__MAIN_TEXT__

Page 1


HEARTIEST FELICITATIONS ON DURGA MATA POOJA CELEBRATIONS

ESTABLISHED IN 1921, ICIJ IS THE OLDEST ASSOCIATION OF THE

INDIAN DIASPORA. AFFILIATED WITH ALL MAJOR COMMERCE AND INDUSTRY INSTITUTIONS OF INDIA AND JAPAN. THE MEMBERSHIP COMPRISES SEVERAL OF THE LARGEST CORPORATE GROUPS. ICIJ

ENGAGES AS AN APEX BODY FOR ORGANIZING INDIA TRADE FAIRS,

EXHIBITIONS, SEMINARS AND SYMPOSIUMS.INDO-JAPANESE TRADE, ECONOMIC AND INVESTMENT POTENTIAL HAS EXPANDED

SIGNIFICANTLY, AND ICIJ OFFERS DEPENDABLE COMPREHENSIVE

SERVICES TO JAPANESE MANUFACTURERS, GENERAL CONTRACTORS AND OTHER INVESTORS FOR FRUITION OF THE INDIA-JAPAN ECONOMIC AGENDA CHAIRMAN: MR. RYUKO HIRA,

PRESIDENT: MR. JAGMOHAN S CHANDRANI,

DIRECTORS: MR. A.S. LAKSHMINARAYANAN, MR. V. SRIRAM, MR. NITIN HINGARH, MR. MARKUS, MR. VASHDEV RUPANI, MRS. POPI KURODA, MR. SUBRAMANIA NATARAJAN,

INTERNAL AUDITOR: MR. S. K. RANGWANI,

HON. TREASURER: MR. DEEPAK MUKHI

SEVEN SPECIALISED COMMITTEES, GOVERNED BY: INFORMATION, COMMUNICATIONS & TECHNOLOGY MR. V. SRIRAM AND MR. HARSH OBRAI, FOOD AND AGRICULTURE MR. NITIN HINGARH AND MRS. POPI KURODA, TOURISM AND TRAVEL INDUSTRY MR. MARKUS, EDUCATION AND CULTURAL MS. NIRMAL JAIN, LEGAL AND REGULATORY AFFAIRS MR. VEERASURESHKUMAR VEERAPPAN, KANSAI REPRESENTATIVE MR. KIRAN SETHI, NORTH JAPAN REPRESENTATIVE MR. DILIP MANSUKHANI 24-2-306 Yamashita-cho, Naka-ku, Yokohama 231-0023 Tel: 045-662-1905 Fax: 045-263-8109 Web: www.icij.jp Mail: info@icij.jp


Anjali

Durga Puja Program October 21, 2018 Puja Anjali Prasad & Lunch Cultural Program Puja & Arati

… … … … …

11:30 AM 12:30 PM 1:00 PM 2:15 PM 5:30 PM

Cultural Program Durga Vandana

Aparna Karmokar, Biswanath Paul, Debjani Ray, Krishna Das, Meeta Chanda, Purnima Ghosh, Rita Kar, Sangeetha Krishnamurthy, Samudro Dutta Gupta, Sanjib Chanda, Snehasish Dutta

Sax Jazz

Nishant Chanda

Folk Beats of India

Children: Abheek, Akanksha, Ananya, Arnab, Arya, Ashmita, Atreyee, Ayana, Gandharbee, Mahika, Rhitwikaa, Zinniya Dancers: Ipsita Biswas, Mandira Bhowmick, Priya Panda, Priyanka Basu, Sumana Kar, Sumita Chandra, Tanaya Debnath, Tuli Patra Singers: Amit Roy, Biswanath Paul, Chaitali Paul, Debraj Dasgupta, Kalapi Roy, Meeta Chanda, Sanjib Chanda, Sanskrita Bhattacharjee, Sayantani Dasgupta, Tabla : Masanori Hisamoto Guest Performer: Chitra Govindarajan Natyanjali Online members - Ishvaryaa Chandan, Aayush Chandhan, Nithika Nithyanandan, Ridhikka Nithyanandan IISJ Yokohama Students

Odissi Performance

Durga Vandana by Kazuko Yasunobu and members of Studio Odissi

Japanese and English Pops

Reimi Dasdeb and group

Stage, Light and Sound

Manas Mitra, Prabir Patra, Partha Kumar, Pranesh Kundu, Rita Kar, Sanjib Chanda, Sudeb Chattopadhyay

Compered by

Brajeswar Bannerjee, Keiko Chattopadhyay and Nandini Mazumdar

Program coordinated by Rita Kar Venue: Ota Kumin Plaza, Main Auditorium, 3-1-3, Shimomaruko, Ota-ku, Tokyo 146-0092

© Bengali Association of Tokyo, Japan (BATJ). All rights reserved. Disclaimer: The articles compiled in this magazine are personal opinion of the authors and in no way represent any opinion of BATJ.


সম্পাদকীয় ২০১৮ সালে, আমাদের পথ চলা শুরু হয়েছে দুই পরম প্রিয় বন্ধুর আকস্মিক প্রয়াণের বেদনাদায়ক ঘটনার মধ্যে দিয়ে । ১৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ তে অঞ্জলির প্রাক্তন সম্পাদক এবং সকলের প্রিয়, ভ�োলানাথ পাল (ভ�োলা) অল্পদিনের র�োগভ�োগের পর ইহল�োকের মায়া ত্যাগ করে চলে যায় ঈশ্বরের চিরশান্তির আলয়ে । ভ�োলার অকালপ্রয়াণের মাত্র দু মাসের মধ্যে ৭ই এপ্রিল সকলের প্রিয় করবীদি বা ফুইফুই (করবী মুখার্জী) আমাদের মায়া ত্যাগ করে যাত্রা করেন অমৃতধামে । ভ�োলা ২০০০ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ম�োট ৭ বছর সপরিবার জাপানে বসবাস করে । সেইসময়ে BATJ র অন্যতম সদস্য হিসাবে অঞ্জলির সম্পাদনা ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনু ষ্ঠানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে । ভ�োলার আন্তরিকতার দরুন বন্ধুর সংখ্যা ছিল প্রচুর । ভারতে ফিরে যাওয়ার পরেও জাপানের সেই বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক সে ক্ষীণ হতে দেয় নি । ভ�োলাকে এত আকস্মিক হারাবার মানসিক বেদনায় সবাই মর্মাহত । করবীদি প্রায় অর্ধশতক জাপানে বসবাস করে শারীরিক অসু স্থতার কারণে কলকাতায় ফিরে যান । জাপানে ভারতীয় বাঙালিদের সংগঠিত করার ব্যাপারে করবীদির অগ্রণী ভূমিকার কথা সর্বজনবিদিত । ত�োওকিয়�োতে সরস্বতীপুজ�ো, দুর্গাপুজ�ো শুরু হয় যাঁদের প্রচেষ্টায়, করবীদির নাম তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখয�োগ্য । অঞ্জলি পত্রিকার প্রুফরিডিং-এও করবীদির অবদান প্রচুর । বছর দুয়েক আগে পর্যন্ত যেসব বাঙালি ত�োওকিয়�োতে এসেছেন তাদের মধ্যে এমন ল�োক কমই আছেন, যারা করবীদিকে চেনেন না । ভারতীয় বাঙ্গালিরা ত�োওকিয়�োতে কিছু কাল বসবাস করে পৃথিবীর যে ক�োন�ো প্রান্তেই চলে যান না কেন, করবীদির সাথে তাদের য�োগায�োগ বিচ্ছিন্ন হয় নি । করবীদির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমাদের সবাইকে এতটাই প্রভাবিত করেছে যে করবীদির স্মৃতি আমাদের মনের ভিতর সর্বদা জাগ্রত । করবীদি শারীরিক ভাবে অনেকদিনই খুব সু স্থ ছিলেন না । কিন্তু সাংঘাতিক মনের জ�োর ছিল করবীদির চালিকাশক্তি । তাই করবীদির অন্তিম সময় এত দ্রুত চলে আসবে তার জন্য কার�োরই মন প্রস্তুত ছিল না । করবীদি এবং ভ�োলা দুজনেই আমাদের কাছ থেকে অনেক দূ রে চলে গিয়েছেন কিন্তু রয়ে গিয়েছে তাদের অসীম সাহস, অদম্য আশাবাদী জীবনাদর্শনের এক শিক্ষণীয় দৃ ষ্টান্ত । জীবন থেমে থাকে না । আবার শুরু হয় নতুন যাত্রা । করবীদি এবং ভ�োলার জীবন থেকে আহরিত দৃ ষ্টান্তকে অনু সরণ করে যদি আমরা পথ চলতে পারি, তবেই তাদের প্রতি আমরা প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করতে পারব�ো । অঞ্জলির এই সংস্করণে করবীদি ও ভ�োলাকে নিয়ে রয়েছে স্মৃতিচারণের এক ক্ষুদ্র সংকলন । ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি প্রয়াত আত্মার চিরশান্তি । প্রায় তিন দশক পূ র্ণ হতে চলেছে BATJ আয়�োজিত দুর্গা পূ জার । এই তিন দশকে অনেক পরিবর্তন এসেছে প্রধানতঃ দেশের বিভিন্ন জায়গার বার�োয়ারি দূ র্গা পুজ�োর স্টাইলে । মূ র্তির অবয়ব থেকে শুরু করে প্যাণ্ডেল সজ্জা, আল�োক সজ্জায় এসেছে অনেক নতুন ধারণা । থিম পূ জার চল অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে । সব মিলিয়ে পুজ�োকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক নতুন অর্থনৈতিক স্পন্দন । তারই পাশাপাশি এগিয়ে চলেছে ব্যবস্থাপনায় উন্নতি । শুরু হয়ে গিয়েছে ই-আরতি, ই-ভ�োগ, ইত্যাদি নানাবিধ নতুন ব্যবস্থা । ধীরে ধীরে সাবেকী ধরণের পুজ�োর আচার, অনু ষ্ঠানের প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে যাচ্ছে । শুনেছি কলকাতার একটি সংগঠন তাদের পুজ�োর বাজেটের বেশ কিছু টা অংশ রেখে দেয় সারা বছর জনহিতকর কাজকর্মের জন্য । তারই মধ্যে তারা খুঁজে পেয়েছে পূ জার স্বার্থকতা । সামাজিক বিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে উৎসবের রূপ বদলাবে এটাই স্বাভাবিক, বিশেষ করে উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্যে যদি ক�োনও ঘাটতি না থাকে । নানা কারণে উৎসবের এই বদলের হাওয়া এখনও লাগেনি সু দূর জাপানে আমাদের পূ জায় । অত্যন্ত খুদ্র পরিসরে আমাদের পূ জা তাই ঘর�োয়া এবং বার�োয়ারি পূ জার এক মাঝামাঝি রূপ । সবকিছু রই যেন একটু ছ�োঁয়া লাগান�ো উৎসব । সেই উৎসবের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ আমাদের এই অঞ্জলি । এবারও সাধ্যমত চেষ্টা করা হয়েছে অঞ্জলির পাঠকদের কাছে নানান স্বাদের লেখার সম্ভার পৌঁছে দেওয়ার । সময়ের অভাবে অনিচ্ছাকৃত ভূলভ্রান্তি থাকলে তার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী । অঞ্জলির পক্ষ থেকে পাঠকমণ্ডলীকে জানাই আমাদের আন্তরিক শারদীয় শুভেচ্ছা ।। www.batj.org

Durga Puja 2017


Editorial It is very unfortunate that we started year 2018 with two consecutive shocking news. These were the sad demise of two of our beloved friends in quick succession. On 15th February, Mr. Bholanath Pal, former editor of Anjali (fondly referred to as Bhola or Bhola da) left us at a relatively early age for the heavenly abode. Within two months of Bhola’s demise, Ms. Karabi Muherjee (popularly known as Karabidi or Fui Fui) passed away at her Kolkata residence on 7th April, 2018. Bhola lived in Japan with his family for 7 years from 2000 to 2007. During that period, Bhola was an active member of BATJ and made noteworthy contributions to its cause. He became editor of Anjali and took active part in many cultural activities. Due to his cordial nature, Bhola could make many friends. He indeed took care to maintain those relationships, even after his return to Bangalore. Everyone was truly shocked when they heard the news of his demise. After living in Japan for almost five decades, Karabidi had to return to Kolkata due to her fast deteriorating health. She was one of the active founding members of Bengali Association of Japan. Karabidi was one of the most important people who initiated Saraswati Puja and Durga Puja in Tokyo. She also made significant contribution in publication of Anjali magazine through her diligent proofreading. She was well known and very popular in the community. She never lost connection with any Bengali who once resided in Tokyo and no matter where in the world they are currently living. Her unique character was so distinctive that her memory will always be alive with all of us. She was not keeping well for quite some time. However, her strong will force helped her to keep going. As a matter of fact, none of us were really prepared to accept her sudden demise. Karabidi and Bhola are no more with us, but both set examples of indomitable courage and optimism for us to learn. Life never stops. It moves on perhaps with a new turn. Our tribute to them will be meaningful if we can assimilate the learning from their lives in pursuit of our own lives. In this edition of Anjali, we have compiled a special section based on our reminiscences of each of them. BATJ had been organizing Durga puja celebration for almost three decades. During these years, drastic changes had occurred in the style of public celebration of Durga puja, especially in many places in Kolkata. Durga puja today has become a carnival, full of bright lights and festive cheer. New ideas have come up in abundance for making idols, decoration of pandals, and illumination thereof. Overall arrangement based on special theme has gained huge popularity. Puja with all other related activities is now generating a new order of vibrancy in the economy. It is also observed that efficiency of managing these events have gone up over time. E-bhog, and E-arati etc. are becoming common buzzwords these days. Traditional rituals for these occasions are gradually losing their relevance. An organization in Kolkata uses a big portion of their Durga puja’s annual budget for humanitarian services rather than in making extravaganza. According to them, this is the essence of religion and also the best way of serving God. It is quite natural though that the form of festivity will change as the society evolves. This should not be a problem as such if the vibrancy of the festivity remains unaffected. For various reasons, the above trend has not impacted our puja in any way. Due to various constraints, our puja is somewhere in between a cozy family type event and a public celebration. It has a little bit of touch of everything. ‘Anjali’ is an integral part of this festival. We tried our best to compile this edition with different taste of articles. We also tried our best to minimize the error. However, we beg to be pardoned, for any unintentional errors. We convey our heartiest autumnal wishes to all our readers.


Acknowledgements We are pleased to bring out our annual publication of Anjali on this auspicious occasion of Durga Puja celebration. For many years we had been creating a special section in Anjali to discuss topical theme to promote Indo Japanese cultural exchange. There is a small diversion from that practice this year. Due to the sad demise of two of BATJ’s beloved members in the beginning of this year, we decided to dedicate the special section in their memory. New era will begin in Japan next year, and Tokyo Olympic will be held in 2020. These will be major historical events in Japan. We will try to gear up to bring out publications relevant for that time. Anjali’s continuing success is made possible by the overwhelming support of many well-wishers. The Embassy of India in Tokyo extended their gracious support for which we are very thankful. We hope to receive the same patronage in future as well. We would like to thank all advertisers who have sponsored this year’s publication. We thank Amitava Ghosh, Amit Roy, Debraj Dasgupta, Meeta Chanda, Partha Kumar, Sunil Viswanathan and Syamal Kar who on behalf of BATJ helped in collecting advertisements from our sponsors. Every year Anjali is being enriched by the valuable contributions from native speakers of different languages and various cultural backgrounds. We sincerely thank each of them for their support. We convey our gratitude to the contributors who have seen the online version of our publication and sent us their contributions. At different stages of this process, we received valuable advices from many well wishers. We tried to incorporate their suggestions as much as possible. We convey our sincere thanks to all of them.

Editorial Team

Editorial Team Ranjan Gupta Ruma Gupta Sanjib Chanda Meeta Chanda Sudeb Chattopadhyay Keiko Chattopadhyay

Cover Artwork & Collages Meeta Chanda

Articles Integration & Design Sanjib Chanda

Ads Compilation Sudeb Chattopadhyay

(Digital version of Anjali 2018 will be available later at BATJ website.) www.batj.org

Durga Puja 2017

5


Anjali 2018

CONTENTS

Tribute 8 শ্রদ্ধাঞ্জলি (অন্তরে রবে চিরদিন) 9 শ্রীচরণেষু করবীদি   - রুমা গুপ্ত 10 ত�োমার পরশ আসে.......কখন কে জানে   - মঞ্জুলিকা হানারি (দাশগুপ্ত) 11 ভরা থাক স্মৃতিসু ধায়   - শিউলী দাশগুপ্ত 13 「コロビ・ムカルジーさん」に捧ぐ - 神戸 朋子 14 শ্রদ্ধেয় フイフイコロビディ ~敬愛なるコロビ先生へ~ - 奥田 由香 15 কে যায় অমৃ তধামযাত্রী   - ভাস্বতী ঘ�োষ (সেনগুপ্ত) 16 カラビさんとネイバリーの仲間たち - ネイバリー 18 In Memoriam: Fui Fui - Moon Panda 18 My Memories of Fui Fui - Sneha Kundu, Grade X 19 Fui Fui in my life   - Ashmita Paul (Tias) 10yrs 20 Fuifui   - Nishant Chanda, Grade XII  

21 করবীদি   - বিশ্বনাথ পাল 22 সখ্যতা (করবীদি ত�োমায় ভাল�োবেসে)   - সু দীপ্তা রায়চ�ৌধু রী 23 শ্রদ্ধাঞ্জলি (স্মৃতিটুকু থাক) 25 Bholanath Pal (B.N. PAL)    

- Sushmita Pal

- Shoubhik Pal

26 A Meditation on Legacy  

27 জীবনে যত পূ জা হল না সারা, জানি হে জানি তাও হয় নি হারা   - রঞ্জন গুপ্ত 28 না- ভ�োলা কথা   - জয়ন্ত সিনহা 29 Rememberance    - Ranjan Dasdeb 30 My Memory and Friendship with Pal-san     - Yukio Takeyari

6

Feature, Story, Travelogue, Poetry 31 প্রতিমা দর্শন আনন্দমঠে   - মানিকচন্দ্র ঘ�োষ 32 রবীন্দ্রনাথ, জওহরলাল ও ইন্দিরা - প্রজন্ম পরম্পরা   - শ্রীকান্ত চট্টোপাধ্যায় 37 মা   - শুভা ক�োকুব�ো চক্রবর্তী 38 সেলু লয়েডের চিরুনি   - কাজুহির�ো ওয়াতানাবে 40 রবীন্দ্র রচনায় ব�ৌদ্ধধর্মের প্রভাব   - আলপনা ভট্টাচার্য্য 42 বাঙ্গালী ভদ্রল�োক   - তপন কুমার রায় 44 দু টি পান্থশালা   - অনু বাদক : চন্দন আঢ্য 46 অনন্ত প্রেম   - শুভা আঢ্য 48 ভায়রা-ভাই   - গ�ৌতম সরকার 50 অসু রের অট্টহাসি   - শান্তনু চক্রবর্তী 51 বটবৃ ক্ষ   - সু ব্রত বণিক 52 পাঁচালীর পথ   - শঙ্কর বসু 52 দু নিয়া - ক�ৌশিক ভট্টাচার্য্য

Anjali

www.batj.org


53 Swami Vivekananda and Japan

- Swami Medhasananda 57 Illuminated Path and The True Devotee - Suneel Bakhshi 61 A Heartfelt tribute to Maa - Sayantani Dasgupta 62 The Nose Ring - Tapan Das 64 Some Musings Some Rumblings - Sougata Mallik 66 The Extended Family - Amit Roy 67 The Bengali Bou - Nivedita Singh 68 The Homecoming - Utsa Bose 69 The ‘New’ Bank of Japan - Sanjeev Gupta 70 Firdous - Udita Ghosh 70 Veiled Splints - Soumitra Talukder

71 インド文化と出会って - 佐々木みどり 72 全ての困難を取り除く御方 - 新田 ゆう子 73 池の水全部抜く大作戦 日本VSインド - 川満 恵理菜 74 心は最悪の友にもなり、心は最高の親友にもなる - 佐藤 洋子 76 ―タゴール記念会発足60周年記念― - 平井 誠二、星原 大輔 80 ध्यान का महत्व - पूर्णिमा शाह 81 जापान का जादू - नंदिनी मजूमदार 82 बंदी बीर - मनमोहन सिंह साहनी 84 रं गों की पहचान - अमिता जैन 84 नक़ाब - सारिका अग्रवाल

Children's Section 85 Raichak on the Ganges (Ffort)

- Abheek Dutta, Grade IV 86 Secret Agent Man - Arnab Karmokar, Grade VI 88 Being a teenager - Akanksha Mukherjee, Grade VIII 89 Everyday, a New Image - Ananya Sharma, Grade IX

91 Drawings

96 Photography 98 Arts 100 Anjali Editorial Team

www.batj.org

Durga Puja 2018

7


শ্রদ্ধাঞ্জলি

(অন্তরে রবে চিরদিন)

স্বর্গীয়া করবী মুখ�োপাধ্যায় প্রয়াণ ৭ই এপ্রিল , ২০১৮

প্রয়াত করবী মুখ�োপাধ্যায় (সকলের প্রিয় করবীদি বা ফুইফুই) উনিশশ�ো ষাটের দশকে জাপানে আসেন । প্রায় অর্ধশতক জাপানে বসবাস করেন । অনু বাদ, শিক্ষকতা, এবং দ�োভাষীর কাজ ছিল তাঁর মূ খ্য পেশা । তিনি Tokyo University of Foreign Studies এ চাকুরী করেছেন । এছাড়া জাপানের বিদেশ মন্ত্রণালয়ে এবং আর�ো কিছু প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ভাষার শিক্ষকতা করেন । জাপান পুলিস কর্তৃপক্ষের দ�োভাষী হিসাবেও কাজ করে প্রচুর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন । তিনি য�ৌথ প্রচেষ্টায় প্রখ্যাত সাহিত্যিক কেনজি মিয়াযাওয়ার কিছু গল্পের বাংলা অনু বাদ করেন । Late Karabi Mukhopadhyaya (fondly referred to as Karabi-di or Fui Fui) came to Japan in 1960’s. She lived in Japan for nearly five decades. She was mainly engaged in translation, teaching, and interpretation. She worked for Tokyo University of Foreign Studies. She was also an empanelled teacher in Ministry of Foreign Affairs, Japan., and few other language teaching organizations. Besides these she had vast experiences of judicial interpretation for the police department of Japan. Few years back she coauthored a compilation of Bengali translation of Kenji Miyazawa’s short stories.


শ্রীচরণ েষু করব   স্মৃতিবিজড়িত জিনিস জমিয়ে রাখার একটা বাক্স আছে আমার, যার মধ্যে আমাকে লেখা ত�োমার চিঠিও আছে । সেগুল�োর মধ্যে কিছু চিঠির হয়ত�ো উত্তর দেওয়া হয় নি । তবে আজ বসেছি লিখতে, যদিও জানি এ চিঠির উত্তর আসবে না ক�োন�োদিন । ত�োমার সাথে প্রথম চাক্ষুষ দেখা হওয়ার দিনটির কথা পরিষ্কার মনে আছে আমার । ১৯৮৩ সালের ৯ই আগস্ট জাপানে আমাদের প্রবাস জীবন শুরু হয় দিদিভাই (শিউলী দাশগুপ্ত), বাবলু দা (কল্যাণ দাশগুপ্ত) এবং পান্তু ও কিকুর সাথে একই বাড়িতে । ১০ই আগস্ট বিকেলের দিকে শুনি বাড়ির বাইরের সিঁড়িতে পাখীর কিচিরমিচির আওয়াজ । দিদিভাই বলে উঠলেন, “ওই দ্যাখ, করবী আসছে” । দরজা খ�োলাই ছিল, তুমি এসে ঢুকলে, বয় কাট চুল, পরণে শাড়ি সামনে আঁচল টেনে ক�োমড়ে গ�োঁজা । তখন শাড়িই ছিল ত�োমার প�োষাক । বু ঝলাম পাখীর ডাকটা ক�োথা থেকে আসছিল । প্রথম দেখা, তবে ত�োমার সাবলীল ঘর�োয়া আন্তরিকতায় মুহূর্তের মধ্যে আপন ক’রে নিয়েছিলে । তখন তুমি প্রায় প্রতিদিন আসতে আমাদের বাড়িতে । অতিথি অভ্যাগততে ভরা থাকত�ো সে বাড়ি, গভীর রাতের আগে সদর দরজা লক্‌করা হ�োত না । রান্নাবান্না শেষ করার জন্য যখন সময়ের সাথে পাল্লা দিতাম আমি আর দিদিভাই, তখন তুমি চলে আসতে মুশকিল আসান হয়ে । চপ গড়ান�োয় হাত লাগাতে । প্লেটে সু ন্দর ক’রে স্যালাড কেটে সাজিয়ে দেওয়ার ভারটা তুমি নিজের কাঁধেই তুলে নিতে প্রতিবার । অবাক হয়ে দেখতাম ভাজার জন্য মেশিনে কাটার মত নিখুঁত ভাবে ঝিরি ঝিরি ক’রে আলু কাটতে । তুমি ছু রি দিয়ে শসা কেটে তরকারি বানাতে এমন যে ল�োকে পটলের ডালনা বলে ভুল করত�ো । ত�োমার পরিপাটি কাজ আর নৈপুণ্যের এমন আরও অনেক দৃ ষ্টান্তের গুণমুগ্ধ ছিলাম আমি, যেমনটি ভাল লাগত�ো ত�োমার সু ন্দর হাতের লেখা আর শ্রদ্ধা করেছি ত�োমার বাংলা বানানের জ্ঞানকে । “অঞ্জলি” পত্রিকার প্রুফরিডিং-এ যার পরিচয় পেয়েছি বারবার । কথা হচ্ছিল অতিথি অভ্যাগত আর রান্নাবান্না নিয়ে । করবীদি, আমি লক্ষ্য করেছি, তুমি যে অনেক গল্প ক’রে আসর জমাতে তা নয়, কিন্তু হাসির ফ�োয়ারা ছু টত�ো ত�োমার টুক্‌টাক্‌মন্তব্যে । জাপান নয়, কলকাতার একটা ঘটনা মনে পড়ছে । স্কুল পড়ুয়া রনি’র সেবার কলকাতায় পৈতে দেওয়া হ�োল । তুমিও ছু টিতে তখন কলকাতায় । পুজ�ো, পৈতে ইত্যাদি শেষ হওয়ার বেশ কিছু ক্ষণ পরে তুমি আমাকে ডেকে বললে, “ছেলেটাকে খেতে দিস্‌নি? ও ক্ষিধের চ�োটে ম�ৌরি খাচ্ছে” । রনি সত্যিই ক্যাটেরারের গুছিয়ে রাখা বাটি থেকে ম�ৌরি তুলে খাচ্ছিল । ক্ষিধের তীব্রতা ব�োঝাতে ত�োমার ওই দৃ ষ্টান্তের কথা ভাবলে এখন�ো খুব হাসি পায় । করবীদি, তুমি আড্ডার আসরে এক ক�োণায় বসতে চা সিগারেট ও কিছু পছন্দসই স্ন্যাক্স নিয়ে, পরবর্তীকালে এর সাথে যু ক্ত হয়েছিল বিয়ার । খাওয়ার মধ্যে চা-সিগারেটই প্রধান, আর যা খেতে তা সামান্য । সামান্য ঘুম । অথচ কি অসম্ভব কর্মঠ ছিলে তুমি তখন, সারাদিন প্রচন্ড পরিশ্রমের পরও চন্‌মনে টগ্‌বগে । এই প্রাণশক্তির উৎস কী ছিল করবীদি? হয়ত�ো বা উৎস ছিল ত�োমার তখনকার দারুণ ইতিবাচক মন, সহ্যশক্তি আর সবের মধ্যে থেকে কিছু না কিছু আনন্দ খুঁজে নেওয়ার অভ্যেস । মনে পড়ে ত�োমার সবসময় খুব প্রিয় ছিল একান্তে বসে ছ�োটবেলার গল্প করা । কত রকম গল্প । ত�োমার আর ভাইয়াদার একসাথে মিলে দু ষ্টুমি করার গল্প । ন’দির বন্ধু বিভাদিকে ত�ো গল্প শুনে শুনেই চিনে ফেলেছিলাম । ত�োমার সাথে নিরিবিলি আড্ডা

www.batj.org

- রুমা গ

দেওয়ার একটা সু ন্দর সু য�োগ হয়েছিল বছর কয়েক আগে ২রা জানু য়ারী ত�োমারই বাড়ির কাছে এক রেস্টুরান্টে যা চিরকাল আমার সু খস্মৃতি হয়ে থাকবে । ত�োমার গল্পের ঝুলিতে পরে যু ক্ত হয়েছিল জাপানের অভিবাসন দপ্তর ও পুলিশে ত�োমার দ�োভাষী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতার কথা । আমি বলতাম, “করবীদি লিখে ফ্যাল�ো । কয়েক খন্ডের বই হয়ে যাবে” । তুমি বলতে, “ইচ্ছে ত�ো করে, কিন্তু আঙু লের কি দশা দেখেছিস, বেঁকে গেছে” । তা ঠিক । শুধু আঙু ল নয়, শরীরে আরও কত যন্ত্রণা নিয়ে কাটিয়েছ তুমি । সহ্য করেছ�ো পর পর অপারেশনের কষ্ট । প্রমাণ দিয়েছ অপরিসীম সহ্যশক্তি আর মন�োবলের । কয়েক বছরের মধ্যে ত�োমার প্রচন্ড প্রাণশক্তি আর পরিশ্রম করার ক্ষমতা কমে আসতে দেখলাম চ�োখের সামনে । যে তুমি এক সময় হাঁটতে এমন গতিতে যে অন্যদের প্রায় দ�ৌড়ে পাল্লা দিতে হ�োত, সেই ত�োমাকে দু এক পা চলার জন্য পরে প্রাণান্তকর কষ্ট সহ্য করতে হ�োত । আমাদের দু র্গাপূ জায় বহু বছর পর্যন্ত নিমন্ত্রণ জানিয়ে প্রত্যেক পরিবারের নামে নামে নিজে হাতে কার্ড লিখে প�োস্ট করতে তুমি । পুজ�োর দিন সকালে হল’এর দরজা খ�োলার অনেক আগেই পৌঁছে যেতে, সারা দিন কত কাজ করতে । সেই ত�োমাকে যে বছর লক্ষ্য করলাম হল’এর এক ক�োণায় চেয়ারে বসে আছ চুপচাপ, মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল । অবস্থা এতটা খারাপ হয়ে পড়ার আগেও তুমি সবকটা রিহার্সালে উপস্থিত থাকতে, হুইসিল্‌বাজিয়ে উৎসাহিত করতে । যত দিন সম্ভব হয়েছে বাঙালিদের সব অনু ষ্ঠান ও সমাবেশে তুমি অভিভাবকের মত উপস্থিত থেকেছ । সমাজ ও সম্প্রদায়ের প্রতি এমন কর্তব্যব�োধ ক’জনের থাকে? এই কর্তব্যব�োধই ত�োমাকে চালিত করত�ো সবার সাথে য�োগায�োগ রাখতে, সবার খ�োঁজখবর নিতে তা সে জাপানেই হ�োক বা অন্য ক�োন�ো জায়গায় । এবছর মার্চ মাসে কলকাতায় ত�োমার সাথে দেখা ক’রে যখন ফিরছি, তুমি বলেছিলে, “টুনিয়া, মাঝে মাঝে ফ�োন করিস্‌” । কথা দিয়েছিলাম করব�ো, কিন্তু সেই কথা আর রাখতে না পেরে অপরাধব�োধে বিদ্ধ হচ্ছি । করবীদি, তুমি আত্মীয় আর অনাত্মীয়ের মধ্যে পার্থক্য কর�োনি । কিন্তু ত�োমার ঔদার্যের প্রতিদান দিতে পারলাম কই । সম্প্রতি কাওয়াসাকি থেকে হ�োদ�োগাইয়া চলে এসেছি আমরা । জিনিসপত্র গ�োছাতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে ত�োমার ব্যবহার করা একটা অ্যাশট্রে । ‘এটা রেখে আর কী হবে’ মনে ক’রে ফেলেই দিচ্ছিলাম । তারপর কি ভেবে সঙ্গে নিয়ে এসেছি । বাড়ির উল্টো দিকে পর পর কয়েকটা দ�োকান । একদিন লক্ষ্য করলাম সেগুল�োর মধ্যে একটি হচ্ছে সিগারেট বিক্রির পুরন�ো ধাঁচের ছ�োট দ�োকান । অ্যাশ্‌ট্রেটাও সঙ্গে এসেছে, আছে খাওয়ার ঘরের সাথে এক চিলতে ছাদ । তুমিও যদি এখানে থাকতে এই ছাদই হ�োত ত�োমার সিগারেট খাওয়ার জায়গা । উপকরণ সবই আছে, নেই শুধু তুমি । আছে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধ’রে গড়ে ওঠা সম্পর্কের অজস্র স্মৃতি । প্রিয়জনের মৃ ত্যু প্রসঙ্গে তুমি বলতে, “ক�োথাও চলে যায় না ওরা, আমাদের মনের মধ্যেই বেঁচে থাকে চিরকাল” । এই কথারই পুনরাবৃ ত্তি করেছিলে ভ�োলা’র (ভ�োলানাথ পাল) মৃ ত্যু প্রসঙ্গেও । করবীদি, ত�োমাকেও সায়�োনারা বলব�ো না, কারণ তুমিও আমাদের মনের মধ্যে বেঁচে থাকবে চিরকাল । প্রণাম নিও । ইতি রুমা ।

Durga Puja 2018

9


��������������������������������   করবীর কথা ভাবতে বসে কবে ক�োথায় ওর সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়েছিল চিন্তা করতে করতে মনে পড়ে গেল ১৯৭০ সালের কথা । সেটা দু র্গাপুজার সময় । এখানেও শরতের আকাশে মেঘের ভেলা । সাদা কাশফুলের মেলা এদিকওদিক । শিউলিফুলের গন্ধ ভেসে আসে সাতসমুদ্রের ওপার থেকে । চারদিকে পূ জ�োর পরিবেশ মনটাকে উদাস করে দেয় । উন্মনা মন দেশের আপনজনদের কাছে ফিরে যেতে চায় । তখন ট�োকিয়�োতে হাতেগ�োনা বাঙালী তাই পূ জ�োর ক�োনও পাটও নেই । পূ জ�োর সময়টাকে ঘিরে সেই হাতেগ�োনা ক'জন বাঙালীদের বাড়িতে বাড়িতে একসঙ্গে জড়�ো হয়ে খাওয়া-দাওয়া আর গল্পগুজব করা অনেকটা রেওয়াজের মত ছিল তখন । হইচই করে দেশমুখ�ো মনটাকে একটু ভুলিয়ে রাখা আরকি! সেদিনও এক বাড়িতে আমরা সবাই জুটেছি । সে বাড়িতে তখন এক পারিবারিক বন্ধু করবী ছু টি কাটাতে জাপানে বেড়াতে এসেছে । এখানেই পরিচয় হয় ওর সাথে । এখনকার ট�োকিয়�োর বাঙালীরা করবীর যে চেহারা দেখে অভ্যস্ত, তার থেকে অনেকটাই আলাদা ছিল তখন ও । ছিপছিপে সাধারণ বাঙালী চেহারা । সাদা শাড়ী পরা । চ�োখে দামি ফ্রেমের চশমা, কাঁধ অবধি কার্ল করা চুল । বেশ আধু নিকা আর স্মার্ট । কথাবার্তায় ক�োন আড়ষ্টতা নেই । প্রথম আলাপেই মনে হ�োল কতদিনের পরিচয় আমাদের । সেই পরিচয় থেকে আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব । আমাদের দু জনের বয়সটা কাছাকাছি হওয়াতে স্বভাবতই বন্ধুত্বটা গভীর হতে বেশি সময় লাগেনি । আমার তখন পিঠ�োপিঠি ছেলেমেয়ে- ২বছরের ছেলে, মেয়ের বয়স কয়েক মাস । তাদের রেখে বাইরে বের�োবার উপায় নেই । করবী বাচ্চা ভীষন ভালবাসত�ো সেকথা ট�োকিয়�োর সবারই জানা । সেকারণে প্রায়ই আমাদের বাড়িতে আসত�ো আর বাচ্চাদের সঙ্গে হইহই করে যেত । আমার ছেলে বাড়িতে অপরিচিত কেউ এলে সহজে কাছে ঘেঁষত�ো না- একটা আঙু ল মুখে দিয়ে দূ র থেকে তার গতিবিধি লক্ষ করে তারপরে ঠিক করত�ো কাছে যাবে কি যাবেনা । কিন্তু করবীর ডাকে বিনাদ্বিধায় একবারেই ওর কাছে গেল অর্থাৎ ওকে খুব পছন্দ হয়েছে । ট�োকিয়�োর বাচ্চাদের কাছে করবী 'ফুইফুই' নামেই বেশি পরিচিত । এই নাম আসলে আমার ছেলের দেওয়া । আমার স্বামী সিগারেট খেতেননা । আমার ছেলে ছ�োটবেলায় সিগারেট চিনত�ো না । একদিন করবীকে সিগারেট খেতে দেখেছিল । পরে একদিন করবী আমাদের বাড়িতে এসেছে, আমি তখন অন্য ঘরে কি একটা কাজে ব্যস্ত । ছেলে এসে আমার শাড়ীটা টেনে ধরে কি যেন বলতে চায় । ও তখন অত কথাও বলতে পারেনা সবটা ইশারা ইঙ্গিতে সারে ।। আমি জিজ্ঞাসা করি কি? মুখের কাছে আঙু ল এনে ইশারাতে আস্তে আস্তে বলে 'ফুইফুই' । 'ফুইফুই'

10

- মঞ্জুলিকা হানারি (দাশগ

শুনে আমি একটু অবাক হয়ে ব্যাপারটা জানার জন্য বাইরের ঘরে এসে দেখি করবী । আমি করবীকে এই কথা বলাতে ও খুব হাসল�ো । খুব পছন্দ হয় নামটা । তারপর থেকে সব বাচ্চাদের কাছে 'ফুইফুই' নামেই পরিচয় দিতে ভালবাসত�ো । ও জাপানে বেড়াতে এসে থেকে যাবার সিদ্ধান্ত নেয় । তাই আস্তে আস্তে কাজ খুঁজতে শুরু করে । তখন সকলেই যে যেমনভাবে পেরেছে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে । আমার স্বামীর বন্ধুদের বিভিন্ন গ্রুপ ছিল । ক�োন গ্রুপ ইংরিজি পড়তে চায়, আমাকে এসে বলে । কিন্তু তখন ছ�োট বাচ্চাদের রেখে নিয়মিত ক�োন কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলনা । তখন করবীর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছি । আবার ক�োন গ্রুপ ছিল যারা ভারতীয় সংস্কৃতি, রীতি, প্রথা ইত্যাদি জানতে আগ্রহী । তখন ভারতবর্ষ বলতে এদের ধারণা ছিল 'খুব গরম' আর 'কারাই (ঝাল)কারি'র দেশ । তাই ভারতবর্ষ নিয়ে কিছু বলার ব্যাপারে আমারও খুব উৎসাহ ছিল । কিন্তু সবসময় যাওয়া সম্ভব হ�োতনা । সে'সব সময় করবীর শরণাপন্ন হয়েছি । তবে এদেশে এসে আমরা সবাই যে সমস্যার সম্মু খীন হই, সেই ভাষা সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে ওকেও । কিন্তু তার ম�োকাবিলা করতে নিজের চেষ্টায় ইউনিভার্সিটি থেকে জাপানী ভাষা শিখে পরে বিভিন্ন কাজে য�োগ দিয়েছে । ইতিমধ্যে ট�োকিয়�োতে দু র্গাপুজাও শুরু হয় । রান্নাঘরের দায়িত্ব নিজে থেকেই ঘাড়ে তুলে নিয়ে ওখানেই থাকত�ো । যদি কারুর ওকে দরকার হ�োত তবে রান্নাঘরেই ওকে পেত�ো । পুজ�োর দিনে বাচ্চাদের সামলান�োটাও ওর একটা কাজ ছিল । যত দু ষ্টু বাচ্চাই হ�োক ওর কথা শুনত�ো । এসব করতেই ভালবাসত�ো । অসম্ভব মনের জ�োর ছিল করবীর । শরীরের বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও একমাত্র মনের জ�োরে কাজ করে গেছে যতদিন জাপানে ছিল । তারপর ফিরে গেল দেশে নিজের বাড়িতে । আর সেখান থেকে এমন এক দেশে যেখানে গেলে ফেরার ঠিকানা কারুর কাছে থাকেনা । আজ এমনভাবে পূ জ�োর ম্যাগাজিনে ওর কথা লিখতে হবে মানে স্মৃতিচারণ করতে হবে ক�োনদিন ভাবতেও পারিনি । এখনও যেন মেনে নিতে পারিনা । আসলে আমরাত�ো কাছাকাছি বয়সের ছিলাম ওর এই হঠাৎ করে চলে যাওয়াটা বড় ধাক্কা দিয়েছে মনে । এখনও কেমন অবাক লাগে । ...সে চলে গেল, বলে গেলনা । সে ক�োথায় গেল ফিরে এলনা... যেখানেই আছ�ো, ভাল থেক�ো করবী । সেই ১৯৭০ থেকে এতগুল�ো বছর কত সু খ দু :খের সাথী আমরা সেকথা ভুলব�োনা ক�োনদিন । তুমি আছ, থাকবে আমাদের মনে, সবসময় । 

Anjali

www.batj.org


ভরা থাক স্মৃতিসুধা   করবীর কথা বলতে গেলে মনে হয়, এই ত�ো আসবে এক ব্যাগ ভর্তি ওয়াৎসু (snacks) নিয়ে পান্তু, কিকু, আর রণির জন্য । ও জানত কে কি পছন্দ করে । মহাত্মারা এবং শাস্ত্রে বলেছে – এ জীবন একটা নাটকের মঞ্চ, ভগবানপ্রদত্ত এই শরীর, অভিনয়ও করতে হবে তাঁরই পরিচালনায় । এই জীবনমঞ্চে করবীর সঙ্গে অভিনয় করে এসেছি প্রায় ৪৫ বছর । ১৯৭৩ সালে আমরা দু জন, বড় মেয়ে এণিকা (পান্তু)কে নিয়ে ত�োওকিয়�োতে এলাম । পান্তুর বয়স তখন ৫ বছর । নতুন জায়গা, বাবামা ছাড়া ওর পরিচিত কেউ নেই, ভাষাও জানে না, আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব যাঁদের আদরে ওর প্রথম ৫ বছর কেটেছে তারা কাছে কেউ নেই । তার উপর জাপানী বাচ্চাদের সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছে অথচ সেই ভাষা এক বিন্দুও জানা নেই । বাড়িতে কল্যাণ দাশগুপ্ত, আমার স্বামী খুব ভাল জাপানী জানেন, তাঁর কাছে জাপানী বন্ধুবান্ধবরা প্রায়ই আসতেন, আমরা চুপ করে

বসে অপেক্ষা করতাম কখন আমার স্বামী বলে দেবেন কি কথা হচ্ছে । রাস্তাঘাটে, দ�োকান বাজারে বাঙালীর দেখা পাওয়া ত�ো দূ রস্থান, ভারতীয়ও দেখা মিলত না । খাবারের অবস্থা তথৈবচ – সবই আমাদের অজানা । এখন ভাবলে অবাক লাগে এই জাপানী খাবার কি ভাল�ো লাগে খেতে! মনে আছে ফুলের দ�োকান থেকে লঙ্কার সন্ধান পেলাম – ওরা ইকেবানা করে আর আমি কিনতাম খাবার জন্য । একদিন বিকেলে আমার স্বামী কাজের থেকে ফিরে বললেন, মিঃ চ্যাটার্জী ফ�োন করে এই রবিবার নেমন্তন্ন করেছেন বিজয়া সম্মিলনী হবে ওনাদের বাড়িতে । আমরা মেয়েকে নিয়ে গেলাম । পাঁচ ছ’টি বাঙালী পরিবার এবং কয়েকজন একাও এসেছেন । মিসেস চ্যাটার্জী (জয়শ্রী) আমাদের মেয়ের সঙ্গে ওর মেয়ে ও ছেলের আলাপ করিয়ে দিলেন । বাচ্চাদের ঘরেই করবীর সাথে প্রথম আলাপ । বয়কাট চুল, শাড়ী জড়ান�ো মহিলা সিগারেট খাচ্ছেন – প্রথমটাতে অদ্ভুত লাগল�ো, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ও পান্তু আর তার মা’য়ের মন জয় করে নিল । বাড়ি ফেরার পথে ও বলল এই সপ্তাহেই ও আমাদের বাড়ি আসবে । মেয়ে ত�ো বটেই আমরা দু জনে ততক্ষণে ‘তুই’ হয়ে গিয়েছি ওর কাছে । এরপর ও খুব তাড়াতাড়িই আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে গেল । করবী পান্তুর কাছে মাসি ও পিসি দু ই-ই । এর মধ্যে পান্তুর বয়েস যখন সাত, তখন কিকু জন্মাল । করবীর পুতুল খেলা শুরু হল । কিকুকে ডাকত�ো কিকলু বলে, আবার কখনও ডাকত�ো কিকচান বলে । বাচ্চাদের পড়াশ�োনাতে ত�ো সাহায্য করত�োই – ওদের, বিশেষ করে পান্তুর গুচি (গ�োপনকথা)ও শুনত । ও আসলে বাচ্চারা খুব আনন্দ করত�ো । এইভাবেই ও আমাদের পরিবারের একজন হয়ে গেল । ত�োওকিওতে বাঙালী পরিবার কম ছিল, আস্তে আস্তে কয়েকজন ছাত্র এবং ট্রেনিং নিতে বা চাকরির সূ ত্রে এসে পরল । করবী মাঝে মাঝেই আমাদের সাথে রাত্রি থাকত । একদিন রাত্রে গল্প করতে করতে আমি ও’কে বললাম সরস্বতী পুজ�ো করলে কেমন হয়? পুজ�ো কে করবে, এবং ক�োথায় হবে যখন ভাবছি তখন মনে হল সু দেব এসেছে, ওকে জিজ্ঞাসা করতে হবে । সু দেব তখন ছাত্র হয়ে এসেছে, এবং আমাদের বাড়িতে শনিবারের আড্ডাতে আসে । ওকে বলতে ও জানাল�ো ওর বাবার কাছ থেকে অনু মতি নিয়ে জানাবে । বলা বাহুল্য অনু মতি নিয়ে ও রাজী হয়ে www.batj.org

- শিউলী দাশগু

গেল । পরের বছর থেকে আমাদের সরস্বতী পূ জা শুরু হয়ে গেল । হল ভাড়া করা, বাজার করা, সবেতেই করবী থাকত আমাদের সাথে । বাঙালী এবং জাপানীরা আসত পুজ�োতে । ছ�োটখাট অনু ষ্ঠানও হত । পুজ�োর আগের দিন সু দেব চলে আসত আমাদের বাড়িতে । আমাদের ভ�োগের রান্না শেষ হলে রান্নাঘর পরিষ্কার করে দিলে সকাল বেলায় সু দেব ঠাকুরের ভ�োগ নিজে হাতে রান্না করত, মিষ্টিও বানাত । এর মধ্যে গ�ৌতম, রুমা রণিকে নিয়ে ত�োওকিয়�োতে এসে গেল । সেই বছর

সরস্বতী পুজ�োয় করবী, রুমা আর আমি মিলে পুর�ো খিচুরি আর তরকারি বানিয়ে ছিলাম । পুজ�োর আগে চলে যেত সবার আগে । পুজ�োর হিসাব, চাঁদা ত�োলা সবকাজই একা করত । আগে ও পরে গ�োছান�োর কাজ নিখুঁত ভাবে করত । করবীকে দেখে ভাবতাম এভাবে একা একা জীবন ওর ভাল লাগে কিনা । মুখে কখনও বলেনি ও একা, সবার বাড়ি যেত, বাচ্চারা ওকে খুব ভাল�োবাসত । মনে হয়, নিজের সংসার না থাকলেও আমাদের সকলের সংসার ওর সংসার হয়ে উঠেছিল । ত�োওকিয়�ো-র বাঙালি ও জাপানিরাই ওর সংসার । আমাদের বাড়িতে আসলে রান্নাঘরে খুব সাহায্য করত, কিন্তু নিজে খেত অতি সামান্য । নিরামিষ ত�ো খেতই তার মধ্যেও বাছাবাছি ছিল । চা, বিস্কুট, বাদাম খেয়ে দিনের বেলা চালাত । রাত্রে একটু ভাত, তার উপর লঙ্কাগুঁড়�ো, সাথে ডাল আর ভাজা আর একটু পছন্দমত তরকারি । ম�োটামুটি জীবনীশক্তি পেত সিগারেট আর লঙ্কা থেকেই । আমার মনে হত সিগারেট ক�োম্পানিকে বলে দিলে ওর উপর ভাল একটা বিজ্ঞাপন তৈরি করতে পারে । এর মধ্যে আমরা চারবন্ধু মিলে একটা ক্যাটারিং এর ব্যবসা শুরু করলাম, নাম দিল আমার স্বামী –রান্নাগ্রুপ । মেনু কার্ডও তৈরি হল । আমাদের তিনজনের বাড়িতেই রান্না হত । যে পাড়ার কাছাকাছি অর্ডার আসত, সে বাড়িতে রান্না হত । আমাদের বাড়িতে রান্নার মশলা, ট্রে, ফয়েল, ইত্যাদি প্রয়�োজনীয় জিনিষ করবী গুছিয়ে রাখত । আমার ছ�োটমেয়ে কিকু হওয়ার পর থেকেই আমি গাড়ি চালাতাম । তাই গাড়ি করে খাবার পৌঁছে দেওয়াতে ক�োনও অসু বিধা হত না । আমাদের গ্রুপে ছিল করবী, মঞ্জুলিকা, ইভু ব�ৌদি (শহিদদার স্ত্রী) আর আমি । ব�ৌদি ম�োগলাই রান্না দারুণ করতেন । মেনু তে সিঙ্গারাও ছিল এবং জাপানিরা ভাল�োওবাসত । করবীর কাজ ছিল গড়াবার । সব মাপমত�ো হত এবং উপর দিয়ে একটু লেবু ও দিত । আমাদের খদ্দেররা ছিল জাপানী এবং এর মধ্যে টেলিভিশনের তারকারা এবং TV চ্যানেলের স্টুডিও থেকেও অর্ডার আসত । ব�ো-নেনকাই এবং Christmas এর সময় আমরা খুব ব্যস্ত থাকতাম – টেলিভিশানে কয়েকবার আমাদের রান্নাগ্রুপের ইন্টারভিউ হয়েছে । জাপানী ম্যাগাজিনও আমাদের কথা ছবিসহ ছাপিয়েছে । করবীর আরেকটা কাজ ছিল, মাঝে মাঝেই চা বানিয়ে বলত ইপ্পু কু (একটু বিশ্রাম) নে তারপর রান্না করিস । রান্নার ফাঁকে ফাঁকে আড্ডা আর করবীর চুটকি আমাদের কাজে উৎসাহ দিত । ব্যবসার হিসাব ও রাখত�ো । অর্ডার পৌঁছে টাকার হিসাব করে লিখে সবাইকে প্রাপ্য টাকা দিয়ে দিত । করবী মুখার্জী – সকলে তাকে কিভাবে ডাকত, সেই কথায় আসি । বেশির ভাগ বাঙ্গালিরা ডাকত করবী বা করবীদি, কারাবি সান, মুকারজী সান ছিল জাপানীদের জন্য । সব বাচ্চারা এবং বড়রাও কেউ কেউ ওকে

Durga Puja 2018

11


ভরা থাক স্মৃতি সুধা ডাকত ফুই ফুই বলে । এ নামটা দিয়েছিল মঞ্জুলিকার বড় ছেলে হিত�োশি দু র্গাপুজ�োও এবার শুরু হল – সু দেব অনু মতি পাওয়ার পর থেকে । চান । কারণ ছিল, ও কারও বাড়িতে ঢ�োকার সময় একটা শিষ দিত ঠাকুরের মূ র্তি পাওয়া গেল না, আমাদের বাড়ি থেকে দু র্গার ছবি নিয়ে তাকে এবং সিগারেট খেত – তাই বাচ্চাটি মনের মত�ো ঐ নামটি দিয়েছিল । সাজান�ো হল । রীতারাও তখন এসেছে, সবাই মিলে সাজিয়ে ফেললাম । ত�োওকিয়�োতে বড় হওয়া বাচ্চাদের কাছে ফুই ফুই খুব প্রিয় নাম । কি আনন্দ ত�োওকিয়�োতে দু র্গাপুজ�ো হবে । হল’ও ভাড়া হল, আগের দিন ত�োওকিয়�োতে ইতিমধ্যে বাঙালি আসতে শুরু করেছে – ভারতীয় গিয়ে সব ব্যবস্থা করে আসা হল । যথারীতি ও আগেই চলে গেল পুজ�োর ব্যাংক, ভারতীয় দূ তাবাস এবং আমেরিকার বিভিন্ন ক�োম্পানী থেকে কাজে জায়গায় । করবী থাকলে হল খ�োলা এবং প্রাথমিক কাজের কথা ভাবতে কিছু বাঙালি আসল । করবী আর আমি খ�োঁজ নিতে লাগলাম কে কি হত না । জানে- উদ্দেশ্য ছিল সাংস্কৃতিক অনু ষ্ঠান করার । ত�োওকিয়�োতে নৃ ত্যনাট্য, করবী আমাদের বাড়িতে একসময় র�োজ আসত এবং খাওয়া দাওয়া রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনু ষ্ঠান করা হল । করবী খুব ভাল গান করত – আমার করে ওকে পৌঁছে দিতাম । ও তখন থাকত শিনজুকুতে । সাধারণতঃ স্বামী কল্যাণ দাশগুপ্তর সঙ্গে অনেকবার গান করেছে । প্রথম দিন থেকেই ওর গলির মুখে নামিয়ে দিতাম – একদিন ক�োনও কারণে গলির ভিতরে আমাদের দু জনকে তুই বলে সম্বোধন করেছিল, তাই ও ছিল আমার দিদি ঢুকতে হল – দেখি সাঙ্ঘাতিক জায়গা – পুর�ো পাতালপুরী, কেউ কেউ আর কল্যাণ ভাই । রাস্তাতেই শুয়ে আছে । জিগেস করলাম “ত�োমার ভয় করে না” উত্তর দিল�ো করবীকে প্রথম থেকে “নিকুচি করেছে, ওরা কি করবে, বড়জ�োর একটা সিগারেট চাইবে” । শাড়ি পরতে দেখতাম আচলটা বাঙালি মেয়ের সাহস দেখে অবাক হলাম । পরবর্তী জীবনে ওর কাজ ছিল জড়িয়ে । হাঁটতেও প্রচুর কষ্ট পুলিশদের সাথে – তারও সব মজার মজার গল্প বলত, শুনতাম । হত মনে হয় । আমি অনেকবার ১৯৯২ সালে আমরা অর্থাৎ আমরা দু জনে মেয়েদের নিয়ে চলে বলেছি শাড়ীর বদলে অন্য কিছু এলাম আমেরিকায় । হঠাৎ-ই ঠিক হল�ো – ও আমাদের বাড়িতে ছিল পরতে । জেদ ছিল অসম্ভব – তখন, ওকে বলতে ও বেশ কিছু ক্ষণ চুপ করে থাকল, তারপর বলল রাজী হয়নি । একদিন রাত্রে এবার আমেরিকায় বেড়াব । সত্যিই ও আমাদের কাছে অনেকবার এসেছে আমাদের বাড়িতে বলল ত�োর – মেয়েদের বিয়েতে, বড় নাতির অন্নপ্রাশনেও এসেছে এবং একই ভাবে একটা কামিজ দে ত�ো, পরে পাশে থেকে সাহায্য করেছে । দেখতে চাই কেমন লাগে – আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা ছিল অসীম – ওর ফ�োনে বিশ্বের সব ও পরতেই ছবি ত�োলা হল । প্রান্তের বন্ধুদের খবর পেতাম । আরেকটা গুণ ছিল অসাধারণ তা হল ক্ষমা ছবি দেখে ও বলল বানাব�োটা করার । কার�োর উপর দু ঃখ বা রাগ হলে অচিরে নিজেই মিটিয়ে নিত । ক�োথায়? সঙ্গে সঙ্গে আমি অনেক অপমান এইভাবে মিটিয়ে নিয়ে শান্তি পেত । বললাম আজাদের স্ত্রী রেণুই ওর সঙ্গে অভিনয়ের শেষ পর্ব ছিল দীয়ার (শ্যামল, রীতার মেয়ে) বানিয়ে দেবে । বিয়েতে । একসঙ্গে অনেক গল্পগুজব, খাওয়া দাওয়া হল । একবারও ভাবি

আমরা অর্থাৎ রেণু, করবী আর আমি গাইগ�োদাইতে (ত�োওকিয়�ো বিদেশি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয়) একসঙ্গে কাজ করতাম । অফিস ফেরত কাপড় কেনা হল আর রেণু ওর কয়েকটা কামিজ বানিয়ে দিল । ওর প�োষাক তারপর ওটাই থেকে গেল । আমাদের বাড়িতে পার্টি হবে – রুমা আর আমি রান্নাতে লেগে গিয়েছি আর শেষের দিকে তিনটে চারটে নাগাদ করবী এসে যেত । এসেই হাত ধু য়ে চা বানিয়ে একসঙ্গে খাওয়া হত তারপর বলত মা’রা যা সেজেগুজে আয় । আমরাও তৈরী হতাম এবং এসে দেখতাম টেবিল সাজান�ো হয়ে গিয়েছে, আর সু ন্দর করে স্যালাডও কেটে রাখা হয়েছে ।

12

নি সেই আমাদের শেষ অভিনয় । ভগবান ওকে ওর সম্মান থেকে বঞ্চিত করেন নি । কারও সাহায্য ছাড়াই ও মুক্তি পেয়েছে । ও আমাদের মনের মধ্যে বিশেষ জায়গা করে গিয়েছে, যা ওর ভাল�োবাসা আর রসিকতায় পরিপূ র্ণ । “ভরা থাক স্মৃতিসু ধায় হৃদয়ের পাত্রখানি...... ।। “

