

रत विविधताओं का देश है। देवभूमि, आर्यवर्त, भारतवर्ष इत्यादि नामों से जाना जाने वाला यह देश ज्ञान वैराग्य मोक्ष और अवतारों का दृष्टा रहा है। जीव की उत्पत्ति ब्रह्मांड का सृजन सभ्यताओं का पलना और नवीनतम सभ्यताओं की जननी रही इस भारत भूमि ने विराट सभ्यताओं और साम्राज्यों का जन्मना पनपना और अंत भी देखा ह।ै इस भूमि में वेद हुए, इस भूमि में वेदव्यास हुए, इस इस भूमि में भगवान राम हुए, कृ ष्ण हुए, बुद्ध हुए। कोई आश्चर्य नहीं कि यह देवभूमि है। उद्भट विद्वानों, प्रकाँड पंडितों और विपुल संसाधनों से रत्नों से युक्त यह भूमि दुनिया के आकर्षण का कें द्र रही है। तो ऐसा क्या खास था इस भूमि में जो यहाँ पर ही सभ्यताओं का, परं पराओं का, विद्याओं का, रीति का, ज्ञान का, विज्ञान का, शोध का, न के वल सृजन हुआ वरन् संवर्धन और फिर उत्तरोत्तर विकास भी हुआ। अगर इस प्रश्न का उत्तर चाहिए तो हमें वाकई में आरं भ की ओर चलना पड़ेगा। वस्तुतः वसुधैव कु टु म्बकम् की परं परा के मूल में अवस्थित वसुधा को समझना आवश्यक है। संस्कृ त के एक श्लोक की अर्धाली है- या देवी सर्वभूतेषु... यह जो आरं भिक शब्दयुग्म हैं यह वास्तव में भारत की अंतरात्मा का अंतर्निहित सिद्धांत है। “या देवी सर्वभूतेषु” का अर्थ है देवी का सभी भूतों में न के वल विद्यमान होना वरन् उनकी अधिष्ठात्री होना, सर्वभूत अर्थात भू पर उपस्थित जो समस्त चल-अचल पदार्थ हैं उन सभी में देवी न के वल अवस्थित हैं बल्कि उनकी ईश भी हैं। उनके अस्तित्व का आधार हैं। यही सनातनी परं परा की नींव ह।ै सनातन का अर्थ ही होता है शाश्वत। जो सदा से चला आ रहा हो, जिसका कोई आदि नहीं है। इस परं परा के अनुसार सृष्टि की उत्पत्ति प्रकृ ति और पुरुष के मिलन से हुई। यहाँ प्रकृ ति का तो अर्थ ही शक्ति है। परं तु यह शक्ति होती क्या है? इसका उद्भव कहाँ है? इसकी आवश्यकता क्या है? अगर वैज्ञानिक दृष्टि से देखें तो यह ऊर्जा है, वह शक्ति है जो जीवन का आधार है। वैज्ञानिक भाषा में सूक्ष्मतम स्तर पर शक्ति को कोशिका के कें द्रक में अनुवांशिक पदार्थ के निर्माण हेतु प्रोटीन बनाने के लिए प्रयुक्त होने वाली ऊष्मा कह सकते हैं, जो जीवद्रव्य (प्रोटोप्लाज्म) के मुख्य अवयव के निर्माण एवं शारीरिक वृद्धि तथा विभिन्न जैविक क्रियाओं के लिए आवश्यक ह।ै विराट स्तर पर वह सूर्य को देदीप्यमान कर पृथ्वी पर जीवन संभव करने वाली ऊर्जा है। आध्यात्मिक दृष्टि में सनातन परं परा में शक्ति को चेतना माना गया है। शिव की अर्धांगिनी कहा गया है। जड़ ब्रह्माण्ड को जो चेतन कर दे वह शक्ति ह।ै लौकिक जगत में भारत की सभ्यताओं में प्राचीन ऋषियों के मतानुसार जीवन प्रदाता स्त्री को पराशक्ति की एक इकाई या उसका मूर्त रूप माना गया ह।ै “यत्र नार्यस्तु पूज्यन्ते रमन्ते तत्र देवता।” अर्थात जहाँ नारी पूज्य होती है वहाँ देवताओं का निवास होता है - इस सिद्धांत की उत्पत्ति का पीछे का यही तर्क होना चाहिए। यहाँ पर यह समझ लेना उचित है कि देवता बाहरी या अन्य पुरुषों को नहीं कहा गया है। देवत्व गुण से युक्त मनुष्य ही देवता कहा गया है। पर सनातन धर्म चर्चा में कर्मकाण्ड की बात न हो यह तो असंभव है। वस्तुतः सनातन परं परा में कर्मकाण्ड का उतना ही प्रयोजन है जितना कि किसी भी वैज्ञानिक अनुसंधान में प्राथमिक विद्यालय की विज्ञान कक्षाओं से प्राप्त ज्ञान का। अर्थात वह के वल पात्रता प्रदान करने का मूल मार्ग प्रशस्त करते हैं। उद्देश्य उनसे कहीं आगे और कहीं अधिक विराट होता है। कर्मकाण्ड का उद्देश्य के वल अनुशासन, यम, नियम, आसन, प्रत्याहार इत्यादि का अनुपालन कर शरीर रूपी साधन को परिपक्व करने से है। जैसे किसी थुलथुल काया वाले आलसी व्यक्ति को फर्राटा दौड़ प्रतियोगिता को जीतने के लिए पहले काया और आलस त्याग कर दौड़ की पात्रता लानी होती है। उसके लिए चुस्त-दुरुस्त 58

तंदरुस्त शरीर और फु र्ती चाहिए होती है। वैसे ही ब्रह्मज्ञान की प्राप्ति के लिए स्वस्थ तन तथा उससे भी ज़्यादा अनुशासित अंतर्मन आवश्यक है। ऐसा मन जो काम, क्रोध, मद, लोभ के विकारों पर नियंत्रण पा चुका हो, इसलिए उद्देश्य की पूर्ति के लिए वेदों में कर्मकाण्ड का उल्लेख है। परं तु कर्मकाण्ड के अतिरे क से जब भारतीय संस्कृति में सनातन धर्म का ह्रास होने लगा, के वल साधन को ही उद्देश्य बनाया जाने लगा, ईश्वर के अस्तित्व को नकारा जाने लगा उस समय भारत भूमि पर आदि शंकराचार्य का पदार्पण होता है। आदि शंकराचार्य ने वेदांत का सिद्धांत प्रतिपादित किया- ‘‘ब्रह्म सत्यम जगन्मिथ्या।’’ अर्थात ब्रह्म ही सत्य है शाश्वत है, यह जगत मिथ्या है, नश्वर है। ईश्वर की प्राप्ति में समत्व भाव का होना आवश्यक है। हालाँकि शंकराचार्य द्वारा अद्वैतवाद के मूल मत के लिए समन्वय के इस आधार पर मुख्यतः इन पद्धतियों को मान्यता दी गयी है:शैवाचार (2) शाक्ताचार (3) वैष्णवाचार (4) गणपत्याचार (5) सौराचार। शैवाचार का लक्ष्य शिव-समाधि अर्थात् आत्म-साक्षात्कार या आत्मज्ञान ह,ै इसमें बाहरी वृत्तियों को अंतर्मुखी करते हुए अंत में परमात्मा में मिलाने का अभ्यास किया जाता है। ‘‘यच्छेद्वांग्मनसो प्रज्ञस्तद्यच्छेद्ज्ञानात्मनि, ज्ञानात्मनि महतीनियच्छेद् तद्यच्छेद्छान्तात्मनि।» अर्थात - मन को बाहरी सभी आकर्षणों से भीतर खींचकर अहं तत्व में, फिर अहं तत्व को महत् तत्व में, और महत् तत्व को आत्म तत्व में मिला देना चाहिये। इसका अभ्यास विभिन्न स्तरों पर आत्मसाक्षात्कारी गुरू अपनी देखरे ख में कराते हैं। विद्यातन्त्र, कुं डलनी योग, योग विज्ञान, स्वरविज्ञान और नाद विज्ञान इसी के अन्तर्गत आते हैं। शाक्ताचार के अनुसार तामसिक शक्ति को भवानी या कालिका शक्ति में मिलना चाहिए जिसका बीजमंत्र ‘‘सम्” है, इसमें से राजसिक शक्ति को निकालकर भैरवीशक्ति में मिलाना चाहिये जिसका बीज मंत्र है ‘‘शम्”। इससे सात्विक शक्ति को खींचकर कौषिकीशक्ति में मिला देना चाहिये। पौराणिक शाक्ताचार के यह क्रमागत पद हैं जिन पर चलकर साधक लाभ पाता ह।ै यहाँ कालिकाशक्ति का आशय दार्शनिक अर्थात् “समय तथा आकाश” से संबधि ं त ह,ै शिव की पत्नी काली अथवा बौद्ध और शिवोत्तर तंत्र की कालिकाशक्ति से इसका कोई संबंध नहीं है। परन्तु पाश्चात्यवर्ती विद्वानों ने लोलुपतावश इसे पशुबलि आदि से जोड़कर प्रकृ तिपूजा और अविद्यातन्त्र की ओर मोड़ दिया है। वषै ्णवाचार में विश्व की सभी वस्तुओं में विष्णु को व्याप्त मानकर उपासना की जाती है, “विस्तारः सर्वभूतस्यविष्णोरविष्वमिदमजगत्, द्रष्टव्यमआत्मवत् तस्माद्भे देन विचक्षनैः।” अर्थात् यह विस्तृत दृश्य अदृश्य प्रपञ्च सभी कु छ विष्णु ही है अतः स्वयं सहित सभी में उनको अनुभव करने का अभ्यास करना चाहिये। पौराणिक काल्पनिक कथाओं के द्वारा इसी सिद्धान्त को लोक शिक्षा के लिए सरल ढंग से समझाने का प्रयास किया गया है परन्तु वह सब कर्मकाण्ड ने अपनी चपेट में ले लिया और लोगों को पथभ्रमित कर दिया। गणपत्याचार में प्राचीनकाल के समूह नेतृत्व वाले गणपति को चुनकर समूह के स्थान पर विश्व के नेता का भाव दिया गया और परमपुरुष के रूप में इनकी ही उपासना हेतु कहा गया है। परं तु आजकल इन्हें काल्पनिक आकार प्रकार देकर आडम्बर फै लाया जाता है। सौराचार मूलतः सूर्य की उपासना से संबधि ं त है जो दक्षिण रूस के सेक्डोनिया से आये ब्राह्मणों की उपासना पद्धति है। सेक्डोनियाई ब्राह्मण वेद या अन्य कोई पद्धति नहीं मानते थे वे के वल ज्योतिष और आयुर्वेद को ही मान्यता देते थे। उनके सूर्य ही इष्ट देवता थे क्योंकि वे मानते थे कि सूर्य से ही पृथ्वी, चंद्र और अन्य ग्रहों की उत्पत्ति हुई है

Anjali

www.batj.org


शक्ति प अतः विश्व के नियन्ता सूर्य ही हैं। यह मत सीमित क्षेत्रों में ही माना गया है। इस प्रकार इन पौराणिक मान्यताओं को व्यापक प्रसार नहीं मिल पाया क्योंकि इसके कु छ भागों को दार्शनिक मान्यता थी और कु छ को नहीं। यह विवरण प्रकट करता है कि विद्यातन्त्र और उपनिषदों में वर्णित अद्वितीय, निरवयव, निष्कल, सच्चिदानन्दघन परमपुरुष को पाने के उपायों को तथ्यों सहित शैवाचार के अलावा कोई भी पद्धति पूर्णतः सम्मिलित या समावेशित नहीं कर पाती है, वरन् एक दूसरे से श्रेष्ठ सिद्ध करने के प्रयासों में आडम्बर और परस्पर वैमनस्य को ही बढ़ावा देती गयी है। परं तु समय के साथ संतों और ऋषियों ने मानवता के लिए सुलभ और ईश्वर की प्राप्ति के लिए सर्व सुलभ तीन मार्ग बताए गए हैं- ज्ञानयोग मार्ग, भक्तियोग मार्ग, और कर्मयोग मार्ग। पर इन सब का आधार है धर्म। कालांतर में धर्म को पंथ के नाम से समझा जाने लगा जो सरासर ग़लत है। धर्म का अर्थ है वास्तविकता की अंतर्निहित प्रकृ ति। धर्म का अर्थ पंथ से कभी नहीं होता। बल्कि धर्म तो सृष्टि की उत्पत्ति का आधार है। भगवद्गीता में भगवान कृ ष्ण अर्जुन से कहते हैं की वास्तविक दृष्टा वही है जो समदृष्टिधारक है, जो यह देख सकता है यह समूची प्रकृ ति, समूचा विश्व गुणों के गुणों में ही बरतने से विद्यमान है। समस्त क्रियाओं की उत्पत्ति 3 गुण सत्व रजस और तमस के अंतर व्यवहार से होती है तथा इनके कारक भी गुण ही हैं। तो इस समीक्षा में शक्ति तो गुणातीत हो गई। और शक्ति के धारक शिव या पुत्री विष्णु भी गुणातीत हुए। अतः वर्तमान में चल रही धर्मनिरपेक्षता की बहस ज्ञानियों और प्रबुद्ध जनों की दृष्टि में मूर्खतापूर्ण है क्योंकि किसी भी काल में कोई भी व्यक्ति धर्म विहीन तो हो ही नहीं सकता। तो धर्मनिरपेक्षता सैद्धांतिक रूप से एक मूर्खतापूर्ण कपोल कल्पना है। कर्तव्यों का निष्ठा पूर्वक निर्वहन मनुष्य की प्रकृ ति ह।ै और प्रकृ ति अनुसार आचरण धर्म ह।ै छात्रधर्म, पुत्रधर्म, पितृधर्म, पत्नीधर्म, राजधर्म, राष्ट्र-धर्म, इत्यादि विभिन्न स्थितियों में मनुष्य द्वारा कार्य निष्पादन के लिए आदर्श अपेक्षित व्यवहार हैं। और ऊपर दिया गया मतों के विवरण स्पष्ट करता है कि सनातन धर्मी पंथनिरपेक्ष तो हमेशा से रहे हैं। मत मतांतर तो विभिन्न पंथों में पाए जाया करते थे और इसी ने विभिन्न तत्वों की विभिन्न मार्गों की, सत्यान्वेषण के विभिन्न रास्तों की उत्पत्ति भी की। जब राजकु मार सिद्धार्थ को तत्कालीन पारं परिक माध्यम से अपने प्रश्नों के उत्तर नहीं मिले तो उन्होंने साधना की, और आत्मयोग के माध्यम से ज्ञान का बोध कर बुद्ध धर्म का प्रतिपादन किया। सनातन धर्म में शैव, शाक्त, वैष्णव इत्यादि अनेक पंथ हुए। किं तु मतांतरों का होना अनादर सूचक नहीं था। इस संबंध में एक कथा बड़ी प्रचलित है की एक बार वैष्णव पंथी जगद्गुरु निंबार्काचार्य जी अपनी साधना के तहत तपस्या के लिए हिमालय पर गए थे। जब उनका तप पूरा हो गया तो वह चलने को तत्पर हुए। कहा जाता है कि उस समय वहाँ पर शक्ति स्वरूपिणी देवी प्रकट हुईं और उन्होंने निंबार्काचार्य से प्रसाद ग्रहण करने को कहा। निंबार्काचार्य जी ने उत्तर दिया की माँ मैं वैष्णव पंथी हूं और आपकी रसोई में माँस पकता है अतः मैं इस भोजन को ग्रहण करने में असमर्थ हूँ। देवी ने कहा कि मेरा पुत्र घर से भूखा कै से जा सकता है। तो उस समय आदिशक्ति ने अपने भक्त की बात रखने के लिए निंबार्काचार्य से वैष्णव पंथ में यथावत दीक्षा ली। तब से देवी वैष्णवी कहलाईं। एक और उदाहरण की बात करते हैं। ब्राह्मणों के लिए भिक्षाटन को आवश्यक माना गया था। मूलतः ज्ञानार्जन से अहंकार उत्पन्न हो सकता है। तो अहं को खत्म करने के लिए, साधक की शुद्धता की निरं तरता बनाए रखने के लिए, तथा ज्ञान का प्रचार प्रसार करने के लिए, ब्राह्मणों को भिक्षाटन निर्देशित था। परं तु चर्चा को आगे बढ़ाने से पहले यहाँ ब्राह्मण का अर्थ समझना आवश्यक है। वस्तुतः ब्राह्मण की परिभाषा है जो ब्रह्म का ज्ञानी हो। इसकी भी मानव जीवन में स्थितियाँ हैं। शास्त्रों के अनुसार ब्राह्मण की परिभाषा हैजन्मना जायतेन शूद्रः संस्कारात् द्विज उच्यते। वेद पठनात् भवेत्विप्रः ब्रह्म जानातीतिब्राह्मणः।। अर्थात जन्म से मनुष्य शूद्र होता है, संस्कारों के उपरांत द्विज कहलाता है, वेद अध्ययन द्वारा ज्ञान प्राप्त होने पर विप्र बनता है www.batj.org

तदोपरांत जब ब्रह्म ज्ञान होता ने तब ब्राह्मण कहलाता है। अतः उदाहरण की ओर लौटते हैं, एक बार ब्रह्मज्ञानी आदि शंकराचार्य भिक्षाटन हेतु एक कु टिया के द्वार पर पहुँचे। भिक्षा मांगने के लिए जब उन्होंने आवाज़ दी तो अंदर से ग्रह स्वामिनी ने उन्हें ठहरने को कहा। वह बाहर चौखट पर ही खड़े हो गए। जब विलंब कु छ अधिक हो गया तो आदि शंकराचार्य ने कहा कि माता अगर असमर्थता है तो कोई बात नहीं मैं प्रस्थान करता ह।ूँ इस पर अंदर से गृह स्वामिनी का जवाब आया कि घर की चौखट से भिक्षुक खाली हाथ जाए यह उचित नहीं है कृ पया तनिक समय और दें। घर पर अन्न उपलब्ध नहीं है और मैं अपनी पुत्री के साथ इस कु टिया में रहती हूँ तथा हम दोनों के बीच में एक ही वस्त्र है जिसे पहनकर अभी मेरी पुत्री भिक्षाटन के लिए गई है, अतः आपका सत्कार करने के लिए बाहर आने हेतु मैं अभी असमर्थ ह।ूँ इतनी विकट परिस्थितियों में भी गृहस्वामिनी के धर्मानुग्रह से आदि शंकराचार्य इतने द्रवित हो गए कि उस समय उनके मुखारविंद से जो श्लोक निकले वो कनकधारा स्त्रोत के नाम विश्व में जाने गये और कहा जाता है कि जब आदि शंकराचार्य के श्री मुख से यह श्लोक निकले थे तो आकाश से स्वर्ण की वर्षा हुई थी। उपरोक्त दोनों उदाहरण इस बात की पुष्टि करते हैं कि स्वधर्म पालन में स्थितप्रज्ञ व्यक्ति ईश्वरीय कृ पा का अधिकारी हो जाता है, तथा निष्ठापूर्वक धर्माचरण से शुद्ध हुआ मनुष्य जीवन के लक्ष्य के उत्कर्ष को प्राप्त करता है। आज के भारत में जब परं पराएं ध्वस्त हो रही हैं, धर्मानुसरण व्यवहार खत्म हो रहे हैं, ऐसे समय में सर्वाधिक आवश्यकता है आचरण में शुद्धता शुचिता लाने की, ज्ञान को बढ़ाने की। आत्मज्ञान को बढ़ाने की। परं तु आज के आधुनिक समय में समस्या सही मार्ग को जानने की है। सनातन धर्म को हिन्दू धर्म कहा जाने लगा है जो मूलतः यूनानी आक्रांताओं द्वारा सिंधु का उच्चारण न कर पाने के सिंधु का अपभ्रंश है। सप्तसैंधव क्षेत्र में रहने वाले सभी लोग हिन्दू कहलाए और कालांतर में भारत का नामकरण हिन्दूस्थान से हिन्दुस्तान हो गया। भारत में एक बहस और चली आ रही है शूद्रों के संबंध में। इस पर मनुस्मृति की निंदा करने वाले समाज में से एक ने भी मनुस्मृति का अध्ययन नहीं किया है। हिन्दू धर्म जो आज सनातन धर्म का पर्यायवाची बन गया है उसमें सबसे बड़ा प्रश्न है कि क्या वेदों में शूद्र को निम्न या नीचे स्तर का माना गया है? अगर वास्तविक अध्ययन करें तो हमें ज्ञात होता है कि वेदों में शूद्र को अत्यंत परिश्रमी कहा गया है। यजुर्वेद में उद्धरण आता है “तपसे शूद्रं [यजुर्वेद 30/5]” अर्थात श्रम यानि मेहनत से खाद्यान्न उत्पत्ति आदि कठिन कार्यों का अनुष्ठान करने वाला शूद्र है। तप शब्द का प्रयोग अनंत सामर्थ्य से जगत के सभी पदार्थों कि रचना करने वाले ईश्वर के लिए वेद मंत्र में हुआ है। इसके अतिरिक्त वेदों में वर्णात्मक दृष्टि से शूद्र और ब्राह्मण में कोई भेद नहीं है। यजुर्द वे में कहा गया है किन मनुष्यों में निन्दित व्यभिचारी, जुआरी, नपुंसक जिनमें शूद्र (श्रमजीवी कारीगर) और ब्राह्मण (अध्यापक एवं शिक्षक) नहीं हैं, उनको दूर बसाओ और जो राजा के सम्बन्धी हितकारी (सदाचारी) हैं उन्हें समीप बसाया जाये। [यजुर्द वे 30 /22]। इस मंत्र में व्यवहार सिद्धि से ब्राह्मण एवं शूद्र में कोई भेद नहीं है। ब्राह्मण विद्या से राज्य कि सेवा करता है एवं शूद्र श्रम से राज्य कि सेवा करता है। दोनों को समीप बसाने का अर्थ यही दर्शाता है कि शूद्र अछू त शब्द का पर्यायवाची नहीं है एवं न ही नीचे होने का बोधक है। वहीं ऋग्वेद के अनुसार मनुष्यों में न कोई बड़ा है, न कोई छोटा ह।ै सभी आपस में एक समान बराबर के भाई ह।ै सभी मिलकर लौकिक एवं पारलौकिक सुख एवं ऐश्वर्य कि प्राप्ति करें । [ऋग्वेद 5/60/5]। मनुस्मृति में लिखा है कि हिंसा न करना, सच बोलना, दूसरे का धन अन्याय से न हरना, पवित्र रहना, इन्द्रियों का निग्रह करना, चारों वर्णों का समान धर्म है। [मनुस्मृति 10 /63]। यहाँ पर स्पष्ट रूप से चारों वर्णों के आचार धर्म को एक माना गया है। वर्ण भेद से धार्मिक होने का कोई भेद नहीं है। महाभारत का संदर्भ लें तो उसमें स्पष्ट रूप से कर्म प्रधानता से वर्ण विभक्ति बतायी

