Page 1


Anjali

Durga Puja Program September 30, 2017 Puja Anjali Prasad & Lunch Cultural Program Puja & Arati

… … … … …

11:30 AM 12:30 PM 1:00 PM 2:15 PM 5:30 PM

Cultural Program Ganesh Vandana (Dance)

Akanksha Mukherjee, Ashmita Paul

Agamani Song

Meeta Chanda

Devi Vandana (Dance)

Sudipta Bhawal Mukherjee, Suparna Rao

Traditional dance and music from Ladhak

Northern Arts and Cultural Society of India

Bangla Band

Anirvan Mukherjee, Biswanath Paul, Ranajit Roy Nandi, Sanjib Chanda, Somnath Kar

Tribute to Salil Chowdhury

Aarya, Arnab, Akanksha, Ashmita, Gandharbee, Chirag, Ayana, Zinniya, Arpana Roy Nandi, Bidisha Sengupta, Chaitali Paul, Debjani Ray, Meeta Chanda, Purnima Ghosh, Rita Kar, Satamita Gupta Sumana Kar, Sangeetha Krishnamoorthy, Tuli Patra, Masanori Hisamoto

Rabindrasangeet

Manjistha Roy, Masanori Hisamoto

Music Interlude

Aiswarya Kumar, Arunansu Patra, Nishant Chanda

Japanese & English Pops

Reimi Das and group

Stage, Light and Sound

Anirvan Mukherjee, Chaitali Paul, Debabrata Hazra, Prabir Patra, Pranesh Kundu, Tuli Patra, Sanjib Chanda, Atsushi Suzuki, Rita Kar

Compered by

Sangeetha Krisnamoorthy, Keiko Chattopadhyay and Biswanath Paul

Program coordinated by Rita Kar Venue: Ota Bunkanomori Hall, Chuo 2-10-1, Ota-Ku, Tokyo 143-0024

© Bengali Association of Tokyo, Japan (BATJ). All rights reserved. Disclaimer: The articles compiled in this magazine are personal opinion of the authors and in no way represent any opinion of BATJ.


সম্পাদকীয় জাপান ভারত সাংস্কৃ তিক বিনিময় চুক্তির পঞ্চাশতম বর্ষপূর্তির পর কেটে গেছে আরও দশ বছর। ২০১৭ সালকে আবার জাপান ভারত মৈত্রী বর্ষ রূপে বিশেষ ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০০৭ সালের অঞ্জলি পত্রিকার সম্পাদকীয়তে আমাদের বিনীত অভিমত নিবেদন করেছিলাম যে “প্রাথমিক পরিচিতির সীমা অতিক্রম করে মৈত্রীর বন্ধনকে আরও দৃ ঢ় করে তুলতে হলে দুই দেশের ল�োকজনের মধ্যে পরস্পরকে জানার পরিধি এবং গভীরতা দুয়েরই অনেক ব্যপ্তি ঘটা প্রয়�োজন”। সেই পরিপ্রেক্ষিতে পর্যাল�োচনা করলে দেখতে পাই গত দশ বছরে ভারত জাপান সাংস্কৃ তিক বিনিময়কে আরও সু দৃঢ় করে ত�োলার প্রয়াসে দুই দেশের সরকারী বেসরকারী স্তরে নানাবিধ কর্মকাণ্ডের সূ চনা হয়েছে। ত�োকিয়�ো বিদেশী চর্চা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায় থেকে শুরু করে ডক্টোরেট পর্যন্ত বাংলা এবং হিন্দী এই দুই ভারতীয় ভাষার প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। জাপানী ছাত্রছাত্রীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ডাকঘর, রক্তকরবী, সমাপ্তি ইত্যাদি নাটকের অভিনয় করেছেন। ত�োকিয়�ো বিদেশী চর্চা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে একবার অনু ষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক বঙ্গবিদ্যা সম্মেলন। ভারতীয় দূ তাবাসেও চালু হয়েছে ভারতীয় ভাষা ও সংস্কৃ তির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মূ লত জাপানীদের জন্যই। গত ১৮ই জুন অন্যান্য সংস্থার সহয�োগিতায় ভারতীয় দূ তাবাসের উদ্যোগে তৃতীয় আন্তর্জাতিক য�োগ ব্যায়াম দিবসের অনু ষ্ঠান আয়�োজিত হয় ত�োকিয়�োর গিঞ্জায় অবস্থিত তাইমেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রসিদ্ধ কাবুকি অভিনেতা ওন�োয়ে কিকুন�োস্কে তাঁর পরবর্তী কাবুকি অনু ষ্ঠানের কথা ঘ�োষণা করেছেন, যার মূ ল বিষয়বস্তু হবে মহাভারতের যু দ্ধ। এই নাটকে কিকুন�োস্কে অভিনয় করবেন কর্ণ এবং শিবের ভূমিকায়। অনু রূপ ভাবে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তেও হয়ত�ো বা জাপানী ভাষা ও সংস্কৃ তির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে কিছু ভারতীয় বেসরকারী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ব্জাপানী ভাষার প্রতি একধরণের আগ্রহ দেখা দিয়েছে যার দ্বারা জাপানী সংস্থার সাথে কেবলমাত্র প্রাথমিক সম্পর্ক স্থাপনই সম্ভব। এ কথা মনে রাখা প্রয়�োজন যে সেই আগ্রহকে অর্থনৈতিক প্রয়�োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। তাই জাপানী সমাজের সাথে সামগ্রিক ও নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের মধ্যে দিয়ে মৈত্রীর বন্ধন আর�ো দৃ ঢ় করে ত�োলা প্রয়�োজন। আমরাও গত এক দশক ধরে ভারত জাপান সম্পর্কের প্রতি বিশেষ ভাবে আল�োকপাত করার চেষ্টা করে এসেছি ‘অঞ্জলি’র জন্য বিভিন্ন লেখকের কাছ থেকে এই সম্পর্কিত লেখা সংগ্রহ করে। বিশেষভাবে চিহ্নিত এই বছরটিতে, স্বাভাবিক কারণেই অঞ্জলি-র বিষয়বস্তুতে আবার প্রাধান্য পেয়েছে জাপান ভারত মৈত্রী বন্ধন। তাই এবারকার ‘অঞ্জলিতে’ মূ লত পূ র্বপ্রকাশিত প্রবন্ধ থেকে এই সংক্রান্ত কিছু প্রবন্ধ চয়ন করে পুনর্মুদ্রিত করা হ�োল। পুর�োন�ো লেখার সাথে সামঞ্জস্য রেখে যু ক্ত করা হ�োল ভিন্ন স্বাদের কিছু নতুন লেখাও। এই উপস্থাপনা পাঠকের ভাল�ো লাগলে আমাদের প্রচেষ্টা সার্থক হয়েছে বলে মনে করব�ো। আমাদের এই প্রয়াসে ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে আমরা তা্র জন্য বিশেষভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। সম্পাদমণ্ডলীর পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শারদীয় শুভেচ্ছা।

www.batj.org

Durga Puja 2017


Editorial Ten years have already passed after the fiftieth anniversary of an agreement on cultural exchanges between India and Japan. This year has again been designated as the Year of Japan-India Friendly Exchanges. In the fiftieth anniversary, we expressed our humble thought in the editorial section of Anjali that, “in order to build an enduring relationship between two countries beyond the limits of mere acquaintance, we need to expand the scope and depth of our mutual understanding”. A review from that context reveals that in last ten years or so various activities took place in both countries for strengthening mutual bonding. Tokyo University of Foreign Studies (TUFS) has already started teaching Hindi and Bengali languages from undergraduate to doctorate level. Japanese students of undergraduate course in Bengali language staged Tagore’s dramas such as Dakghor, Samapti, Raktokorobi etc. TUFS has already organized an international seminar on studies of Bengal. Indian Embassy in Japan conducts training of few Indian languages, Indian dances and Yoga especially for the Japanese people. Embassy of India in association with a number of partners celebrated the 3rd International Day of Yoga in Japan on 18 June 2017 at the Taimei Elementary School in Ginza, Tokyo. A famous Kabuki actor Onoe Kikunosuke has announced about his next Kabuki production of “Mahabharata Senki (The Battles of Mahabharata)” to be staged at the Kabukiza Theatre in October. Kikunosuke will perform the roles of Karna and Lord Shiva in the upcoming show. In a similar way some interests possibly can be seen on learning Japanese language and culture in different parts of India. However, driven by commercial motives, few Indian organizations are showing some superficial interest in Japanese language which can only help them in knocking at the door of the Japanese companies. If the effort is limited to commercial gains only, then the relationship may not sustain for long. We think that an integrated approach needs to be taken in order to establish a deep rooted relationship with the Japanese society. In our small capacity, we had also focused on this important agenda, by gathering relevant articles for Anjali. For obvious reasons, articles on the theme of Japan-India Friendly Exchanges got major share in this year’s Anjali. We decided to mainly reprint some of the related articles published in earlier numbers of Anjali. In order to keep a balance, we have also included few new articles on other topics. We will consider ourselves amply rewarded if this compilation is liked by our readers. We acknowledge our lapses, and request our readers to accept our apologies. Our editorial team extends its sincere greetings to all the participants in the puja.


Acknowledgements We are pleased to bring out our autumnal publication of Anjali on this auspicious occasion of Durga Puja celebration. Year 2017 has been designated as The Year of Japan-India Friendly Exchanges. Visits made by prime minister Abe to India as well as visits made by prime minster Modi to Japan have made great impact in enforcing bondage between two countries. In order to commemorate this historical event within our limited scope, we decided to dedicate a special section of this edition with articles on various aspects of culture of India and Japan, and also on the historical background of Indo Japanese relationship. We are thankful to all contributors who have made it possible by their individual contribution. Anjali’s continuing success is made possible by the overwhelming support of many well-wishers. The Embassy of India in Tokyo extended their gracious support for which we are very thankful. We hope to receive the same patronage in future as well. We would like to thank all advertisers who have sponsored this year’s publication. We thank Amitava Ghosh, Meeta Chanda, and Syamal Kar who on behalf of BATJ collected advertisements from our sponsors. We thank Arpana Roy Nandi for helping us in typing. Every year Anjali is being enriched by the valuable contributions from native speakers of different languages and various cultural backgrounds. We sincerely thank each of them for their overwhelming support. We convey our gratitude to the contributors who have seen the online version of our publication and sent us their contributions. At different stages of this process, we received valuable advices from many well wishers. We tried to incorporate their suggestions as much as possible. We convey our sincere thanks to all of them.

Editorial Team

Editorial Team Ranjan Gupta Ruma Gupta Sanjib Chanda Meeta Chanda Sudeb Chattopadhyay Keiko Chattopadhyay

Integration & Design Cover Artwork Komatsu Kenichi Meeta Chanda

Sanjib Chanda

Collages Meeta Chanda

(Digital version of Anjali 2017 will be available later at BATJ website.)

www.batj.org

Durga Puja 2017

5


Anjali 2017

CONTENTS

Special Theme 9 Pioneering the Indo-Japanese Relationship  - Swami Medhasananda (2007)

14 হৃদয়ের মিলন – তেনশিন ওকাকুরা ও স্বামী বিবেকানন্দ - কাজুহির�ো ওয়াতানাবে (2013) 16 India’s Enduring Ties With Japan Through The Ages - Biren Nanda (2003, 2004)

53      

18 What Indian people should learn from Japan’s experience - Late Prof. Tsuyoshi Nara (2007)

-   (2010)

55 fo‘o

20 Some Major Hindu Festivals インドの行事(祭り) - Sudipta Roychoudhury (2009)

Japanese translation: Sudeb & Keiko Chattopadhyay

24 日本の行事 Japanese Festivals

- Keiko Chattopadhayay (2009) English translation: Meeta Chanda 30 Cultural Background of Japanese Communication Style - Ranjan Gupta 35 Indus Script and Kanji: A forgotten link? - Devajyoti Sarkar 37 Edo Fuurin & Edo Sensu - Meeta Chanda (2004) 42 Cultural Musings – Greetings and Meanings - Brajeshwar Banerjee 44 To What Extent Did Swami Vivekananda and Rabindranath Tagore’s Visits Impact Japan and India? - Nishant Chanda

46 হিমালয়ের প্রেক্ষাপটে দু ই মহামানব – স্বামী বিবেকানন্দ ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - ভাস্বতী ঘ�োষ সেনগুপ্ত (2013) 48  –

-  

(2008)

52 আমার দেখা “ওকুরিবিত�ো” - শুভা ক�োকুব�ো চক্রবর্তী (2013)

ÁkÑfrd /kj¨gj f‘kjsr¨d¨ & y¨Pkuh vLFkkuk (2010) 56 vejkRek & ‘kqDyk p©/kqjh (2010) 57 Qwy¨a ij e¨fgr tkikuh eu & ÁHkk feRry (2010) 58 जापान - भारत मैत्री पुल

- प्रो. अशोक चक्रधर (2006) 59 जापान के एक प्रसिद्ध गीत “सक ु ीयाकी” का भावानव ु ाद - प्रो. सुरेश ऋतुपर्ण (2006) 60 シャンティニケタンの子供たち - 奥田由香 (1998)

60 国境のない世界

- 柴原三貴子 写真家 (2005)

61 (故)羽成孝先生のヨガに関する過去の投稿より (1998,2002) 63 インドと私 - ビスワス史子 (2002)

64 インドの生活における「地域力」 - ラキット工藤昭子 (2007)

66 Haiku- A Literary Tie Between India and Japan - Sushmita Pal (2005)

68 ♤♤ 西ベンガルのカンタ刺繍を求めて ♤♤ - Miki Yoshida (2007)

70 子 育 て の 行 方

-

山田 さくら

71 「私はアジア人?」 - シャモント 恵里菜 (2011)

72 初めてのインド

- 羽成 千亜希 (2011)

6

Anjali

www.batj.org


Feature, Story, Travelogue, Poetry 74 ভগিনী

নিবেদিতা - তপন কুমার রায় 76 কবিতা ও গানের ভিতর দিয়ে যখন দেখি ভুবনখানি - চন্দন আঢ্য 79 মার্কিন খামার - গ�ৌতম সরকার 80 স্মৃ তি বিস্মৃ তি - মঞ্জুলিকা হানারি (দাশগুপ্ত) 82 সারমেয় কথা - আলপনা ভট্টাচার্য 83       -   (2010) 84 আধু নিক কবি - বিশ্বনাথ পাল (2012) 84 প্রার্থনা - নমিতা চন্দ 85 নব জীবন - সু ব্রত বণিক 85 সংখ্যালঘু  - শান্তনু চক্রবর্তী 86 Mejo Jethu

- Tapan Das 88 Sail Set Sail - Sougata Mallik 88 In the Moonlight - Purnima Ghosh

89 “प्रकाश मंत्र” - सन ु ील शर्मा (2014) 90 वो - नीलम मलकानिया (2014) 92 कुछ कहना चाह्ता है मन... - सारिका अग्रवाल (2014)

93 リシケシ滞在記---スワミ・チダーナンダ - 新田 裕子

Children's Section 94 My Trip to Turkey and Italy  

- Akanksha Mukherjee, Grade III (2013) 94 My Little Brother   - Sneha Kundu, Grade V (2013) 95 Nagasaki Peace Park  - By Aishwarya Kumar, Grade III (2008) 96 The Las Vegas Incident - Arnab Karmokar, Grade V 98 The Parcel - Amartya Mukherjee, Grade VI (2010) 99 The Nefilibatic Nomad - Utsho Bose, Grade IX (2014)

100 Drawings 102 Photography 103 Arts 105 Anjali Editorial Team

www.batj.org

Durga Puja 2017

7


COLLAGE

8

Anjali

www.batj.org


Pioneering the Indo-Japanese Relationship   - Swami Medhasananda

O

n May 31, 1893, an unknown Hindu monk boarded the ship ‘Peninsular’ sailing from Bombay bound for Japan. His final destination, however, was Chicago, where he was going to represent Hinduism at the World Parliament of Religions to be held there on September 11. “The ship, the farewells, the uncertainties and formalities of foreign travel, and so many belongings to care for - all these were new to him. Then too, his friends had made him dress in a robe and turban of silk. Like a prince he looked, indeed, but in his heart stirred various emotions. The monk stood on deck and gazed toward the shore until it faded from sight, sending his blessings to those who loved him and whom he loved ... ”

same subject from Japan to the Maharaja of Khetri in Rajasthan, another disciple, which has not been traced to date. Let us now furnish this first-hand information about his visit to Japan from the letter he wrote to Alasinga Perumal. Among other things Swamiji writes: 4

“... From Canton I returned back to Hong Kong and from thence to Japan. The first port we touched was Nagasaki. We landed for a few hours and drove through the town. What a contrast! The Japanese are one of the cleanliest peoples on earth. Everything is neat and tidy. Their streets are nearly all broad, straight, and regularly paved. Their little houses are cage-like, and their pine-covered evergreen little hills form the background of almost every town Swami Vivekananda “From Bombay the ship next stopped at and village. The short-statured, fair-skinned, Colombo and then on to Penang, a strip of land along the quaintly dressed Japanese, their movements, attitudes, sea in the body of the Malay Peninsula. On his way from gestures, everything is picturesque. Japan is the land of the Penang to Singapore, he caught glimpses of Sumatra, with picturesque! Almost every house has a garden at the back, very its high mountains, and the captain pointed out to him several nicely laid out according to Japanese fashion with small shrubs, favorite haunts for pirates in days gone by. The next port was grass plots, small artificial waters, and small stone bridges.” Singapore, then the capital of the straits settlements, where “From Nagasaki to Kobe. Here I gave up the steamer he went to see the museum and the Botanical Garden with its and took the land-route to Yokohama, with a view to see the beautiful collection of palms ... Next the ship stopped at Hong interior of Japan.” Kong, giving him his first glimpse of China ... The halt of three “I have seen three big cities in the interior - Osaka, a great days at Hong Kong gave the passengers an opportunity to visit manufacturing town, Kyoto, the former capital, and Tokyo, the 1 Canton, eighty miles up the Sikiang River ...” present capital: Tokyo is nearly twice the size of Calcutta with Canton proved to be a revelation to the monk. From nearly double the population.” Hong Kong the ship sailed to Nagasaki in Japan, where he “No foreigner is allowed to travel in the interior without was greatly impressed with everything he saw. This unknown a passport.” monk who now stood on Japanese soil - I believe readers have “The Japanese seem now to have fully awakened already guessed - is Swami Vivekananda, to whom we shall themselves to the necessity of the present times. They have henceforth refer to as Swami or Swamiji. now a thoroughly organised army equipped with guns which On the momentous occasion of the celebration of Indiaone of their own officers has invented and is second to none. Japan friendship year 2007, this article attempts to study the Then, they are continually increasing their navy. I have seen a role the Swami played in this relationship – a role that started tunnel nearly a mile long, bored by a Japanese engineer.” with his visit to Japan in 1893. We understand that Swamiji was “The match factories are simply a sight to see, and they the first among many prominent personalities of Modern India to visit Japan, and he was also the first to foster relationships with are bent upon making everything they want in their own country. Japan which would benefit India materially and Japan spiritually. This is a Japanese line of steamers plying between China and Japan, which shortly intends running between Bombay and A visit by the Swami Vivekananda to any country Yokohama.” whatsoever, including Japan, is important, for he was not just “I saw quite a lot of temples. In every temple there are a religious leader, but most decidedly a prophet of this age. The impact of his life and teachings was felt not only in the some Sanskrit mantras written in Old Bengali characters. Only field of spirituality, but in other fields by every thinker or leader a few of the priests know Sanskrit. But they are an intelligent of late nineteenth- and early twentieth century India, including sect. The modern rage for progress has penetrated even the Gandhiji, the poet Rabindranath Tagore, the savant Aurobindo priesthood. I cannot write what I have in my mind about the and the scientist Jagadish Chandra Basu, freedom fighter Japanese in one short letter. Only I want that numbers of Netaji Subash Chandra Basu2. World thinkers and writers like our young men should pay a visit to Japan and China every Leo Tolstoy, Romain Rolland and Arnold Toynbee were also year. Especially to the Japanese, India is still a dreamland of everything high and good ...” influenced in one way or another by Swamiji3. As mentioned earlier, we have no detail of his travels in Japan was sanctified by the visit of Swa miVivekananda, although the details of this visit are, unfortunately, still to be Japan. For example: What temples did he visit? Who were the explored. Except for very limited information from other sources, priests he met? Who were the people Swamiji interacted with most of what we know about this subject is found in a letter and what impact had he left upon them? written by Swamiji on July 10, 1893 from Yokohama to Sri Swamiji praised Japan and her people not only in Alasinga Perumal of the then Madras, a devotee and sponsor the letter quoted above, but on many other occasions in for his trip to the U.S.A. Swamiji also wrote another letter on the private conversations as well. In his reminiscences Swami www.batj.org 9 Durga Puja 2017


Pioneering the Indo-Japanese Relationship Akhandanandaji, one of his brother disciples, mentions a reference to Japan when Swamiji told him that he had liked a painting by a Japanese artist so much that he considered buying it with what money he had for the trip to Chicago and returning home! 5 Again while conversing with Priyanath Sinha, one of his friends and devotees, in 1901, Swamiji said, “If I can get some unmarried graduates, I may try to send them over to Japan and make arrangements for their technical education there, so that when they come back, they may turn their knowledge to the best account for India. What a good thing that would be.” Question: “Why, Maharaj, is it better for us to go to Japan than to England?” (That was common during those days when India was ruled by England). Swamiji: “Certainly. In my opinion, if all our rich and educated men once go and see Japan, their eyes will be opened.” Question: “How?” Swamiji: “There in Japan, you find a fine assimilation of knowledge, and not its indigestion, as we have here. They have taken everything from the Europeans, but they remain Japanese all the same, and have not turned European; while in our country, the terrible mania of becoming Westernized has seized upon us like the plague.” Question: “Maharaj, I have seen some Japanese paintings; one cannot but marvel at their art. Its inspiration seems to be something which is their own and beyond imitation.” Swamiji: “Quite so. They are a great nation because of their art. Don’t you see they are Asians, as we are? ... The very soul of the Asian is interwoven with Art. The Asian never uses a thing unless there be art in it. Don’t you know that art is, with us, a part of religion?” 6 In an interview published in Hindu, a Madras newspaper, in February 1897, again the topic of Japan appeared. Here is a report of that interview: 7 Hindu: “What did you see in Japan, and is there any chance of India following in the progressive steps of Japan? Swamiji: “None whatever until all the three hundred millions of India combine together as a whole nation. The world has never seen such a patriotic and artistic race as the Japanese, and one special feature about them is this, that while in Europe and elsewhere Art generally goes with dirt, Japanese Art is art plus cleanliness. I would wish that every one of our young men could visit Japan once at least in his lifetime. It is very easy to go there. The Japanese think that everything Hindu is great and believe that India is a holy land. Japanese Buddhism is entirely different from what you see in Ceylon. It is the same as Vedanta. It is positive and theistic Buddhism, not the negative atheistic Buddhism of Ceylon.” Hindu: “What is the key to Japan’s sudden greatness?” Swamiji: “The faith of the Japanese in themselves, and their love for their country. When you have men who are ready to sacrifice their everything for their country, sincere to the backbone - when such men arise, India will become great in every respect. It is the men that make the country! What is there in the country? If you catch the social morality and the political morality of the Japanese, you will be as great as they are. The Japanese are ready to sacrifice everything for their country, and they have become a great people. But you are not; you cannot be, you sacrifice everything only for your own families and possessions.” Hindu: “is it your wish that India should become like Japan?” Swamiji: “Decidedly not! India should continue to be what she is. How could India ever become like Japan, or any nation for that matter? ... “ It is clear from the above reports of Swamiji’s views on 10

Japan that he had a firm belief that it would do good for Indians if they imbibed the positive qualities of the Japanese without abandoning their own national characteristics. Here we see Swamiji not just in the role of a traditional religious leader, but the mentor of a nation; not only thinking in terms of spiritual regeneration, but also concerned with the material rejuvenation of his country - a nation which had been subjugated and was groaning under the exploitation of British Imperialism. Another remarkable incident took place while Swamiji was in Japan which later proved to be momentous in the economic and educational history of India - an incident about which very few Indians have any knowledge of even today. While in Japan, Swamiji had met Jamshedji Tata, the founder of a higher institute of scientific research and also of a huge steel factory. Perhaps they first met while staying at Oriental Hotel in Yokohama in the second week of July 1893, and this association continued for around another 10 days; that is, from 14th July through 25th July, on their way to Vancouver, B.C. since they were fellow passengers on the ship called ‘The Empress of India’. 8 Jamshedji was the sole exporter of Japanese made matchsticks to India at the time. It is quite probable that since both men were visionary, dynamic and patriots, they discussed many important things for the uplift of India. But we can only speculate, as again, any details of these conversations are missing. We do know, however, from stories recollected by Mahendranath Datta, Swamiji’s younger brother, who had obviously heard it from the latter, that Swamiji had advised Jamshedji that instead of merely eking out a meager profit in his present enterprise with Japan, he should start a match factory in India which would provide employment to many of his countrymen. It would also generate more income for him in the process9. Remembering Swamiji’s animated discussion with him and later in observing the former’s spectacular success in preaching Vedanta in the West, and the rejuvenating effect his message had on the Indian people, upon his triumphant return to India in 1897, Jamshedji wrote a letter to Swamiji dated 23rd November, 189810. In it he requested Swamiji to take a leadership role in materializing his plans for a ‘Science Research Institute’, an idea that would meet with great difficulty from the British. Although it was not possible for Swamiji to accept such an offer, an editorial was written in the April 1899 issue of Prabuddha Bharata, the English organ of the Ramakrishna Order, highly appreciative of Jamshedji’s noble endeavor in all probability at Swamiji’s bidding. There is however another version of what transpired between Swamiji and Jamshedji during the said voyage, given in an address by none other than Dr. Abdul Kalam, the former President of India and a celebrated scientist, at the ‘Youth Convention’ and inauguration of the ‘Vivekananda Institute of Value Education and Culture’ at Porbandar, Gujarat on January 12th 2006. It should be noted that the source of Dr. Kalam’s information is not known to the present author. The relevant extract from his address is as follows: “…At this point let me share the meeting between Swami Vivekananda and Jamshedji Nusserwanji Tata during a ship journey. It happened in 1893. A ship was sailing Japan to USA. There were hundreds of people in that ship including two significant personalities. Swami Vivekananda and Jamshedji Tata were in that ship. Swamiji asked Jamshedji for what mission he was traveling. Jamshedji said that he wanted to bring steel industry to India. Swami Vivekananda blessed him. He suggested steel technology had two components – one is steel science and the other is manufacturing technology. What can you bring to this country in material technology – you will have to build material science within the country. Jamshedji was thinking and thinking and made a decision. Earlier when Jamshedji went to London he asked for technology transfer

Anjali

www.batj.org


Pioneering the Indo-Japanese Relationship for Steel Plant. UK steel manufacturers looked at Jamshedji and said that if Indians make steel, Britishers will eat it. Jamshedji crossed Atlantic Ocean, talked to Americans and brought manufacturing technology for steel. And Tata Steel was established in Jamshedpur in 1907 posthumously by his able successor. He seeded and worked for the steel plant. Jamshedji is not there now, but 7 million tones per annum steel is rolling out. The visionary Jamshedji gave one portion of his asset for starting a science institute today known as Indian Institute of Science at Bangalore.” (Note: This institute was finally set up in 1905, one year after Jamshedji’s passing away.) “This institution as envisaged by Swami Vivekananda, has one of the best material science lab., providing the best of research results for development and production of material for various R&D labs and industries. Also Indian Institute of Science is a world class institution in various areas for physics, aerospace technology, knowledge products, bio-science and bio-technology. This is the one institution where convergence of technology like bio-technology, information technology and nano-technology is emerging. The results will have tremendous influence in improving solar cell efficiency and healthcare, particularly drug delivery system. This institution also participated in the research and development of space programmes, defense programmes and also many societal missions.” It is also interesting to note that Jamshedji once mentioned to Sister Nivedita, Swamiji’s Irish disciple who went to India and dedicated her life to implementing Swamiji’s vision of education for the women of India, that the Japanese people who had come across Swamiji were amazed by seeing the striking similarity between Buddha and him. 11 The possibility of a second visit to Japan arose when Tenshin Okakura had gone to India to request Swamiji to take part in a religious conference to be organized in Kyoto provided he would agree. Okakura, born into a samurai family in 1862, studied Buddhist scripture with a Buddhist priest and English in an American missionary school. He had a special love for traditional Japanese art and visited Europe and America as a member of the Imperial Art Commission of Japan in 1886. Later, he was appointed the principal of New Art School in Tokyo, but when he was pressured to follow European art styles in this institution he resigned and founded a new institute named the Hall of Fine Arts attended by prospective young artists. 12 There was some background regarding Okakura’s knowledge of Vivekananda that resulted in his request for Swamiji to revisit Japan. Ms. Josephine MacLeod, another of Swamiji’s committed American disciples and a resourceful woman of varied interests, had come to Japan in March of 1901 to study Japanese art and took lessons from Okakura. It was MacLeod who actually acquainted Okakura with the greatness of Swamiji’s work and his success in the West. MacLeod’s dedication and love for Swamiji may have influenced Okakura to make the trip to India to invite Vivekananda for such a conference. Okakura himself became convinced that a visit by Swamiji held the prospect of enhancing the image of Mahayana Buddhism which he professed , and which he had learned that Swamiji, too, held in high regard and, above all, spiritual regeneration of Japan. Accompanied by a young Japanese man named Hori – who was leading a life of celibacy and wanted to study Sanskrit and English in India – Okakura reached Calcutta in the first week of January 1902 and met Swamiji on January 6, at Belur Math, the recently established headquarters of the Ramakrishna Order situated on the west bank of the river Ganga not far from Calcutta, then the capital of British India. 13 The image of Swamiji he had formed from the words of Ms. MacLeod was not only corroborated, but strengthened at this encounter. He wrote of his impression of Swamiji in the following letter: www.batj.org

“…Coming to this place recently I have met Swami Vivekananda. He is so great in spirituality and learning that he is beyond comparison. I consider him to be the greatest man of this age. Wherever you go (in India), you will not find anyone who does not love and respect him ... “ “The revered Swami is a very good speaker in English. He is thoroughly conversant with both Eastern and Western learning and has synthesized them. He teaches the Religion of Oneness. “I would like to take him to Japan along with me when I go back.” Swamiji and his friends gave a reception for Okakura in Calcutta on 12th January. 14 Okakura implored Swamiji to visit and help Japan regenerate spiritually. McLeod also very much wanted Swamiji to accept the invitation which, she felt very keenly, would have a lasting impact on Japan. At this time, another invitation to visit Japan came to Swamiji from an entirely different quarter, which was official and from none other than the Japanese Emperor Mutsuhito himself. Students of Japanese history know that it was during the tenure of the Emperor Mutsuhito (1867 – 1912) that the epochmaking Meiji restoration took place in 1868 and the process of modernisation started in full-swing in Japan. Manmathanath Ganguli, a disciple of Swamiji, who happened to be present in the Belur Math, when this official invitation came, reminisced thus: 15 “It was about four in the afternoon, when one day the Japanese Consul (from the Consulate, Calcutta) came to meet the Swami at Belur. He was asked to be seated on one of the benches inside the inner verandah when Swamiji generally received his guests. He was informed of the honorable guest, but he had to wait for some time before the Swami came down. He took a chair near the Consul and the conversation took place through an interpreter. After the formal greetings, the Consul spoke to the following purport: “Our Mikado (Emperor) is very keen to receive you at Japan. He has sent me to request you to visit Japan as early as may be convenient to you. Japan is eager to hear about Hindu religion from your lips.” Swamiji answered: “In my present state of health, I think it will not be possible for me to visit Japan now.” The Consul said: “Then, may I, with your permission, inform the Mikado that you will go there sometime in the future when your health permits?” Swamiji said: “it is very doubtful whether this body will ever be fit enough” At the time, Swamiji was suffering from diabetes. His body was quite emaciated”. Now one wonders - What was the background of such an invitation from the Japanese emperor? How did the emperor come to know about Swamiji and become keen to invite Swamiji and listen about Hinduism? Had Okakura any role in this? But Okakura had never given any inkling, anywhere in his correspondence or conversations that he persuaded the Japanese officials to invite Swamiji. Then, was the Imperial Government of Japan, being informed by its Consul in Calcutta, about the visit of Okakura and his plan to invite Swamiji to Japan for his participation in a parliament of religions to be organised by the Buddhists, was persuaded to invite Swamiji to Japan independent of the invitation of Okakura? Besides Okakura, there were a few more prominent Japanese, according to our knowledge, who knew about Swamiji and at least had some idea about his spiritual height and magnetic personality. They were the Japanese representatives of Shintoism, (which was then the state religion of Japan) and Buddhism in the World Parliament of Religions held in Chicago

Durga Puja 2017

11


Pioneering the Indo-Japanese Relationship in 1893, who witnessed the tremendous impact that Swamiji had left, in the said Parliament. 16 Moreover, Daisetsu Suzuki, (1870 –1966), a celebrated scholar who wrote a number of books on Zen-Buddhism and Shin, in English and Japanese, mentioned with a note of appreciation, in one of his recorded speeches that he knew Swami Vivekananda during his stay in USA. Now, did one of these persons mentioned above, inform the Emperor about Swamiji and his greatness? These questions would have to remain unanswered till we get new data on this subject. Swamiji at times, became enthusiastic about these prospective visits to Japan, but the next moment, he vacillated. Meanwhile, on 27 January 1902 Swamiji took Okakura with him on pilgrimage to Buddhagaya and Varanasi, a journey Okakura enjoyed immensely. During his stay in Varanasi, Okakura also paid a visit to the ‘Poor Men’s Relief Association’, a charitable hospital started by the followers of Swamiji, which later grew as a full-fledged hospital, known as Ramakrishna Mission Home of Service. Okakura recorded the following comment on the visitor-book of the institution on 9th February 1902, along with his signature. “After visiting the institution, I sign my name to express my deepest sympathy and gratitude for the noble work of the Relief Association. May all works be carried on in that spirit”. 17 It was at this time that Sister Nivedita, whom we have already mentioned, introduced Okakura to the great poet Rabindranath, who was already a celebrity in Bengal. Okakura became closer to Rabindranath and other members of the Tagore family, including Surendranath Tagore, a relationship about which many are aware. On the other hand, Okakura’s relationship with Swamiji was waning, especially when Swamiji clearly expressed his inability to revisit Japan, considering various practical difficulties including his failing health. It is true that both men had identical views on various issues for example, the regeneration of Asiatic nations, Mahayana Buddhism and aesthetic concepts, but it was gradually revealed to each other that they had some fundamental differences in their approaches to the highest ideal of life. Further, their level of realising that ideal was also very different. Being himself a realised soul of the highest order, Swamiji’s dedication to the spiritual ideal based on renunciation (Nivritti marga – the path of renunciation of desires) was total. But Okakura’s way was the path of desire (Pravritti marga) and he still had ‘love for the world’ which becomes evident if one analyses his personal life prior to his visit to India and after18. Moreover, Okakura had a secret political agenda in uniting Asia against European Imperialism, which he did not reveal to Swamiji, who, as a monk, scrupulously distanced himself and his newly established Order from all active politics. Nevertheless, Okakura continued his relationship with Sister Nivedita who edited ‘Ideals of the East’ (published in London, 1903) and ‘The Awakening of the East’ (published in Tokyo, 1939) written by him.

It is also worth mentioning that Swamiji made the following significant remark on 4 July 1902, the last day of his mortal existence, the context of which is not known to us: “I want to do something for Japan.” 20 This shows that Japan occupied his thoughts even to the end. Presumably, Swamiji’s wish was fulfilled partially, when a Vedanta Society, (now located in Zushi), was started in Japan in 1959 by a group of devotees, and later affiliated to the Ramakrishna Mission, as one of its accredited branches in 1984. The information furnished above shows that in promoting the Indo-Japanese relationship, especially in the modern era, while Okakura Tenshin was a pioneer on the Japanese side, Swami Vivekananda was the preeminent Indian pioneer. This relationship was strengthened by later visits and stays of other prominent Indians, namely the poet Rabindranath Tagore, the freedom fighters, Rashbihari Basu and Netaji Subhas Chandra Basu, and the jurist Radhabinod Pal. It is a pity that though many people in both India and Japan are aware of the Tagore-Okakura connection and the visit of Tagore to Japan, few indeed know the VivekanandaOkakura connection or anything related to Swamiji’s visit to Japan. In this backdrop it is heartening to observe that possibly for the first time a contemporary Japanese government official has recognized the pioneering role of Swami Vivekananda when former Prime Minister Shinzo Abe made the following respectful and appreciative references to Swamiji during that very important policy speech on Indo-Japan relations, on 22nd August, 2007, before the Joint Session of the Indian Parliament during his recent visit to India. The references made by Prime Minister Abe are as follows: 21

“Today I have the great honour of addressing the highest organ of state power in this largest democracy in the world. I come before you on behalf of the citizens of another democracy that is equally representing Asia, to speak to you about my views on the future of Japan and India.

‘”The different streams, having their sources in different places, all mingle their waters in the sea.’ It gives me tremendous pleasure to be able to begin my address today with the words of Swami Vivekananda, the great spiritual leader that India gave the world.” “A number of times in history, Japan and India have attracted one another. Vivekananda came to be acquainted with Tenshin Okakura, a man ahead of his time in early modern Japan and a type of Renaissance man. Okakura was then guided by Vivekananda and enjoyed also a friendship with Sister Nivedita, Vivekananda’s loyal disciple and a distinguished female social reformer ... ” “I would argue that among many contributions that India can make to world history, there is first of all its spirit of tolerance. I would like to quote, if I may, Vivekananda again, part of the conclusion of deeply meaningful remarks he delivered in Chicago in 1893. He said, ‘help and not fight,’ ‘assimilation and not destruction,’ ‘harmony and peace and not dissension.’ ”

After spending eventful months in India, Okakura returned to Japan that same year in October, but would not talk much about India upon “If you insert these exhortations into his return. But there is one special the context of the modern day, it is clear occasion known to us when Okakura Tenshin Okakura that these words preaching tolerance urged his audience of 70 Japanese can hardly be considered relics of the historians to visit India at least once, in an address lasting more than two hours, on the history of past. Instead, we can recognize that they now hold a tone that Indian Art at the Academy of History, University of Tokyo, on is even more compelling than before.” 12 December 1902. 19 We may conclude this article with this observation that if 12

Anjali

www.batj.org


Pioneering the Indo-Japanese Relationship we were to analyse the trend of Indo-Japanese relationship in recent years, it would be evident that what Swamiji had hoped with regard to the outcome of the said relationship about a century ago, is now actually taking place. While Japan has been largely contributing to the material welfare of India, by lending both financial and technical assistance, India is also lending spiritual support to many people of Japan. People of all ages visit the branches of Indian religious organisations in Japan, including the Vedanta Society, take part in their different programmes, throng in hundreds when any Indian religious leader visits Japan, and also go to different ashrams and holy places in India to seek peace and spiritual guidance. This is in addition to the elderly Buddhist devotees, who usually go to India, on pilgrimage for visiting places associated with Lord

Buddha. Indo-Japanese relationship is not restricted to the economic and spiritual areas only, but also extends to the cultural sectors – especially, the traditional health-care system and performing arts. Nevertheless, this relationship ought not to focus only upon these two countries, but the ultimate perspective must be global. Let us all combine our hands in promoting the IndoJapanese relations, at all levels, and in all sectors, with the ultimate aim that a fully developed India and Japan would contribute in making, what we may call, a fully developed world, which was the vision of great minds like Swami Vivekananda and Rabindranath Tagore. 

Notes and References: 1. The Life of Swami Vivekananda – His Eastern and Western disciples.vol.1.P.391, 5th edition, 1979, Advaita Ashram. Calcutta–14. 2. World thinkers on Ramakrishna Vivekananda ed. Swami Lokeswarananda. 1983, The Ramakrishna Mission Institute of Culture, Calcutta – 29. 3. Ibid. 4. The Complete Works of Swami Vivekananda. Mayavati Memorial Edition.vol.V pp.7-10. 1992. Advaita Ashrama. Calcutta – 9. 5. Swami Akhandananake Jerup Dekhiachhi (Beng) (Swami Akhandananda as we have seen him) – compiled by Swami Chetanananda. Pp.84-85 1999. Udbodhan., Calcutta – 3. 6. Opus Cit., The Complete Works.vol.V.pp.372-73. 7. Ibid.pp.209-210 8. Swami Vivekananda’s Arrival in Vancouver – Historical Research Committee, Centenary of Swami Vivekananda’s arrival to the West. P.2.Vivekananda Vedanta Society of British Columbia, Vancouver.1993. 9. Srimat Vivekananda Swamijir Jivaner Ghatanavali (Incidents in the life of Swami Vivekananda) – Mahendranath Datta. vol.3.pp 2-3. Mahendra Publishing Committee.1989.Calcutta – 6. 10. Vivekananda O Samakalin Bharatvarsha (in Beng) (Vivekananda and Contemporary India in seven volumes) – Sankariprasad Basu.vol.V.chapter 32. pp 239-266).September 1981. Mandal Book House. Calcutta – 9; A Comprehensive Biography of Swami Vivekananda – Sailendranath Dhar. Vol.2. pp 1117-1118 Vivekananda Kendra Prakashan 1975. Madras – 5. 11. Opus Cit., Vivekananda O Samakalin Bharatvarsha p.240. 12. Ibid. Vivekananda-Okakura, Chapter 38. pp. 458 -470 ; Okakura and Swami Vivekananda-Yasuko Horioka. Prabuddha Bharata (monthly) January 1975 and March 1975 – Advaita Ashrama, Mayavati. 13. Ibid. 14. Ibid. 15. Reminiscences of Swami Vivekananda – Eastern and Western admirers. P.357. Advaita Ashrama.1961.Calcutta – 6. 16. Swami Vivekananda in the West – New Discoveries – Marie Louise Burke (in 6 volumes) – Vol.1. p.77 – p.122. 4th edition 1992. Advaita Ashrama. Calcutta – 14. 17. Memoir: Ramakrishna Mission Home of Service, Varanasi.p.73-published by the Secretary, Varanasi – 2005. 18. Opus Cit., Vivekananda – Okakura, Vivekananda O Samakalin Bharatvarsha. Chapter 38 pp 458-470; Okakura & Swami Vivekananda- Yasuko Horioka : Prabuddha Bharata, January 1975. 19. Opus Cit., Okakura and Swami Vivekananda -Yasuko Horioka – p.142. 20. Opus Cit., The Life of Swami Vivekananda:Volume2. 21. “Confluence of the Two Seas” - Speech by H.E. Mr. Shinzo Abe, Prime Minister of Japan at the Parliament of the Republic of India. http://www.mofa.go.jp/region/asia-paci/pmv0708/speech-2.html

(Reprinted from Anjali 2007)

www.batj.org

Durga Puja 2017

13


হৃদয়ের মিলন – তেনশিন ওকাকুরা ও স্বামী বিবেক ������������ ��������������� Allow me to call you a friend. We must have been such in some past birth. Your cheque for 300 rupees duly reached and many thanks for the same. I am just thinking of going Japan, but with one thing or another and my precarious health, I cannot expedite matters as I wish. Japan to me is a dream ---so beautiful that it haunts one all his life. With all love and blessings, Vivekananda ১৯০১ সালের ১৩ই জুন স্বামীজী এই চিঠি লিখেছিলেন। প্রাপকের নাম ট�োকিওর কাকুয�ো ওকাকুরা ওরফে তেন্‌শিন ওকাকুরা। এর আগে তেন্‌শিন স্বামী বিবেকানন্দকে জাপানে আমন্ত্রণ করার পরিকল্পনা করেন এবং ভ্রমণ খরচ হিসাবে ৩ শ�ো টাকা পাঠিয়ে দেন । বিবেকানন্দের চিঠিটি লেখা হল সেই আমন্ত্রণের উত্তর হিসাবে । চিঠিটি যখন প্রেরণ করা হয়, তখনও প্রত্যক্ষ পরিচয় ঘটে নি এই দু জন মনীষীর মধ্যে । তাহলে স্বামীজী এবং জাপানের প্রখ্যাত শিল্পকলা সমাল�োচক ও চিন্তাবিদ তেন্‌শিন ওকাকুরা কিভাবে একে অন্যকে চিনেছিলেন তথা তাঁদের মধ্যে কিরকম ভাবের আদান-প্রদান হয়েছিল, সেটি জানার চেষ্টা করা হবে এই লেখার মাধ্যমে । তেন্‌শিনের জন্ম হয় ১৮৬২ সালে বন্দর নগর ইয়�োক�োহামাতে। তাঁর বাবা ছিলেন সামন্ত যু গে সামুরাই (য�োদ্ধা) শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত একজন ব্যক্তি, তবে প্রভুর আদেশ অনু যায়ী রেশম সু ত�োর ব্যবসায় নিয়�োজিত ছিলেন । সেই যু গে রেশম সু ত�ো ছিল জাপানের অন্যতম প্রধান রপ্তানি দ্রব্য । তাঁর দ�োকানে বিদেশীদের আনাগ�োনা হত । তাঁদের কথা শ�োনার মাধ্যমে তেন্‌শিন ইংরেজির সংস্পর্শে আসেন । এ ছাড়া তাঁর বাবার আদেশে তিনি ইয়�োক�োহামায় বসবাসকারী মার্কিন খ্রীষ্টান ধর্মযাজক জেমজ হামিলটন বালা (James Hamilton Ballagh)-র কাছে ইংরেজি শেখেন । তখনকার যু গে ইংরেজি-জানা জাপানীর সংখ্যা ছিল অত্যন্ত নগণ্য । তেন্‌শিন ইংরেজীর বিরল দক্ষতা লাভ করতে পারেন তাঁর ছ�োটবেলাকার পরিবেশ ও পড়াশ�োনার কল্যাণে । তখনকার জাপান ব্যাপক সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল । শিক্ষা ব্যবস্থারও সংস্কার সাধন করা হয় । সেই অনু যায়ী তেন্‌শিন মাত্র ১৬ বছর বয়সে ট�োকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং প্রধানত রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে অধ্যয়ন করেন । ১৯ বছরে স্নাতক হওয়ার পর তিনি শিক্ষা মন্ত্রকে চাকরি পান । তাঁর মূ ল কর্মক্ষেত্র ছিল চারুকলা শিল্প শিক্ষার ব্যবস্থাপনা । সেই সূ ত্রে চিত্র অঙ্কন ও ভাস্কর্য নির্মাণের পেশাদার শিল্পীদের লালন-পালনের জন্য জাপানের প্রথম উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “ট�োকিও শিল্পকলা বিদ্যালয় (Tokyo School of Fine Arts)” প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়�োজিত হয়েছিলেন তেন্‌শিন । এই বিদ্যালয়ের শুভ-উদ্বোধন হয় ১৮৯৮ সালে । তেন্‌শিন প্রথমে চিত্র অঙ্কন বিভাগের প্রধান হিসাবে য�োগ দেন এবং পরবর্তী বছরে মাত্র ২৯ বছর বয়সে বিদ্যালয়ের প্রধানের পদে আসীন হন। সামন্ত যু গের পরিসমাপ্তির পরে শীঘ্রই আধু নিক রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার ব্রত গ্রহণকারী জাপানে নিঃসন্দেহে তেন্‌শিন ছিলেন উদীয়মান তরুণ নেতাদের অন্যতম । তৎকালীন জাপান অতি ব্যস্ত ছিল যথাসম্ভব পাশ্চাত্যের উন্নত দেশগুলির পাশাপাশি দাঁড়াতে । সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাশ্চাত্যের জিনিসকে কেবল উচ্চ মূ ল্যায়ন করে জাপানের ঐতিহ্যগত মূ ল্যব�োধ নাকচ করার প্রবণতা দেখা যেত । চারুকলা শিল্পের জগতেও তার ব্যতিক্রম ঘটে নি। এ রকম প্রবণতার মাঝে তেনশিন ছিলেন এমন ব্যক্তি যিনি দেশের ঐতিহ্যগত চারুশিল্পের পুনর্মূল্যায়নের প্রচেষ্টা চালান এবং বিশ্বের কাছে তার তাৎপর্য যথাযথভাবে তুলে ধরেন । কিন্তু অচিরেই সরকারের কর্মকর্তা হিসাবে তেন্‌শিনের অবস্থানে গণ্ডোগ�োল দেখা যায় । পশ্চিমী ধাঁচের চিত্র অঙ্কনে গুরুত্ব প্রদানকারী 14

গ�োষ্ঠীর সঙ্গে রেষারেষি এবং ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারীর ঘটনায় জড়িত হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন তেন্‌শিন । বিদ্যালয়টির প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার ৮ বছর পর ১৮৯৮ সালে তিনি পদটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন । তেন্‌শিনের ভক্ত তাইকান ইয়�োক�োইয়ামা ও কান্‌যান শিম�োমুরা প্রমুখ কয়েকজন শিল্পী ও অধ্যাপক তেন্‌শিনের অনু সরণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পদত্যাগ পত্র দাখিল করেন । তাঁদের নিয়ে তেন্‌শিন নিহ�োন বিজুৎসু ইন (জাপান শিল্পকলা ইন্‌স্টিটুট বা Japan Art Institute) প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি জাপানের নতুন ও নিজস্ব চিত্রশিল্প সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কাজ করে যান । তেন্‌শিনের পথনির্দেশনার মাধ্যমে তাইকানরা পরবর্তীকালে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করতে সক্ষম হন । ট�োকিওর উয়েন�ো এলাকায় প্রতিষ্ঠিত নিহ�োন বিজুৎসু ইনে ১৯০১ সালে তেন্‌শিন কয়েকজন বিদেশীদের জন্য জাপানী শিল্পকলার উপর ইংরেজিতে বক্তৃ তা সভার আয়�োজন করেন । এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন জসেফিন মাক্‌লাউড(Josephine MacLeod) নামক একজন মার্কিন মহিলা । মাক্‌লাউড ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের নিবেদিত ভক্ত। ১৮৯৫ সালে নিউইয়র্কে প্রথমে বক্তৃ তা শুনে তিনি স্বামীজির ভক্ত হয়ে যান । মিয মাক্‌লাউড ট�োকিওতে এসেছিলেন ভারতে স্বামীজীর সঙ্গে দেখা করে দেশে ফেরার পথে । In Japan I made the acquaintance of Okakura Kakuzu(Kakuzo) who had founded the fine arts Bijutsuin school of painting in Tokyo. (Reminiscences of Swami Vivekananda by Josephine MacLeod) মাক্‌লাউড তেন্‌শিনকে বু ঝিয়ে দিয়েছিলেন, বিবেকানন্দ অতি চমৎকার ব্যক্তিত্ব । তিনি এও জানান যে স্বামীজী জাপান ভ্রমণে আসার ইচ্ছা প�োষণ করছেন । ১৮৯৩ সালে শিকাগ�োতে অনু ষ্ঠিত বিশ্ব ধর্ম মহাসভা (World’s Parliament of Religions)-এ অংশগ্রহণের জন্য আমেরিকা যাওয়ার পথে বিবেকানন্দ কিছু দিন জাপানে কাটিয়েছিলেন এবং দেশটির সংস্কৃ তি ও ল�োকজন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা লাভ করেন । He(Okakura) was very anxious to have Swami come over and be his guest in Japan. মাক্‌লাউডের কথা শুনে তেন্‌শিন ভীষণ আগ্রহী হন । সঙ্গে সঙ্গে বিবেকানন্দের কাছে জাপানে আসার জন্য আমন্ত্রণ পত্র ও ভ্রমণ খরচ বাবদ ৩ শ�ো টাকা পাঠিয়েছিলেন । কিন্তু তত দিনে স্বামীজীর স্বাস্থ্যের অবনতি দেখা দিল । জাপানে যাওয়া সম্ভব ছিল না তাঁর পক্ষে । তিনি তেন্‌শিনের কাছে জবাবের চিঠিতে দু ঃখের সঙ্গে সে কথা জানিয়েছিলেন । এই প্রবন্ধের শুরুতে আমরা বিবেকানন্দের সেই চিঠি ইতিমধ্যেই পড়েছি । বিবেকানন্দের কাছ থেকে উত্তরের চিঠি পেয়ে তেন্‌শিন নিজে ভারতে চলে যেতে উদ্যত হলেন । তিনি মিয মাক্‌লাউড, তরুণ জাপানী ব�ৌদ্ধ পুর�োহিত শিত�োকু হ�োরি প্রমুখকে সঙ্গে করে ১৯০১ সালের নভেম্বর মাসে জাপান থেকে পাড়ি জমান । তাঁরা ভারতে পৌঁছান ১৯০২ সালের জানু য়ারি মাসে । ৬ই জানু য়ারি তেন্‌শিন কলকাতায় বিবেকানন্দের সঙ্গে দেখা করেন । তাঁদের পাশে ছিলেন জসেফিন মাক্‌লাউড । এদিনের কথা স্মরণ করে তিনি লিখেছেন; One of the happy moments of my life was when after a few days at Belur. Mr. Okakura said to me rather fiercely. “ Vivekananda is ours. He is an Oriental. He is not yours.” Then I knew there was a real understanding between these two men. A day or two after, Swami said to me, “It seems as if a long lost brother has come.” (Reminiscences of

Anjali

www.batj.org


হৃদয়ের মিলন – তেনশিন ওকাকুরা ও স্বামী বিবেকা হৃদয়ের মিলন – তেনশিন ওকাকুরা ও স্বামী বিবেকা Swami Vivekananda by Josephine MacLeod) এদিকে প্রথম সাক্ষাতে তেন্‌শিন্‌ও বিবেকানন্দের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন । স্বামীজীর চরিত্র ও তাঁর জ্ঞানের পরিধি দেখে তিনি একবারেই মুগ্ধ হয়ে পড়েন । সাক্ষাতের পর একজন জাপানী ব�ৌদ্ধ পুর�োহিত ত�োকুন�ো ওদার উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে তেন্‌শিন বিবেকানন্দের ভূ য়সী প্রসংশা করেন । 「師は気魄学識超然 抜群一代の名士と相見え 五 天到る処師を敬慕せざるはなし ...師はまた英語を能くし 泰西最近の学理にも 通じ 東西を湊合して不二法門を説破す 議論風発 古 大論師の面目あり 実に得難き人物と存じ候 出来得べ くんば小生帰朝の際同伴致すべき考へに候」 (গুরুজী(বিবেকানন্দ) অপূ র্ব চেতনায় ও জ্ঞানে। তিনি হয়ত বর্তমান যু গের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিত্ব । এমন কেউ নেই যে তাঁকে শ্রদ্ধার চ�োখে দেখে না । ... তিনি চমৎকার ইংরেজি জানেন। পাশ্চাত্যের সর্বশেষ পড়াশ�োনার ফলাফলও তাঁর নখদর্পণে । তিনি পূ র্ব ও পশ্চিমের ধারণা একত্র করে অদ্বৈতবাদ নিয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করেন । তাঁর মধ্যে সব পবিত্র উপাখ্যানের বিস্তারিত ধারণা সম্বলিত প্রাচীন মুনীষীর চিত্র যেন দেখতে পাই । তাঁর মত ল�োক কদাচিৎ পাওয়া যাবে । আমার দেশে প্রত্যাবর্তনের সময় সম্ভব হলে তাঁকে সঙ্গে করে জাপানে যাওয়ার ইচ্ছা আছে আমার ।) এই চিঠিতে তেন্‌শিন জ�োর দিয়ে বলেন যে ধর্ম সম্পর্কে তাঁদের দু জনের ধারণা সম্পূর্ণভাবে মিলে গেছে । 「而して師は大乗を以て小乗に先んじたるものと論 じ 目下印度教は仏教より伝承せることを説き 釈尊を 以て印度未曾有の教主となせり...思ふにヴィヴェカ ナンダの不二法門は全然大乗ならん」 (অধিকন্তু গুরুজী যু ক্তি দেখান যে হীনযানের আগেই মহাযান ব�ৌদ্ধ ধর্মের উৎপত্তি হয়েছে । তিনি এও বলেন যে বর্তমান হিন্দু ধর্মের ধারার উৎসে রয়েছে ব�ৌদ্ধ ধর্ম এবং তিনি ভগবান বু দ্ধকে ভারতের শ্রেষ্ঠতম গুরু হিসাবে দেখেন । ... আমার মনে হয় তাঁর অদ্বৈতবাদের ধারণা মহাযান ব�ৌদ্ধ ধর্মের সঙ্গে হুবহু মিলে যায় ।) ব�ৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে তেন্‌শিনের গভীর আগ্রহ ও ধারণা ছিল । শিক্ষা মন্ত্রকে চাকরি করার সময় কিছু দিন নাম করা পুর�োহিতের কাছে তান্ত্রিক ব�ৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে সাধনা করার সু য�োগ হয়েছিল তাঁর । তবে অন্য দিকে চীনের তাওবাদের দ্বারাও ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট ছিলেন তিনি । অর্থাৎ তেন্‌শিনের ধর্মীয় মূ ল্যব�োধ নির্দিষ্ট ক�োনও ধর্মে সীমাবদ্ধ না হয়ে বরং ধর্মের সার্বজনীন দিক নিয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল বলে অনু মান করা যায় । আর এ দিক দিয়ে হয়ত তাঁর ধারণা বিবেকানন্দের ধারণার সঙ্গে মিলে গেছে । সেই সময় তেন্‌শিন ত�োকুন�ো ওদার সঙ্গে কথা বলে কিয়�োত�োতে “প্রাচ্য ধর্ম সম্মেলন” অনু ষ্ঠানের সম্ভাবনা খুঁটিয়ে দেখছিলেন । আর তিনি চান, স্বামী বিবেকানন্দ এই সম্মেলনে য�োগ দিন । তথাপি ১৯০২ সালের জুলাই মাসে বিবেকানন্দের মহাপ্রয়াণের কারণে তাঁর সেই ইচ্ছা পূ রণ হয় নি । অধিকন্তু শেষ পর্যন্ত প্রাচ্য ধর্ম সম্মেলন অনু ষ্ঠান করাও সম্ভব হয় নি । তেন্‌শিনকে যে কারণে শিল্পকলা বিদ্যালয়ের প্রধানের পদে ইস্তফা দিতে হল, সেই চারুকলা শিল্প জগতের ক্ষমতার লড়াই এবং ব্যক্তিগত কেলেংকারী ঘটনার ফলে জাপানে বেশ কিছু ল�োক তাঁর সমাল�োচনা করত। প্রাচ্য ধর্ম সম্মেলনের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর তাঁর সমাল�োচকরা আরও মুখরিত হয় । তারা বলত যে তেন্‌শিনের দায়িত্ব জ্ঞানের অভাব রয়েছে । এখানে উল্লেখ করা প্রয়�োজন যে তাদের এই সমাল�োচনা যে একেবারে

