Page 1


Anjali

Durga Puja Program October 8, 2016 Puja Anjali Prasad & Lunch Cultural Program Puja & Arati

… … … … …

11:30 AM 12:30 PM 1:00 PM 2:30 PM 5:00 PM

Cultural Program Akanksha Mukherjee, Ashmita Paul, Rhitvikaa Viswanathan Bithika Washizawa, Malini Washizawa, Zinnia Dhar, Anushka Mandal, Aditi Mandal Ishwarya Chandan

Agamani Dance

Recitation

Purnima Ghosh, Biswanath Paul, Ahona Gupta

Songs

Bidisha Sengupta, Debjani Ray, Meeta Chanda, Tuli Patra, Padmashree Mukherji, Ahona Gupta, Chaitali Paul, Biswanath Paul, Sanjib Chanda Violin: Chandhan Rangarajan and Tabla: Masanori Hisamoto

Dhunuchi dance

Arunansu Patra, Nishant Chanda, Prabir Patra, Sanjib Chanda, Viswa Ghosh, Arnash Gupta, Rahul Bhawal, Samaresh Dhar

English & Japanese Pops

Reimi Das & group

Bollywood Melodies

Debarati Bose, Meeta Chanda, Udita Ghosh, Srujani Mohanty

Indian Classical Dance

Shotaro Matsuo

Music Ensemble

Cindy Kumar, Arunansu Patra, Nishant Chanda

Tribute To Tagore

Sudipta Bhawal Mukherjee

Dance

Rabindrasangeet with Rabindra Nritya Songs Dance Tabla

Pramita Mallick – Guest artist from Kolkata Subha Kokubo Chakraborty Masanori Hisamoto

Stage, Light and Sound

Anirvan Mukherjee, Biswanath Paul, Prabir Patra, Pranesh Kundu, Tuli Patra, Sanjib Chanda, Viswa Ghosh, Atsushi Suzuki, Kaori Izumida and Rita Kar

Compered by

Ahona Gupta, Keiko Chattopadhyay and Biswanath Paul

Program coordinated by Rita Kar Venue: Ota Bunkanomori Hall, Chuo 2-10-1, Ota-Ku, Tokyo 143-0024 © Bengali Association of Tokyo, Japan (BATJ). All rights reserved. Disclaimer: The articles compiled in this magazine are personal opinion of the authors and in no way represent any opinion of BATJ.


সম্পাদকীয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে ১৯১৬ সালের ২৯শে মে ক�োবে বন্দরে এসে প�ৌছল�ো ত�োসামারু জাহাজ। মনে মনে বেশ কিছু দিন ধরে ইচ্ছাপ�োষণ করলেও, সেই তাঁর প্রথম জাপানে পদার্পণ। জাহাজ থেকেই জাপানের স্বাদ গ্রহণ শুরু। আর সেই স্বাদগ্রহণ কতটা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ তা সহজেই ব�োঝা যায় জাপান ভ্রমণকে কেন্দ্র করে তাঁর এক অনবদ্য সৃ ষ্টি ‘জাপান যাত্রী’ গ্রন্থ থেকে। সাধারণ মানু ষ যখন বিদেশ ভ্রমণে যায়, তখন তার প্রধান লক্ষ্য থাকে বিভিন্ন দ্রষ্টব্য স্থান বা বস্তুর প্রতি । সেই দৃ ষ্টিক�োণ থেকে লেখা ভ্রমণকাহিনী তাই হয়ে ওঠে মূ লতঃ তথ্যভিত্তিক। বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে ও রচনাশৈলীর গুণে সেই দৃ ষ্ট বস্তুকে কেন্দ্র করে জন্ম নিতে পারে এক মন�োরম ভ্রমণ কাহিনী। তবুও তাতে থেকেই যায় ভ্রমণ কাহিনীর সীমাবদ্ধতা। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের ম�ৌলিক দৃ ষ্টিভঙ্গিতে ভ্রমণ কাহিনীও উন্নীত হয় এক সম্পূর্ণ ভিন্ন স্তরে, নিবিড় উপলব্ধি এবং গভীর অনু ভূতি যার মূ ল ভিত্তি। দেখা যাক সঠিক দৃ ষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ জাপান যাত্রীতে কি বলেছেন, “মানু ষ তার যে ব�োধশক্তির দ্বারা অন্যের প্রকৃত সত্তাকে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় সেটি তার দৃ ষ্টি বা স্পর্শের মত অনেকটাই সহজাত গুণ। সেই জ্ঞানেন্দ্রিয় মানু ষকে জ�োগায় বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে না গিয়ে প্রত্যক্ষ অনু ভূতির ক্ষমতা। এই ক্ষমতা যাঁদের নেই তাঁরা শুধু ঘটনা এবং তথ্যের মধ্যেই আবদ্ধ থাকেন, বৃ হত্তর সত্যের উদ্‌ঘাটন করতে পারেন না”। সেই সহজাত জ্ঞানেন্দ্রিয় দিয়ে তাঁর সংক্ষিপ্ত ভ্রমণকালে রবীন্দ্রনাথ জাপানকে দেখেছিলেন দেশটির হৃদয়ের অন্তঃপুরে প্রবেশ করে। উদ্‌ঘাটন করেছেন বৃ হত্তর সত্যের, যা আজ শতবর্ষ পরেও আমাদের জ্ঞানের দীনতাকে পূ রণ করতে সাহায্য করে। সত্য দৃ ষ্টি কি তা উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। তাই জাপানের প্রখ্যাত শিল্পী শিম�োমুরার অঙ্কিত ‘অন্ধের সূ র্যবন্দনা’ দেখে তাকে সহজেই চিহ্নিত করতে পারি ‘অসত�ো মা সদ্‌গময়, তমস�ো মা জ্যোতির্গময়’ এই শাশ্বত বাণীর সার্থক চিত্রায়ণ বলে। সত্য দৃ ষ্টি প্রসঙ্গে জাপান যাত্রীর আরেক অংশে কবিগুরু বলেছেন, “আমাদের সঙ্গে যে জাপানি যাত্রী দেশে ফিরছেন তিনি আজ ভ�োরেই তাঁর ক্যাবিন ছেড়ে একবার ডেকের উপর উঠে এসেছেন, জাপানের প্রথম অভ্যর্থনা গ্রহণ করবার জন্যে। তখন কেবল একটিমাত্র ছ�োট নীলাভ পাহাড় মানসসর�োবরের মস্ত একটি নীল পদ্মের কুঁড়িটির মত�ো জলের উপর জেগে রয়েছে। তিনি স্থির নেত্রে এইটুকু কেবল দেখে নীচে নেবে গেলেন; তাঁর সেই চ�োখে ঐ পাহাড়টুকুকে দেখা আমাদের শক্তিতে নেই – আমরা দেখছি নূ তনকে, তিনি দেখছেন তাঁর চিরন্তনকে; আমরা অনেক তুচ্ছকে বাদ দিয়ে দেখছি, তিনি ছ�োট�ো বড়�ো সমস্তকেই বিরাটের অঙ্গ করে দেখছেন। এইজন্যেই ছ�োট�োও তাঁর কাছে বড়, ভাঙাও তাঁর কাছে জ�োড়া, অনেক তাঁর কাছে এক। এই দৃ ষ্টিই সত্য দৃ ষ্টি”। একশ�ো বছর আগে জাপান সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের আল�োচিত তথ্য যু গের পরিবর্তনে কিছু টা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেলেও, যে বৃ হত্তর সত্যকে জাপান যাত্রীতে তিনি আল�োকিত করেছেন আজও তা সম্পূর্ণ ভাবে প্রাসঙ্গিক। রবীন্দ্রনাথের প্রথম জাপান ভ্রমণের শতবর্ষ পূ র্তি, জাপান প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে নিঃসন্দেহে একটি স্মরনীয় ঘটনা। আমাদের শারদীয় নিবেদন ‘অঞ্জলির’ এক অংশকে তাই সাজান�ো হয়েছে সেই ঘটনাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

অঞ্জলির পাঠক পাঠিকাকে জানাই আমাদের শারদীয় প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

www.batj.org

Durga Puja 2016


Editorial On 29th May 1916, Japanese ship Tosamaru arrived at Kobe bringing the legendary poet Rabindranath Tagore in Japan. It was poet’s maiden visit to Japan which he was looking forward for quite some time. In Tagore’s words, the taste of Japan could be felt from the voyage itself. From the description in “Japan Jatri” written by him based on this trip, one can get a feel of the distinctive ways, Tagore had relished every bit of his experience. One would generally expect, sightseeing to be the main focus of a tourist in a foreign land. So any description written meticulously based on that perspective can be considered as a good source of information. Some element of interesting analysis with skillful writing style can at best turn into an interesting story, but it still falls in the category of a travelogue. However, Rabindranath’s originality in looking at various things elevates a simple travelogue to a much higher plane, where the bases of his viewpoint are deep realization and intense feeling. Let us see what he had said in this context in Japan Jatri: “The power that enables human being to feel the true identity of others is an inherent quality of a man, which is something like his sensory or visual abilities. These senses provide human beings the power to directly perceive something without going into any detailed analysis and judgement. Those who are void of this capability would always be confined by the limitations of facts and figures, and are unable to reveal grander truth.” Using this inherent power Rabindranath in his short trip observed Japan at the core of its heart. The true understanding of Japan thus revealed to him helps us to enrich our superficial knowledge of Japan even after 100 years. He had taught us to realize what the correct way of looking at things is. We have learnt to appreciate the manifestation of the eternal prayer “from the unreal lead me to the real, from darkness lead me to light.” when we see Shimomura’s famous picture depicting a blind praying to the setting sun. Regarding correct way of looking at things, poet further explained, “this morning our Japanese fellow passenger came up to the deck to acknowledge first welcome from Japan. At that time only a small tip of a bluish mountain could be seen on the surface of the sea, as if a huge blue lotus bud was floating in the lake Manassarovar. He quietly and briefly stared at it and then went back to his cabin. I know for sure, we don’t have the ability to see it through his eyes. While we were seeing something new, he could find eternity; we ignored many non-significant part, he was looking at the gross; no matter whether it is tiny or big, to him everything was a part of the integrated whole. As a result, tiny appears big to him, broken seems to be fixed and fragments are united. This is what should be the true vision.” Some of the descriptions related by Rabindranath 100 years ago might have lost its relevance in course of time, yet the grander truth that he had revealed is largely valid till today. The centenary of Tagore’s maiden visit to Japan is undoubtedly a memorable incident to the Indians living in Japan. We too commemorate the incident by dedicating a special section in the limited scope of our autumnal publication ‘Anjali’.

Heartiest greetings from Editorial board of Anjali to all its readers.


Acknowledgements We are pleased to bring out our autumnal publication of Anjali on this auspicious occasion of Durga Puja celebration. Year 2016 marks the centenary of Tagore’s maiden visit to Japan. It is well known that Tagore’s visit to Japan made a great impact in establishing cultural relationship between India and Japan. In order to commemorate this historical event within our limited scope, we decided to dedicate a special section of this edition with various articles on Rabindranath Tagore and his Japan visit. We are thankful to all contributors who have made it possible by their individual contribution. Anjali’s continuing success is made possible by the overwhelming support of many well-wishers. The Embassy of India in Tokyo extended their gracious support for which we are very thankful. We hope to receive the same patronage in future as well. We would like to thank all advertisers who have sponsored this year’s publication. We thank Amitava Ghosh, Sanjib Chanda, Syamal Kar, and Viswa Ghosh who on behalf of BATJ collected advertisements from our sponsors. Every year Anjali is being enriched by the valuable contributions from native speakers of different languages and various cultural backgrounds. We sincerely thank each of them for their overwhelming support. We convey our gratitude to the contributors who have seen the online version of our publication and sent us their contributions. At different stages of this process, we received valuable advices from many well wishers. We tried to incorporate their suggestions as much as possible. We convey our sincere thanks to all of them.

Editorial Team

Editorial Team Ranjan Gupta Ruma Gupta Sanjib Chanda Meeta Chanda Sudeb Chattopadhyay Keiko Chattopadhyay

Integration & Design Cover Artwork & Collages Meeta Chanda

Sanjib Chanda

(Recent versions of Anjali magazine are available at BATJ website and Anjali 2016 will also be available later.)

www.batj.org

Durga Puja 2016

5


Anjali 2016

CONTENTS

The Eternal Truths of the Bhagavadgita as taught by Dr. Sarvapelli Radhakrishnan

Centenary Celebration of Tagore’s maiden visit to Japan

8-31

पिंजरा

- नीलम मलकानिया

- Summarized by Suneel Bakhshi

52

72

Special Theme

Feature, Story, Travelogue, Poetry

11 ​Rabindranath and Japan 

32 অকালব�োধন ও আমাদের শারদ�োৎসব

13 জাপান যাত্রী প্রসঙ্গে

33 মনিপুরী নাচের প্রতি আমার শ্রদ্ধা

15 Tagore 100th Anniversary of his Visit to Japan

34 ঘুরে বেড়ান�োর গল্প

- Swami Medhasananda

- পূ র্ণিমা ঘ�োষ

- সেৎসু ত�োগাওয়া

- কিওক�ো নিওয়া

- Tom Kawai

17 রবীন্দ্রনাথের ‘জাপান যাত্রী’ : শতবর্ষের এপারের

- অমিতাভ চক্রবর্তী

20 রবীন্দ্রনাথ, জিন্‌য�ো নারুসে এবং ত�োমি ক�োরা

- কাজুহির�ো ওয়াতানাবে

- 神戸 朋子

23 タゴール訪日百年に寄せて 24 বাঙালির জাপান যাত্রা

  - শুভা চক্রবর্তী দাশগুপ্ত 26 বিশ্বকবির জাপানযাত্রার শতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি - ভাস্বতী ঘ�োষ (সেনগুপ্ত) 28 যা দিয়েছ আমার এ প্রাণ ভরি... - শুভা ক�োকুব�ো চক্রবর্তী 29 রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশার কয়েকটি জন্মদিন পালনের ইতিবৃ ত্ত - শ্রীকান্ত চট্টোপাধ্যায় বেদনা 31  -ベドナ、深き哀しみの海へ

6

- 奥田 由香(Yuka Okuda)

- বিদিশা সেনগুপ্ত 36 বাগবাজার - তপন কুমার রায় 39 অনু চ্চারিত - অরুণ গুপ্ত 41 রঙ-বেরঙ - গ�ৌতম সরকার 44 ক্ষুদ্‌দা ও ব�ৌদির দীর্ঘ বিতর্ক - অনু পম গুপ্ত 46 জীবনের রং - মঞ্জুলিকা হানারি (দাশগুপ্ত) 47 স্বচ্ছ ভারত - ক�ৌশিক ভট্টাচার্য্য 48 রান্নাবান্না - চম্পা চক্রবর্তী 49 আর�ো কিছু দিন - শঙ্কর বসু 49 শব্দহারা - দু হিতা সেনগুপ্ত 50 নববর্ষ - শান্তনু চক্রবর্তী 50 তুমি সূ র্য - নমিতা চন্দ

Anjali

www.batj.org


81 深い絆

51 আরশি

- সু ব্রত বনিক 51 মানবিকতার মৃ ত্যু - বিশ্বনাথ পাল

52 The Eternal Truths of the Bhagavadgita

as taught by Dr. Sarvapelli Radhakrishnan - Summarized by Suneel Bakhshi

57 Laziness Again

- Sougata Mallik

- ラル 千登世

82 日本の夏をカディですごしませんか?

- 石澤 砂月(Ishizawa Satsuki)

83 最近のわっこひろば宙 - 山田 さくら

84 初のインド旅行 - 佐伯 田鶴(さえき たづ)

86 「ハルサイフ」

- 辻 しのぶ

59 Serendipity

- Piali Bose

60 Leicester City and the Power of Miracles

Children's Section

61 The Origins of Indian Tea

87 The Mystery  

62 Cultural Musings – How to Explain the Bengali Ento

87 Slender Man

63 Strange Obsession 

88 The Missing Library Book

65 The Measure of Beauty

89 Lost inside a shoe 

65 A Dream...

90 Haiku Poems

66 A festival to renew

91 The Battle at Viareggio

66 Autumn in Japan

92 Hotaru no Yube (Evening lit by Fireflies)  

- Shoubhik Pal

- Sumon Bhowmik - Brajeshwar Banerjee - Tapan Das

- Soumitra Talukder - Udita Ghosh - Dipankar Dasgupta - By Srujani Mohanty

67 मौन - श्री श्री रवीशंकर 68 आँखों का रिश्ता - सरिता कुमारी 71 अनाथ शैशव - सुनील शर्मा 72 पिंजरा - नीलम मलकानिया 74 वाणी बने वीणा - सारिका अग्रवाल 75 हिरोशिमा - सुरेश ऋतुपर्ण

- Aditi Kumar, Grade IV - Sneha Kundu, Grade VIII - Arnab Karmokar, Grade IV - Akanksha Mukherjee, Grade VI - Ananya Sharma, Grade VI - Anirudh Kumar, Grade VIII - Manasvi Kapoor, Grade VIII

94 Behind the Scenes of Tagore

- Arunansu Patra, Grade XI

96 The Homecoming

- Utsa Bose, Grade XI

97 Drawings

101 Anjali Editorial Team 102 Arts 106 Photography

76 リシケシ滞在記---スワミ・チダーナンダ

- 新田 裕子

78 インド舞踊を習い始めました!

- 三橋 裕子

79 ある見習い修道女の神さまへの問いかけ

- 洋子 佐藤

80 ボタニカルアートを始めて

- 加藤 渓子

www.batj.org

Durga Puja 2016

7


CELEB RA

TI

N

N ï‚« CENT E

O OF

J

AID

E N V I SI T T

O Anjali

www.batj.org

'S

A AP

TAGORE

8

M

N

Y AR


www.batj.org

9


Some Japanese personalities Tagore came in contact with... Okakura Tenshin was the son of Okakura Kan'emon, a wealthy silk merchant from Fukui prefecture. He was the internationally renowned Japanese art historian and curator for the Japan Institute of Fine Arts (Nihon Bijutsuin), the Tokyo Fine Arts School and the Museum of Fine Arts, Boston. In 1889, he co-founded the periodical Kokka. He was an important supporter of the work of artists such as Kanô Hôgai and Yokoyama Taikan, and the Nihonga movement. He met Tagore only twice, and no record of their exchanges, either letters or photographs of the two together have been found to date. Their meetings took place first in Calcutta in 1902 and then in Boston in 1913. Murayama Ryohei was born in 1850 in the castle town of Ise Tamaru, a subsidiary domain of the Kishu Tokugawa clan. He founded the Asahi Shimbun newspaper company. Along with his business partner Ueno Riichi. He also published Kokka, an art magazine overseen by Okakura Tenshin, who was known for his deep interest in the arts. Taikan Yokoyama was born in Mito city, Ibaraki Prefecture. He entered the Tōkyō Bijutsu Gakko in 1889 and graduated in 1893. In 1914, Yokoyama along with Kanzan Shimomura concentrated on reviving the Nihon Bijutsuin (The Japan Fine Arts Academy) which had closed down upon Okakura Kakuzo's death in 1913. Taikan came to India along with Shunsō Hishida in 1903. He, along with Hishida was one of the first modern Japanese painters to visit India. They worked in Abanindranath's studio at Jorasanko in Calcutta. Taikan's presence gave the Indian artists, especially Abanindranath and Gaganendranath an opportunity to study and adapt the Japanese techniques. Kanzan Shimomura was born in 1873 in Wakayama city, Wakayama Prefecture into a family of hereditary Noh actors. He graduated first in his class at the Tōkyō Bijutsu Gakkō (the forerunner of the Tokyo National University of Fine Arts and Music), and became a teacher at the same institution in 1894. One of his representative works is a byōbu titled Yoroboshi or "The Beggar Monk" was created in 1915 in colored ink and gold leaf on paper. The screen depicts a scene from a famous Noh play of the same name. In the scene, blind monk, has been falsely accused of a crime. Disowned by his family he wanders about, living as a vagrant. Although he is now blind, he has become one with the universe and can see all that surrounds him. Kampo Arai was born in Ujiiie of Tochigi prefecture. In Calcutta Arai worked in Vichitra studio. Kampo Arai visited Calcutta and Santiniketan and travelled around India from 1916 to 1918. He went to the ancient cave shrines of Ajanta to copy the famous frescoes there. He also visited Puri, Konark and several other places of historical and artistic interest in Orissa along with Nandalal Bose. Jinnotsuke Sano stayed in Shantiniketan from 1905-1908, duringthis period of time he had taught Jujutsu to the students of Shantiniketan. He translated Gora from Bengali. Hori Shitoku (1876-1903), a young Buddhist priest of the Nara Prefecture, accompanied Okakura to India to study Buddhism and Sanskrit. He accordingly became the first foreign student at Shantiniketan. Yasuji Kiyose (清瀬保二 Kiyose Yasuji, 13 January 1900 – 14 September 1981) was a Japanese composer. He studied composition privately with Kōsaku Yamada and Kōsuke Komatsu and in 1930, took an active part in organizing the Shinkō Sakkyokuka Renmei, He composed the tune to the Japanese translation of a piece of Tagore’s poem which was sung in Zojoji temple to welcome Rabindranath Tagore. The poem was number 31 in the collection of poems “The Gardener”. Jinzo Naruse was born in June 1858, he was son of a samurai family of Yoshiki, from Yamaguchi Prefecture. He spent his whole life as a pioneer of higher education for women. He was the founder of first women’s university of Japan. As he was great admirer of Tagore’s philosophy Naruse invited him to the university. In August 1916 Tagore also visited Sansen Ryoya dormitory of the university in Karuizawa and joined the summer school students in meditation under the big flr tree. Tomi Kora was born on 1st July 1896 in the city of Takawa of the district of Toyama. When Tagore first came to Japan in 1916, Tomi Kora was a student of a women’s university. She worked as an interpreter during Tagore’s visit to Japan on his way to and back from Canada in 1935. Tomitaro Hara - A successful silk merchant of Yokohama, who has deep love for his country’s art and cultural heritage. He reconstructed buildings of historic importance from places such as Kyoto and Kamakura in his garden,which was opend to the public as ”Sankeien”in 1906. In 1916, from about mid-June till August end, Tagore stayed at Sankeien garden with Mukul Dey.

* * *

10

Anjali

www.batj.org


LEBRATION TA G

 CENTENA

F

R

O

Y

CE

  - Swami Medhasananda

MA

DE

I

AN

O R E'S

Rabindranath and Japan

N

VISIT T O J A

P

Rabindranath introduced During Okakura Tenshin’s stay in Calcutta​in 1902​ Sister Nivedita, an Irish disciple of Swami Vivekananda who had come to India to help implement Swamiji’s plan to educate Indian women ​and finally dedicated her whole life to the service of India​, introduced Okakura to Rabindranath. This meeting between Okakura and Tagore, and ​also with​  other members of the Tagore family had many far-reaching results, including engendering Tagore’s interest in Japanese painting and a voyage to Japan to come much later. 

Rabindranath visits Japan Even before his visit to Japan he was a well-known figure as the first Asian to be awarded a Nobel Prize. This actually gave Japan a sense of pride as well as an Asian nation hoping to focus and strengthen its identity as an Asiatic country juxtaposed to the prideful identities of Western nations. At least seven books on Tagore’s life and works were published in Japan before the advent of his visit. These publications, which reveal the interest in Tagore among intellectuals, also created an awareness of him among common people. Hence, his arrival in Japan was warmly received and he was given a hearty welcome as a distinguished poet and Nobel laureate by people from all walks of life. Thus he could make many acquaintances, some of whom would become both great friends and admirers, like influential poet, Yonejirō Noguchi. In all, Tagore visited Japan five times, the first taking place in 1916 when he spent three months here. During his stays in Japan, Tagore observed and appreciated many sterling qualities of the Japanese character, for example, their restraint in expression; their dignified, graceful and warm manners, especially of the ladies; their sense of discipline; dignity of labour; love of country; the delicate sense of aesthetics expressed in traditions like the tea ceremony; their love of nature and flower arranging; to give but a few concrete examples. He was tremendously impressed when he saw a cyclist very nearly hit by a car, quietly leave without a disparaging or angry word to the driver. On another occasion he observed that some labourers walked about 2 kilometres to visit a park and sit silently enjoying the beauty of nature during their short lunch-break. Tagore visited many places in Japan, including Izura, where Okakura founded his famous art school and where his family lived. He met his family members there, but Tenshin had already passed away. Tagore also met many distinguished Japanese and gave lectures in various places, including universities, press clubs and Indian Community Centres, thus becoming one of the pioneers of the India-Japan Relationship in the Modern Age and also a prominent visitor in the history of Modern Japan. In his private interviews and lecture in Japan while he appreciated Japan for many of its rare qualities, he was wary of some of the trends gaining ground in contemporary Japan. Tagore, deeply rooted in classical values, and a staunch www.batj.org

advocate of peace, liberty and humanism, was also a keen observer. During his sojourns he did not fail to notice some unhealthy trends that begun with the Meiji Restoration of 1868, when in the name of modernisation, many traditional values and systems of the land were either uprooted or undermined and substituted by Western values and systems, without serious consideration of the effect on national life in the long run.

Tagore’s warnings Hence Tagore as a humanist and anti-imperialist became critical, not of the Japanese people, but of Japan’s Imperialist policies in a speech entitled, ‘The Message of India to Japan’, at the University of Tokyo and another titled ‘The Spirit of Japan’, at Keio University. Tagore warned, “Don’t forget you soul, while you modernise you country by imitating Europe.” We should remember that Tagore was not a mere puritanical, orthodox traditionalist - he was indeed very progressive in outlook and was always eager to learn from other peoples and countries. At the same time Tagore was not in favour of any blind imitation. The second unhealthy trend he noticed that followed from the first, was Japan’s pursuit of policies of military aggression toward neighbouring countries which he strongly criticised. His warnings and criticisms were not heeded. At Tagore’s criticism, the Japanese Government and its adherents among the people were quite displeased. As a result, the so-called ‘Tagore fever’ or ‘boom’ of enthusiasm as it was sometimes referred to, that had actually begun early in 1915 at the prospect of a visit, quickly cooled. So much so, that once instant admirers, like Noguchi, became either increasing indifferent or began to publicly criticise him. This certainly prevented Tagore from having a greater, positive impact on Japan. This sentiment prevailed during Rabindranath’s second visit as well, although he was a personal guest of some and invited by others to give talks. During these subsequent visits Tagore’s impact was more personal than universal. This changed dramatically when the militarist policies of the former government that led to the devastation of the country in World War II were given up and the new government declared itself pacific. Thus a new milieu was created in which ideas and people were viewed from a different, more positive, liberal angle. It was in this backdrop that the Tagore’s centenary celebration took place and ushered in a new assessment of Tagore’s views on Humanism, freedom and peace. Many programmes with the enthusiastic participation of a cross-section of society were organised. A chief feature of these celebrations was the many translated volumes of Tagore’s works into Japanese, which initially were only from English translations. Later translations from both English and Bengali, and Bengali only created a greater scope of appreciating Tagore’s impact on the people.

Durga Puja 2016

11


Rabindranath and Japan

Impact of Tagore on Japan

Impact of Japan on Tagore

The velocity of that impact can now be studied from two aspects. Firstly, we can see the impact the style and content of Tagore’s writing had on other writers, and secondly, we can see the impact his message had on the people.

In spite of language constraints, Tagore, himself an accomplished poet, deeply appreciated the Japanese shortverse compositions known as ‘haiku’ for their simplicity, depth, imagery and economy of words. He himself translated some of the more famous haiku into Bengali, one translated into English as, ‘Old pond, frog jumps, water’s sound.’ (Purono pukur / Banger laph / Jaler shavda). This short haiku composition inspired Tagore to write a few short-verse poems in Bengali.

As regards the first, Japanese scholars are mostly of the opinion that Tagore’s impact on Japanese writings is of no significance. However, there is a different opinion according to Yasunari Kawabata, Japan’s first Nobel Laureate in Literature, who was deeply impressed by the sage-like appearance of Tagore, having seen him during his middle school days, and made considerable use of Tagore’s ideas in his own works. Now just what the impact of Tagore’s work on Japanese readers and their lives was is difficult to assess unless it has been properly surveyed and documented. There is, however, one prominent case is that of  Saburo Mashino who was the first translator of Tagore’s works into Japanese as early as 1913. This was a re-translation or second-generation translation from an English translation of Tagore’s Gitanjali. Mashino himself later confided that the very day he came to learn he had contacted tuberculosis, an incurable disease in that day, was when he first became acquainted with Tagore’s works. And it was Tagore’s work, perhaps the poems of Gitanjali, that sustained him during his protracted illness and helped him to forget about his terminal disease. Tagore’s work also induced him to study Indian Philosophy. Though we may not know specifically, I am sure in addition to having the joy of reading Tagore’s works, there were ​quite​ a few who drew courage, faith and inspiration from his works that ​would​sustain them in their days of trouble and suffering. A similar impact is observed, though to a more limited scale, with Tagore’s songs appreciated by the Japanese for their lyric and melody. The general awareness of Tagore again died down gradually after his birth centenary celebrations only to again revive somewhat last year with celebration of his 150th birth anniversary. The response to this recent celebration, however, was greeted with much less enthusiasm than witnessed during centenary observances.

Tagore was especially drawn by the beauty of Japanese painting which was distinct from both Western and Indian painting and he came in touch with some celebrated Japanese artists, namely, Taikan Yokoyama, a close associate of Okakura Tenshin, and Kampo Arai. He even arranged for Arai’s stay at his Calcutta residence to teach Japanese painting to Indian artists and to study Indian painting himself. Thus the cultural exchange between India and Japan initiated by Tagore culminated in the foundation of ‘Nippon Bhavan’, a centre of Japanese language, literature and culture in Tagore’s Visva-Bharati University. There is a sizeable number of Japanese who have studied and now study language, literature, philosophy, art, music and dance at this and other Indian universities and institutes including recently founded Rabindra-Okakura Bhaban in Kolkata.       

​Conclusion It is needless to say that the study of life and works of Tagore which is multidimensional has a great potentiality. Translations of Tagore’s work into Japanese have made the necessary ground f​or the study of it​. These tra​ns​ lations should be utilised for promoting the study through organising talks, seminars, accessible to common people, in addition to writing books and articles which have been already undertaken by some   scholars of Japan, for example Kazuo Azuma and Tsuyoshi Nara. Though some of the members of the Bengalee Association of Tokyo have been holding a Tagore celebration ​ every year​ in a small and informal way, a regular   annual celebration of the birth anniversary of Tagore in a grand scale in collaboration with the Indian and Bangladesh Embassies and other Japanese and Bengalee sympathisers including the alumni of the Viswa Bharati, will help substantially ​to enliven the memory of Tagore in Japan and kindle people’s interest in him. Consequently, this may engineer possibilities of greater impact of Tagore in this country​, which he loved so much and visited so many times. 

Tagore with Okakura family 12

Anjali

www.batj.org


L E B R A TI O

N

TAG

 C E N T E NA

R

CE

OF

Y

�������������

MA

N PA

O R E' S

জাপান যাত্রী প্

ID

EN

VIS IT T O J

A

বীন্দ্রনাথ প্রথমবার জাপানে এসেছিলেন ঠিক একশ�ো বছর আগে অর্থাৎ ১৯১৬ সালে আর লিখেছিলেন একটা ভ্রমণ কাহিনি যার শির�োনাম জাপান যাত্রী। তবে রবীন্দ্রনাথ এবং জাপানের সম্পর্কের সূ ত্রপাত হয়েছিল তার আগে থেকেই। আসলে ১৯০১-এ ওকাকুরা তেনশিনের সঙ্গে সাক্ষাৎই জাপান সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের উৎসাহ জাগিয়েছিল। ওকাকুরা শিল্পকলাবিদ্যার বিশেষজ্ঞ, নিজে ছবি না আঁকলেও জাপানে নতুন চিত্রশিল্পের ধারা সৃ ষ্টি করেছেন আর তখন তাঁর সঙ্গে কয়েকজন চিত্রশিল্পী সক্রিয়ভাবে নতুন ধরনের ছবির রীতি সৃ ষ্টি করতে চেষ্টা করছিলেন। তাদের মধ্যে ইয়�োক�োয়ামা তাইকান আর শিম�োমুরা কানজানের মত�ো শিল্পীরা ছিলেন যাঁরা পরে অত্যন্ত বিখ্যাত হয়েছেন। সে যাই হ�োক, ওকাকুরার সূ ত্রে কয়েকজন জাপানি ভারতে গিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের বা বাঙ্গালিদের সাথে শিল্প বা ভাবের বিনিময় করেছেন। তাইকান গিয়েছিলেন ভারতে ছবি আঁকতে, ভারতীয় টেকনিক শিখতে বা জাপানি টেকনিক শেখাতে। সান�ো জিন্নোসু কে গিয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে জুজুৎসু আর জাপানি ভাষা শেখাতে। এ সব হয়েছে ১৯১৬ সালে রবীন্দ্রনাথ জাপানে আসার আগে। সে সময়ের জাপানের রাজনৈতিক বা সামাজিক পটভূ মির সংক্ষিপ্ত পর্যাল�োচনা করা যাক রবীন্দ্রনাথের লেখা নিয়ে আল�োচনা করার আগে। মেইজি পুনরুত্থানের পরে জাপান খুব তাড়াতাড়ি উন্নত হওয়ার চেষ্টা করে এবং রুশ-জাপান যু দ্ধের পরে আত্মবিশ্বাস এতটাই বেড়ে যায় যে দেশটি নিজেকে নির্দ্বিধায় ইউর�োপীয় দেশের মধ্যেই গণ্য করতে শুরু করে। ওদিকে জাপান ভারতের মত পরাধীন দেশকে হেয় করে দেখছিল কারণ সে নিজের দেশ রক্ষা করতে পারেনি বলে। যদিও জাপানের রাজনৈতিক অবস্থাটা তখনও বিপজ্জনক হয়নি কিন্তু নিশ্চয় খারাপের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল। অন্য দিকে জাপান নিজের সব বৈশিষ্ট্যগুলি ভুলে যাচ্ছিল পশ্চিমী দেশের নকল করতে গিয়ে। রবীন্দ্রনাথ সেই বিশিষ্টতাই আবিষ্কার করে জাপান যাত্রীতে উল্লেখ করেছেন বলা যায়। জাপান যাত্রীতে রবীন্দ্রনাথ জাপানের রাজনৈতিক বা সামাজিক বিষয় নিয়ে বেশী না বললেও যতটুকু বলেছেন সবই নির্ভূল বলে মনে হয়। অল্প হলেও রবীন্দ্রনাথ যা যা বলেছিলেন তাতে কয়েকটা লক্ষ্যণীয় বিষয় আছে। একটা হচ্ছে চীনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিজয় গর্ব, আর একটা হচ্ছে জাপানের শিন্তো ধর্ম। প্রথমত চীনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিজয় গর্ব কুৎসিত জিনিস, তাতে ক�োন�ো সন্দেহ নেই। আজকের অধিকাংশ জাপানিরাও সহমত হবেন। অন্য দিকে শিন্তো ধর্ম নিয়ে তিনি যা বলেছেন তা নিয়ে এখানে ভিন্নমত হতে পারে। সেসময়ের সরকার শিন্তো ধর্মের সু য�োগ নিয়েছে দেশকে শাসন করার জন্যে, এতে ক�োন�ো সন্দেহ নেই, কিন্তু শিন্তো সত্যি অর্থে ধর্ম কিনা সে সম্পর্কে তর্ক-বিতর্ক থাকতে পারে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি যে রবীন্দ্রনাথ যা বলেছেন তাতে বিশেষ ক�োন�ো ভুল নেই। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন যে জাপান ভাল�ো করে স্থির করতেই পারল না ক�োন�ো ধর্মে তার প্রয়�োজন আছে কিনা এবং ধর্মটা কী। রবীন্দ্রনাথের এই পর্যবেক্ষণ, বিশেষ করে তখনকার জাপানের ধারণা নিয়ে পর্যবেক্ষণটা অত্যন্ত সঠিক এবং তীক্ষ্ণদৃ ষ্টির পরিচায়ক। আমাদের পক্ষে দু ঃখের বিষয় হচ্ছে যে জাপান নিজে রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্কার করতে পারে নি। ইয়�োর�োপই আবিষ্কার করেছে রবীন্দ্রনাথকে আর সেই ইয়�োর�োপ হয়ে জাপান প্রথম শুনেছে রবীন্দ্রনাথের নাম। মেইজি পুনরুত্থানের পরে জাপানের বু দ্ধিজীবীরা শুধু ইয়�োর�োপের দিকে তাকিয়ে সব কিছু আত্তীকরণ করতে চেষ্টা করে এসেছিলেন। সাহিত্যের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা ছিল। তখন হঠাৎ ভারতীয় কবির নাম ইয়�োর�োপের কাছে শুনে তাঁদের মনে এক ধরনের জটিল বিহ্বলতা সৃ ষ্টি হয়েছিল। কারণ তাঁরা একাগ্রভাবে পশ্চিমের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখলেন যে সেই পশ্চিম ত�ো পূ র্বের একজন কবিকে প্রশংসা করতে শুরু করেছে। আসলে জাপানি বু দ্ধিজীবীদের মধ্যে এমন ল�োক কম ছিলেন না যাঁরা রবীন্দ্রনাথকে তুচ্ছ করেছেন এই বলে যে পূ র্ব দেশে রবীন্দ্রনাথের মত প্রতিভা অনেক রয়েছে আর আমাদের জন্যে তাঁর রচনা বা ভাবনা অত নতুন বা গুরুত্বপূ র্ণ কিছু নয়। অন্যদিকে সাধারণ মানু ষ যাঁদের ইয়�োর�োপের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক ছিল না এবং তরুণ-তরুণীরা স্বাভাবিকভাবে রবীন্দ্রনাথের আগমনে আনন্দিত হয়েছেন আর তাঁর কথা শ�োনার জন্যে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। মাঝেমাঝে বলা হয় যে রবীন্দ্রনাথের বক্তৃতার পরে জাপানের অধিকাংশ ল�োক তাঁকে প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করেন, তবে আসলে জাপানে www.batj.org

রবীন্দ্রনাথের বক্তৃতা একদম ব্যর্থ হয়েছে তাও নয়, যদিও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিকূল সমাল�োচনা বেরিয়েছিল। এদিকে এরকম প্রমাণও অনেক আছে যে রবীন্দ্রনাথের কথা তখনকার অখ্যাত তরুণ-তরুণীদের মনকে প্রভাবিত করেছে। অবশ্যই সে সময় কেউ রবীন্দ্রনাথের মূ ল রচনা পড়তে পারেন নি আর সব কিছু ইংরেজী থেকে অনু বাদ করে পড়তে হচ্ছিল। এই অবস্থায় রবীন্দ্রনাথের সত্যিকার প্রতিভা জানা মুশকিলের ব্যাপার। বু দ্ধিজীবী হ�োন, সাধারণ মানু ষ হ�োন, সবাই রবীন্দ্রনাথের নামটুকুই জানতেন কেবল বা তাঁর সাহিত্য সাধনার একটা ক্ষুদ্র অংশই জানতে পেরেছেন মাত্র। এই অর্থে বু দ্ধিজীবী ও সাধারণ মানু ষ উভয়েই রবীন্দ্রনাথের প্রতিবিম্বের উপরে ভিত্তি করে এই সব বলেছেন বা সাড়া দিয়েছেন। সে যাই হ�োক, এখন জাপান যাত্রী বিষয়ে এগিয়ে যাওয়া যাক। জাপান যাত্রীকে সাধারণভাবে ভ্রমণ কাহিনী বলা হয়, কিন্তু এটা নিশ্চয় রবীন্দ্রনাথের অনু পম ধরনের ভ্রমণ কাহিনী। যেমন রবীন্দ্রনাথের চিঠিপত্র সাধারণ চিঠি নয়, এটাও তেমনি সাধারণ ভ্রমণ কাহিনী নয়। এটা উল্লেখনীয় যে রবীন্দ্রনাথের লেখায় চিঠি এবং জাপান যাত্রীর মত�ো ভ্রমণ কাহিনীর পার্থক্য স্পষ্ট নয়। রাশিয়ার চিঠি বা জাভার চিঠি লেখা হল চিঠি হিসেবে তবে সেগুল�োকে ভ্রমণ কাহিনী হিসেবেও গণ্য করা হয়। জাপান যাত্রী ত�ো সে রকম চিঠি নয়, তবু ও প্রথমে এগুল�ো প্রকাশিত হয়েছে জাপানের চিঠি ইত্যাদি শির�োনামে। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ এই সব লিখেছিলেন কাউকে বা পাঠককে উদ্দেশ্য করে কথা বলার ধাঁচে আর সে জন্যে আমরা এর মাধ্যমে সরাসরি স্পর্শ করতে পারি রবীন্দ্রনাথের ভাবনাকে। আর এও বলা দরকার, যেমন ধরুন ছিন্নপত্র ত�ো একজনকে উদ্দেশ্য করে লেখা, তবু ও সেই চিঠিগুল�োতে সাহিত্যিক রস কম নয়, ঠিক তেমনি জাপান যাত্রীর মত ভ্রমণ কাহিনীতেও সাহিত্যিক রস প্রচুর রয়েছে। এক কথায় এটা রবীন্দ্রনাথের নিজের ঘরানার লেখা। এটি অবশ্যই প্রতিদিনের বিবরণ নয়। যা দেখেছেন শুধু তা লেখাটা কবির রীতি ছিল না, তিনি একবার সব কিছু নিজের মনের মধ্যে ভালভাবে পরিপাক করে তার পরে প্রকাশ করেছেন। তাই আমরা এখানে কবির মনের ভাবনা দেখতে পারি। পাঠকদের প্রথমে অদ্ভুত মনে হবে যে এই রচনার একটি বড় অংশ জাপানের বাইরে বা জাপানের দিকে সমুদ্র যাত্রাকালীন। কিন্তু আসলে এই অংশে রবীন্দ্রনাথের বিশিষ্ট ধারণা রয়েছে। যেমন ধরুন, এই লেখায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধু নিক সভ্যতা আর মানু ষের জীবন নিয়ে রবীন্দ্রনাথের গভীর আর দৃ ঢ় ভাবনা রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ এখানে বারবার লিখেছেন বাণিজ্যকরণের ক্ষতিকর প্রভাব বা মানু ষের অসীম ল�োভ ইত্যাদি নিয়ে আর সে রকম আল�োচনা বর্তমান জগতেও প্রাসঙ্গিক। আসলে রবীন্দ্রনাথের এই লেখাটা তাঁর মনের মুক্ত অনু ষঙ্গের অভিব্যক্তির মত (free association of his mind)। সে জন্যে একই মনের ভাব বারবার বিভিন্ন পরিবেশে চলে আসে। এটাই এধরণের মুক্ত প্রবন্ধের আকর্ষণ। তার উপরে তিনি জাপানি জাহাজে যাত্রা করেছেন বলে সেই পথেও জাপান সম্পর্কিত বিবরণ কম নয়। কবি পারস্যের রাজার কথা উদ্ধৃত করে বলেছেন যে কাঁটা চামচ দিয়ে খেতে গিয়ে ত�োমরা খাওয়ার একটা আনন্দ থেকে বঞ্চিত হও। তিনিও তাই জাহাজ থেকে জাপানের স্বাদ পেয়েছেন। এটা তখনকার জাহাজ ভ্রমণের একটা বড় লাভ। জাপান যাত্রীতে রবীন্দ্রনাথ জাপানের সংস্কৃতি নিয়ে সু ন্দর আল�োচনা করেছেন চা অনু ষ্ঠান, ফুল সাজান�ো, ছবি আঁকা বা সাজান�োর বিবরণ দেওয়ার সাথে সাথে। তিনি জাপানি দৈনন্দিন জীবন আর বাড়ির ব্যবস্থা নিয়েও অনেক লিখেছেন যেমন কম জিনিস ব্যবহার করে, ব্যবস্থাপূ র্বক কাজ করতে যাদের আশ্চর্য দক্ষতা, সমস্ত দেশ জুড়ে তাদের যে কতখানি শক্তি জমে উঠেছে তার কি হিসেব আছে। অবশ্যই এই একশ�ো বছরের মধ্যে জাপান অনেকটা বদলে গেছে। আমরা এখন সাধারণত কিম�োন�ো পরিনা, জাপানের বাড়িও আগের মত নয়, বাড়ির ভিতরেও নানান জিনিসপত্রে ভরে আছে। এখন আমরা কম জিনিস ব্যবহার করে শক্তি সঞ্চয় করে উঠতে পারি কিনা বলা কঠিন। কিন্তু যে স�ৌন্দর্যব�োধের রবীন্দ্রনাথ বারবার প্রশংসা করেছেন সেই আদর্শ এখনও রয়েছে মনে হয়। আজও হাইকু বা চা অনু ষ্ঠান প্রচলিত আছে আর সাধারণ জাপানিরা উপভ�োগ করে ছবি বা ফুল। যে জিনিসগুলি রবীন্দ্রনাথ প্রশংসনীয় বলে ধারণা করেছেন সে সব এখনও জাপানে একইভাবে প্রশংসনীয় বলে মনে করা হয়। উয়েন�োর ইয়�োক�োয়ামা তাইকানের বাড়ি, যেখানে রবীন্দ্রনাথ

Durga Puja 2016

13


কয়েকদিন ছিলেন, আবার উয়েন�োর কানএইজি মন্দির যেখানে রবীন্দ্রনাথের জন্যে অভ্যর্থনা অনু ষ্ঠানের আয়�োজন করা হয়েছিল, এ জায়গাগুল�ো এখনও আমরা দেখতে পাই। ইয়�োক�োহামার হারাসানের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ সব চেয়ে বেশি দিন কাটান, সে বাড়িটা এখন আর না থাকলেও সেখানকার সু ন্দর বাগানটা এখনও আছে। আর যে তাইকান আর কানযানের ছবিগুলি তখন হারাসানের বাড়িতে ছিল আর যেগুলি নিয়ে জাপান যাত্রীতে রবীন্দ্রনাথ সু ন্দর বর্ণনা করেছেন সেগুলি এখন জাদু ঘরে গেলে দেখা যায়। আসলে তাইকান আর কানযান সে সময় কিছু টা পরিচিত হলেও তখনও তুলনামূ লকভাবে তরুণ শিল্পী ছিলেন আর সবাই তাঁদের নতুন রীতি মেনেছে তা নয়। হারা-সান তাঁদের সাহায্য করার জন্যে ছবিগুল�ো নিজে যথেষ্ট দাম দিয়ে সংগ্রহ করেন। তাঁরা পরে বেশ বিখ্যাত হয়েছেন আর আজ সবাই চেনেন তাঁদের সৃ ষ্টিগুলি। কারুইযাওয়া এবং ইযু রা হচ্ছে কবির জন্যে বিশেষ স্মরণীয় স্থান। কারুইযাওয়া অবস্থিত নাগান�ো জেলার পাহাড়ি এলাকায় আর গ্রীষ্মকালে কয়েকদিন সেখানে থেকে কবি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্যে বিশেষ লেকচার দিয়েছেন। এটা ছাত্রীদের জন্যেও বড় ঘটনা ছিল আর সে খবর এখনও সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে বারবার আল�োচিত হয়। ইযু রাতে ছিল পরল�োকগত ওকাকুরার বাড়ি। ইযু রার সেই বিখ্যাত কুটির রক্কাকুদ�ো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কয়েকবছর আগের ভূ মিকম্পের সময়ে ৎসু নামিতে, তবে তাড়াতাড়ি পুনর্নির্মাণও করা হয়েছে। সে যাই হ�োক, রবীন্দ্রনাথ শেষ পর্যন্ত ওকাকুরার প্রতিভার প্রশংসা করেছিলেন, তাইত�ো ওকাকুরার জন্যে তাঁর মনে বিশেষ জায়গা ছিল। শুধু এই সব জায়গা নয় জাপানের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনু ষ্ঠান দেখে রবীন্দ্রনাথ জাপানের স�ৌন্দর্যব�োধের বারবার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন যে জাপানের যে- স�ৌন্দর্যব�োধ সে তার একটা সাধনা, একটা প্রবল শক্তি। আমাদের ধারণায়ও চা অনু ষ্ঠান বা ফুল সাজান�োর রীতিতে নিশ্চয় এক ধরনের সাধনা আছে। কেউ বলে এটা তত্ত্বব�োধ। বাগান তৈরিতেও তাই। কিওত�োর মন্দিরে বা অন্যান্য জায়গায় এমন বাগান আছে যেখানে এক ধরনের তত্ত্বব�োধ আর স�ৌন্দর্যব�োধ এক সঙ্গে প্রকাশ পায়। অন্য দিকে চা অনু ষ্ঠানের ক্ষেত্রে কবি বলেছিলেন যে চা তৈরির প্রত্যেক অঙ্গ যেন ছন্দের মত। আর ফুল সাজান�োর ক্ষেত্রেও বলেছেন চ�োখে দেখার ছন্দ এবং সঙ্গীত যে এদের কাছে কত প্রবলভাবে সু গ�োচর, কাল আমি ওই দু জন জাপানি মেয়ের কাজ দেখে বু ঝতে পারছিলু ম। ঠিক তাই, তবে ছন্দ বলে তিনি এগুল�ো বর্ণনা করেছেন তা আমাদের পক্ষে নতুন।

হয়ত�ো প্রশ্ন উঠতে পারে যে জাপান যাত্রী আজকের পাঠকদের জন্যে কী অর্থ বহন করে? বা এটা ভ্রমণ কাহিনী হিসেবে বা সাহিত্যকর্ম হিসেবে কতটা সমকালীন বলা যায়? আসলে আমার ধারণা, আধু নিক কথাটা রবীন্দ্রনাথের রচনা নিয়ে আল�োচনায় উপয�োগী নয়, কারণ তিনি এক অর্থে সময়ের ধারার বাইরে অবস্থান করেন। অর্থাৎ তাঁর রচনায় নির্দিষ্ট ক�োনও কালের উপাদান কম। জাপান যাত্রীতেও তখনকার বিশেষ ঘটনা বা চালচলন বা চেতনা কম দেখা যাচ্ছে, সে জন্যে এই লেখাটা এখনও একদম পুর�োন�ো হয়ে যাচ্ছে না। কবি দেখতে চাইছিলেন জাপানের মূ ল চেহারা বা চরিত্র আর তার উৎস। সে সব এখনও আছে আর ভবিষ্যতেও থাকবে। এটা অবশ্যই লেখা হয়েছে বাঙ্গালী পাঠকদের জন্যে, তবে আজ এটা জাপানি পাঠকদের জন্যে আর�ো অর্থপূ র্ণ হয়ে উঠেছে মনে হয়। কারণ জাপান যাত্রীতে জাপানের যে বৈশিষ্ট্য রবীন্দ্রনাথ উল্লেখ করেছেন, তা নিজে নিজে আবিষ্কার করা কঠিন। এখনকার জাপানি তরুণদের কাছে রবীন্দ্রনাথ বিশেষ পরিচিত নন বললেও চলে। অধিকাংশ ল�োক তাঁর নামই শুনেছে মাত্র, ক�োন�ো রচনা পড়েনি। কিন্তু এই অবস্থা একদিকে মন্দও নয় কারণ ওরা আগেকার সমাল�োচনা বা পূ র্ব ধারণা ছাড়া সরলভাবে বা স্বাভাবিকভাবে কবির রচনা পড়তে পারে। আমার মনে হয় রবীন্দ্রনাথের বার্তা আজ আর�ো সত্য হয়েছে। এই একশ�ো বছর ধরে সারা বিশ্ব অনেকটা বদলে গেছে, কিন্তু তার গভীরে যা আছে সেটা বদলে যাচ্ছে না। রবীন্দ্রনাথও বলেছেন যেটুকু নতুন সেটুকু তেমন গভীর নয় বা শুধু ত�ো নতুনকে দেখে যাওয়া নয়, তার সঙ্গে যে ব্যবহার করতে হবে; কাজেই মন তাকে নিজের পুর�োন�ো কাঠাম�োর মধ্যে যত শীঘ্র পারে গুছিয়ে নেয়। যেই গ�োছান�ো হয় তখন দেখতে পাই, তত বেশি নতুন নয় যতটা গ�োড়ায় মনে হয়েছিল; আসলে পুর�োন�ো, ভঙ্গিটাই নতুন। যা যা রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, যেমন প্রয়�োজন আর অপ্রয়�োজন, অবকাশের অর্থ অথবা অন্ধকার থেকে ভেসে আসা বাঁশির সু র, সে সব কথা কখনও পুর�োন�ো হবে না, অর্থাৎ তার মূ ল্য হারিয়ে যাবে না। এ বছরে নতুন অনু বাদ করার জন্যে আমি বারবার এই লেখাটা পড়েছি আর যতবার পড়েছি ততবার মনে হয়েছে যে বর্তমান যু গেও একই সমস্যা রয়েছে যা রবীন্দ্রনাথের এই লেখায় উল্লেখ করা আছে আর ভেবেছি রবীন্দ্রনাথের এই চিন্তা থেকে আমরা কতটুকু শিখতে পারি। 

ইযু রা 14

Anjali

www.batj.org


L E B R A TI O

N

TAG

 C E N T E NA

R

CE

OF

Y

of his Visit to Japan

MA

N PA

O R E' S

Tagore - 100th Anniversary

ID

EN

VIS IT T O J

A

R

  - Tom Kawai

abindranath Tagore made first visit to Japan in 1916. It is 100th anniversary of his visit to Japan this year. Fourteen years before he came to Japan, Tenshin Okakura had visited India, two cross visits made great influence on cultural exchange between India and Japan.

India and Japan, two countries are respecting each other since many centuries ago. First personal exchange started from Bodhisena of his visit to Japan in 8th century just after Buddhism was introduced to Japan from India through China and Korea. Bodhisena taught Buddhism in Sanskrit to Japanese priest and performed the eye-opening ceremony of Giant Bronze Statue Buddha, Daibutsu in 752. There laid absence many centuries between two countries since then. In 1902 Tenshin Okakura visited India and stayed 10 months and also he made his second visit in 1912, which made Tagore visit to Japan. Tenshin is a first Japanese for Tagore and Tagore got to learn about Japan and China through him. Tagore wrote that he learned real Japan through Tenshin and Tenshin became one of his closest friends. Tenshin has ingenious inspiration and his twice visits to India influenced young Bengali immeasurably. Tagore was given Nobel Prize for literature as first Asian laureate in 1913. He was asked to visit and make speech by USA. He finally got a chance to visit Japan on the way to USA. Tagore visited Japan five times through 1916 to 1929, staying 153 days in total in Japan. •

First visit: 29th May to 2nd Sept., 1916, arrived at Kobe then move to Tokyo and leaving from Yokohama

Second visit: 3rd to 9th Feb., 1917, arrived at Yokohama and leaving from Kobe

Third visit: 31st May to 11th Jun., 1924, arrived at Nagasaki then move to Tokyo and leaving from Kobe

Fourth visit: 22nd to 28th Mar., 1929, arrived at Moji then move to Kobe and leaving from Yokohama

Fifth visit: 10th May to 8th Jun., 1929, arrived at Yokohama and leaving from Yokohama

Cultural exchanges between two countries, India and Japan have been widely developed through his five visits to Japan. Biggest exchanges were fine art. After Tenshin’s visit, Taikan Yokoyama, Shunso Hishida, and Kampo Arai followed. Indian arts were rather small size pictures at that time and they try to return old time like big cave pictures, so-called Renaissance activity were taken place. Japanese painting by brush to big canvas, Fusuma, was the great hint to them. They warned Bengali artists against cheap imitations of the West and advised them to review their old traditions and create their own. On Tagore’s first visit to Japan, he moved from Kobe to Tokyo and stayed Taikan Yokoyama’s house but moved to Sankei Hara’s house in Yokohama staying two and half months there where he enjoyed very much. He had a chance to see one picture by Kanzan Shimomura named “YOROBOSHI” originating from “NOH” at Sankei’s house. Tagore was so impressed to see it and Veda’s words came out from his mouth, “Asato Ma Sadgamaya, Tamaso Ma Jyothir Gamaya, Mrytyor Ma Amrytam Gamaya”. This picture shows Sun-set, plum trees and a blind child as if he looks sun-set, though he cannot see it. Tagore might have imagined colonized mother India as blind. He asked to have this picture but Sankei promised to make a copy which was done by Kampo Arai who Tagore asked to teach Japanese paintings with brush to Indian artists. Kampo was invited as a teacher and spent two years 1916-1918. Re-print is kept in Visva Bharati in Santiniketan. Tagore was welcomed by huge numbers of Japanese since his visit to Japan. It covers politicians, businessmen, professors, priests, artists, educational people and others. Shigenobu Okuma, Eiichi Shibusawa, Mitsuru Toyama, Mitsui Family, Okakura Family, Yoshisaburo Okakura, Sankei Hara, Jinzo Naruse, Kunihiko Okura, Junjiro Takakusu, Yone Noguchi, Ekai Kawaguchi, Mokusen Hioki, Tokuno Oda, Soen Shaku, Taikan Yokoyama, Kanzan Shimomura, Shokin Katsuta, Kampo Arai, Kagaku Murakami, Kosetsu Nousu, Syumei Ookawa, Jinnosuke Sano, Ryuhei Murayama, Aizo Soma and many others. He made many speeches at Asahi Shinbun and at Universities, the University of Tokyo, Keio University and Japan Women’s University and others. He watched Japan and learned many good Japanese characters from its historical/cultural heritage through Haiku/Flower arrangement/Tea ceremony/Judo/Japanese nature including wooden building and gardens/Japanese customs and its behaviors. The speeches were, “India and Japan”, “The message from India to Japan”, “The spirit of Japan”, “Western culture and Mission of Japan” and others. The welcome enthusiasm of his visit had been calmed down due to his speech against Japanese militarism/commercialism/westernization. Life is divided in four stages, Hindu teaches ashrama. Student-householder-retired-renunciation. Ashrama would not be applied to the period of one country but could be called same in long run if country changes and reincarnation. Which stage does Japan stay now? Japan and other US/European countries achieved their economic growth and obtained rich and convenience through peace. Japan has been enjoyed peace for seventy years through its war-renunciation constitution. Someone could say Japan reached top of the hill and it is the time to change from prosperity to stability, or from “busy” in the city to “calm” in the forest living together with nature. It is forecasted that about 30% of the population will be over 65 years old in 2025. Elder people may study to live in the forest apart from the commercialism/consumerism and spend simple life. We should recall Tagore’s three messages, “Peace”, “Reconciliation of the Eastern and the Western cultures” and “Co-exist with nature” which is really alive in the current world. And recall it had been created in India where different religions, cultures, tribes and nationalism fighting each other under colonization. His message penetrates current world issues over same barriers but www.batj.org

Durga Puja 2016

15


Tagore - 100th Anniversary of his Visit to Japan think others and respect each other before fighting and without menace by weapon, which was 100 years ago World War I. Let me introduce one poem, by a grand-student of Tagore, Nilanjan Banerjee, We are close as friends, Whatever disaster may come, One heart is the Buddha, While the other is a Sun. Endless love lies ahead, Let all wars sleep, Let the sun be in one sky, And the Buddha on another side.

From right Tagore, Taikan Yokoyama, Yoshisaburo Okakura, Kanzan Shimomura, 1916

Yoroboshi by Kanzan Shimomura of which re-print is kept in Santiniketan

From left to right Yozo Nomura, Sankei Hara, Tagore, Kampo Arai, Apurba Kumar Chanda At Sankeien, 1929

Speech by Tagore in 1916 At Japan Women’s University’s summer school in Karuizawa

16

Anjali

www.batj.org


L E B R A TI O

N

TAG

 C E N T E NA

R

CE

OF

Y

শতবর্ষে র এপারের

MA

N PA

O R E' S

রবীন্দ্রনাথের ‘জাপান যাত্রী’ :

ID

EN

VIS IT T O J

A

রবীন্দ্রনাথের প্রথম জাপান যাত্রার শতবর্ষ পূ র্ণ হল এবছর। উনিশ শতকের বঙ্গীয় নবজাগরণের অন্যতম বৈশিষ্ট্যই ছিল বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিকে জেনে নেওয়ার এবং সেসব সংস্কৃতির নানা উপাদানকে আত্মস্থ করার উদগ্র আগ্রহ। যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির সে আগ্রহ পূ র্ণ হয়েছে মূ লত বই ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে, অভিজাত বাঙালিদের অনেকেই নিজেরা ঘুরে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন দেশ। শুধু ভিন্ন সংস্কৃতিকে জানা বা তার নানা উপাদান আত্মস্থ করার আগ্রহেই নয়, বিদেশে, বিশেষ করে পাশ্চাত্যে, নিজেদের চিন্তা-ভাবনা প্রচার করার জন্যও অনেকে বিদেশ যাত্রা করেছেন। এই প্রবণতার সফল উদাহরণ রয়েছে রামম�োহন, মধু সূদন, বিবেকানন্দের জীবনে। তবে, আরও নানা বিষয়ের মত�োই, এক্ষেত্রেও ব�োধকরি সফলতম উদাহরণ রবীন্দ্রনাথই। রবীন্দ্রনাথ দেশ-বিদেশে ঘুরেছেন প্রচুর, সেসব ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেছেন, বাঙালির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন ভিন্ন সংস্কৃতির আস্বাদ, আবার ভিন্ন সংস্কৃতিতে পৌঁছে দিয়েছেন তাঁর নিজের শিল্প-দর্শন ও জীবনবেদ। জাপান ভ্রমণের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। একদিকে তিনি একাধিক বক্তৃতা ও আলাপচারিতায় জাপানিদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন সাধারণ ভাবে সাহিত্য-সংস্কৃতি-রাজনীতি-সমাজ সম্পর্কে এবং বিশেষ ভাবে জাপানের আধু নিকতা সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব ভাবনা; আবার বাঙালির কাছে নিয়ে এসেছেন জাপানি সংস্কৃতির রূপালেখ্য ও ভাষ্য, তাঁর প্রথম জাপান ভ্রমণের ফসল ‘জাপান যাত্রী’র মাধ্যমে। বাঙালি পাঠকের কাছে ‘জাপান যাত্রী’র মূ ল আকর্ষণ ছিল জাপানি জীবনের পরিচয়মূ লক বর্ণনা। জাপান তখন একমাত্র এশীয় দেশ যেটি পাশ্চাত্যের ঔপনিবেশিক ক্ষুধা প্রতিহত করতে পেরেছে, নিজ উদ্যোগে এবং নিজের শর্তে আধু নিকতাকে আত্মস্থ করেছে, এবং বিশ্বের দরবারে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে চলেছে। তার সম্পর্কে জানার আগ্রহ তাই ছিল স্বাভাবিক। তবে লেখক যেহেতু রবীন্দ্রনাথ, তাই ‘জাপান যাত্রী’ নিছক বর্ণনা নয় ক�োথাও, তার পরতে পরতে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের নিসর্গচেতনা, জীবনদর্শন, শিল্পব�োধ; এমনকি প্রসঙ্গক্রমে হিন্দু ও মুসলমান যাত্রীদের নানা বৈশিষ্ট্যও আল�োচিত হয়েছে, সেই বৈশিষ্ট্যগুলির সামাজিকসাংস্কৃতিক কার্যকারণের ভাষ্য এসেছে, এসেছে রেঙ্গুনের বাঙালিসমাজ আর ব্রহ্মদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির ভাষ্য, রেঙ্গুন প্রভৃতি শহরের প্রসঙ্গে এসেছে যন্ত্র সভ্যতা তথা নগর সভ্যতা সম্পর্কে নানা বয়ান। আর সেগুলিকে পাশ কাটিয়ে যেখানে যেখানে সরাসরি বর্ণনা এসেছে, সেগুলিও নিছক স্থান-কাল-পাত্রের ফট�োগ্রাফ না হয়ে একটি জাতির চরিত্রের উন্মোচক হয়ে উঠেছে। একেবারে শুরুর অংশটির কথাই ধরা যাক। জাপানি জাহাজের মাঝি-মাল্লা আর ক্যাপ্টেনের যে পরিচয় রবীন্দ্রনাথ দিয়েছেন তাতে জাতির বৈশিষ্ট্য উন্মোচক ক�োন�ো ভারিক্কি ভাষ্য নেই, রয়েছে সহজ একটি চিত্র। রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, “ইতিপূ র্বে অনেকবার জাহাজে চড়েছি, অনেক কাপ্তেনের সঙ্গে ব্যবহার করেছি। আমাদের এই জাপানি কাপ্তেনের একটু বিশেষত্ব আছে। মেলামেশায় ভাল�োমানু ষিতে হঠাৎ মনে হয় ঘ�োর�ো ল�োকের মত�ো। মনে হয়, এঁকে অনু র�োধ করে যা-খুশি তাই করা যেতে পারে; কিন্তু কাজের বেলায় দেখা যায় নিয়মের লেশমাত্র নড়চড় হবার জ�ো নেই। আমাদের  সহযাত্রী ইংরেজ বন্ধু ডেকের উপরে তাঁর ক্যাবিনের গদি আনবার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষের ঘাড় নড়ল, সে ঘটে উঠল না। সকালে ব্রেকফাস্টের সময় তিনি যে-টেবিলে বসেছিলেন সেখানে পাখা ছিল না ; আমাদের টেবিলে জায়গা ছিল, সেই দেখে তিনি আমাদের টেবিলে বসবার ইচ্ছা জানালেন। অনু র�োধটা সামান্য, কিন্তু কাপ্তেন বললেন, এ বেলাকার মত�ো বন্দোবস্ত হয়ে গেছে, ডিনারের সময় দেখা যাবে। আমাদের টেবিলে চ�ৌকি খালি রইল, কিন্তু তবু নিয়মের ব্যত্যয় হল না। বেশ ব�োঝা যাচ্ছে অতি অল্পমাত্রও ঢিলেঢালা কিছু হতে পারবে না।“ ব্যক্তির বর্ণনাই বটে। ক�োথাও লেখক বললেন না যে এটি জাপানি সংস্কৃতির সাধারণ একটি বৈশিষ্ট্য। তখনও ত�ো তিনি জাপানে পৌঁছ�োনই নি। অথচ প্রথম পংক্তিতেই অন্যান্য জাহাজের ক্যাপ্টেনদের প্রসঙ্গ টানায় তাদের সঙ্গে এই জাপানি ক্যাপ্টেনের চরিত্রের মূ ল পার্থক্যটি নিছক ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য হয়ে এল�ো না পাঠকের কাছে, বরং মনে হল�ো যে ব�োধকরি জাপানিদের সাধারণ প্রবণতারই চিত্র হয়ে উঠেছে এটি। বস্তুত জাপানি সংস্কৃতি সম্পর্কে যাঁদের বিন্দুমাত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাঁরাই মৃ দু হেসে www.batj.org

- অমিতাভ চক্রব

বাধ্য হবেন একথা মেনে নিতে যে একজন ক্যাপ্টেনের মধ্য দিয়েই খুব সাবলীলভাবে জাপানি সংস্কৃতির প্রধানতম একটি দিককে ছু ঁয়ে ফেলেছেন রবীন্দ্রনাথ। পরবর্তী অংশে, বিশেষ করে ৮নং পত্রে, ক্যাপ্টেন এবং জাপানি মাঝি-মাল্লার ব্যবহারের যে বিশ্লেষণ রবীন্দ্রনাথ করেছেন তাতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এ কথাটি যে জাপানি চরিত্রের মূ লগত একটি বৈশিষ্ট্যই ধরতে চাইছেন রবীন্দ্রনাথ এই প্রাথমিক অভিজ্ঞতার নির্ভরে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “এর আগে অনেকবার বিলিতি জাহাজে করে সমুদ্রযাত্রা করেছি, তার সঙ্গে এই জাহাজের বিস্তর তফাত। সে-সব জাহাজের কাপ্তেন ঘ�োরতর কাপ্তেন। যাত্রীদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া হাসিতামাশা যে তার বন্ধ তা নয়; কিন্তু কাপ্তেনিটা খুব টক্‌টকে রাঙা। এত জাহাজে আমি ঘুরেছি, তার মধ্যে ক�োন কাপ্তেনকেই আমার মনে পড়ে না। কেননা, তারা কেবলমাত্র জাহাজের অঙ্গ। জাহাজ-চালান�োর মাঝখান দিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের সম্বন্ধ। …. এ জাহাজে চড়ে অবধি দেখতে পাচ্ছি, আমাদের কাপ্তেনের কাপ্তেনিটা কিছু মাত্র লক্ষ্যগ�োচর নয়, একেবারেই সহজ মানু ষ। যাঁরা তাঁর নিম্নতর কর্মচারী তাঁদের সঙ্গে তাঁর কর্মের সম্বন্ধ এবং দূ রত্ব আছে, কিন্তু যাত্রীদের সঙ্গে কিছু মাত্র নেই। ঘ�োরতর ঝড়ঝাপটের মধ্যেও তাঁর ঘরে গেছি; দিব্যি সহজ ভাব। কথায় বার্তায় ব্যবহারে তাঁর সঙ্গে আমাদের যে জমে গিয়েছে, সে কাপ্তেন-হিসাবে নয়, মানু ষ-হিসাবে। এ যাত্রা আমাদের শেষ হয়ে যাবে, তাঁর সঙ্গে জাহাজ-চলার সম্বন্ধ আমাদের ঘুচে যাবে, কিন্তু তাঁকে আমাদের মনে থাকবে। আমাদের ক্যাবিনের যে স্টু য়ার্ড্‌ আছে সেও দেখি তার কাজকর্মের সীমাটুকুর মধ্যেই শক্ত হয়ে থাকে না। আমরা আপনাদের মধ্যে কথাবার্তা কচ্ছি তার মাঝখানে এসে সেও ভাঙা ইংরাজিতে য�োগ দিতে বাধা ব�োধ করে না। মুকুল ছবি আঁকছে, সে এসে খাতা চেয়ে নিয়ে তার মধ্যে ছবি আঁকতে লেগে গেল। আমাদের জাহাজের যিনি খাজাঞ্চি তিনি একদিন এসে আমাকে বললেন, “আমার মনে অনেক বিষয়ে প্রশ্ন আসে, ত�োমার সঙ্গে তার বিচার করতে ইচ্ছে করি; কিন্তু আমি ইংরাজি এত কম জানি যে, মুখে মুখে আল�োচনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তুমি যদি কিছু মনে না কর তবে আমি মাঝে মাঝে কাগজে আমার প্রশ্ন লিখে এনে দেব, তুমি অবসরমত�ো সংক্ষেপে দু -চার কথায় তার উত্তর লিখে দিয়�ো।" তার পর থেকে রাষ্ট্রের সঙ্গে সমাজের সম্বন্ধ কী, এই নিয়ে তাঁর সঙ্গে আমার প্রশ্নোত্তর চলছে। .... তা ছাড়া আর-একটা বিশেষত্ব এই যে, এক পক্ষে জাহাজের যাত্রী আর-এক পক্ষে জাহাজের কর্মচারী, এর মাঝখানকার গণ্ডিটা তেমন শক্ত নয়। আমি যে এই খাজাঞ্চির প্রশ্নের উত্তর লিখতে বসব, এ কথা মনে করতে তার কিছু বাধে নি--আমি দু ট�ো কথা শুনতে চাই, তুমি দু ট�ো কথা বলবে; এতে বিঘ্ন কী আছে। মানু ষের উপর মানু ষের যে একটি দাবি আছে সেই দাবিটা সরলভাবে উপস্থিত করলে মনের মধ্যে আপনি সাড়া দেয়, তাই আমি খুশি হয়ে আমার সাধ্যমত�ো এই আল�োচনায় য�োগ দিয়েছি। আর-একটা জিনিস আমার বিশেষ করে চ�োখে লাগছে। মুকুল বালকমাত্র, সে ডেকের প্যাসেঞ্জার। কিন্তু, জাহাজের কর্মচারীরা তার সঙ্গে অবাধে বন্ধু ত্ব করছে। কী করে জাহাজ চালায়, কী করে সমুদ্রে পথ নির্ণয় করে, কী করে গ্রহনক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করতে হয়, কাজ করতে করতে তারা এই-সমস্ত তাকে ব�োঝায়। তা ছাড়া নিজেদের কাজকর্ম আশাভরসার কথাও ওর সঙ্গে হয়। মুকুলের শখ গেল, জাহাজের এঞ্জিনের ব্যাপার দেখবে। ওকে কাল রাত্রি এগার�োটার সময় জাহাজের পাতালপুরীর মধ্যে নিয়ে গিয়ে এক ঘণ্টা ধরে সমস্ত দেখিয়ে আনলে।“ উদ্ধৃতি কিছু টা বিস্তৃত হল বটে, কিন্তু আশা করা যায় এর থেকেই রবীন্দ্রনাথের পর্যবেক্ষণের ধরনটা ব�োঝা যাবে। তবে এই অভিজ্ঞতায় শুধু জাপানিদের বৈশিষ্ট্যই লক্ষ্য করেননি রবীন্দ্রনাথ, একে যু ক্ত করে নিয়েছেন এশীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে তাঁর তৎকালীন ভাবনার সঙ্গে। তাঁর ধারণা, ‘কাজের সম্বন্ধ’ আর ‘মানু ষের সম্বন্ধ’-এর সামঞ্জস্য পূ র্বদেশের বৈশিষ্ট্য আর এদু য়ের বিচ্ছেদ পশ্চিমা সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য। তাঁর মনে হয়েছে যে জাপান পাশ্চাত্য থেকে আধু নিকতার দীক্ষা নিলেও পূ র্বদেশের এই বৈশিষ্ট্যটি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর ভিত্তিতেই তাঁর আরও মনে হয়েছে যে কালক্রমে জাপান

Durga Puja 2016

17


রবীন্দ্রনাথের ‘জাপান যাত্ শতবর্ষের এপারের পাশ্চাত্য কর্মরীতি আর প্রাচ্যভাবের সার্থক সামঞ্জস্যে পৌঁছ�োতে পারবে, কেননা – “জাপানে প্রাচ্যমন পাশ্চাত্যের কাছ থেকে কাজের শিক্ষালাভ করেছে, কিন্তু কাজের কর্তা তারা নিজেই।“ এমন চিত্র একাধিকবার এসেছে ‘জাপান যাত্রী’তে, এবং প্রায় সময়ই রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব ভাষ্য সহ; কখনও বা ক�োন�ো চিত্র নয়, শুধু ই ভাষ্য। সেসব জায়গায় রবীন্দ্রনাথ পাঠকের বা ভবিষ্যতের কল্পনার হাতে ছেড়ে রাখেন নি কিছু , বরং জুড়ে দিয়েছেন নিজের অভিমত। একবার দেখে নেওয়া যাক এমনি কিছু চিত্র ও ভাষ্য। পাশ্চাত্যের আধু নিকতাকে স্বীকার করে নিয়ে যে নতুন জাপান গড়ে উঠেছিল, তার বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য চ�োখে পড়েছিল রবীন্দ্রনাথের। জাপান পৌঁছ�োন�োর পরপরই তিনি লক্ষ্য করেছিলেন যে জাপানের শহর এবং প�োষাক-আশাক তার নিজস্ব রূপ হারিয়ে পাশ্চাত্যের রীতি ধারণ করেছে“জাপানে শহরের চেহারায় জাপানিত্ব বিশেষ নেই, মানু ষের সাজসজ্জা থেকেও জাপান ক্রমশ বিদায় নিচ্ছে। অর্থাৎ, জাপান ঘরের প�োশাক ছেড়ে আপিসের প�োশাক ধরেছে।“ এই ‘আপিসের প�োশাক’-এর বৈশিষ্ট্যই এই যে এটি ইউর�োপের বাইরে বিশেষ ক�োনও দেশের নিজস্বতাকে সম্মান করে না- “আজকাল পৃ থিবী জ�োড়া একটা আপিস-রাজ্য বিস্তীর্ণ হয়েছে, সেটা ক�োন�ো বিশেষ দেশ নয়। যেহেতু আপিসের সৃ ষ্টি আধু নিক য়ু র�োপ থেকে, সেইজন্যে এর বেশ আধু নিক য়ু র�োপের। কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে এই বেশে মানু ষের বা দেশের পরিচয় দেয় না, আপিস রাজ্যের পরিচয় দেয়।“ নিজস্বতা খ�োয়ান�োর এই প্রবণতার ব্যতিক্রম তিনি দেখেছিলেন জাপানি মেয়েদের প�োশাকে, তাঁর মনে হয়েছিল- “এইজন্যে জাপানের শহরের রাস্তায় বেরলেই প্রধানভাবে চ�োখে পড়ে জাপানের মেয়েরা। তখন বু ঝতে পারি, এরাই জাপানের ঘর, জাপানের দেশ। এরা আপিসের নয়।“ তাই বলে সামগ্রিকভাবে জাপানের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি চ�োখ এড়ায়নি তাঁর। বিশেষ ভাবে মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি জাপানি সংস্কৃতির শান্তিপ্রিয়তায়। তিনি লিখেছেন- “একটা জিনিস এখানে পথে ঘাটে চ�োখে পড়ে। রাস্তায় ল�োকের ভিড় আছে, কিন্তু গ�োলমাল একেবারে নেই। এরা যেন চেঁচাতে জানে না, ল�োকে বলে জাপানের ছেলেরা সু দ্ধ কাঁদে না। ... পথে ম�োটরে করে যাবার সময়ে মাঝে মাঝে যেখানে ঠেলাগাড়ি প্রভৃতি বাধা এসে পড়ে, সেখানে ম�োটরের চালক শান্তভাবে অপেক্ষা করে; গাল দেয় না, হাঁকাহাঁকি করে না। পথের মধ্যে হঠাৎ একটা বাইসিক্‌ল্‌ ম�োটরের উপরে এসে পড়বার উপক্রম করলে, আমাদের দেশের চালক এ অবস্থায় বাইসিক্‌ল্‌-আর�োহীকে অনাবশ্যক গাল না দিয়ে থাকতে পারত না। এ ল�োকটা ভ্রূক্ষেপমাত্র করলে না।“ এই বৈশিষ্ট্যের মধ্যে জাপানি জাতির এক বৃ হত্তর শক্তি লক্ষ্য করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ- “আমার কাছে মনে হয়, এইটেই জাপানের শক্তির মূ ল কারণ। জাপানি বাজে চেঁচামেচি ঝগড়াঝাঁটি করে নিজের বলক্ষয় করে না। প্রাণশক্তির বাজে খরচ নেই ব’লে প্রয়�োজনের সময় টানাটানি পড়ে না। শরীর-মনের এই শান্তি ও সহিষ্ণুতা ওদের স্বজাতীয় সাধনার একটা অঙ্গ। শ�োকে দু ঃখে আঘাতে উত্তেজনায়, ওরা নিজেকে সংযত করতে জানে।“ এই সংযমের প্রকাশ তিনি জাপানি সংস্কৃতির নানা অভিব্যক্তিতে চিহ্নিত করেছিলেন। জাপানি হাইকু নিয়ে লিখতে গিয়ে তিনি বলেছেন- “এই যে নিজের প্রকাশকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করতে থাকা, এ ওদের কবিতাতেও দেখা যায়। তিন লাইনের কাব্য জগতের আর ক�োথাও নেই। এই তিন লাইনই ওদের কবি, পাঠক, উভয়ের পক্ষেই যথেষ্ট। সেইজন্যেই এখানে এসে অবধি, রাস্তায় কেউ গান গাচ্ছে, এ আমি শুনি নি। এদের হৃদয় ঝরনার জলের মত�ো শব্দ করে না, সর�োবরের জলের মত�ো স্তব্ধ। এপর্যন্ত ওদের যত কবিতা শুনেছি সবগুলিই হচ্ছে ছবি দেখার কবিতা, গান গাওয়ার কবিতা নয়। হৃদয়ের দাহ এবং ক্ষোভ প্রাণকে খরচ করে, এদের সেই খরচ কম। এদের অন্তরের সমস্ত প্রকাশ স�ৌন্দর্যব�োধে। স�ৌন্দর্যব�োধ জিনিসটা স্বার্থনিরপেক্ষ। ফুল, পাখি, চাঁদ, এদের নিয়ে আমাদের কাঁদাকাটা নেই। এদের সঙ্গে আমাদের নিছক স�ৌন্দর্যভ�োগের সম্বন্ধ--এরা আমাদের ক�োথাও মারে না, কিছু কাড়ে না, এদের দ্বারা আমাদের জীবনে ক�োথাও ক্ষয় ঘটে না। সেইজন্যেই তিন লাইনেই এদের কুল�োয়, এবং কল্পনাটাতেও এরা শান্তির ব্যাঘাত করে না।“ জাপানি বাড়ি-ঘর, বাগান, নৃ ত্য- সর্বত্রই এই সংযম চ�োখে পড়েছিল তাঁর। জাপানি বাড়ি ও গৃ হসজ্জা সম্পর্কে তিনি লিখেছেন- “আর-একটা ব্যাপার এই--এদের বাড়ি জিনিসটা অত্যন্ত অধিক নয়। দেয়াল, কড়ি, বরগা, জানলা, দরজা, যতদূ র পরিমিত হতে পারে তাই। অর্থাৎ, বাড়িটা মানু ষকে ছাড়িয়ে যায় নি, সম্পূর্ণ তার আয়ত্তের মধ্যে। ... তার পরে, ঘরে যেটুকু দরকার তা ছাড়া আর কিছু নেই। ঘরে দেয়াল-মেঝে সমস্ত যেমন পরিষ্কার তেমনি ঘরের ফাঁকটুকুও যেন তক্‌তক্‌ করছে; তার মধ্যে বাজে জিনিসের চিহ্নমাত্র পড়ে নি।“ জাপানি নাচ দেখে এসে বলছেন- “মনে হল, এ যেন দেহভঙ্গির সংগীত। এই সংগীত আমাদের দেশের বীণার আলাপ। অর্থাৎ, পদে পদে মীড়। ভঙ্গিবৈচিত্র্যের পরস্পরের মাঝখানে ক�োন�ো ফাঁক নেই কিম্বা ক�োথাও জ�োড়ের চিহ্ন দেখা যায় না; সমস্ত দেহ পুষ্পিত লতার মত�ো একসঙ্গে দু লতে দু লতে স�ৌন্দর্যের পুষ্পবৃষ্টি করছে। খাঁটি য়ু র�োপীয় 18