Anjali

www.batj.org


「コロビ・ムカルジーさん」に捧ぐ - 神戸 朋子 またお会い出来る日がくると信じて過ごしていた日 々の中に、突然の悲報が届き、信じられない思いだっ た。 二年前にインドに帰られてからは、近況を伝える長 文のお手紙も頂き、「日本に行きたい」とのお元気そ うな文章がしたためられていたので。 帰国されるその月まで、月に一回、タゴール歌曲の訳 詩と「 শিশু ভ�োলানাথ 」の訳を見て頂いていた。姪御さん の結婚式に出席のため帰られ、「日本に戻ってきたら連 絡致します」ということになっていたので、お待ちして いたのである。 「 日本での滞在が長かったので、インドでの親族の 方々とは疎遠になってしまった」と申され、日本での 暮らしに愛着を抱いておられた。これからは、「日本 でこのようなことをしたい」という抱負も語られていた。 一度(ひとたび)、タゴールの歌詞に触れられると、(日本での不安や悩み等)は一瞬のうちに消え失 せ、タゴールの大きな世界の中へ吸い寄せられてゆかれるのを感じさせられた。 確かに、タゴールの歌は、人間の魂の言葉であり永遠なるものへの祈りの賛歌にあふれている。そして、 インドの古代からの伝説や叙事詩や哲学や文化が根底にあり、永遠につづくロマンの世界や叙事詩の世界へ 誘う魔力が秘められている。そしてコロビさんは幼少時代より、タゴールの思想や哲学に馴染み、一生を通 して通奏低音のように流れ続け、血と肉となっておられた。それらが、コロビさんの心に力と希望を与え、 障碍や束縛から自由にし、人生の目標なり道標となっていたことを、ひしひしと感じさせられた。 タゴールの詩は、言葉の意味だけは分かっても、その背景にあるインドの長い歴史に培われた哲学や文化 を汲み取ることは難しい。それらがコロビさんには知識となって蓄えられており、生きた力となっていた。 時折心に浮かぶ詩を朗読されては、目は空にはるか遠くへ思いを馳せるかのように、懐かしんでおられた。 コロビさんにとって、尊敬し愛して止まぬタゴールの存在が、生涯を通して共に在るということが、羨まし く思われる瞬間であった。  又、コロビさんとは、「タゴール歌曲の夕べ」のコンサートの第5回に当る1989年から第28回の 2011年まで、ずっと日印交流の場を取り持って頂き、おかげで長きに渡って共に歩むことができた。在 日ベンガル協会の皆様との交流も、掛替えのない宝となっている。

   「 今や 私の時になった 旅立ちの 扉を開けてください  私は眺め、出会い、光と影とで過ごしました それは 夢だと忘れさせてください  空は はるかな歌で満ち、 こころは 目に見えない国へ惹かれる  はるかさよ、麗しさよ、心の恋人への道を教えてください すべての覆いを取り去ってください 」 このタゴールの詩のように、この世とは比べようもない聖なる御方の住まうはるかな世界へ、旅立って行 かれたように思う。    「 一粒の麦が地に落ちて死ななければ、それはただ一粒のままである。  しかし、もし死んだなら、豊かな実を結ぶようになる。 」 という聖句の言葉のように、コロビさんは、日本の地に、タゴールの世界とベンガルの文化の種蒔いて下さ った。その実が日本で結ばれるのを、現世を超えた、果てしなく広い世界から、見守っておられることと思 う。

www.batj.org

Durga Puja 2018

2018年8月13日

13


শ্রদ্ধেয়

フイフイコロビディ

~敬愛なるコロビ先生へ~ - 奥田 由香

お元気ですか そちらでは、コルセットも要らなくなって、随分、体が楽になったことでしょう。 軽やかに、ほらスキップだってできるのよと、童心にかえって笑うあなたの横顔が見えます。 最後に別れたのは、四ツ谷の駅の橋の上だったのを覚えていますか? DILAの新年会を、あなたは途中で抜け出してしまい、私は急いで降りて追いかけました、あなたに渡したかった靴下 を握りしめて。それは、ひと足遅れのクリスマスプレゼントで、もう遅れるわけにはいかなかったのです。何で靴下かっ て、それは、私なりに色々考えたのです。だって、コロビディ、あなたは人にプレゼントするのは楽しげなのに、プレゼン トを受け取るのがとっても下手でしたから。ゴムの柔らかな靴下なら、渋々でも受け取ってくれるだろうと思ったのです。 案の定、あなたはいつもの口癖で、「なんで、バカだね」と言うので、私は無理やり、あなたの黒い小さなカートの中に押 し込みました。橋の上で、そんなやり取りが、あなたとの最後になってしまうなんて。コロビディ、あの靴下は、少しは役に たったのかしら。 それから、私たちは、ほら、紙の辞書を一緒に作ろうと燃えていた時期もありました。ベンガル語と日本語の、CDでな く、紙媒体にこだわって。そうです、あなたは、何でも拘りというものがあって、正しくないものはダメ!正義と尊厳を重ん じて、そのボーダーラインから少しでも外れると、コテンパでした。今だから言えますが、あなたは、とっても頑固なディデ ィでしたよ。わかっています、私がこんな生意気なことを言っても、今ならあなたは許してくれるって。でも、私は今、あな たのその頑固さを思い出すだけで、涙が溢れてくるのですよ。それが、丸ごとのあなただったから。頑固な奥に、深い愛 があったから。いつも、みんなのことを先に考えて、裏から支えてくれていました。あなたの優しさに触れなかった人はい ません。私には、歌うことを、いつも励ましてくれましたね。「いいよ、どんどんやりなさい、ガンバレ、がんばれ」と。あなた の声が聞こえます。あの辞書を完成できなかったのは残念だったけれど、それは、失礼ですがあなたにも一つ原因が あって、作業に入るまでの序章が長く、長く、いざ取り掛かる頃には、終わりの時間がきてしまっていたのですから。で もね、コロビディ、その序章こそ、私だけにくださった宝の時間でした。お転婆さんだった頃の思い出や、尊敬するお父 様のお話や、特に愛するベンガル語や文学の話には花が咲きましたね。はたまたお世話になっているケアマネジャー さんには、厳しいお言葉も飛び出し、色々。あなたのストーリーは溢れ出したら、「jai hok、ところで」に辿り着くまで、まる で、絵解き歌、Potuaの物語りのようでした。私たちの紙の辞書は、幻となりましたが、あなたとそうして笑い、過ごした時 間は、掛け替えがありません。 コロビディ、ところで、そちらでは、懐かしい皆さまと再会を果たされ、お忙しいことでしょう。奈良先生と笑顔で談笑さ れるお二人が光に包まれて、とても眩しいです。コロビディ、でも、あなたがいなくなったとは思っていません。迷った時 には、あなたの笑顔か、あなたの雷か、いつもあなたを仰いでいます。どうか、諦めずに、ずっと今まで通り、私の、私た ちのフイフイコロビディでいてください。 大丈夫、あなたの返信は、いつも心に届きます。ベンガル語のクラスもあなたの願いどおり、皆さんと頑張っていま す。 そうそう、いただいた朱色のペンのインクが切れてしまい、昨日、入れ直したところです。このペンを持つと、何かパワ ーを貰えるような気がするのです。 長くなりましたが、今日は、『オンジョリ』編集部の皆さんのお陰で、こうしてあなたと通信できて幸せでした。 大好きなコロビディ、アバル デカホベ。 感謝をこめて、由香より 追伸:宙に浮いた辞書をどうするか、あなたのメッセージを待ちたいと思います。 

14

Anjali

www.batj.org


কে যায় অমৃতধামযাত্র   আমরা ২০০১ সালে জাপানে যাই ও ২০১৭ সাল পর্যন্ত ছিলাম । এই ১৫/১৬ বছরে করবীদির সাথে পরিচয় ঘনিষ্ঠতায় পরিণত হয় । করবীদির সম্বন্ধে লিখতে বসে এখন অসংখ্য স্মৃতি মনে ভিড় করে আসছে । প্রথম দেখা হয় ২০০১ সালের ১৮ই আগষ্ট রেংক�োজি মন্দিরে --- নেতাজীর ভষ্মকলসের পুজ�োতে । আমাদের দেখে এগিয়ে এসে নিজেই আলাপ করলেন এবং শ্যামলদা রীতাদি, গ�ৌতমদা রুমাদি, জ্যোতির্ময়দা সীতাদি ও আরও অনেকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন । তার কিছু দিনের মধ্যেই ছিল নমস্তে ইন্ডিয়ার অনু ষ্ঠান । সেখানে আবার দেখা । মা (আমার শ্বাশুরী মা) এসেছেন শুনেই বললেন বাড়ি আসবেন সু য�োগ ক’রে । মা মঞ্জুলিকাদির সাথে ফ�োনে প্রায়ই গল্প করতেন । দেশ ছেড়ে এসেছেন, জাপানী ভাষা জানা নেই, তাই কথা বলার ল�োক খুঁজতেন, করবীদিকে পেয়ে ত�ো খুব খুশী । যেখানে যাই অনু ষ্ঠান হ�োত বা রিহার্সাল হ�োত, করবীদি অতি অবশ্যই উপস্থিত থাকতেন এবং বেশীর ভাগ সময়ই সর্বপ্রথম উপস্থিত হতেন । সময়ানু বর্তীতা করবীদির এক বিশেষ গুণ ছিল । তার পর থেকে করবীদি প্রায়ই বাড়ীতে আসতেন ও মা খুব খুশী হতেন । দু র্গাপুজ�োতে করবীদি রান্নার কাজে বা চা বানান�োর কাজে সাহায্য করছেন এটাই প্রথম প্রথম দেখতাম, তাছাড়া আপ্যায়নও করতেন । সেই বছরই ডিসেম্বর মাসে সীতাদি জ্যোতির্ময়দা দিল্লী ফিরে গেলেন । তাই তাদের বিদায় সম্ভাষণ জানান�ো হ�োল । সেখানেও করবীদির সাথে দেখা । এরকম ছ�োটখাট ঘর�োয়া জমায়েত অথবা অনু ষ্ঠান থাকলেই অতি অবশ্যই করবীদি থাকতেন । সকলের সাথে য�োগায�োগ রাখতে খুব ভালবাসতেন, ফ�োন করতেন অথবা দেখা করতে যেতেন । সমস্ত বাঙালীদের কাছেই তাই করবীদির এক বিশেষ স্থান আছে । করবীদির চরিত্রের এক বিশেষ দিক ছিল চূ ড়ান্ত মনের জ�োর । শত শারীরিক অসু বিধা ও বাধা সত্ত্বেও উনি নিজের কর্তব্যের অবহেলা করেননি । মেরুদণ্ডের অপারেশনের পর থেকে করবীদির হাঁটা চলা, বসা শ�োওয়াতে অসু বিধা শুরু হয়েছিল । কিন্তু করবীদি সেসব অগ্রাহ্য করে সব জায়গাতেই যেতেন । এই রকম মনের জ�োর খুবই বিরল । করবীদির সু মিষ্ট গলা, আমরা মাঝেমধ্যে গান গাইতে শুনেছি । আমাদের আগে যারা জাপানে থেকেছেন তারা ত�ো নিশ্চয়ই করবীদির গান শুনেছেন । বাঙালীরা ছাড়াও করবীদির বেশ কিছু অবাঙালী এবং জাপানি বন্ধু ছিলেন । শ্রীমতী ত�োম�োক�ো খাম্বে সান, আযু মা সেনসেই, নারা সেনসেই, ইউকা, সেৎসু ও আরও বেশ কিছু শ্রদ্ধেয় মানু ষদের সঙ্গে করবীদির ঘনিষ্ঠতা ছিল । তাঁদের সকলের কথা বার বারই করবীদির কাছে শুনতাম । ভারতীয় দূ তাবাসে যখন বাঙলা পড়াতে যেতেন তখন ছাত্রীদের বাঙলা গানও শিখিয়েছেন । বাঙালা ভাষাকে কিভাবে আকর্ষণীয় ও মন�োগ্রাহী করা যায় সেসব নিয়ে নানারকম ভাবনাচিন্তা করতেন ।

- ভাস্বতী ঘোষ (সেনগু

জিলিপি-পাঁপড় ভাজার গল্প আর উড়ে ঠাকুরদের গল্প শ�োনালেন । করবীদি যখনই আসতেন তখনই নানান গল্প শ�োনাতেন । আমরা আসার আগে জাপানে ক�োথায় কি হ�োত, কারা কারা ছিলেন, পুজ�ো কিভাবে শুরু হ�োল ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গ । এই ভাবেই অনেকের কথা শুনেছি । যাদের নাম খুব বেশী শুনেছি তারা হলেন শিউলীদি ও কল্যাণদা । ওনারা তখন আমেরিকায় । ওনাদের মেয়ের বিয়েতে করবীদি গেলেন । ওনাদের সাথে যে খুবই ঘনিষ্ঠতা ছিল সেটা ব�োঝা যেত । করবীদি সকলের বাড়ী যেতেন ও য�োগায�োগ রাখতে ভালবাসতেন । সু পর্ণারা থাকত হির�ো’তে, করবীদির বাড়ীর সবচেয়ে কাছে । তাই ওখানে প্রায়ই যেতেন, আর আমিও ওদের বাড়ী প্রায়ই যেতাম । তাই ওখানেও করবীদির সাথে দেখা হ�োত । অর্পনের (সু পর্ণার ছেলে) সাথে আমাদের খুব ভাল সময় কাটত । আমাদের বাড়ী যখন আসতেন তখন আমি যদি রান্নাঘরে থাকতাম তাহলে করবীদি বলতেন, “দে, সব্জি কেটে দিই” । টেবিলে বসে সব্জি কাটতে কাটতে গল্প শ�োনাতেন । আবার অনেক সময় একসাথে বসে টেলিভিশানে সিনেমাও দেখতাম । একবার কথা প্রসঙ্গে জানতে পারলাম যে সৈয়দ মুজতবা আলীর সাথে করবীদের ঘনিষ্ঠতা আছে, করবীদি চাচা বলে ডাকতেন । আমি সেই শুনে বললাম যে আমি ওনার লেখা খুব ভালবাসি, অপূ র্ব লেখেন । ‘শবনম’ বইটা খুব পড়তে ইচ্ছা করছে, কিন্তু আমার কাছে নেই । সেই শুনে কলকাতা থেকে করবীদি আমার জন্য ‘শবনম’ কিনে এনে উপহার দিলেন । বইটি আমার কাছে সযত্নে রয়েছে । করবীদির কাছে এত গল্প শুনেছি যে সেসব লিপিবদ্ধ করলে একটা গল্পসংকলন হতে পারত । কিন্তু দু র্ভাগ্যবশত তা আর হয়নি । আমি সেলাই করি জেনে নিজের সেলাই মেশিনটা আমাকে দিয়েছিলেন, কারণ তখন করবীদি আর সেলাই করতে পারছেন না হাতের জন্য । সেলাই, চিঠিলেখা এসবে খুব উৎসাহ দিতেন ও খুশী হতেন । নিপ্পন বেদান্ত স�োসাইটি’র (রামকৃষ্ণ মিশন) প্রত্যেকটি মিটিংয়ে যেতেন, শেষের দিকে খুব সম্ভব আর পারতেন না । এছাড়া ‘অঞ্জলি’র প্রুফ রিডিংয়ের কাজেও আসতেন । আকাসাকার বাড়ী ছেড়ে শেষের দিকে যে বাড়ীতে গেলেন সেটি আমাসের বাড়ী থেকে বহু দূ রে ছিল, তাই যাতায়াত সহজ ছিলনা । তাছাড়া অপারেশনের পর থেকেই হাঁটাচলাতেও অসু বিধা হচ্ছিল যদিও করবীদি অগ্রাহ্য করতেই চাইতেন । অত্যন্ত দৃ ঢ়প্রতিজ্ঞ, স্বাধীনচেতা ও স্নেহশীলা ছিলেন । জাপানে প্রায় ৪৭/৪৮ বছর ছিলেন, তাই এটাই ওনার দেশ হয়ে গিয়েছিল । শুনেছি কলকাতায় গিয়ে ভাল লাগত না বলে বলতেন, “আমি জাপানে ফিরে যাব, ত�োদের দেশটা ভাল নয়” । তা আর হ�োলনা, করবীদি ৭ই এপ্রিল ২০১৮ সকলকে ছেড়ে পাড়ি দিলেন অমৃ তধামের পথে । যদিও শারীরিক ভাবে ওনার সাথে আর দেখা হবেনা, কিন্তু উনি থেকে গেলেন আমাদের সকলের অন্তরে চিরদিনের জন্য ।

করবীদি আকাসাকার বাড়ীতে যখন ছিলেন তখন আমরা প্রায়ই একসাথে বেড়াতে যেতাম । এই রকম একটি বেড়ান�োর কথা মনে পড়ছে । বিখ্যাত শিল্পী ওকাকুরা তেনশিনের সংগ্রহশালা ইবারাকি কেন’এ গেছিলাম, মা ও করবীদি সাথে ছিলেন । এছাড়া পিকাস�ো’র মিউজিয়াম দেখতে গেলাম । সেখানেও করবীদি সাথে । আমরা প্রায় প্রত্যেক শনি রবিবার বেরিয়ে পড়তাম ও অধিকাংশ সময়ই করবীদি সাথে থাকতেন । সারা রাস্তা গল্প শুনতে শুনতে বা গান শুনতে শুনতে যাওয়া হ�োত । ২০০৮ সালে আমি বায়না ধরলাম যে রথযাত্রা দেখতে যাব । তখন কাওয়াসাকিতে রথযাত্রা হ�োতনা, নিশিকাসাইয়ে হ�োত । সেবছর আবার আমার পা ভেঙেছিল, তাই তখন ক্রাচ দিয়ে হাঁটছি, বিশ্ব খুব একটা রাজী ছিলনা, করবীদি বললেন, “চল্‌, আমরা দেখে আসি কেমন হয় এখানে” । অতএব আমাদের যাওয়া হ�োল । দিয়া আমার সাথে সাথে থাকল�ো যাতে ক্রাচ নিয়ে পড়ে না যাই । ফেরার পথে করবীদি পুরীর গল্প, রথের গল্প, কলকাতার

করবীদি, ত�োমাকে নিয়ে একটু স্মৃতিচারণা করলাম, রাগ ক�োর না, ভাল থেক�ো ও প্রণাম নিও । - ভাস্বতী www.batj.org

Durga Puja 2018

15


カラビさんとネイバリーの仲間たち - ネイバリー 1999年12月31日深夜。私たちはインド・ジャイプルで新年を迎かえようとしていた。20世紀から21世紀への世紀の変 わり目を悠久の大地インドで見ようと集まったメンバーであった。「私たち」とは、ムカルジ・カラビさんと日本人(男性2 人、女性3人)の計6名のメンバーである。12月24日に日本を発ち、ムンバイ・アジャンタ・エローラを経てこの日ジャイプ ルに辿り着いた。砂漠の入り口の町でのカウントダウンは花火も上がり大いに盛り上がった。年明けてニューデリーでコ ルカタの実家に戻られるカラビさんと別れ帰国した、思いで深い旅であった。この旅の縁がカラビさんと私たちを繋ぎ、 以降、今回の訃報に接するまで続いた。 ハードな旅であったが当時のカラビさんはまだお元気で、アジャンタの石窟寺院の崖の道も颯爽と歩かれていた姿が 今でも思い出される。旅の途中では、インドの歴史や文化、人、シキタリなど丁寧に、時に厳しく教えてくださった。最初 の到着地ムンバイではドービー・ガート(巨大な洗濯場)にも連れ行かれて、後に「日本人を最初にそういう所を案内す るとは」と、知人に言われたと聞くが、何でも見せようという彼女らしいセレクトであったのではないだろうか。 帰国後、私たちはインド人と日本人は隣人=ネイバーという意味を込め「ネイバリー」というグループを結成し、バウル の日本公演を計画した。インド本国や旅行会社との許可申請のやり取り、シャンティニケタンのバウルへの手紙のやり 取り等、日本語、ベンガル語、英語全てを分かるカラビさんの助言なくしては公演まで辿りつけなかったであろう。なか でも、バウルの歌詞の意味を一つ一つ教えてくれ、日本人のバウル研究者を紹介してくれたのも彼女である。これらは 単にtranslateでなく、異文化を同時に理解する彼女の立場、存在が大きく、今さらながら感謝の念が湧いてくる。 2002年の公演は無事成功を収め、特に沖縄公演が印象深い。私たちもカラビさんも当時は仕事で日々忙しかったの で旅行気分でのこの沖縄行きは、ことのほか楽しく、バウルと共にグラスボートに乗ったり、摩文仁の丘を訪れたりした。 カラビさんは若い頃一度、沖縄を訪れたことがあり、二度目の訪問であった。インドと似た南国のせいか、いつになくリラ ックスされ、偏食の彼女が「ゴーヤは好き」とのことも初めて聞いた。 この公演の企画、実践を共にし、カラビさんという方は、自ら前面に出て多くを主張することはあまりしないが、一歩引 いた所から、物事を俯瞰して見られる方、という印象を深くした。終始、凛とした姿勢は崩れることはないが、それが堅苦 しいのではなく、お茶目な面も持ち、ユーモアも解する多彩な方であった。 以降も「英語教室」の講師をお願いし、グループでカラビさんから英語を教えてい頂いた。インドで教員免許を持つカ ラビさんは教えることにはたけ、ある種の情熱を持っていらした。ただ、私たちの英語があまり上達せず、教室はいつも、 日印文化交流会の場と化し、そちらのほうの話は尽きなかった。この頃、ヒンドゥー教、インドの冠婚葬祭の事、法廷通 訳の仕事など随分多くのことを聞かせて頂いた。また、日本の時事、歴史にも強い興味を持たれていて、鋭い質問を受 けたりもした。 2009年の入院・脊椎管狭窄症手術の後から日常行動も仕事も制限され、随分辛い思いもされたことと思うが、律儀に 耐えていらしたようだ。我慢強い方であったのだと今思う。                 * 1970年に33歳で単身、日本に来日され以降46年間、休暇の里帰りを除いては日本を生きる場として選択してきたカ ラビさん。70年代の日本といえば、まだ外国人の数も少なく、ご苦労も多々あったと思う。早期に日本の大学で日本語 をマスターされベンガル語講師、法廷通訳等を務めながら、インドと日本の文化的・人的架け橋として尽力されたと聞 く。 2016年、突然帰国の意思を聞いたときは衝撃だったが、いずれこういう時も来るのかと、心のどこかで予感もあったよ うな気もする。でも、「また、必ず帰ってくるから」という言葉を信じ、願った。46数年間過ごした日本を発ち、インドへ帰ら ざるを得なかったカラビさんの無念と、「インドに訪ねて行きますよ」と言って果たせなかった私たちの思いは交錯したま まだ。 長きに渡る日本での生活の整理も、あの時のカラビさんの身体には大変なことであったと思う。それを支えたのが須 藤育子さんである。また育子さんはその後、コル カタのカラビさん邸を訪ね、その報告を私たちに 送ってきてくれた。その一報が元気なカラビさんを 知る、最後となった。 心よりご冥福をお祈りします。        ネイバリー (佐藤加代、永井雅子、黒瀬富志夫ほか)

2002年 バウルと築地本願寺にて 向かって左側 16

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2018

17


In Memoriam: Fui Fui   - Moon Panda I moved from Kolkata to Tokyo when I was three years old. Barely old enough to realize I was in a new country, what I missed most was having my extended family around. I was accustomed to having aunts and uncles, cousins, and various grandparents be a part of my daily life. Now, it was simply mom, dad, and me. I don’t recall exactly when I had first met Fui Fui, but every time I saw her, I felt nostalgic for home. To me, she was a friend, an honorary grandparent, and aside from my mom, one of the first female role models I had growing up. She was a smart, independent, and an extremely sociable lady. Fui Fui had this charm about her that drew both children and adults to gravitate towards her. When she would come to my house, she would strike up a conversation about the latest episode of Doraemon with me, while at the next second be seen discussing political differences between the Indian and Japanese governments with my parents. However, I think everyone enjoyed Fui Fui’s company most because she was a caring person. She knew that, like my family, many of us were lonely being away from home. Regardless of where we had come from, there was a part of us that was anxious about being in a new environment. She

always took initiative to get to know new members of our community, making sure to connect with us not only during our many celebrations but also regularly throughout the year. She made that extra effort to make us feel comfortable in a new country, and she never asked for anything in return. Fui Fui has been an integral part of our life in Tokyo. She will be dearly missed but never forgotten. 

My Memories of Fui Fui - Sneha Kundu, Grade X I have known Karabi Aunty since I became part of the BATJ community, which was when I was born. But I never knew her as Karabi Aunty: I, along with most of the other kids in the community, knew her as ‘Fui Fui’. Most of my fondest memories at Durga Puja, Saraswati Puja, or any BATJ meeting in general involved Fui Fui. From a very young age she fascinated me. She might have been older than most of the adults around, but she was still very playful, and really did seem like she had the heart of a child. One of my most memorable impressions of her was when my friends and I would be playing and we would be called for lunch or dinner, Fui Fui would lure us into the dining hall by purring like a cat. The way she knew what would attract kids made her stand out amongst all the adults.

of her hard work, she had been living an independent life in Tokyo since then. This inspired me to want to be like her when I grow up. Maybe in the future I would like to move out of Japan or India and live alone without having to rely on anyone else, but still have people around me that love me, like what Fui Fui had. Though Fui Fui’s body is gone now, her presence will always be remembered for all of the right reasons. I will always remember her as the kind, playful woman who has inspired me to be hardworking and independent. And we, the BATJ community, will never be able to forget a glorious person like her, especially after how much she has contributed to us. 

Another one of Fui Fui’s traits which I noticed and liked a lot was her knack for gift-giving. Every time my parents invited her over to our house she would bring the best presents for me, which I didn’t know I needed until I had received them. She was also one of the only guests I liked having over at my house. Usually I disliked when my parents invited people that were not my friends to our house, but Fui Fui was an exception. Something about her made me eager to see her whenever I went to BATJ gatherings. As I grew older, I started asking my mom why Fui Fui was in Japan alone. She had apparently come here for a vacation in her thirties and liked this country enough to stay, learn the language and culture, and get a job here. She was studying Japanese and working jobs simultaneously. Because 18 Anjali

www.batj.org


Fui Fui in my life   - Ashmita Paul (Tias) 10yrs

Do you know the girl name Rupsha? That’s me! I got that beautiful gift from Fui Fui when I was only 1 day old. She was the only one who called me by that name. She became a part of our family from the very beginning. She used to come to stay in our house for many occasions. Whenever we had some programmes in our house, she was the first to come and help us in all possible things. Whenever my father had to go for business trip, she used to stay in our house for a long time to give us comfort. Those are very precious times we spent with her. When I joined kindergarten, Fui Fui gifted me so many coloured pencils, pens and papers. Noticing my interest in toy cameras, she gifted me her own Polaroid camera, which I still have. Fui Fui always encouraged me for my dance and piano performances. She always tried to attend in our programmes, and when she cannot, she always called us and inquired about the programme. I remember that 2 years back, in the Rabindra Jayanti programme when I was playing Rabindra Sangeet in my piano, she became overjoyed that she started singing with the tune. It was an amazing experience, and I must say that she was a very good singer, which few people know about that. It was the biggest surprise in my 10th birthday (last year) to receive a beautiful birthday card from Fui Fui. Though she was so far from Tokyo, sitting in Kolkata, she never forget my birthday. Last year in December, I visited her place with Hiya, Rocket Dada and Tinni Didi, and when she saw us, she was overwhelmed with smiles. Though she had lots of physical difficulties, she put all her effort to make us cheerful. It was a memorable day for all of us, though unfortunately was the last get-together with her. Fui Fui was always helpful to others, cheering the kids with smiles, and she will be with us forever. 

www.batj.org

Durga Puja 2018

19


Fuifui   - Nishant Chanda, Grade XII Most of my friends were from school, family friends, or people from BATJ during my younger years. My vivid memories from childhood include, Durga Pujas, apple picking, a trip to Disneyland, many dinners, etc. and I remember seeing Fuifui in most, if not all these events. She was an embodiment of the BATJ spirit. Although it’s quite cliche, Fuifui was there from the time I was born. She’s seen me through my infancy, adolescence, and into my teenage years. Although I have no memory of this, she visited me after my mother gave birth to me. I never had the opportunity to thank her for passing by, but I really appreciate the time she devoted towards me, for that day, and every other time she met me. One seemingly random day, a decade before today, my family and Fuifui went to watch Madagascar, the movie. Although I don’t remember the movie too well, I remember her saying funny things about the characters and calling me Alex from that day onwards. Along with these occasional meetings outside the house, she came over many times. For a few months, she attempted to teach my naughty self written Bengali. She would have the lessons in such a way that I would look forward to her visiting again. One of these days, we came across Disney’s Pedro. From then on my name changed from Alex to Pedro. For those unfamiliar, Pedro is a plane, who has a “Mama” and “Papa” as well. The Bengali lessons died out after a while, and she would come over once every few months for tea. The stories she would say at the table were always very intriguing. Mostly, she would talk about happenings related to the Japanese police, as she worked there as an interpreter. It would never feel like I hadn’t seen her for a long time. Fuifui came to every Puja rehearsal, meeting, or get together. She would be there with her whistle overseeing the kids when the parents would say “baccha ra khete esho”. She truly embodied the quote, “...people will forget what you said, people will forget what you did, but people will never forget how you made them feel.” Being around Fuifui was always an enjoyable experience full of laughter and I will miss that. 

20

Anjali

www.batj.org


করবীদি  

- বিশ্বনাথ প

একাই যু দ্ধ করে গেলে সারা জীবন ভর, সবাই ত�োমার কাছের মানু ষ নেইত�ো আপন পর । তবু ... মনের মানু ষ কেউ হল�োনা একলা দিলে পারি, কি অভিমান বু কের মাঝে লু কিয়েছিলে ভারী । আমরা সবাই ত�োমার কাছে তুই ত�োকারির ছলে, স্নেহ ভাল�োবাসার পরশ পেয়েছি প্রতি পলে । যখন যেথায় ডাক পড়েছে সবার আগে তুমি, পৌঁছে গেছ�ো...দায় নিয়েছ হয়েছ�ো উদ্যমী । ত�োমার কাছে গল্পছলে শুনেছি কত কথা, দীর্ঘ প্রবাস জীবন ত�োমার কতই না অভিজ্ঞতা । হরেক রকম মজার কথায় ভরা ত�োমার ঝুলি, তবু হয়নি শ�োনা কেমন করে কেটেছে সন্ধ্যেগুলি । যখন তুমি কাজের শেষে ফিরেছ একলা ঘরে কেউকি ক�োথাও রয়নি বসে ত�োমায় মনে করে? এমন আর�ো অনেক কথাই হবে না আর জানা, তুমি এখন নীল আকাশে মেলে দিয়েছ ডানা । পারি দিলে তেপান্তরের ক�োন সে নিরুদ্দেশে, জানি ঠিক পৌঁছে গেছ�ো সব পেয়েছির দেশে ।।

www.batj.org

Durga Puja 2018

21


������������������������������  

- সুদীপ্তা রায়চৌধুর

সখ্যতার ক�োন�ো বয়স হয়নাচশমার কাঁচ, বীয়ারের ক্যান, সিগারেটের ধ�োঁয়া ম�োড়া স্মৃতি বার বার এঁকে দেয় সেই মুখ সেই হাসি ধীর পায়ে চলে যাওয়া গতি । সখ্যতার ক�োন�ো বয়স হয়নাকত কথা কত গান, সদ্য নেওয়া অপরাধীর বয়ান কিম্বা নৃ ত্যনাটক শ্যামাআড্ডামুখরিত সন্ধ্যেরাআর তারি ডানা ভর করে স্নিগ্ধ রাত্রির নামাআজ সেই দিনগুল�ো ঘুরে ফেরে আল�ো-আঁধারির ওপারে এপারে স্মৃতির জট, বিষন্নতার অনু ভব সখ্যতাই খুঁজে শুধু ফেরে । সখ্যতার ক�োন�ো বয়স হয়নাতবু বয়স কেড়ে নেয় সখ্যতা নিয়ে যায় ক�োন দু রে অজানার ছায়াপথ ধরে জীবনের আবর্তন নিজের নিয়মে । তার সাথে মিশে যাওয়া সেই গান সেই স্বর যেন খুব চেনা“ওগ�ো ডেক�োনা ম�োরে ডেক�োনা” । স্মৃতির র�োমন্হন সখ্যতার অনু রণন একবুক জল থই থই শুধু তুমি ভাল�ো থেক�ো সব ব্যাথা পার হয়ে আমাদের প্রিয় ফুইফুই ।

22

Anjali

www.batj.org


শ্রদ্ধাঞ্জলি

(স্মৃতিটুকু থাক)

স্বর্গীয় ভ�োলানাথ পাল প্রয়াণ ১৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ প্রয়াত ভ�োলানাথ পালের (ভ�োলা, ভ�োলাদা, বা পাল সান নামে বেশি পরিচিত) জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বনগাঁতে । তিনি আই আই টি খরগপুর থেকে ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড কম্যুনিকেশন্স এ স্নাতক�োত্তর ডিগ্রী লাভ করেন । কর্মজীবনে তিনি বিশ্ববিখ্যাত ক�োম্পানী Motorola-র জাপানের সফটওয়্যার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে বহাল হন । এর কয়েক বছর পর ভারতে ফিরে গিয়ে তিনি Srishti ESDM নামে একটি স্টার্ট আপ ক�োম্পানী প্রতিষ্ঠা করেন । এই প্রতিষ্ঠানটি Digital India নামক সরকারী কর্মসূ চীর সংশ্লিষ্ট এক সম্মানিত উদ্যোগ দ্বারা নির্বাচিত প্রথম দশটি শ্রেষ্ঠ উদ্যোগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় । এই কারণে ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট শ্রীযু ক্ত প্রণব মুখ�োপাধ্যায়ের কাছ থেকে প্রশংসা পত্রও লাভ করেন । IEEE র ব্যাঙ্গাল�োর শাখার শিল্পসঙ্ক্রান্ত বিভাগের সভাপতি, এবং কম্যুনিকেশন্স স�োসাইটীর ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিযু ক্ত হন । এছাড়াও , আই আই টি খরগপুর, AA Bangalore, IITACB, , এবং Indo-Japan Chamber of Commerce এর সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন । Late Bholanath Pal (fondly called as Bhola, Bholada or Pal San) was born in Bongaon, West Bengal, India. He was an M.Tech in Electronics & Communication from IIT Kharagpur. He was the founding Managing Director of Motorola’s software unit in Japan. After returning to India he founded Srishti ESDM, which was selected in top 10 startup for the prestigious Intel’s Innovate for Digital India program. For this initiative, he also gained accolades from the then President of India Mr. Pranab Mukherjee. He held industry chair in IEEE Bangalore section and vice-chairman of communications society chapter, executive positions – IIT Kharagpur AA Bangalore, IITACB, and Indo-Japan Chamber of Commerce.


24

Anjali

www.batj.org


Bholanath Pal (B.N. PAL)   - Sushmita Pal Over the last 4 decades, BN Pal donned many hats: extraordinary pioneer, energetic entrepreneur, loving husband, inspirational father, and warm hearted friend. His sad demise will be regretted but his impact will remain long in the memory. He was born in Bongaon, an unassuming village in West Bengal just a stone’s throw away from the Bangladesh border. Many kids in the village idolize him, as he was the first person from his village to go to any IIT, namely IIT-Kharagpur for an M.Tech in Electronics & Communication. During the pre-smartphone era, his leadership in developing India’s own smartcard-payphones led to the famous STD/ISD booth concept that revolutionized the communication scenario of rural and semi-urban areas. Then, realizing the pain of accessing one’s own money at the time, his next attempt was to bring 24x7 Banking to India by developing India’s first Indigenous ATM through the concept of ‘Swadhan’. After successfully setting up Motorola’s software unit in Tokyo as the Founding MD, he came full circle after returning to India with a mission to serve the vast population of underprivileged India using emerging technology platforms like AADHAAR for direct benefit transfers that ensure subsidies reach to those that are entitled to it with zero leakage. Srishti ESDM, the name of the endeavor, was a top 10 startup for the prestigious Intel’s Innovate for Digital India program, which culminated in him gaining accolades from President of India (at the time) Mr. Pranab Mukherjee. BN Pal also consolidated himself as an industry thought leader by holding positions such as industry chair in IEEE Bangalore section and vice-chairman of communications society chapter , executive positions – IIT Kharagpur AA Bangalore, IITACB, , Indo-Japan Chamber of Commerce and Industries – to name a few. From relative financial modesty to traversing countries like Japan, he truly lived up to his potential. His story should be seen as benchmark for other dreamers – nothing is beyond reach if you have the energy to apply yourself. A true family man full of positive energy, he was friendly, gentle, kind, ethical and disciplined while maintaining an impeccable sense of humor. His hobbies were gardening, golf, yoga, taking guests for trips long and short (especially on a short tour covering all the temples in near proximity to his Bangalore home). While he is greatly missed by family members, relatives, friends and professionals, what cannot be denied is that he lived a full life. 

At a Temple www.batj.org

Durga Puja 2018

25


A Meditation on Legacy   - Shoubhik Pal When I think about 2018 so far as a whole, two specific days jump out. The first was February 2nd, which marked the midway point of my 20s (my 25th birthday, if that wasn’t clear). If you round up (which most people do), I was closer to 30 than 20. Along with this came constant internal questioning about where I am and where I see myself going. This is around the age where you not only look at the future but start to look at the past with surgical analysis on what you could’ve done better. (No coincidence that I’ve started losing some hair recently presumably over all this deliberation.) Then came February 15th, when my dad, Bholanath Pal, suddenly passed away. Even today, a small part of me believes I’m living in a Kafkaesque nightmare, waiting for someone to wake me up to normality. People constantly speak about freezing time and retaining that elusive ‘fountain of youth’. For me, the best part about 2018 is that it’s going by really fast. After superficially getting over the shock and what his death entailed for me and my mother, I started to muse more and more about the vague concept of ‘legacy’. My father was born in Bongaon, a stone’s throw away from West Bengal’s border with Bangladesh. Within this inconspicuous hamlet, he established himself in its folklore by being the first person to go to IIT-Kharagpur. What stunned me when I went back there for his last rites was the amount of kids (mainly interested in engineering) who looked up to him as a barometer for their success. He achieved it all in his professional career, working for trendsetting organizations and gaining admirers from Mumbai to Tokyo.

willing to help out family and friends in any means necessary. I then realized that legacy is easily misconstrued as merely an accumulation of one’s professional achievements and the expectation of kin to match or one-up that. There’s a reason Kevin Spacey won’t be looked at in history well even though he is objectively a once-in-a-generation thespian. What made my father unforgettable was how he matched his achievements with his unique personality. The old adage of ‘greatness comes from goodness’ now has a lot more heft for me. And so, every day, I try my best to imbibe his greatest qualities as person, in all the little things (going to the gym every day to develop discipline, attempting to make every interaction with others positive). His death, while truly tragic, has given me a marker to eliminate any complacency. It’s the sad truth that he didn’t see me at my professional and personal peak before he passed away, but that shouldn’t hinder me from achieving the most I can. My dad wanted me to make something of myself, settle down and give him grandchildren one day; the sadness of that never coming to fruition makes it that much important to me that my mother sees it one day. Will kids one day look up to me with the same reverence they looked at my dad? The jury’s still out, but I intend to put all my efforts into it. RIP Dad; I hope I live up to your indomitable spirit. 

All throughout my life, I’ve had to deal with comments from uncles and aunties who saw me merely at face value and claimed ‘he’s going to be as big as his dad’ one day. I’ll admit, in some instances, I got mildly annoyed at the sentiment only because it came from an intangible place. My father was a pioneer in electronics; I’m at a nascent stage in my advertising career. By logic, my aim should be to parallel the likes of David Ogilvy, Dale Carnegie and Steve Jobs. Comparing my present and future achievements to those of my father would’ve only made sense if I’d decided to pursue my fleeting flings with physics and computer science. Those relationships came to an end in 12th grade for the former, 10th for the latter. In terms of trajectory too, there was no parallel for me to link. My father rose from rural settings to become a titan in his industry. I was born in privilege, able to experience the best in lifestyle and education because of how well-off he was. If his trajectory was to uplift himself from obscurity to supreme financial stability, is it my prerogative to elevate that to becoming uber rich, a .1%er? Do these questions even have a clear answer? I slowly realized that such comparisons based on accomplishment have the ability to cripple my life if I let it. Instead, I delved into how he was as a person for inspiration. As most of you will allude to, he was an extremely vibrant personality and the epitome of pure energy. This quality was there even in his last days – he insisted on going to yoga everyday even when he was primarily breathing from an oxygen tank. He lit up every room he was in through his humorous personality and conviction of thought. What still astounds me, since I was privy to it at a personal level, was his discipline. He woke up daily to perfectly maintain our garden for years, delighting our guests by giving them fruits grown in it. And even though he had a tough exterior, he was infinitely kind, always 26

Anjali

www.batj.org


জীবনে যত পূ জা হল না সারা, জানি হে জানি তাও হয় নি হারা  

- রঞ্জন

যার কাছে জীবন একটা স্বপ্ন, এবং সে স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য যার প্রচেষ্টা নিখাদ ও নিরলস, অদৃ ষ্টের লিখনে সেই জীবন যদি অকালে ঝরে পড়ে যায় তবে তা বড়ই বেদনাদায়ক । সবকিছু ই কেমন যেন অর্থহীন বলে মনে হয় । ফুল যখন এক এক করে তার পাপড়ি মেলে ধরে, রূপে, গন্ধে যখন তার মাধু রী পূ র্ণ বিকশিত হয়, তখন সেই লাবণ্যে পূ র্ণ প্রাণের ভিতর অনায়াসে অনু ভূত হয় ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রকাশ । কিন্তু সেই ফুল যদি পূ র্ণতা প্রাপ্তির আগেই ঝরে পড়ে ধরণীতে তখন দু র্বোধ্য হয়ে ওঠে ঈশ্বরের লীলা । বারবার মনে হয় সেই জীবনের পরিপূ র্ণতার মধ্য দিয়ে নিশ্চয় সৃ ষ্টি হত প্রেরণার আর এক নতুন ইতিহাস । ভ�োলানাথ পাল, আমাদের সকলের প্রিয় ভ�োলা ১৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ পৃ থিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেল চিরশান্তির অমৃ তধামে । প্রখর বু দ্ধিমান, উৎসাহে ভরপুর, নির্মল আনন্দরসে সদাই উৎফুল্ল, এবং বন্ধুবৎসল ভ�োলা এমনই একটি চারিত্রিক গঠনের মানু ষ ছিল যার প্রতি যু গপৎ ভাল�োবাসা, মমতা ও নির্ভরশীলতার জন্ম নেওয়াটাই অত্যন্ত স্বাভাবিক । তাই ভ�োলার সাথে অতি সহজেই সকলের গড়ে উঠেছিল প্রীতি, স�ৌহার্দ্য, ও নির্ভরশীল বন্ধুত্বের সম্পর্ক । ভ�োলা কর্মসূ ত্রে সপরিবার জাপানে আসে ২০০০ সালে এবং ২০০৭ এ ভারতে ফিরে যায় । ভ�োলা জাপানে আসার অল্প দিনের মধ্যেই ওর সাথে পরিচয় এবং সেই পরিচয় ক্রমশঃ দৃ ঢ় থেকে দৃ ঢ়তর হতে থাকে বিশেষত ভ�োলারই গুণে । অতি অনায়াসে ভ�োলা জয় করে নিয়েছিল জাপান প্রবাসী বাঙ্গালীদের মন । একটানা কয়েক বছর অঞ্জলি পত্রিকার সম্পাদনা ছাড়াও, সাংস্কৃতিক অনু ষ্ঠানে সক্রিয় ভূ মিকা পালন করে বাঙালী সমাজের কেন্দ্রবিন্দুতে নিজের স্থান করে নিয়েছিল । জাপান ছেড়ে চলে যাওয়ার পরেও বন্ধুদের সাথে সেই য�োগায�োগ অক্ষুণ্ণ থাকে । ভ�োলা আমার ভ্রাতৃপ্রতিম ছিল এবং ওর সাথে আমার বন্ধনের সূ ত্র ছিল একাধিক । আমরা দু জনে মিলে নতুন ব্যবসার স্বপ্ন দেখেছি । একে অপরকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি । ভ�োলা জাপানে এসে আমাদের বাড়িতে রাত কাটিয়েছে, আমিও ব্যাঙ্গাল�োরে গিয়ে ওর বাড়িতে উঠেছি । ভ�োলার আতিথেয়তা ভ�োলবার নয় । ব্যাঙ্গাল�োর শহরে যখন গিয়েছি তখন কি অপরিসীম উৎসাহ নিয়ে আমাকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছে । বাঙ্গাল�োরে একটা ফ্ল্যাট কেনার ব্যাপারে ওর কাছ থেকে যে সাহায্য পেয়েছি তার জন্য আমি ওর কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ । ভ�োলার সারল্য আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করত । একটা ছ�োট গল্প বলি । আমরা অনেকে মিলে একবার সপ্তাহান্তে ছু টি কাটাতে মঞ্জুলিকাদির (মঞ্জুলিকা হানারি) নাসু র বাড়িতে গিয়েছিলাম । ভ�োলাও সপরিবার গিয়েছিল । সন্ধ্যেবেলায় ওর ইচ্ছে হল কাছের ওনসেনে যাবে স্নান করতে । ও জিজ্ঞাসা করতে লাগল সঙ্গে কে কে যাবে । আর কেউ ইচ্ছে প্রকাশ না করাতে ও আমাকে যাওয়ার জন্য অনু র�োধ করতে লাগল । আমি রাজী হয়ে গেলাম । ও গাড়ী চালিয়ে নিয়ে গেল । সমস্যাটা হ�োল ওখানে প�ৌছান�োর পর । হঠাৎ করে আমার সামনে বিবস্ত্র হওয়ার লজ্জাটা তখন অনু ভব করতে শুরু করল । শেষ পর্যন্ত এই রফা হ�োল আমরা একসাথে এক চ�ৌবাচ্চায় ঢুকব�ো না যাতে করে আমরা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মু খীন না হই । আর একটা গল্প মনে পড়ছে । একবার আমরা জাপানের একটা এগজিবিশনে য�োগদান করি । Indian Pavillion এ আমাদের বু থ । তিনদিন ধরে চলল সেই এগজিবিশন । এই অনু ঠানে ভারত থেকে আসা অন্য সব বু থেদের ল�োকজনদের সাথে ভ�োলা এমন আলাপ জমিয়ে ফেলল যে ওকেই সবাই নেতা বলে মেনে নিল । ও তখন আর শুধু নিজের বু থের জন্যই যে ল�োক ডাকাডাকি করছে তাই নয় আশপাশের অন্যান্য ভারতীয় বু থের জন্যেও একই কাজ করতে লাগল । সবাই খুব খুশি । এমন উদার ল�োক কি সহজে পাওয়া যায়? ভ�োলার ব্যক্তিগত এবং কর্মজীবনে অনেক সাফল্য এসেছে । সেইসব সাফল্য কখনও ভ�োলাকে নিজস্ব ম�ৌলিক গুণের থেকে বিচ্যুত করতে পারে নি । আবার কখনও হতাশাব্যঞ্জক পরিস্থিতির সম্মু খীন হলেও প্রবল আত্মবিশ্বাসের জ�োরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে । সর্বোপরি ভ�োলা ছিল শিশুসু লভ সারল্যের প্রতিমূ র্তি যা ভ�োলাকে সকলের থেকে স্বতন্ত্র করেছে । ঈশ্বর ভ�োলার স্ত্রী সু স্মিতা এবং একমাত্র সন্তান শ�ৌভিককে এই অপূ রণীয় শ�োক সহ্য করবার ক্ষমতা দিন, কায়মন�োবাক্যে এই প্রার্থনা করি । শ�ৌভিক, ভ�োলা ও সু স্মিতার সু য�োগ্য সন্তান । তাই আমার দৃ ঢ় বিশ্বাস ভ�োলার পরম্পরা শ�ৌভিকের মধ্যে সযত্নে রক্ষিত হবে এবং পুরণ হবে সকল স্বপ্ন । ভ�োলার আত্মার চিরশান্তি কামনা করি ।।

Digital Exhibition At Tokyo www.batj.org

Durga Puja 2018

27


�������������   এক একজন মানু ষ মনের ভিতরে এমন এক ছাপ ফেলে যায় যে তার কথা আমরা কিছু তেই ভুলতে পারি না । আমাদের ভ�োলা ছিল এমনই এক চরিত্র । 2001 সালের জুলাই মাস । আমার স্ত্রী, পাপিয়া ও আমাদের দু ই মেয়েকে নিয়ে আমি তখন চাকুরি সূ ত্রে সদ্য কলকাতা থেকে ট�োকিও এসেছি । নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ, তার ওপর অজানা ভাষার ব্যবধান । আস্তে আস্তে সবার সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে ভারতীয় দূ তাবাসের আধিকারিক ও শহরের অন্যান্য বাসিন্দাদের সঙ্গে । ওদের মুখে জানতে পারলাম যে ট�োকিওতে  বাংলাভাষী দের একটি সক্রিয় সমিতি রয়েছে, বেঙ্গলি এস�োসিয়েশন অফ ট�োকিও জাপান (BATJ), যার সদস্যরা বিশ্বের ও বহির্বঙ্গের অন্যান্য জায়গার মত�ো জাপানের রাজধানীতেও প্রতি বছর দু র্গাপূ জ�ো ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনু ষ্ঠান করে থাকেন । আলাপ হল  BATJ এর উদ্যোক্তাবৃ ন্দ, শ্যামলদা ও রীতা কর, রন্জন ও রুমা গুপ্ত, করবীদি, সু দেবদের সঙ্গে, যাদের উৎসাহে ও পরিশ্রমে সেই আশির দশক থেকে এই সমিতির পথ চলার শুরু । ওদের সস্নেহ আহ্বানে কখন যে আমরাও BATJ এর সঙ্গে গভীর ভাবে জড়িয়ে পড়লাম তা আর এখন মনে নেই ।   এ রকমই এক অনু ষ্ঠানে ভ�োলার সঙ্গে আমার আলাপ । ওর সহজ সু ন্দর ব্যবহার, সদা হাস্যময় মুখ ও প্রাণ�োচ্ছল  স্বভাব, ভাল�ো না লেগে উপায় নেই । ভ�োলার  একটা সহজাত প্রতিভা ছিল, মানু ষজনদের ও খুব তাড়াতাড়ি আপন করে নিতে পারত�ো । নতুন আলাপেও মনে হত�ো কতদিনের পরিচয় । অতটাই  ভাল�ো লেগেছিল ওর স্ত্রী, সু স্মিতা আর ওদের ছেলে চিন্কু র সাথে কথা বলে ।   ওরা ছিল একটা হাসিখুশি পরিবারের  জলজ্যান্ত উদাহরণ । স্বামী-স্ত্রীর  অতিথিবৎসলতার পরিচয় পাওয়া যেত ওদের আজাবু জুবানের বাড়িতে আড্ডার আসরে । ভ�োলা হাসি-মস্করা আর শ�োরগ�োল করতে খুব ভাল�ো বাসত । কিন্তু কাজের সময় একেবারে উল্টো, নিঃশব্দে কাজ করত ।   BATJ এর যে ক�োন কাজেই ভ�োলা এগিয়ে আসত । স্বামী মেধসানন্দ মহারাজের জুশির আশ্রমের কালীপুজ�োর অনু ষ্ঠানেও ভ�োলার একটা গুরুত্বপূ র্ণ ভূ মিকা থাকত । উপরে BATJ সঙ্গে জড়িত যাদের নাম করেছি, এছাড়াও  আমাদের সমকালীন ট�োকিওতে আর যাদের পেয়েছিলাম, -শ�ৌভিক, শতরূপা, দেবাশিস, নিবেদিতা, পুলক, পাপিয়া, সমুদ্র, ম�ৌসু মী, বিশ্ব, ভাস্বতী, তথাগত, স�ৌগতা, রন্জন দাস দেব, অবন্তিকা, অলর্ক, বাবলি (বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে ও আর আমাদের মধ্যে নেই), শ্যাম, সু লতা, সন্জীব,

28

- জয়ন্ত সিন

মিতা, অনির্বাণ, শ্রাবণী, সু দীপ্তা, ইন্দ্রনীল, মন্জুলিকাদি, সমরেশ ধর, ও আর�ো অনেকে (যাদের আলাদা ভাবে নাম করতে পারলাম না) - তাদের কথাও ভ�োলার প্রসঙ্গে মনে আসছে । সবার সঙ্গে আড্ডায়, গানে, গল্পে, অত্যন্ত আনন্দে চারবছর কাটিয়ে 2005 সালের শেষের দিকে আমরা ভারতে ফিরে এলাম ।   ভ�োলারাও ব�োধহয় ঐরকম সময়েই জাপানের পাট গুটিয়ে ব্যাঙ্গাল�োরে ফিরে এল ।   তারপর বেশ কিছু দিন ভ�োলার সঙ্গে ক�োন য�োগায�োগ ছিল না ।   আমরা দু জনাই নিজেদের জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম । ক্বচিত্ কদাচিত্ ফ�োনে কথা হত ।   2010 সালে আমি মুম্বাই চলে আসার পরে ভ�োলার সঙ্গে আবার নতুন করে য�োগায�োগ গড়ে ওঠে । ভ�োলা তখন ঠিক করেছে আর চাকরি নয়, নিজে কিছু করতে হবে । এ বিষয়ে প্রায়ই আমাদের কথা হত ।    ইতিমধ্যে  ভ�োলা ‘সৃ ষ্টি’ নামে তার নিজের প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ফেলেছে যার ঠিকানা ছিল  বাঙ্গাল�োরের Indian Institute of Information Technology (IIIT)র Innovation Centre. ভ�োলা যখনই মুম্বাই আসত আমার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করত আর ওর কাজের বিষয়ে নানান আলাপ আল�োচনা করত । আমিও কাজের সু বাদে ব্যাঙ্গাল�োর গেলে ভ�োলার বাড়ি ও অফিস গিয়েছি । ওর সাথে রামকৃষ্ণ মঠ, লালবাগ আর টিপুর সামার প্যালেস ঘুরে বেড়াবার স্মৃতি মনে গেঁথে আছে । এখানে জানিয়ে রাখি ভ�োলার প্রতিষ্ঠান 2015 সালে one of the top 10 innovative company for Digital India  হিসেব ভারতের রাষ্ট্রপতির স্বীকৃতি লাভ করেছিল । ওর কাজকর্ম ভাল�োই এগ�োচ্ছিল । সৃ ষ্টির তৈরি যন্ত্রটি - যার নাম দিয়েছিল PayHind- 2017 সালের শেষের দিকে বাজারে আসার অপেক্ষায় ছিল ।   এ বছরের গ�োড়ার দিকে ভ�োলা ওর হঠাৎ অসু স্থ হবার  কথা জানাল । হাসপাতাল থেকে সু স্থ হয়ে ছাড়া পেয়ে বাড়ি  থেকেই কাজকর্ম করছিল তখন । ওর কাছ থেকে   শেষ বারের মত�ো 26শে জানু য়ারি একটা মেসেজ পেয়েছিলাম । তার কিছু দিন পরেই ভ�োলা আকস্মিক ভাবে আবার অসু স্থ হয়ে কিছু বু ঝে উঠবার আগেই  সবাইকে ছেড়ে চলে গেল ।   BATJএর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কাছে এ বছরটা সত্যিই খুব দু ঃখজনক । ভ�োলার চলে যাওয়ার কিছু   পরেই আমরা আমাদের সবার প্রিয় করবীদিকে হারিয়েছি । তবে দু ঃখ করব না; কেননা চ�োখ বন্ধ করলেই ওদের হাসি মুখের কথাই মনে পড়ে । আমরা সে ভাবেই ওদের মনে রাখব ।   “ .... ও সেই চ�োখের দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভ�োলা যায়!" 

Anjali

www.batj.org


Rememberance   - Ranjan Dasdeb Back in the year 2000 summer I met Bhola at the Vivekananda Birth Anniversary and instantly became family friends. To be honest, I have never met a guy so humble, honest, gentle, humorous and a charming personality who was also one of the the Director of the then Motorola, Japan. Afterward, during his five years of tenure in Tokyo, he was also a dedicated member of BATJ, rendering his apartment at Moto Azabu for numerous meetings and parties and was active in various capacities. Most surprisingly, he was also shown his prowess as a drama actor by performing in a drama during the BATJ Durga Puja. Bhola was liked by our senior as well as junior members of BATJ by his modest and charming behavior. One instance I should share as I have personally involved was, after he left for India, I happened to have a business trip to Bangalore. I was seeking his advice for a hotel nearby to his residence but he was adamant and rather forced me to stay in his residence instead. Such was his personality. Finally, we will never forget the presents he brought for all the contemporary members and their family members of BATJ each time he visited Japan afterwards. No words to console Sushmita, Shoubhik and other bereaved family members for the early demise of our true friend. May his soul rest in peace.

www.batj.org

Durga Puja 2018

29


My Memory and Friendship with Pal-san   - Yukio Takeyari I met Mr. BN Pal (I call him Pal san in Japanese way) in Bangalore about 10 years back and became a very good friend since then. In 2008, I was transferred to Bangalore as Managing Director of Sony India Software Centre. At that time, Pal san was a senior executive management of Indian IT company and responsible for Sony project. It was the beginning of our relationship. He was very much respected and appreciated by Sony team because he knows how to work with Japanese and Japanese company from his past experience to work in Japan as Managing Director of Motorola Software. Apart from business relationship, I and Pal san was actively supporting IJCCI (Indo Japanese Chamber of Commerce and Industry-Karnataka) activities to promote India-Japan partnership. We participated various events together. Later, Pal-san started his own company, so called “Technology Startup” at the incubation center of IIIT Bangalore. I was invited to visit there and discussed about his idea. He was very much excited about his business. At the end of 2015 after staying in Bangalore for 7 years, I came back to Japan and retired from Sony. But, our relationship continued. In 2016, Pal san’s company was selected by Japanese government and invited to Japan for the presentation at CEATEC 2016 event. He asked me to support his presentation, so that Japanese audience can understand easier. We exchanged various ideas by Skype and e-mail. Actually, he did a very good presentation. During his stay in Japan, Pal san invited me to Druga Puja Festival which was held in Tokyo. I joined, and I enjoyed a lot because I remember various exciting festival I participated in India. Even after coming back to Japan, I’m visiting Bangalore a few times a year. I always meet him with prior appointment or without any appointment. In October last year, I visited Bangalore to participate some IT event. I could not inform Pal san about my visit in advance. But, I met him at the event really by chance. When he found me, he was very friendly and cheerful as usual. It was my last interaction with him. I’m very shocked and very sorry to know Pal san passed away quite suddenly. I believe that my memory and friendship with Pal san will be forever. I pray that his soul may rest in peace. My condolences go to the whole family. Pal san, thank you so much.