Durga Puja 2019

59


शक्ति प गयी है। उदाहरणब्राह्मणी के गर्भ से उत्पन्न होने से, संस्कार से, वेद श्रवण से अथवा ब्राह्मण पिता कि संतान होने भर से कोई ब्राह्मण नहीं बन जाता अपितु सदाचार से ही मनुष्य ब्राह्मण बनता है। [महाभारत अनुशासन पर्व अध्याय 143]। कोई भी मनुष्य कु ल और जाति के कारण ब्राह्मण नहीं हो सकता। यदि चंडाल भी सदाचारी है तो ब्राह्मण है। [महाभारत अनुशासन पर्व अध्याय 226]। जो ब्राह्मण दुष्ट कर्म करता है, वो दम्भी, पापी और अज्ञानी है उसे शूद्र समझना चाहिए। और जो शूद्र सत्य और धर्म में स्थित है उसे ब्राह्मण समझना चाहिए। [महाभारत वन पर्व अध्याय 216/14]। अतः हिन्दू या सनातन धर्म में व्याख्या की गयी है वर्ण व्यवस्था की। मध्यकाल में भारतीय परं परा और धर्म का सर्वाधिक ह्रास हुआ ह।ै आक्रांताओं द्वारा ज्ञान के कें द्रों को ध्वस्त किया गया। विश्वविद्यालयों को आग लगा कर ऐसे समस्त ज्ञानियों की नृशंस हत्या की गयी जिनके द्वारा श्रुतियाँ और स्मृतियाँ कं ठस्थ कर ज्ञान को अगली पीढ़ी को हस्तांतरित किया जाना संभावित था। मूलतः अब्राहमिक पंथों में पंथ विस्तारण की पद्धति बलात् ही है। गोया कि ईसा मसीह को जीते-जी तो सूली पर चढ़ा दिया और मरने के बाद उसे शांति और प्रेम का दूत बताते हुए विश्व भर में शांति भंग की। अश्वमेध यज्ञ की प्रथा विशुद्ध वैदिक है और इसमें संप्रभुता पर प्रश्न करने वाले राजा से युद्ध किया जाता था। परं तु अश्वमेध यज्ञ की पात्रता तक पहुँचने से पहले के सारे पड़ावों को पार करने में राजा तथा राज्य का परिष्कृ त होते जाना स्वाभाविक स्थितियाँ होती थीं। जैसे विद्वान व्यक्ति को अक्षरज्ञान नहीं सिखाया जाता उसी प्रकार से अश्वमेध यज्ञ के पात्र राजा को भी तुच्छ प्रयोजन से अभिप्राय नहीं रहा करता था। किं तु भारतीय प्रायद्वीप पर हुए आक्रमणों में यूँ तो चौतरफ़ा नुकसान हुआ परं तु उसमें भी भारतीय सभ्यता को सर्वाधिक ह्रास हुआ था स्त्रियों को के वल संभोग की वस्तु बनाए जाने से। वस्तुकरण की प्रथा पाशविक भी नहीं कही जा सकती क्योंकि उसके प्रमाण पशुओं में भी नहीं मिलते हैं। परं तु इसकी क्षति यह हुई कि अब्राहमिक पंथों द्वारा थोपी गयी क्षुद्र तथा त्रुटिपूर्ण मानसिकता का सामान्य मानवीय प्रवृत्तियों को अनैतिक घोषित किए जाने ने मानसिक विकारों से ग्रस्त समाज का निर्माण संस्थागत कर दिया। विक्टोरियाई नैतिकता के हमले ने शृंगार रस को के वल साधक और परमात्मा के बीच एक आध्यात्मिक मिलन के रूप में परिभाषित कर उसके भौतिक और भावनात्मक पहलू के मिलन को खत्म कर दिया। और इसी का अनुसरण करते हुए आज भारतीय संस्कृति के स्वघोषित संरक्षक लोगों को परे शान करते हैं क्योंकि उन्होंने सनातन धर्म के रूप में विक्टोरियाई नैतिकता को अपनाया है। एक उदाहरण के रूप में, हमारी मैकालेवादी बुद्धि की छलाँग देखें। हम वैलेन्टाइन-डे पर कई रं गीन फू लों का आदान-प्रदान करके संस्कृति के नकली संरक्षकों को मुँहतोड़ जवाब देने का दावा करते हैं जबकि विडंबना यह है कि विदेशी अंधानुकरण के थोथे प्रदर्शन में, हम नहीं जानते कि विक्टोरिया के समय में फू लों का आदान-प्रदान शुरू हुआ क्योंकि प्रेम के बाहरी भाव निषिद्ध थे! और इसी के तहत गोस्वामी तुलसीदास को नारी निंदक कहने के लिये श्रीरामचरितमानस की चौपाई- ढोल गंवार सूद्र पशु नारि। यह सब ताडन के अधिकारी।। को उद्धृत किया जाता रहा है। कारण स्पष्ट है, किं तु मूर्खता ताडन के अर्थ को समझने में की गयी ह।ै जहाँ तक ताड़न शब्द के विभिन्न अर्थों की बात है तो यह सुभाषित् देखिये «लालयेत् पंचवर्षाणि दशवर्षाणि ताडयेत्। प्राप्ते तु षोडशे वर्षे पुत्रं मित्रवदाचरे त्॥» (पुत्र का पांच वर्ष तक लालन करें । दस वर्ष तक ताड़न करें । सोलहवां वर्ष लग जाने पर उसके साथ मित्र के समान व्यवहार करना चाहिए।) जयदेव ने रतिमंजरी में ताड़न शब्द का प्रयोग ऐसे किया। लिङ्गप्रवेशनं कृ त्वा धृत्वा गाढ़प्रयोगत:। पार्श्वद्वयञ्च सम्पीड्य सस्पृहं ताडयेद्भगम्॥ किं तु इसे समझने से पहले यह जानना आवश्यक है कि भारतीय 60

परं परा में स्त्री को पुरुष से कहीं भी कमतर नहीं है न ही उसे ऐसा कहीं दर्शाया गया ह।ै गोस्वमी तुलसीदास जी श्रीरामचरितमानस में ही कहते हैं भवानीशंकरो वंदे श्रद्धाविश्वास रूपिणौ। परं तु तुलसीदास तो आधुनिक काल के हो गये, प्राचीन या मध्ययुग के पहले भी भर्तृहरिकृ त शृंगार-शतक हो, जयदेवकृ त गीत गोविन्द हो, या कालिदासकृ त मेघदूतम्। शृंगार रस को हेय या विकार की दृष्टि से कभी देखा ही नहीं गया। सनातन परं परा में जीवन के चार आश्रमों में धर्म, अर्थ, काम, मोक्ष में भी काम की उतने ही निर्द्वंद्व रूप से व्याख्या की गयी है जितनी किसी अन्य आश्रम की। गीत गोविन्द की रतिमंजरी उत्कृष्ट उदाहरण है। मूलतः यह ज्ञान भौतिक और भावनात्मक स्तर पर संपूर्णता प्रदान करने और भोग के उचित परिमाणों को स्थापित करने में सहायक होता था। इससे भौतिक द्वेष की, ईर्ष्या की भावनाएँ कुं ठित रूप से समाज में व्याप्त नहीं हुआ करती थीं। स्त्रीत्व का एक प्राकृ तिक अंग है लाज। जिसका शर्मनाक होने से कोई संबंध नहीं है। जवाब कै से प्राकृ तिक मानवी भावना को रोकने का प्रयास करें गे तो और तीव्रता से प्रस्फुटित होकर विद्रोह का रूप धारण करती है। अब्राह्मिक और पश्चिमी सभ्यताओं की यही समस्या है। जो भारतीय सनातन परं परा में कभी थी ही नहीं। वास्तव में तो आक्रमणकारियों से बच गए विराट मंदिर और पुरातन स्थल इस बात का प्रमाण हैं कि सनातनी भारत में स्त्रीत्व को संपर्ण ू ता से अंगीकार करने में समाज भौतिक या भावनात्मक स्तर पर स्त्री और पुरुष में कोई भेदभाव नहीं करता था। वरन् सनातनी परं परा में तो स्त्रीत्व तथा नारी को परं पराओं में, संस्कारों में, और शक्ति का स्वरूप होने के कारण पुरुष से उच्चतर पद दिया गया है। फिर तुलसीदास हों या आदि शंकराचार्य। दोनों ने ही इस तथ्य का प्रतिपादन किया ह।ै तुलसीदास ने रामायण की सबसे महत्त्वपूर्ण घटना – राम वनगमन के प्रसंग में स्पष्ट लिखा है कि – जो के वल पितु आयसु ताता। तो जनि जाहु जानु बड़ी माता।। अर्थात- अगर के वल पिता की आज्ञा से वनवास मिला है तो हे राम, माँ के पद को पिता से बड़ा जानकर मेरी आज्ञा शिरोधार्य करते हुए वन मत जाओ। आदि शंकराचार्य ने लिखा है किचिताभस्माले प ो गरलमशनं दि क्पटधरो जटाधारीकण्ठे भुजगपतिहारीपशुपति:। क प ा ल ी भू ते श ो भ ज ति ज ग द ी शै क प द व ीं भवानि त्वत्पाणिग्रहणपरिपाटीफलमिदम्।। अर्थात – जो चिता की भस्म रमाते हैं, विष खाते हैं, निर्वस्त्र रहते हैं, जटाजूट बाँधते हैं, गले में सर्पराज की माला धारण करते हैं, हाथ में खप्पर लिए हैं, पशुपति और भूतों के स्वामी है, ऐसे शिवजी ने भी जो एकमात्र जगदीश्वर की पदवी प्राप्त की है, वह हे भवानि ! तुम्हारे साथ पाणिग्रहण का ही फल है। अतः यह तो स्थापित हुआ कि शक्ति के बिना जीवन की उत्पत्ति है नहीं। त्रिदेवों के कार्य विस्तारण में विष्णु का जगपालन का दायित्व है। यहाँ पर भी विष्णु के साथ उनकी माया के विस्तार से ही जगत् चलायमान होता है। दैहिक रुप में विष्णु हरि की भूमिका अनूठी है। जबकि आध्यात्मिक विष्णु अद्भुत और चमत्कारी हैं। जैसा कि देव के बारे में कहा गया है कि वे आध्यात्मिक हैं। इसका तात्पर्य यह भी अंतर्निहित है कि यही देवता भौतिक भी हैं। विष्णु कौन हैं। कहाँ ह।ै वे सँसार का प्राण हैं। अदिति स्त्रीत्व का प्रतिनिधित्व करती हैं। विष्णु व अन्य आदित्यों की माता भी हैं। ब्राह्मण ग्रंथ कहते हैं कि पृथ्वी भी अदिति है। पृथ्वी पर यज्ञ की अवधारण कोई कपोल कल्पना नहीं है। पृथ्वी के नीचे अग्नि ही तो है। यज्ञ में जो आहुतियाँ दी जाती हैं, वह अग्नि को पोषित कर उसे लगातार धधकाते रहना ही तो हैं। प्राकृ त में अग्नि (योनि) में, जिसे इं द्र प्राण कहा गया है, जब सोम (वीर्य) की आहुति होती है तभी तो गर्भ की, सृजन की स्थापना होती है। गर्भ उल्वण से परिवेष्ठित हो कर सुरक्षित रुप में विकसित होने लगता है। वह अग्नि से उत्पन्न हुआ है। इधर शरीर के मूलाधार चक्र गुदा से नाभि तक के स्थान को ही तो अग्नि स्थान कहा गया है। इसे अग्नि लोक भी कहते हैं। पेट में अग्नि न हो तो, भोजन नहीं पच सकता। भोजन ही ऊर्जा प्रदान करता है। भोजन भी हविष्य है। अतः ब्रह्माण्ड की इकाई होने के नाते मनुष्य में भी वही सब तत्व हैं, जो कि ब्रह्माण्ड में स्थित हैं। समदृष्टा अहं ब्रह्मास्मि का साक्षात्कार कर पराशक्ति के विस्तार को ही चराचर जगत में व्याप्त माया के सदृश देखते हैं। मनुष्य में ही

Anjali

www.batj.org


सूर्य, जल, वायु, आकाश और पृथ्वी अवस्थित हैं। आमाशय में अग्नि है। अतः इसे पृथ्वी लोक भी कहते हैं। मनुष्य के शरीर में तीनों लोक स्थित हैं। सत्य तो यह है कि ब्रह्मांड में कु ल नौ लोक हैं जिनमें से सात तो मंत्र बद्ध हैं - «भूः, भुवः, स्वः, महः, जनः, तपः, और सत्यम्। ये सभी लोक मनुष्य शरीर में भी उपस्थित हैं। शक्ति के विस्तार में विष्णु आधिदैविक स्वरूप में शरीर में स्थित हैं। उनका स्वरूप आध्यात्मिक है। विशुद्ध विज्ञान है। हमारे शरीर में जो 33 देवता हैं, वे सभी अग्नि के रूप में स्थित हैं। 33 अग्नि। जो 33 देवता हैं - उनमें साक्षात अग्नि तो 8 वसु ही हैं। फिर 11 रुद्र जो अग्नि की अगली अवस्था वायु के ही रूप हैं। 11 रुद्रों के इस स्थान को अंतरिक्षलोक, वायुलोक अथवा चँद्रलोक कहते हैं। सवाल उठता है तो फिर स्वर्ग कहाँ है और स्वर्गलोक क्या है? 14 देवताओं में से 2 अश्विनी कु मार हैं। जबकि 12 देवता आदित्य कहलाते हैं जो वायुलोक से ऊपर स्थित स्वर्ग, द्यौ, अथवा आदित्य लोक में रहते हैं। यह अश्विनी कु मार 8 वसु और 11 रुद्रों के बीच गठान का काम करते हैं। सूर्य को आदित्य कहते हैं अतः शरीर में ही अग्नि, वायु और आदित्य स्थित हैं। जहाँ हृदय लोक है विष्णु वहीं निवास करते हैं। तो नाभि से कं ठ तक 33 देवताओं का निवास है। यह सभी देवता अग्नि के प्रतीक हैं। जब तक शरीर में अग्निरूपी ऊर्जा है तब तक मनुष्य जीवित है, चैतन्य है। परं तु इतने विस्तृत मत मतांतरों में सर्वप्रमुख प्रश्न यह उठता है कि किस मत का अवलंबन करना श्रेयस्कर है। इस संदर्भ में महाभारत में धर्मराज युधिष्ठिर से यक्ष प्रश्नों में से एक का उद्धरण इस समसामयिक

समस्या का निराकरण करता है। यक्ष ने युधिष्ठिर से चिरं तन प्रश्न किया था, “कः पन्थाः”? अर्थात- पथ क्या ह? ै या कि कौन सा पथ अवलंबनीय है। प्रश्न का मर्म समझकर युधिष्ठिर का निःशंक उत्तर थातर्कोऽप्रतिष्ठः श्रुतयो विभिन्ना नैको ऋषिर्यस्य मतं प्रमाणम्। धर्मस्य तत्त्वंनिहितंगुहायाम् महाजनो येन गतः सः पन्थाः।। (महाभारत वनपर्व 267/84) अर्थात- तर्क से किसी प्रकार के निश्चय पर पहुंचना कठिन है क्योंकि जीवन जीने के मार्ग के निर्धारण के लिए भिन्न-भिन्न मतांतरों के भिन्न-भिन्न तर्क हैं अर्थात कोई सुस्थापित तर्क नहीं ह।ै श्रुतियाँ यानि कि वेद और शास्त्र भी नानाविध परस्परविरोधी उपदेश करती हैं अर्थात उनमें भी भिन्नता आती है। कहीं भी ऐसे दो ऋषि या मुनि नहीं मिलेंगे जिनमें मतभेद न हो। अतैव उनके वचन भी प्रमाण नहीं कहे जा सकते। वास्तव में धर्म का मर्म तो अत्यंत गूढ़ है अतः व्यक्ति को चाहिए कि जिस मार्ग का अवलंबन महापुरुषों ने किया हो उसी का अनुसरण करना चाहिए। आज के समय में जब मनुष्य में लालसाएँ विकराल रूप धारण कर रही हैं, पाशविक प्रवृत्तियाँ अप्रतिम स्तर पर पहुँच रही हैं, ऐसे समय में शक्ति धारण करने हेतु सुपात्र बनने का उचित मार्ग महापुरुषों द्वारा अपनाए गए पथ का अवलंबन ही है। पुनः एक बार आदिशक्ति को प्रणाम। या देवी सर्वभूतेषु शक्ति रूपेण संस्थिताः नमस्तस्यै नमस्तस्यै नमस्तस्यै नमो नमः। 

दीपावली संदश े - सुनील शर्म गगन की ओर प्रक्षेपित वह चंचल अग्निपुंज। दीपावली की श्यामवर्णी नभ को आलोकित करता है।। कान्तिहीन एक एतिहासिक रे खाचित्र में। ज्यूं कान्तिमय स्वपनिल रं ग भरता है।। शशिहीन रात्रि के वैधव्य को भरने के लिए। उस की सूनी मांग में रक्तिम रं ग भरता है।। उस नभ में प्रकाशोत्पन्न करने के लिए। उस में फै ल जाने का उपक्रम करता है।। फै लता है व अपने अस्तित्व को मिटा देता है। प्रकाशपुंज मिटकर कालिमा को जन्म देता है।। उस पुंज ने अपना विस्तार किया निर्विचार। असीम कालिमा में क्या संभव था यह विस्तार।। ज्यूं सिन्धु में डाली गई पीतवर्णी एक बूंद। विस्तृत हो कर उसका रं ग नहीं बदल सकती।। खो जाती है उसी का विस्तार में विस्तृत हो। अहं से परम की विजय का ढंग नहीं बदल सकती।। वैसे ही प्रकाशपुंज बार बार विच्छिन्न हो कर। अभिन्न एक से बार बार विभिन्न होकरदिपावली का एक अनिर्वचनीय संदश े बतलाता है।। कि निज विस्तार अहं को भूल कर करना ही। स्वयं की परम में मिलन की सार्थकता दिखलाता है।। www.batj.org

Durga Puja 2019

61


माँ, मित्र, मातृभू - रिमझिम मोहन्त माँ कभी शक्ती का श्रोत है तू कभी स्नेह की धारा! वज़ूद तेरा सूरज से भी तेजस्वी ह्रदय ममता नीर धारा! इच्छायें सदा अप्रकटित तेरी  भावनाओं के सैलाब से भरा ! अपने वजूद को भुलाकर जो निभायी तुने रिवायतें.. इनसान बन खड़ा हूँ आज जो भुलायी तूने अपनी ख्वाईशें!

मित्र अस्थिर जीवन पथ पर दृढ आलम्बन बने धुंधलते तेरे रात में प्रकाश का प्रथम करे वह मित्र है !! तेरी हर सफलता पर जो नाचे उन्माद तेरी हर विफलता को ढके दामन तले वह मित्र है !! जो भटके तू अनीति दुराचार के माया जाल मैं बन विवेक तलवार जो काटें उन फ़ासों को वह मित्र है!! जो निसहाय द्रौपदी तू कपटी कु टिल रं गमंच में सखा कृ ष्ण सम अभेद कवच बने तेरी वह मित्र है !! जगत के नाथ, जगत के अधिपति निसंकोच बने अर्जुन के सारथी वह मित्र है !!