ভিত্তিহীন ছিল তা নয় । তেন্‌শিন ছিলেন বিশিষ্ট একজন চিন্তাবিদ ও চারুকলার সমাল�োচক, তাতে ক�োনও সন্দেহ নেই । তবে অন্য দিকে বাস্তব ও পার্থিব কাজ চালাতে গিয়ে মাঝেমাঝে তাঁর দক্ষতার অভাব ধরা পড়ত । এছাড়া তিনি প্রায় অধৈর্য হয়ে পড়তেন । আগ্রহ নিয়ে কিছু শুরু করার পরে যখন বু ঝেছেন পরিস্থিতি তাঁর অনু কূলে নয়, তখন তিনি অল্প দিনের মধ্যেই আগ্রহ হারিয়ে হাল ছেড়ে দিতেন এবং নতুন কিছু খুঁজতে থাকতেন যা নিয়ে তিনি আগ্রহ সহকারে কাজ করতে পারবেন । তেন্‌শিনের পাশে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে বেশ কিছু ল�োক এ-রকম সাক্ষ্য রেখেছেন । তাঁর প্রথম ভারত সফরের প্রাক্কালে তেন্‌শিন ঠিক সে রকম পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন । বিজুৎসু ইন প্রতিষ্ঠা করার পর সেটি চালান�োর ব্যাপারে আর্থিক অসু বিধা দেখা দিল । এমন সময় হঠাৎ তিনি ভারতে চলে গিয়েছিলেন । তেন্‌শিনের গবেষকদের মধ্যে অনেকেই এই মত প�োষণ করেন যে বাস্তব কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুখ ফেরার জন্য তেন্‌শিন ভারতে যেতে চেয়েছিলেন । তা সত্ত্বেও, উদ্দেশ্য যাই হ�োক না কেন, ভারত সফর তেন্‌শিনকে নতুন জগৎ দেখার যে চমৎকার সু য�োগ প্রদান করেছিল, সে কথা নিঃসন্দেহে বলা যাবে । ক�োনও সন্দেহ নেই যে কিঞ্চিত সময়ের জন্য হলেও বিবেকানন্দের সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারাটা তেন্‌শিনের কাছে বড় আনন্দের ঘটনা ছিল। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে পরিচিত হবার ঘটনা সম্বন্ধেও একই কথা বলা যাবে । ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে তেন্‌শিনের মনে একটি ধারণা উঁকি মারছিল । সেটি ছিল এমন ধারণা যে চারুশিল্পের ক্ষেত্রে এশিয়া বা প্রাচ্যের জগতে অভিন্ন এক ধারা অতিবাহিত হয়ে থাকে । ১৮৯৩ সালে, যখন তিনি ট�োকিও শিল্পকলা বিদ্যালয়ের প্রধানের পদে আসীন ছিলেন, তখন তিনি ৫ মাস ধরে চীনের বিভিন্ন জায়গায় যান গবেষণা অভিযান চালান�োর উদ্দেশ্যে। এই সফরের মাধ্যমে উল্লেখিত ধারণা তাঁর মাথায় জায়গা করে নেয় । ১৯০১ সালে ট�োকিওর নিহ�োন বিজুৎসু ইন-এ মাক্‌লাউডদের সামনে তেন্‌শিন যে বক্তৃ তা রেখেছিলেন, তার বিষয় ছিল জাপানী ও প্রাচ্যের শিল্পকলার ধারা । ভারতে যাওয়ার সময় তিনি এই বক্তৃ তার পাণ্ডুলিপি সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন । ভারতে প্রায় এক বছর অবস্থান করে তিনি ব�ৌদ্ধ গয়া, অজন্তা এল�োরা ও দিল্লীর মত জায়গা ঘুরে বিভিন্ন পুর�োন�ো শিল্পকলার নমুনা পরিদর্শন করেন । এভাবে ভারতের শিল্পকলার ধারা নিজের চ�োখে প্রত্যক্ষ করলেন তেনশিন ওকাকুরা । এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি তাঁর লেখায় চূ ড়ান্ত রূপ দেন । বিবেকানন্দের আরেক জন বিদেশী শিষ্যা সিস্টার নিবেদিতা (Elisabeth Margaret Noble)–র সহয�োগিতায় পাণ্ডুলিপির সংস্কার সাধন করা হয় এবং সেটি লণ্ডনে পাঠান�ো হয় । পরের বছর ১৯০৩ সালে তেন্‌শিনের এই রচনা জন মারে(John Murray) নামক প্রকাশনা থেকে বই-এর আকারে প্রকাশিত হয় । বই-এর নাম “The Ideals of the East” অর্থাৎ “প্রাচ্যের আদর্শ ।” পরবর্তীকালে প্রকাশিত তেন্‌শিনের অন্যান্য বই, যেমন The Awakening of Japan এবং The Book of Tea-র সঙ্গে বইটি অবদান রেখেছে সংস্কৃ তির জগতে জাপানের মানসিকতার বৈশিষ্ট এবং এ ক্ষেত্রে অন্যান্য এশীয় দেশগুল�োর সঙ্গে জাপানের নিবিড় য�োগায�োগ সম্বন্ধে বিশ্ববাসীদের ধারণা দিতে । সেই সঙ্গে ইংরেজিতে লেখা এই সব বই-এর মাধ্যমে বিশ্ব জানতে পেরেছে যে জাপানে তেন্‌শিন ওকাকুরা বলে একজন উত্তম সংস্কৃ তমনা ব্যক্তি আছেন । “The Ideals of the East” শুরু হয় সেই অতি প্রখ্যাত মন্তব্য দিয়ে ...“Asia is one.” এই সংক্ষিপ্ত উক্তির মধ্যে বিবেকানন্দের অদ্বৈতবাদের ধারণাকে সম্ভবত প্রতিফলন ঘটাতে যে চেয়েছিলেন তেন্‌শিন ওকাকুরা, সেইভাবে চিন্তাভাবনা করে হয়ত তেমন বড় ভুল করা হবে না । 

References: Tenshin Okakura Kakuzo by Rikoro Kiyomi Okakura Tenshin by Makoto Ooka Okakura Tenshin Shu edt. Takeshi Umehara Okakura Tenshin Sono Uchinaru Teki by Seicho Matsumoto Okakura Tenshin no Shiso Tanbo by Takahiko Tsubouchi Okakura Tenshin Zenshu 1st volume published by Heibonsha Okakura Tenshin to Izura edts. Yoshiyuki Morita, Shinya Koizumi Okakura Tenshin Album edt. Sunao Nakamura Swami Vivekananda: Sono Shogai to Goroku edt. Vivekananda Kenkyukai Swami Vivekananda to Nihon by Swami Medhasananda

(Anjali 2013 সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাটি পূ নর্মুদ্রিত করা হয়েছে) www.batj.org

Durga Puja 2017

15


India’s Enduring Ties With Japan Through The Ages   - Biren Nanda India’s civilization links with Japan go back 15 centuries. These links were born in an exchange of knowledge, a meeting of minds and beating together of hearts, which led to enduring exchanges and influence between these two ancient civilizations and got reflected in the art forms, architecture and literature of the two countries. The earliest Indian theme in Japanese literature can be found in the story of Rishyashringa that found place in the Japanese folk tale, Konjaku Monogatari in the 11th century. Buddhist literature, when it was introduced from India into Japan, also brought along with it, various Indian legends, folk tales and stories from the epics Ramayana and Mahabharata. The story of Rishyashringa is very popular in India as parents narrate this to their children depicting him as an ideal man, known in Japan as Sennin. Rishyashringa was a child, brought up in the hermitage of his father. In the process, he never got to see a woman and acquired supernatural magical powers. As the kingdom of Anga was suffering an unprecedented drought, the king was advised to seek the help of Rishyashringa. The king, following the advice sent beautiful women to Rishyashringa to make him to visit the kingdom. Although aware of the design of the King, Rishyashringa decided to help the people of Anga with his powers. As soon as Rishyashringa entered the kingdom, it was blessed with rains and the drought ended. This interesting story can be found in Japanese literature in several versions. Similarly, Indian legends of various apsaras found their place in Japanese literature and theatre. The standard formula being an apsara, who otherwise lived in heaven, would come down to the earth, to atone for her mistakes or offences or to seduce a sage with a view to disturbing his meditation. Such popular legend is Tsuru no Ongaeshi. Although this story has several versions, the broad outline is that an apsara once flying in the sky in the form of a crane gets injured by a hunter’s arrow. A farmer finds the injured crane and takes pity on it and treats its injury. The crane flies away. In the evening, a beautiful girl comes to his home and requests him to allow her to stay with him. He takes her as his wife and lives happily. The wife prepares a wonderful dress for the farmer for the New Year. It is so wonderful that it attracts everybody’s attention and admiration. His friends and neighbors make inquisitive inquiries about the source of the dress and advise him to get more dresses made by his wife, so that he could make big money selling them. The wife accepts the request, greedy though it was, on the condition that he should not attempt to see her while she weaves the dresses. Unable to resist the temptation, the husband peeps into the weaving room only to find the crane; he had earlier treated, doing the weaving. While he was surprised to realize that the same crane had come back to him as his wife to repay his kindness, the crane quickly takes the form of an apsara. She explains that she had to spend some 16

time on the earth as a result of a curse and now it was time for her to return to the heaven. This story has become the recurring theme of several theatrical and musical productions, including the popular Noh play by a renowned playwright Zeami. There are several such apsara stories throughout Japanese literature. However, when these were introduced into Japan, they were modified to highlight certain attributes and values considered desirable in the Japanese cultural context. For example, in the earlier story, compassion and the obligation to repay kindness or a favor received have been underlined. These stories and legends have played a significant role over generations to teach children the dynamics of inter-personal relations and desirable contact. Panchatantra, the Indian compilation of stories for children has also been translated into Japanese against this background. The first Nobel Laureate in Asia, Gurudeva Rabindranath Tagore, extensively interacted with the literary personalities in Japan and helped introduce Japanese influences into Indian literature through his various writings and teachings at the Shantiniketan. In his earlier writings, while Tagore had also portrayed ‘another world’ beyond this material world, one discernable influence after his various visits to Japan was that he had come to underline the need to have greater faith in this life. Tagore was also responsible for promoting exchanges in the field of art and it was he who encouraged Okakura Tenshin and Yokoyama Taikan to visit his University at Shantiniketan, to learn about the techniques being employed by the Bengal Renaissance, which was then in full swing. Taikan and Tenshin returned to Japan and helped to bring about a confluence in art techniques and philosophies, inspired by what they saw and learnt in India. It was around this time that Okakura Tenshin founded the Japan Arts Academy, which like Tagore’s Shantiniketan, was devoted to the preservation of the pristine and beautiful art of Asia, which was something that both Tenshin and Tagore fervently believed in. The gentle message that was brought from India to Japan both directly and through China and Korea was a message of love, compassion and universal brotherhood. This message led to a spiritual union between two countries. The evidence of this union can be found in the many beautiful temples and shrines that dot the splendid landscape of Japan. Many centuries later there was an important link between Goa on the west coast of India and Kagoshima in Kyushu. This link was established by the intrepid pilgrim and traveler St. Francis Xavier whose mausoleum is in Goa but in whose memory stands a beautiful church in Kagoshima. Through contacts between Japanese and Indian priests in Kagoshima and Goa there was an exchange of knowledge and philosophy. A further exchange of knowledge took place in the second or third year of the Meiji era when Motokichi Tada a retainer of the Tokugawa family was sent from Shizuoka to Calcutta, Assam and Darjeeling to study the cultivation and production of black tea. At the end of the 19th century one of the greatest pioneering industrialists of India J.R.D. Tata stopped in Japan on his way to America to study the methods of rapid industrialization in the country. In 1896 the first Japanese Consulate opened in Bombay, the hometown of Tata. By 1903 the India Japan Association had been founded. This organization did pioneering work in the promotion of

Anjali

www.batj.org


India’s Enduring Ties With Japan Through The Ages trade and cultural contacts between the two countries. The second President of the India Japan Association was Okuma Shigenobu, the founder of Waseda University and who served twice as the Prime Minister of Japan. It is significant that even as Prime Minister he retained his position as the President of the India Japan Association. In that capacity he received Rabindranath Tagore the great poet and Universalist who visited Japan three years after winning the Nobel prize for Literature – the first Asian to receive this honor. Tagore was responsible for promoting exchanges in the field of art and it was he who encouraged Okakura Tenshin to visit his University at Shantiniketan and learn about the techniques employed by the Bengal renaissance. As a result of such cultural and commercial contacts, trade between India and Japan at the outbreak of the second World War grew several times and India was the third largest trade partner of Japan after the US and China. Before the outbreak of the Second World War several Indian nationalists were inspired by Japan’s victory over Russia in 1905 – the first defeat of a major European Imperial power by an Asian nation. Among the nationalists who came to Japan to seek

inspiration and encouragement were Rash Behari Bose and Subhash Chandra Bose. Rash Behari Bose married the daughter of the Soma family and received invaluable support from Mr. Toyama and the Nakamura family. He founded the Indian National Army and also helped establish the first Indian Restaurant in Shinjuku, called the Nakamuraya. Subhash Chandra Bose later led the Indian National Army actively supported by the Japanese government and people and fought and died along with Japanese soldiers in parts of Southeast Asia and indeed within India itself during the battles of Imphal and Kohima in Northeast India. After the war it would be recalled that Justice Radhabinod Pal the Indian Judge in the Tokyo Tribunal was the only judge who found the defendants, that is the leaders of Japan to be not guilty. Pal based his judgement on grounds of international law, the rule of evidence and the principles of fair play and justice. The historical relationship between India and Japan has been free of conflict or tension, ideological or territorial disputes. This provides an excellent basis to build closer links between our two countries.  (Reprinted from Anjali 2003, 2004)

ラダビノード・パール (Radhabinod Pal) (1886年1月27日 - 1967年1月10日) 極東国際軍事裁判(英語:The International Military Tribunal for the Far East (1)、東京 裁判とも称される)は、第二次世界大戦で日本が降伏した後の1946年(昭和21年)5 月3日から1948年(昭和23年)11月12日にかけて行われた。この一審制の軍事裁判で 連合国が「戦争犯罪人」として指定した日本の指導者などを裁いたものである。11人 の判事の中で、唯一日本の無罪を主張し、世界の注目を浴びたのはインド出身の国際 法学者ラダビノード・パール。 1886年、インド、ベンガル州生まれ。インドの独立運動盛んな時代に生まれ育っ た、パール氏は、実に素晴らしい経歴の持ち主。1908年、カルカッタ大学にて理学修 士を取得し、1910年にインド連合州会計院書記生として就職した。1911年にカルカ ッタ大学理学部、法学部を卒業し、1924年にはカルカッタ大学にて法学博士号 (LLD) を取得した。1923年から1936年までカルカッタ大学法学部教授歴任。1927年にインド植民地政府の法律顧問に就 任し、1937年には国際法学会総会に招聘され、議長団に選出された。1941年にカルカッタ高等裁判所判事に就 任。1944年、カルカッタ大学総長に就任し、1946年3月まで務めた。そして、1946年5月から開かれた極東国際軍事 裁判ではインド代表判事として派遣された。 パール判事は、後に、東京裁判の経験について、「博識な同僚判事たちによる判決および判定に同意できないこ とを、本官は心から遺憾に思う。本件裁判の持つ重要性、ならびに、本件裁判に関連している法と事実関係への疑 問に鑑み、本裁判所の判定に対して生じたさまざまな疑問に対する本官の見解を示すことは本官の義務であると考 える次第である。」(2)と述べている。1952年来日時の講演録、論文、滞日同行記をまとめた本(3)にも世界の平和 を願ったその真の思想を綴っている。同じアジア人として、判断が偏ったのではないか、という疑問もあったが、 「私は真実を真実と認め、正しき法を適用したにすぎない」と国際法学者の公平な立場を主張した。事後法によっ て行われた戦勝国による「東京裁判の不正」について日本人の立場での分析も行われている(4)。 歴代のインド首相も来日する際の演説で、日印交流において、パール氏が果たした役割に触れている。例え ば、2006年12月14日に来日したマンモハン・シン首相は、日本の衆議院の国会演説の中で、「戦後、ラダビノー ド・パール判事の下した信念に基づく判断は、今日に至っても日本で記憶されている。こうした出来事は、我々の 友情の深さと、歴史を通じて、危機に際してお互いに助け合ってきた事実を反映するものである」と公式に好意的 な意見を述べていた。2014年に来日したモディ首相も、9月1日に開かれた安倍首相との夕食会の中で、「インド人 が日本に来てパール判事の話をすると尊敬される。自慢できることだ。パール判事が東京裁判で果たした役割は我 々も忘れていない」と述べた(5)。 1)

http://www.un.org/en/genocideprevention/documents/atrocity-crimes/Doc.3_1946 Tokyo Charter.pdf(2017年9月12日に閲覧)

2)

東京裁判 全訳 パール判決書:ラダビノード・パール (著), 都築 陽太郎 (翻訳)、幻冬舎 (2016/12/26)、ISBN-13: 978-4344910362

3)

パール博士「平和の宣言」:ラダビノード パール(著), 田中 正明 (著), Radhabinod Pal (原著)、小学館; 復刊版 (2008/02)、ISBN-13: 978-4093877718

4)

パール判事の日本無罪論: 田中 正明 (著), 小学館 (2001/10/1), ISBN-13: 978-4094025064

5)

「東京裁判で果たしたパール判事の役割忘れない」 モディ首相”. 産経ニュース, 2014年9月2日 (2017年9月12日閲覧)

www.batj.org

Durga Puja 2017

17


What Indian people should learn from Japan’s experience   - Late Prof. Tsuyoshi Nara The year 2007 being ‘Indo-Japan Friendship Year’, many cultural exchange programs are now in full swing between the two countries. Many eminent Indian artists are visiting various cities in Japan to present to Japanese audiences their excellent performances in song, dance and the playing of musical instruments. Meanwhile, many first-class Japanese artists are visiting India to demonstrate their traditional skills and explain their cultural precepts to Indian audiences. In addition, a large number of Indian politicians, government officers, businessmen and even military personnel are calling on their respective Japanese partners and vise versa. It is indeed gratifying me to observe these phenomena as I have been always dreamt of realizing such exchanges during my last half-century’s association with India. However, to tell the truth, in spite of my constant efforts to persuade Japanese politicians and businessmen to take more interest in Indian affairs, I used to encounter very poor responses or even indifference. It was not until two or three years ago that these people started to change their attitudes and begin showing their real interest in Indian politico-economic affairs, and this was largely a result of the remarkable economic progress they observed particularly in Indian IT. The main reason for their negative attitude in the past was their biased perception of Indian economic conditions. Lack of sufficient infrastructure (roads, railways, sea/air port facilities and electricity). Frequent labor trouble. Government policies unfavorable or unfair to foreign investors. Selfish attitudes of shrewd Indian business partners. However, these reasons are nothing but a pretext to conceal their lack of entrepreneurial spirit in opening up a new business field in India. In fact, we can cite successful examples of some pioneer companies like Suzuki Motor Corporation (Japanese company) and Samsung Co. Ltd. or Hyundai Motorcar Manufacturing Co. Ltd. (Korean company) that overcame the hurdles presented by Indian economic conditions. Contrary to the situation mentioned above, we can see a completely different picture in the Japanese academic circle. Many Japanese scholars, young and old, have shown keen interest in various aspects of Indian affairs, becoming specialists in Indian language, literature, arts, history, philosophy, religion, society and more. They number something over 500 now, though that figure was less than 50 in the past when I first landed in Calcutta after a month journey by British-Indian cargo-cum-passenger ship from Yokohama in 1958. On the other hand, to my knowledge the number of Indian scholars currently specializing in Japanese affairs can hardly exceed 20. Nowadays some economists predict that India’s population will soon become the largest one in the world surpassing that of China and her GDP will exceed Japan’s GPO within a few decades. While I myself do agree with this prediction, yet I wonder whether the aforementioned cultural or academic imbalance between the two countries will ever be rectified at all. This remark is not based on patriotic sentiment but rather on my brotherly concern for the future of the Indian people. To speak more precisely, I do not want to see the Indian nation to repeat the same mistakes as the Japanese committed during her postwar development. I sincerely wish that many Indian 18

scholars would study thoroughly the whole process of Japan’s postwar socio-economic development occurred under the influence of the American regime. Immediately after the end of Second World War in 1945, the socio-economic infrastructure of Japan was totally transformed based on instructions from the US occupation. Dissolution of the big financial combines (=zaibatsu), abolition of the aristocratic class privileged by the state, revolutionary agrarian reform by compulsory transfer of agricultural land from big landowners to landless laborers, reform of the school system and other major changes were enforced on us one after another, not to mention the changing of our Constitution. During the first stage of postwar development (19451954), for the sake of securing minimum required food, the Japanese people put all their energy into rehabilitating the industrial and agricultural infrastructure totally destroyed by daily air attacks by American bombers during the war time. During the second developmental stage (1955-1964), they worked very hard day and night to earn enough money for clothing and housing. During the third stage (1965-1974), they worked still harder to increase their income and succeeded in doubling it. As a result most Japanese people became able to purchase any sort of durable or non-durable consumer goods produced either domestically or in any foreign country – particularly in the U.S.A. In those days it was indeed a dream for any Japanese to purchase American products which looked like celestial goods to their eyes. Thus, almost every Japanese family started purchasing modern fashionable goods to furnish their small houses or apartments and make a more comfortable life. To meet such customers’ demands, every manufacturer, big or small, started increasing its production and merchants intensified their sales of various merchandise by promoting commercial advertising through various media. TVs, electric cleaners, washing machines, refrigerators, air-conditioners, pianos, motorcycles and motorcars became daily necessities for virtually every Japanese family. While such a dynamic industrial development and economic progress brought about material satisfaction and physical enjoyment to Japanese people dreaming of matching the American lifestyle, it also thrust a harsh reality before them. Namely they were confronted with various pollution. Air pollution due to flue gas extraction or engine exhaust, water pollution due to factory waste or domestic waste, and soil pollution due to excess use of chemical fertilizer or insecticide/ pesticide – all became serious threats to health. Thousands of people died and many more people still suffer from aftereffects of various diseases caused by the above mentioned agroindustrial pollution. As many industrial, commercial and financial concerns made enormous profits, both their CEOs and employees were benefited from constant increases in remuneration or salary. In this way Japan became the second largest economic giant in the world next to the U.S.A. and secured the honorable position of providing techno-economic aid to the developing nations. Japan’s annual per-capita income surpassed that of Americans and their individual savings became the highest in the world. But the story did not end there. Alas! A sad story started when a majority of Japanese people were not content with their savings or earnings but became avaricious, seeking to earn or save even more money. The most pathetic part of this story is that many pursued their greedy desires even by

Anjali

www.batj.org


What Indian people should learn from Japan’s experience easy but dishonest means. They committed many shameless acts including insider trading, corporate donations to politicians or government officials for unfair allotment of public works and expenditures, embezzlement of public money, even dishonest anti-earthquake designs and perfunctory inspections. Dishonesty has become rampant throughout the Japanese society. Furthermore, some Japanese people irritated by low bank interest withdrew their savings from the bank and invested them in the stock market or for a real estate. Youth did everything possible to avoid physical labor like agriculture and construction work preferring white-color desk jobs, which resulted in rapidly diminishing agricultural populations in most rural areas. The Japanese seem to have totally forgotten or given up their spirit of hardworking and honesty and yield to the temptation to get rich quickly. They have even started thinking that the more money they accumulate the more they can secure their happiness. They now consider that the value of a human being can be measured by the amount of money he or she possesses. This is exactly the way a majority of American people value human beings. Thus, many Japanese people have adopted American ways of thinking and lifestyles exactly as the U.S.A. occupation once sought to enforce. After the Second World War, the Japanese society became for a time an ideal egalitarian society as almost all Japanese people considered themselves to be the middle

class. It is now shifting to a quasi-American model society consisting of two classes of people – the rich minority and the poor majority. There are still a good number of Japanese people who are honest, kind, diligent, clean, aesthetic and pious. It is also a fact that the average span of life and the literacy rate of the Japanese nation ranks topmost in the world. It is pity, therefore, to have to admit the recent deterioration of the Japanese character observed recently – particularly during a last two or three decades. Our challenge now is to reverse the present current flow of the Japanese society and restore the dignity of our traditional self-respect. For that purpose the Japanese should first remember and restore their two traditional ethical principles in their minds and daily conduct– i.e. (1) tusutushimi (= humbleness/ prudence/ contentedness) and (2) mottainai(=frugality/ waste nothing and be grateful to the Creator). As stated earlier, I wish to repeat here sincerely that the Indian people, who seem to be following a course of fast economic progress similar to that the Japanese once pursued, should learn a lesson from the latter lest they commit the same blunder.  (Reprinted from Anjali 2007)

ナイルレストランの創業者 A.M.ナイル (Ayappan Pillai Mhadavan Nair) 1905-1990 インド独立運動の闘志であり、ナイルレストランの創業者であるA.M.ナイル。 日本初の本格的なインド料理店、東京銀座「ナイルレストラン」の創業者はインド独立運動家。 インド国民軍、インド独立連盟の組織者として、ラシュ・ビハリ・ボース、スバス・チャンドラ・ボースらと 反英インド独立闘争を展開した。「1」 インド南部のケララ州に生まれ、高校在学中からインド独立運動に参加して、イギリス当局から目をつけられて いたために、兄が留学したことのある日本へ留学することになった。 1928年に京都帝国大学の工学部に入学したナイルはラシュ・ビハリ・ボースと出会う。 1941年12月8日の太平洋戦争開戦をきっかけとして、東南アジアのインド独立運動を盛り上げるために、ラシ ュ・ビハリ・ボースを総裁としたインド独立連盟が結成された。ナイルは事務総長として活動しインド独立のため の諸運動にたずさわる。 終戦後、ナイルが日印平和条約の仕事をしていた1949年に現在の銀座にて日本初の本格インド料理店「ナイルレ ストラン」を開業した。日印平和条約締結後、在日インド人会会長を務めるなど日印親善に大きく貢献し、またイ ンド独立運動の功績が認められナイルは1984年には勲三等瑞宝章を受章。 1990年4月22日、故郷トリヴァンドラムでなくなった。 知られざるインド独立闘争: A・M・ナイル回想録 the History of NAIRより抜粋

www.batj.org

Durga Puja 2017

19


Some Major Hindu Festivals

インドの行事(祭り)

English Original: Sudipta Roychoudhury 英文 スディプタ・ロイチョウドリ Japanese translation: Sudeb & Keiko Chattopadhyay 訳文 スデブ& 啓子・チャットパダイ Navratri / Dusshera:

19~28th September: The nine nights festival of Navratri begins on the first day of Ashwin of the bright fortnight. The festival signifies power, wealth, prosperity and knowledge The nine days celebration in Tamil Nadu have been equally divided for worshipping the three Goddesses namely Lakshmi (the first three days are dedicated to the Goddess of wealth and prosperity), Saraswati (the next three days are dedicated to the Goddess of learning and arts) and Durga (the last three days are dedicated to Mother Goddess, Shakti). The tenth day or the Vijayadasami, is considered to be a very important day when the idol of three goddess are taken out in procession and immersed in a river or sea. The tenth day of the festival is also known as Dusshera. Dusshera is celebrated in various ways in different parts of India. In Mysore the festival is celebrated by the famous gala procession of richly bedecked elephants on the brightly lit streets of the city where elephant carries goddess Parvati. In Varanasi, for ten days period the great epic ‘Ramayana’ is shown to people on stage as a drama. Dussehra is celebrated in Punjab after nine days of fasting during Navratri while Garba dance and music reigns the evenings and nights of Gujarat during the ten days of the festival. In Himachal Pradesh, the festival is marked by the grand processions of the village deities of the hill people.

Durga puja: 24~27 September 2009: Durga Puja is widely celebrated in eastern part of India. It is not only the biggest Hindu festival celebrated throughout the State, but also the most significant socio-cultural event in Bengali society. According to mythology Goddess Durga descends to the Earth on Shashti and returns to her abode on Dashmi. The clear blue sky, the cool pleasant air, the beautiful fragrance of Shiuli (a type of flower of this season), the lush green fields and chanting of mantras and shlokas of Goddess Shakti, all sum up together to create the perfect ambience for the celebration of Durga Puja, the greatest festival of the Bengalis. The preparations for the festival are done way in advance as beautiful pandals are build in different areas of the city. These are mainly community pujas, which are mainly financed by the local people or sponsorship from big corporate houses. The people of Bengal start preparing for the festival from Mahalaya (the starting of the festive season). They decorate homes, buy gifts for friends and relatives and new clothes for themselves and relatives for the festival. The shopping plaza and markets are totally packed up from one month before the festival..

20

ノボラトリ・ドゥシェラ: 2009年9月19-28日 この9日間の祭りはアッシン月の1日に始まり、月が満ちる時期 に行います。この祭りは権力、富、繁栄と知識を象徴します。タミ ルナドゥでは3日ずつ、3人の神様を崇拝します。最初は富と繁

栄の神ラクシュミを崇め、次は知識の神サラスワティ、最後に権 力の神ドゥルガ(ラクシュミとサラスワティの母、別名シャクティ)を 祭ります。10日目はビジョヤドショミとよび、3人の神様の像を川 や海に流すために町の大通りを練り歩きます。この日はドゥシェ ラとも呼ばれ、インドの他の地域でも盛大に祝われています。マ イソールでは道路がライトアップし、象も盛大に飾り付け行進に 使います。バラナシではこの10日間はラーマヤーナの劇が上 演します。 パンジャブではナバラトリの9日間の断食を終え祝 宴の日となります。また、グジュラトではガルバのダンスと音楽で 10日間を盛大に祝福します。ヒマチャルプロデシュでは祭りの 特徴として山に住む人々があがめる神像を行進に使用します。

ドゥルガプジャ:2009年9月24-27日 東インドの広い地域でドゥルガプジャを盛大に祝います。西ベン ガルでは最も重要な年間の行事として扱われ、文化や社会的 な観点でも最大の年間イベントにな ります。インド神話では女神ドゥル ガは人間に祝福を与えるために、 新月から数えて6日目(ソシュティ) に天から地に降りたち、10日目(ド ショミ)にはまた天に戻ります。 ベンガル人にとって最大の祭りとな るドゥルガプジャの時期は、秋の真 っ青な空、涼しげな空気、シウリ花 の香り、緑いっぱいの畑、ドゥルガ の神に唱えるマントラの聖なる響き など総合的に最高な祭りの雰囲気 を醸します。 プジャのための準備もだいぶ前から入念に行われ、各地域で綺 麗なパンダル(神様を崇拝するために立てられるテントのような もの)を作ります。これらは大抵地域の人々や中小企業から集 める寄付で賄います。プジャ本体の準備はモハロヤの日(祭り が始まる日)から着手し、住んでいる家も飾り付け、新しい服の 買いまとめ、親戚や友人への贈り物の準備などで、町全体に活 気が溢れます。お店もこの時期になると実際にプジャの日(ソプ トミ)の一ヶ月前からとても忙しい時を迎えます。

Anjali

www.batj.org


Some Major Hindu Festivals ラクシュミプジャ:2009年10月4日

Lakshmi Puja: 4th October: Lakshmi

Puja is another Bengali festival that is celebrated in every household. Goddess Lakshmi, the Goddess of wealth is worshipped just after Durga Puja. Lakshmi is one of the daughters of Durga who symbolizes wealth, peace and prosperity. On a full moon night people worship her at their homes and pray for her bessings. Delicious Bengali Recipes on Lakshmi Puja night are cooked and are then given to Goddess Laxmi as an offering. It is considered that Goddess Lakshmi visits homes of the devotees and replenishes them with wealth.

Diwali / Kali Puja:

17th October2009: The festival of Diwali is the festival of lights and is celebrated with great excitement by all Indians all over the world.After dark every city, town, village are turned into a fairyland –every home and public building is illuminated with many oil lamps and electric lights. This night most of all hindus worship Lakshimi, the goddess of prosperity, however in West Bengal, they worship Kali, the goddess of strength. Diwali is also the noisiest of all Indian festivals as countless fire crackers explode through out the night.

Makar Shankranti/Gangasagar mela: 14th January2010: Makar Sankranti is celebrated in the last day of the Bengali month of Poush. In Bengal, this day is one of the most auspicious time of the year. Thousands of pilgrims from different parts of the country gather at Gangasagar, the point where the holy river Ganges meets the sea, to take a dip and wash away all the earthly sins. Makar Sankranti falls on the day of the year when the sun-considered the king of all grahas (planets)-is in the rashi (zodiac sign) known as Makar (Capricorn).

Saraswati Puja:

20th January 2010: Saraswati puja is celebrated through out the country. The Goddess of knowledge is revered among the students and learned who strictly follow all the rituals to worship her. The festivities that accompany Saraswati puja is a part of the social celebrations. Young girls are seen in yellow saris. Pushpanjali (offering of flowers along with mantras) are offered. Bright palash flowers are offered that are a part of the worship. Young people enjoy the day with each other. Cultural programmes are staged at night. The Goddess who is the patron of music, culture and learning is revered by singers and musicians with great devotion.

www.batj.org

ベンガルではラクシュミプジャはほとんどの家庭で行われ る行事の一つです。ドゥルガの女神の次に重要とされて いる娘のラクシュミ女神は富や商売繁栄を祝福してくれる 神様としてあがめます。このプジャは満月の日の夜に行 います。この日、神様のお供え物として、女性はいろいろ なご馳走を作ります。この準備やお祈りを入念にすれば 神様が祝福を与えるために家を訪問するとされ、そのた めに家を綺麗に飾ります。

ディワリ/カリプジャ:2009年10月17日 このプジャは灯りの祭りともいいます。インドの全地域で催され るこの祭りは夜に行われます。この日は、町の各家や企業のビ ルや工場などはともしびや、電灯で飾られ、 町全体は不思議な明るい雰囲気に包まれま す。インドの他の地域ではこの日、富の神様 ラクシュミが崇拝されますが、西ベンガルでは この日力の神様カリ神を崇めます。この日花 火や爆竹で一晩中にぎやかに過ごします。

マカルシャンクランティ/ガンガサガルメラ: 2010年1月14日 ベンガルの暦のポウシュ月最後の日に行われるこの行事はベン ガルで最も神聖とされる日に当たります。多くの巡礼者たちはこ の日ガンガサガルに沐浴します。ガンガサガルはガンジス川が ベンガル湾に流れ出る河口のことです。この沐浴によりすべて の罪が流されると信じています。マカルシャンクランティの言葉 は、この日、星の神様太陽が山羊座(マカル)と重なることから由 来しています。

サラスワティプジャ:2010年1月20日

Durga Puja 2017

サラスワティプジャはインド全国、特に西ベンガル地方 で行われます。サラスワティ女神は勉強や知識を象徴 することで、特に学生や知識人は忠実にしきたりを守 り神様を崇めます。プジャの伴う祭りは社会的な活動 の重要な位置づけとなります。若い女性は黄色のサリ ーを身につけ、人々はパラシュという赤い花を添えて 神様にアンジャリ(供物)をささげます。勉強する必要 がないので、この日は若い者は楽しく過ごします。夜 には歌や劇の文化的な催事が行われます。サラスワ ティは特に芸術にかかわる人々、特に歌手や音楽家 などの文化人には大変尊敬される女神です

21


Some Major Hindu Festivals

Holi / Bosonto Utsob:

1st March 2010: Holi is associated with Lord Krishna who used to play with colors with Radha and Gopis. Holi is one of the major festivals of India and is celebrated in most of the states of India. People fill the streets, squirting colored water on people regardless of age, caste or creed. However, each region celebrates it according to their culture and traditions. Holi has its own charm in Visvabharati University (established by Rabindranath Tagore) where it is celebrated in an unique way. The girl students of Shantiniketan dress up in saffron saris and wear fragrant garlands. They sing and dance before their teachers and guests. The show concludes with the smearing of colour powder on one another’s foreheads..

ホーリー/ボソントウトソブ:2010年3月1日 ホーリーはクリシュナ神がラーダ神とその家来のゴピ達と遊んで いる姿と関係が深い祭りです。ホーリー はインドで重要な行事の一つで、ほとん どの地域で祝われています。人々は町 のいたるところでだれかれかまわず相手 に色水をかけます。地域によってやり方 が多少異なり、たとえば、シャンティニケ タンにあるヴィッショバラティ大学(ロビン ドラナート・タゴールによって創設)では 特別な祝い方があります。大学の女生徒 達は濃黄色のサリーを身につけ、黄色い 花のレイで身を飾り、歌や踊りで、ゲストや観客を楽しませます。 祭りの最後に色パウダーをお互いの額につけあいます。シャン ティニケタンでは色水の使用は禁止されています。

Liquid colours are totally forbidden

Rama Navami: 24 March 2010: The birth anniversary

of Lord Rama is celebrated in the month of Chaitra (which usually falls in March or April according to the Hindu calendar) and is also known as Ramnavami. It is celebrated with great devotion across the nation and every region has its own regional significance behind the celebration. The public worship starts with morning ablutions, chanting Vedic mantras dedicated to Vishnu, and offering flowers and fruit to the god. People keep a fast throughout the day, breaking it only at midnight with fruit. In some parts of India, especially Bihar and Uttar Pradesh, public gatherings called satsangs are organised to commemorate the birth of Rama. The pilgrims flock the temples of Ayodhya in Uttar Pradesh, where Rama was born and Pondicherry to participate in Ramnavami festivities.

Charak: 14th April: Charak puja is a traditional Bengali festival

celebrated mainly in the rural areas. The groups of men and women, who take up this 'Brata' or the time bound ritual, have to go through a month long fasting from sunrise to sunset, live strictly on fruits & perform the daily worship in order to get the 'blessings of the lord. On the day of the ‘Charak' or the 'Gajan', as it is also called, bamboo stages are made on bamboo poles, the height ranging from 10 to 15 feet. What follows is a macabre yet fascinating spectacle. After the month long penance the devotees step up the high bamboo stage & hurl themselves forward. The ground on which they fall is embedded with glass, thorns, knives & other devious weapons. But the devotee escapes unhurt! The blessing of the god keeps him safe from all the possible harms.

Kumbha Mela:

14~28th April 2010: It is one of the most major fairs in India which takes place every three years, at Haridwar, Allahabad, Nasik and Ujjain alternatively. Each twelve-year cycle includes the Maha (great) Kumbha Mela at Prayag, attended by millions of people, making it the largest pilgrimage gathering around the world.

ラーマナバミ:2010年3月24日 ラーマ神の誕生日を祝う行事です。ヒンズー暦のチイトラ月に行 われ、年によって4月に行うこと事もあります。インド全域で信仰 深く祭られています。但し、地域によってしきたりの詳細が違い ます。朝は沐浴後ビシュナ神崇拝のマントラで始まり、花や果物 を神様に供えます。日中は断食で過ごし、夜遅くに果物を食べ て行事を終えます。特にビハールやウッタルプロデシュでは民 間行事としてサトサングと呼ばれるラーマ神の誕生祝い会が営 まれます。信者たちはウッタルプロデシュのラーマ神が生まれた とされるアヨッダの寺に集まり、ラ-マ神を崇めます。同じような行 事はポンディチェリー地方でも行われます。

チャラク:2010年4月14日 チャラクは特に西ベンガル地方の行事で、主に農村地域で営ま れます。特別な習慣(ブロト)を宗教のしきたりとし、一ヶ月に及 ぶ日中の断食をし、神様を崇拝し、食べ物として果物以外何も 口にしない厳しい修行を成し遂げます。チャラクの日には竹で 作る高いジャンプ台のようなものが設置 され、信仰の深い信者たちはこの高台 から、ガラス破片、ナイフや怪我する恐 れのあるものをばら撒き、そこに飛び降 ります。神様の祝福があると、どんな危 険な飛び降り方でも絶対怪我しないとさ れており、それを確かめる行為になりま す。無事であれば、一年間家庭の安全 と健康が守られるとされています。

クンバメラ:2010年4月14-28日

The Kumbha Mela is organized to celebrate the achievement of the pitcher of nectar. According to Hindu Mythology, thousand of years ago 22

Anjali

これはインドの最も有名な行事の一つです。3 年に一回行われ、ハリドワル、エラハバドゥ、ナ シクとウッジョインの都市で交代に行われます。 12年に一回はマハ・クンバメラがプロヤグという 場所に開催され、100万規模の人々が集まり、 世界でも最大規模の信者の集会行事になりま す。この行事の主な目的は容器に納められて いる永遠の命の源とされるネクタルを祭ることで す。インド神話によると、何千年も前、人類存在 の初期のころに、善と悪の長い戦いの末、この ネクタルの容器が人類の救いとなりました。以 降、ヒンズー教の多くの信者たちには、このクン www.batj.org


Some Major Hindu Festivals when human history was in its first phase, a battle of existence was fought between good and evil forces. The pitcher was the final outcome of the battle. Millions of Hindu feel even today that there is probably nothing holier than a “Kumbha Snan”- a dip in the holy waters at the time of Kumbha.

バメラの時期に指定された場所で沐浴することが一生涯の最も 神聖な行為とされています。

Rath Yatra:

2nd July 2010: Rath Yatra is a huge festival associated with Lord Jagannath held at Puri in the State of Orissa, India, during the month of June (Rainy Season). Most of the city's society is based around the worship of Jagannath with the ancient temple being the fulcrum of the area. The festival commemorates Lord Jagannath's annual visit to his aunt's home.

ラータジャトラ:2010年7月2日

Raksha Bandhon (Rakhi): 13th August 2010: Rakhi

ラクシャ・バンドォン(ラキー):2010年8月13日

ラートジャトラはジャガンナト神を祝う大変大規模な祭り です。オリッサ州のプリという都市で盛大に行われます。 時期的に、インドのモンスーン(雨季)と重なります。プリ の町自体はジャガンナト神を祭る古い寺を中心に栄えて います。ラータジャトラはジャガンナト神が綺麗に飾られ た乗り物(ラート)に乗って叔母の家を訪問することを祝 います。

is basically a sacred thread of protection embellished with the love and affection of a sister for her brother. This day is also known as Raksha Bandhan and celebrated on the full moon day of the Hindu month of Shravana in India. This frail of thread of Rakhi is considered as stronger than iron chains as it binds the most beautiful relationship in an inseparable bond of love and trust.

Janmasthami:

ラクシャ(ラキー)は姉・妹から兄・弟に送られる愛情のこも った神聖な“守り糸”のことを指します。ヒンズー暦のスラボ ナ月の満月の日に姉・妹らは兄・弟の右腕に“ラキー”とい う糸を結び(バンドォン)、永遠の信頼と愛情を祝福する行 事になります。“ラキー”は非常に弱い糸に見えますが、愛 情を注ぐことで鉄より頑丈な結びとなることを信じて行うしき たりとなっています

ジャンマストミ:2010年8月22日

22 August 2010: Janmashtami celebrates the birth of one of the most famous Gods of Hindu religion, Bhagwan Krishna, on the eighth day (Ashtami) in the month of Sravana or Savana. The idol of lord is bathed with Panchamrit (A mixture of milk, ghee, oil, honey and Gangajal). The Panchamrit is later distributed as Prasad to the devotees along with other sweets. While some fast on the first day and break it at midnight for others the fasting continues for both days. The period coincides with rainy season. nd

ジャンマストミはインドで最も崇拝されているクリシュナ神 の誕生を祝う行事です。ベンガルの暦ではスラバナ月の 8日目に行われます。クリシュナ神像をパンチャムリッタ と呼ばれる(牛乳、ギー、油、蜂蜜とガンジス川の聖水と 五種類のものを混ぜて作る)聖なる液体で洗います。こ の液体は行事を終了後、神様からの贈りものとして、果 物やスイーツと一緒にくばられます。信者は日中に断食 し、深夜に果物などを食べて断食を終えます。季節的に 雨の多い時期でもあります。

ガネーシャ・チョトゥルティ:2010年9月1日

Ganesh Chaturthi: 1st September 2010:

Ganesh Chaturthi is the celebration of the birth day of Lord Ganesha, one of the most important Gods of the Hindu Mythology. It is a festival, which is observed throughout the country. Especially in Maharashtra this festival has a special significance and it is celebrated with great enthusiasm and joy. On the day of the festival Hindus performs pujas at temples and even at homes. Fasting, feasting and distribution of sweets mainly laddoos are offered to him. After the festival is over they immerse the idols in the nearby water body, which are sacred.  

ガネーシャ・チョトゥルティはガネーシャ神の誕生 を祝う行事です。ガネーシャはヒンズー教ではと ても重要な神様として崇められています。この行 事はインド全国で行われます。とくに、マハラスト ラでは非常に盛大に祭られます。ヒンズー教の信 者はガネーシャ神の寺に行き祈りをささげることが 多いですが、家庭でも神棚のガネーシャ像の前 にお供え物を置き崇拝することをしています。崇 拝行事終了まで断食をし、終了後は皆一緒にス イーツなどを食べて歓談します。祭りの終わりに、 近くの聖なる水場から池や川に神像を流します。   (Anjali 2009 掲載)

(Reprinted from Anjali 2009)

www.batj.org

Durga Puja 2017

23


日本の行事 Japanese Festivals 日本文 啓子・チャットパダイ  Japanese Original: Keiko Chattopadhayay 英訳 ミタ・チャンダ English translation: Meeta Chanda 九月

September

秋分の日 23日    祖先を敬い、亡くなった人々をしのぶ日。国民の祝 日。秋の彼岸の中日に当たります。

Shuubun no hi- Autumn Equinox- Sept.23

十月

October

This national holiday is to show respect and honor to our ancestors, Autumn Equinox day falls in between the Autumn Equinoctial week i.e. higan.

Jyuugoya - 3rd Oct

十五夜 3日    日本では、古くから秋の名月を 鑑賞する「お月見」の風習がありま す。旧暦八月十五日の「十五夜」 は、中秋の名月を鑑賞する他、これ から始まる収穫期を前にして、収穫 を感謝する祭としての意味あいがあ りました。

9月頃に収穫される「芋」をお供え することから「芋の名月」とも呼ばれ ています。現在では、満月のように 丸い月見団子と魔除けの力がある とされたススキを伴えるのが一般的 な「十五夜スタイル」です。 十五夜とともに日本では古来もうひとつ旧暦九月十三日 の十三夜もまた美しい月であると重んじていました。中秋 の名月(十五夜)はもともと中国で行われていた行事が日 本に伝来したものですが、この十三夜の月見は日本独特 の風習だそうです。一般に十五夜に月見をしたら、必ず 十三夜にも月見をするものともされていました。これは十 五夜だけでは、「片月見」といって嫌われていたからで す。十三夜は「栗名月」とか「豆名月」と呼ばれています。 これはお供えとして栗や豆を、神棚などに供えるからだそ うです。十五夜はあまりすっきりしない夜空であることが多 いのに対し、十三夜の夜は晴れることが多いようで、「十 三夜に曇り無し」という言葉もあります。

In Japan from old days, there is a custom to watch and appreciate the mid autumn Harvest moon that is called Otsukimi (viewing the moon). According to Japan’s lunar calendar 15th night of the 8th month is the day to appreciate the full moon on one hand, and on the other hand is the festival before the harvest time to show one’s gratitude to the first ears of rice or crops or harvest of the season. Around the 9th month Taro potatoes are harvested and given as offerings for that its also called “imo no mei tsuki”. Present days its popular style of “Jyuugoya” to eat round dumpling that looks like a full moon, which has the power or charm against the evil spirits. Jyuusanya- 30thOct - 13th night of the 9th lunar month From ancient times, in Japan, according to the Japan’s old calendar, along with the 15th night of 8th lunar month, one more i.e. 13th night of 9th lunar month’s moon is honored as a beautiful moon. Although the event for the mid autumn moon i.e “Juugoya” originally came from China. But this moon viewing event of “Juusanya” is unique custom of Japan only. Generally it is believed that it is not good to view only one of these two days moon. If someone is viewing the moon of “Juugoya”, one should definitely view the moon of “Juusanya”. Jyuusanya moon is also called chestnut moon or beans moon. As this time chestnuts and beans are offered to the God. During “Juusanya” the sky stays clear, without any clouds in contrast with “Jyuugoya” when the sky usually remains cloudy.

十一月 七五三 15日    三歳の男女、五歳の男 子、七歳の女子が11月15日 にお宮参りをし、子供の成長 を祝う行事です。子供たちは 晴れ着に身を包み、千歳飴〔 ちとせあめ〕を持って家族に 連れられ、各地の神社にお参 りし、記念撮影するのが一般 的です。子供に持たせる千歳 飴には、子供が元気によく成長するよう、また長生きする ように、という願いがこめられています。 24

Anjali

November

Shichi go san- 15th Nov- Festival (shrine visit) by children of 7-5-3years old. This function is celebrated for the growth of children, on this day 3yrs old boys and girls, 5yrs old boys and 7 yrs old girls, wearing their special clothes, holding red and white candy, along with their families they visit various temple or shrine. Generally, photographs are taken to commemorate the event. The children carry red and white stick candy as an expression of healthy growth and longevity.

www.batj.org


日本の行事 Japanese Festivals

十二月

  昔は新年を迎えるためすす払いから始まり、門松を立 てたり注連縄を飾ったりおせち料理を作ったり、色々な準 備をしました。現代生活の中では、クリスマスなどと同じイ ベントとして、残っています。

December

From olden days many different arrangements are done to welcome the New Year, starting from cleaning cobwebs, pine decorations near the entrance, decoration of sacred straw rope, preparing New Year’s special food (sechi ryouri) etc. In present days, this has become an event like Christmas.

大晦日 31日   大晦日の夜は、歳神様を迎えるために寝ていては失 礼だということで、人々は一晩中起きている事が多かった ようです。大晦日の夜には長寿延命を願って年越しそば を食べます。

Oomisoka - 31st Dec - New Year’s Eve.

各地のお寺で大晦日の夜から新年にかけて、午前0時の 前後に除夜の鐘をつきます。 「人間の煩悩は108ある」と するところから鐘を108回つい て、1つ1つ煩悩を消して新年 を迎えます。

From New Year’s Eve to New Year, the temple bells rung for 108 times.

In the New Year’s Eve it’s impolite to sleep as its time to welcome the New Year. It seems all through the night people do many activities to stay awake. On New year’s eve everybody eats noodles (toshikoshi soba) to wish for longevity.

It is said that human beings are made of 108 worldly desires, or bad thoughts. With each bell rung, it cleanses each bad thought and enter the New Year.

January

一月    お正月 1年の大きな節目に当たるお正月には、歳神様をお迎え するために門松を門の前に飾ったり、鏡餅を備えたり、前 日に準備したおせち料理を食べたりしています。また、子 供は親や親戚からお年玉をも らいます。三が日はいろいろな 行事が行われます。昔から行 われてきた元日の風習は、現 在でも受け継がれています。 1月1日(元日)の朝は、初日の 出(上ってくる太陽)を拝み、1 年の幸運を祈ったり、神社仏 閣に初詣でをします。お参りし て、1年の無事息災を祈りま す。よく使われる元旦とは1月1 日の朝の事であり、朝日の昇り はじめから午前いっぱいをい い、午後には元旦という言葉は使われません。 現在のお正月は「遊び」にしても、すごし方にしても変わ ってきているようです。昔の正月はのんびり過ごして疲れ を癒しつつ、親族一同と団欒する風習がありました。

Oshougatsu- 1st Jan- New Year New Year is the turning point of a year, its time to welcome Toshigamisama (ancestors who gave the people on earth life and always protect them from heaven) for that the entrance of the house is decorated with pine decorations called “Kadomatsu”, a pair of mirror shaped Ricecakes are offered to the God, food prepared before for the New Year is eaten (Sechi Ryouri). Kids receive (otoshidama) gift for the New Year in the form of money or gift, from the elder’s of a family. At present days also, the traditions and customs are followed in the same way as in the old days. Everybody does first shrine or temple visit of the New Year, to pray and worship for safe and healthy living throughout the year. Various events and functions are performed on the first three days of the New Year. At present times, it seems the way changed a lot, of enjoying and spending the New Year. In old times people used to spend or pass the time of New Year’s Day, at leisure to heal the tiredness, sitting together with relatives and relaxing. Ganjitsu is national holiday to celebrate the beginning of the New Year. Hatsuhinode is the first Sunrise of the New Year. People usually go to see the sunrise of 1st Jan, and pray for the whole year’s good luck. Gantan is the activities done for the whole morning till noon of 1st Jan. Gantan word isn’t used for the afternoon activities.

お正月に見る夢を初夢といい、その夢の内容で1年を占う 「夢占い」が古くから行われていました。最もよい夢は、「 一富士・二鷹・三茄子〔いちふじ・にたか・さんなすび〕」で ある、と駿河〔するが〕(現在の静岡県辺)の国のことわざ にあります。富士山は日本で一番高い山、鷹は愛鷹山( 別名、足高山)のことで、これは駿河で二番目に高い山で す。また、昔、茄子は正月になると驚くほどの高値で売ら れていました。縁起が良いとされている「高い」という言葉 がこれら3つに共通しています。 7日は、1月1日から行なわれる様々な新年行事がひと段 www.batj.org

First Dream seen in the New Year is called Hatsuyume. From ancient times, it’s believed that the contents of the first dream tells the fortune for the whole year. Mainly, a dream seen on 1st or 2nd night of Jan is Hatsuyumse.It’s said that the best dreams to see are of the Mount Fuji, Mount Aitaka(a.k.a. Mount Ashitaka), and Brinjal. These mountains are the first and second highest in Japan. In old times, during the New Year, brinjals were sold at very high price. The common thing in these three is the word“high”. Its time for a break, after enjoying various activities of the New Year. 7th Jan is the day to eat Nanakusagayu i.e porridge made of seven (types of herbs) items. This is the

Durga Puja 2017

25


日本の行事 Japanese Festivals custom to keep oneself healthy for the whole year without getting sick. As its very good for digestive system, it gives rest to the tired stomach after all the New Year celebrations.

落ついたころ、七草粥を食べる日として知 られています。 7日の朝に(せり・なずな・ご ぎょう・はこべら・ほとけのざ・すずな・すず しろ)の七草が入った粥を食べ、その年1年 の無病息災を願う風習です。七草粥は消 化吸収がよく、正月のご馳走で疲れた胃腸 を休め栄養補給をするという料理です。正 月のお供えである鏡餅は、神様の召し上 がりものとして献上し、 11日には年神様に 備えた鏡餅を雑煮やお汁粉などにして食 べ、一家の円満を願います。

11th day is the day to eat the rice cakes presented to the God during New Year. It’s eaten with either Zoni or Shiruko. Shiruko is a dark, sweet thick soup made with red beans, and pieces of ricecakes in it. Zoni is a soup containing one or two rice cakes, shiitake mushrooms, fish, meat, chicken etc. This is a perfect family event.