At Tokyo Durga Puja

20130920 IJCCI Seminar with Pal-san

20160512 with Pal-san and Gupta-san 30

Anjali

www.batj.org


প্রতিমা দ র্শন আনন্

ভা

রতীয় সংকৃতিতে মাতৃরূপের শক্তি আরাধনা চলে আসছে সেই বৈদিক যু গ থেকে । আমাদের তথা ভারতীয় অনু ভূতিতে সেই মহাজাগতিক মাতৃশক্তির প্রকাশ ঘটেছে নানা ভাবে; কখন�ো তিনি ধরা দিয়েছেন মা কালী-চন্ডী রূপে, কখন�ো বা তিনি জগদ্ধাত্রী, কখন�ো বা তিনি শিব স�োহাগী পার্বতী বা দশভুজা মা দু র্গা রূপে । বৈদিক সাহিত্যে, পুরাণে, চন্ডীমঙ্গলে, অন্নদামঙ্গলে ও আমাদের দৈনন্দিন আচার-অনু ষ্ঠানে ভরে রয়েছে তাঁর প্রশস্তি ও জয়গান । সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র সেই ভারতীয় সনাতনী চিন্তার ভিত্তি স্তম্ভে দাঁড়িয়ে, ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি পূ র্ণ আস্থা রেখে, সেই জগদ্ধাত্রী, কালী, ও দশভুজা দু র্গতিনাশিনী মা দু র্গার মূ র্ত্তি স্থাপনা করেছেন তাঁর আনন্দমঠে । তবে তা নিছক প্রতিকৃতি নয়; তিনি দেখেছেন আর দেখিয়েছেন এই তিন মূ র্ত্তির ভিতর দিয়ে তাঁর স্বদেশকে, স্বদেশেভূ মির ইতিহাস, সেদিনের পরাধীন মাতৃভূ মির অরাজকতা, অসহনীয় দু র্ভিক্ষ ও শ�োষণের বর্বরতা । তিনি দেখিয়েছেন আশার আল�োয় দীপ্ত ভবিষ্যৎ স্বাধীন মাতৃভূ মির ছবি । তাঁর মাতৃসাধনা তাঁকে শিখিয়েছে মা ও মাতৃভূ মি সমতুল । জননী জন্মভূ মিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী । মা জগদ্ধাত্রী, মা কালী, ও মা দু র্গা, সেই শাশ্বত মাতৃসত্তার প্রতিবিম্ব । তাই শারদ উৎসবে আনন্দমঠের ভাবনা মনকে টানে, আল�োড়ন জাগায় । আমাদের ট�োকিও বেঙ্গলির শারদীয় উৎসবে দশ প্রহরণ ধারিণী অজয়া শক্তি বলপ্রদায়িনী মা দু র্গা প্রতিমা দর্শনের ভিতর দিয়ে স্মরণ করি বঙ্কিম সৃ ষ্ট আনন্দমঠের দেবী বন্দনা । পাশাপাশি দেখে নি আনন্দমঠের প্রতিমাকে একান্ত আপন ভাবে স্বদেশভূ মির পবিত্রতা নিয়ে আনন্দমঠের চরিত্র মহেন্দ্রের চ�োখে ও মঠের ব্রহ্মচারী সত্যানন্দ ঠাকুরের বর্ণনায় । বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ ‘ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ‘বঙ্গ দর্শনে’ বাংলা ১২৮৭-৮৯ সালে [ইংরেজি ১৮৮০-৮২], পরাধীন ভারতবর্ষের, বিশেষ করে বাংলার ১১৭৬ সালের [ইংরেজি ১৭৬৯] ভয়াৱহ দু র্ভিক্ষের পটভুমিতে । উপন্যাসের মহেন্দ্র সেই দু র্ভিক্ষ জর্জরিত সাধারণ মানু ষদের প্রতীক । আনন্দমঠে সেই মহেন্দ্রকে ব্রহ্মচারি এক প্রকাণ্ড চতুর্ভুজ শঙ্খচক্রগদাপদ্মধারী, বিষ্ণু মূ র্তির ক�োলে এক ম�োহিনী মূ র্ত্তি দেখিয়ে নিজের পরিচয় দিয়েছেন তাঁর সন্তান বলে । অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ভক্তি বিজড়িত গলায় শ্রদ্ধা ভরে মহেন্দ্রকে বলেছেন বল, “বন্দে মাতরম” । তারপর মহেন্দ্রকে দেখিয়েছিলেন পরপর মায়ের তিন মুর্তি । প্রথমে মহেন্দ্রকে দেখিয়েছিলেন এক অপূ র্ব সু ন্দর সর্বাভরণভূ ষিতা সর্ব অলঙ্কারা হাস্যময়ী জগদ্ধাত্রী মূ র্তি যিনি বন্য পশুদের পদতলে দলিত করে পদ্মাসনাধিষ্ঠা, যাঁর গায়ের রঙ বালার্কবর্ণাভা । ব্রহ্মচারী স্বদেশভূ মির সেই জগদ্ধাত্রী মূ র্তি দেখিয়ে বলেছেন - “ মা যা ছিলেন । ” তিনি জগদ্ধাত্রী মূ র্তি দেখিয়ে মূ লতঃ স্বদেশের অতীত সমৃ দ্ধ ইতিহাসের প্রতি মহেন্দ্রের দৃ ষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন । যখন বিশ্বে সভ্যতার আল�ো সবর্ত্র পৌঁছায়নি, মাতৃভূ মি ভারতবর্ষ তখন ছিল এক উন্নত, ধন ও সম্পদে সমৃ দ্ধ দেশ । তাই মা জগদ্ধাত্রী ঐশ্বর্যশালিনী । মায়ের বালার্কবর্ণাভা গায়ের রঙ বস্তুতঃপক্ষে আদিমতার পর্দা ঠেলে সভ্যতার নতুন ভ�োরের অরুনাভ আল�োয় সেদিনের উদ্ভাসিত ভারতভূ মির প্রতীক । মহেন্দ্র জগদ্ধাত্রীরূপিণী মাতৃভূ মিকে প্রণাম করার পর ব্রহ্মচারী তাঁকে এক অন্ধকার সু ড়ঙ্গ পথ দিয়ে মাটির নীচে একটা অন্ধকার ঘরে নিয়ে গেলেন মায়ের দ্বিতীয় মুর্ত্তি দেখান�োর জন্যে । উদ্দেশ্য মহেন্দ্রের সামনে তুলে ধরা সেই ঐশ্বর্যশালিনী মায়ের বর্তমান করুণ অবস্থা যার মূ লে রয়েছে অমানবিক শ�োষণ ও দীর্ঘ পরাধীনতার জ্বালা । ব্রহ্মচারী মহেন্দ্রকে দেখালেন মায়ের কালী মূ র্তি- পরাধীন মাতৃভূ মির অন্ধকারসমাচ্ছন্না কালিমাময়ী হৃতসর্বস্বা, নগ্নিকা রূপ । তিনি মহেন্দ্রকে বললেন-” দেখ, মা যা হইয়াছেন । ” তিনি আরও জানালেন এ পরাধীন দেশে সর্বত্রই শ্মশান, তাই মা কঙ্কালমালিনী । যিনি শিব, সু ন্দর তিনিই পরে রয়েছেন মায়ের পদতলে । দেশমায়ের এ করুণ অবস্থার কথা বলতে গিয়ে আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সেদিন সংযত ও দৃ ঢ মনের মানু ষ ব্রহ্মচারী সত্যানন্দ মহেন্দ্রের সামনে ।

www.batj.org

- মানিকচন্দ্র

মাকালী দর্শন ও প্রণাম শেষে মহেন্দ্রকে মায়ের তৃতীয় মূ র্ত্তি দেখাতে নিয়ে গেলেন ব্রহ্মচারী অন্য পথে । এ পথ অন্ধকার থেকে আল�োয় আসার পথ; এ পথ মিলেছে মর্মরপ্রস্তর দিয়ে তৈরি প্রশস্ত দশভূ জা মা দু র্গার মন্দিরের । এখানে পাখিরা মধু র গলায় গান গায়. মা দু র্গার স�োনার মূ র্ত্তি প্রভাতের আল�োয় হয়ে ওঠে জ্যোতির্ময়ী । ব্রহ্মচারী দু র্গা মন্দিরে প্রণাম জানিয়ে মহেন্দ্রকে জানালেন -,”এই মা যা হইবেন । দশ ভুজ দশ দিকে প্রসারিত, তাহাতে নানা আয়ু ধরূপে নানা শক্তি শ�োভিত, পদতলে শত্রু বিমর্দিত, পদাশ্রিত বীরকেশরী শত্রুনিপীড়নে নিযু ক্ত দিগভূ জা” পরে নিজের আবেগ সংযত করে নিয়ে আর�ো বললেন ,”দিগ্ভু ্জা নানাপ্রহরণধারিণী শত্রুবিমর্দিনী–বীরেন্দ্র –পৃ ষ্ঠবিহারিণী – দক্ষিণে লক্ষ্মী ভাগ্যরূপিণী–বামে বাণী বিদ্যা-বিজ্ঞানদায়িনী–সঙ্গে বলরূপী কার্তিকেয়, কার্যসিদ্ধিরূপী গণেশ; এস, আমরা মাকে উভয়ে প্রণাম করি । ” বস্তুতঃ পক্ষে বঙ্কিমচন্দ্র স্বাধীন মাতৃভূ মি ভারতবর্ষকে দেখতে চেয়েছেন স্বয়ংসম্পূর্ণা দশভুজা মা দু র্গা মূ র্ত্তিতে । সমস্ত বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করে সমস্ত শত্রুকে পরাজিত করে দেশকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যেতে চাই ধন, ঐশ্বর্য, চাই লক্ষ্মী; চাই বিদ্যা, চাই সরস্বতী; চাই বলরূপী কার্তিকের মত�ো য�োদ্ধা ও কার্যসিদ্ধিরূপী গণেশ । তাই আনন্দমঠে দশভূ জা দু র্গতি নাশিনী মা দু র্গার অধিষ্ঠান মা জগদ্ধাত্রী ও মা কালীর পাশাপাশি । আনন্দমঠের মাতৃ সাধনা বস্তুতঃ পক্ষে অনবদ্য, প্রাসঙ্গিক ও হৃদয়স্পর্শী । প্রতিমা দর্শন আনন্দমঠে সহজেই মনে করিয়ে দেয় মাতৃসমা জন্মভূ মির প্রতি আমাদের দায়িত্বের কথা । তুলে ধরে আমাদের সামনে জাতীয়তাব�োধের নতুন পাঠ; আজও শেখায় আজকের স্বাধীন স্বদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণা দশভুজা মা দু র্গা মূ র্ত্তিতে প্রতিঠিত করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র । আনন্দমঠে সেই লক্ষ্যে প�ৌছান�োর জন্যে বঙ্কিমচন্দ্র আমাদের শিখিয়েছেন আমাদের কি করা উচিত । মহেন্দ্র মা দু র্গা মূ র্ত্তি দর্শন করার পর ব্রহ্মচারীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন “মার মূ র্তি কবে দেখিতে পাইব?” উত্তরে ব্রহ্মচারী সত্যানন্দ জানিয়েছেন ,“যবে মার সকল সন্তান মাকে মা বলিয়া ডাকিবে, সেই দিন উনি প্রসন্ন হইবেন । ” বঙ্কিম চন্দ্র আনন্দমঠের উপক্রমণিকায় ব্রহ্মচারীর সেই কথার প্রায়ই প্রতিধ্বনি করেছেন ; দ্বার্থহীন ভাষায় দায়িত্ব নিয়ে দেশের জন্যে আমাদের কি করা দরকার তা জানাতে গিয়ে বলেছেন চাই স্বদেশের প্রতি ভক্তি । ভক্তিই বড় । “ কিছু কাল পরে আবার শব্দ হইল, আবার সেই নিস্তব্ধ মথিত করিয়া মনু ষ্যকণ্ঠ ধ্বনিত হইল, “আমার মনস্কাম কি সিদ্ধ হইবে না?” এইরূপ তিন বার সেই অন্ধকারসমুদ্র আল�োড়িত হইল । তখন উত্তর হইল, “ত�োমার পণ কি?” প্রত্যুত্তরে বলিল, “পণ আমার জীবনসর্বস্ব । ” প্রতিশব্দ হইল, “জীবন তুচ্ছ ; সকলেই ত্যাগ করিতে পারে । ” “আর কি আছে? আর কি দিব?” তখন উত্তর হইল, “ভক্তি । ” তাই আজকের এ শারদীয়া অনু ষ্ঠানে মা দূ র্গার আরাধনার ভিতর দিয়ে মাতৃভূ মি স্বদেশকে স্মরণ করি । আপন মনের মাধু রী মিশিয়ে পঞ্চ প্রদীপ জ্বালিয়ে ভক্তির নৈবেদ্য সাজাই । বঙ্কিমচন্দ্রের সঙ্গে গলা মিলিয়ে বলি, “জননী জন্মভূ মিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী । বন্দে মাতরম” । আর প্রণাম জানাই সেই বৈদিক মন্ত্রে“সর্বমঙ্গল-মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থ-সাধিকে শরণ্যে ত্র্যম্বকে গ�ৌরি নারায়ণি নম�োহস্তু তে” ।।

Durga Puja 2018

31


রবীন্দ্রনাথ, জওহরলাল ও ইন্দিরা - প্রজ   ভূমিকা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধী তিন প্রজন্মের তিন জন সু পরিচিত ব্যক্তিত্ব । কর্মজীবনের বিস্ময়কর বহুমুখীতা সত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথ ছিলেন মূ লত সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের মানু ষ আর জওহরলাল ও তাঁর কন্যা ইন্দিরা প্রধানত রাজনীতির জগতের । তাই তাঁদের কর্মজীবন এবং ভারতের জাতীয় জীবনে অবদানের ক্ষেত্র এক নয়, কিন্তু যেন একটি অদৃ শ্য সূ ত্রে তাঁরা ছিলেন গভীরভাবে গ্রথিত । গত বছর, ২০১৭ সালে, ইন্দিরার জন্মের শতবর্ষ পূ র্ণ হয় । এই তিন জন ভারতীয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কয়েকটি দিক আল�োচনা করাই এই প্রবন্ধের মূ ল উদ্দেশ্য । ‘বাঙ্গালী কবি’ হিসেবে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পরিচিতি এবং তাঁর কর্মজীবন প্রধানত বাংলা ভূ খন্ডে । তাই বাংলা ভাষাভাষী মানু ষ তাঁর সাহিত্য ও বহুবিধ অন্যান্য কাজকর্মের দ্বারা সর্বাগ্রে এবং সবচেয়ে বেশী মাত্রায় প্রভাবিত হবে এটাই স্বাভাবিক । কিন্তু রবীন্দ্রনাথের ‘আত্মিক’ (spiritual) অবস্থিতি ভারতবর্ষে, যেটি তাঁর অনু ভূতিতে শুধু একটি ভ�ৌগলিক সীমানায় চিহ্ণিত ভূ খন্ড নয়, একটি উদার ও উন্নত সভ্যতার লীলাভূ মি, বহু মানু ষের বাসস্থান ও আশ্রয়স্থল - ‘মহামানবের সাগরতীর’ । তাই ভারতের মানু ষ যাদের ভাষা বাংলা নয় বা যাদের সংস্কৃতি-ব�োধও অ-বাঙ্গালী, তাদের কাছে রবীন্দ্রনাথের পরিচিতি শুধু কি একজন বাঙ্গালী কবি হিসেবে বা খ্যাতিমান ভারতীয়দের মধ্যে একজন হিসেবে, না জাতীয় জীবনে কবির বহুবিধ অবদানের মাধ্যমে তাদেরও ‘নিজের মানু ষ’ হিসেবে? এই বিষয়টি এই প্রবন্ধের অন্যতম জিজ্ঞাসা । জওহরলাল এবং ইন্দিরা বাংলার বাইরের ভারতীয় এবং রবীন্দ্র-ঘনিষ্ঠ । পারস্পরিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে কবির সঙ্গে তাঁদের যে সম্পর্ক সৃ ষ্টি হয়েছিল তা ছিল গভীর স্নেহ ও শ্রদ্ধার । তাই দু ই প্রজন্মের এই দু ’জন (অবাঙ্গালী) ভারতীয় তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে এবং বৃ হত্তর ভারতে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব কি ভাবে অনু ভব এবং মূ ল্যায়ন করেছিলেন তার অনু সন্ধান এই প্রবন্ধের স্বল্পপরিসরে করার চেষ্টা করা হয়েছে । রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় ভারতবর্ষ রাজনৈতিক স্বাধিকার অর্জনের সংগ্রামের মাধ্যমে তার জাতীয় চরিত্র ও পরিচিতিকেও নতুনভাবে আবিস্কার করায় সচেষ্ট হয়েছিল, হয়ত খানিকটা সচেতনতা ছাড়াই । এই অনু সন্ধান যে ‘নতুন ভারতের’ পথ নির্দেশ করেছিল তার দিশারিদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের ভূ মিকা ছিল অনন্য । “নতুন ভারতের স্রষ্টা” বলতে যে সব মানু ষের নাম উঠে আসে, তাঁদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ অবশ্যই অগ্রগণ্য । তাই তাঁর সর্বভারতীয় পরিচয় “গুরুদেব” হিসেবে - তিনি জাতির শিক্ষক । মূ ল প্রসঙ্গে যাবার আগে এই প্রবন্ধের নির্বাচিত তিন চরিত্রের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ আরও একজন বিখ্যাত (অবাঙ্গালী) ভারতীয়ের সঙ্গে কবির বিশেষ সম্পর্কের কথা সংক্ষেপে বলে নেওয়া হয়ত প্রসঙ্গ-বহির্ভূত হবে না । এই মানু ষটি হলেন মহাত্মা গান্ধী । বিশ শতকের বিশ-তিরিশের দশকে ভারতের জাতীয় জীবনের মহানায়ক ছিলেন এই দু ই নেতা – যাঁরা গুরুদেব ও মহাত্মা বলে আখ্যায়িত ।

গুরুদেব ও মহাত্মা

বিলেত-ফেরত, প্রতিষ্ঠিত, ব্যারিস্টার ম�োহনদাস করমচাঁদ গান্ধী সক্রিয় রাজনীতিতে এসেছিলেন অপরিকল্পিতভাবে, ঘটনাচক্রে বলা যায় । উকিল হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে তিনি ব্যক্তিগত লাঞ্ছনা ও কঠ�োর বর্ণবিদ্বেষ প্রত্যক্ষ করেন । তার প্রতিবাদে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্ঘবদ্ধ আন্দোলন তাঁর নেতৃত্বে কিছু টা সু ফলও আদায় করতে সক্ষম হয় । তিনি সপরিবারে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করতে শুরু করেন ডারবানের কাছে ফিনিক্সে । উদ্ধত অন্যায়ের বিরূদ্ধে সংগ্রামে যে তিনটি ‘অস্ত্র’ তিনি কাজে লাগিয়েছিলেন সেগুলি ছিল অহিংসা, সত্যাগ্রহ ও সঙ্ঘবদ্ধ অত্যাচারিতার সঙ্গে অসহয�োগ । এগুলির বিবর্তন ও প্রয়�োগ এই সময়েই শুরু হয়েছিল । এই সু বাদেই তাঁর সু নাম ভারতীয়দের কাছে বা বিশ্বের অন্যত্র পৌঁছয় তাঁর নিজের ভারতীয় রাজনীতিতে আসার আগেই । দীর্ঘ একুশ বছর দেশের বাইরে কাটিয়ে গান্ধীজি পাকাপাকি ভাবে দেশে ফিরে আসেন 32

- শ্রীকান্ত চট্টো

১৯১৪ সালে । রবীন্দ্রনাথ তখন শুধু বাঙ্গালী কবিই ন’ন, তিনি এশিয়ার প্রথম ন�োবেল পুরস্কার বিজয়ী । তাঁর পরিচিতি সর্বভারতীয়, তাঁর খ্যাতি বিশ্বজ�োড়া । যদিও এই দু ই ভারতীয়ই ছিলেন স্বনামধন্য, তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচয় বা সাক্ষাতকার তখনও হয় নি । কিন্তু গান্ধীজির দক্ষিণ আফ্রিকার কাজকর্ম সম্পর্কে শ্রদ্ধার থেকেই নিশ্চয়ই ফিনিক্স আশ্রমের সদস্যদের মধ্যে যাঁরা গান্ধীজির সঙ্গে বা কিছু আগে ভারতে ফিরে আসেন তাঁদের শান্তিনিকেতনে প্রাথমিকভাবে আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের অনু মতিক্রমে । এঁদের দু জনেরই বন্ধু ইংরেজ চার্লি (দীনবন্ধু) এ্যান্ড্রুজ এই ব্যপারে উদ্যোগী হয়েছিলেন এবং তাঁর আমন্ত্রণে গান্ধীজি, সস্ত্রীক, প্রথমবারের মত শান্তিনিকেতনে যান ১৯১৫ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারী, রবীন্দ্রনাথের অনু পস্থিতিতেই । তাঁর পরিকল্পনা ছিল শান্তিনিকেতনে কিছু দিন কাটাবেন চার্লি এ্যান্ড্রুজ ও কবির আর এক আশ্রমবাসী ইংরেজ বন্ধু উইলিয়াম পিয়ারসনের আতিথ্যে, আশ্রমের ব্যবস্থাদির সঙ্গে পরিচিত হতে । কিন্তু ১৯শে ফেব্রুয়ারী গান্ধীজির রাজনৈতিক অভিভাবকতুল্য নেতা গ�োপালকৃষ্ণ গ�োখলের হঠাৎ মৃ ত্যু হয় পুণাতে এবং গান্ধীজিকে শান্তিনিকেতন ছেড়ে ফিরে যেতে হয় । আশ্রম-পরিচিতি পূ র্ণতর করার জন্যই ব�োধহয় তিনি শান্তিনিকেতনে আবার ফিরে আসেন ৬ই মার্চ এবং থাকেন ১১ তারিখ পর্য্যন্ত । কবিও ইতিমধ্যে তাঁর আশ্রমে ফিরেছেন, তাই তাঁদের প্রত্যক্ষ পরিচয় এই প্রথম হল । এই দু ই ‘দূ রের বন্ধুর’ পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলতে নিশ্চয়ই সাহায্য করেছিল আশ্রমের সহজ-সরল ঘর�োয়া পরিবেশ । নানা বিষয়ে তাঁদের আল�োচনা করার সু য�োগ হ’ল কখনও একান্তে, কখনও বা এ্যান্ড্রুজ এবং পিয়ারসন সাহেবদের উপস্থিতিতে । এর পর থেকে সাক্ষাৎকার, পত্রালাপ বা লেখালেখির মাধ্যমে তাদের নিবিড় ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিবিড়তর হয়েছিল বলা যায় । দেশের, সমাজের বা বিশ্বসভ্যতার বিভিন্ন সমস্যা ও তাদের সমাধানের উপায় নিয়ে তাঁদের মতের মিল যেমন ছিল, তেমনি ছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূ র্ণ বিষয়ে তাঁদের গভীর মতানৈক্য । যু ক্তি-ভিত্তিক বা আদর্শগত মত-পার্থক্য সত্ত্বেও পরস্পরের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্ব যে বজায় রাখা যায় কবি ও মহাত্মা গান্ধীর সম্পর্ক তার এক্‌টি উজ্জ্বল দৃ ষ্টান্ত । গান্ধীজি কবির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন - “I started with a disposition to detect a conflict between Gurudev and myself but ended with the glorious discovery that there was none” । রবীন্দ্রনাথও বিভিন্ন সময়ে বা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গান্ধীজির চিন্তা-ভাবনা, মতামত, নেতৃত্ব বা ব্যক্তিত্ব নিয়ে সু চিন্তিত অভিমত ব্যক্ত করেছেন যেগুল�ো অনেক সময়ে তাঁদের আদর্শগত গভীর গরমিলের সাক্ষ্য বহন করে । কিন্তু তিনি বিক্ষিপ্ত ঘটনাদির ঊর্ধে যে মানু ষ্‌টিকে চিনেছিলেন তাঁর পরিচিতি এই ভাবে দিয়েছিলেন - “যাহা কিছু মহৎ, যাহা কিছু সৎ, মহাত্মাজি তাহারই প্রতীক । তিনি ভারতের প্রাণস্বরূপ” । গান্ধীজিও কবিকে চিনেছিলেন স্বদেশের “মহান প্রহরী” (Great Sentinel) হিসেবে, যিনি দেশের সমাজব্যবস্থা ও সংস্কৃতিকে কুসংস্কার ও ক্ষুদ্র-মনস্কতার ঊর্ধে রাখার জন্য আজীবন সচেষ্ট ছিলেন । কবির জীবদ্দশায় গান্ধীজি শেষবারের মত শান্তিনিকেতনে আসেন, সস্ত্রীক, ১৯৪০ সালে, অসু স্থ কবিকে দেখতে । প্রিয় বন্ধুকে বিদায় দেবার সময় কবি একটি অনু র�োধ করেন লিখিতভাবে, মর্মস্পর্শী ভাষায় । তাঁর মৃ ত্যুর পর কবি তাঁর “জীবনের উৎকৃষ্ট সৃ ষ্টিসম্পদের বাহক” (a vessel which carries the cargo of my life’s best treasures) শান্তিনিকেতনের ভবিষ্যত রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থায়ীত্বের দায়িত্ব গান্ধীজি স্বয়ং যেন নেন, এই ছিল কবির অনু র�োধ । গান্ধীজি দেশের সমস্ত মানু ষের অবগতির জন্য ব্যপারটি প্রকাশ্যে আনেন এবং তাঁর নিজের মত জানান এই ভাষায় - “who am I to take this institution under my protection? It carries God’s protection because it is the creation of an earnest soul” । এরপর ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সময় করে তিনি শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন অন্যান্য কাজের মধ্যে কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথের সঙ্গে শান্তিনিকেতনের ভবিষ্যত নিয়ে আল�োচনা করতে । এইটিই ছিল

Anjali

www.batj.org


রবীন্দ্রনাথ, জওহরলাল ও ইন্দিরা - প্রজ শান্তিনিকেতনে তাঁর শেষবারের মত আসা । কবির অনু পস্থিতি তাঁর মনকে নিশ্চয়ই নাড়া দিয়েছিল । আশ্রমবাসীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি প্রয়াত বন্ধুকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন এই বলে - “it is my conviction … that Gurudev as a person was much bigger

ব্যরিস্টার হিসেবে জওহরলাল লাহ�োরের আদালতে কাজ শুরু করেন, কিন্তু দেশের রাজনীতির টান তিনি সর্বক্ষণ অনু ভব করতে থাকেন তাঁর পিতার ও পিতার সহকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা থেকে । ১৯১৬ সালে তাঁর বিয়ে হয় এবং ১৯১৭ সালে কন্যা ইন্দিরার জন্ম হয় । কিন্তু বিলাসবহুল সংসার-জীবন, যা তাঁর কাছে সহজলভ্য ছিল, তার আকর্ষণ তাঁকে পরাধীন দেশের রাজনীতির কঠ�োর বাস্তবতা থেকে দূ রে রাখতে পারে নি । জালিয়ানওয়ালাবাগের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটে ১৯১৯ এর এপ্রিলে । এই বীভৎস ঘটনার ব্যপক প্রচার বন্ধ করতে সরকার পাঞ্জাবে মিলিটারি আইনকে কাজে লাগিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলির কন্ঠর�োধ করে । সাধারণ মানু ষও অজানা আশঙ্কায় দিশেহারা এবং স্তব্ধবাক হয়ে পড়ে । ঠিক তখনই সারা দেশের হয়ে এই ঘটনার জন্য দায়ী বিদেশী শাসককে ধিক্কার জানিয়ে কবি রবীন্দ্রনাথ তাঁর নাইটহুডের খেতাব ফিরিয়ে দেন বড়লাটসাহেবকে লেখা একটি অসাধারণ চিঠির মাধ্যমে । কবির সংগে জওহরলালের তখনও ব্যক্তিগত পরিচয় হয় নি, কিন্তু কবির এই পত্রটি তাঁকে অভিভূ ত করে । তিনি দেশের রাজনীতিতে কবির প্রভাব এই ভাবে দেখেছিলেন - “রবীন্দ্রনাথ রাজনীতি জগতের মানু ষ ছিলেন না, কিন্তু হৃদয়ের গভীর অনু ভূতিশীলতা তাঁকে কবিতা বা সংগীতের ভাবের জগৎ থেকে বারে বারে সরিয়ে এনেছে । যখনই ক�োন পরিস্থিতি তাঁর অসহনীয় মনে হয়েছে, তখনই তিনি বিদেশী শাসক বা তাঁর নিজ দেশবাসীর ঊদ্দেশ্যে ভবিষ্যৎদ্রষ্টার ভূ মিকা নিয়ে সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছেন । ... জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর নাইট উপাধি ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা দেশের রাজনীতির জগতকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল” ।

than his works; bigger than even this institution” । গুরুদেব এবং মহাত্মা

উপযু ক্ত উত্তরসূ রী জওহরলাল - গুরু-শিষ্য পরম্পরা

এলাহাবাদের লব্ধ-প্রতিষ্ঠ উকিল ম�োতিলাল নেহরুর পুত্র জওহরলালের জন্ম ১৮৮৯ সালে । তাঁর আত্মজীবনীতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে তাঁর পিতার ও কবি রবীন্দ্রনাথের জন্মের বছর, মাস ও দিন একই । তাই তাঁর সঙ্গে কবির সম্পর্ক যে পুত্র ও পিতার মত ছিল এ কথা একাধিক অর্থেই বলা যায় । বিলেতের অভিজাত পরিবারের পুত্রদের জন্য শীর্ষস্থানীয় স্কুলগুলির অন্যতম হল লন্ডনে অবস্থিত হ্যার�ো স্কুল । জওহরলাল ১৯০৫ সাল থেকে ১৯০৮ পর্য্যন্ত এই স্কুলে পড়েন । স্কুলের শিক্ষা শেষ করে তিনি আরও একটি অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজে বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে পড়শ�োনা করেন । কেম্ব্রিজ থেকে ডিগ্রী সম্পূর্ণ করে জওহরলাল লন্ডনের আইন শিক্ষার কলেজ ইনার টেম্পলে ব্যারিস্টারি পড়েন এবং দেশে ফেরেন উচ্চ স্তরের ‘বিলেতফেরত’ উকিল হিসেবে ১৯১২ সালে । পিতা ম�োতিলাল পেশায় উকিল হলেও দেশের রাজনীতিতেও ছিলেন সক্রিয় । তাঁর প্রভাব এবং স্বদেশ সম্পর্কে নিজস্ব চিন্তা বা অভিজ্ঞতা উকিল জওহরলালকেও প্রথমে রাজনীতি জগতের কর্মী ও অচিরেই নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করে । রাজনীতির জগতে মহাত্মা গান্ধী তাঁর পথ-প্রদর্শক সহকর্মী এবং প্রেরণার উৎসস্থল । জীবনব্যাপী রাজনীতির জগতের সংশ্লিষ্টতা সত্ত্বেও জওহরলালের ছিল বহুমুখী মননশীলতা । রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর সৃ ষ্টির প্রতি তাঁর যে আকর্ষণ থাকবে এটাই স্বাভাবিক । তাই ভারতের সংস্কৃতি এবং রাজনীতি জগতের এই দু ই নেতাই যু বক জওহরলালের গুরুস্থানীয় হয়ে উঠলেন । ভারতের জাতীয় জীবনে গান্ধীজির উদয়কে তিনি ‘বজ্র-বিদ্যুতের ঝলকের’ মত বলেছেন যা পরাধীন দেশের মানু ষকে একই সঙ্গে আল�োড়িত এবং আল�োকিত করেছিল । আর ভারত-মানসের ওপর রবীন্দ্রনাথের প্রভাবকে তিনি তুলনা করেছেন পর্বতচূ ড়ায় ঊষার আল�োকের সঙ্গে যার ছড়িয়েপড়া প্রভা দেশবাসীর মনের জগতকে উদ্ভাসিত করতে সাহায্য করেছিল । য�ৌবনে-পাওয়া এই দু ই গুরুর সম্বন্ধে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পরিণত বয়সের জওহরলাল লিখছেন - “I belong to a generation which grew up under his influence. Perhaps we did not fully realize at the time because of the powerful impact of Gandhi’s thunderbolt. I speak more for the non-Bengalispeaking people in India, and more especially students and the younger intellectuals who did not have the advantage of reading Tagore in the original Bengali. In Bengal his influence was no doubt deeper and more pervasive because his songs reached the masses of the people”. www.batj.org

গুরুদেবের সাথে আলাপচারিতায় জওহরলাল জওহরলালের সঙ্গে কবির প্রথম সাক্ষাতকার ক�োথায় এবং কবে হয়েছিল তা সঠিক জানা যায় না, তবে ১৯২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতায় কংগ্রেসের একটি অধিবেশন সেরে তিনি গান্ধীজির সঙ্গে শান্তিনিকেতনে যান এবং কয়েকদিন সেখানে কাটান, ‘ভবঘুরে’ কবি যদিও তখন দেশের বাইরে, ইউর�োপে । দীনবন্ধু এ্যন্ড্রুজ ও কবির ‘বড়দাদা’ ঋষিতুল্য দ্বিজেন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁরা যে কিছু সময় কাটিয়েছিলেন সে কথা জওহরলাল তাঁর আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন । বড়দাদাকে তিনি মনে রেখেছেন “পরম আদরণীয়” (most lovable) বলে । আর এ্যণ্ড্রুজসাহেব তাঁকে কয়েকটি বই উপহার দিয়েছিলেন যে গুলি পড়ে জওহরলাল উপকৃত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন । কবির যু ক্তিবাদী মন ও চিন্তার গভীরতা জওহারলালকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিল এ কথা তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন । কিন্তু গান্ধীজির অসহয�োগ আন্দোলনকে, বিশেষ করে বিদেশী দ্রব্য বর্জনের আহ্বানকে, কবি যখন অনু ম�োদন না দিয়ে সমাল�োচনা করলেন তখন জওহরলাল কিছু টা বিরক্তি ব�োধ করলেন (felt a little irritated); কারণ তাঁর মতে ব্রিটিশ শাসনের বিরূদ্ধে গান্ধীজির এই সংগ্রাম ভারতীয়মাত্রেরই সমর্থন করা উচিত । বিশ-তিরিশের দশকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, যার কর্ণধার ছিলেন মহাত্মা গান্ধী, ক্রমশই উত্তাল হয়ে ওঠে । রাজদ্রোহের অপরাধে নেতাদের কারাবাস নিয়মিত বরাদ্দ হয়ে দাঁড়ায় । জেল-জীবনের সহস্র

Durga Puja 2018

33


রবীন্দ্রনাথ, জওহরলাল ও ইন্দিরা - প্রজ অসু বিধার মধ্যে, অযাচিতভাবেই, যে বিশাল এক্‌টি সু য�োগ নেতাদের জুটে গিয়েছিল তা ছিল পড়াশ�োনা এবং চিন্তা করার অবকাশ । জওহরলাল এমনিতেই পড়ুয়া মানু ষ ছিলেন, তিনি জেলে বসে পড়লেন এবং লিখলেন প্রচুর, কবির লেখার সঙ্গেও তাঁর পরিচিতি গভীরতর হল । এর অনেক বছর পরে জীবনের এই পর্যায়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি লিখছেন – “পরবর্তী কালে কবির প্রতি আমার আকর্ষণ বাড়ে । তাঁর চিন্তা ও তাঁর জীবনদর্শনের সঙ্গে আমি যথেষ্ট একাত্মতা ব�োধ করতে শুরু করি” । তাঁর জীবনে “দু ই গুরুর” প্রভাব সম্বন্ধে তিনি আবারও লিখলেন – “আমি চিন্তা করে অবাক হই যে কি ভাবে কবির বিশাল সৃ ষ্টি এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব আমাকে এবং আমাদের সময়কে প্রভাবিত করেছিল । কর্মজীবনে গান্ধীজির সঙ্গেই আমার ঘনিষ্ঠতা, কিন্তু তাও আমি বলব আমার মন রবীন্দ্রনাথের সু রেই বিশেষভাবে সাড়া দেয়” । শান্তিনিকেতনের প্রতিও তাঁর অনু ভূতিশীল মন আকৃষ্ট হয় এবং তিনি কর্মব্যস্ত জীবনে যখনই সময় করতে পেরেছেন কবির সঙ্গে দেখা করতে শান্তিনিকেতনে গেছেন । রিক্ত, নিস্ফলা পারিপার্শিকের মধ্যে শান্তিনিকেতনকে তিনি একটি মরূদ্যান বলে বর্ণনা করেছেন (an oasis in the midst of much barrenness) । কবি শান্তিনিকেতনকে গড়ে তুলছেন নীরবে, প্রায় ল�োকচক্ষুর অন্তরালে, “ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান” হিসেবে, এ কথা জওহরলালের সপ্রশংস দৃ ষ্টি এড়ায় নি । ১৯৩৪ সালে দু টি বিশেষ ঘটনা জওহরলাল ও রবীন্দ্রনাথকে আবারও কাছাকাছি নিয়ে এল । কন্যা ইন্দিরার স্কুলের গণ্ডী পেরিয়ে কলেজে যাবার সময় আসছে । ১৬ই জানু য়ারী কলকাতা থেকে জওহরলাল কবিকে তার পাঠালেন এই মর্মে যে তিনি ও তাঁর পত্নী শান্তিনিকেতনে আসতে চান কবিকে শ্রদ্ধা জানাতে । ১৯ তারিখে ট্রেনে এসে প�ৌছলেন নেহরু-দম্পতি । কবি তাঁদের অভ্যর্থনা করলেন সাদরে, নিজকন্ঠে বেদমন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে । বিলেতে শিক্ষিত জওহরলালের সংস্কৃত জ্ঞান ছিল হয়ত স্বল্প, কিন্তু ক�ৌতূ হল ছিল অদম্য । তিনি ঐ সংস্কৃত মন্ত্রগুলির ইংরেজি অনু বাদ কবির একান্ত সচিব অনিল চন্দের কাছে চেয়ে পাঠান । বিদায় নেবার সময় তাঁর মন্তব্য লিখে গেলেন – “জীবনের যাত্রাপথের এক্‌টি আনন্দময় দিনের স্মৃতিতে” (in memory of a delightful day in life’s journey) । নেহরু-পত্নী কমলাও সই করলেন মন্তব্যটির নীচে । ইন্দিরাকে শান্তিনিকেতনে পড়ান�োর ব্যাপারে নেহরু-দম্পতি কবির সঙ্গে কথা বলেন । যে চিন্তা থেকে তিনি ইন্দিরাকে শান্তিনিকেতনে পাঠাতে চেয়েছিলেন সে সম্বন্ধে তিনি বিস্তারিত লিখেছেন যার সার-সংক্ষেপ হল শান্তিনিকেতনের আবহাওয়া থেকে, এবং বিশেষত, গুরুদেবের উপস্থিতিতে ও তাঁর সাহচর্যে, ইন্দিরা কিছু আহরণ করতে পারবে (she would imbibe something of the atmosphere of the place and, more particularly, profit by the presence of and contact with Gurudev) । নতুন শিক্ষাবর্ষের গ�োড়ায়, ১৯৩৪ সালের জুলাই মাসে, ইন্দিরা যখন কলেজ-ছাত্রী হিসেবে শান্তিনিকেতনে এলেন জওহরলাল তখন জেলে এবং কমলা নেহরু অসু স্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী । কবির সঙ্গে ইন্দিরার প্রথম সাক্ষাত অবশ্য এর আগেও একবার হয়েছিল, সেটা ছিল ১৯৩২ সালে, পুণার যারবাদা জেলে । মহাত্মা গান্ধী তখন সেখানে অনশনে । কবি স্বয়ং এসেছেন তাঁর সমব্যাথী হিসেবে সঙ্গ দিতে; কিশ�োরী ইন্দিরাও, হয়ত মহাত্মার সেবায় সাহায্য করতে । পিতা জওহরলাল দেরাদু নের জেলখানা থেকে ইন্দিরাকে লিখলেন যে ভারতের আর একজন মহাপুরুষ রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে যে তাঁর (ইন্দিরার) দেখা হওয়ার সু য�োগ হল এটা স�ৌভাগ্যের ব্যাপার । ইন্দিরা-শান্তিনিকেতন প্রসঙ্গে পরে আসা যাবে, জওহরলাল-কমলার কথায় ফিরে যাওয়া যাক । কমলা নেহরুর স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁকে এলাহাবাদের বাসস্থান থেকে ভাওয়ালীতে এক্‌টি স্বাস্থ্যনিবাসে নিয়ে যাওয়া হয় । জওহরলাল নিজে তখন জেলে । রবীন্দ্রনাথ নিজ-উদ্যোগে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপালকে টেলিগ্রাম করে জওহরলালকে মুক্তি দেওয়ার অনু র�োধ জানান যাতে তিনি তাঁর রুগ্ন স্ত্রীর পাশে থেকে তাঁর সেবা করতে পারেন । জওহরলাল আলম�োড়া জেল থেকে নিয়মিত তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে যাওয়ার অনু মতি পান । পরে কমলাকে চিকিৎসার জন্য ইউর�োপে নিয়ে যাওয়া হয় । কিন্তু যে কালব্যাধিতে তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন সেই যক্ষ্মা র�োগে তাঁর মৃ ত্যু হয় ১৯৩৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সু ইজারল্যান্ডে, মাত্র ৩৬ বছর বয়সে । এই প্রসঙ্গে আল�োচনা করার আগে ১৯৩৪ সালের দ্বিতীয় ঘটনা, যেটি রবীন্দ্রনাথ ও জওহরলালকে আরও কাছাকাছি এনে দিয়েছিল, সেটা কি এবং কেমন ছিল দেখে নেওয়া যাক ।

34

১৯৩৪ এর ১৫ই জানু য়ারী বিহারের বেশ বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে একটি বিধ্বংসী ভূ মিকম্প হয় যাতে হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল বিপুল । নেহরু-দম্পতি শান্তিনিকেতন সেরে এলাহাবাদ ফিরে যাওয়ার পথে পাটনায় এসে নামেন এবং কিছু দিন বিহারের ভূ মিকম্প-কবলিত কয়েকটি অঞ্চলে ত্রাণের কাজকর্ম পরিদর্শন করেন । এলাহাবাদে ফিরে ভূ মিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য জওহরলাল নানা উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত হয়ে দেশবাসীর কাছে ত্রাণকার্য্যে সর্ববিধ সহয�োগিতার আবেদনে ও আয়�োজনে নেতৃত্ব দেন । ইতিমধ্যে ২৪শে জানু য়ারী মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ ভারতের একটি শহরের জনসভায় বিহারের ভূ মিকম্পে হতাহত বা ক্ষতিগ্রস্ত মানু ষের জন্য সমবেদনা জানান�োর সঙ্গে এই মন্তব্যও করেন যে বিহারের “অস্পৃশতার পাপের” শাস্তি হিসেবে এই ভূ মিকম্প বিধাতার র�োষের (divine chastisement) প্রতিফলন । বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে মহাত্মার এই উক্তিটি দেশের মানু ষের কাছে পৌঁছল অচিরেই । রবীন্দ্রনাথ এই উক্তিটির সত্যাসত্য যাচাই করার জন্য প্রথমে গান্ধীজিকে লেখেন এবং তাঁর উত্তর পেয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ করেন, প্রায় তিরস্কারের স্বরে । গান্ধীজির এই উক্তিটি জওহরলালকেও পীড়া দিয়েছিল । মন্তব্যটিকে তিনি ‘বিস্ময়কর’ (staggering remark) বলে মনে করেছিলেন এবং এর বিরূদ্ধে কবির প্রতিবাদটির সঙ্গে সহমত প�োষণ করে তিনি সেটিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন । কুসংস্কারমুক্ত, বিজ্ঞানসম্মত মানসিকতায় ও বিচারবু দ্ধিতে জওহরলাল আবারও নিজেকে রবীন্দ্রনাথের সহমর্মী ও সহযাত্রী হিসেবে পেলেন । এ কথাটাও প্রসংগত উল্লেখ করা যায় যে গান্ধীজির এই উক্তিটি যখন সারা দেশে নিন্দার ঝড় তুলেছিল তখন তার একাংশের অশ�োভনতা কবিকে পীড়া দেয় এবং তিনি তার বিরূদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়ে লেখালেখি করেছিলেন । গভীর মতান্তর তাঁদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাব�োধকে দমাতে যে পারে নি এই ঘটনাগুলি তারই সাক্ষ্য ।

কমলার প্রয়াণ ও বেদনাহত কবির প্রতিক্রিয়া

১৯৩৫ সালের ১৬ই এপ্রিল ছিল আলম�োড়া জেল থেকে ভাওয়ালীর স্বাস্থ্যনিবাসে কমলার সঙ্গে জওহরলালের নিয়মিত সাক্ষাৎ করতে আসার একটি দিন । একদিনের এই ‘ছু টিতে’ গুরুতর অসু স্থ পত্নীর জন্য দু শ্চিন্তা ছাড়াও পিতা জওহরলাল ভাবছিলেন শান্তিনিকেতনবাসী কন্যা ইন্দিরার শিক্ষাজীবনের ভবিষ্যত নিয়ে । কবিকে তিনি চিনেছিলেন অন্তরঙ্গ শুভার্থী হিসেবে । তাই তাঁর মনের কথা কবিকে জানালেন ভাওয়ালী থেকে একটি দীর্ঘ চিঠিতে । তিনি লিখলেন যে খুব শীঘ্রই কমলাকে চিকিৎসার জন্য ইউর�োপে নিয়ে যাওয়ার দরকার হবে এবং তিনি নিজে জেল থেকে ছাড়া পাবেন না তাই ইন্দিরাকেই তার মায়ের সঙ্গে যেতে হবে । তিনি জানালেন যে ইন্দিরার মুখ থেকে এবং তার বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে এ কথা জেনে তিনি অত্যন্ত আশ্বস্ত ব�োধ করেছেন যে গুরুদেবের স্নেহচ্ছায়ায় ও তত্ত্বাবধানে ইন্দিরা শান্তিনিকেতনে নিজেকে ভালভাবে মানিয়ে নিয়ে সু খে আছে । কিন্তু পারিবারিক অবস্থার বাধ্যবাধকতায় ইন্দিরাকে শান্তিনিকেতন ছেড়ে আস্‌তে হবে যেটা তিনি নিজে এবং ইন্দিরা ম�োটেও পছন্দ করছেন না । শান্তিনিকেতনের ছাত্রী হতে পারাটা ইন্দিরার জীবনের একটি বিশেষ গ�ৌরবের ব্যাপার বলে তিনি নিজে এবং ইন্দিরা মনে করেন বলে উল্লেখ করলেন । এই চিঠিটির মর্মাথ কবিকে পীড়া দিয়েছিল । তিনি জওহরলালের চিঠির উত্তর দিলেন ২০শে এপ্রিল, লিখলেন ‘ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ইন্দিরাকে আমরা বিদায় দিয়েছি’ । তিনি আশা প্রকাশ করলেন যে কমলার স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে এবং ইন্দিরা আবার শান্তিনিকেতনে ফিরে এসে পড়াশ�োনা শুরু করতে পারবে । কিন্তু কমলা আর সু স্থ হলেন না । ১৯৩৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারী যখন তিনি মারা যান তখন জওহরলাল নিজেও তাঁর মৃ ত্যুশয্যায় উপস্থিত ছিলেন । ইন্দিরা আর ছাত্রী হিসেবে শান্তিনিকেতনে ফিরতে পারলেন না । কমলার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের একবার্‌ই সাক্ষাৎ হয়েছিল, কিন্তু সেই তরূণী-কন্যার-মাতা, স্বামীসঙ্গবঞ্চিত যু বতীটির মনের বেদনা তিনি নিশ্চয় বু ঝতে পেরে থাকবেন । তাই তাঁর অকাল মৃ ত্যু কবিকে বিশেষ পীড়া দিয়েছিল । ১৯৩৬ সালের বসন্ত-পূ র্ণিমার দিনটিকে (৮ই মার্চ, ২৩শে ফাল্গুন) শান্তিনিকেতন কমলার স্মরণসভা হিসেবে পালন করে । আবেগমাখান�ো দীর্ঘ একটি ভাষণে কবি কমলা এবং জওহরলাল দু জনকেই স্নেহভরে স্মরণ করলেন - “একদিন যখন তাঁর স্বামী কারাগারে তখন দেহের উপর মরণান্তিক র�োগের ছায়াঘনায়িত, সেই সময় তিনি তাঁর কন্যা ইন্দিরাকে আশ্রমে নিয়ে এসেছিলেন । ...... সেদিনের কথা আজ মনে

Anjali

www.batj.org


রবীন্দ্রনাথ, জওহরলাল ও ইন্দিরা - প্রজ পড়ছে । সেই প্রশান্ত গম্ভীর অবিচলিত ধৈর্যের মূ র্তি ভেসে উঠছে চ�োখের সামনে ... । কমলা নেহরু যার সহধর্মিণী, সেই জওহরলাল আজ সমস্ত ভারতের রাজাসনে প্রতিষ্ঠিত হবার অধিকারী । “ ... । নব বসন্তের পত্রপুস্প-শ�োভিত বনরাজির আশ্বাসবাণীতে কবি অনু ভব করলেন “যু গসন্ধির নির্মম শীতের দিন শেষ হল, এল নবযু গের সর্বব্যাপী আশ্বাস । আজ এই নব যু গের ঋতুরাজ জওহরলাল” । এই ভাষণটির ইংরেজি অনু বাদ পড়ে আবারও অভিভূ ত জওহরলাল এলাহাবাদ থেকে ১লা এপ্রিল একটি চিঠি লিখে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানালেন সবিনয়ে - “কমলা সম্পর্কে আপনি আপনার অতুলনীয় উদারতায় যে কথাগুলি বলেছেন, তা আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে । ... আপনার আশীর্বাদ পেয়ে আমি কত শক্তি লাভ করি । শক্তি পাই এই কথা ভেবে যে আপনি আমাদের মত পথভ্রান্তদের সঠিক পথে চালিত করার জন্যই আমাদের মধ্যে রয়েছেন” । ব্যক্তিগত জীবনের ঘাতপ্রতিঘাত বা দীর্ঘ কারাবাস জওহরলালের মননশীলতাকে স্তব্ধ করতে পারে নি । কমলার মৃ ত্যুর কয়েক মাস পরেই তাঁর জেলে বসে লেখা আত্মজীবনী প্রকাশিত হল । তাঁর বয়স তখন পঞ্চাশও পের�োয় নি । বইটি পড়ে উচ্ছ্বসিত রবীন্দ্রনাথ জওহরলালকে লিখলেন – “I have just finished reading your great book and I feel intensely impressed and proud of your achievement. Through all its details, there runs a deep current of humanity which overpasses the tangles of facts and leads us to a person who is greater than his deeds and truer than his surroundings”. হাতে লেখা এই চিঠির দু টি মাত্র বাক্যের অসাধারণ প্রশস্তিতে আনন্দিত জওহরলাল উত্তরে লিখলেন - “আপনার প্রশংসাবাণী আমাকে আনন্দিত ও শক্তিশালী করেছে । আপনার আশীর্বাদ পেলে আমি ব�োধহয় এক বিরূদ্ধ পৃ থিবীর সামনে দাঁড়াতে পারি” ।

শান্তিনিকেতনে ইন্দিরা - ক্ষণিকের অতিথি

শান্তিনিকেতনে পৌঁছে ছাত্রী ইন্দিরা গুরুদেবকে প্রণাম জানাতে গেলেন । কবি তাঁকে সম্ভাষণ করলেন তার নামের সঙ্গে “প্রিয়দর্শিনী” বিশেষণটি য�োগ করে! ইন্দিরা পরে এই নামটি প্রায়শই তাঁর মধ্যম নাম হিসেবে ব্যাবহার করতেন ।

রবীন্দ্রসান্নিধ্যে ইন্দিরা www.batj.org

শান্তিনিকেতনের ব্যবস্থাদির সঙ্গে ইন্দিরা ভালই মানিয়ে নিয়েছিলেন, নিজের হাতে কাজকর্ম করা এবং সহপাঠীদের সঙ্গে আশ্রমের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এই ব্যবস্থার অঙ্গ ছিল । ইন্দিরা ছিলেন লাজুক, মুখচ�োরা মেয়ে এবং নিঃসঙ্গতায় অভ্যস্ত । শান্তিনিকেতনের খ�োলা-মেলা অন্তরঙ্গ পরিবেশ তাঁর খুবই পছন্দ হল । তিনি লিখলেন জীবনে এই প্রথম তিনি নিজেকে ‘বন্ধন-মুক্ত’ বলে অনু ভব করছেন । আর চারপাশে কলা ও সংস্কৃতি জগতের দিকপাল সব শিক্ষকেরা, গুরুদেব ত�ো আছেনই । আঁকিয়ে নন্দলাল বসু র কথা ইন্দিরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন । আর গুরুদেব নিজে যখন পট সাজিয়ে তুলি নিয়ে ছবি আঁকতে বসতেন, ইন্দিরা পাশ দিয়ে যেতে হলে যেতেন পা টিপে টিপে, পাছে তাঁর কারণে ক�োন ব্যাঘাত না সৃ ষ্টি হয় । রবীন্দ্রনাথ নিজেও ‘ক্লাস’ নিতেন, খ�োলা-হাওয়ায় বসে পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়ে গল্প করতেন । একদিন তিনি ইন্দিরাকে জিগ্‌গেসই করে বস্‌লেন - “আমাকে কি তুমি ভয় পাও”? কিছু ক্ষণ চুপ করে থেকে মাথা নামিয়ে ইন্দিরা উত্তর দিলেন “আপনার কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে চাই না” । আর একজন শিক্ষক ইন্দিরার বিশেষ পছন্দের ছিলেন, নাম ফ্র্যাঙ্ক ওবারডর্ফ, জাতে জারমান, পড়াতেন ফ্রেঞ্চ । শান্তিনিকেতন ছেড়ে চলে যাবার পরে অনেক বছর পর্য্যন্ত ইন্দিরা এই শিক্ষকটির সঙ্গে নিয়মিত পত্রবিনিময় করতেন । শান্তিনিকেতনের ঋতু-উৎসবগুলি ইন্দিরার প্রিয় ছিল । একবার কবির ‘চিত্রাঙ্গদা’ নৃ ত্যনাট্যটি মঞ্চস্থ হল, মুগ্ধ ইন্দিরা কাহিনীটির আদ্যপ্রান্ত সহপাঠীদের কাছে জানতে চাইলেন । কিন্তু ইন্দিরার জীবনের শান্তিনিকেতন পর্ব সু খের হলেও দীর্ঘস্থায়ী হয় নি, এক বছরেরও আগে তাঁকে চলে যেতে হয় । কিন্তু যদিও তাঁর অভিজ্ঞতা অল্পকালের, তাঁর জীবনে শান্তিনিকেতনের প্রভাব হয়েছিল চিরস্থায়ী । সু চিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধায়ের মত সংগীতশিল্পীরা গল্প করতেন যে তাঁদের সঙ্গে দেখা হলেই ইন্দিরা রবীন্দ্রসংগীত শুনতে চাইতেন এবং অনেক সময় ক�োন বিশেষ গান ফরমায়েস করতেন । ‘একলা চল রে’ তাঁর অন্যতম প্রিয় গান ছিল । এটির প্রচলিত ইংরেজি অনু বাদগুলি হয়ত তাঁর পছন্দ হয় নি, তাই তিনি নিজে এটির অনু বাদ করেছিলেন, যেটি আন্তর্জালের কল্যাণে এখন সহজলভ্য । পাঠকের কাছে মার্জনা চেয়ে দু টি প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিগত স্মৃতি ভাগ করে নিই । আমার এক বন্ধু অশ�োক চট্টোপাধায় তখন বর্ধমান জেলার জেলাশাসক । সময়টা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরের বছর । শান্তিনিকেতনের আচার্য্য হিসেবে ইন্দিরা যাচ্ছেন সমাবর্তন অনু ষ্ঠানে । তাঁর হেলিকপ্টার বর্ধমানে অল্প সময়ের জন্য থামবে এবং তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাবার্তা বলবেন এই রকম ব্যবস্থা । সেই সব পর্ব সেরে তিনি অশ�োকের বাসস্থানে গেলেন এবং বললেন তাঁর কিছু লেখার কাজ আছে । টেবিল-চেয়ারের ব্যবস্থা হল । তিনি লিখতে লিখতে অশ�োককে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন রবীন্দ্রনাথের ‘সংক�োচের বিহ্বলতা’ কবিতা/গানটি তার পরিচিত কিনা । ইতিবাচক উত্তর পেয়ে বললেন তাঁকে সেটি পড়ে শ�োনাতে । অশ�োক পড়তে শুরু করে যখন ‘দু রূহ কাজে নিজের দিও কঠিন পরিচয়’ লাইনটিতে পৌঁছেছে, তিনি তাকে থামতে বলে অনু র�োধ করলেন ঐ লাইনটি র�োমান হরফে তাঁকে লিখে দিতে । তিনি তাঁর শান্তিনিকেতনের বক্তৃতার মধ্যে ঐটি পড়তে চান! আর দ্বিতীয় গল্প ১৯৭০ এর দশকের, তখন আমরা ইংল্যান্ডে থাকি । আমার এক ভাইঝির সমাবর্তনে প�ৌষ উৎসবের মধ্যে শান্তিনিকেতনে গেছি । অমর্ত্য সেনের মা অমিতা সেনের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়েছিল লন্ডনে । সে সু বাদে, প্রধানত আমার ভাইঝির ইচ্ছাক্রমে, তাঁদের বাড়িতে গেলাম । অমিতা সেনের মা, আচার্য্য ক্ষিতিম�োহন সেনের স্ত্রী, কিরণবালা তখনও জীবিত এবং একই বাড়িতে থাকেন । আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করে শ্রদ্ধা জানাতে চাইলাম । অমিতা সেন আগে তাঁর মাকে আমার ইচ্ছার কথাটা জানিয়ে এলেন । তারপর আমাদের সঙ্গে করে তাঁর ঘরে নিয়ে গেলেন । তিনি আমাদের পরিচয় দিতে গিয়ে বললেন, “মা, এরা বিলেত থেকে এসেছে, ত�োমার সঙ্গে দেখা করে প্রণাম জানাতে চায়” । কিরণবালা বিছানায় বসে, আমরা প্রণাম করলাম । তিনি বললেন “ত�োমরা অতদূ র থেকে এসেছ, ইন্দিরাও এলেই দেখা করে যায়”! জানা গেল পুরণ�ো ছাত্রীটি গুরুপত্নীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে যেতে ভুলতেন না । ইন্দিরা এরপর অক্সফ�োর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান, সেখান থেকে তাঁর পিতাকে একটি চিঠিতে তাঁর শান্তিনিকেতনের স্মৃতি সম্বন্ধে লেখেন - I was glad of my stay in Santiniketan – chiefly because of Gurudev. In the very atmosphere there, his spirit seemed to roam and hover over one with a loving and deep watchfulness. And his spirit, I feel, has greatly influenced my life and thought” । জওহরলাল ১৯৩৬ সালের ডিসেম্বর মাসে লেখা একটি চিঠিতে কবিকে ইন্দিরার এই মন্ত্যব্যটি জানিয়েছিলেন ।