নাচ অর্ধনারীশ্বরের মত�ো, আধখানা ব্যায়াম, আধখানা নাচ; তার মধ্যে লম্ফঝম্প, ঘুরপাক, আকাশকে লক্ষ্য করে লাথি-ছ�োঁড়াছু ঁড়ি আছে। জাপানি নাচ একেবারে পরিপূ র্ণ নাচ। তার সজ্জার মধ্যেও লেশমাত্র উলঙ্গতা নেই। অন্য দেশের নাচে দেহের স�ৌন্দর্যলীলার সঙ্গে দেহের লালসা মিশ্রিত। এখানে নাচের ক�োন�ো ভঙ্গির মধ্যে লালসার ইশারামাত্র দেখা গেল না। আমার কাছে তার প্রধান কারণ এই ব�োধ হয় যে, স�ৌন্দর্যপ্রিয়তা জাপানির মনে এমন সত্য যে তার মধ্যে ক�োন�োরকমের মিশল তাদের দরকার হয় না এবং সহ্য হয় না।“ জাপানি ছবি দেখে লিখেছেন- “হারার বাড়িতে টাইক্কানের ছবি যখন প্রথম দেখলু ম, আশ্চর্য হয়ে গেলু ম। তাতে না আছে বাহুল্য, না আছে শ�ৌখিনতা। তাতে যেমন একটা জ�োর আছে তেমনি সংযম। বিষয়টা এই--চীনের একজন প্রাচীন কালের কবি ভাবে ভ�োর হয়ে চলেছে; তার পিছনে একজন বালক একটি বীণাযন্ত্র বহু যত্নে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে, তাতে তার নেই; তার পিছনে একটি বাঁকা উইল�ো গাছ। জাপানে তিনভাগওয়ালা যে খাড়া পর্দার প্রচলন আছে সেই রেশমের পর্দার উপর আঁকা; মস্ত পর্দা এবং প্রকাণ্ড ছবি। প্রত্যেক রেখা প্রাণে ভরা। এর মধ্যে ছ�োট�োখাট�ো কিম্বা জবড়জঙ্গ কিছু ই নেই; যেমন উদার, তেমনি গভীর, তেমনি আয়াসহীন। নৈপুণ্যের কথা একেবারে মনেই হয় না; নানা রঙ নানা রেখার সমাবেশ নেই; দেখবামাত্র মনে হয় খুব বড়�ো এবং খুব সত্য। তার পরে তাঁর ভূ দৃ শ্যচিত্র দেখলু ম। একটি ছবি--পটের উচ্চপ্রান্তে একখানি পূ র্ণ চাঁদ, মাঝখানে একটি ন�ৌকা, নীচের প্রান্তে দু ট�ো দেওদার গাছের ডাল দেখা যাচ্ছে; আর কিছু না, জলের ক�োন�ো রেখা পর্যন্ত নেই। জ্যোৎস্নার আল�োয় স্থির জল কেবলমাত্র বিস্তীর্ণ শুভ্রতা--এটা যে জল সে কেবলমাত্র ওই ন�ৌকা আছে বলেই ব�োঝা যাচ্ছে; আর, এই সর্বব্যাপী বিপুল জ্যোৎস্নাকে ফলিয়ে ত�োলবার জন্যে যত কিছু কালিমা সে কেবলই ওই দু ট�ো পাইন গাছের ডালে।“ প্রশংসার চ�োখে লক্ষ্য করেছেন যে নারী-পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও জাপানি সংস্কৃতি এমন সহজতাকেই রক্ষা করে- “এখানে মেয়ে-পুরুষের সামীপ্যের মধ্যে ক�োন�ো গ্লানি দেখতে পাই নে; অন্যত্র মেয়েপুরুষের মাঝখানে যে একটা লজ্জা-সংক�োচের আবিলতা আছে, এখানে তা নেই। মনে হয়, এদের মধ্যে ম�োহের একটা আবরণ যেন কম। তার প্রধান কারণ, জাপানে স্ত্রী-পুরুষেরা একত্রে বিবস্ত্র হয়ে স্নান করার প্রথা আছে। এই প্রথার মধ্যে যে লেশমাত্র কলু ষ নেই তার প্রমাণ এই--নিকটতম আত্মীয়েরাও এতে মনে ক�োন�ো বাধা অনু ভব করে না। এমনি ক’রে এখানে স্ত্রী পুরুষের দেহ পরস্পরের দৃ ষ্টিতে ক�োন�ো মায়াকে পালন করে না। দেহ সম্বন্ধে উভয় পক্ষের মন খুব স্বাভাবিক। অন্য দেশের কলু ষদৃ ষ্টি ও দু ষ্টবুদ্ধির খাতিরে আজকাল শহরে এই নিয়ম উঠে যাচ্ছে। কিন্তু, পাড়াগাঁয়ে এখন�ো এই নিয়ম চলিত আছে। পৃ থিবীতে যত সভ্য দেশ আছে তার মধ্যে কেবল জাপান মানু ষের দেহ সম্বন্ধে যে ম�োহমুক্ত, এটা আমার কাছে খুব একটা বড়�ো জিনিস বলে মনে হয়।“ রবীন্দ্রনাথের জাপানবীক্ষা সমাল�োচনাহীন ছিল না। ধর্ম সম্পর্কে জাপানের সামগ্রিক উদাসীনতা তাঁর অদ্ভুত ঠেকেছে, জাপানি সংগীত তাঁকে মুগ্ধ করেনি, চিন-বিজয়ের স্মারকগুলি দেখে ম�োটেও খুশি হননি তিনি, বলেছেন- "… সেটা যে অসু ন্দর… সে কথা জাপানের ব�োঝা উচিত ছিল"। বিভিন্ন বক্তৃতায় জাপানের আগ্রাসী জাতীয়তাবাদের সমাল�োচনা করেছেন তিনি। কিন্তু জাপানি সংস্কৃতির সংযম ও সাবলীলতায় তাঁর মুগ্ধতার কথাই ‘জাপান যাত্রী’-তে প্রধান হয়ে উঠেছে। কখনও ইউর�োপের, কখনও নিজের দেশের সঙ্গে প্রতিতুলনায় এই সহজতা, সংযম ও সাবলীলতার প্রশংসা করেছেন রবীন্দ্রনাথ, চিহ্নিত করেছেন কাম্য বলে। যে সহজতা ও সংযত জীবনব�োধ জাপানি সংস্কৃতির সর্বস্তরে বারবার চ�োখে পড়েছে তাঁর, তার মধ্যেই জাপানি সংস্কৃতির শক্তি চিহ্নিত করেছেন তিনি নিজের দেশের অভিজ্ঞতার তুলনায়“আমাদের দেশের ক্রিয়াকর্মের কথা মনে হল। কী প্রচুর অপব্যয়। কেবলমাত্র জিনিসপত্রের গণ্ডগ�োল নয়--মানু ষের কী চেঁচামেচি, ছু ট�োছু টি, গলা-ভাঙাভাঙি। আমাদের নিজের বাড়ির কথা মনে হল। বাঁকাচ�োরা উঁচুনিচু রাস্তার উপর দিয়ে গ�োরুর গাড়ি চলার মত�ো সেখানকার জীবনযাত্রা। যতটা চলছে তার চেয়ে আওয়াজ হচ্ছে ঢের বেশি। ... যেখানে একটা দেশের সমস্ত ল�োকই কম চেঁচায়, কম জিনিস ব্যবহার করে, ব্যবস্থাপূ র্বক কাজ করতে যাদের আশ্চর্য দক্ষতা, সমস্ত দেশ জুড়ে তাদের যে কতখানি শক্তি জমে উঠছে তার কি হিসেব আছে। জাপানিরা যে রাগ করে না তা নয়, কিন্তু সকলের কাছেই একবাক্যে শুনেছি, এরা ঝগড়া করে না। এদের গালাগালির অভিধানে একটিমাত্র কথা আছে--ব�োকা--তার ঊর্ধ্বে এদের ভাষা পৌঁছয় না! ঘ�োরতর রাগারাগি মনান্তর হয়ে গেল, পাশের ঘরে তার টুঁ শব্দ পৌঁছল না, এইটি হচ্ছে জাপানি রীতি। শ�োকদু ঃখ সম্বন্ধেও এইরকম স্তব্ধতা। এদের জীবনযাত্রায় এই রিক্ততা, বিরলতা, মিতাচার কেবলমাত্র যদি অভাবাত্মক হত তা হলে সেটাকে প্রশংসা করবার ক�োন�ো হেতু থাকত না। কিন্তু, এই ত�ো দেখছি--এরা ঝগড়া করে না বটে অথচ প্রয়�োজনের সময়

Anjali

www.batj.org


রবীন্দ্রনাথের ‘জাপান যাত্ শতবর্ষের এপারের প্রাণ দিতে, প্রাণ নিতে এরা পিছপাও হয় না। জিনিসপত্রের ব্যবহারে এদের সংযম, কিন্তু জিনিসপত্রের প্রতি প্রভুত্ব এদের ত�ো কম নয়। সকল বিষয়েই এদের যেমন শক্তি তেমনি নৈপুণ্য, তেমনি স�ৌন্দর্যব�োধ।“ এই সামগ্রিক ব�োধ থেকেই রবীন্দ্রনাথের বারবার মনে হয়েছে যে ইউর�োপের তুলনায় জাপানি সংস্কৃতি থেকে ভারতের শেখার জিনিস অনেক। আসবাবের সীমিত ব্যবহার ও জীবনযাত্রার সার্বিক রীতি প্রসঙ্গে যেমন তিনি বলেছেন- “আমি নিজের কথা বলতে পারি, আমাদের জীবনযাত্রার উপয�োগী জিনিস আমরা এখান থেকে যত নিতে পারি এমন য়ু র�োপ থেকে নয়। তা ছাড়া জীবনযাত্রার রীতি যদি আমরা অসংক�োচে জাপানের কাছ থেকে শিখে নিতে পারতুম, তা হলে আমাদের ঘরদু য়ার এবং ব্যবহার শুচি হত, সু ন্দর হত, সংযত হত।“ তথ্যনিষ্ঠ ভ্রমণকাহিনি লিখতে চাননি রবীন্দ্রনাথ, তাঁর সব মতামতই তাই সমকালীন ঐতিহাসিক তথ্যের কষ্টিপাথরে উতর�োবে কিনা, তা বলা সহজ নয়। তা আপাতত আমাদের বিচার্যও নয়। তিনি নিজেই বলেছেন“একটি কথা ত�োমরা মনে রেখ�ো--আমি যেমন যেমন দেখছি তেমনি তেমনি লিখে চলেছি। এ কেবল একটা নতুন দেশের উপর চ�োখ বু লিয়ে যাবার ইতিহাস মাত্র। এর মধ্যে থেকে ত�োমরা কেউ যদি অধিক পরিমাণে, এমন কি, অল্প পরিমাণেও "বস্তুতন্ত্রতা’ দাবি কর ত�ো নিরাশ হবে। আমার এই চিঠিগুলি জাপানের ভূ বৃ ত্তান্তরূপে পাঠ্যসমিতি নির্বাচন করবেন না, নিশ্চয় জানি। জাপান সম্বন্ধে আমি যা কিছু মতামত প্রকাশ করে চলেছি তার মধ্যে জাপান কিছু পরিমাণে আছে, আমিও কিছু পরিমাণে আছি, এইটে ত�োমরা যদি মনে নিয়ে পড় তা হলেই ঠকবে না। ভুল বলব না, এমন আমার প্রতিজ্ঞা নয়; যা মনে হচ্ছে বলব, এই আমার মতলব।“ আজ শতবর্ষ পেরিয়ে এসেও কিন্তু একথা বলা যাচ্ছে না যে জাপানের ম�ৌল বৈশিষ্ট্যটি ধরতে ক�োন�ো ভুল হয়েছিল তাঁর। বরং আজকের জাপানে জাপানিদের কাছেই তাঁর ‘জাপান যাত্রী’ আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। মূ লত বাঙ্গালিদের জন্য লেখা এই বইটির জাপানি অনু বাদক অধ্যাপক কিয়�োক�ো নিওয়া এবছর এন এচ কে-তে এনিয়ে এক সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে একথাটিই বারবার বলেছেন। তাঁর মনে হয়েছে যে ‘জাপান যাত্রী’-তে রবীন্দ্রনাথ জাপানের যে ‘মূ ল চেহারা বা চরিত্র’ আর তার ‘উৎস’ চিহ্নিত

Ruins of the Hara Family Vila where Tagore stayed several months.

করতে চেয়েছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক। আর তাই লেখাটি আজ “জাপানী পাঠকের জন্য আর�ো অর্থপূ র্ণ হয়ে উঠেছে...”। ২০০৩-এর ৭ সেপ্টেম্বর ‘জাপান টাইমস’-এর সম্পাদকীয়ের শির�োনাম ছিল ‘রবীন্দ্রনাথ টেগ�োর অ্যান্ড জাপান’। পটভূ মি ছিল জাপানের শান্তিকামী সংবিধান পরিবর্তনের জন্য লিবারেল ডেম�োক্র্যাটিক পার্টির এক প্রভাবশালী সদস্যের দাবী। ‘জাপান টাইমস’ মনে করেছিল যে এনিয়ে সিদ্ধান্তের আগে বিশ্বযু দ্ধ পূ র্ববর্তী জাপানের আগ্রাসী জাতীয়তাবাদের কুফল নিয়ে রবীন্দ্রনাথ উচ্চারিত আশঙ্কা এবং পরবর্তীতে সেই আশঙ্কা ফলে যাওয়ার কথাটি মাথায় রাখলে আখেরে জাপানেরই লাভ হবে। এমন নয় যে বর্তমান জাপানে রবীন্দ্রনাথ সাধারণভাবে খুব বিখ্যাত বা প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত। এমনটা না হওয়ারই কথা। বস্তুত জাপানে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব মূ লত সীমাবদ্ধ ছিল সাহিত্য-সংস্কৃতির জগতে। সাধারণ জনসমাজে এশিয়ার প্রথম ন�োবেল-প্রাপককে নিয়ে যে তাৎক্ষণিক উন্মাদনা ছিল তা জাপানের আগ্রাসী জাতীয়তাবাদ নিয়ে রবীন্দ্রনাথের সমাল�োচনাত্মক বক্তব্যের পরপরই মিইয়ে গিয়েছিল। তারপর ত�ো ইতিহাসের কত�ো পালাবদল ঘটল�ো। অল্প সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হিসেবে জাপানের উত্থান, দ্বিতীয় বিশ্বযু দ্ধে তার করুণ পরিণতি, ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বিশ্বের প্রধানতম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে জাপানের পুনরুত্থান— সব মিলিয়ে যেন এক রূপকথার মহাযাত্রা। আজ সাধারণভাবে ভারতবিদ্যাবঙ্গবিদ্যার গবেষক বা ভারতীয় উপমহাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে আগ্রহী কয়েকজন ছাড়া রবীন্দ্রনাথের নামই বা কজন জানেন। তবু যে ইতিহাসের এই দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এসে এই একবিংশ শতাব্দীতেও জাপানের সংবিধান নিয়ে এক বিতর্কে রবীন্দ্রনাথকে প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে একটি সংবাদপত্রের, কিংবা জাপানি সংস্কৃতির ম�ৌল বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষণ যথার্থ ও প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে জাপানি অধ্যাপক-অনু বাদকের, তা নিশ্চয়ই প্রমাণ করে যে অসামান্য অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন সেই মানু ষটির কথাগুলি ফিরে পড়ার প্রয়�োজন রয়ে গেছে আজও; স্রেফ অতীতের স্বাদ নেওয়ার জন্য নয়, বর্তমানের দিশানির্দেশের জন্যও। কথাটি জাপানি পাঠক সম্বন্ধে যত�োটা সত্য, আজকের বাস্তবতায় বাঙালি পাঠকের জন্যও তার থেকে কম সত্য নয়। 

Tea room visited by Tagore

Board in front of the Tea room tells the story.

Group photo of Tagore with Sankei Hara

PC: Rita kar

Board in front of the ruins tells the story. www.batj.org

Photos taken at Sankei-en garden Yokohama.

Durga Puja 2016

19


N

TAG

 C E N T E NA

R

L E B R A TI O

OF

Y

CE

O R E' S

—জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে তিন বিদ্বজ্জনের মধ্যেকার বন্ধন—

����� ���������������

MA

N PA

রবীন্দ্রনাথ, জিন্‌য�ো নারুসে এবং ত�োমি ক�োরা

ID

EN

VIS IT T O J

A

গত বছর এনএইচকে টেলিভিশন থেকে প্রচারিত সিরিয়াল “আসা গা কিতা ( অন্ধকার কেটে হয়েছে ভ�োর )”-এর যারা ভক্ত ছিলেন, তাদের হয়ত মনে আছে যে নাটকের নায়িকা ছিলেন একজন সফল মহিলা ব্যবসায়ী এবং তিনি মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নের তাগিদে জাপানের প্রথম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। নাটকটির কাহিনী সত্যিকারের ঘটনা অবলম্বনে রচিত হয়। নাটকে যে হিন�োদে জ�োশি দাইগাকু, আক্ষরিক অর্থে সূ র্যোদয় মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়-কে দেখান�ো হয, সেটি ট�োকিওর মেজির�ো এলাকায় অবস্থিত “নিহ�োন জ�োশি দাইগাকু” ( Japan Women’s University বা জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় )-এর আদলে কল্পিত। জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য পদে অধিষ্ঠিত হন জিন্‌য�ো নারুসে। নাটকটিতে অবশ্য তাঁকে ইজুমি নারুসাওয়া হিসাবে দেখান�ো হয়। জিন্‌য�ো নারুসে ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ য�োগায�োগের জন্যও তিনি সু পরিচিত। রবীন্দ্রনাথ তাঁর জাপান সফরের সময় জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় বেশ কয়েকবার গিয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে মিশেছিলেন। ছাত্রীদের মধ্যে একজন ছিলেন ত�োমি ক�োরা, যিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিত্বে ম�োহিত হন এবং পরবর্তীতে তাঁর কবিতা অনু বাদ করে জাপানি পাঠকদের কাছে তুলে ধরেন। এই প্রতিবেদনে রবীন্দ্রনাথ ও জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক নিয়ে পর্যাল�োচনা করা হবে এবং নারুসে ও ক�োরার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের য�োগায�োগের উপরে আল�োকপাত করা হবে।

১৯১৬ সালের ২৯শে মে রবীন্দ্রনাথ প্রথম বারের মত জাপানে পৌঁছান। সেই সময় তিনি প্রায় তিন মাস জাপানে ছিলেন। মূ লত ইয়�োক�োহামায় রেশম সু ত�োর ধনী ব্যবসায়ী সান্‌কেই হারার বাসভবনে ( বিশাল এই বাড়ি বর্তমানে সান্‌কেইএন উদ্যান নামে পরিচিত) অবস্থান করে রবীন্দ্রনাথ চিত্রশিল্পী তাইকান ইয়�োক�োইয়ামা সহ বিশিষ্ট শিল্পী, বু দ্ধিজীবী এবং রাজনীতি ও অর্থনৈতিক মহলের নেতৃবৃ ন্দের সঙ্গে মেলামেশা করেন, সেই সঙ্গে বিভিন্ন জায়গা ঘ�োরেন। এছাড়া তাঁকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটা বক্তৃতা সভারও আয়�োজন করা হয়। ট�োকিওতে রবীন্দ্রনাথ তদানীন্তন ট�োকিও রাজকীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কেইও বিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনু ষ্ঠিত সভায় লম্বা বক্তৃতা দেন। এই তিনটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনু ষ্ঠিত বক্তৃতা সভা ছিল প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র সহ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। তবে তাঁর প্রথম জাপান ভ্রমণের সময় রবীন্দ্রনাথ একবার ট�োকিও তথা ওসাকার মত বড় শহরের বাইরে, তাও শুধু ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রেখেছিলেন। এই অনন্য ধরনের বক্তৃতা সভা অনু ষ্ঠিত হয় গ্রীষ্মকালীন অবকাশ কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত নাগান�ো জেলার কারুইজাওয়াতে অবস্থিত জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের “সান্‌সেন রিয়�ো শৈলাবাস” নামক স্থাপনায়। জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জিন্‌য�ো নারুসে স্বয়ং ট�োকিওতে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য ভাষণ দেওয়ার অনু র�োধ করেন বলে জানা যায়। 20

শিল্পপতি, সমাজ আন্দোলনকারী এবং জাপানের ব্যাংক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে অতি পরিচিত এইইচি শিবু সাওয়া, ট�োকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ম বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মাসাহারু আনেসাকিদের সঙ্গে নারুসে ১৯১২ সালে “কিইৎসু কিয়�োকাই” বা Association of Concordia নামক এক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের উদ্দেশ্য হিসাবে ধর্মের বৈচিত্র্য ও নৈতিকতাব�োধের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাদের পরস্পরের মধ্যে ব�োধগম্যতা ও সহয�োগিতা বৃ দ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নারুসে নিজে ছিলেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। কিন্তু তিনি ধর্মের পার্থক্য অতিক্রম করে একটি আদর্শ সমাজ গড়ে ত�োলার ব্রত নেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের লেখা পড়ে আগে থেকেই তাঁর চিন্তা-ভাবনার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ প�োষণ করছিলেন। ট�োকিও বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য জায়গায় প্রদত্ত রবীন্দ্রনাথের বক্তৃতা শুনে নারুসের উপলব্ধি হল যে তাঁর কিইৎসু কিয়�োকাই-এর আদর্শের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ধারণার সাদৃ শ্য রয়েছে। তিনি রবীন্দ্রনাথের বক্তব্যকে মানব জাতির শান্তিপূ র্ণ সহ অবস্থানের জন্য গুরুত্বপূ র্ণ বাণী হিসাবে গ্রহণ করেন। তাই জুলাই মাসে তিনি রবীন্দ্রনাথকে তাঁর জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ করেন। কবিগুরু নারুসের অনু র�োধে সাড়া দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে উপস্থিত ছাত্রীদের সামনে নিজের লেখা কয়েকটা বাংলা কবিতা আবৃ ত্তি করে শ�োনান। জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালমনি অ্যাস�োসিয়েশন থেকে প্রকাশিত সাময়িকী অনু যায়ী “ স�োনার ছ�োট ঘণ্টার মত তাঁর কণ্ঠস্বর হল-এ প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল এবং শ্রোতাদের হৃদয়ে পৌঁছেছিল।” নারুসের অনু র�োধে রবীন্দ্রনাথ আগস্ট মাসে কারুইজাওয়াতে গিয়ে সান্‌সেন রিয়�ো শৈলাবাসে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিতে রাজী হন। সান্‌সেন রিয়�ো শৈলাবাস জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রীষ্মকালীন ছাত্রাবাস। ট�োকিওর গরম এড়িয়ে ছাত্রীরা এখানে এসে পড়াশ�োনা, ব্যায়াম ও অন্যান্য শিক্ষাগত কার্যক্রমে অংশ নেয়। স্থাপনাটি এখন�ো বিদ্যমান, যদিও রবীন্দ্রনাথের যেখানে পদধূ লি পড়েছিল, সেই ভবনটি আর নেই। ভবনটি মূ লত নির্মাণ করা হয় ১৯০৬ সালে, পরে সেটা ভেঙ্গে দিয়ে নতুন ভবন স্থাপন করা হয়। তবু রবীন্দ্রনাথ যে দেবদারু গাছের তলায় পা মুড়ে বসে কথা বলেছিলেন এবং উপাসনা করেছিলেন, সেই গাছটি এখন�ো রয়ে গেছে। রবীন্দ্রনাথ কারুইজাওয়াতে ৬ দিন অবস্থান করে তার মধ্যে ৩ দিন ছাত্রীদের সামনে উপবিষ্ট হয়ে বক্তৃতা দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। কারুইজাওয়া সফর শেষে তাঁর জন্য আয়�োজিত বিদায়ী অনু ষ্ঠানে তিনি বলেন, “জাপানে আসার পর এই প্রথম ওই গাছের তলায় বসে ত�োমাদের সঙ্গে কথা বলে গভীর সংয�োগ ও স্নেহ উপলব্ধি করলাম। সত্যতা ও পরমাত্মার অন্বেষণের প্রক্রিয়ায় ঈশ্বরের সহায়তায় প্রাপ্ত ত�োমাদের সঙ্গে প্রাণের সম্পর্ক চিরকাল আমাকে মুগ্ধ করবে।” কারুইজাওয়া ভ্রমণের পরও রবীন্দ্রনাথ এবং নারুসে মানসিক বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁরা এ বিষয়ে একমত প�োষণ করেন যে প্রাচ্যের ইতিহাস জড়বাদ এবং বাহ্যিক ও মর্মবিহীন শিক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯১৯ সালে নারুসে ইহল�োক ত্যাগ করার পরও রবীন্দ্রনাথ তাঁর পরবর্তী জাপান সফরের সময় বেশ কয়েকবার জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন এবং ছাত্রীদের সঙ্গে মিশেছিলেন। সান্‌সেন রিয়�ো শৈলাবাসে রবীন্দ্রনাথের প্রদত্ত বক্তৃতার শির�োনাম

Meditation, ১৯১৭ সালে প্রকাশিত তাঁর ইংরেজিতে দেওয়া বক্তৃতার সংকলন Personality-তে ছাপা হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ তাঁর কথা শুরু করেন এইভাবে;

There are things that we get from outside and take to ourselves as possessions. But with meditation, it is just the opposite. It is entering into the very midst of some great truth, so that, in the end, we are possessed by it. Now let us see by contrast what wealth is. Money represents so much labor. By its means I can detach the labor from man and make it my own possession. I acquire it

Anjali

www.batj.org


রবীন্দ্রনাথ, জিন্‌য�ো নারুসে এবং ত�োমি ক�োরা from outside and convert it to my own power. Then there is knowledge. One kind of knowledge is that which we gain from other men. Then there is the other kind which we acquire through observation, experiments and the process of reasoning. These are all efforts to take that which is away from me, and get it to myself. In these things our mental and physical energies are employed in quite a contrary manner in from Meditation. The highest truth is that which we can only realize by plunging into it. And when our consciousness is fully merged in it, then we know that it is no mere acquisition, but that we are one with it. Thus through meditation, when our soul is in its true relation to the Supreme Truth, then all our actions, words, behavior, become true.

তার পর তিনি গায়ত্রী মন্ত্রের সারমর্ম সম্পর্কে নিজস্ব ব্যাখ্যা সহ ছাত্রীদের বু ঝিয়ে দেন এবং ধ্যানের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য নিয়ে কথা বলেন। মাটিতে গদি পেতে তার উপর হাঁটু মুড়ে রবীন্দ্রনাথের কথা শ�োনে প্রায় পঞ্চাশ জন মেয়ে। তাদের মধ্যে ছিলেন ত�োমিক�ো ওয়াদা নামের ১৯ বছর বয়সী এক ছাত্রী। পরে সেদিনের স্মৃতি র�োমন্থন করে তিনি লিখেছেন; “ভারত থেকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ জাপানে এলে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান�ো হয়। তিনি বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা সভার আয়�োজন করেন এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও আসেন। তার পর তিনি কারুইজাওয়াতে সান্‌সেন রিয়�ো শৈলাবাসে অনু ষ্ঠিত আমাদের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেন। বক্তৃতার পাশাপাশি তিনি ভ�োর ও সন্ধ্যায় দেবদারু গাছের তলায় বসে উপাসনা করতেন এবং সদ্য রচিত মুক্তার মত সু ন্দর বাংলা কবিতা ইংরেজিতে অনু বাদ করে শ�োনাতেন চমৎকার গলায়। ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী হিসাবে আমি সেই কবিতা ন�োট করে নিয়ে অন্য ছাত্রীদের অনু বাদ করে শ�োনাতাম। বনের স্নিগ্ধ শ্যামলিমার মধ্যে উপবিষ্ট কবিগুরুকে ভ�োর এবং সন্ধ্যার আল�ো কি সু ন্দরভাবে আল�োকিত করে তুলত ! তাঁকে একেবারে ঈশ্বরের অবতারের মত লাগত। তাঁর শান্তির বাণী আমার মনের গভীরে এসে পড়ত। এর পর রবীন্দ্রনাথ কয়েকবার জাপানে আসেন। আমি সব সময় দ�োভাষী হিসাবে তাঁর কাছে থাকার সু য�োগ পাই। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে য�োগায�োগ আমার পক্ষে এত গুরুত্বপূ র্ণ ঘটনা যার ফলে আমার জীবনের পথ নির্ধারিত হয়েছে।” জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার পর ত�োমিক�ো ওয়াদা যু ক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কল�োম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও জন্‌স-হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশ�োনা করেন এবং ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করে স্বদেশে ফিরে আসেন। তিনি জাপানে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জনকারী প্রথম ও মুষ্টিমেয় কয়েকজন মহিলার একজন। জাপানে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি বিবাহ সূ ত্রে আবদ্ধ হয়ে ত�োমি ক�োরা নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি জাপান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। দ্বিতীয় মহাযু দ্ধের পর ১৯৪৭ সালে অনু ষ্ঠিত সংসদের উচ্চ পরিষদের প্রথম নির্বাচনে দাঁড়িয়ে তিনি সফলভাবে নির্বাচিত হন এবং ম�োট ১২ বছর সাংসদ হিসাবে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ও ক�োরার মধ্যে প্রথম পরিচয়ের বর্ণনা করে অধ্যাপক আজুমা এভাবে লেখেন; “তিনি (রবীন্দ্রনাথ) ত�োমি ক�োরার ব্যক্তিত্ব ও ইংরেজি জ্ঞানের পরিচয় পেয়ে তাঁকে তাঁর ভাষণের ন�োট নিতে এবং অন্যদের তা বু ঝিয়ে দিতে বলেন। ... ত�োমি ক�োরা রবীন্দ্রনাথের স্নেহ সম্বোধনে কৃতার্থ হয়ে আনন্দে তাঁর সব আদেশ পালন করতেন। রবীন্দ্রনাথের বক্তৃতার ন�োট নেওয়া সেই অমূ ল্য খাতাটি আজও সু রক্ষিত। রবীন্দ্রনাথের প্রথম দর্শন, তাঁর বাণী শ্রবণ ও আদেশ পালনের মধ্য দিয়ে ক�োরার অন্তরে রবীন্দ্রব্যক্তিত্বের যে সহজ সু ন্দর ছাপ পড়ে তা আমৃ ত্যু তাঁকে পথ দেখিয়েছে। তিনি রবীন্দ্রনাথকে গুরুরূপে বরণ করেছিলেন।” ক�োরার জীবনাবসান হয় ১৯৯৩ সালে। তিনি সারা জীবন কবিতা সহ রবীন্দ্রনাথের বহু সাহিত্যিক রচনার অনু বাদ এবং বক্তৃতার মাধ্যমে জাপানিদের কাছে কবিগুরুর আদর্শ উপস্থাপনের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেন। তিনি শান্তি আন্দোলন ও নারী আন্দোলনেও সক্রিয় এবং আন্তর্জাতিক ভূ মিকা রাখেন। তাঁর এই কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব ছিল। ১৯৮১ সালে কবিগুরুর ১২০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কারুইজাওয়াতে রবীন্দ্রনাথের আবক্ষ মূ র্তি নির্মাণ করা হয়। এই মূ র্তি স্থাপনের মূ ল উদ্যোক্তাদের মধ্যে একজন ছিলেন ত�োমি ক�োরা। মূ র্তিটির স্তম্ভে দেবনাগরী অক্ষরে “অহিংসা” কথাটি খ�োদাই করা হয়েছে।

অধ্যাপক কাজুও আজুমার গবেষণা অনু যায়ী ১৯১৬ সাল সহ ম�োট ৬বার ক�োরা রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের দ্বিতীয়বার দেখা হওয়ার সু য�োগ হয় ১৯২০ সালে যখন রবীন্দ্রনাথ যু ক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। তখন আমেরিকাতে পড়াশ�োনারত ক�োরা খবর পেয়ে রবীন্দ্রনাথের কাছে ছু টে যান। ১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথ চীন সফরের পরবর্তী পর্যায়ে জাপানে আসেন। তাঁর জাহাজ নাগাসাকি বন্দরে নঙ্গর করলে ক�োরা সেখানে উপস্থিত হয়ে কবিগুরুকে স্বাগত জানান এবং তাঁর সঙ্গে ট�োকিওতে চলে আসেন। এই সময় রবীন্দ্রনাথ প্রায় এক মাস জাপানে ছিলেন। ক�োরা সব সময় দ�োভাষী হিসাবে তাঁর কাছে থাকতেন এবং নানা ভাবে রবীন্দ্রনাথের দেখাশ�োনা করতেন। তার পর ১৯২৯ সালে কানাডায় আসা যাওয়ার পথে রবীন্দ্রনাথ অল্প দিনের জন্য জাপানের মাটিতে পা রাখেন। ক�োরা তখনও তাঁর দ�োভাষীর কাজ সম্পন্ন করেন। ক�োরার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিল ভারতে গিয়ে নিজের চ�োখে সরাসরি রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন দেখার। দীর্ঘ দিন অপেক্ষার পর এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় ১৯৩৫ সালে। রবীন্দ্রনাথও খুব খুশি হয়ে ক�োরাকে অভ্যর্থনা জানান। তিনি নাতনী নন্দিনীকে দিয়ে ক�োরাকে শান্তিনিকেতন ঘুরিয়ে দেখান। www.batj.org

Durga Puja 2016

21


রবীন্দ্রনাথ, জিন্‌য�ো নারুসে এবং ত�োমি ক�োরা ১৯৬৭ সালে জাপানে ক�োরার অনু বাদ করা রবীন্দ্রনাথের কবিতাগুচ্ছ প্রকাশিত হয়। এই বইতে অনু বাদকের মন্তব্য রূপে ক�োরার একটি কবিতা লিপিবদ্ধ করা হয়। “গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি” নামে লেখা সেই কবিতাটির অংশবিশেষ পাঠকের সামনে উপস্থাপনের মাধ্যমে আমার এই প্রবন্ধের ইতি টানব�ো। গুরুদেব—মহান গুরু আমার! বু কে অজস্র স্বপ্ন নিয়ে আপনি যে দিন জাপানের মাটিতে প্রথম পা রাখলেন, তখন আমি ছিলাম ১৯ বছর বযেসী তরুণী। দেখলাম আপনার রুপালি চুল ও দাড়ি, লম্বা গড়ন, উজ্জ্বল চ�োখের মণি, সবাই ডাকত আপনাকে কবিগুরু বলে। একটুখানি কুঁচকান�ো আপনার ভ্রু, মনের মধ্যে কি যেন দু শ্চিন্তা ? সু উচ্চ ও মণিমুক্তার মত স্বচ্ছ আপনার কণ্ঠস্বরে কবিতা আবৃ ত্তি করে শ�োনালেন যখন আমার নাকে ভেসে এল�ো বাংলার ফুলের ঘ্রাণ যেন শুনতে পেলাম সেই রাখাল ছেলের গান বট গাছের তলায় দু পুরের শান্ত নিদ্রা যার পরম প্রিয়। .... যু দ্ধে মেতে গিয়েছিল আমাদের এই পৃ থিবী, তাও দু -দু বার তাতে মর্মাহত হয়ে আপনি দু ঃখে ভাঙ্গা মন নিয়ে কতবার ঘুরেছিলেন ইউর�োপে এশিয়ায় অস্ত্র দিয়ে কখন�ো ক�োন�ো সমাধান হবে না, সেই দাবি জানিয়ে। ইউর�োপে ও আমেরিকায় আমি আপনাকে দেখেছি শান্তি ও সত্যের পথ সবাইকে ব�োঝাতে।

সে নিজে ক�োরিয়া ও চিনের সঙ্গে একই সংস্কৃতির ধারায় বাহিত হচ্ছে সে কথা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে। ১৯ বছরের মেয়ে ছিলাম আমি তখন, তার পর হয়েছি তিন মেয়ের মা সব সময়েই ভাবতাম, এদের একদিন পাঠিয়ে দেব গুরুদেবের আশ্রমে যু দ্ধে পরাজয় এবং আণবিক ব�োমা ফেলে দিয়েছে জাপানকে গভীর অন্ধকারে এক সময় মৃ ত্যু কেড়ে নিল�ো আমার ছ�োট মেয়েটিকে সে রেখে গিয়েছিল ‘বসন্তের তুষার’ বইটি সাহিত্য পড়ে কবি হয়েছে মেজ�ো মেয়ে এদিকে বড় মেয়ে চিত্রকর, র�োজ স্বপ্নে আঁকে ভারতের ছবি আপনার জন্মের শতবার্ষিকীতে উৎসর্গ করেছিল সে স্বপ্নে দেখা বাংলার দৃ শ্য ও মানু ষজনকে ফুটিয়ে ত�োলা এক ছবি। শান্তিনিকেতনের জাপানি বাগানে সেতার ও বীণার সু রে মধু র সংগীতের মধ্যে দিয়ে আমায় বিদায় জানান�োর মাত্র কয়েক বছর পর আপনি চলে গেলেন চির-নিদ্রায় অসংখ্য যু ঁই ফুলে বেষ্টিত হয়ে – সেই ৭ই আগস্ট ১৯৪১ যু দ্ধ ছিল তখন তুঙ্গে। তবে আপনার গীতাঞ্জলীতে আপনার সেই বাণী— “জীবন আমার এত ভাল�োবাসি বলে হয়েছে প্রত্যয় মৃ ত্যুরে এমনি ভাল�ো বাসিব নিশ্চয়।” সর্বদা দেয় সান্ত্বনা আমার মনে সেই অল�ৌকিক শক্তি দিয়ে।

চীন হয়ে জাপানে এসেছিলেন যেদিন আপনার দ�োভাষী হয়ে ঘুরলাম নাগাসাকি থেকে হাকাতায়, মিয়াজিমা থেকে ক�োবের র�োক্কো পাহাড়ে। জাপানকে বারবার দেওয়া আপনার সতর্ক বাণী হেসে উড়িয়ে দিল এ-দেশের যু দ্ধ-প্রিয় মানু ষজন তবু আপনি জানতেন আপনার দেশের মত পরাধীন থাকা ক�োরিয়া এবং বহির্শক্তির চাপে জর্জরিত চীনের পুরন�ো সংস্কৃতি ও জাতির ভবিষ্যৎ কি হতে পারে!

মনে চরম দু ঃখ নিয়ে যে দিন মৃ ত্যুর ছায়ার উপত্যকায় পথভ্রষ্ট হয়ে আছি অথবা যে দিন আণবিক ব�োমায় আক্রান্ত শহরে অন্ধকারের মধ্যে হাঁটছি সু দূর আকাশ থেকে ভেসে আসা বাণীর মত পথ দেখিয়েছে আপনার কবিতা আমাকে ক�োমলভাবে জড়িয়ে ধরে। 

শেষ পর্যন্ত যু দ্ধ শুরু করে দিল জাপান

BATJ heartily welcomes Mrs. Pramita Mallick one of the exponents of Rabindra Sangeet to its Durga Puja celebration in Tokyo. This year being the centenary of Tagore’s first visit to Japan, our wish to commemorate the historical event will be reinforced by the presence of an erudite scholar of Rabindra Sangeet like Mrs. Mallick among us. Mrs. Mallick a winner of various awards, was trained in Santiniketan from an early age, under Santidev Ghosh, Kanika Banerjee, Nilima sen, among others. She was also trained by Subinoy Roy in Rabindra Sangeet, Chandidas Mal in Bengali songs, and Pandit Kumar Prosad Mukherjee in Kheyal.

22

Anjali

www.batj.org


L E B R A TI O

N

TAG

 C E N T E NA

R

CE

OF

Y

タゴール訪日百年に寄せて

MA

N PA

O R E' S

  - 神戸 朋子

ID

EN

VIS IT T O J

A

1916年のタゴール訪日から百年を経た今日、今こそタゴールの思想に掬すべき時だと思う。 タゴールは1941年、死の3か月前、「文明の危機」という講演で、文明の本質とその危機を警告した。 このようにタゴールは、今から75年前すでに、現代の問題を予言していたが、一切が崩壊の兆しに見える今日、その重要性が増 しているように思う。 第一に「神と自然と人間の調和」が強調されているが、今やこの関係が乱れて、様々な影響が全世界で顕著になっている。 大気中の二酸化炭素の増加、熱帯雨林の破壊、農耕地の開発、砂漠の拡大など、人間活動に起因する問題が、自然の摂理で 営まれていた地球を汚している。 その結果、地球温暖化を引き起こし、気象異常が地球規模に拡大している。 タゴールは「自然の循環停止が、人間存在の破滅に至る」とすでに百年前に警告していた。 第二に「化学や機械は、自然と人間に調和しなければ、自然も人間も破壊され、やがて全破滅が起こる」と警鐘を鳴らしたが、今 や科学や技術の発展は、自然と人間の調和から離れ、化学兵器や放射能で大地は汚され、自然も人間も破壊され始めている。 そして又、物質文明の進歩は、生活を豊かにしたが、飽くなき人間の欲望は増大し、人間性が失われた。 第三にタゴールが高く掲げる思想は、民族と国を超えた真のヒューマニズムであり、時空を超えた「永 遠なる御方」を求めつづけ ることであった。 敵意に満ちた狂気の世界は、絶えず無慈悲な戦いが起こっている。 彼らのやり方はひどく不誠実で、複雑な貪欲で束縛されている。

新たなおん身の誕生を 苦しんでいる数知れぬ人が待ち望んでいる

 高潔な人よ 救い給え 甘味な不滅の言葉をもたらせ給え

永遠に美わしく咲き香る 愛に満ちた蓮の花を咲かせ給え

 静けさよ、自由よ、永遠なる善よ、慈悲深さよ、おお 世界を浄め給え

慈悲深い人よ来たれ、困難な生贄を捧げさせ給え

 偉大な仏教の乞食よ、みんなの傲慢を取り去り給え

人々の悲しみを忘れさせ給え、迷いを捨てさせ給え

 賢者である太陽の日の出の壮麗さを輝かせ給えー

全世界が命を貰うように、盲人が見えるように

 静けさよ、自由よ、永遠なる善よ、慈悲深さよ、おお 世界を浄め給え

嘆きの涙が溢れ みんなの心が悲しみの炎でもえている

 物の毒で疲れた異常な有様にあり その悲しみは慰められない

すべての国々が 血の罪の不名誉な白檀の印をつけた

 おん身の右手で 天井の喜びを伝えるほら貝をもたらせ給え

おん身の幸運をもたらすラーガの調べを おん身の美わしい韻律を

 静けさよ、自由よ、永遠なる善よ、慈悲深さよ、おお 世界を浄め給え (拙訳)

この詩のように、今、世界中に敵意と不信の暗雲が立ちこめている。 タゴールは、宗教・人種・イデオロギーの違いを超えて、皆兄弟という世界意識を唱え、真のヒューマニズムに基づく平和を求め た。 今や尤も、タゴールの詩や思想が、必要とされているのではないだろうか。 タゴールの使命は又、武力による支配を終わらせること、主義主張の違いによる狂気の争いをなくすこと、エゴイズムの狭い「部 屋」に閉じこもってはならないこと、などであった。 このように、タゴールの思想・哲学そして詩や歌は、今なお色あせることなく、現代のみならず未来へも光を放ちつづけることだろ う。 完

www.batj.org

Durga Puja 2016

23


N

TAG

 C E N T E NA

R

L E B R A TI O

OF

Y

CE

MA

N PA

O R E' S

বাঙালির জাপান যাত্রা

ID

EN

VIS IT T O J

A

বীন্দ্রনাথের জাপান যাত্রার একশ�ো বছর পূ র্তি হিসেবে আসু ন একবার দেখে নিই বাঙালির জাপান ভ্রমণের কয়েকটি বিশেষ মুহূর্ত। বিংশ শতাব্দীর গ�োড়ায় মন্মথনাথ ঘ�োষ, সু রেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, হরিপ্রভা তাকেদা থেকে শুরু করে ২০১৩ সালে নির্মলকুমার দাসের আলেখ্য পর্যন্ত কত অসংখ্য ভ্রমণকাহিনিই না রচিত হয়েছে! যেন বা সু ন্দর, অপরিচিত এই দেশ ঘুরে এসে ক�োলরিজ-এর সেই বিখ্যাত নাবিকের মতন এদেশ নিয়ে অনিবার্যভাবেই গল্প শ�োনাতে হবে। ভিন্ন অবস্থান থেকে বিভিন্ন স্বাদের গল্প। হতে পারে তা জাপানি ক্ষুদ্রশিল্পের এবং শিল্পের সঙ্গে যু ক্ত উন্নয়নের কাহিনি, প্রাচীনযু গ থেকে অতি দ্রুত জাপানের নবীনযু গে উত্তরণের ইতিহাস, নারীর রচনায় নারীশিক্ষার খুঁটিনাটি, বৈজ্ঞানিকের কলমে জাপানে পরিবেশ সচেতনতার অসংখ্য উদাহরণ, নেতাজির কথা অথবা নানাবিধ সামাজিক রীতিনীতির বিবরণ, খাদ্যদ্রব্য, মেয়েদের সাজপ�োশাক, চেরিফুল, উন্মুক্ত আকাশের তলায় কামাকুরার বু দ্ধমূ র্তি, ফুজি-সান, সমুদ্র ইত্যাদির কখন�ো মায়াবী কখন�ো একরৈখিক বর্ণনা। সে-সব গল্পের অনেকখানিই রবীন্দ্রনাথ যে বলেছিলেন সেই “নতুন দেশের উপর চ�োখ বু লিয়ে যাবার ইতিহাসমাত্র”, তবু তারই মধ্যে কখন�ো কখন�ো ধরা পড়ে ক�োনও নিবিড় উপলব্ধি। মনে করুন জাপান-যাত্রী-তে রবীন্দ্রনাথের শিম�োমুরার আঁকা সেই বিখ্যাত ছবির বর্ণনা-- “শীতের পরে প্রথম বসন্ত এসেছে; প্লামগাছের ডালে একটাও পাতা নেই, সাদা সাদা ফুল ধরেছে, ফুলের পাপড়ি ঝরে ঝরে পড়ছে; ... একপ্রান্তে দিগন্তের কাছে রক্তবর্ণ সূ র্য দেখা দিয়েছে, ... অপর প্রান্তে প্লামগাছের রিক্ত ডালের আড়ালে দেখা যাচ্ছে একটি অন্ধ হাতজ�োড় করে সূ র্যের বন্দনায় রত। একটি অন্ধ মানু ষ, এক গাছ, এক সূ র্য, আর স�োনায় ঢালা এক সু বৃহৎ আকাশ; এমন ছবি আমি কখন�ো দেখিনি। উপনিষদের সেই প্রার্থনাবাণী যেন রূপ ধরে আমার কাছে দেখা দিলে - তমস�োমাজ্যোতির্গময় … কেবল অন্ধ মানু ষের নয়, অন্ধ প্রকৃতির এই প্রার্থনা ... অথচ আল�োয় আল�োময় – তারি মাঝখানে অন্ধের প্রার্থনা” (জাপান-যাত্রী , রবীন্দ্ররচনাবলী, বিশ্বভারতী ১৯৯৫:৪৩১)। তার আগে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, “শিল্প জিনিসটা যে কত বড় জিনিস ... তার মধ্যে জ্ঞানীর জ্ঞান, ভক্তের ভক্তি, রসিকের রসব�োধ যে কত গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে আপনাকে প্রকাশ করবার চেষ্টা করেছে, তা এখানে এলে তবে স্পষ্ট ব�োঝা যায়” (জাপান-যাত্রী, ১৯৯৫:৪৩০)। এই ছবি ও তার বর্ণনা যেন সহমর্মী পাঠককে ক�োনও একটি নির্দিষ্ট বস্তুর প্রতি গভীর মন�োনিবেশ করতে শেখায়, নিয়ে যায় অতলস্পর্শী ভাব ও রূপের আঙিনায়, শিল্প সম্পর্কেই আনে ক�োনও অন্য অভিজ্ঞান।

- শুভা চক্রবর্তী দা রবীন্দ্রনাথের জাপান-যাত্রী-র পর সম্ভবত অন্নদাশঙ্কর রায়এর জাপানে (১৯৫৯ ) দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভ্রমণ আলেখ্য। পেন কংগ্রেসএর শিল্পীবৃ ন্দের সঙ্গে ১৯৫৭ সালে অন্নদাশঙ্করের জাপানভ্রমণ। পরিচিত অপরিচিত নানান ছ�োট�োখাট�ো ছবি দিয়ে ভ্রমণকাহিনির মত�ো করেই লেখা একশ�ো কুড়ি পৃ ষ্ঠা পেরিয়ে লেখক আরম্ভ করেন নিজস্ব একটি যাত্রা, পেনএর সদস্যরা তখন বিদায় নিয়েছেন। তিনি বেরিয়েছেন নারা পরিদর্শনে। পাতার পর পাতা জুড়ে আসে ব�ৌদ্ধ মন্দিরের বর্ণনা, তার সঙ্গে যু ক্ত দর্শন ও জীবনব�োধ। ধরা দেয় সেই নিবিড় অনু ভূতি যা পাঠককেও স্পর্শ করে। পাথেয় হয়ে ওঠে তার জীবনবীক্ষার। নারার ত�োদাইজি মন্দিরে লেখক ব�ৌদ্ধধর্মের ক�োগান সম্প্রদায়ের কথা বলছেন। যে তত্ত্বের উপর এই সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠিত তার সার অবতংসক সূ ত্রে। সূ ত্রটি যেন একটা প্রেমের কবিতা, নিখিল বিশ্বের প্রতি বু দ্ধের প্রেম। “এঁদের বিশ্বাস বু দ্ধের চিন্তা আপনাকে প্রতিফলিত করছে... সীমাহীন ভাবে নিরবধিকাল সর্বজগতে ও সর্বজীবে। সমগ্রের প্রতিফলন প্রত্যেকটি পরমাণুতে আর প্রত্যেকটি পরমাণুর প্রতিফলন সমগ্রে। এক একটি ধূ লিকণা এক একটি জগৎ। এক একটি জগতে এক একটি বু দ্ধ”। তিনি নিয়ত সেখানে প্রজ্ঞা বিকিরণ করছেন। “বিশ্বময় বু দ্ধের আল�োকবিম্ব। ক�োন�োখানে এমন একটিও বস্তুকণা নেই যাতে বু দ্ধের কল্যাণকর্মের প্রকাশ নেই। বলাবাহুল্য এ বু দ্ধ ইতিহাসের পুরুষ নন, শাক্যমুনি বু দ্ধ নন, ইনি বৈর�োচন, ইনি কেবলমাত্র জ্যোতি, ইনি শুদ্ধসত্ত্ব” (রায়, কলকাতা, এম সি সরকার এন্ড সন্স, ১৯৫৯:১২৭)। এই তত্ত্বটিকে ধারণ করতে প্রয়�োজন মন্দিরের সেই সহস্রদল পদ্মের মাঝখানে অকল্পনীয়ভাবে বিশাল বিগ্রহের। লেখকের মতে সেটি যেন বলতে চায় মানু ষ সাধনা করলে কত বড় হতে পারে আত্মায় এবং অন্তঃকরণে। বহু সহস্র ক্রোশ দূ রে, লেখকের মতে এ যেন ভারতীয় ধারণারই পূ র্ণ রূপায়ণ। বারবার লেখক দেশের দিকে ফিরে তাকান, কখন�ো আক্ষেপে, কখন�ো বা বিলু প্ত ঐতিহ্যের গর্বে। অন্যত্র পাওয়া যায় মন্দিরের প্রধান পুর�োহিতের ঘরের দেওয়ালে টাঙান�ো লম্বা পটের বর্ণনা। তাতে চিনে লিপিতে লেখা “সান-যেন সেকাইন�ো হারু” অর্থাৎ তিন সহস্র জগৎ বসন্তময়। ত�োরিগ�োএ-সান তার ব্যাখ্যা করেন, “আমার মনে যখন বসন্ত আসবে তখন সারা বিশ্বে বসন্ত আসবে। আমার মন যখন পুষ্পিত হবে সারা বিশ্ব পুষ্পিত হবে”। তিনি একটা নক্সা আঁকেন - “উপরের স্তরে সহজ প্রবৃ ত্তি। মাঝখানে বু দ্ধি। তলার স্তরে গভীরতম মন। সেই হচ্ছে বসন্তকাল। বু দ্ধির স্তর ভেদ করে, সহজ প্রবৃ ত্তির স্তর ভেদ করে সেইখান থেকে উঠে আসবে পূ র্ণ বিকশিত জীবন। চিরন্তন। শান্তিতে

অন্ধের সূ র্যবন্দনা

24

www.batj.org


বাঙালির জাপান যাত্রা ভরপুর। প্রেমে পরিপূ র্ণ”। (রায় ১৯৫৯:১৪৩) শান্তির আমেজ ছড়িয়ে পড়ে ধীরে ধীরে।

(রায়, কলকাতা, আই এ পি সি, ১৯৫৪:৩২)। জাপানিদের এ সম্পর্কে কী মতামত হবে তা অবশ্য বলা যায় না!

বু দ্ধদেব বসু র জাপানি জার্নাল (১৯৬২)-ও কম পরিচিত নয়। জাপানের সঙ্গে ঠিক ততটা নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করবার সু য�োগ বু দ্ধদেব বসু র হয়নি, কিন্তু তাঁর সংবেদনশীল দৃ ষ্টি খুব সহজেই পাঠককে জাপানি সংস্কৃতির দু -একটা মূ ল সূ ত্রের সন্ধান দিয়ে ঋদ্ধ করেছে। এক সু কিয়াকিতে নিমন্ত্রিত হয়ে তাঁর মনে হয়েছে যে ভ�োগের বিষয়ে জাপানিদের উৎসাহ যেমন মিতাচারও তেমনই, এবং এর মধ্যেই রয়েছে তাদের স�ৌন্দর্যব�োধের মূ লমন্ত্র “এদের আছে ইহল�োকের প্রতি পরিপূ র্ণ শ্রদ্ধা (যা আমাদের নেই), আর সেই সঙ্গে এক ব্যবহারিক অনিমাসিদ্ধি (যা ভারতীয়, পাশ্চাত্য বা এমনকি চৈনিক সভ্যতায় অভাবনীয়)। ভূ ষণের বিরলতার জন্যই এদের ঘর সু ন্দর, এদের তানকা কবিতা ক্ষমাহীনভাবে একত্রিশ অক্ষরে সীমিত, এদের ছবিতে বস্তুর তুলনায় হিল্লোল বেশি, ন�ো নাট্যের মেয়াদ আধঘণ্টা , আর এদের ভ�োজন স্বাদু , সু দৃশ্য, স্বাস্থ্যকর ও স্বল্পমাত্রিক। (বসু , কলকাতা, এম সি সরকার এন্ড সন্স, ১৯৬২:১৬)।

আশুত�োষ ভট্টাচার্যের জাপানের আঙিনায় (১৯৮১) নৃ বিজ্ঞানের পরিপ্রেক্ষিতে চা পানের ঐতিহ্যের বিচার এবং নানাবিধ ল�োকসংস্কৃতির আধু নিক রূপায়ণের ইতিবৃ ত্ত। ট�োকিও শহরে এসে তিনি প্রাচ্যের চরৈবেতি মন্ত্রের অর্থ আবার খুঁজে পেলেন। ক�োন পিছু টান নেই, ফিরে তাকান�ো নেই। সৃ ষ্টি মানেই যে ধ্বংস সেই ব�োধ নিয়েই আনন্দ সহকারে নতুনের খ�োঁজে শহর ছু টে চলেছে য�ৌবনের উচ্ছ্বাসে।

প্রকৃতির সঙ্গে জাপানির সম্পর্ক যে সহজ, ব্যাকুলতাহীন, স্থায়ী তা লেখকের মতে বিশুদ্ধ ও স্বজ্ঞাজাত আর তাই অনন্য। “র�োমান্টিক আকুতির এটা ঠিক উল্টো পিঠ, কালিদাসের যক্ষের আর্তির অপর পারে।... দান্তে, শেক্সপীয়র, ব্লেক, গ্যেটে, ব�োদলেয়ার প্রভৃতি কবিদের তীব্রতায় ও ঐশ্বর্যে যখন ক্লান্তি আসে, বা তাঁদের পথে আর এগ�োবার উপায় থাকে না, তখন যেখানে অব্যর্থভাবে শুশ্রূষা ও সু পরামর্শ পাওয়া যায় তা এই পূ র্বতম পৃ থিবীর আবেগহীন, গতিহীন, এমনকি প্রায় আয়তনহীন কবিতা - এক-একটি স্থিরচিত্ররূপ যেন – যা প্রতীচীর পক্ষে, ও আমাদের পক্ষেও সম্পূর্ণ নতুন, সম্পূর্ণ বৈদেশিক ও অনাত্মীয়” (বসু ১৯৬২:৩৬)। ‘অপর’ হিসেবে চিহ্নিত হলেও জাপান যেন আধু নিক যু গেও শান্তির আশ্রয়স্থল। বলে নেওয়া ভাল যে ‘অপর’ বা ভিন্নতার পরিপ্রেক্ষিতে নির্মিত একটি সংস্কৃতির রূপে ধরা থাকে ‘আত্ম’রও পরিচয়, তার আশা-আকাঙ্ক্ষার হদিস, আধু নিক বা ভবিষ্যতের কাঙ্ক্ষিত মূ র্তি। দিলীপকুমার রায়ের দেশে দেশে চলি উড়ে (১৯৫৪) সাধারণ পাঠকের কাছে ততটা পরিচিত হয়ত�ো নয়, কিন্তু সেখানেও তাঁর বক্তব্য যে রূপকে যাঁরা সাধনীয় শিল্প বলে মনে করেন তাঁদের সব আগে জাপানে আসা চাই। এই প্রখ্যাত সঙ্গীতকার কিন্তু জাপানের সঙ্গীতশিল্পের রসগ্রহণ করতে পারেননি। তাঁকে সবচেয়ে আকর্ষণ করেছিল জাপানে ভদ্রতার ক�ৌলীন্য। তার সামাজিক সদাচরণের মধ্যে তিনি দেখেছিলেন বিশেষ একটা আকুতি। “জাপান ভগবৎভক্তিকে আশ্রয় করতে পারেনি ভারতের মতন, অথচ পূ জার অভীপ্সা থাকেই প্রতি মরমীর মর্মে উপ্ত। ... জাপানে এই ঐকান্তিক পূ জাবৃ ত্তি ছাড়া পেয়েছে – খানিকটা অন্তত – তার সামাজিক সদাচারের মঞ্জরণে”

উল্লেখ করতে ইচ্ছে করছে ভূ পর্যটক রামনাথ বিশ্বাসের ভ্রমণকাহিনি জুজুৎসু জাপান (১৯৪৫)। রামনাথ ক�োবে, ওসাকা, নারা, ইয়�োক�োহামা ও ট�োকিও ভ্রমণ করছেন সামান্য খরচে, মিশছেন সাধারণ মানু ষের সঙ্গে, অনেকসময় নিজের পরিচয় গ�োপন রেখে আর বৈভবে উজ্জ্বল ঝলমলে গিনজার পাশে তুলে ধরছেন দারিদ্র্য, হতাশায় জর্জরিত আরেক ট�োকিওর অধিবাসীদের। সাদায় কাল�োয় মেশান�ো, অন্য বয়ানে অন্য চরিত্রের ভ্রমণকাহিনি। মিথ পেরিয়ে, চিরাচরিত কথাবার্তা, চিন্তার বেড়া ডিঙিয়ে ভ্রমণকাহিনি যে হঠাৎ আল�োর ঝলকানি এনে দেয় তা গুরুত্বপূ র্ণ, তবে এই কাহিনিগুল�োতে দু ই দেশের সাধারণ মানু ষের মধ্যে যে অসংখ্য লেনদেন আর পারস্পরিক সম্পর্কের গল্প থাকে তা কিছু কম গুরুত্বপূ র্ণ নয়। হরিপ্রভা তাকেদার রচনা আমরা অনেকটাই মনে রাখি শুধু মাত্র বঙ্গনারীর লেখা প্রথম এশিয়ায় ভ্রমণকাহিনী রূপেই নয় কিন্তু সেখানে ছ�োট�োখাট�ো ঘর�োয়া খুঁটিনাটির উপস্থাপনার আর মানু ষের সঙ্গে মানু ষের সহজ ভালবাসার সূ ত্র ধরে। তিনি বিদায়কালে বলেন “বিদেশে এমন সরলস্বভাবা স্নেহপরায়ণা শ্বশ্রুঠাকুরাণীর মা’র মত যত্ন ভালবাসা পাইয়া ইঁহার সহিত বাস করিতে ইচ্ছে হয়, কিন্তু সে সম্ভাবনা ক�োথায়?” (বঙ্গমহিলার জাপানযাত্রা, দিল্লী, আই এম এইচ, ২০০৭:১০০) রচনাটি জুড়ে ভালবাসার এই লেনদেনের সম্পর্ক প্রসারিত হয়েছে। মনে রাখতে হবে দু ই মহিলার কেউই কারুর ভাষা জানতেন না।আবার গৃ হক�োণের বাইরে মৈত্রেয়ী দেবীর চীনে ও জাপানে (১৯৮০) নজর কাড়ে চিনা ও জাপানি মানু ষের অতীত ভুলে নিরন্তর মৈত্রী স্থাপনের চেষ্টা। অনেকক্ষেত্রেই নতুন সংস্কৃতির মুখ�োমুখি হয়ে নতুন করে ব�োঝার যে অন্তর্দৃষ্টি প্রকট হয় তারই বিপরীতে আবার ভুল ব�োঝাবু ঝির নজিরও চ�োখে পড়ে। ‘অপর’-কে কেন্দ্র করে স্বপ্ন গড়ে আর স্বপ্ন ভাঙে। আর এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই লু কিয়ে থাকে দু টি সংস্কৃতির য�োগায�োগের নিবিড় সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। 

অন্ধের সূ র্যবন্দনা

25


N

TAG

 C E N T E NA

R

L E B R A TI O

OF

Y

CE

  - ভাস্বতী ঘোষ (সেনগু

MA

N PA

O R E' S

বিশ্বকবির জাপানযাত্রার শতবর্ষে শ

ID

EN

VIS IT T O J

A

কবিগুরুর “জাপানযাত্রী” বই যারা পড়েছেন বা শুনেছেন, তাঁরা সকলেই তাঁর লেখার সমস্ত বিবরণ, উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে জাপান ও ঐ সময়ের ছবির সঙ্গে পরিচিত। কবিগুরুর ঐ যাত্রার সঙ্গী ছিলেন সি.এফ.এন্ড্রুজ, উইলি পিয়ার্সন ও শ্রী মুকুলচন্দ্র দে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখার বেশ কিছু অংশকে উদ্ধৃত করে আমি ‘জাপান যাত্রীকে ফিরে দেখা’ লিখেছিলাম ২০০৭ এর অঞ্জলিতে। ঐ জাপানযাত্রাকে এবারে দেখা যাক তাঁর সহযাত্রী শ্রী মুকুলচন্দ্র দে’র লেখার মধ্যে দিয়ে। পিতা শ্রী কুলচন্দ্র দে’কে মুকুলচন্দ্র লিখছেন, . ক�োবে ৩০. ৫. ১৯১৬ ওঁ শ্রীচরণেষু , কাল বিকেলে আমরা সকলে ভালয় ভালয় এখানে এসে পৌঁছলু ম। কাল জাহাজ থেকে আরম্ভ করে বাড়ি পর্যন্ত গুরুদেবের ওপর কাগজওয়ালাদের একটা প্রকাণ্ড ঝড় বয়ে গেছে। এ’রকম কাণ্ড ক�োথাও দেখিনি। এখনও চলছে। কাল গুরুদেবকে এখানকার বাঙ্গালীরা ও এখানকার অধিবাসীরা reception দেবে। এখানে আমাদের খুব ভাল লাগছে। এখানকার বিখ্যাত বড় চিত্রকর টাইকান ও কাট্‌সুটা চিত্রকরের সঙ্গে গুরুদেব আমায় আলাপ করিয়ে দিয়েছেন। আমি Tokyo-তে তাঁর কাছে থাকব�ো ও তাঁর schoolএ ছবি আঁকা শিখব�ো। এখানকার কাগজে আমাদের নাম রটে গেছে। জাপানী লেখা বু ঝতে পারবেন না তাই পাঠালু ম না। আমার সঙ্গে দেখা করতেও সকলে এসেছিল। আমরা পরশু ওসাকা যাব�ো। তারপরে ট�োকিও যাব�ো। কতদিন থাকব�ো জানিনা। যে কয়দিন থাকি খুব ভাল করে brush workটা শিখে নেব। এখানে জাপানী মেয়ে দাসীরা বাড়ির এমন সব আশ্চর্য্য কাজ করে তা আর কি বলব�ো। এরা এমন স্বাধীন যে তা বলবার নয়। “সবু জ পত্র”টা নিশ্চয় নেবেন। তা’তে গুরুদেবের সব লেখা বের হচ্ছে। এখানে আমরা ভারতবর্ষীয় একজন বণিকের বাড়িতে আছি। আহার, আরামের ক�োনও ত্রুটি হচ্ছে না। বাঙ্গালী ৫/৬ জন এখানে আছেন। তাঁরাই আমাদের ভার নিয়েছেন। গুরুদেবের সঙ্গে রাজার হালে আছি। জাপানীরা সকলেই গুরুদেবকে নিজের নিজের বাড়িতে নিয়ে রাখবার জন্য টানাটানি করছে। জাপানে এখন হুট�োপুটি পড়ে গেছে গুরুদেবকে নিয়ে। এরা যে কি করবে তা বু ঝে উঠতে পারছে না। জাপানে ক�োনও ফুলে গন্ধ নেই। জাপানে ছেলেমেয়েরা কখন�ো ঝগড়া বা মারামারি করে না। এটা খুব আশ্চর্য্য। এদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ওপর খুব একটা ঝ�োঁক। আজ এখনই বেরুব�ো। ম�োটরে করে বেড়াতে। তাই তাড়াতাড়ি করে কাজ সেরে নিচ্ছি। আমরা সকলে ভাল আছি। আমাদের জন্য চিন্তা করবেন না। এখানে সকলেরই এমন একটা রুচি আছে, যেটা এখানে সব যায়গায় সব জিনিষেই দেখতে পাওয়া যায়। সেবক মুকুল

আছি। এ আমার একটা গ�ৌরব। জাপানের কথা তুমি সব জানতে চেয়েছ�ো। ত�োমায় কি করে ব�োঝাব�ো যে জিনিষটা কি ! বড় আশ্চর্য্য এ দেশ। না দেখলে এ কেউ বু ঝতে পারবে না। জাপানে কেউ, ক�োনও মানু ষ ঝগড়া করে না। কার�ো সঙ্গে মনের গ�োলমাল হলে, মুখ থেকে একটি কথাও বের করে না। চিৎকার করে, গালাগালি করে, বচসা করা এ এরা কল্পনাতেও আনতে পারে না। কেউ একটা ভারি অন্যায় কাজ করল�ো, তার উপর ভারি রাগ হল�ো --- বড়জ�োর কেবল আস্তে “বাখা” বল্লে। “বাখা” মানে ব�োকা। এর উপর বড় গাল জাপান দেশে নেই। এ জিনিষটা যে কেবল শহরে তা নয়। এ জাপানের সব যায়গায় পাড়াগাঁয়ে পর্য্যন্ত। এখানকার ছ�োট ছেলেমেয়েরা পর্য্যন্ত ঝগড়া করে না। খেলাধু লার পর যখন ছেলেমেয়েরা যে যার বাড়ি যায় তখন প্রত্যেক প্রত্যেককে বিদায় নমস্কার না করে যায় না। বিদায় নমস্কারকে এরা বলে “সায়�োনারা”। সব সময়েই ক�োথা থেকে ক�োথাও যাবার সময়ে “সায়�োনারা” বলে তবে যায়। ভারি চমৎকার এ জাত। মেয়েরা এখানকার স্বাধীন। তারা বেরতে পারে। ক�োথাও একলা যেতে পারে। যা তাদের ইচ্ছে (তারা তা’ই) করতে পারে। মেয়েরা আশ্চর্য্য রকমের খাটতে পারে। সকালবেলা বাড়ির দাস-দাসীদের সঙ্গে বাড়ির প্রভুর কি প্রভু-পত্নীর প্রথম দেখা হলেই সকলে সকলকে নমস্কার করে। বাড়ির দাস-দাসীকেও যেরকম, আপনার নিজের ল�োককেও এরা সেরকম চ�োখে দেখে। তার টাকা কম, কি আর বেশী। জাতিভেদ এদের নেই। সকলেই সমান মানু ষ। যে ময়লা সাফ্‌করে, তাকে ঘৃ ণা --- কি তাকে ছু ঁলে যে চান করতে হবে এসব এদের ভিতর নেই। সে হয়ত�ো গরীব। কি পেটের দায়ে খাট�ো কাজ করছে, কিন্তু তাতে আসে যায় কি? তারও ত�ো মানু ষের মন! মন ত�ো আর ছ�োট নয়। কাজেই এরা ঠিক সকলকেই মানু ষ হিসাবে সমান দেখে। এ জিনিষটা বড় ভাল। আমাদের দেশে কবে এটা হবে তাই ভাবছি। আমি একটু একটু করে জাপানী কথা শিখছি। এরা বলে আমি এ বিষয়ে ভারি চালাক। খুব শীঘ্র শিখতে পারব�ো। এরা ভাজা প�োড়া জিনিষ তত�ো বেশী খায় না। সিদ্ধ জিনিষই ভালবাসে এখানে আমাদের দেশের মত�ো ক�োন মসলা নেই। কেবল জলে সিদ্ধ। প্রথম প্রথম আমার বড় একটা কাঁচা গন্ধে খারাপ লাগত�ো, এখন অভ্যেস হয়ে এসেছে বলে খুব ভাল�ো লাগে। এদের খাওয়া খুব সহজেই হজম হয়। ঘি, দু ধ এরা খায় না। ছ�োট বাচ্চারা কেবল দু ধ খায়। দু ধ থেকে ছানা দই প্রভৃতি করতে এরা ম�োটেই জানে না। ছানা কি করে কাটাতে হয় আমায় লিখে জানিও। আমি এদের একটা

দ্বিতীয় চিঠি মাকে লিখছেন য়�োক�োহামা থেকে ১৯১৬ সালের ৪ঠা জুলাই। এই চিঠিটির সাথে কবিগুরুর ‘জাপান যাত্রী’ থেকে পৃ ষ্ঠা ৭২, ৭৩এর কিছু অংশ উদ্ধৃত করছি। জাপানের একটি বিশেষ চিত্রকে দু জনেই তুলে ধরেছেন ---“গুরুদেব আমাদের র�োজ খাবার টেবিলে অনেক ভাল ভাল কথা বলে থাকেন। ওঁর কাছে যদি আমি আর কিছু কাল থাকতে পারি তবে সত্যিকার মানু ষ হয়ে যাব�ো। ওঁকে ত�ো আমি এতদিন জানতুম না --- আর জানবার বয়স ত�ো তখন হয়নি। কাজেই আমার তাতে দ�োষ নেই। এখন জানবার সময় হয়েছে, এখন বেশ বু ঝতে পারছি ও জানছি। ম�োটের উপর এ আমার যে কত�ো স�ৌভাগ্য – তা আমি িক বলব�ো। কত বড় বড় ল�োক ওঁর কাছে ঘেঁষতে সাহস পায়না --- (আর) আমি সব সময়েই ওঁর কাছে 26

Anjali

www.batj.org


বিশ্বকবির জাপানযাত্রার শতবর্ষে শ কিছু করে খাওয়াব�ো। কাঁচা মাছ এরা খায়। কাঁচা মাছ বেশ নরম কিন্তু। খেতে বেশ লাগে। তবে কাঁচা মাছ খাচ্ছি মনে করলে গা’টা কেমন করে। মূ ল�ো, শশা, আদা, বেগুন এখানে খুব পাওয়া যায়। এরা এসব জিনিষ প্রায় কাঁচাই খায়। আমাদের দেশের খাওয়ার মত�ো ম�োটেই নয়। ভাত এদের প্রধান খাদ্য। ভাত’কে বলে “গ�োহান্‌”, মাছকে বলে “সাকানা”, জলকে বলে “মীজু” ইত্যাদি অনেক রকম কথা এদের আমি শিখেছি। দু ট�ো চারটে আবশ্যকীয় কথা দাস-দাসীকে বলে ব�োঝাতে পারি। এরা হাত দিয়ে খায় না। বাঁ হাতে বাটিতে করে খাবার নেয়, ডান হাতে দু ট�ো কাঠি নিয়ে ঐ বাটি থেকে খাবার তুলে তুলে খায়। এরা মিষ্টি জিনিষ ম�োটেই ভালবাসে না। রসগ�োল্লা, সন্দেশ এসব এদেশে নেই। একরকম চালের গুঁড়�ো দিয়ে মিষ্টি তৈরী করে। তা আমার তত�ো ভাল লাগে না। তবে বিলিতি রকমের কেক ইত্যাদি অনেক রকম এখানে পাওয়া যায়। কলা, আপেল, চেরী, পীচ এই সব ফল এখানে পাওয়া যায়। আম প্রভৃতি ফল এবং পটল ইত্যাদি (সব্জি) এখানে পাওয়া যায় না। কপি পাওয়া যায়। জুত�ো নিয়ে এরা কখনও ঘরে ঢ�োকে না। জুত�ো বাইরের দরজার কাছে থাকে। ঘরের ভিতরে আগাগ�োড়া মাদু রের মত�ো গদি পাতা। কাঠের বাড়ি। দেওয়াল কাগজের। খুব সাবধানে সতর্কভাবে সব সময় থাকতে হয়। ম�োট কথা, এখানকার সব জিনিষই যেন ছবি। সবই ভারি চমৎকার। এখানকার মেয়েরা আমাদের দেশের মেয়েদের মত�ো সু ন্দর দেখতে নয় বটে, কিন্তু রং এত�ো সাফ্‌ যে বিলিতি মেমদের থেকেও রং ভাল। কাল�ো মানু ষ এখানে নেই। সকলেই ধপ্‌ধপে সাদাটে লাল। এদেশের মেয়েরা বড় সু ন্দর --- সু ন্দর মানে এদের মন বড় সু ন্দর। কথায় কথায় হাসি। রাগ করা বা দু ঃখ করা এরা ব�োধহয় কস্মিন কালেও জানে না”।

(জাপান যাত্রী) “জাপানে শহরের চেহারায় জাপানিত্ব বিশেষ নেই, মানু ষের সাজসজ্জা থেকেও জাপান ক্রমশ বিদায় নিচ্ছে। অর্থাৎ, জাপান ঘরের প�োশাক ছেড়ে আপিসের প�োষাক ধরেছে। আজকাল পৃ থিবীজ�োড়া একটা আপিস-রাজ্য বিস্তীর্ণ হয়েছে, সেটা ক�োন�ো বিশেষ দেশ নয়। যেহেতু আপিসের সৃ ষ্টি আধু নিক য়ু র�োপ থেকে, সেইজন্য এর বেশ আধু নিক য়ু র�োপের। কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে এই বেশে মানু ষের বা দেশের পরিচয় দেয় না, আপিস –রাজ্যের পরিচয় দেয়। আমাদের দেশেও ডাক্তার বলছে, ‘আমার ওই হ্যাটক�োটের দরকার আছে’। আইনজীবীও তাই বলছে। বণিকও তাই বলছে। এমনি করেই দরকার জিনিসটা বেড়ে চলতে চলতে সমস্ত পৃ থিবীকে কুৎসিত ভাবে একাকার করে দিচ্ছে। এইজন্যে জাপানের শহরের রাস্তায় বের�োলেই প্রধানভাবে চ�োখে পড়ে জাপানের মেয়েরা। তখন বু ঝতে পারি, এরাই জাপানের ঘর, জাপানের দেশ। এরা আপিসের নয়। কারও কারও কাছে শুনতে পাই, জাপানের মেয়েরা এখানকার পুরুষের কাছ থেকে সম্মান পায় না। সে কথা সত্য কি মিথ্যা জানি নে; কিন্তু একটা সম্মান আছে সেটা বাইরে থেকে দেওয়া নয়, সেটা নিজের ভিতরকার। এখানকার মেয়েরাই জাপানের বেশে জাপানের সম্মানরক্ষার ভার নিয়েছে। ওরা দরকারকেই সকলের চেয়ে বড়�ো করে খাতির করে নি, সেই জন্যেই ওরা নয়নমনের আনন্দ।

একটা জিনিস এখানে পথে ঘাটে চ�োখে পড়ে। রাস্তায় ল�োকের ভিড় আছে, কিন্তু গ�োলমাল একেবারে নেই। এরা যেন চেঁচাতে জানেনা; ল�োকে বলে জাপানের ছেলেরা সু দ্ধ কাঁদে না। আমি এপর্যন্ত একটি ছেলেকেও কাঁদতে দেখিনি। পথে ম�োটরে করে যাবার সময়ে মাঝে মাঝে যেখানে ঠেলাগাড়ি প্রভৃতি বাধা এসে পড়ে সেখানে ম�োটরের চালক শান্তভাবে অপেক্ষা করে, গাল দেয় না, হাঁকাহাঁকি করে না। পথের মধ্যে হঠাৎ একটা বাইসিক্‌ল্‌ম�োটরের উপরে এসে পড়বার উপক্রম করলে আমাদের দেশের চালক এ অবস্থায় বাইসিক্‌ল্‌-আর�োহীকে অনাবশ্যক গাল না দিয়ে থাকতে পারত না। এ ল�োকটা ভ্রূক্ষেপমাত্র করলে না। এখানকার বাঙালিদের কাছে শুনতে পেলু ম যে, রাস্তায় দু ই বাইসিক্‌ল্‌এ কিম্বা গাড়ির সঙ্গে বাইসিক্‌ল্‌’এর ঠ�োকাঠু কি হয়ে যখন রক্তপাত হয়ে যায়, তখনও উভয় পক্ষ চেঁচামেচি গালমন্দ না করে গায়ের ধু ল�ো ঝেড়ে চলে যায়। আমার কাছে মনে হয়, এইটেই জাপানের শক্তির মূ ল কারণ। জাপানি বাজে চেঁচামেচি ঝগড়াঝাঁটি করে নিজের বলক্ষয় করে না। প্রাণশক্তির বাজে খরচ নেই ব’লে প্রয়�োজনের সময় টানাটানি পড়ে না। শরীর-মনের এই শান্তি ও সহিষ্ণুতা ওদের স্বজাতীয় সাধনার একটা অঙ্গ। শ�োকে দু ঃখে, আঘাতে উত্তেজনায় ওরা নিজেকে সংযত করতে জানে। সেইজন্য বিদেশের ল�োকেরা প্রায় বলে, জাপানিকে ব�োঝা যায় না, ওরা অত্যন্ত বেশি গূ ঢ়।” 

কৃতজ্ঞতা স্বীকার --জাপানযাত্রী – কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাপান থেকে জ�োড়াসাঁক�ো --- শ্রী মুকুল চন্দ্র দে। সম্পাদনা ---শ্রী সত্যশ্রী উকীল। এই বইটির জন্য আমি শ্রী সত্যশ্রী উকীলের (বাবলা দা) কাছে ঋণী। অক্লান্ত পরিশ্রম ও অধ্যাবসায় সহয�োগে এই বইটি সম্পাদনা না করলে আমার পক্ষে এই প্রবন্ধ লেখা সম্ভব হ�োত না। তাছাড়া রবীন্দ্রনাথের সহযাত্রী হিসেবে শ্রী মুকুলচন্দ্র দে’র যাবতীয় চিঠিপত্র ও তথ্যমূ লক কাগজ সংরক্ষণ করেছেন শ্রীসত্যশ্রী। সেগুলিকে নিয়ে যথাযথভাবে বইয়ের সম্পাদনা করেছেন। ভবিষ্যতে যারাই এই জাপানযাত্রা সম্বন্ধে আগ্রহী হবে সকলেরই জন্য এ এক বিরাট সম্পদ। শ্রী সত্যশ্রী’কে আমি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাই।

www.batj.org

Durga Puja 2016

27


N

TAG

 C E N T E NA

R

L E B R A TI O

OF

Y

CE

  - শুভা কোকুবো চক্রব

MA

N PA

O R E' S

যা দিয়েছ আমার এ প্রাণ ভরি.