成人の日      大人になったことを自覚し、自ら生き抜こうとする青年 を祝い励ます日。1984年に制定されてから1999年まで1 月15日でしたが、2000年に制定されたハッピーマンデー 法に基づき、1月の第2月曜日に改正されています。

Seijin no hi - Coming of age day. It’s the day to celebrate being 20 years old, and awareness of adulthood and capable of surviving by self. From 1984 when it started till 1999 it was celebrated on 15th of Jan. But from 2000 it became Happy Monday so every year’s 2nd Monday of January is celebrated as Coming of Age day.

February

二月

Setsubun - 3rd Feb - Setsubun is the day of “Mame maki” means bean throwing day. Fill in the roasted Soya beans in a container, and throw it out of the house through the window, while chanting “Oni wa soto, Fuku wa uchi” means go away evil spirits and good luck come in. It is said that after finishing throwing, if you collect as many beans as of your age and eat it, you will stay healthy for that year. This ceremony is done to drive away the evil spirits and diseases and bring happiness and good health in a family.

節分の日 3日   3日を節分の日といい豆まきをします。 枡いっぱいに炒った大豆を入れ、「鬼は 外、福は内」と言いながら家中の部屋・窓の 外に豆をまきます。邪気や不幸の種を追い 出し、家族の幸福と商売繁盛を祈るためで す。豆まきが終わった後、自分の年齢と同 じ数だけ豆を食べます。そうすることにより、その年、 病気にかからないといわれています。

三月 ひなまつり(桃の節句)   3日に女の子の幸せで健康な成長を 願い祈る節句です。娘のいる家庭では家 に雛人形を飾ります。ほとんどの家庭で は2月中旬に雛人形を飾り、節句(ひな 祭り)が終わるとすぐ片付けます。片付け るのが遅いとその家の娘たちが結婚問 題で苦労するという迷信に由来します。 ひな壇に桃の花とともに、男雛と女雛を 中心とするお雛様の人形を飾り、白酒、 ひし餅、ハマグリのお吸い物などで女の 子のすこやかな成長を祝い、祈るお祭りです。一般的に は、男雛が向かって左側、女雛が向かって右です。こうい う並び方を関東雛ともいいます。京都(京雛)では昔から の風習によるものなのだと思いますが、男雛と女雛の並 ぶ位置が関東雛の逆、男雛が向かって右側、女雛が向 かって左になります。 

March

Hinamatsuri ( momo no sekku ) - 3rd March Girl’s Day( Doll festival) This festival is celebrated for praying and wishing for the good fortune, happiness, and growth of one’s girl child. The households where daughters are present, they decorate dolls in their house from the mid of Feb and wrap up everything as Hinamatsuri festival ends. There is superstition that if the wrapping up of dolls is too late, then there w i l l be problems or trouble in the marriage of their daughter. In this festival, the multi tiered doll stand is decorated mainly with Emperor, Empress doll in central position with many other set of dolls, decorated with Peach flowers. Then white wine, rice cakes and soup made of clams are presented as an offering to the god praying for the healthy and sound growth of their daughter. Shunbun no hi- Vernal (spring) Equinox Day

春分の日      自然をたたえ、生物をいつくしむ日。祝日の春分の日 は、前年の2月1日に内閣府から官報によって発表されま す。太陽が真東から上がって、真西に沈み昼と夜の長さ が同じになる春分の日と秋分の日を挟んだ前後3日の計 7日間を「彼岸」と呼び春分(秋分)の3日前の日を「彼岸 26

It is the day for praising the Nature and its living things. This holiday is announced in the previous years official gazette, by the cabinet. On Vernal Equinox Day, day and night are equal same as Autumn Equinox Day in Sept. Three days before, and three days after this day, in total seven days is called “Higan” i.e.

Anjali

www.batj.org


日本の行事 Japanese Festivals

の入り」と言い、3日後を「彼岸の明け」と言います。春分・ 秋分は、その中間に位置しますので、「彼岸の中日」と呼 ばれます。昔から、彼岸には先祖の霊を敬い墓参りをす る風習があります。また地方により若干の違いはあります が、ぼた餅、おはぎ、団子、海苔巻き、いなり寿司などを 仏壇に供え、家族でもこれを食すと言った風習も残って います。

equinoctial week, when Buddhist services are held. When the week starts, 1st day is called “higan no hairi” i.e. start and the last day is called “higan no ake”, end of higan. As the Autumn Equinox and the Vernal equinox day falls in the middle day of the Equinoctial week its called “Higan chunichi”. From old days, during this week, it is a custom to visit the graves of ancestors to pay respect to their departed soul. This custom differs according to one’s area but at least this custom still remains to offer rice cakes, dumplings, norimaki (vinegar rice rolled in seaweed), and inarizushi are offered on Buddhist alter, and also eaten by the family members.

April

四月

Hanami

  桜の花を見るため、お 弁当、お酒持参で山野に 出かけ花祭りをします。4 月8日はお釈迦様の誕生 日。誕生を祝う祭り、それ が花祭りです。

This is a ceremony to watch the Cherry blossom, by visiting hills and fields, bringing box lunch, alcohol, and having fun with friends under the cherry tree. 8th April is celebrated as Buddha’s birthday, celebrated by praying and worshipping God Buddha.

May

五月

Kodomo no hi - May 5th - Children’s Day (boy’s day celebration)

こどもの日(端午の節句) 5日    子供たちの健やかな成長と健康を祝 う日です。1948年に国民の休日となりま したが、古代からの祝いの日です。 5月5日は伝統的に端午の節句と呼ば れ、男の子の祭りでした。男の子のいる 家庭では家の外にこいのぼりを立て、家 の中には有名な武将や英雄の人形を飾 ります。最近は住宅事情により家の中に 飾れるミニチュアのこいのぼりもありま す。この日は邪気を払い、体を丈夫にす るとされている菖蒲の葉を入れた風呂に 入ります。柏の葉に包んだ餅の中に餡をつめた柏餅やち まきを食べます。

Traditionally, this day is also called the “Boy’s day”. The households with male child, usually hang Koinobori (Carp fish made of cloth ) outside their house and dolls of famous military commanders, or great man are decorated inside the house. These days due to the residential circumstances miniature Koinobori is also there to decorate inside the house. On this day everybody takes bath by putting Iris leaves in bathtub to cleanse oneself from diseases. Eat Kashiwamochi, i.e. rice cakes

六月

June

with beans inside and covered with Kashiwa leaves.

At present there are no national holidays in this month.

現在日本では国民の祝日がありません。 夏祭り   7月上旬から8月下旬頃、夏祭りがおこなわれます。日 本の夏祭りの多くは、起源的にはお 盆・七夕・などがからんだ行事である ものが多いようです。ただし、近代化 によってその起源はあまり認識され ず、夏祭りは一般的に厳粛(げんし ゅく)な行事ではなく華やかな行事と なっています。とりわけ、8月の旧盆 の時期をはさんだ夏祭りは帰省の時 期とかさなり、祭礼中でのなつかしい 人との再会など感慨深いものがある ようです。

www.batj.org

This day is celebrated for the sound health and growth of children. Although since 1948 this day became a national holiday, this day was being celebrated from ancient times.

Natsu Matsuri- Summer Festival In Japan, summer festival takes place from the end of July to the early August. It seems the Japanese Summer Festival, therefore, the actual Natsu Matsuri events lost its solemnity. Now it just remained as a gorgeous function. Especially, the Summer Festival which comes during the O-Bon period, is the homecoming season when everybody returns home to meet their loving ones, everybody is in festive mood and celebrate the union. The Bon odori (Dance) that’s done during this festival. In Heian Period the holy priests started connecting the event of dance on the Buddhist prayer with other functions of O-Bon, to welcome the spirit of the deceased, and do memorial services for the

Durga Puja 2017

27


日本の行事 Japanese Festivals

夏祭りで行われるもののひとつに盆踊りがありま す。平安時代、空也上人によって始められた念仏踊りが お盆の行事と結び付き、精霊を迎える、死者を供養する ための行事となっていったようです。広場の中央にやぐら を立て、やぐらの上で音頭とりが音頭を歌い、参加者はそ の周囲を回りながら音頭にあわせて踊る形式が一般的で す。かつては夜通し行われることが多かったのですが、 近年は深夜まで行われることは少なくなっています。 夏の夜の風物詩としていろいろな地域で大規模な花火 の打ち揚げを「花火大会」と称して行っています。花火に は打ち上げ花火や仕掛け花火などがあります。 お祭りの際に 神様が乗られるとされている乗り物をお神 輿(おみこし)といいます。この輿(こし)は神様がのられて それを人間が かついで回るというものです。ですから  お神輿の上に人間は乗ってはいけない ということになっています。一般的な掛 け声として “わっしょい わっしょい” “ そいや~ そいや~” “エッサ エッサ”  などが あります。地域ごとに特色ある お神輿があり代々 引き継がれていま す。英語では "Portable Shrine"つまり  持ち運びできる神社とされ、その形は  神社を小さく模したものとされていま す。人間がのってもいいのは 山車(だ し)といわれているほうです。山車(だし) とは お祭りの際に使われる神様をのせるもの、または  神様が外へ出て行く際に先導につかわれているものと言 われています。車という字がついているので一般的には 車輪がついており、紐でこの山車を引っ張って練り歩きま す。山車の上に人がのって、太鼓をたたいたり、踊ったり して神様を先導していきます。関西では “だんじり” と いったり 単純に “山” といったりもしていて各地方によ って 呼び方も色々あるようです。

One thing that reminds us of the summer season is Hanabi, watching fireworks at summer night. At different areas and places Firework displays are done at large scale these are called Hanabi taikai. Fire crackers are of different shapes, sizes and styles. Omikoshi- Portable shrine Omikoshi means a carriage for God. At the time of festival, people carry the God in Palanquin and visit many places. That’s why people are not allowed over the portable shrine. At different regions, different special types of portable shrines are there which are carried over from generation after generation. As this is just a miniature of actual shrine that’s why its called “Portable Shrine”. The carriage in which people are allowed to ride are called daashi. At the time of festival, on one hand daashi is used as a carriage for God, on the other hand when the God is visiting outside daashi acts as a guidance. Generally, Daashi is a carriage with wheels, pulled by ropes and people march along with that. Some people dance and beat drums on top of it. In Kansai region its called danjiri, in different regions its called in different names.

July

七月 七夕の節句 7日   七夕(星の祭り)は7 月7日の夜におこなわ れます。その祭りは、織 姫と彦星の恋人たちが 天の川で隔てられて1 年のこの日1日しか会う ことを許されないという 伝説によります。子供も 大人もそれぞれのお願 いを短冊に書いて、そ のほかの飾りと一緒に 笹の枝につるし、家の玄関や裏庭、軒下に飾るのは6日 の夜で7日は七夕飾りを海や川へ流して神様に持ち去っ てもらいます。現在は環境汚染問題から川に流すことは 困難となっています。 お盆 15日   お盆とは先祖の霊があの世から帰ってきて家族と一緒 に楽しいひとときを過ごし、また帰っていくという日本古来 の信仰に基づく行事です。7月または8月の13日より16日 までの4日間をさします。 13日の夕方に迎え火を焚き、先 祖の霊を迎えます。期間中には僧侶を招きお経を読み、 飲食の供養をします。16日の夕方、送り火を焚き、御先 祖さまにお帰りいただきます。 28

dead people. Generally, in the middle of the open space stage is built, on top of that the singers stands and sing marching songs and the participants dances around the stage in similar stepping. In the past, this event continues for the whole night, whereas in recent years it performed till late night.

Tanabata 7th July – Tanabata is the festival of stars celebrated on the night of 7th July. According to legend the two lover constellations Vega and Altair of our Milky Way, who are separated for the whole year are permitted only on this day to meet. Children and adults respectively write their wishes on a strip of paper and decorate with some other ornaments together, and hang it on a bamboo branch. On the 6th night this twig or branch is decorated in entrance, or the rear garden of one’s house. Then on 7th it is cast in the river or ocean to be taken away by the God. These days due to environmental pollution problem it is difficult to cast it in the river.

Obon - 15th July - The festival of dead From ancient times this event is originated from the belief that the spirit of ancestors return back from their world to their home to spend some time together with their family. After having some good time they return to their world. On 13th night everybody put welcoming fire to receive the returning spirits of their ancestor. In this duration priests and monks are invited to do memorial services for the dead. On 16th evening ceremonial bonfire is done for seeing off the honorable ancestors spirits on the final night of O-Bon.

Anjali

www.batj.org


日本の行事 Japanese Festivals

八月

August

現在日本では国民の祝日がありません。

At present there are no national holidays in this month.

九月 重陽の節句  9日   「重陽」とは9月9日にあたり、 菊に長寿を祈る日です。不老長 寿や繁栄を願うお祝いとして平安 時代に中国から伝わりました。平 安時代、菊には長寿の力がある と信じられていたようです。奈良 時代から宮中や寺院で菊を観賞 する宴が行われています。平安 時代に入って中国思想の影響を 受けると、菊の花を浸した「菊酒」 を飲み交わし、 悪気を祓う菊花の宴が催されるようになりました。旧暦と新 暦では約1ヶ月違い、今の時期が菊の盛りとはなりませ ん。そのため祝う人も少なく、このような日があることを知ら ない人も増えています。 

September

Chouyou sekku - 9th Sept - Chrysanthemum Festival It is the festival to pray to chrysanthemum for longevity. This celebration to pray for eternal youth and prosperity was introduced from China in the Heian period. At that time chrysanthemum was thought to be a symbol of longevity. Starting from Nara period (710-794CE) parties and banquets are held in temples and imperial court for the admiration of chrysanthemum. During Heian period, under ideological influence from China, exchange of chrysanthemum soaked alcohol to cleanse or purify ill feeling became popular. Since there is about a month’s difference between the lunar and solar calendar, according to the solar calendar followed now this is not the season for chrysanthemum. This is one reason why it is not very well known today and very few actually celebrate the occasion.

(Reprinted from Anjali 2009)

(Anjali 2009 掲載)

www.batj.org

Durga Puja 2017

29


Cultural Background of Japanese Communication Style   - Ranjan Gupta Stylized communication

In the preface of his book, “The Japanese have a Word for It”, Boye Lafayette De Mente wrote the following paragraph.

“The highly stylized, minutely structured nature of Japanese culture that developed over the centuries molded the language to fit and sustain the social and political system that evolved. The psychology of the system became imbued in and expressed by the language to a degree seldom seen in other cultures.”1 Having said this, there exist a lot of controversies regarding uniqueness of Japanese society and its culture. Japanese generally believe that they have a very different culture from rest of the world and it is not all that easy for a foreigner to empathize the differences. While many foreigners accept this point, some are reluctant to do so. According to them, most of the so called unique Japanese traits can also be noticed in other culture as well. For example, use of “Tatemae” or façade as opposed to Honne (expressing one’s real feeling) commonly used in daily conversation in Japan can be observed in many other cultures. The difference may be in terms of its extent of use. They also think that in order to maintain a harmony and smoothness in dealings, be it in social or business contexts, many people essentially use a façade to carefully disguise their true feelings. We will discuss this specific topic in little more details later; however the point to be noted here is that these differing opinions make it extremely difficult and confusing to make any conclusive judgment on Japanese culture and its effect on communication.

A journey from dream to fascination

Living in Japan for nearly three and half decades, it was an intriguing experience to know Japanese culture from a close proximity. Apparent contradictions in the culture got revealed from time to time making me ever confused. On one hand I could see a perfect order throughout the society, epitomized by their overwhelming hospitality, exquisite personal manners, kindness, and bright smile with gracious bow. On the other hand, I could also see insurmountable insularity of the society. Dealing with a way of ‘thinking beyond logic’ also became challenging. So I started the quest of de-codifying cultural DNA of this society to appreciate reasons for many “why” and “how”. In Swami Vivekananda’s words “fascination is the opposite of anything that takes you suddenly; it throws on you, as it was a charm imperceptibly”. I think that is a process, which works silently in the background just as the dew forms on the ground unnoticeably. Perhaps this is how, many foreigners living in Japan for long period get fascinated to this land without much conscious effort. Close contact with Japanese in daily life teaches one to expect the unexpected. It can be stimulating to work out the reasons and emotions behind the unexpected words or deeds. Failure to fathom the background can be frustrating. In the following sections I will attempt to explain some fundamental concepts of Japanese culture, in which I personally believe the verbal and non-verbal Japanese communication, are deeply enrooted. The list is however neither exhaustive nor prioritized in terms of its importance. The scholars might even discard the proposed relationship. I have tried to back up my analysis with some fact, but essentially it is my personal opinion based on direct experience of living in Japan as a student, employee and entrepreneur.

Cultural roots – few fundamental concepts Vertical society (Tate shakai)

According to sociologist Chie Nakane, the characteristics of Japanese society in general and the attitude and behavior of the individual in particular can be explained by the concept of vertical society. In Japanese society, the people are ranked in a hierarchical order having emperor at the top, down to the lowest individual level. In traditional hierarchical Japan, the use of the language and etiquette were primarily decided based on one’s relative coordinate in the society. People had to know their position in the society and abide by a multitude of laws and customs which were ritualized over ages. Even today, many Japanese follow the same pattern of behavior which was created generations ago, and still remains an integral part of the educational institutions, the commercial organizations and the government.

Equality versus Fairness

Unlike In the west where a senior executive (cxx) of an organization takes much of the credit of the achievement that happens during her/his tenure, the Japanese counterparts fully acknowledge the contribution of rank and file. Thus the expression minasan no okage de is so very common in Japan. The literal translation goes like “It’s all because of you”. In practical terms this idea is implemented in the calculation of paycheck of senior executives of Japanese corporations. While inequality is also increasing in Japan, still it can be said that, there is much less disparity of income between the senior executives of a Japanese organization and its rank and file as compared to that of an American organization. Some people say that fairness is a very important basic value in US. This means capability is the yard stick, and it is absolutely fair to pay more to someone who has higher capability. On the contrary, Japan believes in overall equality. Irrespective of their rank within each hierarchy, the Japanese treat one another as fellow human beings. According to an article in The Wall Street Journal on Feb9, 2015 by Jacob M. Schlesinger, Emmanuel Saez, an economist at the University of California, Berkeley said that, “Japan is generally a country with low pretax income inequality because pay, and especially executive pay, is very regulated 30

Anjali

www.batj.org


Cultural Background of Japanese Communication Style through company norms and seniority pay scales.” In the U.S., the ratio of average CEO pay to average worker pay is 354, the highest in the world, while Japan’s is 67, one of the lowest, according to a compilation of global comparisons by the AFL-CIO union federation.

Façade (Tatemae)

Tatemae or façade is a rare art to deliberately disguise one’s true feelings by putting on a nice face to most of the verbal behavior. By not putting harsh words or not disagreeing bluntly, Japanese avoid hurting or offending each other. Use of this art is mandatory for the Japanese while dealing with visitors and superiors. It is very befitting in the everyday life of a conflict avoiding Japanese society which is already filled up with degrees of civilities, courtesies, and elegant humility. While Japanese naturally understand that at times words can just be words without much to expect, foreigners are vulnerable to misunderstand the situation. As a matter of fact, an unintended expectation gets created and words are misread as promise. In the worst situation when they realize that those were not promise at all, they lose their trust. Personally, I have encountered many such occasions. Foreigners who come to explore business opportunities in Japan and meet a group of Japanese for the first time generally get an impressive royal treatment. This apparently may create a lot of hope to have an immediate business relationship. However, in most cases it doesn’t happen that way. One can at the most expect that some business relationship might start sometime in the future, not necessarily immediately or not even on the intended subject.

Elegance in guessing

Stylized communication in Japanese culture gives tremendous value in elegant guessing over blunt conversation. Let’s look at the famous episode of Ota Doukan and Yamabuki. General Dokan had ridden from Chiyoda (Edo) Castle to go hawking. He had gotten as far as Ogose village in Saitama

when an unexpected storm broke forth. He reined aside his horse at the doorway of a roadside inn, which was so run-down it looked like a haunted ruin. A serving maid came to the door. General Dokan called to her, requesting the loan of a grass raincoat. She hurried away & returned to him with an open fan, upon which laid a Yamabuki flower, presenting this with extravagant courteousness. Dokan expressed himself angrily at the nonsensicality of her actions. He returned to Chiyoda Castle soaking wet, and in a bad mood. Later his old retainer explained to Dokan, “That maiden intended to remind you of the poem ‘Yamabuki-no-Mino,’ for the word mino (grass raincoat) also means ‘fruit.’” Then the old retainer sang, “(Nanae yae hana wa sakedomo, yamabuki no mi no hitotsu da ni naki zo, kanashiki)”The Yamabuki enriches our house with flowers, yet there is sadness here, as these riches are an illusion. Our flower does not bear a fruit.” The story is an extreme form of disguised communication where the lady instead of directly saying that they didn’t have a grass raincoat brought a bunch of Yamabuki flowers for Ota Doukan to guess how poor they were. Even in the present days, Japanese love to speak in subtle way.

www.batj.org

Durga Puja 2017

31


Cultural Background of Japanese Communication Style

Passing indirect message

Haragei

Haragei is a form of rhetoric that is intended to express real intention and true meaning through implication. This form is known as Haragei in Japan where it appears as a concept in interpersonal communication and martial arts. Literally translated, the term means “stomach art”, and it refers to an exchange of thoughts and feelings that is implied in conversation, rather than explicitly stated. One may ask why such special form of communication is at all needed. This can be explained using a simple analogy. Say if 10 people have to live their life in a small room and yet want to maintain some level of harmony, they need to do lot of adjustments and cannot afford to pick up fights on an ongoing basis. Similarly, Japan being a small and closed country, I think they had to master a special skill of communication which helps them to keep harmony and overall peace in the society.

(Ishin Denshin) Tacit Understanding/Mind-to-Heart Communication

I still remember a revealing incident which happened when we just came to Japan. A 6-7 years old kid of our neighbor used to come to our house to play with our kids. Sometimes she would eat dinner with our kids. One day I heard her saying to our children that we Japanese hold knife and fork this way. It sparked my curiosity to understand how a 6-7 years old child could confidently generalize something for the whole nation. I could learn how the training begins from infancy, which includes everything from how to eat, how to bow, and how to pay proper respect to seniors, even how to use a knife if you run a sushi shop. Japan seems to be a huge extended family which was deliberately subjected to virtually the same cultural influences for generation after generation. Someone told me that on any day of the year, any public school in whole Japan will be teaching the same page of the same book. As a result of this homogenization, the Japanese develop the ability to understand each other with only a few cryptic, words and to anticipate thoughts and actions as if they could read each other’s minds. I feel that may be with little exception, most of the Japanese are always tuned to the same wavelength. A common concern among Japanese to outsource its software development to offshore vendors is that they have to put enormous efforts to explain each and every minute detail to a foreigner. However, a local Japanese vendor will require much less explanation. There is a commonly used Japanese expression to explain this phenomenon, which is ichi ieba ju wakaru. This means that if one point is explained to the Japanese, they will understand 10 related points. It is like a silent broadcasting.

Viewpoint of an insect (mushi no shiten)

The perspective from which Japanese looks at his surroundings, or decides to accomplish some task can be compared to that of an insect. The insect has two very special characteristics which are as follows: It can see its surroundings in great details as it moves on the ground. It starts moving towards its goal without being too concerned about what is going to come on its way. In the first trait, one can see the details on the ground and can have a thorough understanding of the ground reality. Toyota has coined this concept as Genchi Genbutsu, which literally means the ground where the objects exist. The second concept depicts a challenging attitude. Let us look at how an insect starts its journey towards its goal.

32

Anjali

www.batj.org


Cultural Background of Japanese Communication Style

The insect It starts its journey without worrying too much about the hurdles that it encounters on its way. Depending on the nature of the hurdle it either avoids or crushes, and finally reaches its goal. “Hashirinagara Kangaemashou” is a common Japanese expression which exactly depicts this mindset. ‘Hashirinagara’ means ‘while running’ and ‘kangaemashou’ means ‘let’s think’. Offshore vendors engaged in software development for Japanese client are oftentimes baffled by this mindset as it is very customary for the Japanese customers to request frequent changes in the specification after the project is started. No wonder why, change request in user specification is so very common here. In this context, one can see another interesting difference between Japanese and western culture. If I know my requirement well and can articulate it well, then in western environment, I am somewhat guaranteed of best quality service which I have requested for. As opposed to that it is taken for granted in Japanese culture that the service provider has to think hard to gain a deep insight of what would make the customer happier than providing him just the service that he has requested for. Anyone living in Japan will have enough of such experiences in their day to day lives.

Consciousness of serving lord (Okami)

Common people always felt grateful to the feudal lords and always thought that feudal lords will take care of their well beings. Throughout history they showed their unconditional allegiance to lord (O-kami). They believed that if they had offered their best to the lord, He would in turn protect them from everything. So this became an inherent attitude in Japanese psyche to conform to the leader. Perhaps it is not different from other feudal societies of the world, however in modern Japanese society this mindset is still reflected today in various contexts.

Inconvenience (Gomeiwaku)

Japanese word “Gomeiwaku” means inconvenience. Japanese are very cautious and sensitive about inconveniencing others. The above poster says that “We are very sorry for causing inconveniences to you. Please bear with us for some time….”. One can see this placard at any public site where some new construction work or repair and maintenance is going on. While it is also very common to use the expression “sorry for the inconveniences” in English, the sensitivity about inconveniencing others seems to be stronger among average Japanese. On the contrary, many foreigners do not even seem to be aware of causing inconveniences to others by their “so called strange behavior in public”. They would rather think it to be too much of an obsessive self-constraint. It really does not matter who is right and who is wrong, but matter of the fact is, in Japanese cultural norm the word “gomeiwaku” has a broader scope than the word “inconveniences”.

Laying the groundwork (Nemawashi)

In Japanese corporation before a major change happens, in most of the cases an informal process of quietly laying the foundation for the proposed change is required. Proposers of the change need to talk back and forth to the concerned people for gathering support and feedback. In the process, a consensus is built and tacit approval of all the concerned people are obtained prior to seeking formal approval from the final authority. On the other hand, if a proposal is directly placed for formal approval to the approval board, it is most likely to get rejected simply because the concerned people do not like the idea that they were not consulted at all for their feedback. It is a very important element in bringing a major change,

www.batj.org

Durga Puja 2017

33


Cultural Background of Japanese Communication Style

Nemawashi literally translates as “going around the roots”, from (ne, root) and (mawasu, to go around [something]). Its original meaning was literally: digging around the roots of a tree, to prepare it for a transplant. This process involves bringing the dirt from the new location, and introducing it to the tree, before the transplant, so the tree can grow accustomed to the new environment before it gets there.

kotsu kotsu gambaru (persistent hard work)

In the fast changing world, the ways of doing things in Japan are also changing. However, in traditional Japanese society, nothing could be more appraised than persistent hard working. A nation which was rebuilt from the devastation of war had to specially depend on hard work of its labor. Among older Japanese, a strong common belief is that no matter how smart you are, you have to put persistent hard labor if you want to achieve success.

Chijimi shikou (self-suppression) and conformity

In his book “Chijimi shikou no Nihonjin”, published by Kodansha, Lee Yong observed that Japanese love compactness and so suppress themselves as much as they can. An important Japanese expression in this context is Tsumeru or pack. For example, bento ni tsumeru means packed in lunch box, or mi tsumeru means watch intently, omoi tsumeru means think hard, iki tsumeru means a deep breath. All these expressions have an inherent indication of Japanese love for self-suppression in order to be a part of a compact group. On the other hand that which cannot be packed in the compact group is called tsumaranai. It is also used in a negative connotation like boring, or uninteresting. The Japanese society highly encourages a cohesive and conformal group culture in every facets of their life. An individual in this society generally tries to keep oneself aligned with a larger group than getting singled out by displaying one’s own individuality. This is also because Japanese feel much stronger in a cohesive and compact group than as single individual. This is well known a fact that Japanese are better in group performance than solo. It is difficult to generalize though, but in many culture the notion of self-expression is highly valued. People are encouraged to actively express their opinions, their emotions, and their individualistic personalities. In Japan on the other hand, people will express themselves only among a smaller circle of close friends. Outside of these circles, self-suppression is the order of the day. Self-suppression does not necessarily mean that people are not sincere. But this means that they carefully restrain their own views to ensure that harmony is not jeopardized. This can also be viewed as a pull versus push. The pull on an individual to remain in a group in this society creates a contraction of every single individual.

Conclusion

Study of Japanese culture helps a foreigner to understand and appreciate any exceptions from own expectation. While it is interesting to study the subject in depth, one has to spend enormous amount of time to do that. In order to reduce that burden, an attempt has been made to describe few key cultural concepts that have direct or indirect impact on Japanese communication style. 

Acknowledgement: The Japanese Have a Word for It – Boye Lafayette De Mente Where Communism works – Douglas Moore Kenrick http://www.paghat.com/kerria.html Japanese Society – Chie Nakane, Charles E. Tuttle Co., Reading the Japanese Mind – Robert M. March, Kodansha International 「縮み」志向の日本人 - 李 御寧 (講談社学術文庫)

34

Anjali

www.batj.org


Indus Script and Kanji: A forgotten link?   - Devajyoti Sarkar The Indus Civilization was one the largest civilizations of the ancient world and in extent more than two times larger than Egypt and Mesopotamia combined. The earliest settlements discovered so far date back to Mehrgarh (7000BC) on the banks of the Indus river and Bhirrana (7500BC) on the banks of the now extinct Sarasvati river. It achieved its peak during the Mature Harappan Phase (2600BC to 1900BC) when it covered an area of more than a million square kms and is estimated to have a population of over 5 million people. As many as 2600 sites have been discovered till date including major metropolises like Mohenjo-Daro, Harappa, Rakhigarhi, Ganeriwala, Dholavira, Lothal, Kalibangan, and others. What has come to light is rather unique among the ancient civilizations. Unlike the pyramids of Egypt or the Ziggurats of Mesopotamia, there are no large monumental structures or palaces. Instead what one finds is a focus on the quality of life of the people. Even ordinary homes in cities like Harappa and Mohenjo-Daro were fitted with a flush toilet, running water and attached to a sophisticated sewage system. These represent the world’s first known urban sanitation systems. There was a standardized system of weights and measures used throughout the Indus realms.

Figure 1: The First Seal (Photo by user:geni) CC BY-SA 4.0, via Wikimedia Commons

In the Mature Harappan Phase, we find a writing system that has comes to us in the form of seals. In Fig 1 we see the first seal that was discovered by Major Clarke. It was donated to the British Museum in 1892. Since then over 4000 seals have been found at numerous sites of the Indus valley and other places like Mesopotamia, Bahrain, Oman, Iran and many others. Although there are seals with drawings of different animals and scenes, the vast majority of them have the same drawing as the seal in Fig. 1 – that of a Unicorn Bull. This is, interestingly enough, the first known occurrence of unicorn iconography in history. The Indus writing system is the only one of the major early civilizations to remain undecipherable. This is because we are yet to discover a Rosetta stone or a Behistun Inscription where one can compare text in the Indus script with the text of a known language. In both Egyptian hieroglyphs as well as Cuneiform, we could learn what a character was from someone who knew. In the absence of such a bi-lingual resource, the best one can do is guess. This is made difficult by the fact that the average length of inscriptions on seals is 5 characters. In effect, one needs to recover both the script and the language from the equivalent of 4000 hankos. . While there is no consensus, it is expected that there are about 400 unique characters in the seal corpus. There has been a number of attempts at decipherment, none of them have achieved widespread acceptance. Attempts at decipherment assuming a Dravidian language include efforts by Iravatham Mahadevan and Asko Parpola. The archaeologist S. R. Rao has proposed an attempt based on assuming the language is Sanskrit. In this article, we will do something that has not been done before – we will explore a potential link between the Indus script and Chinese characters or Kanji. Given the number of unique characters, the Indus script may be a better fit to a logographic script rather than a phonetic one. But, to do a like-for-like comparison, we need to trace modern Kanji back to its roots to compare with potential matches from the Indus script. For this purpose, the following will quote extensively from http://www. chineseetymology.org. The earliest record of a writing system in China comes from the Oracle Bone script. These were turtle shells or bones of oxen that people in the Shang Dynasty would use for divination. They would cut inscriptions into them and see how the bone broke when put in fire. Based on this they would foretell the future. There are about 400,000 artefacts and about 4000 unique characters. All of these come from one site which dates between 1300BC to 1100BC. The second major stage is known as the Bronze script. This corresponds to the Zhou dynasty and represents the time period from 1100 BC till the time Zhou ended in 255 BC. The primary medium for writing was bamboo strips but few have remained. Several thousand cast bronze artefacts have survived and these represent the corpus of the Bronze script. This too corresponds to roughly 4000 unique characters. In 221 BC Chin Shi Huang, the first Emperor of a unified China, came to power and assigned his Prime Minister LiSi to make a standard set of official characters. He also declared that all the old documents should be destroyed. This along with 2200 years of time have left very few written artefacts from before 221 BC. The characters of this time and have been used continuously in official seals and are called the Seal script. These are well known and understood thanks to the dictionary by XuShen called the ShuoWenJieZi written in about 147 AD. The ShuoWen is like the Rosetta stone of Chinese. Without it, it would have been almost impossible to decipher the texts of the Zhou and Shang Dynasty. www.batj.org

Durga Puja 2017

35


Indus Script and Kanji: A forgotten link? In Fig. 2, we show some potential matches between the Indus script and corresponding Chinese characters. The selection of the characters is based on the first 400 Joyo Kanji and tracing their etymology back to the Oracle Bone Script and highlighting possible matches. Although the Indus script is almost 1000 years older than the Oracle bone, one can see a striking similarity of form. This mapping would be even more compelling if we could match the meaning of the Indus character to the modern Kanji; laying a potential case for an etymology. Unfortunately, there is no widely accepted decipherment that we can use. We will use meanings of Indus characters from the Vishasita Interpretation for this purpose. Vishasita (vishasita.github. io) is an independent project to create an interpretation of the script that is based on deriving meaning directly from the script characters themselves. Vishasita creates a dictionary of about 1000 words in the Indus script including names of places, rivers and mountains, many of which are the same as the present ones. The first five glyphs are pictographs and it may indeed be the obvious way to draw the concept. The match to the Oracle Bone script may be coincidental. The remaining matches are less obvious and appears to be much closer than hieroglyphs or cuneiform characters. As an example, if we take the Meru glyph (Meru is the central bead of a rosary) we find a similar semantic concept related to centrality based on a string metaphor; resulting in the modern 中 which means middle. The name of China is 中国 or the Middle Kingdom. It is interesting that in the seal record the Meru is frequently paired with Parvata.

Figure 2: Comparison of Indus Script with Chinese Etymology

The Jana glyph shows a person farming and is indeed the etymology of the word jana itself. It means “people”. This matches neatly to the etymology of the modern Kanji 人 which has the same meaning. The glyph for Rajan which translates to 王 meaning king. This glyph occurs only twice in the Indus corpus, once along with jana reading Raja Janaka. Hari is a name for fire and the Hari glyph means fire. This is a natural match to 火 meaning fire. There are some other interesting parallels that one can draw. The Sindhu glyph which has a wavy line surrounded by seven marks is an example of a phonetic radical. The wavy line alone is “Udra” which means water. The seven glyph is read as “Sapta”. Their combination means that the resulting character means water but has a pronunciation that starts from “S” and hence “Sindhu”, also meaning water, river, ocean, etc. Almost 90% of modern Kanji result from a similar process. In general, these are called Semantic radical because of the emphasis given to the meaning component in dictionary organization. But every phonosemantic compound contains both and is no different from the process in the Indus script. The match to the corresponding Oracle bone character is indeed curious because there is no similar concept of a radical in it although the form match is compelling. Another major phenomenon in Chinese characters is called Rebus. This is where an existing character is used to represent an unrelated word with similar or identical pronunciation; sometimes the old meaning is then lost completely. The Yaksha glyph is a Rebus of the same type where the word Yaksha meant dog but then was used almost exclusively as a name of a people. In fact, Yaksha itself derives from Yahvah which maybe a natural reading of the dog glyph. The above relies on an interpretation of the Indus script rather than an officially accepted decipherment to argue for a match. However, I hope you will agree with me that there are aspects in the mapping that go beyond chance and may indicate the potential for a forgotten link between the Indus and the Chinese scripts. 

36

Anjali

www.batj.org


Edo Fuurin & Edo Sensu   - Meeta Chanda

W

hen summer comes in Japan after a long spell of cold winter and soft and smooth spring, everywhere there is greenery and everybody is in a jovial mood. With soothing breeze, we hear the sweet sound of many birds and the delicate heart-warming sound of fuurin, which brings peace of mind and a feeling of coolness. Fuurin is a small type of bell or wind chime made of metal, wood, ceramics or glass that tinkles when moved by a breeze. To catch the breeze, a rectangular piece of cardboard or plastic called tanzaku is attached to a clapper and ancient Japanese poems are written on it. People love to hang it from the eaves of their houses during summer. Edo-Fuurin is a brand of glass wind chimes that have continued since the Edo period (1603 - 1867), named by Yoshiharu Shinohara in 1964. Only the Shinoharas (Yutaka, Masayoshi, and their families and disciples) are allowed to make Edo-Fuurin. To make Edo-Fuurin, first the hot glass pipe is blown like a balloon, which is then cut & cooled. Then different kinds of colorful paintings are done on the inside surface before the final finishing touches. I have had the experience of making Edo fuurin under the guidance of the wife of Masayoshi Shinohara. First I painted Maa Durga’s face on the inside surface in white color and then added a red layer background. Initially I thought it would be very easy to draw that but while drawing, I realized the difficulty in drawing inside the round area with a small opening.

As temperature rises, people are seen with folding fans (sensu) everywhere. At railway stations, shopping streets, while eating in a restaurant, while waiting for bus and many other places. Sensu is a folding fan made of traditional washi paper or cloth on a bamboo frame with a decorative picture or calligraphic character on it. It originated in Japan and spread to Europe via China. In addition to being used to create breezes and refreshment, sensu are indispensable props for classical Japanese dance, comic storytelling and tea ceremonies. Because the shape of the unfolded fan broadens towards the end symbolizing rising prosperity, it is also used as a memento. In Tokyo, ‘Edo-Sensu’ is a brand of washi paper sensu produced with a traditional technique comprising of thirty procedures and made by one person from beginning to end. www.batj.org

Edo-Sensu has 15-18 ribs and with much wider fold. Washi paper possesses strong durability. With thick paper forming the core, two layers of thin but sturdy paper are pasted on the front and back, five layers in all, to produce a folding fan that will not lose its shape even if opened and folded several thousand times. I have had a real hand experience of making an EdoSensu from Hiroshi Matsui san who has kept his family tradition alive that is continuing since Edo period. Starting from pasting five washi papers together, then drying, folding, pricking needles for fitting the ribs, cutting, painting and heating, it takes a long time to make an Edo-Sensu following the delicate procedures. While using the fan, we never imagine the time taking process in making just one of it. Edo-Fuurin & Edo-Sensu are in heavy demand at departmental stores. I have thoroughly enjoyed the experience of these Japanese traditional craft arts. I am sharing the article published in Nihongo journal (magazine for Japanese learners) August 2004 edition.

Durga Puja 2017

37


Edo Fuurin & Edo Sensu 日本の行事 Japanese Festivals

38

Anjali

www.batj.org


Edo Fuurin & Edo Sensu 日本の行事 Japanese Festivals

www.batj.org

Durga Puja 2017

39


Edo Fuurin & Edo Sensu 日本の行事 Japanese Festivals

40

Anjali

www.batj.org


Edo Fuurin & Edo Sensu 日本の行事 Japanese Festivals

(Reprinted from Anjali 2004)

www.batj.org

Durga Puja 2017

41


Cultural Musings – Greetings and Meanings - Brajeshwar Banerjee

I

n Japan, greeting is always done with a bow in which one bends one’s body downwards from the waist with hands by the side. Of course, the angle or depth of the bow can vary and can hide subtleties for which expert guidance must be sought. For example, employees at Japanese department stores (as well as other Japanese companies that expect their employees to interact with customers on a daily basis) typically have company training to teach new employees how to bow properly in various situations. But for most of us that were not fortunate enough to receive such training, attempting a forward bend or bow, without toppling over of course, suffices as a greeting in almost all situations in Japan. This applies while greeting friends, meeting colleagues or customers, conveying wishes at new year’s, congratulating couples at weddings, conveying condolences at funerals and even while praying to the gods (admittedly there is some clapping involved when doing the ritual salutations at Shinto shrines but the clapping simply embellishes the basic bow). Now, what about greeting in India? Aha ! The short answer is “it can be complicated.” Most guidebooks about India teach “Namaste” (variants include “Namaskar” in Hindi or “Nomoshkar” in Bengali) as the versatile salutation to be used inz greeting or parting with palms of both hands joined usually in front of the chest with fingers pointing upwards. The head should be bowed slightly towards the person being greeted. Sometimes performing the gesture itself without saying anything may be sufficient to convey the greeting. Namaste’s versatility comes from the fact that it can be used in both formal and informal situations and can be used regardless of age, caste or other social considerations. Namaste actually means “I bow to you” in Sanskrit and originates from two Sanskrit words – “namas” which means “to bow” and “te” which means “to you”. Some attribute a deeper significance to Namaste as it is believed that saying Namaste actually acknowledges the common divinity that exists between the greeter and the greeted. Namaste also has links with yoga as there are many yogic postures that may start with, contain or end with the Namaste gesture (e.g. Surya namaskar or the Sun Salute being well known). While the guidebooks are perfectly correct, it may be worth noting that Namaste is actually a sub-category of “Pranam” which is also derived from the Sanskrit “pra” which is a prefix meaning “forward, in front, before or very much” and “anam” meaning “bending or stretching”. Combining the two means “bending, bowing much in front” and consequently Pranam has come to mean “respectful salutation” or “reverential bowing” before another person or a deity. One way of cataloguing Pranam divides it into six broad categories as follows: Abhinandan (Sanskrit for “congratulations”) – This is a forward bend with hands folded and touching the chest. Namaskar (Sanskrit for “adoration”) - This is the same as (i) but with the folded hands touching the forehead. Dandavat (Sanskrit for “like a stick”) – This is bowing the forehead down and touching the ground.

Shastanga (Sanskrit for “six organs”) – This is touching the ground with six organs, namely the toes, knees, hands, chin, nose and temple, and Ashtanga (Sanskrit for “eight organs”) – This is touching the ground with eight organs, namely the knees, belly, chest, hands, elbows, chin, nose and temple. Based on the above, the regular Namaste referred to earlier falls under the first category. However, sometimes when a person is offering a Namaste to a person of a higher status or a deity, the Namaskar gesture under the second category may also be used. Categories three to six are less commonly seen and when used, it is almost exclusively to venerate Gods and deities. A form of Pranam that does not fall into a clear category above but is still in common use is the “Charanasparsha” (Sanskrit for “touching the feet”), which is touching of the feet of the person being greeted as a mark of respect. Typically, the gesture starts from a standing position when the right hand (although sometimes both hands) is extended to touch both feet in succession of the person being greeted. After straightening up, the greeter then brings up his/her hand(s) that touched the feet towards the greeter’s forehead to touch it and then touch the chest. This is also referred to as “Mattha Theko” (literally to “touch to the head”) in Punjab and North India and referred to as just “Pranam” in Eastern India, including in Bengali. This touching of the feet gesture is most commonly done to show respect to elderly people like parents, grandparents, elderly relatives, teachers and holy men (sadhus or saints). It is sometimes used in temples in front of Gods and deities too. Children are taught to touch the feet of their elders and it is meant to show respect to the one whose feet are being touched. It is also a lesson in humility. Though very young children need to be prompted by their parents/guardians to learn this gesture, the older ones (and adults of course) are expected to do it without any prompting. Historically Indians lived in joint families and the joint family system provided adequate opportunity for training children in this custom. Some joint families even had a rule for youngsters to touch their parents’ feet the first thing every morning and before going to bed. Though there may still be some adherents to this daily ritual, it is not common nowadays particularly outside of joint families. However, even in nuclear families, some occasions do merit a person touching elders’ feet. These occasions include before one is departing for or arriving back from a long journey, weddings, religious and festive occasions or simply upon meeting an elder person after a long interval. When an elder person’s feet are being touched, that person, in turn, is supposed to touch the head of the younger person doing the act and convey “Aashirvaad” (meaning “blessings”) wishing a long life, fortune and prosperity to befall upon the younger person. The elder person may also give the younger person some sweets or fruits in appreciation or show love.

Talking about festive occasions, it is interesting to note that the occasion of Durga Puja provides an ideal opportunity to see and exhibit the maximum range of Pranams in action. www.batj.org Anjali

Panchanga (Sanskrit for “five organs”) – This is touching the ground with five organs, namely the knees, chest, chin, 42

temple and forehead.


Cultural Musings – Greetings and Meanings During the Puja itself, it is quite common to see devotees and/ or the purohit (priest) conducting the worship doing one or more of the six categories of Pranam mentioned above. Upon conclusion of the Puja, from after Bijoya Dashami till Kali Puja / Diwali, relatives and neighbours visit each other to convey greetings where feet touching and the offering of blessings and sweets is done in abundance. In addition, Bijoya Dashami has evolved its own unique greeting which is the Kolakuli or the triple hug. Performed exclusively by males, it involves holding each other’s shoulders and doing three hugs in quick succession with the head kept to the left of the other person, moving to the right and then back to the left again. Its origins are uncertain but it is possible that it has been derived from the

Muslim greeting practices on Id. For those not living close to a Durga Puja or those not living with relatives close by, both Pranam and Aashirvaad for Bijoya Dashami was historically delivered in written form through letters or postcards. Nowadays one is more likely to send or get an email, Facebook or WhatsApp message with some snazzy artwork attached to the message too. Some of these may no longer mention Pranam and Aashirvaad explicitly. However, regardless of the medium, the next time you do / receive a Namaste or a Pranam either physically or virtually, it may be worth keeping in mind that in essence what is intended to be conveyed is just a bow! Domo arigatou gozaimashita ! 

ラシュ・ビハリ・ボース 1886年3月15日[1] - 1945年1月21日[1]  西ベンガル州ブルドワン生まれ) 1910年代のインドを代表する、独立運動の指導者「2」。  ボースは1886年(明治19年)、インド ベンガル地方に生まれました。英国の植民地として圧政 に苦しんでいた祖国を救おうと、16歳の時親元を離れ独立運動に身を投じます。しかし、インド総 督への襲撃をきっかけに、英国政府から懸賞金をかけられ追われる身となり、1915年(大正4年) 、日本に亡命します。「3」 日英同盟を結んでいた日本政府は、ボースに国外退去を命じます「3」。頭山満の努力で救わ れ、中村屋創業者の相馬愛蔵・黒光(こっこう)夫妻にかくまわれることとなりました。その後ボース は3カ月半中村屋のアトリエで過ごします。その後、隠れ家を移り住む逃亡生活を送ります。相馬 夫妻の娘の俊子が、中村屋を出た後のボースとの連絡役となり、1918年(大正7年)に、二人は頭 山の媒酌により、結婚しました。「3」 1919年(大正8年)、第一次世界大戦が終結したことを受け、英国からの追及が終わり、ボースは自由の身となります。俊 子とともに中村屋の敷地内に住居を建てて暮らし、俊子との間には1男1女をもうけました。また中 村屋の役員を務めるようになります。しかし、逃亡生活の心労がたたり、俊子は肺を患い、大正14 (1925)年に26歳の若さでこの世を去ります。  ボースは相馬夫妻のもとにかくまわれていた3カ月半の間、夫妻のためにカリーライスを作っ たのが、後に中村屋が「純印度式カリーライス」を発売するきっかけになったと言われています。 当時の日本で主流であった欧米カレーとは違い、本場インドカリーを日本に紹介しました。妻に カリー本来の味を伝えたい一心から、カリーの生命となる20種類ものスパイスを求めて世界を巡 り、苦心の末に日本で初めて純インドカリーを昭和2年に完成しました。 ボースは、1923年(大正12年)に日本国籍を取得し、インド独立運動に邁進します。「防須」 と 命名したのは後の首相・犬養毅でした。よく混同されるシュバシュ・チャンドラ・ボースと区別する ため、来日以後終生縁の深かった新宿中村屋にちなんで「中村屋のボース」とも呼ばれます。も ラシュビハリ・ボースと俊子 う一人の独立の闘志、シュバシュ・チャンドラ・ボースとも手を組み、その活動は東南アジア諸国 に及びました。後に、病床に倒れたラシュ・ビハリ・ボースがインド独立のためドイツから呼び寄せたのがシュバシュ・チャンド ラ・ボースであり、中村屋ボースの役割は大きいといいます。「3」  ボースは日本での人脈を利用し、政府の協力を得ることで必ずインドの独立を成し遂げられると確信していました。その 思いを支えていたのは、彼が信じていたアジアの理想の未来像でした。 「白人と違い、アジア人は決して、その権力を指導権とを濫用することなしに、人類の幸福の増進と、そして不正と暴力に 基礎をおくものではなく、万人の権利と基礎をおく本当の平和を確立するために、それを利用するであろう」 (ラシュ・ビハ リ・ボース)「4」 ラシュ・ビハリ・ボースは1945年(昭和20年)1月21日、インドの独立を見ることもなく日本で客死しました。 日本政府はその死に際し、勲二等旭日重光章を授与してボースの功績を称えました。 同年6月には、長男の正秀も沖縄戦で日本軍人として戦死します。また、シュバシュ・チャンドラ・ボースも8月19日、台湾 上空で航空機事故に遭い共にインド独立を見ることなく亡くなります。 2人のボースが一生を捧げたインドの独立は2年後の1947年(昭和22年)8月15日に、インド国民の蜂起により果たされま した。「3」 参考文献 1. ボース Bose, Rash Behari”. デジタル版 日本人名大辞典+Plus. 講談社 (2015年). 2016年11月26日時点のオリジナ ルよりアーカイブ。2016年11月27日閲覧。 2. 中島岳志『中村屋のボース インド独立運動と近代日本のアジア主義』(白水社、2005年) ISBN 4-560-02778-1 3. 新宿中村屋 ゆかりの人々より・中村屋の歴史 4. 『革命のインド』(書肆心水)ラス・ビハリ・ボース

www.batj.org

アジアのめざめ  ラス・ビハリ・ボース伝  出版社 書肆心水

Durga Puja 2017

43


To What Extent Did Swami Vivekananda

and Rabindranath Tagore’s Visits Impact Japan and India? - Nishant Chanda

Swami Vivekananda

Rabindranath Tagore

W

esternization has deprived many countries of their rich culture. This idea was central to both Tagore and Vivekananda’s visits to Japan. They were both notable people who have accomplished a lot throughout their life. Tagore is considered the greatest poet of India and this isn’t a surprise as he is the lyricist of two country’s national anthem India and Bangladesh and he is also composer of India’s national anthem “Jana Gana Mana”. He was the first Asian to receive the Nobel Prize for literature for the English version of his work “Geetanjali”, and he was offered knighthood, which he rejected. Nationalism and patriotism oozed from him, and for that, he has been a figure for Indians to this day. Vivekananda lived his life as a Hindu saint and a religious leader. He spread the religion globally and led the Vedanta movement. He played an important part in India’s so called “national awakening” during British rule by inspiring many to “arise, awake, and stop not till the goal is reached” (www. importantindia.com). Vivekananda’s speech at the first Parliament of Religions in Chicago in 1893 was when he became an icon. Other significant figures such as Mahatma Gandhi, Tagore, Jawaharlal Nehru, and Subhas Chandra Bose have all looked up to Vivekananda for inspiration. Westerners who were influenced by him are Nicola Tesla, John Rockefeller, and Leo Tolstoy (who also wrote a biography of Vivekananda). He had a special attachment to Japan after his visits. Like Tagore, he also praised Japanese’s love for their country, their work ethic, and aesthetic sense. Okakura Tenshin, a well known Nihonga artist, can be given credit for starting the cultural exchange between Japan and India. He visited India in 1902, and there he met Sister Nivedita, Swami Vivekananda, and Tagore. After his visit, famous Japanese artists, Taikan Yokoyama and Shunso Hishida, visited Calcutta as well. The Japanese artists spread their knowledge on the Japanese wash technique (Bose 91). Some Indian artists visited Japan with Tagore. They came back fascinated by the Japanese style of sumi-e. In total, Tagore visited Japan five times, the first being in 1916. He was wellknown in Japan even before his arrival because he was the first Asian Nobel laureate. Many of Tagore’s publications were also 44

in circulation there. During Tagore’s stay in Japan, he couldn’t help but to be amazed by the way the Japanese went about their daily lives. He admired their stoic personality, their graceful, dignified and warm manners, their sense of discipline, their delicate sense of aesthetics expressed in the tea ceremony and Japan’s many arts. He also admired the fact that people would get out of their daily lives to visit gardens and parks and that disputes on the streets were resolved without the presence of anger. He visited and gave lectures at numerous venues, thus becoming one of the pioneers of the India-Japan relationship. He gave speeches at the University of Tokyo, Keio University, Japan Women’s University, Asahi Shimbun, and many other places. The speeches he is most renowned for are: “India and Japan”, “The Message from India to Japan”, “The Spirit of Japan”, and “Western Culture and Mission of Japan” (Kawai 15). In his talks, he addressed the destruction westernization was bringing upon Japan ever since the Meiji Restoration. He elaborated to the uprooting of traditional values and substitution of Western customs and beliefs. He said to them, “Don’t forget your soul, while you modernise your country by imitating Europe.” Another thing he despised in the Japanese was their hostility to their neighboring countries. He wished Japan would live with China and Korea in harmony. After he gained in popularity, scores of his books were translated into Japanese (previously they were only available in English). Yasunari Kawabata, Japan’s first Nobel Laureate in Literature, claims that he was inspired by Tagore and has used many of Tagore’s ideas in his works. Tagore’s criticism on Japan’s imperialism brought Tagore some trouble. Nevertheless, he concluded his visits by referring to Japan as a “manifestation of modern life in the spirit of its traditional past” (Sen 54). After Tagore’s visits, he invited some Japanese acquaintances to come over to India. He set up a foundation called “Nippon Bhavan” in India, where Japanese painting and language were taught by Japanese. In exchange, Tagore taught the Japanese people Indian language, literature, philosophy, art, music, and dance. To this day, the Bengali Association in Tokyo have been commemorating Tagore’s birth anniversary annually (Medhasananda 12).

Anjali

Vivekananda’s visit to Japan “benefit[ted] India materially www.batj.org


To What Extent Did Swami Vivekananda and Rabindranath Tagore’s Visits Impact Japan and India? and Japan spiritually” (Medhasananda 50). There is little information on his visits, but there are sources, such as a letter he wrote on July 10, 1893 from a hotel in Japan to Chennai, India. The following is an excerpt from the letter: What a contrast! The Japanese are one of the cleanliest peoples on Earth. Everything is neat and tidy. Their streets are nearly all broad, straight, and regularly paved. Their little houses are cage-like, and their pine-covered evergreen little hills form the background of almost every town and village. The short-statured, fairskinned, quaintly dressed Japanese, their movements, attitudes, gestures, everything is picturesque. Japan is the land of the picturesque! Almost every house has a garden at the back, very nicely laid out according to Japanese fashion with small shrubs, grass plots, small artificial water, and small stone bridges… I have seen three big cities in the interior - Osaka, a great manufacturing town, Kyoto, the former capital, and Tokyo the present capital: Tokyo is nearly twice the size of Calcutta with nearly double the population. No foreigner is allowed to travel in the interior without a passport. The Japanese seem now to have fully awakened themselves to the necessity of the present times. They have now a thoroughly organised army equipped with guns… In every temple there are some Sanskrit mantras… The modern rage for progress has penetrated even the priesthood. I cannot write what I have in my mind about the Japanese in one short letter. Only I want that numbers of our young men should pay a visit to Japan… every year. Especially to the Japanese… (Vivekananda). In the letter, Vivekananda wholeheartedly praises Japanese customs and traditions. He believes that India should strive to become something greater. He said, on another occasion, “If I can get unmarried graduates, I may try to send them over to Japan and make arrangements for their technical education there, so that when they come back, they may turn their knowledge to the best account for India. What a good thing that would be” (Vivekananda). Do not get his teachings wrong, though. He did not want India to lose it’s national identity and blindly copy what Japan did. He makes this clear in an interview, “There in Japan, you find a fine assimilation of knowledge, and not its indigestion, as we have here. They have taken everything from the Europeans, but they remain Japanese all the same, and have not turned European; while

our country, the terrible mania of becoming Westernized has seized upon us like the plague” (Vivekananda). Vivekananda was like a mentor for the nation. He wished India would look to Japan for ideas, such as incorporating aesthetics into life and religion. Jamshedji Tata, the founder of one of India’s largest companies (even to this date) was enlightened by him. He wrote Tata a business plan where Tata could incorporate Japanese manufacturing into their business. Soon, Vivekananda grew sick. He rejected an offer from Emperor Mutsuhito on talking to the parliament of Japan about Hinduism. Swami Vivekananda’s legacy continues to this date. In 2007, Prime Minister Shinzo Abe made several references to Vivekananda before a joint session of the Indian Parliament during his visit to India. He said: A number of times in history, Japan and India have attracted one another. Vivekananda came to be acquainted with Tenshin Okakura, a man ahead of his time in early modern japan and a type of Renaissance man. Okakura was then guided by Vivekananda and enjoyed also a friendship with Sister Nivedita… (Abe) Prime Minister Abe went on to talk about how India can be developed and used Vivekananda’s quotes: “help and not fight”, “assimilation and not destruction”, and “harmony and peace, not dissension” (Vivekananda). To this day, Japan is a major helping hand for India in terms of financial and technical assistance while Indian religious organizations in Japan, including the Vedanta Society provide spiritual welfare to Japanese. The Japanese way of life has been appealing to many, but Indians have been awestruck by their ways ever since the end of the 19th century. For Tagore, Japanese art and aesthetic sense was something he wanted Indians to marvel at, and for Vivekananda, the way Japanese were advancing with respect to technology and infrastructure was something he wanted Indians to internalize. In Japan, Tagore has left a footprint in terms of literature, art, and music; Vivekananda brought the Vedanta Society to Japan, and started the IndiaJapan relationship with Okakura Tenshin. 