Durga Puja 2018

35


রবীন্দ্রনাথ, জওহরলাল ও ইন্দিরা - প্রজ

জীবনের অন্তিম পর্ব - কবির শেষ রাগিনীর বীণ

তাঁর জীবনের শেষ চার-পাঁচটি বছর রবীন্দ্রনাথকে নানা শারীরিক অসু স্থতায় ভুগতে হয়েছিল । কিন্তু শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক পরিধিকে বাড়িয়ে ত�োলার দায়িত্ব তিনি অবহেলা করেন নি । ১৯৩৭ এর ২৮শে মার্চ চীনাভবনের দ্বার�োদ্ঘাটনের জন্য কবি জহরলালকে আমন্ত্রণ করে লিখলেন - এই কাজের জন্য “ত�োমার চেয়ে য�োগ্য ক�োন ব্যক্তির কথা ভাবতেও পারি নে” । ইন্দিরাকেও সঙ্গে আনতে বললেন । কিন্তু অসু স্থতার কারণে জওহরলাল আসতে পারলেন না, ইন্দিরাকে পাঠালেন, নিজের একটি শুভেচ্ছাবাণী সমেত - “সশরীরে থাকার মতই আমি আপনাদের সঙ্গে আত্মিকভাবে উপস্থিত থাকব । চীনাভবন চীন ও ভারতের মিলনের মূ র্ত প্রতীক হয়ে উঠু ক, এই আমার কামনা” । ব্রিটিশ সরকারের বিতর্কিত ‘ভারত শাসন আইন ১৯৩৫’ এর পটভূ মিকায় দেশের রাজনৈতিক আবহাওয়া এই বছরগুলিতে ক্রমশই উত্তপ্ত ও অস্থির হয়ে উঠতে থাকে । জওহরলাল সহ অন্যান্য নেতারা ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন ইত্যাদিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন । রবীন্দ্রনাথ্‌ও বাংলার রাজনীতির অস্থিরতা ও হিন্দু ও মুসল্‌মান সম্প্রদায়ের সম্পর্কের অবনতি লক্ষ্য করে উদ্বিগ্ন ও পীড়িত ব�োধ করতে থাকেন । জওহরলাল কলকাতায় এসেছেন কংগ্রেসের মিটিং এ ১৯৩৭ এর অক্টোবর মাসে । কবি তখন কলকাতার উপকণ্ঠে প্রশান্ত মহলানবিশের বাসস্থান বরাহনগরে রয়েছেন । জওহরলাল খবর পেয়ে সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন । মহলানবিশ জানাচ্ছেন যে কবির সঙ্গে অন্যান্য বিষয়ে আল�োচনার সঙ্গে সেদিন স্বাধীন ভারতের জাতীয় সংগীত কি হতে পারে তা নিয়েও জওহরলাল আল�োচনা করেছিলেন । ভারতের বিভিন্ন ভাষায় রচিত গানের মধ্যে যে গুলি জাতীয় সংগীতের মর্য্যাদা পেতে পারে তার একটি তালিকা জওহরলাল বা কংগ্রেস পার্টির সংগ্রহে ছিল, যার মধ্যে বাংলায় লেখা ‘বন্দে মাতরম্‌’ ও ‘জন-গণ-মন’ও ছিল । সেদিন এ ব্যাপারে ক�োন সিদ্ধান্ত অবশ্যই নেওয়া হয়নি, কারণ জওহরলালের স্মৃতিলিপির থেকে জানা যায় যে ১৯৩৯ সালের জানু য়ারী মাসের শেষে যখন তিনি শান্তিনিকেতনে যান কবির বিশেষ আমন্ত্রণে হিন্দীভবনের দ্বার�োদ্ঘাটনের জন্য তখনও তাঁর সঙ্গে কবির এই ব্যাপারে কথাবার্তা হয়েছিল । কবির জীবদ্দশায় এটিই ছিল শান্তিনিকেতনে তাঁর শেষবারের মত আসা । তাঁর উপস্থিতির খবর পেয়ে সু ভাষচন্দ্র বসু শান্তিনিকেতনে যান এবং দিন-দু য়েক কাটিয়ে ২রা ফেব্রুয়ারী তাঁরা একসঙ্গে শান্তিনিকেতন ছেড়ে যান । কংগ্রেস পার্টি তথা ভারতের ইতিহাসে ১৯৩৯ সালের ২৯ শে জানু য়ারী তারিখটি একটি বিশেষ তাৎপর্য্যপূ র্ণ দিন, কারণ ঐ দিনেই সু ভাষচন্দ্র দ্বিতীয়বারের মত কংগ্রসের সভাপতি নির্বাচিত হন, গান্ধীজির আপত্তি সত্ত্বেও । দেশের জটিল রাজনীতি এবং তাঁর নেতৃত্বকে ঘিরে কংগ্রেস পার্টির আসন্ন সমস্যা এই দু ই শীর্ষস্থানীয় নেতা নিশ্চয়ই আল�োচনা করে থাকবেন । কিন্তু সে অন্য ইতিহাস! দ্বিতীয় বিশ্বযু দ্ধ শুরু হয় ১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের গ�োড়ায় । জওহরলাল তখন চীনে গেছেন চিয়াং কাই শেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে । যু দ্ধ শুরুর পরিস্থিতিতে সেই সফর ছেড়ে জওহরলাল দেশে ফিরে এলেন । কবি তখন আবারও বরাহনগরে প্রশান্ত মহলানবিশের অতিথি । দমদম বিমান বন্দর থেকে জওহরলাল সরাসরি চলে এলেন তাঁর সঙ্গে দেখা করে

36

শ্রদ্ধা জানাতে । অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে তাঁর চীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কবিকে কিছু জানালেন, এবং অল্প সময় পরেই বিদায় নিয়ে বিমান বন্দরে ফিরে গেলেন । এইটির তাঁদের শেষ দেখা । রবীন্দ্রনাথের মৃ ত্যু হয় ১৯৪১ সালের ৭ই আগষ্ট, (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮), জওহরলাল তখন দেরাদু ন জেলে । এই দু ঃসংবাদ জেল-জীবনের নিঃসঙ্গতার মধ্যে তাঁর একাকিত্বব�োধকে যে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল তার আভাস পাওয়া যায় তাঁর এই স্মৃতিলিপিতে - “In the solitude of prison life, I felt particularly desolate at the passing of a man who had come to mean so much to me and to vast numbers of others. From an intellectual appreciation of his ideas and his outlook on life, an emotional bond had grown up between us” । কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথকে টেলিগ্রাম মারফত তাঁর শ�োকবার্তা পাঠালেন কবিকে ভারতের আকাশে “সর্বশ্রেষ্ঠ জ্যোতিস্ক” (brightest luminary) আখ্যা দিয়ে । প্রাচীন ভারতের মহান ঋষিদের সঙ্গে তাঁকে তুলনা করে জওহরলাল লিখলেন যে গুরুদেবের উত্তরাধিকার সারা ভারতের অমূ ল্য সম্পদ যা রক্ষা করার দায়িত্ব ভারতের প্রত্যেকটি মানু ষের । কবির জীবদ্দশায় জওহরলাল শান্তিনিকেতনে এসেছিলেন পাঁচবার, কিন্তু তাঁর মৃ ত্যুর পর দশবার । বিশ্বভারতীকে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় স্বাধীনতার পরেই, জওহরলাল ছিলেন প্রথম আচার্য্য ।

শেষের কথা

এই ছিল বাঙ্গালী-কবি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তিনজন বিখ্যাত অবাঙ্গালী ভারতীয়ের নিবিড় সম্পর্কের সংক্ষিপ্ত ইতিবৃ ত্ত । রবীন্দ্রোত্তর বাংলায় বা ভারতের অন্যত্র কবির প্রভাব আজও অনু ভূত হয় কিনা তা মাপজ�োখ করা সহজ নয় । স্বাধীন ভারতের জাতীয়সংগীতের নির্বাচনে জওহরলাল একাধিকবার কবির সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন এ কথা আগে বলা হয়েছে । রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনের সময় ভারতের জাতীয় জীবনে তথা বহির্বিশ্বে রবীন্দ্রনাথের নানা অবদান সম্পর্কে আল�োচনা করতে গিয়ে জওহরলাল এই ব্যাপারটি স্মরণ করেছিলেন এই ভাবে – I have a feeling of satisfaction that I was partly responsible for this choice [of the national anthem], not only because it is a great national song, but also because it is a constant reminder to all our people of Rabindranath Tagore । আসলে রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতি যেহেতু মানু ষের মনের, চিন্তার বা অনু ভূতির জগতে, তাই বাংলায় বা বৃ হত্তর ভারতে কবির নীরব অনু রাগী নিশ্চয়ই অসংখ্য আছেন বা থাকবেন । সাধারণ মানু ষের দৈনন্দিন জীবনে তাঁর ‘নিত্য আসা-যাওয়া’ নাই বা থাকল । 

Anjali

www.batj.org


মা

মা

আসছেন । সে-ই এক বছর পর আবার মা আসছেন । মনের মধ্যে কেমন একটা অদ্ভুত অনু ভূতি । আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে কেমন একটা কষ্টও থাকে ।

বর্ষাকাল এলেই ঘনঘন মেঘের গর্জনে বু কটা দু রদু র করত�ো ছেলেবেলায়, তার কিছু ক্ষণ পরেই নামত�ো অঝ�োরে বৃ ষ্টি । সেই বৃ ষ্টি দেখতাম ঘরের জানলার একটা পাট খুলে । দাদু -ঠাকুমা বলতেন মা দু র্গা বাপের বাড়ি আসতে চাইছেন কিন্তু স্বামী মহাদেব রাজি হচ্ছেন না । মহাদেবের সেই রাগটাই হ�োল মেঘের গর্জন । কিন্তু মা দু র্গা একবছর পর আবার আসবেন বলে কথা দিয়ে গেছেন তার ছেলেমেয়েদের, তাই তিনি কাঁদছেন আর সেই চ�োখের জলটাই বৃ ষ্টি হয়ে ঝরে পড়ছে । আমার শিশুমনটা মা দু র্গার কথা ভেবে কেঁদে উঠত�ো । “মা” ডাকটা বড় সহজে আমরা সবাই বলতে পারি, ডাকতেও শিখি সবার প্রথমে । কী সহজ সরল একটা মিষ্টি আদু রে ডাক । আজকাল অবশ্য মাম্মা, মাম্মাম ইত্যাদি অনেকভাবে “মা”কে ডাকতে শেখান�ো হয় । যেভাবেই শেখান�ো হ�োক “মা” কিন্তু থেকেই যায় । বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে “মা”এর গভীরতা টের পেতে শুরু করলাম । আমাদের দু ইব�োনের কখন কার ক্ষিদে পায়, কখন কার শরীরটা ভাল নেই কিংবা মনটা ভারী, তার পুর�োটা মা বু ঝতে পারেন ঠিক । লু ক�োতে চাইলেও সম্ভব হয়না কখনও । নিজেদের পড়া ঠিক করছি কিনা, দিদির গান আর আমার নাচের রেওয়াজ ঠিকমত হচ্ছে কিনা, কখন ক�োন প�োষাক পরে বেড়�োব�ো তার ইস্তিরি ঠিক আছে কিনা, ব্যাগে ঠিকমত টাকাপয়সা নিয়ে বেড়�োচ্ছি কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি খুঁটিনাটি যাবতীয় দায়িত্ব মা নিয়ে বসে আছেন । অথচ ক�োনদিন সামনে আসেননি, পিছনে থেকে মেরুদন্ড স�োজা করে, মাথা তুলে বাঁচতে শিখিয়েছেন, এগিয়ে দিয়েছেন সবসময় । স্কুল-কলেজে পড়ার সময়, নাচ শিখতে গিয়ে সব জায়গায় বন্ধুদের মায়েদের ভীড় দেখেছি । তারপর নাচ শেখাতে গিয়েও পেরেন্টসদের ভীড় দেখেছি সবসময় । কিন্তু সেই ভীড়ে ক�োনদিনই মা’কে খুঁজে পাইনি । মা’য়ের আলমারিতে পরম যত্নে ভাঁজ করে রাখা মনিপুরি নাচের ঘাঘরা দেখেছিলাম । মা বলতেন দাদু (মায়ের বাবা) অর্ডার করে বানিয়ে দিয়েছিলেন । আমার ভীষণ কষ্ট হ�োত যে মা আর বিয়ের পর নাচটাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেননি । মানে সম্ভব হয়নি । তাই হয়ত আমাদের যা কিছু শেখার ব্যাপারে এবং সেটাকে যথায�োগ্য করে ত�োলার ব্যাপারে মায়ের অদৃ শ্য কড়া নজর ছিল সবসময় । তারপর বিয়ের পর চলে এলাম জাপানে মাকে ছেড়ে, মা’য়ের চ�োখের বাইরে । কিন্তু মা’য়ের চ�োখ চলত�ো আমার সঙ্গে সঙ্গে । শ্বাশুড়িমা আমার কাছে আসবেন । সেকথা মাকে জানিয়েছিলাম । তখন একদম প্রথম প্রথম আমার এখানে সংসার । মা তখনও আসেননি জাপানে । শ্বাশুড়িমায়ের সঙ্গে পরিচয় হয়নি তখনও । ঠিক নির্দিষ্ট দিনে মায়ের ফ�োন “শ্বাশুড়িমায়ের যত্ন করবে ঠিকমত” । আমি অবাক হই । ৭০০০কিল�োমিটার দূ র থেকে মা তার মেয়েকে তখনও যতটুকু সম্ভব শিখিয়ে চলেছেন । মায়েরা এমনই হয় । শুধু আমার নয়, ঘরে ঘরে এমন মায়েরাই থাকেন । তখন ক�োলকাতার দূ রদর্শনের মাত্র ২ট�ো চ্যানেল । DD1 আর DD2 । তাতেই সবাই মহাখুশি । তারপর এল�ো কেব্‌ল চ্যানেল । অনু ষ্ঠানের ঘটাও বাড়তে থাকল�ো । রিয়ালিটি শ�ো, নাটক, সিরিয়াল, সিরিয়ালের রিপিট টেলিকাস্ট, সিনেমা । ভ�োরবেলা থেকে শুরু করে মাঝরাত অবধি । কাজকর্মের মাঝে মাঝে বাড়ির মা-কাকীমারা আঁকড়ে ধরতে লাগলেন টিভিকে । আচ্ছা? সেলিব্রিটিদের মায়েরা কি অন্যরকম? টিভিতে আজকাল কতরকমের যে প্রোগ্রাম তৈরী হয়! হঠাৎ দেখলাম একটা চ্যানেলে “আমার www.batj.org

- শুভা কোকুবো চক্রব

মা” নামে এক ইউনিক(এই শব্দটা এখন ট্রেন্ড) প্রোগ্রাম তৈরী হ�োল যেখানে সেলিব্রিটিরা তাদের মায়ের কথা বলছে পরপর এপিস�োডে । মায়েরা আসলে আলাদা হয়না । কখনই না । বৈষম্য তৈরী করি আমরা । আমার এক বন্ধু “তেজস্বিনীর” কথা বলেছিল । শ�োনার পর থেকেই বাচ্চাগুল�োর সঙ্গে দেখা করার জন্য ছটফট করছিলাম । ক�োলকাতা গিয়ে একটা দিন ঠিক করে গেলাম ওদের কাছে । ৫বছর থেকে ১৩/১৪বছর বয়সের ৩৩জন বাচ্চা ওখানে থাকে । ওরা সকালে স্কুলে যায়, বিকেলে ফিরে এসে খেলাধূ লা করে, রাতে পড়াশুন�ো করে । এই “তেজস্বিনী “ সংস্থা ওদের সবকিছু দেখাশুন�ো করে । ওদের পরিবার থেকেও নেই । অরফ্যান । আমি ওখানে গিয়ে ওদের সঙ্গে কিভাবে সময় কাটাব�ো এসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে মাথায় এল�ো আমি ওদের কয়েকটা জাপানী শব্দ শিখিয়ে আসব�ো । প্রথম দেখা হবে ওদের সাথে, তাই বু ঝতেও পারছিনা ওদের ভাল লাগবে কিনা । অবশেষে ওদের সঙ্গে দেখা হ�োল । একথা সেকথার পর ওদের বললাম, আমি ত�োমাদের একটা নতুন ভাষা শেখাব�ো । জাপানীভাষা । ওরা খুব খুশি । সবাই খাতা পেন নিয়ে রেডি হয়ে বসে । আমি ‘সু প্রভাত’ দিয়ে শুরু করে পরপর প্রায় ৩০টা শব্দ ওদের শেখাই, ওরাও সেগুল�ো নিজেরা মুখে মুখে উচ্চারণ করতে করতে খাতায় লিখতে থাকে । পড়া পড়া খেলা চলতে থাকে, সময় গড়িয়ে যায় ক�োথা দিয়ে । ইচ্ছে করেই সেদিন “মা” “বাবা”র জাপানীটা উচ্চারণ করিনি শেষপর্যন্ত । কিন্তু সবচেয়ে ছ�োট্ট শিশুটা

সরলভাবে বলে ওঠে “মা”কে জাপানীতে কি বলে? জড়িয়ে ধরে বলি ওকাআসান । সঙ্গে সঙ্গে খাতায় লিখে নেয় । “তেজস্বিনী”র বাচ্চাগুল�োর কেউ কেউ তাদের মাকে দেখেছে আবার কেউ কেউ দেখলেও হয়ত মুখটাও আর মনে নেই । তবু প্রত্যেকে নিজের নিজের মনে “মা”য়ের একটা ছবি এঁকে রেখেছে । মনটা বড় বিচলিত হয়, অবসন্ন লাগে । জন্মের পর থেকে “মা” আদরযত্নে লালনপালন করে মেয়েকে । আর সেই মেয়ে যেদিন শ্বশুরবাড়ি যায়, একমুঠ�ো চাল মাথার উপর দিয়ে ছু ঁড়ে বলে যায় “সব ঋণ শ�োধ করলাম” । কী অদ্ভুত নিয়ম! “মা” আর সন্তানের সম্পর্কে দেওয়া নেওয়ার হিসেব বা মাপকাঠি থাকেনা জানি । তবু ১১বছর আগে এক মহালয়ার দিনে হঠাৎ “মা” যেদিন চলে গেলেন, ফাঁকা হয়ে গেল চারদিক, শুধু শূ ন্যতা আর অন্ধকার । সূ র্য উঠলেও আকাশটাকে মেঘলা লাগে র�োজ । স্বার্থপর মনে হয় নিজেকে । নিয়েই গেলাম শুধু , এক কণাও দিতে পারলামনা ত�োমাকে মাগ�ো । অবশ্য কী-ই বা ত�োমাকে দিতে পারতাম । যখন দু -চ�োখ ভরে নামবে আঁধার, তখন যেন দেখি “মা”কে । আমার সকল কথা বন্ধ হলেও মাতৃনামটি যেন থাকে... 

Durga Puja 2018

37


সেলুলয়েডের চিরুনি

জাপান-বাংলার য�োগায�োগের এক পর্যায়

���������������������������

য়েক মাস আগে আমার একজন বাঙালি বন্ধু একটি বাংলা বইয়ের ফট�োকপি দেখিয়ে বললেন, পড়ে দেখুন, বেশ ইন্টারেস্টিং বই । তাঁর হাত থেকে কপিটা নিয়ে প্রথম কয়েক পাতায় চ�োখ বু লিয়ে দেখে রীতিমত অবাক হলাম । বইটির নাম ‘জাপান প্রবাস’ । মূ লত প্রকাশিত হয় এক শতাব্দীরও বেশি আগে, ১৯১০ সালে । অবশ্য আমাকে যে ফট�োকপিটা দেখান�ো হল, সেটি ছিল কলকাতা থেকে প্রকাশিত ভ্রমণ বিষয়ক পত্রিকা ‘ভ্রমণ’-এর ২০১৭ শারদীয়া সংখ্যার সঙ্গে বিনা মূ ল্যে বিতরণ করা পুনর্মুদ্রিত সংস্করণের । বইটির লেখকের নাম মন্মথনাথ ঘ�োষ, যিনি ১৯০৬ সাল থেকে তিন বছর জাপানে অবস্থান করেছিলেন ।

জাপান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা বইয়ের প্রসঙ্গ উঠলে প্রথমে আমাদের মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথের জাপান যাত্রী । রবীন্দ্রনাথের জাপান সফরের আগে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হরিপ্রভা তাকেদার ‘বঙ্গমহিলার জাপান যাত্রা’ও এখন পাঠক সমাজে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে সাংবাদিক ও লেখক মনজুরুল হকের চেষ্টায় । কিন্তু মন্মথনাথের এই বইয়ের কথা আমার জানা ছিল না । খ�োঁজ নিয়ে জানা গেল, মম্নথনাথ ঘ�োষের জন্ম ১৮৮২ সালে, তদানীন্তন যশ�োর জেলার মথু রাপুর গ্রামে । তিনি যশ�োরের নলডাঙ্গার রাজা প্রমথভূ ষণ দেব রায়ের আনু কূল্যে ১৯০৬ সালে জাপানে কারিগরির প্রশিক্ষণের জন্য আসার সু য�োগ পান । জাপানে তিন বছর থেকে তিনি ব�োতাম, কৃত্রিম চামড়া, ছাতা ও লাঠির হ্যান্ডেল এবং সেলু লয়েডের জিনিস তৈরির দক্ষতা লাভ করেন । স্বদেশে ফিরে তিনি চিরুনি তৈরির কারখানা গড়ে ত�োলেন এবং একজন সফল শিল্প-উদ্যোক্তা হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হন । ’জাপান প্রবাস’ থেকে আমরা জানতে পারি, ১৯০৬ সালে তাঁর সঙ্গে আর�ো যে ১৫ জন ভারতীয় যু বক জাপানে এসেছিলেন, তাঁদের অধিকাংশ ছিলেন বঙ্গভূ মির সন্তান । এই দলের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠ পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ছিলেন । রথীন্দ্রনাথ অবশ্য জাপান থেকে শীঘ্রই যু ক্তরাষ্ট্রে চলে যান সেখানে কৃষিবিদ্যা নিয়ে অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে । কলকাতা বন্দর ছাড়ার পর মন্মথনাথরা রেঙ্গু ন, পেনাঙ, সিঙ্গাপুর, হংকং হয়ে জাপানের ইয়�োক�োহামা বন্দরে এসে পৌঁছান ১৯০৬ সালের ৩০শে এপ্রিল । একই দিন রাতে তাঁর দল ট্রেনয�োগে ট�োকিওতে ( মন্মথনাথ তাঁর বইতে ‘ট�োকিও’ না লিখে ‘ত�োকিও’ লিখে থাকেন এই কারণে যে “জাপানীরা ‘ট’ ও ‘ল’ উচ্চারণ করিতে পারেন না । সু তরাং 38

তাহারা ট�োকিও না বলিয়া ত�োকিও বলিয়া থাকেন । ”) চলে আসেন । মন্মথনাথের বইয়ের বহু জায়গায় তাঁর চ�োখে পড়া জাপানিদের মন�োভাব এবং ব্যবহার নিয়ে তাঁর নিরীক্ষণের উল্লেখ পাওয়া যায় । এ-রকম প্রথম দৃ ষ্টান্ত মাল-চুরি সম্বন্ধে । জাপানে বহু দিন থাকার পরিকল্পনা নিয়ে আসার কারণে স্বভাবতই তাঁদের কাছে প্রচুর মালপত্র ছিল । এ-প্রসঙ্গে তিনি লেখেন; “জাপানে মালপত্র সঙ্গে লইয়া ভ্রমণ করিতে কিছু মাত্র অসু বিধা নাই । কারণ রেলে ক�োনও দ্রব্য চুরি হয় না । বাক্সে তালা চাবি না থাকিলেও ক�োনও ভয় নাই । ষ্টেসন যতই ক্ষুদ্র হউক না কেন, ইচ্ছা করিলে ভ্রমণকারীগণ তাঁহাদের স্ব স্ব মাল পার্শেল আফিসে জনা দিয়া রসিদ লইতে পারেন । ” এই উল্লেখ পাওয়া যায় পুনর্মুদ্রিত “জাপান প্রবাস” বইয়ের ২৬ পৃ ষ্ঠায় । পরের পাতায় পথচারীদের বর্ণনা করে তিনি লিখেছেন; “রাস্তাটি ল�োকে ল�োকারণ্য, কিন্তু রিক্সার খড়খড়ি, ফেরিওয়ালার ঘণ্টার ঠনঠনি এবং ধীবরে বাঁশীর প�োঁ প�োঁ ব্যতীত কাহারও মুখে ক�োনও উচ্চ বাক্য নাই । ব�োধ হইতে লাগিল যেন জাপানীরা উচ্চস্বরে কথা বলিতে জানেন না । ” এই উল্লেখ আমাদের মনে করিয়ে দেয় রবীন্দ্রনাথের ‘জাপান যাত্রী’-র সেই বর্ণনা, যেখানে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন; “একটা জিনিস এখানে পথে ঘাটে চ�োখে পড়ে । রাস্তায় ল�োকের ভিড় আছে, কিন্তু গ�োলমাল একেবারে নেই । এরা যেন চেঁচাতে জানে না, ল�োকে বলে জাপানের ছেলেরা সু দ্ধ কাঁদে না । আমি এপর্যন্ত একটি ছেলেকেও কাঁদতে দেখি নি । পথে ম�োটরে করে যাবার সময়ে মাঝে মাঝে যেখানে ঠেলাগাড়ি প্রভৃতি বাধা এসে পড়ে, সেখানে ম�োটরের চালক শান্তভাবে অপেক্ষা করে; গাল দেয় না, হাঁকাহাঁকি করে না । পথের মধ্যে হঠাৎ একটা বাইসিকল ম�োটরের উপরে এসে পড়বার উপক্রম করলে, আমাদের দেশের চালক এ অবস্থায় বাইসিকল-আর�োহীকে অনাবশ্যক গাল না দিয়ে থাকতে পারত না । এ ল�োকটা ভ্রূক্ষেপমাত্র করলে না । ” রেলওয়ে স্টেশনে দেখা দৃ শ্য মনে হয় মন্মথনাথের অত্যন্ত অভিনব লাগত । তাঁর কথায়; “জাপানীদিগের আর একটী গুণ নবাগত ব্যক্তি মাত্রেরই দৃ ষ্টি পথে পতিত হয় । রেল কিম্বা ট্রামের যাত্রীসংখ্যা অত্যন্ত অধিক হইলেও টিকিট লইবার কিম্বা গাড়ীতে আর�োহণ করিবার সময় একটু মাত্র গ�োলমাল হয় না । যিনি আগে আসিবেন তিনিই আগে টিকিট পাইবেন এবং গাড়ী চড়িবেন । সাধারণতঃ যাত্রিগণ সারি বাঁধিয়া দাঁড়াইয়া থাকেন । ”(৩০ পৃ ষ্ঠা) ট্রেনে চড়ার আগে প্ল্যাটফর্মে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকাটা বর্তমান জাপানে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার । সাধারণত ভাবা হয়ে থাকে যে জাপানিদের এই অভ্যাস দ্বিতীয় মহাযু দ্ধের পরেই শুরু হয়েছে । মন্মথনাথ এই বর্ণনার মাধ্যমে যদি সেই কথা বু ঝিয়ে থাকেন, তাহলে বর্তমান যু গের জাপানিদের মধ্যে প্রচলিত ধারণাকে পালটে দিতে পারে । ট্রেনের আর�োহীদের নিয়ে তিনি আর�ো লেখেন; “গাড়ীতে আর�োহণ করিবার পর যদি বসিবার স্থানের অভাব হয়, তাহা হইলে যু বকগণ স্ব স্ব স্থান পরিত্যাগ করিয়া তথায় বয়�োবৃ দ্ধ কিম্বা স্ত্রীল�োকদিগকে বসাইয়া দেন । ” সে যু গের যু বক-যু বতীদের হাবভাব নিঃসন্দেহে বর্তমানকালের তরুণ প্রজন্মের চেয়ে বেশি প্রশংসার দাবিদার । আজকাল ট্রেনে বয়স্কদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কতজন তরুণ-তরুণী স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজের আসন ছেড়ে দিতে চাইবে? মন্মথনাথের কারিগরি প্রশিক্ষণের প্রথম পর্ব হয়েছিল ক�োবেতে । সেখানে তিনি তাঁর সফরসঙ্গী একজন বাঙ্গালি বন্ধুর সঙ্গে ব�োতাম তৈরির কাজ শিখলেন । যে কারখানায় তাঁদের প্রশিক্ষণ চলত, সেখানকার নিকটবর্তী ব�োর্ডিং-এ তাঁরা থাকতেন । সেখানে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও জাপানি ধাঁচের রন্ধন প্রণালিতে প্রস্তুত রান্না তাঁর রুচি-সম্মত হয় নি, তবু সেগুল�ো খাওয়া ছাড়া তাঁদের গত্যন্তর ছিল না । প্রথম দিকে জাপানি পদগুল�ো অসহ্য লাগত তাঁদের । “ক�োবে থাকিতে জাপানী প্রথার রন্ধন কখনও খাইতে চেষ্টা করি নাই; কারণ উহার তীব্র গন্ধ আমাদের আদ�ৌ সহ্য হইত না । আমার বন্ধু

Anjali

www.batj.org


সেলু লয়েডের চিরুনি শ্রীযু ত সেন মহাশয় বাস্তবিকই বলিতেন যে জাপানীরা যাহা খান তাহাতেই ‘কুছু রী’ অর্থাৎ ঔষু ধ মিশ্রিত করেন । ...ব�োর্ডিং-এ থাকিবার সময় অনেক সময়েই রন্ধনকালে নাকে কাপড় বাঁধিয়া দ্বিতলের উপর বসিয়া থাকিতাম কিম্বা গন্ধ অতি বিকট হইলে গৃ হের বাহিরে গিয়া বিশুদ্ধ বায়ু সেবন করিতাম । ” অবশ্য পরবর্তীতে “যে খাবার এককালে এতই ঘৃ ণিত ব�োধ হইয়াছিল, কালক্রমে আমি তাহার বিশেষ পক্ষপাতী হইয়া উঠিয়াছিলাম । ” (৪১ ও ৪২ পৃ ষ্ঠা) ক�োবেতে প্রশিক্ষণ শেষে মন্মথনাথ ওসাকায় চলে যান । উদ্দেশ্য, সেলু লয়ড নিয়ে শিক্ষা অর্জন করা । মন্মথনাথের লেখা অনু যায়ী, তখন জাপানে একটি মাত্র সেলু লয়ডের জিনিস তৈরি করার কারখানা অবস্থিত ছিল ওসাকায় । কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ ভারতবর্ষ থেকে আগত এই শিক্ষানবিশ গ্রহণে অনিচ্ছু ক ছিলেন । মন্মথনাথ অগত্যা ব্রিটিশ দূ তাবাসের মাধ্যমে ওসাকার গভর্ণর সহ প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের সাহায্য চাইলেন । তাদের চাপে কারখানার মালিক মন্মথনাথকে একবার কারখানাটি ঘুরে দেখার অনু মতি প্রদান করলেও তিনি এই ভারতীয় যু বককে সেলু লয়েড তৈরির বিশদ তথ্য দিতে রাজি হন নি । মালিকের এই অনীহার পিছনে একটা কারণ ছিল; সেই সময় সেলু লয়ড উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইউর�োপ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত থাকলেও জাপান এই প্রতিয�োগিতায় এগিয়ে যেতে পেরেছিল । এর কারণ জাপান তাইওয়ান থেকে সেলু লয়েডের মূ ল উপাদান কর্পূর (camphor)-এর স্থিতিশীল সরবরাহ পেতে সক্ষম ছিল । তাইওয়ানে কর্পূর গাছের বিশাল বন ছিল । চীনের সঙ্গে যু দ্ধে জয় লাভ করার পর ১৮৯৫ সালে জাপান তাইওয়ানকে চীনের কাছ থেকে হস্তগত করে । এতে যথেষ্ট পরিমাণে camphor-এর সরবরাহের পথ সু গম হয় । সেলু লয়ড উৎপাদনে জাপান এই অনু কূল পরিস্থিতি ধরে রাখতে চেয়েছিল । আবার, জাপানের মধ্যেও বেশ কয়েকজন শিল্প-উদ্যোক্তা সেলু লয়ড উৎপাদনে আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন । সু তরাং ওসাকার সেই ব্যবসায়ী মন্মথনাথকে গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করলেন । কিন্তু মন্মথনাথ অনায়াসে হাল ছাড়ার পাত্র ছিলেন না । তিনি পরের দিন আবার ওসাকায় গিয়ে কারখানাটির মালিকের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর এখানে আসার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বিস্তারিত জানালেন । তাঁর কথা শুনে মালিকের স্ত্রী বললেন; “পুরাকালে ভারতবর্ষ যখন উন্নত ছিল তখন আমরা সমস্ত বিষয়ে তথা হইতে শিক্ষা করিয়াছি । এমন কি আমাদের আচার ব্যবহার পর্য্যন্ত আপনাদের অনু করণ মাত্র । আপনাদের দেশ হইতে ধর্ম্মাল�োক না পাইলে আমাদের ব�োধ হয় অস্তিত্বও থাকিত না । সে যাহা হউক, আপনি যখন এতদূ র আসিয়াছেন তখন আপনার শিক্ষা ব্যবস্থা করা আমাদের অবশ্য কর্ত্তব্য । ” (৪১ পৃ ষ্ঠা) এই বলে তিনি তাঁর স্বামীকে বু ঝিয়ে মন্মথনাথের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেন । এই কারখানায় লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মন্মথনাথ দেশে ফেরার পর যশ�োরে চিরুনির কারখানা গড়ে ত�োলেন এবং এতে বিপুল সাফল্য অর্জন করেন । আমার এই প্রবন্ধের এখানে ইতি টানতে পারতাম, কিন্তু এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করা প্রয়�োজন । ‘জাপান প্রবাস’ পড়ার পর একদিন আমি আমার ঘরে ঢুকলাম একটা বই খুঁজতে । আমার ঘর হলেও আমার স্ত্রী ঘরটাকে গুদাম ঘর হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করে এবং ঘরটি এখন জামা, খালি বাক্স, পুরন�ো খেলনা ইত্যাদিতে পরিপূ র্ণ এবং মেঝেতে পা ফেলাও দু ষ্কর হয়ে গেছে । তাই আজকাল ধু ল�োয় ভরা এই ঘরে খুব কমই পড়ে আমার পদধূ লি । সে যাই হ�োক, সেদিন বই খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ একটা বইয়ের উপর আমার চ�োখ পড়ল । বইয়ের নাম ‘জাপান জাপানী-সেকাল একাল’ । আর প্রচ্ছদে লেখকের নাম; মন্মথনাথ ঘ�োষ ও কুমারেশ ঘ�োষ । কয়েক পাতা উল্টিয়ে দেখে বু ঝতে পারলাম, বইটির সম্পাদনা করেছেন মন্মথনাথের পুত্র কুমারেশ । কুমারেশ ১৯৭০ সালে জাপানে বেড়াতে আসেন মূ লত সে

www.batj.org

বছর ওসাকাতে অনু ষ্ঠিত বিশ্ব প্রদর্শনী (Expo ‘70) দেখতে । তিনি সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা ভ্রমণ বৃ ত্তান্ত লেখেন এবং সেটি বইয়ের আকারে প্রকাশ করতে গিয়ে তাঁর পিতৃদেবের পুরন�ো লেখা ‘জাপান প্রবাস’ও পুনর্মুদ্রণ করে সেখানে সংয�োজন করেন । বইটি কবে, কখন, কিভাবে আমার ঘরে এল? আদ�ৌ মনে করতে পারছি না । তবে এ-কথা নিশ্চিত করে বলা যায় যে বইটি আমার সঙ্গে একই ছাদের নিচে কয়েক দশক ব্যাপী দীর্ঘ নিদ্রায় নিমজ্জিত ছিল এবং

ক�োন�ো কারণে সেই ঘুম ভেঙ্গে গেল । কুমারেশের লেখা থেকে জানতে পেরেছি যে মন্মথনাথ ১৯৩০-এর দশকে আবার জাপানে গিয়েছিলেন । বহু দিন জাপানে বসবাসের মাধ্যমে তিনি ভাল জাপানি ভাষা আয়ত্ত করতে সক্ষম হন । শুধু তিনি নন, তাঁর সঙ্গে যে সব বাঙালি সন্তান ১৯০৬ সালে জাপানে পাড়ি জমিয়েছিলেন, দেশে ফিরে আসার পরও সপ্তাহে একদিন নিয়মিতভাবে “নিজেদের বাড়ি থেকে খাবার তৈরি করে নিয়ে গঙ্গার ধারে বা ভিক্টোরিয়া মেম�োরিয়ালে—এবং নিজেদের মধ্যে গল্প করতেন জাপানী ভাষায় । ” (কুমারেশ ঘ�োষ; আমার কথা) তাঁরা জাপানে তৎকালীন নতুন প্রযু ক্তি শিখতে এসেছিলেন । কিন্তু তাঁরা শুধু বাস্তব জ্ঞান শিখে যান নি; সেই সঙ্গে জাপানের প্রতি ভালবাসা নিয়ে দেশে ফিরলেন । তা না হলে তাঁরা এভাবে জাপানি ভাষা ভুলে না যাওয়ার চেষ্টা করতেন কেন? আমার ধারণা ছিল যে আধু নিক যু গে বাংলার সঙ্গে জাপানের য�োগায�োগ ১৯০১ সালে চিন্তাবিদ তেনশিন ওকাকুরার কলকাতা গমনের মাধ্যমে শুরু হয় । তাঁর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের বন্ধুত্ব দু ই পক্ষের য�োগায�োগের নতুন অধ্যায়ের উন্মোচন সূ চিত করে বলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সাংস্কৃতিক বিনিময়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল, এইরকম মনে করতাম । কিন্তু মন্মথনাথের লেখা পড়ে বু ঝতে পারলাম; ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে দু দেশের মধ্যে সংস্কৃতি ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সক্রিয় তৃণমূ ল পর্যায়ের য�োগায�োগ বিদ্যমান ছিল । এই প্রবন্ধ লেখার জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আরেকটা পুরন�ো বইয়ের সন্ধান মেলে । সু রেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘জাপান’ নামক এই বইটি প্রকাশিত হয় ১৯১০ সালে, অর্থাৎ মন্মথনাথের ‘জাপান প্রবাস’ বইয়ের সঙ্গে একই বছরে । ‘জাপান’ বইটির লেখক জাপানে এসে এক বাড়িতে যান এবং সেখানে বেশ কয়েকজন বাঙালি বাস করতেন বলে জানা যায় । আর�ো বহুবিধ দৃ ষ্টিক�োণ থেকে জাপান ও বাংলার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পর্যাল�োচনার প্রয়�োজন রয়েছে । মন্মথনাথের লেখা পড়ে আমার এমনটা মনে হল । 

Durga Puja 2018

39


রবীন্দ্র রচনায় বৌদ্ধধর্মের  

বীন্দ্রনাথ নিজেকে মুখ্যত কবি বলে অভিহিত করতে ভালবাসতেন । তিনি ছিলেন বিশ্বকবি । এই বিশ্বকবিত্ব ছিল এক গভীর জীবনদর্শনের ফসল । আমরা জানি তাঁর এই জীবনদর্শন উপনিষদের প্রভাবে প্রভাবিত চিরন্তন (শাশ্বত) স�ৌন্দর্য্য-ব�োধে উদ্ভাসিত । কবি শুধু মাত্র কবি ছিলেন না । আল�োকিত স�ৌন্দর্য্যের উপাসক রবীন্দ্রনাথ রাষ্ট্র ও সমাজ চিন্তার প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবের অর্ন্তনিহিত মনল�োকের জাগৃ তি ঘটাতে চেয়েছেন তাঁর লেখনীর দ্বারা । মানু ষ যে দীন হীন দৈবাধীন পদার্থ নয় একথা কবির বিভিন্ন রচনায় বার বার ধ্বনিত হয়েছে । উপনিষদ কবিকে শিখিয়েছে স্বার্থত্যাগের দ্বারা, উদারতার আহ্বানে নিজেকে উন্নত করার শিক্ষা । উপনিষদ জানিয়েছে সবার মাঝে দেবতা আছেন । জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ইত্যাদির বু দ্ধি মানু ষের দেবত্বকে নীচে নিয়ে আসে, আর এই কারণেই ভারততীর্থ কবিতায় দ্বিধাহীন চিত্তে আহ্বান জানালেন --“এস�ো ব্রাহ্মণ, শুচি করি মন ধর�ো হাত সবাকার এস�ো হে পতিত কর অপনীত সব অপমান ভার”---

কুশ জাতক অবলম্বনে রচিত । ১৯২০ সালে নাটকটির অভিনয়য�োগ্য রূপ “অরূপরতন” সৃ ষ্টি করলেন । ১৯৩১ সালে এই একই বিষয় নতুন ভাবে উপস্থাপিত করেছেন “শাপম�োচন” কবিতা ও “শাপম�োচন” কথিকায় (১৯৩১) । মানু ষের বাইরের রূপ মূ ল্যহীন, অন্তরের স�ৌন্দর্য্যই আসল, এই ছিল মূ ল বক্তব্য । ব�ৌদ্ধকাহিনী অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ রচিত প্রথম নাটক ছিল ‘মালিনী’ (১৮৯৬) সত্যকাহিনী অবলম্বনে, কাল্পনিক চরিত্রের সহায়তায় ব�ৌদ্ধধর্মের কালজয়ী মহিমা অর্থাৎ ত্যাগ ও সত্য বিকশিত করেছেন নাটকটিতে । ‘অচলায়তন’ (১৯১২) নাটকটি ‘দিব্যাবদান মালা’র অন্তর্গত মহাপঞ্চক ও পঞ্চক এই দু ই ভাইয়ের কাহিনী । এই নাটকটি লিখে রবীন্দ্রনাথ বিপুল সমাল�োচনার সম্মু খীন হয়েছিলেন – নিন্দা বেশী হলেও প্রশংসাও কম ছিলনা । এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ জীর্ণ পুরাতন আচার অনু ষ্ঠানকে পরিত্যাগ করে নূ তন ভাবে তাকে গড়ার কথা বলেছেন । ১৯২৬ সালে ‘নটীর পূ জা’ রচনা করেন ১৮৯৯ এ তাঁরই লেখা ‘পূ জারিনী’ কবিতা অবলম্বনে ।

বৈদিক ক্রিয়াকাণ্ডে বিভ�োর বিভ্রান্ত ভারতবর্ষের ঘুম ভাঙ্গান�োর চেষ্টায় উৎপত্তি হ�োল উপনিষদ আশ্রিত ‘ব্রাহ্মধর্ম’, যার অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন মহর্ষী দেবেন্দ্রনাথ । ঠাকুরবাড়ী কেবলমাত্র উপনিষদ দ্বারা প্রভাবিত ছিল না, সেখানে ব�ৌদ্ধধর্মেরও চর্চা হ’ত, ধর্ম না বলে ‘শাস্ত্র’ বলা সমীচিন হবে । মহর্ষীর পুত্র সত্যেন্দ্রনাথ ‘ব�ৌদ্ধধর্ম’ নামে (১৯০১) একটি পুস্তক লেখেন । এছাড়া খুব অল্প বয়সেই রবীন্দ্রনাথ প্রসিদ্ধ ব�ৌদ্ধশাস্ত্রবিদ্‌ রাজেন্দ্রলাল মিত্র দ্বারা প্রভাবিত হন, যার ফল পরবর্তীকালের অসংখ্য রবীন্দ্র রচনা । তাঁর ‘চারিত্রপূ জা’ গ্রন্থে ‘বু দ্ধদেব’ নামক রচনাটির প্রথমেই কবি লিখেছেন, “আমি যাঁকে অন্তরের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব বলে উপলব্ধি করি, আজ এই বৈশাখী পূ র্ণিমায় তাঁর জন্মোৎসবে আমার প্রণাম নিবেদন করতে এসেছি । এ ক�োন বিশেষ অনু ষ্ঠানের উপকরণগত অলংঙ্কার নয়, একান্তে নিভৃতে যা তাঁকে বার বার সমর্পণ করেছি, সেই অর্ঘ্যই আজ এখানে উৎসর্গ করি” । রবীন্দ্র কাব্য, নাটক, প্রবন্ধ সবই বু দ্ধের মহিমায় উদ্ভাসিত । বু দ্ধদেব ক�োথাও নিজেকে অবতার ব’লে ঘ�োষণা করেননি, তিনি মানব ও মানবতাকে বড় ক’রে দেখেছেন । বু দ্ধদেব জাতিভেদ মানেননি, যাগযজ্ঞের বাহ্যিক আড়ম্বর মুক্ত এক শ্রেয়ব�োধ, অহিংসা, ত্যাগ, করুণা, বৈশ্বমৈত্রী, ঐক্য এবং সংহতির সহায়তায় মানু ষকে অন্তর্নিহিত আত্মশক্তির কথা শিখিয়েছেন । আমাদের বৈদিক ব্রাহ্মণ্য ধর্ম যখন একাধারে আচার সর্বস্ব জাগযজ্ঞের বাহ্যাড়ম্বরে ব্যাপৃ ত এবং কঠিন দার্শনিক তত্ব প্রচারে ব্যাস্ত ছিল তখন বু দ্ধদেব অতি সাধারণ ভাষায়, জনগণের জীবনে তাত্ত্বিকতার ব্যবহারে সমৃ দ্ধ দয়া, করুণা, ত্যাগ, মৈত্রী ও অহিংসার বাণী বহন ক’রে আনলেন । আমরা জানি, বু দ্ধ পৃ থিবী দু ঃখময় বলেছেন । অপর দিকে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, “জগতে আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ --মানসল�োকে এই বৈপরীত্য সত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথের বিশ্ব পরিক্রমার লক্ষ্য ত্যাগ, অহিংসা, দয়া, করুণা ও মৈত্রীর বাণী, অর্থাৎ তাঁর ভারতবর্ষের সংস্কৃতির প্রচার । এক কথায় বলা চলে, সারা বিশ্বে ভারতবর্ষের অন্তরাত্মার বাণী ছড়িয়ে দেবার জন্য বরীন্দ্রনাথই ছিলেন প্রথম ভারতীয় দূ ত । উপনিষদ কবিকে শিখিয়েছে --- “আনন্দাদ্ধ্যেব খল্বিমানি ভুতানি জায়ন্তে, আনন্দেন জাতানি জীবন্তী, আনন্দং প্রয়ন্তিভিসং বিশন্তি চ” । ক্ষুদ্র-বৃ হৎ সব মিলিয়ে কবি পঞ্চাশটিরও বেশী নাটক লিখেছেন । ভারতীয় প�ৌরাণিক আখ্যানাশ্রয়ী নাটকের চাইতে ব�ৌদ্ধ যু গের বিভিন্ন কাহিনী অবলম্বনে তাঁর লিখিত নাটকের সংখ্যা অধিক । ব�ৌদ্ধ যু গের কাহিনী ভিত্তিক নাটকগুলিকে কবি বিভিন্নভাবে রূপান্তরিত করে লিখেছেন । অপর দিকে প�ৌরাণিক কাহিনী আশ্রয়ী নাটকগুলিতে সেভাবে পরিবর্তন ঘটাননি । রবীন্দ্রনাথ তাঁর “রাজা’ (১৯১০) নাটকটিকে চারবার পরিবর্তিত করেছেন । এই নাটকটি মহাবস্তু অবদানের অন্তর্গত 40

- আলপনা ভট্টাচার

১৯৩৩ সালে লিখিত ‘চণ্ডালিকা’ নাটকটি শার্দুলকর্ণ অবদানের কাহিনী অবলম্বনে রচিত । পাঁচ বছর পরে (১৯৩৮) এটির পরিবর্তন সাধন করে নৃ ত্যনাট্য ‘চণ্ডালিকা’ উপহার দেন আমাদের । রবীন্দ্রনাথ ‘পরিশ�োধ’ কবিতা রচনা করেন ১৮৯৯ সালে । সু দীর্ঘ ৪০ বছর পরে ১৯৩৯ সালে সেই কাহিনীর পুনরাবর্তন ঘটান শ্যামা নৃ ত্যনাট্য রচনা করে । শ্যামা নৃ ত্যনাট্যে ক্ষমার আদর্শ প্রস্ফুটিত হয়েছে করুণ রস সঞ্চারে । রবীন্দ্রনাথের ‘কথা’ (১৯০০) কাব্যের অন্তর্গত ব�ৌদ্ধ আখ্যানমূ লক কবিতাগুলিতে ব�ৌদ্ধ ধর্মাদর্শ অতি সু ন্দর রূপে ধরা দিয়েছে । এই কাব্যে কবি সন্ন্যাসী উপগুপ্ত’র যে চরিত্র চিত্রণ করেছেন তাতে করুণার যে মহিমা প্রকাশ পেয়েছে তা আমাদের চিত্ত বিগলিত করে দেয় । ‘শ্রেষ্ঠ দীক্ষা’ কবিতায় দেখা যায় ভিক্ষাপ্রার্থী অনাথপিণ্ড ধনবানের মনিমাণিক্য নয়, হত দরিদ্র নারীর একমাত্র ছিন্ন বসনটিকেই শ্রেষ্ঠ ভিক্ষা রূপে গ্রহণ করলেন । ‘সামান্য ক্ষতি’ কবিতাতেও ব�ৌদ্ধ যু গের রাজন্যবর্গের ন্যায়ধর্ম পালনার্থে স্বীয় প্রিয়তমার অন্যায় আচরণ প্রশ্রয় পায়নি । ‘মূ ল্যপ্রাপ্তি’তে ভক্ত ও ভগবানের সম্পর্কের মহিমা কীর্তন করেছেন । ‘নগরলক্ষ্মী’, ‘মস্তকবিক্রি’ এই কবিতাগুল�োতেও কবি সাহস, ত্যাগ, আত্মত্যাগের অপরূপ মহিমা গাঁথা গেথেছেন । এই কবিতাগুল�ো পড়বার কালে কেবল মাত্র বু দ্ধ আদর্শ আমাদের আপ্লুত করেনা, চ�োখের সামনে ভেসে বেড়ায় সেই যু গের ইতিহাস এবং ভ�ৌগলিক চিত্র । সর্বত্র যেন প্রত্যক্ষ করি ভগবান বু দ্ধের কল্যাণ সু ন্দর স্পর্শ । ব্রাহ্মণ্য সমাজ সৃ ষ্ট জাতিভেদ, বর্ণভেদ, অস্পৃশ্যতা ইত্যাদি ব্যাধি যখন ভারতীয় সমাজকে অথর্ব করে তুলেছিল, বু দ্ধদেব তখন জন্মক�ৌলীন্যকে অস্বীকার করে মানু ষকে ঐক্য ও মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মন্ত্রে জাগ্রত করেছিলেন । ব�ৌদ্ধধর্মের প্রতি রবীন্দ্রনাথের শ্রদ্ধার অন্যতম কারণ ঐক্য ও মৈত্রী বন্ধনে জাগ্রত মানবিকতার আহ্বান । রবীন্দ্র সাহিত্যে নানাভাবে জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার উল্লেখ লক্ষ্যণীয় । ‘কালান্তর’ প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, “আমাদের দেশের সহস্র সহস্র ল�োক মানু ষ হয়েও পশু’র মত পীড়িত অবমানিত, আবার বিদেশী ক�োন সাধু ব্যক্তিকেও আমাদের দ্বারস্থ কুক্কুরের ন্যায় মনে মনে দু রস্থ করিতে ইচ্ছা করে” । আমরা ‘গ�োরা’ উপন্যাসে পড়ি পরেশবাবু বলছেন, “একটা বিড়াল পাতের কাছে বসে ভাত খেলে ক�োন দ�োষ হয়না, অথচ একজন মানু ষ সে ঘরে প্রবেশ করলে ভাত ফেলে দিতে হয়, মানু ষের প্রতি মানু ষের এমন অপমান ও ঘৃ ণা যে জাতিভেদে জন্মায় সেটাকে অধর্ম না বলে কি বলব”? এই উপন্যাসেই দেখি হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী গ�োরা যখন জানতে পারে সে হিন্দু নয় সে খ্রীষ্টান তখন সে পরেশবাবু কে বলে “আমি আজ ভারতবর্ষীয় । আমার মধ্যে হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান ক�োন

Anjali

www.batj.org


রবীন্দ্র রচনায় বৌদ্ধধর্মের

সমাজের ক�োন বির�োধ নেই । আজ এই ভারতবর্ষের সকলের জাতই আমার জাত, সকলের অন্নই আমার অন্ন । ... আজ আমি এমন শুচি হয়ে উঠেছি যে চণ্ডালের ঘরেও আমার আর অপবিত্রতার ভয় রইল না । ... মাতৃক্রোড় যে কাকে বলে এতদিন পরে তা আমি পরিপূ র্ণভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি । তার পরে গ�োরা আনন্দময়ীর কাছে গিয়ে বলল “মা, তুমিই আমার মা । ত�োমার জাত নেই, বিচার নেই, ঘৃ ণা নেই, শুধু তুমি কল্যাণের প্রতিমা । তুমিই আমার ভারতবর্ষ” । আনন্দময়ীর মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের ধ্যানের ভারতবর্ষ । রবীন্দ্রনাথের গ�োরার সমকালীন রচনা ‘ভারততীর্থ’ এবং ‘অপমানিত’ কবিতা দু টিতেও আমরা জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতা বির�োধী রবীন্দ্রনাথকে পাই । রবীন্দ্রনাথের ‘জনগণমন অধিনায়ক’ রচনায় অর্থাৎ ভারতের জাতীয় সঙ্গীতেও দেখি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানু ষকে আহ্বান জানাচ্ছেন কবি ঐক্য বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য ভারতবর্ষকে চালনাকারী

www.batj.org

চিরসাথীর উদ্দেশ্যে লিখলেন, “অহরহ তব আহ্বান প্রচারিত, শুনি তব উদার বাণী/ হিন্দু ব�ৌদ্ধ শিখ জৈন পারসিক মুসলমান খৃষ্টানী ...” । কবির বিশ্বভারতী সৃ ষ্টির মূ লেও ছিল ঐক্য, মৈত্রী, প্রেম এবং ত্যাগের মহিমা প্রচার । রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘যাত্রার পূ র্বপত্র’ (১৯১২) রচনায় ‘পথের সঞ্চয়’ প্রবন্ধে লিখেছেন, “ভারতবর্ষ সেদিন ধর্মের দ্বারা কেবল আপনার আত্মা নহে পৃ থিবীকে জয় করিতে পারিয়াছিল এবং আধ্যাত্মিকতার তেজে ঐহিক পারত্রিক উন্নতিকে একত্রে সম্মিলিত করিয়াছিল । তখন য়ু র�োপের খৃষ্টান সভ্যতা স্বপ্নের অতীত ছিল” । দ্রষ্টব্য :- “ধর্মের দ্বার” অর্থে সম্রাট অশ�োক কর্তৃক ব�ৌদ্ধ ধর্মের প্রচারের কথা লিখেছেন প্রবন্ধে । 

Durga Puja 2018

41


বাঙ্গালী ভদ্রল  

দ্র কথাটার অভিধানগত ব্যাখ্যা হল সাধু , শ্রেষ্ঠ বা ঋগ্বেদ অনু সারে কল্যাণকর । অভিধানে যাই থাকুক না কেন হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বঙ্গীয় শব্দক�োষে কিন্তু আরেকটি ব্যাখ্যা আছে তা হল ‘কল্যাণাচারে যাহার পাপ প্রচ্ছন্ন অর্থাৎ যে গ�োপনে পাপ করে ও বাহিরে সদাচারে তাহা প্রচ্ছন্ন রাখিয়া পরধন গ্রহণ করে তাদৃ শ ব্যক্তি’ । বাঙালী সমাজে তথাকথিত ‘ভদ্রল�োক’এর সৃ ষ্টি হয়েছিল প্রথাগত কিছু সামাজিক অনু শাসন মেনে চলা মানু ষদের নিয়ে । যারা এগুলি মেনে চলতেন তারাই সে সময় চিহ্নিত হতেন ‘ভদ্রল�োক’ হিসেবে । এর সঙ্গে এই তথাকথিত ভদ্রল�োক শ্রেণীভুক্ত মানু ষদের শিক্ষা, সংস্কৃতির বা পারিবারিক প্রেক্ষাপট ক�োনটাই বিচার্য হত না । এখন প্রশ্ন হল এই সামাজিক নিয়ম কানু ন বা বিধি নিষেধ কে বা কারা ক�োন সময়ে তৈরি করেছিল । ইতিহাস পর্যাল�োচনা করলে দেখতে পাব উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ক�োলকাতা শহরকে কেন্দ্র করে ইংরেজরা যখন ভারত শাসন পাকাপাকি ভাবে শুরু করে অনেকটা সেই সময় থেকেই বঙ্গসমাজে এই তথাকথিত ‘ভদ্রল�োক’ নামে একটা শ্রেণীর সৃ ষ্টি হয় । বিদেশী শাসক শ্রেণীর আনু গত্যে একদল বঙ্গ সন্তান চাকুরি বা ব্যবসার দ�ৌলতে অর্থোপার্জন করলে নিজেদের মধ্যে তারা একটা সমাজ তৈরি করে আর একরকমের অলিখিত সামাজিক নিয়ম কানু ন বা বিধি নিষেধ চালু করেন । এর সিংহভাগই ছিল সাহেবদের ব্যবহারিক অনু করণ । অর্থাৎ ভদ্র সমাজের নিয়মকানু ন বাস্তবিক ক্ষেত্রে দেখা গেল ইংরিজি etiquette শব্দের বঙ্গানু বাদ । এই সমাজভুক্ত ক�োন মানু ষ আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলে তাকে অভদ্র তকমা দিয়ে দেওয়া হত । কিন্তু যে সমস্ত মানু ষ এই সমাজে আর্থিক বা সামাজিক মাপকাঠিতে ভদ্রল�োক গ�োষ্ঠীতে জায়গা পেল না তাদের ছ�োটল�োক পঙক্তিতে ঢুকিয়ে দেওয়া হত । আজ একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছিয়েও সেই সামাজিক ধারা একটু আধটু পালটিয়ে প্রায় এক রকমই রয়ে গেছে । পরবর্তী সময়ে উচ্চবিত্ত সমাজে স্থান না পেয়ে স্বল্পবিত্ত বা নিম্নবিত্ত মানু ষেরা নিজেদের মত করে মধ্যবিত্ত সমাজ সৃ ষ্টি করে । এদের সবাইকে নিয়েই ভদ্রল�োক বাঙ্গালী সমাজের সৃ ষ্টি । প্রথম দিকে পেশাগত ভাবে এই ভদ্রল�োক বাঙ্গালী সমাজের বেশিরভাগ ছিল ব্যারিস্টার, ডাক্তার, সফল ব্যবসায়ী ও ধনী পিতার বেকার সন্তান যারা পরিচিত হতেন ল্যান্ডলর্ড হিসেবে । চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট বা ইঞ্জিনিয়ারদের পেশা এই সমাজে তখনও পর্যন্ত ‘ভদ্র’ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে নি । ওদের বলা হত ‘য়্যাকচুয়ারি’ যেটি পরবর্তী সময়ে একটা বিশেষ পেশা হিসেবে গণ্য হয়েছে । এই শ্রেণীর ভদ্রল�োকদের মিলিত হবার জায়গা বেশিরভাগ সময়ে হত ক�োন ক্লাবে বা সেই শ্রেণীর ধনী ক�োন বাড়ির মালিকের বসার ঘরে ঝাড় লন্ঠনের আল�োর নীচে । জমায়েতের একটা বিশেষত্ব ছিল যে পুরুষ ও মহিলারা সব সময়ে আলাদা আলাদা ঘরে মিলিত হতেন । কথ�োপকথনের যে ক�োন নির্দিষ্ট বিষয় থাকতে হবে তারও ক�োন ধরা বাঁধা নিয়ম ছিল না । এইসব জমায়েতে লক্ষ্ণৌ ঘরানার নাচ বা গান থেকে ফ্লুরি বা ফারপ�োর সাম্প্রতিকতম পেস্ট্রি বা ইটালিয়ান স্যুপ অথবা ফ্রেঞ্চ-ওয়াইন ও স্কচ-হুইস্কির চুলচেরা বিশ্লেষণ, কিছু ই বাদ যেত না । লক্ষ্য করার বিষয় ছিল যে এঁরা কিন্তু কখনও উচ্চগ্রামে কথা বলতেন না আর ক�োন বিষয়ে মন্তব্য প্রকাশ করতেন না । এই প্রথা প্রধানত পুরুষ মহলেই সীমাবদ্ধ থাকত । ক�োন বিষয়ে ক�োন নব্যাগত যদি ভুল করে মন্তব্য করে বসত তা হলে অবধারিত উত্তর হত ‘ওহ রিয়েলি?’ এমনকি আবহাওয়া সম্বন্ধে আল�োচনা হলেও ‘গুম�োট গরম বা প্যাচপ্যাচে বৃ ষ্টি’ জাতীয় মন্তব্য নিছক অসভ্যতা হিসেবে বিবেচিত হত । বয়স্ক ক�োন প্রতিষ্ঠিত ভদ্রল�োক কিঞ্চিত মদ্যপানের পরে স্বগত�োক্তির ঢঙে নিবে যাওয়া পাইপ মুখে কি বলে চলেছেন কেউ কিছু না বু ঝলেও উনি যখন প্রতিটি বাক্যের শেষে ‘ইজন্ট ইট’ বলছেন তখন বাকী শ্রোতারা ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানিয়ে ভদ্রতা প্রকাশ করতেন । এই সব বাঙ্গালী ভদ্রল�োক মাঝেসাঝে রবি বাবু র গান বাঁধা নিয়ে আল�োচনা করতেন কারণ রবি বাবু একটা ন�োবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন । বঙ্কিমের বিষবৃ ক্ষ বা আনন্দমঠ যদি কেউ ভুল করে উল্লেখ করে ফেলতেন তা হলে অবধারিত একটা নির্বিষ মন্তব্য হত ‘আনফেয়ার’ । এইসব বাঙ্গালী ভদ্রল�োকেরা কিন্তু সু চিন্তিত ভাবে দেশীয় রাজনীতি কখনই আল�োচনা করতেন না । তবে ব্রিটেনে লেবার পার্টির বাড়বাড়ন্ত 42