मातृभूमी सदा समर्पित जिसकी स्नेहधारा, निस्चल पान कर प्रेम सुधा मातः तेरा, देशप्रेम में उन्मद चले सिपाही बांधे सेहरा। दुल्हन बन सजे बैठी बलिदान की भूमि, दे प्राणों की आहुति, करे सुरक्षित घर आंगन तेरा। कोटि नमन है तेरे वीर मतवालों को, करूँ चरण वन्दना उन निडर निर्भय निस्वार्थ परिवारों को। विजयी विश्व तिरं गा प्यारा  झंडा ऊँचा रहे हमारा!! 62

Anjali

www.batj.org


Poems - Abheek Dutta, Grade V

  

Peace and War

                   Peace               Calm, Happy        Silent, Love, Good-will Free Country, Bound Country      Hostile, Attack, Bombard               Hatred, Upset                       War

The Country It was a proud country, Where no one went hungry. Free of crime, And plenty of time.   Animals were free, And men drank lots of tea. None were poor, And happiness was at every door.   Until one night, We lost it all in a fight. We lost our freedom, And our kingdom.   We lost our will to live,  And our kindness to give. We mustn’t touch our beds,  Or we will lose our heads.   We try to start a campaign, But only die of pain. We rebel, we fight, we die, and many others rise, But the invaders only catch us in disguise.

www.batj.org

We try to immigrate, But they catch us and shove us in a crate. We smuggle guns, And they think of it as fun.   They are merciless, That is why we are helpless. We pray to many deities, But are disgraced by the authorities.   They use a magical fire, And create a flaming pyre. We mustn’t give up, For their power is corrupt.

Durga Puja 2019

63


Kutcheri Experience In Chennai - Saikarthik Natarajan, Grade VI

I

was sitting in the comfy couch in my grandma’s house in Chennai and I was watching Priya Sisters and Ranjani Gayathri in the TV . I always wondered how it would be like if I really went to a live Kutcheri and meet popular mridangists and vocalists, so I asked my mom if we can see as a family live performance by famous carnatic musicians and singers and she said, “Sure”. We got inside the car to get the tickets for the Kutcheri and there was a long queue indeed, especially for Ranjani Gayathri, but I was very interested and really wanted to get the tickets really quickly, so I became cranky, but luckily the tickets didn’t run out so we got for all of us.. After we came back home I was in a happy mood for the whole day. The next day  I woke up and brushed my teeth, ate breakfast, took a shower and watched something in the TV and around  6:30pm we went to our first  Kutcheri and the singer was Abishek Raguram and the  Mridangam player was Ananth Krishnan. I saw them doing Raagam Thanum Pallavi and Thani Avardhanum. I also saw many people enjoying the music and saying things like Sabash and Bale because the violin,  Mridangam and vocalists were singing and playing astronishingly. They were so good that I almost slept.. After the performance finished that motivated me to listen to live Kutcheri’s more often. The next day after the Abishek Raguram Kutcheri I woke up at 8:00am and today was a lecture demonstration about three south indian percussion instruments my favorite genre and they were

the Mridangam, Ganjira, and the Ghatam. Also it was very good thing for me because I learn Mridangam, so I can learn more about my instrument that I’m learning and also know about other instruments.   We reached there at 11:00am sharp and I listened carefully with my ears wide open about each and every one of the percussion and there specialities. Three things I learnt about each and every one of the percussion and there specialities. Three things I learnt about each instruments is that Mridangam is made of animal skin and Ghatam doesnt have any tuning and Ganjira’s face to elaborate it the place where they play it is made out of lizard skin. It was so interesting and I loved it so much, also I had the great opportunity to take photos with great musicians like Ganjira T. Gopalakrishnan, Morsing Raman, Ghatam Karthik. After the demonstration I came back home ate lunch and took rest and I was so excited of what’s coming up this evening because we are going to my favorite singers Ranjani and Gayathri’s kutcheri. When it turned evening we left and went to the auditorium and I sat in the soft chair and saw these fantastic singers and it was so nice that I started dreaming about music with my eyes open. Those two singers were singing Allapanas which are basically introducing the raagam of the song and also I learnt more Raagams, and it was an awsome experience and I really want to see and listen more of carnatic music, so that I can learn a lot and enjoy. Thank you for reading my writing. 

64

Anjali

www.batj.org


The Haunted Mansion - Ashmita Paul, Grade VII

I

t was summer holidays for Becky. She usually hates summer, because that is the time when the monsoon starts. The cyclones attack their community severely. But this is a story which is unforgettable. Every year, she used to go to the Crystal Beach on the first day of her summer holiday, but this year, she wanted to change the venue… “Becky, did you call your friends in time?” her mother inquired. “Yes mom,” answered Becky.

Her friends, Anne and Betsey, were waiting near their house. Her father stopped the car, and they came. They started opening their lunch boxes and showing their food. Becky was smelling the scent of Betsey’s mango pudding. As Anne saw it, she pressed her mouth and started giggling. “We’re here!” exclaimed Becky’s father. “Yeah!” the girls shouted with excitement, as they got of the car. They started strolling into the dense forest. “Can we place the mat here?” questioned Anne, pointing to the spot in front of a tall tree. “Sure,” answered Betsey. Becky’s parents unfolded the mat and placed on the exact place where Anne pointed at. They all sat on the mat and started eating their lunches. “This is a pretty good place for some shade,” mumbled Becky, with her mouth full of mashed potatoes. “Becky, finish chewing your food first, then speak,” chuckled her mother. Suddenly, dark thunderclouds smothered the sun. The temperature outside dropped severely. They all started feeling cold.

“Why is it so cold?” moaned Betsey. “I know right, its summer. It shouldn’t be so cold,” groaned Becky. They all started shivering in a very strong way. They started escaping from the forest, taking all their stuff, but it was too late. “Goodness me, I forgot my lunchbox!” screamed Becky. “Becky! Don’t go there, it’s too dangerous!” warned Anne and Betsey. Becky didn’t listen to them at all. She sprinted through the forest to find her lunch box. Thunder boomed and lightning flashed. “Becky!” screamed her parents. There were gales of wind. It was so strong that it also pulled Anne and Betsey into the forest and pushed Becky’s parents away. Inside the forest, Becky found her lunchbox. At the same time, her friends found her, and they clutched their arms together. The wind blew them further into the middle of the forest. Later, the storm stopped. The girls were lying down in the middle of the forest. “Oh, where are we?” strained Anne. “We’re still in the forest,” groaned Betsey. “I’m sorry. I’m the one who put everyone in danger,” whimpered Becky. “Don’t blame yourself, at least we still have each other,” whispered Betsey. “Yeah, but where are my parents?” questioned Becky. “I don’t know, let’s just take a walk inside the forest,” suggested Anne. The girls started walking deep inside the forest. The sky was becoming darker and darker. They came to a part of the forest where the trees were branching to the middle like claws. It gave them a spine-chilling moment. “This place looks weird,” murmured Anne. Bats flew above their heads to a large mansion. “I didn’t know that there was a mansion in the forest,” moaned Becky. “Let’s check it out,” suggested Betsey. “We should probably find our way home,” said Anne. “Oh come on, just a peak,” pleaded Becky. As the girls went closer to the mansion, the door creaked open by itself. They gasped loudly. Inside the mansion, it had many ornate designs on the walls. There was a big chandelier on the ceiling, but the lights were off. “It’s kind of dark in here. I wish the chandelier lights were on,” whined Anne. “Don’t worry, I have a glowstick inside my bag,” Becky mumbled, as she took the glowstick out of her bag and turned it on. “Doesn’t this place look kind of haunted?” whimpered Betsey. “Maybe,” answered Becky. As they creeped inside the mansion, the glowstick went off, and the chandelier lights were on.

www.batj.org

Durga Puja 2019

65


The Haunted Mansion “What just happened?” whispered Betsey.

“Okay, hop up in the car,” giggled Becky’s mother.

The girls became frightened and hid behind a bookshelf. Some shadowy creatures came out from a door on the right side. “Ghosts!” the girls screamed. The shadowy creatures stood on a shadow of a stage, where one shadowy man was playing an accordion. The notes that were visible were going all around over the place. “Whoa!” the girls gasped. Then, some ugly ghosts came in and started shooting the audience and the stage with shadowy guns. The man with the accordion ran to the woods and started howling to the moon. Some ugly ghosts came behind the weeping man and shot him with their guns. “Oh no,” whimpered Becky. The ugly ghosts placed the man’s dead body in a grave, destroyed the stage, and built a mansion. “Wait, that’s the same mansion that we’re in,” noticed Anne. Inside the shadowy mansion, it showed the soul of the man wreaking his horrible vengeance. Things are starting to grow very sinister. In the middle came out a red and golden accordion. Anne and Betsey were tip-toeing to it until, “Hey guys, there’s a rectangular-shaped window,” called Becky. When they reached there, they pressed their nose to the window and saw a grave. Behind them, the ghost of the man flew outside of the mansion,and rushed inside the grave. “Guys, I kind of understand of how to stop all this horrible haunting,” exclaimed Betsey. “We should go outside and see the grave,” suggested Anne. They ran to the door, opened it, and ran to the grave.

The girls went inside the car, still wondering about the haunted mansion. “This time, the storm stopped so quickly,” mumbled Betsey. “I know right,” exclaimed Anne. After summer holidays, school started. On the first day of school, as the girls were having English class, a woman knocked the door. “Excuse me, can I have Becky Hale, Anne Rose and Betsey Lillis for a minute?” asked the woman. “Sure,” replied the teacher. The girls went outside the classroom and closed the door. The woman bent down to talk to them. “I’m Ellie Wilson,” said the woman. The girls’ eyes grew wide for a moment. “Timothy Wilson was my grandfather. I have spent my entire life to stop the terrible haunting with the Haunted Mansion, but his storms were impossible for me to pass,” said the woman, with tears trickling from her eyes. “So, those thunderstorms were caused by him. He wanted someone to help his soul rest in peace,” said Becky with astonishment. “Exactly. He has chosen you to solve this mystery. I want to thank you girls for letting his soul rest in peace,” Ellie sobbed and wiped her eyes with her hands and continued, “If possible, may I have an interview with you in the news?” “Let’s do this first thing tomorrow morning at 6 am,” said Anne. “Absolutely!” exclaimed Betsey and Ellie. As they came back, they were admiring their work. “Oh, this is amazing!” screamed Becky, “I can’t believe that we solved a history legend from the past!”

“Timothy Wilson, 1926-1956,” Becky read on the label.

So do I, don’t you?

“He’s the accordionist,” gasped Anne. “This is all crystal clear, now we know what to do!” Betsey shouted with excitement. They went inside the mansion, grabbed the accordion, went outside, and placed it near the grave. They hid behind the tree that is near to it. “Now we can see the whole thing,” Becky whispered happily. The grave opened slowly, and the soul of Timothy Wilson came out. It became the shape of a man and started playing the accordion in a very happy tune. “Now this horrible haunting will stop,” murmured Anne. “It’s better if we don’t disturb him. Just let him play,” suggested Becky. Suddenly, another thunderstorm happened. “Oh, not again!” groaned Betsey. The wind blew them outside of the forest. Later, it stopped. “Becky!” exclaimed Becky’s parents. “Mom, Dad!” Becky shouted with excitement. “Where have you been?” asked Becky’s father. “Oh um, long story,” the girls answered nervously.

66

Anjali

www.batj.org


Basketball War - Arnab Karmokar, Grade VII “Dear lord,” I muttered as I glanced at the bulletin board, positioned on the second floor of Northview Junior High.

started to offend me. I told him how he hated girls and was really offensive. I even told him how he pushed me and left.

“What’s going on, Junior?” my friend Leo asked, who was going through his newest copy of Slam.

“I don’t know what to do, Trae, I really don’t,” I said, and that’s when I started bawling. I couldn’t keep my emotions tight.

“The basketball teams are up!” I exclaimed. “Whoever wins this match, has the opportunity to participate in the District Championship Tournament.”

“Bro, it’s okay. If you want, I can tell your teachers about Leo, and they can keep a close eye on him.”

“Well, then why are you shocked?” Leo asked from beside me. Still, his eyes glued to the magazine. “We have to go against each other for the match!” “Wait, what?” Leo was astonished. He dropped Slam and studied the bulletin board, all at the same time. He carefully looked at the sheet of paper, like it is a b-ball game live on TV. “You’ve got to be kidding me, man! I don’t want our names on two different columns!” “Well, we are both evenly good, perhaps that’s why they separated us?” I suggested, trying to cool Leo’s temper. “Yeah, maybe. But I don’t want a paper to divide us? What if my team wins and your team fails? How do we sort this out?” “Wait, hang on,” I replied, glancing away from the bulletin board and looked straight at Leo. “How do you know your team is going to win? My team has good players, like Sam, Josh, and Nick.” “Well, my team has Jackson, perhaps the world’s best point guard for his age!” Leo bickered back. “He’s just one guy, and plus he isn’t any better than Brooklyn!” I said, pointing to the list. “Oh come on, you seriously don’t think Brooklyn is better than Jackson?” He demanded. “Okay, look. Just because Brooklyn is a girl, doesn’t mean she isn’t as good as boys!” I attacked back. “That’s offensive!” “I just think she isn’t as good as Jackson, not because I’m rude to girls!” Leo defended himself. “You know what? I don’t care. I am positive that I will lead my team to victory, and my team and I will go to the District Championship Tournament!” I shouted. “I can’t wait to see you be skeptical after the game!” “Oh, let’s see who’s going to be jealous, all right,” Leo said, as he pushed me into a locker, and walked away. “So long sucker,” I muttered as I headed for the first period of the day. —————————————————————————— “How was school?” my elder-brother Trae asked me as soon as I reached home. “Cut it out Trae, I’m not in the mood,” I muttered, and I went upstairs into my bedroom, slammed my door shut, and jumped onto my bed. door.

“Can I come in?” Trae asked from the other side of my

“Fine,” I responded. I wasn’t sure to spill what happened at school to Trae, but he got so annoying sometimes. “So what happened today at school?” my brother asked. “Is everything alright? It doesn’t seem alright.” I told him all of what happened on the 2nd floor of the school. I told him how we were talking all fine, and then Leo www.batj.org

“Look Trae, I don’t want to get him in trouble, he’s my friend.” “A friend doesn’t push people, Junior. I know that school, okay? The teachers knew me for my basketball skills as well. If it’s been a difficulty, tell me, okay?” “How do I fix this? What would you do if you’re in my shoes?” “If I were in your shoes, I would probably work very hard to win the match, to prove your man Leo wrong. He should be real apologetic then.” I had always admired Trae. He had eternally been, my mentor. He was currently a small forward for the Gonzaga Bulldogs in the NCAA League and is recognized to be the next best player. But that’s not my reason for why I kept Trae as a mentor. I followed him as a mentor because he was really kind to everyone. That was when I decided that I will try to beat Leo in the match. —————————————————————————— The next day, when I went to school, all of the guys were staring at either Leo or me the whole day. Some of the guys at school came over and spoke with me and about what happened yesterday. Apparently, Leo told everyone he could talk to about the argument, and he called it the ‘Basketball War.’ “Dude, what do you wanna do?” one of my teammates, Sam, came over to me in the hallway when I was putting all of my stuff away for lunch. “Yeah, what do you want to do?” another guy on my team, Nick, came over standing on the opposite side of me. Slowly and slowly, all 12 of my teammates gathered around me and started to ask questions. “How about this? What if I called y’all over to my house, and we can talk about basketball then? I’m not in the mood right now.” Everyone else went with the plan, and I felt relieved. That’s when I saw Leo walking down the hall. He looked so different. Yesterday, Leo was just wearing an Adidas tee with shorts and some old sneakers, but today, he really changed his looks. He was wearing Migos merch, top to bottom. He doesn’t even like rap songs, and now he started to wear rap artists’ merch? And what I didn’t notice at first was who he was with. All around him were popular guys in my grade, and they were also wearing matching uniforms. “Leo bribed us with those outfits in exchange for purposefully losing the match,” a guy on my team spoke up. I looked at him in confusion. I couldn’t believe my ears. Leo was playing bribe with my teammates? This kind of stuff deserved punishment. “Hello there, loser, how are your feelings? Keeping up with daily news?” Leo came over. “Just shut it, Leo,” I replied. “You started the whole thing, and you’re making it worse.”

Durga Puja 2019

67


Basketball War “That’s kind of my job now, Junior. How are your parents? They must’ve been exhausted last night hearing you complain,” Leo sneered. All of his ‘friends’ started to laugh at his ‘hilarious’ joke. “Just cut it out, I’m not in the mood,” “Looks like someone is going to go home crying again,” Leo attacked, and again, his ‘friends’ started cracking up. “See you later, cry baby,” Leo said, and he walked away with his friends. “Don’t let him get to you, Junior, we will definitely win,” a teammate told me. “Yeah, no problem. We gon’ win this one!” said another. “Yeah,” I said, and I turned around to look at every one. I was motivated. “We are gonna win this match.” —————————————————————————— Later that day, I gathered all 12 of us on our school basketball court after school. “Are you ready to prepare for the match?” I asked everyone. They all nodded in unison. I led them the way to my house. Our house was enormous now, thanks to the money my bro Trae gave our family. We used to live in a small apartment down on Thompson Avenue, but now, that upgraded to a large house with a mini pool and basketball court. Not only was it right for the family, but it was good for me too. We had a mini-movie hall that could fit about 15 people, the perfect use for watching some basketball videos that might help us in the match with my teammates. So that was what we did first. We first looked at professional NBA videos and focused on what skills we could use to win. Then we looked for videos with Leo in it, so we could focus on how to get through his techniques. Then we looked at videos with my brother Trae playing basketball with his college team, the Gonzaga Bulldogs. Just then, my brother came into the room. “How y’all doing? Wanna hear some tips, and play outside in our court?” And due to events, we went out to our basketball court where Trae coached our team collaboration and skills. We all voted for him to be our coach for the team, and since it was his summer break, he automatically said “yes”. Every day after that, we gathered at my house, and Trae coached us for a win. We worked for about 2 hours out and then we went indoors to just get to know each other for about 30 minutes. “It’s gon’ be useful for passing about during your match,” he said to all of us. “The worst thing you want to do during your match is to miss a pass.” Trae showed us 3 pointers, he showed us alley-oops, and he even showed us how to dunk. Since our school had a regulation backboard, it was hard for us to dunk on the board. And after a few hours we were all able to dunk. Trae also taught us about formations, and he shaped us into the offensive ‘Run & Gun.’ “Everyone, keep calm,” Trae told everyone in my team. “They’re going to lose, and we are going to win.” —————————————————————————— Days passed, and soon, the match date came. My team and I went into the court to practice for the last time when I saw Leo and his team wearing the exact same matching uniforms from the previous time and were already passing the ball around. “Well hello, Leo, fancy meeting you here at this early time,” I spoke to Leo as my teammates stood beside me. “Majority are saying that my team will win, huh,” Leo attacked back. “I don’t know why. It’s maybe because we have 68

all the best players!” Leo’s like a snake, he slithers until he reached the climax and then BAM! Attacked in the speed of light. He used to be like an elephant; strong, but unharmful. “Just shut your mouth, loser,” one of my teammates came up to him. “There’s no way you’ll be winning this game.” “Hey guys, enough trash talk, now let’s get real serious and follow me!” Trae came out and guided us to our side of the gym. All of the guys on Leo’s team looked shocked. They were shocked that we had a professional and they didn’t. “Everyone, gather round!” Trae called us over. “I was able to get you guys some Gonzaga jerseys and Air Jordans for free from my college, and I want y’all to wear it and play the game,” he continued as he gave out the jerseys and the shoes off to everyone. “You guys got this. Just remember all your training, and I have a 100 percent guarantee that you will win. “Both teams, please come out onto the court!” A referee came onto the gym and gathered us all for the game. We all quickly wore the jersey and Jordans and went onto the court. There was a lot of support for Leo’s team, whereas there were only a few for us. But, it didn’t matter; we were going to take them down. We started off with Nick, Sam, Josh, Brooklyn, and me. Leo’s team started off with Ben, Jackson, James, Rahul, and Leo. The ref decided that Leo’s Team start first, and the battle started. Leo passed it onto Jackson, and he made a 3 pointer. 3-0. I passed the ball into the court, Sam got it, gave it onto Nick, and Nick did an alley-oop. 2-3. The crowd roared. Leo looked astonished as to what we had done. We went on and on like this, till the score was 16-21. The buzzer went, and that was our 1st quarter. After a 5 minute break, the ref called us in and the 2nd quarter started. That’s when I thought to try some new skills. Brooklyn passed me the ball, and I made a fadeaway shot, which brought us up to 18-21. We gave the other team a contested chance, which brought us down to 18-23. “Keep guarding!” we all heard Trae yell from out of the court. We kept that in mind, and we played. I made 2 more lay-ups after that, and my fellow teammates were guarding the ball very well. This led to 29-30. And just then, the buzzer went. That was our first half. “Come on in!” Trae yelled, and we ran as fast as we could. We had only 15 minutes until the next 2 quarters started, and we didn’t want to waste time here. “I’mma move you all around. Nick, you’ve been doing a fantastic job, so you can take a little break. Junior will take Nick’s place, and we gon’ add Michael to Junior’s place.” He kept blabbering about team formations, focusing, and other stuff, and I became distracted. I looked over to the other team. It looked like they were having a lot of fun. They were sipping root beer from these cans and were watching a video on Leo’s phone. I wanted to win so bad. It seemed like there was nothing between us before. “All players, please come over to the court; we will be starting the 3rd quarter,” the ref announced from his mike, and we all got up to move. I knew what I was going to do. If he was going to show-off and flex-off, I am going to too. We started with the ball, and I passed the ball into the court. Michael received the ball, passed it onto Brooklyn and she made a contested shot. We were making progress. Leo’s team were having a little trouble with focusing. They kept missing shots, failed to get rebounds, and they couldn’t even pass it correctly to each other. That was how the 3rd quarter ended. That’s when we started to use our weapon for the last quarter: The ‘Run & Gun.’ We shot and shot, even if we missed

Anjali

www.batj.org


we got the rebound. This made us lead the game. The score became 43-33. Leo’s team only got 3 points. Leo missed a layup, and Brooklyn passed the ball to me. I ran for more than half a court and that was when I saw the clock, 3 more seconds. I decided to do the one thing that would make everyone freak out. I dunked. The buzzer buzzed, and that was it for the game. We won the basketball war. Leo came over to me and started crying. “I’m very sorry,

Junior, I shouldn’t have acted like that.” “It’s fine, I feel way better now,” I said as I looked at my team. They seemed pretty satisfied. “Are we friends?” he asked me. “Yeah, we’re friends.” And just like that, Leo surrendered and the basketball war ended. 