ID

EN

VIS IT T O J

A

সময়টা ২০০৫-এর মে’মাসের মাঝামাঝি। সেবছর জাপানে অনু ষ্ঠিত হয় “World Expo”। মার্চ মাসে শুরু হয়, চলে সেপ্টেম্বর মাস অবধি। পৃ থিবীর সব দেশের প্যাভিলিয়ন ছিল এখানে। ক�োন্‌ দেশ তার প্যাভিলিয়নকে কতটা সাজাতে পারে তাও একটা প্রতিয�োগিতার মত ছিল এখানে। আর সত্যিই, যে দেশের প্যাভিলিয়ন যত সু ন্দর সেখানেই ভীড় সক্কাল থেকে। ক�োন�ো ক�োন�ো প্যাভিলিয়ন দেখতে লাইন দিয়ে দাঁড়াতে হয়েছে ৮থেকে ৯ঘন্টা। তবু বাচ্চা থেকে বয়স্ক, সবাই অপেক্ষা করেছে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে। “নিজের দেশে বসে এতগুল�ো দেশের সংস্কৃতিকে জানতে পারছি, এত�ো আর র�োজ র�োজ পাব�োনা, একটু না হয় অপেক্ষা করতেই হ�োল”- এই মন�োভাব নিয়ে শ’য়ে শ’য়ে মানু ষ লাইন দিয়ে অপেক্ষা করে উপভ�োগ করেছেন দেশের এবং বিদেশের প্যাভিলিয়ন। ভারতীয় প্যাভিলিয়নের থিম ছিল “Under the bodhi tree”। এখানেও সকাল থেকে ভীড় দেখেছি, যতবার গেছি। ঢুকতেই চন্দনের গন্ধ। ঠান্ডা একটা পরিবেশ। স্পীকারে কখন�ো বাঁশী, কখন�ো সানাই, কখনও সেতার হাল্কা ভল্যুমে। ব�োধিবৃ ক্ষের যে গুঁড়ি করা হয়েছিল,ওখানে দেখেছি ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত অতিথিদের চ�োখ বু জে দু ’দন্ড জিরিয়ে নিতে। যেন শান্তির নীড়। ভারতীয় প্যাভিলিয়নে এই ছ’মাস ধরে বিভিন্ন অনু ষ্ঠানের ব্যবস্থা ছিল। প্যাভিলিয়নের দ�োতলায় একটা ছ�োট মঞ্চ করা হয়েছিল। নাচ, গান, বাজনা, আল�োচনা চলেছে র�োজ র�োজ আর এই মঞ্চের চারধারে শুধু দ�োকান, দ�োকান আর দ�োকান। হঠাৎ করে গিয়ে পড়লে ঠিক মনে হবে যেন দিল্লীর পালিকা বাজারে এসেছি। আমার বাড়ি থেকে মাত্র ১৫/২০মিনিটের দূ রত্বে হয়েছিল এই Expo। তাই এই ৬মাসে নিজের অনু ষ্ঠানের দিনটা য�োগ করলে প্রায় ৮বার যাবার সু য�োগ হয়েছিল। সু ন্দর খ�োলামেলা পরিবেশ। সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা অবধি থেকেও সবকিছু দেখা শেষ হয়না কখনই। এই Expoতে অনু ষ্ঠান করতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন শিল্পীরা এসেছিলেন। Expo ছাড়াও অন্যান্য জায়গায় বেশ কিছু অনু ষ্ঠান করে ভারতে ফিরেছেন। নাগ�োয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে পর পর অনু ষ্ঠান লেগেই ছিল এই ৬মাস বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন শিল্পীর। হিমাচলপ্রদেশ থেকে একটা ল�োকনৃ ত্যের দল এসেছিল। সেদিন নাগ�োয়াতে অনু ষ্ঠান। টয়�োটা থেকে ট্রেনে চড়েছি, একঘন্টায় পৌঁছে যাব নাগ�োয়াতে। আমার পরনে তাঁতের শাড়ী। এদেশের ল�োকেরা বিদেশী দেখলেই কেমন যেন একটা ব্যাক্‌গিয়ার দিয়ে থাকেন। ভাষা সমস্যার ভয়টাই সবচেয়ে বেশী। একমুখ মৃ দুহাসি নিয়ে এক ভদ্রল�োক আমার ঠিক উল্টোদিকের সীটে বসে। কথা বলার ইচ্ছে প্রবল থাকলেও নিজে থেকে এসে কিছু বলতে পারছেন না। কারণ...ভাষা...আমি যদি জাপানী ভাষা না বু ঝতে পারি বা আমি যদি হঠাৎ করে ইংরিজী বলতে শুরু করি...ইত্যাদি ইত্যাদি। এরমধ্যে নাগ�োয়া পৌঁছে যাই। স্টেশন থেকে বের�োবার মুখে হাতের ম�োবাইলটা বাজে। কানে নিয়ে বলি “মুশি মুশি”। এক ছাত্রীর ফ�োন... ওরা কয়েকজন পৌঁছে গেছে হল’এ। ক�োথায় অপেক্ষা করছে সেটা জানাতেই এই ফ�োন।ধন্যবাদ জানিয়ে ফ�োন বন্ধ করে হাঁটতে থাকি। জাপানী ভাষা শুনে সেই ভদ্রল�োক পেছন থেকে আমার পাশে চলতে চলতে জিজ্ঞাসা করেন “ইন্দো কারা দেসু কা?” ( তুমি কি ভারতীয়?)। পাশাপাশি হাঁটতে থাকি কথা বলতে বলতে। উনিও ওই অনু ষ্ঠান দেখতেই যাচ্ছেন। হল’এ পৌঁছে, যে যার আসন নিই। শুরু হয় অনু ষ্ঠান। অনু ষ্ঠান শেষে সেই ভদ্রল�োক আবার আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। গিয়ে বসি একটা কফিশপে। ভিসিটিংকার্ড বিনিময়ের মাধ্যমে আলাপ শুরু হয়। Mr. Tanaka। কথায় কথায় জানতে পারি, ওনাদের একটা প্রাইভেট সংস্থা আছে। এরা সবাই রবীন্দ্রনাথের অনু রাগী। বেশ অবাক হই। আনন্দে গায়ে কাঁটা দেয়। যে ভদ্রল�োক এই সংস্থার সূ চনা করেছেন (Mr Jiro Zaemon Ito), তিনি আর নেই। কিন্তু সংস্থা চলছে, থেমে নেই। আমার ক�ৌতূ হল বাড়তেই থাকে। কিন্তু সময় বেশি না থাকাতে, ফিরে আসতে বাধ্য হই সেদিন। ঠিক একসপ্তাহের মাথায় সদর দরজায় বেলের আওয়াজে দরজা খুলি। হাতে পাই একটা পার্শেল। প্রেরকের জায়গায় দেখি Mr. Tanakaর নাম। একটু অবাক হয়ে তাড়াতাড়ি খুলে ফেলি প্যাকেটটা। একটা VHS ক্যাসেট আর একটা চিঠি। চিঠিটা এক নি:শ্বাসে পড়েই ক্যাসেটটা দিই প্লেয়ারে। টিভির সু ইচ্‌অন করি। নিজের চ�োখকে কিছু তেই বিশ্বাস করতে পারিনা প্রথমে। বিশ্বকবিকে পেয়ে যাই আমার ঠিক পাশে। দেখতে দেখতে চ�োখ ভরে ওঠে জলে। ১৯৩৮ সালের গরমে Mr. Jiro Zaemon Ito সস্ত্রীক শান্তিনিকেতনে যান। Mrs. Ito জাপানের tea-ceremonyর যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে গিয়ে চা বানিয়ে উপহার দেন কবিকে। খ�োলাবারান্দায় সাদা জ�োব্বা (সাদাকাল�ো ভিডিওতে সাদা বলেই ভাবি) পরে জাপানি চা খেতে খেতে Mr. Itoর সঙ্গে কথা বলছেন.......তারপর চা-পান শেষ হলে জাপানী অতিথিদের জন্য নৃ ত্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছিলেন কবিগুরু। এস্রাজের সঙ্গে নৃ ত্য প্রদর্শিত হয়েছিল সেদিন। এই পুর�ো ভিডিওটাই শব্দছাড়া। নাচ দেখতে দেখতে মনে মনে ভাবি কি গানটা হতে পারে! বিদেশী অতিথি বলে হয়ত “... ভুবনমন্দিরে শান্তি সঙ্গীত বাজে... ধ্বনিল রে”, আবার ভাবি বাইরের মাটিফাঁটা গরমের কথা ভেবে “...বক্ষজুড়ে...চক্ষে আমার তৃষ্ণা”... উত্ত্বেজনায় হাত-পা কাঁপতে থাকে আমার। দ�ৌড়ে গিয়ে ধন্যবাদ জানাতে ফ�োন করি সেই ভদ্রল�োককে। পরবর্তীকালে অনেকবার যাবার স�ৌভাগ্য হয়েছে ওনাদের সেই সংস্থায়। ১৯৩৮ সালে শান্তিনিকেতন থেকে ফিরে Mr. Ito জাপানের নাগ�োয়া শহরে একটা বাড়ি তৈরী করেন। নাম দেন Yokisou। বিখ্যাত চৈনিক কবি ত�োএংমের একটা কবিতা থেকে Yoki শব্দটা নেওয়া হয়। “yoki” অর্থাৎ ঝলমলে “sou” বাড়ি। “Yokisou” ঝলমলে বাড়ি। যতবার yokisou দেখেছি বা ঢুকেছি ওই বাড়ির ভেতর ততবারই মনে হয়েছে উদয়নের সঙ্গে অনেক মিল এই বাড়ির। সেখানেই এই সংস্থা। বাড়ির ভেতরে একটা ছ�োট্ট মঞ্চ রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনু ষ্ঠান হয়। বাইরে বিরাট বাগান। বসন্তে বা শরতে সেখানেও অনু ষ্ঠান হয়। একবার পার্বতীবাউল এসেছিলেন, বাউলগান শ�োনার স�ৌভাগ্য হয়েছিল ওখানে।আমার সেদিন দর্শকের আসনে বসে গান শ�োনার কথা। কিন্তু পার্বতীর অনু র�োধে ওর গানে নাচ করতে বাধ্য হই। “খাঁচার ভিতর অচীন পাখী...”, “গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ...” পরপর। সু রের ছটায় yokisou (আমার মনে গড়া উদয়ন) গম্‌গম্‌করে , প্রাণ ফিরে পাবার মত। ক�োথায় বসে কি পাচ্ছি...ভাবাও কি যায়!!! নিজের ভাগ্যকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারিনা! মনে মনে আওড়াতে থাকি, “যা দিয়েছ আমার এ প্রাণ ভরি খেদ রবে না এখন যদি মরি।” 

28

Anjali

www.batj.org


L E B R A TI O

N

TAG

 C E N T E NA

R

CE

OF

Y

কয়েকটি জন্মদিন পালনের ইতিবৃ ত্ত

- শ্রীকান্ত চট্টো

MA

N PA

O R E' S

রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশার

ID

EN

VIS IT T O J

A

কজন মানু ষের প্রতিভা, প্রচেষ্টা এবং সচেতন-স্বাজাত্যব�োধ সমগ্র একটি জাতির জীবনকে কত গভীরভাবে এবং বহুমাত্রায় যে প্রভাবান্বিত করতে পারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাঙ্গালী জাতির সম্পর্ক তার একটি প্রকৃষ্ট, যদিও বিরল, উদাহরণ। সেই সম্পর্কের কারণেই কবির তির�োধাণের সাত দশকের বেশী সময় পরেও সংস্কৃতিসচেতন বাংলাভাষাভাষী মানু ষ পৃ থিবীর বিভিন্ন জায়গায় রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী পালনের মাধ্যমে কবির বহুধা-বিস্তৃত প্রতিভা এবং জাতির জীবনে তার প্রভাব চর্চা করে থাকে। কিন্তু কবির জীবদ্দশায় তাঁর জন্মদিনগুলি কেমনভাবে পালিত হত? এই ক�ৌতূ হলই এই প্রবন্ধের উৎস এবং বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা উপকরণ নিয়ে এর সঙ্কলন। স্বভাবতই প্রতিটি জন্মদিনের স্মৃতি যে সযত্নে রক্ষিত হয়েছে তা নয়, এবং সব ক’টি যে বিশেষ অনু ষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হয়েছিল এমনও হয়ত নয়। তাই কবির জন্মদিনের ধারাবাহিক ইতিহাস রচনা করা এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য নয়। স্বদেশে পালন-করা উল্লেখয�োগ্য কয়েকটি জন্মদিনের সংক্ষিপ্ত আল�োচনাই এই প্রবন্ধটির লক্ষ্য। অনেক জন্মদিন কবি দেশের বাইরে কাটিয়েছেন এবং বিদেশী বন্ধু রা তা বিভিন্নভাবে পালনও করেছেন। স্বল্পপরিসরের এই প্রবন্ধে সেগুলি বাদ দেওয়া হল। ১৮৬১’র ৭ই মে থেকে ১৯৪১ এর ৭ই আগষ্ট পর্য্যন্ত ৮০ বছরের দীর্ঘজীবনে কবির জন্মদিন দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সময়ে উদ্‌যাপিত হয়েছে। তবে বৈষয়িক সাচ্ছল্য ও সামাজিক আভিজাত্য সত্ত্বেও কিন্তু জ�োড়াসাঁক�োর ঠাকুর পরিবারে ইউর�োপীয় কায়দায় জন্মদিনের বিশেষ অনু ষ্ঠানের রেওয়াজ ছিল এমন নজির পাওয়া যায় না। কবির পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ স�ৌখিন এবং বিলাসী মানু ষ ছিলেন, কিন্তু নিজের ঘরে দেশীয় আদবকায়দাই মেনে চলা হত। আর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ভ�োগ-বিলাসিতার ঊর্ধে ছিলেন, তাই তাঁর আমলে আহার- বিহার, প�োশাক-পরিচ্ছদে তাঁর ছেলে-মেয়েরা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের থেকে স্বতন্ত্র ছিল না, এ কথা রবীন্দ্রনাথ নিজেই লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথের মেজদাদা সত্যেন্দ্রনাথ ১৮৬২ থেকে ১৮৬৪ পর্য্যন্ত ইংল্যান্ডে থেকে প্রথম ভারতীয় আই-সি-এস হিসেবে দেশে ফেরেন। এই উচ্চপদের অধিকারী হিসেবে সত্যেন্দ্রনাথের বিশেষ সামাজিক প্রতিষ্ঠা ছিল। তিনি নিজে এবং তাঁর স্ত্রী জ্ঞানদানন্দিনী অভিজাত ইংরেজসমাজেও নিয়মিত মেলামেশা করতেন। তাঁদের প্রভাবে হয়ত কিছু কিছু ইউর�োপীয় আদব-কায়দা তাঁর নিজের সংসারে এবং বৃ হত্তর ঠাকুরপরিবারে আসতে শুরু করে। সত্যেন্দ্রনাথ তাঁর কর্মজীবনে স্ত্রী-পুত্র-কন্যা সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করেছেন এবং তাঁর অতিথিহিসেবে রবীন্দ্রনাথ এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজন তাঁর পরিবারে সময় কাটিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের নানা লেখায় এই গুলি সম্পর্কে জানা যায়। কিন্তু কলকাতায় বা অন্য ক�োন বাসস্থানে কারুর জন্মদিন পালনের খবর বিশেষ পাওয়া যায় না। তাই মনে হয় যে কবির জীবনের প্রথমার্ধে ঘটা করে নিয়মিত জন্মদিন পালন খুব একটা করা হত না। পারিবারিক বলয়ে রবীন্দ্রনাথের সর্বপ্রথম জন্মদিন পালনের কথা জানা যায় তাঁর ভাগ্নী (দিদি স্বর্ণকুমারী দেবীর কন্যা) সরলা দেবীর (১৮৭২১৯৪৫) আত্মকাহিনী-মূ লক বই ‘জীবনের ঝরাপাতা’ থেকে। এটা ঘটে ১৮৮৭ সালে, কবির বয়স তখন ২৬ পেরিয়ে ২৭ হতে যাচ্ছে। সরলা দেবী জানাচ্ছেন যে তিনি রবিমামাকে উপহার দেবার জন্য নিজহাতে বকুলফুলের মালা গাঁথেন এবং বাজার থেকে বেলফুলের মালা ও অন্যান্য ফুল সংগ্রহ করেন। কবি সেদিন তাঁদের পার্ক স্ট্রীটের বাসস্থানে ছিলেন। সরলা দেবী সেখানে গিয়ে কবির ঘুম ভাঙ্গিয়ে জন্মদিনের প্রণাম জানান এক জ�োড়া ধু তি-চাদর এবং পুস্পমাল্যাদি নিবেদন করেন। রবীন্দ্রনাথ তখন বিবাহিত, সু কবি ও সু লেখক হিসেবে পরিচিত এবং ইংল্যান্ড-প্রত্যাগত। অথচ এর আগে বা অব্যবহিত পরে আবারও যে এই ভাবে তাঁর বাড়ীর কেঊ তাঁর জন্মদিন পালনে উদ্যোগী হয়েছেন এমন ক�োন খবর পাওয়া যায় না। এর অনেক বছর পর ১৯১০ সালে শান্তিনিকেতনের ছাত্রদের আয়�োজিত জন্মদিনের সম্বর্ধনায় কবি বলেন “কত পঁচিশে বৈশাখ এসেছে গেছে, তারা অন্য তারিখের চেয়ে নিজেকে কিছু মাত্র বড় করে আমার কাছে প্রকাশ করে নি”। এর পরের বছরই আবার, তাঁর পঞ্চাশবছর পূ র্তিতে, বেশ বড় করে উৎসবের আয়�োজন হয় শান্তিনিকেতনে। কলকাতা সহ অন্যান্য জায়গা www.batj.org

থেকে অনেক রবীন্দ্রভক্ত এই অনু ষ্ঠানে য�োগ দিতে আসেন। আচার্য্য বিধু শেখর শাস্ত্রী জন্মদিনের অভিনন্দনবার্তা পাঠ করেন। এ সবের উত্তরে তিনি তাঁর উপলব্ধিতে চিরনবীনতার অনু ভূতির কথা বলেছিলেন “আজ সকালে ত�োমাদের আনন্দ উৎসবের মধ্যে বসে আমার এই নবজন্মের নবীনতা অন্তরে বাইরে উপলব্ধি করছি”। আশ্রমের পক্ষ থেকে বেশ কিছু উপহারও কবিকে দেওয়া হয় যেগুলি তাঁকে খানিক্‌টা বিব্রতই করে। সমবেত বন্ধু জনের এই উপহারগুলির তাৎপর্য্য সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন এই ভাষায় “একটা ক্ষেত্র আছে সেখানে মানু ষের ক�োন লজ্জা নেই, সেটা প্রীতির ক্ষেত্র। এই-সব উপহার আমাকে আপনারা প্রীতির সহিত দিচ্ছেন, সেইজন্য এ সব গ্রহণ করতে আমার ক�োন বাধা নেই”। এর পর থেকে বিভিন্ন জন্মদিনকে উদ্দেশ্য করে কবি কিছু লিখেছেন বা বলেছেন যেগুল�ো তাঁর জন্মদিনগুলিকে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। যেমন ১৯১৪ সালে তিনি উপহার দেন সু পরিচিত ‘পঁচিশে বৈশাখ’ কবিতাটি ‘রাত্রি হল ভ�োর/আজি ম�োর জন্মের স্মরণপূ র্ণ বাণী/ প্রভাতের র�ৌদ্রে-লেখা লিপিখানি/হাতে করে আনি/ দ্বারে আসি দিল ডাক/ পঁচিশে বৈশাখ।। এই দিনটি পালিত হয়েছিল শান্তিনিকেতনে এবং কবি নিজে তাঁর রচিত নাটক ‘অচলায়তন’ এ গুরুর ভূ মিকায় অভিনয় করেন ঐ দিনের বিশেষ অনু ষ্ঠানে। পরের বছর, ১৯১৫ সালেও, একই ভাবে শান্তিনিকেতনে পালিত জন্মোৎসবে মঞ্চস্থ হয় ‘ফাল্গুনী’ এবং কবি অন্ধ বাঊল হিসেবে অভিনয়ে অংশগ্রহন করেন। যদিও কলকাতায় জ�োড়াসাঁক�োর পৈতৃক বাসস্থানে রবীন্দ্রনাথের বসবাসের স্বতন্ত্র ব্যবস্থা বরাবরই ছিল, কবি ১৮৯০ এর পর থেকে এ বাড়ীতে যাতায়াত করতেন এবং অল্পসময়ের জন্য থাকতেন, কিন্তু স্থায়ীভাবে বাস করতেন অন্যত্র। প্রথমে শিলাইদহে (১৮৯০-১৯০১) ও তার পর থেকে শান্তিনিকেতনে। তাই তাঁর জন্মদিনের আনু ষ্ঠানিক উদ্‌যাপন জ�োড়াসাঁক�োর পারিবারিক পরিবেশে করার সু য�োগ কমই হত। ১৯১৩ সালে ন�োবেল পুরস্কার পাবার পর থেকে কবির খ্যাতি (এবং ‘খাতির’) স্বভাবতই দেশে ও বিশেষত বিদেশে আরও বৃ দ্ধি পায়। তাঁর জন্মদিনগুলিও তাই অনেকটা নিয়মিতভাবেই পালিত হতে থাকে। ১৯১৮ সালে, কবির ভাইঝি ইন্দিরা দেবীর উদ্যোগে, কলকাতায় শতাধিক অতিথির উপস্থিতিতে কবির জন্মদিন পালন করা হয়। এই অনু ষ্ঠানে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর লেখা একটি দীর্ঘ কবিতা আবৃ ত্তি করেন। আনন্দাভিভূ ত কবির কন্ঠে “তবু মনে রেখ�ো’ গানটি দিয়ে অনু ষ্ঠান্‌টির সমাপ্তি হয়। ১৯২৮ সালে, কবির ৬৭তম জন্মদিনের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর ওজনের সমপরিমান বইপত্র বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে নানা গ্রন্থাগার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দান করা হয়। কবির ৭০ বছর-পূ র্তি হয় ১৯৩১ সালে। সারা দেশে এবং বিদেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ সমার�োহের সঙ্গে এই দিনটি উদযাপন করা হয়। ১৯৩১ এর ২৭শে ডিসেম্বর কলকাতার টাউন হলে সাড়ম্বরে যে গণসম্বর্ধনা আয়�োজন করা হয়েছিল তাতে বাংলার সর্বস্তরের গণ্যমান্য মানু ষ সহ বহু সাধারণ ভক্ত উপস্থিত ছিলেন। এই উৎসবটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে এই উপলক্ষে সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধায় রচিত প্রশস্তিপত্রটির জন্য। সংক্ষিপ্ত এই রচনাটি অনু ষ্ঠানে পাঠও করেন শরৎচন্দ্র নিজেই। স্বদেশবাসীর, বিশেষত বাঙ্গালীর, জীবনে কবির বহুতর অবদান এই লেখাটিতে স্মরণ করা হয়। এর প্রশস্তিটি শুরু হয় এই বলে “কবিবর, ত�োমার প্রতি চাহিয়া আমাদের বিস্ময়ের সীমা নাই”। বাঙ্গলা ভাষা ও সাহিত্যের শত বৎসরের বিবর্তন রবীন্দ্রনাথের সৃ ষ্টির মাধ্যমে এক ধরণের পূ র্ণতা প্রাপ্ত হয়। তাই রবীন্দ্র-পূ র্বসু রীদের অবদানকে শরৎচন্দ্র শ্রদ্ধা জানান এই ভাষায় “তাঁহাদের স্বপ্ন ও সাধনার ধন, তাঁহাদের তপস্যা ত�োমার মধ্যে আজ সিদ্ধিলাভ করিয়াছে”। আর বাহির-বিশ্বে বাঙ্গালীর পরিচয় বহন করে রবীন্দ্রনাথের জীবনব্যাপী যে আনাগ�োনা তার স্বীকৃতি উল্লেখ করা হয় এই সংক্ষিপ্ত বাক্যটিতে “হাত পাতিয়া জগতের কাছে আমরা নিয়াছি অনেক, কিন্তু ত�োমার হাত দিয়া দিয়াছিও অনেক”। স্বদেশবাসীর নিবেদিত এই সম্ভ্রমে কবি নিশ্চয় আনন্দ পেয়েছিলেন। কিন্তু বাহুল্যবর্জিত পরিমিতিব�োধ ছিল কবির স্বভাবসিদ্ধ। তাই এই অনু ষ্ঠানের আড়ম্বর তাঁকে যে বেশ বিব্রতও করেছিল তার পরিচয় পাওয়া যায় ভাই-ঝি ইন্দিরা দেবীকে লেখা ক�ৌতুক্- মিশ্রিত একটি চিঠিতে “সলজ্জে ল�োকের কাছে কৈফিয়ত দিয়ে বলতে ইচ্ছে করে, দ�োহাই ত�োমাদের, আমি এর জন্য দায়ী নই, তবু আমি

Durga Puja 2016

29


রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশার কয়েকটি জন্মদিন পালনের ইতিব মাপ চাই - ভবিষ্যতে আর কখন�ো সত্তর বছরে পড়বার দু র্গতি ঘটাব না”। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪১, জীবনের এই শেষ চার বছর কবি নানা শারীরিক অসু স্থতায় কাটান। ১৯৩৭ সালে একবার অচৈতন্য হয়ে পড়ে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছিল, কিন্তু তিনি সেরে উঠে আবার অপেক্ষাকৃত স্বাভাবিক সৃ জনশীল জীবনে ফিরে যেতে পেরেছিলেন। এর পর আবার যে গুরুতর অসু স্থতা ১৯৪০ এ আসে তা থেকে তিনি আর সেরে উঠতে পারেন নি। এটা লক্ষ্য করার বিষয় যে প্রবীণ বয়সের এই অসু স্থতা নবীনতার চির-পূ জারী কবিকে মৃ ত্যু- সচেতন করে তুলেছিল। তাঁর ভাষা, ছন্দ ও সু র যেন আসন্ন বিদায়ের একটা বার্তা বহন করে আনছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর কাব্যসৃ ষ্টিতে এই সময়েও ছন্দ ও আঙ্গিক নিয়ে নতুন পরীক্ষানিরীক্ষার ছাপ রয়েছে। ‘প্রান্তিক’ ((১৯৩৮), ‘সেঁজুতি’ (১৯৩৮), ‘র�োগশয্যায়’ (১৯৪০), ‘জন্মদিনে’ (১৯৪১) ও ‘আর�োগ্য’ (১৯৪১) এই কাব্যসংগ্রহগুলি একদিকে গভীর জীবনানু ভূতির স্পর্শে আর অন্য দিকে মৃ ত্যু ও মর্ত্যপ্রীতির প্রকাশে অসামান্য হয়ে উঠেছে। যেমন ‘সেঁজুতি’তে, ৭৮তম জন্মদিনে, কবি লিখলেন ‘আজ মম জন্মদিন। জন্মদিন-মৃ ত্যুদিন, একাসনে দ�োঁহে বসিয়াছে/ দু ই আল�ো মুখ�োমুখি মিলিছে জীবনপ্রান্তে মম’। অসু স্থ কবি মংপুতে মৈত্রেয়ী দেবীর আশ্রয়ে বেশ কিছু দিন কাটান ১৯৪০ সালে। তাই সেখানেই তাঁর আশিতম জন্মজয়ন্তী পালিত হয়। যেখানেই থাকুন না কেন কবি তাঁর ‘সব হতে আপন’ শান্তিনিকেতনে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকতেন। তাই একটু সু স্থ হতেই তিনি মংপু থেকে ব�োলপুরে ফিরে আসেন। কবির জীবনের এই শেষ বছরটিতে শান্তিনিকেতন দু টি উল্লেখয�োগ্য ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়। ১৯৪০ এর ফেব্রুয়ারি মাসে মহাত্মা গান্ধী ও কস্তুরবা শান্তিনিকেতনে আসেন অসু স্থ কবির সঙ্গে দেখা করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে। কবিও বন্ধু ও সম্মানীয় অতিথি হিসেবে তাঁদের বিশেষ সমাদরে অভ্যর্থনার আয়�োজন করেন। ভারতের জাতীয় জীবনের দু ই মহানায়ক শেষবারের মত স্নেহালিঙ্গনে আবদ্ধ হন এই আশ্রমের ছায়ায়। রবীন্দ্রনাথ একটি মর্মস্পর্শী চিঠির মাধ্যমে তাঁর মৃ ত্যুর পর ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য শান্তিনিকেতনের স্থায়িত্বের ভার গান্ধীজির হাতে সঁপে দেন। গান্ধীজিও সমগ্র জাতির উত্তরাধিকার হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের সংরক্ষণ সকল ভারতীয়ের দায়িত্ব বলে বর্ণনা করেন। আর ৭ই আগস্ট অক্সফ�োর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সু প্রাচীন নিয়মাদি, প্রট�োকল, সরিয়ে ফেলে বিদেশের সু দূর নিভৃত এক আশ্রমে বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে কবিকে সাম্মানিক ‘ডক্টর অফ লজ’ উপাধিতে ভূ ষিত করে। অক্সফ�োর্ডের তৎকালীন অধ্যাপক ডঃ রাধাকৃষ্ণণ ও ভারতীয় সু প্রীম ক�োর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার মরিস্‌ গয়ার এই সমাবর্তন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। অক্সফ�োর্ডের নিয়ম অনু যায়ী অনু ষ্ঠানটির লাতিন ভাষায় গ্রথিত হয়। আনু ষ্ঠানিক পর্বের শেষে স্যার মরিস্‌কবিকে অভিনন্দন জানান ইংরেজি ভাষায়: “Congratulations to Oxford’s youngest graduate”. উত্তরে অক্সফ�োর্ডের এই নবীনতম স্নাতকটি সমাগত অতিথিদের বিস্ময়াভিভূ ত করে তাঁর আনু ষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা নিবেদন করেন সু প্রাচীন সংস্কৃত ভাষায়, স্বতঃস্ফুর্তভাবে। উৎফুল্ল গয়ার প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর প্রতিবেদন অক্সফ�োর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবার সময় এই অসামান্য অভিজ্ঞতাটি উল্লেখ করতে অবশ্যই ভুলবেন না যে ভারতীয় কবির পান্ডিত্যের ছ�োঁয়ায় লাতিন এবং লাতিনানু গ বিবিধ ভাষার জননী স্বরূপ সংস্কৃত ভাষাও এই ভাবগম্ভীর অনু ষ্ঠানের অংশ হতে পেরেছিল। ১৯৪১, কবির অসু স্থতা ক্রমশ জটিলতর হতে থাকে। এর আগে কয়েক বছর ধরেই পয়লা বৈশাখের উৎসবের সঙ্গে শান্তিনিকেতনে কবির জন্মোৎসব পালিত হত। এ বছরও তাই পয়লা বৈশাখের দিন আশ্রমবাসীরা যথাসম্ভব অনাড়ম্বর পরিবেশে জন্মজয়ন্তী পালনের আয়�োজন করেন। মহাযু দ্ধের ডামাড�োলের মধ্যেও নববর্ষ উপলক্ষ্যে কবি মানবের জয়গান্‌ই

30

শ�োনালেন। “ওই মহামানব আসে”, সদ্য-লেখা এই কবিতাটির অংশবিশেষ তিনি গান হিসেবে সু র দেন যাতে নববর্ষের দিন এটি গাওয়া হয়। অসু স্থ দু র্বল শরীর নিয়েও কবি হেঁটে সভায় আসেন এবং দু র্বল কিন্তু সু ললিত কন্ঠস্বরে তিনি ছ�োট এক্‌টি ভাষণ দেনঃ “আমার মত স�ৌভাগ্য অতি অল্প ল�োকেরই আছে। শুধু যে আমার স্বদেশবাসীরাই আমাকে ভালবেসেছেন তা নয়, সু দূর দেশেরও অনেক মনস্বী-তপস্বী-রসিক আমাকে অজস্র আত্মীয়তা দ্বারা ধন্য করেছেন। জানি না আমার চরিত্রে কর্মে কী লক্ষ্য করেছেন। সকলের এ স্নেহ-মমতা-সেবা আজও আমি অন্তরের মধ্যে গ্রহণ করে প্রণাম করে যাই তাঁকে যিনি আমাকে এই আশ্চর্য্য গ�ৌরবের অধিকারী করেছেন”। এই অনু ষ্ঠানেই রবীন্দ্রনাথের শেষ প্রবন্ধ ‘সভ্যতার সংকট’ পাঠ করা হয়। সম্ভবত তাঁর শারীরিক অক্ষমতার কারণে প্রবন্ধটি পাঠের দায়িত্ব পড়েছিল আচার্য্য ক্ষিতিম�োহন সেনের ওপর। তাঁর দীর্ঘজীবনের অভিজ্ঞতার আল�োকে কবি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের ইতিহাস পর্য্যাল�োচনা করে, সমস্ত ঘাত-প্রতিঘাত, সম্মান-অসম্মান, জয়-পরাজয় সহ মানু ষের বহুমাত্রিক জয়যাত্রাকেই অভিনন্দন জানিয়েছেন এই প্রবন্ধে এই বলে, “মানু ষের প্রতি বিশ্বাস হারান�ো পাপ। সে বিশ্বাস শেষ পর্য্যন্ত রক্ষা করব...। মনু ষ্যত্বে্র অন্তহীন, প্রতিকারহীন পরাভবকে চরম বলে বিশ্বাস করাকে আমি অপরাধ বলে মনে করি”। পঁচিশে বৈশাখের দিনেও আবার জন্মজয়ন্তীর ছ�োটখাট উৎসবের আয়�োজন ছিল। ঐ দিনে “সভ্যতার সংকট” অভিভাষণটি পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করা হয়। তাঁর কয়েকটি কবিতার সঙ্কলন ‘জন্মদিনে’ গ্রন্থটিও এই দিনে আত্মপ্রকাশ করে। আশ্রমবাসী সু রকার ও গায়ক শান্তিদেব ঘ�োষের উপর�োধে রবীন্দ্রনাথ জন্মদিনের শেষ গান রচনা করলেন ‘পূ রবী’ কাব্যগ্রন্থের ‘পচিঁশে বৈশাখ’ কবিতা থেকে নেওয়া “হে নূ তন, দেখা দিক্‌ আরবার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ” অংশটুকু একটু অদলবদল করে। এতে সু রার�োপও নিজেই করলেন। এটা ২৩শে বৈশাখ। শান্তিদেব ঘ�োষ গেয়ে শ�োনালেন ঐ দিনেই। ব�োধহয় কবির পুর�োপুরি পছন্দ হল না, কারণ পরের দিন আবার গাইতে হয়েছিল শান্তিদেবকে। দ্বিতীয়বার শুনে কবি বল্‌লেন “হ্যাঁ, এবারে হয়েছে”। ঐদিন সন্ধ্যায় উত্তরায়ণ বাড়ীর বারান্দায় ‘বশীকরণ’ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছিল এবং কবি আরাম-কেদারায় শুয়ে/বসে এটি দেখেছিলেন। দেশ-বিদেশ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা এল প্রচুর যার মধ্যে একটি মহাত্মা গান্ধীর, লিখেছেন “ Four-score not enough, may you finish five”. Love, M K Gandhi. র�োগজীর্ণ অবস্থায়ও কবির স্বাভাবিক ক�ৌতুকপ্রবণতা ছেড়ে যায় নি, তিনি উত্তর পাঠালেনঃ “Thanks message. Four score is impertinence, five will be intolerable”, Regards, R N Tagore. জুলাইয়ের শেষের দিকে কবির শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয় এবং, অনিচ্ছা সত্ত্বে্‌ও, ২৫ শে জুলাই তাঁকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয় যথাযথ চিকিৎসার জন্য। মৃ ত্যুপথযাত্রী কবির কল্পনা এবং সৃ জনী শক্তি কিন্তু থেমে যায় নি। ২৭ শে জুলাই নিজের হাতে তাঁর শেষ কবিতাটি লেখেন “প্রথম দিনের সূ র্য/প্রশ্ন করেছিল/সত্ত্বার নূ তন আবির্ভাবে - কে তুমি?/ মেলে নি উত্তর। বৎসর বৎসর চলে গেল/ দিবসের শেষ সূ র্য /শেষ প্রশ্ন উচ্চারিল/পশ্চিম সাগরতীরে নিস্তব্ধ সন্ধ্যায় – কে তুমি?/ পেল না উত্তর।।“ তাঁর শেষ দু টি কবিতা, ‘দু ঃখের আঁধার রাত্রি’ এবং ‘ত�োমার সৃ ষ্টির পথ’, যথাক্রমে ২৯শে এবং ৩০শে জুলাই এ, র�োগ-দু র্বল কন্ন্ঠে বলে গিয়েছিলেন এবং রাণী চন্দ সযত্নে লিখে নিয়েছিলেন - কালের বিচারে যা মানু ষের জন্য কবির জীবন�োপলব্ধির সর্বশেষ বাণী। ১৯৪১ এর ৭ই আগষ্ট, বাংলার ১৩৪৮ এর ২২শে শ্রাবণ কবির মহাপ্রয়াণের দিন। এটিও তাঁর দেশবাসী নিয়মিত শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। 

Anjali

www.batj.org


L E B R A TI O

N

TAG

 C E N T E NA

R

CE

OF

Y

  - 奥田 由香(Yuka Okuda)

MA

N PA

O R E' S

বেদনা-ベドナ、深き哀しみの海へ

ID

EN

VIS IT T O J

A

より深き哀しみを、深淵なる悼みを 授けよ、我が心の真を揺さぶる力を   -ラビンドラナート・タゴール 世界のどんな言語にも、一瞬にして感性を揺さぶる不思議な 力を持つ一言があるに違いありません。その奥行きは人それぞ れであったとしても、様々な経験を通して意識的に、あるいは無 意識のうちに培った精神の中枢に響く言葉。いずれにせよ、そ れは感じる心と決して切り離すことはできません。美しいと心が 感じなければそこに美は存在しない―と信じるタゴールの考え を拠り所とすると、そこには言葉も生まれないということになるで しょう。つまり、人の心は、身体の細胞が日々生まれ変わるよう に、浮遊する透明な問い掛けを捉え、応えようと常に響き合うこ とを欲していると言っていいのかもしれません。 ベドナ、深い哀しみ、痛み、苦悩を意味するこの言葉は、ベン ガルに生きる人々にとって、いのちの重みを実感させる響きでは ないでしょうか。日常にありながら、そこに潜む無常の生を繋ぎ とめるため、錨を沈黙の海へ下ろすかのように、感性を揺らす一 言なのでは。 より深き哀しみを、タゴールはなぜ大いなる神に請うのでしょ う。誰しも、心の平安を日々願うのではないのでしょうか。タゴー ルは答えます―シャンティ、平安はたやすく得られるものではな いと。そこに愛がなければならないから。愛は、祝福をもたらす のと同じ様に、哀しみをももたらすということを、分け隔てなく受け 容れる心に始まるのだと。 そう、哀しみを受け容れることが如何に難儀なことかは言うま でもありません。ベドナ、それは外界から降ってくるものではな く、自身の内に潜む捉えがたきものだからです。タゴールは、心 のこの孤独な葛藤が言の葉に、旋律に、色に、舞いに映し出さ れることを待ち望んでいると感じています。歌に心が放たれると、 あらゆるものが一瞬にして生まれ変わるのは、旋律に、流れるい のちの光が真に触れるからだと。しかし、その光は容易く感じら れるものではないから、それは得難い一瞬であり、人は何度も、 何度も見失ってしまうのだ、と。

言葉を超越した哀しみに遭遇し、魂が震えるという感覚を通し てはじめて見えてくる煌きがあるという、その事は、乾いた大地 に雨が行き渡るように、萎えた心に沁み込みます。そして、柔ら かな掌で悼みを掬い上げるのは愛あればこそ、祈りという再生の 力となるのでしょう。 恩師、モホルディ(故・コニカ・ボンドパッダエ先生)の歌うベド ナは、愛の中に切なく響いています。

বেদনা কী ভাষায় রে          মর্মে মর্মরি গুঞ্জরি বাজে॥ সে বেদনা সমীরে সমীরে সঞ্চারে,      চঞ্চল বেগে বিশ্বে দিল দ�োলা ॥           দিবানিশা আছি নিদ্রাহারা বিরহে      তব নন্দনবন-অঙ্গনদ্বারে,           মন�োম�োহন বন্ধু-                   আকুল প্রাণে               পারিজাতমালা সুগন্ধ হানে॥ ベドナ 私の痛みは、何を囁いているのか   心の奥深く ざわざわと音をたて その痛みは、風のむくまま 流れ流れて 気ぜわしく世界を ゆらす   夜通し 眠れぬまま 君を待つ その楽園の戸口で   君よ、愛しき友―― 打ちひしぐ この命を

タゴールは歌います―

একি পরম ব্যথায় পরান কাঁপায়,   কাঁপন বক্ষে লাগে।      শান্তিসাগরে ঢেউ খেলে যায়, সুন্দর তায় জাগে।           আমার   সব চেতনা সব বেদনা   রচিল এ যে কী আরাধনা-               ত�োমার পায়ে ম�োর সাধনা মরে না যেন লাজে।                    বন্দনা ম�োর ভঙ্গিতে আজ সঙ্গীতে বিরাজে॥ 言葉にならない 哀しみの深みに 魂は震え、胸は高鳴る 穏やかな水面に 白波が立ち、眩い煌きとなる 心を揺する問いかけに、悼みの果てに綴りあげた  この祈りを君の元に 捧げましょう、 まじまじと絶やすことのないように 我が賛歌を 今、たおやかな舞いにのせ  歌いましょう、高らかに

www.batj.org

  パリジャトの 花の香に包む パリジャトの花は、一年中眠っていて、春が来たら真っ先に伝 えようと真っ赤に燃える花を咲かせます。日本ではデイゴの花、 しっかりとした幹に支えられるこの樹を沖縄では喜びを運ぶ花と 呼ばれ、県花でもあります。インドでは、天地創造神話に、神様 と悪魔が不老不死(オムリト)を求め、協力し合って海を掻き混 ぜ世界に様々なものを生み出した際、パリジャトの樹も創造され たと語られています。インドラ神の楽園の花だという謂れもあるよ うですが、日暮れと共に散ってしまうこの花は、オムリトはムリト( 死)の対極にあるのではないことを馨せるかのようです。 タゴールの歌集『ギトビタン』には、この歌は春の歌に分類さ れています。しかし、タゴールにとって、季節も人生も祈りも切り 離せるものではなく、この春の歌では、音、色、匂いといった感 覚を通して、言葉にならないベドナの重みがじんわりと伝わって くるのです。喜びと悲しみの巡りめぐる時の流れの中で、共鳴す る何かがあるのではないでしょうか。言葉でありながら、言葉を超 えた、祈りの中に。 

Durga Puja 2016

31


���������������������������   - পূ র্ণ িমা ঘোষ “যা দেবী সর্বভূ তেষু শক্তিরূপেন সংস্থিতা নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমঃ নমঃ।...” শরৎ এলেই বেজে ওঠে শারদ উৎসবের বাজনা। মেতে ওঠে গ�োটা ভারতবর্ষ শক্তির আরাধনায় যার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছেন যিনি তিনিই স্বয়ং মা দু র্গা; মহাজাগতিক আদি শক্তির আধার। তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণা। জগৎ সংসারে ছ�োট�ো বড়�ো নিৰ্বিশেষে সবাইকে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা করার অঙ্গীকারে তিনি অবিচল। এ ধরাধামে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন বিশেষ প্রয়�োজনে। মহাবিশ্বকে পরাক্রমশালী অশুভ শক্তি মহিষাসু রের কবল থেকে রক্ষা করে শান্তি ফিরিয়ে আনতে; অসত্য অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে। শারদ�োৎসব বস্তুতপক্ষে তাই দু র্গাকে ঘিরেই উৎসব বা দু র্গোৎসব। মহিষাসু রের সঙ্গে লড়াইয়ে মা দু র্গার সাফল্যের উদযাপন। দু র্গোৎসবের জন্যে অবশ্য গ�োড়ায় শরতকালকে বেছে নেওয়া হয় নি; বেছে নেওয়া হয়েছিল বসন্তকালকে। কেন না, শাস্ত্ৰমতে শরতকালই হ�োল দেবল�োকে বিশ্রামের সময় বা ঘুম�োন�োর সময়। ভগবান বিষ্ণু, যাঁর উপরে রয়েছে সারা বিশ্ব সংসারের পালনের দায়িত্ব তিনি নিজেই এ সময় থাকেন বিনিদ্রিত। ত্রেতা যু গে শ্রীরামচন্দ্র রাবণের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় মা দু র্গার আশীর্বাদ লাভের জন্যে এ নিয়ম ভঙ্গ করেছিলেন; সীতা উদ্ধারের জন্যে মা দু র্গার অকালব�োধন করেছিলেন শরতকালে। তাতে মা দু র্গা ম�োটেও অপ্রসন্ন হন নি। সংবেদনশীল মায়ের মন, সন্তানের জন্য দায়িত্ব পালনে তিনি যে সর্বদাই সজাগ। বিশ্রামের সময়েও তাই ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন করুণাময়ী মা। মা দু র্গার আশীর্বাদে ধন্য হয়েছিলেন শ্রীরামচন্দ্র। যথার্থ অর্থে তিনি সদাই প্রসন্নময়ী। তিনি দু র্গতিনাশিনী। ভারতবর্ষে শারদীয় উৎসব হিসাবে মায়ের পুজ�োর আয়�োজন হয় সব রাজ্যে, রামচন্দ্রের নিয়ম ভাঙ্গা নিয়ম মেনে। সাড়ম্বরে আয়�োজন করে মায়ের অকালব�োধনের। তবে স্থান আর পরিবেশের ভিন্নতায় পার্থক্য চ�োখে পড়ে পুজ�োর পদ্ধতিতে ও প্রতিমা বিন্যাসে। যেমন গুজরাতে মায়ের আরাধনা করা হয় সিংহবাহিনী অম্বাবাই রূপে। দক্ষিণ ভারতে মায়ের আরাধনা করা হয়

আয়ূ ধ পুজ�োর ভিতর দিয়ে। আর আমাদের বাংলায় তিনি পূ জিত হন তাঁর ছেলেমেয়েদের সঙ্গে সিংহ বাহিনী মহিষাসু রমর্দিনী দশভুজা মা দু র্গা রূপে। “জাগ�ো, তুমি জাগ�ো, জাগ�ো দু র্গা, জাগ�ো দশ প্রহরণ ধারিণী, অভয়া শক্তি বল প্রদায়িনী, তুমি জাগ�ো। প্রণমি বরদা অজরা অতুলা বহু বল ধারিণী রিপুদল বারিনী জাগ�ো মা। শরণময়ী চন্ডিকা শঙ্করী জাগ�ো ,জাগ�ো মা, জাগ�ো অসু র বিনাশিনী তুমি জাগ�ো। “ বাঙালীর শক্তি আরাধনা অবশ্য এখানেই থেমে থাকে না। বাঙালীর সাবলীল প্রাথর্নায় ও ভক্তির আবেগে মা দু র্গার মনকে নাড়া দেয়। বাঙালীর অনু ভূতিতে তিনি দেবাল�োক থেকে হাজির হন মানু ষের ধরা ছ�োঁয়ার সীমানায়। বাঙালী মনের দু য়ার ঠেলে ঢুকে পড়েন অবলীলায় হৃদয় মাঝে। ঐশ্বর্যশালিনী সর্বজন পূ জ্যা মা দু র্গা হয়ে ওঠেন কাছের মানু ষ, বাঙালী ঘরের আদরের মেয়ে ‘উমা’। তাই বাঙালী হৃদয় গেয়ে ওঠে শারদ প্রাতে “যাও যাও গিরি আনতে গ�ৌরী উমা আমার নাকি কেঁদেছে।.. “ ভক্তি আর ভাল�োবাসায় সিক্ত আগমনী ও বিজয়া গানে অনু রণন জাগে আকাশে আর বাতাসে। ছন্দে ও কথায় মা দু র্গার সাথে চলে সরাসরি ভাব বিনিময়, চলে সংসারের সু খ দু ঃখের গল্প পুজ�োর দিনগুল�োতে। পুজ�ো মণ্ডপে আর মন্দিরে মানু ষের ঢল নামে। মা দু র্গাকে ঘিরে সবার মিলনে বাঙালীর দু র্গোৎসব পরিপূ র্ণ হয় আপন মহিমায়। আমাদের ট�োকিওতেও আমরা এক দিনের দু র্গা পুজ�োয় মেতে ওঠি। আমরাও সমবেত হই বাংলার সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা মেনে দেবীর আরাধনায়। “ওঁ চণ্ডীকে! চল চল চালয় চালয় দু র্গে ! পূ জা আলয়াং প্রবিশ। ---” আমরাও ভক্তি আর শ্রদ্ধার নৈবেদ্য সাজিয়ে অঞ্জলি দিই। প্রাথর্না জানাই। প্রণাম জানাই দু র্গতিনাশিনী স্নেহময়ী মাকে, আমাদের ট�োকিওর শারদ�োৎসবের ভিতর দিয়ে। “ওঁ সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে, শিবে, সর্বার্থসাধিকে। শরণ্যে, ত্র্যম্বকে গ�ৌরী, নারায়ণী নম�োহস্তু তে॥--”

32

Anjali

www.batj.org


মনিপু রী নাচের প্রতি আমার শ

����� ��������� ���������

নিপুর ভারতবর্ষের উত্তরপূ র্বে ব্রহ্মদেশের সীমান্তে অবস্থিত ছ�োট্ট একটি রাজ্য। মনিপুর তার প্রাকৃতিক স�ৌন্দর্য ও সমৃ দ্ধ সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত। মনিপুর বলতে অধিকাংশ ল�োকের নয়নমুগ্ধকর মনিপুরী নৃ ত্য সম্বন্ধে ধারণা আছে, কারণ প্রথম দিকে ভারতবর্ষের চারটি প্রধান নৃ ত্যশৈলীর মধ্যে মনিপুরী ছিল অন্যতম। কিন্তু নৃ ত্য ছাড়াও মনিপুরের তাঁতের কাজ, সেলাই, বাঁশের কাজ, কারুশিল্প, সঙ্গীত, বাদ্যযন্ত্র, মার্শাল আর্ট, এসকল শিল্প ও সংস্কৃতিও অসাধারণ। এখানে নাচকে কেন্দ্র ক’রে মনিপুর সম্পর্কে আমার কিছু অভিজ্ঞতা, অনু ভূতির কিছু কথা বলার চেষ্টা করছি। আমি যেহেতু শান্তিনিকেতনে মানু ষ হয়েছি, ছ�োটবেলা থেকেই স্কুলে নৃ ত্যশিক্ষা শুরু হয়েছে। যেহেতু নাচতে ভালবাসতাম আর সারা বছর নানা অনু ষ্ঠানে ডাক পেতাম, তাই স্কুলের বাইরেও নাচ শেখার সু য�োগ হয়েছিল। স্কুলে পাঠ্যবিষয়ের মধ্যে নিয়মিত নাচ, গানকে রাখা, এটা শান্তিনিকেতনের বৈশিষ্ট্য। কারণ গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখাপড়ার পাশাপাশি নৃ ত্যসঙ্গীত, চিত্রকলা, শিল্পকলাকে সমান গুরুত্ব দিয়েছিলেন। শান্তিনিকেতনে বিদ্যাশ্রম প্রতিষ্ঠার সূ চনা থেকে ছেলেমেয়েদের জন্য একটি পূ র্ণাঙ্গ শিক্ষা ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য ব্যবহারিক লেখাপড়া ও শিক্ষার সাথে সাথে সাংস্কৃতিক চর্চা ও তার অনু শীলনকে আবশ্যিক বলে মনে করেছিলেন। ১৯১৯ সালে গুরুদেব যখন আসামের সিলেটে (বর্তমান বাংলাদেশ) যান, তখন তাঁকে অতিথিরূপে বরণ করার জন্য গ্রামের মেয়েরা মনিপুরী নৃ ত্য পরিবেশন করে। সেই সময় দেখা মনিপুরী নৃ ত্য গুরুদেবের মনে গভীর রেখাপাত করে, এবং তিনি অনু ভব করেন যে মনিপুরী নৃ ত্যকলা আয়ত্ত করতে হলে নিয়মিত ও ধারাবাহিক নৃ ত্য অনু শীলন প্রয়�োজন। গুরুদেব যখন যেটা ভাল লেগেছে তখনই সেটা গ্রহণ করার চেষ্টা করেছেন। তাই শান্তিনিকেতনের ছেলেমেয়েদের নৃ ত্যশিক্ষা দানের জন্য তাঁর ঘনিষ্ট বন্ধু ত্রিপুরার মহারাজের সহায়তায় মনিপুরী নৃ ত্যের গুরুকে আমন্ত্রণ জানান। প্রথমে শরীরচর্চা নামে ছেলেদের মাধ্যমে শিক্ষা শুরু হলেও ক্রমশঃ মেয়েরাও অংশগ্রহণ করে। এইভাবে শান্তিনিকেতনে প্রথম মনিপুরী ধ্রুপদী নৃ ত্যশিক্ষার সূ চনা হয়েছিল। আমার মনে হয়, ১৯১৬ সালে গুরুদেব প্রথম জাপানে এসে জাপানি নৃ ত্যে যে আত্মনিবেদনের ভাব দেখেছিলেন, তারই অনু রূপ আবেগময়তা যেন তিনি ভারতীয় মনিপুরী নৃ ত্যে খুঁজে পেয়েছিলেন। এবারে মনিপুরী নাচ নিয়ে আমার কিছু অভিজ্ঞতার কথা লিখছি। জাপানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ ক’রে আমি যখন আবার শান্তিনিকেতনে ফিরে যাই, আমার মনে নাচ শেখার আগ্রহ জাগে। তখন ২ বছরের সার্টিফিকেট ক�োর্সে মনিপুরী নাচ শেখার সু য�োগ হয়। মনিপুর থেকে আগত নৃ ত্যগুরু মনিপুরী নৃ ত্যের প্রাথমিক স্টেপ থেকে শুরু ক’রে মাথা, হাত, আঙু ল, কব্জি, কাঁধ, পা পর্যন্ত শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিভিন্ন exercise নিখুঁতভাবে শিখিয়েছিলেন। কিছু কিছু ছ�োটবেলায় শেখা জিনিস হলেও, এবারে আমার অনু ভূতি একদম অন্যরকম ছিল। দু ’বছরের মধ্যে আমি মনিপুরী নাচের ভক্ত হয়ে গেলাম। আমার মনে তখন আরও শেখার, মনিপুরী নৃ ত্য-জগতের আরও গভীরে প্রবেশ করার প্রবল ইচ্ছা হ�োল। মনিপুরে সহজে যেতে পারলে আমি হয়ত�ো স�োজা মনিপুরেই চলে যেতাম, কিন্তু তখন বিদেশী পাসপ�োর্টধারীদের মনিপুরের মত সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে প্রবেশ করা নিষেধ ছিল। ICCR ও আমাকে বাধা দিল�ো। আমি শান্তিনিকেতনেই ধারাবাহিকভাবে শিখতে লাগলাম। ইতিমধ্যে বাবা বিশ্বভারতীর জাপানি বিভাগ থেকে অবসর নেওয়ার ঠিক পরে মনিপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমন্ত্রণ পান জাপানি ভাষা পড়াবার জন্য। প্রথমে বাবা একা গিয়েছিলেন। মা’ও কয়েকবার সঙ্গ দিয়েছেন। আবার মনিপুরী নাচ শিখতে শুরু করায় আমিও না গিয়ে থাকতে পারলাম না। আমার পক্ষে এই সু য�োগটা ঈশ্বর-দত্ত আশীর্বাদের মত ছিল। প্রত্যেক বছরই নানান কাগজপত্র জমা দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে মনিপুর রাজ্যে প্রবেশের অনু মতি পাওয়াটা অনিশ্চিত ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার ছিল। কিন্তু বাবা মনিপুরে পড়াতে যেতে আনন্দ পেতেন আর আমিও আমার পক্ষে তীর্থস্থান মনিপুরে যাওয়ার জন্য সব সময় মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম।

www.batj.org

সকালে বাবার ক্লাশে সাহায্য করতাম, আর দু পুরে খাওয়া-দাওয়ার পরে যেতাম আমার নাচের ক্লাশে। মনিপুরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেষ্টহাউসে থাকতাম। মনিপুর বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানী ইম্ফল থেকে প্রায় ৮ কিল�োমিটার দূ রে কাঞ্চিপুর নামে এক ঐতিহাসিক স্থানে অবস্থিত। সেখানে এক সময় রাজপ্রাসাদ ছিল। তাই এখনও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে কিছু ভগ্নাবশেষ দেখা যায়। তার চারদিকে ধানক্ষেত। মনিপুরের নৈসর্গিক স�ৌন্দর্য দেখে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু বলেছিলেন, মনিপুর হ�োল ভারতবর্ষের সু ইজারল্যান্ড। বাবা নিজের অনু ভূতি থেকে বলেছিলেন যে মনিপুর হ�োল দ্বিতীয় জাপান। ল�োকজনের চেহারা থেকে শুরু ক’রে তাদের আচার আচরণ, ব্যবহার, পাহাড়ে ঘেরা পরিবেশ জলবায়ু , চালের স্বাদ, শাকসব্জি (রান্নার পদ্ধতিটা আলাদা), এসবেরই জাপানের সাথে মিল ছিল। তাই বাবাকে পুর�োন�ো জাপানের কথা মনে করিয়ে দিত। নাচ শিখতে গিয়ে আমাকে যা আকর্ষণ করেছিল সেটা হ�োল সর্বপ্রথমে গুরুকে প্রণাম করার পদ্ধতি। হাঁটু গেঁড়ে বসে, দু হাত সামনে ছড়িয়ে দিয়ে মাথা নত ক’রে প্রণাম করাটা একদম জাপানের মত। জাপানেও ক�োনও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা শিখতে গেলে শিক্ষককে প্রণাম বা শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু করা হয়। তাছাড়া মনিপুরে গুরুদেবের সামনে গুরুকে সম্মান জানিয়ে বসারও নিয়ম আছে। মনিপুরের ল�োকজনের জীবনের সঙ্গে নৃ ত্যগীত ও বাদ্যযন্ত্র জড়িত। সারা বছরের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবগুলিতে যেমন বিবাহ অনু ষ্ঠানে, শ্রাদ্ধানু ষ্ঠানে গান-বাজনা (সংকীর্তন) ও নাচগান হয়ে থাকে। মনিপুরী নৃ ত্যের যে স�ৌন্দর্য তা হ�োল লীলায়িত দেহভঙ্গি, ক�োমল পদক্ষেপ, চাপা মুখের অভিব্যক্তি। সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র ক’রে সেখানে এক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে উঠেছে, যা মনিপুরের একান্ত নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। সেখানে শিল্পী ও দর্শক ভক্তিরসে আপ্লুত হয়ে ধর্মীয় বা আত্মিক ভাবাবেগ উপলব্ধি করেন। মনিপুরে গিয়ে বিশুদ্ধ মনিপুরী নাচ দেখে আমার এই নৃ ত্যশৈলীর প্রতি বিশেষ অনু ভূতি হ�োল যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমার মনে হয়েছে যে এই নাচ ঠিক মঞ্চের উপয�োগী নয়, মন্দির প্রাঙ্গণে দেবদেবীর প্রতি সম্পূর্ণ আত্মনিবেদনের নাচ। মনিপুরে নাচ শিখতে গিয়ে একটাই সমস্যা হয়েছিল, সেটা হ�োল ভাষার সমস্যা। তরুণ বা মাঝবয়সী ল�োকেরা হিন্দী বা ইংরেজী ব�োঝেন, কিন্তু বয়স্ক প্রৌঢ়রা মনিপুরী ভাষা ছাড়া বলেন না। মনিপুরের নিজস্ব লিপি থাকলেও তারা বাংলা লিপিও ব্যবহার করেন, কিন্তু কথ�োপকথনের ভাষা একেবারেই আলাদা। নিজেদের ভাষাকে তারা বলেন ‘মৈতেইল�োন’। মনিপুরের মানু ষ সম্বন্ধে দু এক কথা না বলে পারছি না। মনিপুরের মহিলারা খুব পরিশ্রমী হন। জাপানের মত�োই তারা কাজের ল�োক রাখেন না, ঘরের সমস্ত কাজ নিজেরাই করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নিজের ধানক্ষেতে নিজেই লাঙল চষছেন দেখে আমরা খুবই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। অফিসে যাওয়ার আগে কিছু ক্ষণ মাঠের কাজ করে যাওয়াটা ছিল তাঁর অভ্যেস। আবার এক সময় মনিপুর থেকে একটি মেয়ে শান্তিনিকেতনে এসেছিল জাপানি ভাষা পড়ার উদ্দেশ্যে। প্রথম কয়েকটা দিন সে আমাদের বাড়ীতে উঠেছিল। র�োজ সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই সে ঘর, বারান্দা, উঠ�োন সব ঝাঁট দিত। সেই দেখে বাবা, মা মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, এ একদম পুর�োন�ো জাপানীদের গুণ। মনিপুর থেকে বেশ কয়েকবারই নাচের দল জাপানে অনু ষ্ঠান করতে এসেছেন। তাদের অনু ষ্ঠানের মাধ্যমে ত�ো অবশ্যই, আচার ব্যবহারে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়েও তারা জাপানিদের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এই নম্র স্বভাব যেন তাদের নাচের মধ্যেও ফুটে উঠেছে। আমার মনিপুরে যাওয়া হয়নি কয়েক বছর। এখন আমরা বিদেশীরা সীমিত সময়ের জন্যে হলে কেন্দ্রীয় সরকারের অনু মতি ছাড়াই যেতে পারি, কিন্তু আবার যাওয়ার সু য�োগ কবে যে আসবে জানিনা। মনিপুরের নাচের গুরু, গুরুজন এবং প্রিয় বন্ধুদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানিয়ে আমি এই লেখা শেষ করছি। 

Durga Puja 2016

33


ঘুরে বেড়ানোর গল্   - বিদিশা সেনগু

মার কাজই হচ্ছে ঘুরে বেড়ান�োর খবর দেওয়া। একটাই দেশের খবর নিয়ে ঘুরে বেড়াই নানাদেশে। সবাইকে বলতে হয়, আমার দেশ ভারতে যেও কিন্তু। একটা সময় ছিল দেশের মানু ষকে খবর দিতাম ক�োথায় বেড়াতে যাওয়া যায়, আর তার ফাঁকে নিজেও ঘুরে বেড়াতাম নিজের দেশের ছ�োট বড় জায়গায়। ঘুরে বেড়ান�োর কাজটা মানু ষ অনেক কাল আগে শুরু করেছে, সেই প্রাচীনের তালিকায় তালিকাভুক্ত। পুর�োন�ো জিনিসের খ�োঁজ রাখা, পুর�োন�ো স্মৃতির চর্চা – সবই মানু ষের স্বভাবজাত কাজ। আমার সবচেয়ে ভাল�ো লাগে ফেলে আসা দিনের পরিচিত জনের খ�োঁজ পেলে। বেশ আরাম – এক ঝলকে কত কথা, স্মৃতি ভেসে ওঠে। ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে যে কতরকম ঘটনা ঘটে তার একটা আলাদা ফর্দ করব�ো। আমার স�ৌভাগ্য এই পেশাতে (পর্যটন) থেকে দেখছি, কেবল ঘটনাই ঘটেছে, দু র্ঘটনা ঘটেনি। বাঙ্গালীদের খুব ঘুরে বেড়ান�োর শখ। আমি তখন কলকাতায়, সদ্য ক্লাস ঘর থেকে বেরিয়ে অফিস ঘরে ঢুকেছি। আমারই সাথে আমার থেকে ছ�োট একটা ছেলে চাকরীতে এসেছে, ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে। সব দেখে শুনে তাকে বলেছিলাম – এ’ত�ো মহাবিপদ, এতক্ষণ অফিসে থাকতে হবে, এর মধ্যে ত�ো আমরা দু পুরের শ�ো’তে সিনেমা দেখে নিতে পারি। কলকাতার অফিসটা চ�ৌরঙ্গী পাড়ার মাঝে, জাঁকজমকের অন্ত নেই, নিত্যনতুন কাণ্ড ঘটত�ো। যা হ�োক অফিস ফাঁকি দিয়ে একদিনের জন্যেও সিনেমা দেখার রেকর্ডটা আর করে উঠতে পারিনি। কারণ কলকাতা ও বাঙ্গালীরা কখনও আমাদের একা থাকতে দেয়নি। কলকাতার বর্ষা বা নিম্নচাপের তুফানেও কেউ না কেউ ঘুরতে ঘুরতে এসেছেন –ক�োথায় বেড়াতে যাওয়া যায় খ�োঁজ নিতে। এইভাবে হাসি ঠাট্টা, মজা, উটক�ো ঝামেলা, ছ�োট খাট�ো আপদ–বিপদ নিয়ে সবার আড়ালে স্মৃতির সম্পদ তৈরী হতে লাগল�ো। আমার ঘ�োরার পরিধিও বাড়তে লাগল�ো। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, জীবনে প্রথমবার আমেরিকাতে ঢুকেছিলাম পায়ে হেঁটে। নায়গ্রা দেখছি ওন্টারিওতে (কানাডা) দাঁড়িয়ে। যখন ভাবছি ওপারটায় যাই, ঠিক তখুনি আমার মেয়ের খাবার কথা মনে পড়ল�ো। সে তখন খুবই ছ�োট, তার কথা শুনতেই হল�ো, না হলে বিপদ। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি মেয়ে, বাবা জল না দেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আমাদের একটা পারিবারিক নিয়ম আছে। সেটা হ’ল�ো ঘুরতে যখন বেরিয়েছ�ো, দিনের বেলা বাসে বা ট্রেনে, গাড়িতে ঘুমাতে পারবেনা। দু চ�োখ খুলে দু দিকে তাকিয়ে দেখতে হবে। অবশ্য প্লেনে ঘুমাই, মেয়ে না ঘুমিয়ে সিনেমা দেখে। যা হ’ক ওপার থেকে নায়গ্রা দেখার জন্য পুলিশকে জিজ্ঞেস করলাম এখন বাস ক�োথায় পাব�ো বলু ন ত�ো? জেনে নিলেন পাসপ�োর্ট আছে কিনা। তারপর বললেন এইটুকু ত�ো রাস্তা। ব্রিজটা দিয়ে হেঁটে চলে যান। এইভাবে হেঁটেই ঢুকে পড়লাম আমেরিকায়। বু খারেস্টে গেছি একটা ট্রেড শ�োতে য�োগ দিতে। অফিসের বাইরে ইউর�োপে আমার প্রথম কাজ। গিয়ে দেখি আয়�োজকরা গণ্ডগ�োল পাকিয়েছে এবং ফলে মহা অসু বিধার সৃ ষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে ল�োকসমাগমও শুরু হয়ে গেছে। এদিকে আমি ত�ো মুখ ভার করে বসে আছি। ইণ্ডিয়ার নাম দেখে অনেকেই দ�ৌড়ে দ�ৌড়ে আসছে। এক ভদ্রমহিলা অতি উৎসাহে কিছু বলার চেষ্টা করছেন, অথচ আমার মাথায় কিছু ঢুকছেনা। কিছু ক্ষণ পরে বু ঝলাম – ‘নহন্যতে’র নায়ক মির্চা ইউক্লিডের কথা বলছেন। মৈত্রেয়ী দেবীর লেখা বই। ভদ্রমহিলার কাছ থেকে জানলাম র�োমানিয়াতে মৈত্রেয়ীদেবীর পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার কথা। দেশে ফিরে মির্চা ইউক্লিডও লিখেছিলেন কলকাতার স্মৃতি, অভিজ্ঞতা। যে লেখা কলকাতাকে, বাঙ্গালীকে নিয়ে গেছে র�োমানিয়াতে। ভদ্রমহিলা জানালেন মির্চা ইউক্লিড পরে শিকাগ�ো বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। উনি সেদিন ওখানে আমার মুখের ফ�োলাটা কমাতে পেরেছিলেন। দক্ষিণ আমেরিকাতে ভারতীয় রাজদূ ত শ্রী বিশ্বনাথন কূটনীতিক হিসাবে খুব বিখ্যাত ছিলেন। ওনারই অনু র�োধে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়েতে ভারতীয় পর্যটনের বেশ কিছু অনু ষ্ঠান করা হয়। আমরা তখন নিউইয়র্কে থাকতাম। আমার স্বামীর সাথে আর্জেন্টিনার ভারতীয় দূ তাবাসের খুব ঘনিষ্ঠ য�োগায�োগ ছিল। অফিসের কাজ নিয়ে আমরা দু জনে রওনা দিলাম আর্জেন্টিনার উদ্দেশ্যে। মেয়ের ত�ো প�োয়াবার�ো, বাড়িতে তিনি একাই সর্বেসর্বা। বু য়েনস আইরিসের দূ তাবাস থেকে একটা বিরাট 34

দল রওনা দিল উরুগুয়ের উদ্দেশ্যে। নানারকম সাংস্কৃতিক অনু ষ্ঠানের আয়�োজন। রাতে আমার পাশে বসে এক ভদ্রল�োক খাচ্ছেন। ভারতীয় রান্নার ব্যবস্থা ছিল। আমি ভদ্রল�োককে চিকেন, মাছ খেতে বললাম। শুনে ভদ্রল�োক জানালেন উনি শুদ্ধ থাকতে চান, কারণ ক�োন�ো প্রাণীর অংশ (চিকেন, মাছ ইত্যাদি) নিজের শরীরে নিয়ে প্রাণ ত্যাগ করতে চান না এবং প্রাণীর খাদ্যাংশ শরীরে নিয়ে কবরস্থ হতে চান না। আশাতীত এই উক্তি শুনে আমি ভদ্রল�োককে ভারত ভ্রমণের কথা বললাম। সেখানেও ওনার বাধা, কারণ স্ত্রী ওনাকে ভারতে যেতে দিতে চান না। ভারতে গেলে যদি আর না ফেরেন। এই রকম নির্মল তত্ত্ব, গভীর অনু ভূতির সামনে সযত্নে চাপা দিলাম আমার ফচকে হাসিকে। ঘুরে বেড়ান�োতে আমার ক্লান্তি নেই, কারণ এটা আমার কাজ ও ভাল লাগে। তাই বলে আলসেমিকে অযত্ন করতে পারি না। আলসেমি আমার অতি প্রিয়। এ’হেন ল�োককে গরমের মধ্যে উরুগুয়ে, প্যারাগুয়েতে খালি ফুটবল স্টেডিয়াম দেখিয়েছে। খেলাধু ল�ো আমি ম�োটেই ভালবাসি না। একবার ডাক্তারের অফিসে ‘ফর্ম’এ লিখেছিলাম ‘কেবল হাঁটা’ই আমার একমাত্র ব্যায়াম। যাহ�োক, বু য়েনস আইরিসে ফিরে এলাম। নানারকম কথাবার্তার মাঝে স্থানীয় এক ভদ্রমহিলাকে ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। লক্ষ্য করলাম তথ্য ঠিকঠাক বলছেন ওদের দেশের মহিলা কবি ওকাম্পোর ব্যাপারে। অতি অসু স্থ রবীন্দ্রনাথকে ভিক্টোরিয়া নিজের দায়িত্বে রেখে, সেবা শুশ্রূষা করে সু স্থ করে ত�োলেন। এরপর কবি বিশ্রামের জন্য ওখানে কিছু দিন ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ‘বিজয়া’ নাম দিয়েছিলেন কবি ওকাম্পোকে। তাঁর গানেও তাঁকে রেখেছিলেন, “আমি চিনি গ�ো চিনি ত�োমারে”---গানটি কবি তাঁর বিজয়ার জন্য লেখেন। স্থির হ�োল ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর বাড়ি দেখতে যাব�ো, সাথে যাবেন লু সিলা। যে ক’দিন ওখানে ছিলাম, লু সিলার সাথে খুব বন্ধু ত্ব হয়ে গেছিল�ো। লু সিলার চেষ্টাতেই আমরা রওনা হলাম। শহর থেকে ঘন্টা দু য়েকের রাস্তা। নিঃসন্দেহে অতি সু ন্দর দৃ শ্য। ফাঁকা রাস্তা, গাড়ি দ্রুত এগিয়ে চলেছে, আর আমি আপ্রাণ চেষ্টা করছি স্মৃতির পাতায় সঠিক ভাবে সব কিছু কে ভরে রাখতে। ঘর বাড়ি গাছপালা