- তপন কুমার রা

নিয়ে নিরামিষ আল�োচনায় অবশ্য ক�োন বাধা থাকত না । এই সমাজে নারী সমাজের অধিকার ইত্যাদি ‘সামান্য’ বিষয় নিয়ে কেউ কখনও মাথা ঘামাতেন না । পারিবারিক ব্যবস্থায় নারী সমাজের ব্যয় করার সীমিত অধিকার থাকলেও আয় করার ব্যাপারে ছিল সীমাহীন বাধা । সভা ভঙ্গের পরে স্বামী সঙ্গিনী হয়ে গাড়িতে উঠে অন্য ক�োন ভদ্রল�োক বা তাঁর স্ত্রীকে নিন্দাসূ চক বাক্যে ভূ ষিত করার সময় মনে রাখতেন না যে গাড়িটির চালক বধির নয় । এই চালক গ�োষ্ঠীর মাধ্যমে এই সব নিন্দাসূ চক অভিব্যক্তি কখনও কখনও ভদ্রল�োকেদের সমাজে অশান্তির কারণ হয়েছে বলে শ�োনা যায় । এই তথাকথিত উচ্চবিত্ত ভদ্রল�োক বাঙ্গালীদের নিজেদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কিছু প্রাথমিক শর্ত পালন করতে হত । যেমন গৃ হস্থালির আসবাব থেকে শুরু করে প�োশাক, খাদ্যাভ্যাস, যানবাহন, কথ�োপকথন ও বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রকমের আদব কায়দার অভ্যাস । কর্মক্ষেত্রে অথবা তার বাইরে সু চিন্তিত ভাবে সঙ্গী বা সঙ্গিনী নির্বাচন ছিল নিজেকে ভদ্রসমাজে প্রতিষ্ঠিত করার কয়েকটি মুল শর্ত । এক একটি বিষয় পর্যাল�োচনা করলে আরও পরিষ্কার করে ব�োঝা যাবে ব্যাপারটা সমাজের মূ ল পর্যন্ত কেমন ভাবে ঢুকে গিয়েছিল । শ�োবার ঘরের খাট থেকে বসার ঘরের স�োফা বা জানলার পর্দা ক�োন দ�োকানের ক�োন কারিগরের হাতে তৈরি অথবা বারান্দার রেলিঙ বা জানলার গরাদ ক�োন জাহাজে ইংলন্ড থেকে এসেছিল ভদ্রসমাজের আল�োচনায় হাল্কা ভাবে ভাসিয়ে দেওয়া ছিল একটি অবশ্য কর্তব্য । পার্ক স্ট্রীটের বিশেষ দ�োকান থেকে স্যুট না বানালে বা চিতপুরের বিশেষ কারিগরের হাতে ফিনলে ক�োম্পানির ফিনফিনে কাপড়ের আদ্দির পাঞ্জাবী না বানালে গৃ হকর্ত্রী কতটা রুষ্ট হন সেটিও সমাজের অন্য মানু ষদের জানা না থাকলে সম্মানহানি হবার আশঙ্কা থেকে যেত । এই সব সামাজিক আল�োচনায় জামাকাপড় ছাড়া মাথায় মাখা তেল-শ্যাম্পু , গায়ে মাখার সাবান-পাউডারসু গন্ধি-আতর ইত্যাদি সগ�ৌরবে ঘ�োষণা না করলে সামাজিক প্রেস্টিজ হানির আশঙ্কা ছিল । এর পরে আসত হেঁসেলের ইতিবৃ ত্তান্ত । সে যু গে রন্ধন প্রক্রিয়ায় জ্বালানী হিসেবে কয়লার ক�োন বিকল্প ছিল না । প্রতিটি বাড়ীর এক তলায় দু টি জিনিস অত্যাবশ্যকীয় ছিল । প্রথমটি চ�ৌবাচ্চা আর দ্বিতীয়টি হল কয়লার ঘর । একতলায় একটি ঘর নির্দিষ্ট থাকত গেস্ট রুম হিসেবে । সাধারণত গরীব আত্মীয় কেউ এসে পড়লে তাঁদের স্থান হত এই ঘরটিতে । তাদের স্নান-খাওয়া ইত্যাদি নিত্য প্রয়�োজনীয় কর্ম এই ঘরেই সারতে হত । কখনও সখনও গৃ হকর্তার অনু পস্থিতিতে এইসব গরীব আত্মীয়দের সঙ্গে দ�োতলার বারান্দায় গৃ হকর্ত্রী কিছু পারিবারিক আল�োচনা সেরে নিতেন । গৃ হ কর্মে নিযু ক্ত মানু ষদের ঝি-চাকর হিসেবেই সম্বোধন করা হত । আজকালকার মত কাজের মাসী বা কাজের ল�োক বলার রেওয়াজ তখনও আসে নি । ডাল-ভাত-চচ্চরি জাতীয় খাবারের গল্প ক�োন মতেই এই সব উচ্চ সমাজে আল�োচিত হত না । সাহেবরা ক�োন কিছু চর্বণ করে মুখ থেকে বের করে আনাকে অসভ্যতা মনে করত । বেচারা এই ভদ্রল�োকেদের এই কারণে সজনে ডাঁটা থেকে মুরগির ঠ্যাং বা পাঁঠার হাড় চিবন�ো থেকে বঞ্চিত থাকতে হত । কেউ যদি ভুলক্রমে একটু শব্দ করে হাড়ের টুকর�ো আওয়াজ করে চিবিয়েছে তার কপালে ছিল অসীম দু র্ভোগ । পাশ থেকে কারুর মন্তব্য আসত ‘আর ইউ রানিং এ ওয়ার্কশপ ইন ইয়�োর মাউথ?’ একবার ত�ো ব্যানারজি পদবীধারী কারখানার এক বড় ‘সাহেব’ একজন জুনিয়র অফিসারের চাকরী প্রায় খেয়ে ফেলে ছিলেন । বেচারা জুনিয়র অফিসারটি ক�োম্পানির লাঞ্চ মিটিঙে সর্বসমক্ষে ফর্ক উল্টো করে প্লেট থেকে কড়াইশুঁটি মুখে দিয়েছিল । মুখ বেঁকিয়ে বড় সাহেব ওকে ধমকে বলে ছিলেন ‘ওহে ওটা ফর্ক, বেলচা নয়’ । অল্প বয়সী অফিসারটি তখনও পুর�োমাত্রায় বাঙালী ভদ্রল�োক হয়ে উঠতে পারেনি । চাকরীর খাতিরে মুখ নিচু করে প্লেটে পড়ে থাকা না খাওয়া কড়াইশুঁটি গুল�োর দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে নিশ্চয় নিজের অদৃ ষ্টকে গাল দিয়েছিল । এই সমাজে আরেকটি অত্যন্ত জরুরী ব্যাপার ছিল সেটি হল বাড়ীর ঠিকানা । অর্থাৎ ড্রেসের সঙ্গে অ্যাড্রেসও সমাজে স্তর বিভাগের একটা জরুরী মাপকাঠি হত । জাতে উঠতে হলে ক�োন পাড়ায় ক�োন রাস্তায় বাড়ীর অবস্থান স্বগর্বে ঘ�োষণা করতে হত । উঁচু জাতের ভদ্রল�োক সমাজে পাত্তা

Anjali

www.batj.org


বাঙ্গালী ভদ্রল পেতে হলে ছিদাম মুদি লেন জাতীয় গলি বা তস্য গলিতে ঠিকানা হওয়া চলত না । চাকুরে বা ব্যবসায়ী ভদ্রল�োকদের আরেকটি জরুরী ব্যাপার ছিল ক�োন অভিজাত ক্লাবের সদস্য হওয়া । বহু অর্থের আর ত�োষাম�োদের বিনিময়ে এইসব ক্লাবের সদস্যপদ লাভ হলে সমাজে আরেক ধাপ উঁচুতে ওঠা যেত । এইসব ক্লাবের পুরুষ তান্ত্রিক আবহাওয়ায় চূ ড়ান্ত লিঙ্গ বৈষম্য ছিল বলে মেয়েদের ব্যক্তিগত সদস্যপদ দেওয়ার চল ছিল না । তবে নিউ ইয়ার্সের পার্টি বা অন্যান্য বিলিতি উৎসব পালনে স্বামী সঙ্গিনী হওয়াতে বাধা ছিল না । তারা তখন মিসেস অমুকের চেয়ে মিসেস তমুকের প�োশাক বা গয়নার তুল্যমূ ল্য বিচারে প্রচুর সময় ব্যয় করতেন । এই নারী সমাজে উচ্চপদস্থ স্বামীর কর্মস্থলকে এঁরা সর্বদাই ‘আমাদের ক�োম্পানি’ বলে উল্লেখ করতেন । সময় সময় বিভিন্ন ক�োম্পানির দেওয়া বেতন বা অন্যান্য সু বিধার বিষয়ের তুলনামূ লক বিচারও এই আল�োচনায় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠত । কার স্বামী দেবতার অফিসের সু ন্দরী সেক্রেটারির প্রতি কতটা অনীহা সেটাও অনেক সময় প্রতিয�োগিতামূ লক আল�োচনায় পর্যবসিত হয়ে উঠত । উচ্চবিত্ত সমাজে যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া অন্য ক�োন উপায় ছিল না । গাড়ি বলতে সবই ছিল ব্রিটেন বা আমেরিকায় তৈরি । ইটালিয়ান বা জার্মান গাড়ির সংখ্যা অল্প হলেও ছিল । বাবু দের থেকে এই গাড়ি নিয়ে চর্চা অন্দরমহলে বেশী হত । কার সনাতন নামের পুরন�ো ড্রাইভার নতুন কেনা ফ্লুইড ড্রাইভ ডজ্ গাড়ির ক্লাচে বেশী সময়ের জন্য পা রেখে গাড়ির সর্বনাশ করছে তাঁর বিস্তারিত বিবরণ শ�োনা যেত ক্লাবের এই জমায়েতে । ওই বিশেষ ‘ভদ্র’মহিলার বড় মেয়ের কলেজের বন্ধুরা কলেজ ফেরত আসার সময়ে ব্যাপারটি লক্ষ্য করে সনাতনকে ছাড়িয়ে দেওয়ার সু পারিশ করেছে । মেয়ের ঠাকুরমার চাপে সনাতন এ যাত্রা চাকরী রক্ষা করতে পেরেছে কারণ সনাতন ছাড়া ঠাকুমার বিশেষ দ�োকানের পানজরদা-আফিঙের খবর বাড়ীর আর কেউ রাখত না । আজকের যু গের অল্পবয়সীদের এই ভদ্র সমাজের চেহারার খানিকটা আন্দাজ পাবার শ্রেষ্ঠ উপায় হল পঞ্চাশ বা ষাটের দশকের কিছু বাংলা সিনেমা দেখে নেওয়া । এই সব সিনেমায় সচ্চরিত্র গরীব নায়কের বড়ল�োক প্রেমিকার বাবাদের বাড়ীর ভেতরের দৃ শ্যে অতি অবশ্যই ড্রেসিং গাউন পরান�ো হত । ছবি বিশ্বাস, কমল মিত্র, বিকাশ রায়েদের মাপের ড্রেসিং গাউন স্টুডিওর মেকআপ রুমে সব সময় মজুত থাকত । ওদের সব সময় দেখা যেত ছ’সিলিন্ডারের বড় গাড়িতে ঘ�োরাফেরা করতে । খাবার ঘরে খাবার পরিবেশনকারী টুপি মাথায় বেয়ারারা হাজির থাকত মালিকের বা ছায়া দেবীর মত মালকিনদের হুকুম তামিল করার জন্য ।

www.batj.org

ফুলদানি সাজান�ো টেবিল ক্লথ ঢাকা ডাইনিং টেবিলে বিলিতি কাঁচের বাসন শ�োভা পেত । বসার ঘরের এক পাশে একটা পিয়ান�ো বা অরগ্যান রাখাও আবশ্যিক ছিল । বাড়ীর সদরে গাড়ি বারাণ্ডার নীচে গাড়ি এসে দাঁড়ালে ড্রাইভার বা দার�োয়ান দ�ৌড়ে এসে দরজা খুলে দিত মালিক-মালকিনিকে গাড়ি থেকে নামার জন্য । ভূ ল করেও মালিকরা নিজের হাতে গাড়ীর দরজা খুলে নামতেন না । একেবারে শেষ দৃ শ্যের আগে মধ্যবিত্ত শিক্ষিত নায়কের এই বাড়িতে প্রবেশাধিকার সাধারণত থাকত না । এই সমাজের সদস্যরা গুটিপ�োকার মত নিজেদের তৈরি আবরণের মধ্যেই নিজেদের গতিবিধি সীমিত রাখত । নিম্নবর্গের মানু ষেরা এঁদেরকে সমীহ করে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলত । চলার রাস্তায় ক�োন কারণে দেখতে পেলে এঁদের জন্য রাস্তা ছেড়ে দেওয়াই ছিল রীতি । সময়ের সঙ্গে সব কিছু র সঙ্গে সমাজেরও বদল অবশ্যম্ভাবী । বিংশ শতাব্দীর গ�োড়া থেকেই বাঙ্গালীদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার শুরু হতেই সমাজে উচ্চবিত্তদের একছত্র শাসন ক্রমশ কমতে শুরু করে । ততদিনে রাশিয়ার বিপ্লব হয়ে গেছে । দু দু ট�ো বিশ্ব যু দ্ধ দু নিয়ার অনেক হিসেব নিকেশ পাল্টে দিয়েছে । অফিস-কারখানায় দলবদ্ধ ভাবে মালিকদের সঙ্গে টাকা পয়সা আর কাজের সময় নিয়ে দর কষাকষি শুরু হয়েছে । এক তলার মধ্যবিত্ত ভাড়াটেরা আর দ�োতলার মালিকদের সব আবদার বিনা প্রতিবাদে মানতে রাজী হচ্ছিল না । ইতিমধ্যে সাদা চামড়ার কারখানার মালিকরা একে একে দেশ ছাড়তে শুরু করেছে স্থানীয় মানু ষদের হাতে মালিকানা ছেড়ে দিয়ে । একদল ছ�োকরা না কামান দাড়ি নিয়ে অফিস কাছারিতে যাওয়া শুরু করেছে । এক কথায় ইংরেজ আমলের এইসব তথাকথিত ভদ্র ল�োকেদের সামাজিক অবস্থানও ক্রমশ বদলাতে শুরু করেছে । সামাজিক নিয়ম কানু নও দেখতে দেখতে নতুন করে লেখা শুরু হয়েছে । মিলের ধু তির ওপর হাতা গ�োটান শার্ট ছেড়ে কেরানিকুল সু তির প্যান্ট আর হাফ হাতা জামা ঝুলিয়ে অফিস-কাছারিতে যাতায়াত করা শুরু করল । আর্থিক প্রয়�োজনে ভদ্র বাড়ীর অনেক মেয়েরা কলেজ থেকে বেরিয়ে অফিসের দরজার কড়া নাড়া শুরু করল । সৃ ষ্টি হল একটা নতুন ভদ্রল�োক বাঙালী সমাজের যার নিয়ম কানু ন আগাগ�োড়া পাল্টে গেল । সাহিত্য, শিল্প, সঙ্গীত জগতে এর প্রভাব পড়তে সময় লাগে নি । চাঁদ-ফুল-আকাশ ছাড়া অন্য অনেক শব্দ অভিধান থেকে নেমে আসতে শুরু করল কবিতা আর গানের লাইনে । ক্রমশ এইসব ‘আধা-ইংরেজ’ বাঙালী ভদ্রল�োকেরা চলে গেলেন ইতিহাসের পাতায় । 

Durga Puja 2018

43


দুটি পান্থশ

(আলফঁস দ�োদে-র ফরাসিতে লেখা ‘Les deux auberges’ গল্প থেকে সরাসরি বাংলায় অনূ দিত)

জু

লাই মাসের দু পুর-গড়িয়ে যাওয়া এক বিকেল । ফিরছি নিম শহর থেকে । রাস্তায় একেবারে পিষে দেওয়ার মত�ো গরম । সামনে যতদূ র দৃ ষ্টি যায় ততদূ র চ�োখে পড়ে সূ র্যের তাপে ঝলসে যাওয়া সাদা রাস্তা । ওলিভ বাগান আর ছ�োট�ো ছ�োট�ো ওক গাছের মধ্যের এই রাস্তাটি একেবারে ধু ল�োয় ঢাকা । মাথার উপরের আকাশ তামাটে সূ র্যের আল�োতে পূ র্ণ । ক�োথাও ছায়ার চিহ্নমাত্র নেই । এক দমক হাওয়াও বইছে না । থাকার মধ্যে রয়েছে কেবল গরম হাওয়ার কম্পন আর ঘুরঘুরে প�োকার কানে তালা ধরিয়ে দেওয়ার মত�ো উগ্র সু রেলা ডাক । এই ডাক সম্পূর্ণ খাপ খেয়ে যাচ্ছিল প্রবল উজ্জ্বল আল�োর অনু রণনের সঙ্গে । এইরকম সময়ে আমি টানা দু -ঘণ্টা হেঁটে যাচ্ছিলাম একেবারে এক ধু ল�োভূ মির মধ্যে দিয়ে । হঠাৎ করে রাস্তার সেই ধু ল�োর চাদর সরিয়ে আমার নজরে এসে পড়ল�ো কয়েকটি সাদা রঙের বাড়ি । বাড়িগুল�োকে ল�োকেরা স্যাঁ-ভ্যাঁসঁ বলে ডাকে । বাড়িগুল�োর লাল ছাদের মাথায় আছে লম্বা লম্বা গ�োলাঘর,পাশে রয়েছে জল-শুকিয়ে-যাওয়া একটি নালা । নালার মধ্যে সরু সরু কিছু ডুমুর গাছ । গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে রাস্তার দু -পাশে একে-অপরের দিকে মুখ করে রয়েছে দু ট�ো বড়�ো সরাইখানা । এই দু ই সরাইখানার পারিপার্শ্বিকতার মধ্যেই কিছু কিছু চিত্তাকর্ষক দিক রয়েছে । রাস্তার এক দিকে রয়েছে প্রাণ�োচ্ছলতায় পূ র্ণ একটি বড়�ো নতুন বাড়ি । বাড়িটির সমস্ত দরজা হাট করে খ�োলা । ভিতরে রয়েছে বেশ সাজান�ো-গাছান�ো কয়েকটি ঘ�োড়ার গাড়ি । ঘাড় থেকে জ�োয়ালগুল�ো খুলে দেওয়ায় ঘ�োড়াগুল�োর মুখ থেকে ধ�োঁয়া বের�োচ্ছে । যে-সব পান্থ তাড়াতাড়ি করে মদ্যপান করতে করতে রাস্তায় নেমেছিল, তারা দেওয়ালের গায়ে নু য়ে থাকা অল্প ছায়াতেই আশ্রয় নিচ্ছিল । বাড়িটির উঠ�োনে ঠাসাঠাসি করে ছিল প্রচুর খচ্চর আর ঘ�োড়ার গাড়ি । গাড়�োয়ানরা সবাই বাড়ির বাইরের চালার নীচে ঠান্ডার মধ্যে আশ্রয় নিয়েছিল । আর বাড়িটির ভেতর থেকে শ�োনা যাচ্ছিল ল�োকজনের হই-হট্টগ�োল, চিৎকারের আওয়াজ, মুষ্ঠিবদ্ধ হাতের টেবিলের ওপর চাপর মারার শব্দ, গ্লাসের ঠু ংঠাং, বিলিয়ার্ড বল মারার শব্দ, স�োডা লিমনেড ব�োতলের ছিপি খ�োলার আওয়াজ । কিন্তু এই সমস্ত কলরবকে ছাপিয়ে গিয়েছিল একটি আনন্দমাখা কণ্ঠস্বর । ল�োকটির কণ্ঠের জ�োরাল�ো আওয়াজ জানলার শার্সিকে পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিচ্ছিল : সু ন্দরী মারগ�োতঁ সূ র্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই নিয়েছে নিজের তামার কলসিটি জল ভরার জন্য বেরিয়ে পড়েছে । রাস্তার উলট�োদিকের সরাইখানার ছবি প্রথমটির ঠিক উলট�ো । সেটি একেবারে চুপচাপ,পরিত্যক্ত । বাড়িটির প্রবেশপথের নীচেই ঘাস জমে আছে,কপাটগুল�ো গেছে ভেঙে । জং ধরা দরজার উপরে শিরস্ত্রাণের উপরে ব্যবহৃত পাখির পালকের মত�ো ঝুলছে সবু জ রঙের গুল্মজাতীয় গাছের ডাল । রাস্তা থেকে পাথর নিয়ে এসে ঘরের চ�ৌকাঠকে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে । সবকিছু র মধ্যেই এমন দীনতা ও কারুণ্যের ভাব যে সেখানে বসে এক চুমুক পানীয় নেওয়াই যেন একরকমের বদান্যতা । সরাইখানাটিতে ঢুকেই আমি দেখতে পেলাম একটি বিশাল ঘর । ঘরটি একেবারে জনশূ ন্য এবং বিষণ্ন । এই আল�ো-ঝলসান�ো দিনে পর্দাবিহীন তিনটি বড়�ো বড়�ো জানলা দিয়ে সূ র্যের আল�ো ঢুকে ঘরটিকে আরও পরিত্যক্ত, জনহীন ও বিষণ্ন করে তুলেছে । ঘরের মধ্যে রয়েছে নড়বড়ে টেবিলের উপর ধু ল�োয় ঢাকা কয়েকটি অব্যবহৃত গ্লাস, একটি ভাঙাচ�োরা বিলিয়ার্ড টেবিল যার চারটি পকেট ভিক্ষাপাত্রের মত�ো ঝুলছে । এ ছাড়াও আছে একটি সবু জ পালঙ্ক, মদ্যপানের জন্য একটি পুর�োন�ো বার । এই সমস্ত কিছু ই যেন সেই প্রবল অস্বাস্থ্যকর গরমে একেবারে ঘুমিয়ে রয়েছে । থাকার মধ্যে আর আছে কেবল মাছি আর মাছি । এত মাছি জীবনে আমি ক�োথাও দেখিনি । ঘরের ছাদ থেকে শুরু করে জানলার কাঁচেতে বা গ্লাসের মধ্যে--সর্বত্রই একেবারে গুচ্ছ গুচ্ছ মাছি ঝাঁক বেঁধে রয়েছে । জানলা খ�োলামাত্রই আমি শুনতে পেলাম মাছির গুণ গুণ আওয়াজ,তাদের ডানা কাঁপান�োর শব্দ । মনে হল ঘর নয়, আমি যেন একটা ম�ৌচাকের ভেতর ঢুকেছি । ঘরের একেবারে পিছনের দিকে,জানলার শার্সির দিকে মুখ করে 44

- অনুবাদক : চন্দন আ

ঠেসান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন একজন মহিলা । বাইরের পৃ থিবীর দিকে একেবারে নিমগ্ন দৃ ষ্টিতে তিনি তাকিয়ে । আমি তাঁকে দু -বার ডাকলাম : ‘‘শুনছেন!’’ গলার শব্দ শুনে তিনি ধীরে-সু স্থে আমার দিকে ফিরে তাকালেন । দেখতে পেলাম তাঁর কুঁকড়ে যাওয়া দেহের চামড়ার ভাজের দাগ আর মুখের মধ্যে ফুটে ওঠা বলিরেখার চিহ্ন । ভদ্রমহিলার গায়ের রং একেবারে মাটির মত�ো । লাল রঙের একটি জরির প�োশাক পরে ছিলেন তিনি । তাঁর মুখের গঠন একেবারে কৃষকের মত�ো । প�োশাক-আশাক আমাদের বাড়ির বৃ দ্ধ মহিলাদের মত�ো । তিনি কিন্তু ম�োটেও বয়স্ক নন । চ�োখের জল শুকিয়ে গিয়ে তাঁকে আরও ম্লান, আরও বিবর্ণ করে দিয়েছে । ‘‘তুমি এখানে কী চাও?’’--চ�োখের জল মুছতে মুছতে ভদ্রমহিলা আমার কাছে জানতে চাইলেন । --খালি একটু বসতে চাই আর কিছু একটা পান করতে চাই... উত্তর শুনে ভদ্রমহিলা একেবারে বিস্ময়াভিভূ ত হয়ে গেলেন । এমনভাবে আমার দিকে তাকালেন যেন তিনি কিছু ই বু ঝে উঠতে পারছেন না । নিজের জায়গা ছেড়ে এক পা-ও না সরে তিনি সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলেন । ‘‘ এটা কি একটি সরাইখানা নয়?’’ আমার এই প্রশ্ন শুনে ভদ্রমহিলা এবার একটু দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানালেন : ‘‘নিশ্চয়ই...আপনি যদি মনে করেন তাহলে এটা নিশ্চয়ই একটি সরাইখানা...কিন্তু সবার মত�ো আপনিও কেন উলট�োদিকের সরাইখানাটিতে গেলেন না? ওটা ত�ো অনেক বেশি প্রাণবন্ত,অনেক বেশি জীবন্ত...’’ । --আমার কাছে ওই সরাইখানাটা প্রয়�োজনের চেয়েও বেশি প্রাণবন্ত...তাই আপনার এখানে থাকতেই আমার বেশি ভাল�ো লাগছে । এই কথা বলার পর,তাঁর উত্তরের জন্য আর বিন্দুমাত্র অপেক্ষা না করে,আমি একটা টেবিলের সামনে বসে পড়লাম । ভদ্রমহিলা যখন নিশ্চিত হলেন যে সত্যি সত্যিই আমি তাঁর সরাইখানাতে থাকতে চাই,তারপর তাঁর কর্মব্যস্ততা শুরু হল । ঘরের মধ্যে এদিক-ওদিক যাওয়া-আসা শুরু করলেন । কখনও ড্রয়ার খুললেন,কখনও ব�োতলগুল�ো নাড়াচাড়া করলেন,গ্লাসগুল�োকে মুছলেন,আবার কখনওবা মাছি তাড়ান�োর কাজে ব্যস্ত থাকলেন...স্পষ্ট বু ঝতে পারলাম আমার মত�ো ভ্রমণকারীর এখানে এসে পড়াটা বেশ একটা উল্লেখয�োগ্য ঘটনা । কিছু ক্ষণের জন্য সেই দু ঃখী ভদ্রমহিলা নিজের মাথায় হাত দিয়ে এমনভাবে দাঁড়ালেন যে তিনি যেন পুর�ো ঘটনাটির পরিণাম দেখে নিতে চান । এরপর সেই ভদ্রমহিলা পিছনের দিকের ঘরে চলে গেলেন । টেবিলের সামনে বসে থেকেই আমি বড়�ো বড়�ো চাবি নাড়ান�োর আওয়াজ শুনতে পেলাম । তালা ঝাঁকান�োর আওয়াজও কানে এল । বু ঝলাম পাউরুটি রাখার বাক্সটিকে তিনি বেশ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন । এরপর তাঁর ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলার শব্দ পাওয়া গেল । তারপর তিনি ধু ল�ো ঝাড়লেন,প্লেটগুল�োকে ধু লেন । মাঝে-মধ্যে শ�োনা গেল গভীর দীর্ঘশ্বাস, সঙ্গে গলার মধ্যে আটকে থাকা ফ�োঁপানি । চারপাশের এইসব কাজ করতে তাঁর মিনিট পনের�ো সময় লাগল�ো । এরপর তিনি আমার জন্য প্লেটে করে নিয়ে এলেন কিছু শুকন�ো কিসমিস, বেলেপাথরের মত�ো একটি পুর�োন�ো শক্ত পাউরুটি এবং অত্যন্ত মাঝারি মানের এক ব�োতল ওয়াইন । ‘‘এগুলি সব আপনার জন্য’’--এই কথা বলে সেই অদ্ভুত স্বভাবের মহিলাটি আবার অত্যন্ত দ্রুত আগের মত�ো সেই জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন । পান করতে করতে আমি তাঁর সঙ্গে গল্প জমাতে চাইলাম । চাইলাম তাঁকে দিয়েও কিছু কথা বলাতে । ‘‘আপনার এখানে ব�োধহয় সবসময় বেশি ল�োক আসে না, তাই না ম্যাডাম?’’

Anjali

www.batj.org


দু টি পান্থশাল --ওহ!! কখন�োই ক�োন�ো ল�োক আসে না...এই অঞ্চলে আমরা যখন একমাত্র পান্থশালা ছিলাম,তখন অবশ্য অবস্থাটা সম্পূর্ণ আলাদা ছিল । স্কোটার পাখি শিকারের মরশুমে আমরা দু পুরবেলার খাবার তৈরি করতাম, এ ছাড়াও সারা বছরের জন্য থাকত গাড়ির ব্যবস্থা...কিন্তু যেদিন থেকে এখানে আরও কয়েকটি সরাইখানা তৈরি হল, সেইদিন থেকে আমরা সব কিছু হারিয়ে ফেললাম । সমস্ত ল�োকই সামনের সরাইখানাতে যেতে পছন্দ করল�ো । আর আমাদেরটা গভীর দু ঃখে ছেয়ে গেল...আমাদের সরাইখানাটি কার�োর কাছেই আর আরামের মনে হল না । তা ছাড়া আমি সু ন্দরীও নই । প্রায়ই জ্বর-জ্বালা লেগে থাকত । আমার দু টি ছ�োট�ো মেয়েও মারা গেছে ইতিমধ্যে...অথচ উলট�োদিকের সরাইখানাটির ছবি একেবারে এর উলট�ো । সেখানে সবাই সারাক্ষণ খালি হেসেই চলেছে । একজন আর্লেসীয় সু ন্দরী মেয়ে ওই সরাইখানার প্রাণভ্রোমরা । তিনি জরি দেওয়া প�োশাক পরেন । গলায় রয়েছে তিনটি স�োনার চেন । তাঁর কন্ডাকটর প্রেমিকটি তাঁর জন্য গাড়ির মধ্যে অনেক খরিদ্দার নিয়ে আসে । এ ছাড়াও তাঁর আছে অনেক সু ন্দরী পরিচারিকা,যারা মিষ্টি কথায় মানু ষকে ভুলিয়ে প্রলু ব্ধ করতে পারে । এইজন্যই তাঁর ব্যাবসা প্রতিদিন বেড়ে চলেছে । ব�োজুস, র�োদেসঁ, জঁকিয়ে-এইসব জায়গার যু বকরা উলট�োদিকের সরাইখানাতেই তাই ভিড় জমায় । ঘ�োড়ার গাড়ির চালকেরাও ওই পান্থশালার চারপাশেই কেবল গাড়ি নিয়ে ঘুর ঘুর করে...আর আমি,আমি এখানে প্রত্যেকদিন একা বসে থাকি, ক�োন�ো পথিক এখানে আসে না,শূ ন্যতার মধ্যে একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছি । এই সমস্ত কথাই তিনি বলেছিলেন জানলার কাচে কপাল ঠেকিয়ে অত্যন্ত উদাসীনভাবে । তাঁর গলার স্বরে ছিল এক রাশ ক্লেশ । সেই সময় উলট�োদিকের সরাইখানায় এমন কিছু একটা ঘটল�ো যেটা তাঁর দৃ ষ্টি আকর্ষণ করল�ো... হঠাৎ করে,রাস্তার ঠিক উলট�ো দিকে বেশ বড়�োসড়�ো একটা কর্মকাণ্ড শুরু হল । একটি ঘ�োড়ার গাড়ি ধু ল�োর মধ্যে দিয়ে এগ�োতে শুরু করল�ো । ঘ�োড়ার পিঠে কশাঘাতের শব্দও শ�োনা গেল, শ�োনা গেল ঘ�োড়ার গাড়ির চালকের শিঙা বাজান�োর আওয়াজও । সেই সময় একদল মেয়ে তাড়াতাড়ি করে দরজার কাছে এসে বেশ জ�োর গলায় চিৎকার করে বলে উঠল : ‘‘বিদায়!...বিদায়!...’’ । কিন্তু এই সবকিছু ছাপিয়ে গেল একটি সু ন্দর কণ্ঠের গান : নিজের সু ন্দর তামার কলসিটি নিয়ে

নদীতে গেছে সে জল ভরতে : কিন্তু সেখানে সে দেখতে পায়নি তিনজন নাইট সেনা আসছে... এই সু মিষ্ট কণ্ঠস্বর শ�োনার পরেই ভদ্রমহিলার সমস্ত শরীরে একটা শিহরণ খেলে গেল । আমার দিকে ফিরে তিনি বললেন : ‘‘তুমি কি এই কণ্ঠস্বরটি শুনতে পেলে । যাঁর গলা তুমি শুনলে, তিনি হচ্ছেন আমার স্বামী...তাঁর গলার স্বর সত্যিই কি সু ন্দর নয়?’’ এই শুনে আমি অবাক ও স্তম্ভিত হয়ে তাঁর দিকে তাকালাম । ‘‘কী!! ত�োমার স্বামী? এমনকি তিনিও ওই উলট�োদিকের সরাইখানাতেই গেছেন?’’ এরপর সেই অতিথিসেবিকা ভদ্রমহিলা অত্যন্ত ক�োমল স্বরে ভগ্ন হৃদয়ে বললেন : ‘‘আপনি আর কী করবেন বলু ন? সব ছেলে এইরকমই হয় । কাউকে কাঁদতে দেখতে তারা ম�োটেই পছন্দ করে না । আর আমি,আমি আমার দু ই মেয়ের মৃ ত্যুর পর থেকে কেবল কেঁদেই চলেছি । ফলে আমার এই ঘরটি সবসময় এত দু ঃখে পরিপূ র্ণ যে কেউ এখানে খেতেই আসে না । আর আমার বেচারা স্বামীও যখন যথেষ্ট বিরক্ত হয়ে যান,তখনই তিনি সামনের সরাইখানায় গিয়ে মদ্যপান করে আসেন । আর ওঁর গলার স্বর যেহেতু অত্যন্ত সু ন্দর,তাই ওই আর্লেসীয় মেয়েরা তাঁকে দিয়ে গান গাওয়ায় । চুপ!...দেখ�ো আবার উনি গান শুরু করলেন । ’’ আবার তিনি শিহরিত হলেন । বড়�ো বড়�ো অশ্রুফ�োটায় তখন তাঁকে আরও কুৎসিত দেখাচ্ছে । জানলার সামনে কেমন যেন এক ভাবাবেশে আচ্ছন্ন হয়ে, হাত বাড়িয়ে স্বামীর প্রতি ইঙ্গিত করে, তিনি আর্লেসীয় মেয়েদের উদ্দেশে গাওয়া তাঁর স্বামী জ�োসের গান শুনছিলেন : প্রথম মেয়েটিকে উদ্দেশ করে তাঁর স্বামী বললেন : ‘‘সু প্রভাত,হে সু ন্দরি!’’ 

আলফঁস দ�োদে

www.batj.org

Durga Puja 2018

45


অনন্ত প্  

হা

ইওয়ে থেকে নেমে, প্রথম ডান দিকে ঘুরেই চ�োখে পড়ে সু দৃশ্য সাদা বাড়িটা, আকাশের পটে ভেসে থাকা বিশাল একটা মেঘের মত�ো I হাসপাতাল ত�ো নয়, যেন পাঁচ তারা হ�োটেলI যান বহুল রাস্তার side walk পেরিয়ে, সবু জ লনের মাঝখানে, দু পাশে ফুলের পাড় দেওয়া, লাল টাইলের পায়ে চলার সরু পথI অবশ্য ওটা শুধু ই সাজান�ো পথ, এখানে সবাই গাড়িতে এসে হাসপাতালের পিছনে বহুতল পার্কিং লট এর ভেতর দিয়েই হাসপাতালে প্রবেশ করেI একতলায় ঢুকেই বিশাল অর্ধ চন্দ্রাকৃতি লবিI পায়ের নিচে মসৃ ন ম�োজেকের ওপর কাল�ো মার্বেলের ম�োটা থাম গুল�োর আশেপাশে, গ�োল টেবিলের চারপাশে সাজান�ো মেরুন চামড়ার স�োফা, আর চেয়ারI এক দিকের দেওয়াল জুড়ে রঙিন মাছ ভর্তি aquarium আর অন্য দিকে এক ঝকঝকে কাল�ো, বেবি গ্রান্ড পিয়ান�ো I ওটা বাজাবার জন্যে এক স্থানীয় শিল্পীগ�োষ্টির ভলান্টিয়াররা পালা করে আসেন তাই সব সময়েই মন�োরম সু রের মৃ দু ঝঙ্কারে লবিটি পরিপূ র্ন হয়ে থাকেI এই মন�োহরণ পরিবেশের আড়ালে যে সারাক্ষন জীবন মৃ ত্যু, নিয়ে যু দ্ধ চলেছে অবিরাম তার খবর আছে শুধু এখানে সেই সব মানু ষ গুলির কাছে, যারা নিজেরা অথবা ক�োন�ো প্রিয়জনের জন্য এই হাসপাতালের শরণ নিয়েছেন, নানা কারণেI Lobby র একেবারে পিছন দিকে চারটি elevator নিঃশব্দে ওঠা নামা করছেI Elevator গুল�োর পাশে একটি Reception desk ও চেক-ইন কাউন্টার I ওপরে যেতে গেলে ইলেকট্রনিক কার্ড লাগে, অবাঞ্ছিত অতিথিদের গতিবিধির ওপর নজর রাখার উদ্দেশ্যেI এইমাত্র চার নম্বর elevator টি কয়েকটি ফ্লোর অতিক্রম করে, এসে, থামল�ো Oncology Floor এর সামনেI টুং টুং শব্দে দরজা খুলে গেলে, Elevator থেকে সাদা ক�োট পরা দু ’জন ডাক্তার ও একদল নীল সার্জিক্যাল scrub পরা ইন্টার্ন ব্যস্ত সমস্ত পায়ে বেরিয়ে গেলে, তাদের পিছনে বেরিয়ে এলেন এক বৃ দ্ধ মানু ষI পরনে খাকি ট্রাউজার, সাদা শার্টের ওপর গাঢ় নীল ব্লেজার , হাতে একটি ছ�োট ছ�োট সাদা ফুলের গুচ্ছI গত দু ’দিন তিনি অন্য এক floor এ এসেছিলেন, তাই আজকের এই স্থান বদলে, একটু, চিন্তিতI এ ব্যাপারে নিচের রিসেপশনের মেয়েটি কিছু বলতে পারেনি, শুধু নতুন ঘরের নম্বর জানিয়েছিলI এখন তাঁর গন্তব্য, ১৮ নম্বর ঘরI সেখানে আছেন তাঁর স্ত্রী, মিসেস ড�োনা ওয়াটসনI তিনি দিন দু য়েক আগে পিঠের ও পেটের অসম্ভব যন্ত্রনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ছিলেন ও তাঁর ইমার্জেন্সি সার্জারি, করতে হয়েছিলI গল ব্লাডার এর সার্জারি সফল হয়েছিল বলেই শুনেছিলেন, তাহলে ডিসচার্জ করবার জায়গায় ঘর বদল কেন? ১৮ নম্বর ঘরে ট�োকা দিতে উত্তর এল�ো,-- ভিতরে এস�োI বৃ দ্ধকে দেখে বিছানায় বসা ড�োনা হাসিমুখে আহ্বান করলেন --এস�ো, এস�ো, এখনই ত�োমার কথাই নীনা কে বলছিলামI আমাদের ৬০ বছরের বিয়ের anniversary আর কটা দিন পরেই শুনে ও ত�ো ভারী অবাক! Richard meet Dr. Nina Roy. She has been taking good care of me. নীনার দিকে ফিরে বললেন, Nina, this is my husband, Richard. নীনা স্মিত হেসে বৃ দ্ধকে বলল�ো, --Congratulations! 60 years together! আজকালকার দিনে এ ত�ো বিরল ঘটনাI রিচার্ড ড�োনার হাতে ফুলগুলি দিয়ে, আলত�ো হাতে তাঁর কপালে হাত বু লিয়ে বললেন, -- আমি আর ড�োনা যে কখন�ো আলাদা ছিলাম মনেই পড়েনা, আর করতেও চাইনা ! তাঁর শেষের কথাগুল�ো শুনে নীনার মুখে যে

- শুভা আঢ

উদ্বিগ্ন একটি ছায়া পড়ল�ো সেটা ওঁরা দু ’জনেই খেয়াল করলেন না I নীনা, অল্প দিনই এই ক্যান্সার ফ্লোর এ internship এর rotation শুরু করেছে I এই দু রার�োগ্য র�োগের ভয়াবহতাকে ভাল�ো করে মেনে নিতে পারেনি এখন�োI ও ড�োনার চার্ট পড়ে জেনেছে, কি নিদারুন সংবাদ আজ অপেক্ষা করে আছে এই অশতিপর মানু ষ দু টির জন্য I মন অস্থির হলেও, যতক্ষণ না Oncology Department এর ডঃ রেমন্ড নিজের মুখে পেশেন্ট ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তার করার কিছু ই নেইI নীনা, ড�োনার সার্জিকাল অপারেশন এর ক্ষতস্থান পরীক্ষা করে, মুখে হাসি টেনে এনে বলল�ো, ঠিক আছে, ভাল�ো ভাবেই সারছেI আরও জিজ্ঞেস করল�ো ক�োথাও ক�োন�ো ব্যথা বা অসু বিধে আছে কিনা I ড�োনা ও রিচার্ড দু ’জনের মুখেই স্বস্তির স্বাক্ষরI রিচার্ড বলে উঠলেন-- ও বাড়ি গেলেই সব কিছু ঠিক হয়ে যাবেI আমি ত�ো ভেবেছিলাম আজকেই ওকে নিয়ে যাব�োI By the way, --তুমি কিছু জান�ো, এই floor এ ওর transfer হওয়ার কারণ? নীনা মনে মনে নিজের অসহায়তার সমুদ্রে ডুবে যাবার মুহূর্তেই, ঘরের দরজায় ট�োকা পড়ল�োI Xray department এর ল�োক I ড�োনাকে যেতে হবে I ড�োনা wheel chair এ বসে যাবার আগে রিচার্ড কে বলে গেলেন,--Guess we have to deal with these hospital formalities. --Well, stay put, ---will be back in a flash! ---That’s my girl,--- সহাস্যে উত্তর দিলেন রিচার্ড I রিচার্ড কে ঘরে রেখে ওয়ার্ডের মাঝখানের staff area তে বসে অস্থির চিন্তায় ডুবে গেল�ো নীনা I রিচার্ড আর ড�োনা যে আধু নিক হাসপাতালের সঙ্গে পরিচিত নয় তা ব�োঝা কঠিন নয় I Surgery floor থেকে Oncology floor এ ট্রান্সফার হওয়ার তাৎপর্য যে কি হতে পারে তাও তাঁরা বু ঝতে পারেননি I এরপর যখন Oncologist ডঃ রেমন্ড ওঁদের সার্জারি তে পাওয়া diagnosis শ�োনাবেন,----আর ভাবতে পারেনা নীনা I ওর হঠাৎ একটা অসম্ভব unscientific কথা মনে হল�ো I ও যদি ক�োন�ো দৈববলে গত তিনচার দিনের ঘটনা রিচার্ড আর ড�োনার জীবন থেকে মুছে দিতে পারত�ো, পারত�ো ওঁদের ৬০ বছরের বিবাহ বার্ষিকীকে শুধু ই আনন্দের একটি ঘটনায় বদলে দিতে, তাহলে পৃ থিবীতে কার ক�োন ক্ষতি হত�ো?--- নীনা চমকে ওঠে , নার্স রবিন এর প্রশ্নে ---you okay? কি করছে সে? পেশেন্ট এর সঙ্গে প্রফেশনাল দূ রত্ব রাখার প্রয়�োজনীয়তা ক�োন ডাক্তার না জানে, সে এমন করে ভাবের স্রোতে ভেসে গেল�ো কেমন করে? নিজেকে ঝটিতি সামলে নিল�ো নীনা, নিয়ে রবিনকে বলল,--Oh yes, I am good, just waiting for the rounds to start. একটুক্ষণ পরে দূ র থেকে করিড�োরের শেষ প্রান্তে ডঃ রেমন্ড আর তাঁর সঙ্গে আর�ো দু জন ডাক্তারকে এদিকে আসতে দেখে নীনা দ্রুত রওনা হল�ো ড�োনার ঘরের দিকে I রিচার্ড বসে একটি ম্যাগাজিন দেখছিলেন | ডঃ রেমন্ড ও পিছনে নীনা ও আর�ো কয়েকজন কে দেখে উঠে দাঁড়ালেনI রিচার্ড কে নিজের পরিচয় দিয়ে, ডঃ রেমন্ড নীনাকে জিজ্ঞেস করলেন,-- ত�োমার পেশেন্ট ক�োথায় ? Xray তে গেছেন শুনে রিচার্ড কে বললেন, ভেবেছিলাম আপনাদের দু ’ জনের সঙ্গে আগামী প্ল্যান নিয়ে আল�োচনা করব�ো কিন্তু,-- থাক, আমি নাহয় আবার ফিরে আসছিI রিচার্ড সামান্য উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করে বললেন, কিন্তু আমার স্ত্রীর surgery ত�ো ঠিকমত�োই হয়েছে, তার ত�ো এবার discharge

Anjali

www.batj.org


অনন্ত প্

হওয়ার কথা, তাহলে আর আল�োচনা করবার কি আছে?--- আপনি, আমাকে বলু ন, আমি জানতে চাই I দু ঃসংবাদ শ�োনার মত�ো মনের জ�োর যে সবার থাকেনা তা নীনা এই ক্যান্সার ফ্লোর এ অল্পদিন কাজ করেই জেনেছে কিন্তু তার থেকেও বেশি করে সে উপলব্ধি করেছে যে দু ঃসংবাদ দেবার ক্ষমতাও সবার থাকেনাI Oncology ডিপার্টমেন্ট এর প্রধান, ডঃ রেমন্ডের bed side manners বিখ্যাত I তাঁর স�ৌম্য শান্ত ব্যক্তিত্ব, দু রূহ পরিবেশকে, প্রত্যক্ষ কিন্তু সহজ করে ব্যাখ্যা করবার স্বাভাবিক প্রতিভার তুলনা বিরল I যদিও ডঃ রেমন্ড এর মুখ দেখে কিছু ব�োঝা গেল�োনা, তবু তিনি যে এবার এক অতি কঠিন situation এর মুখ�োমুখি দাঁড়াবেন সেটা, সম্ভবত রিচার্ড ছাড়া ঘরে উপস্থিত সকলেই অনু মান করতে পারল�োI ডঃ রেমন্ড, রিচার্ড কে বসতে বলে তার পাশের চেয়ারটিতে বসলেনI তারপর রিচার্ড এর চ�োখের দিকে গভীর সহানু ভূতির সঙ্গে তাকিয়ে নরম গলায় বললেন,--Mrs. Watson,এর gall bladder surgery successful হয়েছে সে কথা ঠিক, কিন্তু তার পরের যে test গুলি করা হয় তাতে আমরা জেনেছি Mrs. Watson এর gall bladderএ ক্যান্সার পাওয়া গেছে, আর খুবই advanced স্টেজ হওয়ার জন্য হয়ত�ো শরীরের অন্য জায়গাতেও ছড়িয়ে গেছেI ডঃ রেমন্ড থামলেনI নীনা তাকিয়ে দেখল�ো, রিচার্ড এর মুখ একেবারে রক্তশূ ন্য হয়ে গেছেI চেয়ারের হাতলে রাখা শীর্ণ হাতদু টি একটু একটু কাঁপছে I ১৮ নম্বর ঘরের স্তব্ধতা যখন প্রায় অসহনীয় হয়ে উঠেছে, তখন রিচার্ড খুব আস্তে আস্তে বলে উঠলেন,-- how long does she have? ডঃ রেমন্ড একটু ঝুঁকে রিচার্ড এর হাত ধরে বললেন,--there is no easy way of saying this Mr. Watson. Looking at the things that we know now, ----from 4 to 6 months! I am really sorry! ---- রিচার্ড তখনও খানিকটা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছেন দেখে ডঃ রেমন্ড, নরম গলায় বললেন, --We will do everything to keep her comfortable. ডঃ রেমন্ড নীনাকে উদ্দেশ করে বললেন,--নীনা,আমি জানি তুমি ত�োমার পেশেন্ট ও ফ্যামিলীর কেয়ার এ ক�োন�ো ত্রূটি হতে দেবেনাI এই বলে উঠে দাঁড়িয়ে, যাওয়ার সময়ে রিচার্ড এর হাতে একটু চাপ দিয়ে বেরিয়ে গেলেনI ডঃ রেমন্ড ও অন্যান্যরা বেরিয়ে গেলে নীনা একরাশ অসহায়তা নিয়ে স্থানু র মত�ো দাঁড়িয়ে রইল�ো I রিচার্ড এর দিকে সে যেন চ�োখ তুলে তাকাতেও পারছিল না I এইত�ো ক’টা মিনিটই বা হবে, কিন্তু ওই দু টি মানু ষের জীবনে কি মহা প্রলয় নিয়ে এল�ো, ত�োলপাড় করে, ভাসিয়ে নিয়ে গেল�ো সবকিছু I রিচার্ড মাথা নামিয়ে, নিষ্প্রাণ মূ র্তির মত�ো বসে ছিলেন, মনে হচ্ছিল�ো যেন একটু ছ�োঁয়াতেই ভেঙে চুরমার হয়ে পড়ে যাবেনI নীনার মাথার মধ্যে ভাবনাগুল�ো তালগ�োল পাকিয়ে যাচ্ছিলI সে ডাক্তারI তার এখন অনেক কাজI রিচার্ড ও ড�োনা কে যতটা সম্ভব সহজ করে ড�োনার ক্যান্সার এর diagnosis ও prognosis ব�োঝাবার প্রয়াস করতে হবে । তাঁদের মানসিক অবস্থা পরিমাপ করে psychiatry ডিপার্টমেন্ট এর সঙ্গে consulting এর ব্যবস্থা করতে হবে । ড�োনার বর্তমান অবস্থা ও আগামী দিনগুল�োর disease progression এর ব্যাপারে Palliative care department এর সঙ্গে ড�োনার কেস নিয়ে আল�োচনার সূ চনা করতে হবে । Palliative care department এর কাজ, ব্যাধির আর�োগ্য যখন সম্ভব নয় তখন র�োগীকে, Pain control, Supportive therapy ও Counseling এর মাধ্যমে যতদূ র সম্ভব, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত, যন্ত্রণা মুক্ত শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্য ও মানসিক সান্তনা দেওয়ার ।   “নীনা”---রিচার্ড এর ডাকে নীনা চমকে উঠল�ো । কি করছিল সে? কি করে ভুলে গিয়েছিল�ো,--compassionate , competent professional care, তার সর্ব প্রথম দায়িত্ব ! মুহূর্তে তৎপর হয়ে উঠল�ো সে । রিচার্ডের কাছে গিয়ে তাঁর শীর্ণ দু টি হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বলল, বলু ন রিচার্ড, আমি কেমন করে আপনার সাহায্য করতে পারি । রিচার্ড তাঁর সজল চ�োখ দু টি তুলে, অশ্রুতপ্রায় কণ্ঠে বললেন, ত�োমার কাছে আমার একটি অনু র�োধ আছে । ---তুমি ত�ো দেখেছ�ো, আমার ড�োনা কত happy, আজ বাড়ি যাবে বলে । সে আর�ো খুশি, কারণ আগামী মাসে আমরা Paris যাব�ো আমাদের anniversary উদযাপন করতে । আমাদের সমস্ত জীবনের স্বপ্ন, আমরা একবার যাব�ো সেখানে,---to the eternal city of love! তুমি তার কাছ থেকে সে স্বপ্ন কেড়ে নিয়�োনা ! তাকে বল�োনা, আজ ডঃ রেমন্ড যা বলে গেলেন । ড�োনার নরম মন এ সংবাদ নিতে পারবে না । ভেঙে যাবে । Please , please তুমি আমার এ কথা রেখ�ো । এরপর তিনি স্থলিত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন, নীনা কিছু বলবার আগেই । www.batj.org

নীনার সামনে এক অসম্ভব পরিস্থিতি! Medical ethics ও হাসপাতালের নিয়ম অনু যায়ী পেশেন্ট কে তার অসু স্থতার diagnosis, prognosis ও আগামী প্ল্যান খুলে বলতে হবেই । সে ত�ো একজন intern মাত্র । ডঃ রেমন্ড যে decision নিয়েছেন তার ওপর অন্য ক�োন�ো decision নেওয়া ত�ো দূ রের কথা, সে নেবার permission ও তার নেই । দু শ্চিন্তার ভার নীনা একমাত্র তার সাথী intern দের কাছেই ব্যক্ত করতে পারে, কিন্তু তারাই বা কি পরামর্শ দেবে? নীনার এই ন যয�ৌ ন তস্থথ�ৌ অবস্থার মধ্যেই ড�োনার গলা শ�োনা গেল দরজার ওদিকে, ও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই wheel chair ঠেলে ঘরে ঢুকল�ো ট্রান্সপ�োর্ট ডিপার্টমেন্ট এর ল�োকটি । ড�োনা কে বিছানায় যত্ন করে বসিয়ে দিয়ে ল�োকটি চলে যাওয়া মাত্র নীনা কে কাছে ডেকে প্রশ্ন করলেন ড�োনা, --- বল�োত�ো নীনা, Oncology floor মানে ত�ো ক্যান্সার floor, তাই না? নীনা উত্তর দেওয়ার আগেই ড�োনা বললেন, দেখ�ো আমি একটু সন্দেহ করেছিলাম আমার সার্জেরীতে কিছু ধরা পড়েছে, নাহলে এই ফ্লোরে আসতে হবে কেন? রিচার্ড ছিল বলে কিছু বলিনি । নীনা, এই অত্যন্ত বু দ্ধিমতী মহিলার শান্ত আবেগহীন ভাবে বর্তমান পরিস্থিতির interpretation করার ক্ষমতা দেখে একাধারে বিস্মিত ও চমৎকৃত না হয়ে পারল�োনা । বলল�ো, একটু আগে ডঃ রেমন্ড এসেছিলেন , তিনি আপনার সঙ্গে কথা বলার জন্য আবার আসবেন, আমি কি তাঁকে ডাকবার ---, ড�োনা এই অবধি শুনে বললেন, তার চেয়ে তুমিই আমাকে বল�ো না কেন? ক্যান্সার ত�ো বু ঝতেই পারছি, কিন্তু ট্রিটমেন্ট করবার অবকাশ আছে? নীনা মনের সমস্ত শক্তি একত্র করে বলল�ো, আপনাকে palliative treatment দেওয়ার ব্যবস্থা আছে আমাদের হাসপাতালে, যাতে ---নীনাকে থামিয়ে ড�োনা বলেন, আমি জানি সে ট্রিটমেন্ট এর কথা । আমার এক নিকট বন্ধুকে আমি recently হারিয়েছি, এই অসু খেই । তারপর য�োগ করলেন, শ�োন�ো নীনা, আমার একান্ত অনু র�োধ ত�োমার কাছে, রিচার্ড কে এখন এ কথা জানবার প্রয়�োজন নেই । তুমি ত�ো দেখেছ�ো ও কত খুশি আমাকে আজ বাড়ি নিয়ে যাবে! আর আমাদের Paris যাওয়ার প্লানের কথা ত�ো বলিনি ত�োমাকে । আমরা নিশ্চয়ই যাব�ো সেই অনন্য City of love এ, দাঁড়াব�ো Eiffel tower এর নিচে । এ আমাদের বহু দিনের স্বপ্ন । আমাদের সে স্বপ্ন সফল করতে ত�োমার মত�ো মিষ্টি মেয়ে সাহায্য করবে না, তা ত�ো হয়না, কি বল�ো ? ঠিক এই সময়ে রিচার্ড ঘরে এলেন, হাতে একগুচ্ছ টুকটুকে লাল গ�োলাপ । ড�োনা সহাস্যে বলে ওঠেন, রিচার্ড এস�ো এস�ো । সু ন্দর ফুলগুল�ো আমাকে দাও আর নিচে গিয়ে, এদের হিসেব চুকিয়ে দিয়ে অপেক্ষা কর�ো, আমি তৈরী হয়ে আসছি । রিচার্ড একবার নীনার দিকে অবাক হয়ে তাকাতে, তিনি তাড়া দিলেন, যাও ডারলিং, আমি এলাম বলে । রিচার্ড চলে গেলে, একটু বিষণ্ণ হাসি হেসে বললেন, acting খারাপ করিনি মনে হয়, রিচার্ড আমাকে বিশ্বাস করেছে, তাই না? ওকে আমি দু ঃখ দেবার কথা ভাবতেও পারিনা! এবার যাও ত�ো ত�োমাদের ডিসচার্জ পেপার-টেপার নিয়ে এস�ো, আর যদি আর কার�ো পারমিশন নিতে হয় তাহলে ব�োল�ো আমি discharge চাইছি , against medical advice, তাহলে ব্যাপারটা সহজে হবে । নীনা, ড�োনা কে রিচার্ড এর অপেক্ষারত গাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিল�ো সেদিন । রাতে নিজের দিনপঞ্জিকায় লিখেছিল�ো, --অনেক শেখার মাঝে আজকের এই দিনটি আমার কাছে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে । আজ আমি প্রত্যক্ষ করেছি এক অপরূপ কাহিনী । জেনেছি, প্রেম, দু টি মানু ষকে শুধু কাছেই আনেনা, তাদের নতুন করে সৃ ষ্টি করে, সেখানে দু ’জন এক হয়ে যায়, একই আনন্দে, একই সু খে, একই দু ঃখে আর বেদনায় । প্রেম তাদের নিয়ে যায় এক অনন্য জগতে, আল�ো ছায়া, হাসি কান্না, সত্য মিথ্যা, সব কিছু কে অতিক্রম করে । সে অনন্ত প্রেমের স্বর্গে শুধু তাদেরই অধিকার ।। সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭ নীনা, মা কে ফ�োন করে বলে,---- মা, আমাকে ত�োমার favorite poem, ----Eternal Love শ�োনাও, প্লিজ ! ,-মা বলে চলেন -----ত�োমারেই যেন ভাল�োবাসিয়াছি শত রূপে শতবার জনমে জনমে যু গে যু গে অনিবার । চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় গাঁথিয়াছে গীতহার-কত রূপ ধরে পরেছ গলায় , নিয়েছ�ো সে উপহার জনমে জনমে যু গে যু গে অনিবার ।। ---নীনা শান্ত হয়ে ঘুম�োতে থাকে ।।