Change is the only Constant - Akanksha Mukherjee, Grade IX

Life changes with every passing moment. Day turns into night, summer changes to winter, children turn into adults, and our friends turn into our enemies. These are a few examples, but change could be much more profound than that. We cannot prevent these changes, no matter how hard we try. But what we can do is to accept them. This will make our life much easier. Let me tell you about my personal experience with change, and how I dealt with it. The summer of 2017 wasn’t just any normal summer. Two significant changes occurred in my life. I joined K. International School Tokyo, which was much more academic and difficult to cope with. At the same time, my brother moved to Canada for his college. Since my birth, he was always there by my side, to encourage me and support me. His departure created an emptiness in my heart- a void that couldn’t be filled by something else. I never imagined a life without my brother, but did I have a choice? Eventually I learned to be contented with what I still had, which was a Skype chat with him every weekend. Once I came to terms with this reality, his separation became more endurable. But school, however, was a different proposition. Of course, adjusting to a new school is never easy. It means joining a new environment with new friends, new teachers, and a new curriculum. My new school was far more academically challenging compared to my previous one. Therefore, it took

www.batj.org

me a while to get used to the pressure. Another problem was making new friends. I felt isolated and alienated. I was lonely for days at a stretch, longing for my old school friends. But as the second year began, I started to feel more settled. My grades started improving, and the overall situation was more amicable. I would like to talk about another consequential change that happened this year. I have lived my entire life in one complex, which included my home, my friends, and the classes I attended. That was my whole world. This year, my parents decided to move to a new house. My first reaction was an absolute no. Although the new house had more advantages, and it was only 5 minutes away from the previous one, it wasn’t my home. I didn’t want to live in it. But gradually, I started to change my mind by focusing on the positive sides of moving to the new house. The house was smaller, but it had a cozy feeling. It fulfilled all our requirements. Now, looking back, I think that moving was the right decision. Nothing is constant in our life. Things change all the time. We have two choices- either we can embrace it or resist it. Accepting changes can help us develop many personal qualities, we develop resilience and adaptability. Changes sometimes bring new opportunities too. Change is like an adventure; on one hand, it can be exciting, and on the other, risky. It is normal to be scared of changes, but we need to overcome our fear and be open to new possibilities. 

Durga Puja 2019

69


Vroom Vroom - Shreyansh Kar 3yrs

Modern Art - Aahan Mitra 3yrs

Little Mousy Hiding from Kitty Cat - Sasha Kar 4yrs 70

Balancing - Soham Kundu Grade I Anjali


My Flying Car - Aditi Misra Grade II

Moo Moo Cow - Advika Ghosh Grade II

Rios Drawing - Rupak Pal Grade V Durga Puja 2019

71


Bhowken Banana - Kenta Bhowmik (Sumit) HS-II

Buddha Painting - Ayana Roy Nandi Grade V

Flying Bird - Alok Misra Grade III

Anjali

www.batj.org


Sarva Mantra Swaroop Vate - Aaryan Sharma Grade X

Agomoni - Souhardya Kar 11yrs

Hari Bol - Kavya Sharma Grade XII

Durga Puja 2019

73


Photography

Anjali

Divine by Sumana Kar

Morning Glory by Sudeb Chattopadhyay


Floating Mountains by Sanjib Chanda

Sunset at Mt.Fuji by Pamela Maiti

yhpargotohP

75


Aurik son of Sumana and Arnash Gupta

Rutvik son of Sudipta and Rahul Bhawal

Aman, son of Malika and Anomitra Roy Chowdhury

www.batj.org


s t r

A

Blossom (acrylic painting ) - Sanchita Ghosh

Anjali

Before Sunset - Debkanya Sengupta


Reminiscences - Mimi Banerjee

The Landscape: Somewhere in a Countryside (Poster Color) - Rituparna Misra


Inner Rhythm of Life and Nature of its Expression, Lord Shiva - Rumpa Pal

Rose ( Nihonga on Ginpaku) - Meeta Chanda


শ্রদ্ধাঞ্জলি

স্বর্গীয় জ্যোতির্ময় রায় প্রয়াণ ২৭শে জুলাই, ২০১৯

প্রয়াত জ্যোতির্ময় রায় (আমাদের সকলের প্রিয় জ্যোতির্ময়দা) একটি ভারতীয় বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের জাপানি শাখার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে প্রথমে ক�োবে এবং তারপরে ট�োকিওতে সস্ত্রীক দীর্ঘকাল বসবাস করেন। স্ত্রী সীতা রায়ের (আমাদের সীতাদি) অসু স্থতার জন্য ২০০২ সাল নাগাদ ভারতে ফিরে যান। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার জ্যোতির্ময়দা ছিলেন একজন সংস্কৃ তিমনস্ক মানু ষ এবং নানারকম বিরল গুণের অধিকারী। Bird watching এবং ছবি আঁকা ছিল তাঁর অন্যতম শখ। এছাড়া লিখতেন অসাধারণ কবিতা ও গল্প। ভারতে ফিরে গিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন স্ত্রী সীতাদির শিল্পকর্মকে বৃ হত্তর ক্ষেত্রে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার কাজে। ২০০৭ সালে সীতাদির মৃত্যুর পর শুরু হয় তাঁর নিঃসঙ্গ জীবন। তবুও তিনি কর্তব্যে বিরত থাকেননি। জাপানে এসে সীতাদির ছবির প্রদর্শনী করে গিয়েছেন। নিজের চিগিরি আর্টের প্রদর্শনীও করে গিয়েছেন জাপানে। বার�ো বছরের নিঃসঙ্গ জীবন কাটিয়ে এই বছর জুলাই মাসের ২৭ তারিখে জ্যোতির্ময়দা চলে গেলেন অমৃতধামে তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী সীতাদির কাছে।

80

Anjali

www.batj.org


ফিরে দেখা

www.batj.org

Durga Puja 2019

81


জ্যোতির্ময়দাকে স্মরণ ক   নিজের কি ভাল�ো লাগে সব সময় আমি সেটা খুব ভাল�ো করে গুছিয়ে ভাবতে পারি তা নয়। কিন্তু অনেক সময় অন্য কাউকে দেখে আমার ভাল�ো লাগার দিকগুল�ো কি, তার যেন কিছু হদিশ খুঁজে পাই। কারণ তাঁদের জীবনে সেইসব দিকগুলির সার্থক এবং পূ র্ণ প্রকাশ দেখতে পাই। জ্যোতির্ময়দা (প্রয়াত জ্যোতির্ময় রায়) আমার কাছে ছিলেন তেমনি এক শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। প্রথম আলাপের সময় থেকেই তাঁর প্রতি জন্মেছে স্বাভাবিক শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রম। যে ক�োন বিষয়ে তাঁর গভীর আগ্রহ, অনু ভূতিপ্রবণ যু ক্তিবাদী মন, এবং সহজাত শিল্পীর দৃ ষ্টিভঙ্গীসহ বহুমাত্রিক প্রতিভা আমাকে বিস্মিত করেছে। যখনই ওনার সান্নিধ্যে এসেছি, তখনই দেখেছি উৎকর্ষতা কাকে বলে তার বিরল দৃ ষ্টান্ত। গাম্ভীর্যের অন্তরালে ছিল তাঁর অগ্রজসু লভ এক স্নেহ, মায়া মমতায় ভরা মন যার আনু কূল্যে আমি ধন্য। ওনার সাথে আলাপের প্রথমদিকে আমাদের কাছে কিছু টা বেশি প্রাধান্য পেয়েছিলেন সীতাদি, (জ্যোতির্ময়দার প্রয়াত স্ত্রী) যার বিভিন্ন গুণাবলীর কথা আমরা আগে থেকেই অবগত ছিলাম। সীতাদি, কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকায় জাপান সম্পর্কে লেখালেখি করতেন, খুব ভাল�ো ছবি আকতেন, এইসব কথা ওঁদের সাথে পরিচয়ের আগে থেকেই জানা ছিল আমাদের। যা জানা ছিল না তা হ�োল সীতাদির সাফল্যের পিছনে জ্যোতির্ময়দার কি অসাধারণ অবদান। সীতাদির প্রতিটি সৃ ষ্টি জ্যোতির্ময়দার পূ র্ণ সহয�োগিতায় পেয়েছে এক নতুন মাত্রা। বিভিন্ন সময়ে সীতাদির আঁকা ছবির ভাবের যে ব্যাখ্যা জ্যোতির্ময়দার কাছ থেকে শুনেছি তাতে এই প্রত্যয় দৃ ঢ় হয়েছে যে জ্যোতির্ময়দাও সমমানের শিল্পী ছিলেন। অত্যন্ত ঘর�োয়া পরিবেশে জ্যোতির্ময়দার কাছে গল্প শুনেছি পৃ থিবীর দূ র প্রান্ত থেকে উড়ে আসা যাযাবর পাখীদের দেখার অভিজ্ঞতা। মনে পড়ে যায় কি অসাধারণ বর্ণনা দিয়েছিলেন অঞ্জলিতে পাঠান�ো Cheering Up শির�োনামের এক ছবিতে। আলাদা করে বু ঝিয়েছিলেন ছবিটির ব্যাখ্যা...... Here the theme is that the Flying Birds are Migratory Ducks water birds that fly for nesting and breeding  from  ice cold Siberia to  warmer Lakes at southern hemisphere where weather is warm, plenty of food is available and ambience is suitable for raising their chicks. The Flowers down below are cheering them up on their long distance flight across land and sea.

মনে পড়ে ২০১৫ সালের অঞ্জলিতে এমনই আর�ো একটি ছবি দিয়েছিলেন Tagore and Cormorant এই শির�োনামে। আলাদা করে ছবিটির ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন This painting depicts Tagore’s love

for the tranquility of nature. Cormorant at a little distance is   seen worshipping Tagore leaving aside its avian instinct  for preying fish in such a calm and quiet morning when the sun is about to rise. All around the landscape there is a distinct mood of serenity and peace. 

যতবার এই ব্যাখ্যাটি পড়ে ছবিটির দিকে তাকিয়েছি ততবারই মনের মধ্যে এক অনির্বচনীয় অনু ভূতির সৃ ষ্টি হয়েছে। নিয়মিত ভাবে গল্প, কবিতা এবং ছবি দিয়ে অঞ্জলিকে সমৃ দ্ধ করেছেন। ছ�োটদের এবং বড়দের জন্য অতি উন্নত মানের গল্পও লিখেছেন অঞ্জলিতে। এসব ছাড়াও লিখেছেন অনবদ্য কবিতা। ২০০৭ সালে সীতাদির মৃ ত্যুর পর যখন নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছেন তখন প্রাণাধিকা প্রিয় স্ত্রীর উদ্দেশ্যে লিখেছেন...

82

- রঞ্জন ঘুম ভেঙ্গে গিয়ে

সকালের জানালায় ত�োমাকে অনেক দূ রে রেখে সঙ্গীহীন সময়ের টিয়ে উড়ে গেছে। এই সব দেখে ক্লান্ত লাগে। এখনি ব�োধহয় দু বলাবেরার ওই জলের বিস্তারে রাত শেষ হয়, ডানা ঝাপটিয়ে বুন�ো হাঁস ওড়ে, ঘন নীল সবুজের ছাপান�ো পাহাড়ে শাল আর মহুয়ার বন জলের আয়নায় স্থির হয়ে থাকে।।

নিঃসঙ্গ জীবনের প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর ভগ্নহৃদয়ে আবার উঠে দাঁড়ান জ্যোতির্ময়দা তাঁর অসমাপ্ত কাজ শেষ করার তাগিদে। হাতে নেন কঠিন প্রকল্প। দিল্লী থেকে সীতাদির আঁকা বিভিন্ন ছবি নিয়ে এসে ট�োকিওর ভারতীয় দূ তাবাসে ছবির প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন, যে অনু ষ্ঠানে উন্মোচন করা হয় সীতাদির লেখা “জাপান দেশে আমার ঘরে” পুস্তিকাটি। অমানু ষিক পরিশ্রম করেন একটি অতি উন্নতমানের অনু ষ্ঠান আয়�োজনে। সীতাদির প্রকল্পটি সফল ভাবে শেষ করার পর নিজে শুরু করেন চিগিরি আর্ট, যা বিভিন্ন কাগজ কেটে বানান�ো হয়। পরবর্তী প্রকল্প নিজের সৃ ষ্টি চিগিরি আর্টের প্রদর্শনী। তাও সম্পন্ন হ�োল অত্যন্ত সাফল্যের সাথে। সব কাজ যখন ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ হ�োল�ো, তখন বেজে উঠেছে ছু টির ঘন্টা। দীর্ঘ বার�ো বছর নিঃসঙ্গ জীবন যাপনের পর আবার প্রিয়তমা স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে পাড়ি দিলেন অমৃ তল�োকে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে গেলেন এক সার্থক ও পরিপূ র্ণ জীবনের দৃ ষ্টান্ত। আমার পড়ার টেবিলের পাশে সযত্নে রাখা রয়েছে জ্যোতির্ময়দার দেওয়া একটি মূ ল্যবান উপহার। ওনার নিজের হাতে আঁকা একটি ছবি। গাছের ডালে বসে থাকা একটা নিঃসঙ্গ পাখী। অপলক দৃ ষ্টিতে তাকিয়ে থাকলে মনে হয় ডানা ঝাপটিয়ে পাখীটা ক�োথায় চলে গেল নিঃসঙ্গতার বেড়াজাল থেকে মুক্তির পথে বিস্তৃত দিগন্তের দিকে। উঠে গিয়ে দেখে আসি ছাদে রাখা ফার্ন গাছটাকে। প্রচণ্ড ঝড় বৃ ষ্টি সত্বেও যেন আরও সতেজ হয়ে উঠেছে গাছটা। জ্যোতির্ময়দা ও সীতাদির দেওয়া গাছটা তাঁদের বহু স্মৃতি বিজড়িত আর এক মূ ল্যবান উপহার।

Anjali

জ্যোতির্ময়দাকে জানাই আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম। তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।।

www.batj.org


সমু খে শান্তি পারাব   দু পুর নাগদ খবরটা পেলাম। জ্যোতির্ময়দা চলে গেলেন। বয়স এগিয়ে গেলে এই ধরনের খবর আসবে, এ কথা মন মেনে নেয়। তবু মনে হল এত তাড়াতাড়ি, এত পর পর কেন হারিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। করবীদি, মঞ্জুলিকাদি, এবার জ্যোতির্ময়দাও তাঁদের সঙ্গে যু ক্ত হলেন। জ্যোতির্ময়দার সঙ্গে পরিচয় ট�োকিও শহরে। প্রায় সাড়ে নয় বছর ছিলাম ট�োকিওতে। তার অনেকটা সময় জ্যোতির্ময়দার সাহচর্য আমরা পেয়েছি এই শহরে। অনেক গুণসম্পন্ন, রাশভারী, গুরুগম্ভীর মানু ষ। অতএব জ্যোতির্ময়দাকে সম্ভ্রম করে চলতাম। বলতে দ্বিধা নেই যে বেশ ভয় পেতাম। একটি ঘটনা মনে পড়ে যাচ্ছে যা আমার এই ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছিল। তখন ওতা কু’তে থাকি। জ্যোতর্ময়দাও একই অঞ্চলে থাকতেন। দূ র্গা পূ জার অনু ষ্ঠানের জন্য গানের সিডি’র কয়েকটি কপি করে দিতে বলেছিলেন। যথাসময়ে সিডি পৌঁছে দিতে গেছি। অবাক হয়ে গেলাম তাঁর আতীথেয়তা দেখে। দু তিন রকম রান্না করে রেখেছেন আমার জন্য। আমার মেয়ের তখন তিন-চার বছর বয়েস। তার জন্য আইসক্রিম, চক�োলেট টেবিলে মজুত। কত সহজভাবে গল্প করলেন। পরিবারের সকলে কেমন আছেন, কাজ কেমন চলছে, ভারতবর্ষের রাজনীতি ইত্যাদি কত গল্প। খুব সু ন্দর সময় কাটল�ো। নিজেই আশ্চর্য হলাম। অবাক হয়ে ভাবলাম এতটা সময় আমি জ্যোতির্ময়দার সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি? তাঁর স্নেহময় চরিত্র সম্পর্কে এক অন্য উপলব্ধি নিয়ে বাড়ী ফিরলাম। পয়লা বৈশাখের পর রীতাদি শ্যামলদার ইয়�োক�োহামার বাড়ীতে রবিবার দু পুরে নিমন্ত্রণ। সে সময় আমরা ট�োকিওতে থাকতাম। ভারতীয় বাঙ্গালীর সংখ্যা তখন অল্প। যে ক�োন�ো নিমন্ত্রণ বা অনু ষ্ঠানে তাই সকলে একসঙ্গে উপস্থিত থাকতাম। সেবার রীতাদি নিমন্ত্রণের বিশেষ আকর্ষণ রেখেছিলেন বড় বড় চিংড়ি মাছ। অসংখ্য চিংড়ি ও দারুণ রান্না। অলর্ক ও তথাগত (এখন টর�োন্টো-কানাডা বাসী) প্রতিয�োগিতা করে চিংড়ি খেয়েছিল। একদমে অগুনতি চিংড়ি খেয়ে দু ’জনেই শারীরিক ভাবে বিপর্যস্ত। শ্যামলদার স�োফায় দু জনেই শুয়ে পড়েছে। খুব হাসি আর হৈ হৈ চলছে এই নিয়ে। গ�ৌতমদা, পুলকদা অনেক মজার চুটকি শ�োনাচ্ছেন ও সবাই উপভ�োগ করছি। জ্যোতির্ময়দাকে দেখেছি খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে

www.batj.org

- সৌগতা মল্লি

কি ভীষণ সংযম আর কিরকম নিয়ম মেনে চলতেন। কিন্তু এই সু ন্দর পরিবেশ জ্যোতির্ময়দাও উপভ�োগ করেছিলেন। সেদিন তাঁর একটি নতুন রূপ আবিষ্কার করেছিলাম। অনেক দেরি পর্যন্ত ছিলেন যতক্ষণ না তারা সু স্থ ব�োধ করছে। জ্যোতির্ময়দার অনু র�োধে রুমাদির কণ্ঠে অভাবনীয় আবৃ ত্তি দিয়ে দিন শেষ হয়েছিল। ভারতবর্ষের সূ ত্র ধরে জ্যোতির্ময়দার সঙ্গে সংয�োগ বহু বছর ছিল। আমার পরিবারবর্গ মূ লত দিল্লী ও রাঁচী প্রবাসী। জ্যোতির্ময়দা ট�োকিওর পরে দিল্লীতে বসবাস করতেন। রাঁচী যাতায়াত করতেন আত্মীয় পরিজনের কাছে। তাই ভারতবর্ষে গেলে একাধিকবার জ্যোতির্ময়দার সঙ্গে য�োগায�োগ হয়েছে। ভাল লাগত�ো তাঁর অবসর জীবনের রুটিন দেখে। প্রাতঃভ্রমণ থেকে শুরু করে অঙ্কন শিল্পের মধ্য দিয়ে নিজেকে শান্ত ও ব্যস্ত রাখতেন। জ্যোতির্ময়দার সঙ্গে শেষ সাক্ষাত গতবছর ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে, তাঁর দিল্লীর বাড়ীতে। শারীরিক দু র্বলতা চ�োখে পড়েছিল। তবু ও যথেষ্ট উৎসাহ নিয়ে গল্প করেছিলেন। ট�োকিওর অনেক স্মৃতি র�োমন্থন করেছিলেন। ক�োবে শহরও ছিল আল�োচনায় বহুবার। অনেকটা সময় কাটিয়ে সু ন্দর অনু ভূতি নিয়ে বাড়ী এসেছিলাম। যখন ক�োন�ো প্রিয়জন বা পরিচিতজনের মৃ ত্যুর খবর আসে, তা বেদনা দেয়। মনে হয় যেন হঠাৎ অনেক কিছু হারিয়ে গেল। জ্যোতির্ময়দার কথা লিখতে গিয়ে এক নতুন উপলব্ধি হল। মৃ ত্যুতে চ�োখের সমুখে সেই মানু ষকে আর দেখতে পাওয়া যায় না। কিন্তু সেই প্রিয়জনের সান্নিধ্য, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও বিশেষ বিশেষ মুহূর্তের স্মৃতি ত�ো হারিয়ে যায় না। তা না হলে এতদিন পরে এত কথা, এত ঘটনা কি করে একসঙ্গে মনের মধ্যে ভিড় করল�ো। সরাসরি দেখতে না পাওয়ার দু ঃখ থাকবেই। তবে তার সঙ্গেও থাকে সেই সব মধু র স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা যা নিজের জন্যে এক অমূ ল্য উপহার। যেমন তাদের উপস্থিতি একদিন আনন্দ দিয়েছিল, আজ তাদের অনু পস্থিতি তেমনি অনু প্রাণিত করছে আমাদের আগামী সু ন্দরতর দিনের আশায়। ব�োধহয় সেইজন্যেই আজও হারাইনি আমাদের প্রিয় বন্ধু বাবলী ও ভ�োলাদাকে, শ্রদ্ধেয় করবীদি, মঞ্জুলিকাদি ও জ্যোতির্ময়দাকে।