Anjali

www.batj.org


ঘুরে বেড়ানোর গল্ দেখতে দেখতে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে গেলাম। অনেকটা জমি সহ বড় বড় গাছপালায় ভরা একটা দ�োতলা বাড়ি। খড়খড়ি দেওয়া কাঠের জানালা। দেখে মনে হ�োল কলকাতার ক�োন�ো বাড়িতে চলে এসেছি। বাড়ির বাইরে থেকেই অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে আছি। বাগানের গাছপালা দেখে মনে হ�োল ছ�োটখাট বটানিকাল গার্ডেন। গাছ মানে বড় বড় বৃ ক্ষ। বাড়িটা এখন মিউজিয়াম। ভিতরে ঢুকেই দেখলাম ইন্দিরা গান্ধীর ছবি, এক ভারতীয় মহিলাও ছবিতে আছেন। অন্যান্য জিনিসের (বই ইত্যাদি) মধ্যে পন্ডিত নেহেরু এবং রবীন্দ্রনাথের ছবিও রাখা ছিল। দ�োতলার খ�োলা বারান্দা থেকে দেখলাম সামনের একটা বাড়িতে কবি (রবীন্দ্রনাথ) থাকতেন। লু সিলাও সাগ্রহে সব ঘুরে ঘুরে দেখল�ো। সাপ্তাহিক ছু টি থাকাতে অন্য ক�োন�ো দর্শক ছিল না। আমি অনেক দূ র থেকে এসেছি শুনে, দেখার সু য�োগ দিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ। কিছু ক্ষণ রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আল�োচনা হ�োল, ওকাম্পোর জীবন সম্পর্কেও কিছু খবর পাওয়া গেল। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ স্প্যানিশ ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথের বিষয়ে একটা বই উপহার দিয়েছিলেন। ফেরার পথে পুর�ো রাস্তাটা ষ�োল আনা লাভের হিসাব করতে করতে চলে এলাম। দিল্লি থেকে আমি ট�োকিওতে বদলী হয়ে আসি। দিল্লিতেও আমরা প্রায় অনেক বছর আছি। তাই “ক�োথায় বাড়ি” এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় আমি সবসময় হ�োঁচট খাই। সেখানে বসেই জানতে পারলাম চিকা তায়রা নামে একজন ভদ্রমহিলা আমাদের ট�োকিও অফিসে কাজ করেন, শান্তিনিকেতনে পড়াশ�োনা করার দরুন বাংলা বলেন। জাপানের সাথে বাংলা, শান্তিনিকেতনের বেশ পুরন�ো য�োগায�োগ। আমার জন্য ভাল�োই হল, পুরন�োকে খ�োঁজার নেশাটা ঝালিয়ে নিতে পারব�ো। প্রথম কাজটা তায়রা সানকে দিয়ে শুরু হল। শান্তিনিকেতনের কজনকে আমরা দু জনেই চিনি তার একটা হিসেব করা গেল। স্কুল পড়ুয়া সেৎসু ছিল পাঠভবনের ছাত্রী। ভারী মিষ্টি মেয়ে, খুব সু ন্দর নাচও করত�ো। ওর বাবা মাকিন�ো সানও (সাইজি মাকিন�ো) জাপানী ভাষা পড়াতেন। আমার বন্ধু রা মাকিন�ো সানের কাছে জাপানী পড়ত�ো। সাইকেল চালিয়ে আশ্রমের মধ্যে ক্লাশ নিতে আসতেন শান্ত, নিরীহ মানু ষটি। এখানে এসে জানলাম উনি হঠাৎ মারা গেছেন ব�োধগয়াতে। সেৎসু কিছু দিন আগে পর্যন্ত হির�োশিমাতে থাকত�ো, এখন থাকে ট�োকিওতে। মাকিন�ো সানের মত�ো মানু ষদের নিরলস প্রচেষ্টা দু ই দেশের মানু ষকে অনেক কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। আমাদের ট�োকিও অফিসে একটা বইতে দেখেছি সস্ত্রীক মাকিন�ো সান পন্ডিত নেহেরুর সাথে দেখা করছেন। ট�োকিও’র ভারতীয় দূ তাবাসে ইউকা ওকুদা সান রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং বাংলা ভাষা শেখান। কি সু ন্দর বাংলা বলেন। দু ঃখ একটাই, এত অল্প সময়ে এরা কি সু ন্দর বাংলা শিখেছে, আমিই জাপানীটা রপ্ত করতে পারিনি। গতবছর একদিন হঠাৎ ‘সেনসেই’ ‘সেনসেই’ করতে করতে তায়রা সান আমার ঘরে ঢুকে পড়ল�ো। কি হ�োল জিজ্ঞেস করতে বলল�ো ‘আপনার টিচার ইয়ামাশিতা সান এসেছেন’। ওঁর কাছে কিছু দিন জাপানী পড়েছিলাম। ছাত্রী জীবনে ভাষার ক্লাস (ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাস) মাঝপথে ছাড়ায় আমি মহা তৎপর ছিলাম। আমার বন্ধুদেরও উৎসাহ দিয়ে ক্লাস ছাড়াতাম। কারণ ছিল পড়াশ�োনার মূ ল বিষয়কে রক্ষা করা। এখানে একটা কথা বলা দরকার, আমাদের সময় অতি অল্প পয়সায় উচ্চ মানের বিদেশী ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল। আজকাল ভাষা শিখতে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় অনেক পয়সা খরচ করতে হয়। যাইহ�োক, প্রায় তিরিশ বছর পর ইয়ামাশিতা সানের (ক�োইচি ইয়ামাশিতা) সাথে দেখা হ�োল। ওনার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আমিই ব�োধহয় একজন যার সাথে তাঁর নিজের দেশে দেখা হ�োল। চেহারার এমন পরিবর্তন কেউ চিনিয়ে না দিলে চিনতেও পারতাম না। জুন মাসের (২০১৬) প্রথম সপ্তাহে নারা থেকে ফিরে নানারকম ঝামেলা নিয়ে অফিসে বসে আছি। সামনে বসে তায়রা সান। হঠাৎ আধ-ভেজান�ো দরজা দিয়ে উঁকি মারতে মারতে এক লম্বা ভদ্রল�োক ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়লেন। ওনাকে দেখেই তায়রা সান বলে উঠল�ো, ‘শান্তিনিকেতনে পড়েছে, বাঁশি বাজাত�ো। ঠিক যেন এনারই অপেক্ষায় ছিল তায়রা সান। যদিও আমি অত্যন্ত ব্যস্ত এবং ঝামেলার মধ্যে ছিলাম, তবু ও বসতে বললাম। যে প্রশ্ন নিয়ে এসেছিলেন তার উত্তরও দিলাম। একজন শিল্পীকে সাথে নিয়ে শান্তিনিকেতনের অনু ষ্ঠানে য�োগ দিতে যাচ্ছেন। কারণ রবীন্দ্রনাথের প্রথমবার জাপান ভ্রমণে আসার শতবর্ষ পালন হচ্ছে। তারপর পুর�োন�ো কথা শুরু হতেই জানা গেল উনি ফিল�োজফিতে (দর্শন শাস্ত্র) এম, এ পড়তেন ওখানে। উনি প্রায়শই সূ র্যাস্তের পর পূ র্বপল্লী গেস্ট হাউজের (শান্তিনিকেতনে) দ�োতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাঁশি বাজাতেন। লম্বা চওড়ায় যতটা জায়গা নিয়ে দাঁড়াতেন, ততটাই বড় বাঁশি প্রাণ খুলে বাজাতেন। যেমন সু র, তেমন ধ্বনি, তেমনি তার রেশ। আশপাশে সব নীরব, উনি

www.batj.org

একা সরব। অতি মন�োরম অভিজ্ঞতা। আমি বললাম, ‘আপনার বাঁশি আমি শুনেছি’। কারণ ওই রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে আমি হস্টেলে ফিরতাম। অনেকক্ষণ কথাবার্তা হ�োল। প্রায় বত্রিশ / তেত্রিশ বছর পর। হির�ো টাইপ চেহারার মানু ষ, হঠাৎ আমার সামনে এলেন প্রায় বু ড়�ো। আমি ত�ো না থাকতে পেরে বলেই ফেললাম, ‘আপনি ত�ো একদম অন্যরকম দেখতে ছিলেন’। হেসে স্বীকার করলেন। মনে পড়ে গেল, বাঁশি শুনতে শুনতে আমি সাইকেল চালাচ্ছি, শান্ত ফাঁকা পরিবেশ, সন্ধ্যে এগিয়ে আসছে। ভদ্রল�োক কখন অফিস ছাড়বেন তার প্রতীক্ষা করতে লাগলাম। আমাদের ট�োকিও অফিসে আমরা তিনজন মহিলা কাজ করি, আর কেউ নেই। ভদ্রল�োক উঠে যাওয়ার সাথে সাথেই শুরু হ�োল তার অনিন্দ্যকান্তি রূপের বর্ণনা। বলেই দিলাম এ’রকম সু ন্দর দেখতে জাপানী আমি খুব কমই দেখেছি অথবা দেখিনি। তায়রা সান স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানিয়ে চলল�ো। যখন দেখেছিলাম তখন আমি হাইস্কুলে পড়ি অথবা সদ্য কলেজে ঢুকেছি। সু তরাং ক�োনও খুঁতই তখন ধর্তব্যের মধ্যে আসেনি। স�ৌন্দর্যের এরকম অবলু প্তি --- এই চর্চাতেই সমাপ্তি ঘটালাম সেই অম্লান স্মৃতির। বেড়ান�ো, পথচলা, সময় --- সবগুল�োর গতি একই --- থামে না কখন�ো। আস্তে আস্তে হলেও আমি নড়ে চড়ে বেড়াচ্ছি। যখন তাইপে-তে (তাইওয়ান) যাই, মনে হয় কতগুল�ো রাস্তা দক্ষিণ কলকাতার মতন। বিশেষ করে ফ্ল্যাটগুল�ো। দক্ষিণ তাইওয়ানে যখন কলাগাছ, ম�োচা, সমস্ত চেনা পরিচিত ফুলের গাছ দেখি, আনন্দে অস্থির হয়ে পড়ি। সবই ত�ো আমার দেশে আছে। কলাগাছে ম�োচা অবশ্য আমি ওকিনাওয়াতেও দেখেছি। এ লেখার খসড়া তৈরি হচ্ছে সিওলে (দক্ষিণ ক�োরিয়া) বসে। তাই মনে হ�োল ক�োরিয়ার খবরও লেখা দরকার। মিনা কাং নামে এক ভদ্রমহিলার খ�োঁজ করলাম। খুব ভাল নাচ করতেন। চিত্রাঙ্গদাতে সু রূপা হয়েছিলেন। এখনও খবর পাওয়া যায়নি। বছর দু য়েক আগে বু সানে এক ক�োরিয়ান ভদ্রল�োক হঠাৎ আমাকে বললেন অয�োধ্যার এক রাজকুমারী আমাদের দেশের রানী হয়েছিলেন। সাল-তারিখের যে গল্প পেশ করলেন, তার বিষয় ও সময় প্রাচীন ইতিহাসের অন্তর্গত। অয�োধ্যার রাজকুমারীর সময়কাল হ�োল ৫৭ – ১৮৮ খ্রীষ্টাব্দ। প্রাচীন ইতিহাসের অনেক সাল তারিখ আনু মানিক হয়, বিশেষ করে সমকালীন সাহিত্য বা প্রত্নতাত্ত্বিক লিপিতে উল্লেখ না থাকলে। অয�োধ্যার রাজকুমারীর ক�োরিয়ার রানী হওয়ার গল্প আমার জানার বাইরে ছিল। তবে এই গল্প ক�োরিয়ানরা অত্যন্ত গভীরভাবে বিশ্বাস করে। রাজকুমারী শ্রীরত্ন প্রায় ১০০ বছরের বেশী সময় ক�োরিয়াতে ছিলেন। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও অয�োধ্যার রাজবংশের নাম জানতে পারিনি। রাজকুমারী অয�োধ্যায় থাকাকালীন স্বপ্ন দেখতেন তার বিয়ে ক�োরিয়াতে হবে। রাজকুমারীর বাবাও স্বপ্নে দেবীর একই রকম আদেশ পান। অতঃপর শ্রীরত্ন ল�োকলস্কর নিয়ে সমুদ্রপথে ক�োরিয়ার বু সানের কাছে উপস্থিত হন। গল্পটা এইটুকু শ�োনার পর আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘ক�োরিয়ার রাজা কেন বিয়ে করেছিলেন’? শুনলাম রাজাও নাকি একই রকম স্বপ্ন দেখতেন। রাজবংশের নাম ‘গায়া’ (বাংলা উচ্চারণে) এবং জায়গার নামও ‘গায়া’। বু সানের কাছে এই জায়গা। রাজকুমারী শ্রীরত্ন বিয়ে করেন রাজা কিম সু র�ো’কে। রাজা কিম সু র�ো’র সময়কাল ৪২ – ১৯৯ খ্রীষ্টাব্দ, নিঃসন্দেহে আনু মানিক সময়। বিয়ের পর রাজকুমারী শ্রীরত্নের নাম হয় হুন হ�োয়াং ওক। এই রাজপরিবার আধ্যাত্মিক বিষয়ে বা কাজে খুবই সচেষ্ট ছিল। এদের ৭টি সন্তান (ছেলে) পরে সন্ন্যাস গ্রহণ করে। এই রাজপরিবারের বংশধররা অনেক গ�োত্রের (ক�োরিয়ান) সৃ ষ্টি করেন। এঁদের উত্তরসূ রী হলেন প্রধানমন্ত্রী কিম জংফিল। ইনি দু বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন (১৯৭১ – ৭৫ এবং ১৯৮২ -২০০০)। রাষ্ট্রপতি কিম দেও জং এই রাজপরিবারের বংশধর। ভারত – ক�োরিয়া’র এই দু ই রাজপরিবারের কাহিনী ধারাবাহিকভাবে ক�োরিয়ান সমাজে স্বীকৃতি পেয়েছে। অয�োধ্যাতেও ইন্দো-ক�োরিয়ান পার্ক আছে। সেখানে ক�োরিয়ান স্মারক স্থল ২৭শে ফেব্রুয়ারী ২০১১ তে তৈরি হয়। এই বিষয়ে ভারতীয় কূটনীতিক শ্রী এন পার্থসারথী বইও লিখেছেন। আমার পরিচিত এক ভদ্রল�োক (মিঃ লি) অয�োধ্যায় এবং উত্তর প্রদেশের ব�ৌদ্ধ ধর্মের সাংস্কৃতিক স্থানে বেড়াতে যান। অয�োধ্যার পুর�োন�ো বাড়ির ছবি তুলে আনেন এবং আমাকে দেখান। ওখানকার স্থানীয় চিহ্ন হচ্ছে বাড়ির সদর দরজার ওপরে দু ’দিক থেকে মাছের ছবি আঁকা। সেই চিহ্ন বু সানের কাছে গায়া’তেও আছে। এত পুর�োন�ো দিনের গল্প সবিশ্বাসে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক�োরিয়াতে স্বীকৃতি পেয়েছে। আর�ো এরকম অনেক গল্প জানা যাবে যদি আমি ঘুরতে থাকি। দেশে ফিরে বিদেশের বন্ধুদের সঙ্গে যখন দেখা সাক্ষাত হয় খুব ভাল লাগে। ঘুরে বেড়ান�ো’র এই গল্পগুল�ো স্মৃতির পাতায় ছাপা হয়ে আছে। 

Durga Puja 2016

35


বাগবাজার   - তপন কুমার রা

বা

ঙ্গালী পৃ থিবীর যে ক�োন প্রান্তেই থাকুক ‘ক�োলকাতা’ শব্দটি শ�োনা মাত্র ওদের কান খাড়া হতে বাধ্য। কলকাতার ইতিহাস নিয়ে পড়তে গেলে আমাদের কাছে জ�োব চারনক, সু তানু টি, গ�োবিন্দপুর, কালীঘাট ইত্যাদি শব্দ অতি পরিচিত। কিন্তু বাগবাজারকে বাদ দিয়ে কলকাতার ক�োন ইতিহাস রচনা একরকম অসম্ভব। বাগবাজার শব্দের উৎস কেউ বলে ক�োন এক সাহেবের বাগানের নাম থেকে, আবার কেউ বা বলে ঐ জায়গায় হুগলী নদীর বাঁক থেকে বাগবাজারের নামকরণ। একথা অবশ্যই মানতে হবে যে দ্বাদশ শতকের আগে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের মত বাগবাজারের ইতিহাসও অনেকটাই অনু মান ভিত্তিক। তবে ষ�োড়শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে বাগবাজারের ইতিহাসের দ্বিতীয় পর্ব ধরা যায়। আকবর বাদশার আমলে সপ্তগ্রাম ছিল একটা বিশাল ব্যবসায়িক কেন্দ্র। কালিদাস বসাক আর মুকুন্দরাম শেঠ সু ত�ো আর কাপড়ের পণ্যদ্রব্য এই বন্দর থেকে ভারতবর্ষ ছাড়াও পৃ থিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাত। বিনিময়ে সপ্তগ্রামে আসত মশলা আর অন্যান্য পণ্য যা স্থলপথে ভারতের অন্যান্য জায়গায় যেত। আনু মানিক ১৫২০-৩০ সাল নাগাদ সরস্বতী নদী মজে যাবার পর নদী পথে ব্যবসা করতে গেলে গঙ্গার আরও দক্ষিণে আসা ছাড়া ক�োন উপায় ছিল না। চারনক প্রথমে কাশিম বাজার তারপর ক্রমান্বয়ে বালাসর, উলু বেড়িয়া, হিজলিতে বসতি স্থাপন করতে ব্যর্থ হলে শেষে সু তানু টি গ্রামে ন�োঙর করতে একরকম বাধ্য হন। এই সময় দিল্লীর বাদশা ওনাকে হুগলীতে কুঠি স্থাপন করতে বললেও উনি কিন্তু বরানগরের দক্ষিণপ্রান্তে সু তানু টি ছাড়তে রাজী হন নি। উনি দেখলেন বেগবতী ভাগীরথী নদী সংলগ্ন জায়গা হওয়ায় ম�োগল আর মারাঠিদের আক্রমণের ম�োকাবিলা করা যেমন সহজ হবে আর নদীপথে বড়বড় জাহাজের ন�োঙর করারও সু বিধে এই জায়গায়। ইস্ট ইন্ডিয়া ক�োম্পানি তখনও পর্যন্ত জমির মালিকানা না পেলেও জমিদারী স্বত্বে প্রজাপালন করে খাজনা আদায়ের অনু মতি পেতে সক্ষম হয়েছিল। চারনক পতিত জমি আর জঙ্গল সাফ করে যে ক�োন ল�োককে বসতি স্থাপন করার অনু মতি দিলে, বরানগর আর হুগলীর অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রচুর মানু ষ এখানে বসতি স্থাপন করতে আসে। ১৬৯০ সাল নাগাদ চারনক জমির মালিকানা পাওয়ার পর আদেশবলে ইচ্ছেমত জমির দখল বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু খেয়াল খুশী মত ঘরবাড়ি তৈরি আর পুকুর কাটার ফলে আর ক�োন পয়ঃপ্রণালী না থাকায় ১৭০৫-০৭ সাল নাগাদ বহু মানু ষের সঙ্গে প্রায় চারশ সাহেবেরও কলেরা মহামারীতে মৃ ত্যু হয়। এর পর জাস্টিস অফ পিস আর করপরেশান স্থাপিত হলেও শহরের স্বাস্থ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। রবার্ট ক্লাইভ তখন বাড়ীর ওপর ট্যাক্স বসাতে বাধ্য হন। দেখতে দেখতে সু তানু টি আর গ�োবিন্দপুর তাদের নিজস্ব সত্তা হারিয়ে কখন যেন বাগবাজারের সঙ্গে মিশে গেল। আর বর্তমান কলকাতার উত্তর ভাগের বাগবাজার অঞ্চলেই নবজাতক কলকাতার নাড়ি কাটা হল। ইংরেজ ছাড়া ফরাসী, ওলন্দাজ এবং অন্যান্য ইউর�োপীয়রাও এর চার ধারে ব্যবসার জন্য বসতি স্থাপন করেছিল। সে হিসেবে ক�োলকাতা তখন থেকেই বহুজাতিক শহরের মর্যাদা পেয়েছিল। ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে এর পর বরানগরের উত্তর�োত্তর বৃ দ্ধি হতে লাগল আর বাগবাজার ক্রমশ নেটিভদের বাসস্থান হয়ে উঠল। ১৭৪২ সাল নাগাদ মারাঠাদের র�োখবার জন্য বাগবাজারের পূ ব দিকে একটা খাল কাটার পরিকল্পনা হয়, যার নাম ছিল মারাঠা ডীচ। শেষ পর্যন্ত অবশ্য এই খাল পুর�োটা কাটার প্রয়�োজন হয়নি। উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি, যতদিন পর্যন্ত ক�োম্পানির রাজত্ব কায়েম ছিল আর অপরদিকে ম�োগল সাম্রাজ্যের দিন ঘনিয়ে এসেছে, ততদিনে কলকাতাও বাগবাজার ছাড়িয়ে নিজেকে আড়ে বহরে শ্যামবাজার হয়ে শিয়ালদা পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছে। এই সময় ক�োলকাতা গঙ্গার পাড় ধরে দক্ষিণে খিদিরপুর পর্যন্ত আর আদি গঙ্গার পাড় ধরে কালীঘাট, ভবানীপুর, আলিপুর ইত্যাদি অঞ্চলে বিস্তার লাভ করল। বিভিন্ন অঞ্চলের মানু ষ যারা এখানে বসতি করল তারা ১৮৫৭ সালে সিপাই বিদ্রোহের শেষে রানীর আদেশনামায় ক�োম্পানির আমল থেকে মুক্তি পেয়ে রানীর নামে জয়ধ্বনি দিয়েছিল। সাহেবরাও নেটিভদের বসবাসের জন্যে বাগবাজার অঞ্চল রেখে দিয়ে নিজেদের বসবাসের জায়গা হিসেবে শহরের দক্ষিণ দিকটা আলাদা ভাবে রেখে দিল। ইংরেজ শাসক এই নতুন উপনিবেশের রাজধানীও এই 36

শহরেই রাখল। শুরু হল বাগবাজারের হাত ধরে কলকাতার জয়যাত্রা আর শুরু হল এক নতুন জাতির উত্থান। কলকাতার আদিবাসী যে কারা সে ব্যাপারে ঐতিহাসিকদের বিভিন্ন মত আছে। তবে আপাত দৃ ষ্টিতে নজর করলে দেখা যাবে যে এই অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানু ষের সঙ্গে পূ ব দিকের ঢাকা চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে পশ্চিমের মানভুম, উত্তরের বরেন্দ্র ভূ মি থেকে দক্ষিনের রাঢ় অঞ্চলের মানু ষেরা ব্যবসা থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিভিন্ন কারণে এখানে বসতি স্থাপন করেছিল। কর আদায়ের সু বিধের জন্য ভারতের অন্যান্য জায়গার মত এখানেও জমিদারী প্রথা চালু হয় আর সেই সু য�োগে অনেক জমিদারেরা সৎ এবং অসৎ উপায়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন। তৈরি হল বড়বড় প্রাসাদ�োপম অট্টালিকা আর তার সঙ্গে অদ্ভুত এক সংস্কৃতি যা বাবু কালচার নামে বিখ্যাত। হুতম প্যাঁচার নক্সা এই সময়কার সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থার সু ন্দর প্রতিবেদন। বাগবাজার অঞ্চলেই এই আবহাওয়ার মাঝে সাহিত্য, শিল্প, সঙ্গীত, চারুকলা, নাট্যচর্চা ইত্যাদির সর্বাঙ্গীণ বিকাশ ঘটে। মানু ষের মধ্যে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার উন্মেষও এই সময়ে হয় বলে ধরে নেওয়া যায়। বিভিন্ন অঞ্চলের মানু ষ এখানে বসতি করল যারা বিভিন্ন ধরণের ভাষা, প�োশাক, সামাজিক আচরণ-বিধিতে অভ্যস্ত ছিল। বাগবাজার হয়ে উঠল এক বিরাট পাত্রের মত যাতে নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান মিলে মিশে একটা নতুন সমাজের জন্ম দিল। বাগবাজারে জন্ম হল নতুন এক বাংলা ভাষা যা পূ বের চাটগাঁইয়া বাংলাও নয় আবার পশ্চিমের মানভুমের ভাষাও নয়। জন্ম হ�োল চলিত ভাষার, কলকাতার বাংলা ভাষা যার উপর নির্ভর করে রইল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ভবিষ্যৎ। এরকম সময়ে বঙ্কিম আর মাইকেল যখন সংস্কৃত ঘেঁষা সাধু বাংলায় লিখে নতুন সাহিত্য সৃ ষ্টিতে মগ্ন, তখন জ�োড়াসাঁক�োর ঠাকুর বাড়ি আর শিমলে পাড়ার কায়স্থ পরিবারে রবি ঠাকুর আর বিলে নরেনের জন্ম বাংলা তথা ভারতের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটা উল্লেখয�োগ্য ঘটনা। বাগবাজার থেকে পাট আর চুনের বড়বড় ব্যবসা ক্রমশ উত্তরে বরানগরের দিকে আর পূ বে বেলেঘাটা অঞ্চলে সরে যেতে থাকলে বাগবাজার হয়ে উঠল বাঙ্গালী মধ্যবিত্তের বাসস্থান। ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, নাটক, শিল্প, রাজনীতি ইত্যাদির কেন্দ্রস্থল হিসেবে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র বাগবাজার হয়ে উঠল সারা ভারতের সংস্কৃতি চর্চার রাজধানী। নটগুরু গিরীশ ঘ�োষ, দানিবাবু , নটসূ র্য অহীন চ�ৌধু রী, অমৃ তলাল ব�োস, ধর্মদাস শূ র, অর্ধেন্দু শেখর মুস্তাফি সেসময় কলকাতার বিভিন্ন রঙ্গমঞ্চে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। কলকাতার মঞ্চে তখন শেক্সপিয়ার অভিনীত হচ্ছে। এক কথায় ক�োলকাতা তখন লন্ডন অপেরাকে টেক্কা দিচ্ছে। সে সময় বাগবাজারের নেটিভদের মধ্যে আচার-সর্বস্ব হিন্দু ধর্মের প্রতি একরকম অনীহা দেখা দিলে বহু মানু ষ নিরাকার ঈশ্বর পূ জারী খ্রিস্টান আর ব্রাহ্ম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ধর্মান্তরিত হচ্ছিল। সাহেবরাও সেই সময় স্কুল-গির্জা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করেছিল যাতে প্রচুর শিক্ষিত বাঙ্গালী আকৃষ্ট হয়। সেই সময়ে বরানগরের কাছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে এক নিরক্ষর বামুন রামকৃষ্ণ পরমহংস, বঙ্গসমাজকে হিন্দু ধর্মের এক নতুন দিশা দেখালেন। স্থানীয় মানু ষও ব্রাহ্মণ্য আচারসর্বস্ব হিন্দু ধর্মের বাইরে এক নতুন জগতের সন্ধান পেয়ে আত্মগরিমা ফিরে পেল। আর সেই সঙ্গে শুরু হল এক নতুন জাতীয়তা ব�োধের উন্মেষ। বাগবাজারের ধনী সম্প্রদায়ের তৈরি বিশালাকার প্রাসাদ�োপম অট্টালিকাগুল�োর ইতিহাস পর্যাল�োচনা করলেও সে সময়কার বাগবাজারের অনেক ইতিহাস জানা যায়। এই সব অট্টালিকার শিল্পকলা পৃ থিবীর নানা প্রান্ত থেকে আনা হয়েছিল। সে জন্য কলকাতাকে এক সময় বলা হত প্রাসাদ নগরী। শ�োভাবাজারের দেবেদের, পাথু রেঘাটার ঘ�োষেদের, বা জ�োড়াসাঁক�োর ঠাকুরদের বাড়ীর কথা আমরা জানি। ১৮৭৮ সালে বাগবাজারের ব�োস পরিবারের প্রাসাদ নির্মাণ হয়েছিল বাঙ্গালীদের মধ্যে প্রথম ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা নীলমণি মিত্রের তত্বাবধানে। ১৮৯৭ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি শিকাগ�ো ফেরত স্বামীজিকে এই বাড়ীর একতলায় সম্বর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। ধনী সম্প্রদায় ছাড়াও সাধারণ মানু ষ, যেমন ফরিদপুরের কানু রগাঁও

Anjali

www.batj.org


বাগবাজার জ�োড়াসাঁক�ো ঠাকুর বাড়ী

গ্রামের বিখ্যাত ভট্টাচার্য বংশের দু র্গাচরণ স্মৃতিতীর্থ নিজের গ্রাম পদ্মার গর্ভে বিলীন হলে তিন ভাইকে সঙ্গে নিয়ে উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বর্তমান ১২/১ বাগবাজার স্ট্রীটের বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। বিক্রমপুরের সেনহাটির বর্ধিষ্ণু পরিবারের বঙ্গ সেন পাটের ব্যবসায় প্রচুর অর্থ উপার্জন করে ৭২/১ বাগবাজার স্ট্রীটের তিনতলা বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন যেখানে বাগবাজারের বিখ্যাত আড্ডা বসত। পরবর্তী কালে যু গান্তর গ�োষ্ঠী এই বাড়ীতেই তাদের অফিস স্থানান্তর করেন। এর পর উল্লেখ করতে হয় ৮নং বিশ্বক�োষ লেনের বাড়ীটার কথা। ১৯১৫ সালের ১৭ই মার্চ কাঁটাপুকুর বাইলেন থেকে রাস্তার এই নতুন নামকরণ হয়। পৃ থিবীর ইতিহাসে ক�োন বইয়ের নামে রাস্তার নামকরণ এর আগে হয়েছে বলে শ�োনা যায় না। নগেন্দ্র নাথ বসু (১৮৬৬-১৯৩৮) এই বাড়িতে বসে দীর্ঘ সাতাশ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রথম ক�োন ভারতীয় ভাষা বাংলায় বিশ্বক�োষ রচনা করেছিলেন। আরেক বিখ্যাত বাঙ্গালী দীনেশ চন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) নগেন বাবু র লাগ�োয়া সাত নম্বর বাড়িতে বাস করতেন। ওনার আদি বাড়ি ঢাকার সু য়াপুর গ্রামে। কবি সমর সেন বিশ্বক�োষ লেনের ইতিহাস লিখতে গিয়ে ওনার পিতা অরুণ সেন এবং পিতামহ দীনেশ চন্দ্রের কথা লিখেছেন। ওনার দাদামশায় ছিলেন জগদীশনাথ রায় যাকে বঙ্কিম বাবু বিষবৃ ক্ষ উপন্যাসটি উৎসর্গ করেছিলেন। রাজা রাজবল্লভ স্ট্রীট যার নামে, তিনি ছিলেন মহারাজ দু র্লভরামের পুত্র। উনি মীরজাফরের প্রধান সচিব হিসেবে কাজ করার সময় মীরজাফর ওনাকে হত্যার চক্রান্ত করেন আর তা জানতে পেরে উনি বাগবাজারে ইংরেজদের আশ্রয়ে চলে আসেন (১৭৫৮)। এর অদূ রেই আনন্দ চ্যাটারজী লেনে দু টি পাশাপাশি দ�োতলা বাড়িতে থাকতেন রাঙামাটির দেশের দু ই দিকপাল তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় আর যামিনী রায়। একটির রঙ হলু দ আরেকটি লাল। ১৮/১১ রাজবল্লভ স্ট্রীটের বাড়িটিতে বাস করতেন উদয়শঙ্করের দলের সঙ্গীত পরিচালক এবং উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতকার গ�োকুল চন্দ্র নাগ। ১৫/৪ বাড়িটি সাক্ষী হয়ে আছে বিদ্রোহী কবি নজরুলের দু ঃখময় অশ্রুসজল সময়ের। বাগবাজারের রাস্তার নামকরণ থেকেও সেসময়কার ইতিহাস খানিকটা আন্দাজ করা যায়। বাগবাজার আর�ো অনেক কারণে বিখ্যাত। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত দু টি বিখ্যাত সংবাদপত্র অমৃ তবাজার/যু গান্তর এবং আনন্দবাজারের জন্মস্থান হল এই বাগবাজারে। অমৃ তবাজার প্রতিষ্ঠা করেন শিশিরকান্তি ঘ�োষ। যু গান্তর এবং আনন্দবাজারের প্রতিষ্ঠাতা যথাক্রমে তুষার কান্তি ঘ�োষ আর সু রেশ চন্দ্র মজুমদার সংবাদ প্রকাশনা ছাড়াও সাহিত্য সৃ ষ্টিতে উল্লেখয�োগ্য ভূ মিকা পালন করেছিলেন। বাগবাজারের তিন গ�োপাল, ক্ষীর�োদগ�োপাল, যাদু গ�োপাল আর ধনগ�োপালকে এক সময় বলা হত বাগবাজারের থ্রি মাস্কেটিয়ার্স। বিপ্লবী ক্ষীর�োদ গ�োপালকে নিয়েই শরতচন্দ্রের পথের দাবীর অমর চরিত্র সব্যসাচী। রেঙ্গুনে অস্ত্র সংগ্রহ করার সময় শরত বাবু র সঙ্গে ওনার পরিচয়। ধনগ�োপাল লিখলেন “ফেস অফ সাইলেন্স” যার মুখ্য চরিত্র হলেন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস। বইটি পড়ে রম্যা রলা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে ওনাকে চিঠি লিখেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের জীবনী রচনা করেন। যাদু গ�োপাল ছিলেন ডাক্তার কিন্তু বিপ্লবীদের প্রত্যক্ষ সাহায্য করায় সাহেবদের কু’নজরে পড়েন। গ�োবিন্দ রাম মিত্র, রামনিধি গুপ্ত (নিধু বাবু ), ভ�োলা ময়রা, শৈলজানন্দ মুখ�োপাধ্যায়, বিধায়ক www.batj.org

ভট্টাচার্য, গ�ৌরিনাথ শাস্ত্রী, ভক্তিবেদান্ত প্রভুপাদ (অভয় চরণ দে), ম�োহিত কুমার মৈত্র ইত্যাদি কয়েকজনের নাম উল্লেখয�োগ্য। বাগবাজারের উপর কবিতা লিখেছেন ঈশ্বর দত্ত, ভ�োলা ময়রা, শরতচন্দ্র পণ্ডিত (দাদাঠাকুর), হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র, অমিয় চক্রবর্তী, জীবনানন্দ দাস, সু নির্মল বসু , রূপচাঁদ দাস মহাপাত্র (পক্ষী), আনন্দ বাগচি এবং আরও অনেকে। বা গ বা জ ারে র রসগ�োল্লার আগে আরেকটি ব্যাপারে না বললে অবিচার করা হবে। বাগবাজারের নেশার জগতে এমন একটা বৈশিষ্ট্য ছিল যা অন্য ক�োথাও দেখা যায় নি। নেশার রকমফেরে নেশার আড্ডার অবস্থানও পালটাত। এই ছড়াটি তার প্রমাণ দেবে। বাগবাজারে গাঁজার আড্ডা গুলির ক�োননগরে বটতলায় মদের আড্ডা, চণ্ডুর বউবাজারে। এর সঙ্গে আরেকটি ছড়ার উল্লেখ না করলেই নয়, এক ছিলিমে যেমন তেমন, দু ই ছিলিমে প্রজা, তিন ছিলিমে উজির নাজীর, চার ছিলিমে রাজা। নেশাভাঙ্গের সৃ ষ্টিকর্তা শিবচন্দ্র ঠাকুর তৈরি করেছিলেন পক্ষীর দল। এরা মদের নেশা পরিত্যাজ্য মনে করতেন। গাঁজা ইত্যাদি সেবন করে পাখির মত ব্যবহার করতেন। একবার এক বখে যাওয়া ছেলেকে তার বাবা উদ্ধার করতে এলে দেখেন ছেলেটি নেশা করে দাঁড়ের মত কি একটা জায়গায় বসে। কাছাকাছি আসতেই ছেলেটি বাপের হাতে কাঠঠ�োকরার মত ঠু করে দেয়। এই দলটি নেশা ভাঙের মধ্যে প্রচুর গান আর কবিতা সৃ ষ্টি করেছিল যা আজও সাহিত্যের ছাত্রদের গবেষণার বিষয়। এর শেষ ব্যাটনটি এসে পড়ে এক উড়িয়া ব্রাহ্মণ রূপচাঁদ দাস মহাপাত্রের হাতে। ইনি রূপচাঁদ পক্ষী হিসেবে আজও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বর্তমান। এই সময়ের সমাচার দর্পণের কয়েকটি খবরের নমুনা থেকে তদানীন্তন বাগবাজারের দরিদ্র শ্রেণীর অবস্থার খানিকটা পরিচয় পাওয়া যায়। “২০শে অক্টোবর ১৮৩৭ সালে প্রকাশিত শ্রীযু ক্ত বাবু আশুত�োষ দেব অতি সমার�োহে মাতৃ শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করিয়াছেন ......... দু ই তিনদিনের পথ হইতেও অনেক ভিক্ষুক আসিয়াছিল। স্ত্রী-পুরুষ-বালক সাধারণ ন্যূনাধিক ২ লক্ষ ল�োক সমাগম হইয়াছিল”। পরের বছর ১৮৩৮ সালের ৩১শে মার্চ তারিখের সমাচারে ..”শ্রীযু ক্ত বাবু দ্বারকা নাথ ঠাকুরের মাতার ল�োকান্তর হয়। এইক্ষণে শুনা গেল, বাবু অতিসমৃ দ্ধিপূর্বক মাতৃশ্রাদ্ধ সম্পন্ন করিয়াছেন। গত শুক্রবারে বহু সংখ্যক কাঙ্গালীদিগকে ভ�োজন করাইয়াছেন। তাহাতে প্রত্যেক ব্রাহ্মণকে আট আনা এবং অন্যান্য শূ দ্র ও ম�োসলমান ইত্যাদি কাঙ্গালীদের চার আনা করিয়া দিয়াছেন। এই সকল ল�োক ব্যবসায়ে কাঙ্গালী নহে। কিন্তু অতি দরিদ্র, মজুরী করিয়া দিনপাত করে। যদ্যাপি প�োলিশের দ্বারা শহরের সীমাতে ক�োন প্রতিবন্ধক না হইত তবে ব�োধকরি লক্ষের অধিক ভিক্ষুক উপস্থিত হইত”। কলকাতায় বস্তি গড়ে ওঠার পিছনে তদানীন্তন বাগবাজারের বাবু দের যে গুরুত্বপূ র্ণ অবদান ছিল তা আমরা প্রায় ভুলতে বসলেও ইতিহাস তা ভ�োলেনি। বাবু কালচারের উচ্ছিষ্ট ফলের অন্যতম ফলটি হল কলকাতায় অগণিত ভিখারি সমাবেশ ও তাদের স্থায়ী বসবাস। বাগবাজারের আরেকটি অবদান হল খেলাধু ল�োয় বাঙ্গালীদের অংশগ্রহণ। পাড়ায় পাড়ায় জিমনাসিয়াম আর ব্যায়ামাগার ছাড়াও ধনী মানু ষদের অট্টালিকার বাগানে ফুটবল খেলা একসময় খুবই জনপ্রিয় হয়ে

Durga Puja 2016

37


বাগবাজার

ওঠে। ‘খেলা’ শব্দের সঙ্গে ‘ধু ল�ো’ শব্দটি কি এই ভাবে জড়িয়ে গেল? প্রখ্যাত পাট ব্যবসায়ী প্রিয়নাথ মিত্র, রাধাকান্ত দেবেদের উত্তরসু রিদের থেকে ১ নং ফড়িয়াপুকুর স্ট্রীটের সম্পত্তি কিনে নিয়ে সাহেবদের অনু করণে বিশাল এক প্রাসাদ তৈরি করেন আর তার নামকরণ করেন ‘ম�োহনবাগান ভিলা’। পিছনের বাগানে ছেলেরা ফুটবল খেলা শুরু করে যা পরবর্তী কালে ১৮৮৯ সালে একটা ক্লাবের রূপ পায় আর ক্লাবের নামকরণ হয় বাড়িটির নামে। প্রিয় মিত্র ছিলেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃ ষ্ঠপ�োষক। আরেক পৃ ষ্ঠপ�োষক ছিলেন ব্যারিস্টার এইচ ডি ব�োস (হরিদাস ব�োস)। ব্যবসায়ে ল�োকসানের দরুন প্রিয়নাথ মাত্র দেড় লক্ষ টাকায় এই প্রাসাদ�োপম বাড়িটি ভুপেন্দ্রনাথ ও নিমাই ব�োসকে বিক্রি করেন। এনারাই পরবর্তী সময়ে ম�োহনবাগান ক্লাবকে এগিয়ে নিয়ে যান। এ প্রসঙ্গে আরেকজনের নাম উল্লেখ করতেই হয়। ভুপেন্দ্রম�োহন সেনগুপ্ত যিনি পাখী সেন নামে বেশি পরিচিত ছিলেন। পূ ব বাংলার ঢাকা থেকে বাগবাজারের রামকান্ত ব�োস স্ট্রীটের একটা বাড়িতে বাসা বেঁধে ছিলেন। য�ৌবনে ইস্টবেঙ্গল ও ই বি রেলে খেলতেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ঢাকার উয়াড়ী দলকে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত করেন। বাগবাজারের আরেকজন বাসিন্দা অজয় ব�োস চল্লিশ-পঞ্চাশ দশকের নামকরা ফুটবলার ও ক্রিকেট খেল�োয়াড়। ১৯৫৭ সালে আকাশবাণীর ফুটবলের বাংলা ধারাবিবরণী ওনার এবং পুষ্পেন সরকারের হাত ধরে শুরু হয়। বাগবাজার নামটির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে আরেকটি জিনিষের নাম “রসগ�োল্লা”। আর এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৬৪ নং আপার চিতপুর র�োডের বাসভবনের মালিক নবীনচন্দ্র দাসের নাম। এঁর পিতামহ মধু সূদন দাস অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে বর্ধমানের আদিবাড়ী ছেড়ে সু তানু টিতে চিনির ব্যবসা শুরু করেন। এই সময় খান্দসারি নামে এক রকমের লাল চিনি হত যাকে পরিশুদ্ধ করে সু স্বাদু সাদা চিনির দানা তৈরি করা হত চিনির কলে। চলতি কথায় এই লাল চিনিকে বলা হত কাশির চিনি। নবীনের পিতামহ এই চিনি রপ্তানি করতেন। ওনার বাসভবন আর চিনির গুদাম ছিল কাশি মিত্তির ঘাটে। নবীনের জন্ম হয় ওনার পিতার অকাল মৃ ত্যুর

38

তিন মাস পরে ১৮৪৬ সালে। ততদিনে ব্যবসায়ে মন্দা হওয়ায় বাড়ি ও গুদাম বিক্রি করে চিতপুর র�োডের বাড়িতে চলে আসেন আর শুরু করেন নানা রকম মিষ্টির দ�োকান ছ�োট্ট একটি খড়ের চালের ঘরে যেখানে আজ এক বিশাল অট্টালিকা শ�োভা পায়। চিনির ব্যবসা ছেড়ে মিষ্টির দ�োকান করায় আত্মীয়স্বজনেরা ওনাকে খ�োঁটা দিয়ে নবীন ময়রা বলা শুরু করেন। আত্মীয়দের খ�োঁটার জবাবে পরে উনি শাস্ত্র ইত্যাদি ঘেঁটে প্রমাণ করেন যে এককালে মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারীরা সমাজে উচ্চস্থান অধিকার করত। পরে উনি এই মর্মে একটি পুস্তিকাও প্রকাশ করেন। উনি নিজে বিবাহ করেন ময়রা পরিবারের কন্যাকে যিনি ছিলেন প্রখ্যাত কবিয়াল ভ�োলা ময়রার কনিষ্ঠ পুত্র মাধবচন্দ্রের কন্যা ক্ষীর�োদমণি। নবীনচন্দ্র ১৮৬৮ সালে রসগ�োল্লা প্রথম বাজারে আনেন। অবশ্য একদল ঐতিহাসিক বলেন উড়িষ্যার পুরী জেলায় নাকি রসগ�োল্লা আগেই তৈরি হত জগন্নাথ দেবের ভ�োগ/প্রসাদ হিসেবে। সেকালের একটি প্রচলিত ছড়া ছিল বাগবাজারের নবীন দাস রসগ�োল্লার কলম্বাস।। নবীন চন্দ্রের একমাত্র পুত্র কৃষ্ণ চন্দ্র দাস (১৮৭০-১৯৩৫) প্রথম জীবনে বাড়িতে বসে হ�োমিওপ্যাথি চর্চা করলেও পিতৃবিয়�োগের পরে কনিষ্ঠ পুত্র সারদাচরন কে নিয়ে জ�োড়াসাঁক�োর চিতপুরে কৃষ্ণ চন্দ্র দাস কনফেকশানারস শুরু করেন। পরে ধর্মতলায় কে সি দাস কনফেকশানারস প্রতিষ্ঠা করেন যা আজ পর্যন্ত ডালহ�ৌসি পাড়ার অফিসের বাবু দের এখনও টিফিন খাইয়ে চলেছে। ময়রার ব্যবসা ছাড়াও নবীন চন্দ্রের সঙ্গীত চর্চা নিয়ে সে সময় অনেক কথা শ�োনা যেত। পিয়ান�ো আর চেল�ো বাজানর দক্ষতার জন্য সাহেবদের অনেক কনসার্ট ওনাকে বিভিন্ন আসরে নিয়ে যেত। উনি অবশ্য কখনই এটিকে পেশা হিসেবে নেন নি। উনবিংশ শতাব্দীর গ�োড়ায় বাগবাজারের যাত্রা শুরু হয়েছিল কলকাতার জন্মলগ্নে। বাগবাজারে জন্মেছিলেন পৃ থিবী বিখ্যাত বহু মানু ষ যারা বাঙ্গালীকে আজও গর্বিত করে। কি করে জানিনা আধু নিক কলকাতার মানু ষেরা বাগবাজারকে ঘটিদের জায়গা বলে চিহ্নিত করে। নীরদ সি লিখেছেন উনবিংশ শতাব্দীর গ�োড়ায় করপরেশানের পাইপের জল আসত না আর পাতকুয়�ো ছিল একমাত্র জলের উৎস। বাড়ীর মেয়েরা ভারী বালতি তুলতে পারত না বলে জল ত�োলার জন্য ঘটি ব্যবহার করত। দড়ির বাঁধন আলগা হওয়ার দরুন মাঝেমাঝেই কুয়�োতে ঘটি ডুবে যেত আর প্রতি রবিবার সকালে ঘটি তুলি বলে একদল ল�োক লাঠিস�োটা নিয়ে হাঁক পাড়ত। এখানকার অপেক্ষাকৃত পুরন�ো বাসিন্দারা যখন পূ ব বাংলার মানু ষদের বাঙাল বলে হেয় করা শুরু করল তার উত্তরে বাঙালরা এদের ঘটি সম্বোধন করতে লাগল। কিন্তু ইতিহাস বলে যে এখানে সারা বাংলার মানু ষই ঘাঁটি গেঁড়ে ছিল সেই চারনকের আমল থেকে। বাগবাজারের ইতিহাস আর ঐতিহ্য এদের সবাইকে বাদ দিয়ে কি করে হয় জানি না। কলেজ স্ট্রীটের ফুটপাথ দিয়ে উত্তর দিকে হাঁটতে গেলে রাস্তার দু ’ধারে এখনও অনেক প্রাসাদ�োপম অট্টালিকা নজরে পড়বে যা বাগবাজার আর কলকাতার ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর শ্যামবাজারের পাঁচমাথার ম�োড়ের বাঁ দিকে চলে গেছে বাগবাজার স্ট্রীট। সন্ধ্যের মুখে রাস্তার দু ’ধারে ছ�োটছ�োট তেলেভাজার আর মিষ্টির দ�োকান ঘিরে নানান রকমের আড্ডা আর গুলতানি নজরে আসে। গায়ে গায়ে লাগান�ো ছাদের শ্যাওলা ধরা পাঁচিলের দু প্রান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে এখনও কি ভাবের আদান প্রদান হয়? প্রয়াত অভিনেত্রী কেয়া চক্রবর্তী বাগবাজার সম্বন্ধে খুব সু ন্দর একটা কথা বলেছিলেন। “আমি যদিও বাগবাজারের বাসিন্দা নই কিন্তু নাটকের জন্য আমাকে এই অঞ্চলে দিনের অনেকটা সময়ই কাটাতে হত। গণেশ যেমন মায়ের চারপাশে ঘুরে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড জেনে ছিল সেই রকম বাগবাজারের চারপাশ ঘুরলেই ক�োলকাতা শহরটা জানা হয়ে যায়। ” 

Anjali

www.batj.org


অনুচ্চার

  - অরুণ গ

ঞ্জয় কৃষ্ণার প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে যে মেয়েটাকে দেখে জিৎ চন্দ্রাহত হ�োল তার নাম মানালী। সঞ্জয় ও তার স্ত্রী কৃষ্ণা জিৎএর অন্তরঙ্গ বন্ধু । তাই বিনা সংক�োচেই কৃষ্ণার কাছে গিয়ে মেয়েটার নাম জানার ইচ্ছা প্রকাশ করতেই কৃষ্ণা চ�োখ মটকে বলল, ‘তাহলে আমার বন্ধু মানালীর দিকে নজর পড়েছে’। জিৎ এবার অনেকটা অভিয�োগের সু রে বলে, ‘এতদিন আমার কাছ থেকে লু কিয়ে রেখেছিলে কেন’? ‘ওরে বাবা, কি সাঙ্ঘাতিক ল�োক তুমি। এ্যাই শুনছ�ো’? কৃষ্ণা চেঁচিয়ে সঞ্জয়ের দৃ ষ্টি আকর্ষণ করে। সঞ্জয় কাছে আসতেই বলে, ‘শুনছ�ো জিৎএর কথা ? ও অভিয�োগ করছে, মানালীকে আমরা ওর কাছ থেকে কেন এতদিন লু কিয়ে রেখেছি’। ‘কারণটা বল�োনি যে ত�োমার বন্ধু প্রেমে হাবু ডুবু না খেলেও, অ্যাডভান্সড লার্নিং ক�োর্স করছে’, সঞ্জয় বলে। জিৎ একটুও দমে না গিয়ে জানতে চায়, ‘কে সেই ভাগ্যবান ল�োক, জানতে পারি কি’? সঞ্জয় উত্তর দেওয়ার আগেই উত্তর দেয় কৃষ্ণা। ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই জানতে পার। ভাগ্যবান সেই ব্যক্তির নাম ডঃ শতদ্রু সান্যাল’। কৃষ্ণার কাছ থেকে উত্তরটা পেয়ে জিৎ বিধান দিল, ‘তাহলে ত�োমার বন্ধু র লাইফ হেল। কারণ জানই ত�ো ডাক্তারদের ফ্যামিলি লাইফ বলে কিছু থাকেনা। কে বলতে পারে বিয়ের কয়েক দিন পরেই আইনজীবির সাহায্য নিতে হতে পারে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য’। ‘বালাই ষাট, আমার বন্ধু র সেই অবস্থা হবে কেন ? হ্যাঁ, শতদ্রু নিঃসন্দেহে খুব ব্যস্ত ডাক্তার। হসপিটাল ও নিজের চেম্বার নিয়ে সারা সপ্তাহ প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকে। কিন্তু মিথ্যে বলব না, তার মধ্যেও মাসে একবার মানালীর সাথে ডে স্পেন্ড করার চেষ্টা করে। এই ত�ো সেদিন মানালীর জন্মদিনে ওকে ম�োকাম্বোতে ডিনার খাওয়াল�ো’। কৃষ্ণা থামতেই জিৎ ঠ�োঁট উল্টে বলে, ‘প্রেমের সূ চনাতে এসব দেখান�োটাই রীতি, কিন্তু বিয়ের পরে বিশেষ করে একজন ডাক্তারের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধলে শবরীর প্রতীক্ষা ছাড়া মেয়েদের আর কিছু ই জ�োটেনা’। ওর কথার প্রতিবাদ করে কৃষ্ণা বলে, ‘কপালে যাই থাকুক, আমার বন্ধু র সমস্ত মন প্রাণ জুড়ে এখন শুধু শতদ্রু শতদ্রু। সেখানে অন্য কার�োর ঠাঁই হবে না’। তাচ্ছিল্যের সু রে জিৎ বলে, ‘দেখাই যাক শেষ হাসিটা কে হাসে’। এই নিয়ে ওদের মধ্যে বেশ কিছু ক্ষণ ঠাট্টা ইয়ার্কি চলে। এক ফাঁকে কখন যে মানালী কৃষ্ণার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, জিৎ খেয়াল করেনি। খেয়াল হতেই সে স্বাভাবিক ভাবে একটু লজ্জা পেয়ে গেল। কি জানি ওদের কথাবার্তা মানালী শুনতে পেল কিনা। পেলে ওর সম্পর্কে কি ধারণা হ�োল। কিন্তু কৃষ্ণা বরাবরই ক্রু কেড। জিৎকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলার জন্য মানালীকে বলে, ‘মানালী, জানিস ত�ো আমাদের এই জিৎ ব�োস ত�োর বায়�োডাটা চাইছিল। আমরা অবশ্য সঙ্গে সঙ্গে বলে দিয়েছি এ স্বাদের ভাগ হবেনা। আমাদের বন্ধু আগাগ�োড়া মেডিকাল কেয়ারে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে’। কৃষ্ণার বলার ঢঙে মানালীর মুখে হাসি ছড়িয়ে পড়ে। হাসতে হাসতেই বলে, ‘বলেছিস ভালই করেছিস। তবে ফ্রেন্ডশিপ করতে দ�োষটা ক�োথায়। কি বলেন আপনি’? বলে জিৎএর দিকে প্রশ্নটা ছু ঁড়ে দেয় মানালী। অন্য যে ক�োন�ো ছেলে হলে একটু অপ্রস্তুত হয়ে যেত, মুখ দিয়ে বাক্যি বের�োত�ো না। কিন্তু জিৎ বরাবরই একস্ট্রা স্মার্ট। বিন্দুমাত্র ঘাবড়ে না গিয়ে বলে, ‘আই অ্যাম ওভারহ�োয়েলমড। নাউ উই আর ফ্রেন্ডস্‌’। নিজের ম�োবাইল নাম্বারটা মানালীকে দেয়, ‘কাইন্ডলি সেভ করে রাখবেন। মাঝে মাঝে আপনার কাছ থেকে ফ�োন আশা করব�ো, অ্যান্ড উই উইল স্পেন্ড অ্যা ক�োয়ালিটি টাইম’। কৃষ্ণা গ�োল গ�োল চ�োখ করে ওদের দু জনের দিকে তাকিয়ে থাকে। মানালী চ�োখের ভাষা দিয়ে বু ঝিয়ে দেয় যে জিৎকে তার প্রথম দর্শনেই ভাল লেগেছে। অনু ষ্ঠান শেষ হওয়ার পর মানালীকে সঙ্গে নিয়ে জিৎ বেরিয়ে এসে নিজের গাড়ির দরজা খুলে অনু র�োধ করে উঠতে। মানালীর বাড়ির দীর্ঘ পথটা ওরা গল্পে মশগুল হয়ে রইল। মেয়েটা যে শুধু দেখতে সু ন্দর তাই নয়, ওর বু দ্ধিদীপ্ত কথাবার্তাও জিৎএর মন স্পর্শ করে। এত সহজ ও সাবলীল যে না মিশলে ব�োঝাই যেত না। মানালীকে ওর বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ফিরে আসার সময় মনে হ�োল এতক্ষণ সে স্বপ্নের জগতে বিচরণ করছিল। সেদিন অনেক রাত হয় জিৎএর বাড়ি ফিরতে। বিছানায় শুয়ে ঘুম www.batj.org

আসছিল না। না আসারই কথা। বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। বসন্তের ফুরফুরে হাওয়া মুখে এসে ঝাপটা মারে। একটা সিগারেট ধরিয়ে আজকের সু খস্মৃতি র�োমন্থন করতে লাগল। এতদিন ধরে যে নারীর ছবি সে মনের ক্যানভাসে এঁকেছে, মানালী বু ঝি সেই নারী। সে যেন তার জন্যেই পৃ থিবীতে জন্মেছে। কিন্তু অদৃ ষ্টের কি নিষ্ঠুর পরিহাস, যাও বা মনের মতন নারীর সন্ধান মিলল, তাও সে নারী বাঁধা পড়ে আছে এক ব্যস্ত ডাক্তারের হৃদয়ে। জিৎএর ভাগ্যের সঙ্গে এই নিষ্ঠুর খেলা কেন ? এই ত�ো এবার অফিসে তার সিনিয়র ভিপি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রদ্‌ হয়ে গেল বসের খামখেয়ালীর জন্য। জিৎএর মতে বসের স্টাবর্ন অ্যাটিটুডই এর জন্য মূ লত দায়ী। ওর সহকর্মী এবং বলতে গেলে অন্তরঙ্গ বন্ধু অনির্বাণ ওকে পরামর্শ দেয় আর�ো বেশি ডিপ্লোম্যাটিক হতে, অফিসে কাজ করতে গেলে যেটা অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু জিৎ ভীষণ একর�োখা। কার�োর অন্যায় আচরণ সে সহ্য করতে পারেনা। মানালীর কথাটা ভাবতে ভাবতে ভাবনাটা অন্য দিকে ম�োড় নিচ্ছে দেখে ঘরে ফিরে এসে বিছানায় গা এলিয়ে দেয় এবং ঘুম আসার আগ পর্যন্ত মানালীর কথা ভাবতে থাকে। মনে মনে অদেখা অচেনা ডঃ শতদ্রুকে প্রচন্ড ঈর্ষা করতে আরম্ভ করে। মানালীর মতন একজন সু ন্দরী ও স্মার্ট মেয়ে যদি ওর জীবনসঙ্গিনী হ�োত তাহলে নিশ্চিতভাবে ওর জীবনের ছন্দই পাল্টে যেত। এসব ভাবতে ভাবতে চ�োখে ঘুম নেমে আসে। সেইদিন মানালীর সঙ্গে সাক্ষাত হওয়ার পর থেকেই জিৎ তার মনকে অনু শাসন করতে পারছে না। অফিসের কাজকর্ম সব পন্ড হবার য�োগাড়। অনির্বাণের চ�োখে ওর বন্ধু র অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে যায়। জিৎকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে প্রথম প্রথম এড়িয়ে গেলেও, পীড়াপীড়ি করতে সব কবু ল করে। অনির্বাণ যু ক্তি দিয়ে ওকে ব�োঝান�োর চেষ্টা করে যা পাওয়ার নয় সেই মায়াবী হরিণের পিছনে ধাওয়া করার অর্থ কী ? কিন্তু জিৎএর অবু ঝ মন কিছু তেই মানতে চায় না। তার দৃ ঢ় বিশ্বাস মানালী ও সে মেইড ফর ইচ আদার। মাঝখানে শতদ্রু যেন একজন ইন্ট্রুডার। মানালীর মন জয় করার শক্তি তার আছে। তর্কের খাতিরে তার মধ্যে যদি ক�োনও খামতি থাকেও, সেটা পূ রণ করতে সে পিছপা হবেনা। শতদ্রু প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার হতে পারে, কিন্তু সেই বা কম কিসে ? মাল্টিন্যাশনাল কম্পানিতে ভাল প�োস্টে আছে। বয়স কম হওয়ার সু বাদে চাকরীতে উন্নতি করবার সু য�োগও রয়েছে। তাছাড়া হাবেভাবে মনে হয়েছে মানালীরও তাকে অপছন্দ হয়নি। সেদিন অফিসে জিৎএর একগাদা কাজ ছিল। মনে একরাশ বিরক্তি নিয়ে কাজগুল�ো কমপ্লিট করার চেষ্টা করছিল। এমন সময় ম�োবাইলটা বেজে ওঠে। কানে দিয়ে ‘হ্যাল�ো’ বলতেই ভেসে এল নারীকন্ঠ, ‘আমি মানালী বলছি। অফিস টাইমে ফ�োন করে আপনাকে বিরক্ত করলাম না ত�ো’? ‘নট অ্যাট অল’, জিৎ জবাব দেয়। ‘আপনি কি আজ সাতটার সময় গড়িয়াহাটের আনন্দমেলার সামনে আসতে পারবেন’? জানতে চায় মানালী। মানালী তার সঙ্গে দেখা করতে চাইছে, এর থেকে আনন্দের আর কি হতে পারে। সারা শরীরে শিহরণ খেলে গেল। কিন্তু অনেক কষ্টে মনে উচ্ছ্বাস চেপে বলে, ‘ক�োনও বিশেষ ব্যাপার’? ‘টেলিফ�োনেই বলব ? সাক্ষাতে বললে হয় না’? জানতে চায় মানালী। জিৎ লজ্জা পেয়ে বলে, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ, তা হবে না কেন? চিন্তা করবেন না, আমি যথাসময়ে পৌঁছে যাব’। মানালীর সঙ্গে কথা শেষ করে জিৎ অনু ভব করে সে আর নিজের মধ্যে নেই। প্রথম চাকরী পাওয়ার দিন যেমন মনে আনন্দের ঢেউ খেলে গিয়েছিল, তেমনি আনন্দ সে আজ আবার অনু ভব করল মানালীর সঙ্গে দেখা হওয়ার সম্ভাবনায়। অন্য দিনের তুলনায় সেদিন একটু আগে বেরিয়ে গাড়ি চালিয়ে সে গড়িয়াহাটে এসে পৌঁছায়। আনন্দমেলার সামনে গিয়ে দেখে মানালী ওর আগেই পৌঁছে গেছে। পরণে দামী কাতান শাড়ী, ম্যাচিং ব্লাউজ, একটা স�োনার লকেট। চুল খুলেই এসেছে। মানালীর দিক থেকে চ�োখ ফেরান�ো সম্ভব হচ্ছিল না। তাই দেখে মানালী একটু লজ্জা পেয়ে হেসে বলে, ‘কি হ�োল, শুধু দেখবেন, না ক�োনও রেস্টু রান্টে গিয়ে বসবেন’। ‘আই অ্যাম সরি। চলু ন ক�োথাও বসি’। জিৎ মানালীকে নিয়ে স�োজা চলে আসে ক্রিস্টাল চপস্টিক রেস্টু রান্টে। ‘বলু ন হঠাৎ তলব কেন’? মানালী মৃ দু হেসে বলে, ‘বাব্বা, তর সইছে না দেখছি। বলছি সব কথা। আগে একটু গলা ভেজাতে দিন’। জিৎ লজ্জা পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বয়টাকে ডেকে দু ট�ো সু ইট লাইম স�োডার অর্ডার দিল। কিছু ক্ষণের মধ্যে সেটা এসে যায়। মানালী তাতে দু চুমুক দিয়ে জিৎএর দিকে তাকিয়ে বলে, ‘একটা ব্যাপারে আপনার সাহায্য চাই’।

Durga Puja 2016

39


অনু চ্চার ‘সাহায্য ? আমার ? বলু ন কি সাহায্য করতে পারি’? জিৎ অবাক হয়ে জানতে চায়। মানালী কি বলবে ব�োধহয় আগে থেকে ঠিক করে এসেছিল। তাই বলতে সময় নিল না। ‘আপনাকে একবার আমার সঙ্গে ফ�োর্ট উইলিয়ামে যেতে হবে’। ‘ফ�োর্ট উইলিয়ামে কেন’? জিৎ অবাক হয়ে জানতে চায়। মানালী মুখটা নামিয়ে বলে, ‘আপনাকে বলার সু য�োগ হয় নি। আমার দাদা ইন্ডিয়ান আর্মিতে ছিল। বছর দু ই আগে সীমান্ত এলাকায় জঙ্গীদের গুলিতে প্রাণ হারায়। মা’র পেনশন চালু হয়েছে, কিন্তু হিসেবে কিছু গরমিল হওয়ায় পেনশনের টাকা বাড়ান�োর জন্য আমরা ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। ওরা আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়েছে। ওদের অফিস থেকে ডেকে পাঠিয়েছে। আপনি সঙ্গে থাকলে একটু ভরসা পাই। তাই বলছিলাম যদি আপনি আমার সঙ্গে যান, খুব উপকৃত হব’। জিৎ মনস্থির করতে বেশি সময় নিলনা। ‘বলু ন কবে যেতে চান? বাই দি বাই, আপনার দাদার নাম কি’? ‘স�ৌম্য সেন’, মানালী উত্তর দেয়। কথামত�ো শুক্রবার জিৎ মানালীকে সঙ্গে নিয়ে ফ�োর্ট উইলিয়ামে গেল। অফিসার খুবই ভদ্র ও মার্জিত। চমৎকার কথাবার্তা। বললেন, “আমরা আপনার আবেদনপত্রটি দেখেছি। হ্যাঁ সত্যি, আমাদের হিসেবে কিছু ভুল বেরিয়েছে। অ্যাকাউন্টস্‌ ডিপার্টমেন্টকে নির্দ্দেশ দিয়েছি। খুব তাড়াতাড়ি রিভাইজড পেনশন আপনার মার নামে পাঠান�োর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাইন্ডলি বিয়ার উইথ আস্‌, উই আর রিয়ালি স্যরি ফর দ্যা ইনকনভিনিয়েন্স”। কথাবার্তা শেষ হওয়ার পর ওরা উঠে আসছিল। হঠাৎ অফিসার ভদ্রল�োক জিৎ এর দিকে তাকিয়ে মানালীকে ফিসফিস করে কি একটা বললেন, জিৎ ঠিক শুনতে পায় না। তারপর আবার স্বাভাবিক গলায় বললেন, ‘এনিওয়ে রেস্ট অ্যাসিওরড কাজটা হয়ে যাবে’। ফ�োর্ট উইলিয়াম থেকে বেরিয়ে এসে ওরা দু জন গাড়িতে উঠে বসে। সারাটা পথ ওদের দু জনের মধ্যে তেমন ক�োনও কথা হয়না। মানালী একবার শুধু বলে, ‘আপনি থাকাতে আমার কাজটা খুব সহজে হয়ে গেল। মেনি থ্যাংকস্‌’। জিৎ উত্তরে শুধু ‘ন�ো মেনশন’ বলে চুপ ক’রে থাকে। মানালীকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ফিরে আসে। মানালীর জন্য কাজটা করতে পেরে ওর ভাল�োই লেগেছে, কিন্তু কি একটা অজানা অনু ভূতির চাপে একটু ক্লান্ত ব�োধ করে। নৈরাশ্যের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা সে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে, এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। পরের দিন সকাল থেকেই আবার সব চলতে থাকে রুটিনমাফিক। তারই মধ্যে প্রতিদিনই ইচ্ছে হয় মানালীর সাথে একটু কথা বলার, কিন্তু কাজের চাপে নিজে থেকে আর ফ�োন করা হয়ে ওঠে না। সপ্তাহখানেক যেতে না যেতেই মানালীর ফ�োন এল�ো জিৎএর কাছে। এবার ওদের বাড়িতে যাওয়ার নিমন্ত্রণ। ‘আপনার ক�োনও আপত্তি শুনব�ো না। আপনার সঙ্গে মার আলাপ করিয়ে দেব। সামনের রবিবার সন্ধ্যেবেলায় আমাদের বাড়িতে আসু ন, আসতেই হবে কিন্তু। কথা দিন আসবেন’। মানালীর অনু র�োধে জিৎ একবাক্যে রাজী হয়ে যায়। মনে মনে ভাবে মানালীর বাড়ী ঘুরে আসার পর কথাটা হাল্কা করে নিজের বাবাকে জানিয়ে রাখবে। ছ�োটবেলা থেকে বাবা ওকে পূ র্ণ স্বাধীনতা দিয়ে বড় করেছেন, তাই বাবার সাথে ও অনেক কথাই বলতে পারে।

40

পরের রবিবার সন্ধ্যের আগেই জিৎ পৌঁছে গেল মানালীদের সল্টলেকের বাড়ি। সু ন্দর, ছিমছাম বাড়ী। আসবাবপত্র এবং তার বিন্যাসেও বেশ উন্নত রুচির পরিচয় স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে। হঠাৎ মনে হল বাবামাও এখানে এলে খুশি হবেন। অল্প কথাবার্তার পর ডাক পড়ল�ো খাওয়া দাওয়ার। এলাহি আয়�োজন। মানালীর মা সামনে বসে থেকে খাওয়ার তদারকি করেন। গল্পগুজব করতে করতে জিৎ লক্ষ্য করে মানালীর মা থেকে থেকেই শাড়ীর আঁচল দিয়ে চ�োখ মুছছেন। মানালীও সেটা লক্ষ্য করে মাকে মৃ দু ধমক দিয়ে বলল, ‘কি হচ্ছে মা ? উনি আমাদের বাড়িতে প্রথম এলেন। ক�োথায় গল্প করবে তা না খালি চ�োখের জল ফেলছ’। মা লজ্জা পেয়ে চ�োখ মুছে বললেন, ‘কেন জানিনা ওকে দেখে খ�োকার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। দেখেছিস মানা, ওর চেহারার সঙ্গে খ�োকার চেহারার কত মিল’? মানালী ক�োনও উত্তর দেয়না। ভদ্রমহিলা জিৎকে বললেন, ‘সময় সু য�োগ পেলে আবার এস�ো বাবা, আমাদের খুব ভাল লাগবে’। জিৎ ঘাড়টা নেড়ে ওদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে, কিন্তু মুহূর্তের জন্য আনমনা হয়ে যায়। সেদিনের সেই অজানা অনু ভূতিটাকে যেন দেখা গেল মনের জানালার বাইরে আবার উঁকি মারতে। ধীর পায়ে গাড়ির দিকে এগ�োতে থাকে, সঙ্গে মানালী। অন্ধকারে মানালীর মুখটা ভাল�ো করে দেখতে পাচ্ছে না, তবু মনে হল ও কিছু একটা বলতে চায়। কিছু একটা শ�োনার প্রতীক্ষা জিৎ এরই বা কি কম? মানালীর দিকে তাকিয়ে জিৎ প্রশ্ন করে ‘কিছু বলবে?’ নিজের অজান্তেই ‘আপনি’ থেকে পৌঁছে গেছে ‘তুমিতে’। একটু বাধবাধ গলায় উত্তর আসে, ‘যেদিন কৃষ্ণাদের বাড়িতে আপনাকে প্রথম দেখেছি, সেদিন আমি চমকে উঠেছিলাম। আপনার চেহারার সাথে আমার দাদার চেহারার অদ্ভুত সাদৃ শ্য রয়েছে। আমার দাদার কথাত�ো আপনি সব শুনেছেন। ভাই-ব�োনে খুব ভাব ছিল আমাদের। ছ�োটবেলায় বাবাকে হারিয়েছি, সেই অভাব সর্বদাই দাদা মেটান�োর চেষ্টা করতেন। জানেন দাদা আমাকে বলতেন, বাবা নেই ত�ো কি হয়েছে, ত�োর সম্প্রদান আমিই করব�ো’। বলতে বলতে গলা ধরে আসে মানালীর। জিৎ-এর চ�োখে মুখে ফুটে ওঠে সমবেদনার অভিব্যক্তি। কয়েক মুহূর্তের নিস্তব্ধতার পর আবার শুরু করে মানালী, ‘শতদ্রুর সাথে আমার বিয়ের দিন স্থির হয়ে গিয়েছে। আমার খুব ইচ্ছা, আপনি যদি আমার সম্প্রদানটা করেন। আমার মনে হবে দাদাই যেন শুভ কাজটা করছে। মার ইচ্ছাও তাই। প্রথম দিন থেকেই আমি আপনার মধ্যে আমার দাদাকে খুঁজে পেয়েছিলাম। কিন্তু আপনাকে সে কথাটা কি করে বলব�ো বু ঝে উঠতে পারি নি’। কথাটা শুনে মুহূর্তের জন্য জিৎএর চ�োখের সামনেটা সম্পূর্ণ অন্ধকার হয়ে যায়। দু ঃখ, ক্ষোভ, হতাশা ও অভিমানের এক মিশ্রিত তরঙ্গ বয়ে যায় মনে। জিৎএর মুখ থেকে ক�োন�ো কথা বের�োয় না। অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে সামলে নেয় জিৎ। আগের অনু ভূতিগুল�ো বদলে গিয়ে কর্তব্যব�োধ উঁকি মারে মনে। জিৎ মানালীর হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে। খানিকক্ষণ মুখ নিচু করে তারপর মুখ তুলে তাকায় মানালীর চ�োখে। চ�োখের ভাষায় বু ঝিয়ে দেয়, কাজটা সে করবে। থাক না গ�োপন চিরদিনের জন্য তার অনু চ্চারিত ভাল�োবাসা। অন্ধকারেও সে লক্ষ্য করে, মানালীর চ�োখ দিয়ে দু ফ�োঁটা জল গড়িয়ে পড়ল�ো, আড়াল করার চেষ্টা করল�ো না মানালী।।

Anjali

www.batj.org


রঙ-বেরঙ ����� ��������������

ছ�ো

টবেলায় ছবি আঁকতে বেশ লাগত�ো। আর�ো বেশি ভাল�ো লাগত�ো তাতে রঙ লাগাতে। রঙ-পেন্সিল আর প্যাস্টেল দিয়ে শুরু করলেও পরে জল-রঙই হয়ে উঠেছিল বেশি প্রিয়। আর ছিল রঙবেরঙের মার্বেল-পেপার। কাঁচি দিয়ে কেটে গঁদের আঠা দিয়ে ড্রয়িং-খাতায় সাঁটলেই তা হয়ে যেত ফুল, লতা, পাতা, হরিণ, খরগ�োস এবং আরও কত কি! এই ভাল�ো লাগার শুরুটা ঠিক কবে বা ক�োথায়, তা জানি না। তবে এই প্রসঙ্গে যা মনে পড়ে তা হ�োল ক�োলকাতায় গ�োলপার্কের ‘শিশু কল্যাণ’ কিন্ডারগার্টেনে পড়াকালীন কিছু বিক্ষিপ্ত-বিচ্ছিন্ন ঘটনা। খুবই ‘বিচ্ছু ’ ছিলাম নার্সারি, কে.জি.বি. বা কে.জি.সি.-তে পড়াকালীন। অপেক্ষাকৃত কমবয়সী মিতা-আন্টি, শিপ্রা-আন্টি, শীলা-আন্টি বা হিমানি-আন্টিরা হিমসিম খেতেন আমায় সামলাতে। তাই প্রায়ই ডাক পড়ত মনি-আন্টির, যাকে নাকি সকলেই ভয় পায়! আমি দেখলাম এ আর এমন কি? শুধু কিছু পাকা চুল, কেমন যেন র�োগা মত�ো আর বু ড়ি মত�ো; একটু খিটখিটে, এই যা (তাঁর নাকিসু রের খ্যানখ্যানে গলার আওয়াজটা আজও আমার কানে বাজে)! সু তরাং তিনিও কুপ�োকাৎ! মা যখন স্কুলফেরত আমাকে আর দাদাকে নিতে আসতেন তখন প্রায়ই আমার নামে ক�োন না ক�োন নালিশ লেগেই থাকত টিচারদের কাছ থেকে; মাকে অনেক সময়ই চ�োখের জল ফেলতে দেখেছি এই নিয়ে, স্কুল ফেরত বালিগঞ্জ গার্ডেন্সের রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে। মা বলতেন, “কেন, দাদার মত হতে পার না? কই, ওর জন্য ত�ো আমায় ক�োনও কথা শুনতে হয় না”। কিন্তু কে কার কথা শ�োনে? আমার ‘রাম-রাজত্ব’ চলতেই থাকল�ো। একদিন ক�োন একজন টিচার বললেন যে “ক্লাসরুমে একে ঢিট করা যাবে না, ওকে নিচে অফিসে পাঠাও”। ঐটাই ছিল শেষ সম্বল – এক-তলায় হেড-মিস্ট্রেস অঞ্জলি-আন্টির “অফিস”! তাই হ�োল। কে যেন আমায় তিন-তলার ক্লাসরুম থেকে হিড়হিড় করে টানতে টানতে নিয়ে এলেন এক-তলার ‘অফিসে’। দেখি সেখানে প্রায় আমারই সমান উঁচু প্রকাণ্ড এক টেবিলের উল্টোদিকে বসে আছেন তিনি সেই অঞ্জলি-আন্টি। পাশেই কয়েকটা বিশাল বিশাল চেয়ার, আর দেওয়াল বরাবর সারি সারি বিশাল বিশাল কাঁচের আলমারিতে এইয়া ম�োটকা ম�োটকা সব বই - পরিবেশটা কেমন যেন থমথমে! এই ক�োঁকড়া-চুল ভদ্রমহিলাকে আমি আগেও দু -একবার দেখেছি; হাতা-কাটা ব্লাউজ, টিপসিঁদুর বা চুড়ি-বালার বালাই নেই। শুনেছি ইনি নাকি শুধু ই ইংরিজিতে কথা বলেন আর শুধু বড়দের ক্লাসেই পড়ান; মানে দাদাদের কে.জি.সি.-তে। সাথের টিচারটি বেশ খানিকক্ষণ ধরে অঞ্জলি-আন্টির কাছে আমার ‘সু খ্যাতি’ করে আমার রিপ�োর্ট-কার্ডগুল�ো ওনার ঐ প্রকাণ্ড টেবিলটার ওপর জমা রেখে চলে গেলেন। যাবার পথে আমার দিকে একবার ফিরে তাকালেন; ভাবখানা এমন যে – দেখ এবার কেমন মজা! অঞ্জলি-আন্টিকে দেখে তেমন কিছু ই মনে হ�োল না, কিন্তু ‘অফিসটাকেও’ আমার ঠিক পছন্দ হ�োল না, পাশে এমন কেউই নেই যার সাথে খেলা (খুনসু টি) করা যেতে পারে। উনি ওনার ডান হাতের তর্জনী উঁচিয়ে “come” বলে আমায় ওনার কাছে ডাকলেন, আর তারপর কাছের বিশাল চেয়ারটা দেখিয়ে বললেন “sit”। ক্লাসের সব টিচারই ত�ো ইংরিজিতে কথা বলেন, কিন্তু অঞ্জলিআন্টির ‘বাঁজখাই গলার ঐ ভারিক্কি ইংরিজিটা’ শুনে কেমন যেন একটু ভয় করল�ো। বসা ত�ো নয়, নিজের ছ�োট্ট পিছনটা ক�োন রকমে ঠেকিয়ে ঐ বিশাল চেয়ারটার গহ্বরে আত্মসমর্পণ করলাম। চারদিক নিস্তব্ধ, শুধু ‘অফিসের’ সিলিং ফ্যানটার আওয়াজ শ�োনা যাচ্ছে ‘টিক-টিক-টিক-টিক’ করে; আর তিন-তলা থেকে মৃ দু ভাবে ভেসে আসছে শীলা-আন্টি আর মিতা-আন্টিদের গলার আওয়াজ – “চল ক�োদাল চালাই, ভুলে মানের বালাই, ছেড়ে অলস মেজাজ, হবে শরীর ঝালাই” বা “আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে, নইলে ম�োদের রাজার সনে মিলব�ো কী স্বত্বে, আমরা সবাই রাজা”। অঞ্জলি-আন্টি বেশ খানিকক্ষণ ধরে আমার রিপ�োর্ট-কার্ডগুল�ো উল্টে-পাল্টে দেখলেন। তারপর বললেন “কই, সবত�ো ঠিকই আছে দেখছি, ত�োমার ত�ো সবই গ�োল্ড-কার্ড”! যত দূ র মনে পড়ে, ক্লাসে সবচেয়ে বেশি ‘পয়েন্টস’ পেলে তবেই পাওয়া যেত ঐ ‘গ�োল্ড-কার্ড’; তারপর ‘সিলভার’, ‘ব্রোঞ্জ’ আর একেবারেই ক�োন পড়া না পারলে জুটত�ো ‘গ্রে’-কার্ড। আমি যে সব ক্লাসেই গ�োল্ড-কার্ড পাই তা আমার বেশ ভালমত�োই জানা ছিল, তাই মনে মনে বললাম – তাহলে আমাকে এই ‘অফিসে’ শুধু শুধু আটকে রেখেছেন কেন? উনি জিজ্ঞেস www.batj.org