Works Cited: 1. Bose, Sugata. “Tagore and His Times: The Idea of Asia.” India Perspectives. 2nd ed. Vol. 24. New Delhi: Ministry of External Affairs, 2010. 90-95. Print. 2. Kawai, Tom. “Tagore - 100th Anniversary of his Visit to Japan” Anjali. Tokyo: Bengali Association of Tokyo, Japan, 2016. 15-16. Print. The author of this publication is the grandson of Kampo Arai, a significant figure in Japanese art. Mr. Arai has also met Tagore in person. 3. Medhasananda, Swami. “Rabindranath and Japan.” Anjali. Tokyo: Bengali Association of Tokyo, Japan, 2016. 11-12. Print. 4. ---. “Swami Vivekananda and Okakura Tenshin.” Swami Vivekananda and Japan. Zushi: Vedanta Society, 2009. 47-83. Print. 5. Roy, Anurag. “Short Paragraph on Life of Rabindranath Tagore.” Important India. N.p., 17 Feb. 2016. Web. 15 May 2017. 6. Sen, Amrit. “The Wayfaring Poet.” India Perspectives. 2nd ed. Vol. 24. New Delhi: Ministry of External Affairs, 2010. 52-59. Print. 7. Work, Team. “Short Paragraph on Swami Vivekananda.” Important India. N.p., 26 June 2015. Web. 15 May 2017.

www.batj.org

Durga Puja 2017

45


হিমালয়ের প্রেক্ষাপটে দুই মহামা   - ভাস্বতী ঘোষ সেনগু

পৃ

থিবী তথা বিশ্বের ইতিহাসে কালজয়ী, বিশ্বজয়ী,আন্তর্জাতিক মানবিকতা ও প্রকৃত মানু ষ হিসেবে যে মহামানবেরা জন্মগ্রহণ করেছেন তাঁদের মধ্যে দু ই মহামানবকে হিমালয়ের পটভূ মিতে দেখার চেষ্টা করব –তাঁরা উভয়েই তাঁদের আপন কর্মক্ষেত্রে ও চরিত্রগুণে হিমালয়েরই সমতুল্য অথবা হিমালয়ের থেকেও উচ্চ এবং উভয়েরই বিশালত্ব, গভীরতা, মানবিক উচ্চতা, ও ব্যাপ্তি হিমালয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় । দু জনের জীবনে হিমালয় এক বিশেষ স্থান অর্জন করেছে । বার বার নানা কথায়, লেখায়, ভাষণে হিমালয় ফিরে এসেছে – কি অসীম আকর্ষণ শক্তি ও বিশেষত্ব এই হিমালয়ের তা এই দু জনেরই লেখার মধ্যে দিয়ে দেখা যায়। হিমালয় স্বামী বিবেকানন্দের ‘নিজ নিকেতন’ । স্বামী বিবেকানন্দের পরিব্রাজক জীবনপর্বকে যদি একবার ফিরে দেখি ও ১৮৯৮ খ্রিষ্টাব্দে প�ৌছাই; সেখানে দেখব ভারত আত্মার বিগ্রহ স্বামী বিবেকানন্দ ভারতীয় জীবনে হিমালয়ের ভূ মিকা কি তা বর্ণনা করেছিলেন তাঁর সমস্ত অভিজ্ঞতার আবেগ নিয়ে । আলম�োড়ায় অভিনন্দনের উত্তরে তিনি বলেছিলেন – “আমাদের পূ র্বপুরুষগণ শয়নে, স্বপনে যে ভূ মির বিষয়ে ধ্যান করিতেন – এই সে ভূ মি – ভারতজননী পার্বতীদেবীর জন্মভূ মি । এই সেই পবিত্রভূ মি, যেখানে ভারতের প্রত্যেক যথার্থ সত্যপিপাসু আত্মা শেষ অবস্থায় আসিয়া জীবনের যবনিকাপাতে অভিলাষী হয় ।” “এই পবিত্র ভূ মির গিরিশিখরে, এর গভীর গহ্বরে, এর দ্রুতগামিনী স্রোতস্বতীসকলের তীরে, সেই অপুর্ব তত্ত্বরাশির চিন্তা করা হইয়াছিল যার কণামাত্রের প্রকাশও বৈদেশিকগণের নিকট হইতে বিপুল শ্রদ্ধা আকর্ষণ করিয়াছে । ......এই হিমালয় পর্বত বৈরাগ্য ও ত্যাগের সাকার মূ র্তিরূপে দণ্ডায়মান । এই ত্যাগ ও বৈরাগ্য হইতে উচ্চতর ও মহত্তর কিছু মানবজাতিকে শিক্ষা দিবার নাই ।” “এই হিমালয়ের সহিত আমাদের জাতীর শ্রেষ্ঠতম স্মৃতিসমূ হ জড়িত । যদি ভারতের ধর্মেতিহাস হইতে হিমালয় বাদ দেওয়া হয়, তবে উহার অতি অল্পই অবশিষ্ট থাকিবে ।” স্বামীজী নিজের সু ন্দরতম মৃ ত্যুকামনা করেছিলেন হিমালয়ের ক্রোড়েই – “এই সেই ভূ মি – অতি বাল্যকাল হইতে আমি যেখানে বাস করিবার কল্পনা করিয়াছি । আমার প্রাণের বাসনা, এই ঋষিগণের প্রাচীন নিবাসভূ মি, দর্শনশাস্ত্রের জন্মভূ মি – এই পর্বতরাজের ক্রোড়ে আমার জীবনের শেষ কয়টি দিন কাটাইব ।” হিমালয় থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত গ�োটা ভারতবর্ষ বিবেকানন্দের । পরিব্রাজক জীবনে স্বামীজী ধর্ম–ভারতকে দেখেছেন – সাধারণ এবং অসাধারণ, সকল মানু ষের মধ্যে । ত্রৈলঙ্গস্বামী, স্বামী ভাস্করানন্দ, পওহারী বাবাকে দেখেছেন, অল্পদিন পূ র্বে ল�োকান্তরিত রঘুনাথ দাশের আশ্রমে গিয়ে ওঁর অপূ র্ব জীবনকথা শুনে ম�োহিত হয়েছেন, দেখেছেন এক মুসলমান সাধু কে, “যার অঙ্গের প্রতিটি রেখা বলে দিচ্ছিল তিনি একজন পরমহংস ।” জেনেছেন যে ক�োন�ো মানু ষের পতন 46

তাঁর সম্বন্ধে শেষকথা বলে না । পওহারী বাবার বাড়িতে চুরি করতে গিয়েছিল একটি চ�োর, পওহারী বাবা জেগে উঠতে সে তখন জিনিসগুলি ফেলে পালাচ্ছিল, তখন দ�ৌড়ে গিয়ে তাকে ধরে ফেলে ঐ জিনিষগুলি তাকে প্রীতিভরে অর্পণ করেন উক্ত মহাপুরুষ ; স্বামীজী পরিবর্তিত মানু ষটিকে হিমালয়ে দেখেন – “ অনু ভূতির অতি উর্ধস্তরে সেই সাধু অবস্থিত, ” আর স্বামীজীর মন কেড়েছিল হৃষীকেশের পাগল দিগম্বর সাধু টি । সেই পাগল সাধু ছিলেন ছেলেদের কাছে মজার খেলার জিনিষ ; যাকে ঢিল ছু ঁড়ে রক্তাক্ত করে দেওয়া যায় কিন্তু তাঁর হাসি থামান�ো যায় না । স্বামীজী যখন তাঁকে ছেলেদের হাত থেকে বাঁচিয়ে শুশ্রূষা করেছিলেন তখন�ো তিনি হাসিতে লু ট�োপুটি – “ কেয়া মজাদার খেল হ্যায়, বিলকুল বাবা কে খেল । কেয়া আনন্দ ।” এই পর্বেই স্বামীজী জেনেছিলেন সেই সাধু র বিষয়ে; যাকে আক্রমণ করে বাঘ যখন মুখে করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন�ো বলেছিলেন; “ শিব�োহহম, শিব�োহহম ।” স্বামীজী লিখেছেন “ আমি হৃষীকেশের জঙ্গলে সন্ন্যাসিবেশধারী ত্যাগী মেথরদিগকে বেদান্ত পাঠ করিতে দেখিয়াছি । অনেক গর্বিত অভিজাত ব্যক্তিও তাঁহাদের পদতলে বসিয়া আনন্দের সহিত উপদেশ পাইতে পারেন ।” আলম�োড়ার নিকটবর্তী কাঁকড়িঘাটে উচ্চ উপলব্ধির পরে তিনি যে ভাষায় তার রূপ প্রকাশ করেছেন তাকে বিশুদ্ধ অদ্বৈত অনু ভূতি (যার রূপ স্বামীজীর বিখ্যাত গানে পাই – নাহি সূ র্য, নাহি জ্যোতি, নাহি শশাঙ্কসু ন্দর ইত্যাদি) বলা যাবে কিনা তা তাত্বিকরা ঠিক করবেন, বিশ্বাত্মার এই বিবিধ প্রকাশ অনাদি –বিশিষ্টাদ্বৈত বলেই মনে হয় । অর্থাৎ আমরা যাহা কিছু দেখি বা অনু ভব করি সবই সাকার ও নিরাকারের মিলনে সংগঠিত । আলম�োড়া শহর থেকে পাঁচ মাইল দূ রে কাঁসারদেবী পাহাড়ের গুহায় উচ্চ উপলব্ধি ও পরবর্তী বাধ্যতামূ লক অবতরণের কাহিনী এখানে স্মর্তব্য – “ এই গুহামধ্যে তিনি দিবারাত্র কঠ�োর কৃচ্ছ্রসাধনা করলেন – তাঁর দৃ ঢ়প্রতিজ্ঞা, সত্যলাভ করতেই হবে । সেই গভীর নৈঃশব্দ্যের মধ্যে সেখানে তাঁর ধ্যানভঙ্গ ঘটান�োর মত�ো কেউ-ই ছিল না – ব�োধিলাভের পথে তিনি ক্রমান্বয়ে নানা উপলব্ধি লাভ করলেন – এবং দিব্যাগ্নিতে জ্যোতির্ময় হয়ে উঠল তাঁর আনন । তারপর আধ্যাত্মিক উপলব্ধির চরম শিখরে যখন তিনি উপনীত, তখনই তাঁর পরম বাঞ্ছিত ব্যক্তিমুক্তির চির-আনন্দের পরিবর্তে কাজের জন্য প্রচন্ড প্রেরণাব�োধ করলেন, তা যেন সজ�োরে তাঁকে ঐ সাধনভূ মি থেকে টেনে বার করে আনল ।” (স্বামীজীর বিখ্যাত ইংরেজী জীবনীর প্রথম সংস্করণে লিখিত) এই হ�োল স্বামীজীর চূ ড়ান্ত উপলব্ধির এক সাধনপীঠ – হিমালয়ের গিরিগুহা ও অন্যটি কন্যাকুমারিকায় ভারতসমুদ্রের শিলাখন্ড – একটির ধ্যানলব্ধ উপলব্ধি বিবেকানন্দকে রামকৃষ্ণ–বার্তাবহ সু মহান ধর্মাচার করেছে, অন্যটি করেছে সমাজবিপ্লবী ও সমাজসংস্কারক । এবার আসি কবিগুরুর/ বিশ্বকবির হিমালয় পর্যায়ে । ‘জীবনস্মৃতি’তে কবি লিখেছেন – “চৈত্রমাসের শেষে ডালহ�ৌসি পাহাড়ে যাত্রা করা গেল । অমৃ তসরে মাস আর কাটিতেছিল না । হিমালয়ের আহ্বান আমাকে অস্থির করিয়া

Anjali

www.batj.org


হিমালয়ের প্রেক্ষাপটে দুই মহামান তুলিতেছিল ” ... এই হিমালয়ের অধিত্যকায় তাঁর ভ্রামণিক জীবনের প্রথম পরিব্রাজন, যখন লাঠি হাতে সেখানকার বনানীতে প্রবেশ করে মনে হয়েছিল “বনস্পতিগুলা প্রকান্ড দৈত্যের মত�ো মস্ত মস্ত ছায়া লইয়া দাঁড়াইয়া আছে; তাহাদের কত শত বৎসরের বিপুল প্রাণ । কিন্তু, এই সেদিনকার অতি ক্ষুদ্র একটি মানু ষের শিশু অসংক�োচে তাহাদের গা ঘেঁষিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতেছে । তাহারা একটি কথাও বলিতে পারে না, বনের ছায়ার মধ্যে প্রবেশ করিবামাত্র যেন তাহার একটি বিশেষ স্পর্শ পাইতাম । যেন সরীসৃপের গাত্রের মত�ো একটি ঘন শীতলতা এবং বনতলের শুষ্ক পত্ররাশির উপরে ছায়া-আল�োকের পর্যায় যেন প্রকান্ড একটা আদিম সরীসৃপের গাত্রের বিচিত্র রেখাবলী” ...... “বক্রোটায় আমাদের বাসা একটি পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূ ড়ায় ছিল, যদিও তখন বৈশাখ মাস, কিন্তু শীত অত্যন্ত প্রবল । এমন কি পথের যে অংশে র�ৌদ্র পড়িত না সেখানে তখন�ো বরফ গলে নাই । এখানেও ক�োন�ো বিপদ আশঙ্কা করিয়া আপন ইচ্ছায় পাহাড়ে ভ্রমণ করিতে পিতা একদিনও আমাকে বাধা দেন নাই ।” “আমার শ�োবার ঘর ছিল একটা প্রান্তের ঘর । রাত্রে বিছানায় শুইয়া কাঁচের জানালার ভিতর দিয়া নক্ষত্রল�োকের অস্পষ্টতায় পর্বতচূ ড়ার পান্ডু রবর্ণ তুষারদীপ্তি দেখিতে পাইতাম । এক একদিন জানিনা কত রাত্রে, দেখিতাম পিতা গায়ে একখানি লাল শাল পরিয়া হাতে একটি ম�োমবাতির সেজ লইয়া নিঃশব্দ সঞ্চরনে চলিয়াছেন । কাঁচের আবরণে ঘেরা বাহিরের বারান্দায় বসিয়া উপাসনা করিতে যাইতেছেন ।” “তাহার পর আর এক ঘুমের পড়ে হঠাৎ দেখিতাম পিতা আমাকে ঠেলিয়া জাগাইয়া দিতেছেন । তখন�ো রাত্রির অন্ধকার সম্পূর্ন দূ র হয় নাই । শীতের কম্বলরাশির তপ্ত বেষ্টন হইতে বড়�ো দু ঃখের এই উদব�োধন ।” প্রসঙ্গতঃ এখানে মনে রাখা প্রয়�োজন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ তাঁর শিশুপুত্রকে হিমালয়ের ক�োলে বেদ ও উপনিষদের পাঠে দীক্ষিত করেছেন মাত্র এগার বছর বয়সে ।” “সূ র্যোদয় কালে যখন পিতৃদেব তাঁহার প্রভাতের উপাসনা অন্তে এক বাটি দু ধ খাওয়া শেষ করিতেন, তখন আমাকে পাশে লইয়া দাঁড়াইয়া উপনিষদের মন্ত্রপাঠ দ্বারা আর একবার উপাসনা করিতেন ।” ডালহ�ৌসির পাহাড়ে মহর্ষির সঙ্গে আকাশের গ্রহ নক্ষত্র দেখতে দেখতে বিশ্বব্রম্মান্ডের বিচিত্ররূপ কাঁচা বয়েসেই কবির চেতনাকে নাড়া দিয়েছিল । বিজ্ঞানচেতনার চাপা উত্তেজনা ভাষা পেল বালক রবীন্দ্রনাথের জীবনের প্রথম প্রবন্ধে – বিষয় ‘তারামন্ডলী এবং মহাকাশ ।’ তাঁর নিজের ভাষায় –“ সন্ধ্যা হইয়া আসিলে পর্বতের স্বচ্ছ আকাশে তারাগুলি আশ্চর্য সু স্পষ্ট হইয়া উঠিত এবং পিতা আমাকে গ্রহতারকা চিনাইয়া দিয়া জ্যোতিষ্ক সম্বন্ধে আল�োচনা করিতেন ।” শুরু হল সাহিত্যের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞানের এক বিচিত্র অভিজ্ঞান । তার চেয়েও র�োমাঞ্চকর আত্ম-আস্বাদন ঘটে, যখন অমৃ তসরের সন্ধ্যাকালে শান্ত বাগানের সামনের বারান্দায় ধ্যানস্থ পিতাকে তাঁর গান শ�োনাবার ডাক পড়ত । কবির কথায় – “যখন সন্ধ্যা হইয়া আসিত পিতা

বাগানের সম্মুখে বারান্দায় আসিয়া বসিতেন । তখন তাঁহাকে ব্রম্মসগীত শ�োনাইবার জন্য আমার ডাক পড়িত । চাঁদ উঠিয়াছে, গাছের ছায়ার ভিতর দিয়া জ্যোৎস্নার আল�ো বারান্দার উপর আসিয়া পড়িয়াছে। আমি বেহাগে গান গাহিতেছি – তুমি বিনা কে প্রভু সংকট নিবারে, কে সহায় ভব অন্ধকারে । তিনি নিস্তব্ধ হইয়া নতশিরে ক�োলের উপর দু ই হাত জ�োড় করিয়া শুনিতেছেন – সেই সন্ধ্যাবেলার ছবি আজও মনে পড়িতেছে ।” হিমালয়ে তাঁর পিতার সাথে কালযাপন রবীন্দ্রনাথের মন�োজগৎ তথা দৃষ্টিজগতে এক বিপুল পরিবর্তন বহন করে আনে । দেবতাদের সাথে সাক্ষাৎ হল যেন । বাড়িতে ফিরে নিষেধের গন্ডি লু প্ত হয়েছিল । এককালে মানু ষ ও পর্বতে সাক্ষাৎ হত – কবিতায় পড়া সেই আক্ষেপ মনে পড়ার কথা । পরবর্তীকালে ‘বনফুল’, ‘কবিকাহিনী’ কাব্যের মধ্যে হিমালয়ের পটভূ মি লক্ষ করার বিষয় । কবিগুরুর প্রকৃতির ক�োলে শিক্ষালাভ পরবর্তীকালের বিশ্বভারতীর সূ চনাপর্ব বলে মনে হয় । রবীন্দ্রনাথের জীবনে হিমালয়ের ভূ মিকা এতই গুরুত্বপূ র্ণ যে যখন তিনি স্থির করলেন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবেন ঠিক সেই সময় একদিন আচার্য জগদীশ্চন্দ্রের বাড়িতে ভগিনী নিবেদিতার সঙ্গে কবিগুরুর দেখা হ�োল । নিবেদিতা তখন ভারতবর্ষের তীর্থস্থানগুলির মাহাত্ম্য সম্বন্ধে ভাবছিলেন । তাঁর অত্যন্ত আগ্রহ আমাদের দেশের ছেলেরা যেন দলে দলে হিমালয়ের পাহাড়ে পদব্রজে বেড়াতে যায়, বিশেষত তীর্থস্থানগুলি দেখে আসে । এবার রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথায় আসি –“বাবা যেই নিবেদিতার কাছ থেকে শুনলেন কয়েকদিনের মধ্যেই প্রথম দলটি নিয়ে বেলু ড়মঠের সদানন্দস্বামী কেদারবদরী রওনা হবেন, তখনই তাঁর ইচ্ছা হ�োল আমাকেও তাঁদের সঙ্গে পাঠান । ------ হরিদ্বারের পথ দিয়েই তীর্থযাত্রীরা সাধারণতঃ কেদারনাথে যায়, কিন্তু সেই রাস্তা খুব ভিড় বলে স্বামীজী আলম�োড়ার পথ দিয়ে যাবেন স্থির করেছিলেনন ।” এর পরের বর্ণনায় ভেতরকার অপূ র্ব চিত্রলতা আর গাঢ় নিবিড় অনু ভব কবিপুত্রের লেখনীতে পরিস্ফুট, হিমালয় ভ্রমণ পড়লে সমগ্র ছবিটি পরিষ্কার মনের পর্দায় দেখা যায় । ভ্রামণিক রবীন্দ্রনাথের পথের সঞ্চয় ভরে উঠেছে দেশ সংসর্গে ও মানবসন্নিধানে – যার শুরু পিতার সাথে হিমালয় ভ্রমণ । শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনদর্শনে দৃপ্ত উচ্চারণে জানাতে পেরেছেন “মানু ষের দেবতাকে স্বীকার করে এবং প্রণাম করে যাব, আমার জীবনদেবতা আমাকে সেই মন্ত্র দিয়েছেন ।” এই একই বানীর রেশ আবার স্বামী বিবেকানন্দের লেখাতেও – “বহুরূপে সম্মুখে ত�োমার, ছাড়ি ক�োথা খুঁজিছ ঈশ্বর জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর ।” হিমালয়ের কাছে দীক্ষিত এই দু ই চিরস্মরণীয় মহামানব, যাঁদের আবির্ভাব সমগ্র মানব সমাজকে ধন্য করেছে, যাঁরা ভারতবর্ষকে বিশ্বের দরবারে সম্মানের আসন দিয়েছেন – তাঁদেরকে আমার প্রণাম জানাই । 

গ্রন্থ ঋণ : স্বামী বিবেকানন্দ – ‘নতুন তথ্য নতুন আল�ো’ – শঙ্করীপ্রসাদ বসু জীবনস্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পিতৃস্মৃতি - রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর

(Anjali 2013 সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাটি পূ নর্মুদ্রিত করা হয়েছে)

www.batj.org

Durga Puja 2017

47


 –   -   (     ‘’            )        -                                   ,     ?  ,       ,                 ,         , “      ,       ?”   ‘’     

       ,          , “        ,        ”    , “            !”                   ,         , “    ,         !”     , “   ?   ”   , “ 48

 ,     ”                  ,          ,                                                                                                                                    ,     ,                                     ,                                                                                       ,                                                                    ,                                                       ,                                        ,             

Anjali

www.batj.org


 –

                        ’                 ,          , “      ”     , “      !     !”        ,                  ,    !                                                                        ,                                     ,     ,                                                   ,                                           ,                                            ,            !        ,                                      ,         --          !                                        ,   , ,            ,                           ,        www.batj.org

    ,       !                                   ?   ,                , “   ,      ”                       

                    ,                    , ,  --                   ,                             -           ,                   ,           ,                ,           ,               ,    ?        ,              

Durga Puja 2017

49


 –

                   ,            , “     ,   ?”     ,            ,           ,                      ,     ,                              --             ,                    , “       ?”     , “,     ,       ”       !               ,                    , ‘    ?    ?       ,     --     ’          ,       –“,  -      --    ”      ,                      ,    , -   ,           ,                             ,                                                                           ,                          ,                                                               ,                    50

                              ,                !     , “    ,    ”  !                                            ?         ,  -                ,  ,                                                  ,                             ,                ,                                   ’               ,              ,                                                         ’         ? ,    ,     ,   ’            ! ---              ’           ,               ,     ,           ,          ,                            ,    ,                           --                  

Anjali

www.batj.org


 –

                   ,                             ,           !      ,                                            ,                       ,                                                             ,    ,     ,         ,    ,                       ,    --      ,   ,   ,                         ,                                    ,                                  ,       -                      

                            , “    ?”      !                          ,           !                  ,       ,                        ,                   ,                ,         ,        , “   --         ”                  , “              ” “     ?” “ ” “   ?     ?”    ,                       ,                                                     , “       ,      ”                                            

( ‘’                 ‘’   ,        ) (Anjali 2008 সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাটি পূ নর্মুদ্রিত করা হয়েছে)

www.batj.org

Durga Puja 2017

51


আমার দেখা “ওকুরিবিতো”   - শুভা কোকুবো চক্রব “স্লাম ডগ মিলিয়েনিয়ার” যখন বিশ্বে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের সম্মান পেয়ে প্রায় প্রত্যেক দেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে আর বাড়ির বাচ্চারা জামাল সেজে বিভিন্ন কুইজের খেলায় মত্ত, সেই বছর বিশ্বশ্রেষ্ঠ বিদেশী ছবির সম্মান পেল জাপানি ছবি “ওকুরিবিত�ো” (DEPARTURE)। এদেশেও কিছু দিন ধরেই টিভির পর্দায় বিভিন্ন চ্যানেলে পুরস্কার হাতে পাবার মুহূর্ত বা রেড কার্পেটের ওপরে শিল্পীদের চলাফেরার মুহূর্ত, ইন্টারভিউর মুহূর্ত দেখান�ো হয় । “বিশ্বশ্রেষ্ঠ বিদেশী সিনেমা” ---আগ্রহ বাড়ে । নাইট শ�ো-এর টিকিট কেটে ঢুকে পড়ি হল-এ । মিঃ ক�োবায়াশি সস্ত্রীক ট�োকিওতে থাকেন ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে । একটা প্রফেশনাল ক্ল্যাসিকাল মিউজিক গ্রুপের চেল�ো শিল্পী । স্ত্রী ওয়েব ডিজাইনার । সেদিন একটা কনসার্টের পর গ্রুপ লিডার হঠাৎ করেই সবাইকে ডেকে গ্রুপ বন্ধ করার কথা ঘ�োষণা করেন । সবাইকে মাস-মাইনে দিয়ে গ্রুপ টানা আর সম্ভব হচ্ছেনা । মাথার ওপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ে ক�োবায়াশির । এই ত�ো কয়েক দিন আগেই অনেক টাকা খরচ করে নতুন চেল�ো কিনেছে ব�ৌয়ের চ�োখ এড়িয়ে । নিজেই স্বীকার করে চেল�োর ব্যাপারে তার হাতে এমন ক�োন অসাধারণ যাদু নেই যাতে করে সে চেল�ো পারফর্মার হিসেবে আয় করতে পারে । গ্রুপ বলেই চলছিল ক�োনরকম । অগত্যা ব�ৌয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজের গ্রামে ফিরে যাবে বলে মনস্থ করে দু জনে । ইয়ামাগাতা । এখানেই জন্মেছে এবং বড় হয়েছে ক�োবায়াশি । বাবা, ক�োবায়াশির ছেলেবেলায় ব�ৌ-বাচ্চাকে ফেলে অন্য মেয়েকে নিয়ে ঘর বাঁধে । মা, বাড়ির একতলায় একটা কফিশপ চালিয়ে বড় করে ছেলেকে । মা মৃ ত্যুর সময় ছেলেকেই দিয়ে যান এই বাড়িঘর । তাই ট�োকিও থেকে ফিরে এখানেই শুরু হয় ওদের নতুন সংসার । শান্ত জায়গা । পাড়াপ্রতিবেশীরাও চেনাজানা । খবরের কাগজে চাকরীর বিজ্ঞাপন দেখতে দেখতে একটা বিজ্ঞাপনে চ�োখ আটকে যায় ক�োবায়াশির । N.K Agency। নিচের লেখাগুল�ো পড়ে যা ব�োঝে, এটা একটা Travel Agency। সঙ্গে সঙ্গে ফ�োন করে ইন্টারভিউর দিন ঠিক করে নেয় । পরদিন হাতে কাগজের কাটিং নিয়ে খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে যায় N.K Agency। ঘরের মধ্যে এক মহিলা বসা । ক�োবায়াশি নিজের পরিচয় দিতে বসতে বলে । বস্‌ একটু বেরিয়েছেন, এক্ষুণি ফিরবেন । দু তিন মিনিটের মধ্যে বস্‌ ফেরেন । কয়েকটা কথ�োপকথন হয় । বস্‌ বলেন ত�োমার চাকরী হয়ে গেছে, তুমি ইন্টারভিউতে পাশ করেছ । অবাক হয় ক�োবায়াশি । সেকি! কিছু ই ত�ো জিজ্ঞাসাই করলেন না ! ক�োবায়াশি নিজেই কথা পাড়ে এবার । কিসের কাজ হয় এই N.K Agency তে ? বস্‌এবার মুখ খ�োলেন । NOUKAN এর শর্ট ফর্ম N.K। ক�োবায়াশির একটু ভয় ভয় করে । ও যতদূ র জানে মৃ ত্যুর পর Kanঅর্থাৎ একটা কাঠের বাক্সে মৃ তদেহকে ভরা হয় । সেই পদ্ধতিটির নাম NOUKAN। হ্যাঁ, সেই কাজই করে এই Agency। ক�োন পরিবারে কেউ মারা গেলে এই Agency তে ফ�োন আসে । ব্যস্ততার শেষ নেই । র�োজই দু তিনটে ফ�োন আসে আর ছু টতে হয় সেই বাড়িতে । AGENCYতে স্টাফ বলতে ঐ মহিলা যিনি অফিসে বসেন আর বস্‌ । খবরের কাগজে অনেকবারই বিজ্ঞাপন দিয়েছেন, কিন্তু কাজ হয়নি । এমন একটা কাজ, কেউ রাজী হতে চায়না । তাই অনেক ভেবেচিন্তে এবারের বিজ্ঞাপন এমনভাবে ছেপেছেন যাতে মনে হবে ক�োন ট্রাভেল এজেন্সি । “তাবি ন�ো তেৎসু দাই ও শিমাসু ”, অর্থাৎ

52

ভ্রমণ-যাত্রার যে ক�োন সাহায্য আমরা করে থাকি । এও ত�ো যাত্রাই বটে । স্বর্গযাত্রা । বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে চাকরির সু খবর দেয় । রাতে ভালমন্দ খাওয়া হয় । পরদিন থেকে কাজ শুরু । অফিসে ঢুকেই দেখে বস্‌ ওর জন্য অপেক্ষা করছেন, কাজে বের�োতে হবে । প্রায় কুড়ি মিনিট গাড়ি চালিয়ে দু জনে পৌঁছে যায় নির্দ্দিষ্ট জায়গায় । এ বাড়িতে এক বয়স্কা মহিলার মৃ ত্যু হয়েছে । বাচ্চারা বলছে ওবাআসান (ঠাকুমা অথবা দিদিমা), মধ্যবয়সীরা বলছে ওকাআসান (মা) । N.K.AGENCYর ওরা দু জন গাড়ি থেকে Kan(বডি ঢ�োকান�োর কাঠের বাক্স) নামিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢ�োকে । ঘরের মধ্যে বিছানায় শ�োয়ান�ো বডি । এক ছেলে এগিয়ে এসে বলে মায়ের বিয়ের এই কিম�োন�ো পরিয়ে আমরা যাত্রা করাতে চাই । যেমন অনু র�োধ তেমনি কাজ । ক�োন ত্রুটি নেই তাতে । কিছু ক্ষণের মধ্যেই দক্ষ হাতে মহিলাকে লাল টুকটুকে কিম�োন�ো পরিয়ে তার সঙ্গে মানানসই কেশসজ্জা আর মেকআপ করিয়ে দেন বস্‌ । অবাক হয়ে প্রথম থেকে সব লক্ষ্য করে ক�োবায়াশি । গত রাতের মৃ ত ঠাণ্ডা শরীরটাকে কি নিপুণতার সঙ্গে সাজিয়ে দেন Kan এ ঢ�োকাবার আগে । সিনেমার গল্প চলতে থাকে পর পর বিভিন্ন মৃ তদেহকে কেন্দ্র করে । মা জন্ম দিয়েছিলেন পুত্রসন্তানের । কিন্তু সেই ছেলে স্কুলে যাবার সময় থেকেই মেয়েদের সঙ্গে খেলতে ভালবাসে, মেয়েদের প�োশাক-আশাকে আসক্তি বেশি । কানে দু ল, চ�োখে আইশ্যাড�ো, মেয়েদের ফ্রক পরাতেই স্বাচ্ছন্দ ব�োধ করে । একই বাড়িতে থাকা সত্ত্বেও বাবা ছেলের মুখ দেখা বন্ধ । আত্মীয়-স্বজনের কড়া চ�োখ, কটুক্তি আর সহ্য করতে না পেরে অকাল মরণ বেছে নিল ছেলেটি । N.K Agency র বস্‌আর ক�োবায়াশি ফ�োন পেয়ে ওই বাড়িতে পৌঁছতেই মা দ�ৌড়ে আসে একটা গ�োলাপী রঙের ওয়ানপীস নিয়ে । এদিন বস্‌ক�োবায়াশিকে কাজে এগিয়ে দেন । ক�োবায়াশি মনপ্রাণ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করে ঠ�োঁটে লাগিয়ে দেয় লাল লিপস্টিক । এই Agency তে থানা থেকেও ফ�োন আসে আর ছু টতে হয় মাঝেমাঝেই । এক বৃদ্ধ একা থাকতেন কিছু দিন ধরে প্রতিবেশীরা কেউ তাকে দেখেনি । পুলিশে খবর দেয় এরাই । পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই ব�োট্‌কা গন্ধ নাকে লাগে । বার্ধক্যে মৃ ত্যু, তাও প্রায় দশ দিন হয়ে গেল । ডাক পড়ে N.K Agency র । Kan নিয়ে হাজির হয় এরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব । চলতে থাকে সিনেমা । আমি হল-এ বসে NOUKAN এর কাজের পারদর্শিতা, নিপুণতা দেখে মুগ্ধ হই, চ�োখের পাতা পড়েনা । এদেশে এসে প্রথম যেবার Sado বা tea ceremony দেখেছিলাম, মনে হয়েছিল ক�োন stage এ show দেখছি । নিস্তব্ধতার মধ্যেও এমন স�ৌন্দর্য থাকতে পারে প্রথম অনু ভব করেছিলাম সেদিন । আজ প্রায় ১৬ বছরেরও বেশি Sado র সঙ্গে নিজে যু ক্ত থেকে নিজের অভিজ্ঞতায় বু ঝি এ ত শুধু চা বানিয়ে পরিবেশন করা নয় । আগুনের প্রতি, জলের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন । সর্বোপরি অতিথি আপ্যায়ন । অতিথি পূ জা । এই সিনেমাটাও যেন এক নিস্তব্ধতার আর্ট । গা শির্‌শির করা বিষয় বটে, কিন্তু এমন স্বচ্ছ আর সু ন্দর যে চ�োখ ফেরান�ো যায়না । আবহসঙ্গীতে বাজতে থাকে চেল�ো অবিরাম । ট�োকিও থেকে স্থান পাল্টে যায় ইয়ামাগাতায় । মনছ�োঁয়া প্রাকৃতিক স�ৌন্দর্য । কৃতজ্ঞতা জানাই পরিচালক মিঃ তাকিতা ইয়�োজির�োকে । মৃ ত্যুর পরে স্বর্গযাত্রার প্রস্তুতি, তার বিস্তৃ ত আর, নিখুঁত দৃ শ্যগুল�ো না থাকলে হয়ত�ো পৃথিবীর কাছে Noukan বিষয়টা অজানাই থেকে যেত ।  (Anjali 2013 সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাটি পূ নর্মুদ্রিত করা হয়েছে)

Anjali

www.batj.org


      - 



 -                 ,       ,             ,             ,            -              -                - (  Tokyo University of Foreign Studies)        --            ,              ?  ,           ,            ,                  ,                   ,           --         ?            !      ,    !                     ,       ,                      The Imam and the Indian(ISBN 81-7530-0582)             ,            -      , ,                 ,                -           www.batj.org



                 ,       ,                                           ,                       :          --           ,                  : 突然蒸すような暑気を破って一陣の風 が吹き抜けましたーシュスタ川の穏やかな 水面が妖精の髪のようにさざ波立ち、夕闇 に蔽われたすべての森が一瞬間、いっせい にさらさらと音を立てて、まるで悪夢から 目覚めたようになりました。        ,             ?                   -            ,                                          “”                                                  ,             ,         , 

Durga Puja 2017

53


       -      ,  -    “”         ,     -      -   ,                     ,                           ,              ,     ,                 -       ,                                       ,                              ,          , , , ,  ,  ,  ,       ,              

    , ,   ,  ,                         -                   (    )    ,         ,                  ,                                                  ,                    :        ,                                -          (Anjali 2010 সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাটি পূ নর্মুদ্রিত করা হয়েছে)

          ,     ,         (  ,  )

54

Anjali

www.batj.org


fo‘o ÁkÑfrd /kj¨gj f‘kjsr¨d¨ & y¨Pkuh vLFkkuk

X;k

jg lky igys tkiku esa rhu lky d¢ Áokl d¢ n©jku Qqft ioZr ij p<+us dk l©HkkX; r¨ feyk ysfdu g¨Ddkbn¨ tkuk ugha g¨ ik;k FkkA bl lky eghuk Hkj igys Hkh cqfdax u fey ikus d¢ dkj.k tc fge¨Rlo ns[kuk laHko ugha gqvk r¨ bu xÆe;¨a esa g¨Ddkbn¨ d¢ iwo¨ZRrjh f‘kjsr¨d¨ Ák;}hi dk jk“Vªh; m|ku ns[kus tkus dh l¨ph ftls ;qusLd¨] ÁkÑfrd l©Un;Z d¢ fy, fo‘o / kj¨gj ?k¨f“kr dj pqdk gSA tkiku dk ;s o¨ lqnwj iwo¨ZRrjh {ks= gS tgka vuUr vkdk‘k] vFkkg fueZy lkxj v©j gfj;kyh esa <dh /kjrh dh x¨n esa Hkjiwj tSo fofo/krk gSA dqyk¡psa Hkjrs fgj.k] t+jk lh vkgV ij Hkkx fudyus okyh y¨eM+h] v©j ng‘kr nsrs xgjs Hkwjs jhN t¨ eNfy;¨a dh ryk‘k esa lkxj esa Nyk¡x yxk ysaA v¨[k¨Rld lkxj esa feyus okyk vR;Ur uUgk tho fDyvkWu ftls vke Hkk“kk esa lh,fUty dgrs gSa] ogha ns[kus d¨ feykA ceqf‘dy ,d lSaVhehVj yack] ikjn‘kÊ i¡[k v©j iw¡N d¢ chp lw{e xqykch nsgA okdà rSjrk gqvk uUgk Qfj‘rk lk fn[krk FkkA

¼edZjh½] lIr_f“k] vaXkszt+h v{kj MCyq d¢ vkdkj esa fn[kus okys iak¡p rkj¨a dk lewg dk‘;ih] vkdk‘kxaxk d¢ vkj ikj oSxk v©j vYVk;j Hkh ns[ks ftudk feyu ;gka lky esa ,d ckj rkukckrk dh jkr ;kuh lkrosa eghus dh lkroha rkjh[k d¨ ekuk tkrk gSA tgkt+ esa lokj g¨ dj f‘kjsr¨d¨ Ák;}hi d¢ lwnwj vkf[kjh N¨j rd tkrs gq, Å¡pk pV~Vkuh rV v©j v¨[k¨Rld lkxj esa fxjrs >jus ns[kus d¨ feysA bl fo‘o /kj¨gj esa  ,d rjQ igkM¨a v©j nwljh rjQ lkxj ls f?kjs] gfj;kyh ls <d¢ nynyh {ks= esa >hy ns[kus tkus dk vuqHko vn~Hkqr jgkA >hy rd ig¡qapus d¢ fy, ydMh dk iqyuqek jkLrk gSA jkLrs d¢ vkl ikl v©j uhps fgj.k dqykaps Hkj jgs Fks v©j ioZr f‘k[kj ij vkjke Qjekrs ckny¨a d¢ chp nwj >hy esa dey d¢ Qwy f[kys FksA rst+ /kwi esa xeÊ bruh Fkh fd Nkrk [k¨yuk iMkA bl xeÊ esa ;s dYiuk djuk rd eqf‘dy Fkk fd dqN gh eghu¨a ckn lÆn;k¡a vkus ij lkeus ut+j vk jgs v¨[k¨Rld lkxj dh lrg cQZ esa rCnhy g¨ tk,xhA dqukf‘kjh }hi Hkh ns[kus d¨ feyk flQZ 30 fdy¨ehVj nwj ut+j vkus okyk ;s }hi mu pkj }hi¨a esa ls ,d gS ftl ij tkiku nkok djrk gS ysfdu nwljs fo‘o;q) d¢ ckn ls :l dk dCt+k gSA

jkr esa uaxh vk¡[k ls Hkh u{k= brus lkQ v©j brus ikl fn[ks fd ;dhu ugha gqvkA pedhyk ‘kqØ ¼ohul½] c`gLifr ¼twihVj½] cq/k

v©j gk¡ ;knxkj jgh blh Ák¸k}hi d¢ ‘kgj mr¨j¨ esa g¨Ddkbn¨ d¢ ewy fuoklh vkÃuw tutkfr dh ,d efgyk dh ikjEifjd gLrf‘kYi dh nwdku ftlesa Hkkjr dh ck¡/kuh d¢ lwrh LdkQZ Hkh FksA Hkkjrh; lwrh diMs- dh dænku us csgn vkReh;rk ls lRdkj djrs gq, ihus d¨ [kkl rjg d¢ is; dk fxykl is‘k djrs gq, b‘kkjs ls crk;k fd ;s isV d¢ fy;s cgqr eqQhn gSA nhokj ij yxs ,d ckj v[kckj esa Q¨V¨ fn[kkrs gq, VwVh QwVh vaXkszt+h esa bruk le>k fn;k fd fiNys lky gq, mud¢ csVs d¢ fookg dh [kcj v[kckj esa lfp= Nih FkhA ysfdu eSa r¨ /kjrh d¢ bl lqnwj mRrjiwoÊ N¨j esa Hkh Hkkjrh; gLrdyk ns[k dj vfHkHkwr FkhA  (पूर्व प्रकाशित Anjali 2010)

www.batj.org

Durga Puja 2017

55


vejkRek

xh

rk esa ;g i<++k Fkk fd ßeuq“; ejus d¢ ckn ‘kjhj R;kx nsrk gS] exj vkRek vej jgrk gS] t¨ dHkh ugha ejrkAÞ ;g dgk tkrk gS fd d¢oy r`Ir vkRek nwljk ‘kjhj /kkj.k dj ysrk gS] v©j vr`Ir vkRek HkVdrk jgrk gSA ftl ‘kjhj d¨ ejus d¢ ckn Bhd rjg ls lRdkj ugha fd;k tkrk] og vkRek HkVdrk jgrk gSA ;gk¡ tkiku esa vkdj c¨u mRlo ns[kdj v©j mRlo d¢ ckjs esa lqudj eq>s yxk dh ;gk¡ d¢ y¨x Hkh gekjh rjg vejkRek ij fo‘okl djrs gSaA c¨u mRlo esa tkikuh y¨x vius iqoZt¨a dh vkRek d¢ ‘kkfUr d¢ fy;s ÁkFkZuk djus mud¢ lek/kh ij tkrs gSaA mRlo d¢

n©jku b/kj&m/kj ukp xkuk Pkyrk gS ftls ßc¨u¨n¨jhÞ dgrs gSaA ogk¡ gj mez d¢ y¨x] cPp¨a ls ysdj Ok;Ld rd lHkh feytqy dj ukp xkuk djrs gSaA eq>s Hkh ;g ukp ns[kus dk e©dk feykA eSnku d¢ chp¨achp Å¡pk lk n¨ rhu ijr dk e¡p cuk Fkk ftld¢ lCkls Åij d¢ ijr ij cPps <¨y ctk jgs Fks] d¨Ã xkuk xk jgk Fkk] mld¢ uhps dqN y¨x fde¨u¨ igu dj ukp jgs FksA v©j lCkls uhps eSnku esa e¡p d¢ pkj¨a v¨j ftldk Hkh eu pkg jgk Fkk ogh vkdj ukp jgs FksA ogk¡ esjs nkekn v©j ukrh us Hkh ukPkus esa ;¨xnku fn;kA ogk¡ dk ekg©y cgqr gh vPNk yx jgk FkkA xkus dk /kqu cgqr e/kqj FkkA lHkh mRlo dk cgqr vkuUn ys jgs FksA N¨Vs&N¨Vs cPps Hkh fde¨u¨ igu dj dqN [kk jgs Fks v©j dqN [ksy jgs FksA ;g c¨u mRlo ns[kdj eSaus ;g eglwl fd;k fd ns‘k g¨ ;k fons‘k g¨ lHkh vkRek dk iwtu djrs gSaA tkiku dk ;g mRlo] v©j mudk vejkRek ij fo‘okl ns[kdj ,d ?kV~uk eq>s ;kn vk x;k------;g dqN lky igys dh ckr gS] eSa dqYyw dk n‘kgjk ns[kus] d¨Ykdkrk ls dkydk esy esa jokuk gqà FkhA dqYyw dk n‘kgjk ns‘kHkj esa cgqr Áfl) gSA ogk¡ y¨x nwj nwj ls n‘kgjk ns[kus d¢ fy;s vkrs gSaA Vªsu d¢ dejs esa /khjs /khjs dqN y¨x¨a ls ifjp; gqvkA gey¨x ,d nqljs ls ckrsa djrs gq, tk jgs Fks] yx gh ugha jgk Fkk fd mulc ls igyh ckj fey jgh FkhA irk pyk dqN y¨x ßx;kÞ tk jgs gSA vius iwoZt¨a dh vkRek d¢ ‘kkfUr d¢ fy;s riZu~ djusA dqN esjh rjg dqYyw d¢ n‘kgjs dk vkuUn ysus tk jgs FksA v©j dqN fnYyh v©j p.Mhx<+A lCkls ckrsa djrs gq,s lQj esa cgqr lh ?kVuk,sa lqUkus d¨ fey jgha FkhA ;g ?kV~uk esjs ikl cSBh efgyk] ftldk uke ek/koh Fkk mlus crk;k] t¨ fnYyh tk jgh FkhA mldh ckr¨a esa lPpkà Fkh] 56

& ‘kqDyk p©/kqjh

ftls lqudj eq>s Hkh vejkRek ij fo‘okl g¨us yxkA mu fnu¨a ek/koh d¢ ifr d¨ u©djh d¢ cnyh d¢ flyflys eas fnYyh tkuk FkkA blfy;s os lifjokj fnYyh tk igq+¡ps] ogka ,d fdjk;s dk ?kj fy;kA xsV ls ?kqlrs gh] nkfgus rjQ dk ?kj fdjk,nkj dk Fkk v©j ck,a v¨j dk] edku ekfyd dkA ?kj esa ?kqLkrs gh og dqN nsj d¢ fy;s vokd gqÃ] ,d cM+k gkWy] ihNs ,d N¨Vk dejk] v©j jl¨Ã] ogka ls fudy¨ r¨ vkaxu] bruk cM+k ?kj bRkus dEk fdjk, esa! ikl okyk N¨Vk lk ?kj edku ekfyd dk FkkA og l¨Pkus ij etcwj gqÃ] D;¡wa edku ekfyd [kqn bRkus N¨Vs ?kj esa jgdj] brus de fdjk, esa cM+k ?kj mud¨ ns jgs gaSA fQj fnu xqt+jus yxk]ek/koh us viuk ?kj ltk fy;kA fnu d¢ le; tc cPps Ldwy tkrs v©j ifr n¶rj] og ?kj esa vd¢yh jgrh FkhA ,d fnu n¨igj d¢ le; lc dkedkt [kRe djd¢ tc og ysVh Fkh] r¨ fdlh us vkaxu d¢ rjQ dk njokt+k [kV~[kVk;kA og mBdj ns[kus xà ij ogka d¨Ã u FkkA og tk dj ysV xÃA fQj ,d fnu oSls gh fdlh us [kV~[kVk;k] njokt+k [k¨yk r¨ fQj d¨Ã ugha-------- vc mld¢ eu esa Fk¨M+k Mj yxus yxk fd d©u vkaxu fd v¨j dk njokt+k ckjckj [kV~[kVk jgk gS] ij njokt+k [k¨yus ij D;¨aa lkeus ugha vkrkA mlus vius ifr d¨ crk;k] r¨ ifr us mls njokt+k u [k¨yus dh jk; nhA vc n¨ rhu ckj v©j fdlh us njokt+k [kV~[kVk;k ij mlus ugha [k¨ykA dqN fnu chrs-----] ml fnu tc og diMs+ lq[kkus Nr ij xÃ] ges‘kk Nr d¢ d¨us esa t¨ N¨Vk lk pkjikà iM+k jgrk Fkk] mlij ,d o;Ld vkneh lQ¢n /k¨rh igudj ysVk Fkk] t¨ brus yEcs dn dk Fkk fd mLkdk iSj pkjikà ls ckgj yVd jgk FkkA mlus ,d ckj d¢ fy;s l¨pk dh g¨ ldrk gS] edku ekfyd dk d¨Ã fj‘rsnkj Nr ij vkdj ysVk gSA exj mld¢ Nr ij D;¨a\ ;g ugha g¨ ldrkA ek/koh lkgl tqVkdj mud¢ ikl xà v©j iwNk] ßvki d©u gSa\ ckgj dk xsV cUn gS fQj vki vUnj dSls vk,\Þ og o;Ld vkneh] mB dj cSBs v©j c¨yus yxs fd ßeSa bl ?kj dk ekfyd Fkk] eq>s vc ;gka vkus ls d¨Ã ugha j¨d ldrk] eSa dgha Hkh vk tk ldrk g¡waAÞ ;g lqudj og dqN BhBd xÃ] r¨ o`) O;fDr us dgk] ßesjs ikl cSB¨] v©j esjh ckr eu yxkdj lqu¨]Þr¨ ek/koh cSB xÃ] os fQj c¨yus yxs] ßeSa ;gka vd¢yk jgrk FkkA ,d ckj esjh rfc;r cgqr [kjkc gqà r¨ esjk ckgj tkuk fcYdqy can g¨ x;kA dHkh&dHkh iM+¨lh dqN dqN [kkus d¨ ns tkrs Fks r¨ [kk ysrk Fkk] /khjs&/khjs og Hkh cUn g¨ x;kA fQj ;g pkjikà gh esjk lkFkh jg x;kA djhc ,d lky ckn esjs nwj d¢ fj‘rsnkj us vkdj esjh vfLFk;k¡ ns[kha] r¨ mLkus mBkdj eq>s ikuh esa cgk fn;k v©j esjk lc lkeku ikl okys [kkyh t+ehu esa ,d vke d¢ isM+ d¢ uhps nck fn;kA fQj ;g ?kj cspdj iSlk ysdj Pkyk x;kA mlus Bhd ls esjk vfUre laLdkj ugha fd;kAÞ fQj mlus iwNk ßD;k rqe esjh vkRek dh ‘kkfUr d¢ fy;s iwtu dj ldrs g¨\ esjs ikl cgqr /ku n©yr gSAÞ ek/koh us iwNk ßdSls] v©j dgak¡AÞ ml o`) vkneh us crk;k Þftl t+ehu esa esjk lc leku lUnwd esa nck;k Fkk] mld¢ vUnj ,d FkSyh esa cgqr ls e¨gjsa gSaA rqe mls fudky dj] esjs fy;s iwtu dj¨xh] r¨ esjh vkRek d¨ ‘kkfUr feysxkkA rqe dj¨xh uk\ vc ek/koh Fk¨M+k l¨pdj c¨yh] ßgk¡a] t:j eSa iwtk d:axhAÞ

Anjali

www.batj.org


vejkRek

fQj og lh/ks edku ekfyd d¢ ?kj igq¡ph iwNrkN djus d¢ fy;s] muy¨x¨a us crk;k dSls] v©j fdlls mUg¨aus og edku [kjhnk FkkA tc os y¨x edku esa ?kqls Fks] rc og pkjikà,d dejs esa gh e©twn FkkA t¨ Hkh mlij l¨rk Fkk] mld¨ jkr esa d¨Ã uhps mrkj nsrk FkkA rax vkdj mUg¨aus pkjikà mBkdj Nr ij j[kok fn;k Fkk] v©j fnokj ij ,d fp= Hkh Vaxk Fkk] ftls rg[kkus esa j[kok fn;k FkkA vc ek/koh us og fp= ns[kuk pkgk] r¨ edku ekfyd rg[kkus ls fp= mBkdj ysdj vk,A fp= ns[kdj ek/koh d¢ iSj¨a d¢ uhps ls tSls t+ehu f[kld xÃA mlus yid dj mud¢ gkFk¨a ls rLohj fy;k v©j c¨yh fd ßNr ij ;gh Fks] eSaus bUkls gh ckr fd;k FkkA bLkdk eryc ml o`) vkneh us t¨ Hkh c¨yk] og lR; gSA exj ikl okyk t+ehu r¨ vc [kkyh ugha gS] mlij fdlh dk ?kj cu x;k gSA vc D;k djsa\Þ edku ekfyd us c¨yk ßPky¨ iM+¨lh;¨a ls ckr djd¢ vkrs gSaAÞ

lc feydj ikl okys ?kj esa x,] mUgsa lcdqN foLrkj ls crk;k] r¨ os c¨ys ßgka] ,d vke dk isM+ fiNokM+ esa gSAÞ t¨ mUkd¢ edku cukus ls igys ls FkkA mUg¨aus ogka [k¨nus dh vuqefr ns nhA vc lHkh feYkdj iM+¨lh;¨a d¢ ?kj d¢ ihNs x,] v©j [k¨nuk vkjEHk fd;k] 4&5 QqV [k¨nus ij gh mUgsa  ,d lUnwd feyk] lcus feydj mls [k¨yk] cgqr ls dkxt+kn¨a d¢ lkFk mUgsa e¨gj¨a dk FkSyk Hkh feykA fQj ek/koh us lc vklikl d¢ y¨x¨a d¨ cqykdj] ml o`) vkneh d¢ dgs vuqlkj] mudh vkRek dh ‘kkUrh d¢ fy;s cgqr cM+k iwtu fd;kA cgqr y¨x¨a d¨ cqykdj Hk¨tu djk;k] mld¢ ckn og cgqr lky rd mlh edku esa jgh exj fQj dHkh d¨Ã ijs‘kkuh ugha gqÃA ek/koh dh ;g ?kVuk lqudj eq>s fo‘okl g¨ x;k fd vkRek vej gSA t¨ dHkh ugha ejrkA  (पूर्व प्रकाशित Anjali 2010)