Durga Puja 2019

83


Jyotirmoy da - Rita Kar As far as I can remember, it was towards the end of 1989 or early 1990, we got a phone call from Jyotirmoy da, “Ami Jyotirmoy Ray bolchi”. He introduced himself as B.E College alumni, representing M.N.Dastur here in Japan. He said he had received our contact details from an acquaintance  in Kolkata and said to Syamal I am your “Dada” in the right of being your senior at college. Jyotirmoy da and Sita di had already been living in Japan, already for quite a few years in Kansai and had just moved to Tokyo. He invited our family along with Manas and Sushmita Sen’s to their home in Gyotoku.We spent a very pleasant afternoon with him and Sita di and both of them came to see us off at the station. And that is how began a memorable relationship with Jyotirmoyda and Sita di. They moved to Magome after a couple of years and opened up their house for addas with lunch or dinner, rehearsals or meetings, they being the perfect hosts.    Witty and with a great sense of humor, never failing to voice his opinions clearly, Jyotirmoyda spoke softly and laughed a hearty low volume laugh. Never was he dressed casually, always well groomed and a cap on his head. He was very regimented about his diet and chose to be very meticulous about following his daily routine. Punctuality and Jyotirmoy da went hand in hand.  Jyotirmoy da was very knowledgeable and his interests were manifold. Apart from his professional work he was a very

good artist, had great appreciation of Western Classical music a food connoisseur and knew a lot about beverages. Another hobby that he truly enjoyed was, bird watching. He started learning Yoga at a later age from Hanari San and ardently practised it. After Sita di’s demise, he became interested in the Japanese art of Chigiri-e and perfected it to the point that he held solo exhibitions in Kobe and New Delhi. Jyotirmoy da silently sketched and surprised us with his sketches, here’s one 84

that he did of me at our house during a rehearsal. Jyotirmoy da and Sita di had met while they were both studying art. We all knew Sita di as an artist and her paintings adorned the walls of their house. Jyotirmoy da’s artworks, which were quite remarkable, were also there but hung in silent corners. Probably his love for Sita di and his admiration of her work never made him take the center stage. Although Sita di had held a couple of art exhibitions in Tokyo, after Sita di passed away Jyotirmoy da left no stone unturned to release Sita di’s book in Tokyo and hold an exhibition of Sita di’s paintings posthumously. Incidentally, this was the first event at the Indian Embassy’s newly constructed Vivekananda Culture Center in Tokyo. Putting in a few lines from a long message that we hold very dear to us, that he sent to us after the exhibition -  “Back to pavillion on Nov 30 morning. My mind is filled with memories of the days in Tokyo. One of the most pleasant one is the day I spent with you and Rita. Events of Oct 30 brought us together many times reminding me of the invaluable contributions you two made in making the event a successful one. I appreciate your liaison with the Embassy and securing so

Anjali

www.batj.org


much help from them. Organizing the opening songs for the program and making all the arrangements for inauguration of Sita’s paintings, done by Rita, was excellent. Of course not to mention about your whole hearted encouragement for taking up the project and initiative to make it a success. Looking back to the execution of the events, I really have a great feeling of satisfaction.”  Poolak Banerji and his wife Papiya, from Singapore writes, “We met Jyortirmoy-da when we moved to Japan in 1997. Few common things among us – both were from BE College and both worked for Dasturco (he was still in Dasturco Japan). He was dada to everyone though he was a fatherly figure. What a wonderful couple he and Sita-di were – full of life and energy. Although much senior to me in BE College scale he never made us feel that way, his subtle humour and sincerity made him a default guardian to many people, surely to my family.” Raja Ghosh, from USA says “From outside he (Jyotirmoy da) looked very serious and intimidating but once you got closer to him you would realize he was very affectionate.”  Sanjib and Meeta Chanda also have a similar story to share about receiving their share of love and affection from Jyotirmoy da and Sita di. As they recall, “Jyotirmoyda used to call me Sensei as I introduced digital camera to him. We went together to shops in Akihabara to buy a digital camera. Then I went to their house where I explained and demonstrated Jyotirmoy da how to take pictures of Sita di’s art and to save on a computer, Sita di cooked delicious meal for me.  Jyotirmoy da always reminded that Meeta very much resembled his mother. He stressed “Sotti Bolchi! Biswas hocche na? Album dekhate pari” (Really! You don’t believe? I can show you the album). Jyotirmoy da and Sita di will always remain in our hearts.” Anirvan Mukherjee portrays Jyotirmoy da in almost the same lines - “In my limited interactions with Jyotirmoy da - I found him to be a very meticulous person who was deeply caring as well.  Despite our age difference - he had the ability to connect & make me feel at ease.”  Jyotirmoy da, you had touched many hearts with your love and affection, we are fortunate to have known you and Sita di. 

www.batj.org

Durga Puja 2019

85


শ্রদ্ধাঞ্জলি

স্বর্গীয়া মঞ্জুলিকা হানারি (দাশগুপ্ত) প্রয়াণ ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯

প্রয়াত মঞ্জুলিকা হানারির (আমাদের সকলের প্রিয় মঞ্জুলিকাদি) শৈশব কেটেছে ভারতের বিভিন্ন শহরে এবং অবিভক্ত ভারতের করাচী ও সিন্ধ হায়দ্রাবাদ শহরে যা এখন পাকিস্তানের অন্তর্গত। স্বাধীনতার পর চলে আসেন প্রথমে দিল্লী এবং তার পর কলকাতায়। ১৯৬৪ সালে হানারি সানের (আনন্দদা) সাথে বিবাহের পর জাপানে বসবাস শুরু। একদিকে যেমন স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে সম্পূর্ণ জাপানি রীতিনীতিতে নিষ্ঠার সাথে সংসার করেছেন, তেমনি আবার মনপ্রাণ দিয়ে আজীবন বাঙলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চাতেও যু ক্ত থেকেছেন। দু ই সংস্কৃ তির মধ্যে এই অবাধ বিচরণ এক বিরল দৃ ষ্টান্ত। স্বামীর য�োগাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেও সাধ্যমত সাহায্য করেছেন। কাজের ফাঁকে লেখালেখি করা ছিল তাঁর একটি প্রিয় শখ। অঞ্জলির জন্মলগ্ন থেকে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তাঁর লেখা পাঠকদের আনন্দ দিয়েছে।

86

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2019

87


モンジュリカ追悼文 - 羽成 すなお こんにちは。 ぼくは羽成モンジュリカの息子、すなおと言います。 まず始めに、2月に葬儀に来ていただいた皆様、そして4月に母のために偲ぶ会を開いていただいたBATJの皆様に、心より感謝 申し上げます。 皆さまから、母との思い出をたくさん聞かせていただきました。ぼくの知らないようなことがたくさんあり、また、多くの人に愛されてい たことを知り、とても嬉しく思いました。 母はコルカタで父と結婚し、1964年の東京オリンピックの年に日本に来ました。当時はインド人が珍しかったようで、街でサインを 求められたこともあったようです(笑)。 若い頃はTVに出たり、インド料理を教える教室を開いたり、 日本に学校でインド文化を伝える講座をしたり、アクティブに 行動し、様々なことにトライして、楽しく過ごしていたようです。 一 方 で 3 人 の 子 供 を 育 て 、 父 の 仕 事 を 支 え 続 け ま し た 。 父 と 母 の 人 生 の 結 晶 と も い え る ヨ ーガ教室を、今は僕ら夫婦が継承しています。 母は80歳で他界しました。3年半前に父を亡くしてから寂 しかったと思います。あと10年は生きると思っていましたが、 いきなり体調を崩し、そのまま亡くなってしまいました。日本 ではヒンドゥ式の葬儀が出来ず、仏教式に葬儀を行うしかあ りませんでした。葬儀に来たインド人の皆様は戸惑われたか もしれません。でも母は生まれて死ぬまでヒンドゥ教だったの で、ヒンドゥ式に何か供養をした方が良いと思っていました。 生前、 「もし私が死んだらキレイなところに流して欲しい」と 母は言っていました。だからせめてガンガーの上流に 遺灰を流しに行こう考えました。父の遺灰も一緒に。

そういうわけで 8月8日〜16日までインドへ行きました。 目的の地はバドリナート。 そこでヒンドゥ式にセレモニーをすることにしました。 リシケシから車で計14時間(途中1泊)。いまの雨の季節はとて も危険な道のりで、土砂崩れがあれば道がふさがり、最悪、たど り着けないリスクもありました(10日前は土砂災害による死亡事故 もあり)。 そんななか、僕らが通る道はことごとく晴れ渡り、無事に到着し ました。違う時間では同じ道で豪雨や土砂崩れも起きていたよう で、ホントに幸運としか言いようがありませんでした。 そうしてバドリナートでセレモニーをしました。 儀式をしてくれたバラモンに、亡くなった人のことを思い出して祈るようにと何度も何度も言われました。その祈りのなかで、父母の 良い記憶がたくさん思い出され、感謝と敬意の気持ちにあふれました。 僕はこの8年間、父と母の病老死に深く関わりました。その期間はとても悲しく辛い思い出ばかりで、その思い出ばかりが父母の記 憶として、僕のなかに印象つけられていました。 しかし、その儀式の祈りのおかげで、父母のたくさんの良い思い出が強く思い出され、辛く悲しい記憶が流れて行きました。そして 晴れやかな気持ちで、アラクナンダー川に父母の遺灰を流すことが出来ました。 無事に、儀式を終え、目的を達成できて本当に良かったです。母に関わった皆様にも感謝の気持ちでいっぱいです。ありがとうご ざいました。 88

Anjali

www.batj.org


モンジュリカ追悼文 Hello. I am Sunao, son of Manjulika Hanari. I would like to express my heartfelt thanks to everyone who came to the funeral in February and to BATJ for arranging a memorial meeting for my mother in April, 2019. I heard about many memories of my mother from everyone. I was very happy to know that my mother was loved by so many people. My mother married my father in Kolkata and came to Japan in 1964, the year of the Tokyo Olympics. At that time, Indians in Japan were rare, and she was often approached by curious people to collect her signature (laughs). When she was young, she appeared on TV, started a class to teach Indian cuisine, gave a lecture on Indian culture at a school in Japan, and was actively engaged in many such activities. On the other hand, she raised three children and continued to support my father’s work. Now I have inherited the yoga school that was the fruit of my parents’ life-long effort My mother passed away at the age of 80. I think she was very lonely after she lost her husband three and a half years ago. I was hoping that she would live for another 10 years, but suddenly she fell sick and passed away. In Japan, Hindu style funeral was not possible, and there was no choice but to do the funeral in Buddhist style. Indians who came to her funeral may have been confused.  But my mother was a Hindu ever since she was born, so I thought it would be better to do something in the Hindu style.

www.batj.org

Before she died, she said, “When I die, I would like my ashes to be scattered in a beautiful place.” So, I thought that at least I should scatter my mother’s ashes into the Ganges. That is why I went to India from August 8-16, 2019. I decided to perform my mother’s last rites at Badrinath. The journey took 14 hours by car from Rishikesh (I stayed overnight at a place on the way). The rainy season made the roads very dangerous, and if there were a landslide, the road would have been closed, and there was a risk that the destination could not be reached (there was a fatal accident due to a landslide just 10 days ago). Even under such circumstances, the road we all went through was clear and we arrived safely. There were apparently heavy rains and landslides on the same road at different times previously, so I was lucky. I performed the last rites at Badrinath. The Monk, who helped me perform the ritual, told me over and over again to remember and pray for the person who died. In that prayer, I recalled many a good memories of my parents and remembered them with gratitude and respect. I have been deeply involved in the passing away of my father and mother during the past eight years. During that period, there were many sad and painful moments that remained engraved in my mind as memories of my parents. However, thanks to the ceremonial prayers, many good memories of my parents were fondly and intensely remembered, flushing away the painful and sad ones. With a refreshing feeling, I was able to scatter my parents’ ashes into the Alaknanda River. It was really nice to complete the ritual and achieve the purpose. I am grateful to everyone who had been involved with my mother. Thank you very much. 

Durga Puja 2019

89


লেখিকা মঞ্ জুলিকাদ   একটু সংক�োচ হলেও ফ�োনটা করতাম। হ্যাল�ো মঞ্জুলিকাদি, “কে কথা বলছ�ো? ও রুমা? কেমন আছ�ো? আমি ক’দিন ধরেই ভাবছি ত�োমার ফ�োন এল�ো বলে। এমনিতে ত�ো আর মঞ্জুলিকাদি’কে মনে পড়ে না”। জুন জুলাই মাসের ক�োন�ো এক দিন এরকম একটি টেলিফ�োন সংলাপ ছিল আমার আর মঞ্জুলিকাদির মধ্যে প্রতি বছরের নিয়মিত ব্যাপার। আমি টেলিফ�োন করতাম “অঞ্জলি” পত্রিকার জন্য লেখা দিতে অনু র�োধ জানিয়ে, কিছু টা স্বার্থপরের মতই কারণ অন্য সময়ে মঞ্জুলিকাদির কুশল জানতে চেয়ে ফ�োন আমার খুব কমই করা হ�োত। তাই তিনি সঙ্গত কারণেই অনু য�োগ করতেন। প্রতিবারই আমি ক্ষমা চেয়েছি, তারপর কিছু লেখার জন্য অনু র�োধ জানিয়েছি। তিনি কখন�ো নিরাশ করেননি । প্রতি বছরই অঞ্জলির পাঠকরা তাঁর কাছ থেকে উপহার পেয়েছে সাবলীল ভাষায় সু লিখিত গল্প প্রবন্ধ রম্যরচনা ইত্যাদি। মঞ্জুলিকাদির লেখাতে স্মৃতিচারণার প্রাধান্য লক্ষ্যনীয়। ভারী সু খপাঠ্য সেসব লেখা। কখন�ো নিজের ছ�োটবেলার কথা লিখেছেন, কখন�ো বিয়ের পর জাপানের শুরু হওয়া প্রবাস জীবন নিয়ে, আবার কখন�ো বিখ্যাত ক�োন�ো ব্যক্তিকে কাছ থেকে দেখে অনু প্রাণিত হওয়ার কথা, ইত্যাদি। লেখার গুণে সেসব রচনা মনে দাগ কেটে যায়। শৈশবে দেশভাগের সময় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে “বিস্মৃতির অতলে” নামক একটি প্রবন্ধ মঞ্জুলিকাদি লেখেন ২০১৫ সালের অঞ্জলিতে। একটি সু খী পরিবারের ওপর কিভাবে আকস্মিক অশান্তি ও অনিশ্চয়তার কাল�ো ছায়া নেমে এল�ো, সেই ছবিটি তাঁর লেখায় জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে। যতবার পড়েছি এই লেখাটিকে আমার একটি ঐতিহাসিক দলিলের মত মনে হয়েছে। লেখার মুন্সিয়ানা ছাড়া পাঠক-মনে এমন গভীর রেখাপাত করা কঠিন। অঞ্জলির জন্মলগ্ন থেকে শুরু ক’রে দীর্ঘ দু দশকের ওপর প্রায় প্রত্যেক সংখ্যাতেই লিখেছেন মঞ্জুলিকাদি। শেষ লেখা ২০১৮ সালে পুরন�ো বন্ধু করবী মুখার্জীর (আমাদের করবীদি) স্মৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। মঞ্জুলিকাদি নিজেও তখন খুব অসু স্থ। তবু প্রয়াত বন্ধুকে শেষবিদায় জানিয়েছেন তাঁকে নিয়ে বহু বছরের স্মৃতি লিপিবদ্ধ করে। এ কাজে মঞ্জুলিকাদিকে সাহায্য করেন তাঁর স্নেহধন্যা শুভা ক�োকুব�ো চক্রবর্তী। অঞ্জলিকে কেন্দ্র ক’রে মঞ্জুলিকাদির সাথে আমার যে য�োগায�োগ তাতে আমি অনায়াসেই বু ঝতে পেরেছিলাম তিনি লিখতে ভালবাসতেন, বিশেষ করে বাংলায়, কারণ তিনি বাংলা ভাষাটাকে ভীষণ ভালবাসতেন, যেমন ভালবাসতেন বাংলা সংস্কৃ তি। দীর্ঘদিনের প্রবাস জীবন, সর্বোপরি জাপানি বাড়ির বধূ হিসেবে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশের মধ্যে কাটিয়েও এই ভালবাসা তাঁর অটুট থেকেছে শেষ দিন অব্দি। একই সাথে তিনি জাপানি রীতিনীতি ও সংস্কৃ তির প্রতিও পূ র্ণ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন । দু টি ভিন্ন ধারার সংস্কৃ তিকে আত্মস্থ করে সমানভাবে ভালবেসে চর্চা ক’রে যাওয়ার এক অনু পম দৃ ষ্টান্ত মঞ্জুলিকাদি স্থাপন ক’রে গিয়েছেন। মঞ্জুলিকাদির লেখার মধ্যে তাঁকে আবার খুঁজে পাওয়ার আকাঙ্খায় একদিন আমার সংগ্রহে থাকা অঞ্জলির নতুন ও পুরন�ো সংখ্যাগুল�ো উল্টেপাল্টে দেখছিলাম। ১৯৯৭ সাল, অঞ্জলি তখন সবে হঁটি হাঁটি পা পা ক’রে চলতে শুরু করেছে, মঞ্জুলিকাদি সেবার লিখেছিলেন “বারান্দা বিলাস” নামের এক দীর্ঘ প্রবন্ধ। বারান্দা বা ছাদ কিভাবে তাঁকে আকৃষ্ট করত�ো, তা নিয়ে এক মন�োগ্রাহী রচনা। লেখায় যে ক�োন�ো জিনিস তিনি বর্ণনা করতে পারতেন খুব ভাল, তা সে প্রকৃতিই হ�োক বা মনের অনু ভূতি। প্রকৃতিকে চমৎকার নিরীক্ষণ করতে পারতেন । যা বলতে চান তা বু ঝিয়ে দেওয়ার জন্য উপযু ক্ত শব্দ চয়নের দারুণ ক্ষমতা ছিল, ছিল ভাষার ওপর