করলেন “তুমি অন্যের মার্বেল-পেপার, প্যাস্টেল-কালার এইসব নাও কেন? এইসব ত�োমার চাই?” আমি বললাম “হ্যাঁ”। তারপর উনি জিজ্ঞেস করলেন “তুমি ছবি আঁকতে খুব ভাল�োবাস�ো, তাই না”? আমি চুপ করেই থাকলাম; ভাবলাম ধু র ছাই, ছবি আঁকতে ভালবাসি কি না তা ছাতারমাথা আমি কি ক�োরে জানব�ো? ইচ্ছা হয়, তাই আঁকি – ব্যাস। তারপর উনি বললেন “তুমি ‘জল-ছবি’ কি তা জান”? আমি তখন�ো চুপ, উনি যে ঠিক কি বলছেন সেটাই বু ঝতে পারলাম না। উনি বললেন যে “হ্যাঁ, জল দিয়েও ছবি আঁকা যায়, তা তুমি জান?” আমি ভাবলাম যে এ আবার কেমন কথা - পেন্সিল নেই, রবার নেই; শুধু ই জল? কিন্তু কিছু বলতে সাহস হ�োল না তাই চুপ করেই বসে থাকলাম। তারপর উনি বললেন “দাঁড়াও, ত�োমাকে কিছু মজার জিনিস দেখাই”। বলে উনি পাশের একটা কাঁচের আলমারি থেকে কি সব বার করলেন। তারপর তা দেখিয়ে বললেন “এগুল�োকে বলে ‘ব্রাশ’, ‘পেইন্টব্রাশ’”! আমি মনে মনে ‘টুথ-ব্রাশের’ সাথে এই ব্রাশগুল�োর একটা তুলনা টানার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু এ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা যাবে ব�োলে ত�ো মনে হ�োল না! অঞ্জলি-আন্টি বলে চললেন “এই ‘ব্রাশ’ জলে ডুবিয়েই রঙ করা যায়”। আমার ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিল না, জলের আবার রঙ হয় নাকি? উনি ব�োধহয় আমার মুখ দেখে তা ধরতে পারলেন, বললেন “ত�োমাকে আরও একটা মজার জিনিস দেখাই”। বলে ঐ আলমারি থেকেই বার করলেন একটা বাক্স, আর দেখালেন তার ভেতরের নানান রঙ। ব�োঝালেন যে কি করে সেই রঙ জলে মিশিয়ে ‘জল-ছবি’ বানান�ো যায়। বললেন যে “আমি এগুল�ো লন্ডন থেকে কিনে এনেছি, লন্ডন ক�োথায় তা তুমি জান”? আমি বললাম “হ্যাঁ, চিনি ত�ো”! উনি বললেন “তাই, কি করে”? আমি বললাম “বা রে, আমার স�োনাকাকু যে লন্ডনেই থাকে”। উনি বললেন ‘থাকে’ না, বল ‘থাকেন’; গুরুজনদের সম্পর্কে ঐ ভাবেই কথা বলতে হয়”। আমি বললাম “আমার স�োনাকাকু যে ‘গ�োরুজন’ তা আপনি জানলেন কি করে”? উনি বললেন “গুরুজন”, “ত�োমার কাকু ত�োমার থেকে বয়েসে বড় কিনা, তাই”। তারপর বললেন “আজ যখন ত�োমার মা ত�োমাদের নিতে আসবেন, তখন তাঁকে একবার আমার সাথে দেখা করতে ব�োল�ো, কেমন”? তারপরই উনি ওনার টেবিলে রাখা বেলটা কিরিং-কিরিং করে বাজালেন, যাতে কেউ এসে আমাকে আবার তিন-তলার ক্লাসে ফেরত নিয়ে যান। সেদিন, বা তার দু -একদিনের মধ্যেই ক�োন এক সন্ধ্যাবেলায় মা আমাকে গড়িয়াহাটের এক ষ্টেশনারী দ�োকানে নিয়ে গিয়ে একটা ‘জলরঙে’র বাক্স, আর আরও কিছু আঁকার সরঞ্জাম কিনে দিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে ‘আলেয়া’ সিনেমা-হলের পেছন-গেটের গলিতে বললেন, “এগুল�ো দামী জিনিস, যত্ন করে রাখবে”। সেই চার বছর বয়েসেই রঙপেন্সিল আর প্যাস্টেল থেকে আমার উত্তরণ হ�োল ‘জল-রঙে’। এরই সাথে আর�ো একটা জিনিসও বু ঝতে শিখলাম - যে আমি আঁকতে আর তাতে রঙ লাগাতে ভাল�োবাসি। ‘শিশুকল্যাণ’ শেষ করে ‘বালীগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুল’। আঁকা আর রঙ করা চলতেই থাকল�ো। এরই মধ্যে আমার ক্লাস-ওয়ানের শেষের দিকে এমন একটা ‘শকিং’ ঘটনা ঘটে গেল যার জেরটা আমি আজ এই মাঝ-চল্লিশেও ঠিকঠাক কাটিয়ে উঠতে পারিনি, হয়ত�ো ক�োনদিনই পারব না! জানলাম যে বাবা শিলিগুড়ি থেকে এসেছেন মা, আর আমাদের তিন ভাইকে নিয়ে যেতে। এর আগে পর্যন্ত জানতাম যে বাবা যেখানে যেখানে প�োস্টেড থাকতেন সেখানে নাকি মাকে ঠিক নিয়ে যাওয়া যায় না। তাই আমরা ক�োলকাতাতেই থাকতাম আমাদের বালিগঞ্জের বাড়িতে; ঠাকুমা (‘দিদি’), পিসি (‘পিসিভাই’) আর দু ই কাকার (‘নানা’, ‘কাকাই’) সঙ্গে। বাবা শেষপর্যন্ত আমাদের নিয়ে একসাথে থাকতে পারবেন জেনে মনে আনন্দ আর ধরছিল না। কিন্তু একই দিনে সন্ধ্যেবেলার মধ্যেই সবকিছু কেমন যেন পাল্টে গেল যখন দেখলাম যে বাবা অঝ�োরে কাঁদতে থাকা মা আর ভাইকে নিয়ে ট্যাক্সিতে উঠছেন স্টেশনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে; দাদা আর আমাকে ফেলে রেখেই! যখন বু ঝলাম যে ক�োন কান্নাকাটিই আমাদের সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য বা ওদের ধরে রাখবার জন্য যথেষ্ট নয় তখন আঁকড়ে ধরেছিলাম ঐ রঙ-তুলিকেই। পছন্দ মত ক�োন ছবি এঁকে, তাতে ইচ্ছে মত রঙ লাগাতে পারলে মনের দু ঃখটা যেন কিছু টা হলেও কমত�ো। তখন হাফ-প্যান্ট পড়া ছ�োট্ট ‘ধনরাজ’, ‘সের্গেই’ বা ফ্রক পড়া ছ�োট্ট ‘তাতিয়ানা’দের ছবি আঁকলেই বেশ ভাব জমে যেত�ো আমার ওদের সঙ্গে; ওদের সাথেই তখন দিব্যি খেলা করতে পারতাম আমি --- শিলিগুড়িদার্জিলিং বা রাশিয়ার ক�োনও মাঠে। ভ�োরবেলায় ওরাই আমার ঘুম ভাঙ্গাতে

Durga Puja 2016

41


রঙ-বেরঙ আসত�ো, আমি দিব্যি রাশিয়ান-ভাষায় কথা বলতে পারতাম; দ�োলনায় দ�োল খাওয়া আর ফুরফুরে হাওয়ায় ওড়া ঐ স�োনালি চুলের ‘তাতিয়ানা’কে আমার জড়িয়ে ধরে আদর করতে ইচ্ছে করত�ো, আর ঠিক তখনই নীল ফ্রক পড়া ‘তাতিয়ানা’ মিলিয়ে যেত আকাশের নীলে! ঘুম ভাঙার পর ভ�োরের বিছানায় স্কুলের গ্রীষ্মের-ছু টিতেও আমার ঠাণ্ডা লাগত�ো --- তখন পয়লা বৈশাখে বরফ পড়ত�ো! কিন্তু আঁকার বাইরে সময়টা কেমন যেন অসহনীয় হয়ে উঠেছিল আমার কাছে, ক�োন�ো কিছু ই আর তেমন ভাল লাগত�ো না। তখন দিদি, পিসিভাই মাঝে মাঝে দাদা আর আমাকে দিয়ে বাবার শিলিগুড়ির ‘সেবক র�োডের’ ঠিকানায় চিঠি লেখাতেন; লিখতে বলতেন যে “আমরা এখানে র�োজই রসগ�োল্লা খাচ্ছি”। এই ডাহা মিথ্যে কথাটার উদ্দেশ্য যে শুধু মাত্র বাবাকে জানান যে আমরা ক�োলকাতায় ভাল�ো আছি, তা আমি বু ঝতে পারতাম; কিন্তু ক�োলকাতায় আমি যে একেবারেই ভাল�ো নেই তা বাবা-মাকে জানান�োর ক�োন�ো উপায় আমার জানা ছিল না। আমার সাত বছর বয়েসের ক�োন�ো চাহিদাই বাড়িতে পূ রণ হত না; পেটের খিদে মিটলেও মনের খিদের কিছু ই মিটত�ো না। তাই পাড়ায়, স্কুলে দস্যিপনা করে বেড়াতাম। ফলস্বরূপ প্রায়ই স্কুলের ক�োন�ো না ক�োন�ো টিচার আমার ডায়েরিতে ‘ন�োট’ লিখে তা বাড়ির ‘গার্জেনের’ কাছ থেকে সই করিয়ে আনতে বলতেন - আপনার ছেলে আজ অমুকের মার্বেল-পেপার কেটেছে, আপনার ছেলে আজ তমুকের সেন্টেড-রবারটা নিয়ে নিজের পকেটে ভরেছে বা আপনার ছেলে কার ওয়াটার-বটলের সব জলই তার মাথায় ঢেলেছে! কিন্তু বাড়ির কেউই এইসব ন�োটের কথা জানতেও পারতেন না। টিচারদের ন�োটগুল�ো বাড়িতে দেখাতে সাহস পেতাম না; অফিস-ফেরত ‘নানা’র মার, বা ‘কাকাই’য়ের দেওয়া ‘কঠিন শাস্তির’ ভয়ে। আর ‘দিদি’,‘পিসিভাই’য়ের এই ব্যাপারে তেমন কিছু করার ছিল বলে আমার মনে হত না। তাই চলতেই থাকল�ো আমার দস্যিপনা --- কার�ো টিফিন-বক্স থেকে টিফিন খাওয়া, কার�ো পেন্সিলবক্স থেকে পেন্সিল হাতড়ান�ো, কার�ো গঁদের আঠার পুর�োটাই হাত সাফাই করা, এইসব। তাই প্রথম প্রথম যেতাম আমাদের বাড়ির রান্নার ল�োক ‘তনু ’-দির কাছে। ও লেখাপড়া জানত না, তাই হিজিবিজি কিছু একটা সই করে দিত আমার টিচারদের ন�োটের নিচে! তাতেই দিব্যি কাজ চলে যেত আমার। বিপদ হ�োল একটা ঘটনার পর, যখন বাবা বা মায়ের সইটা যে নিজেকেই ‘জাল’ করতে হবে তা ঠিক করতে বাধ্য হলাম; কারণ শুধু সইয়ে যে আর কাজ চলবে না, তা মালু ম হ�োল। স্কুলে ক�োন�ো একজনের পেন্সিল-বক্স থেকে পেন্সিল-রবার বা পুর�ো পেন্সিল-বক্সটাই নিজের ব্যাগে পুরেছিলাম! ধরা পড়ার পর ক্লাসের টিচার মিনতি-দি আমার ডায়েরিতে ‘ন�োট’ লিখে মাকে ডেকে পাঠালেন। কিন্তু মা ত�ো শিলিগুড়িতে! ‘তনু -দি’কে দিয়ে ত�ো আর কাজ চলবে না! এখন কি করি? তাই নিজেই মিনতি-দির ন�োটের নিচে একটা উত্তর লিখে, মায়ের নামে সই করলাম। পরের দিন তা মিনতি-দিকে দেখাতে উনি ওনার চশমার পুরু লেন্সের ভেতর দিয়ে বেশ খানিকক্ষণ আমায় পরখ করলেন। চশমার ভিতরে মিনতি-দির ঐ অপেক্ষাকৃত বড় বড় চ�োখদু ট�োকে আমি আজও চ�োখ বু জলেই দেখতে পাই! আমি যে ধরা পড়ে গেছি তা তখনই বু ঝতে পেরেছিলাম, তাই ঐ চ�োখদু ট�োর দিকে আর খুব বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারনি। মিনতি-দি আমায় আমার ডেস্কে ফেরত যেতে বললেন, কিন্তু আমার ডায়েরিটা ফেরত দিলেন না। সেইদিনই কিছু পরে অন্য ক�োনও ক্লাস চলাকালীন জলধর-দা (যার কাজ ছিল ক্লাসে ক্লাসে ‘ন�োটিস’ খাতা নিয়ে টিচারদের কাছে যাওয়া) এসে আমাকে ডেকে নিয়ে গেলেন ‘টিচার্স-রুমে’। সেখানে গিয়ে দেখি যে রীতিমত একটা ‘মিটিং’ চলছে, আমাকে নিয়েই ব�োধহয়। কারণ সেখানে মিনতি-দি আমার সেই ডায়েরি হাতে বসে, আর তাঁকে ঘিরে মৃ দুলা-দি, উমা-দি, ইন্দিরা-দি, বাসন্তি-দি, ছায়া-দি, মুনমুন-দি; এঁরা। ওনারা সবাই বেশ খাতির করে আমাকে বসালেন, ক�োথায় থাকি, বাড়িতে কে কে আছেন, বাড়িতে ফ�োন আছে কি না, বাড়ি থেকে স্কুলে কি ভাবে যাতায়াত করি, ইত্যাদি সব জেনে নিলেন। সেখানেও ধরা পড়ে গেল�ো আমার মিথ্যে – মা ত�ো শিলিগুড়িতে; অথচ ডায়েরিতে ‘মায়ের সই’! দেখলাম যে মিনতি-দি ওনার পুরু লেন্সের চশমাটা খুলে সামনের টেবিলে রেখেছেন, আর ওনার চ�োখদু ট�ো ভিজে! কিছু পরে আমার ডায়েরিটা ফেরত পেলাম, আর মুনমুনদি বললেন “ত�োমার যদি কিছু লাগে ত�ো আমায় বলবে, কি বলবে ত�ো? You can just come to me, okay”? ডায়েরিটা শেষমেশ ফেরত পেয়ে ‘বিপদটা’ কেটে গেছে বু ঝে, মহা আনন্দে তারপর আমার ক্লাসে ফিরলাম। ফেরার পথে মনে হ�োল যে চশমা ছাড়া মিনতি-দির চ�োখদু ট�ো ত�ো বেশ ছ�োট�োই, তাহলে চশমা পড়লে তা অত�ো বড় দেখায় কেন? এইসব লজ্জার মাঝেও একটু আরাম খুঁজে পেতাম ঐ রঙ আর তুলির স্পর্শে। স্কুলের মর্নিং-সেকসনের দিলীপ-বাবু র (দাস), ব্ল্যাকব�োর্ডের ওপর সাদা চকে আঁকা ‘একটি গ্রামের দৃ শ্যের চিত্র’ আমার প্রথম প্রথম ভাল�ো লাগলেও পরে তা একঘেয়ে লাগত�ো। সেই একঘেয়েমি থেকে রক্ষা পেলাম মুনমুন-দির (সেন) আঁকার ক্লাসে। টিচার্স-রুমের ‘ঐ মিটিঙের’ সু বাদে ক্লাসের বাইরেও ওনার সঙ্গে ত�ো আলাপ ছিলই, আর ওনার ভাবভঙ্গি 42

বা কথা বলার ঢংও আমায় কেমন যেন আকর্ষণ করত�ো! যদিও উনি যে সু চিত্রা সেনের মেয়ে বা ‘সু চিত্রা সেন’ যে কি ‘বস্তু’ তা জানা বা ব�োঝার ক�োনও ক্ষমতাই তখন আমার ছিল না! শুধু দেখতাম যে স্কুল ফেরত ছেলেদের নিতে আসা সমবেত মায়েদের কেউ কেউ আমাদের আঁকার টিচারকে দেখার জন্য একটু উৎসু ক। মুনমুন-দির ড্রয়িং ক্লাসেরও কেমন যেন একটা আলাদা আকর্ষণ ছিল! জানলার পাশে দাঁড়িয়ে উনি একবার বলেছিলেন “এই ধর আমার ছবি আঁকতে হবে; কিন্তু ঐ যে ‘ওয়ালে’ আমার ‘স্যাড�ো’ পড়েছে, সেটাও কিন্তু আমি, তাই ওকেও কিন্তু আঁকতে হবে”! ছায়ারও যে ছবি আঁকা সম্ভব তা এর আগে আমার জানা ছিল না, শুনে আমি একেবারে ‘হাঁ’ হয়ে গেছিলাম! একবার মুনমুনদি আমাদের ক্লাসে কিছু একটা আঁকতে বলেছিলেন, আর উনি ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন যে আমরা কে কেমন আঁকছি। হঠাৎ দেখি যে উনি আমার ডেস্কের পাশে এসে চুপটি করে দাঁড়িয়ে পড়লেন। বললেন “বাঃ, বেশ ‘ড্র’ কর�ো ত�ো তুমি! তুমি বু ঝি ড্রয়িং ‘লাইক’ কর�ো?” ততদিনে আমি বেশ ভাল�ো মত�োই জেনে ফেলেছি যে আমি আঁকতে পছন্দ করি – তাই মাথা নাড়িয়ে বললাম হ্যাঁ। তারপর উনি বললেন “ত�োমার এই ড্রয়িংটা তুমি আমায় দেবে”? আমি উত্তর দেওয়ার আগেই বললেন “না, এটা ‘বেটার’ তুমি ত�োমার বাড়ি নিয়ে যাও, কিন্তু আমার জন্য কিছু একটা ‘স্পেসাল’ ড্র করে এন�ো, শুধু আমার জন্য, কি পারবে ত�ো”? সেদিন দু পুরেই বাড়ি ফিরে আমি ওনার জন্য একটা “স্পেসাল” ছবি এঁকেছিলাম; আনন্দবাজারের প্রথম পাতার ভেতরের দিকের নিচের ক�োনায় ধারাবাহিক ভাবে বেরন�ো ‘অরণ্যদেব’ কার্টুন থেকে অরণ্যদেবের ব�ৌ ‘ডায়ানা’র ছবি; ‘কপি’ ক�োরে, কিন্তু একটু বড় ক�োরে। পরের দিন ক্লাসে ওটা মুনমুন-দিকে দিতেই উনি খুব খুশি হলেন, আমাকে জড়িয়ে ধরে আদর করে বললেন “বাঃ, একে ত�ো একদম আমার মত�ো দেখতে, just like me”! বদলে উনি আমাকে দিয়েছিলেন একটা প্লাস্টিকের গ�োলাপ ফুল, যা আমার কাছে আজও আছে! এর বছর কয়েক বাদে ‘ঐ’ মুনমুন-দিকেই বৃ ষ্টিতে ভিজেকাপড়ে অযথা মাটিতে গড়াগড়ি খেতে দেখেছি টি.ভি বা সিনেমা-হলের পর্দায়, দেখে একেবারেই ভাল�ো লাগেনি; গায়ে কাপড় জড়ান�ো, ক�োনও রকম প্রসাধনহীন আমার ‘সেই’ আঁকার টিচার মুনমুন-দি আজও আমার মনের ‘ফ্রেমে’ বন্দী – আর ঢের বেশী আকর্ষণীয়! ক্রমে ‘ধনরাজ’-‘সের্গেই’-‘তাতিয়ানা’রা হারিয়ে গেল�ো, আর স্কুলের মর্নিং-সেকশন পার করে আমি গেলাম ডে-সেকশনে। কেমন যেন একটা ‘বড় বড়’ হাবভাব, হাঁটা-চলার ধরণটাই যেন বদলে গেল�ো সবার! কিন্তু ‘ছ�োট’বেলার অভ্যাস আঁকা আর রঙ করাটা ছাড়তে পারলাম না তখনও, বরং তা আরও বেড়েই গেল�ো। এরই মাঝে মা ‘চলে গেলেন’ আমার ক্লাস-সিক্সের গ্রীষ্মের-ছু টিতেই। ঐ নিঃসঙ্গতার মধ্যেও ‘সঙ্গ’ পেয়েছিলাম রঙ-তুলির। মাঝে-সাঝেই রঙগুল�োকে আর তেমন রঙিন মনে হত�ো না, শুধু ‘লাল’ আকাশের সূ র্যোদয় বা সূ র্যাস্ত দেখতেই ভাল�ো লাগত�ো, মনে হত�ো যে মা কি তাহলে গেলেন ঐ দিকেই ক�োথাও? সূ র্যোদয় বা সূ র্যাস্তের ছবি আঁকতেও ভাল�ো লাগত�ো তখন। কয়েকবার এদিক-ওদিক ‘বসে আঁক�ো’ প্রতিয�োগিতায় তা এঁকেওছিলাম, ধ�োপে টেঁকেনি ক�োন�োটাতেই। তবে এই প্রসঙ্গে যা মনে আছে তা হ�োল আমার দাদার একবার আমাকে নেতাজী ইনড�োর স্টেডিয়ামে ক�োন�ো এক ‘বসে আঁক�ো’ প্রতিয�োগিতায় নিয়ে যাওয়ার কথা, আমি যখন ক্লাস সেভেন বা এইটে পড়ি তখন – যে দাদাই কিনা ছ�োটবেলায় ঝগড়া-মারামারি হলেই জল ঢেলে দিয়ে, বা অন্য ক�োন�োও ভাবে আমার আঁকা নষ্ট করে দিত! এইরকমই ক�োনও এক সময় (ক্লাস সেভেন বা এইটে হবে) আমি একবার এক সূ র্যাস্তের দৃ শ্য পেইন্ট করেছিলাম, একটা গ্রিটিং-কার্ডের ওপর। কি করে বা সেই কথা পৌঁছেছিল আমাদের পাড়ার আমার থেকে বেশ কয়েক বছরের বড় ‘মিঠু ’-দির কানে (‘যে’ মিঠু -দির গান শুনতে আমি আজও টিকিট কাটতে রাজী আছি)! আঁকাটা দেখাতে মিঠু -দি কিছু তেই বিশ্বাসই করতে পারল�ো না যে ওটা আমার দ্বারা পেইন্ট করা সম্ভব, বলল “ধ্যাৎ, এটা ত�ো ক�োনও ‘পাকা’ হাতের আঁকা”! শুনে প্রথমে খারাপ লাগলেও পরে মনে হয়েছিল�ো তাহলে কি আমার আঁকার-হাতটা বেশ ‘পাকা’? এরই মাঝে পাশের বাড়ির ‘বু ড়ন’-দির বিয়ে ঠিক হয়ে গেল�ো, ক�োনও অঙ্ক আটকে গেলেই ‘যে’ বু ড়ন-দির কাছে ছু টে যেতে ইচ্ছে করত�ো! বু ড়ন-দির বাড়ির ছাদের ছাদনা-তলায় আলপনা দিতে, আর বিয়ের পিঁড়িতে রঙিন-কাগজ সাঁটতে আমার ডাক পড়েছিল বু ড়ন-দির দাদা ‘অমল’-দার কাছ থেকে। সাথে অমল-দা সমেত ওঁদের আত্মীয়দের মধ্যে থেকে আরও বেশ কয়েকজন ছেলে-ছ�োকরাও ছিল। একসময় অমল-দা বলল “দেখ, দেখ, গ�ৌতমত�ো মাটি থেকে হাতই ত�োলে না, কি রকম ‘এক টানে’ আঁকছে সব”। শুনে ভাল�ো লেগেছিল এই কারণে যে অমল-দা নিজেও ভাল�ো আঁকে বা আঁকত (অমল-দার আঁকা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটা ছবি এখনও আমার চ�োখে লেগে আছে!)। এসব ছাড়াও পাড়া বা স্কুলের ম্যাগাজিনের পাতা ছবিতে ভরাতে মাঝেসাঝেই ডাক পড়ত�ো আমার।

Anjali

www.batj.org


রঙ-বেরঙ স্কুলের ক্লাস এইটে আমাদের অঙ্কের আর ‘লাইফ-সায়েন্সের’ ক্লাস নিতেন সু রেশ-বাবু (পাল)। একবার ‘লাইফ-সায়েন্সের’ ক্লাসে তিনি আমাদের ব্যাঙের ‘রিপ্রোডাকটিভ-সাইকেল’ সম্পর্কে কিছু একটা লিখতে বলেছিলেন। আমি আর কি লিখব�ো? পড়াশ�োনাই ত�ো করতাম না, তখন ত�ো স্কুলে যাওয়ার মুখ্য উদ্দেশ্যই ছিল কেবলমাত্র বন্ধুদের সাথে ‘জমিয়ে’ আড্ডা মারা। শুধু মনে পড়ল�ো যে জল থেকে ডাঙায় উঠে ব্যাঙাচি হয়ে যায় ব্যাঙ! চুপচাপ বসেও থাকা যায় না। তাই একটা ছবি এঁকে সু রেশ-বাবু র কাছে খাতা জমা দিলাম – এক ব্যাঙের ঘাড়ে বসে আর এক ব্যাঙ! নিজের ‘বিদ্যা জাহির’ করতে ছবিটাতে আবার ‘লেবেলিংও’ করে দিয়েছিলাম --- নিচেরটা পুরুষ, ওপরেরটা স্ত্রী (ভুল বশত)। পরের দিন সু রেশ-বাবু একরকম ছু ঁড়েই আমার ‘বঙ্গলিপি’ খাতাটা আমায় ফেরত দিয়ে বললেন যে “এটা ‘ড্রয়িং’ ক্লাস না; তুই এমনই একটা বান্দর-পুলা যে তুই ত�ো সেইডাও ঠিকঠাক করস নাই – ‘লেবেলিংটা’ও ত�ো ঠিক হয় নাই”! নিজের ‘লেবেলিং’এর ভুল বু ঝতে পেরে, সু রেশ বাবু র সামনে হাসি চাপতে গিয়ে পেট আমার একেবারে ফেটে যাচ্ছিল�ো! একবার কথা হচ্ছিল�ো ক্লাসের এক সহপাঠীর (শৈবাল গুপ্ত) সঙ্গে, যে কিনা লেক-মার্কেটের দিকে ‘চিত্রাংশু’তে আঁকা শিখত�ো। খ�োঁজখবর নিয়ে বাবাকে চিত্রাংশুতে আমার আঁকা শেখার ইচ্ছাটার কথা জানালাম, ভর্তিও হ�োলাম সেখানে। কিন্তু মাস খানেকের বেশি টিঁকতে পারলাম না, কারণ বাড়ির দু -একজনের পছন্দ হ�োল না ব্যাপারটা। আমার কাকু (নানা) ‘বিধান’ দিলেন যে “গান-আঁকা, এসব ত�ো মেয়েরা শেখে – বিয়ের বাজারে দাম ‘ত�োলার’ জন্য, এসব শিখে আমার কি হবে”? তাছাড়া বাড়িতে ত�ো অন্যান্যরাও আছে, আমিই বা একলা এই সু য�োগটা পাব কেন? হক কথা! তাই নিজের ইচ্ছেটাকেও ‘তুলেই’ রাখতে হ�োল, শুধু একটু অন্যভাবে। এরপর বিভিন্ন ব্যস্ততায় আঁকা বা রঙ করার অভ্যাসটাই হারিয়ে গেল আমার। এর বছরখানেক বাদে নানা বা বাড়ির অন্য কাউকে না জানিয়েই ভর্তি হয়েছিলাম গানের স্কুলে, ভবানিপুরের ‘গীতবিতানে’; ‘ইন্দিরা’ সিনেমাহলের পিছন দিকে। সেখানে গান শিখতাম সেখানকারই প্রাক্তন শ্রদ্ধেয় অনু প ঘ�োষালের ছাত্র, আর এক প্রাক্তন ‘মাল্লার’-দার কাছে। আমার এই ‘অ্যাডভেঞ্চারে’ সাহায্য পেয়েছিলাম আমার সহপাঠী-বন্ধু সু মন্ত (চক্রবর্তী) আর ওর মাসীর (‘ম�োটামাসী’) কাছ থেকে, সু মন্তও গান শিখত ঐ গীতবিতানেই। এরপর যা টিঁকে থাকল তা হ�োল পুজ�োর আগে কিছু দিন বাদে বাদেই কুমারটুলিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটান�ো। একাই যেতাম, আর দেখতাম যে বাঁশ, কাঠ, খড়, মাটি ধীরে ধীরে কেমন সব জীবন্ত হয়ে উঠছে! পরে সেইসব ঠাকুরই আবার বিভিন্ন প্যান্ডেলে দেখে কেমন যেন এক আজব অনু ভূতি হত�ো, মনে হত�ো যে এঁদের সব্বাইকেই আমি শুধু চিনিই না – জানিও! ছ�োটবেলায় আঁকা ক�োনও ক�োনও গ্রাম, বাড়ি, ছাদ, হরিণ বা মানু ষদের সাথেও আমার এইরকমই ক�োন�ো এক সম্পর্ক স্থাপন হয়ে যেত�ো, ঠিক যেমনটা হয়েছিল�ো ঐ শিলিগুড়ি-দার্জিলিঙের ছ�োট্ট ‘ধনরাজ’ বা রাশিয়ার সেই ছ�োট্ট ‘সের্গেই’-‘তাতিয়ানাদের’ সঙ্গে! অ্যামেরিকায় আসার পর গ্র্যাজুয়েট-স্কুলে থাকাকালীন আমার সখ হয়েছিল�ো ‘রিসার্চের’ ফাঁকে একটু অন্য কিছু করার, দিনরাত আমার NMR-ল্যাবরেটরির একঘেয়েমি থেকে রেহাই পেতেই! এক-ইঞ্জিনের আর দু ই আসনের প্লেন ওড়ান�ো শেখাটাই (ফ্লাইং লেসন) ছিল প্রথম আর প্রধান ইচ্ছা। রিসার্চ করার দ�ৌলতে ‘স্টেট এমপ্লয়ি’ হবার সু বাদে, আমার

www.batj.org

‘স্টেট ইউনিভার্সিটির’ ফ্লাইং ক্লাসে অতি নগণ্য টিউশন-ফিয়ে সেই মত রেজিস্ট্রেশানও করেছিলাম; কিন্তু একজনের বিশেষ বাধাতে শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে উঠল না । অগত্যা বাছলাম পেইন্টিং-ক্লাস। সেখানেই আমার প্রথম তেল-রঙে ‘হাতেখড়ি’, মাঝ-কুড়ির ‘বু ড়�ো’ বয়েসে। সেই ক্লাসের ইন্সট্রাকটার (টিম ওরউইগ) একবার আমায় জিজ্ঞেস করেছিলেন যে “have you ever considered taking art a bit more seriously”? জবাবে আমি তাঁকে জানিয়েছিলাম যে না, ‘আর্ট’টা শুধু ‘করতে’ই ভাল�োবাসি, তা নিয়ে ‘আর্ট-স্কুলে’ গিয়ে পড়াশ�োনা করতে নয়; ঠিক যেমন রান্নাটা। ওটা শুধু ‘করতে’ই ভাল�োবাসি, তা নিয়ে ‘কালিন্যারি-স্কুলে’ গিয়ে পড়াশ�োনা করতে নয়। তবে হ্যাঁ, ‘গান’টা ক�োন�ো স্কুলে শিখতে পারলে মন্দ হত�ো না!। এই ‘অয়েল-পেইন্টিং’ ব্যাপারটা আমার কাছে ঠিক ‘যু ৎসই’ হ�োল না, ছ�োটবেলার ‘সেই জল-রঙের’ মজাটাই পেলাম না এতে। তার ওপর ছিল ‘গ্রেডে’র ঝামেলা – ‘মজা’ ত�ো নয়, আঁকার ক্লাসে কে কি গ্রেড পেল সেটাও প্রাধান্য পেল। আমার কাছে আঁকাটা ছিল ‘পার্সোনাল’, নিজের ভাল�ো লাগাটাই ছিল এক এবং একমাত্র বিবেচ্য, কে কি ভাবল�ো তার ত�োয়াক্কা না করেই! অনেক সময়ই আঁকার থেকেও বড় হয়ে উঠত ‘আঁকার সময়’ আমি যে ‘জগতে’ বাস করি – ‘সেই জগতটা’। অ্যামেরিকান ইউনিভার্সিটির ক�োন�ো ‘রেজিস্টার্ড ক্লাসে’ তা ব�োধহয় হবার নয়। সাথে ছিল ‘টাইম-কন্সট্রেইন্ট’ - একটা নির্দিষ্ট আঁকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা। ছ�োটবেলার দু পুর গড়িয়ে সন্ধ্যে পার ক�োরে দেওয়া ‘সেই’ আঁকতে পারার ক�োন�ো মজাই ছিল না এতে, তাই নিজের ধৈর্যের অভাবটাও নজরে এল�ো। ছবি রঙ করতে গিয়ে দেখলাম যে আমার সময়টাই কেমন যেন ‘বেরঙ’ হয়ে যাচ্ছে! হিতে বিপরীত হচ্ছে দেখে এতই বিরক্ত লাগল�ো যে সময় থাকতে থাকতে ড্রপই করে দিলাম ক্লাসটা, যাতে আমার ট্র্যান্সক্রিপ্টে এই ক্লাসের ‘সেই’ ‘গ্রেড’টার আর ক�োনও উল্লেখই না থাকে! ‘মজা’টা আবার খানিক ফেরত পেয়েছিলাম বেশ বছর কয়েক বাদে, আমার বাচ্চাদের সাথে; ঐ জল-রঙ আর তুলির হাত ধরেই। ওদের সাথেই আবার নিজের ছ�োটবেলায় ফেরত যেতাম কখন�ো কখন�ো। কাগজের ওপর আমার পেন্সিলের ক�োন�ো ছ�োট্ট আঁচড়ে, বা জল-রঙের তুলির ক�োন�ো অলস টানেও ওরা অবাক হয়ে যেত; চ�োখ বড় বড় করে এমন ভাবে তাকাত যে আমার নিজের ছ�োটবেলার কথা মনে পড়ে যেত – ‘ঐ’ মুনমুন-দির আঁকার ক্লাসে ‘ছায়ার’ ছবি আঁকতে গিয়ে আমার যেমন দশা হয়েছিল�ো! ওরা কে আমার ক�োন আঁকাটা নিজের কাছে রাখবে তাই নিয়ে কাড়াকাড়ি লাগিয়ে দিত�ো; যার মধ্যে থাকত�ো না ‘মিঠু ’দির অবিশ্বাসের অবজ্ঞা, দাদার জল-ঢালার অবহেলা বা সু রেশবাবুর খাতা ছ�োঁড়ার তাচ্ছিল্য; বদলে আমার মনে পড়ে যেত ‘অমলদা’র উৎসাহ, ‘মুনমুন’দির আদর বা মায়ের ‘সেই যত্ন’ - যা দিয়ে মা কিনে দিয়েছিলেন আমার প্রথম জল-রঙের বাক্স আর বলেছিলেন তা ‘যত্ন’ করে রাখতে। পেরিয়ে আসা কত বছর, সাক্ষী হওয়া কত ঘটনা মিলেমিশে কেমন যেন সব একাকার হয়ে যেত – অনেকটা ঐ জলে রঙ মেশান�োর মতই, সম্বিত ফিরে পেতাম ওদেরই কার�ো প্রশ্নে – “how did I do Baba?” ঝাপসা-চ�োখে ওদের আঁকা ভাল�ো করে না দেখেই বলতাম “awesome, marvelous!” প্রশংসা শুনে ওরা আনন্দে হাততালি দিয়ে লাফিয়ে উঠত! তারপর ওরাও বড় হয়ে গেল�ো, আর বিভিন্ন ব্যস্ততায় হারিয়ে গেল�ো ওদের ছবি আঁকা বা রঙ করার অভ্যাসটাও; সাথে আমারও, আবারও। 

Durga Puja 2016

43


ক্ষুদ্‌দা ও ব�ৌদির দীর্ঘ বিতর্ক   - অনুপম গুপ ক্ষুদ্‌দার সঙ্গে মানে ক্ষুদিরাম চাকলাদারের সঙ্গে রমলা ব�ৌদির প্রায়ই খুনসু টি হয়। তর্ক বিতর্ক লেগেই থাকে। তবে মতান্তর কখনই মনান্তরে পৌঁছয় না। ম�োটামুটি তিরিশ চল্লিশ মিনিটের মধ্যেই মধু রেণ সমাপয়েৎ হয়ে যায়। আসলে ব�ৌদির বাড়ী উত্তর ক�োলকাতার আহিড়ীট�োলা স্ট্রীটে। শৈশব, কৈশ�োর বা য�ৌবন সবই উত্তর ক�োলকাতার নস্টালজিয়ায় আচ্ছন্ন। ক্ষুদ্‌দার বাড়ী দক্ষিণ ক�োলকাতার বকুলবাগান র�োডে। নস্টালজিয়ার ব্যাপারে ক্ষুদ্‌দাও ব্যতিক্রমী নন। সেদিন একটা তর্কের জন্য একটা দীর্ঘ ঘর�োয়া বিতর্ক সভার আয়�োজন করা হয়েছিল। বিষয় – “উত্তর ক�োলকাতার বনেদিয়ানা অস্তমিত”। উপস্থিত শ্রোতৃবৃ ন্দ দেশী, প্রবাসী বাঙ্গালী পরিজন। সঞ্চালনের দায়িত্বে ছিলেন বিখ্যাত সঞ্চালক গ�ৌরব গাঙ্গুলী এবং বিচারক ছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক অমরেশ মজুমদার। সঞ্চালক গ�ৌরব গাঙ্গুলী জানালেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সভা পরিচালনা করার জন্য উপস্থিত শ্রোতাবন্ধুদেরও ইনভলভ্‌করান�ো উচিত। উৎসাহিত এবং ইচ্ছু ক শ্রোতাবন্ধু হাত তুলে দৃ ষ্টি আকর্ষণ করলে বলার সু য�োগ পাবেন। প্রথমেই সঞ্চালক --- “ফর দ্যা ম�োশন্‌”এ ক্ষুদ্‌দাকে বলতে বললেন। ‘ফর দ্যা ম�োশন্‌’এ ক্ষুদ্‌দা মানে উত্তর ক�োলকাতার বিপক্ষে বা দক্ষিণ ক�োলকাতার পক্ষে বললেন--- জব চার্নক হুগলী নদীর পূ র্ব পাড়ে নেমেছিলেন এবং তিনটি গ্রাম বা ম�ৌজা কিনেছিলেন। সেই থেকে উত্তর ক�োলকাতার বাড়বাড়ন্ত। কিন্তু দু ঃখের বিষয় শুধু আমিরী চালে চলে আর পায়রা উড়িয়ে উত্তর ক�োলকাতার বাবু রা দিন কাটিয়ে দিলেন। মারুতি গাড়ীর জ্ঞাতি ভাইয়েরা ফিটন গাড়ীকে হটিয়ে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ক�োথায় গেল ছবি বিশ্বাসের চুন�োট করা ধু তি, হাতে বেলফুলের মালা এবং ভ�োর রাত্রে স্খলিত চরণে বাড়ী ফেরার দৃ শ্য? “একদিন রাত্রে” সিনেমাতে ছবি বিশ্বাস ছিলেন সমগ্র উত্তর ক�োলকাতার ল�োকেদের প্রতিভূ । ভাল কি খারাপ সেটা অন্য কথা, কিন্তু এই বাবু কালচার নিয়েই ত�ো ওনারা দম্ভ করতেন। ভাবতে অবাক লাগে নরেন্দ্রনাথ এই কালচারের আগুনে পুড়ে যাননি। নরেন্দ্রনাথ বিবেকানন্দ হয়ে শিকাগ�ো শহরের ধর্মসভায় বক্তৃতা দিয়ে বিশ্বের দৃ ষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। সঞ্চালক --- তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি লেডিজ অ্যান্ড জেন্টলম্যান না বলে ব্রাদার্স অ্যান্ড সিসটারস্‌ বলেছিলেন। আমাদের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু’ও বলতেন ‘ভাইয়�ো অউর বহেন�ো’। যাক্‌, ক্ষুদিরাম বাবু আপনি বলু ন। ক্ষুদ্‌দা --- ভাগ্যিস চিত্তরঞ্জন এভিনিউ’র ওপর একটা বাজার আছে যার নাম ছাতুবাবু র বাজার এবং এখানে চৈত্র সংক্রান্তির দিনে চড়ক মেলা হওয়ার জন্য ল�োকে এখনও ছাতুবাবু র নাম মনে রেখেছে। আর

44

লাটুবাবু র নাম ত�ো মুছেই গেছে। উত্তর ক�োলকাতার গ�োটাকয়েক রাস্তা ব্যতীত অন্যান্য রাস্তার চেহারা পলাশী যু দ্ধের সময় যা ছিল এখনও ঠিক সেরকমই আছে। লর্ড ক্লাইভও ক�োন�ো ইন্টারেস্ট নেননি। বলরাম দে স্ট্রিট বা বেনিয়াট�োলা লেনের বাসিন্দাদের সূ র্য বা চাঁদের আল�ো কেমন দেখতে হয়, তার খুব একটা ধারণা আছে কি ? বেগম আক্তার কি সেই জন্যেই সমগ্র উত্তর ক�োলকাতার বাসিন্দাদের হয়ে মনের দু ঃখের গান গেয়েছেন, “জ�োছনা করেছে আড়ি, আসেনা আমার বাড়ী”। জ�োছনাকে দ�োষ দিয়ে লাভ নেই, সে বেচারা আসবে কি করে ? বাড়ীর দু পাশে চার ফুট ছাড় দেওয়ার আইন ত�ো তখন চালু ই হয়নি। পুর�োন�ো জিনিস একটু অদল-বদল করে নতুন কিছু করার মানসিকতাই নেই। পাতাল রেলের কাজ কিন্তু দক্ষিণেই শুরু হয়। সঞ্চালক একটা ছ�োট্ট চা বিরতি ঘ�োষণা করলেন। বিরতির পরে “অ্যাগেইনস্ট দ্যা ম�োশন”এ মানে উত্তর ক�োলকাতার পক্ষে এবং দক্ষিণ ক�োলকাতার বিপক্ষে রমলা ব�ৌদিকে বলতে বলা হ�োল। রমলা ব�ৌদি --- জব চার্নক এখানে ন�োঙ্গর না করে আর একটু এগিয়ে দক্ষিণ দিকে ন�োঙ্গর ফেললেই ত�ো পারতেন। কালীঘাটের মন্দির আর কিছু ডাকাত ছাড়া আর কি ছিল সেখানে ? চুন�োট করা ধু তি পরতে গেলে বু কের পাটার দরকার। সেটা কি ওনাদের আছে ? ওনাদের আছে হয় সাহেবী প�োষাক আর নয়ত�ো গান্ধীজির প�োষাক। আমাদের মহিলাদের প�োষাকের জন্য যতটা কাপড় দরকার ততটা কাপড় দিয়ে প�োষাক বা ব্লাউজ বানান�ো হয়। দক্ষিণ ক�োলকাতার মহিলাদের ব্লাউজ বানান�োর সময় দর্জিদের খুব সতর্ক থাকতে হয়, কারণ কাপড় কাটার সময় ওদের আঙ্গুল নাকি প্রায়ই কেটে যায়। অবশ্য মহিলাদের ঘাড়ে পেটে পিঠে আল�ো হাওয়া লাগান�ো স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল হলে সেটা আলাদা কথা। সঞ্চালক --- একজন শ্রোতা কিছু বলার জন্য হাত তুলেছেন। হ্যাঁ, বলু ন ! শ্রোতা -- আমি অরবিন্দ ঘ�োষাল, কলেজ স্ট্রীট থেকে বলছি। সর্বজনীন দু র্গাপুজ�ো এখান থেকেই শুরু হয়। বাগবাজার, সিমলা ব্যায়াম সমিতি, কলেজ স্টীটের দূ র্গাপুজ�ো ঐতিহ্যমণ্ডিত সেটা সবাই জানেন। অথচ দক্ষিণে গিয়ে দেখুন, তিতুমিরের বাঁশের কেল্লা, রাজস্থানের দিলওয়ারা টেম্পল, আঁখের ছিবড়ের প্যাণ্ডেল --অদ্ভুত ব্যাপার ! এ কি মায়ের পুজ�ো, নাকি আধু নিক শিল্প প্রদর্শনের এক কুৎসিত প্রতিয�োগিতা? রমলা ব�ৌদি --- এখানে বিদ্যার পীঠস্থানে আছে পুরন�ো এবং নামী বিদ্যালয়। ওখানে আছে কিছু হাল ফ্যাসনের স্কুল। একটার নাম আবার “দক্ষিণ বিন্দু”, যার ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাই ১০ হাজারের বেশী। সঠিক নাম হওয়া উচিত, “দক্ষিণ বিন্দু প্রাইভেট লিমিটেড”। সু কুমার রায়ের ট্যাশগরু বানান�োর উন্নত মানের যন্ত্র ব্যাঙের ছাতার মত�ো ক্রমশ গজিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ ক�োলকাতায় বাঙ্গালী খুঁজতে গেলে শক্তিশালী দূ রবীন দরকার।

Anjali

www.batj.org


ক্ষুদ্‌দা ও ব�ৌদির দীর্ঘ বিতর্ক ভাগ্যিস বিভক্ত বঙ্গের পদ্মাপাড়ের কিছু পূ র্ববঙ্গীয় এখানে এসে দক্ষিণ ক�োলকাতায় বাঙ্গালীদের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছেন। যদিও ওনাদের উচ্চারণে ‘র’ আর ‘ড়’এর ক�োন�ো তফাৎ খুঁজে পাওয়া যায় না। ওনারা ‘স’কে ‘ছ’ এবং ‘ছ’কে’ ‘স’ বলেন। সঞ্চালক -- হ্যাঁ, আপনি কিছু বলবেন ? শ্রোতা – হ্যাঁ, আমি বাঘাযতীন থেকে ডঃ দীপক লাহিড়ী বলছি। কাল বিকেলে আমার চেম্বারে এক মহিলা রুগী বললেন, ‘ডাক্তার বাবু , আমার ব্লাড ছু গার কিছু তেই কমছে না”। সঞ্চালক – তার মানে বাসে লেডিস ছিট না থাকলে উনি বাসে ওঠেন না। (হাসিতে ঘর ফেটে গেল) সঞ্চালক গ�ৌরব গাঙ্গুলী আবার রমলা ব�ৌদিকে পরবর্তী অংশ বলার জন্য অনু র�োধ করলেন। রমলা ব�ৌদি – ক�োলকাতার বনেদিয়ানা এবং বাঙ্গালীয়ানা ত�ো উত্তর ক�োলকাতাই ধরে রেখেছে। রাজেন মল্লিক নেই ত�ো কি হয়েছে, তাঁর সংগ্রহশালা ত�ো আছে। কই সেখানে ত�ো ক�োন�ো প্রোম�োটারকে দিয়ে বহুতল বাড়ী বানান�ো হয়নি। আমরা আমাদের ‘বাপ-পিতাম�ো’র ভিটেতে কাউকে ঢুকতে দিইনি। শ�োভাবাজারের রাজবাড়ীতে দু র্গাপুজ�োয় এখনও নীলকন্ঠ পাখীর প্রয়�োজন হয়। দক্ষিণের শ্রদ্ধেয় বাসিন্দারা নিশ্চয়ই নীলকন্ঠ পাখী দেখে থাকবেন, তবে সেটা ছবির বইতে। আশু মুখুজ্জে এবং সু ভাষ ব�োসের বাড়ী রিসার্চ ইনস্টিটিউ-এ পরিণত হয়েছে, তাই পুর�োন�ো স্মৃতি এখনও বর্তমান। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের বাড়ী ত�ো হাসপাতাল এবং বহুতল বাড়ীতে আত্মসমর্পন করেছে। ‘হাজার টাকার ঝাড়বাতি’ উত্তর ক�োলকাতার বনেদি বাড়ীতে এখনও পাওয়া যাবে, কিন্তু ওনাদের বাড়ীতে, স্যরি ফ্ল্যাটে ঝাড়বাতি টাঙ্গাবেন কি করে ? যা নীচু সিলিং, যখন তখন দু র্ঘটনা ঘটতে পারে। সঞ্চালক – তার মানে উত্তর ক�োলকাতার বাবু রা বলতে চাইছেন “মেজাজটাই ত�ো আসল রাজা, আমি রাজা নই”। উপস্থিত সকলের সঙ্গে সঞ্চালকও হাসলেন এবং ক্ষুদ্‌দাকে ফর দ্যা ম�োশনের পরবর্তী অংশ বলতে অনু র�োধ করলেন। ক্ষুদ্‌দা – আমাদের উচ্চারণে দ�োষ আছে, ঠিক কথা, সেটা কিন্তু পদ্মাপাড়ের ল�োকেদের জন্য। কিন্তু ওনারা ত�ো বাইরে থেকে কাউকে ঢুকতে দেননি। তাহলে ‘নু চি’ ‘নেবু ’ ‘নঙ্কা’তে ‘ল’ কেন ঢুকতেই পারছে না ? ‘গেলু ম’ ‘খেলু ম’ আর বাঘের হালু ম কি খুব কাছাকাছি ? এখনও কেন ‘শ’ আর ‘স’তে ক�োন�ো তফাৎ নেই? সঞ্চালক – sam বাজারের sosi বাবু sosa খেয়েছেন, কিন্তু sasorire sarge গেছেন কিনা প্রেস মিডিয়া এখন�ো জানাচ্ছে না। অবশ্য পূ র্ববঙ্গীয় ভাষায় বিখ্যাত সাহিত্যিক পরশুরামও লিখেছেন ‘হয়, হয়, zanti পার না। ঠিক আছে, ক্ষুদিরাম বাবু , আপনি বলু ন। ক্ষুদ্‌দা – রক্ষণশীল কথাটা শুনতে খুব ভাল। পুর�ো কাপড়টাই লেগে যায় ব্লাউজ বানাতে, তাই না ? হেদু য়াতে কি শুধু বু ড়�োরাই বসে ? হীরের আংটিটা দেওয়া হয়েছিল বলেই ত�ো বাঈজির নাকছাবি জ্বল জ্বল করছে, সেটা সবাই জানে, কিন্তু যেটা জানেনা তা হচ্ছে পরবর্তী বংশধরদের বাজার করার পয়সা আছে ত�ো ? ভূ তনাথও নেই যে উত্তর দেবে। সঞ্চালক রমলা ব�ৌদিকে আত্মপক্ষ সমর্থনে অর্থাৎ উত্তর ক�োলকাতার পক্ষে শেষ বক্তব্য বলার জন্য আহ্বান করলেন।

www.batj.org

রমলা ব�ৌদি – ওনারা কি গঙ্গানদী দেখেছেন ? দেখেছেন ত�ো টালির নালা, জ�োয়ার ভাটাতেও নির্বিকার। যাইহ�োক, ওই গঙ্গা নদীতে কত ল�োকে কত কিছু ফেলে, তাতে কি নদীর পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে ? মার্গারেট ন�োবেল অর্থাৎ সিসটার নিবেদিতা কিন্তু এখানেই থাকতেন। ঈশ্বরচন্দ্র কি এখানকার বাঈজি নাচের হুল্লোড় দেখে রাগ করে মেদিনীপুর চলে গিয়েছিলেন ? মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের কনিষ্ঠ পুত্র যখন নিজের বাড়ীতে স্টেজ বেঁধে পরিবারের পুরুষ মহিলাদের নিয়ে ‘বাল্মীকি প্রতিভা’ অনু ষ্ঠান করেছিলেন, কই তখন ত�ো গেল গেল রব ওঠেনি? সান্ধ্য মজলিশের বিতর্ক সভা বেশ জমে উঠেছে। কিন্তু সভা শেষ করতেই হবে। সঞ্চালক গ�ৌরব গাঙ্গুলী সাহিত্যিক অমরেশ মজুমদারকে অনু র�োধ করলেন বিতর্কের জয়-পরাজয় ঘ�োষণা করার জন্য। বিচারক সাহিত্যিক অমরেশ মজুমদার -- কালের বিবর্তনে সবই পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তন মেনে নিতে না পারলে বাস্তববিমুখ হয়ে পড়তে হয়। চিত্তরঞ্জন এভিনিউ’র পূ র্বতন নাম ছিল সেন্ট্রাল এভিনিউ, এটা সকলেই জানেন, কিন্তু জগন্নাথ ঘাট র�োড যে বিবেকানন্দ র�োড হয়েছে, সেটা কি কার�োর মনে আছে ? গড়ের মাঠে মেমসাহেবরা হাওয়া খেতে যেতেন। সেই গড়ের মাঠের অঙ্গচ্ছেদ ক’রে বিড়লা তারামণ্ডল, রবীন্দ্রসদন, নন্দন হয়নি ? তার জন্য কি ক�োন�ো আন্দোলন, পথ অবর�োধ হয়েছে ? হগ্‌ মার্কেটের জ�ৌলু স কি নিউ মার্কেট ধরে রাখতে পেরেছে ? স্থানীয় উদ্ধত হকারদের অত্যাচারে পূ র্বতন হগ্‌মার্কেটের করুণ দৃ শ্য দেখে আকাশ থেকে হগ্‌ সাহেব দু ফ�োঁটা চ�োখের জল ফেললেও ফেলতে পারেন। সাহেবদের প্রিয় রাস্তা পার্ক স্ট্রীট’এ এখন উঠতি দেশী সাহেবদের দেখা যায় যাদের হিপ্‌পকেটে আগাথা ক্রিস্টির বই আর মুখে জ্যাকসন – ম্যাড�োনা’র গান। নৈশভ�োজের পর ফিটন গাড়ীতে চড়ে সাহেব, মেমরা হাওয়া খেতে যেতেন। আর এখন দেখা যায় রঙীন জলের উষ্ণ নেশায় বাতানু কূল গাড়ীতে চড়ে রাস্তা থেকে সু ন্দরীদের জ�োর করে তুলে নেওয়ার কাপুরুষ�োচিত কাজ। দক্ষিণ ক�োলকাতার মন�োহর পুকুর র�োডে কি একটাও পুকুর দেখতে পাওয়া যাবে ? ঋষি অরবিন্দের মর্মর মূ র্তি বসান�ো হ�োল ভিক্টোরিয়ার সামনে, অর্থাৎ রাতের অন্ধকারে যেখানে নানা রকম সমাজবিরুদ্ধ ক্রিয়াকলাপ হয়। উনি কি তাদের পাহারা দেবেন, নাকি উৎসাহিত করবেন ? নজরুল মঞ্চ কিন্তু বানান�ো হয়েছে ঢাকুরিয়া লেকের জমিতেই। সব কিছু ঠিক করে করতে গেলে আবার শেষ থেকেই শুরু করতে হয়, অর্থাৎ লর্ড ক্লাইভ, ওয়ারেন হেস্টিংস, উইন্সটন চার্চিল, মাউন্ট ব্যটনদের ফিরিয়ে আনতে হবে। দক্ষিণ ক�োলকাতা মানে রসার মাঠ ডিঙ্গিয়ে কালীমন্দিরে যেতে হত। সেখানে আবার রঘু ডাকাতদের ফিরিয়ে আনতে হবে। সাহেবদের প্রিয় শহর Calcutta, ক�োলকাতা হয়ে গেল তার জন্য একটা বাংলা বন্‌ধ হয়েছে কি? লাইট হাউস সিনেমা হলে কি আর ক�োনওদিন ‘টেন কম্যান্ডমেন্টস্‌’ হবে? মেট্রো সিনেমার প্রেক্ষাগৃ হের সাতফুট লম্বা গেটকিপারের ক�োন�ো রিপ্লেসমেন্ট হয়েছে কি ? উজ্জ্বলা, ভারতী বা পূ র্ণ হল’এর কথা না বলাই ভাল। এসব মেনে নিতেই হবে। সমগ্র ক�োলকাতাবাসীর কাছে আল�োচ্য বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বনেদিয়ানার রূপ পাল্টেছে, কিন্তু অস্তমিত হয়নি। এই শহরের রূপান্তর উত্তর-দক্ষিণ নিয়েই। সঞ্চালক বললেন, ‘বিতর্ক সভা শেষ হইয়াও শেষ হইল�ো না’। কারণ তেতাল্লিশ বছর আগে আহিড়ীট�োলা স্ট্রীট থেকে রমলা বিগ্রহকে এনে বকুলবাগান র�োডের বাড়ীতে এই ক্ষুদিরাম চাকলাদারই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মহান পরাজয়ের এটাই মহিমা। 

Durga Puja 2016

45


জীবনের রং   - মঞ্জুলিকা হানারি (দাশগ

ছ�ো

ট গ্রাম ক�োয়ান�ো। গ্রামের একদিক ঘিরে আছে পাহাড়ের সারি। ছ�োট ছ�োট পাহাড়, খুব উঁচু নয়। তবে বিপদ আপদের হাত থেকে নানাভাবে গ্রামটাকে রক্ষা করে চলেছে সেই আবহমান কাল থেকে। এই পাহাড়ের জন্যেই শীতের হিমেল হাওয়া ততটা তীব্রভাবে পৌঁছতে পারেনা গ্রামে। আবার টাইফুনের দ�ৌরাত্ম্যও অনেকটাই ম্লান। ঝড়-জল হয় ঠিকই, তবে তার জন্য ধ্বস নামা বা গাছপালা বাড়ীঘর ভেঙ্গে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা আজ পর্যন্ত নেই। ওই পাহাড়ের সারির ক�োন�ো একটা থেকে নেমে এসেছে ছ�োট নদী মিস�োগি। ছ�োট, কিন্তু খরস্রোতা। গ্রামের ভিতর দিয়ে চঞ্চলা কিশ�োরীর মতন নাচতে নাচতে ছু টে চলেছে সে। তার চলার পথে মাঝে মাঝে ক�োন এক সময় ভূ মিকম্পের সঙ্গে নেমে আসা বড় বড় পাথরের চাঁই। তাতে বাধা পেয়ে সে যেন আরও উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। তার আনন্দের সেই কলধ্বনি সারা গ্রামকে ছু ঁয়ে ছু ঁয়ে যায়। দৈনন্দিন জীবনের সু খ-দু ঃখের সাথী এই নদী গ্রামের প্রাণকেন্দ্র, ভালবাসার ধন। পাহাড় আর এই নদীর দ�ৌলতে ক�োয়ান�ো গ্রাম ছবির মতন সু ন্দর। সবু জে সবু জ চারিদিক। আছে ঋতুতে ঋতুতে প্রকৃতির রং বদলের শ�োভা। শীতের ধূ সরতাও তাকে ছু ঁতে পারেনা। সেইসঙ্গে আছে নানা রঙের ফুলের বাহার, তা সে যত্ন করে লাগান�োই হ�োক বা বনজই হ�োক। ঋতুর পরিবর্তন মনে প্রাণে অনু ভব করা যায় এখানে। জনসংখ্যা কম বলে সকলেই সকলের পরিচিত। প্রয়�োজনে তাই আপনজনের মতন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ল�োকের অভাব নেই। সারা গ্রামটাই যেন একটা পরিবার। এই গ্রামেই থাকেন তামিক�ো ত�োরিগ�োয়ে। ৯০এর প্রথম ধাপে পা রেখেছেন, কিন্তু চলনে বলনে এতটুকু বয়সের ছাপ পড়েনি। শুধু তাই নয়, চ�োখে চশমা বা বাঁধান�ো দাঁতও নেই তার। চলাফেরার জন্য লাঠিরও দরকার পড়েনা। নিজের ক্ষেতের কাজটাও নিজেই করেন। শুধু ধানচাষের কাজটা আর পারেন না। সেটা চলে গ্রামের সকলের সাহায্যে। মনে মনে বড় কুন্ঠা ব�োধ করেন। সকলেই ব্যস্ত নিজের নিজের কাজ নিয়ে, তারই মধ্যে সময় ঠিক করে পালা করে ওঁর কাজটা করে দেয়। উনি জানেন সকলে ওঁকে ভালবাসে, শ্রদ্ধা করে। তাই নিজে থেকেই ভালবেসে সকলে ওর কাজটা করে ---তবু ও। ওঁর দু ই ছেলেরই কিছু দিনের মধ্যে গ্রামে ফিরে এসে সব কিছু র ভার নেওয়ার কথা। সেই ভরসাতেই দিন কাটছে তাঁর। এমনিতেও তারা পালা করে যাতায়াত করে। মেয়েও সংসারের সব কাজ সামলে মাসে একবার করে চলে আসে দিন কয়েকের জন্যে। তাই সারাটা মাসই কেউ না কেউ থাকে ওঁর কাছে। ক�োন কারণে যে সময়টাতে ছেলেরা বা মেয়ে আসতে পারেনা সকলের ব্যবস্থায় গ্রামের কেউ না কেউ রাতে ওঁর সাথে থাকে। ওঁর হাজার আপত্তি ধ�োপে টেঁকেনা সকলের ভালবাসার কাছে। ক’দিন ধরে শরীরটা ভাল নেই। বিছানায় শুয়ে বন্ধ কাঁচের জানালার দিকে তাকিয়ে গভীর চিন্তায় ডুবে ছিলেন তামিক�ো। বাইরে তখন টাইফুনের তাণ্ডব। অঝ�োর ধারায় বিরামহীন বৃ ষ্টি পড়ছে, থামার ক�োন লক্ষণ নেই। কিন্তু সেদিকে ক�োন খেয়াল নেই তাঁর। এসব দিনগুলিতে মনটা হাতের বাইরে চলে যায়। ডুবে যেতে চায় পুরন�ো সব ভ�োলা-না ভ�োলা স্মৃতিতে। আর সেসবে নিজের অজান্তেই বিভ�োর হয়ে পড়েন। ভাল-মন্দ কত শত স্মৃতি ! তারই মধ্যে হঠাৎ ব্যথার জায়গায় হ�োঁচট খায় মন। মনে পড়ে যায় স্বামী হির�োশির কথা। ক�োথায় যে হারিয়ে গেল মানু ষটা, হাজার চিন্তা করেও কুল পান না। দেখতে দেখতে কত বছর যে পার হয়ে গেল। কত বছর হ�োল --- ১০ বছর নাকি ১৫ বছর ? হিসাব মেলে না। এক সকালে শহরে কাজ আছে বলে সেই যে বের�োল�ো আর ফিরল�ো না। কত খ�োঁজ করেছেন। সামান্য সম্ভাবনায় ছু টে গিয়েছেন কত জায়গায়, কিন্ত সবই বিফলে। হির�োশির ক�োন খবর নেই। বেঁচে আছে কিনা কে জানে ! সেই থেকে আজও চলেছে দীর্ঘ প্রতীক্ষা। এই বিপদের সময় গ্রামের সকলে যে ভাবে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তা ভ�োলার নয়। অনেকেই সন্দেহ করে উত্তর ক�োরিয়ার এজেন্টরা হয়ত�ো হির�োশিকে জ�োর করে ধরে নিয়ে গিয়েছে। অসম্ভব নয়, তা হতেই পারে। এ ধরণের ঘটনা ত�ো ঘটেছেই। অনেককেই জ�োর করে ধরে নিয়ে গিয়েছে। কিছু ল�োক ফিরে এসেছে, আবার অনেকেরই ক�োনও খ�োঁজ নেই। তারা যে উত্তর ক�োরিয়াতে আছে, সে গুজব চারদিকে। যারা ফিরে আসতে পেরেছে, তাদের কাছে কিছু 46

খবর পাওয়া গেছে। হির�োশি কি সেখানে বন্দী ? ওঁর মতন স্নেহময়, দরদী, দায়িত্বশীল মানু ষ কাউকে কিছু না বলে নিঃশব্দে ক�োথাও চলে যাবেন ভাবা যায় না। মনে মনে গুমরে ওঠেন তামিক�ো। অনেক বছর ত�ো হয়ে গেল, আর কি দেখা হবে ? একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চ�োখের জল ম�োছেন। একটা স্মৃতির টানে আরও অনেক স্মৃতি ভিড় করে আসে মনে। মন আবার ডুব দেয় স্মৃতির অতলে। হাতড়াতে হাতড়াতে পৌঁছে যায় এই গ্রামে আসার সময়টাতে। সে কি আজকের কথা ! মনে করতে পারেন না কত বছর আগে। ৫০ – ৬০ বছর হয়ত�ো হবে। তখন জাপানের অনেক অঞ্চলেই গ্রামে ল�োকাভাব। তরুণরা সব শহরের আকর্ষণে গ্রামছাড়া। চাষবাস করার মতন পরিশ্রমের কাজ করতে তাদের মন চায়না। ফলে বেশীর ভাগ গ্রামেই শুধু প্রৌঢ় আর বয়স্করা রয়ে গিয়েছেন। সরকারের টনক নড়ে। এভাবে চললে চাষাবাদ সব বন্ধ হয়ে অদূ র ভবিষ্যতে সব গ্রামই বৃ দ্ধাশ্রম হয়ে উঠবে। এর বিহিত না করলেই নয়। আর তা যত তাড়াতাড়ি হয় তত ভাল। তখন নানা অঞ্চলে শুরু হয় ল�োক আকর্ষণ করার জন্য নানান পরিকল্পনা। তরুণরা ত�ো বটেই, সেই সঙ্গে বিশেষ ক’রে লক্ষ্য হ�োল শিশুসন্তান আছে এমন সব পরিবার। গ্রামে এসে বসবাস করার জন্য নানা সু য�োগ সু বিধার প্রতিশ্রুতি। সেই সময় ক�োয়ান�ো গ্রামের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি ওদের দৃ ষ্টি আকর্ষণ করে। অদূ র ভবিষ্যতে ট�োকিও ছাড়ার কথা তখন তাদের মনে। ট�োকিও ছাড়তে হলে এমন জায়গাতে যাওয়াই ভাল বলে মনে হয়েছিল। নানা কারণে ট�োকিও ছাড়ার চিন্তা ওরা করছিলেন। বিশেষ করে ছেলেদের জন্য। বিয়ের পর বেশ কয়েক বছর চাকরির জন্য ওরা ওকিনাওয়াতে ছিলেন। তামিক�ো ওকিনাওয়ারই মেয়ে। স্বামী হির�োশি ছিলেন উত্তর জাপানের হ�োক্কাইদ�োর। ওদের কিভাবে দেখা হয়েছিল আর বিয়ে হয়, সে আরেক কাহিনী। ট�োকিওতে যখন আসেন ততদিনে ওদের জমজ দু ই ছেলের বয়স ৬ বছর। প্রাইমারী স্কুলে যাওয়ার বয়স। ট�োকিও’র স্কুলে ভর্তি হ�োল তারা। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই আর স্কুলে যেতে চায়না। কারণ স্কুলের ছেলেরা বিদেশী বলে ওদের পেছনে লাগে। ওদের কথায় আর উচ্চারণে বিদেশী টান। ভাষাও পুর�োপুরি ট�োকিওর মত না। মুস্কিলে পড়লেন তামিক�োরা। স্কুলের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার কিছু টা সু রাহা হ�োল, কিন্তু পুর�োপুরি নয়। মনে পড়ে ওরা যখন ছেলেদের সমস্যা নিয়ে দিশাহারা অবস্থায়, তখন প্রায় সঙ্গে সঙ্গে আরও একটা গভীর সমস্যার মুখ�োমুখি হতে হয়। আর সেই কারণেই ক�োয়ান�ো গ্রামে আসাটা হঠাৎই হয়ে যায়। চ�োখের সামনে ভেসে ওঠে বন্ধু ফুমিক�োর হাসিভরা সু ন্দর মুখ। ফুমিক�ো ছিলেন তামিক�োর প্রাণের বন্ধু । শুধু বন্ধু নয়, ছ�োট ব�োনের মতন। দু জনে প্রায় সমান বয়সী। তামিক�ো একটু বড়। ফুমিক�োর স্বামী আকিরা কিতাজিমা ছিলেন তামিক�োর স্বামী হির�োশির ছ�োটবেলার বন্ধু । বলতে গেলে বংশ পরম্পরায় বন্ধু ত্ব। ওদের বাবা কাকারাও বন্ধু ছিলেন। একই গ্রামে জন্ম দু জনের। পরে শহরে এসে একই স্কুলে, একই ক্লাশে। কলেজ, ইউনিভার্সিটিতেও তাই। পরে কাজের খাতিরে বেশ কিছু দিনের জন্যে দু জনে দু জায়গায়। তারপর ট�োকিওতে বদলী হয়ে এসে আবার পুনর্মিলন। ততদিনে আকিরা বিয়ে করেছেন। তার দু ই ছেলে তামিক�োদের ছেলেদের বয়সী। আর একটি মেয়ে। সে অনেক ছ�োট --- বছর কয়েকের হবে। দেখতে দেখতে দু ই পরিবারে গভীর বন্ধু ত্ব। ট�োকিও’র দমবন্ধ করা দিনগুলিতে এই বন্ধু ত্বতে একটা মুক্তির স্বাদ ছিল তামিক�োর কাছে। আকিরার স্ত্রী ফুমিক�ো ছিল হাসিখুশি প্রাণবন্ত এক মেয়ে। তামিক�োর সঙ্গে ভাব হতে সময় নেয়নি। একসঙ্গে প্রচুর ঘ�োরাঘুরি করেছেন। কত জায়গায় গিয়েছেন। কেনাকাটাও করেছেন। গরমের ছু টিতে একবার সকলে মিলে তামিক�োর বাপের বাড়ী ওকিনাওয়াতে গিয়েছেন। আবার ফুমিক�োর বাপের বাড়ী মাৎসু শিমাতে সকলে মিলে ঘুরে এসেছেন। ছু টি পড়লেই দু ই পরিবার একসঙ্গে বেরিয়ে পড়তেন গাড়ী নিয়ে শহর থেকে দূ রে ক�োথাও। কখনও পাহাড়ে, কখনও সমুদ্রের ধারে, আবার কখনও বা গ্রামাঞ্চলে। দু ই পরিবারের কর্তারই বেড়াবার নেশা ছিল। কি আনন্দেই না দিনগুলি কেটেছে ! তখনও বিদেশে যাবার চল ছিল না। বিদেশী মুদ্রার ব্যাপারে কড়াকড়ি ছিল। ওরা তাই চাইতেন ছেলেমেয়েরা নিজের দেশটাকে আগে ভাল করে দেখুক। পুর�ো দেশটাকেই প্রায় চষে ফেলেছিলেন ওরা। বেশ কাটছিল দিনগুলি। কিতাজিমাদের ছেলেদের স্কুলেও একই সমস্যা ছিল। তারা বিদেশী না হলেও কথায় আঞ্চলিক টান। তাই কিতাজিমারাও রাজী হয়ে যান একসঙ্গে ক�োয়ান�ো গ্রামে যেতে। নানান ব্যবস্থা করতে কিছু টা সময় লাগবে। তাই ঠিক হয় বছর-শেষে ক�োয়ান�োতে যাবেন। নতুন বছর

Anjali

www.batj.org


স্বচ্ছ ভ দিয়েই শুরু হবে নতুন জীবন। ভবিষ্যতের নানা জল্পনা-কল্পনা করে যাবার দিনের আশায় উন্মুখ হয়ে দিন কাটছিল। কিন্তু সব পরিকল্পনাকে বানচাল করে এল�ো সেই বিভীষিকায় ভরা দিনটা। সেই দিনটার কথা ভাবলে আজও তামিক�োর চ�োখে জল আসে। ব্যথায় মন ভরে যায়। সময়টা ছিল শরতকাল। একটা বিয়েতে য�োগ দিতে কিতাজিমারা গাড়ীতে মিত�ো গিয়েছিলেন। জায়গাটা ট�োকিও থেকে গাড়ীতে কয়েক ঘন্টার পথ। ফেরার পথে একটা ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে তাদের গাড়ীর। ছ�োট্ট মেয়ে সাকুরা ছাড়া কিতাজিমা পরিবারের আর কেউ বাঁচেনি। অজ্ঞান অবস্থায় তাকে পাওয়া যায় তার মায়ের বু কের কাছে। মেয়েকে বাঁচাতে ফুমিক�ো সম্ভবত তাকে জড়িয়ে ধরে শরীর দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করে। তাতেই সাকুরা বেঁচে যায়। তবে ভাল রকম আঘাত লেগেছিল তার। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এবার সমস্যা হয় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলে তাকে কার কাছে রাখা হবে? কে দেখাশ�োনা করবে? কে দায়িত্ব নেবে? কেউই রাজী নয়। আত্মীয়স্বজনেরা যখন দায় এড়াতে ব্যস্ত, তখন ক্ষুব্ধ তামিক�ো আর হির�োশি এগিয়ে আসেন তার দায়িত্ব নিতে। সাকুরা প্রায় জন্ম থেকেই তাদের দেখছে। তাই তামিক�োকে আঁকড়ে ধরে প্রথম থেকেই। আত্মীয়স্বজনদের ব্যবহারে ক্ষুব্ধ হলেও মেয়ে পেয়ে মনে মনে খুশী হলেন তামিক�ো। সেই থেকে সাকুরা মেয়ের মতনই মানু ষ হয়েছে তামিক�ো, হির�োশির কাছে। ছেলেরাও তাকে ছ�োট ব�োনের মতন দেখে। নানা আব্দার সহ্য করে। সাকুরাকে কাছে নেবার পর পরই ওঁরা ট�োকিও ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিতাজিমারা থাকাতে দু ই পরিবার একসঙ্গে সব কিছু করে দিন কাটিয়েছে। ক�োয়ান�ো গ্রামে একসঙ্গে যাওয়ার পরিকল্পনাও ত�ো ছিল। কি হয়ে গেল মাঝখান থেকে। ওঁদের অভাবে যে বিরাট এক শূ ন্যতার সৃ ষ্টি হ�োল সেটা তামিক�ো কিছু তেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই বছর-শেষের জন্যে অপেক্ষা না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে এসেছিলেন ক�োয়ান�োতে। গ্রামে স্কুল নেই, তাই ঠিক হয় গ্রামের কাছে বড় শহর আওতার স্কুলে তারা যাবে। গ্রাম থেকে ১০/১৫ কিল�োমিটার দূ রে সে শহর। গাড়ীতে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন গ্রাম প্রধান। আর পিছন ফিরে তাকান নি ওঁরা। ওঁদের সঙ্গে সঙ্গেই আরও কয়েকটা পরিবার গ্রামে আসেন। ফলে অল্প বয়সী পরিবারের সংখ্যা কিছু বাড়ল�ো। সেইসঙ্গে য�োগ হ�োল নানা

বয়সী বাচ্চারা। অনেক দিন পরে গ্রামে ছ�োট ছ�োট ছেলেমেয়েদের হাসিহুল্লোড়। নতুনদের সস্নেহে কাছে টেনে নেন প্রবীণরা। এর পর সকলের আদর ভালবাসায় নতুন জায়গায় মানিয়ে নিতে সময় নেয় নি। গ্রামের থেকে প্রতিশ্রুতি মতন চাষের জমি পেয়ে তা তৈরি করতে কিছু টা সময় গেছে। হাতে ধরে সকলে সব কিছু শিখিয়েছেন, উপদেশ দিয়েছেন। এসময়টাতে সকলের কাছ থেকে যে সাহায্য পেয়েছেন তা ভ�োলার না। ভুলবেন না স্বামী হির�োশি নিখ�োঁজ হওয়ার পরে সকলের সহয�োগিতা। ওঁকে এক দণ্ড একা ছাড়েনি কেউ। ছেলেদের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের সকলে ছু ট�োছু টি করেছেন হির�োশিকে খুঁজতে। এসব কথা ভাবতে ভাবতে নতুন করে ব্যথায় মনটা ভরে ওঠে। আপন মনে কাঁদতে থাকেন। কতক্ষণ এভাবে কেটেছে জানেন না। টেলিফ�োনের শব্দে সচকিত হয়ে চ�োখের জল মুছে তা তুলতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসে মেয়ের উদ্বিগ্ন কন্ঠস্বর --মা, এই ঝড়জলে কি করছ�ো ? কেমন আছ ? সব ঠিক আছে ত�ো ? তুমি কি একা ? গ্রামের কেউ কি এসেছে থাকতে ? এক নিঃশ্বাসে প্রশ্ন করে যায় সাকুরা। মেয়েকে আশ্বাস দেন তামিক�ো --ভাল আছি, চিন্তা করিস না। আমি একা নই। আজ রাতে থাকবে বলে ত�োম�োক�োরা সকলে এসেছে। নিজের অসু স্থতার খবরটা আর দেন না। যা পাগল মেয়ে ! শুনলে হয়ত�ো এই ঝড়জল মাথায় করে এসে হাজির হবে। তারপর কিছু ক্ষণ কথা বলে ওঁকে বার বার সাবধানে থাকতে বলে সে ফ�োন রাখল�ো। ফ�োন ছেড়ে মৃ দু হাসেন তামিক�ো। এই সেই সাকুরা --- আকিরা আর ফুমিক�োর মেয়ে। ওঁদের মৃ ত্যুর পরে ছ�োট্ট যে শিশুকে ক�োলে তুলে নিয়েছিলেন। স্বামী, ছেলে, মেয়ে, শ্বশুর শ্বাশুরীকে নিয়ে সে রীতিমতন সংসারী এখন। এই মেয়ে বিয়ের প্রস্তাব পেয়েও তামিক�োকে একা রেখে যেতে হবে বলে বিয়ে করতে রাজী হয়নি প্রথমে। অনেক বু ঝিয়ে তাকে রাজী করান তামিক�ো। মেয়েটা বড় ভাল হয়েছে। মায়ের মতনই হাসিখুশী প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা। মন তাঁর প্রসন্নতায় ভরে ওঠে। এতক্ষণ যে ব্যথায় মনটা ভরেছিল তা কেটে যায় নিমেষে। এমন সু ন্দর মেয়ের জন্যে মনে মনে বন্ধু ফুমিক�োকে কৃতজ্ঞতা জানান তামিক�ো।।

স্বচ্ছ ভারত   - ক�ৌশিক ভট্টাচার্য্য রাস্তার এক ক�োণে উপছে পড়া জঞ্জাল তার সমস্ত বীভত্সতা নিয়ে দাঁড়িয়ে। নাকে হাত রেখে তার পাশ দিয়ে চলে যায় পরিষ্কার ল�োকেরা। ক�োন�ো ময়লা নেই তাদের শরীরে বা মনে।।

www.batj.org

Durga Puja 2016

47


রান্নাবান   - চম্পা চক্

মার কাছে রন্ধন সেই আবেশ. সেই নিষ্ঠা, সেই শিল্প চেতনা যা আমায় পূ র্ণতা দেয়। তাই এবার�ো সাজিয়ে দিলাম কিছু প�োশাকী ও ঘর�োয়া খাবার যা একদিকে যেমন ঐতিহ্য, আভিজাত্যে শ্রেষ্ঠ অন্যদিকে স্বাদের এক উজ্জ্বল পরিভাষা হয়ে বিরাজিত। এর মধ্যে কিছু পদ দু র্গা পূ জার ভ�োগ হিসাবেও সমাদৃ ত। তবে সময়ের সাথে সাথে এই অনবদ্য পদগুলি লু প্ত প্রায়। তাই বাঙালীয়ানার সেই ১৬আনা গ�ৌরব আবার ফেরাতে আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস।

হলু দ-নু ন-লঙ্কা দিতে হবে। তারপর কাঁচালঙ্কাগুল�ো দিতে হবে। নাড়াচাড়া করার ফলে জল একটু শুকিয়ে এলে ম�ৌরিবাটার সঙ্গে গ�োবিন্দভ�োগ চালবাটা মিশিয়ে কড়াইতে ঢেলে দিতে হবে। কিছু ক্ষণ পর  ঝ�োল ফুটে উঠলে বেশ ঘন ঘন করে নামিয়ে নিতে হবে।      এটি বাংলাদেশের পাবনা জেলার পুরাতন পদ। এখন লু প্ত প্রায়। কইয়ের সাথে শিলন�োড়ায় পেষা ম�ৌরি …এক অনাদি অকৃত্রিম রসায়ন যা খাদ্যরসিকের রসনা তৃপ্তির অমৃ ত।

ব�োয়াল মাছের ভাঙা

আনারসিয়া-

(আড় মাছ দিয়েও রান্নাটি করা যায়)

উপকরণ- ব�োয়াল মাছ৫০০ গ্রাম (টুকর�ো করা মাছ), সরষের তেল-পরিমাণ মাফিক, মেথি-শুকন�োলঙ্কা (ফ�োড়ন হিসাবে ব্যবহৃত), আদা-৫০গ্রাম, গ�োটা কাঁচালঙ্কা-৪টি,হলু দ-২চা চামচ,ঝালের গুঁড়�ো-১ চা চামচ, স্বাদমতন-লবণ, আলু -২টি,বেগুন১টি, ঝিঙে-৩টি, উচ্ছে-১টি, পটল-৩টি, কাল�ো সরষে-১০গ্রাম, ময়দাগুঁড়�ো-সামান্য, ঝ�োলে গুলে

দেওয়ার জন্য। প্রণালী- প্রথমে তরকারি গুলি কুচি কুচি করে কেটে রাখা হল। এরপর ব�োয়ালের টুকর�োগুলিতে নু ন-হলু দ মাখিয়ে রাখা হল। কাল�োসরষে শিলে একবাটায় পেষা হল(শিল না থাকলে মিক্সিতে গুড়�ো করা), আদা বেটে নেওয়া হল। এবার ওভেনে কড়া বসিয়ে তাতে পরিমাণ মাফিক সরষের তেল দেওয়া হল। তেল গরম হলে মেথি-শুকন�োলঙ্কা ফ�োড়ন দেওয়া হল। এবার একহাতে সরষেগুঁড়�ো ও অন্য হাতে মাছ নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। ফ�োড়ন চিড়বিড় শব্দ করে উঠলে একহাতের সরষে কড়াইতে দিয়েই অন্য হাতের মাছ ছাড়তে থাকতে হবে। ভাল�ো করে নেড়েচেড়ে সবজিগুলি তাতে ছেড়ে দেওয়া হল। নু ন দেওয়া হল। সব উপকরণ একত্রিত করে নেড়েচেড়ে সামান্য জল দেওয়া হল। হলু দ, ঝালের গুঁড়�ো, কাঁচালঙ্কা দেওয়া হল। ফুটে উঠলে আদাবাটা ময়দার সাথে জলে গুলে ঝ�োলে ঢেলে দেওয়া হল। ভাল�ো করে নেড়েচেড়ে মাখ�ো মাখ�ো করে নামান�ো হল। দু র্গা পূ জার নবমী তিথিতে এই পদ ভ�োগে দেওয়ার চল ছিল।

উপকরণ- আনারস-১টি, চিনি-১ মাঝারি মাপের কাপ, কিসমিস-

১০গ্রাম, ভিনিগার-২ চামচ, মিল্কপাউডার-৪চা চামচ, নু ন-১ চিমটে, কাজুবাদাম গ�োটাকতক প্রণালী- প্রথমে আনারসের খ�োসা ছাড়িয়ে ভিনিগার দিয়ে সিদ্ধ করুন। সিদ্ধ হলে আনারসের জল ঝরিয়ে ১/২ কাপ চিনি তাতে মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। মিল্কপাউডার জলে গুলে নিন। ওভেনে কড়াই বসিয়ে তাতে আনারস দিয়ে একটু নেড়ে চেড়ে মিল্কপাউডার দিন। বাকি ১/২ কাপ চিনি, নু ন, কিসমিস দিন। সামান্য জল দিয়ে ভাল�ো করে নাড়তে থাকুন। বেশ ঘন হয়ে এলে নামিয়ে নিন। কাজু ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

মায়ালু মাধুর্য্য উ প ক র ণ - আ লু - ২ ৫ ০ গ্রাম , খ�ো য় া ক্ ষী র - ১ ০ ০ গ্রাম , ছ া ন া ১৫০গ্রাম,চিনি-২৫০গ্রাম,পেস্তা-২৫গ্রাম,দু ধ১কিল�ো,খ�োয়াক্ষীরের গুঁড়�ো-১/২ মাঝারি কাপ,গ�োলাপজল-১চা চামচ প্রণালী- আলু প্রথমে সিদ্ধ করে খ�োসা ছাড়িয়ে খ�োয়াক্ষীর, ছানা, চিনি সহয�োগে মেখে আধঘন্টা রাখতে হবে। আধঘন্টা পর প্যানে অল্প দু ধে আলু র মিশ্রণ দিয়ে ভাল�ো করে নেড়েচেড়ে নিতে হবে। ওই মিশ্রণ হাওয়ায় ঠান্ডা করার জন্য রেখে দিতে হবে। এবার দু ধ জ্বাল দিতে দিতে যতটা পরিমাণ তার অর্ধেক করে ফেলতে হবে। ওই মিশ্রণকে এবার গ�োল গ�োল আকৃতি করে গড়ে নিতে হবে। তার উপর ঐ ঘন দু ধের ক্রিম ঢেলে দিতে হবে। এবার খ�োয়াক্ষীর ছড়িয়ে ও পেস্তা দিলেই প্রস্তুত ঘর�োয়া ডেসার্ট।

কইমাছের ম�ৌরিবাটা

উপকরণ- বড়�ো মাপের কইমাছ -৪টি, পরিমাণ মাফিক সরষের তেল,

কাল�োজিরে-শুকন�োলঙ্কা (ফ�োড়ন হিসাবে ব্যবহৃত), শিলে মিহি করে বাটা ম�ৌরি - ৫০ গ্রাম, হলু দ২টেবিল চামচ,লঙ্কা-১/২ চা চামচ, গ�োটা কাঁচালঙ্কা-৪টি, গ�োবিন্দভ�োগ চাল বাটাআন্দাজমত�ো (মাছে মাখান�ো ও ঝ�োলে গুলে দেওয়ার জন্য), লবণ-স্বাদমতন। প্রণালীপ্রথমে কইমাছগুলিকে হলু দ-নু ন, কাঁচাতেল এবং অল্প একটু গ�োবিন্দভ�োগ চালবাটা মাখিয়ে রাখতে হবে। এরপর ওভেনে কড়া বসিয়ে তাতে সরষের তেল দিতে হবে। তেল গরম হলে তাতে কাল�োজিরে –শুকন�োলঙ্কা ফ�োড়ন দিয়ে কইমাছ ছেড়ে দিতে হবে। এপিঠ ওপিঠ করে সাবধানে ভাজতে হবে। মনে রাখতে হবে যাতে বেশি ভাজা না হয়। এবার কড়াইতে সামান্য জল ঢেলে 48

কিছু কথা- রাজশাহী জেলার সম্ভ্রান্ত পরিবার গুলিতে এই পদ প্রচলিত ছিল। বিজয়া দশমীর অতিথি আপ্যায়নে এই পদ ছিল সেরা। সেই পুরান�ো ছাঁচেই নতুনত্বের আভা মিশিয়ে আমার নিবেদন এই ১০০%ঘর�োয়া ডেসার্ট।  

Anjali

www.batj.org


আর�ো কিছুদিন   শঙ্কর বসু এমনই চলু ক আর�ো কিছু দিন আল�োয় ঢাকা থাক ধর্মযু দ্ধের প্রস্তুতি থমকে থাকা বেলায় শানান�ো হ�োক কন্যাভ্রূণ খালাশ করার হাতিয়ার আর�ো কিছু দিন চলু ক মুক্তচিন্তার শব্দছক গণতন্ত্রের শ্বাসর�োধের অপেক্ষায়। এখনই সঠিক সময় নয় দু হাত এখনই মুষ্টিবদ্ধ হয়নি এখন�ো চাইবার কথা ভ�োলেনি মানু ষ বৃ হত্তর মানু ষ, খ�োদা, ভগবান আর�ো কিছু দিন এমনই থাকবে তীব্র দারিদ্র আর অনাহার ধীরে ধীরে ওদের দু র্বল আর শান্ত করবে বীরভ�োগ্যা বসু ন্ধরা। পৃ থিবীর সব কিছু পুড়ে যাবে না আপাতত এমন ক�োনও আভাস মেলেনি শুধু ইতিউতি জ্বলে উঠছে আল�ো মাংস প�োড়ার গন্ধে গলিতে ভারী হচ্ছে বাতাস কিশ�োরীর ছিন্ন শরীর পুষ্ট করছে বক�ো হারেম, খাপ পঞ্চায়েত, কামদু নি বিপুল জনসংখ্যার নিরিখে বেশী কিছু নয় এখন�ো খারাপ কিছু ই হয়নি প্রায় সব মানু ষই এখন�ো মারণাস্ত্র হয়ে ওঠেনি।

শব্দহা   - দুহিতা সেনগ বায়না ধরল, মন খারাপের মেঘ, ক্যালেন্ডারের কাল�োর মত�ো বেরসিক এক পাতার সাদায় দাগ কাটল, মুখচ�োরা আবেগ। ঝুল ধরলে, মনের ক�োণে --ক�োন্‌অবকাশ রুটিন গ�োনে? ক�োন্‌র�োববার, বাজার ফেরত হিসাব করে ভুল? রুমাল বাড়ায় গীতবিতান, ভেজায় নজরুল। হিজিবিজির কাব্য শুনে, জলচ�ৌকি বিপদ গুনে যেই লু কিয়ে হাসে --জয়ঢাক নিয়ে আবার রবি ক্লান্ত মহাকাশে --আবছা নয়, ঝাপসা ভাল�ো, শারদ প্রাতে রাত প�োহাল�ো, আমার বাধায় ত�োমার আল�ো ধরল সেই তান --“বিষাদে হয়ে ম্রিয়মান, বন্ধ না করিও গান --সফল করি ত�োল�ো প্রাণ টুটিয়া ম�োহকারা” --আবারও ত�োমার শব্দজালে, আমার আমি হারা।।

www.batj.org

Durga Puja 2016

49


নববর্ষ - শান্তনু চক্রবর্তী এই পৃ থিবী খাচ্ছে যে পাক, সূ র্যের চার ধারে নববর্ষ আসবে ঠিকই বছর বছর ধরে, প্রশ্ন জাগে, নববর্ষ, হল�োটা তবে কার? সর্বংসহা পৃ থিবীটার, না কি শুধু ই ত�োমার আমার! তত্বকথা ভুলে বরং, দেখি এবার ফিরে নববর্ষের মানেটা কি, এত বছর ধরে, নববর্ষ মানে জানি বড়দেরকে প্রণাম আগ্রহটা পয়সা পাওয়ায়, দেখছি পরিমাণ। বছর বছর বাড়ছে দেখি যা ছিল শুধু ই দশ, আজ তা গেছে পাঁচ শততে, তবু মন মানে না বশ হাজার হাজার টাকার চেয়ে, ঐ পাঁচ শতটা দামী গুছিয়ে সেটা সরিয়ে রাখি, খ�োশ মেজাজে আমি।

তুমি সূ র্য

নববর্ষ মানে হ�োল সাঁঝে হালখাতাতে যাওয়া কালেণ্ডার আর মিষ্টি প্যাকেট, ভুরি ভুরি পাওয়া নববর্ষ মানে বু ঝি ল�োকের ক�োলাকুলি একটি দিনে পুরন�ো সব, রাগ অভিমান ভুলি।

  - নমিতা চন্দ

নববর্ষ মানেই কিছু নতুন প্রতিশ্রুতি, সিগারেটটা ছাড়তে আমার নেইত�ো ক�োনও ক্ষতি, নববর্ষ মানেই প্রচুর ভাল�ো কথা ভাবা বছর নাকি যাবেই এমন, ব�োকা, না কি হাবা!