Durga Puja 2018

47


ভায়রা-ভাই

�������������������

কই সাথে কান ধরে বেঞ্চের উপর দাঁড়ান�ো, বা ক্লাশরুমের বাইরে নিল-ডাউন হবার পর স্কুলের বন্ধুরা যখন হয় ভায়রাভাই ধ্রুবর সাথে আলাপ সেই ৭০-এর দশকের শেষার্ধ থেকে, যখন আমরা একই সাথে বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুলের ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হলাম । স্কুলে যাতায়াত করতাম স্কুলের বাসে । বালিগঞ্জের বাড়ি থেকে কয়েক পা হাঁটলেই গ�োলপার্ক, আর সেখান থেকেই স্কুলের বাসে ওঠা-নামা । ভ�োরবেলা ত�ো মা ভাল�োয় ভাল�োয় বাসে উঠিয়ে দিতেন । কিন্তু ফেরার সময়? বাস থেকে যদি ঠিকঠাক না নামি, বা অন্য ক�োথাও ভুলভাল নেমে পড়ি, তাহলে? তাতেই মায়ের চিন্তার শেষ ছিল না । মা ম�োটেই রাজী ছিলেন না যে আমি এত দূ রে স্কুলে যাই (আসলে কিন্তু হেঁটেই যাওয়া যায়!) । বাড়ির কাছেই ত�ো জগবন্ধু (জগদ্বন্ধু), আর তা না হ�োলে আর দু পা এগ�োলেই পাঠভবন বা সাউথ-পয়েন্ট, তা হ�োলে? কিন্তু বাবা-কাকারা নাছ�োড়বান্দা । এই স্কুল থেকে নাকি প্রতি বছরই স্কুলফাইনালে ‘স্ট্যান্ড’ করে, ক�োন�ো ক�োন�ো বছর নাকি ফার্স্ট-সেকেন্ড-থার্ড সব একই সাথে! অগত্যা মায়ের বারণ ধ�োপে টিকল না । মা তাই র�োজই পাখী পড়ান�োর মত�ো করে আমাকে বলে দিতেন যে “স্কুল ফেরত ঐ যখন গ�োলপার্কের বিবেকানন্দের মাথা দেখতে পাবে, জানবে তখনই বাস থেকে নামতে হবে” । আমার কি ছাই আর অত মনে থাকে, যে কখন বিবেকানন্দের মাথা দেখতে হবে? কিন্তু হুসেইনদার (ড্রাইভার) বাসে আরও একজন থাকতেন, যার কাজই ছিল আমাদের ঠিকঠাক নামিয়ে দেওয়া । বয়সে হয়ত তিনি আমার বাবার চেয়েও বড়, কিন্তু সবাই তাঁকে বলত ‘ধ্রুবদা’ । ভ�োরবেলা মায়ের কথা তাই আর তেমন গায়ে মাখতাম না, জানতাম যে আমি ভুলে গেলেও ধ্রুবদা ঠিক নামিয়ে দেবেন! পরিত্রাতা ধ্রুবদা! এরই সাথে আর একটা জিনিস নজরে এল, আমাদের ক্লাসের ঐ কাল�ো করে ছেলেটা; যে ঐ পার্ক সার্কাসের মাঠের দিকটায় স্কুলবাস থেকে নামে, ওর নামও ত�ো ধ্রুব! তারপর ক�োথা দিয়ে সময় চলে গেল । মর্নিং-সেকশন, ‘মুনমুন সেন’ পাড়ি দিয়ে আমরা পাড়ি জমালাম ডে-সেকশনে । বেশ বন্ধুত্ব হয়েছে তত দিনে ধ্রুবর সাথে! একবার একটা কথা শুনে কেমন যেন অদ্ভুত মনে হ�োল ছেলেটাকে; ও নাকি বড় হয়ে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেন হতে চায়! এ আবার কেমন কথা? আমি ত�ো জানতাম বড় হয়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হয়! এরই মধ্যে মা পাড়ি দিলেন এক অন্য জগতে । সব কিছু ই কেমন যেন ওলট-পালট হয়ে গেল, পৃ থিবীটাই কেমন যেন ফ্যাকাসে, বিস্বাদ আর পানসে হয়ে গেল । এইসবের মধ্যেও ধ্রুবর উপস্থিতি ছিল বিশেষ ভাবে । ক্লাস সেভেন থেকে আর স্কুলের বাসে যাতায়াত করা যায় না । অগত্যা পাবলিক বাস । কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই ডানা গজাল�ো আমাদের । স্কুল ফেরত পাবলিক বাসের বদলে যদি হেঁটে যাওয়া যায় খানিকটা পথ, বা পুর�োটাই; তাহলে? তাহলে ত�ো ক্লাসের আড্ডাটা আরও একটু বাড়ান�ো যায়, নয় কি? তেমনই হ�োল । স্কুল থেকে বালিগঞ্জ সার্কুলার র�োড ধরে হেঁটে, সু চিত্রা সেন-মুনমুন সেনদের বাড়ি পেড়িয়ে, বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ ছাড়িয়ে স�োজা বালিগঞ্জ ফাঁড়ী । সেখান থেকে ধ্রুব বাসে যেত পার্ক সার্কাসের দিকে, আর আমি আর একটু হেঁটে উল্টোমুখে গড়িয়াহাট-গ�োলপার্কের দিকে! সাথে আরও কয়েকজন থাকত, সু মন্ত (চক্রবর্তী), চন্দ্র (চন্দ্রনাথ 48

রায়চ�ৌধু রী), হ�োজ�ো (জ্যোতির্ময় দত্ত), ইন্দ্র (ইন্দ্রনীল চ্যাটার্জি), কল্লোল (রায়) - এরা । মাঝে-সাঝে য�োগ দিত প্রমিত (মুখার্জি), বা গ�ৌরাঙ্গরা (চ্যাটার্জি) । মাঝপথে সপ্তপর্ণীতে সু মন্তর বাড়িতে আড্ডা হ�োত�ো অনেক সময় । এই সময়ই বাড়ল ধ্রুবর সাথে বন্ধুত্ব! এখন থেকে আর শুধু স্কুল, বা স্কুল ফেরত রাস্তায় নয়, একে অপরের বাড়িতেও যাতায়াত শুরু হ�োল; আড্ডাও বাড়ল! ধ্রুবর বাড়িতে গেলে কাকু-কাকিমা (ধ্রুবর বাবা-মা) খুশী হতেন, বিশেষত কাকিমা । মনে হ�োত�ো যে কিছু ক্ষণের জন্য হলেও, উনি আমার মায়ের অভাবটা ক�োন না ক�োন ভাবে পুষিয়ে দিতে চান । একই সাথে জুটি বেঁধে আমি আর ধ্রুব জিতেছিলাম আমাদের স্কুলের বাৎসরিক ক্যারাম-চাম্পিয়ান্সিপ, আমাদের ক্লাস নাইনে; এমনকি স্কুলের ক্লাস টেন,ইলেভেন বা টুয়েলভের বড় বড় দাদাদেরও হারিয়ে দিয়ে! মাধ্যমিক এল, গেল । তেমন কিছু ই টের পেলাম না । শুনেছিলাম আমাদের স্কুলের ফেল করা ছেলেও নাকি মাধ্যমিকে ফার্স্ট ডিভিশন পায়, স্টার পায়; ঠিক তেমনটাই হ�োল, সেটাই দেখলাম । উচ্চমাধ্যমিক এল । সবার মধ্যেই আই.আই.টি আর জয়েন্ট-এন্ট্রান্স পরিীক্ষার হিরিক পড়ে গেল; ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হবার বাসনায় । ধ্রুবর মধ্যে এই ব্যাপারে তেমন ক�োনও হেলদ�োল দেখলাম না, ও ব�োধহয় বেশী ব্যস্ত ছিল ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিমের সাফল্য কামনায়! ঐ সময় নাগাদ ধ্রুব মাঝেসাঝেই নর্থ-বেঙ্গলে ওর কাকাদের বাড়িতে বেড়াতে যেত স্কুলের ছু টিতে, ফিরে এসে আমাকে ওদিককার গল্প শ�োনাত; ওদিককার মানু ষরা নাকি অন্য রকম, এদিককার থেকে ভাল�ো । ওখানে নাকি অমুক বাড়ির অমুক কাকিমা তমুক বাড়ির তমুক মামিমার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে নির্বিকার ভাবে কুটন�ো কেটে বা বাটনা বেঁটে গল্পগুজব সেরে দিব্যি নিজের বাড়ি ফেরত আসেন! আমারও আর ক�োলকাতায় মন টিকছিল না । বাইরে ক�োথাও যাব সেটাই মনে মনে ঠিক করলাম । কিন্তু আমার মনে তখন নর্থ-বেঙ্গল নয়, শুধু ই অ্যামেরিকা! কিন্তু মুখ ফুটে বাড়ির কাউকে সে কথা বলার সাহস পেলাম না; ছ�োট মুখে বড় কথা, বামুন হয়ে চাঁদ ধরা – এইসব শ�োনার ভয়ে । বাড়িতে লু কিয়েই শুরু করলাম অ্যামেরিকান ইউনিভার্সিটিগুল�োতে অ্যাপ্লাই করা, আর SAT-TOEFL পরীক্ষার প্রস্তুতি । কিন্তু এইসব করতে টাকা লাগে যে! তা পাব ক�োথায়? কয়েকটা প্রাইভেট টিউটরিং শুরু করলাম । কিন্তু তা যথেষ্ট নয় । এত কথা পেটে চেপেও রাখতে পারছিলাম না । বলেই ফেললাম দু ই-একজনকে । ধ্রুব তাদেরই একজন । শুনে ও অবাক হ�োল না খুশী হ�োল তা ঠিক বু ঝলাম না । ও শুধু জিজ্ঞ্যেস করল�ো যে কত টাকা

Anjali

www.batj.org


ভায়রা-ভাই লাগবে আমার, ঐ পরীক্ষা দু ট�োয় বসতে? দিন কয়েক বাদে দেখি ও সকাল সকাল এসে হাজির আমার কাছে । এই সময় সাধারণত ও আসে না । বললাম কি রে, কি ব্যাপার, এই সাতসকালে? দেখি ও ওর পকেট থেকে টাকা বার করছে । বলল যে “নে এই টাকা কটা রাখ, দেখছি আর কি করা যায় ত�োর ঐ SAT-TOEFL–এর জন্য”! এবারেও ‘পরিত্রাতা ধ্রুব’, শুধু ‘দা’-টা বাদ দিয়ে । ৩০০ টাকা! ঐ সময় আমার কাছে অনেক । হিসাব করে দেখলাম যে এতে আমার TOEFL-এর fee হয়ে যাবে । আর আমার টিউটরিং থেকে SAT-এর fee! কেল্লা ফতে! বন্ধুর বাড়ি পড়তে যাচ্ছি – এই মিথ্যা ফেঁদে বাড়ি থেকে পালিয়ে পরীক্ষা দু ট�ো দিলাম, পাল্লা দিয়ে চালালাম অ্যাপ্লিকেশান করা । ক্রমে বাড়িতে জানাতে বাধ্য হলাম । অ্যামেরিকা থেকে এত চিঠিপত্র আসতে লাগল বাড়িতে, যে না জানিয়ে আর উপায় ছিল না । তারপর একদিন এল সেই বহু আকাঙ্খিত চিঠিটা – অ্যাক্সেপটেন্স লেটার, উইথ স্কলারশিপ! ধ্রুব এমনিই একদিন দেখা করতে এসেছিল�ো । ওকে জানালাম । শুনে আমাদের শ�োয়ার ঘরটার মধ্যেই ও বার কয়েক লাফাল, তারপর জড়িয়ে ধরে, চুমু খেয়ে, একেবারে একাকার কাণ্ড! আমার দেশ ছাড়ার দিনও ও এসেছিল, এয়ারপ�োর্ট পর্যন্ত । সেদিন আর ক�োন লম্ফ-ঝম্প ছিল না । বিদায় জানান�োর সময় শুধু দেখলাম যে ওর চ�োখের ক�োণ থেকে ঝড়ে পড়ল কয়েক দানা মুক্ত । আমিও মুখ লু কিয়ে হাঁটা দিলাম এমিগ্রেসান অফিসের দিকে । এরপর অ্যাটল্যান্টিক আর প্যাসিফিক ছাড়াও আমাদের আলাদা করে দিল�ো প্রায় বার�ো ঘণ্টার ‘টাইম-ডিফারেন্সে’ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের রুটিন আর আমাদের সামগ্রিক জীবন ধারার তফাৎ, প্রায় বছর ২৫ যাবত । তারই মাঝে যতবার ভারতে এসেছি, ওর সান্নিধ্য পেয়েছি খুব কাছ থেকে; ক�োলকাতায়, মুর্শিদাবাদে, শিলিগুড়িতে । ও ঠিক মনে রাখে যে আমি ক�োন ধরনের গল্পের বই পড়তে বা গান শুনতে ভাল�োবাসি, তাই আগাম কিনে বা জ�োগাড় করে রাখে সেগুল�ো আমার জন্য! এগুল�োর অনেক কিছু ই অ্যামেরিকাতেও পাওয়া যায়, কিন্তু ওর কাছ থেকে পেতেই আমার বেশী ভাল�ো লাগে; গল্পের স্বাদ বেড়ে যায়, গানগুল�োও যেন আরও বেশী শ্রুতিমধু র লাগে! ওর ধারণা যে ওর দীর্ঘদিন যাবত অ্যামেরিকা-বাসী বন্ধু ব�োধহয় আর ভারতীয় বিধি-ব্যাবস্থায় ততটা সড়�োগড়�ো নয়, তাই দেখা করার সময়ও আগলে রাখে আমাকে (অনেকটা আমার দাদার মত�ো, দাদার

www.batj.org

কথা পরে লিখব) । আমাকে ওর কাছে যেতে হয় না, ওই আসে আমার সাথে দেখা করতে; যখন, যেখানে, যেমন ভাবে সম্ভব । একসাথে ক�োথাও যাওয়ার থাকলে ওই এসে আমাকে নিয়ে যায়; ট্রাম, বাস, ট্যাক্সি বা ট্রেনভাড়া দিয়ে । এমনও হয়েছে যে আমি ওর বাড়ি থেকে সরাসরি গেছি আমার মুর্শিদাবাদের ‘দেশের’ বাড়ীতে, কিন্তু ট্রেনের টিকিটটা পয়সা খরচ করে কেটে আমাকে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়েছে ওই, ট্রেন ছাড়া পর্যন্ত আমার জানলার পাশে প্ল্যাটফর্মে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে! এই সু ত্রেই সম্প্রতি সম্ভব হ�োল ওর শালীর সাথে আমার বিয়ে; কারণ অ্যামেরিকা থেকে আমি যখন ক�োলকাতায় এসেছিলাম, তখন হঠাৎ ক�োরে ধ্রুব ওর কর্মস্থল শিলিগুড়িতে আমাকে ওর কাছে বেড়াতে না নিয়ে এলে হয়ত�ো এমনটা হওয়ার ক�োনও সম্ভাবনাই ছিল না! এই প্রসঙ্গে একটা মজার ব্যাপার মনে পড়ে । আমরা যখন ক্লাস সেভেন বা এইটে পড়ি, ধ্রুব তখন একাই একদিন এক অদ্ভুত সমীক্ষা চালিয়েছিল, আমাদের কুড়ি মিনিটের টিফিন-ব্রেকটার মধ্যেই । সেইদিন ও আমাদের ঘনিষ্ট বন্ধু বান্ধবদের এক এক জনকে আলাদা ভাবে জিগ্যেস করেছিল যে সু য�োগ হ�োলে আমরা অন্য ক�োন ক্লাসমেটের সাথে একসাথে থাকতে চাইব কিনা, রুমমেট বা একই পরিবারের সদস্য হিসাবে । যে ক�োন দু ই বন্ধুর ইচ্ছা আর উত্তর মিলেমিশে এক হ�োয়ে যায় কিনা সেটা জেনে নেওয়াই ছিল ওর উদ্দেশ্য! এমনটা যে বাস্তবে সম্ভব, তা কিন্তু ভেবেছিল ঐ ছ�োট্ট ধ্রুবই! এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা ভাল�ো যে সেদিন আমার সাথে যার উত্তর মিলে গিয়েছিল�ো, সে ধ্রুব নয়, তপদেব (চক্রবর্তী) । বন্ধুত�ো ও ছিলই, বরাবরই । ধ্রুব এখন আমার ভায়রাভাইও বটে । আমি ভাগ্যবান, এ ছাড়া আর কী বা বলতে পারি? আমরা একই পরিবারের সদস্য, সেটাই বা আর আশ্চর্য কি? বিয়ে উপলক্ষে ধ্রুবকে বেশ কয়েকদিন একসাথে খুব কাছে পেলাম । ওর শালীর সাথে ওর বন্ধুর বিয়েতে ওর ছু ট�ো-ছু টি, দ�ৌড়ঝাঁপের ক�োন অন্ত ছিল না । বিয়ে করতে ক�োলকাতা থেকে আমি যখন সপরিবারে শিলিগুড়ি এসে পৌঁছালাম, তখন নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে আমাদের নিতে এসেছিল ধ্রুব । বিয়ের লগ্নে ফুল দিয়ে সাজান�ো গাড়িতেও আমাকে নিয়ে যেতে এসেছিল�ো ওই । ওর শ�োওয়ার ঘরে, ওর বিছানায় বাসর-রাত কাটালাম – ব�ৌ সাথে থাকলেও মনের অনেকটা জায়গা জুরে ছিল শুধু ই ধ্রুব । মনে হ�োল যে বিগত ২৫ বছর কখন যেন তলিয়ে গেছে ঐ অ্যাটল্যান্টিক বা প্যাসিফিকের ক�োন অতল গহ্বরে! 

Durga Puja 2018

49


অসুরের অট্টহা  

- শান্তনু চক্

মায়ের আসার সময় হল�ো, উৎসবের হাত ধরে সিদ্ধিদাতা, বীণাপানি, কার্তিক সম্ভারে  তৎসহ লক্ষী দেবী, প্যাঁচা আছে সঙ্গে   রাজহংস, ময়ূ র, ইঁদুর সবার আদর বঙ্গে  সিংহী মামা দাঁত খিচিয়ে, অসু র ভয়ভীত এমন ছবি দেখে ম�োরা অভ্যস্ত নিয়মিত  ভয়ে ভয়ে অসু র আসে, মুচকি হেসে যায় তাহার প্রতাপ আজও কায়েম, সেটা বুঝতে পায়  প্রতি বছর অসু র নিধন, হয়ে গেছে বাসি  মনমাঝারে সু প্ত অসু র, জ�োের অট্টহাসি  প্রায়শঃই জাগেন তিনি, ভাঙেন যে আড়ম�োড়া  অশান্তি’র বুনতে ফসল, তাহার ভারী ত্বরা  ধর্ম, জাতি, শিক্ষা, বর্ণ, কিছু ই যে নাই বাদ  এসব অস্ত্র অম�োঘ যেন, ছড়ায় অবসাদ  শুভ শক্তি’র প্রাণ হাঁসফাঁস, সঙ্গ ছাড়ে সবে  মায়ের শুভ আশীষ কী আজ তাহার সাথেই রবে?  অপেক্ষা তে থাকব�ো মা গ�ো, সেই দিনটির  তরে যেদিন তুমি অসু র কে আর আনবে না ম�োর দ্বারে  মনের অসু র ক্ষুধায় মরুক, শুভ কে দাও শ্বাস  আগমনী আনু ক হাসি, এটাই আমার আশ ।

50

Anjali

www.batj.org


বটবৃ ক্   আমি এক প্রবৃ দ্ধ বটবৃ ক্ষ, আজি অতিক্রান্ত দু শ�ো বছর, ঘটনার ঘনঘটার সাক্ষী আমি, ম�োর সু দীর্ঘ জীবন ভর । পড়ে নাত�ো ম�োর মনে,কেমনে জন্মেছিলাম আমি, জড়ায়ে বু কেতে রেখেছিল ম�োরে, আহার দিয়েছিেল ভূ মি । জন্ম নিয়েছিলেম ধরণীর একক�োেণ, উঠেছি একাকী বেড়ে, কত মানু ষ যে আজি করে আনাগ�োনা ম�োর চারিপাশ ঘিরে । কত বিহঙ্গ যে বেঁধেছে তারি নীড় ম�োর এই অঙ্গ জুড়ে, গ�োধূ লিতে তারা সকলে আসি ফিরে, প্রত্যুষে যায় যে উড়ে । প্রবল গ্রীষ্মে কতজনে নেয় আশ্রয় ম�োর ছায়া সু নিবিড় তলে, বারি বর্ষণেও দিই তাদেরে ঠাঁই যাতে তারা না ভেজে জলে । কত অত্যাচারের সাক্ষী আমি, কত স্বদেশীর তরে করেছিল ইংরেজ, কত মানু ষকে অকারণে তারা মেরে । স্বাধীনতার পরেও আজও কমেনিত�ো সেই ব্যথাতুর হানাহানি, ক্ষমতার লাগি চলে আজও সেই রেষারেষি খুন�োখুনি । ম�োর জনম হ’তে কত সু খ-দু ঃখের ঘটনা দেখেছি আমি, মনের আরশিতে ভেসে ওঠে ‘নারীমুখ”, পেয়েছে, হারায়েছে তার স্বামী । ু কত খনী আসি করেছে যে খুন ম�োর তলে নিশুতি আঁধার রাতে, তারাই যে আবার ঘ�োরে উন্নত শিরে, যখন আঁধার কাটে প্রাতে । তস্করেরা সকলে করে যে বাটাবাটি ম�োর আড়ালেতে আসি, কেমনে যে তারা করেছে লু টপাট, বলে ক’রে হাসাহাসি । যদিও ম�োর নেই তাতে সায়, তবু ও পারিনে করিতে যে প্রতিবাদ, বিধাতা ত�ো ম�োরে দেয়নি ‘বু লি’, ভরে আছে মনে তাই অবসাদ । আমি করি তাদের প্রাণ ভরে ঘৃ ণা যারা করে ম�োর অঙ্গহানি, যদি ম�োরে দিত বিধাতা ক্ষমতা, করতেম র�োধ, এ হানাহানি । www.batj.org

Durga Puja 2018

- সুব্রত বণ

51


পাঁচালীর পথ - শঙ্কর বসু নরম হলু দ আল�োয় মুখ ঢেকেছে বিস্তীর্ণ শহর হেমন্তের মেঘমেলা আকাশে জন্ম নিচ্ছে আসন্ন বরফের চাদর স্বপ্নযাত্রীর চ�োখ খুঁজে ফেরে পাঁচালীর সেই পথ । অ্যাসফাল্ট আর উন্নয়নের আস্তরনে ঢেকে গেছে পথের ঠিকানা অসল�োর প্রত্যন্ত গ্রামে ম�োমের আল�োয় হাওয়াই দ্বীপের এল�োমেল�ো সন্ধ্যায় আফ্রিকার বুকে সদ্য পাতা রেললাইনে ব্রুকলিনের রাতে বা ভ�োরের আগ্রায় টুকর�ো হয়ে পড়ে আছে পথ ধু ল�োর রাশির মত ছিন্নভিন্ন । নিশ্চিন্তপুরের মাটী ছু ঁয়ে হারিয়ে ছিল যে পথ দিকশূ ন্য দিগন্তরেখা হলু দ মাঠের সীঁথি শত বছরের আবর্তে পাক খেয়ে পায়ে পায়ে মিশে গেছে পুরাতন খেয়াঘাটে বিরূরায়ের বটতলায় আরও কিছু কল্পনায় ।

দুনিয়া - ক�ৌশিক ভট্টাচার্য্য

“যে ফিরিবে বলিয়া যায়নি শুধু ই চলিয়া গিয়াছে অচেনার ম�োহ মুগ্ধতায় ... পাঁচালীর পথ তাহাকে খুঁজিয়া লইয়াছে রাজপথের জনঅরণ্যে ফিরাইয়া দিয়াছে অনির্বাণ ক�ৌতূ হলী চক্ষুদু টি বাস্তবের কঠ�োর নির্মোকে নিবদ্ধ কল্পনার কুঠু রিতে” ।

দু নিয়াটাকে নিজের মত করে পাল্টে দিতে চেয়েছিল সে । বড়-ছ�োট�োর ব্যবধান ঘুচিয়ে মানু ষের জন্য গড়ে তুলতে চেয়েছিল�ো এক আদর্শ পৃ থিবী । তারপর অজস্র অত্যাচার গুরুতর গঞ্জনা আর কান্নাভরা দীর্ঘশ্বাসের ক�োন�ো এক ফাঁকে তার অস্থিতে মজ্জাতে শিরাতে শিরাতে ঢুকে পড়ল�ো নিজেকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ছ�োট�ো থেকে বড় করার নেশা । দু নিয়া তাকে পাল্টে দিল�ো নিজের মত করে ।

52

Anjali

www.batj.org


Swami Vivekananda and Japan - Swami Medhasananda (This is a transcript of the speech delivered by Swami Medhasananda at the public celebration of Swami Vivekananda’s 155th birth anniversary in Tokyo) Today we have assembled here to celebrate the 155th birth anniversary of Swami Vivekananda and also 125th anniversary of his visit to Japan. We are holding this celebration not just because Swamiji was the founder of the worldwide Ramakrishna Order of which our Society is a branch; Swamiji was also one of the few eminent personalities of the modern world, who have impacted it with profound thoughts and ideas. Swamiji’s electrifying messages are sources of inspiration to millions of souls. It is worthy of special mention that Japan, which is largely a Buddhist country, was blessed by the visit of Swami Vivekananda, considered as the Second Buddha by many. This is a momentous event in the whole religious history of Japan of which only few are aware. In the following talk we shall briefly narrate some of the aspects of Swami Vivekananda’s visit to Japan: Our latest investigation on Swamiji’s voyage from Bombay to Kobe on his way to attending the world’s first Parliament of Religions in Chicago in September 1893 shows that on May 31, 1893, Swamiji set sail from Bombay aboard the Peninsular. On June 13th he reached Hong Kong. At Hong Kong he transferred to the Verona and set sail for Japan on the 24th. On 27th he reached Nagasaki, and on June 30th he reached Kobe. In proceeding on to Yokohama, Swamiji must have been made aware that a ship bound for Vancouver would depart Yokohama on July 14th. Even so, he appears to have had a prior intention of doing some sightseeing within Japan journeying from Kobe to Yokohama by road and rail. This truth appears in his letter of July 10th where he writes: “Here I gave up the steamer (at Kobe) and took the land route to Yokohama, with a view to seeing the interior of Japan” Swamiji reached Kobe on June 30, 1893. From that day, until his departure from Yokohama on July 14th, he spent two weeks within the country, visiting cities like Kobe, Osaka, Kyoto, Tokyo and Yokohama. Now some pertinent questions follow about Swamiji’s itinerary. What places of interest he visited; how long he stayed here and there; what his modes of transport were; what sorts of food he was introduced to; how much things cost; who he interacted with and what they thought of him? Regretfully, we have very limited sources of first-hand data to throw much light on these questions. We do, however, have the aforementioned letter written by Swamiji to Alasinga Perumal of Madras, his devotee and one of the sponsors of his trip to the USA, from the Oriental Hotel in Yokohama dated July 10, 1893, relating some of his travel experiences in Japan. This was the first correspondence Swamiji sent to his circle in India since he had left the shores of his Motherland more than a month before. Let us begin by quoting the first-hand description of Japan given by Swamiji in that letter: “The first port we touched was Nagasaki. We landed www.batj.org

for a few hours and drove through the town. What a contrast! The Japanese are one of the cleanliest people on earth. Everything is neat and tidy. Their streets are nearly all broad, straight, and regularly paved. Their little houses are cage-like and their pine-covered evergreen little hills form the background of almost every town and village. The short-statured, fair-skinned, quaintly-dressed Japanese, their movements, attitudes, gestures, everything is picturesque, Japan is the land of the picturesque! Almost every house has a garden at the back, very nicely laid out according to Japanese fashion with small shrubs, grassplots, artificial waters, and small, stone bridges. Here I gave up the steamer and took the land-route to Yokohama, with a view to seeing the interior of Japan. I have seen three big cities in the interior–Osaka, a great manufacturing town, Kyoto, the former capital, and Tokyo, the present capital. Tokyo is nearly twice the size of Calcutta with nearly double the population. The Japanese seem now to have fully awakened themselves to the necessity of the present times. They have now a thoroughly organised army equipped with guns, which one of their own officers has invented, and which is said to be second to none. Then, they are continually increasing their navy. I have seen, a tunnel nearly a mile long, bored by a Japanese engineer. The match factories are simply a sight to see, and they are bent upon making everything they want in their own country. There is a Japanese line of steamers plying between China and Japan, which shortly intends running between Bombay and Yokohama. I saw quite a lot of temples. In every temple there are some Sanskrit Mantras written in Old Bengali characters. Only a few of the priests know Sanskrit. But they are an intelligent sect. The modern rage for progress has penetrated even the priesthood. I cannot write what I have in my mind about the Japanese in one short letter. I only want that numbers of our young men should pay a visit to Japan and China every year. Especially to the Japanese, India is still the dreamland of everything high and good.” From the above we know for certain that Swamiji’s first encounter with Japan took place in Nagasaki. He managed to find a few hours here to see the city by a horse carriage. This very first exposure to Japan made him realise with wonder how different this place was from those ports of call from Ceylon to Hong Kong he had seen on the voyage, so much so that in narrating his visit to Nagasaki in his letter he exclaimed, “What a contrast!” Now let us begin with some conjecture on a tentative itinerary which Swamiji might indeed have followed during his visit to Japan. We have already mentioned that Swamiji reached the port of Kobe via Nagasaki on June 30th. Swamiji spends July 1st and 2nd in collecting a passport needed for inland travel in Japan and for some sightseeing in Kobe. Then from the 2nd or 3rd to the 5th or 6th of July he was sightseeing in Osaka and nearby Kyoto. On the 6th and 7th or 7th and 8th of July he travels by trains some 20 to 22 hours from Osaka/Kyoto to Shinagawa. Then from the 7th

Durga Puja 2018

53


Swami Vivekananda and Japan

or 8th to the 13th of July he was registered at the Oriental Hotel in Yokohama and sightseeing in Tokyo, Yokohama and Kamakura, and also preparing for his departure to the USA via Vancouver. From the port at Yokohama on July 14th Swamiji boards the ‘Empress of India’ bound for Vancouver, B.C., Canada, arriving there on July 25th. The possible places of interest Swamiji had visited in Japan include the following which were most popular sightseeing place during Swamiji’s visit to Japan: *In Kobe: Hyogo Daibutsu and Nofukuji Temple *In Osaka: Osaka Castle, Osaka Iron Works, Osaka Cotton Spinning Company, Tenmangu Temple and the Match Factory *In Kyoto: Sanjyusangen-do Temple, Kiyomizu dera, Yasaka Jinja, Chion-in Temple, Hokoji Temple, Higashi Honganji Temple, Nishi Honganji Temple, Kinkakuji Temple *In Nara: Todaiji Temple and Kasuga Taisha Shrine *In Tokyo: Sensōji Temple (Asakusa-Kannon), Tōkyo Imperial Palace, Sengakuji Temple, Tsukiji-Honganji Temple *In Kamakura: Daibutsu, Enkakuji, TsurugaokaHachimangu Shrine What modes of transport were common in Japan during Swamiji’s visit, which Swamiji possibly utilized? In addition to trains powered by steam engine, the wheeled rickshaw drawn mostly by men called a ‘jinrikisha’, as horses were reserved for military use, was becoming common and popular. Not only was it used for local transport of passengers and goods, sometimes they were hired for transport to more distant locations as well. One contemporary traveller observed the following regarding the ‘jin (person) ricksha’: “Jinrikisha runs through the centre of the town. We cannot see anything when the jin rikisha runs fast, as if we are in our dream world. The driver runs just like a horse with a smile and a jump. The jinrikisha fee is 0.1 yen a time and 0.75 yen to 1 yen per day. If we hire a strong man or 2 drivers, we can move on 70 kilometres a day. Now there are a lot of jinrikisha in every town and county in Japan.” According to one account there were 46,000 jinrikisha in Tokyo by 1872. Swamiji offered but short descriptions of what he saw in Japan with some observations in his letter already quoted. We shall now present some of these observations in greater detail, as well as some newer ones occasioned by his reflections on Japan made later in India. In one expressive sentence penned by Swamiji, his deep appreciation and love of Japan is clear when he writes in a letter dated June 18, 1901 to Okakura Tenshin, “Japan to me is a dream–so beautiful that it haunts one all his life.” Swamiji was greatly impressed by the beautiful landscape of the country and the houses; the cleanliness and orderliness of the people and their environs, the tidy and broad streets, the beautifully dressed people, the nice hair style and graceful and elegant kimono of the ladies. He also observed the engineering skills, modernized military and weaponry, match factories, etc., and that the Japanese seemed to be bent on making everything they wanted and needed in their own country. It is also amazing that Swamiji made the following profound political observation, after noticing Japan’s efforts to become strong and modernize like Western nations: “Having achieved that goal to a great 54

extent, Japan is waiting for international recognition and appreciation of its accomplishments, thus raising its political and diplomatic status on the world stage.” Swamiji appreciated Japanese food in general and specifically mentioned ‘daler jhol’ (miso shiru), a soup made with fermented soy bean paste, which he remarked could be easily digested. He also remarked in one letter dated April 24, 1897: “Japan is an example of what good and nourishing food can do,” which is self-explanatory. Swamiji was not only fond of, but a lover of Japanese painting, about which he made several remarks later, such as: “They are a great nation because of their art.” Swamiji later reminisced that during his visit to Japan he was so enamored by a Japanese painting that he felt like buying it with what money he had for the trip to Chicago and simply return home. Swamiji saw many temples in Japan and obviously the most famous of them were in Kyoto. He was surprised to see some Sanskrit mantras written in old Bengali characters, the reason being that the Siddham script of Sanskrit, which became current in Japan, looks similar to old Bengali script which was derived from the former script. Swamiji remarked about religion in Japan during an interview about his experiences in Japan: “Japanese Buddhism is entirely different from what one sees in Ceylon (Sri Lanka). It is the same as Vedanta. It is a positive and theistic Buddhism, not the negative atheistic Buddhism of Ceylon.” Swamiji definitely came across Buddhist priests with whom he must have tried to interact with, but presumably with not much success because of the language barrier. He did, however, comment about them saying: “Only a few of the priests know Sanskrit, but they are an intelligent sect. The modern rage for progress has penetrated even the priesthood.” Incidentally, when Swamiji was travelling around the Tokyo-Yokohama area in the second week of July, Okakura Tenshin was living at that time in that area. He had been appointed as Principal of the newly established Government Art College and until recently was busy in preparing lots of Japanese art objects for display at the Colombian Exposition in Chicago. He himself, however, did not go there. Japanese delegates to the Parliament of Religions had either already departed or were about to set sail soon. It would appear, however, that neither Swamiji nor Okakura or even the Japanese delegates were aware of each other at the time. Swamiji was not only a monk, he was a patriotic monk. As a patriot he would often ponder how his motherland could be raised from its current pitiable condition under British Imperial rule and be transformed into a great nation, as it had been in the past. This would enable India to share her priceless heritage of spirituality with other nations of the world. His visit to Japan and observations of the Japanese gave him five important clues in achieving his mission of regenerating India. The first of these was the strong faith that the Japanese have in themselves. The second was the tremendous love of the Japanese for their country and their apparent willingness to sacrifice everything for the sake of their country. Thirdly, the Japanese had fully awakened themselves to modern times, namely to transform from a medieval country to a modern nation. Fourthly, though the Japanese learned and had borrowed much from the advanced countries of the West and adapted these ideas and technologies, yet they remained distinctly Japanese all the same and did not turn into Europeans. And finally they instituted a theoretical,

Anjali

www.batj.org


Swami Vivekananda and Japan

practical and universal education in all sectors to prepare the people for a necessary transformation of their country. In fact, universal education introduced by the Meiji Administration was the most important single factor which transformed Japan into modern country within a remarkably short period. Swamiji explained some of these points in reply to a question put to him by a reporter of a newspaper in India asking, “What is the key to Japan’s sudden greatness?” Not only in his letter written from his hotel room in Yokohama, but in his private conversations and in interviews with the media in later years, Swamiji repeatedly advised Indians to visit Japan. For example, on one occasion he remarked, “If I can get some unmarried graduates, I may try to send them over to Japan and make arrangements for their technical education there, so that when they come back they may turn their knowledge to the best account for India.” While reading this account a question almost inevitably crosses one’s mind, as did the Indian reporter who asked next: Reporter: “Is it your wish that India should become like Japan?” Swamiji: “Decidedly not! India should continue to be what she is. How could India ever become like Japan or any nation for that matter?” In fact what Swamiji really meant here is that a nation, like an individual, should imbibe the good qualities which it lacks from others and enrich itself. Thus, mutual giving and taking will make all nations great without losing their own characteristics or national identities. Just as Swamiji had observed that while Japan had learnt much from Europe, it had maintained its own identity. However, there is a pertinent question as to why Swamiji thought it would be better to seek the assistance of Japan, rather than from a highly developed Western nation like England or the USA. The answer is because, while in Japan, Swamiji got the impression, “that India was still a dreamland of everything high and good to the Japanese.” He explained this further in one of his letters to Miss Josephine MacLeod on June 14, 1901, “The help that Japan will give us will be with great sympathy and respect, whereas from the West, unsympathetic and destructive.” Towards the end of the same letter Swamiji made a highly significant remark saying, “Certainly it is very desirable to establish a connection between India and Japan”, which was later reiterated by Rabindranath Tagore and put into practice. It is clear from Swamiji’s comments on Japan vis-a-vis India, expressed since his visit to Japan in July 1893 and much later, that he had a firm belief it would do good for Indians if they imbibed the positive qualities of the Japanese without abandoning their own national characteristics. Here we see Swamiji not just in the role of a traditional religious leader, but the mentor of a nation; not only thinking in terms of spiritual regeneration, but also concerned with the material rejuvenation of his country. Here we must point out that in spite of his high appreciation of Japan, Swamiji was skeptical and even critical of Japan on two scores. The first was from an offhand comment he made in Bengali which apparently aired his skepticism about the long-term prospects of Japan borrowing culture from the West, though it had yielded www.batj.org

immediate and positive results. Swamiji’s scepticism was later proved when Japan, following the path of imperialist Western nations, turned into such a nation itself and finally suffered greatly. The second observation regarded the state of monasticism in Japan about which he made the following critical remarks: “Modern Buddhism - having fallen among races who had not yet come up to the evolution of marriage - has made a travesty of monasticism. So until there is developed in Japan a great and sacred ideal about marriage (apart from mutual attachment and love) I do not see how there can be great monks and nuns.” It is certain during his short visit to Japan, he was pained to observe that though Buddhism was still prevalent in Japan, monasticism, one of the most important aspects of Buddhism, had been corroded to a great extent, and in its place a priest craft had emerged. Whatever those reasons may be for this corrosion of the monastic ideal, this has adversely affected the religious sequence of events in Japan with far reaching results. However, we have no idea of what those fortunate Japanese who chanced to meet Swamiji, an unknown monk at that time, during his visit to Japan, had thought about him. Only this much is recorded–that at least some of them held him in such high esteem that they referred to him as the Second Buddha, as noted earlier. Though Vivekananda could not revisit Japan in spite of the cordial invitation from Okakura Tenshin and Reverend Oda of Japan owing to his failing health, the country was very much in his mind even unto the last, as on the day of his passing away he was heard to say: “I want to do something for Japan”. The wishes of such great souls do not remain unfulfilled. In the present case Swamiji’s wish was fulfilled when a Society was started in 1959 by some devotees, which later became The Vedanta Society of Japan in Zushi City, Kanagawa Prefecture, and an official branch of the Ramakrishna Mission, propagating and implementing the messages of Vedanta and Ramakrishna/Vivekananda in various ways in this country. Again, if we were to analyze the trends of the IndoJapanese relationship in recent years, it would be evident that what Swamiji had hoped for about a century ago is now actually taking place. While Japan has been largely contributing to the material welfare of India, by lending both financial and technical assistance, India is also lending spiritual support to many people of Japan, who visit India on pilgrimage to places associated with Lord Buddha, as well as to various religious organisations and ashramas to derive spiritual inspiration. The Indo-Japanese relationship is not restricted to economic and spiritual areas alone, but also extends to cultural sectors – especially, the traditional health-care system, food and performing arts. Swamiji’s repeated advice to Indians, given personally or through interviews published in newspapers, to visit Japan did not go in vain either. In fact, if one goes through the newspapers and journals published in Bengal after Swamiji’s passing away in 1902, one will find plenty of such reports of people visiting Japan for various purposes, including receiving training in various cottage industries. Some of them wrote books or articles in magazines on their experiences in Japan. It is interesting to note here that even before Rabindranath’s visit to Japan for the first time in 1916, his son Rathindranath Tagore had visited this country in 1906

Durga Puja 2018

55


Swami Vivekananda and Japan

with a group of 15 young men. Now greater numbers of young Indians in connection with information technology are visiting Japan and are being impacted by this country, thus fulfilling the long cherished wish of Swamiji. For the sake of truth we must mention here that more than one hundred years after Swamiji’s visit to Japan, there have been significant changes in the Japan he had seen and what it has become today. While, unfortunately, some aspects of its wonderful tradition and culture have lost importance, it retains some of them today. In short Japan has been passing through a critical era presently. On the other hand, is there any scope of studying and implementing the profound messages on various subjects Swami Vivekananda delivered for the benefit of the Japanese? We can identify at least five areas in which Vivekananda’s ideas can contribute substantially to Japanese Society namely; by imparting a genuine and broad-based spirituality, by preaching the ideal of Karma Yoga; regenerating Buddhism; motivating the local people and, finally, promoting the India-Japan relationship. Here we shall take up only two of those areas and briefly discuss them: The Ideal of Karma Yoga The dedication of the Japanese to work and their striving for perfection is proverbial, making matchless products and capturing world markets. However, a close observation of a people focused on work reveals that tremendous stress and strain due to relentless work pressures tells upon their physical and mental health, as well as personal relationships. Hence, everyone wants to know how, while performing all those duties that one cannot just give up, one can become free from stress and enjoy good health and mental peace, and if so inclined, even become spiritually elevated. In this Swami Vivekananda’s ideas on Karma Yoga can be of substantial help. Motivational In a recent US survey, student graduates and new company employees were asked if they had received any education or training at home or at school on how to face the crises of life encountered such as failures, frustration, loss, and consequent stresses and fears. Most of these young people replied that they had either received absolutely no such training or very little of it. This is also true in Japan. We feel disturbed when young boys and girls, or even adults, suffer so tremendously and feel utterly helpless in the face of serious troubles in life–especially when there is a lack of interest in God or prophets and they run here and there for support, mostly unsuccessfully, and finally think of ending their lives. Should the parents and leaders of society helplessly watch this

56

condition and not think of especially equipping the young to boldly face life’s adversities by providing them positive ideas and inspiring messages beforehand? I am aware that there are quite a few books on ‘inspiration’ in Japanese, but I do not know the extent to which these books are utilized. However, in addition to those messages, memorizing and following some of the inspirational messages of Vivekananda would be of tremendous help. Vivekananda’s messages are like elixirs to the soul and energy tonics to the negative and weak mind. We may recall here that one of the chief reasons prompting the Indian Government to proclaim Swamiji’s birthday as ‘Youth Day’ in India, is that the government felt Swamiji’s message has the tremendous power to inspire all, especially the young, to lead an ideal life. Here we provide a few of Swamiji’s quotes to give you a better idea of them: • All power is within you; manifest it! • Strength is life, weakness is death. • The remedy for weakness is not brooding over weakness, but thinking of strength. • Unselfishness is God. Conclusion It would be the height of folly to discard Vivekananda, as some are unfortunately prone to do, because he is a man of religion and therefore irrelevant. Swamiji had profound messages both for individuals and for nations. This is not only true with respect to Indians, but for people of other countries as well, including Japan. This is substantiated by a report that America’s famous Smithsonian Institute had organized an exhibit highlighting thirty-one non-Americans who had greatly contributed to the culture and growth of America and Swami Vivekananda was among them. A special character trait of the Japanese is that if they realize that a certain idea is good and beneficial for them, no matter where it comes from, they will no longer simply discuss or dream about it, they will adopt and adapt it. Now when once convinced that Swamiji’s ideas will be greatly beneficial for the Japanese individual and nation, the next thought will be its implementation, which requires greater awareness of these ideas. Likewise, by imbibing some laudable Japanese character traits, Indians, on the other hand, will fare better in their commitment to duty, discipline, unity and social ethics, as already suggested. Through this and by cooperation with each other in all sectors, we the people of two countries can fulfil the cherished dreams of not only Swami Vivekananda, but also of Rabindranath Tagore and Okakura Tenshin, in creating a better bond between our two countries. That would also be a most fitting tribute to the hallowed memories of these three great men, the three great pioneers of the Japan-India relationship on the occasions of Swamiji’s 155th birth anniversary, and especially, the 125th anniversary of his visit to Japan celebrations. Thank you for listening so patiently. 

Anjali

www.batj.org


Illuminated Path and The True Devotee - Suneel Bakhshi I last had the pleasure of writing for this publication a few short years ago. Since then I have continued to study the Bhagavad Gita under Swami Nityasuddhananda of the Ramakrishna Sevashrama and Math in Kankhal, Haridwar. In doing so I have continuously sought to deepen my own understanding of our heritage and the beautiful philosophy of the Gita, with the idea of embedding its principles in my mind, and one day, hopefully in the minds of other seekers who might be open to its light. For this attempt I have chosen verses or Shlokas which directly appeal for their practical application to daily life.The theme I follow in selecting these shlokas is of a traveller searching for stepping stones in safely crossing the river of life. I visualise these Shlokas as illuminated stones, emerging in a dark and swiftly flowing river, to guide safe passage. There are many shlokas in the Gita reinforcing the same message. Here I begin with two Shlokas directing us to such a path, move on to seven Shlokas describing the various ways of the path, then to eight Shlokas which succinctly explain the qualities aspired to while on the path. I end with a comment by Swami Nityasuddhananda in describing the value to the seeker who trusts his or her fate to this path in the crossing. As so many people often might feel unsure of the merits of spending time to read our scriptures, I end with a typically insightful and inspiring comment by Swami Nityaauddhananda in describing the value to the seeker who trusts his or her fate to this path in the crossing. I also quote from Dr. Sarvapelli Radhakrishnan’s interpretation of the Gita, which remains in his eloquence and brevity, one of my favourite routes in English to the treasures of the Bhagavad Gita. The quotes from Dr. Radhakrishnan are in italics. SIGNS POINTING TO THE ILLUMINATED PATH : TWO SELECTED SHLOKAS FROM CHAPTER XI

Some readers would know that the eleventh (XI) chapter of the Bhagavad Gita is called “The Vision of the Cosmic Form”. In Shloka 48 of this vast chapter, Lord Krishna says to Arjuna :  

na veda-yajñādhyayanair na dānair na cha kriyābhir na tapobhir ugraiḥ evaṁ-rūpaḥ śhakya ahaṁ nṛi-loke draṣhṭuṁ tvad anyena kuru-pravīra OR

न वेदयज्ञाध्ययनैर्न दानैर्न च क्रियाभिर्न तपोभिरुग्रै: | एवंरूप: शक्य अहं नृलोके द्रष्ट ुं त्वदन्येन कु रुप्रवीर ||

Neither by the Vedas, (nor by) sacrifices, nor by study nor by gifts nor by ceremonial rites nor by severe austerities can I with this form be seen in the world of men by any one else but thee, O hero of the Kurus ( Arjuna ).     In Shloka 55 of chapter XI, Lord Krishna concludes that :  

mat-karma-kṛin mat-paramo mad-bhaktaḥ saṅga-varjitaḥ nirvairaḥ sarva-bhūteṣhu yaḥ sa mām eti pāṇḍava OR

मत्कर्मकृ न्मत्परमो मद्भक्त: सङ्गवर्जित: | निर्वैर: सर्वभूतेषु य: स मामेति पाण्डव ||

He who does work for Me alone and has Me for his goal, is devoted to Me, is freed from attachment, and bears enmity towards no creature - he entereth into Me, O Pandava. This verse in the views of many, is the substance of the whole of the teaching of the Gita. We do not need to complicate matters in our search for the good life. Instead, we should simply carry out our duties, directing their spirit to God, with detachment from all interest in the things of the world, and free from enmity towards any living being.  Even so, while this guidance of the direction to be taken is clear, it is not easy to understand how to fulfil in daily practice, especially under the pressures and distractions faced by us all. I turn next therefore to just a few verses in chapter XII, which with great clarity help lead us to the path. THE SEVERAL WAYS OF THE ILLUMINATED PATH : SEVEN SELECTED SHLOKAS FROM CHAPTER XII The twelfth chapter is entitled “The Yoga of Devotion.”

www.batj.org

Durga Puja 2018

57


Illuminated Path and The True Devotee In Shloka 6, Lord Krishna says to Arjuna :

ये तु सर्वाणि कर्माणि मयि संन्न्यस्य मत्पर: | अनन्येनैव योगेन मां ध्यायन्त उपासते ||

ye tu sarvāṇi karmāṇi mayi sannyasya mat-paraḥ ananyenaiva yogena māṁ dhyāyanta upāsate OR

But those, who, laying all their actions on Me, intent on Me, worship, meditating on Me, with unswerving devotion. In Shloka 7, the Lord continues

तेषामहं समुद्धर्ता मृत्युसंसारसागरात् | भवामि नचिरात्पार्थ मय्यावेशितचेतसाम् ||

teṣhām ahaṁ samuddhartā mṛityu-saṁsāra-sāgarāt bhavāmi na chirāt pārtha mayy āveśhita-chetasām OR

These whose thoughts are set on Me, I straightaway deliver from the ocean of death-bound existence, O Partha ( Arjuna).  

Dr. Radhakrishnan interprets this to say that God is the deliverer, the saviour. When we set our hearts and minds on Him, he lifts us from the sea of death and secures us a place in the eternal. For one ( and this is most of us ! ) whose nature is not steeped in renunciation ( vairagya ), the path of devotion is more suitable. Shloka 8 : 

मय्येव मन आधत्स्व मयि बुद्धिं निवेशय | निवसिष्यसि मय्येव अत ऊर्ध्वं न संशय: ||

mayy eva mana ādhatsva mayi buddhiṁ niveśhaya nivasiṣhyasi mayy eva ata ūrdhvaṁ na sanśhayaḥ OR

On Me alone fix thy mind, let thy understanding dwell in Me. In Me alone shalt thou live thereafter. Of this there is no doubt.

Shloka 9 :

atha chittaṁ samādhātuṁ na śhaknoṣhi mayi sthiram abhyāsa-yogena tato mām ichchhāptuṁ dhanañjaya OR

अथ चित्तं समाधातुं न शक्नोषि मयि स्थिरम् | अभ्यासयोगेन ततो मामिच्छाप्तुं धनञ्जय ||

If, however, thou art not able to fix thy thought steadily on Me, then seek to reach Me by the practice of concentration, O Winner of wealth ( Arjuna ). If the spiritual condition does not arise spontaneously, we must take up the practice of concentration, so that we may gradually fit ourselves for the steadfast directing of the spirit to God. By this practice, the Divine takes gradual possession of our nature. Shloka 10 :  

abhyāse ’py asamartho ’si mat-karma-paramo bhava mad-artham api karmāṇi kurvan siddhim avāpsyasi OR

अभ्यासेऽप्यसमर्थोऽसि मत्कर्मपरमो भव | मदर्थमपि कर्माणि कुर्वन्सिद्धिमवाप्स्यसि ||

If thou art unable even to seek by practice, then be as one whose supreme aim is My service; even performing actions for MY sake, you shalt attain perfection.   If concentration is found difficult on account of the outward tendencies of the mind or our circumstances, then do all actions for the sake the Lord. Thus the individual becomes aware of the eternal reality. “Matkarma” is sometimes taken to mean service of the Lord, “puja “ or worship, offering flowers and fruits, during incense, building temples, reading scriptures etc.   Shloka 11 :

अथैतदप्यशक्तोऽसि कर्तुं मद्योगमाश्रित: | सर्वकर्मफलत्यागं तत: कु रु यतात्मवान् ||

athaitad apy aśhakto ’si kartuṁ mad-yogam āśhritaḥ sarva-karma-phala-tyāgaṁ tataḥ kuru yatātmavān OR

58

Anjali

www.batj.org


Illuminated Path and The True Devotee If thou art not able to do even this, then taking refuge in My disciplined activity, renounce the fruit of all action, with the self subdued. if you cannot dedicate all your works to the Divine, then do the work without desire of the fruit. Adopt the yoga of desireless acton, “niskamakarma.”  We can renounce all personal striving, resign ourselves completely and solely to God’s saving power, submit to self-discipline and work, abandoning all thought of reward. One must become like a child in the hands of the Divine.

Shloka 12 :

śhreyo hi jñānam abhyāsāj jñānād dhyānaṁ viśhiṣhyate dhyānāt karma-phala-tyāgas tyāgāch chhāntir anantaram OR

श्रेयो हि ज्ञानमभ्यासाज्ज्ञानाद्ध्यानं विशिष्यते | ध्यानात्कर्मफलत्यागस्त्यागाच्छान्तिरनन्तरम् ||

Better indeed is knowledge than the practice ( of concentration ); better than knowledge is meditation; better than meditation is the renunciation of the fruit of action; on renunciation ( follows ) immediately peace. Devotion is better than knowledge and desireless action is better than devotion. He who realises this principle of Vedanta is to be regarded as the best man. Devotion, meditation and concentration are more difficult than renunciation of the fruits of action, “karamaphalatyaga.” This latter destroys the sources of unrest and brings about an inner calm and peace, which are the very foundations of spiritual life. The bhakti emphasis leads to the subordination of knowledge and meditation to the devout mind and consecration of all works to God. To carry our analogy further, one can step carefully from one stone to the next as each illumines and emerges from the flowing river, and step by step, cross the flowing waters to safety. As to how best to do so, and to do so with increasing assurance, is the subject of the description of the true seeker, in the next and final shlokas of chapter XII.  THE STRENGTH OF THE TRUE DEVOTEE : EIGHT FURTHER SHLOKAS FROM CHAPTER XII

In these verses the Gita mentions the qualities of a true devotee : freedom of spirit, friendliness to all, patience and tranquility.

Shloka 13 :   adveṣhṭā sarva-bhūtānāṁ

maitraḥ karuṇa eva cha nirmamo nirahankāraḥ sama-duḥkha-sukhaḥ kṣhamī OR

अद्वेष्टा सर्वभूतानां मैत्र: करुण एव च | निर्ममो निरहङ्कार: समदु:खसुख: क्षमी ||

  He who has no ill will to any being, who is friendly and compassionate, free from egoism and self-sense, even minded in pain and pleasure, and patient.    Shloka 14 :      santuṣhṭaḥ satataṁ yogī

yatātmā dṛiḍha-niśhchayaḥ mayy arpita-mano-buddhir yo mad-bhaktaḥ sa me priyaḥ OR

सन्तुष्ट: सततं योगी यतात्मा दृढनिश्चय: | मय्यर्पितमनोबुद्धिर्यो मद्भक्त: स मे प्रिय: ||

  The Yogi who is ever content, self controlled, unshakable in determination, with mind and understanding given up to me - he, My devotee, is dear to Me.  

Shloka 15 :

yasmān nodvijate loko lokān nodvijate cha yaḥ harṣhāmarṣha-bhayodvegair mukto yaḥ sa cha me priyaḥ OR

यस्मान्नोद्विजते लोको लोकान्नोद्विजते च य: | हर्षामर्षभयोद्वेगैर्मुक्तो य: स च मे प्रिय: ||

He from whom the world does not shrink and who does not shrink from the world, and who is free from joy, envy, fear and agitation, he too is dear to Me. www.batj.org

Durga Puja 2018

59


Illuminated Path and The True Devotee Shloka 16 :   anapekṣhaḥ śhuchir dakṣha

अनपेक्ष: शुचिर्दक्ष उदासीनो गतव्यथ: | सर्वारम्भपरित्यागी यो मद्भक्त: स मे प्रिय: ||

udāsīno gata-vyathaḥ sarvārambha-parityāgī yo mad-bhaktaḥ sa me priyaḥ OR

He who has no expectation, is pure, skilful in action, unconcerned, and untroubled, who has given up all initiative ( in action ) he, My devotee, is dear to Me. He renounces the fruits of all his actions. His acts are skilled, “daksha,” pure and passionless. He does not lose himself in reverie or dream but knows his way in the world. Shloka 17 :     yo na hṛiṣhyati na dveṣhṭi

यो न हृष्यति न द्वेष्टि न शोचति न काङ् क्षति | शुभाशुभपरित्यागी भक्तिमान्य: स मे प्रिय: ||

na śhochati na kāṅkṣhati śhubhāśhubha-parityāgī bhaktimān yaḥ sa me priyaḥ OR

He who neither rejoices nor hates, neither grieves nor desires, and who has renounced good and evil, he who is thus devoted is dear to Me.  

Shloka 18 :

सम: शत्रौ च मित्रे च तथा मानापमानयो: | शीतोष्णसुखदु:खेषु सम: सङ्गविवर्जित: ||

samaḥ śhatrau cha mitre cha

tathā mānāpamānayoḥ śhītoṣhṇa-sukha-duḥkheṣhu samaḥ saṅga-vivarjitaḥ OR

He who ( behaves ) alike to foe and friend, also to good and evil repute and who is alike in cold and heat, pleasure and pain and who is free from attachment.  Shloka 19 : 

तुल्यनिन्दास्तुतिर्मौनी सन्तुष्टो येन के नचित् | अनिके त: स्थिरमतिर्भक्तिमान्मे प्रियो नर: ||

tulya-nindā-stutir maunī

santuṣhṭo yena kenachit aniketaḥ sthira-matir bhaktimān me priyo naraḥ OR

  He who holds equal blame and praise, who is silent ( restrained in speech ), content with anything ( that comes ), who has no fixed abode and is firm in mind, that man who is devoted is dear to Me.  

Shloka 20 :

ये तु धर्म्यामृतमिदं यथोक्तं पर्युपासते | श्रद्दधाना मत्परमा भक्तास्तेऽतीव मे प्रिया: ||

ye tu dharmyāmṛitam idaṁ yathoktaṁ paryupāsate śhraddadhānā mat-paramā bhaktās te ’tīva me priyāḥ OR

But those who with faith, holding Me as their supreme aim, follow this immortal wisdom, those devotees are exceedingly dear to Me.

SWAMI NITYASUDDHANANDA : THE INCREASING VALUE OF THE PATH TO THE SEEKER. “As one goes deeper into spiritual life, a combination of strength and gentleness begins to manifest itself more and more. It is the rarest quality and is the sign of a true devotee. A time comes when one experiences absolute fearlessness, combined with absolute gentleness. This is a direct manifestation of Oneness.”  60

Anjali

www.batj.org


A Heartfelt tribute to Maa - Sayantani Dasgupta with the farmers in one of the Swiss village in Klosters. Hugging Koala bear and feeding kangaroos in Australia to watching wild dolphins and blue whales in New Zealand, she enjoyed every bit of her life, and no surprise she was an ardent animal lover. She bestowed her love to everyone she came across, particularly the under-privileged, needy and disadvantaged section of our society. Without her, I wouldn´t know what unconditional love means. It became crystal clear to me that unconditional love does not have any boundaries and it can never be lost! Even if she is not here with me today in physical form, my love and respect towards her grows each day.