90

- রুমা গ

পূ র্ণ দখল যা না থাকলে প্রাকৃতিক দৃ শ্যাবলী বা মনের প্রতিক্রিয়ার অমন সু ন্দর বর্ণনা দেওয়া সম্ভব নয়। লক্ষ্য করেছি রচনার শির�োনামের ব্যপারেও তিনি ভাবনা চিন্তা করতেন অনেক, এবং মনমতন না হওয়া পর্যন্ত আপ�োস করতেন না । বেশ কয়েকবার এমনও হয়েছে লেখা টাইপ করার জন্য পাঠিয়ে দেওয়ার পরেও বার বার টেলিফ�োন ক’রে শির�োনাম বদলেছেন । অঞ্জলির এখনকার নিয়মিত পাঠকদের অনেকেরই হয়ত�ো ১৯৯৭ সালের সংখ্যাটি পড়ার সু য�োগ হয়নি। তাই ‘বারান্দা বিলাস’ থেকে কয়েক লাইন বেছে নিয়ে এখানে তুলে ধরছি, “ছ�োটবেলা থেকে আমি একটু শান্ত প্রকৃতির। গান বই আর লেখাপড়া, এই নিয়ে ছিল আমার নিজস্ব ছ�োট্ট জগত। তাকে গড়ে তুলতে নানাভাবে সাহায্য করেছে বারান্দা আর ছাদ। জাপানে আমাদের বাড়ীর বারান্দাটার একটা সু বিধে যে এটা পুর�োপুরি কংকৃটের তৈরি আর একটু ভিতরের দিকে কাত করা বলে সেখানে দাঁড়ালে রাস্তার ল�োকের চ�োখে পড়তে হয় না। নিরিবিলিতে কারুর দৃ ষ্টি আকর্ষণ না করে নিজস্ব সময়টুকু উপভ�োগ করা যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে সকাল হতে দেখাটা একটা অভিজ্ঞতা। খুব ভ�োরবেলা যখন সারা পাড়া নিস্তব্ধ, ঘুমে অচেতন, আকাশের এক ক�োনে পাণ্ডুর হাসি মুখে চাঁদ শুকতারাকে সঙ্গে নিয়ে বিদায় নেবার অপেক্ষায় কাল গুনছে, তখন সেই শান্ত সমাহিত ভাবের মধ্যে বারান্দায় এসে দাঁড়ালে পৃ থিবীটকে বড় সু ন্দর লাগে, ভাল�ো লাগে। জগতের সব সু খ, দু ঃখ, ব্যথা বেদনা ভুলে মনটা ডুবে যায় অন্য এক আনন্দে। দেখতে দেখতে একসময় সকাল হয়। সূ য্যি ঠাকুর বেরিয়ে আসেন চারিদিক আল�ো করে”। ২০০৮ সালে মঞ্জুলিকাদি লিখেছিলেন “আগুনের পরশমণি”। এটি একটি গল্প, যার শুরুটা করেছিলেন মনে রাখার মত এক বর্ণনা দিয়ে ---“বৃ ষ্টি! বৃ ষ্টি! বৃ ষ্টি! আজ ক’দিন ধরে অঝ�োর ধারায় ঝরে চলেছে ঝমঝমিয়ে। বলতে গেলে বিরামহীন। যেন পণ করেছে সারা বিশ্ব সংসার ভাসিয়ে দিয়ে তবেই থামবে। কত জল আরও জমে আছে ঐ মেঘের বু কে! এ কি শুধু ই বৃ ষ্টি, নাকি কারুর সব হারান�োর হাহাকার ব্যথায়, অভিমানে ঝরে পড়ছে অবিরল জলধারায়? নিজের ঘরে ইজিচেয়ারে আধশ�োওয়া হয়ে চুপ করে বাইরের দিকে তাকিয়ে মনে মনে এই কথাই ভাবছিলেন লাবণ্য, বয়েস তাঁর ৯৫ পেরিয়েছে সবে”। ২০০৯ সালে অঞ্জলিতে মঞ্জুলিকাদির লেখাটা ছিল চিঠির আকারে। নাম “প্রবাসের চিঠি”। লেখাটির উপসংহার পাঠককে জীবন সম্পর্কে নতুন ভাবে ভাবতে উৎসাহিত করে। “জীবনটাকে অনেক দেখলাম, বু ঝলাম, চিনলাম এর মধ্যে। ভালমন্দ সবরকম অভিজ্ঞতায় ভরপুর তা। চার্বাকের মতানু সারে যদি এ জীবনটাই শুধু সত্য হয়, তবে আজ কি হিসাব নিকাশের সময় এসেছে --কি পেয়েছি আর কি পেলাম না, তা খতিয়ে দেখার? কিন্তু মন ত�ো তাতে রাজী নয় একেবারেই। অতীতচারণ করার আনন্দের সঙ্গে মনের ক�োন�ো একটা ক�োনায় ব্যথাও লাগে এই ভেবে যে ক�োথায় চলে গেল সেসব দিনগুলি? আর একবার কি পাওয়া যায় না হাতের মুঠ�োয় সেই আনন্দঘন মুহূর্তগুলিকে? আমাদের গেছে যেদিন, একেবারেই কি গেছে, কিছু ই কি নেই বাকি? ---- রাতের সব তারাই আছে দিনের আল�োর গভীরে”। জুন জুলাইয়ে মঞ্জুলিকাদিকে ফ�োন করে অঞ্জলিতে লেখার জন্য অনু র�োধ জানান�ো আমার বহুবছরের অভ্যেস। সেই অভ্যেসবশতঃ এবারও মনে হয়েছে মঞ্জুলিকাদিকে একটা ফ�োন করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গেই ধাক্কা দিয়েছে রূঢ বাস্তব – না সেই সু য�োগ ত�ো আর নেই, হারিয়ে গেছে চিরকালের মত।। 

Anjali

www.batj.org


কেমন আছ মঞ্ জুলিকাদি   ক্রিংক্রিং ক্রিংক্রিং হ্যাল�ো... মঞ্জুলিকা হানারি কথা বলছেন? হ্যাঁ বলছি, আপনি? আমি শুভা, টয়�োটাতে থাকি। এইত�ো শুরু। শুধু ই শুরু নয়। একটা বিরাট উপকার করলেন একদম প্রথমেই। আর এমন উপকার বিদেশ বিঁভুইয়ে, শুধু বিদেশ কেন নিজের দেশেও ক�োন অচেনা মানু ষের জন্য কেউ করে কিনা যথেষ্ট সন্দেহের বিষয়। আমি জাপানে এলে জাপানী মতে আমাদের বিয়ে হয়, ওয়ার্ড অফিসে রেজিস্ট্রিও হয়। তার পরের বছর দেশে গিয়ে জাপান ফেরার পথে ক�োলকাতা এয়ারপ�োর্ট ইমিগ্রেশনে আমাকে অনেক কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অর্থাৎ আমাকে ভারতীয় দূ তাবাসে গিয়ে আরেকবার রেজিস্ট্রি করতে হবে। শুধু জাপানের রেজিস্ট্রেশনে চলবেনা ইত্যাদি ইত্যাদি। জাপান ফিরে রেজিস্ট্রেশনের জন্য খবরাখবর করে জানতে পারি রেজিস্ট্রেশনের দিন ধার্য হলে আমাদের টয়�োটা থেকে ট�োকিও যেতে হবে। সাক্ষী হিসেবে আমার আর জুনের পক্ষ থেকে ২জনকে উপস্থিত থাকতে হবে। জুনের দিকের সাক্ষী জ�োগাড় হয় সাথে সাথেই। মুশকীল হ�োল আমার দিকের সাক্ষীর। জুনের সঙ্গে বাড়ির কাছে এক দ�োকানে কেনাকাটা করতে গেছি। স্বভাবতই আমার পরনে সাল�োয়ার কামিজ, কপালে টিপ। হঠাৎ একটি মেয়ে দ�ৌড়ে আসে ‘তুমি বাঙালী?’ ওর সঙ্গে ওর মা বাবাও আছেন। কথাবার্তা চলে কিছু ক্ষন দ�োকানে দাঁড়িয়েই। বাবা টয়�োটাতে এক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর। কাছাকাছি থাকেন। বাঙালী। কয়েকদিনের মধ্যেই মঞ্জুলিকাদির খবর জানতে পারি ওনাদের কাছেই। আর তারপর... রেজিস্ট্রেশনের দিন ঠিক হ�োল। আমরা ট�োকিয়�ো গেলাম। কুদানশিতা স্টেশনে প্রথম দেখা হ�োল। আমাদের ভারতীয় রেজিস্ট্রিতে নির্দ্বিধায় সাক্ষী হিসেবে সই করলেন মঞ্জুলিকাদি। আজ এতদিন পরেও সেই প্রথম আলাপের দিনটার কথা স্পষ্ট মনে আছে। যত দিন যায় আমাদের ফ�োনালাপও বাড়ে। পূ জ�োতে শ�ো করতে গিয়ে আগের রাতে মঞ্জুলিকাদির বাড়িতে থেকে দেখেছি পরম যত্নে মিষ্টি তৈরী করতে, পূ জ�োর ফুল ভাগভাগ করে গুছিয়ে রাখতে। ‘দেশ’ পত্রিকা রেগুলার রাখতেন। নিজের পড়া হয়ে গেলে আমাদের অনেকেরই সু য�োগ হ�োত সেই পত্রিকাগুল�ো পড়ার। খুব বই পড়তেন। বাংলাভাষাতে অসম্ভব দখল ছিল। অনেকসময় আমার বিভিন্ন লেখায় বানানে সন্দেহ থাকলে মঞ্জুলিকাদির কাছে জানতে চেয়েছি, শুধরে দিয়েছেন। শিল্পপ্রেমিক একটা মন দেখেছি ওঁর মধ্যে। অনেক সময় বিভিন্ন গান নিয়ে, গায়িকার গায়কী নিয়ে আল�োচনা করে কেটেছে ফ�োনে। বিভিন্ন জায়গায় আমার অনু ষ্ঠান দেখতে ছু টে গেছেন। শুধু ট�োকিয়�োতেই নয় সাইতামা, শিজুওকাতেও এসেছেন। অনু ষ্ঠানের আগে গ্রীনরুমে এসে আশীর্বাদ করে গেছেন। টয়�োটাতে আমাদের বাড়িতে এলেই জুন জমিয়ে গল্প করত�ো। ভাষার ক�োন বাধা ছিলনা। বিয়ের সাক্ষী দেওয়া নিয়ে হাসাহাসি হ�োত খুব। জুন হেসে বলত “আপনি ক�োন সাহসে যে সই দিতে রাজী হয়েছিলেন, আমি মানু ষটা কেমন না জেনেই।” যে ক’দিন এখানে থাকতেন গল্প হাসি ঠাট্টা আনন্দে কেটে যেত দিনগুল�ো। আজ লিখতে বসে কত কথা যে মনে আসছে। খুব ধু মধামের মধ্য দিয়ে আনন্দদার(মঞ্জুলিকাদির স্বামী) ৮০বছরের জন্মদিন পালন হয়েছিল। আনন্দদা- মঞ্জুলিকাদির ‘ট�োকিয়�ো য�োগ সেন্টার’এর ছাত্রছাত্রীরা বিরাট আয়�োজন করেছিলেন। সেদিন আমিও নৃ ত্য পরিবেশন করেছিলাম জন্মদিনের উপহার হিসেবে। ট�োকিয়�োর বাড়ি শিফ্‌ট হ�োল। নতুন বাড়ি চিবাতে। বারবার যাবার জন্য বলেন। এত�ো বাড়ি নয়, হলিডে-রিস�োর্ট। গাছ, ফুল ইত্যাদির প্রতি মঞ্জুলিকাদির অসম্ভব ভালবাসার কথা অনেকেই জানেন। মনের মত করে সাজিয়েছিলেন রুফ টেরাস। আনন্দদা তখন ডে-সার্ভিসে যান সকালে। তার www.batj.org

- শুভা কোকুবো চক্রব

আগে ব্রেকফাস্ট টেবিলে গাছ দেখতে দেখতে কত গল্প আড্ডা। বার্দ্ধক্যজনিত কারনে টুকটাক অসু স্থতা চলছিল প্রায়ই। আনন্দদা চলে গেলেন না-ফেরার দেশে। মঞ্জুলিকাদি ভীষন একা হয়ে গেলেন। শরীরের চাইতেও মনের জ�োরটা একদম কমে আসছিল। আবার বাড়ি শিফ্‌ট করে ট�োকিয়�োতে। মাঝেমাঝেই অসু স্থতা। কয়েকবছরের মধ্যে নিজের ইচ্ছেতেই বৃ দ্ধাশ্রমে। টয়�োটা আর ট�োকিয়�োর দূ রত্ব এতটাই বেশি, ইচ্ছে থাকলেও সবসময় যেতে পারিনি। ত�োমার কাছে যাব�ো বললেই এত খুশি হ�োতেন। প্ল্যান করতেন, তাহলে আমি এখানে বলে রাখব�ো আমরা একসাথে ডিনার করব�ো। কখনও খাবার কিনে নিয়ে ঘরে বসে খাওয়া, তাও হ�োত। পূ জ�োর ম্যাগাজিনের লেখা লিখছি আর বারবার গতবছরের কথা মনে পরছে। মঞ্জুলিকাদির কথাটা এভাবে এত তাড়াতাড়ি সত্যি হয়ে যাবে মনেও আসেনি তখন। BATJর পূ জ�োর ম্যাগাজিনে (অঞ্জলি) প্রতিবছর মঞ্জুলিকাদির লেখা পড়ে এসেছি। গতবছর হাতের এবং চ�োখের সমস্যার জন্য অল্পস্বল্প সাহায্য করে দিচ্ছিলাম লেখাতে। বলছিলেন সামনের বছর আমি যখন থাকবনা, তখন আমাকে নিয়েও লেখা হবে। কী যে বল�ো তুমি, বলে চুপ করিয়েছিলাম। ২০১৯য়ের জানু য়ারীতে মুম্বাই পুনেতে আমার গ্রুপ নিয়ে অনু ষ্ঠান করতে যাবার কথাবার্তা চলছিল অনেকদিন ধরেই। এবার একটু বেশিদিনের জন্য যাওয়া। তাই তার আগে একবার মঞ্জুলিকাদির সঙ্গে দেখা করে আসব�ো ভেবে জানালাম। খুব খুশি হলেন। বললাম দু পুরে আমরা একসাথে খাব�ো, কি খেতে চাও বল, আমি কিনে নিয়ে যাব�ো। বললেন আমাকে কিন্তু খাইয়ে দিতে হবে, বাচ্চাদের মত বললেন ম্যাক্‌ড�োনাল্ড্স’এর ফিলেট�ো ফিশ। আমি বললাম যদি না পাই তাহলে আরেকটা অপশন দাও। তাহলে টুনা ওনিগিরি। বেশ তাই হবে। স্টেশনে নেমে খ�োঁজ করে বার্গার পেলামনা। অগত্যা ওনিগিরি, স্যুপ ইত্যাদি নিয়ে মঞ্জুলিকাদির কাছে। মনটা বড্ড খারাপ হয়েছিল সেদিন। একি অবস্থা? হাত-পা-মাথা কিছু ই নড়ান�োর ক�োন ক্ষমতা নেই সেদিন। একভাবে বসে আছেন। তারমধ্যেই একগাল হাসি আমাকে দেখে। আস্তে আস্তে টুনা ওনিগিরি আর স্যুপ খাইয়ে দিলাম। আমার ক্লাসের তাড়া, আমি ফিরে এলাম। আসার আগে প্রনাম করে বললাম অনু ষ্ঠান করতে যাচ্ছি ভারতে, আশীর্বাদ কর যাতে সফল হয়ে ফিরতে পারি। ফিরে আবার আসব�ো ত�োমার কাছে। সাবধানে থেক�ো। ...ছিড়িল�ো বীণার তার, ছিল আশা গাব�ো গান, গাওয়াত�ো হ�োলনা আর... তারপর.....ভারতে বসেই জাপানের এক বন্ধুর ফ�োন...মঞ্জুলিকাদি আর নেই। গলাটা আট্‌কে আসছিল...বড় প্রিয় একজন অভিভাবককে হারালাম। তুমি যেখানেই আছ�ো, শান্তিতে থেক�ো। আমার সশ্রদ্ধ প্রনাম মঞ্জুলিকাদি। 

Durga Puja 2019

91


স্মৃতিটুকু থ   এটা একটা গাছের গল্প। না ঠিক গাছের নয়, বরং বলা ভাল গাছের মধ্যে বেঁচে থাকা একজন মানু ষের গল্প। আমি যখন তাঁর সান্নিধ্যে আসি তখন আমার বয়স ২৪ আর উনি প্রায় ৬০এর ঘরে। বয়�োজ্যেষ্ঠা মানু ষ হলেও ট�োকিওর বাঙালী পরিবারের নিয়ম অনু যায়ী তাঁর নামের সাথে ‘দিদি’ শব্দ য�োগ করে ‘মঞ্জুলিকাদি’ বলে ল�োকে আমাকে চিনিয়ে দেয়। বিয়ের পরে স্বামীর কাজের সূ ত্রে আমার ট�োকিওতে আসা। ভারতীয়রা যেখানে যায় সেখানে পূ জা-পার্বণ, আড্ডার জায়গা বা বন্ধু বান্ধব খুঁজে না নিলে তাকে আর যাই হ�োক ভারতীয় বলা যায় না। তাই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই খ�োঁজ পেয়ে গিয়েছিলাম বেঙ্গলী অ্যাস�োসিয়েশন অফ ট�োকিও জাপান বা বি,এ,টি,জে’র। সেখানেই আলাপ মঞ্জুলিকাদির সঙ্গে। আলাপ হয়েছিল আরও অনেকের সাথে। একসাথে এত নতুন মানু ষের সাথে আলাপ হলে কি সবাইকে মনে রাখা সম্ভব? আমি তখন সবার মধ্যে নতুন মুখ। তাই অন্যান্যরা আমাকে মনে রাখলেও, আমার পক্ষে সবাইকে মনে রাখা বেশ কঠিন ছিল। আমি যে সময় ট�োকিওতে আসি তখন পশ্চিমা দেশগুলির তুলনায় ভারতীয়ের সংখ্যা জাপানে বেশ কম ছিল। ভাষার সমস্যা তার অন্যতম একটি প্রধান কারণ। তাই যারা আসত তাদের অধিকাংশ কর্মসূ ত্রে মাত্র কয়েক বছর কাটাত এই দেশে। বহু বছরের বাসিন্দা হাতে গুনে কয়েকটি পরিবার। তাই আলাপ করার সময় মঞ্জুলিকাদি যখন বললেন, “আমি ত�ো ৩৭ বছর হল ট�োকিওতে আছি”, তখনই মনের হার্ড ডিস্কে ঐ কথাটা ন�োট হয়ে গিয়েছিল, আর মনে জন্ম নিয়েছিল ওনার সম্পর্কে জানার আগ্রহ। ষাটের দশকে এক জাপানীকে (আমাদের শ্রদ্ধেয় আনন্দদা) বিয়ে করে মঞ্জুলিকাদির ট�োকিও শহরে আগমন। শুনেই আগ্রহ আরও বেড়ে গেল। আমার মা জেঠিমার আমলের মানু ষ। সেকালে অধিকাংশ ভারতীয় মেয়ে বাবা মায়ের ঠিক করে দেওয়া পাত্রকে বিয়ে করত আর নিজের শহর বা কাছাকাছি ক�োনও শহরে গিয়ে সংসার করত। সেই যু গের মহিলা হয়ে এমন একজন বিদেশী যার মাতৃভাষা পর্যন্ত ইংরাজী নয় তাঁকে বিয়ে করে দূ র দেশে এসে সংসার করছেন! তখন আমার মন�োভাব ছিল ইংরেজ হলেও বু ঝি সংসার করা সহজ। এমন এক মহিলা যিনি যু গের থেকে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে চলেছেন তাঁর কাহিনী স্বাভাবিক ভাবেই মনে গেঁথে গেল। প্রথম বছর মঞ্জুলিকাদির সাথে দেখা হয় দু বার। সরস্বতী পূ জা আর দু র্গাপূ জার বহু দায়িত্ব থাকত তাঁর ওপর। হবেই ত�ো, বয়�োজ্যেষ্ঠা মানু ষ, তার ওপর পরিশ্রমী। তাছাড়া মঞ্জুলিকাদির দায়িত্ব নিতেও আপত্তি ছিল না। দু র্গাপূ জাতে পেয়েছিলাম তাঁর হাতে তৈরি ছানার মিষ্টি আর নারকেলের সন্দেশ। সেইসব দিন ছিল আলাদা। জাপানে বাড়ীতে কেউ এত ভাল মিষ্টি বানাতে পারে সেই ধারণা আমার ছিল না তখনও। একেবারে কলকাতার মিষ্টির দ�োকানের মিষ্টির মত স্বাদ। ক�োথা থেকে শিখেছেন, কিভাবে বানিয়েছেন এত কথা আলাপ হওয়ার পরপরই জিজ্ঞেস করা সমীচিন নয় বলে চ�োখেমুখে কিছু বিস্ময় ছাড়া আর কিছু ই দেখাইনি। কিন্তু অন্যের মনের কথা উনি পড়তে পারতেন। তাই বললেন, “চিন্তা ক�োর�ো না, কিছু দিন বাদে তুমিও পারবে”। কি অদ্ভুত মাতৃসু লভ ব্যবহার! আর তাও কি না স্বল্প পরিচিতা মেয়ের সঙ্গে। জানি পারব�ো না ওরকম মিষ্টি বানাতে, তবু এক অদ্ভুত ভাল লাগায় ভরে গেল মন। এক বছর বাদে গেলাম কলকাতায় পরিবার পরিজনের সাথে দেখা করতে। সবাই জানতে চাইছে নতুন দেশ, আমার নতুন সংসার আর নতুন গড়ে ওঠা বন্ধু ও পরিচিতদের সম্পর্কে। আত্মীয়স্বজনের মধ্যে মঞ্জুলিকাদির গল্প করিনি এমন ল�োক কমই ছিল। সবাইকে মঞ্জুলিকাদির সাহসিকতার গল্প করেছি। হ্যাঁ আমার কাছে, ঐ যু গে যখন ইন্টারনেট ত�ো দূ রের কথা টেলিফ�োনের য�োগায�োগটাও সহজসাধ্য ছিল না, তখন অল্প পরিচিত এক যু বকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নিজের দেশ ছেড়ে ভাষা না জানা অচেনা এক দেশে পাড়ি দেওয়াটা চরম সাহসিকতা বলেই মনে হয়েছিল। দিন কাটতে লাগল আর ট�োকিওতে চেনাপরিচিত বন্ধু বান্ধবের সংখ্যা বাড়তে থাকল। পূ জা পার্বণ ছাড়াও অন্য জায়গায় দেখা হওয়া, ফ�োনে কথা, এসব গেল বেড়ে। একটি টেলিকম কম্পানিতে কাজের সু বাদে মঞ্জুলিকাদির সাথে মাঝে মাঝেই অনেক কথা হত। ঐ কম্পানির ইন্টারন্যাশনাল কলিং কার্ড ব্যবহার করে উনি দেশে সকলের সাথে য�োগায�োগ রাখতেন। কথায় কথায় লক্ষ্য করতাম দেশের প্রতি, দেশে ফেলে আসা আত্মীয় পরিজনের 92