মেঘের চাদর গায়ে দিয়ে আকাশের জানালা খুলে ত�োমার আল�োয় ভরিয়ে দিলে বিশ্ব, তুমি সূ র্য।

আমার কাছে নববর্ষ, একটি মাইল ফলক একটি বছর কাটল আর�ো, রাখলাম কি ঝলক? কেমন করে আগামী দিনে আর�ো শ্রীবৃ দ্ধি করি বিপদ বাধা সরতে থাকুক, যে পথ আমি ধরি।

সেই আল�োতে ছু টছে সবাই নিজের নিজের কাজে উদ্দেশ্য সফল হবে এটাই মনে রেখে তুমি সূ র্য।

নববর্ষ জ�োগায় যে বল, শেখায় ভালবাসা সব দু ঃখ ছাপিয়ে গিয়ে, মনে জাগায় আশা, সব কালিমা থাক না দূ রে, একটি দিনের তরে হ�োক না শুরু যাত্রা আবার নতুন দিনের ভ�োরে।।

নীল সাগরের গায়ে তুষার শৃ ঙ্গের পরে উঠছ�ো হেসে প্রভাতে তুমি সূ র্য। দিনের শেষে লু কিয়ে গেলে সন্ধ্যা তারার মাঝে স্নিগ্ধ চাঁদের মাঝে সেই আল�োয় ভরিয়ে দিলে বিশ্ব তুমি সূ র্য। মেঘের চাদর গায়ে দিয়ে আকাশের ওই জানালা খুলে আবার তুমি হাসবে তুমি সূ র্য।।

50

Anjali

www.batj.org


আরশি   - সুব্রত বনিক ওগ�ো আরশি, বলত�ো দেখি আমায় দেখে, কিছু ভুল পড়ে কি ধরা, ত�োমার ওই স্বচ্ছ চ�োখে? যা করেছি তা সবই কি ঠিক, করিনি কি বেনিয়ম কখনও না মেনে দিক? কী কী ভুল করেছি আমি সারা জীবন, যা এখন শুধরাতে চায় আমার এ অশান্ত মন? না যদি বল ক�োনটা যে আমার ছিল ভুল, তবে যে দিতে হবে সারা জীবন ভুলের মাশুল। যদি তুমি না বল�ো তবে ভুলের ব�োঝা বেড়েই যাবে, এত ভুলের পরে কাছে ম�োর কেইবা রবে? ভুলের ব�োঝা আমি আর ত�ো বাড়াতে নারাজ সঠিক পথের দিশা ম�োরে দেখাও তুমি আজ। ভুল করেও আমি আর যেন না ভুল করি আজ অতীত ভুলের জ্বালায় গুমরে গুমরে মরি। সকলে যেন ত�োমাতে একবার নিজেরে চেয়ে দেখে শুধরে নিজের ভুল সঠিক দিশায় চলতে শেখে। দিনের শেষে একবার নিজেরে আরশিতে মেলে শুধরে ভুল, সঠিক পথে এগিয়ে যাবে হেসে খেলে।।

মানবিকতার মৃ ত্য   - বিশ্বনাথ পা মানবিকতা -- আজকে ত�োমার ছু টি দেখ�ো – আমার জগত কেমন শান্তিময় জানি সন্ত্রাসে মরছে লক্ষ ক�োটি তা এমনটা ত�ো সব সময়ই হয়। মানবিকতা – আজকে ঘুমাও তুমি বড্ড বেশি করছ জ্বালাতন তৃতীয় বিশ্ব আমার জন্মভূ মি সে কথা আজ ভুলতে চায় যে মন। মানবিকতা – আজ ত�োমার নেই ত�ো দাম ব্যবসায় তুমি হয়ে গেছ হেরে ভূ ত আমার যে চাই অনেক নাম ইনাম ত�োমার কথা লাগে বড় অদ্ভুত। মানবিকতা – ক�োথায় জন্ম ত�োমার? শুনেছি ক�োন�ো পৃ থিবী নামের গ্রহে কিন্তু সেখানে মানু ষ নেই যে আর তবু ও তুমি ঘুরছ�ো কিসের ম�োহে? আজকে তুমি দেখ�ো না জগত জুড়ে সভ্যতার কেমন অগ্রগতি ত�োমাকে সবাই ছু ড়েছে আস্তাকুঁড়ে কাম্য নয় ত�ো ত�োমার উপস্থিতি। কিছু ভূ খণ্ড রক্তে হয়েছে লাল কিছু ভূ খণ্ডে চলছে চির আকাল তবু ও এসব মনকে দেয় না নাড়া মানবিকতা – মৃ ত আজ নেই সাড়া।।

www.batj.org

Durga Puja 2016

51


The Eternal Truths of the Bhagavadgita - as taught by Dr. Sarvapelli Radhakrishnan

- Summarized by Suneel Bakhshi In my continued readings of the Vedanta and the Bhagavad Gita, I realised only recently the link between Rabindranath Tagore, and Dr Sarvapelli Radhakrishnan, who I have long considered to be one of the greatest Indians, not only of our time but across the past centuries of recorded history. Tagore was perhaps Radhakrishnan’s most influential Indian mentor, and he appreciated Tagore’s emphasis on aesthetics as well as his appeal to intuition. Over some five decades, starting in 1914, Radhakrishnan had apparently repeatedly turned to Tagore’s writings to support his own philosophical ideals. Radhakrishnan’s Bhagavad Gita

“ All great doctrine, as it is repeated in the course of centuries, is coloured by the reflections of the age in which it appears and bears the imprint of the individual who restates it. Our times are different; our habits of thought, the mental background to which we relate our experience, are not quite the same as those of the classical commentators. The chief problem facing us today is the reconciliation of mankind. The Gita is especially suited for the purpose, as it attempts to reconcile varied and apparently antithetical forms of the religious consciousness, and emphasises the root conceptions of religion which are neither ancient nor modern but eternal, and belong to the very flesh of humanity, past, present and future. History poses our problems, and if we restate old principles in new ways, it is not because we will to do so, but because we must. Such a restatement of the truths of eternity in the accents of our times is the only way in which a great scripture can be of living value to mankind. ” From the above point of view, I have personally found Dr Radhakrishnan’s insights to be not only profoundly enlightening, but also, powerful in their expression and in their framing of the deep thought underlying the Gita. I believe he had the power to truly deepen ones understanding of the infinite wisdom of the Bhagavad Gita, and my intent in this article is to try to provide the key extracts of this thinking in his introductory essay to his translation of the Gita. It is worth noting that Dr. Radhakrishnan says in the Preface to his book that “ no translation of the Gita can bring out the dignity and grace of the original. Its melody and magic are difficult to recapture in another medium, as one can render the thought, but cannot fully convey the spirit. One cannot evoke in the reader the mood in which the thought was born and induce in him the ecstasy of the seer and the vision he beholds. ” I can indeed vouch for this point too, as I continue to have the great continuing blessing of learning the Bhagavad Gita in Sanskrit from my teacher, Swami Nityasuddhananda of the Ramakrishna Mission in Kankhal, Haridwar, and can compare this experience with otherwise dry readings of the Gita in English. I add this point to suggest to readers that they should continue, should they have genuine interest in this field, to organise their affairs so they can learn the great language of Sanskrit.

IMPORTANCE OF THE WORK

“ The Bhagavad-Gita is a popular poem which gives utterance to the aspirations of pilgrims of all sects who seek to tread the inner way to the city of God. We touch reality most deeply, where men struggle, fail and triumph. Millions of Hindus, for centuries, have found comfort in this great book which sets forth in precise and penetrating words the essential principles of a spiritual religion which are not contingent on ill-founded facts, unscientific dogmas or arbitrary fancies.  The Gita has exercised an influence that extended in early times to China and to Japan and latterly to the lands of the West. The two chief works of Mahayana Buddhism, “ The Awakening of Faith in the Mahayana ” and “ The Lotus of the True Law ” are deeply indebted to the teaching of the Gita. The Gita bases its message of action on a philosophy of life. It requires us to know the meaning of life before we engage in action. It does not advocate a devotion to the practical to the disparagement of the dignity of thought. Its philosophy of the practical is a derivative from its philosophy of spirit, “ Brahmvidyantargatakarmayogasastra. ” The Bhagavadgita is both metaphysics and ethics, “  brahmavidya  ” and “ yogasastra ”, the science of reality and the art of union with reality. Ethical action is derived from metaphysical realisation, and Shankaracharya urges us in his commentaries that the essential purpose of the Gita is to teach us a way out of bondage and not merely to enjoin action. ”

ULTIMATE REALITY

“ The Gita does not give any arguments in support of its metaphysical position, as only spiritual experience can provide us with proofs of the existence of Spirit. However, the Upanishads affirm the reality of a Supreme Brahman, one without a second, without attributes or determinations, who is identical with the deepest self of man. It is the pure subject whose existence cannot be ejected into the external or objective world, and so strictly speaking we cannot give any description of Brahman. The austerity of silence is the only way in which we can bring out the inadequacy of our halting descriptions and imperfect standards. The Brhadaranyaka Upanishad says : “ Where everything indeed has become the Self itself, whom and by what should one think ? By what can we know the universal knower ? ” We can only speak of It as the non-dual, advaita, that which is known when all dualities are resolved in the Supreme Identity.

The impersonality of the Absolute is not its whole significance. The Upanishads support Divine activity and participation in nature and give us a God who exceeds the mere infinite and the mere finite. The seers of the Upanishads look upon the world as meaningful. In the words of the Taittiriya Upanishad, the Supreme is that “ from which these beings are born, that by which they live and that into which, when departing, they enter. ” In the Svetasvatara Upanishad, “ He, who is one and without any colour, by the manifold wielding of His power, ordains many colours with a concealed purpose and into whom, in the beginning and the end, the universe dissolves, He is the God. May he endow us with an understanding which Extract from “ The Bhagavadgita, Introductory Essay, ” by Dr. leads to good actions. ” Again, “ Thou are the woman, thou Radhakrishnan art the man; thou art the youth and also the maiden ; thou as an old man totterest with a stick, being born. Thou art facing all directions. ” And again, “ His form is not capable of being seen; with the eye no one sees Him. They who know Him thus 52 www.batj.org Anjali


The Eternal Truths of the Bhagavadgita with the heart, with the mind, as abiding in the heart, become immortal. “ He is a universal God who Himself is the universe which he includes within his own being. He is the light within us, “ hrdyaantar jyotih. ” He is the Supreme whose shadow is life and death. The Eternal Reality therefore not only supports existence but is also the active power in the world. God is both transcendent, dwelling in light inaccessible, and yet, “ more intimate to the soul than the soul to itself. ” The Supreme is at once the transcendental, the cosmic, and the individual reality. In its transcendental aspect, It is the pure self unaffected by any action or experience, detached, unconcerned. In Its dynamic cosmic aspect, It not only supports but governs the whole cosmic action and this very Self which is one in all and above all, is present in the individual. If the universe consists of active choosing individuals who can be influenced but not controlled, for God is not a dictator, conflict is inevitable. To hold that the world consists of free spirits means that evil is possible and probable. The alternative to a mechanical world is a world of risk and adventure. If all tendencies to error, ugliness and evil are to be excluded, there can be no seeking of the true, the beautiful, and the good. If there is to be an active willing of these ideals of truth, beauty and goodness, then their opposites of error, ugliness and evil are not merely abstract possibilities, but positive tendencies which we have to resist. For the Gita, the world is the scene of an active struggle between good and evil in which God is deeply interested. The emphasis of the Gita is on the Supreme as the personal God who creates the perceptible world by His nature ( prakriti ). He resides in the heart of every being. He stirs our hearts to devotion and grants our prayers. He is the source and sustainer of values. He enters into personal relations with us in worship and prayer. The personal Ishwara is responsible for the creation, preservation and dissolution of the universe. God is responsible for both the ideal plan and the concrete medium through which the ideal becomes the actual, the conceptual becomes the cosmic. The concretization of the conceptual plan requires a fullness of existence, an objectification in the medium of potential matter. While God’s ideas are seeking for existence, the world of existence is striving for perfection. The Divine pattern and the potential matter, both these are derived from God, who is the beginning, the middle and the end, Brahma, Visnu, and Siva. God with his creative ideas is Brahma. God who pours out His love and works with a patience which is matched only by His love is Visnu, who is perpetually at work saving the world. When the conceptual becomes the cosmic, when heaven is established on earth, we have the fulfilment represented by Siva. God is at the same time wisdom, love and perfection. The three functions cannot be torn apart. Brahma, Visnu and Siva are fundamentally one though conceived in a threefold manner. The Gita is interested in the process of redeeming the world. So the aspect of Visnu is emphasised. Krishna represents the Visnu aspect of the Supreme. Visnu is a familiar deity in the Rg. Veda. He is the great pervader, from vis, to pervade. He is the internal controller who pervades the entire universe. He gathers to Himself in an ever increasing measure the position and dignity of the Eternal Supreme. Taiterriya Upanishad says : “ To Narayana we bring worship ; to Vasudeva our meditations and in this way may Visnu assist us. ” Krishna, the teacher of the Gita, becomes identified with Visnu, the ancient Lord of the Sun, and Narayana, an ancient God of cosmic character and the goal or resting place of gods and men. The Real is the supracosmic, eternal, spaceless, timeless Brahman who supports this cosmic manifestation in space and time. He is the Universal Spirit, Paramatman, who ensouls the cosmic forms and movements. He is the Paramesvara who presides over the individual souls and movements of nature www.batj.org

and controls the cosmic becoming. He is also the Purusottama, the Supreme Person, whose dual nature is manifested in the evolution of the cosmos. He fills our being, illumines our understanding and sets in motion its hidden springs. He puts forth his active nature ( svam prakrtim ) and controls the souls who work out their destinies determined by their own natures. While all this is done by the Supreme through his native power exercised in this changing world, He has another aspect untouched by it all. He is the impersonal Absolute as well as the immanent will ; He is the uncaused cause, the unmoved creator. While dwelling in man and nature, the Supreme is greater than both. The boundless universe in an endless space and time rests in Him and not He in it. The God of the Gita cannot be identified with the cosmic process for He extends beyond it. While there is one reality that is ultimately perfect, everything that is concrete and actual is not equally perfect. ”

KRISHNA, THE TEACHER

“ The book is called Bhagavadgita because Krishna is known in the Bhagavata religion as Sri Bhagavan. The doctrine which he preaches is the Bhagavata creed. In the Gita, Krishna says that he is not expressing any new view but is only repeating what has been preached to him by Vivasvan and by Vivasvan to Manu and by Manu to Iksvaku. In the Gita Krishna is identified with the Supreme Lord, the unity that lies behind the manifold universe, the changeless truth behind appearances, transcendent over all and immanent in all. He is the manifested Lord, making it easy for mortals to know, for those who seek the Imperishable Brahman reach Him no doubt but after great toil. In the Gita, the author says : “ Delivered from passion, fear and anger, absorbed in Me, taking refuge in Me, many purified by the austerity of wisdom have attained to My state of being. ” Gita, Chapter IV, Shloka 10. The ego holds something other than itself, to which it should abandon itself. In this abandonment consists its transfiguration. A liberated soul uses his body as a vehicle for the manifestation of the Eternal. The divinity claimed by Krishna is the common reward of all earnest spiritual seekers. He is not a hero, who once trod the earth and has now left it, having spoken to his favourite friend and disciple, but is everywhere and in every one of us, as ready to speak to us now as He ever was to any one else. He is not a bygone personality but the indwelling spirit, an object for our spiritual consciousness. God is never born in the ordinary sense. When any finite individual develops spiritual qualities and shows large insight and charity, he sits in judgement on the world and starts a spiritual and social upheaval and we say that God is born for the protection of the good, for the destruction of evil and the establishment of the kingdom of righteousness. As an individual, Krishna is one of millions of forms through which the Universal Spirit manifests itself. The avatara is the demonstration of man’s spiritual resources and latent divinity. In the great souls we call incarnations, God who is responsible for the being and dignity of man has more wonderfully renewed it. Whenever by the abuse of freedom unrighteousness increases and the world gets stuck in a rut, He creates Himself to lift the world from out of its rut and set it on new tracks. Out of His love he is born again and again to renew the work of creation on a higher plane. The theory of avatara is an eloquent expression of the law of the spiritual world. An avatara is a descent of God into man and not an ascent of man into God, which is the case with the liberated soul. Though every conscious being is such a descent, it is only a veiled manifestation. There is a distnction between the self-conscious being and the same shrouded in ignorance. The fact of descent or avatarana indicates that the Divine is not opposed to a full vital and physical manifestation. We can live in the physical body and yet possess the full truth of consciousness. Human nature is not a fetter but can become an instrument of divine life. Life and body with us, ordinary mortals, remain ignorant, imperfect and impotent means

Durga Puja 2016

53


The Eternal Truths of the Bhagavadgita of expression but they need not always be so. The Divine Consciousness uses these for Its purpose while the unfree human consciousness has not this absolute control, over the physical, vital and mental forces. Though the Gita accepts the belief in avatara as the Divine limiting Himself for some purpose on earth, possessing in His limited form the fullness of knowledge, it also lays stress on the eternal avatara, the God in man, the Divine consciousness always present in the human being. The teacher, who is interested in the spiritual illumination of the human race, speaks from the depths of the Divine in him. Krishna’s avatara is an illustration of the revelation of the Spirit in us, the Divine hidden in gloom. The glorious radiance arises from the blackest of black nights. In mysteries and revelations the night is rich. The presence of night does not make the existence of light less real. Indeed but for night there could be no human consciousness of light. The meaning of the birth of Krishna is the fact of redemption in the dark night. In the hour of calamity and enslavement the Saviour of the world is born. Krishna is said to be born of Vasudeva and Devaki. When our sattva nature is purified, when the mirror of understanding is cleansed of the dust of desire, the light of pure consciousness is reflected in it. When all seems lost, light from heaven breaks, enriching our human life more than words can tell. A sudden flash, an inward illumination we have and life is seen as fresh and new. When the Divine birth takes place within us, the scales fall from our eyes, the bolts of the prison door open. The Lord abides in the heart of every creature and when the veil of that secret sanctuary is withdrawn, we hear the Divine voice, receive the Divine light, act in the Divine power. The embodied human consciousness in us is uplifted into the unborn eternal. The incarnation of Krishna is not so much the conversion of Godhead into flesh as the taking up of manhood into God. The teacher slowly guides his pupil to attain the status which he has, “ mama sadharmyam ”. The pupil, Arjuna, is the type of struggling soul who has not yet received the saving truth. He is fighting with the forces of darkness, falsehood, limitation, and mortality which bar the way to the higher world. When his whole being is bewildered, when he does not know the valid law of action, he takes refuge in his higher self, typified as Krishna, the world teacher, “ jagadguru ”, and appeals for the grace of enlightenment. “ I am thy disciple. Illumine my consciousness. Remove what is dark in me. Give me that which I have lost, a clear rule of action. “ Every individual is a pupil, an aspirant of perfection, a seeker of God and if he seeks earnestly, with faith, God the goal becomes God the guide. ”

THE STATUS OF THE WORLD AND THE CONCEPT OF MAYA

“ If the fundamental form of the Supreme is “ nirguna ”, ( quality less ) , and “ acintya ”, ( inconceivable ), the world is an appearance which cannot be logically related to the Absolute. By It, it exists, it cannot be without It, though It causes nothing, determines nothing. While the world is dependent on Brahman, the latter is not dependent on it. This one-sided dependence and the logical inconceivability of the relation between the Ultimate Reality and the world are brought out by the word, “ maya ”. The world is not essential being like Brahman ; nor is it mere non - being. It cannot be defined as either being or non - being. Maya does not imply that the world is an illusion or is non-existent absolutely. The Gita does not uphold a metaphysical dualism ; for the principle of non-being is dependent on being. Non-being is a necessary moment in reality for the unfolding of the Supreme. If the world is what it is, it is because of the tension. The world of time and change is ever striving to reach perfection. Non-being which is responsible for the imperfections is a necessary element in the world, for it is the material in which the ideas of God are actualised. When the whole world is delivered from bondage, when it is lifted 54

into incorruption, when it becomes completely illuminated, the purpose of the Supreme is realized and the world is restored to its origin in pure Being, above all distinctions. Why is there non-being ? Why is there the fall or the precipitation from absolute being to becoming  ? This is to ask why there is the world with its perpetual strife and nonbeing ? Why is the world with its graduated hierarchy ? We can only say, it is the nature of the Supreme to express Itself in this way. We cannot account for the fact of the world but can only construe its nature, which is a strife between being and non-being in the process of becoming. In the world of true becoming, “ Samsara ”, we have the conflict between the two principles of being and non-being. Maya is derived from the root, “ ma ” , to form, to build, and originally meant the capacity to produce forms. The creative power by which God fashions the universe is sometimes called “ yogamaya ”. Maya is sometimes said to be the force of delusion ( moha ). “ Deluded by these threefold modes of nature ( gunas ), this whole world does not recognise Me who am above them and imperishable. ” Through the force of maya we have a bewildering partial consciousness which loses sight of the reality and lives in the world of phenomena. God’s real being is veiled by the play of prakrti and its modes. We must shatter all forms, get behind the veil to find the reality. God seems to be the great deceiver as He creates the world and its sense objects and turns our senses outward. The glamour of the world casts its spell on us and we become slaves to its prizes. The world or samsara is fallen, enslaved, alienated and it is full of suffering, as alienation from inward being is suffering. When it is said “ this divine maya of mine is hard to overcome ”, it means that we cannot easily pierce behind the universe and its activities. The world is not an illusion, though by regarding it as a mere mechanical determination of nature unrelated to God, we fail to perceive its Divine essence. It then becomes a source of delusion, and God seems to be enveloped in the immense cloak of maya. This relative unreality of the world is confirmed by the self - contradictory nature of the process of becoming. There is a struggle of opposites in the world of experience, and the real is above all opposites. ”

THE INDIVIDUAL SELF

“ Reality is, in its own nature, infinite, absolute, untrammelled, inalienably possessed of its own unity and bliss. In the cosmic process, dualities and oppositions which obscure the infinite undivided reality arise. In the terms of the Taittiriya Upanishad, the cosmic process has assumed the five stages of matter ( anna ), life ( prana ), mind ( manas ), intelligence ( vijnana  ), and bliss ( ananda  ). There is an inner direction given to things by reason of their participation in the creative onrush of life. The human being is at the fourth stage of vijnana or intelligence. He is not master of his acts. He is aware of the universal reality which is operating the whole scheme. He seems to know matter, life and mind. He has mastered, to a large extent, the material world, the vital existence and even the obscure workings of mentality but has not yet become the completely illumined consciousness. Progressive selfenlargement has been the impulse of nature. God’s purpose for the world or the cosmic destiny for man is the realisation of the immortal aspiration through this mortal frame, the achievement of the Divine life in and through this physical frame and intellectual consciousness. The Divine dwells in the inmost being of man and cannot be extinguished. It is the inner light, the concealed witness, which endures and is imperishable from birth to birth, untouched by death, decay corruption. It is the principle of the jiva, the psychic person which changes and grows from life to life. The matter, life and mind that fill the world are in us as well. We partake of the forces that work in the outer world. Our intellectual nature produces self-consciousness; it leads to the

Anjali

www.batj.org


The Eternal Truths of the Bhagavadgita emergence of the human individual from its original solidarity with nature. The security which he derives from the instinctive adherence to the group is lost and has to be regained at a higher level without the elimination of his personality. By the integration of his self, his unity with the world has to be achieved in a spontaneity of love and unselfish work. By developing our inner spiritual nature, we gain a new kind of relatedness to the world and grow into the freedom, where the integrity of the self is not compromised. We then become aware of ourselves as active creative individuals, living, not by the discipline of external authority but by the inward rule of free devotion to truth. The problem facing man is the integration of his personality, the development of a divine existence in which the spiritual principle has the mastery over all the powers of soul and body. This integral life is created by the spirit. After describing the whole philosophy of life, the teacher asks Arjuna to do as he chooses. The whole teaching of the Gita requires man to choose the good and realise it by conscious effort. There are, however, many impediments to this freedom of choice. Man is a complex multi-dimensional being, including within him different elements of matter, life, consciousness, intelligence and the divine spark. When we subdue the senses and keep them under control, the flame of spirit burns bright and clear “ like a lamp in a windless place. ” The light of consciousness stands in its own nature and the empirical self with its shifting tides of experience is controlled by buddhi in which is reflected the light of consciousness. We cease to belong to that which is moved about and are no more helpless tools of nature. Through struggle and suffering, man can pass from his freedom to choose good or evil to the higher freedom that abides in the steadfastly chosen good. When we make our individual being one with the Supreme, we rise above nature with its three modes, become “ trigunatita ”, freed from the bonds of the world. ”

YOGA - SASTRA

“ Every system of Indian philosophic thought gives us a practical way of teaching the supreme ideal. Though we begin with thought, our aim is to go beyond thought to the decisive experience. Man’s whole nature needs overhauling. The Bhagavadgita gives us not only a metaphysics ( brahmavidya ) but also a discipline ( yogasastra ). Derived from the root, yuj, to bind together, yoga means binding one’s psychic powers, balancing and enhancing them. By yoking together and harnessing our energies by the most intense concentration of personality, we force the passage from the narrow ego to the transcendent personality. The spirit tears itself away from its prison house, stands out of it and reaches its own innermost being. Man has a haunting sense of the vanity, the transience and the precariousness of all human happiness. Those who live on the surface of life may not feel the distress, the laceration of spirit, and may not feel any urge to seek their true good. They are human animals ( purusapasu ), and like animals they are born, they grow, they mate and leave offspring and pass away. But those who realise their dignity as men are acutely aware of the discord and seek a principle of harmony and peace. Arjuna typifies the representative human soul seeking to reach perfection and peace. When he is assailed by doubt, denial, hatred of life and black despair, he can escape from them only if God lays His hand on him. If the divine truth which is free of access to all mankind, is attained only by a few, it shows that only a few are willing to pay the price for it. The sense of insufficiency, of barrenness and dust, is due to the working of the Perfection, the mystery that lurks in the heart of creation. The invisible impulse to seek God produces the agony that inspires heroic idealism and human fulfilment. The image of God in us expresses itself in the infinite capacity for self-transcendence. ” www.batj.org

JNANA OR SAVING WISDOM

“ How is the goal of perfection to be attained ? Samsara is historical becoming. It is the temporal procession of changes from one state into the next. What keeps the world going is action or karma. If the world is nothing but ebb and flow, continual becoming, it is due to action. At the human level action is caused by desire or attachment, kama. The root cause of desire is avidya or ignorance of the nature of things. The roots of desire lie in the ignorant belief in the individual’s selfsufficiency, in the attribution of reality and permanence to it. So long as ignorance persists, it is not possible to escape from the vicious cycle of becoming. We cannot cure desires by fresh desires; we cannot cure action by more action. The eternal cannot be gained by that which is temporal. Vidya or wisdom is the means of liberation from the chain of avidya-kama-karma. Wisdom is not to be confused with theoretical learning or correct beliefs, for ignorance is not intellectual error. It is spiritual blindness. To remove it, the mind, inconstant and unstable, must be steadied so as to reflect the wisdom from above. According to Advaita Vedanta, this wisdom is always present. It is not a thing to be be acquired; it has only to be revealed. Utter silence of the mind and the will, an emptying of the ego produces illumination, wisdom, the light by which we grow into our true being. Jnana and ajnana, wisdom and ignorance are opposed as light and darkness. When wisdom dawns, ignorance dies and the evil is cut off at the root. The liberated soul conquers the world. There is nothing to conquer or create. Action no more binds, and we live in the Supreme. ”

THE WAY OF KNOWLEDGE : JNANA MARGA

“ We can reach the goal pf perfection, attain the saving truth in three ways, by a knowledge of Reality ( jnana), or adoration and love ( bhakti ) of the Supreme Person or by the subjection of the will to the Divine purpose ( karma ). These are distinguished on account of the distribution of emphasis on the theoretical, emotional and practical aspects. People are of different types, reflective, emotional or active but they are not exclusively so. At the end, knowledge, love and action mingle together. God himself is sat, cit and ananda, reality, truth and bliss. To those seeking knowledge, He is Eternal Light, clear and radiant as the sun at noonday, in which is no darkness; to those struggling for virtue, He is Eternal Righteousness, steadfast and impartial ; and to those emotionally inclined, he is Eternal Love and Beauty of Holiness. Even as God combines in Himself these features, man aims at the integral life of spirit. Cognition, will and feeling, though logically distinguishable, are not really separable in the concrete life and unity of mind. They are different aspects of the one movement of the soul. For knowing the truth, we require a conversion of the soul, the development of spiritual wisdom. Arjuna could not see the truth with his naked eyes and so was granted the divine sight. Ascent to higher levels of being, losing oneself to find the higher self can be achieved through jijnasa or disinterested passion for knowledge. It lifts man out of his narrow limits and makes him forget his self in contemplation of the universal principles of existence. Knowledge pursued for the sake of power or fame does not take us far. It must be sought for attaining truth.

Metaphysical knowledge is transformed into realisation by means of yoga or the method of concentration. From the earliest times, yoga has been employed to describe practices and experiences of a special kind which have been later adapted to the teachings of the different methods, jnana, bhakti, and karma. Each of them uses the practices of dhyannayoga or the way of meditation. Yoga is the suppression of the activities of the mind, according to Patanjali. It is by a mighty exercise of will that we can achieve this suppression of the clamour of ideas and of the rabble of desires. By ceaseless action the yogi is called upon to achieve control. ” 55 Durga Puja 2016


The Eternal Truths of the Bhagavadgita

THE WAY OF DEVOTION : BHAKTI MARG

“ Bhakti or devotion is a relationship of trust and love to a personal God. Worship of the unmanifested ( avyaktopasana ) is difficult for ordinary human beings. The sacrifice of love is not as difficult as the tuning of the will to the Divine purpose or ascetic discipline or the strenuous effort of concentration and thinking. The origin of the way of devotion is hidden in the mists of long ago, starting with the praises and prayers of the Rg. Veda. The Supreme is not a God who sleeps in serene abstraction while hearts heavy laden cry out for help, but a saving God of love believed and experienced as such by the devotee. “ This is my word of promise, that He who loveth me shall not perish. ” Bhakti is derived from the root, bhaj, to serve, and means service to the Lord. Narada defines it as an intense love for God. It is surrender in trusting appropriation of the grace of the Lord. The devotee directs his whole being to God. Adoration is the essence of religion. and the devotee has a sense of utter humility. Bhakti, in the Bhagavadgita, is an utter self-giving to the Transcendent. It is to believe in God, to love Him, to be devoted to Him, to enter into Him. It is its own reward. ”

THE WAY OF ACTION : KARMA MARG

“ The Gita opens with a problem. Arjuna refuses to fight and raises difficulties. To convert him is the purpose of the Gita. It raises the question whether action or renunciation of action is better and concludes that action is better. The teacher does not adopt the solution of dismissing the world as an illusion and action as a snare. He recommends the full active life of man in the world with the inner life anchored in the Eternal Spirit. The Gita is therefore a mandate for action. It explains what a man ought to do not merely as a social being but as an individual with a spiritual destiny. It is incorrect to think that Hindu thought strained excessively after the unattainable and was guilty of indifference to the problems of the world. We cannot lose ourselves in inner piety when the poor die at our doors, naked and hungry. The Gita asks us to live in the world and to save it. The binding quality of an action does not lie in its mere performance but in the motive or desire that prompts it. Renunciation refers, not to the act itself, but to the frame of mind behind the act. Renunciation means absence of desire. So long as action is based on false premises, it binds the individual soul. If our life is based on ignorance, however altruistic our conduct may be, it will be binding. The Gita advocates detachment from desire and not cessation from work. Samkara says : “ Liberation is accomplished by wisdom but wisdom does not spring without the purification of the heart. Therefore, for the purification of the heart one should perform all acts of speech, mind and body, prescribed in the srutis and the smritis, dedicating them to the Supreme Lord. ” Work done in such a spirit becomes a yajna or sacrifice. Sacrifice is a making sacred to the Divine. It is not deprivation or self-immolation but a spontaneous self-giving, a surrender to a greater consciousness of which we are a limitation. By such a surrender, the mind becomes purified of its impurities and shares the power and knowledge of the Divine. Action performed in the spirit of a yajna or sacrifice ceases to be a source of bondage. The Bhagavadgita gives us a religion by which the rule of karma, the natural order of deed and consequence, can be transcended. There is no element of caprice or arbitrary interference of a transcendent purpose within the natural order. The teacher of the Gita recognises a realm of reality where karma does not operate and if we establish our relations with it, we are free in our deepest being. The chain of karma can be broken here and now, within the flux of the empirical world. We become masters of karma by developing detachment and faith in God.

action and adventure. Action is for self-fulfilment. We must find out the truth of our own highest and innermost existence and live it and not follow any outer standard. Our svadharma, outward life, and svabhava, inner being, must answer to each other. Only then will action be free, easy and spontaneous. Karmayoga is an alternative method of approach to the goal of life according to the Gita and culminates in wisdom. ”

THE GOAL

“ The Gita insists on the unity of the life of spirit which cannot be resolved into philosophic wisdom, devoted love or strenuous action. We may climb the mountain by different paths but the view from the summit is identical for all. Yoga, which has for its phases, knowledge and meditation, love and service is the ancient road that leads from darkness to light, from death to immortality. The main emphasis of the Gita is the transformation of our whole nature into the immortal law and power of the Divine. The freed soul is inspired by Divine knowledge and moved by the Divine will. Anyone who attains this transcendent condition is a yogin, a realised soul, a jitatman, a disciplined and harmonised being for whom the Eternal is always present. He attains a rhythm expressed in the ecstasy of joy, the illumination of knowledge and the intensity of energy. His whole nature is subdued to the universal vision, is wrought to splendour and irradiated by spiritual light. The dialectic development cannot stop until the whole world is liberated from ignorance and evil. The world is to move forward to its ideal and those who are lost in ignorance and bewilderment are to be redeemed by the effort and example, the illumination of the freed. Anchored in the timeless foundation of our spiritual existence, the freed soul, the eternal individual works for the jivaloka; while possessing individuality of body, life and mind he yet retains the universality of spirit. As to what happens if and when the cosmic process reaches its fulfilment, when universal redemption takes place, it is difficult for us to say. The Supreme, which is infinite possibility, may take another possibility for expression. When the purpose of the cosmos is reached, when the kingdom of God is established, when it is on earth as it is in heaven, when all individuals acquire the wisdom of spirit and are superior to the levels of being in which birth and death take place, then this cosmic process is taken over into that which is beyond all manifestations. ” I would like to close this extract of Dr Radhakrishnan’s introduction to the Gita by his interpretation of the very first words of the first shloka, of the first chapter of the Gita.

THE QUESTION

“ The question : Dhrtarastra uvaca ( Dhratarastra said ) 1. Dharmakstre Kuruksetre ( In the field of righteousness, the field of the Kurus )...

The world is dharmaksetra, the batteground for a moral struggle. The decisive issue lies in the hearts of men where the battles are fought daily and hourly. The ascent from earth to heaven, from suffering to spirit, is through the path of dharma. The world is dharmaksetra, the nursery of saints where the sacred flame of spirit is never permitted to go out. It is said to be karmabhumi where we work out our karma and fulfil the purpose of soul-making. The aim of the Gita is not so much to teach a theory as to enforce practice, dharma. The Gita does not teach a mysticism that concerns itself with man’s inner being alone. Instead of rejecting the duties and relationships of life as an illusion, it accepts them as opportunities for the realisation of spiritual freedom. Life is offered to us so we may transfigure it completely. ” 

The Gita attracts all those souls who have a relish for 56

Anjali

www.batj.org


LAZINESS AGAIN - Sougata Mallik

A

s I looked outside, the landscape now replenished with green pasture, beautiful flowers, fresh air blowing – I just wondered to myself, how the year has gone by so quick. Narendra Modi has completed 2 years as Prime Minister of India, Malala Yousef and Kailash Satyarthi continue with their outstanding activities as Nobel Peace Prize winners, talented young man Neeraj Ghaywan justly wins Debut Directorial award, the latest India Budget 2016-17 announced Rs. 19,000 crore reserved under the “Pradhan Mantri Gram Sadak Yojana” (PMGSY) to connect all villages with roads.…….the year has been good in many respects. A thought dawned on me – what have I done this year or how has it been for me? January 1, 2016 when the fireworks were ushering a brand new year, I had promised myself to be more focused and organized in areas that pertain outside my professional job and the regular household chores – that is to catch up on pending work, contact friends, meet relatives, organize photos in family album and so forth were in my agenda. Eight months rolled by… how much have I done? Almost nothing! I find my concentration working in level of minutes. Every time I get to some work, I need a break. I started on a makeover / cleaning project in the house, worked for about 2.5 hours and took a 4 hours break – and God, I enjoyed the break time! There’s more to my laziness. Take for example, calling up friends. I wait till the last minute and then seek on excuse that is it too late to call, be it a local call or calling abroad. My social networks are at a minimum. Facebook and LinkedIn is all I have to connect to the world. Friends and relatives get startled when they hear I do not have WhatsApp account. Not that I cannot create one, but I don’t feel the need. I contribute this to my laziness again. Say for Facebook – I refresh it once or twice a month and read only postings that come on front screen of my cell phone. Ashamed I am to admit that I have missed many friends’ birthdays, anniversaries, their kids going to College, graduation etc. Often I am the last person to wish them well and that too sometimes later than the actual date. Kind friends and relatives I have, that they bear with this indolence of mine. Talking of laziness, I think it runs in my family. Jethu (my father’s older brother) was a man of arts – reciting, acting, singing skills adorned him profusely. Since childhood I have held awe in his deep, heavy voice recitation of the poem, “Kaalaa Pahar”. The immense emotion and vociferous voice gave me shudders as he chanted Kavi Najrul Islam’s “Khomma koro Hajrat”. But what is astounding is that all these great feats of art were rendered while he lazily lay in bed! Not that he was sick. It’s just the laziness that fetched him solace in sleeping and resting for long stretches of time. Now that I think, had he rendered the song “Din Dhal Jaaye” from film Guide while standing up, maybe his talents could have got him some fame. Technology laziness is also something not to be ignored. It runs in me, as it runs in my family. People who know me well also know how sparingly savvy I am in technology matters. For individuals of my age or our generation, we have not grown up with computers – we had to imbibe it later in life. I remember how learning computers was a scuffle. But I had no choice. It had to be accomplished especially per the requirements of everyday life, professional and personal necessity. But anything beyond that requirement was not my cup of tea. I was and am still too lazy to learn the advanced technology or to experiment on the various windows of technical knowledge that have www.batj.org

opened up. Till today, I will rather read a book or newspaper than try to get the information on Internet. Besides personal preference of reading which I try to advocate in my defense…I also admit it is personal laziness. This lethargy runs in my family too. My aunt, Aruna pishi has come up many times in my writings or I should say whatever I scribble and jot on paper. Aruna pishi is a fascinating character, the typical housewife figure – a short, plump, round lady with her definitive method of interacting with people, but always possessing a golden heart that has never yet tarnished. On my last visit to India I wanted to give her a present. It was a hard choice. Aruna pishi is not fancy of clothes or accessories. Restaurant outings will not qualify. Her amazing culinary skills will never match with any food cooked elsewhere. She is a TV addict, but really not a book lover. Modern stories do not appeal to her as did yesteryear classics. After much speculation it flashed on me that she complains of foot pain to climb up stairs and attend phone calls. Why not I gift her with a cell phone? After much persuasion I could take Aruna pishi to the Electronics shop. While signing the contract for cell phone, she looked at me as though I was conspiring internationally into a much illicit pact. When the phone rang, she petrified - like it is a bomb ticking to explode. I heard later, the cell phone has been switched off since then and placed under her pillow permanently. She has lazily avoided using it while refusing to operate a cell phone. Catching up with friends and relatives was on my new year agenda. I had been lazy with this for a long time. I must fulfill it now. Hopped into the car, crossed Canada-USA borders and set sail to meet relatives belonging to the American branch of our family tree, the relatives who have migrated 4 decades back. This trip was more to appease the common grumble I have heard:“Tui ekhon kache thakish Toronto te, othocho ashish na”(You now live close by in Toronto, but you rarely come here). The cordiality they offered was not only enviable but an honour for me. I was taken care of by everyone, fed well, kept well. We were excited with the reunion, but it also acted as an eye opener for me. My uncle was administering his hospitality while lying constantly on a cushioned, rocking chair. He swayed himself on the chair extravagantly while keeping an affectionate eye if the big chunk of hilsa fish has been offered to me, if I prefer lamb curry or chicken curry for dinner, if the sweet dish for me has been purchased from the best shop in town etc. I was overwhelmed with his hospitality, but also had an instant flash thought. It dawned upon me that the sudden emerging sluggishness I have been experiencing recently is a manifestation of my genetic records! Like my uncle, I too dream of spending time on riveted chair, the comfortable cushioned kind which I still haven’t bought for myself. Reintegration had been going well so far between me and my extended family – indulging in culinary, watching DVD-s in home theatre, reminiscing of yesteryear family anecdotes etc. But when it came to the subjective discussions, all we did was hunch on family laziness and engage in languid keys. Our scenarios were completely different. I understand there could be no universal or exact answers. My relatives migrated to North American is 1970-s directly from India, I migrated in 2000-s from an epitome Far East country, Japan. Back in their time USA was still struggling to solve their internal problem like Cold War, racial segregation and were not as receptive to foreign people or new culture as they are now. India too

Durga Puja 2016

57


LAZINESS AGAIN at that time was economically stagnant and chasing a good life in India was hardly an option. Our survival abroad now is based on intelligence and hard work. Multi culturalism has swept so far that few things are alien now. There are so many IT professionals in America today hailing from Southern India that my cousin from Moraga Bay Area, California had once jokingly said it can also be called Moragapuram. New Jersey is taken over by so many Indians that some grocery stores even sell Neem toothpaste. In North America, if you purchase house in a locality where Indian nationals predominate, you can have samosa-chai every evening and listen to bhajans in the weekends. This can be considered feasibility, comfort or perks while in foreign land. We all like to enjoy the bliss of being in a first world country while getting easy accessibility to multicultural language, customs and commodities. But what is laziness is to reside in America, drink beer while watching Football on TV and crib that India cannot improve because of the culture there. That’s exactly what my uncle carried on in between conversations. Very sluggishly he put forth negative comments regarding India’s development, infrastructure etc. The easier choice is when we are able to criticize. The harder choice will be to take a rather big pay cut, a lifestyle change and move to work in India. Me and my families in America have all been lazy, and had not taken that harder plunge in life. I had few off-days from work, with the grand coverage of statutory holidays and lieu days that fell harmoniously together in 2016 calendar. How I enjoy these rare opportunities of short vacation and ‘me-time’ as I call it. It’s grandeur when you can wake up late, not rush to work, enjoy unstructured lunch that doesn’t have to fit in a lunch box, watch endless television programs…. Needless to mention, I have been lazy-ing throughout the time. But I had promised myself to organize family photos in albums, folders. I must keep up with that resolution too. I sat with an array of photographs that commemorated birthdays, graduations, special events, trips, vacations and so much more of life. The small pieces of snapshots were a breath of fresh air. It recapped me of the times I had forgotten about, of the happy silly moments in life, the mesmerizing destinations of the earth we have been fortunate enough to traverse and lots more. I decided to distribute them in order of subject, category and date. How impressed I was with myself. Painstakingly I

58

kept separating pictures according to the set criteria. But not for long……Very soon I needed breaks, wanted to shorten the process, tried to find simplified means to organize etc etc. After few weeks and months I realized I had cropped the photo organizing process to such modus operandi, that there were hardly enough pictures in the set criteria. No one knows behindthe-scene development - yet the range of subjects, time period in the album impressed many people. But when I flipped it over in my spare time, I sighed! Had I not been so lazy, I could have created a wonderful family album which would have been much to my satisfaction. It’s almost the end of summer. The weather has started to affirm change of season. Winter will be approaching soon. It will mark the end of a year. But I have so much left to accomplish still. The kitchen needs a makeover, the summer bedding-comforters require that special wash, many errands that I had pushed away hitherto have to be completed, so many friends are still to be contacted or paid a visit…..and the list goes on. With the onset of winter it will be a fresh season to gain momentum and thrust for work. But I also know, after an undersized, industrious phase of activity I will complain of backache, cold weather, short winter days, too busy at job – and halt the progress of work that I was following. At the end it will all sum up to my laziness and I will revolve around the same insolence over and over again. But despite all this, I also believe in optimism and hope. As the saying goes ‘every cloud has a silver lining’ or ‘work well begun is half done’ – I also trust that regardless of my laziness, someday I will be able to finish the unfinished, complete the incomplete and accomplish all work that I had left pending. As I looked at the calendar, the year-end festivities of Thanksgiving, Durga Puja, Diwali are approaching. It establishes that 2016 will end soon. So all that was of this year will be packed in a past envelope. The new year will usher in and like always will rush through in high speed. And what will I do? I will wake up each day, fence through the daily routine of chores, drive 60 kilometers to work, battle through a full time employment, gasp for off-days to catch up on sleep and brush aside unfinished work on to a pending list. My laziness will once more creep in stealthily. Yet, I will make my promise – come next year, I will be proactive again!! 

Anjali

www.batj.org


Serendipity - Piali Bose

S

ikha called the other day,” You Girl? Kick butting-ly alive or whimpering somewhere in the shadows?” Didn’t know what to make of it.. this girl has a strange way of taking you by surprise..her silly jokes and the immediate laughter will irritate you at no length but amazing insight, really..to know what exactly is going on somewhere. I said..whimpering, “but can’t find the shadows”. Another bout of laughter..why..have you become an apparition? What about your own? Incorrigible, I say to myself. Here i am trying to find my lost shadow and there she has to make light of it! Gosh! I nearly got that word.. LIGHT..so light it is..ask her to focus on me and might cast a shadow just behind..get lost in my past and the present will become tomorrow again. I blink in surprise and try to dwarf down my sudden elation of “about to make a discovery!” So what was the hypothesis? I have found the shadow, and so how do i go about finding a way to get lost in it! Don’t want to share it with Sikha (she will make use of it and might earn a bonus somewhere..in some silly banter that she indulges in her usual randomness). Just have her extradict the LIGHT..the idea of making it light,the idea of throwing light and the thought of showing light..she can’t be using up all the “lighteousness!!” Engage again in the conversation..this time with a curious indignation but try not to be visible (as it is I have lost my shadow). So? I have lost my shadow, become an apparition, please let me not become a ghost of myself? Sikha lets go somewhere..tell me, she smirks..what about Mallick Bazar? Mallick Bazar? you mean the chor market near Park circus? I say. “Absolutely? Don’t You know, they sell everything..from mean chappals to fancy shadows..in all colours and shapes.” But, I dont want to buy a shadow..I say exasperated..I wanted to get into one!! Why do you seem to miss the point always and meander off track? I whispered now, see, “this is between us, don’t want to sound impetus, just don’t want to go some chor bazar type market..take me to some fancy shop which actually sells the thing..you see I want it to be guaranteed and authentic!” Could hear the throttled laughter in her voice.. did I say something outrageously funny or was it the same habit of making everything sound so silly. I mumbled suspiciously (did not want to annoy her..not at the least now..) she was the only hope. Sikha cleared her voice, thought for a moment and then came up with the most brilliant idea (first time I held her in regard.. hugh!).What about the cemetery? Although it seemed quite near Mullick Bazar, the idea appealed..righto.. the place, where people leave their shadows behind and take the light with them (thought of the numerous horror movies. Sadhana..the lady with the lamp..white and light in hand..or simply a diya in wilderness!) Sikha assuredly asserted… horrific, authentic and life time guaranteed.. It was slowly becoming a bit unbelievable,the girl actually agreeing with me and also identifying with my problem ( guess she actually feigns all those smiles always..in reality she is also chasing some lost dream). I seemed SO satisfied in my discovery...the bhoot (past) always

www.batj.org

in search of a light (the future)..thus leaving behind the shadow for search of another..we do CAST our shadows. DON’T WE? So we make and also leave behind. I think I was understanding the source of light. The enlightening moment. Thought of not sharing the discovery..what might she understand in her shallowness? I started making LIGHT of it..Cemetery? Why because ghosts have a shelter and an address? Makes sense..I smiled but I need castaway shadows of those who have gone beyond.. not with adresses..they can claim back..I joked. She seemed to understand and agreed..after all, those gone beyond,always have this extreme desire to go back, come back.. Good lord..is she becoming serious? (what if she drops the idea?). Said,no, listen, the idea of a shadow possessing an address appeals to me..at least you know whose you are donning for the moment. Like changing personalities and hiphopping in a fancy dress party! Now I seem to understand the shadow sequence of Goopi Gayen Bagha Bayen. Must have been so relevant..after all the revered Ray had made it (superficial me ,nodded in appreciation, everytime the movie was filmed). So, Sikha asked..did Goopi Bhagha don the shadow? “Yes of course they did”,I said..”Shadow of a chappal, shadow of a food, shadow of clothes..what matters to whom they belonged, they served a singular purpose of satisfaction!” So we met..last sunday..movie like, under the drizzling sky, wet and curious. Coffee was my choice but finally we disagreed to agree on Arsalan’s Biriyani..and then Sikha (whom I would have rather avoided to dine on some other day), took me on a detour to Park Street (said this was necessary after a dine as also a paan). Sarang, Satwik, Rozelle..what? Saree shops? no way? Oh come on..This was serious, the shadow stuff. The mannequin meanwhile had adorned the feathery light white jamewar and before long I had bought two..one for me and one for my shadowy mate (Sikha that is)! The Saree happened before the shadow and then a movie at Crown cinemas (never heard of it before) in between numerous mindless phone calls that she received and enjoyed speaking every moment. (uncountable boy friends, I presumed with disdain) Was getting desperate. Where was my refuge? when was it to happen? How could this podgy women, with flaky skin seem so sure of herself everytime she speaks..where did she hide her light or maybe she was actually into someone’s shadow. Sikha held my hand,crossed the road,led me to the entrance of the cemetery,looked at me and then confidently blurted..”YOU see,my shadow is calling me..I have to attend.. go back and then forth again..she will be waiting at the school gates..mighty upset at not being on time.” I stood, transfixed..did not know whether to follow, or to lead myself to my destination.. Sikha had found her shadow and in it her light..would I, mine? 

Durga Puja 2016

59


Leicester City and the Power of Miracles - Shoubhik Pal

T

he English Premier League is considered to be the most competitive league in the world. In recent seasons, almost 4 or 5 teams are tipped to challenge for the title every season. We have seen some grandstand finishes in recent years, (Manchester City scoring 2 late goals in 4 minutes to beat Queen’s Park Rangers 3-2 on the last matchday and lifting the trophy at their rivals Manchester United’s expense being the most dramatic ending) but the 2015-16 season saw something the EPL had never witnessed before. The season ended with the most unlikely of winners claiming the title. Before the season began, the odds of Leicester City winning the title were higher than socialite Kim Kardashian becoming the President of the United States. The unbelievable fact about Leicester’s unprecedented title victory was that everyone had expected them to get relegated the season before. They began April 2015 in 20th place, accumulating only 19 points from 29 games and 7 points away from safety. This was their first season back in the top flight after a long time, leading many people to write them off even before the season ended. What happened after that was a minor miracle. From the last 9 games of the season, they won 7 games and drew 1, obtaining 22 points from a possible 27 and finishing 14th at the end of the season. The manager to navigate them to this extraordinary achievement was Nigel Pearson. However, during the off-season, he was sacked for a series of controversial incidents. Step forward Claudio ‘The Tinkerman’ Ranieri. While Ranieri possessed a lot of experience in coaching various teams in various countries, it did not seem like an inspired hiring at the time. The Tinkerman’s last job as manager of the Greece national football team ended in ignominy, as he was sacked after losing to minnows Faroe Islands, a country with a population of just 46,000. Many considered Ranieri’s replacement of Pearson to be a case of twiddling thumbs with regards to the owners, as Pearson had just navigated them to safety with the unlikeliest of runs to end the season. What happened within the next 12 months of Ranieri’s hiring will be written in Premier League folklore. The situation was ripe for an upset in the 2015-16 season as a new television rights deal before the beginning of the season meant that all the clubs in the league had a major addition to their budget. This led to many mid-table clubs procuring high quality players (the key example being the wonderful DimitriPayet’s move to West Ham). Despite this, no one had given Leicester a chance. Ranieri barely made any eye-grabbing buys in the summer, with key squad player Shinji Okazaki the most prominent one. The relatively unknown N’GoloKante did not raise any eyebrows when he was bought for 5.6 million pounds, yet ended up being on the PFA Team of the Year after consistent and imperious displays in the middle of the park. Instead, Ranieri looked inwards to his existing squad to find heroes. Along with Kante, the two main architects to their title victory were RiyadMahrez and Jamie Vardy. Mahrez was bought from French second division side Le Havre in January 2014, and had barely dented the first team of Leicester before Ranieri unlocked his unique gifts. He ended the season as the PFA Player of the Year, becoming the first African to win the award. (in a league where African legends like YayaToure and Didier Drogba wreaked havoc) Jamie Vardy was playing non-league football as recently as 2010. Within 6 years, he had moved from non-league football to being one of the deadliest 60

marksmen in the Premier League. It was as meteoric a rise you could imagine. These unlikely heroes formed the backbone for Leicester’s equally unlikely title challenge. Leicester ended up being runaway winners, with runnersup Arsenal finishing 10 points below their staggering 81 points. This was a season where all the title contenders had flattered to deceive. Defending champions Chelsea had a rotten season, leading manager Jose Mourinho to be sacked midway throughafter the London club was inexplicably in the relegation zone in December. Ironically, losing to Leicester City was the last straw for the venerable Portuguese manager, his sacking being confirmed just days later. Juggernauts Manchester City started well, but lost steam as key injuries piled up. This led to them dropping points against clubs they normally expect to steamroll. Liverpool paid the price for keeping the faith in Brendan Rodgers and then sacking him 6 games into the season, with exciting replacement JurgenKloppnot having enough time to imprint his signature style for them to pull off a title challenge. North London clubs Arsenal and Tottenham pushed Leicester the hardest, but they also suffered from lapses in concentration in key points during the race. What Leicester did well throughout the season was pick up points against clubs you should be beating if you are challenging for the title. None of the other top clubs were able to do this. It was wonderful seeing Leicester settle into the role of contenders. In the beginning of the season, the tactic was to outscore the opponents and a clean sheet was rarely on the cards. Instead, they depended on the attacking talents of Mahrez and Vardy to get them over the line in games. Much of the fanfare in the first half of the season revolved around Vardy breaking the legendary Ruud van Nistelrooy’s record of 10 consecutive goal-scoring games in the Premiership. What made breaking the record special was that he did it against van Nistelrooy’s old club, Manchester United. After the turn of the year, Leicester suddenly turned into a defensive juggernaut. 1-0 victories were usually the staple as they settled into a title challenger that did everything in their power to obtain those 3 points every game. Leicester’s unlikely victory propelled other clubs to believe anything is possible if you go into every game looking for a victory. Their achievement was nothing short of a miracle. They did not retool the rulebook as much as they ripped it up and wrote another one out of scratch. It gives a lot of optimism and uncertainty into looking forward to the coming season. Will Leicester retain their title? Will one of the traditional juggernauts reclaim their throne in the pinnacle of English football? Or, more exciting, will another team pull a ‘Leicester’ and forge history yet again? 

Anjali

www.batj.org


The Origins of Indian Tea - Sumon Bhowmik

L

ong before the commercial production of tea started in India in the late 1830s, the tea plant was growing wild in the jungles of north east.

Assam In 1598, Jan Huyghen van Linschoten, a Dutch traveler, noted in a book about his adventures that the Indians ate leaves as a vegetable with garlic and oil and also boiled the leaves to make a brew. In 1788, the British botanist, Joseph Banks, reported to the British East India Company that the climate in certain British-controlled parts of north-east India was ideal for tea growing. However, he seems to have missed the fact that the plant was native to Bengal and suggested transplanting tea bushes from China. But, his idea was ignored. In 1823 and 1831, Robert Bruce and his brother Charles, an employee of the East India Company, confirmed that the tea plant was indeed a native to the Assam area, and sent seeds and specimen plants to officials at the newly established Botanical Gardens in Calcutta. But again, nothing was done - perhaps because the East India Company had a monopoly on the trading of tea from China and, as they were doing very nicely, probably saw no reason to spend time and money elsewhere.

Brahmaputra valley, with factories and housing settlements, the Assam Tea Company began to expand into other districts of north-east India. Cultivation started around the town of Darjeeling in the foothills of the Himalayas in the mid-1850s. By 1857, between 60 and 70 acres were under tea and, whereas the Chinese variety of the tea plant had not liked the conditions in Assam, here at elevations of 2,500 to 6,000 feet, it grew well. The company pushed on into Terai and Dooars and even into the remote Kangra valley, 800 miles west of Darjeeling. In the south-western tip of the country, experimental plantings had been made in 1835, while the first nurseries were being established in Assam. By the mid-1850s, tea was growing successfully alongside coffee. The climate of the Nilgiri Hills, or Blue Mountains, seemed to suit the plant, and the area under tea steadily expanded. In 1853, India exported 183.4 tons of tea. By 1870, that figure had increased to 6,700 tons and by 1885, 35,274 tons. Today, India is one of the world’s largest producers of tea with 13,000 gardens and a workforce of more than 2 million workers. 

But in 1833, everything changed. The company lost its monopoly and suddenly woke up to the fact that India might prove a profitable alternative. A committee was set up, Charles Bruce was given the task of establishing the first nurseries, and the secretary of the committee was sent off to China to collect 80,000 tea seeds. Because they were still not sure that the tea plant really was indigenous to India, committee members insisted on importing the Chinese variety. The seeds were planted in the Botanical Gardens in Calcutta, and nurtured until they were sturdy enough to travel 1,000 miles to the newly prepared tea gardens. Meanwhile, up in Assam, Charles Bruce and the other pioneers were clearing suitable areas of land on which to develop plantations, pruning existing tea trees to encourage new growth, and experimenting with the freshly plucked leaves from the native bushes to manufacture black tea. Bruce had recruited two tea-makers from China and, with their help, he steadily learnt the secrets of successful tea production. The conditions were incredibly harsh. The area was remote and hostile, cold in winter and steamy hot in summer. Tigers, leopards, and wolves constantly threatened the lives of the workers, and the primitive settlements of the tea workers were subject to regular raids by local hill tribes. But, they persevered, and gradually the jungle was opened up, the best tea tracts cultivated under the light shade of surrounding trees, and new seedlings planted to fill gaps and create true tea gardens. Ironically, the native plants flourished, while the Chinese seedlings struggled to survive in the intense Assam heat. It was eventually decided to make subsequent plantings with seedlings from the native tea bush. The first twelve chests of manufactured tea to be made from indigenous Assam leaf were shipped to London in 1838 and were sold at the London auctions. The East India Company wrote to Assam to say that the tea had been well received by some “houses of character”, and there was a similar response to the next shipment; some buyers declaring it “excellent”. Having established a successful industry in Assam’s www.batj.org

Durga Puja 2016

61


Cultural Musings –

How to Explain the Bengali Ento - Brajeshwar Banerjee

T

here are some words in every language that are difficult to translate into others. Often the reason for that difficulty lies in the cultural connotations surrounding the word or concept. A good example in Japanese is “yoroshiku”. “Treat me well” is a commonly seen translation but that does not really convey much meaning to someone who is not familiar with the social context of its use in Japanese.

A concept in Bengali that is similarly difficult to translate or convey is “ento” (এঁট�ো) shortened from the word “uchhisto” originating from the Sanskrit word “amrista”. At its simplest, ento refers to partly eaten food which is known as mukher ento (মুখের এঁট�ো) or ento relating to the mouth. It is unacceptable to be offering ento food to gods, guests, elders, or others senior in the social hierarchy, although it may be acceptable to share such food amongst siblings or friends (rules may vary depending on the household, and so checking with mum is recommended). Ento typically conjures in many people’s minds the image of leftovers of a meal on a plate called pater ento (পাতের এঁট�ো). Although not exhaustive, there could be other kinds of ento too such as bhater ento (ভাতের এঁট�ো) relating to rice, machher ento (মাছের এঁট�ো) relating to fish, sager ento (সাগের এঁট�ো) relating to leafy greens, payesher ento (পায়েশের এঁট�ো) relating to rice milk pudding and even ento relating to son-in-laws or jamaiyer ento (জামাইয়ের এঁট�ো). Various rules and conventions govern each kind of ento. Ento sag or greens and ento payesh or rice milk pudding cannot be shared even amongst siblings and friends (typically these are thrown away or fed to animals) and food left on a plate by a man cannot be consumed by his parents-in-law as it is jamaiyer ento although there is no restriction on his wife eating it. There appears to be no equivalent ento governing daughter-in-laws. The fish ento appears to be a subset of a broader concept of aansh (আঁশ) which captures all non-vegetarian food items and so aansh or ento treatment is often applied to meat and eggs besides fish. In some households the concept is extended to cover onion, garlic and even red pulses (মুশুর ডাল). Ento is not limited to food items only. Ento applies to the utensils used for making or consuming the food and also to the place around it. Ento food on a plate makes the plate ento. If a spoon was used to eat the food you have an ento spoon. If food is eaten with hands, the hand becomes ento. Water drunk out of a glass creates an ento glass. Similarly you can get ento tea cups, bottles, and so on. Some people wish to avoid creating an ento glass (or bottle), especially when drinking water. They choose to practice and master the art of pouring the water out of the glass directly into their mouths by holding the glass above their mouths, but without their lips or tongue touching the edge of the glass, and at the same time making sure to not choke on the water or spill any on their clothes – a practice referred to as drinking algoche (আলগ�োছে). Sounds a bit like Spanish or Italian, doesn’t it? Ento also has electricity like properties in that it

62

contaminates what it touches. So, if an ento plate, spoon or hand happens to be placed touching a clean set of plates (or other utensils) those become ento too by contact. The floor where an ento plate is placed is judged to be ento as well. In the old days when rice was cooked on coal braziers made of clay (উনু ন) the braziers were considered as being bhater ento. The ento could be removed by giving the brazier a fresh wipe of clay (a small container with clay, water and a piece of cloth for applying the mixture was kept in most kitchens). A piece of cow dung cake (ঘুঁটে ভাঙা) was often added to the clay-water mixture to enhance the purifying potency. Ento can generally be removed by washing (in case of utensils or hand) or wiping (in case of floors, etc). But complications can arise in the context of urban living. If an ento plate is on a dining table that has a table cloth or a center cloth or flowers on it, do all of these become ento as well? If you kept fish in the freezer, does it make the entire fridge or its other contents ento? Would your electric rice cooker ever be non-ento? Like many deep questions, no clear answer is available for many of these and so every person must find answers to the best of his/her ability and draw the line as they see fit. If all of that seems overly complicated, help is at hand – if you are in doubt about the not-so-obvious types of ento, sprinkling some Ganges water, assuming you can get it, can banish that pesky ento at once and ensure instant purification. So now if someone asks you to translate ento yoroshiku ! 

Anjali

www.batj.org


Strange Obsession - Tapan Das “The mad professor is always obsessed with his peaplants in his small kitchen garden,” the students remarked sarcastically. “He never allows us to enjoy the green peas in his kitchen garden nor does he eat them himself; we should teach him a lesson,” they added. Mr. Bob Cotton was a wellknown professor of English in a small college in Pragjyotishpur, in the Northeast India. He lived there with his wife, Jassi, a Sardarni by birth, who was devoted to her “Cotton Sahib”. After retirement, they decided to spend the rest of their lives in their rented cottage near the mighty Brahmaputra river at Kamrup. Mr. Cotton was an impressively well-built personality, with a hawk-beaked nose, and almost resembled a Sumo wrestler. His sharp eyes beamed through his spectacles, ever keen to find naughty students, and was always waiting to vent his acid tongue to demand the usual respect he expected as a professor. But after retirement, he was a transformed man. Perhaps the acid tongue in him sobered quite a bit after he retired. The professor and Jassi alias Jaswinder Kaur, made a lovely couple, almost as if two religions were co-existing peacefully. While one had the Bible in his hand, the other had the Guru Granth Sahib. Bob Cotton was a good story-teller. He used to dramatize stories, which Jassi enjoyed. There was no dearth of stories in their life. The professor’s story-telling was always convincing. He enjoyed Indian spicy food, which Jassi prepared, especially the “green pea masala”, “pea stuffed kulcha” and “peas pulao”. He also liked “sarso da sag” and “makki da roti” but “peas” were like Heaven to him. Cleaning utensils was another chore which he did not allow Jassi to perform. Most of the time, he would take up the role of the dishwasher. Jassi would lovingly call him “my firangee dishwasher”. People say that after they had lost their only son Paul, they had become very lonely. However, no one had ever seen Paul. When he was not obsessed with his pea-plants in the kitchen garden, he would watch the students of the nearby hostel playing basketball or volleyball on the nearby ground. During Christmas, the couple invited all the students of the hostel, and distributed a particular sweet-cum-chocolate known as “butter-fudge”, especially imported from England. This chocolate was their Paul’s favourite. Mr. Cotton used to place orders at the Farrah’s Sweet Shop in London, so that they could get the parcel well before Christmas. John Farrahs Harrogate, London sent the parcels to him with unfailing regularity. Sometimes, Mr. Cotton would turn into a beast when he found students stealing peas from his garden. He would never allow anybody to even look at the plants. The day the students played mischief with the pea-plants, he would go berserk and beat anyone who would come near him. Only Jassi could cool him down. He would break down and cry like a child near the portrait of his late son Paul. Addressing the hostel students, she would plead, “Please take any other fruit or vegetable from the garden but for Wahe Guru’s sake, don’t hurt him by stealing the peas.” People had not seen his son Paul. Paul, presumably, was his son by his first wife in England. He did not like to discuss his son at any point of time and kept a close secrecy about it. Anything planted by the professor grew up so well that people would talk about his father, Sir Benjamin Cotton who came to India with his family to take charge of the tea plantations in Assam. Sir Benjamin was a tea planter par excellence. After completing his studies, young Cotton went back to the UK www.batj.org

for some time for higher studies. The unfortunate death of his father, mother, and sister from malaria compelled the young Cotton to return to India. He did not like the tea plantation job. He was fond, rather, of academics. While his father liked the green valleys of Kamrup and Darjeeling, and considered them the best for the plantation of tea, young Cotton was drawn towards books and gardening. He took up a teaching job. His colleagues were bewildered by his obsession with the pea-plants but did not dare ask him why. “He is a sheer mad man,” quipped one of his colleagues, “I don’t agree,” retorted another colleague. “The way he explains the use of sound in phonetics, is simply amazing,” countered James. It was the 24th of December. The professor was, as usual, in his shorts and was watering his garden. The pea-plants grew so well that he was very happy as if he could see his son laughing. After that, he headed towards the hostel to invite students for Christmas celebrations the next morning. Some students were at his place till late at night to help him decorate the Christmas tree. A new portrait of Paul was put up in the drawing room. Even the portrait of Guru Nanak was cleaned and put into place. The students were timidly eyeing the packed boxes of the tasty “butter-fudge” which had already arrived from London. That night on Christmas eve, Mr. and Mrs. Cotton kissed each other and decided to retire to bed. Mr. Cotton wanted to sleep in the drawing room so that he could keep an eye on his kitchen garden. “If only our Paul was with us we would have gone back to our old cottage in London,” lamented the old professor. Jassi was silent. She had decided to wake up first in the morning and wish her husband a merry Christmas. It was morning. Jassi tiptoed eagerly towards the drawing-room keen on surprising Mr. Cotton. But alas! Mr Cotton was not in his bed. She peeped into the garden. He should surely be there! But what a sight! Was something wrong? She wanted to be the first to wish Mr. Cotton a merry Christmas, but there were people all around him! She ran to the garden and found Mr. Cotton lying on the ground with his eyes open. All the pea-plants had been uprooted! Mr. Cotton’s garden was totally ransacked! Oh Lord, how could this happen! She quickly touched the forehead of Mr. Cotton. But his body was very cold. She now understood what had happened. Mr. Cotton was no more. “Wahe Guru, don’t be so unkind,” she cried. “Don’t leave me alone, Cotton Sahib” cried Jassi. “What if the pea plants were Paul’s favourite? These boys are also like Paul. Forgive them.” The crowd now guessed the reason for the professor’s obsession. Green peas were Paul’s favourite! Paul presumably had sent this special variety of seed from the UK before he died. People say that after that perhaps Jassi did not live long either. Her forefathers were Sikh soldiers brought by the Mughals to Kamrup. The people of the North East and Professor Cotton’s students did not ever forget their old professor and his obsession with pea-plants. We can see the great Cotton Institute standing in its majestic grandeur reminding us of Professor Cotton even today. Kamrup, like the rest of the Northeastern region, attracts plenty of foreign tourists. It was great news when people came to know that Professor Cotton’s youngest brother, Sir William from Trinity College, London, was planning to visit the

Durga Puja 2016

63


Strange Obsession Northeast along with a group of other British tourists to pay their homage to some of their relatives who were British soldiers of the Second World War. Their memories were preserved in the war memorials in Nagaland and Manipur. Sir William Cotton decided to visit his brother’s grave too. The visit coincided with the annual day celebrations of Cotton Institute, where his brother had taught. A grand function was organized with Sir William as the chief guest. Speakers spoke about Professor Cotton, and his strange obsession with the pea-plants and his son Paul. But Sir William was disturbed! His eyes were glued to the two portraits in the corner. His brother’s portrait was recognizable but what about the other portrait? It was familiar but he could not be sure. People said it was Paul’s but who the hell was Paul? His brother was not married when he left the UK. Then suddenly, he got it! It was his (Sir William’s) own photograph which he had sent to his brother from London! He had to spill the beans: “Ladies and gentlemen, you are committing a huge blunder. Mr. Cotton, my elder brother, did not have a child at all. And the portrait standing over there is my own portrait which I sent to him.” The whole crowd stood stunned. He added, “Let me tell you, I did like the story that you have all said about his son Paul, and also about his obsession with pea-plants. But the fact is, my brother was very fond of green peas. When he was a child, he did not allow us to even share any dish made from green peas. It was a strange obsession, almost a disease. He would do anything to have green peas. In many of his letters he had written how he managed to save the pea-plants from the students and boarders. In fact he resorted to this drama to enjoy the green peas all by himself. He died of a cardiac arrest but the story that you all have narrated, though interesting, I am afraid I am unable to digest.” The crowd sat struck. As Sir William was getting down from the dais and walking towards his vehicle, there was mirth in the air, and suddenly, he could see some commotion

near the gate. An old lady was forcing her way towards Sir William and she was holding a turban-clad young white man. “Mr. William!! Can you guess? Can you recognise me or this young man?” she asked. In the meantime, the organizers had rightly guessed what was happening. They cordoned off the area. Sir William, taken aback at first, calmed down. His thought process ended with a small flash on his face. How could he not recognize the familiar face, familiar nose! He asked the lady. “If I am not mistaken, am I speaking to Mrs. Jaswinder Cotton? And if my answer is right, the young man should be Cotton Junior.” The smile on the lady’s face was enough for Sir William to react. He put his step forward and hugged the young white sardar. He said, “You look exactly like my brother but how come we did not know?” He paused a bit, tears rolling down his cheek. “Yes, it was our fault we did not keep in touch with you and Bob was to be blamed too.” The old lady took Sir William by his hand and asked him to sit on a nearby chair. “Yes! We had sent him to Canada, where my eldest sister lived.” “He is Jeetpaul Cotton; we call him Paul,” she added. “People do not know much about our son as Bob did not want that. His family thought he had become a priest. He wanted to keep it a secret as he married me against the wishes of his uncles and brothers in London,” said the old lady. “I was also in Canada. We came here last week so that we could participate in his death anniversary function. On reaching India, we got the news from the newspapers yesterday that you would be the chief guest for this function. That is why we are here,” she said.The reunion was worth witnessing. The crowd was happy to see the young white sardar, whose father Sir Cotton, was a well-known professor of English. People say Paul and his mother went back to England and stayed with his uncle. It was also believed that Paul married a local tea planter’s daughter, Junemoni, whom his mother had selected. Both were in the teaching profession in England and they were a happy family. 