“Om sarva mangala-mangalye shive-sarvartha-sadhike sharanye tryambake gauri Narayani namo’stu te” This Slokah is addressed to the three-eyed divine mother – Narayani who brings total auspiciousness. Today on this festive day of Durga Puja, I feel my mother has returned home again after taking her spiritual voyage to eternity on 22nd November last year. I landed in Japan on 25th November evening and performed her funeral at the Iskcon temple, Tokyo. Durga Puja is all about celebration and this column is to celebrate my mother´s life who lived it to the fullest. She was a strong believer of soul transformation through various life experiences and I am still learning from her vivid experiences. Glimpses of her beautiful and cherished life was captured in a diary written by her on 27th August 2016. This diary was a path to rediscovery of my mother: Mrs Kaberi Sarkar and I am still learning valuable life lessons from her.

From the perspective of her career, there is so much to learn about perseverance and dedication. She got married at the age of mere 19 just after finishing her graduation. Maa accomplished her bachelors of education and Masters degree after her marriage with two kids, managing a household and a full time academic job as a schoolteacher. She was one of the most popular teachers and earned respect from her students (even when they have passed out) and colleagues. She left her job voluntarily in 2004 after 25 years of service to spend time with us and travel the world. What I learnt from her is how to let go and how to lead life on your own terms. Today this is the first Durga Puja without her being around me. This emptiness will never be filled. However, I can hear her lingering voice from the dance drama she organized on Shyama, Chandalika, Shaapmochan when she was in Ooty. I feel that she had a life that might not have been long, however it was large and truly inspiring. I am sure we will meet again beyond this world. In stillness with you Maa! 

After getting married, Maa moved to Ooty, a beautiful hill station in India. She mentions in her diary about the Nilgiri hills and how she had a special connections with those Blue Mountains. Her explorations of nature inspired not only her closest family members but also lot of other women and mothers to explore life, who never had the confidence to explore outdoors like her independently in a place, without knowing the language. The strong passion for travel or wanderlust is deeply imbibed within our family because of her. As a kid, I have explored from Kashmir to Kanyakumari with her, which helped me to keep calm during ambiguity and transform myself into an avid nature explorer. I moved to Switzerland in 2004. Maa was completely mesmerized with the beauty of Alps in Switzerland framed with rivers and rugged gorges. She believed in afterlife and conceded that good people go to heaven. However, after visiting Switzerland she felt that she landed in heaven already as beautifully elucidated in her dairy pages. She taught me how to be eternally grateful and appreciate with what we have already. Right from the dazzling beaches in Southern France, ice caves in Austria, the Greek archipelagos, grandeurs of Berlin, popular destinations like Paris as well as London to being in the ancient backdrops of Venice and Rome, she tried to engage with the local culture. I still remember how she sang and danced www.batj.org

Durga Puja 2018

61


The Nose Ring - Tapan Das

M

aa Durga’s beautiful nose ring has always fascinated me. This small piece of ornament makes her look divine, beautiful yet fierce. The face of Maa Durga without the nose ring and the ‘Trinayan’ cannot be thought of. The aura behind this face has been bringing in reverence and every year we worship ‘Durgoti Nashini Durga’ with all rituals and much fanfare. Sometimes while chanting her divine name during my daily prayers or while gazing at her assuring yet firm looks while listening to a devotional song, I would admire the deity’s nose ring and sometimes I would wish if I could have it for my dear wife Jharna. The ‘dashabhuja’ and the ‘ronong dehi’ versions of the goddess would flash in my mind’s eyes and would be replaced by Jharna’s more homely, non-regal face, which was nonetheless as powerful as the goddess. In managing home, which often no less than a battle, she was certainly a dashabhuja in a ronong dehi avatar. The nose ring seemed to be a natural accessory to complement her powerful presence. All this was just my wish though. She would, of course, strongly reject the idea of a ring of such design but would not mind if I presented her with a diamond-studded nose pin instead. As per my horoscope and as per my Zodiac sign which is Leo, I tend to have a natural penchant for gold, elegant dresses, perfumes and other good things of life. I had tried to maintain this style throughout my corporate life until my retirement. I would see to it that my shirt, trousers and even other parts of my attire were well-ironed whenever I went to office or anywhere else. I would always wear my favourite perfume ‘Charlie’. I liked nice things, for both myself and my family. That ring, I had always felt, would be a perfect gift from the divine Durga to the homely one. Nagamani, the young laundry woman of the ironing service nearby always took special care to iron my clothes placing newspapers inside. Her husband Jagadish would return them to our apartment with unfailing regularity for years. She could identify this Bengali babu’s clothes blindfolded and this must have been so because of the unique perfume I used. Nagamani would sometimes come and help my wife make chapatis or help in the kitchen when my wife was unwell or when we were expecting guests. Sometimes she would cook spicy ‘Guntur Chicken curry’ for us. It was extremely delicious and my friends and I would enjoy it though the chilli in it was so hot that it became difficult to even say ‘good morning’ the next day. It so happened that this puja turned out to be the worst Durga Puja for me in the last sixty years. Till ‘Panchami’ everything was in order but from ‘Shasti’ morning all the grahas and nakshatras started conspiring against me. A chain of unfortunate events substantiates this. The newspaper vendor forgot to drop the newspaper at my house that day and without that my free outgoing calls could not happen. The morning milk boiled over and spilled. My wife did not make me the usual tea and she and my daughter stopped talking to me and wore a grumpy look. Even my eldest daughter and son in law did not take my calls. My whole family seemed to be against me on account of something which I was not aware of. I questioned them, puzzled and upset, but the only response I got was a stoic, indignant silence and aggressive looks. They started behaving indifferently with me. Putting the ironed clothes in the wardrobe, my wife addressed my daughter in a gruff voice: “Tell your father that we shall not go to the Puja pandal with him and that the food has been kept in the fridge. Whenever 62

he wants he could come and have it.” She added, “Tell him that he need not have any relation with me or my daughters.” I was stunned!! “Why are both of you behaving like this? What have I done?” Very aggressively, throwing one of my favourite black shirts, which I had used for the last two evenings, my wife said, “Look at this yourself. Shame on you!! A person like you could stoop so low and that too after your retirement.” She then started crying loudly. My daughter Saachi then took the shirt from the ground and showed it to me. I saw with disbelief that a small diamond-studded gold ‘nose ring’ was stuck tight to the upper buttonhole of my shirt with a patch of vermillion on the collar. “Where did it come from?” she enquired. “Gold nose ring with a diamond!!!” I was stunned . . . “Listen!! Hey!! Maybe it is a gift from Ma Durga for you!!” I added rather lamely. “You know,” turning toward my daughter, “I had always wanted to gift a similar nose ring worn by Ma Durga to your mom. Maybe she has listened to my wishes,” I said. “Shut up!!” was the stern rebuttal from my wife: “Don’t try to fool us; enough is enough. Tell us who are you spending time with these days. . . that’s the reason you go out every evening well-dressed and well-perfumed and at times with flowers in hand and you make an excuse that you are going to ‘Tetultala’ to be with your friends or to stag parties. Do you and your friends use vermillion or nose rings at your stag parties?!! The cat is out of the bag now. You have started coming late almost every day . . . do you think we are fools . . . ? The thief has now been caught red-handed . . . Whose nose ring is this???? Till you answer this question, stay away from us and don’t speak to us,” she screamed. This ordeal started since Sasthi morning. I started thinking: “Did the goddess fulfil my wishes this way by creating a crisis in which I had no part to play? . . . I just liked and admired her nose ring and so maybe I got it! I should have admired all her ornaments instead . . . but how did it happen . . .” I questioned myself several times but no answer appeared on the horizon. I was clueless as to what to do now. The nose ring, both Durga’s and the one stuck to my shirt, appeared to devour me with all its grandeur and fierceness. I had spent so many years with a decent corporate life and had innumerable friends. Everyone in the office was aware of my penchant for good dressing as also my sense of punctuality, a strict no-nonsense attitude along with my fondness for sweets, butter and ghee. My in-laws considered me an incarnation of Lord Shiva, my friends saw me as a very fun-loving, music-loving, harmless and simple person, my daughters thought me the best dad in the world and as far as my better half was concerned, I have been made to understand that she had prayed for the same life partner for the next seven lives! On Shasti morning all these lofty thoughts went for a toss with this mysterious ‘nose ring’. At the Puja pandal I felt people who knew me looked strangely at me and many of them started avoiding me as if I was ‘Brajeesh Thakur’ or ‘Niraav Modi’ or ‘Aashaaram Baba’. They would look at Ma Durga, pray to her first and then would look at Mahisasura and then would stare at me at the reception counter, as if I was the fallen man. I felt like Tulsi Chakraborty in the rich men’s party in the movie ‘Poroshpathor’. Nobody wanted to look at me or make real conversation. They gave a slant smile and walked passed. This incident might have given the gossip industry within our community a good trigger. Jharna must be feeling

Anjali

www.batj.org


The Nose Ring like Sumitra in ‘Ogo Badhu Sundari’, embarrassed by her drunken husband singing “Lola Lulu tomar boyosh keno hoyna sholo, amar nineteen.” At least there Uttam Kumar knew what was happening. Here, I was clueless. I prayed to Ma Durga about the well-being of my family and friends as usual so that I could get out of this mess at the earliest . . . I also admitted my mistake of eyeing Ma Durga’s nose ring and apologized to Ma with folded hands. “I like Mahisasur better than your nose ring, Ma! Do forgive me. I will never eye your nose ring again in life,” I uttered silently asking for her forgiveness. I could almost see her subtle smile through her fiery face. On returning home, I heard sounds of laughter as if some guests had dropped in. On entering my house I was greeted by none other than my bodybuilder Salababu or brother-in-law, Mahesh, who had come to stay with us this puja without any prior notice. Touching my feet, he asked, “How are you, Jamai babu?” “Why this long hair and moustache, Mahesh? Are you planning to act in films or what?” I questioned. “Yes, sort of . . . There is an audition at Ramoji Film City for a role of Bahubali’s brother and I thought I would be a strong contender.” “Yes, yes, certainly. You may take your Didi too. She might land the role of Bahubali’s mother.” I added sarcastically. “She has stopped talking to me for a silly reason. . . she will tell you.” While speaking, I once again looked at Mahesh properly this time. Oh my God!! He resembled someone with long hair, huge moustache . . . yes! Yes! He does resemble Mahisasur . . . I think God is playing tricks on me. I told Ma Durga that I do not like her nose ring and as a penance, mentioned that I liked ‘Mahisasur’ instead and she has sent this Mahesh ‘Asur’ to me!!!’ I felt as amused as puzzled. What, in Durga’s holy name, was happening to me? Days of festival went by in a flurry, with me in a confounded bubble, trying to figure things out or at least get out of the mess. After the Pujas were over, my closest family friends, at the behest of my wife, wanted to speak to me once and for all so that I do not fall into the trap of my so-called lady love whose nose ring had got stuck to my shirt in this so-called misadventure and so that we again start living a normal family life. On the designated evening our close friends were invited with their families towards “Bijoya get-together” and my wife Jharna, who was a good cook had prepared the choicest of food for the guests. She had invited my friends so that she could introduce Mahesh, “Mr Kolkata ‒ third runner-up 2003” ‒to them as well. Tara baby, our beautiful neighbour and Nagamani, our laundry woman, were there to help her prepare the puris and chapatis and help to serve the guests. At around 8 pm the guests started arriving and one by one all of them arrived. My wife and my daughter Saachi started serving snacks to them. Once Mahesh was introduced to my friends he was very happy as most of my friends admitted that he resembled Bahubali while I thought he resembled Mahisasura. To put the record straight without any hesitation, I called every one of the five families into a room and said, “Friends, before you tell me anything regarding the ‘nose ring episode’ I want to clarify something and want everyone to lend me your ears. Friends, yes, you have heard it right. My wife and daughter did find something unusual and they are rightfully unhappy. I admit that I made a mistake but my mistake was not what you are thinking. I made the mistake not of falling for another woman, but for the nose ring of the all-powerful woman, Durga herself.

www.batj.org

I also made another mistake, the naïve mistake of assuming Ma Durga had gifted me the ring as I had always admired it and wished to have it for my wife. But how could a person like me fall for this thought, that the goddess herself had made the gift just available for me to gift my wife without my having to buy it? I can’t be so trusting in make-believe wish-comes-true or miracles? Well, the answer is, I don’t know. Maybe I REALLY, passionately wanted a Durga ring for my wife. That’s my only explanation, though it sounds silly, I know.” I showed the black shirt to everyone present there and also showed them how the diamond-studded gold nose ring had stuck in the collar buttonhole without my knowledge. “Is it my fault, I asked? Only Ma Durga could have done this!!” “I only know that I had liked Ma Durga’s gold nose ring at the pandal so much that I had purchased a beautiful calendar with Durga Ma’s divine face with her unique nose ring and had placed it on the wall of our drawing room for me to pray & for everyone to admire” I admitted openly. Suddenly there was a commotion behind me . . . Out of nowhere, Nagamani barged in. “Show me, Seth. Let me see it too. Oh, my God! This is my nose ring Sahib and I was desperately searching for it.” One of my friends quipped: “But how did your nose ring reach your Saheb’s chest? I mean the shirt!” Nagamani replied: “I think that night I was ironing Saheb’s shirt and had sneezed. Maybe the nose ring fell off and I must have ironed it along with the shirt and the pin got entangled on the stitches of the collar buttonhole.” “What about the vermillion stain?” another friend asked. “That might have fallen from my forehead too,” she accepted meekly. She pleaded that this mistake of hers had nothing to do with Bengali Babu who was always a fatherly figure to her. Everyone started laughing loudly. Nagamani saved my face that evening; otherwise I would have thought that Ma Durga had fulfilled my wish. I could only say “Jai Durga Devi’s Jai”. The food tasted superb that evening. Days passed and people forgot about the matter till one evening Nagamani came home crying. She was inconsolable. Jagadish followed his wife too. We were having our evening tea together. We were a bit surprised as Nagamani was a jolly girl. “What happened, ma?” I asked. “Sethji!!” she mumbled, and pointing towards Jagadish, she declared: “I mean we wanted to come earlier but did not have the courage to visit you. In fact, I took the nose ring which was stuck on your collar thinking it to be my lost nose ring. But I was mistaken. I found my own nose ring in my Puja room at the feet of ‘Goddess Mysamma’ in the vermillion pot. I must have kept it there and had forgotten, sir. We have come to return your nose ring to your family. In my dream Ma Durga came and showed her ‘Rudra murty or fiery face’ last night and we thought it fit to return to you. Do forgive me” My wife took it and looked at it properly this time. It was really a beautiful diamond-studded nose ring . . . maybe a real gift from Ma Durga!! She said, “I think we should treasure this divine gift.” She did not remark, now that the allegation part was not valid anymore. Anyway, I was relieved and happy but where did this come from? When I looked at the calendar with Durga Ma’s face in our drawing room to thank her with folded hands, I could see the beautiful smile on Ma’s face . . . but oh my God! I couldn’t believe it!! Her nose ring was missing from the photo too. Wishes do come true, that too inexplicably! Suddenly there was a nudge. I woke up and saw my eldest daughter Pritha at my bedside with a cup of tea in hand! “Papa, get up!! We have to go for puja shopping today, Mother, Saachi & Soumya would join us too.” “Oh! No!! Not again!” I cried out in disbelief. 

Durga Puja 2018

63


Some Musings Some Rumblings - Sougata Mallik

A

summer evening well spent is when I can sit in the garden with a cup of tea, feel the blissful wind blowing, have a comfortable reading material in hand. The solace and delight of such sessions seem to me far better than many other things. Just few years ago I would find delight in attending a weekend dinner party at friend’s house. The preparation for this as what to wear, what gifts to buy that will suit her household, google mapping the address, groundwork of when to start from home - all these occupied the mind. When the venture began came the long drive in many cases, unintended detours on unknown roads, tension of reaching the dinner party in time, so on and so forth. There was indeed a thrill in this. When you finally reach the destination there was the excitement of meeting friends, sumptuous dinner, ladies’ conversation on saree, jewellery, latest movie. These mundane discussions were never important but seemed like tonic to our day to day life. It provided a respite to the otherwise tête-à-tête of everyday job and household activities. Now as we advance in age, I find it is harder to engage in these conversations. The reason behind this is not the hostess or the ambience of the party or that the speaker is a boring person. The cause can be accredited to the gap that age and time creates for all of us. What is good and sought after in one age does not live long to overflow into another age. The usual dinner party conversations of school admission, child’s extra curricular activities are often hard to engage during discussions. Some of us have embarked on the age where our children have settled academically or socially. The difference of age become very prominent at that time. Along with it comes the difficulty in mentally accepting that we are growing older day by day! As I was sitting in my garden reflecting on this, some glimpses of childhood flashed before my eyes. I recounted that we rarely had these formal dinner invitations in earlier days. Relatives or neighbours took the privilege to arrive at our house unannounced. Time constraint was never a concern for them. My sister and I as young children then should have gone to bed in time to be ready for next day’s haul in school. Irrespective, our relative would drop in around 9 pm. I still remember, at that hour he come in clean bathed, wearing Punjabi-kurta with lots of Ponds talcum powder sprayed all over him. 9 pm seemed to be the start of his revelries. We as children then were strictly ordered to touch his feet, answer his questions politely, attend like a true host. If it was around the school examination time, the questionnaire from this relative was much more than my father had ever asked. I remember during the school years my report card was like an open website – every relative and neighbour had access to it. Privacy policy, family matter – such terms did not exist in their diction then. Yet such were the topics that used to be discussed in an impromptu evening gathering in contrast to how we converse in the current times. Few weeks back during one of the weekend dinner parties, a lady was proudly speaking of the various art competitions in which she has enrolled her daughter. I looked at the beautiful little girl having good time with her friends in the party. She seemed to be oblivious of the heavy burden and an innocent, un-combating expression played on her face. From what her mother said, the very next week is when she must appear for the Ontario art contest. I wished the very best for this wonderful young girl. 64

The lady’s conversation took me back to my childhood. As a child my typical response to drawing a scenery was a stretch of green grass, mountain in the background, river flowing and a boat plying through. I would meticulously colour the drawing. The green would show the bountiful foliage, brown colour to reflect the ruggedness of mountain, a glorious blue would depict the energetic river flowing. I recall I would sit quietly for hours to paint this colourful picture. This was my free imagination, my free expression. No judge had ever given verdict on it. But the sincerity of a child mind had conferred her a Trophy of her own on this endeavour. The recognition, the award, the joy of a child was all won through the little picture. I am very sure about that. Had that not been achieved, this meagre incident would not have revisited me after so many years. During the weekend dinner parties, one of the common discussions is where we grew up, where we worked and lived, where we travelled. These are interesting conversations to learn about various places, vocations and of course the varied experiences. The perspective of mind enhances considerably when we can indulge in the opportunity of travel and other ventures. Life has most kindly permitted me to move around freely and experience the novelties of this world. The knowledge and information that I have gathered from travels is a valuable part of my being and everyday life. But as I sit in my garden and muse, somehow Calcutta the childhood city where I grew up comes to the forefront remembrances. Memories of childhood can be one of the sweetest things. Reminiscences of the first rickshaw that took me to Kindergarten, CTC Tram # 12 riding through Upper Circular Road that brought me to school everyday, participation in plays for Puja celebration, roaming around the city on Durga Puja Ashtami night all of us packed into my father’s favourite old and loyal Buick car, the occasional visits to New Empire Globe Cinema, shopping at Newmarket. Back in childhood, good food and fancy cuisine used to hold such added interest. I can still feel the taste of cream and chocolate of Park Street Flurry’s pastry that my father would bring home while returning from work. Then there would be the Sunday lunch at home of rice pulao and goat meat curry or hilsa fish mustard curry. The sporadic treats of home cooked savoury evening sweets or snacks from neighbourhood aunties Mashima-s and Kakima-s were an incentive to the taste buds. These days we find variety cuisine everywhere and culinary seems to have advanced immensely in terms of diversity, productivity, presentation. A dinner invitation or a restaurant dine out is mostly punctuated with enthusiasm and innovation. At every nook or corner we now find Korean, Japanese, Thai, Mexican, Middle Eastern restaurants. Many people have skilled themselves in multi cultural cuisine and promptly host great parties at home with variety delicacies. Those invitations or stop overs are always very exciting. But the most exciting is what I experienced sometime back. Niagara Falls is about 3 hours drive from we live. Few weeks back we attended the day long food festival at Niagara Falls, Canada side. This is one of the most exhilarating events of summer months. Considering the lengthy and severe winter temperature that Canada experiences, the burst into summer is like a surge carnival for Canadians. Outdoor sports, activities, food, fun, frolic makes its way everywhere. The day long food

Anjali

www.batj.org


Some Musings Some Rumblings festival is a delight for the taste and mind – relish great cuisine while overlooking the majestic Niagara Falls. Uncountable varieties of culinary were spread out. For the whole day I had the privilege of enjoying different kinds of gastronomic items. There were American burgers, Mexican tacos, Spanish paella, Japanese sushi, African jerk chicken, Indian biriyani, Middle Eastern kabobs, trendy Gluten free cooking etc etc, - you ask for it and it was there. I enjoyed every bit of this without doubt. The uniqueness of being able to float my appetite and taste buds in that galore of extraordinary variety is such a pleasant feeling. Towards the sunset hours I sat closer to Niagara Falls with a chicken pâté in hand. The evening music band was about to start. I wanted to appreciate the remaining part of the day amidst this exceptional nature. As I bit into the pâté, to my utmost amazement I craved for ethnic regional items of ‘mocha-r chop’, ‘deem er devil’, ‘chola-r bori’ (Banana flower croquette, egg devil, chickpea fried)! I also remembered my grandmother’s preparation of an extremely delicious vegetable dish made with pumpkin, black eyed peas, potato. She would

lochis (puri). My grandmother was nearly 70 years old then. She would serve the food herself to make sure I ate properly. I was probably in lower elementary school at that time. Every time

she said ‘kumro r chokka’, I would giggle uncontrollably and roll into fits of laughter. The very word ‘chokka’ would bring out a childish vivaciousness in me and my after-school lunch at home would thus take very long to complete. But my grandmother would always sit with me even throughout this silly, juvenile prankish mode. Here I am, amidst one of the wonders of the world The Niagara Falls, joining in the food festival that is sought after by so many people – and the most ordinary and usual segment of my Calcutta childhood comes right before my eyes. It is indeed strange when and how things can turn out to be the way they are. If anyone can read my mind, he or she will know at that moment I would have agreed to give up many things in exchange of a plate of my grandmother’s cooked ‘kumro r chokka’.

call it ‘kumro r chokka’. She would cook this fresh when I came home from school and serve it with milk white puffed

www.batj.org

Sorry, if I have bored you with these silly anecdotes. Lately I seem to have got into an addiction of musing childhood …… and it is awesome! 

Durga Puja 2018

65


The Extended Family - Amit Roy

I

t was a cold and chilly night. All alone, I was pacing up and down the huge white corridor, absorbing the antiseptic smell and silence all around me. They had just taken her in and with perspiring fists tightly clenched, I was praying to the Almighty to provide me fortitude and luck. Suddenly I felt a soft hand upon my shoulder, ` Beta saab thik ho jayega (Son, everything will be alright). Was I hallucinating? Was this my mother who had just that day received her visa to join us in this alien land? Was this any of our friends whom I never got a chance to inform of this sudden development? Startled, I turned around to face an elderly couple and realized that they were our next door neighbour! Though I had never spoken to them earlier, my wife talked about how she had got friendly with this lady just a couple of months back. We were a year old in Dubai and on that night, this elderly couple had come all the way to Al Wasl Hospital to provide me courage and to bless our son who saw the first light of his life. Aunty and Uncle, as we called them, were an elderly Pakistani couple, veteran expatriates in the Middle East for more than two decades. On the contrary, we had just left India soon after marriage and my wife was still feeling homesick having left the comforts of known faces and familiar environment. During those initial days of settling down, while I was away at work, she found a new companion in this elderly lady, nearly the same age as her mother. Despite their age difference, the chemistry gelled and soon Aunty took charge of my wife`s antenatal care as if this was an unannounced mother-daughter bonding. Motherless and mother-in-law less, knowing nothing about babies and mothering, unwilling to trust the foreign environment, my wife turned to Aunty with a relief and clutched her as if a life jacket. With every new syllable and step that our son learnt, the bonding between the two families strengthened. Despite the Kargil, LOC and the Sharjah rivalry, we became part and parcel of the couple`s lives. It was only natural then that I escorted Uncle to the Welcare Hospital in the middle of the night when he complained of chest pain. At the same time, I could dash off to those official tours, reassured that there was someone to take care of my family in my absence. Very soon the two ladies initiated the unofficial ` Ladies Association of the Building` that had a multi ethnic and multi lingual character. On several evenings, while returning from work, I was witness to concoctions of English, Urdu, Arabic and more of the grunts and nodding of the head! I was also strictly instructed not to venture home unannounced lest I disrupted the kitty party. But it was not as if they left us out! I still remember the day I won the Gulf Toastmasters Championship and the impromptu felicitation organized by the `Association`, with neighbours curious to learn how to raise a toast! It was imperative that on Thursday evenings, I rubbed shoulders with

66

men as old as my father in the ritual weekend gathering. Thus after six years when we decided to relocate to Dhaka, both Aunty and my wife were heart broken. While debating the pros and cons of the decision, what was uppermost in our mind was the feeling of ennui we would feel without such neighbours in our new surroundings. But no sooner had we moved into our apartment in Dhanmondi, than the doorbell rang. And all our apprehensions were dispelled! The new Kolkatar Boudi was greeted with open arms and soon history repeated itself! We were back to square one with a new set of faces- the only difference being the common language we shared! Unofficially our apartment was rechristened the Kolkata Consultancy Bureau- where Boudi suggested whether the wedding saree should be bought from Park Street or Gariahat and Dada had to recommend the best cardiac treatment in town! The `Jassis` and `Kasauti Zindagi Kiis` also played their role in this common thread of bonding with the Bhabis curious to learn the language and to know if Preranas and Tulsis actually existed in modern Indian families! And the saga continued………our next port of call, `Naija` (as the Nigerian would lovingly say) was no less different- our neighbors in the gated compound in Victoria Island, Lagos was a medley of multi national and multi cultural families all seeking solace from one another and trying to enjoy life within the restricted environment with all its challenges. Weekend pool side parties and the impromptu get togethers were the order of the day- where the wives would spend hours boiling the `Potjeikos` (traditional South African dish), barbecuing the delicious `Suya`( a must have in Nigeria) and marinating the succulent `Shish Tawook`- gastronomical delicacies which further knit all of us together as one community. This was truly a `Small World`- where Diwali was celebrated with as much zeal and enthusiasm as Eid and Christmas. Thus it was not surprising that our Nigerian neighbor was our savior the night when some hoodlums tried to enter our compound and he was prompt enough to call the local cops – all for his foreign neighbors who were guests in his land. The decade old bonding still continues though most of us have moved on and relocated across the globe. Having been out of India for the last 21 years, our neighbours have been our extended family and our companions in our joys and sorrows. Of the few treasures a man can possess, friends are the most precious. And if these friendships have been forged over a warm cuppa and shared laughter at the neighbor`s house, one could not be more fortunate. So remember, the next time when you bump into that unknown face in the elevator or when pulling out of the parking lot, a genuine smile and acknowledgement can trigger that special bonding- nameless, ageless, creedless and selfless. For a neighbor in need is a friend indeed! 

Anjali

www.batj.org


The Bengali Bou - Nivedita Singh

B

eing raised up like a free spirited kid in a nuclear nontraditional multicultural family, getting married into a traditional homogenous Bengali family was quite an experience for me. After dating for a while I ended up visiting his family on the biggest event of the year for Bengalis- Durga Puja. While I’m unaware of my family tree I could see his’ deeprooted and flourishing family spread across one locality. While I was still trying to cope with the onslaught of peek a boos from his relatives who seemed to turn up for no apparent reason, my father in law (who seemed oblivious to all this) nonchalantly asked “What do you think of the political situation in Pakistan?” It took me a while for me to digest all of this and now I know that it’s natural for Bengalis to raise controversial questions while munching snacks as if it’s something which helps release their enzymes. Slowly the awkwardness fizzled away as the sugar rush kicked in from the sandesh I kept munching on and I started feeling more at home there. Every day that I spent at his home, his sentimental bong “maa” cooked the best meals ever with a sumptuous spread as lavish as a buffet at one of those posh Delhi weddings (although, the options were much more “livelier”, ahem!). Given that she spent so many hours every day busy in preparations in the kitchen, it really amazes me that she never got infuriated when we sometimes turned up with our stomachs full after one of our hogging sprees on Kolkata street food. I still vividly remember the first time I devoured the buttery divine flavour of Hilsa with green chilly, pinch of salt mashed with rice, the fish melting in my mouth. This one event became catalyst for the cascading Bengali cooking experiments I started doing in my own kitchen later, none of which have ever disappointed me (except when I climb on the weighing scale).

www.batj.org

Unlike my ‘mamma’, ‘maa’ spends like a gazillion hours in her “temple”, which is in the attic and has at least 10 different gods who are bedecked every day. She talks a lot about her religious beliefs which I don’t always agree with, yet to establish a bond with me, she spent hours translating bits from a book on nutrition she recently published in Bengali. Although she wanted her only lad to wear “Panjabi- dhoti” and sit topless in the marriage ceremony, it mattered to her if I differed on it and we worked out a middle ground. On the last day of puja, ‘maa’ introduced me to a gaggle of local Bengali women who had turned up at our place to satiate their curiosity about the new “bou”. It was the one day when I was really happy that I didn’t know Bengali and so I couldn’t really understand their numerous questions, all I could do was smile and say “haa” sometimes when I could piece together some familiar words. Slowly as my new family felt I was getting amalgamated in the surroundings the Bengali urge to show love by keeping a daak name emerged. It’s been two years now and they are still looking for one. The ideal end to our first meeting was when my father in law brought a jar of “Pickles” during dinner and said “Nibedita tumko pickle chaiye, hum laya”, thinking that this much needed North Indian comfort food would make me feel at home. It was such a relief and while sucking on a mango seed from the pickle jar I couldn’t help but reflect how times with family can be sour and sweet but can only work out if we stick together in one jar, as tight as possible. From tragic to humorous to argumentative, this might not be able to capture every mood and sentiment of the splendid ‘Poribhar’ I found, but I hope that to some extent it depicts the zest of this concoction. 

Durga Puja 2018

67


The Homecoming - Utsa Bose

T

his is a story of an exile, of an escape and of a return. We’d left the sleepy city of Yokohama in 2009; we’d flown back to our hometown, to that tiny speck on the eastern margin of the subcontinent, to Kolkata, we’d seeped out of trespassed land like tea out of a teabag. “I will remember you,” I remember saying, but, like most promises made between the ages of 9 and 18, this, too, was lost in translation, in migration, in the voyage called adolescence, obscured, almost-invisible in the mists of lost time. The parochial walls of nationality, of ethnicity, of identity and of culture had, in the course of the next few years, made me forget about what I had left behind. I still couldn’t fit in though, not completely. It’s funny when I look back at all those places I’ve left behind. In Japan, I was an Indian among the Japanese; here, I was a Japanese among the Indian. Every place tries it’s best to impose its own definition of identity, and I was soon sucked in, enamored by “roots”, I quickly rejected everything I’d experienced till then, I cast it off like an old layer of skin, I folded my past into a napkin swan and kept it hidden underneath my bed. And so, life chugged on. With time, however, I realized that I couldn’t merely cast off this amphibious, dubious second-parentage that I had. My Japanese-ness would leak out of me, unconsciously, when I would, for example, hear someone say ‘Konnichiwa’ in a crowded bus stand, it would leak out of me whenever anyone would claim their love for Japanese culture, in an instant, other languages would take a backseat and I would become the seven year old I was, again, speaking the Tokyo Kansaiben like there’s no tomorrow. My Indian-ness, on the other hand would leak out of me when I’d hear someone talk about “Indocurry”, of Naan and other stereotypes. I couldn’t, try as I might, be a binary, an Indian or a Japanese. There would always be some sort of a lacunae. I would forever inhabit this penumbral shadow zone, this gray area of neither-here-nor-there, always be a hybrid, a mongrelized national. I’d rejected everything I had left behind to fit in, to find my place in the sand of “home”. When talks of a possible return, albeit for period of one week floated in the air inside our house, I couldn’t help but feel a strange sense of dread at having to go back to my city of exile. The ghosts of places I’d left behind, of people I’d promised to keep in touch with but forgotten to on purpose, all of this and none of this settled on me like a dust cloud and it was with

68

tremendous trepidation that I reached Yokohama. I was amazed by a strange paradox here; I recognized nothing but remembered everything. Walking down the roads of Sakuragicho, the overexcitedly lit lanes of the Chinatown and the cobbled sidewalks of the Yokohama National University, I felt a strange, sublime and serene sense of homecoming settle on my heart. I walked a little further and reached the house we lived in. Hidden behind a new building now, it still looked just as sleepy. The paint had faded a little bit, and I wanted to go in, but then I remembered that the flat had new tenants now. Memories and suitcases had been packed and taken away, and the rooms vacated had been quickly filled by others waiting in line. I walked back to the University and decided to sit near the open air theatre, looking at the imposing trees surrounding me. The air was chilly and the theatre was vacant. It was at that moment that I heard a tiny rustling sound, turned and saw a little boy, no more than eight, looking at me from a distance. He was wearing my old orange jumper, he was armed with an insect catching net in hand and he looked at me and waved. I waved back, not knowing what to do. We looked at each other for a while; he, my past, I, his future. He stared at me for a while longer, a strangely satisfied yet curious expression on his face, then he doubled back, laughed a little, and ran away, back where he came from. It was at this moment that I felt the city smiling at me, telling me that it loved me and I realized that I too, loved it back. Even if I had forgotten to remember that. As children of translation, we carry within ourselves the burden of the past. We carry within ourselves not only whatever we’d done, but also every place we’ve lived and left behind. We are haunted by this tussle between home and the world, between love and responsibility; we are the twice-borns, inhabiting the border, unable to choose whom to be. But this zone of the penumbra, while being neither black nor white, can also be seen as both black and white. We carry within ourselves the burden of the past but also the opportunities of a milieu in the future. We may not always be able to choose between sides, but as long as there exists a struggle, as long as there exists this tug-of-war, there is hope. 

Anjali

www.batj.org


The ‘New’ Bank of Japan - Sanjeev Gupta

T

he Bank of Japan (BoJ) is under a clear transformation. While the first term of Kuroda’s governorship was defined by his ultrareflationary monetary policies aimed at reversing two decades of deflation in Japan, his second term will be remembered by his success (or lack thereof) in maneuvering Japan out of the aforementioned policies. The dramatic shift in stance is evidenced by an article on Reuters titled “BoJ’s architect of ‘shock and awe’ plots retreat from stimulus (August 6th)” which reports that the BoJ had originally intended to raise short-term rates twice this year, before getting discouraged by the market volatility seen in February and later by the decline in inflation.

Unfortunately for Japan, Kuroda’s aggressive experiment in ultra-loose monetary policy has failed to stoke inflation towards the BoJ’s espoused 2% target with the latest reading for core inflation (ex-fresh food and energy) at a disappointing 0.0%... This is despite 80 trillion yen of annual JGB (Japanese Government Bond) purchases, 6 trillion yen of equities purchases, negative short-term rates and a 10-year JGB yield anchored at 0%! Instead of generating inflation, Kuroda’s policies on negative interest rates had the unintended consequence of severely hurting the margins at Japanese Banks. BoJ’s miscalculation lies in the fact that (unlike US or EU banks) Japan’s banks receive a majority of their funding via individual customers deposits on which they hardly pay any interest to customers. In addition, banks are unable to charge individual customers on these deposits. This meant that while the rate at which Banks lent money fell significantly, Banks did not see a commensurate decline in funding (deposits) costs. This significantly hampered Japanese Banks’ ability to earn a spread (margin) on loans. The market reaction was telling: Japan Bank stocks fell 28% in the weeks following the announcement. Alas, Bank shareholders can rejoice as these policies may be finally set to reverse. The market received its first concrete indication of a monetary policy taper in the BoJ’s latest Monetary Policy Meeting. At the meeting’s conclusion, Kuroda announced that the BoJ will allow the 10-year JGB yield to move as high as 0.2%, double the previous range. This move makes sense, as multiple years of ultra-loose monetary policies have failed to stoke inflation and instead have created unintended harmful sideeffects, as mentioned above. Furthermore, global Central Banks are moving towards monetary Policy Tapering (i.e. reduction of quantitative easing) and BoJ risks getting ‘behind the curve’. Bank stocks have reacted in kind, rebounding from their July lows. However, you can expect further gains over the next few months as the market fully digests the ‘new’ BoJ and its focus on reviving profits at Financial Institutions! 

www.batj.org

Durga Puja 2018

69


Firdous - Udita Ghosh If I wandered onto the poetry The winds and sun have written, Unknowingly, stepping on gifts Magnanimous skies bestowed — I did not steal away ungrateful, Scattering webs delicately spun; With wonder I drank the enchantment, Humbly, the waves I rode.

Veiled Splints - Soumitra Talukder Why do you smile so much? What is the malady you hide!   Like the veiled splints in the posies of bloom,             And the euphoria for the quest in life. Bound by destiny yet limitless wishes, All you have are the wings of fairies. What is that you ask for in pretense of grace! Is the treasure of priceless love..!! Whisper my name from wherever you are, A few words in solace, Gliding thru the paths of silence. The amorous revelry in the moments of romance, Caress the nuance of heart while it smile, I shall hold your satire to my benevolence.

70

Anjali

www.batj.org


インド文化と出会って 生誕100周年に寄せて

- 佐々木みどり 私の生まれは北海道十勝です。大自然の中、厳しい冬には 雪が舞い一面は銀世界が広がり、また大平原を爽快な風が吹く 緑の中で育ちました。小さい時には野生の熊と遭遇したくらい本 当に田舎暮らしで山や川はお友達という環境でした。成人した 頃は何かの表現者を目指して舞台を学び、卒業後は踊りが好き でミュージカルが観たくてNYのブロードウェイに半年間ダンス修 行した経験があります。夢半ばで結婚し子育て仕事と普通の暮 らしを送っていました。そんな中タゴールの詩に合わせて踊る舞 踊は、私の心の苦しみをも解放してくれました。それはタゴール が人生をかけて表現されたその詩に深い意味があるからなので す。更に無心に舞うことは「生を受けた喜び」そのものを思い出 したかのように感じました。きっとこの世に誕生した時、そんな風 に「無」であったはずです。日常生活の中で自然を感じる時間が 少ない私にとっては、この舞踊の時間が幸せを感じられる尊い 時間(とき)になりました。 日本にいながら「インド」の文化を体験できる機会があったこと を私は幸せに思います。そして「タゴールダンス」とは、シュクリシ ュナ先生がいらっしゃらなければ、私は出会うことはできません でした。私が現在住んでいる静岡県沼津市で、『ポリバルの会』 を主宰されております石井シュクリシュナ先生の下、タゴール舞 踊を習っています。習い始めは2008年の2月からで、もう10年と いう月日が流れました。その中でインド刺繍やインド料理、ベン ガル語も少しですが習ったこともありました。  シュクリシュナ先生は幼い頃より曾祖父、祖父と深いかかわ りのあった東洋で初めてノーベル文学賞作家タゴールの影響を 受け書物はもとより音楽、舞踊に触れながら育ったそうです。カ ルカッタ大学で心理学を専攻し、卒業後タゴールが創設した国 立ヴィシュヴァバーラティ大学でテキスタイルデザインを専攻、イ ンド音楽、舞踊と日本語も学ばれました。1987年に来日しインド 文化を広く伝えるための活動拠点として『ポリバルの会』を主宰 し、タゴール舞踊、インド刺繍、インド料理、英語、ベンガル語を 教えています。この『ポリバルの会』の中で1991年に発足したの が、タゴールダンスを習う会の「アノンドニケトン」です。“アノンド (幸せ)”と“ニケトン(住まい)”という意味だそうです。このダンス はインドの偉大な詩人「ラビンドラナート・タゴール」の詩に古典 舞踊の動きを取り入れながら、大いなる宇宙・人間の感情や自 然に対する精神の世界、愛と平和と全ての調和を身体全体で 表現する東インドのベンガル地方を代表する舞踊になります。ま たその活動範囲は、地元はもとより各地で行われるイベントにも 参加し、踊りを披露して国際文化交流の手助けをしています。ま た東北の被災地でのボランティア活動やNHKの特集番組への 出演などの活動も広げています。私もその一員として沢山の経 験をさせていただいております。

   ~インドの心に触れる旅~ 2011年11月に『ポリバルの 会』のイベントを目的とした念願のインドへの旅が実現しま した。一言では語りつくせない程の喜びと楽しさと笑いと エピソードやハプニングがあって、私はなお一層「インド」 の虜になってしまいました。旅行中のイベントはコルカタ の“Rabindra Okakura Bhawan” で行われ、私達が用意した日 本文化を紹介するブースがあり、折り紙や習字体験・風景写真 の展示・日本料理の紹介・風呂敷や和紙によるラッピングコーナ ーがあり、舞台では花笠音頭・よさこい・日本舞踊を披露し、タゴ ールダンスとタゴールソングや楽器の演奏は現地のゲストの方 々との共演となりました。ホール全体が一体となり、大いなる神 様に包まれているかのようでした。それ以上に大いなる「家族」を も感じました。  インドの大家族で育ったシュクリシュナ先生は日本に来て文 化の違いでなかなか友達が出来ず寂しい時もあったそうです。 しかし、いつか必ず自分の友達の家族を作りたいと強く思い、5 年間はインド人の自分を忘れ去り日本の文化を学んだそうで す。そしていつかインド文化の会を行った時「これが私のポリバ ル(家族)だ、ずっと探していた、見つけることができた、日本の ポリバルだ」と。そして、いつかインドと日本のポリバルとを一つ 屋根の下で会わせたい、という夢を心に願ったそうです。その大 切にみんなで守ってきたこのポリバルの会でインドの地を踏めた こと、そして双方のポリバルの心と心の交流が出来たことで、シュ クリシュナ先生の感極まる様子に私達も胸が熱くなりました。感 動の一日に感謝の気持ちでいっぱいになり、私もまた望郷を感 じ、この「ポリバル」がもっと大好きになりました。  公演後の翌日は憧れのシャンティ・ニケタンへ。サイクルリク シャーにテンションも上がりましたが、それよりもびっくりしたのが 大きな木の下で、楽しそうに歌を歌っている子供達でした。ゆっ くりとした時間の流れとそよ吹く風を感じられて、そして木漏れ日 が私たちを包んでくれているようで、その瞬間は心が洗われたよ うでした。ここでは大いなる宇宙の中で、自然と人間との調和を 身体で、そして五感で感じている場所なのだ、ビルディングの群 れではなく、大地と木の精霊たちの中でこの幸福感を感じられる のは一生涯の宝物ではないか・・・と思い、【今から百年のちに】 という詩を思い浮かべました。 

その中でも印象的なイベントとして、チャリティ活動で集まった 寄付をインド旅行中にマザー・テレサの家に実際に届けたことで す。そのチャリティはタゴールダンス・インド刺繍の展示や体験・ サリーの着付けやファッションショー・インドの手工芸や写真の展 示・インド式ハンドマッサージ・言葉(ヒンディー・ベンガル・ウル デゥー語)やインド数学の紹介・チャイやお菓子・インドスナックな ど、沢山のボランティアの方達と手作り感満載のフェアで皆さん に大変喜んでいただきました。そのチャリティでは「ただ寄付して いただいたということではなく、インド文化を通して人が集い、心 と心の交流があったもの」と私は思っていたのですが、「自分の 喜びをシェアするだけではなくて、大人も子供も皆で触れ合うの が交流の目的」というシュクリシュナ先生の言葉に私はとても感 銘を受けました。同じ志を持った仲間とインド文化を通して同じ 時間を共有し、そして感謝の気持ちをもってお渡しする、というこ となのです。シュクリシュナ先生の傍でいつも感じることが、その 原点はどういうところから来るのだろうかと、その思想の根源は・ ・・と日本の教育では得られなかった何か大切なものがあるので す。「慈悲の心」というには、簡単に説明できないものなのです。 www.batj.org

Durga Puja 2018

71


全ての困難を取り除く御方 ―宇宙の母マザ-・ドゥルガ-

- 新田 ゆう子

BATJのドゥルガ-プージャに来るようになって、5年が 経ちました。 初めて女神ドゥルガ-の姿を見たのは、北インドリシケ シの街中だったと記憶しています。 毎夕アラティを行う街の繁華街が近いトリヴィニ・ガート の参道の、神様の絵やお供え物を売る店先でした。 インドには様々な神様、女神様がいて、その絵や像を 売る店があちらこちらにあり、また、車やリキシャの運転 席やお店の入り口には必ずそれらが飾られています。勿 論、普通の家庭にも。 女神ドゥルガ-は、乗り物である虎を従えていて、それ が怖そうというか強そうで、苦手でした。

しさは戦う姿に変わるわけです。子供の幸福のための戦 いー。 カーリー女神やドゥルガ-女神は、恐ろしい形相をし ていますので、愛や受容も表していると聞いても、信じら れません。しかし、人間の(ここでは女性)気持ちを考える と、その両面を持っていますし、怖くなったり優しくなった りして日々生きていることを思えば、簡単に理解すること が出来ます。 わたしの好きな学問と芸能の女神サワスワティは見るか らに女性的で、戦うイメージは微塵もありませんし、お金 の女神ラクシュミーも同様。この2人は、ドゥルガ-の娘た ちなのですね。娘は、まだ、恐ろしい部分を出さなくても いいということかなぁ…。

ラーマクリシュナ・ミッションの夕方の礼拝では、三つ の歌を歌います。三番目が、「サルヴァ・マンガラ・マンガ レ―」という、女神を称える歌です。美しいメロディーで、 大好きな賛歌です。 この賛歌の内容について、ヴェーダーンタ協会で学ぶ 機会がありました。 インドの有名な物語「プラーナ」は18あって、その中の 1つ「マールカンデェーヤ・プラーナ」の、そのまた1つの 部分は、ドゥルガ-のことを扱っています。 女神、マザ-・ドゥルガ-は「幸福」が形として現れた 化身だそうです。その風貌、悪魔と戦う姿が、幸福の形と は俄かに思い難かったのですが、何回か勉強を重ねるう ち、その戦いの理由や神・女神の深い意味を知り、ドゥル ガ-に対する印象が変わっていきました。

BATJのプージャでお祀りする女神像は、インドで制作 し飛行機で運ばれ、プージャが終わると何処かのトランク ルームに仕舞われる、と聞いたことがあります。1年のお祭 りの日以外はそこで眠っているのかぁ~と、溜息と共に驚 きの気持ちが湧いたものです。本国、インドでは、ガンガ ーに流す、その時は大変な熱気らしく、一度は本場でドゥ ルガ-プージャを体験してみたいです。像は泥で出来て いますから、溶けてしまうので、産業廃棄物にはならない のでしょう。 以前、「霊性の修行を重ねて心が清らかになった方に は、その像は真の神に見える」と、何かで読んだことがあ ります。ドゥルガ-プージャでお祈りをしても、女神様が土 から出来た像にしか見えないわたしは、まだまだ心が清ら かではないということなのでしょう。

インドに限らず、女神は母、というイメージはどの国にも あります。イエスの母マリア様。日本でしたら、観音菩薩、 天照大御神、でしょうか? 母親は、例えば自分の子供が危険に曝されたら、その 身を挺して戦うこともするでしょう。誰かを守るために、優

72

以前よりはドゥルガ-女神に対する理解が出来、プー ジャに参加することを今から楽しみにしています。女神像 は、今年はどんな風に見えるのでしょうか?                                                               了

Anjali

www.batj.org


池の水全部抜く大作戦 日本VSインド - 川満 恵理菜 今、テレビ東京で池の水全部抜く大作戦という番組を 放送していると母から聞いた。そして、池の水を抜くと様 々な魚が続々と現れ、その中に鯉もいたと言う。そしてそ の鯉があまりにも立派だったので、父にもその番組を見せ たらしい。父はベンガル人。ご多分にもれず鯉料理が大 好きだ。私が小さい頃、ドライブに誘われ、どこに行く?と 聞かれたら即答で 鯉の養殖所! と答えるほどだ。そう いう理由でその番組に登場する鯉を見せるべく録画して あったその番組を見せたら予想外のコメントが返ってきた らしい。 インドの田舎(父の田舎は西ベンガル州のバネスワプー ルという場所だ)でもやっているよ。しかもそこそこ定期的 に。しかも、やり方もほどんど変わらないよ。 この話を聞いた私はよし!今年のAnjaliの原稿はこの話 しよう!と決め、こうして今書いているのである。 又聞きの話しである為、私もこの番組をYoutubeで見る ことにした。今は便利である。見逃した番組や、見返した い番組をネットで見ることができるのだから・・・結構長い 番組なので、半分ほど見てやめてしまったのだが、まずこ の番組を見たことある人に説明したい。父の田舎の池はこ の番組に登場するほど大きな池ではない。それだけは頭 に入れておいて欲しい。特に高知城の池の水を抜く回に 関してはとてつもない面積なので、そんなどえらい池を想 像しないで欲しい。それでも水たまりほど狭い範囲ではな いので大変であるはずだが・・・ さてさて、番組を見て予習をした後は父へのインタビュ ーだ。どうやってあの田舎で池の水を抜いているのか。ポ ンプで水を抜くとちらっと聞いた現代っ子の私は電動ポン プしか思いつかず、あの停電が多い田舎(今は昔ほどひ どくはない)でどうやってそんな電力を使ってポンプで水 を抜くのだろうと不思議に思っていたが、どうやらこれに関 してはディーゼル(軽油)を使ったポンプだということが判 明した。話を詳しく聞くと、池の水を抜く手順は簡単に説 明するとこういうことらしい。 夏が始まる前にポンプで池の水を抜く→一定の水量を 残し、鯉などの魚を捕まえる→泥の中に隠れている魚を 待ち構えて捕まえる(この作業の名人?までいるというか ら驚きだ)→さらに水を抜く→ しばらく放置するとどこかし らからちょろちょろ水が出るから、さらにその水も抜く→乾

www.batj.org

かす→しばらくして雨が降り、新しい水が溜まっていく→ 一定量溜まったらココナッツの皮や牛のふんを乾燥させ た物やその他もろもろ、魚のえさとなるものを入れる。そう すると2週間ほど水が汚くなる。小魚を入れたら即死する ほど汚いらしい→約2週間で水のかさも増え、水もどうい う訳かきれいになるらしい。とにかく色々なものを投入して から2週間は臭いし汚いらしい→きれいになった水に魚の 卵や小魚を投入。 こんな感じらしい。魚の養殖ビジネスをしている池は毎 年この作業をしている業者もいるらしいが、一般の池は5 ~6年に一回やるようだ。 さて、この一般の池の話だが、田舎なので水道がない 家も多く井戸水を使っている。その井戸水で洗うのが面 倒なのか理由は定かではないが、池で食器を洗っている のを小さいころから目撃していた。そして、その同じ池で お風呂も入っていた。日本に暮らし、たまにしか田舎に行 かない私はあの水はきれいなのだろうか?といつも思って いた。母曰く、池の水がきれいかどうかはわからないが、 あの田舎で臭い人はあんまりいないからきっと大丈夫なん じゃない?とのこと。食器に関しても、みんなそれで生活 していっているのだから大丈夫なんだと思う。そう信じてそ の池で洗われたであろう食器を私は使ってきた。ただ、今 回この水を抜く話を聞いて、きれいかどうかは定かではな いが、思っているほど悪くないんじゃないかと思ってきた。 かえって日本の池の方が汚いかもしれない。生活全般の 清潔さはどう考えても日本の方が上だが、池に関してはも しかしたら・・・と思い始めたのだ。投入するココナッツの皮 だの牛のフンだの色々あるが、よくよく考えてみたら自然 に帰っているだけではないか。それに対し、日本の池に 捨てられているものといえば空き缶だのビニールだの財 布だの、自然でないものばかりだ。ヘドロもひどいらしい。 だからと言って今その田舎に行き、その池でお風呂に入 れと言われたらさすがに無理だが、その池を見る目はこの 話を知る前と後では確実に変わったと思う。 いつもAnjaliに何を書こうか迷う私であるが、今年は非 常に珍しい話を書けたと思っていますがいかがでしたでし ょうか?みなさんの田舎にある池ではどんなことをしてい るのか、日本人や現代っ子のインド人は知らないのでは ないでしょうか?機会があれば(池が近くにあった人限定 になりますが)親や祖父母に話を聞いてみてはいかがで しょうか?面白い話が聞けるかもしれませんよ? 

Durga Puja 2018

73


心は最悪の友にもなり、心は最高の親友にもなる 求道者Xのモノローグ

- 佐藤 洋子 一、堆積されたカルマ[1]も その上に 新たに産まれるカルマも 心無ければ 出現できぬ 二、次々と 顕れ消える紙芝居 総監督は 心 霊妙な 内なる世界 浄らかな 流れ遮り 惑わしてるのは 誰か? それは心 だが何故? なぜ心なのだ! 三、心を潰して しまえ! 心の住居は肉体だ! 肉体が 悪の根源? それを 潰してしまえ! 強制的な 排除は 自死 しかない 四、たとえ肉体こわしても 心ごと 消滅させられるのか? それはできない 不可能だ 心の宿は身体 魂(アートマン[2])の宿も同じ宿 心はいつもピッタリと 魂と一緒 離れない 宿が無くなるそのときは 心も一緒に魂と 新しい宿に寄宿する そこでも心は惑わしを 繰り返し つづけるだろう 輪廻の車は止まらない 悪の根源断ち切れない 五、なぜ心は野放図に 勝手気ままができるのか 許しているのは 誰なのか? 何もかも ただ眺めてるもの アートマン? 起きては消える放埒を ただ眺めてるもの アートマン お前の意志よ目を覚ませ 心と自己とを同一視 している夢のたれ幕を 引き裂け 識別のサーベルで 六、心の悪い傾向を 直すことができぬなら 心を奴隷に してしまえ お前の! 同じ命令されつづけ 逃亡不可能を悟るとき 心は言うこときくだろう 七、無限の、可能性秘めた心を 識別の鞭もて打つ ばかりでなく ときどきは 飴を与える要もある 主を思い うっとりとなる甘い飴! 今までに 味わったことない 甘美なもの、 神への愛と渇仰と そんな名前の麻薬飴! 味を覚えた心は 麻薬の飴の常習者

74

Anjali

www.batj.org


心は最悪の友にもなり、心は最高の親友にもなる

八、魂よ 今は 一服していても 大丈夫だよ 放っておいても心は あの 毒の蜜をもとめて 強力な 引力そのものアートマン 別名神 を 求めるように なるから 永いあいだ 浄らかさ 妨害していた心 本当は 自己の姿を探してた 妨害しながら 無意識に 効き始めた毒の飴 朧気に 感じ始めた異次元の 神の世界をチラチラと ひと時も 離れることは できなくなるよ 心は 甘美な無間地獄へと 没入しつつ落下する アートマン またの名 ブラフマン[3]と 融合するまで! 九、心が制御をされたとき 初めて悪の根源は 破壊されて消滅す 浄らかな 流れ遮るものはなく 永遠と呼ばれる海に流れ入る 五感惑わす元の元 サムスカーラ[4]の製造機 心は消える永遠に 一〇、悪い傾向の製造機 心は正反対の 鍵にもなる 永遠不変 至福と無限と自由への 巨大な力を秘めている だから 親愛なる友 お前自身 アートマンよ魂よ! いつも心の主人たれ! 宇宙存在以来から お前は心の主だった 一一、心の奴隷になることを 決して許すな一秒さえも 一息も かすかな悪の兆しさえ お前のセンサーに触れたとき 秘密兵器マントラ[5]の 強烈連射で撃ち壊せ それでもしぶとく残るなら 流れの向きを変えさせよ 甘美な餌をちらつかせ 懐かしい 神のほうへと チェンジさせよ ギアを! 心を! 

[1]karma 行為。義務。儀式的礼拝。 [2]Atman (本来の、普通の、至高の)自己。至高の魂。アドヴァイタ・ヴェーダーンタは、個別の自己はそれと一体であると説く。 [3]Brahman 絶対者。ヴェーダーンタ哲学の最高の実在。 [4]samskāra 前世から持ち越された傾向。 [5]mantra サンスクリットの聖語。ジャパ(japa、唱名。神の御名の反復)に用いられる聖句。 以上注釈は、日本ヴェーダーンタ協会改訂版第一刷「ラーマクリシュナの福音[全訳]」より引用。

www.batj.org

Durga Puja 2018

75


―タゴール記念会発足60周年記念― - 平井 誠二、星原 大輔 大倉精神文化研究所 Okura Institute for the Study of Spiritual Culture ラビンドラナート・タゴール(1861~1941)は、インド・ベンガル州出身の詩人・思想家で、アジア初となるノーベル文学賞を受賞し た人物です。音楽・戯曲・絵画などでも豊かな才能を発揮し、彼の深い知恵と高い精神性は、世界中の人びとに強い影響を与えま した。大倉精神文化研究所の創立者・大倉邦彦(1882~1971)も、その影響を受けた一人で、研究所設立の精神の一つに「東西文 化の融合」を掲げたのもタゴールの影響と言われています。  1961年(昭和36年)のタゴール生誕100周年に向けて、インドでは、国家事業として、百年祭が企画されました。そして、インド首 相のネルーが、世界規模で記念されるべきという趣旨で、世界各国に百年祭の協同を呼びかけました。ネルーの呼びかけに応じ て、1958年(昭和33年)、生誕100周年を祝うタゴール記念会が日本で組織されました。その際には、邦彦が理事長に就任し、タゴー ル研究室が研究所本館(現在の大倉山記念館)内に設置されました。下記はその趣意書の抜粋です。

Excerpts from “TAGORE MEMORIAL ASSOCIATION – Japan PROSPECTUS” published in Tagore Memorial Association Bulletin Issued on Jan. 1st 1959 For the Centenary of Rabindranath Tagore which comes off in 1961, a big plan of Celebration is going on in India, on a nationwide scale and moreover on a world-wide scale. In the name of the Prime Minister J. Nehru an appeal has been sent to different quarters of the world; and especially to Japan cooperation has been proposed from Shantiniketan since last year. In the first letter from Mr. K. Roy, Curator of Tagore Museum, thus suggested: --“Surely you will agree that a Tagore Revival will be of the best interests to Japan, for Tagore was one of those universal spirits whose message never grows old or stale. There is also the factor of promoting cultural fellowship between Japan and India. But the special reason that I have in view is that I wish to see Japan preparing the ground for the Centenary of Tagore which comes off in 1961.” We wish to respond to this proposal with hearty eagerness. Tagore was very fond of Japan. He visited Japan three times, and left deep impression on people’s minds which is still alive. The friendship between Tagore and Tenshin Okakura or Taikan Yokoyama is memorable. It has a great significance in the history of national relationship between India and Japan, that we both were brought to such a close contact through Tagore at the time when we were not permitted direct diplomatic relations. Therefore, Tagore Centenary is also our own problem for Japan, as well as for India. But the special reason why we have such eagerness in memorialising Tagore, lies in the fact that encouraging Tagore-study must have great importance for present Japan. Its significance may be considered from two viewpoints; one is in regard with the progress of spiritual culture of Japan herself, and the other is with promoting the national friendship between India and Japan. 1) As to the first viewpoint: a) we are sure that our young generation must be inspired by Tagore’s deep religious and philosophical insight, as its results we can expect something new awakening arise in young men’s minds; b) the study of India in japan, though it reaches high level, is limited in researching into ancient scriptures, and studying Tagore will arouse people’s interest in modern India; c) Tagore offered the last half of his life to human education at Shantiniketan, and we hope his educational ideals would be introduced into Japanese education; d) Tagore, in his later years, came to cherish hearty homage to Buddha, and especially showed his sympathy with Mahayana Buddhism; it must give something new suggestion to Japanese Buddhists who have been nourished in the tradition of Mahayana Buddhism; e) his contribution was not limited within spiritual fields only, he was an actual leader of resurgent India; so his message will appeal to all leading persons in different fields of society. In conclusion, Tagore must be understood more deeply in present day than in his days. 2) As to the relationship between India and Japan, in 1956 the ‘Cultural Agreement between India and Japan’ was signed, and in 1958 the ‘Indo-Japanese Trade Agreement’ was concluded. Thus we have been brought into closer contact, and yet our knowledge of India is still quite limited. Under such circumstances Tagore Centenary may be of great significance for advancement of learning India in Japan. For to study Tagore is to know India. Such is the reason why we are so eager in taking up the Centenary Birth Celebration of Tagore. Since we have received a calling from Shantiniketan, after more than one year’s preparation, we have recently succeeded in organising ‘Tagore Memorial Association’ on a nationwide scale. Our concrete aims, objects, and activities are expressed in the Constitution; which will be promoted step by step. May the activities of this Association contribute a great deal to both India and Japan, and moreover to the human life and culture of the world.