- চন্দ্রিমা

প্রতি এতকাল পরেও কি অদ্ভুত টান। সম্পর্ক গভীর হতে থাকল। গল্পগুজবের মধ্যে দিয়ে জানতে পারতাম অনেক কথা। তাঁর মুখেই শুনেছি পরিবারের বয়স্ক মানু ষ যাদের শ্রবণশক্তি ছিল কম তাঁদের জন্য লিখতেন চিঠি আর বিজয়ার পর প্রত্যেকের জন্য শুভবিজয়ার চিঠি। অবাক হতাম আর ভাবতাম কি করে পারেন সব কিছু একসাথে সামলাতে। এ প্রসঙ্গে বলে রাখি মঞ্জুলিকাদি শুধু ই যে গৃ হবধু ছিলেন তা নয়, স্বামী আনন্দদার য�োগব্যায়াম কেন্দ্রের কাজেও তিনি সরাসরি যু ক্ত ছিলেন। এরই মধ্যে আমার সংসার বাড়তে থাকল। সন্তানের জন্মের আগে থেকে এবং তারপর যখন তারা বড় হচ্ছে সেই সময় প্রতি পদক্ষেপে মঞ্জুলিকাদির কাছ থেকে পেয়েছি অনেক উপদেশ। সন্তানকে বড় করার অভিজ্ঞতাই শুধু নয়, ভিন্‌দেশে সম্মু খীন হওয়া বহু প্রতিকূলতাকে কিভাবে জয় করতে হয়, সেসব ব্যাপারে ছিল তাঁর অনেক অভিজ্ঞতা। তাই বহু সমস্যার সমাধান পেয়েছি তাঁর কাছে। দিদি বলে ডাকলেও মঞ্জুলিকাদি ছিলেন আমার মায়ের মত। নিজের মায়ের সাথে তাঁর নানারকম তুলনা মনে এসেই যেত। বিদেশে থাকার সু বাদে আর য�োগব্যায়ামের সাথে যু ক্ত থাকার জন্য শারীরিক সু স্থতা মনে হয় আমাদের দেশের ঐ বয়সের মহিলাদের থেকে বেশী ছিল। অথবা মন�োবলের জন্যেও হতে পারে, মঞ্জুলিকাদিকে অনেক বেশী শক্ত মানু ষ বলে মনে হত আমার। ওনার স্নেহ ভালবাসার দৃ ষ্টান্ত হিসেবে প্রতিবছর দু র্গাপূ জার সময়কার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ না করলে এই লেখা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। সম্পর্ক গভীর হয়ে ওঠার জন্য কি না জানিনা, আমরা কয়েকটা পরিবার প্রতি দু র্গাপূ জাতে মঞ্জুলিকাদির কাছ থেকে নিয়মিত কিছু উপহার পেতাম। তাতে থাকত হরেক রকমের টুকিটাকি নিত্যপ্রয়�োজনীয় জিনিস। আবার কখনও ভারত থেকে আনা প�োশাক আষাক। আর পূ জার দিনে নিজে হাতে গড়া সন্দেশ, মিষ্টি ত�ো উপরি পাওনা। ভিনদেশী স্বামী ও পুত্রকন্যাদের দু র্গাপূ জা সম্পর্কে তেমন উৎসাহ না থাকায় সাধারণত প্রতিবছর একাই য�োগদান করতেন এবং আমাদেরই পরিবারের সদস্য হয়ে যেতেন। মন্ডপে নিয়ে যাওয়া, রাত্রে বাড়ীতে পৌঁছে দেওয়া, এসব ছিল ওনার স্নেহধন্যা মেয়েদের কাজ। ভীষণ উপভ�োগ করতেন বাংলা গান, নাটক ও নাচের অনু ষ্ঠান। এরই মাঝে মঞ্জুলিকাদি এবং কয়েকটি রবীন্দ্রপ্রেমী পরিবারের উৎসাহে শুরু হয় ঘর�োয়া রবীন্দ্র জয়ন্তী। পূ জাপার্বণ ও ভারতীয় আচার অনু ষ্ঠান সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ ছিল অসীম। আবার অন্যদিকে জাপানী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ীর কাছ থেকে শেখা জাপানী সংস্কৃ তি ও রীতিনীতি মেনে চলতেন সম্পূর্ণ শ্রদ্ধার সাথে। মঞ্জুলিকাদির জাপানি শ্বশুরবাড়ীর অনেক গল্প তাঁর মুখ থেকেই শুনেছি। শ্রদ্ধা আর ভালবাসার সাথে শ�োনাতেন তাদের কথা। ভাষা না জানা এক বিদেশিনী কন্যাকে কত সু ন্দরভাবে আপন করে নিয়েছিলেন তারা। অবাক লাগত গল্পগুল�ো শুনে। যেন একেবারে সিনেমার গল্প। আমি বলতাম নিজের একটা জীবনী লিখে ফেলনা কেন? শুনে শুধু হাসতেন। মঞ্জুলিকাদির চিবার বাড়ীতে আমরা গিয়েছিলাম। বাড়ীর সবথেকে আকর্ষণীয় জায়গা ছিল ছাদের বাগান। নিজে হাতে তৈরী বাগান, নিয়মিত যত্নের ছ�োঁয়া ছিল তাতে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের নানা সমস্যা শুরু হয় আনন্দদার। বাধ্য হয়ে সেই বাড়ী বিক্রি করে মঞ্জুলিকাদির মেয়ের বাড়ীর কাছে ট�োকিওতে বাড়ী কিনে তাঁদের চলে যেতে হয়। তখন দেখা দিল এক সমস্যা। আগের তুলনায় ছ�োট বাড়ীতে আগের বাগানের অত গাছ রাখার জায়গার অভাব। আমার মত সাধারণ মানু ষের কাছে এটা ক�োনও সমস্যাই নয়। কিন্ত যাঁর কথা লিখছি তিনি ত�ো সাধারণের দলে পড়তেন না। গাছপালাকে সন্তানের মত লালন পালন করতেন। তাই ক�োন গাছ কাকে দিলে যত্নের অভাব হবে না, সেই নিয়ে ওনার চিন্তা আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি দেখে অবাক হয়ে গেলাম। আচার্য্য জগদীশ চন্দ্র ব�োসের কথা আমরা সবাই পড়েছি, তবে মঞ্জুলিকাদির মত গাছপ্রেমী মানু ষকে আমি চাক্ষুষ দেখেছি। ট�োকিওর বাড়ীতে যাওয়ার পর ওনাদের নানা সমস্যা শুরু হয়। আনন্দদার শরীর দিনে দিনে খারাপ হতে থাকে। মনমরা হয়ে পড়েন মঞ্জুলিকাদি। নিজের সন্তানদের কাছে যেমন মানু ষ দু ঃখের কথা ভাগ করে নেয় ঠিক সেইভাবেই নিয়মিত টেলিফ�োনে নিজের নানা সু বিধা অসু বিধার কথা বলতেন। ওদিকে আমার কলকাতার বাড়ীতে আমার বাবা মায়েরও শুরু হয়েছিল বার্ধক্যজনীত সমস্যা। আমি আর আমার দিদি তখন দু জনেই থাকি বিদেশে। নিজের মা বাবার সমস্যার সাথে মঞ্জুলিকাদির অনেক মিল

Anjali

www.batj.org


স্মৃতিটুকু থা পেতাম। দু ই বাড়ীতেই ফ�োন করে সান্ত্বনা দিতাম। এখনও মনে পড়ে আনন্দদার মৃ ত্যুর সময়ের কথা। মঞ্জুলিকাদির মত শক্ত মানু ষের অসহায় হতাশ অবস্থা দেখে কি বলব ভেবে পাই না। একাকীত্ব কি জিনিস তা বু ঝতে পারি ওনার অবস্থা দেখে। সু দূর বিদেশে আপনজনকে হারিয়ে মানসিক অবস্থা কি হয় সেটা খুব কাছ থেকে দেখেছি এই সময়। কখনও মনে হয়েছে উনি দেশে ফিরে গেলে ত�ো পারেন। ওনাকে বললে উনি উত্তর দিতেন, “এটাই ত�ো আমার দেশ”। আমি ত�ো ভুলেই গিয়েছিলাম মেয়েদের স্বামীর ঘরকেই নিজের ঘর বলে শেখান�ো হয় আমাদের দেশে। এদিকে আমার কলকাতার বাড়ীতেও ঘনিয়ে আসে দু র্যোগ। বাবা চলে গেলেন হঠাৎ করে। ক�োনও র�োগ নেই কিছু নেই। এ যে কি হয়ে গেল! মায়ের নানান শারীরিক সমস্যা। বাবাই মাকে দেখাশ�োনা করতেন। হঠাৎ দু র্যোগে আমরা ভেঙে পড়লাম, কিন্তু মা নিজের শারীরক অবস্থা আর আমাদের বিদেশ বাসের কথা চিন্তা করে নিজের ভবিষ্যৎ ঠিকানা নিজে স্থির করলেন --- বৃ দ্ধাশ্রম। কার�োর নিষেধ শুনলেন না। মানসিক নানা দু শ্চিন্তা নিয়ে বাবার শেষকাজ সম্পন্ন করে ফিরলাম ট�োকিওতে। আমার প্রবাস জীবনে কখন�ো ক�োনও বিদেশিনীর কাছে একটা কথা শুনেছিলাম। মানু ষ যদি কার�োর কাছ থেকে ভাল কিছু পায়, তাকেই যে সেটা ফেরত দিতে হবে, তা নয়। পরিবর্তে অন্য কার�োর জন্য ভাল কিছু করলে সেটা ফেরৎ যায় ঐ মানু ষটার কাছে অন্য কার�োর মাধ্যমে। কথাটা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম। আমি খুব সাধারণ স্বার্থপর প্রকৃতির মানু ষ। তাই নিজের মায়ের জন্য কিছু করতে না পারার অনু তাপে মঞ্জুলিকাদির দরকারে তাঁকে সাহায্য করতে শুরু করে দিলাম। এই বিশ্বাসে যে ওটা ফেরত যাবে আমার মায়ের কাছে অন্য কার�োর মাধ্যমে। একাকীত্ব আর বার্ধক্য ক্রমশ দু র্বল করে দিতে থাকল মঞ্জুলিকাদিকে। শক্ত স্বাভাবিক মানু ষ থেকে খুব দ্রুত শারীরিক ক্ষমতাহীনতার শিকার হতে শুরু করলেন। তবে মন ও মাথা ছিল ভীষণ সতেজ। ক্রমে সাংস্কৃ তিক অনু ষ্ঠানগুলিতে আসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হলেন। তবে ইন্টারনেট ও টেলিয�োগায�োগের মাধ্যমে নিজেকে সবসময় সজাগ ও ওয়াকিবহাল রাখতেন। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলার অদম্য ইচ্ছা দেখেছি মানু ষটার মধ্যে। এই সময়ে ক�োনও দরকারে ওনার বাড়ী গেলে যদি নিজে খাবার বানিয়ে নাও দিতে পারতেন, বাইরে থেকে অর্ডার করে আনাতেন, অতিথি সেবায় ত্রুটি রাখতেন না। এই সময়ে মঞ্জুলিকাদির স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছিল খুব দ্রুত। হাত আর পায়ের জ�োর এত কমে গেল যে একা তাঁকে বাড়ীতে রাখা বিপদজনক হয়ে পড়ল। ওনার পুত্রকন্যাদের সিদ্ধান্ত অনু যায়ী এক বৃ দ্ধাশ্রমে ওনাকে পাঠান হবে বলে জানতে পারলাম। নিজের অবস্থা বিবেচনা করে উনিও এই সিদ্ধান্তে মত দেন। কিন্তু সমস্যায় পড়লেন ওনার সন্তানসম গাছগুলিকে নিয়ে। উনি যেভাবে এগুলির দেখাশ�োনা করেন সেই দায়িত্ব কাকে দেবেন? আবার ঘরে এদের ফেলে যেতেও মন চাইছিল না। জাপানের মত দেশ যেখানে সবার বাড়ীতেই সীমিত জায়গা সেখানে ক�োনও একজনের বাড়ীতে সব গাছ পাঠান�োও সম্ভব নয়। সে সময়ে ওনাকে ফ�োন করলে ঐ শারীরিক অবস্থাতেও গাছেদের নিয়ে ওনার চিন্তা দেখে আর অবাক হইনি, বরং উনি যে সাধারণের বাইরে এক অসাধারণ আত্মা সেই বিশ্বাসটা আরও দৃ ঢ় হয়েছিল। ঘরের সব আসবাবপত্র ফেলে, চেনা অচেনা মায়া পরিত্যাগ করে ২০১৭ সালের শেষ দিনে তিনি চলে গেলেন তাঁর নতুন ঠিকানায় --- বৃ দ্ধাশ্রমে। ক�োনও মানসিক দু শ্চিন্তা কিন্তু তাঁকে তাঁর কর্তব্য থেকে সরাতে পারেনি। খুব কম সময়ে তিনি তাঁর গাছেদের এবং সংগ্রহের বাংলা বইগুল�োকে নিজ হাতে এমন এমন জায়গায় পাঠান�োর ব্যবস্থা করে গিয়েছিলেন যেখানে তাদের যত্ন আর সম্মানের ক�োনও ত্রুটি থাকবে না। ওনার চলে যাওয়ার আগের দিন ঘটনাচক্রে আমি পৌঁছেছিলাম ওনার ট�োকিওর বাড়ীতে। শেষের “জবা” গাছটা পেয়েছিলাম আমি আর তাঁর সাথে আনু সঙ্গিক কিছু জিনিস। সত্যি কথা বলতে কি, গাছ বা প্রাণীদের ভালবাসিনা তা নয়, কিন্তু তাদের যত্ন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান বা অনেক আগ্রহ আমার ছিল না। মঞ্জুলিকাদির কথা চিন্তা করে আমি গাছটিকে নিয়ে এসেছিলাম আর তাতে নিয়মিত জলও দিয়েছি। কিন্তু কেন জানিনা গাছটাতে ফুল আর আসত�ো না। তাই যখন মঞ্জুলিকাদির সাথে ফ�োনে কথা হত, কখনও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে গাছটার সম্বন্ধে তাঁকে বলতে পারতাম না। এদেশের অনেক নতুন জিনিস ও অজানা রীতিনীতির সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল মঞ্জুলিকাদির হাত ধরে। এদেশের বৃ দ্ধাশ্রমের সাথেও পরিচয় হল আবার ওনারই হাত ধরে। আমার মায়ের আশ্রমের সাথে তুলনা এসে যেত মনে। অতি আধু নিক যন্ত্রপাতি ও জিনিসপত্রের সু ব্যবস্থা আছে এখানকার আশ্রমে। কিন্তু একজন বিদেশীর কাছে নিজের ঘর মনে করার মত পরিবেশ কতটা ছিল বলতে পারব না। মঞ্জুলিকাদিকে দেখেছি www.batj.org

আপ্রাণ চেষ্টা করতে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার। যে মহিলা জীবনের শুরুতেই বিদেশকে নিজের দেশ বানিয়ে নেওয়ার সাহস ও শক্তি দেখাতে পেরেছেন, তাঁর কাছে এই পরিবেশে মানিয়ে নেওয়াটা নিশ্চয়ই বিশেষ কষ্টের হবে না। কিন্তু আশ্রমে তাঁর দিন যত কাটতে থাকল আমার মনে হতে লাগল পরিবেশ, আচার ব্যবহার, খাবার দাবার ও চাল চলনের এত পার্থক্যের মধ্যে জীবনের শেষ দিনগুলি, বিশেষ করে মানু ষ যখন ভীষণ ভাবে একা হয়ে পড়ে, তখন কাটান�ো বেশ কষ্টকর। মঞ্জুলিকাদির আশ্রমের খাবার ছিল সম্পূর্ণ জাপানী পদ্ধতিতে বানান�ো স্বাস্থ্যকর খাবার। তবু সেই খাবার র�োজ খেতে ক�োনও ভারতীয়েরই হয়ত�ো ভাল লাগবে না। অনেক দিন মনে হয়েছে ওনার জন্য কিছু বাঙালী খাবার বানিয়ে নিয়ে গেলে ভাল হয়। কিন্তু খাবারের অনিয়মে যদি শরীর খারাপ হয়, সেকথা চিন্তা করে আমি পিছিয়ে এসেছি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে হঠাৎ একদিন আশ্রমে গিয়ে হাজির হলাম ওনার সাথে দেখা করতে। যেহেতু চিরকালই গাছ ও ফুলের প্রতি মঞ্জুলিকাদির ভালবাসা বেশী, তাই কিছু ফুল নিয়ে গিয়েছিলাম। নানা কথাবার্তা ও গল্প চলতে থাকে। এই সময়ে কেউ দেখা করতে গেলে মঞ্জুলিকাদি খুব উত্তেজিত হয়ে অনেক কথা বলতেন। নানা কথার মধ্যে দেশের খাবার খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ হয়ে পড়ল। আমি কথা দিলাম খুব শিগ্‌গিরি আগে থেকে জানিয়ে খাবার তৈরী করে নিয়ে যাব আশ্রমে। আশ্রমের নিয়ম অনু যায়ী বাইরে থেকে খাবার আনলে আগেভাগে জানাতে হয়। ওনার হাতের জ�োর খুব কমে যাওয়ার দরুন ফিরে আসার আগে ওনার ঘরে থাকা কিছু খাবার আমি নিজে হাতে ওনাকে খাইয়ে দিয়ে আসি। এটাই ছিল ওনার কাছে আমার শেষ প্রাপ্তি। মনে হল ট�োকিওতে বসেও যেন নিজের মায়ের জন্য কিছু করলাম। পারিনি কথা দিয়ে কথা রাখতে। দৈনন্দিন কাজকর্মের ব্যস্ততায় ক�োথা দিয়ে দিন কেটে যায়। র�োজই ভাবতাম আর দু এক সপ্তাহ কাটলেই একটু সময় হবে আর আমি রান্না করে ওনার জন্য নিয়ে যাব। কিন্তু ওনার হাতে সময় ছিল আমার থেকেও কম। একদিন খবর এল�ো ওনার শরীর খুবই খারাপ। হাসপাতালে ভর্তি করা হল। সেখান থেকে মঞ্জুলিকাদি আর ফিরলেন না। মানু ষের একটা চিরপরিচিত স্বভাব হল নিজের দ�োষ আর কার�োর ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজে শান্তি পাওয়া। কিন্তু মঞ্জুলিকাদির শেষবিদায়ের খবরটা পাওয়ার পর আমি এমন কাউকে পাইনি যার ওপর দ�োষ চাপিয়ে দিয়ে ভাবতে পারব�ো ওর দ�োষে আমার মঞ্জুলিকাদিকে খাওয়ান�ো হল না। মঞ্জুলিকাদির সামান্য শেষ ইচ্ছাটুকুও পূ রণ করতে পারলাম না। বেঙ্গলী অ্যাস�োসিয়েশন থেকে জানান�ো হল মঞ্জুলিকাদির শেষকাজের দিন ও সময়। ঐ সময়ে উপস্থিত হয়ে আমরা ওনাকে শেষ দেখা দেখতে পারব। দিনটা ছিল শনিবার। সকালে চ�োখ খ�োলার পর ঘরের বাইরে বেরিয়ে দেখি টক্‌টকে একটা লাল জবা ফুটে রয়েছে ঐ জবা গাছটিতে। যেহেতু গাছটিতে ফুল ধরত না তাই কখন যে কুঁড়ি এসেছে তা লক্ষ্যও করিনি। কিন্তু আজই কেন? আর কিছু দিন আগে ফুটলে ত�ো মঞ্জুলিকাদিকে জানাতে পারতাম। কিন্তু প্রকৃতি ত�ো আমার ইচ্ছা অনু সারে চলবে না। কত কিছু ই যেন অপূ র্ণ রয়ে গেল। জাপানের অত্যাধু নিক ব্যবস্থায় মঞ্জুলিকাদির দেহটিকে খুব সতেজ করে রাখা হয়েছিল। মনে হচ্ছিল যেন শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন। সত্যিই যদি তাই হত। আমার না বলা কথাওগুল�ো যদি বলতে আর শেষ ইচ্ছেগুল�ো যদি পূ র্ণ করতে পারতাম। বিদায়বেলায় সবার চ�োখে জল। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু বান্ধব, পরিচিত দেশী বিদেশীতে ভরে ছিল ঐ প্রাঙ্গন। আর আমি মনে মনে চিৎকার করে ক্ষমা চাইছিলাম। মন থেকে কেউ যেন বলল�ো জবা গাছটার যত্ন নিতে। এখন আমি নিয়মিত জবা গাছটার যত্ন নিই। গাছটিতে এখন নিয়মিত ফুল ধরে। ছেলের ইচ্ছা আমি যেন ঐ ফুল তুলে ঠাকুরকে না দিই। তাই গাছের ফুলগুল�ো ফ�োটে, আবার প্রকৃতির নিয়মে ঝরেও যায়।। 