Qwy¨a ij e¨fgr tkikuh eu & ÁHkk feRry

Qw

y r¨ dqnjr dh o¨ fu;ker gSa t¨ gj cq>s eu d¨ f[kyk nsrs gSaA fc;kcku esa f[kyk taxyh vkd Hkh cgkj dk vkuUn nsrk gSA Hkkjr esa ljl¨a Qwyrs gh clar dh eLrh dk vkHkkl g¨us yxrk gS v©j Qkxqu vkrs&vkrs r¨ Vslw] lsey v©j egqvk dh egd eneLr dj nsrh gSA ij t¨ Hkh g¨ tkiku d¢ iq“i Áse dk dgha d¨Ã lkuh fey ikuk eq>s r¨ ukeqefdu gh yxrk gSA ns‘k d¢ fdlh Hkh fgLls esa d¨Ã Qwy f[kyrs gh jk“Vªh; lekpkj cu tkrk gSA

eq>s vkt rd ;kn gS fd 1996 esa igyh ckj tkiku vkrs gh Qjojh esa ,d Hkkjrh; ifjokj us mes dk Qwy ns[kus tkus d¢ fy;s vkeaf=r fd;kA lp dgw¡ ml le; Qwy ns[kus ls vf/kd vUktku ns‘k esa Hkkjrh; ifjokj d¢ lkFk fidfud dk mRlkg vf/ kd FkkA ysfdu m|ku igq¡pdj ,d Qwy d¨ ns[kus meMs+ tkikfu;¨a d¢ gqtwe us gSjku dj fn;kA fQj ‘kq: g¨rk gS lkdqjk dk bart+kjA fnu&Áfrfnu Vsyhfot+u ij] v[kckj¨a esa vuqeku vkus yxrs gSa fd dc dgka igyk lkdqjk f[kysxkA ;¨tuk,¡a cuus yxrh gSa fd dc fdld¢ lkFk dgk¡ gkukfe g¨xh ¼Qwy ns[kuk½A ‘kq: esa yxrk Fkk fd ;s D;k ikxyiu gS] ij tc [kqn lkdqjk vkPNkfnr isM+¨a d¢ uhps cSBus dk volj feyk rc vglkl gqvk fd ;g ikxyiu ugha] ÁÑfr ls tqM+s jgus dh cslk[rk pkgr gSA ;g tquwu flQZ mes ;k ldqjk dh cgkj rd gh lhfer ugha gSA ?kj ls LVs‘ku rd d¢ iSny lQj esa e¨xjs v©j Pkesyh dh [kq‘kcw Hkh lglk fBBd tkus ij et+cwj dj nsrh gSA tkiku esa mud¢ uke v©j fdLe Hkys gh vyx g¨a [kq‘kcw r¨ tkuh&igpkuh yxrh gSA Qwy¨a ls I;kj bl gn rd gS fd fdLls&dgkfu;¨a v©j dforkv¨a ls ysdj tkikuh O;¡tu¨a] [kkldj feBkÃ;¨a esa mud¢ jax¨a v©j xa/k dk vglkl clk jgrk gSA viuk vuqHko r¨ ;gh dgrk gS fd ckx&cxhps g¨a ;k unh&ugj dk fdukjk ;k ckt+kj gj txg rjg&rjg d¢ f[kys&v/kf[kys Qwy¨a dh j©ud bl csfglkc Hkkxrs&n©Mrs ns‘k esa ru&eu d¨ ,slk ldwu nsrs gSa fd ‘kCn¨a esa C;ku dj ikuk de ls de vius o‘k esa r¨ ugha gSA  (पर्व ू प्रकाशित Anjali 2010)

www.batj.org

Durga Puja 2017

57


जापान - भारत मैत्री प - प्रो. अशोक चक भारत जापान के राजनयिक संबंधों की

आर्थिक संचालन में , ऊर्जा उत्पादन में

हमारे संबंधों में अब सचमुच प्रौढ़ता आई है ।

नगरों में ग्रामों में , ट्रे निंग प्रोग्रामो में

स्वर्णिम जयंती पर मेरी हार्दिक बधाई है

मरुस्थल की रे ती में , हरियाली खेती में

जापान के सभी हिंदी प्रेमी जानते हैं की

संवाद में व्यवहार में , जनसंचार में

दिल्ली हमारी राजधानी में लोगों की आबादी अपार हैं

सूचना प्रौद्योगिकी में , दे खी अनदे खी में

कुछ जमन ु ा के इस पार हैं तो बाकी उस पार हैं । इस पार से उस पार

सेवाओं का विस्तार ही विस्तार है

स्वास्थ्य सेवाओं , चिकित्सा सुविधाओं , पर्यावरण चिंताओं

आने जाने के सिलसिले तो बहुल थे पर गिने - चुने दो - तीन ही पुल थे ।

विशेषज्ञताओं , स्वयंसेवी संस्थाओं और बच्चों महिलाओं के लिए कोशिशों की लम्बी कतार है

पंटून का एक पल ु बनाया जाता था बरसात में जिस पर बड़ा डर लगता था रात में

निज़ामद ु ्दीन के इस पल ु से हर कोई खश ु है मैं बार - बार कहूंगा

एक बार तो पल ु ही बह गया नदी के दोनों ओर का संपर्क पुल ही जब ढह गया

सिर्फ नदी पार नहीं करता

दिल कापंता था क्योंकि पदचापों से ही पल ु नाचता था । कभी कोई गाड़ी बह गई , कभी ठे ला बह गया

यह पल ु नहीं हैं इंद्रधनष ु है जो दो पाटों के बीच की दरू ियों को तोड़ता है समंदर पार करता हुआ दरू दे श जापान से हमें जोड़ता है ।

तो दख ु ी दिल एक शायर कह गया कौन करे गा उनसे प्यार , जो रहते हों जमुना पार

इस पल ु की उम्र अकूती है क्योंकि इसमें चिरं तन मज़बत ू ी है

लेकिन दोस्तों, जब से जमन ु ा पर भारत जापान मैत्री का मज़बूत पुल बन गया हैं

अभी तो पचास साल की स्वर्णिम जयंती है

नदी के ऊपर कामदे व की कमान सा तन गया था

पर मित्रों भारत जापान की मैत्री अनंती है

प्यार इस पुल से आने लगा है प्यार इस पल ु से जाने लगा है

जो है इंद्रधनष ु के पार ।

सच्ची मैत्री जगाने लगा है ।

(पर्व ू प्रकाशित Anjali 2006)

हम करते हैं उससे प्यार

प्यार प्रेमियों के दिलों में जापान के लिए आर मर यार -

अब कोई नहीं कहता

कौन करे गा उनसे प्यार जो रहते हों जमुना पार ।

निज़ामुद्दीन के

भारत जापान मैत्री पल ु से हर भारतवासी खश ु है वो पुल नहीं हमारी भावनाओं का इंद्रधनुष है ।

इस पर चढ़कर हमारी सतरं गी भावनाएं जापान जाती हैं धन्यवाद दे ती हैं खुशबुएं जगाती हैं । इस इंद्रधनष ु के शीर्ष पर

मात्सूमूरा की कोटो संगीत सभाएं होती हैं

तंत्र वाद्य की धमक ध्वनियां रस वर्षा से हृत्तंत्रियाँ भिगोती हैं ।

इसी इंद्रधनष ु पर बजते हैं ताईको दमामे

इसी पर सतरं गी स्याही से लिखे जाते हैं इश्क़नामे

इसी इंद्रधनष ु पर गँज ू ते हैं वादाइको नगाड़े इसी पर चलती है जूडो और करते के अखाड़े

इसी पर अनभ ु वी उं गलियां इकेबाना के गल ु दस्ते सजती हैं मनुष्य, पथ ृ ्वी और स्वर्ग के बीच समबाहु त्रिकोण बनती हैं

जिसमें होती हैं रे खाओं की पर ्ण ा ू त रं गों की सम्पूर्णता ब्रह्माण्ड का सामरस्य शिल्पों का सामंजस्य

इसी इंद्रधनुष से दिखाई दे ता है जापानी सहयोग का चौतरफा प्रयास पिछले ५० वर्षो का क्रमशः विकास 58

Anjali

www.batj.org


जापान के एक प्रसिद्ध गीत "सुकीयाकी" का भावानु - प्रो. सुरेश ऋतुप कहीं झर न जाएं आंसू आँखों से इस डर से सिर उठाए

चला जा रहा हूँ तनहा - तनहा दिल में कसकती टीस लिए

आज की रात हुआ फिर, तनहा - तनहा यादों में उमगते हैं वसंत के मदभरे दिन उनकी यादों के साथ

चला जा रहा हूँ तनहा - तनहा कहीं झर न जाये आंसू आँखों से इस डर से सिर उठाए

चला जा रहा हूँ तनहा - तनहा डबडबाई आँखों से गिन रहा हूँ सितारे और कर रहा हूँ याद

अलस भरे गर्मियों के दिन उनकी अलसायी यादों ने

फिर कर दिया मझ ु े तनहा - तनहा दिल में कसकती टिस लिए आज की रात हुआ तनहा - तनहा बादलों से भी ऊपर

चली गई है खशि ु याँ मेरी आसमान के उस पार जा बसी हैं मस्तियाँ मेरी यादों में ठिठक रहे हैं

पतझर के सुहाने दिन

कानों में गंज ू ती हैं झरती पत्तियों की मातमी धुन ये कैसी उदास परछाइयाँ हैं

छिपी जा रही हैं सितारों के पीछे ये कैसी अनमनी चाँदनी हैं

सिमटती जा रही है चाँद के पीछे कहीं झर न जाएं आंसू आँखों से इस डर से सिर उठाए चला जा रहा हूँ तनहा - तनहा दिल में कसकती टीस लिए

आज की रात हुआ फिर, तनहा - तनहा (जापानी गीत - "उए ओ मई ु ते अरुको " का भावानव ु ाद) (पर्व ू प्रकाशित Anjali 2006)

www.batj.org

Durga Puja 2017

59


シャンティニケタンの子供たち - 奥田由香 シャンティニケタンの情景を思い浮かべるとき、そこにはあの 橙色の制服姿の子供たちが飛び跳ねています。寮から音楽部 まで自転車で通っていた私は、どこからともなくその子供たち の“ユカディ”(親しみをこめて、ユカ姉さん)という元気な呼び声 を浴びていました。シャンティニケタンの子供たちの大半は、親 元を離れ、寮生活をしているのですが、屈託の無い笑顔を見て いると、それぞれがシャンティニケタンの大きな家族の―員なん だな、と微笑ましく思ったものです。  タゴールは、自分が学校に通っていたころ、外の自然から隔 離された教室の中で勉強する事に対して、疑問と矛盾をいだき ました。型にはまった教育ではなく、自然の中で、自然と共に感 じて、そして学んでゆくことをめざしたタゴールは、後に、シャン ティニケタンという自然教育の学園を実現したのです。シャンテ ィニケタンの子供たちは、大きな木の木陰で先生を丸く囲んで 授業をしています。この木は算数、あの木は国語、あっちの木 では音楽というように、椅子や机もいらない、おしり分一枚の布 切れを敷いたら、大地にグッとあぐらをかけるのです。そうして、 シャンティニケタンの木々達は、大腕を広げて子供たちの成長 を見守り続けています。 子供たちの学園生活は、季節ごとの数々の祭りや記念日など の催しで彩られ、人々との交わりの中で学んでゆく事も教育の 大きな柱となっているのです。今でこそシャンティニケタンにもテ

レビやビデオが普及されてきましたが、学園祭はみんなにとっ て、生きることそのものであるように思います。絶えず新しいもの を追い求める情報社会と断絶することはできないとしても、夕ゴ ールが我々に伝えてくれた永遠性の中に、常に新しく輝き続け ることの真実を担い、大切に守っていってほしいと思うのです。 自分が一児の毋となってみた今、本当にそう願わずにはいられ ません。 私の心は、いつもシャンティニケタンのモンディールに帰りま す。四方がステンドグラスで囲まれたその小さな祈りの場で、い っしょにタゴールソングを歌った子供たちの大きな瞳と美しいベ ンガル語の響きと、朝日に溶けてゆくお香の祝福を受けた日々 は、私の中で生きているのです。 ちょうど今ごろは、子供たちはプジャー休暇の帰省を前に、ア ノンドバザールの準備でおおはしゃぎでしょう。自分達の手作り 品を集めて子供たちだけのお店を出店するのです。チクチク縫 い上げたベンガル刺繍の飾りや、土を練り上げたカップ等みん なの力作が店頭を飾ります。“ユカディ、ユカディ”と呼び寄せら れて、手にした品々は、今では我が家に落ち着いています。そ して、その向こうに、あの熱い道を駆けながら、はち切れんばか りにタゴールソングを歌っている子供たちの姿が目に浮かびま す。シャンティニケタンの主役です。  (Anjali 1998 掲載)

国境のない世界 - 柴原三貴子 写真家 インド、ウッタルプラデーシュの農村で一年半暮らし、日本に 帰ってから、すでに4年。帰国したばかりの頃は、インドでの暮ら しが懐かしく、インドシックにかかったこともあった。日本生まれ の日本人なのだから、生まれ育った東京へのホームシックにか かるべきなのだが、インドに行く前に自分のアパートを引き払っ たせいか、インドに住んでいる間はさほど辛くはなかった。インド シックにかかったとき私は、当時少しずつ増えていた東京在住 のインド人たちの後ろを付けた。同じ電車の車両に乗り合わせ れば、知らぬ顔で真後ろに立ち、何語を話しているか、それがヒ ンディーならどんな内容の会話なのかに聞き耳を立て、商店街 でインド人らしい一家を見かければ、何を買い物するのかを、や はりそ知らぬ顔で後ろを付けながら観察した。突然、日本人が ヒンディー語で話しかければ、驚かれたり、事情を説明するのに 大変になったりして、家族の会話を聞いている訳にはゆかなくな るので、そうやって黙って後ろを付けるのが、インドシックの治療 には一番だった。その後、ヒンディー語を使う仕事に恵まれ、イ ンドやバングラデーシュ、パキスタンの方たちが働く職場に通う ようになると、付きまとわずとも、懐かしい香りや言葉の響きに包 まれることが多くなり、インドシックにはあまりかからなくなった。 昨年初めて大森でのドルガープージャーを撮影させてもらっ たり、インドの方のホームパーティーに招いてもらったりと、職場 のお陰で東京在住のインド人の様々な催しに参加する機会も 増えた。色々な場面で、大好きなインド料理をほお張りながら、 東京での暮らしを楽しむ人びとを見ていると、私が帰国した当 初、インドシックになり、必死で追いかけていたものは、インドの 人たちのおおらかさだったのかもしれないと、考えるようになっ た。小さいことは気にしないで、みんながその場を一番楽しめる ようにしましょう。インドの人たちが集まる場には、そういう空気が いつも流れていた。

いた本、「ムスリムの女たちのインド」(木犀社)を出版した。その 後、何故か村の女性たちの地理感覚について思い出すことが 多くなった。 学校に通ったことのない女性たちは、地図を見る習慣がな い。一度私が地面に小枝を使って、大まかな世界地図を描き、 インドと日本の位置を説明しようとしたとき、誰も私が何を描いて いるのか理解してはくれなかった。でも、女性たちの頭の中に は、近隣の村と村との東西南北の位置関係ははっきりしていて、 彼女たちが知っている中で最も遠い村のその少し先に日本があ るのだ。 彼女たちの地理感を知ったとき、私はまさに目からうろこの落 ちる思いがした。誰がいつ決めたか分からない線が入り、色分 けされた世界地図で私たちが生きている土地を理解したような 気になるより、彼女たちのように、全ての人たちが自分の生まれ た村の延長線上に暮らしていると考える方がとても自然な気がし た。私も地図上の線引きなんか一切忘れて、生きよう。そう願うよ うになった。 近い未来、東京には今よりももっと様々な国の人がやってき て、隣近所に色々な言語を話す人々が暮らし、レシピを交換し たり、悩みを相談し合ったり、新しい考え方を分け合ったりする 生活を送るようになる。そんな風に暮らせたら、いつか、国境と か、民族とか言って愚かな戦いをしていた時代もあったねーなど と、今の争いを懐かしむときがやってくるのではないか。 今日、この東京で迎えるドゥガープージャの日、一日も早く、 線引きの無い世界に全ての人が暮らせるようになることを願いつ つ、インドの人たちの周りの人々を包み込むおおらかで熱い気 持ちが、その一歩を踏み出す力となることを信じている。 

(Anjali 2005 掲載) そして、今年の7月、滞在していたUPの農村の女性たちを描 60 Anjali

www.batj.org


(故)羽成孝先生のヨガに関する過去の投稿より

1.ヨガと健康

(Anjali 1998 掲載)  サンスクリット語の“ヨガ”という言葉は非常に広範囲な意味をもっているといわれる。17位の意味を持って使われているという。語 源は「Yuj」から来たもので「合一」を意味する。すべてのヨガの意味は二つのものが―つに合体するという考え方が基本である。では ヨガの訓練によって二つのものを一つにするというものは一体何なのであろうか?ヨガを含めたインド哲学の総合的概念によれば、人 間の個々の魂は宇宙の魂の一面の表われであるという。勿論此の二つの魂のエッセンスは同じで、分ける事が出来ないのであるが、 人間の魂と宇宙の魂は主観的にみて分かれてしまっている。そしてこの宇宙の中で進化のサイクルを重ねた後、再びその二つが一 つになるように運命づけられている。この二つの魂が意識に於いて-つになった状態、又、この二つを合一させようと訓練が「ヨガ」と 呼ばれるものである。これは色々な方法で形作られているが、基本的考え方は皆同じである。 我々は本質的には「芯」として各々が魂を持っている。この魂は健康、強さ、元気、生命力の源です。それは色々な病気や細菌な どに犯されることのない純粋な存在なのである。併し多くの人達は俗世間の楽しみの中に埋没してしまって魂の存在を忘れてしまっ ている。そして病気になると注射や薬を使って一時的に治そうとする。その場合表面的に治った様な錯覚をおこすが本質的には治っ ていないのである。一時押えなのである。又少し立つともっと強い状態で病気が現われてくる。それは自分の内なる魂の存在を忘れ て症状だけを治そうとする現代医学の結果、そうなってしまうのである。我々は、もっと自分の内を見つめ、内なる存在者に気がつくべ きである。内なる存在者一魂は、病気に犯される筈はないのだからもっと自分自身に自信を持つべきである。それを信じられないのは 人間が無智だからである。「私のなかには、幸せのかたまりである魂があるのだ。それは病気に犯される事のない純粋な存在である。」 と、自分自身にいい聞かせなさい!内なる魂は力を与えてくれます。病気を追い払ってくれます。 健康とは一体何であろうか? 心や体の器官が調和よく働き、気持ちよくバランスよく生きる義務を遂行し、平和で幸せな日々を楽しむ事の出来る状態をいいま す。この状態になるには食物をよく消化吸収し程よく食欲があり、正しい呼吸をし、普通の脈を打ち、よい質と量の血液を持ち、強い 神経と静かな心を持ち、健全な体の中に健全な魂を持ち、よく排泄し、輝いた顔を持ち、眼が輝いている。その中で人は、とんだり、 はねたり、唄ったり、笑ったり、あちこち動き回って楽しむ事が出来るのです。 その様な健康な状態の中で人は適切な考えを持ち、正しく人と話し、行動できるのです。此の様な好ましい状態は誰にでも出来る 筈なのです。健康な状態で生きている事は本当に幸せで祝福されています。若し人が病気だったらどうなるでしょう。此の世の富は無 意味になります。健康な状態にないという事はみじめなことです。この肉体は輪廻の大海を渡る小さな船のようで、健康でなければこ の荒海を横切って彼岸に達する事は出来ません。健康はまさに至宝です。 よい肉体の健康は、健康の法則(早寝、早起き)、衛生 上の規則、清浄な食物、清浄な空気、適切な運動、等を守る事によって得られます。 ヨガのアサナ、プラナヤマには四つの大きな効果があります。(勿論そこには数え切れない程の効果はありますが.....) 1) 体内のバイオリズムが調和される 2) 体内組織の中にある生命エネルギーが規則正しく流れるようになる 3) 色々な筋肉の中にある緊張や詰まりを取り除いてくれる 4) 体内の交感神経と副交感神経の働きがよくなりバランスが取れてくる ひとたび此の四つの効果が体内に確立すれば殆どの病気は入り込む余地はなく、内部のストレスなどの影響を受ける事はなくなる であろう。 此の世の中で人が到達すべき最高の事とは何であろうか?それは「自己実現」にあると思います。ではこの「自己実現」のメリットは 何であろうか?何故我々は「自己実現」をしようと試みるのであろうか?人は、自己の内にある魂の存在を確認する事によってのみ、生 死の輪廻から解放される。そしてこれこそが純粋な平和、最高の幸せ、真の智慧、不死に達する唯一の道なのである。 人が内なる存在者を悟った時に病から完全に解放され、心の平和を確立し、最高の智を得る事が出来るのである。 「自己実現」を可能にするには長い時間が掛ります。それ故に人は健康な体を維持し、強く、長く、有意義に生きる事によってそれ を可能に出来るのです。

2. 三位一体(ヨガ的生き方)(Anjali 2002 掲載) 現代に於いて、人間は自分自身が作り出した多くの病に悩まされています。我々は体の中に、心の中に、多くのストレスや緊張を 抱えて生きています。しかし実際には、これらのストレスや緊張は必要のないものであり、避けるべきものです。我々は自分で問題を 作り出し、そしてそれを解決しようとしています。我々は非常に不健康で不自然な人工的環境を作り出しています。毎日毎日、個人的 に社会的に、または全地球的規模で問題を作り出しています。これは終わりのないプロセスです。今、我々はここに座って、何を我々 にとって悪いことなのか、生きて行く上で何か本当に必要で、何か悪いのかを個人的に、そして集団的に探して行くときが来ているの です。それは病気を治すことではなく予防することなのです。こんな物語を読んだことがあります。インドの物語です。 昔、小さな村落が崖の上にありました。村人は、夜酔っ払ってよく崖から落ちて怪我をしたり、死人が出たりしました。村人は困って 集会を開き、その対策を協議しました。村長が出てきて、こう発言しました。「崖の下に良い病院を作り、良い医者を配置し、救急車を 一台買って、常時待機させよう。お金は私が出そう」村人は、全員一致で賛成しました。 この物語は一見、とてもよい解決策」に思われますが、どこかおかしくないでしょうか?何故なら、誰も崖の上に柵を作って落ちない ようにするというアイディアが浮かばなかったのです。でも我々はこの村人たちの志を笑う資格はありません。我々は自分自身で病気 を作り、それを解決しようとしているのです。イ可故崖の上に柵を作って落ちないようにしないのでしょうか?我々は、病気治すことでは なく、病気にならない工夫をすべきです。何が原因で病気になったのか、その原因を具体的に考えて見る必要があります。ここに人き なヨガの役割があります。それではここで、なにが病気を惹き起こすのかをヨガ的に考察してみましょう。人間がこの世に存在して生き ていけるということは、3つの界がバランスよく関係しながら相互依存していることなのです。 3つの界とは、肉体界、精神界、そしてそれを支える魂の界です。人間の体を支えているのは背骨であり、その奥に「芯」に相当す る魂の存在があります。この3つがバラバラになった途端に問題が起き、間違いだらけの解決法を探してしまいます。 我々は今、間違った線路の上を走っているのです。お医者さんは病状だけを見てそこを治そうとします。心療者は心だけを捉えて www.batj.org

Durga Puja 2017

61


(故)羽成孝先生のヨガに関する過去の投稿より 精神指導をしていきます。我々がストレスを感じた時、そのストレス、または病気の解決法を見出そうとします。しかし何故そのストレス や病気が自分の生活を調べ、反省してみる必要があるのです。この日常生活の再点検、反省、そして問題を理解する中に、解決の 道があるのです。 現代の人間は全く人工的な器具の奴隷になってしまったようです。食物でさえも合成的食品が多く、個人の健康や日々の生活など は無視されて、化学薬品と最新の装置で支えられている人形のようです。人間の幸福の手段は、…に自然を支配するかという事にな ってしまいました。実は、人は頼るものが少なければ少ない程、より幸福になれるのです。色々な物に頼りすぎると結果は惨めになりま す。このような状態から人を引き上げるには、ヨガ的生活をするのが最も効果的な方法なのです。ヨガ的生活とは、リズミカルな生活を 送ることです。呼吸を整え、ヨガ的体位法を行い、この人自然の恩恵に感謝しながら生きてゆくことです。この方法のみが人をして完 全に自己充足の気持ちをもつ助けをし、あらゆる段階で外部からの援助を最小限にします。こういうことが人の体と心と魂を強くする のです。こういう生活を続けると、人は健康になり、諸々の病気に対する免疫をつけ、感覚機能は鋭くなり、…となります。心の…が驚 くほど磨かれてきます。人の隠れた才能が発達し、眠っている能力が目覚めてきます。そうすると人は文字通り真の感覚を使いながら 全生命力を生かして生きていくことができるのです。 家庭の中では頭のきく人間として珍重され、社会に於いては、有能な人物として認めらるようになります。そういう人は、多くの人の 上に立って、リーダーとなり、人類を助け、導く力をもつのです。 ヨガは非常に実用的な教えです。それは人間のすべての機能を総合的に発達させることを目的としています。したがってヨガは、 現代の人間が進化していく中で、先駆者のような役割を演じています。また、スーパーマンのようなすばやい伝道者的役割も演じてい ます。ヨガはそれ自身の目的を持っています。深く光り輝く新しいタイプの人間を創造していくこと、そして結果において、来るべき新 しい時代においてリーダーとなる人間を作り上げていくことです。 現代に於いて、ヨガの概念は、深い神秘性をもつものから、ばかげて滑稽な考え方をもつものまで幅広く解釈されています。ヨガの 修行に関する現代の考え方には、色々な異質な見解がぶつかり合い、野蛮な面白おかしい考え方が渦を巻いています。長い間のく だらない虚説の中で、ヨガに対する誤解に満ちた偏見には根が深いものがあります。超能力的現象、霊的体験等が疑いの目で見ら れ、怪しい魔術的なものと見られていました。さて、この点に於いてはっきりさせておく必要があるでしょう。 ヨガは興味本位のものでもなく、異常なものを含んでいるわけではありません。少数の数奇物(すきもの)のためではなく、一部のご く限られた人たちの超能力を得るためのものではありません。絶対そうではありません。それは、人格の完成を求める人のための合理 的方法であり、一つの試練でもあります。それによって我々は、より祝福された生活を送ることができるのです。ヨガは特殊な器具を使 う必要はありません。貴方が既に持っている資質、しかし眠ったままでいる資質を目覚めさせ発展させるだけなのです。特に人類の共 通に持っている一番重要な道具一心-を開発していくものなのです。ヨガは生活の中で、色々な場所に住んでいる人、色々な社会 的地位の人、すべての人に平等に修行できる性質の物です。多くの人が暗闇の中で、手探りで生きています。その暗闇に光を照らし 導いてくれるのをインドでは「グル」と称します。「グル」をヒマラヤの山中へ探しに行く必要はありません。「グル」は貴方の内にいるの です。内なる「グル」が貴方を導いてくれるのです。それは貴方の深奥に住む「魂」かもしれません。この魂の導きによって、心を整え、 体を整えていけば、健康で幸せな人生を送る事ができると信じています。正に、身・心・魂一三位一体-の生き方が、理想的生き方 だと信じています。

3. 現代流行のヨガ考

(Anjali 2006 掲載) 近年、爆発的にヨガが流行している。それはそれで喜ばしい事ではあるが、現代の流行的ヨガは、ヨガの本質からは可成りかけ離 れているのではないかと思う。現在、スポーツセンターなどで「ヨガ」と名がつけば、そのクラスはすぐ満員になるほどの人気である。 ヨガクラスの殆どのインストラクターがヨガとは何かを全然知らずに指導している。一歩譲って精神面が脱落しているのを認めるとして も、ヨガのアサナ(対位法)とプラナヤマ(呼吸法)さえもしっかりと体得せず指導しているインストラクターが多いのに驚く。 ヨガに就いて、世間では色々間違った概念を多くの人が持っている。ある人は肉体運動だけであると考えている。又、ある人は瞑想 のプロセスであると考えている。又、他の人はストレス解消の手段と考えている。併しヨガは生きる科学であり、人生の色々な状態や段 階に対して確固たる特別な役割を持っているのである。ヨガは肉体の健康を維持し、心に安定をもたらし、調和のある操操をかもし出 す。究極的にヨガは、人間の奥深くにある霊性を目ざめさせ、内在せる魂を自覚し人間性を最頂点にまで高めていくのである。 以上のべた事は人間が生きていく上で、必要なことである事が分かるであろう。肉体は健康であることが望ましいし、心は平和を必 要とし、感情は常に調和が保たれている必要がある。そして内なる魂の存在を認識しなければならないこの魂こそが、人間の芯なの である。芯がないと、その人間は常に左右にゆれ動いてしまうのである。これこそが完全な人格を作る大元になる。我々は、毎日の生 活の中に横たわっている不調和を探し出すことによって、何が必要か、何が必要でないか分かってくる。自分の毎日のライフサイクル を点検することによって、身体や心を乱しているものが何かが分かる。これらの不調和が調和の取れた肉体構造を乱す。病気がおき 老化をはやめる。 ヨガのポーズや呼吸法、ある種の浄化法(目、鼻、内臓等々)をすることによって、気の滞り、毒素、体内組織の中における不調和 等を治していく。ヨガは精神科学であると同時に、治療的にも働くのである。人はその両面を見る必要がある。心の安らぎを経験する 為に我々は、ストレス、緊張、心配、欲求不満、落胆などに引きずり回されてはいけない。心とエネルギーは二頭馬車の様で各々の馬 が別の方向へ動いていては車が進まない。これと同じように心とエネルギーをコントロールし、一定方向へ進めるようにムチで制御し ていかなければならない。心や感情の中からマイナスの想念、否定的感情を取り除いて、精神的に高い状態へと自分自身を導いて いかなければならない。これには、心が外の事象に捕われない様に一定の時間心を内に向ける(瞑想)訓練が必要である。内なる一 点に心を集中すると次第に心は安らぎを覚える。 感情のアップダウンの激しい人は、自分中心に物事を考えながら生きている。社会は色々な人構成されている。我々の感情は我々 の心の色によって変わる。若し貴方が他人に愛情をもって接すれば、その人も貴方に愛情を持っているであろう。憎しみを持てば憎 しみが返ってくる。もしあなたが常に前向きで明るい感情を持って生きていけば、貴方のまわりは明るく幸せに満ちてくる。 常に明るい笑顔で暮らしてください!笑いは脳下垂体のホルモンの分泌を促進します。脳下垂体の働きは、身体全体、五臓六腑、 筋肉、神経のすべてを活性化します。いらいらしたり、怒ったりすれば副腎皮質からアドレナリンというホルモンが分泌され、交感神経 を刺激し、心臓の鼓動が早まり、血圧が上がったり、血液が酸性に変わったりし、胃下垂、便秘、胃潰瘍等の胃腸病にかかり易くなり ます。 一方、微笑みながら食事をすると唾液の分泌がよくなり消化力を高めます。最後に折角、ヨガと出合ってヨガを始めたのですからヨ ガの本質を見極め、自分の内なる霊性に目覚めて下さい。 人間は肉体だけで自然とつながっているわけではありません。自分の芯である魂に目覚め、常に自然との帯同を忘れずに生きて いくことが無病息災に生きるポイントです。 人は年と共にやせて色褪せてくるかもしれません。干し大根だって昔はつやも良く丸々と肥えていました。でも今は、しわが出来た 分だけ、しなやかになり甘さもましてきました。人は失った分だけ、又、別々なものがついてきます。悲観することはない。死ぬまで価 値ある人間として生きていく知恵をヨガは教えてくれるでしょう。 62

Anjali

www.batj.org


インドと私 - ビスワス史子 インドと私の関係は主人との出会いから始まる。それ以前の 私はインドといえば『男の人はターバンを巻いて、女の人はサリ ーを着ている』という『日本人は侍に芸者』ほどの知識しかなかっ た。それにまったくといっていいほどインドという国に興味はなか った。だから、彼と結婚をすることを決め、初めて彼の国であるイ ンドを訪ねた時の衝撃は今でも忘れることができない。

い、とのことだった。今なら良くわかるが、そのときの私の格好は 40度の酷暑の中、4時間も窓を閉めた車の中で過ごしてきたの で、上はTシャツ・下は短パンと日本の夏の格好をしていたので あった。『インドでは女性は足を出さないんだ』とその時初めて、 主人が私に教えたくれた。前もってわかっていれば私だってわ ざわざ短パンなんかで始めて訪れる彼の実家に行ったりしなか ったのに、それまで一言だって服装のことなど言ってはくれなか った。彼は実家に着くまでまったくそのことを気にもしていなっか たようである。到着早々このような状態だから、もちろんベンガル 語など一言も教えてくれてはいなかったので、彼の親族が話し ていることはまったく理解できない状態だった。親族みんなは私 に英語で話してくれているけれど、親族同士の会話はもちろん ベンガル語そんな時は彼に話の要約を聞くのだけれど、彼も話 に参加するのが忙しくて、なかなか詳しく話しの内容を私に伝え てくれないことが多かった。そんな思いから彼の母国語を少しで も理解したいと思って、彼にベンガル語を教えてくれるようにと頼 んだが、彼の実家にいる間の数日間だけはベンガル語を教えて くれるのだが、私も語学が得意というわけではないので、たった 数日だけではベンガル語を理解することはできなかった。

インドと私

カルカッタに行く前にニューデリーに入り、今では行くことが困 難になったカシミールで客引きに囲まれ、まったく身動きができ なくなった。彼は相手の話ばかり聞いていて一向にこの騒ぎが 収まらない。私は長旅の疲れもあり、一刻も早く目的のホテルに 着きたい一身で『あなたたちのホテルには泊らないし、行かない の!』と大声で英語を叫んでいた。と、すぐに客引きたちは引き 下がり、一様に驚いた顔をして私を見つめていた。 『普通インドでは女の人は男の人の前で叫ばないよ』とホテル に向かうタクシーの中で彼に言われたが、『何でお客である私た ちが、あっちこっちと引っ張りまわされなければならないのか』と 私はものすごく頭にきていた。このようなことはそれ以降、毎回の ように繰り返され、私はだんだんとインドにいることが辛くなってき た。 主人は私をインドに連れて行く前にほとんどインドのことを話さ なかった。もちろん自分の家族のこと、家のことなどは聞かせて くれたけれど、風習・文化などは全くと言っていいほど何も伝え てくれなかった。だから、彼の実家に着いてすぐ、家の前にいる 大勢の親族への挨拶から、私の頭はすでに混乱していた。彼は 『ぼくがするようにして』と一言言っただけで、私を次々親族に紹 介していった。私にとっては初めて見るインド式の挨拶、それに 大勢の親族。一人一人の名前はおろか顔を覚えるのも無理だっ た。それに増して、親族以外の人・人の多さにまたまた私は驚い た。いったい今日は何かあってこんなに人が集まっているのだろ うか?と思ったほど総勢何百人といそうなぐらいだった。暑さと人 の熱気で私はクラクラしていた。 やっと、家の中に入り、腰を下ろせた。するとすぐにきれいな サリーが、私の目の前に現れた。どうやら着替えをしたほうが良

- ビスワス史子

インドという国との出会いは、何もかも私にとって、驚きと衝撃 の連続だった。『果たして私はこの国の人と結婚していけるのだ ろうか』と少なからず数回は考えたと思う。お互いの育った環境 が、想像以上に違いすぎたからだ。 彼と結婚して、もう14年目にはいる。その間に子供が3人生ま れ、渡印も5回以上になった。でも相変わらずベンガル語はほと んどわからない。それでも、少しは彼の国のことを理解しようとし ている。結婚生活の中でいろいろわかり得ないことがあったけれ ど、このことが、インド人と結婚したからなのかどうかわからない( 日本人と結婚した場合と比べられないから)。これからお互い理 解が深まるのか、それとも月日がたつほど理解できないことが増 え続けていくのか、怖くもあり、楽しみでもある。  (Anjali 2002 掲載)

www.batj.org

Durga Puja 2017

63


インドの生活における「地域力」 - ラキット工藤昭子 日本で注目される「地域力」  今年7月16日に新潟県で起こった中越沖地震や1995年5月 の阪神淡路大震災をきっかけに「地域力」というものに日本中か ら大きな関心が寄せられた。都会の便利さや、「隣の人や何を する人ぞ」的な人間関係の浅い社会で震災にあい、「炊き出し をしてくれた自衛隊やボランティア、地域の人々に感謝する」被 災者の姿は、改めて「地域力」の重要さを思い知らせる。しかし 我々人間は怠け者にできているもので、地域の人が協力せざる をえない状況にならないと、自主的に地域に対する参加意識が 高まらないのかもしれない。だからこそ、「地域力」という言葉に 関心が寄せられているのだろう。 「地域力」の定義  「地域力」とは「地域資源の蓄積力、地域の自治力、地域へ の関心力により培われるもの」(WEBフリー百科辞典ウィキペデ ィア)だという。「地域資源とは、環境条件や地域組織及びその 活動の積み重ねのこと」だそうで、いかに、普段から地域の人々 が地域活動にかかわっているかということだ。「地域の自治力と は地域の住民自身が地域の抱える問題を自らのことととらえ、地 域の組織的な対応により解決する力のこと」を指すという。ご存 知のとおり町内会には自治会があり、夕方のパトロール活動や 地域の催事で自治会が活躍することが多い。しかし、日常生活 をわずらわしくさせる、自治会役員になりたがらない人が多いの も事実である。 そして3つ目の「地域への関心力」とは、「常に地域の環境に 関心を持ち可能性があるなら向上していこうとする意欲があるこ とで、地域に関心を持ち定住していこうとする気持があること」だ という。  日本のサービスは、停電一つとってみても完璧にしようとす る傾向が高いように感じる。東京電力は、「猛暑が続いた8月31 日、埼玉県熊谷市と岐阜県多治見市で40.9度を観測し、74年 ぶりに国内最高気温を塗り替えた」(c.f.WEB読売新聞オンライ ン)ころ、8月に毎日のように停電を危み、今夏の首都圏におけ る最大電力供給能力を6250万ワット準備した(c.f.8月22日付日 本経済新聞)そうだ。さらに東京電力は一部の大口電力需要企 業に送電を減らしたり、節電を呼びかけたりして、何とか危機を しのいだという。 天気予報も、至れり尽くせりだ。熱中症にご注意くださいと か、洗濯指数だ、紫外線指数だの、まったくご丁寧であった。日 本社会はサービスを受けることに慣れてしまい、自主的な活動 である地域の人による善意ある行動ともいえる地域のボランティ ア活動にまで完璧さを求めてしまっているような気がする。 以下、私のインドでの体験で感じたインド人の「地域力」につ いて例をのべたい。本稿の「インド」とは西ベンガル州シャンティ 二ケタンのことを主に意味する。 リキシャーマン(リキシャを引く人)のオルン 私は、怖いもの知らずで、すぐに人を信じるところがある。シ ャンティニケタンに住んですぐ、留学先の大学入学手続きや、 子どもの大学付属幼稚園入園手続きに、あきれるくらい長い時 間(1ヶ月以上、現地では珍しくないらしい)がかかった。私の場 合、手続きをしているときに双子の4歳の子どもたち(あさひ・あ すか)を見る人がいないので、いつも同じリキシャーマンである オルンを雇ってリキシャーに子どもをのせたまま、手続きのため 大学のオフィスに行った。やがて、オルンにわが子たちもなつい ていった。オルンには当時小学生の男の子が二人いて、奥さん と、子どもと一緒に、近々家族で町に一時的にきていたサーカ スを見に行くのだという。それで、わが子もどうかというので、そ れはいい話だと思い二つ返事で承諾した。夕方7時には連れ て帰ってくると言った。子供たちがオルン家族とサーカスに行っ ている間に、私は入学事務手続きもできるし、子供たちも楽しく 過ごせると思い、すっかり安心していた。サーカスに行った日、 64

夕方7時になる少し前に、大家のゴーシュ氏が私を呼んだ。「ア キコ、ここは、インドだ。あなたが思っているほどみんながいい人 ではない。オルンはいい人だと思う。でも外国人の子どもの誘 拐事件もある。オルンの家がどこにあるか知っているのか」と聞 いてきた。もちろん、私は「知らない」と答えた。オルンの家なん て知らなくても、私が「明日もリキシャーお願い」といえば、私が 指定した時間に家の前にきちんと迎えにきてくれた。大家のゴ ーシュ氏は「夕方7時に、オルンが子どもたちを連れて帰ってく るというのだからそれまで待とう。でも今度からは、気をつけたほ うがいい。何もないことを願っているよ」と言った。私は、大丈夫 だと思いつつも時計をみた。夕方7時を過ぎても帰ってこない。 いよいよゴーシュ氏の言うことも一理あると思い、少し不安になり はじめた。7時より20分位遅れて、「ボディー(義理のお姉さん)」 と呼ぶオルンの姿が見えた。わが子たちも楽しそうにして帰って きた。私はすぐさま大家のゴーシュ氏に「ありがとう。無事帰って きました」と報告した。すると、大家のゴーシュ氏は「オルンの家 がどこにあるか一度見に行ったほうがいい。私のドライバーを貸 すから、何か手土産でも持っていってきたらどうか」といってくれ た。郷に入れば郷に従えで、年配のゴーシュ氏の薦めに従うこ とにした。シャンティニケタンは、大通りを除いては自動車がほと んど通らないくらい小さな町だ。人を見ればどこの村の何という 名前の家の人だと、素性を把握することが大切らしい。そうすれ ば、誰もが自分の家族に迷惑がかからないよう悪さをすることを 控えるらしい。つまり、「地域力」ということなのだろう。  オルンの家に着くと近所の人たちがたくさん出てきた。オル ンの家は壁が泥でできており床は固い土であった。大きい一間 だけの家だったが、ベッド一つ置いてあり、こぎれいで、幸せに 一家4人で暮らしている印象を見受けられた。「これからもよろし く」と言って、オルンの家を後にした。(私たちは、こうして、ます ますオルンを信頼し、子どもたちも「オルンカク(おじちゃん)」と 呼んで、長いつきあいができるように思えた。しかしまたいろい ろあって結局はつきあいが終わってしまうことになる。それはま た次の機会にお伝えしよう。) カジェルメエ(下女)のプロバティ すると、そこには、もう一人、見たことのある女性がオルンの家 の前に立っていた。大家のゴーシュ氏のゲストハウスで使用人 として働いているプロバティだ。私たちがオルンの家に行くこと をドライバーから聞きつけて「ディディ(お姉さん)、うちにも寄っ て行って」という。ついでだから、プロバティの家にも行くことにし た。通された家は掘っ立て小屋みたいな、今にもこわれそうな小 さな家だった。中にはいると大きいベッドがあるだけで、あとは足 のつき場のないくらい狭いところだった。そのなかで、「ディディ (お姉さん)、お茶のむ?」とプロバティが聞くので、断ったら悪 いかと思い「うん」と答えると、なにやら取り出して紅茶を作り始め た。プロバティには当時小学生の女の子1人と幼稚園の男の子 1人がいた。ガスがないのでケロシンを使った火でお湯をつくっ て、砂糖たっぷりのお茶を出してくれた。プロバティの家には電 気もなかった。すぐ裏に妹夫婦の家があるのだとプロバティはい った。プロバティはご主人と事情があって別れたそうだ。だから すぐ近くにそのような家族がいるのは、女手一つで子ども二人を 育てている母子家庭には安全らしかった。親子3人で暮らすた め、私の住んでいたゲストハウスの家の仕事と、他2件で下女の 仕事を3つ掛け持って、生計を立てていると話していた。ちなみ に彼女には土日などの休みがなかった。 彼女たちには組合があるわけでもなく、雇用主の機嫌をとりな がら毎日、朝6時頃~10時頃までと夕方3時~4時ころまで働 く。午前中は、家の中の掃き掃除、拭き掃除、茶碗洗い、頼め ば別料金で洗濯もする。料理は出来る人とできない人がいる。 彼女たちは便器だけは掃除しない。それは雇い主が自分で掃 除するものなのだとプロバティは私にいった。ごみはプロバティ が持ち帰るのだが、どうやら途中の道端でポンと捨てているだけ

Anjali

www.batj.org


インドの生活における「地域力」 らしい。茶碗洗いと洗濯は蛇口から水を使えればラッキーで、厳 しい雇用主では、井戸から手で水を汲んで作業しなければなら ない。はじめは、プロバティも蛇口から水を出して洗濯をしてい た。しかしタンクの水がはやくなくなるので、プロバティに洗濯は 井戸水を汲んでするように大家のゴーシュ氏が言ったらしい。そ れで私に、蛇口からの水で仕事できるよう頼んでほしいと訴えて きたことがあった。しかし、私の説得空しく、彼女は井戸から水を 汲んで仕事をすることになった。 やがてデュルガプジャが近づくと、プロバティは私に「このサ リーはもう一つ働いているところの奥さんがくれた」と見せてくれ た。婉曲的に「何か買ってくれ」と訴えているのだ。立場がはじめ から異なる下女たちは、はっきりものを言わないかわりに、いろい ろな手法で婉曲的にアプローチしてくる。雇用主に対し不満が あるときは、急に来なかったりする。来ないと、掃除機や洗濯機 がないので、雇用主は仕事があるのに自分がやるか、複数の下 女がいる場合はもう一人の下女に別に多く支払って仕事をさせ るしかなく窮地に立たされる。弱い立場の人たちは全く様々なこ とをする。 下女たちは誰がどこの家で仕事をしているか常に情報を交換 していることが多い。雇い主の奥さんたちもどの下女が使用人と してよく働くか情報を交換していた。私たちが帰国するときは、あ さひとあすかの幼稚園の先生が、プロバティの働きぶりを私に聞 いてきて、私たちが雇わなくなったら紹介してほしいといってき た。情報を確保するためにも、地域の人々への関心が高いので あろう。 インドのロードシェーディング(停電) シャンティニケタンでは暑い日はほぼ毎日、冬でさえも3日位 に1日は夕方7時~9時ころの間、停電になることが多かった。コ ルカタに滞在したことが何度かあったが、やはり夏場などは夜7 時頃から10時頃まで電力が復旧しなかった。停電になれば暑さ と暗闇の中で晩御飯の用意をしたり、外に出て蚊と戦いながら 涼んだりするということが珍しくなかった。開き直って考えると、暗 闇は太古の昔から存在していたのだ。シャンティニケタンでは停 電になると、夜空にこれほど星があったのかというくらい、無数の 美しい星が見えた。そして蛍が飛んでいたりもした。夜であって も月が照っていれば随分、視界が開けた。平安時代に、日本で 貴族たちが月を和歌に詠んだ気持ちがわかる気がした。 家にいるときに、停電になると、私たち親子は暑さのため仕方 なくベランダや庭にろうそくや充電式ライトを持って外に出た。イ ンドの停電は夕方から夜に起こることが多いのだ。すると4歳の 子どもたちは、手をパンパンして、蚊をたたいた。しかし、暗闇の 中で灯されたライトには無数の虫が寄ってくるのは仕方がない。 いくらパンパンやってもきりがないのだ。テレビも見られないし、 食事の準備も暗闇では不便でできないし、出かけるにも暗くて 難しい。何もすることがないので、お絵かきをしたり、ティクティキ (とかげの一種)が虫を食べるところをみたり、今日の幼稚園での ことを話したりして過ごした。隣人たちは、どうせ家の中にいるこ とが暑くてできないので、門の近くまで出ていって、うちわを片手 に井戸端会議を始めたりする光景もよく目にした。停電による暗 闇の中では、人々は余計にコミュニケーションとるしか時間を有 効に過ごせないのかもしれない。 昼間の泥棒 インドでは昼から日が暮れる夕方5時くらいまでは暑いので、 体力を消耗しないようにするためか家の中で過ごす人が多い。 昼食やお風呂、お昼寝をして過ごし、3時から4時ころに起きて お茶を飲む。下女が3時ころやってきて昼食の片付けをする。4 時から5時ころになると夕食の前にティフィンとよばれる軽食をと る。私たちは昼寝の習慣がないので昼に家にいても起きている ことが多かった。私はドアの近くにいつも自転車を置いていた。 夜なら家の中にしまってから寝た。皆がうたた寝しているはずの 真昼間、うちには元気は二人の男の子が暑い昼に関係なく遊び まわっていた。ある日、あさひが真昼間、家の外に出た。すると すぐ家の中に戻ってきて、「マミ、お外におにいちゃんいる」とい

う。私は何で人がいるのかわからず外に出てみた。すると若い兄 ちゃんが軒下にいて「大家さんに頼まれて」と何かを見に来たよ うな話をした。私はそうなのかと思い、また家の中に入った。しば らくして、また、ある日子どもたちが真昼間に家の外に出ると、ま た「誰かいる」という。それで見に行くとまた同じ兄ちゃんが普通 歩く場所ではない妙な場所にいるではないか。私は絶対にこの 男は怪しい人物だと感じ、すぐに隣のおばあちゃんを壁越しに 呼んだ。するとおばあちゃんは昼寝を起こされ、「どうしたの」とい って窓から顔を出してくれた。事情を話すと、おばあちゃんは「 お前の顔見たからな。二度とくるな」といって、その怪しい若い男 を追っ払ってくれた。おばあちゃんの推測にでは、私が昼にドア の前においていた自転車を狙って泥棒に入っていたのだろうと いう。私以外に隣のおばあちゃんにも顔をしっかり記憶された泥 棒未遂者はそれっきり来なくなった。やっぱり、隣近所とは仲良 くしておくものだ。また、小さい町なので「顔を覚える」という手法 が、危険回避に利いているらしかった。 子どもへの関心の高さ 私が子連れで住んでいたせいもあるのだろうがインドの人々 の子どもに対する関心の高さを感じた。雨上がりに庭で子どもを 遊ばせていると、道を歩いていった下女風の一団が「shap asbe( 蛇でるよ)」と暗に雨上がりにすぐ外で遊ばせるのは危険だとい うことを教えてくれた。道を子連れで歩いていて子どもが転ん で足をすりむくと、反対側から歩いてきたおじいさんが「Dettol ragao(“デトル”塗りなさい)」といって消毒剤をすぐ塗るように言 ってくれた。何だか、地域ぐるみで子育てを応援してもらってい る気がした。逆に、子連れで店に行ったとき、子どもが店の前に ぶら下がっていたガムを手で触れただけで「あんたの子が盗ん だじゃないか」と店主が疑ってきたこともあった。私はお客の行 動をきちんと見ているべきなのは店主の方なのに、店主が勝手 に他の客とおしゃべりしたために、たまたま店にきていたわが子 を含むほかの客をきちんとみておらず、たまたまわが子がガムを 触っていただけで泥棒呼ばわりするなんて、あなたの職務怠慢 じゃないか、と言い返したことがあった。インドの「地域力」は、よ きにつけ悪しきにつけ、お互いに関心を持ち合う精神があること で作られているような気がした。 インドの「地域力」と日本の「地域力」 インド社会と日本社会における「地域力」の意味する範囲は 当然異なるだろう。「地域力」とは「地域資源の蓄積力、地域の 自治力、地域への関心力により培われるもの」であると前に触 れた。インドでの「地域力」とは、安全を確保するためであった り、情報を確保するためであったり、他の人に関心もってもらうた めにコミュニケーションをとったり、子どもに共通の関心があるた めに、地域の人々が作り出した力なのではないだろうか。「自治 力」は、インドではまだまだ個人レベルで確保するしかないかも しれないが、「地域力」によりかなり自治力が補われているように 思う。「地域の人への関心力」については、知らない人でも子ど ものために話しかけたり、隣人たちがよくコミュニケーションをとっ ており、日本よりとても「地域への関心力」が高くそれを行動に移 していたような気がした。 日本社会の人々はサービスを受けることに慣れてしまい、自 主的な活動の地域ボランティア活動にさえ完璧さを求めてしま っているような気がする。そのため忙しい毎日を送っている人々 がますます地域へのボランティア活動(とくに役員としての)参加 しにくい構造になっているのではないだろうか。「できる範囲」で しか協力できないのに、引き受けるからには「きちんと」他人に迷 惑をかけないようにしなければならない、という完璧を求める志 向を持つ人が多いために「地域力」にとって大切な、「地域への 関心力」が阻害されているように思えた。 デュルガプジャは皆が関心を持ち合うことにより、自分の周り に喜びにあふれた家族や仲間がいるということを改めて再確認 する、いわば「地域力」の結晶のような日なのかもしれない。その 「地域力」を感じることにより、新たに自分も周りの人々も気持ち を入れ直して再スタートできるのかもしれない。  (Anjali 2007 掲載)

www.batj.org

Durga Puja 2017

65


Haiku- A Literary Tie Between India and Japan - Sushmita Pal

H

aiku is one of the most important forms of traditional Japanese poetry. During my five years stay in Tokyo, I was impressed by the simplicity of haiku’s poetic expression which creates a suggestive, concise and momentary picture of its subject. The beauty of Japanese haiku poetry, inspired by Zen Buddhism, lies in the conciseness of expression which conveys a world of meaning and emotions. Katatsuburi /soro-soro nobore /fuji no yama Snail/inch by inch climbs /Mount Fuji Snail inch by inch climb Mount Fuji! ISSA

This haiku is written by Issa, the famous Japanese poet. The above haiku is a short but concise explanation that any great work can be accomplished by our efforts and patience.