Disclaimer: Strictly fiction. Resemblance to names and places could be just by coincidence.

64

Anjali

www.batj.org


THE MEASURE OF BEAUTY - Soumitra Talukder The svelte stood before the mirror lost in the conscious of her beauty, The delicate features of her soigne’ reverberated in enchantment of her image, The angelic face had the luster of ebony; the eyes carried the suppressed rage, Her delicate fingers had the slender of an artist, her aura the lure of magi. He had come in silence soft on his steps, as if not to disturb her trance, As she noticed him through her slated eyes, she asked in melody of her voice, Tell me of my allure, has it stolen the peace of your mind in the passé’….. He replied, indeed dear, the best of my endurance as I watch your reflections, Had there been no limit of civility, I would have gone but insane. Tell me oh Prince, am I the most beauteous female in the world..! The Prince smiled and replied, Oh Princess, had I been in the spell of your beauty,  Beyond the realm of truth, I would have agreed, But ask the child who clings to his mother for every support of life, Ask the beloved brother as whom he adores the most but his sister, There is the mad lover who would he adulate but than his grace in lover, Oh my Princess, the meaning of beauty is but in the domain of heart in its fervor. And the Princess embraced the Prince in a feel of joy as it was never before……!

A Dream... - Udita Ghosh A dream is like a crystal Making a miracle of light That seemed to merely fall, Now flashing in sight, Filling up your eyes On a joyful moonlit night. A dream is like a crystal, Upon contact with ground Shattered into thousands of pieces, And the unmistakable sound Of a dream breaking In the heart does resound. www.batj.org

Durga Puja 2016

65


A festival to renew - Dipankar Dasgupta From every corner of the land They bring their families and friend

Autumn in Japan

It is a time for prayers and devotion And this has been, for long, a trend

- By Srujani Mohanty

There is color and beauty everywhere Faces beaming with eagerness and joy Relationships resurrected and renewed For some, a time and place to be coy

The maple leaves mapped our palms,

its penta whorls delicate to touch

Mantras read to the beating drum

the fancy hues

Fragrance and smoke fill the space

rust, crimson, gold, green awaiting turn….

The embodiment of power and Shakti Showering on all blessings and grace

The fairyland spelt magic,

Maples lined on both sides, shone

Some devote their time to the divine

in afternoon glint, Mt Fuji

Coming early to soak in the sublime

towering over

As each auspicious day progresses

Lake Kawaguchiko, gaunt and severe

The sound and colour reaches prime

The snow atop it amid swirling

I sit in the corner gazing at her beauty

clouds, hovering, breezy maples

The world around me appearing small

murmur and float, catching

The strength of her gaze uplifts my soul

the sniff of winter

A renewed feeling, there is hope after all

As evening befall, illumination

I think of those who have toiled hard

marks the Maple corridor,

To make these few days special for all

surreal, oranges and reds

Somewhere deep down the heart feels sad

flaming to tongue the dusky skies

Why is human ego making some so small?

Shivers and the cold smote

I ask for forgiveness before I pose

but the wanderlust craves

Why is the world such a complex place

more of the autumnal wizardry

Give us Shakti Ma to cleanse our soul

Fringing the lake, the trees lure

So ego disappears without a trace

Tokyo’s Genkos peep from every street, the divine glow from golden tops touching the azure blue roof of skies…. God’s Own Country, with four seasons stellar, to captivate the myriad souls with enrapturing beauty Nihon, Thou beckoned us, The Isles, blessed by the Rising Sun, the beatific chimera remains….. not to be awakened ever! 66

Anjali

www.batj.org


मौन - श्री श्री रवी

वै

शाख माह की पूर्णिमा को बुद्ध को जब बोध प्राप्त हुआ, तो ऐसा कहा जाता है कि वे एक सप्ताह तक मौन रहे । उन्होनें एक भी शब्द नहीं बोला। पौराणिक कथायें कहती हैं कि स्वर्ग के सभी दे वता चिंता में पड़ गये। वे जानते थे कि करोड़ों वर्षों में कोई विरला ही बुद्ध के समान ज्ञान प्राप्त कर पाता है । और वे अब चुप हैं!

दे वताओं नें उनसे बोलने की विनती की। महात्मा बुद्ध ने कहा, ‘’जो जानते हैं, वे मेरे कहने के बिना भी जानते हैं और जो नहीं जानते है , वे मेरे कहने पर भी नहीं जानेंगे। एक अंधे आदमी को प्रकाश का वर्णन करना बेकार है । जिन्होनें जीवन का अमत ृ ही नहीं चखा है उनसे बात करना व्यर्थ है , इसलिए मैनें मौन धारण किया है । जो बहुत ही आत्मीय और व्यक्तिगत हो उसे कैसे व्यक्त किया जा सकता है ? शब्द उसे व्यक्त नहीं कर सकते। शास्त्रों में कहा गया है कि, “जहाँ शब्दों का अंत होता है वहाँ सत्य की शुरुआत होती है ’’। दे वताओं ने उनसे कहा, ‘’जो आप कह रहे हैं वह सत्य है परन्तु उनके बारे में सोचें जो सीमारे खा पर हैं, जिनको पूरी तरह से बोध भी नहीं हुआ है और पूरी तरह से अज्ञानी भी नहीं हैं। उनके लिए आपके थोड़े से शब्द भी प्रेरणादायक होंगे, उनके लाभार्थ आप कुछ बोलें और आपके द्वारा बोला गया हर एक शब्द मौन का सज ृ न करे गा’’। शब्दों का उद्देश्य मौन बनाना है । यदि शब्दों के द्वारा और शोर होने लगे तो समझना चाहिए, वे अपने उद्देश्य को पूरा नहीं कर पा रहे हैं। बुद्ध के शब्द निश्चित ही मौन का सज ृ न करें गे, क्योंकि बुद्ध मौन की प्रतिमूर् ति हैं। मौन जीवन का स्त्रोत है और रोगों का उपचार है । जब लोग क्रोधित होते हैं तो वे मौन धारण करते है । पहले वे चिल्लाते हैं और फिर मौन उदय होता है । जब कोई दख ु ी होता है , तब वह अकेला रहना चाहता है और मौन की शरण में चला जाता है । उसी तरह जब कोई शर्मिंदा होता है तो भी वह मौन का आश्रय लेता है । जब कोई ज्ञानी होता है , तो वहाँ पर भी मौन होता है । अपने मन के शोर को दे खें। वह किसके लिए है ? धन? यश? पहचान? तप्ति ृ ? सम्बन्धों के लिये? शोर किसी चीज़ के लिए होता है ; और मौन किसी भी चीज़ के लिए नहीं होता है । मौन मूल है ; और शोर सतह है । 

www.batj.org

Durga Puja 2016

67


आँखों का रिश्

- सरिता कुमारी

ड़ती-उड़ती उसकी नज़रें उन आँखों से टकराईं और वहीं ठिठक गईं। उसकी प्रतीक्षारत, बेचैन निगाहें यहाँ-वहाँ उड़ना-फिरना छोड़कर बस उन काली-कत्थई-ग्रे सी आँखों में उलझी तो उलझी ही रह गईं। पाखी को होश नहीं और न जाने वह कब तक सम्मोहित सी उन आँखों में उलझी रह जाती अगर उन आँखों की स्वामिनी स्वयं ही उसके पास आकर उस सम्मोहन की जकड़न से उसे छुड़ा न लेतीं। “क्या आप मुझे जानती हैं?”  उन आँखों...नहीं नहीं...उनकी स्वामिनी ने पाखी से शब्दों से ही नहीं आँखों में छलकते, हिलोरें लेते सवालों के साथ चाशनी में डूबे गुलाबजामुन से ये मीठे -मीठे शब्द बड़े अपनेपन से उस पर उड़ेल दिए। पाखी झेंप गई। उन आँखों की जानी-पहचानी मीठी सी कशिश ने कुछ पलों के लिए उसे सब कुछ भुला दिया था। वह कौन है , यहाँ इस भीड़ भरे रे स्टोरें ट में क्यों है और क्या कर रही? सब कुछ। पर खुद को सँभालते हुए, अपनी झेंप मिटाकर उसने उसी विनम्रता से उत्तर दिया, “जी...जी नहीं! माफ कीजिएगा...मैं नहीं जानती आपको।” “ओह! जिस तरह से आप मुझे इतनी दे र से, इतने प्यार और अपनेपन से दे ख रहीं थीं, मुझे लगा आप मुझे जानती हैं... और शायद मैं ही आपको पहचान नहीं पा रही।” उस 23-24 वर्ष की इकहरे बदन की साँवली-सलोनी सी लड़की ने थोड़ा निराश होते हुए कहा। मानो उसे उम्मीद थी कि कोई भूली-बिसरी कड़ी आज अचानक हाथ लग जाएगी। बात तो सच थी उनकी, वह इतने गौर से उन्हें एकटक क्यों दे खे जा रही थी, क्या जवाब दे ? कैसे बताए कि वह उनकी आँखों में सच ही किसी बिछड़े हुए का पता दे ख पा रही थी...कैसे कहे कि वह आँखें उसे अपनी बहुत अपनी लगी थीं। पर वह ऐसा कुछ न कह पाई। उसे कोई उपयुक्त जवाब नहीं सूझा तो वह बस चुप रह गई। उसके चेहरे को गौर से दे खती वो आँखें और उनकी स्वामिनी थोड़ा असमंजस में आ गईं। पाखी भी क्या करे वह तो ऐसी ही है , बचपन से, बहुत अन्तर्मुखी। बहुत करीबी लोगों से भी कभी खुलकर कुछ नहीं कह पाती तो अजनबी लोगों से क्या कहे ।  “मैं क्या थोड़ी दे र आपके पास बैठ सकती हूँ? मेरा नाम कामना है।”  उसने एक हाथ से उसके ठीक सामने की कुर्सी खींचते हुए और दस ू रा हाथ मुसकराते हुए उसकी ओर बढ़ाते हुए पूछा। पाखी भी मुसकरा दी। उसने अपना परिचय दे ते हुए उसका बढ़ा हुआ हाथ थाम लिया, “हाँ...बिलकुल...मैं पाखी हूँ!” “ओह कितना प्यारा नाम है ! पाखी... पा...खी...!” उसने प्रत्यक्ष ही उसका नाम गुनते हुए कहा। “किसी का इंतजार कर रही हो? बस थोड़ी दे र...न जाने क्यों तुमसे बड़ा मन कर रहा बात करने का। प्लीज अन्यथा मत लेना।” “नहीं…नहीं अन्यथा लेने जैसी कोई बात नहीं...आप प्लीज बैठिए...मेरे कुछ सहपाठी आने वाले हैं। रमन का जन्मदिन है तो वह लंच दे रहा है हमें । मैं कुछ ज्यादा ही पहले आ गई। आप बैठिए मुझे अच्छा लगेगा।” पाखी के मन में एक अद्भुत सुख की मंद बयार चलने लगी। इन चिर-परिचित आँखों का साथ वह भी इतने पास से। इस वक्त उसे इससे अधिक कुछ नहीं चाहिए था। पर अपनी सोच पर वह खुद ही झेंप गईं।वह सुंदर-सलोना चेहरा उसे ही दे खे जा रहा था। “मैं भी अपने एक दोस्त का इंतजार कर रही लंच पर...पर लगता है वह थोड़ा लेट हो गया...जब तक मेरे दोस्त या तुम्हारे दोस्तों में से कोई आ नहीं जाता। हम थोड़ा गप-शप कर लेते हैं। अगर...तुम्हें कोई ऐतराज न हो।” उसने अंतिम वाक्य थोड़ा झिझकते हुए जोड़ा। “नहीं...नहीं! आप प्लीज ऐसा न कहें । मुझे खुद आपसे बात करके न जाने क्यों बहुत अच्छा लग रहा है । आप बैठिए आराम से!” 68

पाखी ने भरसक उन्हें आश्वस्त करते हुए कहा। उसे डर था कहीं ये बिछड़ी हुई सी आँखें फिर कहीं गुम न हो जाएँ।कामना खुश हो गई और मेज पर पाखी के ठीक सामने वाली कुर्सी पर निश्चिंत होकर बैठ गई। बैठते ही उसकी बातों का पिटारा खुल गया। दनु िया-जहान की बातें वह इतने अपनेपन से पाखी से करने लगी मानो वो कई जन्मों से एक-दस ू रे से परिचित हों। पाखी की पढ़ाई-लिखाई, रुचियाँ, दोस्त, परिवार न जाने क्या-क्या। पाखी कभी चौंकती, कभी मुसकरा दे ती, कभी मुग्ध चुपचाप बस उन्हें सुनती, दे खती रहती। सदै व की मितभाषी पाखी का योगदान हाँ...हूँ...या एकाध वाक्य से अधिक नहीं था। वह है रान थी कैसे सिर्फ आँखें ही नहीं यहाँ तो स्वभाव में भी अद्भुत समरूपता थी। उसका मन इन आँखों से जुड़े सारे दर्द भूलकर एक मीठी पहचान भरी ऊष्मा से भर गया। आज कितने समय बाद जैसे उसे सुकून मिला, वही हाव-भाव और एकदम वही आँखें इन्द्रधनुषी रं गों से भरपूर। उसका मन चाह रहा था कामना बस यूँ ही बैठी रहे , बातें करती रही, उसकी दख ु ती रग-रग पर नरम मुलायम मलहम रखती रहे । इस पीड़ा से कहीं से भी, कैसे भी राहत तो मिले। पर यह चिरकाल तक सम्भव नहीं था। “ओह अरविंद आ गए।” कामना ने अपनी रिज़र्व सीट की ओर दे खते हुए कहा। “पाखी तम ु मझ ु े अपना फोन नम्बर दो न प्लीज। हम कांटैक्ट में रहें गे। तुमसे बात करके बहुत अच्छा लगा...दे खो मैं तुम्हें तुम ही कहूँगी, मुझसे तो तुम तीन साल छोटी निकली।” कामना ने जब पूरे अधिकार से कहा तो वह मुसकराए बिना रह न सकी।  “बिलकुल...आप तुम ही कहिए।” फोन नम्बर के आदान-प्रदान के बाद वे अपने-अपने दोस्तों में मशगूल हो गईं, थोड़ी ही दे र में पाखी के सारे दोस्त भी आ गए थे। बात आई-गई हो गई। पर कामना की वो आँखें पाखी का पीछा करती ही रहीं हर पल। उन आँखों में पाखी को अपनी खोई खुशियों के खजाने की चाभी पड़ी दिख रही थी। वह बेचन ै थी उन आँखों की स्नेहिल ऊष्मा पाने के लिए। रे स्टोरें ट में अपना लंच करते हुए कामना की नजरें रह-रह कर पाखी की नजरों से मिलती रहीं थीं और जाते हुए उसने हाथ को कान पर लगाते हुए जल्द ही कॉल करने का इशारा किया था। अपने दोस्तों से घिरी हुई पाखी ने मुसकरा कर इशारे से हामी भर दी थी।  कॉलेज से आने के बाद अपनी व्यस्तताओं से निपट कर रात में सोने से पहले पाखी ने व्हाट्सएप्प ऑन किया और नम्बर स्क्रॉल करते हुए कामना के नम्बर पर वह अनायास ही ठिठक गई। उससे मिलने के बाद से लगातार कुछ तरल सा उसके मन की बंद दीवारों में चुपचाप बह रहा था। कभी गाढ़ा हो जाता तो कभी इतना पतला की बाहर बह जाने के लिए उफान मारने लगता। पाखी पूरी ताकत से इस उफान को दबाकर मन का ढक्कन कस कर बंद कर दे ती और उस तरल को गाढ़ा बनाने में जुट जाती। इतना गाढ़ा की पत्थर होकर यह हिल भी न सके। पिछले दो सालों में वह इस तरल को पत्थर बनाने में सफल तो नहीं हो पाई पर हाँ इतना गाढ़ा बनाना तो सीख ही गई है कि इसके वक्त-बेवक्त के उफान और बहाव पर काबू पा सके। पर आज कामना से मिलने के बाद पिछले दो साल में इतनी मेहनत से बनाए उसके धैर्य के दर ु ्ग में जैसे किसी ने बेदर्दी से कई सुराख कर दिए, जिससे लाख कोशिश के बाद भी रिस-रिस कर ये तरल उसकी अन्तरात्मा भिगोए दे रहा था। पाखी व्हाट्सएप्प पर कामना के नम्बर पर उसकी डिस्प्ले पिक्चर चपच ु ाप थोड़ी दे र दे खती रही। वही आँखें… आत्मविश्वास से भरपूर, अथाह स्नेह छलकातीं पर गहरी और तेज से भरी हुईं। वह धोखा नहीं खा सकती ये वही आँखें हैं जो होश सँभालते ही से उसके अन्दर-बाहर चारों ओर मँडराती रहती थीं। सोते-जागते, हँसते-रोते, हर बात में , हर समय और अचानक वो उसकी दनु िया से एक दिन हमेशा के लिए गायब हो गईं। कैसे वह बावली सी उन्हें हर जाने-अनजाने

Anjali

www.batj.org


आँखों का रिश्

चेहरे पर खोजती रहती, उसे पता था कि वो आँखें तो यहीं इसी “दीदी आपको क्या लगता है ड्राइविंग लाइसेंस के लिए टे स्ट दनु िया में किसी और चेहरे पर जड़ी कहीं न कहीं जल-बुझ रहीं हैं। मैंने ऐसे ही पास कर लिया? आप कब तक मुझे छोटी बच्ची ही पर वो उसे अब तक कहीं नहीं मिलीं थीं। पाखी ने धीरे से बिस्तर समझती रहें गी, सिर्फ चार साल ही तो छोटी हूँ आपसे। आप को के सिराहने रखे रानू दीदी की फोटो उठाई और ध्यान से कामना लगता है मैं खुद से कुछ कर ही नहीं सकती।» की डिस्प्ले पिक्चर से तुलना करने लगी। वह थोड़ी है रान थी और उसने झल्लाहट से भरी आवाज में कहा था। बेचारी रानू साथ ही थोड़ी आश्वस्त भी...हूबहू वही आँखें, ये तो निस्संदे ह रानू दीदी सिटपिटा कर रह गईं थीं। उनकी ऐसी ही बड़ी-बड़ी आँखों में दीदी ही हैं कामना की आँखों से झाँकती। उसे प्यार से सहलाती, बेचारगी का भाव तैर गया था। समझाती, मनाती, धमकाती, डराती, खिजाती...कितना कुछ। नहीं... “सॉरी छुटकी! सॉरी...! हाँ सच में मुझे पता नहीं क्यों इतनी वह इन आँखों को पहचानने में धोखा नहीं खा सकती। कभी नहीं। घबराहट हो रही...तू कैसे स्कू टी चला लेगी...अब ठोंका की तब रानू दीदी, उसकी बड़ी बहन जो आयु में तो मात्र चार साल ही ठोंका... बस यही दिमाग में नाच रहा। चलो अच्छा अब मैं आँखें बड़ी थीं उससे पर अपने प्रभावशाली व्यक्तित्व से उसकी गार्जियन बंद करके बैठ जाती हूँ....कुछ दिखेगा नहीं तो डर भी नहीं लगेगा।» से कम नहीं समझती थीं खुद को। कहने को तो दोनों सगी बहनें उन्होंने स्वीकार करते हुए, झिझकते हुए उसे मनाने की कोशिश की। थीं पर स्वभाव में ज़मीन-आसमान का अंतर था उनमें । जहाँ रानू “नहीं, मुझे नहीं चलाना अब...इतने डर के साथ आप पीछे दीदी लबालब आत्मविश्वास से भरपूर, मेधावी, तेज-तर्रार, बहुमुखी बैठी रहें गी तो पक्का ही मैं कहीं न कहीं ठोक दँ ग ू ी आज। आप प्रतिभा की धनी, अपनी अलहदा सोच और व्यवहार से दनु िया से ही चलाइए।” अलग ही व्यक्तित्व की मालकिन और अपने विचारों से समय से पाखी नहीं मानी तो नहीं मानी। उनका चेहरा कैसा उतर गया बहुत आगे थीं। वहीं रानू बेहद शांत, सरल और सौम्य स्वभाव की था। पाखी जानती थी उसके प्रति उनका अथाह सुरक्षा भाव ही न थी। उसकी दनु िया अपनी बड़ी बहन रानू के आगे पीछे ही घूमती चाहते हुए भी उनसे ऐसा व्यवहार करा रहा था। बचपन से उसे थी। उसकी हर जरूरत, हर समस्या, हर परे शानी का सिर्फ और खरोंच भी लग जाए तो कैसा बौखला जातीं थीं। एक बार छुटपन में सिर्फ एक ही इलाज था, रानू दीदी। पड़ोस के एक लड़के ने खेल-खेल में नाराज होकर पाखी को ढकेल रानू दीदी थीं भी उसके हर मर्ज की दवा। बचपन में उसके दिया था, दीवार के कोने से उसके माथे पर चोट आ गई थी। रानू टूटे खिलौने को जोड़ने वाले ग्लू से लेकर बड़े होने पर किसी को दीदी ने दे खा तो ये कहते हुए कि «हिम्मत कैसे हुई उसकी मेरी दे खकर धड़कते दिल की रहस्यमय पुकार का मर्म समझाने वाली बहन को हाथ लगाने की» और गुस्से में लाल हुई इन्हीं आँखों से तक। उनसे उसकी कोई बात छुपी नहीं थी। वही थीं जिनके सामने क्रोध की चिनगारियाँ बरसातीं जाकर उस लड़के की मरम्मत कर वह बोलती थी तो बस बोलती रहती थी। बाहर का कोई अगर रानू आईं थीं। घर पर पापा ने रानू दीदी की कसकर क्लास लगाई थी दीदी के सामने चलती उसकी पटर-पटर सुन ले तो शायद बेहोश ही तब। पर फिर वो लड़का पाखी को दे खते ही घबराकर पल में नौ दो हो जाए कि ये गँग ग्यारह हो जाता था। इस घटना की याद आते ही पाखी मुसकरा दी। ू ी गुड़िया बोलती भी है वह भी इतना अधिक। पर उसका यह रूप सिर्फ और सिर्फ उसकी रानू दीदी के लिए था। उसकी ऐसी रानू दीदी एक दिन अचानक ही उसे छोड़कर दनु िया में «टॉमबॉय» की इमेज वाली उसकी रानू दीदी उसके लिए हमेशा के लिए चली गईं। तब नहीं सोचा क्या उन्होंने कि उसकी टॉमबॉय न होकर उसकी मार्गदर्शक, उसकी संरक्षक, उसका आदर्श पाखी का क्या होगा? यादों की गरमाहट में लिपटी, गहरी सोच में और उसकी परम मित्र...सब कुछ वह ही थीं। उनके सामने ही पाखी डूबी पाखी ने एक गहरी साँस छोड़ी। तभी मोबाइल पर कामना का असली पाखी थी। उसे याद है बचपन में रानू दीदी की छोटी बहन व्हाट्सएप्प मैसेज चमक उठा, होने के कारण कैसे रानू दीदी की छाया हर वक्त उसे अपने आगोश “स्वीट ड्रीम्स, स्वीट गर्ल! में लिए रहती थी। एक अदृश्य रानू दीदी की चादर उस पर तनी सो गई क्या? बहुत रात हो गई। रहती थी। स्कू ल में बिना परिचय ही सब उसे दे खते ही समझ जाते मैं अब फ्री हुई। फिर बात करूँगी तुमसे। थे कि वह रानू दीदी की छोटी बहन है । आज तो गुड नाइट स्वीटी।” पाखी उसके मैसेज को घूरती रही “अरे हूबहू रानू जैसी है ! ए तुम रानू की छोटी बहन हो न!” और सोचती रही कि ये क्या अजब रिश्ता जुड़ रहा इस अनजान वह हाँ में सिर हिलाती और झेंप कर भाग जाती। रानू दीदी लड़की से, सिर्फ एक आँखों के कारण...एक आँखों का रिश्ता। की बहन होने के फायदे ही फायदे थे। कितनी बार उसे क्लास “गुड नाइट कामना......दीदी।” मॉनीटर इसलिए बना दिया गया कि टीचर को लगा कि रानू की पाखी ने बहुत सोचते और झिझकते हुए मैसेज में दीदी टाइप छोटी बहन है तो वह भी रानू की तरह ही जिम्मेदार और हर बात किया।और उधर से उस पर किसेज इमोटिकॉन की बौछार हो गई।  में होशियार होगी। उसे अपनी पहचान बनाने के लिए कभी खुद “तुम तो सच में किसी मेले में बिछड़ी मेरी बहन ही हो। दिल खास जद्दोजहद नहीं करनी पड़ी। रानू का मिनी रूप उसे अपनी खुश कर दिया छुटकी, जियो मेरी डॉल।» जगह दिला ही दे ता कई बार वह सच में जिस लायक होती उससे “छुटकी!” कहीं ज्यादा ही। हाँ कभी-कभी उसे रानू दीदी की छाया होने पर पर ऐसे तो सिर्फ और सिर्फ रानू दीदी बुलातीं थीं उसे। और परे शानी भी होती जब उससे जरूरत से अधिक उम्मीदें की जातीं तब मन में तेजी से पिघलते, हिलोरें लेते तरल में उठे तूफान को सिर्फ इसलिए कि वह रानू की छोटी बहन है तो वह सच में इस पाखी नहीं रोक पाई और वह आँखों के रास्ते बह निकला। उसने अनावश्यक दबाव से तनाव में आ जाती थी। उसका मूल स्वभाव मोबाइल स्विच ऑफ किया और थोड़ी दे र तरल को ठोस बनाने रानू दीदी जैसा मुखर नहीं था और लोग अकसर यह भूल जाते थे। की कोशिश छोड़ दी। तब वह कई बार रानू दीदी से नाराज होकर शिकायत करती कि यह सुबह उठी तो मन में एक निश्चय के साथ। नाश्ते की टे बल तो उसके साथ अन्याय है । तब वो समझातीं, उसकी मदद करतीं, पर वह चुपचाप पापा को थोड़ी दे र दे खती रही, उनका मिजाज यहाँ तक की ऐसी अन्याय पर्ण भाँपने की कोशिश करती रही। खाने की टे बल पर अब कैसी ू उम्मीद रखने वालों और तल ु ना करने वालों से उसे बचाने का प्रयास करतीं, घर-बाहर, स्कू ल, हर जगह।  जानलेवा चुप्पी छाई रहती है रानू दीदी के जाने के बाद। वह होती वह जाने कैसे एक रक्षाकवच सी हर समय उसके आस-पास थीं तो खाने की टे बल पर भी ठहाके गँूजते रहते थे। पापा का होतीं और वह उनके लिए काँच सी पारदर्शी होती जिसमें अन्दर-बाहर कड़ा अनुशासन मेज़पोश के नीचे खिसका कर वह दनु िया जहान का सब कुछ उनके सामने बिखरा होता। पर कभी-कभी रानू दीदी की बातों का पिटारा खोले रहतीं। बीच-बीच में पापा की झिड़कियाँ,  का बचपन से संरक्षक बने रहने वाला रूप उसे अखर जाता। वह “रानू नाश्ता करो चुपचाप। खाते समय नहीं बोलते इतना, कितनी बड़ी हो रही थी पर रानू दीदी उसे हमेशा छोटी बच्ची ही समझतीं बार समझाया है ।” थोड़ी दे र कहने को चुप्पी और फिर वही बातों थीं। हर समय उसे सम्हालने, उसकी मदद करने को तैयार। उसका का सिलसिला, जिनमें वह पापा को भी घसीट ही लेतीं। अब खाने किशोर मन कई बार विद्रोह पर उतारू हो जाता। उसे याद है कैसे की टे बल का भाँय-भाँय करता सन्नाटा मानो मँह ु चिढ़ाता है सबका। एक बार जब वह उन्हें स्कू टी पर पीछे बैठाकर कॉलेज ले जाने की कौन बोले? रानू दीदी के अलावा घर में कोई भी बातूनी स्वभाव जिद पर अड़ गई तो वह बेमन से मान तो गईं पर रास्ते भर उनकी का नहीं था। अब तो बीच-बीच में प्लेट और चम्मच की बातचीत भयभीत टोका-टाकी और घबराहट से तंग आकर रास्ते में ही उसने की खनखन ही सुन जाती, वह तो चुप ही रहते। रानू दीदी की शह स्कू टी रोक दी थी और परे शान होकर उनसे कहा था, पर फुदकते रहने वाली पाखी अब मशीन की तरह खाकर चुपचाप www.batj.org 69 Durga Puja 2016


आँखों का रिश्

टे बल से उठ जाती। पर आज बहुत सोच-समझ कर पाखी ने धीरे से एक सवाल पापा की प्लेट पर खिसका दिया। “पापा क्या ये सम्भव है कि दो बिलकुल अनजान लोगों की आँखें बिलकुल एक जैसी हों, यहाँ तक की कद-काठी, चेहरा-मोहरा भी बहुत मिलता-जुलता हो?» पापा के हाथ जहाँ के तहाँ रुक गए। उन्होंने इस अप्रत्याशित सवाल पर चौंक कर पाखी को दे खा फिर कुछ सोचकर बोले, “क्या पता? पर नहीं हो सकते यह भी यकीन से नहीं कहा जा सकता। होने को तो कुछ भी सम्भव है ।पर तुम ये सवाल क्यों पूछ रही हो पाखी?” पाखी ने झिझकते हुए कल रे स्टोरें ट में कामना से हुई मुलाकात का पूरा किस्सा सुना दिया। पापा चुपचाप सुनते रहे पर कुछ बोले नहीं। नाश्ता करके वह बिना कुछ बोले उसका सिर हौले से थपथपा कर उठ गए। उनसे सकारात्मक प्रतिक्रिया न पाकर पाखी उनसे आगे कुछ भी न पूछ सकी। उसका निश्चय मन में ही कुलबुलाता रह गया। उसने कातर नजरों से माँ को दे खा तो वह बस मुसकरा कर इतना ही बोलीं, “कभी कामना को घर बुलाओ, हम भी मिल लेंगे उससे। और आज कॉलेज के लिए दे र नहीं हो रही क्या?» पाखी को माँ से थोड़ा हौसला मिला तो वह पूछ ही बैठी, “माँ क्या आपको नहीं लगता वो आँखें रानू दीदी की हैं?» माँ ठिठक गईं फिर वो उसके कातर हो रहे चे ह रे को मानो सां त ्वना दे ती हु ई सी बोलीं , “क्यों नहीं हो सकतीं पाखी...पर बेटे आपको पता है कि पापा क्या सोचते हैं इस बारे में ...” “पापा की छोड़िए आप क्या सोचतीं हैं मम्मा?” “पाखी! बेटा मुझे भी पापा की बात बिलकुल ठीक लगती है ... हम क्यों किसी के जीवन में हस्तक्षेप करें ? बेटे ये तो तुम्हारी दीदी की इच्छा थी...इसलिए... नहीं तो...ये आँखें भी तो कब का मिट गई होतीं और तब तुम्हें ऐसे भटकाव नहीं होता... और वैसे भी ये कभी पता नहीं चलेगा और उसकी ज़रुरत भी नहीं है ! उन बातों से तुम्हें रानू दीदी अब नहीं मिलेंगी बेटा...सब्र करो पाखी। हमारे पास कोई चारा नहीं है अब।” माँ की दर्द में डूबी आवाज से पाखी को अफसोस होने लगा कि उसने ये बात क्यों छे ड़ी। “तम ु ्हें कामना अच्छी लगी, बिलकुल रानू जैसी दिखती है तो उसे बेशक हमसे भी मिलवाओ पर बेटा मग ृ मरीचिका के पीछे न भागो पाखी।”  उसका उतरा चेहरा दे खकर उन्होंने उसे समझाने की कोशिश की।पाखी ने मानो माँ को तसल्ली दे ने के लिए एक फीकी मुसकान बिखेर दी। पाखी की अब रोज ही कामना से या तो फोन पर या व्हाट्सएप्प पर लम्बी-लम्बी बातचीत होती। पाखी है रान थी कि वह कैसे इतने कम समय में कामना से आश्चर्यजनक रूप से खुल गई थी। वह उसे दीदी ही बुलाती थी। कामना उसी के कॉलेज में रिसर्च स्कॉलर थी। जब भी उन्हें समय मिलता वह अकसर कॉलेज में मिल भी लेतीं। कामना उसे «मेरी छुटकी” कहकर कसकर गले से लगा लेती और पाखी के अन्दर का तरल जोर-जोर हिलोरें लेने लगता। वह उसकी काली,कत्थई और स्लेटी रं ग के अजब घालमेल वाली आँखों वही बिलकुल उसकी रानू दीदी जैसी आँखों में अपना खोया सुख फिर से जीने लगती। उन आँखों के सामने वह फिर से पारदर्शी होकर अपना अन्दर-बाहर सब बिखेर दे ती। जहाँ प्यार था, समझाइश थी और कभी-कभी झिड़कियाँ भी थीं।  ऐसे ही एक दिन पाखी ने बताया कि उसके माँ-पापा भी कामना से मिलना चाहते हैं। कामना सहर्ष तैयार हो गई, एक रविवार माँ ने लंच पर उस बुला लिया। कितने दिनों बाद खाने की टे बल पर वर्षों पहले की रौनक लौट आई थी। कामना के रं ग-रूप, कद-काठी, हाव-भाव और स्वभाव में रानू से अद्भुत साम्यता थी। उसे दे ख पाखी के माँ-पापा भी थोड़े है रान थे। उसका बातूनी स्वभाव, बात-बात पर उसकी खिलखिलाहट घर का कोना-कोना गमका रहा था। जाने कितने समय बाद घर की दीवारें खुलकर हँस रहीं थीं। पाखी ने माँ-पापा की आँखों में भी कामना के लिए वही पहचान दे खी जो उसने खुद उससे पहली मुलाकात में महसूस की थी। किचन में दरवाजे के पीछे माँ को चुपके से अपनी भीगी आँखें पोंछते हुए भी उसने दे ख ही लिया। 70

खाने के बाद वे दोनों पाखी के कमरे में आकर गप्पें मारने लगीं। पाखी के बेड के बगल में रखी रानू की फ्रेम की हुई तसवीर पर नजर पड़ते ही वह चौंक गई। तसवीर उठाकर वह बड़ी दे र तक गौर से उसे दे खती रही। पाखी ने उसे रानू दीदी के बारे में खास कुछ नहीं बताया था इसलिए कामना को ठीक से कुछ पता नहीं था सिवाय इसके कि उसकी एक बड़ी बहन थी। वह असमंजस में थी। उसके चेहरे पर कई रं ग एक साथ आ-जा रहे थे। उसे पाखी का अपने प्रति अद्भुत लगाव का कारण अब साफ-साफ समझ में आ रहा था। उस दिन रे स्टोरें ट में उसका अपलक उसे प्यार और कातरता से निहारना...रहस्य की परतें धीरे -धीरे उधड़ रहीं थीं। उसका खुद का पाखी के प्रति अजब झुकाव, उसे हर वक्त बार-बार दे खने की इच्छा, इन आँखों के अबूझ परदों के पीछे बंद थीं। ये आँखें... ये चेहरा… “ये मेरी रानू दीदी हैं कामना दीदी! कितनी सन ु ्दर है न...!» इस अजीब चपु ्पी को तोड़ने की गरज से पाखी ने कामना का ध्यान भंग करना चाहा। “कितनी सुन्दर आँखें हैं न इनकी एक बार इनमें झाँक लो तो बस इन्हीं के हो जाओ...और आप कितना मिलतीं हैं उनसे...आप भी वैसी ही सुन्दर हैं...बिलकुल वैसी ही आँखें हैं आपकी भी...!” पाखी ने झिझकते हुए ये भी कह ही दिया। “हाँ सचमच ु ...बहुत सन ु ्दर...बहुत ही सन ु ्दर!” कामना ने बद ु बद ु ाते हुए कहा। “दीदी की इच्छा थी कि उनके बाद उनके अंग दान कर दिए जाएँ, इसलिए उनकी आँखें, किडनी, लीवर आदि सब दान कर दिया गया था” पाखी ने धीरे से झिझकते हुए रहस्य की परतें उधेड़ी। “ओह कब?” कामना ने चौंक कर पूछा। “दो साल पहले उनकी डेथ के बाद!” ये कहकर पाखी ने तेजी से बात बदल दी, साफ था वह इस बारे में और कुछ बताने में सहज नहीं थी। पर रानू की तसवीर दे खने के बाद कामना अचानक ही चुप सी हो गई। पाखी उससे दनु िया-जहान की बातें करती रही, हँसती रही पर साफ था कि कामना उसके साथ होकर भी साथ नहीं थी, वह किसी और ही सोच में गुम हो गई थी। माँ ने चाय के लिए बुलाया तो पाखी उसे डाइनिंग टे बल पर खींच लाई। माँ ने क्या नहीं रखा था चाय के साथ, समोसे, ढोकला, पनीर के पकोड़े, बेसन के लड्डू और भी बहुत कुछ। “माँ इतना कुछ, कामना दीदी का पेट फट जाएगा आज।” “अरे ऐसे कैसे फट जाएगा...!” माँ हँस दीं। वह आज निहाल थीं उसे दे खकर। रानू की पसंद की हर चीज वह कामना को खिलाना चाहती थीं। रानू खाने की बहुत शौकीन थी और उन्हें यकीन था कि जरूर कामना को भी ये सब पसंद होगा और ये सच भी था। कामना सब भूलकर खाने में मगन हो गई थी और उसकी खिलखिलाहट फिर से घर का कोना-कोना गमका रही थी। माँ और पाखी उसे दे ख-दे ख किसी और ही दनु िया में जी रही थीं। माँ की आँखें कामना को दे ख मानो अपनी खूबसूरत बेटी की आँखों में झाँककर पहले की खशु ियाँ बटोर रहीं थीं। पाखी यह सब महसस ू रही थी, चपच ु ाप अपने वजद ू में ये माहौल सोख रही थी। कुछ साल पहले इसी खाने की टे बल पर डिनर करते समय रानू दीदी ने मानो किला फतह करने वाले अंदाज में बताया था कि उन्होंने अपने मरने के बाद अपने सारे जरूरी अंग, आँखें, किडनी, लीवर, दिल आदि सब दान करने के लिए रजिस्ट्रे शन करवा कर डोनर कार्ड ले लिया है । उनकी एक सहे ली जो उनके साथ ही एम बी बी एस के अंतिम साल में थी, उसके साथ मिलकर उन्होंने इस महान काम को अंजाम दे दिया था और यह सब बताते हुए खुशी से फूली नहीं समा रही थीं। उसकी बातें सुनकर दादी सदमे में आ गईं थीं और नाराज होकर बोली थीं, “कैसी पागल है रानू, ये सब क्या करती रहती है और क्यों करती रहती है । अभी इक्कीस बरस की भी हुई नहीं और मरने की बातें ... मुझ बूढ़ी पर भी दया नहीं आती। जरूरी अंग निकल गए तो मरने के बाद मुक्ति कैसे मिलेगी लड़की। आत्मा भटकती रहती है मरने वाले की। अक्ल कहाँ है तेरी?” “दादी…!!” रानू दीदी हँस हँस कर बेहाल हो रही थीं। “आत्मा....भटकती....!” “आत्मा को भी लीवर, किडनी की दरकार होती है क्या दादी।” हँसते-हँसते उसकी आँखों में आँसू आ गए थे। “दादी आप एक डॉक्टर पोती की दादी हैं...आपको ऐसी बातें

Anjali

www.batj.org


नहीं सोचनी चाहिए।” “रानू! मुझ बूढ़ी के सामने उसकी पोती का अपने मरने की बात सोचना ठीक है क्या?” रानू दीदी ननिहाल और ददिहाल दोनों तरफ इस पीढ़ी का पहला बच्चा थीं, कहना न होगा कि परिवार में उनकी अहमियत क्या थी। पैदा होते ही उन्होंने पता नहीं कितने नए रिश्ते एक साथ पैदा कर दिए थे। दादा-दादी, नाना-नानी, चाचा, बुआ, मौसी, मामा...न जाने कितने रिश्ते और बड़ी होते-होते अपने स्वभाव से हर किसी को एक अटूट मोहपाश में बाँधती गईं थीं। दादी की बात से उन्हें एहसास हुआ कि ये नेकी का काम किसी के दिल पर चोट भी कर सकता है । वह दादी को समझाने और मनाने लगीं और फिर दनु िया जहान की ढे रों बातें और उदाहरण बताने लगीं। सब उनकी बात सुनते रहे और वो सबको हमेशा की तरह यकीन दिलाने में सफल रहीं कि यह बहुत नेक काम है और हर इंसान को इंसानियत के नाते ऐसा करना ही चाहिए। नतीजा हर कोई उनके इस नक्शेकदम पर चलने को उतावला होने लगा। “और दादी कौन हम मरे ही जा रहे अभी...जब कभी मरें गे तब हमारे दान किए अंग दस ू रों की जिन्दगी सँवारें गे। पर अभी तो आपको पड़दादी बनाने की जिम्मेदारी भी तो पूरी करनी है हमें !” उसने शैतानी से कहा था।  “शैतान! सुधरे गी नहीं कभी ये।» दादी हँसते हुए बोलीं थीं। पर इसके एक साल बाद ही एक सड़क दर्घ ु टना में रानू दीदी दादी से किया अपना वादा अधूरा छोड़ गईं। दर्घ ु टना में उनके सिर पर घातक अंदरूनी चोट आई थी जिसका नतीजा अस्पताल पहुँचने के पहले ही उनकी साँसों की डोर टूट गई। आश्चर्यजनक रूप से उनके सारे अंग सही सलामत थे इसलिए उनकी इच्छानुसार वो सारे अंग दस ू रों में प्रत्यारोपित करने के लिए दान कर दिए गए। दादी ये

सदमा सहन नहीं कर पाईं और एक महीने के अंदर ही वह अपनी लाड़ली पोती के पास चली गईं। पीछे कलपता मन, बिलखता दिल और तार-तार सपने लिए सब जिन्दगी का साथ निभाए जा रहे थे। उनके जाने के बाद पसरा सन्नाटा आज कामना के आने से टूटा था। वही चंचल शरारती आँखें और बातें माँ-पापा और पाखी को पुराने खुशहाल समय में लौटा ले गईं थीं। कामना संग कुछ पलों के लिए वो अपनी रानू के साथ खुलकर जी रहे थे। कामना के चेहरे से साफ था कि आज नई बातें जानकार वह भी इस जिम्मेदारी को समझ रही थी, किसी के जीवन में रं ग भरने वाली उस परी को सच्ची श्रद्धांजलि दे रही थी, उसी के घर में उसी के रूप में जीकर। घर जाते हुए कामना ने गेट पर विदा करने आई पाखी के चेहरे को अपनी दोनों नरम हथेलियों में लेते हुए कहा,» ये आँखें क्यों तुम्हें दे खते ही निहाल हो जातीं थीं, आज समझ में आया। तुम्हारी दीदी ज़िन्दा है छुटकी ऐसी ही किन्हीं आँखों में , मेरे जैसी किसी कामना की आँखें बनकर। तुम्हारी दीदी जैसा ही प्यार उमड़ता है मेरी आँखों से तुम्हारे लिए।» चकित पाखी को गले लगाते हुए कामना आगे कहती जाती है , « जानती हो पाखी दो साल पहले मेरी आँखों का कार्निया ट्रांसप्लांट किया गया था, मेरी बझ ु ी आँखों की लौ फिर से जगमगाने के लिए, तम ु ्हारी दीदी या उन जैसी सोच रखने वाले किसी उदार और महान आत्मा के द्वारा किये गए नेत्रदान की ही बदौलत यह सम्भव हो पाया था!» पाखी का सिर सहला कामना उसे प्यार भरी आँखों से दे खते आगे बढ़ गई। पाखी घर के गेट पर सुन्न खड़ी रह गई। कोई सुन पाता तो सुनता, वह बुदबुदा रही थी। “तुम ज़िन्दा हो दीदी। तुम जैसे लोग कभी नहीं मर सकते।” 

अनाथ शैशव - सुनील शर्म उन नन्हें सजल नेत्रों के मात्र एक दृष्टिपात में , दर्शन हुए मझ ु े शैशव के कठोरता की रात में । स्वयं तो पाया था उसे कोमल कृति, परं तु निराधार न है इस की विकृति चक्षु सान्निध्य की प्रवर्तक वो श्याम रे खाएँ उस वत्ता ृ कार आनन में थीं गहरातीं, सख आकां क्षा से संज्ञाशन ु ू ्य, ध्वनित मक सं द े श थीं बतलातीं । ू उस असीमता में मेरे ह्रदय ने किया प्रश्न धारण घर्षित करता है तझ ु े जो उगल दे वो कारण, ढूँढा पाया तो बस पाता ही गया एक कष्ट अकेलेपन का आता ही गया। एक अनकहा भँवर हो उठा सजीव और अनकहे ही हो गया निर्जीव पाता हूँ चेतनता में अपने समक्ष सरस दृग का एक मक ू कक्ष। सम्भवत: उसी मक कक्ष से हुई यह ध्वनि ध्वनित ू यही है जीवन की भंगिमा का एक और गणित श्रवण हुआ मझ ु े उस ध्वनि में एक शोकनाद निराश्रय प्रताड़ित यही है वह शैशव अनाथ। www.batj.org

Durga Puja 2016

71


पिंजरा

- नीलम मलकानिया

कड़ी की शानदार चमकती मेज़ पर खाना लगाते समय चाँदी जड़ी अपनी पसंदीदा चॉपस्टिक को क़रीने से सजाती हुई मिदोरी ने साकुरा को पूरे लाड़ से पुकारा “साकुरा... साकुरारारारारा..खाना तैयार है ! दे खो आज मैंने तुम्हारी पसंद की आजी फ़ुराई बनाई है ।“ ब्रैड के चूरे में लिपटी भुनी हुई आजी मछली साकुरा को बहुत पसंद थी और वो अपने ख़ास अंदाज़ में उस पर नींबू वाला सॉस डालकर खाती थी। कभी कभी तो मिदोरी के दाँतों में खट्टापन घर लेता उसे दे खकर। पर जब साकुरा खाने के बाद संतुष्टिभरा चटकारा लगाती तो मिदोरी के भीतर हर बार माँ जाग उठती और वो आँखो में नौ महीने भर साकुरा को निहारने लगती। उसे लगता कि गर्भनाल अभी कटी नहीं है ।  जापानी वसंत को दे खने दनु िया भर से लोग आते हैं और चैरी के फूलों यानी साकुरा से लदे बिन पत्तों वाले पेड़ों को अचरज से दे खते हैं। जब मार्च के अंत में इन्हीं खिलते फूलों के बीच नर्स ने मिदोरी के हाथों में एक जीते जागते गुलाबी फूल को रखा और वो उसकी हथेलियों पर कुनमुनाया तब उसके मँह ु से भीगा सा एक शब्द निकला था साकुरारारारा.. और फिर उसके कई साल ख़ुश्बू से भर गए थे।  साकुरा बचपन से ही चंचल और बहुत होशियार थी। हर बात जल्दी से सीखती और अपनी हरकतों पर खुलकर हँसती। नानी और माँ दोनों को सारा दिन उलझाए रखती थी। मिदोरी ने इस बार थोड़ी बेचैनी से फिर आवाज़ लगाई। “साकुरा बेटा..आ जाओ न, मैं खाने पर तम ु ्हारा इंतज़ार कर रही हूँ।” ‘............’ कोई जवाब न पाकर मिदोरी समझ गई थी कि माँ वाला हथकंडा अब काम नहीं आएगा। भले ही वो आजी फ़ुराई बना ले या कुछ और कर ले पर अब साकुरा खाना खाने बाहर नही आएगी।  बहुत ज़िद्दी है । अड़ गई तो बस अड़ गई। 12 साल की उम्र में ही अजीब सा बड़प्पन दिखाती है और कभी-कभी रहस्य सी बन जाती है । मिदोरी थोड़ी दे र इंतज़ार करती रही और फिर चुपचाप उसके कमरे में गई। जाकर दे खा तो उसका कमरा सन ू ा था, अचानक मिदोरी को याद आया कि साकुरा तो नर्सिंग होम गई है । डॉक्टर ने फ़ोन पर बताया था कि साकुरा को थोड़ी दे र में घर भेज दें गे। उफ़्फ़ क्या हो गया है उसे। कैसे भूल गई। अचानक उसे लगा कि वो बहुत बीमार हो गई है , उसे अलज़ाइमर जैसा कोई रोग हो गया है शायद। लेकिन जो भूलना चाहिए वही सब क्यों नहीं भुला पाती। मिदोरी खाने की मेज़ पर आकर निढाल सी बैठ गई। उसे याद आया कि ऐसे ही एक दिन दबे पाँव साकुरा के कमरे में गई थी तो साकुरा थिरक रही थी, बिना किसी संगीत के। जब साकुरा की नज़र उस पर पड़ी तो उसने कंधे झुमाकर अपने कुल्हे नचाए और बाँध तोड़ती नदी सी गस ़ु ्से में बाहर भाग गई। उसे दे ख मिदोरी का रोयाँ-रोयाँ काँप उठा था। रूह कहीं और पहुँच गई थी उसकी। उफ़्फ़ ये कौन है , उसकी साकुरा तो नहीं। जापानी ख़ून नस-नस से शालीन और सभ्य। फिर ये कौन झाँक रहा है उसकी बेटी के भीतर से। अपनी बेटी में एक अलग ही दे श दिखाई दे ने लगा था उसे। ये कौन सा ज्वार है जो बेटी के शरीर से बार-बार बाहर आना चाहता है । मिदोरी अकेली ही खाना खाने लगी और बीते दिनों में खो गई। उस दिन उसे यक़ीं नही हुआ था जब टीचर ने घर पर शिकायत भरा ई-मेल भेजा था। कैसे कर सकती है साकुरा ऐसा। कैसी सनक है । दाँतों के बीच ब्लेड छिपाकर रखना और फिर अपनी क्लास के लड़के को डराना। कभी किसी की चोटी खीँच लेना तो कभी किसी का सामान छिपा दे ना।..क्यों कर रही है वो ऐसा। कितनी बार माफ़ी माँगनी पड़ी थी मिदोरी को। साकुरा का व्यवहार उसके पूरे वजूद पर सवालिया निशान लगा दे ता था। बालों को गहरा हरा 72

और नीला रं ग लिया था, सामने के बालों की एक लट में मोती पिरोकर पीछे खींच रबर लगा लेती। जो पॉकिट मनी मिलती उसे इन्हीं सब में ख़र्च करती। एक बार मिदोरी साकुरा के साथ पियानो शो दे खने गई। पर साकुरा कुछ ही दे र में ऊँघने लगी और बाहर जाने की ज़िद करने लगी। मिदोरी ने गस ़ु ्से में उसे बाहर भेज दिया और आधे मन से पियानो के सुरों में शांति तलाशने लगी। कुछ दे र बाद बाहर जाकर दे खा तो साकुरा ने अपना एक अलग ही मजमा लगा लिया था। सड़क पर प्रदर्शन करते एक कलाकार के साथ कंधे पर छोटा ड्रम रखकर बजाने लगी। लोग शांति से खड़े होकर सुन रहे थे और कुछ वहाँ रखी सी.डी. ख़रीद रहे थे।  साकुरा का व्यवहार हर चढ़ते दिन के साथ बिगड़ता जा रहा था।  कुछ समय बाद मिदोरी को इस व्यवहार का विज्ञान समझने के लिए मनोवैज्ञानिक के पास जाना पड़ा। उसने बताया कि वैसे तो साकुरा सामान्य है लेकिन शायद उसके जीवन में पिता की कमी ही इस उद्दंडता का कारण है । मिदोरी के सामने फिर एक सवाल आन खड़ा हुआ।  साकुरा के पैदा होने के कई साल बाद तक मिदोरी दहशत में रही। उसे डरावने सपने आते और वो रात को ही साकुरा को उसके बिस्तर से उठाकर अपने साथ सुला लेती। कसकर पकड़ लेती उसे। कोई उसकी दौलत उससे छीन न ले। घबराई सी रहती थी कि किसी दिन साकुरा अपने पापा के बारे में सब कुछ पूछने की ज़िद करे गी तो कैसे बता सकेगी पूरी कहानी।  मिदोरी झटके से फिर टे बल पर लौटी। किसी तरह कुछ कौर खाकर वो अपने कमरे में पहुँची और बैड के पास सजी छोटी स्टडी टे बल पर पड़े उस काग़ज़ को घूरने लगी, जिस पर लिखा था कि पश्चिम एशिया के कुछ समूह तोक्यो में नतृ ्य प्रस्तुति के लिए आ रहे हैं और एक महीने की वर्क शोप का भी इंतज़ाम है । बच्चे स्कू ल की ओर से रोज़ डाँस सीखने जा सकते हैं। लेकिन अभिभावकों की सहमति चाहिए। मिदोरी के मन में दस ू रे दे श से जुड़ा एक डर था। इसलिए साकुरा को दरू दे श के बुरे हालात बताती रहती और ऐसी फ़िल्में दिखाती जिनमें ग़रीबी की वेदना भरी होती। महिलाओं के ख़िलाफ़ होते अपराधों के बारे में सुनती और अपनी बच्ची के बारे में सोचकर काँप उठती। नहीं..नहीं.. वो अपनी बेटी को कहीं नहीं जाने दे गी। लेकिन साकुरा को कैसे समझाए कि जब उसकी क्लास के बाकी बच्चे आराम से डाँस सीखने जा सकते हैं तब वो क्यों नहीं। क्या कहे मिदोरी? अपने डर को किन शब्दों में आकार दे ? तलाक जापानी समाज में कोई बड़ी बात तो नहीं। महिलाएँ आराम से रह रही हैं। हर तरह का सहयोग मिलता है और सम्मान में भी कोई कमी नही है । फिर यहाँ क्या डर है । डर है उस जोश का, जो कभी-कभी उसे साकुरा में नज़र आता है ।  माँ-बेटी के बीच सवालों ने अपना सिक्का जमा लिया है । एक छोर साकुरा थामे खड़ी है और दस ू रा मिदोरी। साकुरा ने तो नानी को ही माँ मान लिया है बस। अपने कमरे में बंद रहती है हर समय। कितने दिन हो गए स्कू ल नहीं गई। ज़बरदस्ती की तो अपने पैर पर ब्लेड से कई जगह काट लिया। मिदोरी काँप गई.. ख़ून की हर एक बँूद में उसने ख़ुद को बहते दे खा था। शुक्र है कि जान-पहचान के डॉक्टर ने बात सम्भाल ली।  मिदोरी अभी भी उस काग़ज़ को घूर रही थी। टे बल पर रखे उस काग़ज़ से रे त झड़ने लगी। कमरा एक मग ृ मरीचिका से भर गया। उस मेज़ पर यादों के टीले ही टीले उभर आए। उसे लगा वो उन्हीं टीलों में दब जाएगी और कुछ घुटी-घुटी सी सिसकियाँ उसे अपने मन में सुनाई दे ने लगीं। केसरिया बालमां आवो जी, पधारो म्हारे दे स...... सारं गी, तबला और खड़ताल एक दस ू रे का सुर संभालते माहौल में रं ग घोल रहे

Anjali

www.batj.org


पिंजरा

हैं। कालबेलिया की धुन पर राजस्थान थिरक रहा है और गई कि भैरव को कुछ काम सिखाया जाए, उसे जापानी समुदाय में साथ ही वो भी। उठने बैठने लायक बनाया जाए पर जंगली फूल घर के क़ीमती वास एक समूह के साथ मिदोरी घूमने गई थी भारत। अलग-अलग में आकर मुरझाने लगा। भैरव सूखकर काँटा हो गया। जो हरकतें जगह जाते हुए और यूनेस्को की विश्व सांस्कृतिक धरोहरों को पहले सबको हँसाती थीं वही अब जी का जंजाल बन गई। दस ू री दे खते हुए उनका समूह पाँचवे दिन जयपुर के जिस हॉटे ल में रुका तरफ़ दो डंडों के बीच बँधी रस्सी पर शान से चलने वाला भैरव ये था उन्होंने कालबेलिया नाइट का आयोजन करवाया था। जापान में समझ नहीं पाता था कि अपने ही घर में रहने के भी इतने नियम जैज़, बैली डाँस और हिप हॉप को ही नाच की दनु िया समझने वाली होते हैं और हँसने रोने का तय पैमाना। 14 साल की मिदोरी है रान आँखों से दे खती रही रे तीली थिरकन राजस्थान के बवँडर से भी ख़ौफ़ न खाने वाले भैरव को अपने को। जब साढ़े पाँच फ़िट लम्बे उस किशोर ने अपने बदन को दह ु रा कमरे से बाहर निकलने में दहशत होने लगी। हर तरफ़ उसे खिल्ली कर लोहे के गोल घेरे के बीच से निकाला तब सभी ने है रान होकर उड़ाते चेहरे दिखने लगे। पढ़ाई के नाम पर पाँचवी की किताब किसी तालियाँ बजाईं। गोल प्लेट पर जब दो तलवारों पर उसका लंबा चौड़ा तरह बाँचने वाले भैरव के लिए जापान में कहीं भी अकेले आना शरीर थिरका तब तो जैसे सभी की सांसे अटक गईं। मिदोरी का जाना मश्कि ल हो गया। न जापानी बोल पाता था और न ही अंग्रेज़ी। ु किशोरमन उस पल किसी सामुराइ को खोजने लगा। पुनर्जन्म पर एक कंपनी में काम करके मिदोरी की माँ दो लोगों का ख़र्चा तो उठा आधारित कई कहानियाँ उसके शरीर में ख़ून के साथ एक पूरा दौरा रही थी पर अब तीन से चार होते प्राणियों को कैसे पालती। उधर कर आईं। भैरव सिंह नाम के इस किशोर नट की समूह में अपनी भैरव ये बात समझ नहीं पा रहा था कि जब उसने ब्याह किया है विशेष जगह थी और हाल ही में एक हादसे में अपने पिता को खो तब अपनी बिंदणी को अपने गाँव में रखने का हक़ उसे क्यों नहीं। दे ने वाले भैरव पर सभी लाड़ लुटा रहे थे। मिदोरी को उसका नट वो चाहता था मिदोरी को भी कुछ करतब सिखा दे और दोनो साथ होना अंग्रेज़ी की नॉट जैसा लगा और वो परिचय की किसी रे श्मी में नाचते-गाते अपना जीवन बिताए, अपनी नन्हीं बेटी साकुरा को गाँठ की तलाश में भैरव की भूरी आँखों की गहराई में उतरती रही। पालें। पाँव से रे त उड़ाते हुए मिदोरी ने एक बार भैरव के गाँव में तोक्यो के व्यस्त इलाक़े के एक बहुत मँहगे शराबख़ाने यानी उसके तम्बू में भी अठखेलियाँ की थीं लेकिन पर्यटक बन कैं पिंग के इज़ाकाया में रोशनी की महीन सी चादर बिछी है । कोने में छोटा सा रूप में एडवैंचर फील करना और उसी तम्बू को अपनी दनु िया बना गोल प्लेटफ़ॉर्म बना है जिस पर खड़ी पतली दब ु ली लड़की हाथ में लेना दो अलग बातें हैं।  माइक थामे हिबारी मिसोरा का ‘कावानो नागारे नो योउ नी’ गाना गा मिदोरी अपने कमरे में साकुरा को मुलायम गद्दे पर लपेटे रही है । सिगरे ट के छल्ले हवा में अठखेलियाँ कर रहे हैं और बीच- पड़ी रहती और भैरव उसे अपने सीने में समेटने की कोशिश करता। बीच में जापानी शराब साके भी लड़खड़ाते लोगों के रूप में अपनी बच्ची ज़रा सी कुनमुनाती और मिदोरी चीख पड़ती। ये चीख़े अब उपस्थिति दर्शाती है । मिदोरी भैरव को गीत का भाव बता रही है कि उनके बीच किरचों सी बिखर गई थीं और भैरव की मानसिक हालत हालात कैसे भी हों जीवन में नदी की तरह बस बहते रहो। फिर वो भी बिगड़ने लगी थी। बस तरीक़ा यही था कि भैरव को वापिस चॉपस्टिक से चावल खाना सिखाती है और हर बार जब चावल मँह भेज दिया जाए। ु में जाते-जाते वापिस कटोरे में गिर जाते तब भैरव खिसिया जाता  एक दिन किसी से मदद माँगने के बारे में सोच कर भैरव और वो खुलकर हँसती। कई बार ऐसा हुआ। राजस्थान की हथकढ़ नवजात को लेकर भाग गया। एक जानकार तोक्यो के ही चर्चित शराब तो भैरव छोटी उम्र से ही झेलता आ रहा था पर साके पचा बाज़ार ओकाचिमाचि में भारतीय मसालों की दक ु ान चलाते थे और पाना इतना आसान नहीं लगा। भैरव ने कटोरा पकड़ा और हाथ से कई बार मिदोरी की माँ ने उनसे अनुरोध किया था कि भैरव को खाना शुरू कर दिया, इस बार खिसियाने की बारी मिदोरी की थी। समझाएँ कि वो अब नट नहीं, एक सभ्य परिवार का दामाद है । जापान में लोकनतृ ्य के एक आयोजन में राजस्थान के मुसीबत में भैरव वहीं पहुँचा और तुरंत पहुँच गई पुलिस भी।  कालबेलिया समूह को भी आमंत्रित किया गया था और भैरव सिंह अपहरण का आरोप.. उफ् ़फ़ भैरव अपने ही ख़ून का को साथ लाने का ख़ास अनुरोध किया गया था क्योंकि जो समूह अपहरणकर्ता बन गया। एक अपराधी के लिए अब सभ्य परिवार इण्डिया में भैरव के करतब दे ख चुका था वो अपने साथियों को का हिस्सा बना रहना मुश्किल हो गया था। मिदोरी इस पूरे दौर में भी ये दिखाना चाहता था कि सपेरों के दे श में वानर प्रजाति अपने बस एक मूक दर्शक रही। शायद वो ख़ुद भी समझ नही पा रही थी सुधरे हुए रूप में किस तरह है रान कर दे ने वाले करतब दिखाती है । कि जो उसके साथ घट चुका है वो कितना सही है और किस तरह जापान का एक अलाभकारी संगठन दनु िया के हर हिस्से में वो इस सबसे निजात पा सकती है ।  फैले जिप्सियों पर शोध करवा रहा था। तथ्यों से उजागर हुआ कि हर कोई छला सा महसूस कर रहा था और एक सुबह सूरज संसार में जहाँ भी आज जिप्सी हैं उनकी जड़े भारत के राजस्थान में बेचन ै ी में कुछ जल्दी निकल आया था। कैसे कसमसाया था भैरव, ही हैं। सदियों पहले अपनी गठरी और गीत ले जिप्सी रे त के संसार कभी लगता था मिदोरी को मार डाले, क्या ज़रूरत थी उसे भैरव के से रवाना हुए थे और फिर हवाओं के रास्ते ख़ुशबू से हर तरफ़ फैल साथ एक ऐसा खेल खेलने की जिसमें वे दोनों बुरी तरह फँस गए गए। कहीं समस्या बने तो किसी दे श में मनोरं जन। मिदोरी की माँ हैं। कभी लगता बस अपनी औलाद को किसी तरह सीने से लगाए इस संगठन के सदस्य की परिचित थीं और इसी लिए जब भी इस पहुँच जाए अपनी माटी में । जी भरकर चिल्लाए, शोर मचाए, फूट तरह का कोई आयोजन होता मिदोरी के लिए अलग संस्कृति के फूटकर रोए और लिटा दे अपनी रुई के फाहे सी उजली गुलाबी साथ ही अलग दे श के उस गठीले नौजवान को समझने का भी मौक़ा बेटी को रे गिस्तान के फ़र्श पर ताकि उसके शरीर में दौड़ती रे त उस होता जो किसी पॉप स्टार की तरह लंबे बाल तो रखता ही था पर नन्हीं बच्ची में वैसी ही चहक भर दे जैसी उसने अपने बचपन में नई उगी मँछ ू ों की रोबिली छब जिसे ठे ठ बनाती थी। जब वो बात महसूस की थी।   करते समय मिदोरी को एकदम हवा में उछाल गोद में जकड़ लेता सब धरा रह गया और एक अंजान दे श में बिलकुल पराया तब वो अपने दोस्तों के बीच राजकुमारी हो जाती। माँ की आँखें या हो चुका वो नट अपने गँवारूपन के लिए हँ सी का पात्र बना तो ये दे ख नहीं सकीं या फिर सोचा होगा कि जीवन को समझने so called developing country की ग़रीबी ढोता हुआ बैरंग का ये भी एक तरीक़ा है । लौट गया अपनी पोटली लेकर। उसके सूट-बूट वाले सूटकेस मँह ु मीठे झठ ू की रफ़्तार समय से पिछड़ गई और मिदोरी के शरीर चिढ़ाते रहे अप टू डेट बनाने की कोशिश करने वाली सास को।  में आया बदलाव माँ ने तुरंत भाँप लिया था। चौथा महीना था और रे त का टीला बिखर रहा था और भुरभुरी रे तीली यादों में माँ ने सोच लिया था कि दो बच्चों की नादानी के फल इस तीसरे नहाई मिदोरी अपने स्टडी टे बल के पास  न जाने कब से बच्चे की भें ट नहीं चढ़ाई जाएगी। मतृ ्यु की दारुण आहट ने जिस खड़ी थी। अपनी ही उधेड़ बुन में न जाने कितने साल बर्बाद सिद्धार्थ को बुद्ध बनाया उन्हीं के रचे बौद्ध धर्म ने, अनुयायी माँ किए मिदोरी ने। एक गहरी साँस लेकर सोच में पड़ गई है । को जीवन का सम्मान करना सिखाया। समयचक्र किसी की परवाह लगने लगा है कि झूठ या कोई बहाना अब उसे अपनी बेटी के किए बिना अपनी रफ़्तार से चलता रहा।  पास नहीं लाएगा बल्कि वो उसे हमेशा के लिए खो सकती है ।  आनन फ़ानन में भैरव को तोक्यो बुलाया गया और सिटी बाहर कुछ आवाज़ हुई तो मिदोरी ने जाकर दे खा। माँ साकुरा को ऑफ़िस में जाकर नोटिस दिया। एक काग़ज़ का टुकड़ा और प्यार को दोनों हाथों में थामे उसके कमरे में ले गईं और जाकर लिटा दिया। खेल समझते दो चढ़ते जीवन पति पत्नि बन गए। बहुत कोशिश की उसके पैरों पर पट्टियाँ बँधी थीं। www.batj.org 73 Durga Puja 2016


नानी ने घर में आते ही ग़ौर किया कि राइचो की आवाज़ नहीं आ रही है । कहाँ गई राइचो। जापान के ओन्ताके पवर्त पर पाई जाने वाली ये चिड़िया अपने आप में बहुत विशेष है । ये पहाड़ी पक्षी अपनी मीठी आवाज़ के लिए तो मशहूर है ही लेकिन एक मान्यता का वाहक भी था। लोग कहते थे कि जब भी कोई उस पर्वत पर भटक जाता था तब राइचो रास्ता सझ ु ाती थी। गाते-गाते जगह बदल कर उन्हें आवाज़ दे ती और जो लोग उस मासूम पक्षी की दृढ़ता पर भरोसा करते वो भटकने से बच जाते। मिदोरी ने राइचो को कभी पिंजरे में बंद नहीं किया था और पूरा घर उसके लिए खुला आकाश बना दिया था लेकिन मिदोरी शायद समझ नहीं पाई कि इस तरह उसने पूरे घर को ही एक पिंजरे में बदल दिया था। सब खिड़की दरवाज़े बंद रहते थे। राइचो मुरझाने लगी। आज शांत हो गई है राइचो की सारी बेचन ै ी। माँ ने तलाशा तो सोफ़े के पास राइचो मरी हुई पड़ी थी। साकुरा चीख पड़ी राइचो को दे खकर। फूट-फूट कर रोने लगी। पर माँ ने भीगी पलकों से कुछ और ही दे खा। मिदोरी एकदम शांत खड़ी है । पथराई सी कभी रे इचो को दे खती है और कभी साकुरा को।

मिदोरी को अचानक ही समझ आ गया कि नन्हीं चिड़िया को गाना था क्योंकि वो गाने वाली ही चिड़िया थी। उसकी प्रजाति नहीं बदली जा सकती थी। खुला आकाश उसके जीवन की शर्त थी। अचानक कहीं कुछ कौंधा। मिदोरी भाग कर गई और एक काग़ज़ उठा लाई जिस पर लिखा था कि एक बच्ची को अपने पिता से मिलने का अधिकार है ।... नहीं-नहीं.. उस काग़ज़ पर तो बस इतना ही लिखा था कि साकुरा डांस क्लास में जा सकती है । सीने पर रखा एक बड़ा सा पत्थर उतरा हो जैसे, मिदोरी ने गहरी साँस ली और वो काग़ज़ साकुरा की ओर बढ़ाया। साथ ही एक छोटी पर्ची भी। शायद मँह ु से बोलने की हिम्मत नहीं जुटा पाई थी इसलिए लिख दिया था कि तुम थिरकोगी। साकुरा है रानी से उस काग़ज़ पर किए हस्ताक्षर को टुकुर-टुकुर ताक रही थी। नानी मत ृ रे इचो को दे ख रही थीं और मिदोरी बिस्तर पर लेटी उस राइचो को जिसके लिए उसने अभी-अभी पिंजरे का दरवाज़ा खोला था।  

वाणी बने वीणा - सारिका अग्रवाल

ह है ।

मारी वाणी हमारी आत्मा की अभिवियक्ति का माध्यम है , जिसके द्वारा हम अपने मन के भावों को दस ू रे तक पहुँचाते हैं. सत्य बोलने, कम बोलने और मधुर बोलने से, बोलने वाले की वाणी सिद्ध हो जाती है । व्यर्थ बोलने की अपेक्षा मौन रहना वाणी की प्रथम विशेषता

संभलकर बोलिये, आपके शब्दों में एटम बम से भी अधिक शक्ति होती है । वाणी पर नियंत्रण रखकर, हम सफलता की बुलंदियों को छू सकते हैं। मनुष्य का मान अपमान, उसकी प्रतिष्ठा अप्रतिष्ठा तथा उसकी सफलता असफलता सब उसकी जिब्हा के वशीभूत है । जिन लोगों के मुख पर प्रसन्ता होगी, हृदय में दया होगी, वाणी में मधुरता होगी, कर्तव्यों में परोपकार होगा, वे सभी के लिए वंदनीय एवम प्रशंसनीय होगा। मीठे वचन वक्ता एवं श्रोता दोनों को सुख दे ते हैं।

अर्थात .... हमें ऐसे शब्द बोलने चाहिए, जिससे सुनने वाले को सुकून मिले और वह भाव विभोर हो उठे , साथ ही में आपको भी शीतलता प्रदान करे । कहते हैं "इंसान को बोलना सीखने में तीन साल लग जाते हैं, लेकिन क्या बोलना है , यह सीखने में पूरी ज़िन्दगी लग जाती है ”। हमें अपने शब्दों को उसी प्रकार तोलकर इस्तेमाल करना चाहिए, जिस प्रकार हम कोई भी चीज़ खरीदने से पहले परखते और सोचते हैं। कभी क्रोध में कहे गए शब्द, दस ू रे को तो दःु ख पहुँचाते ही हैं, पर उनसे हम खुद भी आहत हुए बिना नहीं रह सकते। शब्दों का कड़वापन इतना विषैला होता है , की वह किसी औषिधि से भी ठीक नहीं हो सकता।

कबीर दास जी ने कहा है .. "ऐसी वाणी बोलिये, मन का आपा खोये औरन को शीतल करे आपहु शीतल होये”

74

Anjali

"शब्द शब्द संभालकर बोलिये शब्द के नहीं हाथ,नहीं पाँव एक शब्द में है औषिधि और एक शब्द में है घाव” । 

www.batj.org


हिरोशिमा - सरु े श ऋतपर् ु नीलकण्ठी हिरोशिमा अणब ु म के ताप में तप कर कुन्दन बन गयी है तम ु ्हारी काया तम ्हारे महाविनाश की तस्वीरों को दे ख ु आज तक बची रह सकी है पथ ृ ्वी अणब मों क े प्रहार से ु तम ु ्हारे घावों के निशान बड़े-बड़े तानाशाहों के दस ु ्साहस को चन ौती दे त े हैं । ु इसी से बचा है अभी तक मानव-भविष्य का शिशु विश्वयद ु ्ध के मंथन से निकला सारा ज़हर तम ु ्हारे ही हिस्से आया था जिसे पी गए थे तम ु शिव की तरह और विश्व-सभ्यता को अमत ु ने ृ -दान दे दिया तम एक तम ु ्हारा नाम ही बचाता रहे गा आगत-सन्तति को अणब ु म के हलाहल से जिसे पी कर स्वयं नीलकण्ठी हो गए हो तम ु !