Durga Puja 2019

93


আমাদের মঞ্ জুলিকাদ   এই ত�ো গত ডিসেম্বরের কথা। গত বারের পুজ�োর অঞ্জলির এক কপি নিয়ে গিয়েছিলাম মঞ্জুলিকাদির সাথে দেখা করতে। পাশে বসে অঞ্জলির পাতা ওলটাতে ওলটাতে কথা হচ্ছিল�ো করবীদিকে নিয়ে লেখা ও ছবির সম্বন্ধে। হঠাৎই মঞ্জুলিকাদি বললেন, “দেখিস পরের বার আমাকে নিয়ে লেখা বের হবে”। শুনে বু কটা ছ্যাঁৎ করে উঠেছিল�ো। ভাবিনি যে কথাটা এমন করে সত্যি হয়ে যাবে। ওনার সাথে প্রায় ১৮ বছর আগে পরিচয়ের শুরু। সেই থেকে অনেক স্মৃতি, আনন্দঘন মুহূর্ত, কত কথা ভিড় করে আসছে মনে। আমি জাপানে ২০০১ এর জানু য়ারিতে আসি। মঞ্জুলিকাদির সাথে বিএটিজের একটি অনু ষ্ঠানে প্রথম দেখা হয়। সেখানেই জানতে পারি যে উনি জাপানী (আনন্দদা ) বিয়ে করে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে আছেন। শুনে বেশ অবাক হয়ে ভাবছিলাম এ ত�ো ক�োন�ো দু ঃসাহসিক অভিযান থেকে কম নয়। তারপর আর�ো দেখা, ফ�োনে কথা, বাড়িতে যাতায়াত। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয়ে উঠল�ো। তাঁর উরায়াসু র বাড়ির সু ন্দর টেরাসে বসে হানাবি দেখা, আবার ওই বাড়িতেই আমার সাধের অনু ষ্ঠান। সবই চিরদিন মনে রাখার মত�ো ঘটনা। যখন উরায়াসু থেকে আদাচির বাড়িতে গেলেন তখন আমাদের বাড়িতে কিছু সপ্তাহ ছিলেন। সেই দিনগুল�ো খুব মজার ছিল। তিয়াস তখন বেশ ছ�োট, কিন্তু তাতে দু জনের গল্পগুজবে ক�োনও খামতি ছিল না। র�োজ সন্ধ্যেবেলাতে তিয়াসের উদ্যোগে টি পার্টি, অবশ্যই তিয়াসের পছন্দের মুগি চা, কুকিস আর ফ্রুতস থাকত�ো যেটা মঞ্জুলিকাদি ভীষণ এনজয় করতেন। আর আমরা তিয়াস আর মঞ্জুলিকাদির এই দিদা নাতনী সম্পর্কটা এনজয় করতাম। কারণে অকারণে উপহার দিতে খুব ভাল�োবাসতেন। ট�োকিওতে বেশ কয়েকজন ছিল তাঁর স্নেহের উপহারের প্রাপক আর আমি ছিলাম তাদের একজন। তাঁর উপহারগুল�ো আমার কাছে গুরুজনের আশীর্বাদ স্বরূপ। জীবনের শেষ কয়েক বছর, যখন বাড়ি আর হাসপাতালের মাঝে বাঁধা ছিল�ো সময়টা, তখন অনেক বেশি কাছের মানু ষ হয়ে ওঠার স�ৌভাগ্য হয়েছিল। আনন্দদার অসু স্থতা আর তারপর চলে যাওয়া .. এই সব কঠিন সময়ে বিভিন্ন প্রয়�োজনে পাশে থাকার সু য�োগ পেয়েছিলাম। শেষের দু -তিন বছর নিয়মিত মঞ্জুলিকাদির সাথে দেখা করাটা আমাদের একরকম রুটিন ছিল। কখনও কিছু পছন্দের খাবার রান্না করে বা প্রয়�োজনীয় সামান্য টুকিটাকি জিনিস নিয়ে গেলে কি ভীষণ খুশি হতেন, সেই আনন্দে ঝলমল মুখটা এখনও চ�োখে ভেসে ওঠে। বাংলায় নির্ভেজাল আড্ডা দিয়ে খুব আনন্দ পেতেন আর তাই কার�োর আসার অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে থাকতেন। আমার মায়ের সাথে মঞ্জুলিকাদির একটা সু ন্দর হৃদ্যতার সম্পর্ক ছিল, ঠিক দু ই ব�োনের মত�ো। মা যখনই ট�োকিওতে আসতেন মঞ্জুলিকাদির সাথে অবশ্যই দেখা করতেন। ট�োকিওতে মা থাকাকালীন ফ�োনে দীর্ঘ সময়

94

- চৈতালি পাল, প্রীতিকণা সরক কথা বলা, এমনকি কলকাতা থেকেও ফ�োনে খ�োঁজ খবর চলত�ো দু জনের। তাই আমার এই লেখার শেষে রইল�ো মঞ্জুলিকাদি সম্পর্কে আমার মায়ের কিছু কথা ……

মায়ের (প্রীতিকণা সরকার) কথা …….

জানি না ক�োথা থেকে শুরু করব�ো ও ক�োথায় শেষ করব�ো। এই মায়াময় সংসারে আবদ্ধ, শ�োক দু ঃখে মুহ্যমান হয়েও বেঁচে থাকতে হয়। ইহল�োক পরল�োকের এই যাতায়াত থাকবেই, এটাই চিরন্তন সত্য। এই সত্য অতিক্রম করা যায় না। মঞ্জুলিকাদির সাথে আমার পরিচয় ট�োকিওতে ২০০৭ সালে মেয়ে জামাইয়ের (চৈতালি এবং বিশ্বনাথ) বাড়িতে বেড়াতে এসে। প্রথম দেখাতেই মনে হয়েছিল�ো একজন স্নেহশীলা মমতাময়ী দিদি। ক্রমে আমাদের সখ্যতা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন অনু ষ্ঠানে, কখন�ো আমার মেয়ের বাড়িতে দেখাসাক্ষাত বাড়তে থাকল�ো। আমার ওনার সাথে কথা বলতে, সময় কাটাতে ভীষণ ভাল�ো লাগত�ো কারণ ক�োথাও ক�োথাও আমাদের দু জনের ভাবনা চিন্তাতে খুব মিল ছিল। এটাই ব�োধ হয় পরস্পরকে ভাল�ো লাগার মূ ল কারণ ছিল। নিয়মের গতিতে আমাকে একদিন ভারতে ফিরতে হল। তারপর শুরু হল ফ�োনের মাধ্যমে কথ�োপকথন। একজন জাপানী বিয়ে করে এখানে আসার অভিজ্ঞতা, তাঁর দীর্ঘ সংসার জীবনের ওঠাপড়ার গল্প, জাপানী রীতিনীতি এসব নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক আল�োচনা চলত। আমি ওনার থেকে অনেক দেশ বিদেশের গল্পও শুনেছি। উনি একবার আমার কাছে ইচ্ছা প্রকাশ করে ছিলেন যে ভারতে গেলে আমার হাতে করা কুমড়�ো ফুলের বড়া আর পুঁইশাকের চচ্চড়ি খাবেন, কিন্তু সে ইচ্ছে আর পূ র্ণ হল�ো না। মঞ্জুলিকাদির স্বামীর অসু স্থতা ও চলে যাওয়ার খবর পেলাম। একবার জাপান আসার সময় প্লেনে মঞ্জুলিকাদি ও আনন্দবাবু র সাথে দেখা হয়েছিল�ো। সেই প্রথম আনন্দবাবু র সাথে আমার আলাপ। স্বামীর অবর্তমানে ওনার মানসিক ও শারীরিক অবনতি আমাকে ভীষণ ভাবে নাড়া দিয়েছিল। তারপর ২০১৮র ডিসেম্বরে দেখা, ওনাকে দেখে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেছিল। এতটা শারীরিক অবনতি আমি ভাবতে পারিনি। অনেক অসু বিধা সত্ত্বেও প্রায় ঘণ্টা খানেক কথা হয়েছিল। বাড়ি ফিরে আসার সময় সজল নয়নে আমার মাথাতে হাত বু লিয়ে বলেছিলেন, “প্রীতি, ত�োমার আমার হয়ত�ো এই শেষ দেখা”। কথাটা এত তাড়াতাড়ি সত্যি হয়ে যাবে ভাবিনি। মঞ্জুলিকাদির সাথে আমাদের যে গভীর হৃদ্যতা তা ওনার চলে যাবার পরেও শেষ হওয়ার নয়। তাঁর স্মৃতি, কথা, হাসি, গল্প চিরদিন আমাদের সাথে থাকবে। 

Anjali

www.batj.org


কী ভয় অভয়ধামে   মঞ্জুলিকাদি, ত�োমার মনে আছে গতবছর ঠিক এই সময় যখন বিএটিজে থেকে অঞ্জলিতে লেখা পাঠান�োর ইমেল পেলাম, জানলাম যে আমি করবীদির স্মরণে লিখব, সেই সময় প্রায় র�োজই ত�োমার সাথে কথা হ�োত। তুমিও লিখতে চাও, কিন্তু ত�োমার হাত অচল, তাই শুভা ফ�োনে শুনে লিখে নিচ্ছে ত�োমার মনের কথা। প্রায় প্রতিদিনই তুমি বলতে “এবছর করবীর জন্য লেখ�ো, আগামী বছর আমার জন্য লিখবে”। এত বেশী করে এই কথাটা বার বার বলেছ�ো কীভাবে? এখন ভাবি তুমি এতটা নিশ্চিতভাবে কি জানতে যে এবছর তুমি আনন্দদার কাছে চলে যাবে? এতটা দৃ ঢ় বিশ্বাসের সাথে বলেছ�ো, তাহলে কি ত�োমার অন্তরাত্মা ত�োমাকে ন�োটিস দিচ্ছিল যে “আর নাইরে বেলা”। মঞ্জুলিকাদি জান�ো, আমার ম�োবাইল ফ�োনের হ�োয়াটস্‌ অ্যাপ’এ ত�োমার নামটা আমি রেখেই দিয়েছি, মুছিনি। কারণে অকারণে যখন চ�োখে পড়ে তখন মনে হয় তুমি আছ�ো, শুধু ফ�োনকলটা পাই না বা মেসেজটা আসে না। শেষবারের মত মেসেজ ছিল আমার --- ৩১/০১/২০১৯ “আমি আজ ভারত যাচ্ছি, ১৫ই ফেব্রুয়ারি ফিরব�ো”। আর ত�োমার উত্তর যথারীতি, “ভাল করে ঘুরে এস�ো”। তুমি প্রতিদিন হয় একটা ফুলের গাছ বা গুচ্ছের ছবি, না হলে গান বিশেষ করে রবীন্দ্রসঙ্গীত, অথবা ক�োন�ো মহামানবের উক্তি পাঠাতে। যদি এর উত্তর না পেতে, মেসেঞ্জারে লিখতে এবং যদি তাতেও আমার জবাব না থাকত�ো তাহলে ঠিক ফ�োন আসত�ো “আজ কি ত�োমার শরীর ঠিক নেই”? কতবার যে প্রশ্ন করেছ�ো “বিশ্বকে আবার জাপানে পাঠাবে না? ওদের কি ট্রান্সফার নেই? ত�োমাদের আবার কবে দেখব�ো”? ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা জাপান থেকে চলে আসার সময় তুমি এও বলেছিলে যে, “এইবার বু ঝতে পারব�ো মেয়ে শ্বশুরবাড়ী চলে গেলে

www.batj.org

- ভাস্বতী ঘোষ (সেনগু

কেমন লাগে”। শুধু আমাকে নয়, মুনকেও (শ্রীমতী শর্ব্বরী সেনগুপ্ত, ভাইঝি)। মুনের সাথে পরিচয় ত�ো ত�োমারই জন্য। আমার হাতে ওর জন্য উপহার, চিঠি ও অন্যান্য জিনিস পাঠালে। আমাকে ওর ফ�োন নম্বর ও ঠিকানা দিয়ে বলেছিলে, “মুন ভারী প্রাণবন্ত মেয়ে আর খুব প্রেরণা দিতে জানে। ওর সাথে মিশলে তুমি আনন্দ পাবে”। ত�োমার কথাটা সম্পূর্ণ সত্যি। গত দু বছরে ওর সাথে তিন চার বার দেখা হয়েছে আর ফ�োনে কথা হয় প্রায়ই। খুবই ভাল লাগে ভাবতে যে এর য�োগসূ ত্র তুমি। র�োজই ত�ো ত�োমার সাথে মনে মনে কথা বলি বা চিঠি লিখি। কি জানি সেসব চিঠি ত�োমার কাছে পৌঁছ�োয় কি না। তবে এটুকু জানি যে তুমি যেখানেই থাক�ো আমাদের জন্য শুভকামনাই করছ�ো ও করবে। এতবার ইচ্ছে করে কথা বলি বা গলাটা শুনি, কিন্তু আটকে যাই। ত�োমার এখনকার বাসা ক�োনখানে তা ত�ো জানা নেই। নাহলে নিশ্চয়ই ফ�োন করে নিতাম। শেষের দিকটায় তুমি যেরকম শারীরিক অবস্থায় ছিলে সেটা আমি স্বচক্ষে দেখিনি, কিন্তু শুনেছি। আমি জানি ঐ অবস্থায় বেঁচে থাকাকে জীবন বলে না। ত�োমার নিশ্চয়ই খুব কষ্ট হ�োত, তাই তুমি শরীর ত্যাগ করে মুক্তির পথে পাড়ি দিলে আনন্দদার সাথে দেখা করবে বলে। আমরা ত�োমাকে যতই খুঁজে বেড়াই তুমি এখন সেসব মায়াবন্ধনের ঊর্দ্ধে। তাই মনে মনে ত�োমাকে চিঠি লেখা বা ত�োমার কথা ভাবা ওইটুকুই আমাদের পক্ষে সম্ভব। আচ্ছা মঞ্জুলিকাদি, তুমি কি ওখানেও ভারত ও জাপানের মিলন ঘটিয়েছ�ো? খুব জানতে ইচ্ছে করে। আজ এখানেই রাখি। আবার চিঠি দেব কেমন? প্রণাম নিও ও ভাল থেক�ো --- ভাস্বতী

Durga Puja 2019

95


96

Anjali

www.batj.org


BENGALI ASSOCIATION OF TOKYO, JAPAN (BATJ) STATEMENT OF ACCOUNT FOR 2018-2019 INCOME ITEM

EXPENDITURE AMOUNT

ITEM

Opening Balance on Aug 18 2018 (from 2017-2018)

Yen 1,004,468 Expenses for Durga Puja, Anjali printing, Saraswati Puja, Rabindra Break up – Jayanti , Community meetings,  In bank a/c Yen 518,768 Storage of Durga Pratima,  Cash in hand Yen 485,700 Hall rentals, Rehearsals etc. Collection by subscriptions, Yen 2,200,577 Closing balance on Aug 22, 2019 pronami, advertisements in (carried forward to 2019-2020) Anjali etc.  In bank a/c  Cash in hand

TOTAL

Yen 3,205,045

TOTAL

AMOUNT Yen 2,110,249

Yen 1,094,796 Break up – Yen 593,425

Yen 501,371

Yen 3,205,045

SINCERE THANKS FROM

Bengali Association of Tokyo, Japan www.batj.org

For assistance on the occasion of Durga Puja on October 21, 2018

- Mr. and Mrs. Ranjan Das for providing fruits and sweets for the Puja - Mr. and Mrs. Partha Kumar for providing sweets for the Puja - Mr. and Mrs. Biswanath Paul for providing fruits and flowers for the Puja - Mr. and Mrs. Prabir Patra for providing flower bouquets for Pratima decoration - Mr. and Mrs. Debraj Dasgupta for providing flowers for the Puja - Mr. and Mrs. Amit Roy fpr providing NamKeens for the Puja - Mr. and Mrs. Neelanjan Bhattacharjee for providing sweets for the Puja

For assistance on the occasion of Saraswati Puja on February 9, 2019

- Mr. and Mrs. Biswanath Paul for providing fruits and flowers for the Puja - Mr. and Mrs. Ranjan Das for providing sweets for the Puja - Mr. and Mrs. Partha Kumar for providing sweets for the Puja - Mr. and Mrs. Amit Roy for providing tilchikki for the Puja - Mata Amritandamayi Japan Center for providing flower bouquets for Pratima


May Maa Durga’s Blessings Bring Peace and Harmony to All - A well wisher Carica Celapi PS-501 Carica is a powerful and delicious food supplement made of fermented papaya. Papaya has been called “golden tree of life” and has been a favourite substance from ancient times. Carica is produced from papaya by excellent world renowned Japanese fermentation technology. Carica Celapi PS501 is made from unripened papayas which have been selected carefully. After taking the skin, seed and juice from the fruit without oxidation, they are fermented and ripened, then dried naturally. There is no process of extracting just one component or chemical treatment. Also there are no additives such as vitamins or calcium. The manufacturing process is natural and holistic. a. b.

“Carica Celapi PS-501” , 100 sachets (3grams each) 25,000yen “Carica Celapi PS-501” , 40 sachets (3grams each) 12,000yen

For more information or order 0120-65-8631(free call)

Free catalogs (in Japanese) is available

Amrit, Inc. ( 有限会社アムリット )

Ayurveda, Jyotish, Gandharva-veda, Amrit Kalash

〒510-0815 三重県四日市市野田1-2-23 TEL 059-340-5139 FAX 059-340-5175 E-mail: info@amrit.jp URL: http://www.amrit.jp

アーユルヴェーダ インド占星術 太古インド音楽 ヴェーダ天文台

Amrit, Ghee, Incenses, Aroma oils, Herbal teas, Spices, Ancient Indian Music CD, Books, Indian Astrology, Ayurveda, 本物研究所代理店


Roppongi Hills Hillside B1 03-6438-1177

Tokyo Hibiya Midtown 2F 03-6550-8765 (Newly Opened)


MOTI AKASAKA Wishes A Very Happy Durga Puja

MOTI AKASAKA, Near T.B.S 2-14-31-3F Akasaka, Minato-ku, Tokyo TEL (03) 3584-6640, 6649

TRY OUR SOUTH INDIAN SPECIALITIES

DELHI HEIGHTS

(A Branch of Moti Akasaka)

106

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2019

107


108

Anjali

www.batj.org


Wishing All A Very Joyous Durga Puja - Amitava From Amitava Ghosh (080 3177 6563) www.batj.org

Durga Puja 2019

109


Celebrating 32 years in Travel Business!

インドのことなら北から南までお客様の要望に応えてオーダーメイドの旅行をアレンジします。 Please contact us for any travel assistance for India such as Air tickets, Trains, Hotels, Transport, Guides. COURSE EXAMPLE

※This is case of 2persons tour and cost given below per person basis.

EXCURSION PLAN

★AGRA Excursion

INR.6,500~(Visit Taj mahal & agra fort)

★Delhi Full day sightseeing

★JAIPUR Excursion

INR.3,500~

INR.8,500~(Visit City palace,

Jantar mantar,Hawa mahal,Amber fort)

※Include Guide,AC Car, Lunch

※Include Guide,AC Car, Lunch

※Include Guide,AC Car, Lunch Rs.800 Extra

STAY PLAN※Cost is till 29 SEP Departure

Delhi CAR Charter

※Include Guide,AC Car, Lunch Please ask us detail schedule. ★ VARANASI & AGRA 3Days

★AGRA&JAIPUR 3Days

★Haridwar&Rishkesh 3Days

INR.22,000~(Use 4★ hotel) INR.19,500~(Use 4★ hotel)

INR.19,000~(Use 4★ hotel)

* Suzuki Desire class (2Seater)INR.1,500~

* Toyota Inova (4Seater)INR.2,200~ ※Cost is for in Delhi,8Hrs. Free use in Delhi until 80km.

※Air & Night train use,SPOT guide ※AC Car & through guide ※AC Car & through guide

Per room Per night with Breakfast Single:INR.2400~

PALS INN Hotel

Twin:INR.2600~

We also operate a standard hotel with convenience and cleanliness in center of Delhi. 30Minuts by car from New delhi Airport / 6Minuts on foot from Patel nagar Metro station. Total 23Rooms (Facility) Wi-fi Free, All room AC, TV, Coffee maker, Bath towel, Soap, Shampoo, Money Exchange, 1 Mineral water per person service! Meeting rooms are also available, you can use only meeting room for 20persons. Banquet room can accommodate 60person for parties please contact us!

TOKYO OFFICE

DELHI OFFICE

501, Dai2 Toei Bldg, 1-17-1 Nishi Gotanda,

#303-304, Padma Tower – 1, Rajendra Place, New Delhi

Shinagawa-ku, Tokyo 141-0031

TEL : 11-41264126

TEL : 03-3495-2829 FAX : 03-3495-2890

MOB : 9810125655 / 9810609989

WEB : www.vaishalitravels.com

E-Mail : vaishalitrvls@gmail.com

110: info@vaishalitravels.com E-Mail

Anjali

www.batj.org


With Best Wishes

Please contact us for: 1) Remittance Services

2) Deposit Services

3) Trade-related Services

4) Foreign Exchange

Tokyo Marunouchi Nakadori Bldg. 2-2-3, Marunouchi Chiyoda-ku, Tokyo 100-0005

Osaka Nihon Seimei Sakaisuji Honmachi Bldg. 1-8-12, Honmachi Chuo-ku, Osaka 541-0053

Phone: 03-3212-0911 e-mail: boitok@gol.com

Phone: 06-6261-4035 e-mail: boi.osaka@bankofindia.co.in

Please visit us at http://www.boijapan.com


Profile for sanchan

Anjali 2019, BATJ  

Anjali is the yearly Tokyo Durga Puja magazine. It is a multilingual literary magazine published during Durga Puja (one of the most importan...

Anjali 2019, BATJ  

Anjali is the yearly Tokyo Durga Puja magazine. It is a multilingual literary magazine published during Durga Puja (one of the most importan...

Advertisement