Haiku is known as the ‘poetry of nature’, but it is more a poetry of life through unity with nature. Haiga is a haiku combined with illustrations. In other words haiga is a combination of image and text, often simple and sketch-like, where each element enhances the character of the other. Hito ha chiru/Totsu hito ha chiru/Kaze no ue A leaf falls/ Lo, another leaf falls/ With the wind. This classic haiku is written by Ransetsu, a Japanese poet. The above haiku explains about our transitory world. What is said in haiku is important but what is unsaid may also be important. The poet may talk of nature but he may be conveying some deep feeling, an intuition or a concrete experience of life. Haiku is more concerned with human emotion or with experience and nature is used to reflect or suggest that emotion. Haiku consists of short verse of 17 syllables in three metrical sections (lines) of 5-7-5 syllables. Kigo, a word or phrase suggestive of a season, is a must for haiku. It is the kigo’s constant presence that creates the erroneous impression that haiku is poetry of nature. Kigo is one of the elements that make such poetic compression possible. It may be an animal, plant, event, custom or any other word symbolizing the season. Haiku is a compact yet profound and evocative form of poetry originated in Japan but now is considered as a World literature. Matsuo Basho (1644-94), Taneguchi Buson (1715-83), Kobayashi Issa (1763-1827) and Masaoka Shiki (18661902) are the four pillars of haiku poetry. Many of the haiku poets even wrote travelogues in haiku. The most famous being Oku no hosomichi (The Narrow Road to the Deep North) by Basho, which became a classic. A Japanese woman named Niwa Kyoko has translated this work in Bengali. In 17th century haiku developed as a new style of poetry. Matsuo Basho the originator of haiku had more than 2000 students at the time of his death. Matsuo Basho India has its own very rich poetic heritage. Rabindranath Tagore the Nobel Laureate poet, writer, philosopher, musician, painter and educator visited Japan several times and Japanese haiku were translated into Bengali by Tagore early in the 20th century. In fact the credit of bringing haiku in India goes to Rabindranath Tagore. An example of classic haiku (by Basho): Kare eda ni/ Karasu no tomari/ Mizu no oto An old pond! /A frog jumps in /the sound of water Translation in Bengali by Kabiguru Rabindranath Tagore:-

পুর�োন�ো পুকুর   Purono pukur ব্যাঙের লাফ    Banger laf জলের শব্দ    Joler shobdo Tagore’s , ‘Fireflies’, comes from the first verse of the bilingual ‘Lekhan’ (1926). It consists of 256 epigrams and short verses like haiku. The possibility of the influence of Japanese Haiku can be suggested. The compact style conveys memorable 66

Anjali

www.batj.org


Haiku- A Literary Tie Between India and Japan poetic expressions with great force and intensity. The brevity and crispness of these verses combined with the wit and wisdom contained in them make these poems extremely delightful and reader friendly. Here are few lines from the poem ‘Fireflies’. The beauty and romanticism of the poem is unique. I touch God in my song as the hill touches the far-away sea with its waterfall. The butterfly counts not months but moments, and has time enough. Let my love, like sunlight, surround you and yet give you illumined freedom. Love remains a secret even when spoken, for only a lover truly knows that he is loved. Emancipation from the bondage of the soil is no freedom for the tree. In love I pay my endless debt to thee for what thou art. The Tamil poet Subramania Bharati wrote an essay on haiku poetry as early as 1912. The poets of Bengal and Orissa had modeled their verses trying to catch the magical rhythm of the Japanese Haiku . With no knowledge of the Japanese language and no direct access to the original works, the first interest in haiku in India was developed through such translations. Some of the Indian poets started writing similar poetry in their own languages. In the ‘50s, we find a new form of poetry developing in India, which was short and expressive but free in style. Here are some examples from Hindi poetry: The first shower of rain/ The sky has thrown/ Its roots on earth (Shrikant Varma)

The butterflies/ Jumping from flower to flower/ Love letters of spring God (Sarveshwardayal Saxena) The pioneer of haiku is India’s scholar Prof. Satya Bhushan Verma - whose first translation of Japanese haiku into Hindi - ‘Japani Kavitaen’ was published in 1977. In 1981 Prof. Verma started a newsletter in Hindi called ‘Haiku’. This was in the form of an aerogramme. This publication was discontinued in 1989. Prof. Satya Bhushan Verma, a professor emeritus of Jawaharlal Nehru University, was chosen for the Masaoka Shiki International Haiku Prize in 2002. He shared the one million yen prize with an American poet - Cor van den Heuvel. The second Indian whose efforts are to be commended is Prof. B.S. Aggarwala who publishes a Hindi quarterly journal called ‘Haiku Bharati’, started in 1998 and continuing till today. There are about 300 poets writing in their native mother tongues associated with this quarterly Hindi journal. Some haiku are translated from the original into Hindi, and then published. Prof. Aggarwala, the author of several books in Hindi is currently working on a history of haiku in Hindi. Here is an inspiring story of Dr. Angelee Deodhar an ophthalmologist and how she became a famous haiku poet and illustrator. Born just before the partition in India, schooled in the best ‘English’ tradition she grew up in sylvan surrounds amongst the foothills of Himalaya, and fell in love with them. Her father was a doctor in the India Army, and her home was full of books and music. Even during medical school (graduate and post graduate studies) she wrote short stories, articles, poems - but never thought of writing as a career. After working as an ophthalmologist in remote villages for almost 18 years, she developed a life threatening recurrent pulmonary thrombo embolism with repeated prolonged hospitalization. This is when writing became a lifetime and a second career. Now, a decade later, her poems, stories and haiku have been published in USA, UK, Canada, Australia, Japan, Greece, Croatia, Romania, Finland, Poland and India. Of all the poetic forms she finds haiku most appealing. Throughout their deceptive simplicity one can share moments of absolute awareness, of truth, of images, or depths and heights of the spirit which transcend time, cultures and continents-bringing about universal peace and understanding. She believes that if more people turn to writing haiku, there would be more joy and less strife in our lives, in our world. Here is a haiku written by Angelee Deodhar. Dawn temple visit The conch and the bells Through the fog A three day seminar on ‘Impact of Haiku in Indian literature’ was held at the Institute of Asian Studies based in Chennai (Madras) from 29th-31st of March 1999. Several poets from India and Japan participated in this seminar. In India work on haiku is going on in different languages. Many books, newsletters, magazines are being published. Still a lot of effort is required to popularize haiku more. Haiku should be introduced in schools to gain more attention.  References: 1- An article on Japanese haiku poetry by- Dr. Satya Bhushan Verma 2- Haiku: An Indian Perspective by -Dr. Angelee Deodhar (Reprinted from Anjali 2005)

www.batj.org

Durga Puja 2017

67


♤♤ 西ベンガルのカンタ刺繍を求めて ♤♤ 伝統の工芸品から、農村女性の職業機会創出に向けて Encounter to Kantha Embroidery A heritage of West Bengal that brings about job opportunities to rural women

- Miki Yoshida 午前5時。コルカタ最大のターミナル駅、ハウラー・ステーショ ンは、既にゴッタ返している。汽車がでるまであと4分しかない。 駅までガンジス川の支流を渡るのだが、旧ブリッジは混むから新 しい橋を渡って行ってとドライバーに言ったのに、「Yes, Yes」と 言いながら、ドライバーは勝手に旧ブリッジの渋滞に突っ込んだ のだ。「5番線!」と叫んで、私は夫と義理の妹と駅を走った。4 番線まで来ると、隣のプラットフォームは8番線!5番線はどこ? !3人に聞くと、「アゲ、アゲ(真っ直ぐ)」とそれぞれ違う方向を 指差す。到着列車からは、大きな荷物を頭上や背中に乗せて、 村から出てきた物売りが続々と降りて来る。進めない。野菜と鶏 と布の山と人が駅に溢れる。あと一分。駅員がいた!聞くと、面 倒くさそうに顎で、あっちと示す。4番線前方。あった!「5」のサ イン。間一髪、ドアがない汽車に飛び乗った。珍しく定刻発車。 座席を探し、流れる汗をウエットティシューで拭きながら、「この 汽車、シャンティニケタンに行くのよね」と改めて不安になり、確 認。大丈夫。良かった。  この旅は、西ベンガル州に伝わるカンタ刺繍を探し求める 旅。この汽車に乗れなかったら、今回インドに来た意味がない。 ようやく汽車に間に合ったものの、まだ不安はあった。どこに行 けば、そのカンタ刺繍の源に行けるのか、ぼんやりとしかわか っていなかったからだ。車中は、様々な物売りが来る。何でもあ る。お菓子や目の前で作るスナック。ゆで卵。靴下。文房具。甘 いコーヒー。仙人のような風貌の歌手も来る。正直言って下手く そだが、同じ車両で歌をリクエストする乗客がいると、共に聴か ざるを得ない。二胡の原型のような弦楽器を弾きながら歌うが、 この楽器も玩具のような音しか奏でない。  コルカタから3時間余りでシャンティニケタンに着く。ここでイ ンド人の夫の活躍。車の交渉である。駅前の車をチャーターす る。外国人が顔を出すと値段が高くなるので、私は他人のふりを している。定かでない目的地を探しながら行くので、少し気が利 く運転手が良いが、贅沢は言っていられない。交渉まとまり、車 は発車。多分こっちの方角、という方向へ走り出した。

68

 ここシャンティニケタンは、ノーベル賞を受賞し、日本の岡 倉天心とも交流のあったインドの偉人ラビンドラ・タゴール氏が 晩年本拠地とした所である。彼が建てたタゴール大学があり、元 インド首相のインディラ・ガンジー女史もこの大学の卒業生であ る。この大学には教室がない。授業は、木の下に円座して行わ れる。また、ノーベル経済学賞を近年受賞したアマタ・セン博士 もシャンティニケタンに居を据える。この辺りでは、インテリな香り もする土地である。とは言え、それは一部のことで、村全体は日 本的水準からすると、かなりバックワード。インドの農村では、今 も牛の糞を燃料に使うが、この村でも、牛の糞を円盤型にして家 の壁にペタペタ貼って乾燥させている。これを燃やすと、ものす ごい煙が出て、横を通っただけで目が渋くなり涙が出る。  そろそろカンタ刺繍をご紹介しよう。日本では、まずお目に かかれない。インドにはサリーの美しさからも想像できるが、素 晴らしいテキスタイルの伝統がある。カンタもそのひとつである。 カンタというのは、そもそもは西ベンガル州に伝わる刺繍のステ ッチの名前であるが、今はその刺繍を施した製品もカンタと呼 ぶ。その発祥はベンガルの農村部。村の女性が使い古して柔ら かくなったコットンを幾重にも重ねた上に刺繍を施し、赤ちゃん の「おくるみ」を作ったのが始まりである。  まずコットンの布を三重、四重に重ね、それを縫い合わせる 為に地縫いをする。これは日本の刺し子のようなステッチだが、 1つの目が1ミリ程の、大変細かいステッチである。この布に、村 の生活や動物、植物、鳥、魚等身近で楽しいモチーフや、幾何 学的なデザインを描き、刺繍糸でカンタのバリエーションのステ ッチをする。刺繍の色糸は、もともとは村の女性のサリーの裾か ら色糸を抜いて使ったという。現在では、布はコットンだけでな く、シルクも使う。シルクの場合は布は重ねない。裏地をつける ことはあるが、基本的には一重である。また、先にデザインとカ ンタ刺繍をして、そのアウトラインに沿って細かい地縫いをする 場合もある。

Anjali

 私がカンタ刺繍に出会ったのは、結婚祝いに夫の身内から カンタ刺繍のベッドカバ ーを贈呈された時だっ た。目を見張った。す ごい。細かい地縫いの 上に、動物や村の人、 植物がカラフルに刺繍 され、何とも楽しい図柄 だった。以前からテキス タイルに興味のあった 私、ここでカンタ刺繍に 惚れ込んだ。幸運にも 義理の妹がインドでフ ァッション・デザイナー。 早速インドのテキスタイ ルと刺繍の手ほどきを 受けた。古いカンタがあ る博物館にも通った。 文献も調べ、カンタを 知る人の話を聞いた。 カンタを日本に紹介し たいと思った。その理 由はふたつ。日本で見 るインドのテキスタイル 製品は、戦後の日本の 繊維製品がそうだった ように、安いけれど質が 悪いというイメージがあ る。スーパーの売り場で www.batj.org


♤♤ 西ベンガルのカンタ刺繍を求めて ♤♤ 見かける500円の夏スカート。洗うと色落ちする綿のインテリア 製品。カンタを始め、工芸価値のあるインドのテキスタイルに出 会い、日本でのそのイメージを払拭したかった。もう一つの理由 は、以前から私はインドで職業機会を創出するプロジェクトに携 わっていたが、このカンタを日本に紹介し、質が良く、日本人の 好みに合う製品を生産する機会を作ることができれば、ここでも 村の女性に職業機会を作り出し、収入を得て生活が変わってい くことができる。ならば、カンタを作るところへ行って、何ができる か知りたいと思ったのが、今回のインドの旅の発端だ。  さて、駅前でチャーターした車は、農村を走り続けた。イン ドでは、年に一度、様々な工芸品の審査をし、優れた作者に章 を与える。カンタもその工芸品のひとつだった。受賞者に会い たい。しかし調べても、漠然と居住地域はこの辺、というところま でしかわからない。が、その僅かな情報を元に、車を走らせてい た。2時間後、「このあたりの村のはず」、と車を止めて、「○○さ んを知りませんか」とベンガル語で夫が村人に聞く。知らない、 と首を横に振る。それを何度も繰り返した。誰も知らない。やは り無理か・・・と思った。ベンガル語ができない私は、ここでは何 の役にも立たない。「見つからなくても、皆が協力してくれて、こ こまでしたら悔いはない」と思ったが、もう一度車を止めた。農作 業の休憩をしているグループに聞いた。「知ってる」「知ってる って!」鳥肌が立った。ドライバーは教えられたとおりの道を行 ったが、案の定、道に迷った。もう一度、通りすがりの村人に聞 く。「○○さんを知りませんか」「ああ、知ってるけど、その人は別 の村に嫁に行って、もうここにはいないよ」「どこの村?」「知らな い。けど、その人の母親の家ならわかるよ。」目と鼻の先だった。 到着。しかし、声をかけるのがためらわれ、家の前を何度も行っ たり来たりした。突然、見も知らぬ外国人が来て、相手にしても らえるだろうか。ドアは開いていた。誰か家にはいる。ここまで来 て、何を躊躇しているのか。えい!と勇気を出して、「今日は。ど なたか居られますかー」。一家のご主人が出てきた。「カンタを 探しています。○○さんにお会いしたいのですが」というと、家 に招き入れてくれた。カンタの作業場所は、二階だった。階段を 上がる足が震えた。 それから2時間、私はカンタの布に埋もれていた。前述のイン ドの国の工芸賞を受賞した奥さんが出てきて、次々と作品を見 せてくれた。この一家は、この村のカンタ生産の元締めでもある ことがわかった。村の女性によるカンタも出してきてくれた。ここ のカンタは、主にシルクに幾何学模様が施され、スカーフや、デ ュパタ(インドの女性が身にまとう大判のショール)、サリーになっ ていた。僅かだが、素晴らしいベッドカバーもあった。このカンタ は、日本でも「美しい」と思う人々が必ずいる!私は特に素晴ら しいと思う数点を求めた。 実はこの日、私はもう一人の工芸賞の受賞者を訪ねたかっ た。少し躊躇したが、聞いてみた。「ところで、同じ賞を別の年に 受けられた△△さんをご存知ですか。ここからあまり遠くない所 におられると思うのですが」「知ってますとも。彼女は私の弟の嫁 です。行ってみますか?私が連れて行 ってあげましょう。」

タは収入を得る製品にできる」と確信した。しかし、こうした元締 めが存在する社会では、製品の質やデザイン、価格もその元締 めが握っている。質やデザインを日本でももっと受け入れられる ように改善を重ねながら製品化するには、別途元締めが関わら ない生産者を作り出さなければ難しい。けれども、それができれ ば、新たに別の村で女性の職業機会の創出に結びつく。  2006年9月。コルカタの郊外に、女性の職業訓練センター を立ち上げた。元締めがいない村の女性にカンタ刺繍のトレー ニングを行い、一定の水準に達したら製品作成に入る。良い物 を作れば製品が売れ、収入が増える、という良い循環を彼女達 に理解してもらう。インド国内と日本で新規販路を開拓していく。 トレーニングと制作には、運良く、別の年に国の工芸賞を受賞 したカンタ制作者を先生に迎えることができた。難しいのは、現 地での日々の管理だ。3年越しで、工芸品の保護を専門にす る、信頼できるカウンシルとようやく巡り合い、そこに任せた。立 ち上げの資金は日本で準備する。全体の企画も日本で行う。 現在、6人の女性がトレーニングを受けている。相当質の高い 作品を作れるようになったので、間もなく本番生産開始である。 この間、作業者の品質に関する意識の向上をはかり、「ちょっと のシミだから大丈夫」はダメで、「No stain. Straight line must be straight.」と繰り返した。シミの原因になる元を除く為に、錆びな い刺繍針や、水洗いで落ちるデザインペンや、汗が落ちない工 夫など、制作環境や道具も提供した。トレーニング中も、僅かだ がお給料を支給し、諦めずにこの仕事を継続することが収入に 結びつくようにした。この6人が本格的に生産に入れば、次のグ ループの女性のトレーニングが始められる。現在の規模での試 みは、100人の女性に仕事を作ることはできないかもしれない が、できるところまでやっていきたい。1人でも、2人でも、これで 仕事ができて収入が得られれば、ゼロ人よりずっと良いではな いかと。  これは、私にとってライフタイムのプロジェクトである。しか し、今はこれを専門にしているわけではないので、時間が足りな い。「もっとこうしたい」ということを実現し、また複数のプロジェク トを立ち上げて行く為に、協力者を募っている。デザインのアイ ディアや、販路の開拓、現地との事務連絡やプロジェクトの企画 やマネジメント、資金調達路の多様化など、ヘルプが得られる と、とても嬉しい。ご興味のある方は、一度是非ご連絡ください。 もっとインドの女性の職業機会を作っていけるように・・・  吉田美紀 miki_mp_yoshida@yahoo.co.jp 連絡先:03-3457-1960

(Anjali 2007 掲載)

 車に乗って更に一時間弱。もうす ぐ着きます、という時に、彼女はガタガ タの農道をすれ違う車に手を振って止 めた。知り合いだ。車には5-6人乗っ ている。何を話しているのか、私にはさ っぱりわからないが、夫が通訳してくれ た。「これから行く先の家族みたいだ。 今から、この先の村の祭りに皆で行くと ころ。でも、せっかく客人が来たから、家 に戻ってくれるんだって。」その車に先 導されて、もう一人の受賞者の家に向 かうが、近づくと細い小道になり車は入 れない。途中から雨上がりの泥道を歩 く。外国人が珍しいらしく、気がつくと村 の子供達が列をなして、後をついて来 ていた。こんなに幸運にも、また目指す 所にたどり着けた。ここのカンタもシルク が主体だが、先ほどのカンタとデザイン の味が異なり、村の生活のモチーフを 中心とした楽しい図柄が多かった。ここ でも数点入手し、帰途についた。「カン www.batj.org

Durga Puja 2017

69


子育ての行方 - 山田 さくら 私は今保育園に勤めているのだが、子育ての環境は急速に 悪化の一途をたどり、子供を育てる上での大切なものがどんど ん失われているという厳しい現実を日々目の当たりにしている。 それに比例するかのように未満児(0~2歳児)保育の需要が伸 び、保育園が子育ての重要な役割を果たすようになってきてい るのだが…  そんな日本の子育ての現実を見るにつけ、2001 年まで10年間暮らしていたインドの一般的な子育てのあり方を 思い返すことが多くなってきた。 *** インドのシャンティニケタンに住んでいた頃、その時住んでい た家が狭かったため、手ごろな広さの家を探していた。ある日、 良い家があるというので夫と二人でその家を見せてもらっての帰 り道、インド人の友人宅に寄った。家はどうだったか、とその友 人が尋ねたので「子供たちにも見せてから決めようと思う・・」と答 えると、納得できないというような顔をして私たちを見つめている のだ。当時息子たちは小6と小3だったように思う。すると、その 友人は「子供たちも同意した上で決めるというのは、たぶん良い ことなのかもしれない‥でも私たちインド人にはとても奇妙に思 える」と言うのだ。「子供は、大きな問題を決めるというセンスをま だ持っていない。だからインドでは子供たちは親の決めたことに 従うだけである。子供に相談を持ちかけることは決してない。こ れはこの国の伝統かもしれないが‥」それを聞いた時、私たち は頭をガーンと殴られたような気がしたものだ。本当に友人の言 うとおりである。相談を持ちかける内容や子供の年齢にもよるだ ろうが、親がしっかりとその辺を見極めていかないと、年端のい かない子供に大きな負担を強いることになりかねない。親の権 威ではなく、親の責任において決定しなければならない問題を 子供にも分担させようとする責任の回避を友人に見抜かれてし まったに違いない。そして、親の子に対する真の責任とは一体 何なのか?その問題をも突きつけられた気がしたのだった。 とにかく、私が見たインドの親たちは、子育てに心魂傾け全力 を注いでいるように見えた。日本人の目から見ると、子供たちの 身の回りのことに手を出し過ぎるのではないか思えるくらい世話 を焼く。健康管理にはかなり気を遣い、最低小学校に上がるま で、いや上がってからもしばらくは至れり尽くせりの子育てが続 いていた。手取り足取り面倒をみるのである。おそらく営々と続 いてきたインドの子育てのあり方であり、親の子に対する「愛」以 外の何ものでもないのだろう。日本では、死語となりつつある「 慈しみ育んでいく」子育ての有りようを見せてもらった気がする。 保育園での集団生活やマスメディアなどによる情報で、基本 的生活習慣(食事・排泄・着脱など)の自立を子供たちは小さい うちから急きたてられ、子供たちよりもまず、自分たちの生活を 守るのに必死になっているこの国の大半の親たち。置いてきぼ りを食った子供たちは一体どこへ行けばいいのだろう?満たさ れない飢えた心を抱えたまま右往左往している子供たちの行き 着く先は、一体どこにあるのか?子供は幼ければ幼いほど母親 を求めて已まない。子供が遊びに夢中になってそれに飽き、母 親を呼んで求めると必ず母親が応じてくれる。甘えたい時は、い つでも甘えさせてもらえる。そこに大きな安心感が生まれ、親と 子の絆・・愛情や信頼関係が育ち始める。子供が求めてきたら、 抱っこだっておんぶだって、何だってやってあげればいい。子 供の心の充足感がどんなに大切なことか ! 幼ければ幼いほど、 親は子供の心のよりどころである。まず親が子供を愛さなかった ら、子供たちはどのようにして本当の愛を知るだろう?だからこ そ、親は子供の誕生のその瞬間から、本当の意味での自立ま での全責任を負うべき義務があるはずなのだ。 *** 息子たちが通っていたシャンティニケタンの学校は、「木の下 で授業」をするというのがこの学校の創始者から受け継がれて いる教育の基本理念の一つだった。一時間目の国語はあの木 の下、二時間目の算数はこの木の下…というふうに全科目それ 70

ぞれ決まった木の下への移動教室になる。戸外での授業だか ら、授業中には周りでいろいろな展開、ハプニングがある。花や 木の葉がノートの上に落ちてきたり、鳥の糞が落ちてきたり…、 すぐ近くを牛・ヤギ・野良犬が通って行ったりする。リスたちの運 動会が始まったり、時にはハヌマーンと呼ばれている大きなサ ルの集団が遊びに来たりする。トカゲがカバンに入った、蟻に刺 された…などなど日常茶飯事のできごとだった。このシャンティ ニケタンだけではなく、インドでは人間と動物の生活が密着して いる。当たり前のように歩き回っている牛やヤギ。道をのそのそ と横切る牛たちを人も車もただ待つ、道のど真ん中でドカッと居 すわって動かない牛を避けるだけ、それらは当たり前のように行 われていた。重要な働き手である牛・馬・らば・ろば。ある州へ行 けば、ゾウやラクダもまた然りだったりする。サルも身近だ。うっ かり家の窓や戸を開けておくと必ず何か食べ物を盗んだりいた ずらをしたりする油断も隙もない隣人だった。身近に動物がいる ということは、人間は人間だけで生きているのではないということ を肌で感じさせてくれる。そして人間はまさに家畜と共存しなが ら生活を成り立たせている。車や機械とは全く違うつき合い方が そこにはあるに違いない。 ハンディキャップのある人、ものもらい、世捨て人、路上生活 者などなどインドでは、彼らもまた身近な存在だ。彼らが救いを 求めてきた時、目の前にいる時、どのように対応しどのようにつ き合えばいいのか、そういったことを学ばされ、自分の心を見る チャンスと人を助けるチャンスが与えられる。人を助けるチャン スを持てるということは、取りも直さず自分自身を救うことに他な らない。そのような人たちからも、動物たちからもそして虫たちか らさえも隔離された国は異常であると同時に不幸でもある。学校 の勉強だけではなく、子供たちが学んでいける環境を自らの手 で失くしてしまったのだから。子供たちが体得していける自然環 境をも…。 *** 二十年前、大量エネルギー消費社会、原子力発電所の乱 立、食物汚染や果てしなく続く自然破壊などを目の当たりにし、 危機感を感じながら過ごす日々だった。自分の子供たちを始め 次代の子供たちのために母親たちが手を取り合って草の根的 な運動をしていたこともあった。ところが今やどうだろう?逼迫し た地球温暖化、原発事故、地震、異常気象、子育てすらままな らない親たち…などなど、そしてさらに悪いことには憲法9条の 改憲の動きさえ出てきている。二十年前と比べものにならないほ ど、次代を担うこの国の子供たちの環境は悪化の一途をたどっ ている。人間の愚かさの極限に立たされているのかもしれない。 次代の子供たちのために、私たちの取るべき道は一体何なの か?大急ぎで考えなければいけない時期に来ている。悪くなる に任せるか、ほんの少しでも良くなる方向へと努力をするか、選 ばなければならない。 一日の始まり、そして終わり 平和で静かな美しい一瞬ときが ある この宇宙の終わりもまた そんな一瞬ときがあるのだろうか この宇宙の 一日が終わる前に 正法ダルマをとりもどす 準備はあるだろうか  全精力を尽く して 再び宇宙の始まる一瞬のために 目覚め 立ち上がり 希 望の種をとっておこう そして その一瞬を 待ち続けよう 『あらゆる魂は完全になるように運命づけられており、あらゆる 生き物は、ついには完全な状態になります。われわれが今ある ところの状態は、過去におけるわれわれの行為と思いの結果で あり、われわれの未来の状態は、われわれが今、思ったり言った りすることの結果である』これはインドの聖者、ヴィヴェカーナン ダの言葉だが、この言葉を信ずるなら、希望を友として歩き続け るだけである。次代を担う人たちのためにも。 

Anjali

www.batj.org


「私はアジア人?」 - シャモント 恵里菜 「9年間、インド(バンガロール)に留学していました。」と言う と、「インドと日本、どっちが好き?」とよく聞かれる。本当の事を 言うと日本の方が好きだが、そうダイレクトに言えない様な人達( 会社の取引先のインド人の方など)にはこう答える。「う~ん…難 しい質問ですね~…まぁ私は日本で生まれて、小学校卒業まで 日本で過ごして来たから日本の方が好きですが、インドも好きで すよ!だってインドの良い所は日本の悪い所で、日本の良い所 はインドの悪い所ですから…」本音に嘘を混ぜたような答えだ。 では、私の「本音」とは何なのか?あらかじめ言わせていただき ますが、私はインド人と日本人のハーフです。だが、インドと日 本という180度違う環境を見てきて、その他のアジア諸国を短期 間ながらも旅してきて思ったのは「私はアジア人だ」ということで す。ここから先、インドと日本の事を書いていきますが、「一般的 には」という感覚で読んでください。決して「皆が皆そうである」と 言う訳ではないので、どうかくれぐれも「その国の人はほぼ皆そう なんだ」と頭にたたき込まないでください(笑) さて、先ほどの「私はアジア人」の話に戻しますが…なぜ私が こう思うようになったのかと言うと、血筋的にはインド+日本なの に、性格的にはインド+日本+その他のアジア人みたいな感じ だし、見た目的にも「地図上でのハーフ」みたいになっているん です。性格に関して言うと、日本人ほど時間にきっちりしていな いけど、インド人ほどルーズでもない。「人の事を思いやる」とい う点でも、日本人ほど気を使うのは好きではないけれど、インド 人ほど他人なんてどうでも良いと思うのもどうかと思う。(注:ここ で言う他人とは、知らない人 – つまりStranger。ちなみにインドで は家族や友達にはとてもやさしい。)かと思えば食生活やダイエ ットについては日本人と同じで考えるし、金銭感覚に関してはイ ンド人の考え方に賛成だ。 これだけならまぁ良いのだが… 実は私、日本にいてもインドにいても「外人扱い」なのだ。どち らかと言えば日本寄りの顔だが、それでもたまに日本の警察の 人に「(外国人)登録書見せて」と言われる事がある。ところがタ イに行くと現地語で話しかけられるのだ。香港でも、マルチカル チャーな国だからか、中国語(広東語)で話しかけられることが ある。更に言うと、私が思う「住みやすい国」はアジア限定で言う とシンガポールか香港だと思っている。細かいことは気にしない が、相手に不快な思いをさせるような事はしない。(香港には中 国本土から来ている人も多いのだが、香港人であればマナーを 守る。)そもそも、この2つの国はマルチカルチャーだから、いろ いろな国の良い所をうまい具合に取り入れられているのだろう。 プラス、どちらの国もほとんどの人に英語が通じるから(少なくと も私は)不便な思いをする事もない。英語について言えば、日本 は外国人にとっては不便な国だと思っている。私は日本語の読 み書きが出来るので以前はあまり気がつかなかったが、客観的 に考えてみたらすごく不便だな~と思うようになった。 こういう総合的に考えてたどり着いたのが、私はインド人でも 日本人でもなく「アジア人」なのだという事。ちなみに「地球人」も 思いついたのだが、アメリカ人の友達等を見ていると振舞い方 が根本的に違うし、考え方は似ている所もあるが、やはり違う所 が多い様に思えるからだ。

 さっきから「アジア人」などど言って都合の良い風に名前を つけているが、要は「中途半端」なのだ。私みたいな人間は時に 困ることがある。先ほど書いた通り、私はどちらかと言えば「日本 寄りのハーフ」だ。だから、インドに行けば日本人や中国人だと 思われる。となると、インドのタクシーの運転手や売り子は必ず「 ぼったくろう」と考える。なめられている気がして頭にくるので自 然と「私がこの国で生きていくには強くなるしかない!」となる。も し、タクシーの運転手や売り子だけならまだ良いのだが、同じ寮 に住んでいたインド人から「日本に帰ったら○○買ってきてね。 お金は払うから!」といわれ、最初何もわからなかった私は頼ま れたものをなるべく買ってこようとした。ところが実際にお金を払 ってくれる人はごく一部の人だけだし、それ以前に持って行くの は大変だ!一人や二人なら重さもそんなでもないし、払ってくれ なくてもそれほど困らないが、人数が多いと金額も重さも結構な 負担になる。 9年間の留学で日本に帰国したのは12~13回ほどだった が、「日本に帰ったら○○買ってきてね。お金は払うから!」と言 われなかったことは一度もない。別の外国人と話して判った事だ が、外国人に「○○買ってきて!」というのはどうやらもう「お決ま り」らしい。「お金を払うから」の部分に関しては払う人もちゃんと いるが、数ヵ月後に払ってくれたという話も聞く。こういうことがあ るから外国人は強くならなければナメられるばかりだ。(ちなみに 外国に住むインド人が里帰りする時も同じような事があるみたい です。) この「強さ」はインドに「外国人」としているときは良かった。とこ ろが、留学を終えて日本に戻ってくると、この「強さ」はあまり必 要ないのだ。日本で暮らしていく上で最も必要なの「言っている 事の本当の意味を読む力」だ。例えば、日本人が言う「近くに来 たら、是非家に遊びに来てくださいね!」 これはほぼ社交辞令だ、中には本当に心から招待している人 もいるが、特に都会ではごく一部の人達だ。外国ではこの様な 事はあまり無い様だ。海外では急に遊びに行っても歓迎されし、 そもそも遊びに来て欲しくないと思っている人には「是非遊びに 来て下さい」なんて言わない。「社交辞令」と言う日本のカルチャ ーは非常に面倒くさい。昔と比べればまだマシにはなっている のかもしれないが、世界的に見ればやっぱり「心にも無いことを 言う」という行為は理解しがたいと思う。 もちろん、インドにも日本にも良い部分はある。インドは何と言 っても家族の絆が強いし、言語をマスターする能力には驚かさ れる。日本はマナーを守るとか、勉強よりも「生活力」がある人が 多い気がする。(日本で家政婦さんを雇える人はごく一部の人 ですからね!) 皆さんはこういう事をじっくり考えたことはあるでしょうか? 私はこういう事を考えすぎるので悩める子羊みたいになって いますが、それを乗り越えてそれぞれの国の良い所を取り入れ られれば最高ですよね!あと、色々な国に訪問したり、人々と交 流する事で物事を客観的に考えられる様にもなります。みなさん も是非一度じっくり考えて見て下さい。面白い発見があるかも知 れませんよ! 

(Anjali 2011 掲載)

www.batj.org

Durga Puja 2017

71


初めてのインド - 羽成 千亜希 2009年12月。私は初めてインドへ行きました。20歳頃に、「インドに行ってみたい!」と心に湧いてから、念願が叶ったのは、10年 以上かかりました。 「なぜそんなに行ってみたいと思ったのか?」 これは、自分でもありきたりな理由ですが、①どんな国かみてみたい ②TVや、人の話を聞くとなお興味が湧く③インドの空気を 吸ってみたい ④宗教と共に生きる人達はどういう人達か? ⑤何か特別なものがあるのではないか?そしてなにより ⑥なぜか魅 かれる ということが1番でした。 現在私は、インドと切っても切れない縁があると思っています。家族。義母がインド人であること。夫が半分インド人であること。そし て、ヨガ。義父は、私のヨガの先生です。こういった自分を取り巻く環境は、今はなんともインドの一部が、私の生きることに深く関わっ ていると思っています。まず行くと決まったときの、高揚感とはさすがに!10年かけて、望みが叶うだけに、とても幸せに思えました。 出発し、飛行機が無事にデリー、インディラ・ガンジー空港に着陸した瞬間、心の中で万歳している自分がいました。この旅は、夫と 2人。夫は、数回経験があるため、私は、少々安心でした。 空港。空港には、その国特有の「におい」がある話は、皆さんどう思われるか?ここで第一印象がくるわけだろうと! ・・・なんとも私 は「ここは、落ち着くな~!」と、喜ぶ自分を感じました。大丈夫だと確信しました。これを境に、この旅は楽しいものになるだろうと感 じました。デリー、リシケシ、アグラ、ベナレス を20日間で周りました。  1番の目的はリシケシ。ヨガをするためです。アシュラム滞在は、とても快適で、 充実した日々でした。『環境』これは、何にも勝る素晴らしいものと思えました。  滞在所。窓を開ければ、目の前はガンガー。12月で少し寒いが、ガンガーの水 面と流れは、美しく、穏やかで、太陽はまどろむように輝いて、ただ座り、ガンガーを 眺め、陽を浴びているだけで、インドに来てとても充たされた気持ちになりました。  このガンガーは『聖なる河』。TVで見る、「いわゆるガンガー」の様子は、きっと ベナレス辺りのものが多いと思います。が、 ここ上流のリシケシのガンガーは、私の情 報で知っていたガンガーとは、違うもので した。混沌ではなく、きれいで、不思議な 安らぎを放っていました。なんとも静かな、 穏やかな、優しい、この河は見ているだけ で、心洗われる気持ちでした。小さな波が 流れて、流れて・・・何もかも流れて今在るものだけでいいのだな、と思わされました。日本と は違う時間が流れている。アシュラム滞在中、生活様式も少々日本とは異なるが、正に陽 と共に起きて、陽が暮れると人は休むのだな、という生活でした。日本での毎日は、なかな かそういう訳にもいかず、この太陽のサイクルで生活する日々を満喫しました。このサイクル が、自然と共に生きる、そしてヨガ的生活だと実感し、心地良かったです。 アシュラムは高台に立地し、静かで、広々とした、とても素晴らしい環境でした。アシュラム の方々も皆親切で、気持ちのいい毎日でした。そこにある調和によって、環境は生み出され るものだと心底感じました。細かな1つ1つよりも、全体から感じられるもの。これが、私のイン ドの印象の大きなものとなりました。 そして「GAYATRI Mantra」を初めて知りました。朝は隣の寺院や、河の向こうから爆音で 聞こえてきました。あとでこのマントラは何か、どういうこと言っているかを知りましたが、意味 は分からずとも、音階と音調が気になり、CDも買いました。「買うなら絶対これよ!」こうしたコ ミュニケーションも楽しかったです。(有名なシンガーのCD勧められた) その後、リシケシ~アグラ~ベナレス~デリー と周りました。ハプニングもありましたが、困った時は、いつもインドの方々に助けて 頂いて、無事20日間の旅を終えました。景色、食べ物、体験が、この旅を作り、人との触れあいが暖かさをもたらしてくれました。イン ド人の優しい部分に触れられたことは、とてもとても私に良い印象と経験となりました。こういった経験が出来るのは行けたからこそ、 インドへ来られたことに毎日感謝の気持ちでいっぱいでした。そして、楽しく元気に過ごしました。(少々お腹は壊しましたが・・・) 自分で見て、触れて、感じて、もっとインドが好きになり、興味を持つようになりました。この「空気」を吸えたことが、自分の内側から の喜びとわかり、これからもまたぜひ行きたいです。 ヨガと、家族がある限り、この国に触れて、学んで、繋がっていきたいと思います。  (Anjali 2011 掲載)

72

Anjali

www.batj.org


Abstract painting of Goddess Durga by Arpana Roy Nandi www.batj.org

Durga Puja 2017

73


ভগিনী নিবেদিতা   - তপন কুমার রায় নিবেদিতা (The Dedicated) নামে। আপামর মানু ষ তাঁকে চিনল ভগিনী নিবেদিতা নামে। আজ ভারতবর্ষের অনেক জায়গাতেই ভগিনী নিবেদিতার জন্মের সার্ধশতবর্ষ পালন করা হচ্ছে। চেষ্টা চলছে ওনার জীবনী ও কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করার। ধর্মীয় চেতনা, নারীশিক্ষার বিস্তার, সমাজসেবা, জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতা আন্দোলন, সাহিত্য-শিল্প-বিজ্ঞানে অনু রাগ, ইতিহাস সচেতনতা ইত্যাদি নানা বিষয়ে ওনার বহুমুখী আগ্রহ দিয়ে উনি শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-দরিদ্র ইত্যাদি সমাজের সমস্ত মানু ষের কাছে তাঁদের প্রিয় ভগিনী হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। ফলে ওনাকে এক একজন মানু ষ এক একভাবে শ্রদ্ধা জানায়।

ভগিনী নিবেদিতা

ত্তর আয়ারল্যান্ডের টাইর�োন কাউন্টির ডানগান নামের একটা ছ�োট্ট শহরে ২৮শে অক্টোবর ১৮৬৭ সালে মার্গারেট এলিজাবেথ ন�োব্‌ল নামে যে ছ�োট্ট শিশু কন্যা জন্মগ্রহণ করলেন তিনিই উত্তরকালে আমাদের সবার শ্রদ্ধেয় ভগিনী নিবেদিতা। পিতা স্যামুয়েল রিচাৱড ন�োব্‌ল ও মাতা মেরি ন�োব্‌ল। তার ধর্মযাজক পিতামহ জন ন�োব্‌ল ও দেশসাধক মাতামহ আয়ারল্যান্ডে ব্রিটিশ বির�োধী আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহণ করতেন। অত্যন্ত অল্প বয়সে মার্গারেট পিতৃহীন হলে তার মধ্যেও পারিবারিক রাজনৈতিক আবহাওয়া প্রভাব ফেলে।

উত্তর ক�োলকাতার বাগবাজারের অন্তর্গত ১৭ নম্বর ব�োসপাড়া লেন হয়ে গেল ওনার পাকাপাকি ঠিকানা যা পরবর্তী সময়ে একটি তীর্থস্থান হয়ে ওঠে। এই বাড়ি থেকেই শুরু হয় ওনার প্রতিষ্ঠিত স্কুল মেয়েদের শিক্ষা বিস্তার করার জন্য। কালীপূ জ�োর দিন শ্রী শ্রী সারদা মা স্বয়ং উপস্থিত থেকে স্কুলের উদ্বোধন অনু ষ্ঠান সম্পন্ন করেন। সংঘ মাতা শ্রীমা নিবেদিতাকে আদর করে খুকি নামে সম্বোধন করতেন। লক্ষ্য করার বিষয় যে এই দু ই মহীয়সী নারীর ভাব আদানপ্রদান করার জন্য ভাষা কিন্তু ক�োন বাধার সৃষ্টি করতে পারে নি। কারণ প্রথমদিকে ভারতে এসে নিবেদিতার তখনও পর্যন্ত বাংলা ভাষায় পুর�োপুরি রপ্ত হওয়া হয়ে ওঠে নি।

ইংল্যান্ডে হ্যালিফাক্স কলেজের ছাত্রী হিসেবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পরের দশ বছর মার্গারেট কেশউইক, রেক্সাম ও চেষ্টারে সগ�ৌরবে শিক্ষকতা করেন। ১৮৯২ খৃষ্টাব্দে নিজের আদর্শ মুক্ত-শিক্ষা পদ্ধতি প্রয়�োগ করলেন নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘রাস্কিন স্কুলে’। উইম্বলডনে তিনি ততদিনে একজন জনপ্রিয় শিক্ষয়িত্রী। এ ছাড়া সিসেম ক্লাবের সম্পাদিকা হিসেবে তাঁর নাম শিক্ষিত মহলে ছড়িয়ে পড়েছিল। সিসেম ক্লাবের সভায় যারা বক্তৃ তা দিতে এসেছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখয�োগ্য নাম হল, বার্নারড শ, বারট্রান্ড রাসেল, এইচ জি ওয়েলস, সিডনি ওয়েব এবং বিয়াট্রিস ওয়েবের মত বিখ্যাত মানু ষ। নারী আন্দোলন নিয়েও উনি সেই সময়ে ইংল্যান্ডের বহু পত্র পত্রিকায় লিখেছিলেন। স্বভাবগত ভাবে মারগারেটের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার ছাড়াও জনসেবা মূ লক কাজ করার জন্য একটা চেষ্টা সর্বদা কাজ করত। কিন্তু শত কাজের মধ্যেও ওঁর মধ্যে একটা অনিশ্চয়তা, নিঃসঙ্গতা ও সংশয়ের বেদনা রয়ে গিয়েছিল। এই সময় ১৮৯৭ সালে লন্ডন সফররত বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের কয়েকটি বক্তৃ তা ও আল�োচনা শুনে তিনি যেন নতুন ক�োন আল�োকবর্তিকার সন্ধান পেলেন। আর পেলেন আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে নতুন ভাবে উপলব্ধি করার ক্ষমতা। বিবেকানন্দের মানবপ্রেম, উদাত্ত বাণী ও দু র্জয় কর্মশক্তি মার্গারেটকে উদ্বু দ্ধ করল। স্বামীজির আহ্বানে সাড়া দিলেন এবং প্রতিশ্রুতি দিলেন যে আমৃ ত্যু উনি স্বামীজির কর্মযজ্ঞে শামিল থাকবেন কথামত উনি ১৮৯৮ সালের ২৮শে জানু য়ারি ক�োলকাতার মাটিতে পা রাখলেন এবং বাকী জীবন ভারতের উন্নতি কল্পে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। স্বামীজী বলতেন, নিবেদিতা এখানে গুরু গিরি করেতে আসেনি। ও এসেছে নিজের জীবন ভারতের মানু ষের জন্য দান করতে। স্বামীজি ক�োলকাতার স্টার থিয়েটারে একটি জনসভা আয়�োজন করে ক�োলকাতার মানু ষের কাছে মার্গারেটকে পরিচিত করান। তারপর মার্গারেট ১৮৯৮ সালের ২৫শে মার্চ বিবেকানন্দের মন্ত্রশিষ্য হয়ে সন্ন্যাস গ্রহণ করলেন। জন্মসূ ত্রে পাওয়া পূ র্বনাম ত্যাগ করে জগত সংসারে পরিচিত হলেন 74

স্বামী বিবেকানন্দ ও ভগিনী নিবেদিতা স্বামীজির সঙ্গে এর পরে উনি ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেন ও ক্রমশ এখানকার মানু ষজনের সঙ্গে পরিচিত হলেন। পরিচিত হলেন ভারতের বিভিন্ন জায়গার সংস্কৃ তি ও জীবন ধারণের সঙ্গে। পরিচিত হলেন ভারতের মানু ষের ধর্ম বিশ্বাসের প্রকৃতি ও ধারার সঙ্গে। এ সময় ওনার নজর এড়ায়নি কুসংস্কারগ্রস্ত ভারতীয় সমাজে সাধারণ মানু ষের দারিদ্র্য ও বৈষম্য। ওনার চ�োখে পড়ে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকের অত্যাচারের এবং বিভেদ মূ লক আচরণ। ওনার নজর এড়ায়নি বিবেকানন্দের বজ্র নির্ঘোষ উদাত্ত আহ্বান দেশের তরুণ সমাজকে কতটা উদ্বু দ্ধ করেছিল। উনি চেয়েছিলেন দেশের তরুণদের মধ্যে হ�োক muscles of iron, nerves of steel and gigantic wills. স্বামীজি চেয়েছিলেন দেশের নারীশক্তিকে জাগিয়ে তুলতে যা ভগিনী নিবেদিতার অন্তর স্পর্শ করেছিল। নিবেদিতার ব্রত হয়ে দাঁড়াল�ো নারীসমাজকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকারিণী করতে কারণ উনি মনে প্রানে বিশ্বাস করতেন যে অশিক্ষিত ও রুগ্ন মা কখনও প্রকৃত ভাবে সন্তান পালনে সক্ষম হতে পারে না। এরই মধ্যে উনি আবিষ্কার করলেন ভারতের ঐতিহ্যপূ র্ণ ইতিহাস ও সংস্কৃ তি। পণ করলেন দীর্ঘ দিনের জমে ওঠা কুসংস্কারের জঞ্জাল সরিয়ে ভারতের মানু ষের কাছে আবার নতুন করে তুলে ধরবেন তাদের গর্বের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

Anjali

স্বামীজী সে সময় রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বিরাট কর্মকাণ্ডের www.batj.org


ভগিনী নিবেদিতা আয়�োজনে ব্যস্ত। নিবেদিতা স্থানীয় মানু ষদের কাছে দেখতে দেখতে ঘরের মানু ষ হয়ে উঠলেন। ওরা ওদের রক্ষণশীলতা ও প্রাথমিক জড়তা শীগগির কাটিয়ে উঠল। আমরা শুনেছি ক�োলকাতায় প্লেগের মহামারীর সময় উনি একা হাতে কেমন ভাবে ম�োকাবিলা করেছিলেন যখন তথাকথিত মধ্যবিত্ত বাসিন্দারা মহামারীর ভয়ে শহর ছাড়তে ব্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন। একজন বিদেশিনীকে এ ভাবে সমাজসেবা ও শিক্ষা বিস্তারে জড়িয়ে পড়তে দেখে স্থানীয় কুসংস্কারে ডুবে থাকা মানু ষ স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। তারা বু ঝল যে উনি এসেছেন তাদের মধ্যে একজন হয়ে ভারতবর্ষকে ভাল বাসতে। এই সময় উনি লক্ষ্য করলেন যে তলায় তলায় এক শ্রেণীর মানু ষের মধ্যে শাসক ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও বিদ্বেষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। দেশীয় মানু ষের সঙ্গে ব্রিটিশদের বৈষম্যমূ লক আচরণ এরা খ�োলা মনে মেনে নিতে পারছিল না। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন মতের নেতৃত্ব উঠে আসছিল। এদের মধ্যে এক শ্রেণীর মত ছিল শাসকশ্রেণীর সশস্ত্র বিরুদ্ধতা করার। ঠিক এরকম ক�োন সময়ে অরবিন্দ ঘ�োষের সঙ্গে ওনার পরিচিতি হলে উনি নিজের অজান্তেই সশস্ত্র বিপ্লবের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। অরবিন্দ ঘ�োষের কর্ময�োগীন পত্রিকার সঙ্গেও উনি সরাসরি জড়িয়ে পড়েন. ওনার এই সব কর্মকাণ্ড স্বামীজির অগ�োচরে না থাকলেও এ বিষয়ে উনি নিজে থেকে নিবেদিতার এই নীতির বির�োধিতা কখনই করেন নি। ১৯০২ সালের ৪ঠা জুলাই স্বামীজির অকালপ্রয়াণ হলে ভারতের আকাশে একটা মহাশুন্যতার সৃষ্টি হয়। পরবর্তী কর্মপদ্ধতি নিয়ে রামকৃষ্ণ সংঘ স্বামীজির নির্দেশিত পথ অনু সরণ করার সিদ্ধান্ত নিলেও নিবেদিতাকে নিয়ে তাঁদের মনে একটা দ�োলাচলের সৃষ্টি হয়। ঘটনাপ্রবাহের গতি দেখে কিছু দিনের মধ্যেই নিবেদিতা রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নিলেন যাতে ওনার আচার্য স্বামী বিবেকানন্দের নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে ক�োনরকম ক্ষতি না হয়। ফলত স্বামীজীর সতীর্থ ও শিষ্যদের সঙ্গে ওনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অটুট থাকল এবং বাগবাজারের উদ্বোধন বাড়িতে শ্রী মায়ের স্নেহধন্য খুকুর যাতায়াতে একটুও খামতি পড়েনি। রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের পর আত্মপরিচয় রূপে তিনি লিখতেন Nivedita of Ramakrishna-Vivekananda. সন্দেহ নেই এই পরিচয়ই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। ব্রিটিশ পুলিশের গ�োয়েন্দা বিভাগের নজর কিন্তু নিবেদিতার কর্মকাণ্ডের ওপর সর্বদাই সজাগ ছিল। স্বামীজীর প্রয়াণের পরবর্তী সময়ে যখন বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের শুরু হয় ব্রিটিশ পুলিশের মতে এই বাগবাজার অঞ্চলই ছিল সে আন্দোলনের আঁতুড় ঘর। তখনকার ক�োলকাতা পুলিশের গ�োয়েন্দা বিভাগের একটি প্রতিবেদনে নিবেদিতার সম্বন্ধে লিখেছেন, “She settled down in Calcutta and lives a secluded life at 17 Bose Para Lane where she started a Bengali Girls’ School on the model of a Kindergarten. She dresses in a semi native fashion and goes bear-headed without shoes”. এই প্রতিবেদনটি থেকে সেসময়ের ইংরেজ পুরুষ সমাজে রক্ষণশীলতা ও মহিলাদের প্রতি স�ৌজন্যব�োধের নমুনা খানিকটা হলেও পাওয়া যায়। তদানীন্তন স্টেটসম্যান পত্রিকার সম্পাদক স্যামুয়েল র‍্যাটক্লিফ ছিলেন নিবেদিতার একজন গুণমুগ্ধ বন্ধু । ওই পত্রিকা সম্পাদকের উদ্দেশ্যে নিবেদিতার স্বনামে ও ছদ্মনামে লেখা প্রচুর চিঠি ছেপে ছিল। সম্পাদক মশায় এর ফলস্বরূপ শাসক গ�োষ্ঠীর কুনজর এড়াতে পারেন নি। ফলে শেষ পর্যন্ত তাঁকে এই কাগজের চাকরী ছাড়তে বাধ্য করা হয়। উনি নিবেদিতার দেহান্তরের পরে ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে মডার্ন রিভিউ পত্রিকায় SISTER NIVEDITA: AN ENGLISH TRIBUTE নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। নিবেদিতার এই বিশাল কর্মকাণ্ডের মধ্যে কিন্তু সাহিত্য, কলা, সঙ্গীত, নাট্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অনু সন্ধিৎসার কিছু মাত্র খামতি পড়ে নি। এর সঙ্গে চলতে থাকে তাঁর লেখা চিঠি ও প্রবন্ধের সম্ভার। ওনার লেখা কয়েকটি বইয়ের উল্লেখ করলেই এই বহুমুখী প্রতিভার

খানিকটা পরিচয় পাওয়া যাবে। ব্যক্তিগত ভাবে তিনি আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু ও অবলা বসু র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ওনার বিশেষ গুণগ্রাহী ছিলেন। আমরা জানি ওনার অনূ দিত রবীন্দ্রনাথের কাবু লিওয়ালা নামের ছ�োট গল্পটি কি ভাবে পাশ্চাত্যের সাহিত্য জগতে আল�োড়ন তুলে বিশ্বের মানু ষের কাছে বাংলা ভাষার কদর বাড়িয়ে দেয়। নন্দলাল বসু কে ক�োলকাতার সদ্য প্রতিষ্ঠিত আর্ট কলেজ ছেড়ে ভারতীয় কলা শিক্ষার জন্য একরকম জ�োর করে অজন্তা-ইল�োরায় পাঠান�ো নিশ্চিতভাবে একটা নতুন ইতিহাস রচনা করেছিল। ঠাকুরের পরম ভক্ত নাট্যকার গিরীশ চন্দ্র ঘ�োষ অনেক সময়ে ভগিনী নিবেদিতার কাছে অনু প্রেরণা পেয়ে থাকতেন। বিখ্যাত সাহিত্যিক দীনেশ চন্দ্র সেন ওনার কাছে প্রায়ই আসতেন তাঁর লেখার পান্ডুলিপি দেখাতে। খ্রিস্ট ধর্মে বিশ্বাসী পরিবারে জন্মে এবং পরবর্তী কালে ব্রহ্মচর্যে দীক্ষিত হয়েও নিবেদিতার অন্য ক�োন ধর্ম বিশ্বাসে ছু ৎমার্গ ছিল না। সমস্ত ধর্মের মানু ষদের ছিল ওনার কাছে অবারিত দ্বার। ওনার লেখা বইগুলি হল Kali the Mother Sonnenchein & Co 1900 The Web of Indian Life W. Heineman 1904 Crude Tales of Hinduism Longmans 1907 An Indian Book of Love and Death Longmans 1908 The Master as I Saw Him (Being pages from the Life of Swami Vivekananda, London, Longmans. Udbodhon Office, Calcutta Civic and National Ideas Udbodhon, Calcutta 1911 ওনার ওপর যারা লিখেছেন সেই তালিকায় রয়েছেন স্যর যদু নাথ সরকার, আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু , লেডী অবলা বসু , এফ জে আলেকজান্ডার, টি কে চেইনই, এস কে র‍্যাটক্লিফ, রামানন্দ চ্যাটারজী, ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ, ডঃ ভুপেন্দ্র নাথ দত্ত, সি এফ এন্ড্রুজ, গ�োপাল কৃষ্ণ গ�োখলে, ম�োহিত লাল মজুমদার, টি ভি আইয়ার, ও সি গাঙ্গুলি, কে এস রামাস্বামী শাস্ত্রী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রমেশ চন্দ্র মজুমদার, রাধা গ�োবিন্দ কর, লিজেল রেমঁ, এরিক হ্যামন্ড, বি জি খের, মহাত্মা গান্ধী, সু মিত�োরা ন�োমা, শঙ্করী প্রসাদ বসু ছাড়াও রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সন্ন্যাসী ও ভক্তরা আর আধু নিক যু গের অজস্র ঐতিহাসিক, ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা। নিবেদিতার প্রতিভা ও চরিত্র বিচিত্রধর্মী হওয়ার জন্য সমসাময়িক অনেকে তাঁকে নানাভাবে দেখেছেন। কেউ ছিলেন বন্ধু র মত অন্তরঙ্গ, কেউ গুরুজনের মত শ্রদ্ধার্হ, কেউ বা বালকের মত স্নেহের পাত্র – ভৎর্সনার পাত্রও বটে। আমরা বেশিরভাগ মানু ষ ওঁর শ্বেতশুভ্র গাউন পরা প�োশাক আর গলায় রুদ্রাক্ষের মালা দেখে অভ্যস্ত। ওঁর ব্যক্তিত্বের মধ্যে পাই হিমালয়ের শান্ত ভাব আর ওঁর কর্মকাণ্ড দেখে জানতে পারি উনি ছিলেন বজ্রের চেয়েও কঠিন চরিত্রের মানু ষ। আজ ওনার জন্মের সার্ধশতবর্ষ পালনের সময় একটু ভেবে দেখি আমরা কি ওনার সঠিক মূ ল্যায়ন করতে পেরেছি? মাত্র ৪৪ বছর বয়সে ১৯১১ সালের ১৩ই অক্টোবর দার্জিলিং-এ এক নিশিভ�োরে রায়-ভিলায় স্বল্প অসু স্থতার পরে উনি নশ্বর দেহ ছেড়ে রামকৃষ্ণ ল�োকে বিলীন হয়ে যান। উপনিষদের রুদ্রমন্ত্র জপের মধ্যে তাঁর শেষ বাণী ছিল The boat is sinking, but I shall see the Sun Rise. মৃ ত্যুর সময় ওনার পাশে ছিলেন আচার্য জগদীশ চন্দ্র ও তাঁর সহধর্মিণী লেডী অবলা বসু । ওই শৈল শহরে ওনার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে ওনার চিতা ভস্ম অদূ রে একটি জায়গায় সমাধিস্থ করা হয়। সমাধির ওপর শ্বেতপাথরের ফলকে লেখা Here repose the Ashes of Sister Nivedita (Margaret E. Noble of the Ramakrishna, Vivekananda) who gave her all to India. 