कैसे मर सकती हो तम ु , सदाको ! तुमने जीना चाहा था सदाको ! तुम्हारे दोस्तों ने भी यही चाहा था कि तुम्हारी आँखों में पल रहा जीवन का सपना सच हो जाए सभी बना रहे थे कागज़ की सारसें जबकि तुम्हारी आँखों की चमक धुंधलाती जा रही थी अणुबम के विकीरण से लगे असाध्य रोग के कारण हज़ार सारसें बनाते बनाते तुम गहरी नींद में सो गयीं थीं पर तुम्हारे स्मारक पर लटकी हजारों हजार सारसों की रं ग बिरं गी लड़ियों को दे ख लगता है तुम मर कर भी अमर हो सदाको! तुम्हारे लिए दनु िया के करोड़ों बच्चों का दिल आज भी धड़कता है विश्व शान्ति के लिए शान्ति कपोत के पंखों की तरह हाथ उठाए खड़ी हो तुम अडिग कैसे मर सकती हो तुम, सदाको !

www.batj.org

Durga Puja 2016

75


リシケシ滞在記---スワミ・チダーナンダ 生誕100周年に寄せて

- 新田 裕子 「海の薄霧の中 に、昇る太陽の温か さの中に、葉ずれの 音の中に、降り始め の雨の匂いの中に、  わたしを見つけ なさい。 そしてあなたのハ ートの光の中に」  ~スワミ・チダーナン ダ~  偉大な魂スワミ・ チダーナンダジが、 肉体の束縛から解 放され、遍在する意 識の中に溶け込ん だのは、2008年8月 28日の夜のことでした。その亡骸は遺言通りに、マハーサマー ディの数時間後には、長く総長を務めたディヴァイン・ライフ・ソ サエティのすぐ近くの橋の下に沈められたのです、多くの人に 見送られながら。  わたしが一人、北インドのリシケシを訪れたのは、その年の7 月の初めのことでした。雨季で旅行者が少ないこの時期を選ん だのは、たいした理由ではありません。前年の秋、ヨーガの教室 の先生と仲間のグループで初めてリシケシを訪れた時、日本語 の堪能な現地の添乗員さんが勧めてくれたからです。「気象異 常で雨季でも雨が少なくなっているけれど、オフシーズンで航 空料金は安いから」というのが、ガイドさんの話でした。以前、雨 季(7月~9月)に来たことはないので比べようもなかったのです が、確かに毎日雨が降り続くわけではなく、暑さも日本の梅雨く らいで、過ごしやすいと言えば言えました。  滞在先は、同じヨーガ教室で講師を務めていた方で、数年 前にリシケシに移住された日本人女性Aさんの営むゲストハウス です。7月の初めから9月下旬までの2か月半、このゲストハウス からオートリキシャで、ほぼ毎日判で押したようにシバナンダ・ア シュラム(ディヴァイン・ライフ・ソサエティ)に通いました。 午前中アシュラムに特別なプログラムがない時は、ゲストハウ スの部屋で本を読んで過ごすことが多かったのですが、お昼過 ぎに始まるサンスクリットの教室に行くのが日課でした。教室、と 言ってもアシュラムの正式なプログラムではなく、郵便局の仕事 を担当する70歳近いスワミ・ハムサナンダジが、自分の仕事部 屋で仕事の傍らに教えてくれる寺子屋のようなものです。時間 は、午後1時30分くらいから4時まで。ガンガーが見える扉のな い小さなオープン・ルームの座敷(カーペットを敷いた土間)に 集まって来るのは、シバナンダ・アシュラムの滞在者ばかりでは なく、近くのアシュラムでヴェーダーンタ哲学を学ぶ外国人や、 ハムサナンダジが懇意にしているインド人信者もいました。  最初にここを訪ねた時、日本で少しサンスクリットを学んだこ とがあると言うと、サンスクリット語だけのものと英語の読みと注釈 がついた、2冊の「バガヴァッド・ギーター」とノートを買ってくるよ う、ハムサナンダジに言われました。小学校で最初に書き取りを するように、一日1スローカー(1節)を、まずスワミジがノートに書 いて下さって、その読み方を英語表記で書いたあとに、ノートの 1ページにある行だけ同じスローカーをサンスクリットで繰り返し 書くのです。1節が終わって時間があれば、何節書いて行って も自由でした。長く通っている人は、書いた後にスワミジの前で チャンティングをさせられていました。 こんな単純なことを、毎日続けられたのは、集まってくる人た 76

ちの多様さとスワミ・ハムサナンダジのお人柄に惹かれてだった のでしょう。前年、数十年ぶりに異国に行ったわたしは、今よりも っと英語が聞き取れず話すこともままなりませんでした。毎日熱 心に通ってくる中国人のC嬢は、母国語の他に英語と日本語が 出来、意思の疎通が出来るために早く仲良くなりました。日本に 来たことがあり、日本と食品の輸入の仕事をしているという彼女 は、なまりのない自然な日本語を話し、顔立ちも日本人によく似 ていて、まったく違和感を覚えずに接することが出来ました。大 柄な彼女はわたしよりだいぶ年下なのに、まるで姉のように見 え、事実よく面倒をみてくれました。『才色兼備』そのものの彼女 と、ある時、サンスクリットを書きながら英会話を教わっていて、ス ワミジに激しく怒られたことがありました。めったに怒らないスワミ ジの剣幕に二人ともびっくり。「ここは英会話教室ではない」とい う言葉に、二人とも納得、深くお詫びをしたのでした。  サンスクリット教室のあとは、アシュラム内の音楽教室に行く こともありました。日本にいた時は、アシュラムでキールタンを習 いたいと思っていたのですが、出発直前に腰痛になり、長く床 に座っていることが困難な上に、ハルモニュウムを弾くときは前 傾姿勢になるので痛みひどくなり、あまり通うことが出来ません でした。でも、リシケシに到着して間もなく、Aさんがここのスワミ ジに紹介してくださった手前、時々は行って何曲か簡単なキー ルタンを教わりました。音楽教室は、午後の何時間か開いてい て、誰が行っても希望のキールタンやバジャンを教えてくれるの です。勿論、サンスクリット教室同様、料金は無料。アシュラムの 書店でキールタンの本を買い、歌いたい曲を言うと、スワミジが まず、ハルモニュウムを弾いてみせて歌ってくれ、その通りに弾 いて歌ってみるというやり方です。キールタンは短いメロディの 繰り返しですから、歌詞を書いた小さな本はありますが、楽譜と いうものはありません。耳と目と指で覚えて、弾きながら歌うので す。録音機も持って行きましたが、自分の楽譜を作ってノートに まとめました。日本ではピアノの先生をしていたAさんからも、何 曲か教えていただきました。リシケシに行くたび、音楽教室には 通いましたが、いつも帰る間際に言われることは一つ。「リズム が違う」。 キールタンは(もしかしてインド音楽は?)日本にはな い、7拍子です。わたしが歌うとJポップみたいになって、どうもキ ールタン独特のあのリズムと哀調が出ないのです。いまだ、それ は克服できずにいます。  シバナンダ・アシュラムには、夕方5時半くらいから40間ほ ど、キールタンを歌う集いのサット・サンガがあります。参加する 人の中から歌う人を、担当のスワミ・ハムサナンダジが指名し、そ の人は自分の選んだ曲を歌い、後の人たちがついて歌います。 主導の人が1フレーズ歌うと、同じところをもう一度皆が歌うので す。このサット・サンガはシバナンダ・アシュラムを創ったグルデ ィブ・スワミ・シバナンダジが生前住まわれていた小さな家、グル ディブ・クティールで毎日行われています。道路を挟んでアシュ ラムの反対側、ガンガーが見えるその家には沐浴用の小さなガ ートがあって、歌の後は全員でそこへ降りて『ガンガー・アラテ ィ』をします。アラティは、銀色のお盆に乗せた樟脳に点火をし て、ハムサナンダジとその日のゲストがお盆を回しながら、全員 で『マザー・ガンガー』を歌うのです。歌い終わると、樟脳は跡形 もなくなっていて、お盆の上にあった花を受け取った人がガンガ ーに投げ流します。歌い終わる頃は薄暮から暗闇になり、流れ ていく花を見ていて、日本の精霊流しを思い出し、アラティに出 るたびに人の魂を送っているような厳粛な気持ちになりました。  夕方のサット・サンガとは別に、夜のサット・サンガはアシュラ ムの夕飯の後にあり、夜9時過ぎまであります。内容は、その日 のスピーカーが話すレクチャーが主でした。土曜の夜だけ、『ハ ヌマーン・チャリサ』という、ラーマの召使いであるハヌマーンの

Anjali

www.batj.org


リシケシ滞在記---スワミ・チダーナンダ 歌の会で、詳しく理解していませんが、ラーマクリシュナ・ミッショ ンでの『ラームナーム』のようなものかと思っています。アシュラム は、Aさんのゲストハウスからはオートリキシャで5分ほどなので すが、夜8時を過ぎると、このリキシャを捕まえることがとても難し くなります。ですから、夜のサット・サンガに出る時は、特別なこ とがある時だけで、その時はAさんのゲストハウスのボーイさんに 迎えにきて貰い、歩いて帰ることになるのです。徒歩ですと、2 0分はかかり、また、夜間は稀ですが、虎が出ることもあるそうで す。実際、2回目のリシケシ滞在中、虎に襲われて亡くなった女 性がいると新聞に載ったのです。相手が虎だと護衛がいても何 もならないと、心底ぞっとしました。

様火葬にしますが、スワミジたちサンニャシンは出家の儀式の 時がお葬式と同じということで、燃やさずにガンガーに流すので す。この日一日はリシケシ中のお店はお休み、喪に服したので した。

 さて、滞在も2か月近くなる頃の朝、アシュラムの当時の総 長(プレジデント)である、スワミ・チダーナンダジが脳出血で倒 れられた、というニュースをAさんから聞きました。チダ―ナンダ ジは、この1年前に日本の国営放送が創った、インドのヨーガの 聖地を有名女優が取材する番組の最後に、偶然な形ではあり ますが出演されたのです。90歳を超えられ、数年前からは、ア シュラムから車で1時間ほどの閑静な街で隠遁生活を送られて いました。テレビの向こうですが、写真以外の、実際に話をされ る姿が画面に映った瞬間に涙が溢れました。痩せてベッドに横 たわりながらも、ヨーガについて説くその姿は内から光を放射し ているように見えました。それは、自分の欲望については一切 考えず、他者のためだけに生きる人が持つ輝きなのだと今は思 えるのです。わたしのハタ・ヨーガの先生は、スワミ・チダーナン ダジを『ヨーガの師』と仰ぎ、教室には今も、グルディブ・スワミ・ シバナンダジとスワミ・チダーナンダジのお写真が飾られていま す。この教室で、何人かのアシュラムのスワミジたちにお会いす ることが出来ましたが、チダーナンダジジにはまだお目にかか ったことがありませんでした。日本には何度かいらしていました が、わたしがヨーガを始めた時期とのタイミングによるものでしょ うか、ご縁がないとお会い出来ないのだな、と感じていました。こ のリシケシ滞在中に、スワミジがアシュラムを訪問されることはな いだろうかと時々思っていたのです。

そしてその日の午後は、スワミジの大きな肖像写真を荷台に 乗せた車が、アシュラムからリシケシの街中をゆっくりと走る行進 が何時間かにわたって行われました。車がアシュラムの近くのチ ダーナンダジのお住まいである『グル・ニワス』の前に戻って来 た時、アシュラムのスワミジたちやブラマチャリたちが一団になっ てキールタンを歌い出迎えました。その熱狂は、悲しみというよ りお祝いのように感じられました。その日から約2週間、スワミ・チ ダーナンダジのマハーサマーディを祝う儀式が続きました。生 前、時間と空間を超えるサマーディを体験されたスワミジにとっ て、肉体の死は悲しいことではなく、喜ぶべきことなのです。肉 体という制約を解かれ、『サット・チット・アーナンダ』、遍在する 純粋な至福の意識の中に溶け込んだのですから。儀式には沢 山の人が集まり、アシュラムは毎日賑わって平素の静けさが嘘 のようでした。このお祝いのために用意された引き出物を貰える ように、ハムサナンダジが取り計らってくださって、チダーナンダ ジの写真入りのグッズ---例えば、小さい物はキィホルダーから 大きい物は掛け時計まで、手提げ袋に沢山の物が詰め込まれ ていました---をいただくことが出来、大切な日本へのお土産と なったのです。

そのスワミジの回復を祈って、「マハー・ムリトゥーンジャヤ・マ ントラ」(死に打ち勝つマントラ)を72時間途切れることなく唱える という行が、アシュラムで始まりました。場所は、朝の瞑想や夜の サット・サンガが行われるサマディ・シュラインです。サンスクリッ トの勉強の後にシュラインへ行くと、数名のスワミジたちや信者 さんたちが、シュラインの隅に一団になってマントラを唱えてい ました。わたしも、交代の時にその輪に加わりました。いつも誰 かがこのマントラを唱え、途切れることがないようになっていまし た。その行が始まって2日目(だったと記憶しています)、夜のサ ット・サンガでも、マントラを参加者全員で唱えることになったと 聞き、Aさんと出掛けました。シュラインにいる人々がマントラを 唱える際中、サット・サンガが始まって1時間ほど経った午後8時 30分頃、備え付けの電話のベルが鳴りました。わたしは内心ド キッとしました。マントラの声が止むと、ほどなく、サット・サンガの 司会をしていたスワミジからチダーナンダジの訃報が伝えられ ました。大きな落胆の轟きを聞いたように思いました。信じたくな い・・・冷え冷えとした気持ちでいると、サット・サンガはお開きに なり、仕方なくAさんとゲストハウスへ帰りました。   その明け方、アシュラムからの知らせでチダーナンダジを見 送るためにガンガーへ出掛けて行ったと、Aさんから朝起きて聞 きました。一緒に行きたかったと思ったのですが、午前3時頃の ことだったし、大変な混雑になると思い気を使ってくれたそうな のです。チダ―ナンダジのご遺体は、隠遁先の別荘から車でア シュラムに運ばれた後、輿のような物に乗せられ、お付きの数名 のお坊様がその輿を持って、長くお仕えになったシバナンダ・ アシュラムの中を回られたそうです。そして、周囲で暮らす人た ちの日常生活に差し障りの出ないよう、速やかにガンガーに沈 めるようにとの遺言通りに、シバナンダ・アシュラム近くの橋の下 に重りを付けて沈められたそうです。インドでは、遺体は日本同

www.batj.org

翌日、時々行ってお昼ご飯を食べる外国人もよく行くカフェ に行きますと、奥からオーナーが出て来て、「チダーナンダジの ような霊性の高い魂がリシケシに現れることはもうないでしょう」と 言い、自分が子供だった頃のチダ―ナンダジとの思い出を話し てくれました。チダ―ナンダジはとても腕が長かった、という言葉 が印象に残っています。仏像はみなそうですが、長い腕は沢山 の人々を救済するその象徴だと書物で読んだことがあります。 チダ―ナンダジも確かにその通りだったのでしょう。

この祝いの式の間何度かグル・ニワスを訪れましたが、最も印 象に残ったのは、ガラスケースに納められたグルディブ・スワミ・ シバナンダジとスワミ・チダ―ナンダジの木製のサンダルです。 二つは一つのケースに並べて納められているのですが、お二 人の体格と関係を表すかのように、シバナンダジの物は大きく、 チダーナンダジの物はそれよりやや小さいのです。そして、式の 熱狂ぶちから、スワミジがどれほど多くの人たちから慕われ愛さ れ尊敬されてきたかが実感されました。チダーナンダジを必要 とする人たちのために生き続けた人・・・。先に書いた日本のテ レビ番組で、訪ねて来た女優に病床から聞く「わたしに何か出 来ますか?」。まさに、グルであるスワミ・シバナンダと絶対の存 在である神の道具として、人々に奉仕し続けた生涯だったので す。 シバナンダ・アシュラムと リシケシの街が静けさを取り 戻した頃、日本に帰る日が 迫っていました。サンスクリ ット教室をあとにする前日、 ハムサナンダジにご挨拶を しました。時々教室にやっ て来るスワミジの妹のスワヤ ンプラバが、「もうすぐナヴァ ラトリだからそれが終わるま でいればいいのに」と言い、 そう聞くと後ろ髪を引かれる 思いがしました。しかし、航空機の変更がここでは大変そうなの で、やはり予定通りに帰ることにしたのです。知り合いになった 人たちには、「またすぐ来るから」と言い、さよならをしました。デ リーまで行くタクシーに途中まで同乗して見送ってくれたAさん が、車を降りてからも何かしきりに言っていました。ハリドワール を通ると、来たときは雨にけむっていた大きなシヴァ神の像がは っきりと見えたのを、今思い出しています。 了

Durga Puja 2016

77


インド舞踊を習い始めました! - 三橋 裕子 昨年の7月からインド舞踊のオリッシー を習い始めました。

っているのか?はなはだ疑問です。そ んな時は先輩がたや、カルチャーの仲 間、今回参加させていただけることで、 あらたに連絡を取り合えるようになった 大使館クラスの仲間がいて、疑問に思 うことや、些細なことでも、皆さん丁寧に 教えてくださいます。

私の大好きなインド人の友達が日本画 を勉強されていて、展覧会に作品を出展 されるほどの腕前です。 彼女の色使いや絵の雰囲気がとても素 敵です。

先生も生徒も、皆さんとっても素敵で す。そのような方たちと場所と時間を共 有できるのが、とても心地よくて、頑張っ てついてゆきたい、踊れるようになりた いと思います。

彼女が日本画なら、私もインドに関係し ている事で何かを始めてみたいと思うよう になりました。 偶然、目にしたインド大使館での案内 で、家から一駅離れたところのカルチャーセンターで、生徒募 集をしていました。 あまりにも身近なところで開催されていることに驚き、問い合 わせをして見学に行き、そして、そのまま入会して今にいたりま す。

私たちがインドの文化を日本で体験できる機会を作ってくだ さった、Studio Odissiの安延先生に感謝します。 写真は先生を中心に上級の先輩方の【ドゥルガー群舞】で す。 今年は台湾公演をされました。

私が問い合わせをしたのは、【安延佳珠子インド舞踊スタジオ  スタジオオリッシー】のカルチャーセンタークラスです。 学ぶ機会を得て、インドの文化にふれることができて、レッス ンの日が待ち遠しいです。 オリッシーはリズムの取り方が難しくて、ステップやムドラ(手の 形)など、複雑で思うように体が動きません。ですが、動けなくて も、とにかく楽しくて、練習用のサリーとチョリを着るとワクワクしま す。 初めてオリッシーを見たとき、今まで目にしたことがない動き と、表情豊かな踊り子さんたちに感動しました。踊っていたのは 日本人の女性ですが、化粧のアイラインがエキゾチックで、平た い顔つきの日本人が、目鼻立ちのはっきりしたインドの女性に 変身したみたいで、非日常の空間に突入します。 私も踊ってみたいと惹かれましたが、当時は習える場所を探 そうとはせず、仕事もあるのでオリッシーは見れるだけで充分だ と思っていました。 生命謳歌のオリッシーにふれて、意味のある動き、知る楽し みに感動しています。 今年は代々木公園でのイベントの一つである、ナマステ・イン ディアに出させていただける機会を得ました。早稲田スタジオの 先輩たち、大使館クラスのかたたちと、合同で「サンバルプリ」を 踊ります。

大使館で見かけた広告に、【初めてのインド舞踊…始めてみ ませんか?】とありました。 「心静かに自己をみつめ、人生を豊かにする一つにして下さ い。」とあって、大使館でバガヴァット・ギーターと、ウパニシャッ トを学ばせていただいているので、そのコメントにも惹かれまし た。舞踊の中の「生命謳歌」という内容が、哲学の知恵も入って いるように感じられ、そう思うとより深く受け止められます。 レッスンの前には、心を込めて挨拶をしてから始まります。 終わるときも一緒です。 スタジオにはジャガンナート神が祭ってあります。 インドの人気のある神様で、可愛らしい不思議な形をしていま す。 調べてみたら、ジャガンナート神はクリシュナ神の化身とも言 われていること、 ジャガンナート寺院の本尊として祭られていて、ジャガンナー ト神は三体セットだということ。黒い顔がジャガンナート(クリシュ ナと同一視)であり、白い顔が兄のバララーマ(クリシュナととも にヴィシュヌの化身のひとつ)、黄色い顔が妹のスバドラー(ア ルジュナの妻)だと 神様で兄弟なんだと微笑ましく身近な存在に感じつつ、しか しジャガンナート神は全宇宙の神として信仰を集めていることを 知って、インドに不思議な魅力を感じました。

少人数のカルチャーで学ぶのとは全く違う雰囲気で、適度な 緊張感と、みんなで合わせて踊る楽しさ、素敵な舞台 にしようと一致団結する一体感に、近年 感じたことがない経験をさせて いただいています。本番 で踊り終えた後の達成 感が得られるように、 指摘されたことや変 更になったことなど をメモにとり、家で 復讐して努力して います。しかし、自 分の拙いメモがあ

78

Anjali

昨年は秋にインドを訪れ、ヴリンダーヴァ ンやヤムナー川に行き、クリシュナ 神ゆかりの場所をまわりまし た。いつになるか…オリ ッサ州のプリーという 聖地に行ってみた いと、夢が膨らみ ます。 皆様もぜひ、 初めてのインド舞 踊、始めてみませ んか? 

www.batj.org


ある見習い修道女の神さまへの問いかけ - 佐藤 洋子 主よ、私は己が完成の為だけに生まれてきたのでしょうか。

それは、自分の悟りの為にだけ努力して生き、仮に全うしたと て、それが何でしょう。

それだけだって、どんなに大変なことか・・・どんなに難しいこと か!

確かに困難なこと、偉大なこと、あまたの聖賢の努力がどんな ものかわかります。多くの最高を目指す人びとが、挫折したことも わかります。

何度行きつ戻りつしたことか。 現に今だって、自分がどの地点に居るのか、進歩しているの か、退歩しているのかさえ分からないのに。 有史以来、多くの聖賢方がどのように努力し、最高の境地に 到ったか見てきただろうに。 わが師が、どのように生き悟ったか、充分見てきただろうに。 自己完成、真理を悟ることがどんなことか、どんな風に生きな ければならないか、骨身に浸みている筈なのに。 自分の生まれて来た、唯一の意味さえ達成できないのに、そ のために何億生涯をもかかることなのに。 今、その何億分の0.00001歩?すら、踏み出したばかりだとい うのに・・・・ お前の80年にも満たない生など、その0.00001歩踏み出すた めの準備期間にすらなれないのに。 今現在、停滞を感じていることを理由に、自分の生まれた意 味を、さも軽いことのように、他にもっと重大なことでもあるかのよ うに。 自分は、自分が生まれた意味を全うするより、もっと重大なこと をするために、あたかも相応しい者のように、傲慢にも主に問うと は、何というばかなことだろう!

自分が、どれほど小さなもの、弱い者であるかも、能力の欠如 も知っています。 それでも、それでもですよ、自分だけの完成だけを目指すこと が、エゴのように思えるからなのです。 もっと主よ、あなたのために働くことこそ、大切なのではない か、あなたのために、何かをすることも、生の目的の一つに入っ て、私は生まれてきたのではないでしょうか。 片方で自己完成の努力をしつつ、それが停滞し上手くゆか ないときは、もう一つの目的である、あなたのお仕事に集中しつ つ、自分の退歩や落下を防ぎながら努力する、するとその努力 の中で、主の仕事そのものの中から、インスピレーションを感じ て、少なくとも、元いた地点からまた出発できるのではないかと、 そう思って問うたことは確かです。 これは、悪いことなのでしょうか主よ。 本能的に自分の退歩を防ぎたい、落下を防止したいセンサー が働いただけなのだと思います。それも傲慢なことなのでしょう か、主よ。・・・・・ 時が過ぎ。 今、わたしも少しかわりました。 生も死も、逆境も平安も、幸も不幸も、一切は私の意志では なく、主よあなたのご意思でなされていることを日々感じておりま す。

今だって、本当はふさわしくもないのに、主のお慈悲で生ま れ、こうして平穏に生かされているというのに。

どのような努力もあなたの恩寵次第、自分の努力など何物で もないこと。

自分の重大な生も全うできずに、生まれてきた意味を、他にも あるだろうと思って問うとは。

私の努力のようなものは、ただあなたの無限の慈悲深い顔を こちらに向けさせたい、風のようなものです。

生まれてきた、他の理由を知りたいと望むのは、自分の人生 の中に、もっとすぐれた良い意味があるに違いないと思ったから だろう。まるで、自分には非常に優れた能力があると思い込んで いるようだ。 一体お前の頭の中にある、生まれてきた意味を全うすることよ り偉大なこととは何なのか、逆に質問したい。 答えましょう。

www.batj.org

主よ、大宇宙も小宇宙も言葉で表せるすべてと、表せないも のは、あなたの中にあるのです。おお、主よ、私も今はなにも望 みません。十分に満ち足りておりますから。 願わくば、あなたへの愛で狂気したいのです。その愛だけが まだ与えていただけません。 あなたへの強烈な愛を、どうぞお授けください。でも、あなたへ の愛に狂気して、消えてしまうのではなく、あなたへの愛の為ゆ えに、どうぞ、この地上にお戻しくださることもお願いします。あな たの道具であるこの物(心身)が、あなたのお仕事のただ中で朽 ち果てますように、のために。 

Durga Puja 2016

79


ボタニカルアートを始めて - 加藤 渓子 私は夫の転勤でシンガポールに住んで2年になります。ここでボタニカルアートに出会いました。ボタニカルアートは、 古代エジプトや中国、ギリシャ・ローマ時代に、薬草を正確に、記録するために描かれた植物画です。特に大航海時代 に、ヨーロッパ各国の植物学者と画家が一緒に新種の植物 を記録し、本国に送っていたそうです。同寸大に、また背景 は白地のままのシンプルなアートです。 ボタニカルアート/植物画教室に通い始めて三か月になります。今までにミニトマト、ドラゴンフルーツ、プロテア・ ロビンを描きました。今は赤いパプリカを描いています。私はデッサンが苦手なのですが、色付けは楽しく、先生が見本 で見せてくださる色の調合と筆使いで本物の色に近づいてい く過程は魔法のようです。

ンブータンなどの、今まで日本ではお目にかかることのなかった果物を 手に取るようになりました。二つめは季節を感じられるようになったこ と。春の桜、夏の朝顔、秋の紅葉、冬の梅と四季のはっきりしている日 本とは 異なり、シンガポールに咲く花は一年中同じと勝手に思って いま した。けれども気をつけて見てみると、花の色や大きさ で旬があること がわかってきました。先日も風に大きく揺れるヤシの樹に花が咲いてい るのを見つけました。季節が動くエネルギーには何か元気が出ます。そ して最後は花の作りの美しさの発見です。ハイビスカスの 雌しべは、先 に丸いボールのついたアンテナのようです。またドナ・オーロラの黄色 い花は綺麗な星型です。色の調和も含めてその美しさに驚かされます。

植物画を描く楽しさはもち ろんですが、絵を始めてから 思いがけず別の楽しみも出き ました。一つめは南国フルー ツとの出合いです。二回目に 描いたドラゴンフルーツは見 た目は赤い恐竜の卵のようで すが、果肉には種のプチプチ した食感があり柔らかい甘さ です。むいたオレンジ、キウ イと一緒にハチミツとレモン 汁にマリネすると、彩りもよ く美味しくなります。スター フルーツやパッションフルー ツ,マンゴスチン、そしてライ チのように甘いロンガンやラ

ところでシンガポールには、1850年に開園し2015年に世界遺産に登録さ れたボタニックガーデン、そして2012年オープンのガーデン・バイ・ザ・ ベイがあります。人気の観光名所です。 63.7ヘクタールもの広さのボタニックガーデンには、シンガポールの国花の蘭を集めナショナル・オーキッド・ガーデ ン、世界の生姜を集めたジンジャー・ガーデン、東南アジアの山岳地帯の植物が見られるクール・ハウス、東南アジアで 伝統的に薬に使われる植物を集めたヒーリング・ガーデンな どがあります。私の好きなジンジャー・ガーデンに咲く花 はとても華やかです。そしてガーデン・バイ・ザ・ベイの二つの大きな温室、フラワードームは地中海沿岸と亜熱帯の半 砂 漠地帯の植物を、クラウドフォレストは低温で湿度の高い山岳地帯の植物を見ることが出来ます。ここでも異国の植 物にたくさん出会えます。そしてちょっとホッとしたような気持ちになります。 実は私は新しいことを始めることには勇気が要りました。でも思いきってボタニカルアートを始めてみて、久しぶりに 自分の世界が広がりました。ま た何かに出会ったり、気づけた りする事があるかも....... 。それが今はとても楽しみで す。

80

Anjali

www.batj.org


深い絆 - ラル 千登世

京目黒区に生まれ育った私が、初めてインドの文化に 触れたのは、小学校3年生の時でした。洋食レストラン のオーナー兼シェフだった父が旧友に、インドから来たシェフが 働き口を探していると相談され、洋食レストランからインド料理店 に転向することになりました。 80年代後半、世はまさにバブル時代で、タンドリーチキンが2 ピース3,500円、カレーも1人前2,000円以上で提供していました が、お店は繁盛していました。当時は、イタリアン料理(通称イタ メシ)やティラミス、エスニック料理がブームで、当時の新し物好 きでミーハーな日本人に、インド料理もそれらと同様に受け入れ られたのかもしれません。 6年近く営業していたレストランを閉めたのは、インド人シェフ が頻繁に給料の値上げ交渉をしてきたことが原因だったように 記憶しています。おてんばだった娘の私たちに対してもほとんど 怒ることがないくらい穏和な父が、彼らに激怒する様子を見てし まったことがあったからです。結局、交渉決裂となり、インド人シ ェフたちはうちの店を辞めてしまい、うちの店はインド料理店から 会員制のバーに変わってしまいました。 私としては、いつも優しく遊んでくれたインドのおじさんたちが いなくなり、大変残念でした。彼らは休憩時間に遊んでくれた り、キッチンに居座っていた私にチャイやナンの作り方を教えて くれたり、運動会などの行事の際にはタンドリーチキンやナンな どをお弁当に持たせてくれたり、大変貴重な経験をさせてくれま した。(小学校の運動会でインド料理をお弁当に持ってくる子な んて私くらいでしたから)インド人と結婚した今、あの時もっと真 剣にインド料理を彼らから学んでおくべきだったな、とちょっとだ け後悔しています。 インド人の夫と結婚して9年目。趣味や性格はまったく異なる 私たちですが、唯一共通する楽しみが食で、休みの日にはビュ ッフェやお気に入りのレストランで食事します。そこでも、話題は 料理や食材についてで、食事の帰りにはスーパーに立ち寄ると いう、本当にエンゲル係数の高いカップルだなとつくづく思いま す。 私見ですが、インド人は世界の中でも特に食にうるさい人種

うやく失敗なく柔らかいロティーを焼けるようになりました。アタに 水を入れてこねてと、とてもシンプルそうですが、時間が経っても 柔らかい生地に仕上げるには、色々とコツがあり、これまで何千 回と作りましたが、納得のいくロティーになってきたのは最近で す。  私とインドとのつながりは、もう一つあります。フルマラソン をしていた頃、長距離を走り、凝り固まった筋肉をほぐすため に始めたのがヨガです。すでにヨギーだった姉に勧められ、 アシュタンガ(ashtanga)を始めました。アシュタンガとはサンス クリット語で、8本の枝(Yama:禁戒、Niyama:勧戒 Asana:坐 法、 pranayama:呼吸、Pratyahara:感覚の制御、Dharana:集 中、Dhyana:瞑想、Samadi:三昧)という意味を持ちます。太陽礼 拝から始まり、坐位のアサナ(ポーズ)から逆転、フィニッシング までアサナが決まっていて、呼吸と動きを連動させる、ダイナミッ クかつエネルギッシュなヨガです。身体のすべての筋肉を使い、 継続的に深く呼吸をすることで、全身に酸素が行き渡り、練習後 には身体から痛みや不快感が消え、達成感に満ち溢れ、安定 した気持ちになります・・・と文字にすると簡単そうですが、ヨガの 中でももっともハードな流派のため、アサナと呼吸がリンクする まではかなり練習が必要です。でも、ストレスの多い現代社会に は、ヨガはすごく適していると思います。毎日、忙しく働き、深呼 吸することも忘れてしまい、身体が酸欠状態の人たちには、マッ サージよりも根本的に改善できるヨガをお勧めします。 私とインドとのつながりは、ここに紹介したことだけではなく、も っと深い部分にあるように思います。過去に争いなく、お互いを 尊重し、良い関係を築いてきた日本とインドが、今後も深い絆で 結ばれてゆくことを強く祈ります。

だと思っています。それは、インドの女性は非常に料理が上手 で、どんなに忙しくて疲れていても、必ず家族のために温かいロ ティーを作るからです。夫の母は、そんなインド女性の中でも別 格だと思っています。お寺(gurudwara)で週末、何百もの人たち に振舞われる特別な食事(Langer)を何度も手掛けているからで す。私も料理人の父の娘として、お姑さんを見習って夫の胃袋 を満たせるように料理を頑張っていきたいと思っています。 私の料理の大先生であるお姑さんの名言を紹介します。ま ず、「嗅覚を使え!」。料理は、時間を計ったり、目で見なくても できる。例えば、ダルを圧力鍋で煮ている時、匂いで鍋の中の 様子が分かるようになるそうです。いやはや、達人です。我が家 では、週2回ペースでロティーを焼いていますが、9年経ってよ www.batj.org

Durga Puja 2016

81


日本の夏をカディですごしませんか? - 石澤 砂月(Ishizawa Satsuki) 『カディ』に対する日本人の私の最初の認識は、『手紬手織りの綿布』という程度のものであったが、それだけでも染織をする私に はあこがれの存在だった。糸から布になるまですべてを自分自身で行うなんて、私の目指す最終形である。この『カディ』、実際に使 ってみると、その心地良さは特筆に値する。どれほど素敵な素材かと私の個人的な思い入れを聞いていただきたい。 カディの良さ ~たくさんの空気を含む布~ 手紬の糸は多くの空気を含む。手織りの布も多くの空気を含む。 現在一般的に流通している布は、エアージェットやウォータージェット言われる機械で織ら れている。 (その機構も興味深いものがあるが、ご興味のある方は東京農工大学科学博物館(小金井 市)で毎週火曜日には動いているところをみることができるので、足を運んでみてはいかがか。 ちなみに無料である。) 一般に織りスピードが速いと、打ち込みが強くなり、布目の詰まった丈夫な布が出来る。しか し手織りでは、布目を詰めて打ち込むには限界がある。 しかし、ゆっくり作られた糸や布はたくさんの空気を含んでいる。だからか湿気(汗)を吸っ て、空気中に吐き出し、まるで深呼吸をするかのようにゆったり呼吸をしているように感じる。 また、手紬の糸は、デコボコとしている。これが良いのだ。日本の縮みと同様に肌にあたる 面積が少なく、サラッとして気持ちが良い。綿は短い繊維によりをかけて1本の糸にしていく。 その過程で紡ぐ人の個性(または技量とも言えるのだが)が表れるともいえるのではないか。よ り繊細な糸を作る人もいれば、無骨で温かみのある糸を作る人もいる。どちらがいいというも のではなく、好みの問題だと思っている。醤油顔が好きか、バター顔が好きかみたいなものだ が、どちらもゆったりと深呼吸をしている事は変わらない。

『カディ』と言えば・・・ 子供のころに歴史の教科書に出てきたガンジーは、白い布を纏っていた。それ がどんな意味を持つのか本当のところは私には理解出来ていないと思うが、彼は「 世界の人々が自分に必要な分だけを消費するなら、世界から飢餓はなくなる」とい う趣旨の事を言ったという話を小耳にはさんだ。(小耳にはさんだので定かではな い)この言葉には心を動かされる響きがある。「自分に必要なものは自分で作る」こ の精神を『カディ』は目に見える形で私たちに示してくれていると感じる。 私の部屋には、日本の糸車とともにブックチャルカがある。どちらもまだまだ使い こなせていはいない。このブックチャルカはガンジーの話にいたく感動して「ブック チャルカで糸を作ってみたい」とお手頃品を探している私に、インド旅行の折に購 入していたお土産を友人が譲ってくれたものだ。全く形が違うがこのブックチャルカ は、携帯用として良く考えられている。ちなみにガンジー考案と聞く。もっと小さなブ ックチャルカを手に入れて、小脇に抱えて旅すがら糸を作るなんていう、贅沢な時 間を五日過ごしてみたい。 私がカディをまとう意味 私の糸作りはまだ始まったばかりで、布を織れるほどの量を作る域には達していない。それでもいつの日か、自分で作った糸で織 った布を纏う日を夢見ている。 私にとって『カディ』を纏うことは、『足るを知る』ことである。私にとって大切と思えるものだけを欲することである。消費社会の中で、 消費する行為に疲れている私にとって安らぎである。そして何より、カディを纏っているのは心地良い。時間にせかされている今の時 代の中で、ゆっくり作られたものはそれだけで使う人に安らぎを与えてくれるように思う。 みなさまも、日本の夏に『カディ』を纏って過ごしてみませんか? 

82

Anjali

www.batj.org


最近のわっこひろば宙 - 山田 さくら 今年もわっこひろば宙恒例の開園記念イベントで、「千年の森」へ行きました。今年も大勢の親子が参加。 ただ今年は、あいにく朝からの雨が上がらず小雨の中での開催になってしまい、残念ながら森の中への親子散歩は出来ませんで した・・  それでも子ども達は雨なんか何のその、小雨の中を合羽を着てダム作りに励んだりツリーハウスで遊んだり虫さがしをしたり・・遊 びを満喫していました。野外料理のカレーも評判上々。完食でした!

わっこひろば宙は、今年で6年目。こころ育てを芯にすえた自然体保育が持ち味の保育園です。6年やってみてつくづく思うので すが、子育てにしろ保育にしろ、その時代その環境に生きている子ども達を通してその子その子に合った育て方を見つけていくこと が重要だということです。書物になってマニュアル化した教育論や保育論を勉強することもある意味大切かもしれませんが、個々の 子ども達が発信しているメッセージに沿った子育てがやはり最適な気がします。そこにこそ親や大人にとっての子ども育ての責任が あるのですから。 ただ現在の日本の環境は孤立化していて、子ども達が戸外で生き 生きと遊んだり近所の人達と関わりながら生活したりする・・ということ から、かけ離れた環境になってきています。家の近所や公園・神社な どで子ども達だけで遊んでいる姿を見かけることは、この信州の片田 舎でも見かけることがほとんどありません。そのことを踏まえてのわっこ ひろば宙でもあり、いろいろなイベントを企画しながら、様々な親子の コミュニケーションが取れる場になればと思っています。 タゴールさんも言っています「それぞれの環境に合った教育をすれ ば良い」と。タゴールさんが、シャンティニケタンに森の学校を創った のは、イギリス領下のイギリス流教育ではなく、インドの環境に適した 教育をしたかったからだと思うのです。 画一化され行き詰ってしまっているこの国の子育てや教育を見るに つけ、この国の将来が気にかかって仕方ありません。今思えば、動物 はもちろん様々な人達が行き交っていたインドという国は、学校だけ では学べない学びが外にはたくさんありました。次世代を担う子ども達 にとって、それらは学校教育と同じくらい大切なことのはずです。 この国の次世代の子ども達のこれからは・・気づいた大人がやれるだけのことをやっていくしか方法はないのかもしれません。 シャンティニケタンで

www.batj.org

Durga Puja 2016

83


初のインド旅行 - 佐伯 田鶴(さえき たづ) ■ 初めに  1年前、ひょんなことからこのAnjaliに記事を書かせていただいた時、「インドには行ったこともなく」と書いた私ではあるが[1]、そ の後、2015年11月に、仕事の関係で初めてインドに行くことになった。マハーラーシュトラ州のPune(プネー)へのたった4泊の旅であ ったが、その時のことを少々記そうと思う。 ■ インド到着  出発前の1週間は、現地での仕事の準備に加え、天気予報のwebサイトでPuneの天気を毎日チェックし、着るものを何にしようか あれこれ考え、胃腸薬をいつもより多めにスーツケースに詰め、インド人の同僚に「Puneの治安はどう?」と聞き、ネットでインドの習 慣を勉強し、これまたネットでデリー空港での乗り換えルートを予習し、インド初心者である私はかなりドタバタと時を過ごした(今時は インターネットに様々な情報が載っているのでありがたい)。そして、11月の下旬に成田空港を出発し、デリー空港で国内線に乗り換 え、Pune空港に無事到着し、初めてのインドの地を踏んだ。インドのこの地方では、11月は冬の始まりで比較的すごしやすいそうで ある。冬とはいえ、さすがは熱帯の街(北緯18.53度)、気温はかなり高く、街は青々とした緑に覆われていた。木の種類も日本の本 州とは異なり、空中に根を伸ばしている木などは私には見慣れないものであった。 ■ インド熱帯気象研究所(IITM)  今回の目的は仕事関係の国際会議出席である。「AsiaFlux Workshop 2015」という会議に出席し研究報告をした(会議の学術的 な報告は[2]に記してある)。開催場のIndian Institute of Tropical Meteorology (IITM; インド熱帯気象研究所)は、国の研究所であ り、インド亜大陸周辺の気象気候、海洋との相互作用、気候災害の軽減などの研究に取り組んでいる。国際的な研究も盛んであり、 私が勤めている職場にもIITMの研究者と共同研究をしている人たちがいる。  車やバイクが騒々しく行き交う通りから研究所のキャンパス内へ入ると、そこは非常に静かであった。あとで見せてもらったが、奥 の方には学生や職員の宿舎や訪問者用のゲストハウス、子供が遊ぶ広場もあり、のんびりとした雰囲気だった。Puneは大学や研究 所が多く集まる学術都市だそうで、この研究所のはす向かいにも国立の大きな研究所があった。  IITMの正門の横には電光掲示板があり、初日のその日は、最高29度、最低19度と気温の予報が表示されていた。この時期は冬 の始まりのため、また、Puneは海抜560mのため、比較的涼しいらしい。また「大気汚染を減らすため天然ガス(CNG)自動車に乗りま しょう」とのスローガンも表示されていた。インドの大気汚染は、都市部では深刻な問題となっているようである。高度成長期の日本の 大気汚染もこのような状況だったのだろうか?  会議では昼食や夕食にインドの料理を提供してくれて、どれも美味しかった(国際会議だったため、外国人用に多少アレンジし てくれたのかもしれないが)。RABDI(甘いヨーグルト?)、MULPUA(ホットケーキ?のシロップ漬け)など私には初めてのものが多か ったが、どれも美味しくいただいた。MULPUAはかなり甘く、日本人の中には途中でギブアップした人もいた。インドでは辛いものと 甘いものの対比が好まれるのだろうか。また、ペットボトルの水がどれもギリギリいっぱい入っているので、蓋をあけるときは注意が必 要!と何本か開ける時にこぼしてから気がついた。  街中はもとより、会場でもインドの女性研究者は伝統的な服装 (サリー、パンジャビドレス?)の方が多く、色とりどりの綺麗な服装 は見ていて楽しかった。日本の会議などは女性も含めて、ほとん ど白黒灰色である。 ■ Pune市内ツアー  会議が終わり、インドでの最終日、夕方の飛行機まで時間が あったため、日中はPune city tourのエクスカーションに参加した。 会議主催のIITMがいくつかのエクスカーションを用意してくれたそ の1つである。本当はエローラやアジャンタ遺跡まで行く泊りがけ のツアーに参加したかったのだが、日程的に許されず、半日で終 わるこのツアーに参加した。引率をしてくださったのは、プロのガイ ドではなく、IITMの事務職の方だった。休日出勤で申し訳ない。  まずやってきたのは、Pune Okayama Friendship Garden(プネ 岡山友好公園)である。案内板によると、Puneと岡山県は姉妹都 市らしく、岡山の後楽園を模して作ったそうである。ちょうど岡山大 学の学生の方2名もこのツアーに参加しており、まさかこんなとこ ろで岡山が出てくるとは!としばし盛り上がった。小さな丘や池、小 川、小川に架かる橋、整えられた植栽、石灯籠などが配されてお り、まさしく日本庭園であった。外界の喧騒も聞こえず、静かで瞑 想的な雰囲気の中、人々はゆっくりと散歩をしたりベンチで休んだ り、思い思いに過ごしていた。 (左上)インドPuneのインド熱帯気象研究所 (右上)正門脇の電光掲示板 (右下)会議の行われたMeghdoot Hall (左下)綺麗な砂絵で歓迎してくれた 84

 次はしばし車に揺られ、郊外のKhadakwaslaダムのほとりへ到 着した。川をせき止めて作った大きなダムで、Pune市の主要な水 源だそうである。昔ダムが決壊した際にはPuneの街が大洪水にな ったそうだ。地図で見ると市内中心から20kmほど離れているのだ が、これだけの水の量の力は恐ろしいものである。ダムは観光地と Anjali

www.batj.org


初のインド旅行

1. プネ岡山友好公園 2. Khadakwaslaダム

3-4. シャーニワル・ワーダ 5. 昼食のThali

6-7. アガ・カーン宮殿

なっているらしく、道路沿いに屋台がいくつか並んでいた。そのうちの1つでチャイをいただいた。かなり甘く、私には許容範囲だった が、日本からの参加者は水で薄めて飲んでいた。  市内のShaniwar Wada(シャーニワル・ワーダ)は昔の王国の宮殿である。建物は火災で焼失してしまったらしいが、城壁と頑丈な 門が残されており、城壁の上を一周できる。昔の戦争の時、人間ではこの門を壊せないため、ゾウを連れてきたそうである。さすがイ ンド。日本の城でここまで頑丈なものはないように思うが、日本はゾウがいない分、薄い門でよかったのだろうか?  昼食には、市内の川沿いのレストランでThaliをいただいた。お盆の上に小さいお器が7つほどもあり、いろいろな種類のカレーや 野菜、ヨーグルトを出してくれた。どこの地方のカレーかは私にはわからないが、いずれも美味しかった。おかわりをどんどん持ってき てくれるので、出発の時間が差し迫っていなければ、もっとゆっくり食べていたかったのだが…。  最後に、The Agakhan Palace(アガ・カーン宮殿)を訪れた。かつての王が建てた宮殿であるが、インド独立運動の際には、マハ トマ・ガンディーと奥さんのKasturba、関係する人々が軟禁されていたそうだ。当時の机と椅子、食器やバスルームが展示されてい た。ガンディーらは2年ほどで解放されたが、残念ながら、奥さんと何人かの方々はこの宮殿で亡くなってしまった。敷地内にはお墓 が綺麗に荘厳に保たれていた。我々の車と入れ違いに、子供達をたくさんのせた黄色いスクールバス5台ほどが出て行ったので、現 地の人々にとっても必見の場のようだ。  移動中の車窓から見る街中の風景は楽しかった。車、オートリクシャ、バイク、自転車(数は少ないが)、人、犬、牛、ラクダ、豚が 混在し、日本では見られない活気と混沌に満ちていた。あの道を横断しろとか運転しろと言われたら真っ青になるが。 ■ 終わりに  私の初めてのインド滞在は、会議をアレンジしてくださったIITMを中心とする方々のおかげで、無事終了した。以前日本で一緒 に働いた元同僚(現IITM)にも会うことができて、楽しい印象ばかりが残った。改めて感謝したい。今回は自由時間があまりなく、オー トリクシャに乗る時間も残念ながらなかった。私が次にインドへ行く機会はいつだろうか。その時を楽しみに待っている。 <参考文献> [1] 佐伯田鶴「インドから日本へ 〜徒然なるままによしなしごとを〜」Anjali 2015, pp.66—67. [2] 岩田拓記・沖元洋介・佐伯田鶴・和田龍一・平田竜一、AsiaFlux Workshop 2015 —Challenges and Significance of Ecosystem Research in Asia to Better Understand Climate Change— 参加報告、生物と気象、16:D1-5、2016.http://www.agrmet.jp/ sk/2016/D-1.pdf (Last access: 2016年7月10日)

www.batj.org

Durga Puja 2016

85


「ハルサイフ」 - 辻 しのぶ 今年のお正月三日目のことだった。 冬物セールで賑わうデパートで、好みの財布を見つけた。く たびれた自分の財布を見るたびに、そろそろ新しい財布を見つ けなければと気になっていたところの、偶然の出会い。手に取っ た財布は、形といい色といい、申し分ない。ただひとつ、小銭入 れが少々小さめなのが気にいらない。

彼女の言うことが正しければ、この財布が小銭で膨らむことは なさそうだ。年の初め、私は心機一転スマートな財布を一刻も早 く手にいれたくなった。

それ以外は好みにぴったりなだけに、さてどうしようかと財布 を片手に眺めていると、売り場の女性が寄ってきて「素敵ですよ ね、そのお財布」と声をかけてきた。

私は、彼女の言うことを信じてみようと思った。そして、その財 布を購入することにした。

「ええ。でも小銭入れが少し小さいように思えて」と答えると、 彼女は私の手から財布をそっと取り上げて問題の小銭入れの 部分を確認すると、「いえ、これぐらいで十分な大きさだと思いま すよ」と財布を私に戻した。思わず彼女の顔を見ると「小銭入れ が大きいと、自然と小銭がたまってしまうんです」とほほ笑んだ。 彼女が言うには、小銭入れが小さければそのスペースにあう ようにと、自然と小銭を消費するようになるのだそうだ。小銭入れ が小さいと硬貨を探しづらく、ついお札を使ったあげくに小銭を 倍増させるのではと考える私とは、逆の発想だった。 「小銭がたくさん入るお財布は、どうしても膨らんで型崩れし やすいんですよ。それに、小銭が居ついてしまうんですって」。  彼女のいうことに心当たりがあった。現に私の財布は小銭で 肥満気味、それがくたびれ具合を加速させていた。 小銭入れが大きいタイプのものをというのは、私の次の財布 のゆずれない条件である。しかしその条件以外は、二つ折りで、 ファスナーできちんと口が閉まる長財布で、さらに淡い色合いの この財布は、私の好みにぴったりなのだ。さっさとあきらめて、条 件をすべて満たす財布を探しなおすか、それとも妥協して使っ てみようか。財布を片手にもじもじと、なかなか決心がつかない。  「今の時期に買われると、ちょうど春財布で縁起がいいです ね。それに、お財布の使い初めによい日がもうすぐだったと思い ますよ」。 店員の思いがけない切り出しに、「あら、それはいつなんです か」と尋ねると、彼女は少し上を向いて思い出すように、たしかあ と10日くらいあとだったと思いますと答えた。 「よく知っているのね」。感心する私に、「興味があって、つい 先日調べてみたところでした。いろんな吉日の種類があるような んですが、そういう日に財布を購入したり使い始めると、金運が アップするみたいですよ」と彼女は少し照れた様子だ。   年の頃は、たぶん30歳前後だろうか。制服らしい黒いワン ピースを着て長いまっすぐな髪を後ろでひとつにまとめ、むきだ しになった耳には繊細な細工の長いピアスが下がっている。そ れがまた小さな顔を強調していた。そこはいわゆるセレクトショッ プであり、革小物の専門店ではない。現に財布はあと一種類し か置いていなかったから、仕事上知りえた知識ではなく、本当に 彼女自身の好奇心から調べたものなのだろう。

86

「そうね。せっかくなら縁起のいい日から使い始めたいですも のね」。

店の出口まで見送りに出てくれた彼女は、「使い初めには、 新札を用意されるといいみたいです。新札がそのお財布を覚え て、たとえ出て行ってもまたすぐ戻ってくるんですって」と、最後 にもうひとつアドバイスをくれ、ありがとうございましたとぺこりと頭 を下げた。 家に戻ってネットで調べると、財布の使い初めによいという日 は、彼女の言うとおり大安、一粒万倍日、寅の日、などいろんな 種類があった。大安はもちろん何事においても吉であり、一粒 万倍日は1円が何倍にも増える、そして身体の黄色い縞が金運 を表すという寅は、一瞬で千里を走ることから、出したお金がす ぐに戻ってくるという意味なのだそうだ。 1月の開運カレンダーとやらをもとに、新財布の使い初めは1 月12日に決めた。カレンダーのその日には、寅の字と新月のマ ークがついていた。風水で新月は「始まりの運気」を持つ特別な 日らしい。財布は「荷が重い」と嫌がるかもしれないが、どうせな らたくさんのご利益をあずかりたい。 そして、とうとう1月12日。満を持しての春財布の登場である。 お年玉用にと両替しておいた新札を数枚、念のためお札の 向きを確認したあとに、おごそかに財布に投入した。クレジットカ ードやキャッシュカードは、たくさん入れすぎないように。何種類 もあるポイントカード類は、別のカードケースに収納することにし た。すべて、ネットで調べた情報である。また、使い初めに少し 多めにお金を入れておけばその金額を財布が覚え、その後も 財布がそれくらいの金額を「都合」してくれる…と、これはあまり にも調子がいい言い伝えであるが、せっかく仕入れた情報なの で、これにも従ってみることにした。 こうして1月12日に意気揚々と大海原に出て行った私の財布 だが、今のところ順調なすべりだしである。私自身、小銭を意識 して使うのはもちろん、レシートや不要なものをなるべく財布に 貯めないなど、無駄に膨らまないように目下鋭意努力中だ。せ っかくの春財布が「不要なものばかりが『張る』財布」になってし まっては、意味がない。 いまも財布を見るたびに、彼女のアドバイスを思い出す。今 年最初の買い物は楽しかった。それに、いい買い物ができた、 と思う。今年はいいことがあるかも。ふと、小作りな彼女の顔が目 に浮かんだ。 

Anjali

www.batj.org


The Mystery   - Aditi Kumar, Grade IV Hi, my name is Lucy Walker and I am a detective. I am eight years old and have two younger brothers. My dog›s name is Lucky. My brothers› names are Max and William. William is the youngest. My mom is a teacher and my dad  works at a pizzeria.  One day, Max came running up to me and said, «Lucy, come quick, someone took one of our  puzzle pieces!” Let me explain. Max and I have been working on a 500 piece puzzle. “What!” I raced to the living room. What Max said was true, one piece was gone! Clues! “Lets look for clues.” I suggested. We got on our knees and searched. Finally, I yelled, “Look smear marks!” “It looks like peanut butter,” said Max, “But from where?” Suddenly, Lucky came running. He licked up the peanut butter! “Lucky, NO!” I yelled. “Back to the case” said Max grinning.  We thought and thought. “Let’s look for more clues” I said but couldn’t find any. “Max,” I said seriously, “From reading books I have learned that sometimes if you take a break and refresh your mind, you will look at things in a different way.” “Thanks for the advice” said Max. “You’re welcome” I replied. 

It All Makes Sense Now! When  Max and I woke up it was time for breakfast.  We went downstairs. Our mom was making her specialty, French Toast! “I bet William is eating peanut butter as usual” Max said. “Probably” I replied.   “Good morning mom” we said in unison. “Good morning kiddos” she answered. “Why is William not eating French Toast” Max asked. “He felt like eating peanut butter and bread” said mom. Suddenly, I jumped up. “Max, don’t you see,” I shouted, “William is eating Peanut Butter!”  “Oh yah, peanut butter was our clue!” realized  Max. “Kids, what is this all about?” asked mom. “Someone took our puzzle piece. Our only clue was a peanut butter smear. William is eating peanut butter!” I said quickly. “William, did you take the puzzle piece?” mom asked sternly. William nodded his head. “Why William?” I asked softly. “I wanted to play a trick,” he said, “I was bored.” “Oh” was all I could say. “Please give it back” said Max. William ran upstairs and brought down the puzzle piece. “Thank you” Max said. William looked down. “What do you say William,” said mom. “Sorry” he whispered. “Don’t do it again” I said. I ran upstairs and placed the piece is its place. The case and the puzzle were done.  

Slender Man - Sneha Kundu, Grade VIII Slender Man is a mythical creature whose existence is not certain, but is definitely extremely terrifying. I don’t want to personally scare anyone that may be reading this, but I thought this would be an interesting story to share. You might not even be able to sleep alone in the dark for a day or two after reading this. Slender Man is depicted to be about 2.5 meters tall, with extremely long arms and legs. His face is said to be completely white with no facial features such as a nose or eyes. He is said to always be wearing a suit and tie and dresses rather formally for someone whose job is to scare victims, make them feel paranoid and nauseous, and possibly even make them kill other human beings. He is said to mostly be spotted in dark and scary places such as forests. Legend says that if you see Slender Man, he will follow you back to your home, and then follow you everywhere else you go, and basically become an obsessed stalker. Once he starts following you around everywhere you go, you will notice him doing so, eventually making you feel paranoid and nauseous, hence ruining your life forever. There have been lots of cases involving real human beings doing terrible things such as attempting to kill somebody, and then claiming that Slender Man told them to do so. Back in 2014, two 12-year-old girls dragged one of their classmates into a forest and stabbed her 19 times and then left her there. www.batj.org

The girl who got stabbed managed to make it out of the forest and was immediately taken to a hospital when noticed by someone walking by. Meanwhile, the two girls were spotted by cops with a knife in each pair of hands. When they were taken to court they claimed that Slender Man had ordered them to murder the classmate. Eventually, one girl was pleaded not guilty while the other girl was diagnosed with schizophrenia. Another case involved a 14-year-old girl setting her family’s house on fire while her mother and 9-year-old brother were still in it. After lighting the house on fire she quickly escaped to a nearby park and slept in a bathroom. Luckily, her mother and brother managed to get out of the house unharmed. Minutes after the incident took place, she texted her mom asking if she was okay and if they had gotten hurt. When the police found the girl, she claimed that Slender Man told her to do so. We can now assume that Slender Man has a way to possess certain victims and make them do completely unethical things without them even realizing what they’re doing. Slender Man may be the scariest myth to ever exist, for he does not instantly kill victims, he makes them suffer until they do crazy things, such as murder people, and then rot in jail. So everyone who is reading this, make sure to watch your back, because you might be Slender Man’s next victim. 

Durga Puja 2016

87


The Missing Library Book - Arnab Karmokar, Grade IV I, Donald Jacobson, was reading a book about Mr. Locker Docker, the most famous book in America. When I was about to finish chapter 3, over the loudspeaker came a voice. “Donald Jacobson, Donald Jacobson, please report to the principal’s office this second. Thank you.” The whole class ‘ooooohed’ “I can’t believe it. It’s the third time this week. SUCKAAAAA!” Said my worst enemy, Thomas Grouchers. “Oh. Yeah. You just shut your mouth this second.” I said, staring right at his dummy face and opened the door. I was all ready for this.

Just about 30 minutes of yelling, screaming, and screeched by the dumbest principal in the whole world and in history, Principal Christian, it was already time for lunch at the ‘The Cafeteria of chicken and fish of Everybody’s International School in Denver, Colorado.’ It is now called this because of Mr. Twithead, who only makes food with chicken and fish. I went to my side of the Cafeteria where everybody was waiting for me. “So what happened today, Dumbhead!” Asked Dumb Grouchers (hey, maybe that is a great name for him). “None of your beeswax!” I said him back. “Stop fighting” said my BFF (stands for Best Friend Forever), Daniel Jones. I secretly told Dan about what happened. “SUCKAAAAA!” Said the Dummy. I hate it when that happens. After I ate lunch, I went back to class. I saw something that was supposed to be there but was not there. I remembered. It was the Mr. Locker Docker book. “Mrs. Lovely, do you know where is my library book?” I asked my homeroom teacher. She said that it wasn’t there on my desk. I got worried. The book costs about a $100. When I got home I told mom that my library book went missing. But even before talking about the situation, she just went up to me and yelled at me for about an hour because… I’m sure you get it! Whatever, the next day, I searched my locker, backpack and my classroom. It took about an hour. And guess what … I’ve got to go to the detention room this whole week! Can you imagine? Just because I got late for my first class, now I have to go to the detention room everyday this week. When library was about to start, over the loudspeaker came a voice, “There is a book called ‘Mr. Locker Docker’s Mystery and the chicken wings attacking in New Spapers islands’, and if the library book is yours, please report to the principal’s office to receive your book. Thank you.” I yelled “WOOHOO” so loud that the window glass was broken into pieces. It’s really shocking when you have to pay for the money for breaking school properties. Plus it also hurts when you don’t get your allowance. But I am really glad I didn’t have to pay for the book which costed a $100. I hope I get my allowance next month.  88

Anjali

www.batj.org


Lost inside a shoe - Akanksha Mukherjee, Grade VI I usually get lost in various places like streets, shopping malls, airports, stations … but the strangest place that I ever got lost was inside a SHOE!!! This has been my greatest adventure so far – and let me share it with you. One afternoon, a friend told me a secret. If you go to a dark room (where nobody sees you) holding a pair of your shoes and whisper “shoe” two times, then you will automatically get inside a shoe. And in order to return back, you need to find your own shoes and do the trick again. Of course I didn’t believe that and I thought my friend was joking. So I decided to try it. I went to a dark room holding my shoes and I whispered “shoe” twice. In all of a sudden I shrunk to the size of a mouse and fell into the hole. And I kept falling and falling, which made me dizzy and I closed my eyes. When I woke up – I was stunned! I was barefooted and it was so dark that I couldn’t see anything. “Hello,” I called out. “Is there anybody there?” But there was no response. I was starting to feel a bit scared and wished that I hadn’t done the trick. After an hour of desperately searching, I noticed a ray of light in a distant corner. As I went closer I noticed that it was a torch! Using the torch, I looked around and eventually found a door that said ‘EXIT’. When I opened the door, I saw the most beautiful garden! It was just as colorful as a rainbow. Far ahead I saw a huge castle where the king and queen lived. As I wandered around, I heard people approaching. It was the king and queen coming

www.batj.org

with a lot of guards. Feeling a bit nervous, I immediately hid behind the bushes. As they were passing by – I heard the queen saying to the king, “Look at these pretty shoes! I found them in the garden over here.” Those shoes were just like mine! And I needed my shoes to go home. So I played this trick – I threw a stone to create some noise. This distracted the queen and she came rushing to see what happened, and she tripped over the rock. I quickly took those shoes and ran away. The queen saw me taking the shoes and shouted, “Guards! After her!” Then the guards came running after me. I ran as fast as I could, but it was no use. So I turned to my left and climbed up a tree. When the guards were gone, I came down and looked carefully at the shoes. They were my own shoes! Now I could finally go back home. So I repeated the trick again. And once again I fell down into the hole. When I landed this time, it wasn’t dark, nor scary. In all of a sudden, I turned from the size of a mouse to a human. I saw an exit sign nearby so I went and opened it. It was my own room with my shoes in front of me! I was finally back home. But however, the time did not change at all. “It was such a fun adventure,” I thought. And no one can ever imagine how much fun it can be inside a shoe! 

Durga Puja 2016

89


Haiku Poems - Ananya Sharma, Grade VI Haiku poems date from 9th century to the present day. Haiku is more than a type of poem, it is a way of looking at a physical world and seeing something deeper, like the existence of nature.

Basho, Issa, and Buson. Their work is still the model of haiku writing today. They were poets who wandered the countryside, experiencing life and observing nature, and spent years perfecting their work.

History and Structure of Haiku Poems

Haiku Poems From the Masters

A Haiku poems consist of 3 lines, with the first and last having 5 moras, and the middle line having 7. A mora is a sound unit much like a syllable, but it is not identical to it. Since the moras do not translate well into English, it has been adapted and syllables are used as moras. Haiku started out as a popular activity during the 9th to 12th centuries in Japan. It was a progressive poem, where one person would write the first three lines with the 5-7-5 structure, and the next person would add to the section with a 7-7 structure. The chain would continue in this fashion. The first verse was called “hokku” and set the mood for the rest of the verses. In 19th century, the “hokku” became popular and was written and read as an individual poem. The three masters of “hokku” from the 17th century were

A review of a haiku poems is an excellent way to become familiar with this form of poetry. As I had mentioned the moras won’t be the same as syllables. In the Japanese poem, there are 5 moras in the first and the three line, and 7 in the second line, following the 5-7-5 structure of haiku. One of my favorite haiku by the famous Yosa Buson from the late 1700s are A summer river being crossed how pleasing With sandals in my hand! Light of the moon Moves west, flowers’ shadows Creep eastward. In the moonlight The color and scent of wisteria Seems far away.

I was inspired to write a haiku and I have written about the four seasons, describing them, and the beauty of nature around us.

Summer

The fresh ocean breeze With people leaving footprints In a sunny day

Spring

The crisp morning with colorful cherry blossoms How pleasing!

Winter

The cold freezing breeze Snowflakes falling gently on the cold ground

Fall

Red, orange, yellow Leaves everywhere you go Making sounds as you step

90

Anjali

www.batj.org


The Battle at Viareggi - Anirudh Kumar, Grade VIII This poem is based on World War II which we learned about in class. Its foundation is on the experiences of Vernon Baker, a man who was one of the first black soldiers to join the conflict, and about the battle he won during World War II. This earned him the Medal of Honor. The purpose of my poem is to give the reader a perspective on the horrors of war and to show how everyone is important in war, no matter what their race or background is.

A Medal of Honor I have, For acts of bravery in the Second World War, In June of 1941 I joined the infantry, The 370th regiment, The first black unit to see battle, In World War Two. On April 5th of 1945, Our unit was sent

And smell trouble,

To capture Castle Aginoffi

The Nazi’s have discovered us.

A German fort,

The sound of guns fill the air,

In the blue and white mountains of Viareggio,

Hurting my ears,

A death trap for the Allies.

Grey smoke blots out the sun,

Over three hills we went,

My lungs are filled with it.

To reach the fort,

This is war.

Walking carefully,

Death.

To avoid landmines “Who wants to scout the area?” hisses Commander Runion, “I do.” a voice says,

Confusion. Blood. Oh, god.

Was that me?

What do we do?

Why did I say that?

We retreat.

I walk down the muddy path,

What else can we do?

As if in a dream.

Will this ever end?

I see the entrance,

The next day,

Our way into the fort,

Something inside me snaps,

The way to win the battle.

I lead our unit,

I throw a grenade at the sentries,

I don’t know why.

In their crisp brown uniforms,

I don’t know how.

I taste blood, my first kill.

We capture the castle.

This is not me.

I captured the castle.

What am I doing?

The taste of victory.

I return slowly,

The Distinguished Services Award is mine. In January of 1997, The golden Medal of Honor is mine. “Thank you.” President Clinton smiles. The only black soldier from World War II to win this I feel proud, I’ve done my job.

www.batj.org

Durga Puja 2016

91


Hotaru no Yube (Evening lit by Fireflies) at Hachioji, Kamiongatamachi

- Manasvi Kapoor, Grade VIII The grounds were full with clusters of people, Groups of families relaxed on their mats, eating snacks, While their children made the atmosphere lively with their shrieking and screaming, playing to their content on the lush green grass…. They seemed to enjoy themselves, yet eagerly waited for dusk to arrive, for the park to get lit up by the magnificent fireflies! Though dusk seemed a bit far away, I sure did not have any scope for boredom! It sure was a scenic park, with all the abundant greenery filled by the trees, And at the centre, water came regenerating from the huge wheel of the classy wooden spring mill, forming a small stream. There were spots at which huge bunches of Hydrangea flowers- violet, magenta, rose; all spectacular shades, bloomed with all their glory. They spread subtle rays of happiness to the people around, Making their visit even more enchanting! In the left corner, there were food stalls, selling delicious festival snacks, must in a typical Japanese festival! Though the immense crowd, people just seemed to savour on this lazy Sunday evening… While we were taking a look around, we came across a bunch of people gathered together, admiring the adorable actions of this huge, I suppose, a squirrel; costume worn by someone Even though originally meant for little children, I saw people of all ages taking pictures and playing around with the figure, genuinely enjoying themselves! It was as though their child-like innocence, curiosity, and spirited nature had come back! It made me realize, after observing the Japanese, how these little things can make us truly happy… It was surely a very energetic atmosphere yet with these positive and meaningful feelings! I looked up at the blue, rather cloudy sky, to get an even more peaceful feeling There were abundant stratus clouds, their thin layers all spread across the sky, giving a sleepy, yet soothing feeling. The rows of green pine trees on the mountain slope below, seemed like they were part of a dense wood farther away, contrasted with the blue sky. But as I brought back my eyes down slowly, I started seeing distant small heads, turning gradually into emerging figures of all those people in the huge clearing, relishing the aspects of mother nature! Time passed by quickly, as one would expect, It was already 7:30 in the evening Yet, no signs of fireflies…. Of course, not losing hope easily, We waited for it to become pitch dark, which took quite time, as expected in the summer days! Soon, once we were convinced that it had become pretty dark, yet the fireflies were nowhere to be seen, we with the others actually started “looking” out for them… The crowd had become rather quiet, which I guessed was because of the exhausting evening before, but of course also for the fireflies to appear! We looked everywhere in the clearing that we stood-through the bushes, over the lake, and through the dense green trees which now appeared matt black, All in hope to spot small bright yellow dots! Yet, there were none!! I could only see the twinkling stars, and though they were plenty and not to be easily seen in Tokyo, Those couldn’t quite able to fulfill our desire to view the much awaited fireflies.. 92

Anjali

www.batj.org


Hotaru no Yube (Evening lit by Fireflies) In the end, we decided to go deeper into the park, where we expected it to be darker. We made the decision to go to the centre of the park, where the dense pine trees covered the area around the deep stream. As we arrived, we were amused! There was a huge crowd here, standing on the elevated ground along the stream, And looking down, screaming “Sugoi!” Now I was certain that we had found the fireflies! As few people moved ahead, we took up their place. I looked down, and around the dense trees and the stream, Until I found a small glowing yellow dot vibrating and slowly moving across thin air, Spreading the joy of light and brightness through nature! I was fascinated!!! I tried to focus my eyes on every single corner of the view that stood ahead of me, And in no time I spotted quite a few of them wandering across the sky- some above, some down below the stream, some on the right or on the left. I could hear whispers of the calm Japanese, some asking “Dare?” (Where), with energetic replies like “Soko!!” (Over there!!) And of course, as we passed by people, on our way down near the stream, words like “Kirei” and “Sugoi” ruled the atmosphere! When we reached near the stream, I figured out it was a good idea… Once I patiently looked around, I could see even more twinkling, moving spots, Not stars but fireflies!! It felt like an expedition of finding fireflies…. As someone spotted one, he/she pointed at it And then all the faces went over to the pointed side, until the firefly would be out of view. It somehow felt like those swinging rides in amusement parks, Going from one side to the other, but with people’s curious faces, rather than the big thrilling carts! Not having enough of them yet, we kept making our way through the darkness, Sometimes switching on the flashlight when too dark…. We looked at a number of spots, in all of them experiencing the happiness and amazement spread by the fireflies. They were actually of different sizes and brightness once you observed them carefully- some were quite tiny yet with a bright light, whereas some others big and dim…. Finally, after taking a good look around, and watching the magnificent fireflies to our heart’s content, we started making our way to the exit of the park. The exit, not being quite close, arose temptations in between, And so we made some stops cherishing our last moments with the glorious fireflies. Once, we saw a firefly sitting in a branch at one place, as if meditating… We spent quite a lot of time, at first trying to touch the firefly and make it fly, in hopes of chasing it around! At last, we “successfully” made our way through the exit. As we walked to the parking slot, I reminded myself of how spectacular the evening had been, And all the waiting and eagerness felt worthwhile and we made beautiful memories afterall! We sat down in the car, and yes, we were tired after our, what I call “expedition” yet, when dad asked how was “all of it?” I replied with a big smile, “Breathtaking!!” 

www.batj.org

Durga Puja 2016

93


Behind the Scenes of Tagore - Arunansu Patra, Grade XI

R

abindranath Tagore, born on 7 May 1861, was a Bengali polymath, a man of many expertise, and has revolutionized Bengali music, literature and philosophy. The legacies he has left behind are innumerable. He was the first Asian Nobel laureate for the Nobel Prize of Literature 1913, for Gitanjali, his collection of poems. Not only had he written the national anthems of India and Bangladesh, and heavily influenced the lyrics of the Sri Lankan anthem, but he had also founded Visva Bharati University (Santiniketan), which later inspired the foundation of the Darlington Hall School in England, both being highly prestigious. He was eventually knighted by King George V in 1915, which he had renounced 4 years later, due to the Jallianwala Bagh massacre led by the British Indian Army that took place in Amritsar. His legacies were also prominent in Japan. It is well known that he had spent some time in Sankeien Garden, and it is claimed that Tagore had influenced author Yasunari Kawabata, who became a Nobel Laureate in 1968 for his outstanding literary works [1]. However, not everything was triumphant in his life, and his works were not always appreciated everywhere he went. This resulted in controversial statements being made about his works. Although these do not limit his legacy, it is important that his struggles, and somewhat untold stories, are told to further appreciate the works and dedication of Rabindranath Tagore. CHINA His first visit to China was not so welcoming, which was unanticipated because there is a history of large amount of intellectual and cultural exchanges between India and China, including that of the Buddhism. On 12 April, 1924, Tagore reached Shanghai on an invitation from Liang Qichau, one of the most famous Chinese intellectuals at the time. Many people on the streets shouted slurs like “Go back, slave from a lost country” within several days of his arrival. India was a British colony at that time, and prior to that, India as a whole or in parts had been ruled by the Mughals during 1526-1858. Due to this, the Chinese probably believed that India had suffered moral and psychological degradation, and also thought that their culture was endangered due to the minimal accessibility of the traditional Sanskrit texts to the vast majority of Indians. In addition, the British imperialists had used Indian soldiers, against the Chinese, during the First Opium War in 1841. Qichau and his fellow intellectuals had sensed that China was emerging with a sense of national solidarity, which would advance towards adapting the Western basis of power and prosperity. Tagore had argued that these ways of the Western civilization would not suit the Asians, and had urged them to sustain their traditional culture. Pankaj Mishra in his book mentioned that Mao Dun had said “We are determined not to welcome Tagore who loudly sings the praise of the eastern civilization. Oppressed as we are by the militarists from within the country and by the imperialists from without, this is no time for dreaming” [2].

that the Shandong Islands goes to Japan and not China. The Chinese locals heavily disagreed, leading China to be the only country to not sign the treaty. Youwei’s students were more interested in economic and geographic power than debating on philosophical values. Even a Buddhist scholar, Zhang Taiyan, had criticized Youwei of his interests in Indian philosophy and literature. He had the idea that the Indians were not concerned about China’s loss of national territory or whether their race declined, as opposed to the Chinese, who were strongly determined. This led him to believe that the accomplishments of the Chinese would surpass those of the Indians. The antiTagore members distributed unflattering leaflets of Tagore in the lecture halls where Tagore had spoken [3]. In spite of all this, Tagore had also been admired by many in China, and his works such as The Crescent Moon and Chitra were translated in Chinese. Coincidentally, he had even spent his 64th birthday in Peiping (present Beijing). DEPRESSION What is probably least known about Tagore is that there were signs of him having suffered from depression [4]. He wrote about his depressions to C. F. Andrews, whom he trusted as a friend. The letters he had written to him had later been published in “Letters from a Friend”, a book written by Tagore himself. In Tagore’s childhood, his mother, Sarada Devi (not to be confused with the spouse of Shri Ramakrishna) had passed away leaving him to be taken care of by the servants. His father, Devendranath Tagore, was preoccupied in religious reform as a leading proponent of Brahmo Samaj. Despite being the youngest of thirteen surviving children of his parents, Rabindranath Tagore felt lonely. Some say that it was the death of his sister-in-law, Kadambari Devi, that left him lonely and depressed. Being only a few years older than Rabindranath, Kadambari Devi was a dear friend and a great influence to him. Tagore’s depression is said to have been in periodic attacks rather than a consistent condition. In January 29th, 1915, he had written to Andrews “I feel that I am on the brink of a breakdown. Therefore I must take flight to the solitude of the Padma. I need the rest and the nursing of the Nature”. As per the letter, Tagore spent some time on a boat in the banks of the Padma River, and on February 1st, he wrote this in a letter to Andrews: “I had been suffering from a time of deep depression and weariness. But I am sane and sound again...”. Throughout his literary career, he also felt as if not many people really appreciated his works, and arrived at a conclusion that people’s celebrations were a “momentary excitement”, when he won the Nobel Prize. It is little known that the song Ekla Chalo Re (If They Answer Not To Thy Call, Walk Alone), one of the most memorable and iconic songs written by Tagore in 1905, was written for the times he had felt alone, isolated [5] or even in desperation to liberate his countrymen. This song is famous nationwide and is often portrayed as a song promoting justice and self-dependence which was practiced by Mahatma Gandhi.

That being said, however, there was one exception to the distaste towards the Indians. Kang Youwei, mentor of Liang Qichau, had admired Indian philosophy and literature [3]. However, he was pilloried by his students, even those younger The great success of Rabindranath Tagore is often than him, who had even participated in the May 4th movement taken for granted. The sheer struggle and failures are often in 1919. This was a protest against the Treaty of Versailles, not talked about, when knowing them would greatly enhance issued after World War I, in which one of the articles constitute 94 www.batj.org Anjali


Behind the Scenes of Tagore the value of Tagore’s achievements in life, and can be inspiring for younger minds to not expect everything to go well for them. There is still some controversy in Tagore’s work to this day. Rajasthan’s chief minister, Kalyan Singh, had pointed out that, in the Indian National Anthem, the word adhinayak in the lyric “Jan gan man adhinayak jai he” could be seen as praise to the British, specifically King George V. Singh suggests that the line

should be replaced with “jan gan man mangal gaye” [6,7]. That being said, the national anthem is sung by most of the Indian population, and is a song played on two of the most prideful Indian memorial days: Republic Day and Independence Day. It is safe to say that Tagore’s efforts truly paid off and Indian literature, philosophy, let alone that of Bengal, would not have been the same without his immense contributions. 

Bibliography 1. Sen, Amartya. Tagore and His India, www.nobelprize.org/nobel_prizes/literature/laureates/1913/tagore-article.html; citation#25. 2. Mishra, Pankaj. From the Ruins of Empire – the Revolt Against the West and the Remaking of Asia, Penguin Press, 2012; web: www.outlookindia.com, 13 Aug 2012. 3. Shih, Hu. “Rabindranath Tagore in China.” Taiwan Today. N.p., 01 Aug. 1961. Last accessed: 06 Aug. 2016. 4. Roy, Abhik. “Opinion.” Tagore’s Triumph over Depression. The Statesman, 06 June 2016. Last accessed: 06 Aug. 2016. 5. Bhattacharya, Sabyasachi. Rabindranath Tagore – an interpretation, Penguin Press, 2011. 6. What Explains the Return of the 104-year-old Controversy about Tagore and the National Anthem? Scroll.in. N.p., 08 July 2015. Last accessed: 06 Aug. 2016. 7. Puniyani, Ram. “National Anthem ‘Adhinayaka’ Debate: It’s Not about King George.” The Indian Express. N.p., 11 July 2015. Last accessed: 06 Aug. 2016.

www.batj.org

Durga Puja 2016

95


The Homecoming - Utsa Bose, Grade XI “I do believe in the power of story. I believe that stories have an important role to play in the formation of human beings, that they can stimulate, amaze and inspire their listeners.” ~Hayao Miyazaki I came back to India from Japan in 2009. Back then, I was your average 9 year old, torn between cultures and time zones. A part of me was DEFINETELY happy to be home again, but a felt like an outsider inside my own room. There were days when I would walk into my room, saying “Tadaima!”, only to remember that my sleepy little house on the lap on Kamadai was a life I had said goodbye to. But it wasn’t like I missed Japan, per se. For one thing, I needed to make new friends here, and renew relations with old ones. And that wasn’t easy. I felt like I was out of place in school, and trust me, knowing Japanese isn’t a credential in the playground or in the classroom. At that time, it seemed to me that embracing one way of life meant letting go of the other. So I began this process of letting go of Japan. In all the ways I could. Of course, I couldn’t wholly let go of my past, I could just keep running away from it. My parents wanted me to continue Japanese studies, therefore, I couldn’t wholly forget my other life. But I snapped all other chords. I stopped learning Piano. I didn’t reply to letters by friends from Japan, and this was a time when the use of social media wasn’t’ that prevalent. So even though there was an effort on their part to maintain ties, I didn’t talk back. And after some time, the letters stopped. The Yamaha keyboard just lay in the loft, gathering dust and remembering happier times. Life was just an unintended Haiku on permanent repeat. And then one day, my sensei gave me a DVD and said, “This is a movie called ‘The Castle of Cagliostro’ by Hayao Miyazaki. Watch it, I’m sure you’ll like it.” It was anime, so that was a bonus. I was quite alien to this new filmmaker. So I went back home, one DVD heavier than I came. Not that it added any weight, but anyway. But It didn’t perk my curiosity then, so as a result, it lay forgotten, like Japan itself. But then one day, I found it while shuffling through old DVDs. I didn’t know what made me want to watch it then, I just did. Now would be a nice time to tell you that until then, my only relations left with Japan were that of a very specific Anime. Pokemon. And my view of animation was limited to the fact that it was an artform primarily for children. But then when I saw Ghibli’s first movie, it reminded me so much of a life I had left behind. In it’s language, in it’s stories and in it’s characters’ idiosyncrasies. The Castle Of Cagliostro wasn’t in it’s essence very Nihon-ish, but I like to think that it set the ball rolling. Barely a few days later after watching the movie, I rushed to Sensei and asked him if he had other Ghibli movies. He smiled and said he did. And so began my tryst with Totoro, with Kiki, Ponyo, Mononoke

96

Hime and Chihiro. And in their little chronicles, I found a part of me which I had denied so far. It was too late to talk to my friends, because they had moved to new, and hopefully happier places. But the city had lived on. And maybe it hadn’t given up on me yet. At 16 years, I have had my share of goodbyes. But I’ve had the priviledge of finding new friends too. And as a new friend pointed out : “It’s never goodbye if you truly love someone/something.” My friends can be a little preachy sometimes. But I love them still. My point is, that you might grow up before you’re eighteen. Don’t get scared. Goodbyes happen, but so do hellos. I’ve lost many friends along the way, but I’ve also made new ones. It’s okay to mess up once in a while, I guess. Maybe not. I don’t know. A week back, I found one of my old friends on Facebook. And we started talking. I got to know that he had moved to Tokyo. He also told me that some of my other friends had gone to Hokkaido. Some to Nara. I was scared to ask him whether he was angry at me because I had stopped writing. He said that he was a bit disappointed at first, but life had to go on. And he knew that if I had to, I would find him one day and we’d start over. “Distance doesn’t create distance,” he said. “Silence creates it, I believe.” I couldn’t believe I was having this conversation with a boy I had shared my desk with almost 9 years ago. Had we grown up? Maybe. I didn’t want to be sure. I don’t know why. But I realized that sometimes, some relationships are worth reconstructing. I am just about to wrap up, but I just remembered something else a friend once said. “Frienships, relationships, these are like trees. And Totoro loves trees. They grow only if you fight for them, and you care for them” Have I told you that my friends are a little preachy sometimes? I guess I have. I go back to Japan for a week in October. And I hope the city is as I remember it was. But time changes things.

Anjali

Be kind to me, Yokohama. You know I love you. 

www.batj.org


Flying to Countries -Ashmita Paul 8yrs

Self Portrait with Michiko -Zinniya Dhar 7yrs

King of Jungle -Aryan Sharma Gr VII


Chit Chatting -Debkanya Sengupta Gr XII

Bird of Paradise - Pramiti Hebbar Gr IV

Jaybird -Avyukta Hebbar GrII


Goddess Durga -Auyona Gupta 8yrs

Kinkakuji - Divyam Kapoor Gr III

Sakura -Shubhankar Vakde Gr IX


The Master Detective -Tuhin Nag Gr VIII

Portrait -Nimisha Anand Gr IX


2007

2008

2012

Meeta Chanda

2009

2013

Sanjib Chanda

Nishant Chanda

Ajanta Gupta

2010

2014

2011

2015

Keiko Chattopadhyay

or e f am n e to les rial T i M ar Edito e Y h t ali 10 t Anj n rre u C

Ranjan Gupta

Sudeb Chattopadhyay


‘Looking out from our Window’ by Jyotirmoy Ray

‘Hara - Tokaido’s 13th station’ by Yasunaga Yozo


s t r

A

‘Karatsukunchi Matsuri’ by Arakawa Saburo

‘Sumi E Uma’ by Sushmita Pal


‘Frozen Lake’ by Mimi Banerjee Dhar

Anjali

‘Durga Puja Decoration’ by Sanchita Ghosh


‘Still Pic in Nihon’ by Bipasha Roy

‘Iris’ by Meeta Chanda


Crab walk by Nishant Chanda

Photography

Color of Life by Sanjib Chanda


yhpargotohP

The Scorpion with Saturn and Mars by Sayama Teruo, Location: Kaminokuni town Hokkaido

Tranquility by Sudeb Chattopadhyay


108

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2016

109


110

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2016

111


112

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2016

113


114

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2016

115


116

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2016

117


118

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2016

119


120

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2016

121


122

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2016

123


124

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2016

125


126

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2016

127


128

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2016

129


130

Anjali

www.batj.org

Anjali 2016 Magazine  

Anjali is the yearly Tokyo Durga Puja magazine. It is a multilingual literary magazine published during Durga Puja (one of the most importan...

Read more
Read more
Similar to
Popular now
Just for you