76

Anjali

www.batj.org


―タゴール記念会発足60周年記念―

タゴール生誕百年祭は、晴天に恵まれた1961年(昭和 36年)5月6日、東京の文京公会堂で盛大に執り行われまし た。タゴールの精神を現代に顕彰するとともに、日本で行 われたインド文化の祭典としても、国内外に大きな反響を 与えました。

1929年(昭和4年)、タゴールは、日本を経由してカナダとアメリカの大学へ講演に向かいました。そしてカナダで講演を終えロサン ゼルスに到着したところ、アメリカへの入国を拒否されました。役所の対応に憤慨したタゴールは、予定をすべてキャンセルして、日 本にしばらく滞在することにしました。そこで、タゴールはラス・ビハリ・ボースに滞在先の手配を依頼し、「富豪の大邸宅での形式的 な歓待よりも、むしろ思想的に気分の分かり合える人がよい」と伝えました。ボースは親交のあった大倉邦彦に頼み、タゴールは大倉 邸に約1ヶ月間滞在することになり、帰国後も二人の交流は続きました。その滞在期間の思い出を大倉邦彦は下記のように綴ってい ます。

www.batj.org

Durga Puja 2018

77


―タゴール記念会発足60周年記念―

Excerpts from “My Recollections of Rabindranath Tagore – Kunihiko Okura” (tr. By Prof. Kiyoshi Yamaguchi) published in Tagore Memorial Association Bulletin Issued on Jan. 1st 1959 My recollections of Rabindranath Tagore go back thirty years to the man who aroused in those who met him an admiration for his profound oriental philosophy, his rich poetic sentiment and his noble personality. In the spring of 1929, I was asked by my friend Ras Bihari Bose, a refugee from India, to entertain Tagore, who was coming to Japan for a brief visit on his way back to India, at my house. The reason was that Tagore who had already visited Japan twice before, did not like a ceremonial entertainment at some millionaire’s luxurious residence, but rather preferred to stay with those who were sympathetic with his ideas. The poet had already read my writing translated into English and entitled “My Thoughts” which he had obtained through Bose. As the result of our meeting at the Imperial Hotel, I was given the privilege to entertain him as my guest at my house, Meguro. As my house was not so large, all that I could offer him was a bedroom, a study and a drawing room. During his stay at my house, he delivered a series of lectures on the subject of “The Philosophy of Leisure” at the Asahi Auditorium, Tokyo, and made lecture-tours at many other places of Japan. At the same time he had very many visitors, and I was afraid that his rest and meditation might be troubled. Sitting face to face with the Poet who was dressed in Indian clothes and sinking his tall stature deep in an armchair of the study, I talked about my project of building the Institute of the Spiritual Culture, which was already started, and he talked, in turn, about his school at Shantiniketan. The impressions I received then from him remain still vivid in my mind. Just about the time I invited to a party about fifty foreign students from China, Korea, and South East Asia, mostly the students of the Student House that I was looking after. And the Poet who was fond of young men came willingly to the party and passed half a day joyfully in company with them. I served him home-cooked meals at my house as a rule, but sometimes I took him out for characteristic Japanese dishes. He appreciated the Japanese taste and was much pleased with it. Tagore expressed his desire to introduce in India the judo, the tea-ceremony and the flower-arrangement of Japan, asked me to recommend some suitable teachers. I talked with Jigoro Kano, Chief of Kodokan, and Shinzo Takagaki was sent to India. After his return to India, Tagore sent me 170 volumes of his work written in English and Bengali and a model of an ancient Indian ship. These books containing his ideas and his sincerity are now kept in the Tagore room of the Okurayama Institute for Cultural Science. On the 70th anniversary of the Poet’s birth, I received a request from India to send some works of eminent philosophers, writers and poets of Japan for the memorial publication. Then I asked Dr. Tetsujiro Inoue, Yone Noguchi, and Saneatsu Mushakoji to prepare manuscripts, which Junzaburo Nishiwaki translated into English to be sent to India. It is thirty years since the Poet passed away leaving behind him the great cultural achievements. Soon we are going to celebrate the centennial of his birth. Recollecting my meeting with the poet, I am deeply impressed with the mystery of fate which brought us together.

タゴールは大倉邸に滞在中に体調を崩し、医者からは肺水腫・下腹部浮腫・軽い狭心症と診断されていました。邦彦らは手厚く 看病しました。タゴールは帰国後、滞在中に手厚い看病を受けたことに感謝して、ベンガル語の自著130冊と英語の自著29冊、計 159冊すべてにサインを記して、邦彦へ送りました。のちにタゴール記念会が収集した図書と併せて、現在、タゴール文庫として附属 図書館に収蔵しています。タゴールの寄贈本は、当研究所のホームページから全ページの画像を見ることができます。  2018年(平成30年)はタゴール記念会発足から60年目に当たります。それを記念して、当研究所では大倉とタゴールの交流を紹 介する展示を10月25日まで開催しています。ぜひご来場いただき、タゴールが邦彦に与えた影響と、日本とインドの友好交流の一コ マを知っていただければ幸いです。

Invitation to visit the Okurayama Kinenkan Currently the center is holding an exhibition to commemorate the 60th anniversary of establishment of the Tagore Memorial Association in Japan, and the exhibition will end on October, 25. However, many of the books in Bengali and English signed by Tagore himself are kept in the affiliated library and always available for public viewing. Please come by and enjoy the fruits of friendship between Tagore and Okura. 

78

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2018

79


ध्यान का महत - पूर्णिमा शा

था

ईलैंड में बारह फु टबॉल टीम के बच्चे और उनके पच्चीस साल के अध्यापक गुफ़ा की कै द से निकले और सब बच्चे तंदरु ु स्त और शांत लग रहे थे । गुफा में खाने और बिजली का अभाव होते हुए भी वे पूरी तरह से स्वस्थ और निडर हो कर बाहर निकले । बहुत ही आश्चर्यजनक बात यह थी कि इन बच्चों ने इतने दिनों तक अँधेरे गुफ़ा में कै से मुश्किलों का सामना किया । ये बच्चे अपने फुटबॉल के अध्यापक या कोच येकापॉल चानथावॉनग के निर्देशन से गुफ़ा में बैठ कर ध्यान कर रहे थे । उस अध्यापक के माता पिता दस वर्ष की छोटी सी उम्र में ही गुज़र गए थे । उन्हें बौद्ध धर्म के मठ में आगे की पढ़ाई के लिए भेजा गया । वहाँ पर उन्होंने बौद्ध धर्म के साधु बनने का प्रशिक्षण प्रारम्भ किया । उन्होंने इस घटना के तीन साल पहले ही यह मठ छोड़ कर वाइल्ड बोरस नामक एक सॉकर टीम के कोच के रूप में जगह प्राप्त किया । जो शिक्षा उन्होंने मठ में हासिल की थी वही शिक्षा बच्चों के प्राणों की रक्षा करने में मददगार साबित हुईं । ये बच्चे गुफा में घुसे तो थे लेकिन आकस्मिक बारिश के कारण, वहां पानी भर जाने के कारण बाहर निकलने में असमर्थ थे । जहाँ पर यह बच्चे फँ से हुए थे, वहाँ पर ऑक्सिजन की मात्रा बहुत ही कम थी । परन्तु स्वास की प्रक्रिया और ध्यान से ही

80

उन लोगों ने शरीर के ऑक्सिजन लेवल को कायम रखा था । जब यह बच्चे गुफ़ा में ध्यान में बैठे थे, एक ब्रिटिश डाइविंग टीम ने इन लोगों को नौ दिनों के बाद खोज निकाला । ध्यान करने से आप बहुत कुछ हासिल कर सकते हैं । जब हम अपना पूरा ध्यान स्वास के उपर ले जाते हैं तो हम शरीर में ज्यादा ऑक्सिजन ले सकते हैं, जिससे हमारी शारीरिक तंदरु ु स्ती बढती है मन शान्त होता है और हम अपने विचारों को अपने बस में कर सकते हैं । दिन में सिर्फ़ थोड़े से गहरे स्वास लेकर भी आप इसका अनुभव कर सकते हैं । आर्ट ऑफ लिविंग यह स्वास की और ध्यान की प्रक्रिया खूब ही सरल और अच्छे तरीके से सिखाती है । श्री श्री रविशंकर जी के द्वारा सिखाई गई यह रीत जिसे हम सुदर्शन क्रिया कहते हैं वह शरीर और मन को आराम पहुँचाता है । यह ध्यान सभी को करना चाहिए और अपने बच्चों को तो जरूर सिखाएं । क्योंकि ध्यान से वे अपना आत्मबल मज़बूत कर सकते हैं जिससे वे किसी भी तरह की मुश्किलों का सामना असानी से और हँसते हँसते कर सकते हैं । ध्यान ही हमें सही रास्ता दिखा सकता है । 

Anjali

www.batj.org


जापान का जादू - नंदिनी मजूमदार

वि

श्व के एशियाई महाद्वीप में बसा है जापान का प्रसिद्ध शहर टोक्यो । इस देश और शहर से जुड़ी कुछ अत्याधिक विषमित करने वाली बातें हैं जिनसे आप सब भी सहमत होंगे ।

बुद्धा के अलावा जापान में पूज्य एक और भी ईश है जिन्हें “शिन्तो” के नाम से जाना जाता है । इस परम देव को मानने वाले विशेषतः प्रकृ ति के पांच तत्वों- अग्नि, वायु, नीर, आकाश और धरती को विशेष महत्वा देते हैं । यह समूह सूर्या, चन्द्रमा, पर्वत, पृथ्वी और नदी यानी प्रकृ ति के अर्चना करते हैं । वह “शिन्तोइज़ाम” को मानने जापानी पर्यटन महोत्सव में से सर्वाधिक लोकप्रिय है यहाँ का वाले कहे जाते हैं । शायद इन्हीं के तप और पूजन से पृथ्वी का यह चेरी ब्लॉसम फे यर या फे स्टिवल । हर वर्ष चैत्र-वैशाख माह के दौरान टु कड़ा फू लों के शहर में तबदील हो जाता है हर वर्ष । जापान के कुछ आरम्भ होता है यह उत्सव जैसा माहौल । पूरा स्थान इस अवसर पर इलाकों में एकांत है, प्राकृ तिक छटा है, और अद्भुत शहती का माहौल मानो खिल उठता है । हर एक वृक्ष एक नवीन रं ग के फू लों की पोशाक है जो हमें यहाँ खींच लाती है । चेरी ब्लॉसम के मौसम में सैलानियों में सज उठता है । हज़ारों की तादात में देशी और विदेशी पर्यटक यहाँ को मिलता है एक ऐसा अनूठा अनुभव जिसे वे जीवन पर्यन्त संजो एकत्रित होते हैं । इस वर्ष भी मार्च के माह के दूसरे सप्ताह से अप्रैल के रखते हैं । के माह के दूसरे सप्ताह तक यह बहार छायी रही । प्रकृ ति के इस छठा के सामने मानो बिजली के चकाचौंध वाला यह शहर नत मस्तक हो जापान में सुखद अनुभूति देता है यहाँ की सड़कों पर पैदल जाता है । यह प्रसिद्ध प्रज्वलित द्वीप एक खूबसूरत पर्यटन स्थल में चलना, साइकिल चलाना, दुकानों को निहारना और विभिन्न परिधानों तबदील हो जाता है और एक अनूठा पर्यटन पर्व मनाने लग जाते हैं से सुसज्जित परिदृश्य । शाम के वक्त यहाँ के झील पर बसे बेहतरीन यहां के वासिंद े । झिलमिलाते पूल या ब्रिजस का इस जगह का सौंदर्य सौ गुना कर देता है । चारों ओर से नीर से घिरे जापान में मंदिरों या पूजा श्थलों, सूर्यास्त का विहंगम दृश्य और सूर्योदय का मनोरम अनुभूति जिन्हें श्राइन कहा जाता है, की भरमार है । पवित्र नदी “आराकावा” शब्दों में बयान करना काफी नहीं है । में पावन घाट नुमा स्थल हैं जिसके समीप बुद्धा के श्राइन है । टोक्यो शहर के असाकुसा श्राइन के पास श्रद्धालुओं के भीड़ काफी संख्या में हालाँकि जापान एक उन्नत, वैभवशील और आर्थिक रूप से एकत्रित होती है । यद्यपि यह एक शांत-सौम्य स्थल है पर वैशाख में सम्पन्न देश है यहाँ के लोगों में प्रकृ ति के प्रति एक विशेष प्रेम है । होने वाले आयोजनों से मंडित प्रांगण में प्रतिदिन अपूर्व चहल पहल बढ़ “कीमोनो” एवं “युकाता” से सुसज्जित जापानी महिलाओं के बारे में जाती है । प्रत्येक वर्ष हज़ारों श्रद्धालु यहां के विभिन्न क्रिया कलापों से प्रसिद्ध कलाकार हिरोशी शिमज़ाकि लिखते हैं, कि ये मनुष्य परमात्मा रूबरू होने के लिए यहां एकत्रित होते हैं । विशाल एवं उत्साह जनक की कै नवास पर बनाये गए विशेष कलाकृ ति है जो बहुत सौम्य और प्रकृ ति का मेला इसी दौरान विदित होता है । नृत्य, संगीत व रं गीन सुन्दर हैं । दुकाने सजाई जाती हैं । स्वादिष्ट पारम्परिक मिठाईयां भी बिकती हैं जिनमे विशेष कर “वागाशी” और “दोरायाकि” बहुत पसंद की जाती जापान का जादू किस कदर बढ़ चढ़ कर बोलता है, यह यहां है । इस मनोरम पृष्ठभूमि पर भव्य सांस्कृतिक कार्यक्रमों और स्पर्धाओं सालों से रहने वाले वासिंदों के अनुभवों को सुनकर स्पष्ट हो सकता का आयोजन होता है जिसमे सैलानी बढ़ चढ़ कर हिस्सा लेते हैं । है । इस उगते सूरज की धरती को अनुभव कर हम तो सम्मोहित हुए आकाश चुम्भी “फायर वर्क्स” या आतिश बाजी भी देखने को मिलता ही हैं, पर अनन्य सभी लोग जो जापान आये हैं, उन सभी का यक़ीनन है । आकर्षित कठपुतली, जापानी लोकनृत्य व गीत और कई कार्यक्रम अनुभव कुछ ऐसा ही ख़ास रहा होगा ।  भी शामिल किए जाते हैं इस उत्सव में ।

www.batj.org

Durga Puja 2018

81


बंदी बीर - मनमोहन सिंह साहनी और लोहागढ़ सिख साम्राज्य की राजधानी बन गई I उन्होंने मुगलों की मुद्रा की जगह पर सिख धर्म के सिक्के चला दिए जहा-जहा उनका राज्य था वहां-वहां उनके सिक्के चलने लगे I इस तरह से पंजाब का काफी हिस्सा सिक्खो ने जीत लिया फिर उन्होंने अपने साथियो को उत्तर प्रदेश की तरफ रवाना किया वहां पर सिक्खो ने सहारनपुर,जलाला बाद, मुज्जफर नगर और आस पास के इलाकों में कब्ज़ा करके असहाय लोगो की मदद की और इधर पंजाब में अमृतसर और जालंधर पर भी कब्ज़ा किया I बंदा सिंह ने शासन सभालते ही सबसे पहले जमींदारी प्रथा को समाप्त किया जमींदारों की सारी ज़मीन गरीबो में बाँट दी उसके अलावा जितने अधिकारी घूसखोरी , भ्रष्टाचार के आदि हो गए थे उन सब को हटाकर ईमानदार अधिकारियों को पद सौप दिए, इनके सुशाशन की वजह से आम लोग खुश रहने लगे I

गु

रुदेव श्री रविंदर नाथ टैगोर की प्रसिद्ध कविता बंदी बीर, बाबा बंदा सिंह बहादुर और उनके साथियों की क़ु रबानी की गाथा दोहराती है I दुःख कि बात यह है की इतिहास के इतने बड़े वीर के बारे में बहुत कम लोगो को जानकारी है I बंदा सिंह बहादुर का जन्म १६७० ई० में कश्मीर के राजौरी क्षेत्र में एक राजपूत परिवार में हुआ I शुरू से ही उनको शिकार का शौक था I १५ वर्ष की आयु में शिकार करते हुए एक गर्भवती हिरनी को अपने सामने प्राण त्यागते हुए देखकर वो बेचैन हो उठे I उन्होंने वैराग्य धारण करने का निश्चय किया और जानकी दास बैरागी के शिष्य बने I उन्होंने अपना नाम माधव दास बैरागी रख लिया और दीन दुनिया को छोड़ दिया I उन्होंने योग साधना भी सीखी और काफी ताकतवर हो गए I उन्होंने गोदावरी नदी के तट पर अपना आश्रम बनाया और अपने शिष्यों के साथ रहने लगे I उस वक्त भारत में मुगलों का राज था और वो हिन्दूओ पर बहुत जुल्म करते थे I १६९९ में सिक्खो के दसवे गुरु गोबिंद सिंह जी ने अमृत पिला कर खालसा फ़ौज तैयार की औरं गजेब और उनके जर्नेलो के साथ गुरु जी ने कई युद्ध लड़े और जीत प्राप्त की पर मुगलो की मक्कारी की वजह से उनको आनंदपुर छोड़ना पड़ा I उनके दो छोटे बेटे और माँ सरहन्द के नवाब वजीर खान के हत्थे चढ़ गए I सात और नौ साल के बच्चो को नवाब ने काफी लालच दिया,डराया, धमकाया पर वे मुस्लमान बनने पर राजी नहीं हुए तो नवाब ने उनको जिन्दा दीवार में चुनवा दिया I ऐसे ही दो बड़े बेटे चमकौर के युद्ध में मुगलों के साथ लड़ते-लड़ते शहीद हो गए I गुरु गोबिंद सिंह अपने कुछ साथियों के साथ नांदड़ े की तरफ आ गए वहां पर उनकी माधव दास से मुलाकात हुई उन्होंने उसको मग ु लों के जुल्मो के बारे में बताया, बच्चो की शहादत के बारे में बताया और कहा की राजपूत अगर इस तरह से दुनिया छोड़ देंगे तो असहाय और गरीब लोंगो की मदद कौन करे गा I उन्होंने उसको अमृत पान कराया और उनका नाम गुरुबक्श सिंह रखा लेकिन वो बाद में बंदा सिंह नाम से प्रसिद्ध हुए I १७०८ में गुरु गोबिंद सिंह जी के आदेश पर पंजाब की तरफ रवाना हुए Iरास्ते मे सिक्खो को इकट्ठा करते हुए पंजाब की हदो तक पहुंचे I पहला युद्ध मुगलों के साथ समाना में हुआ जिसमे करीबन १०,००० मुंगलों को मारकर ये युद्ध जीत लिया लेकिन उनके मन की आग अभी शांत नहीं हुई थी क्योकि सरहन्द के दो साहबजादों का हत्यारा वजीर खान अभी जिन्दा था I १७१० में बंदा सिंह की अगवाई में सिक्खो ने सरहन्द पर चढ़ाई की और चप्पर चिढ़ी के युद्ध में बंदा सिंह ने सरहन्द के नवाब को मौत के घाट उतर दिया I वजीर खान की मृत्यु से और सरहन्द पर कब्ज़ा करने पर सिक्ख साम्राज्य की स्थापना हुई जो सतलुज से यमुना नदी तक विस्तृत हो गई I उन्होंने एक गांव बसाया और वहाँ पर लोहागढ़ नामक एक किला बनवाया 82

मुगलों को पंजाब और उसके आस-पास के क्षेत्रो में सिक्खो का शासन देख कर बड़ी तकलीफ हुई खासकर लाहौर और दिल्ली क्षेत्र में मुगलों को संचार में तकलीफ हुई इसके लिए मुग़ल बादशाह बहादुर साह ने खुद बहुत बड़ी सेना को लेकर पंजाब की तरफ कू च किया I क्योकि बंदा बहादरु उस वक्त उत्तर प्रदेश की तरफ थे इसलिए सरहन्द फिर से मुगलों के कब्जे में चला गया I बंदा सिंह जब वापिस आये तब अपनी सेना को इकट्ठा कर मुगलो के साथ युद्ध किया और मुगलो को लोहागढ़ में एक बार फिर से हरा दिया और मुगलो ने और सेना मंगाई और ६०,००० सैनिको के साथ लोहागढ़ किले को घेर लिया पर बंदा सिंह अपने साथियो के साथ बच निकलने में कामयाब हुए I मार्च १७१५ ई. में बंदा सिंह अपने साथियो के साथ गुरुदास पुर में थे वहीं मुगलो के साथ उनकी आखिरी जंग हुई एक लम्बे सघर्ष के बाद मुगल बंदा सिंह को पकड़ने में कामयाब हुए I पर बंदा सिंह का खौफ इतना था की एक बहुत बड़े लोहे के पिंजरे में बंदा सिंह को कै द किया गया उनके साथ के ७०० सिखों को जंजीरो में बांध कर दिल्ली की तरफ लाया गया रस्ते में उनको काफी यातनाये दी गई ताकि दूसरे लोग उनको देखकर आगे से विद्रोह न कर सके I बंदी वीर की जो कविता है उसमे सिखों के शौर्य , अपने गुरु के प्रति उनकी श्रद्धा एक ओंकार पर उनका विश्वास और बंदा सिंह को कै द करने के वक्त से बंदा सिंह और उनके साथियो को क़त्ल करने तक की गाथा है I कि कै से तरह-तरह के तसीहें देकर बंदा सिंह के सामने ही उनके साथियों को रोज क़त्ल किया जाता था ताकि वो विचलित हो और माफ़ी मांगे और इस्लाम कबूल कर ले लेकिन हर सिख ने शहीद होना बेहतर समझा और एक-एक करके सारे शहीद हो गए और अंत में बंदा सिंह की बारी आई तो उनको कहा गया कि वो अपने ३ साल के बच्चे का कतल करे पर बंदा सिंह ने मना कर दिया तो उनके सामने ही उनके छोटे बेटे का क़त्ल कर के उसका ह्रदय निकाल कर उनके मुँह में डालने की कोशिस की गई I अंत में मुंगलों ने जुल्म की सारी हदे पार करते हुए बंदा सिंह की आँखे फोड़ कर गर्म सलाख़ों से उनके शरीर की त्वचा को नोच लिया इतनी असहनीय पीड़ा के बाद भी बंदा सिंह कुर्बान हो गए पर मुगलों के सामने हर नहीं मानी I इस सारे द्रृश्य की ब्याख्या गुरुदेव ने बहुत सुन्दर ढंग से की है I गुरुगोबिंद सिंह के सवा लाख से एक लड़ाऊ तबै गोबिंद सिंह नाम कहाऊं के नारे को सिक्खो ने सिद्ध कर के दिखाया और मुस्कराते हुए सारे कष्ट सहते हुए अपनी जान का बलिदान दिया I गरीब और असहाय लोगो की रक्षा और जालिमो के साथ युद्ध करके हमारी आने वाली पीढ़ियों को बचाने का कार्य जो बंदा सिंह बहादुर ने किया उसका भारत हमेशा आभारी रहेगा I इतनी बहादुरी की गाथा को ज्यादा से ज्यादा नई पीढ़ी को बताने का प्रयास करना चाहिये I

Anjali

www.batj.org


बंदी बीर आइये अंत में गुरुदेव टैगोर की कविता हिंदी में पड़ते हुए उन शहीदो की क़ुर्बानियों को याद करते हुए उनके प्रति अपने आभार प्रकट करें । पंच नदीर तीरे , वेणी पकै या शिरे देखिते देखिते गुरुर मन्त्रे जागिया उठिछे सिख निर्मम निर्भीक..   हजार कं ठे गुरुजीर जय ध्वनिया तुलिछे दिक् नूतन जागिया शिख नूतन उषार सुर्येर पाने चाहिलो निर्निमिख... अलख निरं जन महारब उठे , बंधन टू टे करे भयभंजन वक्षेर पाशे घनउल्हासे असी बाजे झनझन पंजाब आजी गरजी उठिला अलख निरं जन... एसेचे से एक दिन लक्ष पराने शंका न जाने न राखे कहारों ऋण जीवन मृत्यु पाएर भृत्त चित्त भावनाहीन पंच नदीर घिरी  दशतीर एसेचे से एक दिन दिल्ली प्रासाद कु टे होथा बार बार बादशाहजादार तंद्रा जेथेचे छूटे कादेर कं ठे गगन मंथे निबिड निशीथ टू टे कादेर मशाले आकाशेर भाले आगुन उठे चे फू टे पंच नदीर तीरे भक्त देहरे े रक्त लहरी मुक्त होइलो की रे ... लक्ष्य वक्ष चीरे झांके झांके प्राणपक्षी समान छू टे जेनो निज नीरे वीर गण जननी रे .. रक्त तिलक ललाटे परले पंच नदीर तीरे

www.batj.org

मोगल शिखेर रणे मरण आलिंगने कं ठ पकड़ी धरिलो आंकरी दुई जन दुई जने दंग्शन खटो श्येन विहंगो जूझे भुजंगा सने से दिन कठिन रणे जय गुरुजीर हांके शिख वीर सुगभिर निश्वासे मोटो मोगल रक्त पागल दीन दीन गर्जने.. गुरुदासपुर गढे बन्दा जखन बंदी होइलो तूरानी सेनार करे सिंहरे मत शृंखल गत बंधी लए गेलो धरे बन्दा समरे बंदी होइलो गुरुदासपुर गढे सम्मुखे चले मोगल सैन्य उड़े इ पथेर धूलि छिन्न शिखेर मूँद लोइया वर्षा फलके तुली शिख सात शत चले पश्चाते बाजे शृंखलगुली राजपथ पढ़े परे लोक नाही धरे वातायन जाए खुली शिख गरजे गुरुजीर जय प्राणेर भय भूली मोगल ओ सिख उड़ालो आजिके दिल्ली पथेर धूलि.. पड़ी गेलो कडा काडी आगे के व प्राण करिबेक दान तारी लागी तरातरी दीन गेले परे घाटके र हाते बंदीरा सारी सारी जय गुरुजीर कही शत वीर शत शिर दे दारी..

निज हाते अवहेले दिल तार कोले फे ले किशोर कु मार बंदा बाहुतार बंदार एक छेले.. किछु न काहिलो बानी बन्दा सुधीरे छोटो छेलेतीरे लोइलो वक्षे तानी क्षण काल भोरे मथार उपरे .. राखी दक्षिण पानी सुधु एक बार चुम्बिल: रं गा उशनीश खानी.. तार पर धीरे कोटि बास होते छु रिका खासाए आणि बालके र मुच चाहि गुरुजीर जय, कनेकनेर कही रे पुत्र भय नाही नविन बदन अभय किरण ज्वाली उठी उत्साही किशोर कं ठे कांपे सभातल बालक उठिल गाही गुरुजीर जय किछु नाही भय बंदार मुच चाहि.. बन्दा तखन  वाम बाहू पाश  जरै लो तार गले दक्षिण करे छेलेर वक्षे छु री वसैलो बले गुरुजीर जय कहिया बालक लुटाइलो धरा तले. सभा होलो निस्तब्ध बंदार देहो छिंरिलो घातक संराशी करिया दग्ध स्थिर होए वीर मरिल, ना करी एकटी कातर शब्द दर्शन जन मुदिल नयन सभा होलो निस्तब्ध (अनुवादक - काल चिरान)

सप्ताह काले सात शत प्राण नि:शेष होए गले बंदार कोले क़ाजी दिलो तुली बंदार एक छेले कहिलो इहारे वधिते होइबे

Durga Puja 2018

83


रं गों की पहचा - अमिता जैन अाखिर कौन जाने क्या हो जायेगा पल में, इस उलझी दुनिया में कभी तूफ़ान की उचाईयॉ निगल जाती हैं, धरती से आसमान की सारी गहराइयां.... कभी तूफ़ान ख़ुद बन जाते हैं पतवार टू टी कश्ती के । जीवन भी एक ऐसा ही रे ला है ज़िंदगी के उतार चढ़ावों का.... इस जीवन के मेले में अंनगिनत रं ग हैं फै ले चारों ओर... कुछ धैरे खिलखिलाते हुऐ, कुछ हलके मायूस से, सुख दुख की भावनाओं का परिचय देते... ज़िंदगी से रूबरू कराते हुऐ । रं गो के इस रं ग मंच की कुछ मानयाताऐं हैं अजीब सी... कभी इनकी घेेराईयों पर मनाये जाते हैं पर्व कई, कभी इन्हीं खूबसूरत रं गो पर उड़ा दी जाती है सफ़े द चादर.. ऐसी हे रं गो की पहचान, कभी ख़ुशी कभी ग़म से भरी चमकीले चटकीले खुशीयॉ बिखेरते रं ग.. अचानक फीके पड़ते ही, ज़िंदगी को बहा देते हैं आँसुओं के तूफ़ान में ।

नक़ाब

शायद, किसी किनारे की आस में .... ।

- सारिका अग्रवाल ज़माने का बहुत तमाशा देखा हर चेहरे पर नक़ाब देखा । गुज़र गई ज़िन्दगी बेनक़ाब करने में, बेनक़ाब करते वक़्त, अपने चेहरे पर भी एक नक़ाब देखा । इं सानियत ढू ँढते ढू ँढते ख़ुद को भी लड़खड़ाते देखा । शोरगुल में ख़ालीपन देखा, तनहाइयों में शोर देखा । मजबूरियाँ में फ़ायदा उठाते देखा, फ़ायदे में इं सानियत को मरते देखा । दोस्तों की रं जिश को देखा, अपनों की साज़िश को देखा । हँसते हुए को अंदर से रोते हुए देखा, और रोते हुए को मुस्कु राते हुए भी देखा । क्या ख़ूब हमने ज़माने का यह तमाशा देखा हर चेहरे पर नक़ाब देखा ।

84

Anjali

www.batj.org


Raichak on the Ganges (Ffort) - Abheek Dutta, Grade IV

T

his year we went to Kolkata for my summer vacation. My mother and I went early and then my father joined after one and a half weeks. If you’re wondering who I am then let’s just say the name’s Abheek, Abheek Dutta and I live in Tokyo with my mother and father. At Kolkata I stayed with my grandparents. Last year in the winter we had gone to the Sundarbans for a two day trip. It was hot and rainy in Kolkata and we planned on a two-day trip to Raichak to see the Ganges and relax at a hotel this summer vacation. On the day of the trip I woke up at 8:15am to go downstairs (my grandparents’ house has 2 floors). I had breakfast which was the usual milk and cornflakes and two slices of bread. When we were done we all changed our clothes and took all the suitcases downstairs and my grandfather put them in the trunk of his car. My father along with my grandfather sat at the front of the car. My grandmother, my mother and I sat at the back. My father opened Google Maps on the phone so that he could direct my grandfather to the hotel since the road was to go through lots of small towns and villages. According to Google Maps the journey would take one and a half hours. Getting out of Kolkata was difficult, there were cars and trucks and buses and rickshaws and autos and scooters and motorcycles and people on the road. Then there was a big traffic jam at Amtala and it took us forever. We saw three accidents on the way. The journey took us more than two and a half hours. When we reached the place, it was really grand and fancy. I got out my suitcase and ran to the reception desk and waited for my parents and grandparents to come. A bellhop escorted us to our rooms (511 and 512). There was an elevator that was quite slow (and really old, it looked like it dated back to the time of the British rule over India). The elevator had wooden walls and brass buttons. As we went up inside the elevator with the Bellhop, the elevator made some sudden stops which scared me quite a lot. When we reached the 5th floor the bellhop escorted us to rooms, 511 and 512 and showed us how to unlock the door with the key card. When we went into our rooms I decided to stay in room 511 with my grandparents. I went to the balcony and looked outside and saw the Ganga River along with the Adventure zone and a spa in the hotel grounds. After my first look at the Ganga River I asked myself whether it was a river or the Indian Ocean because it was humongous. It also looked quite muddy because there was a lot of fertile soil in the river. The quantity of all that soil increases after every shower as the soil slides down into the river. The river currents were also very

strong. I wanted to swim in the river, but the river banks were fenced, and it was also a bad idea to swim in a river with such strong currents. After refreshing up a bit we went down to the restaurant, Indian Quarters for lunch. First, we ordered our food (I ordered mushroom and chicken pasta with white sauce) then we got our appetizers, a bowl full of papad and then we got our main course. I wolfed my food down like a king who hadn’t eaten food for 2 hours. After everybody finished their meal, we went outside to the Adventure zone and I started climbing on the balancing ropes. As it was the monsoon season, a little while later it started raining and suddenly turned into a shower. We hurried to the greenhouse as there was nowhere else to go without getting drenched from head to toe. When we reached the green house there was a man sitting on a chair. After that we realized that we hadn’t gone to the greenhouse as there were no plants but cycles and the same man sitting on a chair. My father asked him how to go to the Ffort. The man said that we had to turn left and go up a bridge which we used to drive on. We waited for a while for the rain to get a bit weaker so that we could go. When the rain did get a bit weaker we walked to the Ffort and while we were walking up the bridge I and my dad noticed a huge chess set with very big chess pieces. My dad said that we could play just before dinner. We went back up to our rooms and watched a little T.V. After that me, my parents and my grandfather went to look at the Infinity pool. When we arrived, we realized that a movie shooting was going on near the Infinity pool. My mother said that the actress was a very famous actress. We watched the shooting for a while and then watched them packing up. As my father said, we played a game of chess after that and my father had to forfeit. When we finished, we went back to our rooms and refreshed up a bit and then went to the Oriental restaurant for dinner. We ordered our food (I ordered steamed rice and black bean sauce chicken). When everybody finished, we went back to our rooms and slept. It was really quiet, there was no noise at all. The next morning I went out to the balcony and saw many big ships on the river. I stared at them in awe for a while. The Ganga is really big. After that I changed my clothes and went down to the Indian Quarters for breakfast. There was a Buffet and I had cornflakes, buns, donuts, vada and fries. After breakfast me and my parents went to the Adventure zone. Me and my father did boating and archery (my mother was busy taking photos). I did ziplining 3 times from the 4th floor. It was scary at first but fun. It was the best part of the trip. After that we packed up, checked-out and got in the car and headed back home. Luckily there was no traffic jam on the way back! 

www.batj.org

Durga Puja 2018

85


Secret Agent Man - Arnab Karmokar, Grade VI

M

y name is Michael Moore, and ‘Mike’ is the nickname in close circle.

It was October 21st, and I just came back from school. I came into my Dad’s room, and noticed that Dad was sitting in his chair talking on his iPhone and looking into his MacBook Pro at the same time. The Ventures, my favorite band, very well known for their wonderful guitar riffs, was playing on the speaker. He nodded and quickly typed something down and said, “bye” and hung up the phone. He looked at me and gave me the ‘how was school’ look, and I quickly said to dad, “I’m fine. School was fine. Everything was fine, dad.” It looked like he was wondering why I had a lot of dirt on my arm and why my leg was bleeding. However, before he could ask me, I went upstairs and I quickly locked the door. I jumped onto my bed and sighed. School was not fine. In fact, school was terrible. One thing popped into my head when I thought of school; School Bully Joshua Huntington. He was the reason my leg was bleeding, and had dirt on my arm. Just like his name, Joshua might have hunted tons of kids. However, one thing I noticed all along in my school life here in The USA was that he kept bullying me. I would like to give you a few examples on how bullying went on throughout the day. Today, when I got onto the bus, the first thing Joshua did was, he snatched my backpack away from me, took out my lunch-bag, and then threw out my backpack to the back of the bus. Then, he ate my lunch in a minute or two, and handed me back the scraps and the leftovers. I got kicked because lunch was not good enough. I didn’t know what was there in my lunch bag, so I had nothing to argue about it. Thereafter, he bullied me everywhere I went. However, another thing I noticed was that he always stopped bullying and became super nice, when a teacher or principal was around. For example, he kicked me in the shin on our way to library class today, but when we got into the library, he gave me a book to borrow, though I already read that book last year. But, sadly on the way home, he took away my bus snack, kicked me because snack was not decent enough for him, and at the end, he literally threw me out of the school bus at my stop. That was my miserable life. Two assertions; School was not fine, and, Joshua Huntington Bullied Kids. I lied down on my bed and took out a favorite book from my shelf, ‘Stay away from School Bullies’, by Rick Pauls. I opened the last chapter, which was named ‘Be the Star’. It had two sentences, and the sentences were as followed; ‘If you want to stay away from bullies, then you have to prove that you are worthier than him/her. Show him/her that you can be amazing at all times and that you are not only bullying material, but that you are an important human being who exists in this world.’ I thought about what that really meant, and I tried using that on Joshua Huntington. The first strategy I used was to try to become friends with him, but that turned out to be more of throwing me out of the bus. He explained that friends should ‘obey’ friends. The second strategy I used was standing up to him. That too resulted me in having bullied double the amount per day. That same week, I had to place a cast on my leg due to his enormous kick. No wonder he was a good striker in our 86

School Soccer League (SSL), I was being his training material without wanting to be! The song ‘Secret Agent Man’ by The Ventures was coming out from the speaker downstairs. That was my favorite song, which had only one line repeated many times. The one line was the obvious: ‘Secret Agent Man’. I started singing it, thinking that I had an imaginary electric guitar, which sat on my lap. I kept doing the guitar riffs while I sang in the places I was supposed to sing. Then, an idea popped into my head. I quickly grabbed the book and wondered, ‘what if I become the Secret Agent Man at our school’, and I came up with a plan. The next day, I looked at the bus, and I saw that Joshua was already in the bus. It looked like he was practicing to kick me. At the bus stop, the door opened but I didn’t go in. I told the driver to go on, so he did. After the bus left, I quickly grabbed my bike, and started heading the same way the bus was headed, school. I saw Joshua raging with anger inside the bus. He kicked another kid instead, to make himself feel good. I wrote that down in my new notebook, which was labeled ‘Secret Agent Man’. My plan was ‘to write down everything he did wrong, and then after school, go up to the teacher and spill the beans’. Similarly, an agent kept track and spied on the bad guy, and finally, caught the culprit in a good chance. That was exactly what I was going to do today. When I reached school, I quickly went to find Joshua, but made sure he couldn’t find me. I spotted him punching another kid. I made a note of this and made a theory that he was going to continue to do his daily routine on other kids. After Joshua went to hang his backpack in his locker, I went up to the kid and asked his name. His name was Daniel Pauls, and I promised him that I would make the bullying stop.

When I reached class, I saw Joshua looking at me with enormous eyes, something that I had never seen before. But as he stood up to start punching me, the school bell rang, and our homeroom teacher came into the room. I could see him sitting down, still both of his eyes peeled on me. Teacher started explaining us how Linear Equations worked, and then quickly handed out sheets to work on. When she came to pass out papers to me, I asked if I could get a drink of water from the fountain outside. I needed time to write down some other notes in my notebook while I was in my drink break. After I got permission, I went outside and stood in front of the closed door, to hear what was going on in class. I heard Joshua asking and pleading our homeroom teacher if he could also go out to drink water. But the teacher reminded him about the ‘1 person at a time’ rule, and no matter how much he pleaded, she wouldn’t

Anjali

www.batj.org


Secret Agent Man be letting two kids out at once. I could hear a thump and some laughing going on in class. I saw Joshua kneeling down on the ground, begging her to let him have a drink of water. I saw this through the room entrance’s glass window. After laughing at his actions, I quickly drank water, and jotted down some useful notes required to prove the bullying going on. Then I came back into the room, I noticed that Joshua was kicking Daniel who, unfortunately, was sitting next to Joshua today. I again wrote that useful information down in my notebook. After classes and short breaks, it was lunchtime. I took out my lunch bag, the one that I specially cared, because Joshua hadn’t targeted it. Before he saw me, I went up to my homeroom. I ate there for two main reasons; to stay away from Joshua Huntington, and to finalize my notes. I wrote the following down in my notebook; Joshua Huntington was found to be kicking specific kids on the morning bus bound for the school. He was again found kicking the same specific kids, during break times, and in class when the teacher was not looking at the moment. There were a lot of victims, such as Daniel Pauls, and other students. There were also a lot of eyewitnesses. This was needed to be stopped; he needed to be punished very severely. I closed my notebook, ate my lunch, and thanked my teacher for lending her room. After this, I put my lunch bag away, and I went to spy on him, just in case he made a fool of himself, and so that I could have more evidence to prove my assertion; Joshua Huntington Bullied Kids. I saw, Joshua laughing at Daniel, who was crying. I quickly got out my notebook, and wrote my latest entry. I kept looking at him, and noticed that he had caught a glimpse at me. He started to come towards me. I started running away, but he quickly caught up to me. He grabbed me by the collar and said, “You know that I am watching you, Michael. If I see more spy stuff going around, you’ll be more than sorry.”

Huntington, please report to the Principal’s Office immediately.” And something funnier had happened. The principal forgot to turn off the microphone and the speakers, and so the whole school heard Joshua ‘Dum-Dum’ (since this was the first time I ever knew his middle name, I laughed at this) Huntington getting his punishment. I kept listening to it from my hospital bed, thinking of how much Joshua would feel embarrassed by this. I wondered, ‘was our principal turning on the microphone and the speakers on purpose, or is this a plain accident?’ Our principal talked to Joshua about not being safe, honest, respectful or responsible. Then we heard Joshua crying and demanding who ‘snitched’ (told) on him. She quickly responded, “Michael Moore”. ‘Oh Nuts‘, I was going to be more than sorry. I felt like running away. I felt like I was going to be doomed for the rest of my life. And thanks to that, I fainted… again. I revived from fainting, for the second time. Then I saw, Joshua Huntington in front of my face. I screamed, and I jumped on to the floor, and I tried to run away, but then I noticed that the principal was right beside him. I tucked myself back into my bed. The principal looked at Joshua and then he mumbled these words, “I’m sorry, Michael, for being so mean to you and everyone else in the grade. I will be in detention for the rest of the school term to improve my anger management skills and think about what I had done wrong. Again, very sorry.” Wow. That was really cool. The school bully had to say sorry to me. However honestly, I felt sad for him. It was only October, and he had to stay after school for an hour and half extra per day, than everybody else. Nevertheless, he did things that were supposed to be wrong, and, the big thing was that he deserved it. I could see tear marks on his cheeks, and I thought that he cried hard. I quickly responded “no problem”, and then I saw him been escorted by the principal to the next room.

He pushed me down to the ground, and the asphalt hit the back of my head really hard. Then, he picked me up, and strongly kicked me in the stomach. I fell head first, and noticed that blood was coming out of my head. I saw him, and after he laughed, he stomped on my glasses. He went laughing while I was all bruised like a peach. Everyone came and surrounded me on the ground, and asked me if I was okay. But I never really answered, because… I fainted.

He was kept under watch, being escorted class to class throughout the year, and during lunch break, he ate and sat quietly inside the principal’s room. Even during classes, excluding the first teacher who was teaching, they also had another teacher making sure that there would be no problems during class. But yes, about twice after that, Joshua was caught saying mean words to Daniel, and was sent to the principal’s office.

I woke up in the hospital wing in our school; I saw our head nurse and principal. Our nurse gave me a cup of hot chocolate. I saw my principal who sighed in relief, as she asked me about my notebook in my pocket. I took out my notebook, and I showed her, what I wrote in it. She looked at the notes, and then looked back at me, then back at the notebook. It looked like she was confused about what was going on. After a few minutes of carefully reading my entries and asking me what this was all about, she quickly got up and told me that she was going to ask Joshua Huntington, to come in the principal’s office. I sat up, and then, I heard the most amazing thing.

The good part of all of this was, Daniel’s dad was actually the author who wrote ‘Stay Away From School Bullies’, and he signed my copy in front of me, when he came to thank me for helping Daniel get through his bullying problems. He even wrote a book about our school, and my heroic events. This book became very famous, and he was awarded the Newbery Medal, and the Caldecott Medal. Daniel and I became close friends, and we had a lot of fun in school.

“Joshua Dum-Dum Huntington, Joshua Dum-Dum Huntington, please report to the Principal’s Office immediately. I repeat, Joshua Dum-Dum Huntington, Joshua Dum-Dum

www.batj.org

Now, I am very popular, thanks to getting the school bully in trouble. I now get high fives daily. The school is now fun like before, and I thank The Ventures, for making the song, ‘Secret Agent Man’. That song will always be my favorite. Thank you, The Ventures. 

Durga Puja 2018

87


Being a teenager - Akanksha Mukherjee, Grade VIII

B

ecoming a teenager is like a new phase in life, a phase where you start to become more matured, and get more responsibility. There are some kids who can’t wait to be thirteen, while on the other hand, some kids don’t want to be a teenager. This year, I turned thirteen in March. At first, I couldn’t help feeling excited to finally become a teenager. I thought that being a teenager was like getting more freedom and becoming more independent. It has already been a couple of months since my birthday passed, and from my experience, I can tell you what it feels like to be thirteen. First, I will start by discussing how people change when they turn into a teen. At this age, people start developing strong likes and dislikes, and start making their own choices without their parents telling them what to do. Rather than being a good kid and following what your parents say, you do what your heart wants to do. People choose their own path, and have their own values. When you are a kid, you are safe at your home, where your parents can protect you and take good care of you. But as a teenager, you start facing and knowing more about the real world. When you are a teenager, your mind becomes more mature and confusing. Your mood keeps changing. One day, I feel thrilled and excited, and the next day I become moody and get irritated over the smallest things, which lead to big arguments. Somedays, you may even feel depressed and

88

gloomy. You also face a lot of issues, such as bullying, stress, relationships, self-esteem, pressure and a lot more. I also sometimes get the feeling that no one understands me, even though at times it’s hard for me to understand myself. As a kid, you love to be around your parents, and you follow them around wherever they go. You get a lot of attention from everyone for being cute and sweet. But as a teenager, you prefer to be surrounded by your friends more than your parents. On one hand, you want to grow up but on the other hand, you wish you were still a kid. Now, I am given more work and more responsibilities, not just by my parents, but even at school. I get lots of homework which I just don’t feel like doing. All the homework and tasks that I am given to do just adds more stress to my mind. However, being a teenager is also fun. You get more opportunities to hang out with friends and go to places with them. You are also allowed to access social media and meet new people. At this age, your parents become less overprotective of you, so you can access more freedom and privacy. Now, I can finally go out without my parents worrying and I feel a lot more independent. This is a chance for me to try new things, learn new skills, and become more knowledgeable. This is also a phase where people can get to learn more about themselves and choose their direction of life. 

Anjali

www.batj.org


Everyday, a New Image - Ananya Sharma, Grade IX

I was always interested in photography and in the eighth grade I decided to take a formal class to learn more about it. I like photography because you get to show your perspective of what you see through your own eyes. You get to show your creativity through images rather than words. There are no restricts on how to take pictures. Photography is an inspirational art form which uses different techniques such as shutter speed and aperture. I would like to take more pictures of my travels and showcase that. Here, I am share some of my pictures that I have taken during my holidays, in and out of Japan. The photo on the left is from the Pantheon in Paris. The whole view of Pantheon looks very exquisite and different from other places that I have seen before, which got me to take this picture. Digital photography is a form of photography that uses camera containing array of electronic photo detector to capture images focused by a lens, as opposed to a exposure on photography lens. Kodak invented the first digital camera, the company however didn't see themselves moving into the digital photography realm. Soon, several other companies picked up on the invention and refined it. Today the most famous digital cameras are Nikon, Canon and Fuji Film.

On the left, is the picture of NotreDame in Paris. All the small details on the Catholic cathedral really got my attention, getting me to take a picture of it. The above picture was taken of the big Buddha in Kamakura. The whole framing of the Buddha and the sunlight reflecting on him shows clarity of the statue.

The picture on the left is the Bosphorus Strait dividing Europe from Asia. I took this picture because of the different silhouettes of the clouds with the halo light around the boat and bridge. www.batj.org

Durga Puja 2018

89


Everyday, a New Image

The panoramic view of Paris was taken in the Pantheon. I thought the view was so gorgeous especially with all the sculpted.

The picture of the colourful glass in the SainteChapelle is located in Paris. I took this picture because of the ravishing color contrast of the glasses in the Chapelle.

My favourite picture that I have taken so far is this closeup of the tiny blue and grey butterfly. I was able to use depth of field, which we learned in class. In this picture, the leaf on the left is blur while everything else is in focus.

90

Anjali

This picture is a Roman Catholic church in Paris called SacrÊ-Coeur. I felt like this picture was very basic but it is able to show the beauty of church with the blue sky and I hope you enjoyed the pictures as much as I liked taking them. 

www.batj.org


Rainbow Tree - Aahan Maiti 2yrs

Fish Family - Dian Kar 2.5yrs

Robot - Soham Kundu KG


Himawari Flower - Kenta Bhowmik Grade I

Seahorse - Advika Ghosh Grade I

Sunrise in pixel art - Ayana Roy Nandi Grade IV


Cats in the Forest - Zinniya Maya Dhar Grade III

Live Now - Sponge painting on Canvas - Pramiti Hebbar 11yrs.

Maa Durga - Siya Pritha Paul Grade III

Durga Puja 2018

93


Buddha - Kavya Sharma

Maa Durga - Souhardya Kar 10yrs

Maa Gayatri - Gaurika Srivastava Grade VIII

Anjali

www.batj.org


Maa Durga - Shounak Das 4yrs

Maa Durga - Tuhina Bose 10yrs

Maa Durga - Aahana Bose 7yrs.

Durga Puja 2018

95


Photography

Anjali

The Awe Of Nature by Sumana Kar

Winter Sea Drama by Sudeb Chattopadhyay


Magnificent Graffitti by Sanjib Chanda

yhpargotohP

Takuboku Park Hakodate by Teruo Sayama

97


s t r

A

Aigiri Nandini by Pamela Maiti

Madhubani and Warli Painting by Arpana Mitra

Anjali

www.batj.org


Soaring by Mimi Dhar

www.batj.org

Woodpecker (Nihonga on momigami) by Meeta Chanda


The Autumn Ecstasy by Saumik Paul

Anjali Editorial Team

100

Anjali

www.batj.org


BATJ Fondly Remembers

Sitadi (Late Sita Ray)

Babli (Late Sumana Kundu)

May your soul rest in peace

শুধু

যাওয়া আসা, শুধু স্রোতে ভাসা,

শুধু

আল�ো-আঁধারে কাঁদা-হাসা ॥

শুধু

দেখা পাওয়া, শুধু ছু ঁয়ে যাওয়া,

শুধু

দূ রে যেতে যেতে কেঁদে চাওয়া,

শুধু

নব দুরাশায় আগে চ'লে যায়-পিছে ফেলে যায় মিছে আশা ॥


102

Anjali

www.batj.org


BENGALI ASSOCIATION OF TOKYO, JAPAN (BATJ) STATEMENT OF ACCOUNT FOR 2017-2018 INCOME ITEM

EXPENDITURE AMOUNT

ITEM

Opening Balance on Aug 5 2017 (from 2016-2017)

Yen 1,163,643 Expenses for Durga Puja, Anjali printing, Saraswati Puja, Rabindra Break up – Jayanti , Community meetings,  In bank a/c Yen 515,675 Storage of Durga Pratima,  Cash in hand Yen 647,968 Hall rentals, Rehearsals etc. Collection by subscriptions, Yen 1,937,308 Closing balance on Aug 17, 2018 pronami, advertisements in (carried forward to 2018-2019) Anjali etc.  In bank a/c  Cash in hand

TOTAL

Yen 3,100,951

TOTAL

AMOUNT Yen 2,096,483

Yen 1,004,468 Break up – Yen 518,768

Yen 485,700

Yen 3,100,951

SINCERE THANKS FROM

Bengali Association of Tokyo, Japan www.batj.org

For assistance on the occasion of Durga Puja on September 30, 2017 - Mr. and Mrs. Ranjan Das for providing fruits and sweets for the Puja - Mr. and Mrs. Partha Kumar for providing sweets for the Puja - Mr. and Mrs. Biswanath Paul for providing fruits and flowers for the Puja - Mr. and Mrs. Prabir Patra for providing flower bouquets for Pratima decoration - Mrs. Manjulika Hanari for providing flowers for the Puja For assistance on the occasion of Saraswati Puja on January 21, 2018 - Mr. and Mrs. Biswanath Paul for providing fruits and flowers for the Puja - Mr. and Mrs. Ranjan Das for providing sweets for the Puja


May Maa Durga’s Blessings Bring Peace and Harmony to All - A well wisher Carica Celapi PS-501 Carica is a powerful and delicious food supplement made of fermented papaya. Papaya has been called “golden tree of life” and has been a favourite substance from ancient times. Carica is produced from papaya by excellent world renowned Japanese fermentation technology. Carica Celapi PS501 is made from unripened papayas which have been selected carefully. After taking the skin, seed and juice from the fruit without oxidation, they are fermented and ripened, then dried naturally. There is no process of extracting just one component or chemical treatment. Also there are no additives such as vitamins or calcium. The manufacturing process is natural and holistic. a. b.

“Carica Celapi PS-501” , 100 sachets (3grams each) 25,000yen “Carica Celapi PS-501” , 40 sachets (3grams each) 12,000yen

For more information or order 0120-65-8631(free call)

Free catalogs (in Japanese) is available

Amrit, Inc. ( 有限会社アムリット )

Ayurveda, Jyotish, Gandharva-veda, Amrit Kalash

〒510-0815 三重県四日市市野田1-2-23 TEL 059-340-5139 FAX 059-340-5175 E-mail: info@amrit.jp URL: http://www.amrit.jp

アーユルヴェーダ インド占星術 太古インド音楽 ヴェーダ天文台

Amrit, Ghee, Incenses, Aroma oils, Herbal teas, Spices, Ancient Indian Music CD, Books, Indian Astrology, Ayurveda, 本物研究所代理店


MOST AUTHENTIC INDIAN FOOD IN TOWN OPEN DAILY: 11:30 a.m.-11 p.m. (LAST ORDER 10 p.m.)

MOTI AKASAKA, near T.B.S. 2-14-31-3F CENTER MINAMI, AKASAKA, YOKOHAMA

MINATO-KU, TOKYO

TEL (03) 3584-6640, 6649

TRY OUR SOUTH INDIAN SPECIALITIES


Roppongi Hills Hillside B1 03-6438-1177

Tokyo Hibiya Midtown 2F 03-6550-8765 (Newly Opened)


Heartiest Greetings from        



(A GOVT. OF INDIA UNDERTAKING ) 1-24-1, Nishi-Shinjuku, Shinjuku-Ku, TOKYO 160-0023 68 GLORIOUS YEARS OF DEDICATED SERVICES IN JAPAN AN INDIAN MULTI-NATIONAL SINCE 1920 WITH PRESENCE IN 28 COUNTRIES Branches:Tokyo, Osaka, Nagoya, Hiroshima, Sapporo, Okayama, Gifu Sub Branches: Fukuyama, Iwakuni, Shimonoseki, Himeji Please visit us at www.newindia.co.jp


Wishing All A Very Joyous Durga Puja - Amitava From Amitava Ghosh (080 3177 6563)


Celebrating 31years in Travel Business!

インドのことなら北から南までお客様の要望に応えてオーダーメイドの旅行をアレンジします。 Please contact us for any travel assistance for India such as Air tickets, Trains, Hotels, Transport, Guides. COURSE EXAMPLE ※This is case of 2persons tour and cost given below per person basis. EXCURSION PLAN

★AGRA Excursion      ★JAIPUR Excursion        ★Delhi Full day sightseeing

INR.6,500~(Visit Taj mahal & agra fort)

INR.8,500~(Visit City palace,          

INR.3,500~

Jantar mantar,Hawa mahal,Amber fort)

※Include Guide,AC Car, Lunch    ※Include Guide,AC Car, Lunch 

※Include Guide,AC Car, Lunch Rs.800 Extra

STAY PLAN ※Cost is till 30SEP Departure

Delhi CAR Charter

※Include Guide,AC Car, Lunch Please ask us detail schedule. ★ VARANASI & AGRA 3Days

★AGRA&JAIPUR 3Days

★Haridwar&Rishkesh 3Days

INR.22,000~(Use 4★ hotel)

INR.19,500~(Use 4★ hotel)

INR.19,000~(Use 4★ hotel)

* Suzuki Desire class (2Seater)INR.1,500~

* Toyota Inova (4Seater)INR.2,200~ ※Cost is for in Delhi,8Hrs.

  

Free use in Delhi until 80km.

※Air & Night train use,SPOT guide ※AC Car & through guide ※AC Car & through guide

Per room Per night with Breakfast Single:INR.2400~

PALS INN Hotel

Twin:INR.2600~

We also operate a standard hotel with convenience and cleanliness in center of Delhi. 30Minuts by car from New delhi Airport / 6Minuts on foot from Patel nagar Metro station. Total 23Rooms (Facility) Wi-fi Free, All room AC, TV, Coffee maker, Bath towel, Soap, Shampoo, Money Exchange, 1 Mineral water per person service! Meeting rooms are also available, you can use only meeting room for 20persons. Banquet room can accommodate 60person for parties please contact us!

TOKYO OFFICE

DELHI OFFICE

501, Dai2 Toei Bldg, 1-17-1 Nishi Gotanda,

#303-304, Padma Tower – 1, Rajendra Place, New Delhi

Shinagawa-ku, Tokyo 141-0031

TEL : 11-41264126

TEL : 03-3495-2829 FAX : 03-3495-2890

MOB : 9810125655 / 9810609989

WEB : www.vaishalitravels.com

E-Mail : vaishalitrvls@gmail.com

E-Mail : info@vaishalitravels.com


With Best Wishes

Please contact us for: 1) Remittance Services

2) Deposit Services

3) Trade-related Services

4) Foreign Exchange

Tokyo Marunouchi Nakadori Bldg. 2-2-3, Marunouchi Chiyoda-ku, Tokyo 100-0005

Osaka Nihon Seimei Sakaisuji Honmachi Bldg. 1-8-12, Honmachi Chuo-ku, Osaka 541-0053

Phone: 03-3212-0911 e-mail: boitok@gol.com

Phone: 06-6261-4035 e-mail: boi.osaka@bankofindia.co.in

Please visit us at http://www.boijapan.com


118

Anjali

www.batj.org

Profile for sanchan

Anjali 2018 Magazine  

Anjali is the yearly Tokyo Durga Puja magazine. It is a multilingual literary magazine published during Durga Puja (one of the most importan...

Anjali 2018 Magazine  

Anjali is the yearly Tokyo Durga Puja magazine. It is a multilingual literary magazine published during Durga Puja (one of the most importan...

Advertisement