তথ্যপঞ্জী ১) ধ্রুপদী-এষণা – ভগিনী নিবেদিতা জন্মসার্ধশতবার্ষিকী সংখ্যা ২) Nivedita, Ratcliffe and The Statesman. The Statesman Festival number 2012 Tarun Goswami

www.batj.org

Durga Puja 2017

75


কবিতা ও গানের ভিতর দিয়ে যখন দেখি ভুবনখানি   - চন্দন আ

প্র

দীপ জ্বালাবার আগে যেমন সলতে পাকাতে হয়, তেমনি লেখার গভীরে প্রবেশের পূ র্বে কিছু নিরুপায় বাগ্‌বিস্তার আমার এই নিবন্ধে আজ করতে হচ্ছে। প্রথমেই স্পষ্ট করে দেওয়া যাক লেখার বিষয়। এই লেখায় আমাদের লক্ষ্য হল কবিতা ও গানের ভিতর দিয়ে রবীন্দ্রনাথের জীবনের একটি শিল্পিত খণ্ডচিত্র পাঠকের সামনে উপস্থিত করা। আর এক্ষেত্রে প্রধান সাক্ষী হিসেবে হাজির করান�ো হবে একটি করে গান ও কবিতাকে। গানটি বহুশ্রত, ‘আকাশ হতে খসল তারা’, সু চিত্রা মিত্রের কণ্ঠে যা প্রায় অমরতা লাভ করেছে; আর কবিতাটি হল ‘হায় গগন নহিলে ত�োমারে ধরিবে কেবা’। এটি রবীন্দ্রনাথের ‘উৎসর্গ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। গান থেকে জীবনে পৌঁছ�োন�ো, অর্থাৎ সৃষ্টি থেকে স্রষ্টার জীবনকে নির্মাণ করার প্রয়াস যে খুব একটা অমূ লক নয়, তার জন্য আমরা তিনজন বিখ্যাত সাহিত্যিকের মতামত পেশ করব। প্রথমেই দেখা যাক এই বিষয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের মত ঠিক কী ছিল। ‘ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের কবিতাসংগ্রহ--ভূ মিকা’ শীর্ষক প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, ‘কবিত্ব বু ঝিয়া লাভ আছে,সন্দেহ নাই, কিন্তু কবিত্ব অপেক্ষা কবিকে বু ঝিতে পারিলে আরও গুরুতর লাভ। কবিতা দর্পণ মাত্র--তাহার ভিতর কবির অবিকল ছায়া আছে’। লক্ষ করবার বিষয়, কবিতা এখানে দর্পণ হওয়ায় সেখানে সরাসরি কবির মানস-প্রতিবিম্ব ফুটে উঠবে, ক�োন�ো প্রতিসরিত ছবি নয়। প্রাচ্যের ঔপন্যাসিকের মত ছেড়ে এবার পাশ্চাত্যের দিকে তাকান�ো যাক। অস্কার ওয়াইল্ডের উপন্যাস ‘The Picture of Dorian Gray’-তে Basil Hallward বলেছিল –- ‘We live in an age when men treat art as if it were meant to be a form of biography’। চিত্রবিষয়ক এই মন্তব্যকে যদি, ব্যাপ্তার্থে, যে-ক�োন�ো সাহিত্যশিল্পের ক্ষেত্রে প্রয়�োগ করা যায় তা হলে স্পষ্ট হবে যে, সাহিত্যের মধ্যেই সু ন্দরভাবে আত্মগ�োপন করে আছেন সাহিত্যিকেরা। সৃষ্ট রচনাকর্মের মধ্য থেকেই তাই গড়ে ত�োলা সম্ভব সাহিত্যিকদের জীবনী। কারণ সামাজিকতার খাতিরে প্রত্যেক মানু ষের মত�ো সাহিত্যিকেরাও ক্ষেত্রবিশেষে মিথ্যাচারণ করতে পারেন, কিন্তু সৃ জনশিল্পে তাঁরা সবসময়ই নিজেদের প্রকাশ করতে ব্যাকুল থাকেন। এই বিষয়ে আমাদের তৃতীয় সাক্ষী স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। তিনিও ত�ো বলেছেন যে বাইরে থেকে জড়�ো করা উপাদানের স্তূ প কিছু তেই প্রকাশ করতে সক্ষম হয় না কবির অন্তরঙ্গ জীবনেতিহাসকে। তিনি নিজেই জানিয়েছেন— বাহির হইতে দেখ�ো না এমন করে, আমায় দেখ�ো না বাহিরে। আমায় পাবে না আমার দু খে ও সু খে, আমার বেদনা খুঁজ�ো না আমার বু কে, আমায় দেখিতে পাবে না আমার মুখে, কবিরে খুঁজিছ যেথায় সেথা সে নাহি রে। (উৎসর্গ-৬) যেহেতু ‘কবিরে পাবে না তাহার জীবনচরিতে’, তাই তাঁকে সন্ধান করতে হবে তাঁর সৃষ্টির মধ্যে, কারণ সেখানেই ‘গ�োপন বারতা লু কায়ে রাখিতে/ পারি নি আপন প্রাণে’। বলে রাখা প্রয়�োজন, আমাদের উপরিউক্ত এই সিদ্ধান্তকে অবশ্য উসকে দিয়েছে ইন্দিরা দেবীকে লেখা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথেরই একটি চিঠি, যেখানে কবি বলেছেন--‘জীবনে জ্ঞাত ও অজ্ঞাতসারে অনেক মিথ্যাচারণ করা যায়, কিন্তু কবিতায় কখনও মিথ্যা কথা বলিনে--সেই আমার জীবনের সমস্ত গভীর সত্যের একমাত্র আশ্রয়স্থল’। পাঞ্চভ�ৌতিক সভার ডায়ারি-লেখক ভূ তনাথবাবু ও ত�ো সেইরকমই জানিয়েছিলেন--‘কেবল পাঠকের এজলাসে লেখকের একটা এই ধর্মশপথ আছে যে,সত্য বলিব’।অর্থাৎ সৃ জনশিল্পে লেখকরা চিরকালই সত্য কথা প্রকাশ করে থাকেন। অবশ্য সে সত্য সত্যরক্ষাপূ র্বক বানিয়ে-ত�োলা-সত্য। রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রেও এই নিয়মের ক�োন�ো ব্যত্যয় লক্ষ করা যায় না। তাই সৃষ্ট সাহিত্য থেকে সংগৃহীত উপাদানই রবীন্দ্রনাথের জীবন গড়ে ত�োলার একমাত্র নির্ভরয�োগ্য উপাদান। আমাদের ভূ মিকা এখানেই শেষ। এবার সরাসরি গানের মধ্যে প্রবেশ করব।

প্রথমে গানটিকে উদ্ধৃ ত করা যাক। আকাশ হতে খসল তারা আঁধার রাতে পথহারা। প্রভাত তারে খুঁজতে যাবে--ধরার ধূ লায় খুঁজে পাবে তৃণে তৃণে শিশিরধারা। দু খের পথে গেল চলে--নিবল আল�ো, মরল�ো জ্বলে। রবির আল�ো নেমে এসে মিলিয়ে নেবে ভাল�োবেসে, দু ঃখ তখন হবে সারা। ৃ অত্যন্ত আপাত-নিরীহ এই গানটি প্রকতি-পর্যায়ের মধ্যে শরৎ-ঋতুর অন্তর্গত। কিন্তু এই গানে অসামান্যভাবে সংহত হয়ে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের জীবনের একটি অতি-সত্য দিক। এবার বিশ্লেষণে প্রবৃত্ত হওয়া যাক। গানটির বাচ্যার্থ অতি সহজ। তাই সেটির ব্যাখ্যা অনাবশ্যক। ব্যঙ্গ্যার্থ অনু ধাবনের জন্য প্রথমেই লক্ষ করতে বলব ‘তারা’ শব্দটিকে। তারা হল এমন একটি জিনিস যার সারা দেহ আল�ো দিয়ে ঘেরা। তাই ‘তারা’কে ‘আল�োকবসনা’ বলা যেতেই পারে। আল�োর বদলে আমরা যদি ‘জ্যোতি’ শব্দটি ব্যবহার করি, তাহলে ‘তারা’ শব্দটির একটি প্রতিশব্দ হতেই পারে ‘জ্যোতির্ময়ী’। এখন এই জ্যোতির্ময়ী শব্দটির নির্মোক ম�োচন করলে স্পষ্টতই প্রতীতি হয় যে, জ্যোতির্ময়ী হচ্ছেন কবির নতুনদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথের স্ত্রী কাদম্বরী দেবী। গানটিতে আকাশ থেকে তারা খসে পড়ার খবরের মধ্য দিয়ে তারার আকস্মিক মৃ ত্যুর ছবিটি চকিত আভাসে পাঠকের সামনে তুলে ধরেন কবি। আর কে-না জানে যে কবির নতুন বউঠানেরও মৃ ত্যু হয় আকস্মিকভাবে, কারণ তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথেরই একটি কবিতা উল্লেখ করি : জ্যোতির্ময় তীর হতে আঁধার সাগরে ঝাঁপায়ে পড়িল এক তারা, একেবারে উন্মাদের পারা। প্রসঙ্গত একটি তথ্য এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূ র্ণ। ‘তারকার আত্মহত্যা’ শীর্ষক উপরিউক্ত কবিতাটি কিন্তু কাদম্বরী দেবীর মৃ ত্যুর পূ র্বেই রচিত। তাই রবীন্দ্রজীবনী-কারের সিদ্ধান্ত, কাদম্বরী দেবী তাঁর জীবনাহুতির পূ র্বে অন্ততপক্ষে আর-একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। ‘মন�োদু ঃখে আত্মঘাতী’ হয়ে তারকার ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করার ইচ্ছার সঙ্গে আকাশ থেকে তারকার খসে পড়ার বিষয়টি একেবারে নির্বির�োধে মিশে যায়। নিজের প্রিয়তম পরিজনের এই প্রস্তুতিবিহীন আকস্মিক মৃ ত্যুতে প্রেমিক কবির তখন দিশেহারা অবস্থা। ‘জীবনস্মৃতি’র ‘মৃ ত্যুশ�োক’ অধ্যায়ে এই বিষয়ের বিস্তৃ ত প্রমাণ আছে। অন্ধকার রাতে ছাদে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে প্রেমিক কবি তখন প্রায়ই গাইতেন ‘আমার প্রাণের ’পরে চলে গেল কে’ গানটি। প্রিয়জনের আকস্মিক মৃ ত্যুতে তখন ‘মনটার মধ্যে সে কী ধাঁধাই লাগিয়া গেল’। এবার ব�োধহয় স্পষ্ট হল ‘আঁধার রাতে পথহারা’-র প্রসঙ্গটি। এখন প্রশ্ন হল, কেন সেই তারকা 76

Anjali

www.batj.org


কবিতা ও গানের ভিতর দিয়ে যখন দেখি ভুবনখানি আকাশ থেকে খসে পড়ল? গানের মধ্যে এর যা উত্তর পাওয়া যায় তা হল : ‘দু খের পথে গেল চলে--নিবল আল�ো, মরল জ্বলে’। আকাশ থেকে তারকার স্খলিত হয়ে পড়া একটি অনিবার্য বৈজ্ঞানিক সত্য। এর সঙ্গে দু ঃখের ত�ো ক�োন�ো সম্পর্ক থাকতে পারে না। অর্থাৎ তারকার উপর কবি মানবিকভাব আর�োপ করে তাকে মানবীমূ র্তি দান করেছেন। ঠাকুরবাড়ির বাজার-সরকার শ্যামলাল গাঙ্গুলির মেয়ে কাদম্বরী দেবী যে বাড়ির সকলের খুব প্রিয়পাত্রী ছিলেন এমনটা মনে করার ক�োন�ো কারণ নেই। বরং প্রতি মুহূর্তে তাঁকে এই খ�োঁটা শুনতে হত যে, তিনি জ্যোতির স্ত্রী হওয়ার ম�োটেই উপযু ক্ত নন। এর সঙ্গে যু ক্ত হয়েছিল অনাসক্ত স্বামীর অনাদর। তাই তাঁর জীবন ছিল দু ঃখের।ফলত, তাঁকে জ্বলে-পুড়েই মরতে হয়েছিল, বা বলা ভাল�ো ‘শ্যামসমান’ মৃ ত্যুকে বরণ করে নিতে হয়েছিল। কাদম্বরী দেবীর সহমর্মী দেওর তাঁর প্রিয়তম বউঠানের মন�োদু ঃখের কথা অত্যন্ত শিল্পিতভাবে ‘তারকার আত্মহত্যা’ কবিতায় প্রকাশ করে দিয়েছেন। একটু দীর্ঘ উদ্ধৃ তিসহ দেখে নেওয়া যাক, কেন জ্যোতির্ময়ী কাদম্বরীকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছিল— কেন গ�ো,কী হয়েছিল তার। একবার শুধালে না কেহ-কী লাগি সে তেয়াগিল দেহ। যদি কেহ শুধাইত আমি জানি কী যে সে কহিত। যতদিন বেঁচে ছিল আমি জানি কী তারে দহিত। সে কেবল হাসির যন্ত্রণা, আর কিছু না! জ্বলন্ত অঙ্গারখণ্ড ঢাকিতে আঁধার হৃদি অনিবার হাসিতেই রহে, যত হাসে ততই সে দহে। তেমনি,তেমনি তারে হাসির অনল দারুণ উজ্জ্বল— দহিত,দহিত তারে,দহিত কেবল। জ্যোতির্ময় তারাপূ র্ণ বিজন তেয়াগি তাই আজ ছু টেছে সে নিতান্ত মনের ক্লেশে আঁধারের তারাহীন বিজনের লাগি। তারা যেমন যত জ্বলে তত আল�ো দেয়, কাদম্বরী দেবীও তেমনি তাঁর মন�োদু ঃখ গ�োপনের জন্য হাসির অনলে নিজেকে দগ্ধ করে তুলতেন। শেষপর্যন্ত জ্যোতির্ময় গৃহ ছেড়ে তাঁকে বেছে নিতে হয় ‘আঁধারের তারাহীন বিজনের’ প্রদেশ। গানের ব্যাখ্যা এতদূ র দেওয়ার পরও কিন্তু স্পষ্ট হল না খসে-পড়া তারা কেন শিশির হয়ে তৃণে তৃণে ছড়িয়ে পড়ল? আসলে,শিশির শব্দের উচ্চারণমাত্রেই কবির মনে ঘনিয়ে ওঠে একটি প্রেমের অনু ষঙ্গ। এই প্রসঙ্গে ‘লেখন’-এর একটি ছ�োট�ো কবিতার উল্লেখ করি : ‘শিশির-সিক্ত বন-মর্মর/ব্যাকুল করিল কেন। ভ�োরের স্বপনে অনামা প্রিয়ার/কানে কানে কথা যেন’। অর্থাৎ শিশির-ভেজা বনের পাতা কবির মনে অনামা-প্রিয়ার স্মৃতি জাগিয়ে ত�োলে। আমার মতে,কবির এই ‘অনামা-প্রিয়া’ কিন্তু ম�োটেও কবির কাছে অপরিচিতা নন, বরং বিশেষ পরিচয়ের আড়ালে তিনি চির-অপরিচিত। আসলে তখনকার সামাজিক অবস্থানে প্রায়-সমবয়সী দেওর-বউঠানের সখ্য সম্পর্ককে ল�োকের পক্ষে হজম করা দু রূহ ব্যাপার ছিল। তাই কবি বাধ্য থাকতেন তাঁকে প্রকৃত নামে না-ডেকে অন্য ক�োন�ো নামে ডাকতে--‘ম�োর মুখে পেলে ত�োমার আভাস/কত জনে কত করে পরিহাস,/পাছে সে না পারি সহিতে/নানা ছলে তাই ডাকি যে ত�োমায়,/কেহ কিছু নারে কহিতে’। সামাজিক মানু ষ রবীন্দ্রনাথকে সারাজীবনই এই ছল করে যেতে হয়েছিল বলে তাঁর নতুন বউঠান কখনও আল�োকবসনা, কখনও তারা বা তারকা, আবার কখনও জ্যোতির্ময়ী মূ র্তিতে তাঁর লেখায় হাজির হন। এ ছাড়াও খেয়াল করে দেখুন ‘হৈমন্তী’ গল্পটি। এই গল্পের কথক অপুর স্ত্রীর প্রকৃত নাম হৈমন্তী হলেও প্রথমে অপু পাঠকের কাছে তাঁর স্ত্রীর নাম জানিয়েছিলেন ‘শিশির’। মনে করে দেখুন, এই শিশিরকেও কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে তীব্র গঞ্জনার মধ্যে পড়তে হয়েছিল এবং যার ফলে তাকে আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে হয়েছিল বলে সংগত অনু মান করে নেওয়া চলে। কারণ অপু জানিয়েছেন, ‘বু কের রক্ত দিয়া আমাকে যে দ্বিতীয় সীতাবিসর্জনের কাহিনি লিখিতে হইবে, সে কথা কে জানিত’। সীতা-বিসর্জনের কাহিনি উল্লেখের মধ্য দিয়ে সীতার ন্যায় আত্মাহুতির বিষয়টি ব্যঞ্জনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শ্বশুর-বাড়ির অনাদরও শিশিরকে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতে অতি পর�োক্ষভাবে হলেও প্রর�োচিত করে থাকতে পারে। কেন নিজের স্ত্রীর নাম অপু ‘শিশির’ দিয়েছিলেন প্রথমে? এর উত্তরে অপুর কৈফিয়ত এইরকম : ‘শিশিরে ভ�োরবেলাটুকুর কথা সকালবেলায় আসিয়া ফুরাইয়া যায়’। কাদম্বরী দেবীর জীবনও ত�ো অতি-সংক্ষিপ্ত, মাত্র পঁচিশ বছরের। জীবনের সকালবেলাতেই ফুরিয়ে গিয়েছিল তাঁর সব চাওয়া-পাওয়া। প্রিয়তম-বউঠানের মৃ ত্যুতে দিশেহারা, ‘আঁধার রাতে পথহারা’ কবি তাই প্রাথমিকভাবে চেয়েছিলেন শিশিরের সঙ্গে শিশির হয়ে মিশে যেতে, শিশিরের সঙ্গে একসঙ্গে মরণকে বরণ করে নিতে : ‘ ‘‘আমি কেন হই নি শিশির?’’/কহে কবি নিশ্বাস ফেলিয়া।/ ‘‘প্রভাতেই যেতেম শুকায়ে/প্রভাতেই নয়ন মেলিয়া।/হে বিধাতা,শিশিরের মত�ো/গড়েছ আমার এই প্রাণ,/শিশিরের মরণটি কেন/আমারে কর নি তবে দান?’’ ’। বিধাতার কাছে কবির এই প্রার্থনা পূ রিত হয়নি বলেই ১৩২৬এর মাঘ মাসে পরিণত-মনস্ক কবি চাইলেন নিজের জীবনের সঙ্গে সেই শিশিরবিন্দু মিশিয়ে নিতে। আল�োচ্য গানের ‘রবির আল�ো নেমে এসে’ অংশের ‘রবি’ শব্দটিতে শ্লেষ অলংকার হয়েছে। ‘রবি’ শব্দের একটি অর্থ সূ র্য--সূ র্যের আল�োতেই শিশির বাষ্পীভূ ত হয়ে সূ র্যাল�োকের অংশ হয়ে পড়ে। আর ‘রবি’ শব্দের দ্বিতীয় গুরুত্বপূ র্ণ অর্থ রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং। অর্থাৎ,দাদার উপেক্ষা আর অবহেলায় যাঁকে আত্মহত্যা করতে হয়, সেই ‘মানসসু ন্দরী’ যখন রবীন্দ্রনাথের ভাল�োবাসার অংশ হিসেবে নিজেকে তাঁর সঙ্গে মিশিয়ে দেবেন, তখন তাঁর অর্থাৎ শিশিরের ‘দু ঃখ তখন হবে সারা’। বউঠানকে দাদা যে-মুক্তি দান করতে পারেননি, তিনি নিজে তা পারবেন বলেই কবির স্থির প্রত্যয়। তাই ‘লেখন’-এই তিনি জানান, ‘আমার প্রেম রবি-কিরণ হেন/জ্যোতির্ময় মুক্তি দিয়ে ত�োমারে ঘেরে যেন’। কী অসামান্য প্রতিভা থাকলে তবেই মাত্র দু টি পঙ্‌ক্তির এই ধরনের স্বাক্ষর-কবিতাতে সংহত করা যায় নিজের হৃদয়ের কথাকে! এই শিশিরের সূ ত্র ধরেই আমরা পেশ করাব�ো আমাদের দ্বিতীয় সাক্ষীকে।এটি একটি কবিতা। আগে কবিতাটি একবার পড়ে নেওয়া যাক। ‘হায় গগন নহিলে ত�োমারে ধরিবে কে বা। ওগ�ো তপন ত�োমার স্বপন দেখি যে করিতে পারি নে সেবা।’ শিশির কহিল কাঁদিয়া, ‘ত�োমারে রাখি যে বাঁধিয়া হে রবি,এমন নাহিক�ো আমার বল। ত�োমা বিনা তাই ক্ষুদ্র জীবন কেবলি অশ্রুজল।’ ‘আমি www.batj.org

বিপুল কিরণে ভুবন করি যে আল�ো, Durga Puja 2017

77


কবিতা ও গানের ভিতর দিয়ে যখন দেখি ভুবনখানি তবু শিশিরটুকুরে ধরা দিতে পারি, বাসিতে পারি যে ভাল�ো।’ শিশিরের বু কে আসিয়া কহিল তপন হাসিয়া, ‘ছ�োট�ো হয়ে আমি রহিব ত�োমারে ভরি, ত�োমার ক্ষুদ্র জীবন গড়িব হাসির মতন করি।’ এইবার এই কবিতাটির সঙ্গে পূ র্বোক্ত গানটিকে মিলিয়ে পড়া যাক। খসে-পড়া তারার তৃণে-তৃণে শিশিরধারায় রূপান্তরিত হয়ে যাওয়া শিশিরকে দেওয়া রবির আল�োর আশ্বাসবাণীর সঙ্গে আল�োচ্য কবিতার ‘বিপুল কিরণে ভুবন’ আল�ো-করা রবিপ্রদত্ত আশ্বাসবাণীর বস্তুতপক্ষে ক�োন�ো পার্থক্য নেই। কবিতাটির দ্বিতীয় স্তবকে সূ র্যকেও বলতে শ�োনা যায়, ছ�োট�ো হয়ে তিনি শিশিরকে ভাল�োবাসায় ভরিয়ে তুলে তার ক্ষুদ্র জীবনকে হাসির মতন করে গড়ে তুলবেন। এখানে দু টি বিষয় আলাদা করে লক্ষ করার মত�ো। প্রথমত, জীবনের ভ�োরবেলায় যাঁকে আত্মহত্যা করতে হয়েছে, তাঁর জীবনের আয়তন অবশ্যই ‘ক্ষুদ্র’। আর দ্বিতীয়ত, রবির ইচ্ছা শিশিরের ক্ষুদ্র জীবনকে হাসির মতন করে গড়ে তুলবেন। অর্থাৎ যতটুকু তাঁর জীবন ছিল, সেই জীবন নিশ্চয় হাসিময় ছিল না। জীবন কেন হাসিমাখা ছিল না, সেই প্রসঙ্গে পূ র্বেই আল�োচিত বলে তার পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়�োজন। খালি রবির এই ইচ্ছার মধ্য দিয়েই তাঁর মৃ ত বউঠানের জীবনের অশ্রুসিক্ত বেদনার কাহিনিটি অত্যন্ত পরিশীলিতভাবে উন্মোচিত হয়ে যায়। কবিতাটির দ্বিতীয় স্তবক যদি হয় রবীন্দ্রনাথের নিজের ভাষ্য,তবে প্রথম স্তবকটি অবশ্যই বউঠানের নিজের বয়ানে লেখা। ১৩০৯ বঙ্গাব্দে যখন এই কবিতাটি লিখিত হচ্ছে তখন বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। তাঁর আল�োয় বাংলা কাব্যভূ মি উদ্‌ভাসিত। ক্রমশ আসতে শুরু করেছে খ্যাতি। তাই নিজ-প্রতিভা সম্পর্কে সচেতন কবির স্পষ্টোক্তি ‘আমি বিপুল কিরণে ভুবন করি যে আল�ো’। এই বিরাট জ্যোতিষ্কস্বরূপ প্রতিভাকে পরিমাপ বা অনু ধাবন করার ক্ষমতা বিহারীলালের ভক্ত পাঠক নতুন বউঠানের থাকা বেশ শক্ত। তাই বউঠানকে দিয়ে নিজের প্রতিভার স্বীকৃতি আদায় করে নিচ্ছেন কবি। বউঠানকে দিয়ে বলাচ্ছেন ‘হায় গগন নহিলে ত�োমারে ধরিবে কে বা’। যে-বউঠান তাঁর জীবদ্দশায় প্রিয় দেওরকে কিছু তেই বিহারীলালের উপরে স্থান দিতে চাননি, বিহারীলালকে নকল করে রবীন্দ্রনাথ লিখতেন বলে কপট-অনু য�োগ জানাতেন, সেই বউঠানের মুখ দিয়েই রবীন্দ্রনাথ এবার বলিয়ে নিলেন নিজের শ্রেষ্ঠত্বের কথা। ঠিক যেমনভাবে ক্রমাগত রবীন্দ্রনাথের বির�োধিতা করে চলা অমিত রায়কেও তাঁর মনের শেষ কথাটি বলার ভার দিতে হয়েছিল বু ড়�ো-হয়ে-যাওয়া রবীন্দ্রনাথকে। অর্থাৎ,জীবন দিয়ে যা পারেননি, কাব্যের মধ্য দিয়ে তার মধু র প্রতিশ�োধ নিলেন। প্রতিশ�োধ শব্দের মধ্য দিয়ে কিন্তু হিংসার আভাস দিতে চাইছি না, বলতে চাইছি মন দিয়ে জিতে নেওয়ার আনন্দকে এবং অহং-তৃপ্তির বিষয়কে। রবীন্দ্রনাথের মত�ো বিরাট প্রতিভাকে বেঁধে রাখা সম্ভব নয় বলেই বউঠানের বক্তব্য ‘ত�োমা বিনা তাই ক্ষুদ্র জীবন কেবলি অশ্রুজল’। এখন একটি প্রশ্ন সংগত কারণেই এখানে দানা বাঁধে। এ-পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ-কথা ম�োটেও প্রমাণ করা যাবে না যে,রবীন্দ্রনাথকে লাভ করার জন্য কাদম্বরী অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলেন। বরং রবীন্দ্রনাথের ন্যাওটা-পনায় তিনি ব�োধহয় কিঞ্চিৎ বিব্রতই ব�োধ করতেন। রবীন্দ্রনাথ তাই নিজেই জানিয়েছেন, ‘বু ঝেছি গ�ো বু ঝেছি সজনি,/কী ভাব ত�োমার মনে জাগে--/বু ক ফাটা প্রাণ-ফাটা ম�োর ভাল�োবাসা/এত বু ঝি ভাল�ো নাহি লাগে।/ এত ভাল�োবাসা বু ঝি পার না সহিতে,/এত বু ঝি পার না বহিতে’। রবীন্দ্রনাথের এই ‘রাহুর প্রেম’ নিশ্চয় কাদম্বরীর কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিল : ‘শুনেছি আমারে ভাল�ো লাগে না,/নাই-বা লাগিল ত�োর,’। হাত-দেখার সময়ে বউঠানের হাতের স্পর্শ পেয়েই রবীন্দ্রনাথকে তাই খুশি থাকতে হয়েছিল— একদিন বলেছিল, ‘জানি হাত দেখা’, হাতে তুলে নিয়ে হাত নতশিরে গণেছিল রেখা— বলেছিল, ‘ত�োমার স্বভাব— প্রেমের লক্ষণে দীন।’ দিই নাই ক�োন�োই জবাব। পরশের সত্য পুরস্কার খণ্ডিয়া দিয়েছে দ�োষ মিথ্যা সে নিন্দার। হস্তরেখা বিচারের সময়টুকুতে কিছু ক্ষণের জন্য বউঠানের হাতের স্পর্শ পেয়ে যে-কবিকে খুশি থাকতে হয়েছিল, তিনি তাহলে কেন বউঠানের মুখ দিয়ে উচ্চারণ করালেন রবিকে ‘বাঁধিয়া’ রাখার আকুতি? এরও উত্তর খুঁজতে হবে রবীন্দ্রনাথের লেখা থেকেই। যে-লেখক বিশ্বাস করেন যে-জীবন আমরা যাপন করছি তা যেমন আমার জীবন, ঠিক যে-জীবন আমরা যাপন করতে চাই সেই জীবনও আমার জীবন, সেই লেখক বা কবি ত�ো নিঃসন্দেহে যে-কথা সারাজীবন ধরে শুনতে চেয়েও হয়ত�ো-বা শুনতে পারেননি, সেই কথাকে সত্য বলেই স্বীকার করতে চাইবেন। আসলে বাস্তবের অতৃপ্তি নিয়ে তিনি আর চলতে চান না বলেই কল্পনা, স্বপ্ন বা কবিতার মধ্য দিয়ে তার পূ রণ ঘটাতে চান। নিজের এই মানসিকতার কথা কবি কিন্তু একবারের জন্যও গ�োপন করতে চাননি। তাই নিজেই তিনি জানিয়েছেন : ম�োর কিছু ধন আছে সংসারে, বাকি সব ধন স্বপনে নিভৃত স্বপনে। এই ‘নিভৃত স্বপনে’র ধনই বাণীরূপ লাভ করেছে আমাদের আল�োচ্য কবিতার প্রথম স্তবকে। এইভাবে একটু ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রবীন্দ্র-সাহিত্য পড়লে দেখা যায়, ‘হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল’ কবি কী আশ্চর্য মানসিক আভিজাত্য নিয়ে তাঁর মনের কথাকে তাঁরই সাহিত্যে চিরায়ত বাণীমূ র্তি দান করে গেছেন।  ........................................................................................................................... আমার এই লেখার জন্য যাঁর কাছে আমি একমাত্র ঋণী, তিনি হলেন আমার চিরায়ত মাস্টারমশাই তপ�োব্রত ঘ�োষ। তিনি রবীন্দ্রনাথ না পড়ালে এই লেখা তৈরিই হত না। এ ছাড়া বন্ধু শিঞ্জিনীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত তর্ক-বিতর্কও আমার এই লেখার যু ক্তিকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে সাহায্য করেছে। এই প্রবন্ধের সকল উদ্ধৃ তিই রবীন্দ্রনাথের জন্মের ১২৫ বছর উদ্‌যাপনের সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রকাশিত রচনাবলী থেকে সংগৃহীত।

78

Anjali

www.batj.org


মার্কিন খামার �������������������

মি যেখানে থাকি সেই দক্ষিণ মিনেস�োটায় শহরগুল�োর বাইরে গেলেই দেখা যায় ক্ষেত, খামারবাড়ি, চাষী এইসব। অ্যামেরিকার ছ�োট-বড় সব শহরের ক্ষেত্রেই এই একই কথা প্রয�োজ্য। এখানে চাষবাস করা যায় শুধু ই গ্রীষ্মকালে। এপ্রিল মাসে বরফ গলার পর, মে মাসে বীজ বপন, আর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকেই ফসল গ�োলায় ত�োলা; কারণ অক্টোবরের শেষেই ত�ো আবার শুরু হয় স্নোয়িং আর নইলে তার শুরুর জন্য দিন গ�োনা। এদিকটায় চাষ হয় মূ লত ভুট্টার। সেই ভুট্টার বেশিরভাগটাই আবার চাষ করা হয় গ�োরুকে খাওয়ান�োর জন্য, কারণ মানু ষই ত�ো খায় আবার সেই গ�োরুকে। ভুট্টা ছাড়াও মূ লত চাষ হয় আলু , নানান ধরণের বিন, আর সূ র্যমুখী ফুলের (যার বীচি থেকে পাওয়া যায় তেল)। এখানকার বেশিরভাগ চাষীদের (হয়ত�ো সব চাষীরই) ছ�োট�োখাট�ো প্লেন ওড়ান�োর লাইসেন্স থাকে, কারণ ওরা প্লেন উড়িয়েই পেস্টিসাইড ছড়ায় ওদের ক্ষেতে। চাষীরা বেশ ধনী। বাড়ি, গাড়ি (একাধিক) এইসব ত�ো থাকেই, সাথে থাকে চাষাবাদের প্রচুর জমিজমা, সরঞ্জাম আর এমনকি পেস্টিসাইড ছড়ান�োর ঐ প্লেন পর্যন্ত! সব মিলিয়ে শহুরে মধ্যবিত্তদের থেকে এরা বেশী বিত্তবান। তবে এদের ধন নয়, বছর তিরিশ আগে এদেশে আসার পর প্রথম প্রথম আমাকে যা অবাক করেছিল�ো (এখন�ো করে) তা হ�োল এই চাষীদের জ্ঞানের গভীরতা। চাষীরা ম�োটামুটি সকলেই নিদেনপক্ষে হাইস্কুল-গ্র্যাজুয়েট, আবার অনেকের কলেজ ডিগ্রীও থাকে; চাষাবাদ সংক্রান্ত বিষয়েই, এমনকি ইঞ্জিনিয়ারিং বা জেনেটিক-ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যন্ত। আমার ধারণা এই চাষীরা আমাদের ক�োলকাতা ইউনিভার্সিটির সাধারণ বটানি, জুওলজি বা ঐ ব্যাঙের ছাতার মত�ো গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের স্নাতকদের থেকে গাছপালা, প�োকামাকড় বা যন্ত্রপাতি সম্পর্কে বেশী জানে। আর শুধু জানেই না, সেই জ্ঞান দৈনন্দিন জীবনে র�োজ কাজেও লাগায়, চাষের কাজে। দেশে ছাত্রাবস্থায় ‘সবু জ বিপ্লব’ সম্পর্কে পড়েছি, কিন্তু ‘সবু জ বিপ্লব’ যে ঠিক কতটা ‘সবু জ’ হতে পারে তা এদেশের ক্ষেত-খামার না দেখলে ঠিক জানতেই পারতাম না। পাঞ্জাবের সর্ষের ক্ষেত, বাংলার ধানের ক্ষেত, কেরালার নারক�োলের ‘ক্ষেত’, কল�োম্বিয়ার কলার ক্ষেত, ইটালির টমেট�োর ক্ষেত বা জার্মানির আঙ্গুরের ক্ষেত; এইরকম অনেক ক্ষেতই দেখার স�ৌভাগ্য হয়েছে আমার - তবে অ্যামেরিকার ক্ষেতগুল�ো আলাদা। বিজ্ঞান, বিপ্লব আর ব্যবসা মিলেমিশে একাকার। দেখে মালু ম হয় যে চাঁদ-মঙ্গলগ্রহ পাড়ি দেওয়ায় বা ফি-বছর সায়েন্স-টেকন�োলজির বিভিন্ন শাখায় একাধিক ন�োবেল পুরস্কার পাওয়ায় নয়, অ্যামেরিকার আসল কৃতিত্ব হ�োল ‘সেই টেকন�োলজিকে’ মানু ষের সবচেয়ে প্রাথমিক প্রয়�োজনের স্তরে, এমনকি এই চাষাবাদের প্রাথমিক স্তরেও এইভাবে কাজে লাগান�োয়। আবার এইসব দেখার পর এও মনে হয়েছে যে এর জন্য আবার ‘বিপ্লবের’ দরকার কেন? এই চাষীগুল�োত�ো দেখছি ক�োনওরকম ‘বিপ্লব’ না করেই দিব্যি চারিদিক সব সবু জে-সবু জ করে দিয়েছে! এইসবের ক�োন�ো কিছু র জন্যই যে ক�োন�ো রকম বিপ্লবের দরকার হতে পারে তা নিশ্চয় এদের ধারণার বাইরে। এই চাষীদের অনেকেই মহিলা। ক্ষেতের ফসল ছাড়াও এদের থাকে ‘লাইভ-স্টক’ - গ�োরু, ভেড়া, শূ য়�োর, মুরগী এইসব। ফসল ফলান�োর কাজ গ্রীষ্মকালের মধ্যে শেষ হলেও www.batj.org

এই ‘লাইভ-স্টক’ সংক্রান্ত কাজ চলে সারা বছর। তবে এইসবের অনেক কিছু ই করা হয় কৃত্রিম উপায়ে। যেমন ষাঁড়ের সাথে গাভীর ‘মিলন’ চাষীদের না-পসন্দ (গাভীদের রাখা হয় আলাদা খ�োঁয়াড়ে)। অথচ গাভীরা সারা বছরই অন্তসত্তা! বেশ বড়সড় সিরিঞ্জ, যাতে ক�োরে চাষীরা ষাঁড়ের থেকে বার করা স্পার্ম (দ�োকানে কিনতে পাওয়া যায়) ঢুকিয়ে দেয় গাভীর শরীরে। এই গাভীদের কথা ভেবে আমার খারাপ লাগে। মিলন-সু খ যে কি জিনিস তা এরা জানতেও পারে না, শুধু জানে প্রসব-যন্ত্রণা। আর যখন প্রসবে আসে অক্ষমতা, তখন এদের নিয়তি কার�োর রান্না-ঘরের পথে। শূ য়�োর, ভেড়ার ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা। পুরুষ আর মহিলা ভুট্টা, বিন বা সূ র্যমুখী ফুলের ‘মিলনও’ নৈব নৈব চ; এদের ফলনের পিছনে থাকে জেনেটিকইঞ্জিনিয়ারিং! গ�োরুর দু ধ দ�োয়ান�ো হয় মেসিনের সাহায্যে, পাম্পের মাধ্যমে যা স�োজা চলে যায় ‘ঠাণ্ডা’-ঘরে। দু ধে যে জল মেশান�ো যেতে পারে তা শুনলে এরা হয় হাসবে, নইলে মান-হানির মামলা করবে (কারণে-অকারণে মামলা রুজু করতে এরা আবার ওস্তাদ)। লাইভ-স্টক দেখাশ�োনা করার চাষীদের সাধারণত বলা হয় ‘ডেয়ারি-ফার্মার’ বা ‘প�োল্ট্রি-ফার্মার’; যাদের মুল কাজ হয় দু ধ, ডিম বা মাংস সংক্রান্ত - শস্য নিয়ে নয়। চাষীদের খামারগুল�ো সাধারণত হয় পরিবার ভিত্তিক, বংশ পরম্পরায় তা হস্তান্তরিত হয় পুরুষানু ক্রমে। একই চাষী পরিবারে এমনটা দেখতে পাওয়া একেবারেই বিচিত্র নয় যেখানে পরিবারের সকলেই চাষাবাদের ক�োনও না ক�োনও বিষয়ে ইউনিভার্সিটির স্নাতক - হয়ত�ো বাবা ভুট্টা সংক্রান্ত জেনেটিক-ইঞ্জিনিয়ারিঙয়ে, মা ডেয়ারি-সায়েন্সে আর ছেলে মেকানিকালইঞ্জিনিয়ারিঙয়ে। স্বভাবতই বাবার কাজ শস্য ফলান�ো, মায়ের কাজ দু ধ দ�োয়ান�ো (মেসিনের সাহায্যে), আর ছেলের কাজ বাবা-মায়ের কাজের কলকব্জাগুল�োকে চলনসই রাখা। খামারের সামগ্রিক ধারণা হ�োল যে খামারে বেড়ে না উঠলে খামার ধরে রাখতে পারা বা খামারের কাজ করা প্রায় অসম্ভব। অর্থাৎ, ডাক্তার বাবা-মার বাড়িতে বড় হওয়া কেউ হঠাৎ ক�োরে এই সিদ্ধান্তে আসতে পারে না যে সে চাষী হবে (অ্যামেরিকান সমাজে চাষী হওয়া বা ডাক্তার হওয়ার মধ্যে খুব একটা ফারাক নেই, দু ট�োই প্রায় সমান সন্মানজনক জীবিকা)। এর আবার একটা মর্মান্তিক দিকও আছে, যেমন ‘ডিভ�োর্স’ - যখন ‘ওলসন’ পরিবারের মেয়ে ‘স্মিথ’ পরিবারের খামারে ব�ৌ হয়ে আসার পর ডিভ�োর্স চায়! পুরুষানু ক্রমে তিল-তিল ক�োরে গায়ের রক্ত জল ক�োরে গড়ে ত�োলা স্মিথ-খামারের একাংশ তখন চলে যায় ‘ওলসন’ পরিবারের মেয়ের জিম্মায়, যে হয়ত�ো চাষাবাদের কিছু ই জানে না। তবে এই মর্মান্তিক পরিণতিতেও ক�োন�ো রকম মারামারি বা খুন�োখুনির কথা ক�োনওদিন শুনিনি; এরা সভ্য, ডেম�োক্রেসিতে এরা বিশ্বাস করে - ক�োর্টের রায়কে এরা মেনে নেয়, তা সে এমনিই হ�োক বা অ্যানটাই-ডিপ্রেসেন্ট বা মদ খেয়ে হ�োক। তবে অবশ্যই আছে ‘ননীতে চ�োনা’ - একটু খ�োঁজ নিলেই জানা যায় যে এদের এই খামারগুল�োতে এই চাষীর ব�ৌয়ের সাথে ঐ খামারের ঐ চাষীর ভাইয়ের, ঐ খামারের ঐ চাষীর বাবার সাথে সেই খামারের সেই চাষীর মায়ের এমন সব জটিল সম্পর্ক আছে যা আবার আমরা ক�োলকাতায় বসে ভাবতেও পারব�ো না। বলা যেতে পারে যে এদের প্রায় প্রত্যেকেই প্রত্যেককে চেনে ‘বেশ গভীর’ ভাবে। ঐ গ�োরু-ভেড়াদের ‘না-মিলন’ সু দে-আসলে পুষিয়ে দেয় খামারগুল�োর চাষী পরিবারের সদস্যরা। ক্ষেতে শস্য উৎপাদনের সাথে তালে তাল মিলিয়ে চলে খ�োঁয়াড়ে গ�োরু-ভেড়াশুয়�োরের উৎপাদন আর খামার পরিবারে শিশু উৎপাদন। বলা বাহুল্য যে এই শিশুদের জিন-পুলের রকম-ফের ঐ শূ য়�োর-সূ র্যমুখী বা ভেড়া-ভুট্টাদের তুলনায় বেশ কম। ভরা ক্ষেতের সবু জ আর হলু দের সমার�োহ দেখতে আমার বেশ লাগে, দেখলেই মনে হয় যেন রং-তুলি নিয়ে বসে পড়ি, আর এর খানিকটাকে কাগজের ‘ফ্রেমে’ বন্দী করে রেখে দিই নিজের কাছে। অগাস্ট-সেপ্টেম্বরের ছু টির দিনের দু পুরগুল�োয় যদি কখন�ো ‘একা’ লাগে, তখন একাই বেড়িয়ে পড়ি; ‘লং’ নয়, ‘শর্ট-ড্রাইভে’ - শহর ছাড়িয়ে। ভরা ক্ষেতগুল�ো দেখলে মনটা ভাল�ো হয়ে যায়, তখন আবার বাড়ি ফিরে আসি, সাথে নিয়ে আসি ওদের খানিকটাকে ‘বন্দী’ করেই – কিছু টা আমার ক্যামেরার ফ্রেমে আর বাকীটা আমার মনের ফ্রেমে। 

Durga Puja 2017

79


স্মৃতি বিস্ম   - মঞ্জুলিকা হানারি (দাশগ

জী

বনের পটে অন্তহীন ঘটনার স্রোত নানা রঙের ছবি এঁকে চলে অবিরাম আর সময় তার আপন খেয়ালে সে রঙিন পটরেখা মুছে ফেলে বারবার। শুধু মনের গহনে স্তব্ধ হয়ে থাকে সমষ্টির জীবনের নীরব উপস্থিতি। আজ অবসরক্ষণে থেকে থেকে মন হারিয়ে যেতে চায় স্মৃতির নেশায়। ফেলে আসা দিনগুলির আবেশ-ভরা পিছু ডাকের টানে এক লহমায় পৌঁছে যায় সেই স্বপ্নমধু র দিনগুলিতে। মনের পর্দায় ভেসে ওঠে কত চেনা মুখ, ভুলে যাওয়া কত আনন্দ মুহূর্ত। মনে পড়ে যায় কত কথা, কত ঘটনা। জাপানে এসে দেখতে দেখতে কেটেও ত�ো গেল চার চারটে যু গের বেশী। দেখলাম কত বৈচিত্রময় চরিত্র। আলাপ-পরিচয় হল কত মানু ষের সঙ্গে। তাদের কিছু বিখ্যাত, আবার বেশীত্র ভাগই অখ্যাত। তারই মধ্যে ক�োনও ক�োনও মানু ষের সঙ্গে শুধু ই দেখা, ম�ৌখিক আলাপ। কারও সঙ্গে সামান্য পরিচয়ে প্রাণের সখ্যতা। আবার কিছু মানু ষের অযাচিত স্নেহ-ভাল�োবাসায় আপ্লুত মন-প্রাণ বাঁধা পড়েছে চিরঋণে। আজ কুয়াশাচ্ছন্ন স্মৃতির অলিতে গলিতে হ�োঁচট খেতে খেতে দেখি সেখানে কত আকস্মিক আর চমকপ্রদ ঘটনার ভীড়। আর তারই একটি হল বিয়াল্লিশের অগ্নিকন্যা অরুণা আসফ আলীর সঙ্গে আলাপ হওয়া। ভাবতে অবাক লাগে কি অদ্ভু তভাবে হঠাৎই দেখা হয়ে গিয়েছিল ওঁর সঙ্গে এই ট�োকিয়�োর রাস্তায় – একেবারে আমাদের পাড়াতে। সে কি আজকের কথা? তবু আজও ভুলতে পারিনা সেই দিনটাকে। ১৯৬৪ সালের কথা। আমরা তখন থাকি ক�োওজিমাচিতে পুরন�ো আমলের কাঠের দ�োতলা বাড়ীর একতলাতে। সে সময় জাপানে এ ধরণের বাড়িই বেশী ছিল। ক�োওজিমাচি ট�োকিয়�োর এক প্রাচীন আর অভিজাত পাড়া – তখন ত�ো নিশ্চই, এখনও। আমাদের বাড়িটাও ছিল তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাড়ার মধ্যে সব থেকে পুরন�ো। আর তা এতই পুরন�ো যে টুকটাক সারান�োর কাজ সব সময়ই লেগে থাকত�ো। আমাদের বাড়ীওয়ালার আবার এ বাড়ীর পিছনে একটা পয়সা খরচ করতেও প্রচণ্ড আপত্তি ছিল। অগত্যা আমরা ছু টিছাটার দিনগুলিতে সে কাজটা যতটা সম্ভব নিজেরাই করে নিতে চেষ্টা করতাম। নেহাৎ না পারলে ল�োক ডাকিয়ে নিজেদের খরচেই তা করা হ�োত। যাহ�োক সে দিনটাও তেমনই একটা রবিবার ছিল। সকাল থেকে প্রচুর কাজ নিয়ে তার শুরু। সময়টা অগাষ্ট মাস – গরমকাল। মনে আছে প্রচণ্ড গরম ছিল দিনটা। তবে তখন এখনকার মত গরম পড়ত না। তাই আজকের মতন ঘরে ঘরে এ.সি ত�ো দূ রের কথা, পাখাও সব বাড়ীতে ছিল না। ভাবটা ছিল- মাত্র একটা মাসের জন্য খরচ বাড়িয়ে লাভ কি? হাত পাখাই ত�ো যথেষ্ট। আমাদের বাড়িও তার ব্যতিক্রম ছিল না। কাজেই সেদিনের গরমে শরীরের আনচান অবস্থা। নতুন দেশে প্রথম গরমকাল। সারাদিন ঘরে বসে কাজ করার পর একটু খ�োলা জায়গায় বের�োবার জন্য মন তখন ছটফট করছে। কিন্তু হাজার সাধ্যসাধনা করেও ক্লান্ত ‘কত্তামশাই’কে রাজী করাতে পারলাম না। ওদিকে আমার জাপানী ভাষাটা তখনও তেমন রপ্ত হয়নি যে একা একা একটু এদিক ওদিক ঘুরে আসব�ো। আর একা একা ঘুরে বেড়াতে কারই বা ভাল�ো লাগে? তার উপর নতুন অচেনা যায়গায়। আমার ছ�োট ননদ মিয়�ো তখন থাকে আমাদের কাছে। আমার অবস্থা দেখে শেষ পর্যন্ত সে রাজী হ�োল আমার সাথে বেরতে। দমে যাওয়া মনটা মুহূর্তে খুশীতে ভরে উঠল�ো। সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম। ক�োওজিমাচি – ইয়�োৎসু ইয়া অঞ্চল তখনও অনেক ফাঁকা। বাড়ীর সামনের বড় রাস্তা দিয়ে বাসের সঙ্গে ট্রাম চলে বহাল তবিয়তে। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। পাড়ার হাতে গ�োনা দ�োকানগুলি রবিবার বলে বন্ধ। বেশ নিঝুমভাব। শুধু মাঝে মধ্যে বাস বা ট্রাম, কখনও বা গাড়ী সশব্দে ছু টে যাচ্ছে নিস্তব্ধতাকে খান খান করে। পথ ঘাট প্রায় জনশূ ন্য। আমরা কথা বলতে বলতে বাড়ীর কাছের ইয়�োৎসু ইয়া স্টেশনের কাছাকাছি এসেছি। মিয়�ো হঠাৎ বলে উঠল�ো “ঐ দ্যাখ�ো ত�োমার দেশের ল�োক”। তাকিয়ে দেখি শাড়ীপরা একজন ভদ্রমহিলা চার পাঁচজন ভদ্রল�োকের সাথে স্টেশন থেকে বেড়িয়ে আসছেন। দেশী মানু ষ দেখে মনটা খুশীতে নেচে উঠল�ো। সে সময় ভারতীয় মানু ষত�ো দূ রের কথা পথে ঘাটে বিদেশীও খুব একটা দেখা যেত না। আমি তখন সবে দেশ ছেড়ে এসেছি। বাড়ীর জন্য মন কেমন করে সব সময়ই। তার উপর পাড়ায় একমাত্র বিদেশিনী হবার দ�ৌলতে সকলের অন্তহীন ক�ৌতূ হলের পাত্র- যেন অন্য ক�োন গ্রহের জীব। সেই সঙ্গে ঘরে বাইরে বিদেশী ভাষা বলতে বলতে আমি ক্লান্ত। সব মিলিয়ে 80

এখানকার জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে রীতিমতন যু দ্ধ করছি। তাই দেশী মানু ষ দেখলেই মনে হত কত আপনজন। কথা বলার জন্য অস্থির হয়ে উঠতাম। ছু টে যেতাম আলাপ করতে। সকলে যে তা পছন্দ করতেন তা নয়। তবু নিজেকে ধরে রাখতে পারতাম না। এদের দেখেও আমার একই অবস্থা। কি করব�ো ভেবে পাচ্ছি না। নানান চিন্তা মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে আর আমি ‘ভাবলা’ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। ইতিমধ্যে ওঁরাও আমাদের দেখেছেন বু ঝলাম। অবাক হয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে সকলে। নিজেকে সামলাবার আগেই দেখি দলের একজন আমাদের কাছে নমস্কার করে নিজের পরিচয় দিয়ে জানালেন ওঁরা দিল্লি থেকে এসেছেন। প্রতি নমস্কার জানাতেই জিজ্ঞাসা করলেন “আপনি কি বাঙালী?” হ্যাঁ বলতেই বললেন, --“আপনি অরুণা আসফ আলীর নাম শুনেছেন নিশ্চই। উনি সেই অরুণা

আসফ আলী। আপনাকে ডাকছেন।” নামটা শুনেই চমকে উঠলাম। ঠিক শুনলাম ত�ো? নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিনা যেন। দেশে থাকতে যাকে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে ছিলাম কিন্তু দেখা পাইনি বা সু য�োগ হয়নি দিল্লী থাকতেন বলে, আজ তিনিই কিনা সাতসমুদ্দু র পারের বিদেশী এই শহরে আমার চ�োখের সামনে দাঁড়িয়ে ! আর শুধু তাইই নয় কথা বলার জন্য ডাকছেন। বিহ্বল আনন্দে আমি আত্মহারা। কয়েক মুহূর্তের জন্যে সবকিছু তালগ�োল পাকিয়ে আমি কেমন যেন অনু ভূতিহীন হয়ে পড়লাম। চমক ভাঙ্গল�ো ভদ্রল�োকের কথায়। সঙ্গে সঙ্গে একটা সঙ্কোচ মনটাকে ঘিরে ধরল�ো। স্বপ্নের মানু ষের সঙ্গে কি কথা বলব�ো? একটু দ্বিধা, তারপরেই ম�োহাবিষ্টের মতন ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। প্রণাম করতেই সস্নেহে জড়িয়ে ধরে মিষ্টি হেসে বললেন, “দেখেই বু ঝেছি বাঙালী। নাম কি?” বললাম নাম। আমার ননদ মিয়�োর সঙ্গেও আলাপ করিয়ে দিলাম। খুব খুশী হলেন। জিজ্ঞাসা করলেন অনেক কথা – শ্বশুরবাড়ীর ল�োকেরা কেমন, আমাকে মেনে নিয়েছেন কিনা, আমি খুশী কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি আরও কত কি! প্রশ্নের উত্তর দিতে না দিতেই বলে উঠলেন, “মেয়ে ত�োমার সাহস ত�ো কম না? সব ছেড়ে ছু ড়ে এই দূ র বিদেশে একা একা চলে এলে, ভয় করল�ো না ?” বলেই হাসতে লাগলেন। লজ্জা পেলাম ওঁর কথায়। আমার কত আগে উনি ত�ো অনেক বেশী সাহসের কাজ করেছেন। সে কথা আর মুখ দিয়ে বের�োল না। আমি শুধু অবাক বিস্ময়ে দেখছি তাঁকে। স্নিগ্ধ, ব্যক্তিত্বপূ র্ণ ছ�োটখাট�ো চেহারা, অথচ কি সহজ আপন-করা ব্যবহার। কল্পনার মানু ষটির সঙ্গে এতটুকু অমিল নেই ক�োথাও। রাস্তায় দাঁড়িয়েই কথা হ�োল কিছু ক্ষণ। খুব ইচ্ছা থাকলেও ছ�োট অগ�োছাল�ো ঘরের কথা চিন্তা করে বাড়িতে ডাকতে আর সাহস পেলাম না। কথায় কথায় জানলাম ওঁরা হির�োশিমাতে শান্তি সম্মেলনে এসেছিলেন। ফেরার পথে ট�োকিয়�োতে কয়েকটা মিটিংএ য�োগ দেবার জন্য দিন কয়েক থাকবেন। উঠেছেন কাছেই ফেয়ারমন্ট হ�োটেলে। বিদায় নেবার আগে বললেন, “কাল সকালে পারলে হ�োটেলে চলে এস�ো। কালকের দিনটা সারাদিন খালি আছে। এরা সব সকালবেলা বাজারে বেরিয়ে যাবে। শরীরটা খুব একটা ভাল�ো নেই, তাই আর বের�োবনা

Anjali

www.batj.org


স্মৃতি বিস্ম – ঘরে থাকব�ো। একা একা সময় কাটান�ো বড় মুশকিল। তুমি এলে গল্প করা যাবে। আসবে ত�ো?” আমি তখন ঝাড়া হাত-পা। কাজেই অসু বিধা কিছু ছিলনা। তার উপর স্বপ্নের মানু ষের ডাক এড়াই কি করে? কথা দিয়ে ঘরে ফিরলাম একটা ঘ�োরের মধ্যে। এই ক’ঘণ্টায় আমার জীবনের সব বু ঝি ওল�োটপালট হয়ে গেল। সেদিন রাতে চ�োখে ঘুম নেই। স্মৃতির ছায়াপথ ধরে মনটা চলে গেছে সেই সময়টাতে যখন সব না হলেও একটু একটু ব�োঝার মতন কিছু টা বড় হয়েছি। সেদিন সাধারণ মানু ষের মন জুড়ে শ্রদ্ধার আসন নিয়েছেন স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীরা। বিশেষ করে “অগ্নিকন্যা”দের বেলায় সেই শ্রদ্ধার সঙ্গে মিশেছিল অপার বিস্ময়। এরা যে পথ ধরেছিলেন তা ঠিক কি ভুল, তা নিয়ে মতভেদ নিশ্চই আছে, তবে একথাও ঠিক যে অনেকের চ�োখে এঁরা ছিলেন অতি মানবী, বিশেষ শক্তির অধিকারিণী। তাই তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা বা ভয় হয়ে উঠেছে আকাশছ�োঁয়া। এই সব “অগ্নিকন্যা”দের অনেককেই খুব কাছ থেকে দেখার স�ৌভাগ্য হয়েছে নানাভাবে বার বার। তাঁদের আপাদমস্তক অতি সাধারণ ঘর�োয়া চেহারা দেখে অবাক বিস্ময়ে খুঁজতে চেষ্টা করেছি তাঁদের সেই অসীম সাহসী রূপ। মেলাতে চেয়েছি শ�োনা গল্পের সঙ্গে। সেই অবাক বিস্ময়ই ক্রমশ শ্রদ্ধা ভাল�োবাসার বিশেষ একটা রূপ নিয়ে মনের মধ্যে নিজের একটা যায়গা করে নিয়েছে চিরকালের মতন। অনেককে দেখলেও একজনকে দেখার জন্য আমি উৎসু ক ছিলাম সব সময়ই। নাম তাঁর অরুণা আসফ আলী। কিন্তু তাঁর নামটাই শ�োনা ছিল শুধু , চ�োখে দেখার স�ৌভাগ্য আর হয়নি। ওঁর সম্বন্ধে আমার ক�ৌতূ হলের শেষ ছিলনা ক�োনও। নামটা ছ�োটবেলা থেকেই টানত�ো। এই নামের মধ্যে ক�োথায় যেন একটা অন্য সু র – আর সকলের মতন নয়। হয়ত�ো চেনা নামের সঙ্গে একটা অচেনা পদবীটাতে এমন কিছু ছিল যা আকৃষ্ট করেছিল আমাকে। বালিকা মনে অনেক কল্পনা-জল্পনার খ�োরাক জুটিয়েছেও। অনেক পরে সব ব�োঝার মতন বয়স হলে বু ঝেছি যে ওঁর বিপ্লবী রূপের থেকেও বিদ্রোহিনী রূপটার প্রভাব আমার মনের মধ্যে বেশী কাজ করেছে। ভাবতেও র�োমাঞ্চ লাগে মাত্র ১৯ বছর বয়সে অরুণা গাঙ্গুলী বিয়ে করে ফেললেন আসফআলীকে। ওঁদের পরিবার ব্রাহ্ম ছিলেন একথা ঠিক। আর যে কারণে সাধারণ হিন্দু সমাজের তুলনায় অনেক বেশী উদারমনা, আধু নিকাও। তবু সেই যু গে একজন মুসলমানকে বিয়ে করতে কতখানি সাহস আর মনের জ�োরের প্রয়�োজন তা আজকের অপেক্ষাকৃত উদার সামাজিক পরিবেশে দাঁড়িয়েও অনু মান করাটা কঠিন নয়। ওঁর এই বেপর�োয়া সাহস আমার মনে চিরকাল সম্ভ্রম জাগিয়েছে, ভাবিয়েছে, অবাক

www.batj.org

করেছে। হয়ত�ো বা নিজের পথ বেছে নিতে পর�োক্ষে প্রেরণাও দিয়েছে। সেই মানু ষকে চ�োখের সামনে দেখে, কথা বলে আমি আনন্দে, উত্তেজনায় রাতের ঘুম ভুলে সেই ভাল লাগাটা তারিয়ে তারিয়ে অনু ভব করে চলেছি নিজের মধ্যে। রাতটা প্রায় জেগেই কাটল�ো বলতে গেলে। সকাল হতেই ঘরের কাজ ক�োনরকমে সেরে ছু টলাম হ�োটেলে। গিয়ে দেখি একা একা চুপ করে বসে আছেন লবিতে। সারা মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। সঙ্গীরা সব বেরিয়ে গেছেন কেনাকাটা করতে। জাপান তখন সস্তার দেশ। অনেককেই তখন দেখেছি শুধু বাজার করতে জাপান ছু ঁয়ে যেত। সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই তাড়াতাড়ি উঠে আমার হাতটা এমন মমতাভরে জড়িয়ে ধরলেন যেন কতদিনের পরিচিতজনকে কাছে পেয়েছেন। হেসে বললেন – “এসেছ�ো? ত�োমার কথাই ভাবছিলাম বসে বসে। এসে বস�ো আমার পাশে।“ পাশে গিয়ে বসলাম। অনেক কথা; অনেক গল্পের মধ্যে বেরল�ো উনি আমাদের বাড়ীর অনেককেই চেনেন। এর পরে ত�ো কথা বলা আর�োই সহজ হয়ে গেল। কথার ফাঁকে ফাঁকে কত ল�োকের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিলেন। ওঁর ক্লান্তির কথা ভেবে যখনই বাড়ী ফিরব�ো বলে উঠতে গিয়েছি তখনই হাত ধরে বসিয়ে দিয়েছেন”আর একটু ব�োস�ো” বলে। শেষপর্যন্ত সারাদিন কাটিয়ে ভরা মনে ঘরে ফিরেছি। যে কটা দিন ছিলেন র�োজ গিয়েছি ওঁর কাছে ওঁর অনু র�োধে। কত কথা বলেছেন। আজ আর সব কথা মনে পড়েনা বলে ক্ষোভ হয়। ওঁকে যত দেখেছি, যত কথা বলেছি, ততই মুগ্ধ হয়েছি। ওঁর শান্ত স্নিগ্ধ অথচ ব্যক্তিত্বপূ র্ণ চেহারা ওঁকে সকলের থেকে আলাদা করেও দূ রে সরিয়ে দেয়নি। আমার মতন সম্পূর্ণ অজানা অচেনাকেও কত সহজে কাছে টেনে নিয়েছেন। উজার করে দিয়েছেন স্নেহ ভাল�োবাসা। ক�োন ফাঁকে যে সম্পর্কটা মাত্র কদিনেই সহজ হয়ে উঠেছিল বু ঝতে পারিনি। অপ্রত্যাশিতভাবে এত পেয়েও মনের মধ্যে আজও একটা অতৃপ্তি রয়ে গেছে আমার। কারণ যা জানার আগ্রহ আমাকে তাঁর প্রতি চিরদিন আকৃষ্ট করেছে তা আর জানা হয়নি। সু য�োগ যখন এল�ো তখন সঙ্কোচে মুখে কথা ফ�োটেনি। ফলে মনের প্রশ্ন মনেই রয়ে গেল চিরদিনের মতন। তবে একথাও ঠিক যে উনি নিজে ডেকে ডেকে আলাপ না করলে, এত কাছে টেনে না নিলে ক�োন দিনই আর ওঁকে এমনভাবে জানতে পারতামনা – স্বপ্নের মানু ষ স্বপ্নেই থেকে যেতেন। তাই ওঁর স্মৃতি আরও অনেক সু খ স্মৃতির সঙ্গে আমার অবসরক্ষণের সঙ্গী হয়ে থাকবে আজীবন।। 

Durga Puja 2017

81


সারমেয় কথা   - আলপনা ভট্টাচা

তকাল টি,এম,এইচ (টাটা মেইন হসপিটাল) থেকে রেকী সেরে বাড়ি ফেরার পথে এক অপরূপ দৃশ্যে মন ভরে গেল। ইতিপূ র্বে এই দৃ শ্য অন্তত আমি কখনও দেখিনি । এক সঙ্গে ১৮/১৯টা কুকুর দেখেছি, কিন্তু ২৯টা কুকুর সঠিকভাবে সারিবদ্ধ হয়ে হাঁটছে --- এ আমি কখনও দেখিনি। দেখে মনে হ�োল আমরা যেমন মিছিলে যাই, ঠিক সেই রকম, তবে আমরা ব�োধহয় এত সু শৃঙ্খলভবে যাই না। সারমেয়দের শৃ ঙ্খলা শেখাবার ক�োনও শিক্ষালয় খ�োলা হয়েছে ব�োধহয়! আমি বেশ কিছু ক্ষণ গাড়ি থামিয়ে এই দৃ শ্য দেখি এবং অবশ্যই পুলকিত হই। বাড়ি ফিরতে ফিরতে অনেক পুর�োন�ো কথা মনে পড়ল । পশুপ্রেমীরা আমার লেখাটি পড়ে অসন্তুষ্ট হবেন না। আমাদের বাড়ির গায়ে লাগান�ো রাও বাবু দের বাড়ি। ওনার ছ�োট মেয়ে নির্মলা বাড়িতে বিউটি পার্লার খুলেছে। মেয়েটি চারটে কুকুর পুষেছে। নির্মলা ওর কুকুরগুল�োকে খুবই যত্ন করত�ো। একদিন আমি আমার টিউশন ক্লাসের ছাত্রদের পড়াচ্ছি, এমন সময় নির্মলা ভয়ঙ্কর চিৎকার করে আমাকে ডাকতে লাগল�ো। ওর বাবা মা বৃদ্ধ হয়েছেন, ওর ডাকাডাকিতে ভয় পেয়ে আমি বারান্দায় বেরিয়ে এসে হতভম্ভ হয়ে গেছি । আমাকে দেখা মাত্র ওর সামনে দাঁড়ান�ো ভদ্রল�োককে দেখিয়ে বলে উঠল�ো, ‘দেখিয়ে না দিদি, ইন্‌হ�োনে মেরি সু জী ক�ো কুত্তি ব�োলে হৈঁ, গালি দিয়ে হৈঁ’। আমি ব�োকার মত বলি, ‘উনক�ো তেরি সু জী কা নাম মালু ম নেহি হৈঁ, ইস লিয়ে কুত্তি ব�োলে হ�োঙ্গে’। ব্যাস, ওর কান্না দ্বিগুণ হ�োল, ‘আপনিও সু জী কে কুত্তি বলছেন? ওকে এইভাবে অপমান করবেন না, ও একটা মানু ষ, একথা ভুলে যাবেন না’। আমি চম্‌কে উঠি সু জীর মনু ষ্যত্ব প্রাপ্তিতে। চম্‌কালেও নির্মলাকে জ্ঞান দেওয়ার ল�োভ সামলাতে পারলু ম না। বলি, ‘দ্যাখ, আমাকে কেউ কুত্তি বললে আমার যতটা খারাপ লাগবে, সু জীকে মানু ষ বলায় ওর হয়ত�ো ততটাই মন্দ লাগবে --- এজন্য রাগ কেন করছিস্‌? তুই নিজেই বলিস কুকুর মানু ষের থেকে ভাল, আমার সঙ্গে কত তর্ক করিস, আর সেই তুই বলছিস ত�োর সু জী মানু ষ’। এই কথায় নির্মলা একটু শান্ত হ�োল। ব�োকা আমি জ্ঞানী সাজার আকাঙ্খায় বলে ফেলি, ‘সু জী কথা বলতে পারে না, তাই ক�োনও প্রতিবাদ জানায় না’। মুহূর্ত মাত্র দেরী করে না নির্মলা, ‘দিদি, সু জী আমাদের সব কথা বু ঝতে পারে’। আমি স্বীকার করি কুকুরও আমাদের ভাষা ব�োঝে। আমাদের সিল্কিও রাত ৯টা বাজামাত্র সিরিয়াল দেখার জন্য টিভি’র সামনে লাফাত�ো। যাইহ�োক, দু জনে সু জী এবং সিল্কির গুণপনার কাহিনী বর্ণনায় মত্ত হয়ে উঠি। অবশেষে সু জী বেশী বু দ্ধিমতী, এই কথা স্বীকার করে ক্লাসে ঢুকি প্রায় পনের�ো মিনিট পরে। এবারে আরেক পরিবারের কুকুর প্রীতির কথা নিবেদন করতে চাই। আমাদের বিয়ের পরে আমরা আসানস�োলে থাকতুম। আমার তখন বয়স কম, পাড়াতুত দু ই মাসীমা অনেক খবরদারি করতেন আমার ওপর। এনারা পরস্পরের সঙ্গে কথা বলতেন না, একটা ঠাণ্ডা লড়াই চলত�ো দু জনের --কুকুর সংক্রান্ত কিনা জানিনা। দু ই মাসীমার একজন ছিলেন রায় মাসীমা। এনার চারটে নেড়ি কুকুর ছিল। তাদের নাম টমি, জিজ�ো, ভিক্টো ও ফ্যান্সি ছিল। ওনারা কুকুরদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলতেন। এই পরিবারে দু ট�ো অ্যালসেশিয়ান কুকুরও ছিল। কুকুর দু ট�োকে ওনারা জগা, মগা বলে ডাকতেন। পাঠক, বিশ্বাস করুন, জগা আর মগা ডাল, ভাত, ডাঁটা চচ্চরি খেত, মাঝে মধ্যে দৈ এবং ছানার তরকারি। আমার দেওর একদিন আমাকে বলল�ো, ‘ত�োমার রায় মাসীমাকে জিজ্ঞাসা করবে ত�ো ওনার নেড়িদের নাম

82

টমি, জিজ�ো আর অ্যালসেশিয়ান দু ট�োর নাম জগা মগা কেন? রায় মাসীমা তার কুকুর প্রসঙ্গ পেলে দু নিয়া ভুলে যেতেন। আমি তাই স্বেচ্ছায় কুকুর প্রসঙ্গে যেতুম না। তবু একদিন ‘জয় মা’ বলে প্রশ্নটি করলু ম। মাসীমা জানালেন, ‘নেড়ি কুকুরগুল�ো ইংরেজ জাতিভুক্ত, তাই ওইরকম নাম দিয়েছি এবং হাড়মাংস খায়, মিছিমিছি মেজাজ হারিয়ে চেঁচায়, মানু ষ এবং অন্যান্য জীবকে আক্রমণ করে’। ওনার কথা শুনে বাক্‌রুদ্ধ আমি। আমি অন্য কিছু বলার আগেই উনি বললেন, অ্যালসেশিয়ানদের সাহস তেজ আমাদের মত, তাই ওদের জগা মগা বলেন। এই কথা শুনে হতবাক হয়ে আমার শরীর খারাপ লাগতে লাগল�ো। দু -দু ট�ো জাতিকে কুকুরের সঙ্গে কেউ তুলনা করতে পারে, কল্পনার অতীত ছিল, স্বজাতিকে কুকুর শির�োপা দেওয়ার মত কুকুর-প্রেমী কেউ কি কখনও দেখেছেন? এবার আরেক মাসীমার কুকুর-প্রীতি পরিবেশন করতে চাই। এই মাসীমার কাহিনীটি অতি করুণ এবং অবাক হওয়ার মত। ওনার নাম ছিল মানা (অবশ্যই আসল নাম নয়)। অতি অসময়ে ওনার একমাত্র কন্যা মাত্র ১৬ বছর বয়সে ব্লাড ক্যানসারে মারা গেছিল। এই সন্তান-শ�োক ভুলতে উনি একটি অ্যালসেশিয়ান লালন-পালন করছিলেন। কুকুরটির নাম নিজের মেয়ের নামে রেখেছিলেন। কথাবার্তায় এই মাসীমা খুব স্বাভাবিক ছিলেন, কিন্তু উনি কুকুরটিকে পড়াতেন। হারম�োনিয়াম বাজিয়ে গান শেখাতেন। আমাকে ডাকতেন সেই গান শেখান�ো দেখার জন্য। বলতেন, ‘রত্না দেখ�ো আমার টুনি কি ভাল গান বু ঝতে পারে, কেমন মাথা নাড়তে থাকে’। সতি বলছি আমি ক�োনও দিন কুকুরটির মাথা নাড়ান�ো বু ঝতে পারিনি। উনি সম্ভবত হিজ মাস্‌টারস্‌ভয়েস’এর কুকুরটির দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। ওনার কুকুর প্রসঙ্গে আমার বলার কিছু ছিল না, শুধু ভাবতুম ডাক্তাররা এই কুকুর প�োষায় কেন বাধা দেননা, ১০-১২ বছর পরে কুকুরটি মারা গেলে মাসীমা ত�ো পাগল হয়ে যাবেন। আমরা জামশেদপুরে চলে এলু ম, শেষ পর্যন্ত ওনার কি হয়েছিল জানিনা। আমার পিত্রালয়ে কুকুর ছিল, আমি নিজেও রেখেছি। আমাদের সিল্কিকে মানু ষজন এলে ‘নমস্কার’ বলতে, থু ড়ি নমস্কার করতে শিখিয়েছিলু ম। আমাদের এক আত্মীয়ের বাড়ীতে ৯টা কুকুর ছিল। যখনই ওই বাড়ীতে যেতুম, ৯টা কুকুর (পাম�োরিয়ান ছিল) ভ�ৌ ভ�ৌ কিম্বা ক�ৌ ক�ৌ করতে করতে আমাদের দিকে মুখ রেখে নিজেরা ভেতরে চলে যেত এবং আমরা যখন বিদায় নিতুম, ৯টা কুকুরই আমাদের আগে সদর দরজায় পৌঁছে যেত এবং টা টা করত�ো। গৃহকর্ত্রী জানাতেন ওরা অতিথি এলে ভ�ৌ ভ�ৌ করে সাদর সম্ভাষণ জানায় এবং বিদায়কালে টা টা করে । বিদায়বেলায় টা টা আমার সিল্কিও করত�ো, কিন্তু ওইরকম অপরূপভাবে সাদর সম্ভাষণ জানান�োর ব্যাপার অন্য ক�োথাও দেখিনি। কুকুর সকালবেলায় চা-বিস্কুট অনেক বাড়ীতেই খায়। আমাদের সিল্কিও খেত। আমার স্বামীর পান-জর্দা খাওয়ার অভ্যাস ছিল। ওনার মুখ থেকে পান কেড়ে নিয়ে খেত। আমার কলম বন্ধ করার আগে আরেকটি ঘটনা বলি। আমাদের আরেক আত্মীয় প্রতি সন্ধ্যায় মদ্যপান করতেন। ওনার প�োষা কুকুরটিও (ড�োভারম্যান) ওনার সঙ্গী হ�োত। কুকুরটি বাড়ী কী পাহাড়া দিত কে জানে --- কিন্তু নেশার পর ওর রাজকীয় ভঙ্গিটি দেখার মত ছিল।। 

Anjali

www.batj.org


      - 



                                  -                                ,                        -  , -        ,          ;                 -         ,            ,   ?   ,     -                 (Anjali 2010 সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাটি পূ নর্মুদ্রিত করা হয়েছে)

www.batj.org

Durga Puja 2017

83


আধুনিক কবি - বিশ্বনাথ পাল ও পাড়ার শ্যাম নাকি আধু নিক কবি, আধু নিক ছড়া লেখা শুনি তার Hobby । যে ছড়ায় মিল নেই, নেই ক�োন�ো ছন্দ, তাতে নাকি ভরা থাকে আধু নিক গন্ধ ।। আধু নিক ছড়া লেখা নয় ম�োটে স�োজা, তার চেয়ে শক্ত মানে তার ব�োঝা । তাতে ভরা থাকা চাই ভারী ভারী শব্দ। যার মানে উদ্ধারে অভিধানও জব্দ ।। যত বেশী হবে সেটা পাঠকের অব�োধ্য, তত নাকি উন্নত মানের সে পদ্য ।। এমনই কঠিন ছড়া লিখলেই তবে, আধু নিক কবি বলে সু খ্যাতি হবে ।।

প্রার্

আধু নিক ছড়া লেখা নয় ম�োর কর্ম, সে কথাটা ব�োঝান�োই কবিতার মর্ম ।।

- নমিতা চন

(Anjali 2012 সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাটি পূ নর্মুদ্রিত করা হয়েছে)

84

ত�োমার কাছে এ প্রার্থনা – পরম দয়াময় এক নিমেষেও আমার যেন না হয় অপচয়। সাগর জলে মুক্ত যেমন গড়ে গড়ে চলে, তেমনি যেন ত�োমার কাছে জীবন করি ক্ষয়; এক নিমেষেও আমার যেন না হয় অপচয়। ম�ৌমাছি মধু র স্বাদে যেমন ডুবে থাকে তেমনি যেন ত�োমার ধ্যানে ডুব�োই হে আমাকে। ত�োমার আমার আছে যে ভেদ না হয় যেন কখনও ছেদ খুঁজে যেন পাই হে ত�োমার পরম পরিচয়, এক নিমেষেও আমার যেন না হয় অপচয়।।

Anjali

www.batj.org


নব জীবন - সু ব্রত বণিক আমায় ‘নব জীবন’ দিয়েছে যে রক্ত সে কি দিয়েছ তুমি? ছ�োট্ট দু টি হাতে জানাই ত�োমারে প্রণাম, তব পদরেণু চুমি। ত�োমারই মত�ো আরও অনেকে যারা করেছে ‘রক্তদান’, তাদের দানের রক্তেই বেঁচে গেছে কত শত মানু ষের প্রাণ। রক্ত যায় না যে গড়া ক�োনও রাসায়নিক এর গুণে, অনেক মুমুর্ষু প্রাণ বেঁচে যেতে পারে ত�োমাদেরই রক্তের দানে। এক ব�োতল রক্তের অভাবে যখন অকালে ঝরে যায় ‘তাজা প্রাণ’ মানু ষে মানু ষে তখন কিবা মান কিবা অভিমান। রক্তদানের মহৎ যজ্ঞে আজ হয়েছে যারা সামিল, প্রণাম জানাই তাদের, যাঁদের নেই ত�ো জাত্যাভিমান, রক্ত যে শুধু ই লাল, হয় না কভু নীল। আমিও যেদিন হব�ো ত�োমার মত বড়�ো করব�ো যে রক্ত দান এভাবেই সেদিন জানাব�ো ত�োমারে প্রণাম দেব তব দানের প্রতিদান।।

সংখ্যালঘু - শান্তনু চক্রবর্তী বসু ধৈব কুটুম্বকম, বড়ই সহজ কথা পরমাত্মা সবার উপর, দ্বিমত যে নেই সেথা  তবে কেন আত্মা বিশেষ, বিশিষ্ট পদ পায় মন্দ এবং ভাল�ো আত্মার যু দ্ধ বাধে হায়! আত্মা যখন অনাত্মীয়, বিচার বুদ্ধি ব্রাত্য  অরাজকতা বিশ্ব জুড়ে, প্রাচ্য বা পাশ্চাত্য  ক�োথাও ব্রাত্য খাদ্য বিশেষ, ক�োথাও বা বেশভূ ষা নিজ স্বার্থ সবার উপর, ব্রাত্য অমানিষা। ট্রেনে সিটের দখল নিতে, প্রাণ এর দখল ছাড়া  গ�োমাতাকে করতে সেবা, সহজ যে প্রাণ হরা ধর্ম যখন আছে সহায়, বাঁচাবে রাজনীতি দেশের আইন ও প্রশাসনে নেই ক�োন�ো আজ ভীতি।  ধর্ম ভাব এর জিগির তুলে, অধর্মের রমরমা  রামরাজ্যের স্বপ্ন যে আজ ভাবের ঘরে জমা  এমন হাহাকারের মাঝে, চড়ছে দেশে ঘুঘু  অমানু ষের ভিড়ে যে আজ, মানু ষ সংখ্যালঘু।।

www.batj.org

Durga Puja 2017

85


Mejo Jethu - Tapan Das My uncle Amar Babu, who happens to be my father’s second elder brother, was a mining engineer by profession and remained a bachelor by choice till the end. We used to call him ‘Mejo Jethu’. He loved two things with a passion: travelling to well-known and little-known places within the country and reading books on supernatural phenomena from around the world. He strongly believed in ‘life after death’ and the transfer of souls. He was our go-to person for advice on trips and vacations and entertainment— particularly in rainy evenings when, almost exclusively, ghost stories had to be heard. He worked at different government undertakings and departments throughout his career and retired from Barsua Iron Mines, at a non-descript hill town in remote Orissa. Mejo Jethu lived in a posh quarter within the mining area surrounded by jungles and hills. Elephants, snakes and wild boars were some of the frequent visitors followed by deer and sambar at times. Sometimes, even leopards. The hill station was a calm, serene place to stay, conspicuously in contrast to the chaos and boisterousness of cities. On a cloudy day, if the windows were left open, clouds would just float indoors silently, without any invitation and would spray a heavenly shower on items and occupants inside a room. Mejo Jethu was a brave and fiercely independent person. After retirement, he came to stay with us in our village but lived separately. On our insistence, he reluctantly agreed to have his meals with us whenever in town. I was always his favourite nephew. He would tell us tales of souls and life after death. He used to read a lot about ‘planchette,’ the transformation of souls, the power of ‘tantra, mantra,’ and similar things. He even told me how people like Rabindranath Tagore and many illustrious Bengalees of the time were attracted to planchette. He would often refer to an interview by Satyajit Ray to recount how it was only because of wishes of the departed soul of Sukumar Roy revealed through a planchette with Tagore that Tagore insisted that Satyajit Ray get enrolled in Shantiniketan, despite Ray’s disinterest. His references to Tagore and other eminent Bengali personalities did have an effect of normalizing the idea, but still, we were far from convinced. Mejo Jethu’s theory was simple. Addressing me affectionately as Tapu he said, ‘Tapu, the soul never dies; it moves around until it finds a compatible and suitable body in a nearby womb possibly. Some researchers are of the opinion that first it looks forward to enter as a newborn within the close family if anyone was expecting. Otherwise, it tries to find its way into any expecting relative within the group of blood relatives. Otherwise, it prefers a womb based on a compatible body within the parameters of the makeup of genes.’ He also thought it was not just genes that have a role to play on the behaviour, mannerisms, eccentricities and the mental makeup of a person, but soul as well. ‘Mejo Jethu !! I do not believe in such theories of yours,’ I would tell him, laughing. ‘These are not my theories, child; these are some of the opinions of researchers and scientists,’ Mejo Jethu would always reply patiently, as if tolerating my ignorance only out of affection and kindness of his heart. From what he theorized, I understood the soul to be following the FIFO rule. Like the 86

Ola Uber cabs, the soul too reaches the nearest customer, maybe directed on the basis of geographical proximity. ‘Jethu,’ I said to him, ‘I also fail to believe the story of a black snake standing a metre high on its tail. How is it possible, Jethu? I questioned him. And he would repeat his story and I would willingly listen to it with the thrills and anticipation of a first time listener, though I knew it by heart by now. ‘Believe me, Tapu, I was returning on my Rajdoot motorcycle one late night and my friend was behind me .We just crossed the jungle area and at the bend, as we slowed down we saw something which sent shockwaves through our marrow. A black snake of around one-and-a-half metres long was standing straight on its tail and the headlight fell on its face. It looked similar to a black mamba. We parked the motorbike with the light still focussed on the reptile’s face. I took a stick from the nearby bushes and struck a deadly blow on the waist and the reptile fell down. Two more blows and the snake lay lifeless. I burned the reptile and left the place.’ Regardless of the degree of credibility that his stories offered, I used to yearn for more stories that defied common logic or science. ‘Mejo Jethu, remember you told us about the lady you saw wearing a red saree in the dead of night with jewellery on and waiting on the road that you crossed? The next morning we heard that the dead body of the girl’s father-in-law lay at that spot. It was rumoured that the girl had committed suicide a few days earlier owing to dowry harassment by the father-in-law and the soul of the girl took revenge on him. Whatever it may be, what excited me was Mejo Jethu’s animated style of delivering the stories. His actions, mannerisms, pitch and diction were just right and we enjoyed every bit of it. He only said what he himself believed in or about his inferences based on his own experiences. He always said that belief would come out of one’s personal experience, and one only had to be open to receiving all kinds of experiences. His logic was simple: just because most people have not experienced it, the existence of supernatural was not disproved. He was very fond of me and whenever I had holidays or once every month I would go to visit him and he would come on his Rajdoot motorbike to get me home from the other side of the river. Our village was around 50 to 60 kms from the school hostel at Dasagram. Satishchandra Sarbarthasadhak Sikshasadan was my school by the way. There was just one motorable road running between, crossing some wooded area and some inhabited ones. Between the two places there was a big river known as Keleghai. This big river used to be in a foul mood at frequent intervals. Crossing the Keleghai was a horrifying experience each time. Most times, my uncle would wait for me on the other side of the river with his ever-dependable companion, the Rajdoot motorcycle, to pick me up or drop me off at that point. Keleghai was frequently in spate and was subject to raging high tides. The bamboo bridge built by the villagers was not reliable and often washed away by the strong current. The boats of the local fishermen were the only hope at times but even those were very uncertain at odd hours. Mejo Jethu would write letters to me frequently when I was in the hostel, using

Anjali

www.batj.org


Mejo Jethu

inland letters and I sometimes replied using postcards. One December, a particularly chilly one, the annual exams in my college had to be deferred twice due to bad weather. We were stuck between suspended exam and deferred break and therefore could not go home. We had to stay put at the hostel, waiting for the exams to begin. And anyway, going home was not a calming idea when you were panicking about exams. Anyway, finally the exams began and eventually I was left with only another week of exams. I had to let Jethu know that I was about to be done and coming home right after. My problem was: How do I let Jethu know about it? With not many options at hand, I just posted a postcard to him stating that he could come and pick me up the following Friday evening and wait on the other side of the river after 5. On that Friday, it was raining since morning as usual and the examination went on well till 5 pm. As the bell rang, I rushed to the hostel to pack my bag while other hostel inmates were celebrating the end of the examinations and preparing to go to their respective places the next morning. I took permission from the warden and left. I began walking towards the Keleghai river. I couldn’t wait to see my parents and Mejo Jethu and also my friends in the village after such a long gap. An umbrella saved me from the drizzle that did not let up and the feeble pencil torch was just sufficient to lead me in the growing darkness. Stories that I had heard from Mejo Jethu came back to me in a rush, putting my stomach in a knot. I tried to brush off any trickle of irrational fear telling myself that they were just stories and could never happen in real life. Only a handful of people were seen on the road in this inclement weather. There were no vehicles to be seen at all. The entire place seemed deserted. After walking for an hour I somehow reached the banks of the river Keleghai. The river was in spate and the bamboo bridge and the fishermen’s boats were not to be seen. ‘What do I do?’ I thought to myself. The span of the river was so large that it would be difficult for me even to swim and that too at night. I began to panic but there was no one to help. I desperately hoped that Jethu would have received my letter and would be waiting for me. In my despair, I tried to shout with all my might, in an effort to make my voice heard on the other side of the river: ‘Mejo Jethu, are you there, there is no boat this side. . . are you there?’ There was no reply for some time. Then suddenly I could hear the sound of a motorcycle and saw a beam of light pointed toward me. I instantly knew that this must be Mejo Jethu. The rain had become unbearable by now. I heard a voice suggesting that I wait. This too, I assumed, to be Mejo Jethu’s. I followed the advice. I saw a small boat with a dim light approaching the bank. . . I was overjoyed. Once the boat reached, the boatman called out

www.batj.org

in a feeble voice, ‘Come, Tapu babu, just step in. Mejobabu has sent me to take you across.’ I crossed the river and thanked the boatman profusely. After walking for another five to seven minutes I reached the spot where the motorcycle was parked. Mejo Jethu was there wearing a raincoat. ‘Tapu, come,’ he said, ‘let us get started. The weather seems to be getting uglier.’ Indeed, the skies seemed to have burst and the sound of the rain almost deafened me. But now that I had crossed the river and would soon get home, I couldn’t care less. I got onto the bike, held the umbrella and we started toward our destination. ‘How were your exams?’ he asked, his voice sounding distant. But I was too happy to care. I excitedly babbled my exam story. The rain was really nasty. After an hour’s drive we reached our village and it was pretty late. As we reached the main entrance of our house, I got down. Mejo Jethu handed over my bag to me and asked me to go inside so that he could park the vehicle and come. I happily ran towards the door and could see the rays of the lanterns burning inside. Knock, knock!! ‘Ma, open the door. Tapu here.’ ‘Who is there at this odd hour?’ I could hear Ma’s voice. . . ‘Tapu here, Ma’. ‘Tapu!!’ ‘The door opened and I tightly hugged my mother. Tears rolled from my mother’s eyes. She asked me to sit. The house seemed full. As I sat down, I saw relatives coming out of the rooms. I was surprised. Was there a get together or any event planned that I was not aware of? ‘Ma, all our relatives are here. Why? Where is Baba?’ ‘Your Baba is fine. . . he has gone to the town this morning.’ ‘But why is everyone weeping and crying?’ After sometime Ma broke the news to me: ‘As your final exams were on we did not inform you, but ten days back your Mejo Jethu had expired and today was the tenth day ceremony . . .’ ‘What!! It cannot be true Ma . . .’ I screamed and I rushed out of my house to find Mejo Jethu who drove me home. . . but no one was around. I rushed to the shed where the bike was kept and felt the engine. . . it was still very hot. In an instant I understood what had happened, and there were shivers down my spine. I could feel my heart racing up my throat and my knees wobbling! After all my refusals to believe in his claims of supernatural existence, a matter like this had to happen to me! I experienced proof in such a personal way that now there was no room to doubt anymore. Fear left me. Now it was awe. And calm. I knelt to the ground and bowed to Mejo Jethu. I cried to myself, ‘Yes, Mejo Jethu, I believe your stories. By bringing me back home safely you proved your theory of life after death. May your soul find peace, Jethu. Come back to us when you are ready.’ 

Durga Puja 2017

87


Sail Set Sail - Sougata Mallik I have yet to turn towards the morning light, Where the sorrows can no longer hide me. I stand transfixed like a photo in black and white, Where unknown voices are deep as the somber sea. These wasteful tears have poisoned all my days, And tortured my heart that’s so afraid and frail. I close my eyes to imagine all the peaceful ways, That you and I can board our ship and set sail. These living memories I know I cannot escape, For they continue to hide my startled worried face. I am clothed tightly in this gloomy dented cape, That wraps my body with no breathing space. Please set me free or else I may only steam, Please set me free now - to dream the dreams I dream.

In the Moonlight - Purnima Ghosh Clear night sky! What a brilliant full moon! Standing in the balcony, I’m enjoying the beauty alone. See the lovely view of the calm and gentle moon. See the harbor where endless waves dance on their own. I can see the rooftops , the trees, and the wide sky, I smell the aroma of Jasmine in the breeze. It seems , environ is dressed up for the moon to satisfy; Every one stands up for the moon to make her please. Wherever I look, I see her majestic presence; Billions of stars in her court, twinkle surrounding her. Everything is blissful in nature, in peaceful ambience. All odds become even by her magical touch whatever. I ‘m lost and breathless in the shower of moonlight, I ‘m reincarnated with moon’s whisper in my ear “Take a deep breath, Replace all sorrows with delight; Enjoy life with nature, Love all, Let you cheer.”

88

Anjali

www.batj.org


“प्रकाश मंत्र” - सन ु ील शर्मा जीवन तम में प्रकाश मंत्र फंू क गया है कोई। जाग्रत हो ज्ञान तिमिर में आत्मा है सोई।। ओढ़ लिए हैं क्यों अकारण मोह माया के बाह्यावरण है पिस रही वो कनक भांति सपु ्त व लपु ्त हो गई है कांति न धकेल स्वयं को अग्निकंु ड में जाग्रत हो ...... जाग्रत हो ....... जीवन तम में प्रकाश मंत्र फंू क गया है कोई। जाग्रत हो ज्ञान तिमिर में आत्मा है सोई।। आई थी तू विश्व में लेकर नया संदेश

क्यों किया धमू िल स्वयं को दे ख नया परिवेश स्वयं न बदल दे ख कर विश्व की यह धारा स्वनिर्माण का दृढ़ बल लाएगा परिवर्तन सारा न धकेल स्वयं को दौर्बल्य में जाग्रत हो ...... जाग्रत हो ....... जीवन तम में प्रकाश मंत्र फंू क गया है कोई। जाग्रत हो ज्ञान तिमिर में आत्मा है सोई।। मंत्र है वशीभूत कर ले मन यह चंचल ज्ञान मार्ग पर अडिग निर्भीक बढ़े चल सत्य मार्ग की कठिनाइयों से न डर तू पाएगी इक दिन अपना लक्ष्य निकट तू न धकेल स्वयं को अस्मिता में जाग्रत हो ...... जाग्रत हो ....... जीवन तम में प्रकाश मंत्र फंू क गया है कोई। जाग्रत हो ज्ञान तिमिर में आत्मा है सोई।। (पर ू ्व प्रकाशित Anjali 2014)

www.batj.org

Durga Puja 2017

89


वो - नीलम मलकानिया यहाँ जापान में कहीँ भी चले जाओ लगभग हर एक किलोमीटर पर कोई ना कोई नदी आ ही जाती है । मुझे नदी किनारे टहलना पसंद है ऐसा लगता है कि बहता पानी चुपचाप आपसे कुछ कहना चाहता हो। कई बार मन करता है कि नदी से पूछा जाए कि आज तुमने क्या-क्या दे खा? क्या अच्छा लगा? जिस दिन मैं बहती हूँ ख़ुद को नदी मान लेती हूँ और अपने प्रवाह में बहुत कुछ जोड़ने की कोशिश करती हूँ जो आने वाले कुछ समय तक ड्रॉईंगरूम में की गई नई सजावट जैसा मन पर दमकता रहता है और ऊर्जा दे ता है । नदी से पूछना चाहती हूँ कि क्या बहते-बहते तुम कहीँ ठहरना चाहती हो? क्या दे खना चाहती हो पल भर रुककर? क्या तुम्हारी सहज प्रवत्ति ृ से उलट किया गया कोई काम तुम में भी कुछ जोड़ सकता है ? बस ऐसे ही कुछ बेतुके से विचारों में खोई घर के पास वाली नदी के किनारे टहल रही थी तभी वो मिली मुझ।े वो, एक छोटा सा हल्के पीले रं ग का कढ़ाई वाला फ्रॉक पहने और लगभग पाँच इंच की हील वाले मैचिग ं सैंडल, बिल्ली के डिज़ाईन वाला पर्स हाथ में झूल रहा था और उसके ख़ूबसूरत चेहरे पर कुछ तैर रहा था। अब नदी लड़की बन गई थी और मेरा ध्यान उस पर चला गया। अब बहते पानी को नहीं बल्कि उसे दे ख रही थी। वो भी बह रही थी, अपने विचारों में । खोई सी चली जा रही थी। चेहरे पर मेकअप सजाए, बड़ी-बड़ी काली घनी पलकें लगाए और गालों के बाहरी हिस्सों पर लाल ब्लशर लगाए ताकि जब वो हँसे तो उसके चेहरे के दोनों तरफ़ उभरी नन्हीं गुलाबी उठान से वो सुंदर ही नहीं बल्कि तंदरु ु स्त भी लगे। जैसे भारत में बड़े बुज़ुर्ग कहते हैं कि बच्चा हँसता है तो शरीर में लगता है । यानी अगर बच्चा ख़ुश है तो तंदरु ु स्त भी रहे गा और खाया पिया शरीर में लगता रहे गा। गाल गुलाबी हो जाएँ तो समझो कि शरीर में ख़ून का दौरा अच्छा हो रहा है । ये सोच कर पल भर को मैं मुस्कु रा दी कि ख़ून और सेहत का ये रिश्ता, गुलाबी गाल और दे हाती बुज़ुर्गों का ये समीकरण कैसे मेकअप की एक छोटी सी गोल डिबिया और एक ब्रश में समा गया है । हिमोग्लोबिन चाहे जितना भी हो, ब्रश चलाओ और गाल गुलाबी बनाओ। ये सब सोच ही रही थी कि वो मेरे पास से गुज़री और उसी पल मेकअप से बड़ी बनाई गई उसकी आँखों से छलकते आँसू मैंने दे ख लिए। एक नया दे श, अजनबी लोग, आसपास कोई तीसरा व्यक्ति नहीं और फिर भाषाई बाधा। सहज बुद्धि ने कहा कि मैं बस ख़ामोश रहुँ और उसे ऐसे ही जाने दँ ।ू फिर अंदर जो एक क़लम रहती है वो सहसा जाग उठी। ... क्या है इन आँसुओं की कहानी ... क्यों रो रही है ये ... ज़ाहिर है कि सब ठीक तो नहीं है .... सहज बुद्धि --- प्यार व्यार और क्या। तोक्यो जैसी अत्याधुनिक जगह में तो ये मामूली बात है । लोग अकेलेपन का शिकार हैं। कोई भी समस्या 90

हो सकती है । क़लम—- फिर भी क्या ये इंसानियत है कि वो लाचार सी, रोती हुई चली जाए और उसे ये भी अहसास ना करवाया जाए कि इस पल ये नदी और मैं उसके आँसुओं से पसीज रहे हैं। बुद्धि--- हो सकता है उसे अच्छा ना लगे। उसकी मर्ज़ी है , जब चाहे रो सकती है । क़लम --- जब चाहे हँस भी तो सकती है । रोने से क्या होगा ? क्या परीकथा हमेशा परी से ही बनती है  ? क्या किसी अंजान के चेहरे पर मुस्कु राहट ला दे ना या उसे ये अहसास करवा दे ना कि उसका होना भी इस ब्रह्माण्ड में किसी कोने का आरक्षित होना है , परीकथा नहीं है  ? ..... कुछ सोच कर उसे आवाज़ लगाई....“सुमिमासेन...”। जापानी में excuse me या sorry को सुमिमासेन कहा जाता है । वो रुकी। पीछे मुड़कर दे खा। मैं बिना बोले चेहरे पर हल्की मुस्कान और एक परिचित ऊर्जा लिए उसकी ओर बढ़ी। उसका इस तरह रुक जाना और फिर पीछे दे खना। ठीक मेरी आँखों में दे खना और अपने आँसू छिपाने की कोई कोशिश ना करना इस बात का संकेत था कि मैं इस शरीर से पहले ही अपने विचारों से उस तक पहुँच गई थी और अब हम अजनबी नहीं रहे थे। “सुमिमासेन... व्हाई आर यू क्राईंग.. व्हाट है पेन्ड... इफ़ यू फील कम्फर्टे बल , यू कैन शेयर इट विद मी” । ... मैंने धीरे -धीरे अपने शब्दों 94 और इशारों से उसे ये बता दिया कि वो जो कहना चाहती है , कह सकती है क्योंकि कोई है जो इस पल उसे सुनना चाहता है । उसने कुछ पल मुझे दे खा फिर कहा ... “सो काइंड ऑफ़ यू, आरीगातो”। ... आरीगातो यानी धन्यवाद। मुझे लगा था कि वो कुछ और बोले बिना बस यही शब्द मेरे हवाले करके चली जाएगी। जापानी समाज में लोग शर्मीले और साथ ही थोड़े औपचारिकता पसंद होते हैं। संकोची स्वभाव भी कई बार आड़े आता है । उसने मुझे चौंकाते हुए पूछा “कैन वी सिट दे यर, दे यर ऑन द बैंच”?

Anjali

www.batj.org


वो

“ओह यस, कम... वुड यू लाईक टू है व वॉटर”? मैंने पूछा। ... उसने गर्दन हिला कर मना किया और फिर मुस्कु राने की कोशिश करने लगी। फिर से वही शब्द धीरे से दोहराया , “आरीगातो”। वो हिन्दी नहीं बोल सकती थी और मैं जापानी नहीं जानती थी। तो बची अंग्रेज़ी। उसी भाषा में दख ु -दर्द और दिलासे का आदान-प्रदान हुआ। बैंच पर बैठते ही मैंने उसका नाम पूछना चाहा तो उसने फिर से आँसू लुढ़काते हुए नाम बताया ‘ बैड गर्ल’। फिर एक दो बार यही शब्द दोहराया। मैं समझ गई कि ये उपाधि किसी ख़ास की दी हुई है और संभव है कि जापानी भाषा में वो शब्द कुछ ज़्यादा ही “बैड” रहा हो इसीलिए ये इतनी दख ु ी हुई। ये मुलाक़ात नाटकीय तो बन ही गई थी तो मैंने भी फिर बिना किसी लाग लपेट के पूछ ही लिया ... “ब्रेकअप”? वो फीकी मुस्कु राहट के साथ बोली.. “नो, पैचअप”। ... पैचअप... यानी कि बिछड़े साथी से फिर से मिलना। तो इसमें रोने की क्या बात?... बिना कुछ पूछे सिर्फ़ उसके बोलने का इंतज़ार करती रही और इस उधेड़बुन में रही कि उससे क्या कितना पूछा जाए ताकि वो असहज महसूस ना करे । ये बिल्कु ल अलग अनुभव था और थोड़ा सा अविश्वसनीय भी क्योंकि यहाँ जापान में अक्सर इस तरह किसी का भी बतियाने लगना बहुत अनोखी बात है । पर मेरे साथ भी अनोखा तो घटता ही रहता है तो ये एक कड़ी भी जुड़ गई। उसने मुझसे पूछा कि मैं कहाँ से हूँ और फिर ख़ुद ही कहा, इंडिया ? फिर थोड़ी सी औपचारिकता के बाद नमस्ते और सारी ( साड़ी ) शब्द से अपना परिचय बताने के बाद जो कहानी सुनाई वो कुछ इस तरह थी। ..वो तोरे यामा या तारायामा जगह से थी शायद और यहाँ तोक्यो में किसी कंपनी में काम करती है । इलैक्ट्रोनिक्स की कंपनी है इसलिए उसने अंग्रेज़ी सीखी ताकी बाहरी लोगों से बातचीत की जा सके। उसका दो साल पहले ब्रेकअप हुआ था क्योंकि जितना समय वो दोनों एक साथ बिताना चाहते थे उतना समय उनके पास था ही नहीं और फिर इसी के साथ कुछ और बातों पर भी मनमुटाव शुरु हुआ। एक दिन लड़की को अहसास हुआ कि इस तरह हर समय नाराज़ रहना और एक दस ू रे को सिर्फ़ ढोते रहने से अच्छा है कि अलग हो जाएँ। दोनों ने साथ बैठकर ये फ़ैसला किया, फिर वो अलग हो गए और अपने-अपने रास्ते अपना-अपना दिल थामे चल दिए। फ़िल्मी कहानी की तरह फिर एक दस ू रे की याद आने लगी। लड़की ने अपने शौक़ से जी बहलाना चाहा और किसी डाँस क्लास में जाना शुरु कर दिया। ख़ुश रहने लगी। कुछ अलग कर रही थी और कंपनी के एक साथी को थोड़ा पसंद भी करने लगी थी। कंपनी के ही काम से अमरीका जाने का सपना भी पालना शुरु कर दिया था और उसके लिए मेहनत भी कर रही थी। यू टर्न लेकर लड़का फिर उसके जीवन में आना चाहता था और परे शान रहते हुए कभी-कभी अपना मानसिक संतुलन खो बैठता था । लड़के के ऑफ़िस मे लोग उससे नाराज़ रहने लगे और उसके काम पर भी असर पड़ने लगा जो कि जापान में एक ख़तरनाक बात है क्योंकि बहुत सी जगह ऐसी हैं जहाँ आप अपने काम को चाहे पूरी निष्ठा से करें या मजबूरी में

करें , पर आपके काम का स्तर ज़रा ख़राब हुआ कि आपको दस ू रा मौक़ा कभी नहीं मिलता। अपने हालात को सुधारने की कोशिश में लड़का फिर से लौट आया उसके जीवन में और वो जो उड़ना चाहती थी, फिर से एक ऐसे रिश्ते में क़ै द हो रही थी जिसका आधार डाँवाडोल था। अब शायद डाँस क्लास और अमरीका कुछ भी नहीं। शायद कुछ समय बाद फिर से वही व्यस्तता और वही मानसिक दबाव। उसने सधे हुए और गरिमामय शब्दों में ये कहानी बताई और जो नहीं बताया वो उसके आँसू बता ही चुके थे। शायद वो मन से इस रिश्ते के लिए तैयार नहीं थी और इसे बस एक दबाव या हालात कहा जाना ही सही था। उसने अपना नाम बताया था और मैंने दो बार दोहराया भी पर अब भूल चुकी हूँ। वो कहाँ से आ रही है , क्या उसी से मिलकर, क्या वो साथ रहते हैं, आगे क्या चाहती है , क्या फिर कोई झगड़ा हुआ था, क्या इस बार कुछ बदला है उन दोनों के बीच, गुड़िया सी लगने वाली लड़की बैड गर्ल क्यों हैं ? ऐसे अनगिनत सवाल मन में पैदा होते रहे और मैं उसे जाते हुए दे खती रही। उसे एक अजनबी की ज़रूरत थी शायद उस समय। ऐसा अजनबी जिससे वो बातें कर सकें कुछ दे र। जिसके सामने कुछ भी कह सके और ये डर ना हो कि कॉमन फ्रैंड बातों को पंख लगाकर उड़ा दें गे। उसके चले जाने के बाद फिर से बहुत दे र तक मैं अपने ही मन में गोते लगाती रही। बिना कोई तथ्यात्मक जानकारी दिए उसका यूँ अपनी बातें कह जाना दिल को छू गया। वो बस बोलना चाहती थी, मेरे बहाने शायद अपने आप से बात कर रही थी। दोहरा रही थी बहुत कुछ। शायद कई बार घुटन के घेरे से निकलने का बस यही सबसे आसान तरीका होता है , अपनी बात बोल दे ना। फिर चाहे कुछ समाधान निकले आपकी समस्या का या नहीं। वैसे ज़्यादातर तो हम ख़ुद ही सुलझाते हैं अपनी उलझनें, सलाह दे ने वाले बस कुछ विकल्प हमारी झोली में डाल दे ते हैं। कौन सी परे शानी जीवन के कितने दिन निगल जाएगी ये भी कुछ हद तक हम ही तय करते हैं। इसीलिए शायद वो समाधान तो ख़ुद तलाशना चाहती थी लोकिन उस विशेष पल की ज़रूरत बस बात करना थी , तो उसने एक अजनबी से बात कर ली। यहाँ कुछ दोस्त ऐसे ही मिले हैं मुझ,े अचानक। अब उनका फोन नंबर है मेरे पास और जब तब बातें भी होती रहती हैं। पर उनके बारे में कुछ लिखा नहीं। ये लड़की इतनी जल्दी काग़ज़ पर उतर जाएगी पता नहीं था। अगर फोन नंबर्स या नेम कार्ड की अदला-बदली हुई होती तो शायद एक प्रक्रिया शुरु हो जाती और इसके बारे में भी कुछ ना लिख पाती। पर इससे तो दोबारा मिलने की कोई उम्मीद नहीं, कोई अता-पता नहीं। वो चुपचाप चली जा रही थी, फिर से अपना झूलता पर्स संभाले और ख़ुद को समेटते हुए। वो थोड़ी सी मुझ में बच गई थी और थोड़ी सी उस नदी में । नदी और मैं दोनों ठहर गए थे और बस बहे जा रही थी ‘वो’। चाहती हूँ कि वो ख़ुश रहे , क्या पता कल फिर से हम कहीँ ऐसे ही अचानक मिल जाएँ। तब तक बस मैं उसे ऐसे ही याद रखना चाहती हूँ, इसी शब्द से `वो’।  (पूर्व प्रकाशित Anjali 2014)

www.batj.org

Durga Puja 2017

91


कुछ कहना चाह्ता है मन.. - सारिका अग्रव ख्वाब

रिश्ते

वो कदम बढ़ते रहे उन ऊँची ऊँची दिवारों की तरफ, कहीं खिड़की से एक रोशनी की किरण पर हम बढ़ चले.... विशालकाय उस कक्ष को दे खकर कुछ सिमटे , फिर नज़र पड़ी उन नौजवानों पर, हुए तल्लीन थे जो खेल में बढ़ी लगन से.... नतमस्तक हो गया सर उनका यह परिश्रम दे खकर, क्यों ना हो इस दे श का गौरव यह बच्चे... फिर उठे कदम और बढ़ने लगे अपने ही ख्यालों में .... छोड़ आये थे अपना दे श पीछे , पर आज भी थिड़कती हैं यादें , एक नया ख्वाब सजा लिया उन कुछ पलों में .... मात्रभूमी के उन नौजवानों के लिये, जो हमारे दे श को भी गौरवानवित करें गे कभी... कुछ ऐसे ही खेल परिक्षण मैदान होंगे, हर खेल की शिक्षा जहाँ सम्भव होगी, मेहनत की हर दिल को तमन्ना होगी, क्यों ना होगा मेरा दे श भी उस शिखर पर.... जहाँ नतमस्तक हर दे श होगा!!

वो टूटते, वो सड़ते, वो रोंदे हुए रिश्ते, वो घिसटते हुए ज़मीन पर लहूलुहान हुए रिश्ते वो दिलों को चीरते, वो बिलखते, वो सिसकते वो है वान से यह रिश्ते वो समाज की बंदिशों में घिरे हुए वो डरते, सिमटते वो हारे हुए से रिश्ते, फिर भी रिश्ते कैसे कैसे हैं यह रिश्ते।

वो यादें बहुत कुछ लिखना चाहता था मन उन कोरे कागज़ों पर, पर समझ नहीं आया अपने जज़बातों को कैसे शब्द दें .... बहुत सिमटे थे उन यादों में , पर समझ नहीं आया उन्हें कैसे वर्तमान देँ.... दिल बहुत उदास था, कि अपनी आवाज़ को पह्चान पाना भी मशु ्किल था.... एक आवरन इतना गहरा था जीवन पर, कि अपना जीवन भी बोझ था ज़िंदगी पर।

बढ़ते रहो कुछ खराब लम्हों को अपने दिल से लगा कर क्या करोगे..... जो कुछ अच्छा हुआ उसे क्या भूल जाओगे.... ज़िंदगी में बढ़ते रहोगे तो मंज़िल पा जाओगे.... रुक गया कदम अगर तो बहुत पीछे रह जाओगे।

(पर्व ू प्रकाशित Anjali 2014)

आँसू तम ु से क्या बोलँ ू सखी.... और तम ु ्हें क्या समझाऊँ बस कुछ आँसू पलकोँ पर ले आऊँ.... यह आप बीती गहरी इतनी.... कुछ क्षण मौन हो जाऊँ.... यह सोचँ ू इन बेबस टपकते हुए आँसओ ू ं को कैसे रोकँू ... तम ्हें प छ ँ ू ू ू या खद ु को पछ ू ू ँ .... 92

Anjali

www.batj.org


リシケシ滞在記---スワミ・チダーナンダ 生誕100周年に寄せて

- 新田 裕子 「思いが形になる」

ィヴェーカーナンダのこと)が沐浴し瞑想したという、ガンガーの ガートに行き当たります。その水のきれいなこと!!コルカタの 方では澱んでいる河の水が、太陽の光を反射して輝いているほ 新田ゆう子 ど、透明なのです。病院内もすべて案内してもらうと、もう昼食の 『大きな行為ができないのであれば、せめて1ルピーを乞うて 時間でした。流石に疲れた・・・。   素 焼 き の 水 差 し を 買 い 、 道 端 に 座 っ て 喉 の 院 内 に は 、 サ ド ゥ が 入 院 す る 部 屋 も あ り ま し 渇 い た 通 行 人 に 飲 み 水 を 差 し 上 げ な さ い 。 たし、ミッションのお坊様の医師も何人かいて、  喉の渇いた人に飲み水を差し出すことも偉大な行為だよ』 普 通 の 病 院 と は そ こ が 違 う と こ ろ で し ょ う か 。  昼食には、牧場の牛から採れたミルクで作ったと思われ スワミ・ヴィヴェーカーナンダは、弟子のニスチャヤ―ナ るヨーグルトが出ました。今まで行った、ミッションの食堂と ンダに、施しだけを受け続けることは、サードゥの堕落につ 違 っ て 、 ア シ ュ ラ ム や 病 院 で 働 く 人 と 一 緒 の 食 事 で す 。 お ながると、こう言ったのです。このようにして始まる、スワミ・ 坊 様 た ち は 壁 を 隔 て た 隣 の 部 屋 で 摂 っ て お ら れ ま し た 。 ニ ス チ ャ ヤ ― ナ ン ダ の 生 涯 の 話 を 、 昨 年 の 夏 、 日 本 ヴ ェ ー  午後、寺院と病院が昼休みになって、わたしも部屋で休みまし ダ ー ン タ 協 会 発 行 の 雑 誌 「 不 滅 の 言 葉 ・ 特 別 号 」 で 読 み ま たが、雑誌で読んだ『奉仕の家』から、この巨大なアシュラムにど した。ニスチャヤ―ナンダが、師のこの言葉を受け、兄弟弟 うやって発展していったのか・・・。考えるものの、想像もつきませ 子 の ス ワ ミ ・ カ リ ヤ ― ナ ー ナ ン ダ と 共 に 活 動 を し 、 発 展 し て ん。ラーマクリシュナの力が背後に働いていなければ、到底あり いったというハリドワール カンカルにあるラーマクリシュナミ 得ないのではないだろうか・・・。 ッション・セバアシュラムを訪れてみたい、と思うようになりま   多 く の 人 々 を 動 か し 働 か せ る 、 神 の 力 。 した。その願いは案外早く、4か月後には実現したのです。  また、自分は一体、雑誌のあの話のどこに惹  最初、『ラーマクリシュナ奉仕の家』としてスタートした時 かれたのか?ここに来るまで、何度も読み返し、 は、3つの小屋だったというこのアシュラマは、スワミ・ヴィヴ 読むたびに感動で涙が溢れてしまうのでした。 ェーカーナンダの「リシケシやハリドワールで修行す僧た  西洋でのヴェーダーンタの講演から帰国したス ちが病気になった時に何かしたい」という願いを、弟子の ワミジーに一目会いたいがため、南インドの村から カリヤ―ナーナンダに託し開設されたのだということです。 マドラス(チェンナイ)まで、何日も歩いて行った(  わたしがそこを訪れたのは、インドで一番気候のいいとさ 汽車賃がないために)というニスチャヤ―ナンダ。 れる11月中旬の朝。一刻も時間を無駄にしたくなかったの (当時はまだ出家していなかった)初めて会ったスワミジ で、早朝ではなかったけれど、朝食もそこそこリシケシを発っ ーの弟子になりたいと願い、叶ってからは、スワミジーの たのです。車がアシュラムのゲートを入って、びっくりしたの 肉体がこの世を去るまで、そばでお仕えした。その後、 は、張り巡らされた塀の外側からは想像もつかないほど広大 ベルルマトを離れ、遊行の途中に『奉仕の家』とスワミ・ な敷地が広がっていたからです。早かったため、宿泊手続 カリヤーナ―ナンダに遭遇し、そこで生涯を終えるまで、 きを取るためのオフィスには、担当のスワミジはまだ出てきて  『人間の中に神を見て、その神に奉仕をする』 いませんでした。外のベンチで待つこと数分。ほどなくスワミ という、スワミジーの教えを実践することになったのです。この一 ジが現れ、アシュラムで働くヒンディー語しか話せない女性 途な思いを持続できる純粋さは、スワミジーの力なのか、ニスチ が、部屋に案内してくれました。宿泊手続きもない、あまりに ャヤ―ナンダの並外れた霊性の力なのか。或いはその両方な あっさりした応対に、ちょっと拍子抜け。自分の部屋となった のかもしれません。『奉仕の家』で働く間、リシケシまで、街道の 室内も広かったのですが、敷地内が広くて、その建物まで 僧たちのために物資や薬を運び、治療を施し、28Kmの道を毎 道に迷わないように目印を見つけておく必要がありました。 日往復したというニスチャヤーナンダ。その、強靭な愛と信仰心  「まずホットシャワーを浴びてゆっくりしなさい」と言わ は肉体を忘れさせてしまうのだろうかと、感嘆するばかりです。 れ、また、朝食を食べていないわたしのために、部屋に  翌日も、その翌日も、この大病院には、やって来 はチャイの入ったポットと、ケーキやチョコレートを載せた る患者さんが後を絶ちませんでした。コーヒーや お皿が運ばれてきました。シャワーはすぐお湯が出るよ チャイを飲みに行っていた入り口にある小さな売 うに、電熱スイッチが入っていました。なんだか至れり尽 店のおじさんは、いつもニコニコして親切でした。 くせりで、あっさりした応対とは反対の温かい心遣いに、  帰る朝、ご挨拶に行くと、オフィスのスワミジは「またおいで!」 ラーマクリシュナの家に来た、という実感が湧きました。 と、笑って一言。来た時と同じ、やっぱりあっさりとした応対でし  ほどなく、ここのアシュラムの長のお坊様にご挨拶に行きまし たが、思わず「はい、また来ます!」と応えるほど、優しい笑顔で た。まるで子供のような眼を持っていらしゃるのに、周囲を圧倒 した。 してしまうような存在感に、一歩後ろに引いてしまったほどです。  リシケシまで行く車の  「何か聞きたいことはありますか?」と言われ、「今は特に 中で、「自分は到底、この ありません」としか返す言葉が出ませんでした。その後、この 道を歩いてリシケシまで行 方と会話をする機会はなかったのですが、敷地内でお姿を けない」と、またすぐ、ニス 見かけるたびに、遠くからでも自然に合掌をしていました。 チャヤ―ナンダのことを思  それから、昼食までの時間、ここで仕事をしている若い男性 い返していました。  に、アシュラム内を案内してもらいました。ラーマクリシュナ、スワ ミ・ヴィヴェーカーナンダ、カリヤーナ―ナンダとニスチャヤ―ナ ンダの名を冠したプレートを掲げた、6階建ての大病院。救急セ ンターに薬局、売店。病院の医師や看護婦、職員が住まう何棟 ものアパートメント。食堂とキッチン。すべて自給なのか、野菜畑 コルカタの街中に建つ、スワミ・ヴィヴェーカーナンダの像 と牛を飼う牧場。そして、沢山の花を植えた花畑と芝生。僧侶の 住まう建物。車寄せの前には、ヴィヴェーカーナンダの胸像が花 に囲まれて建っています。勿論、敷地の中央には、シュリー・ラ ーマクリシュナをお祀りする寺院が建っていて、朝晩にはアラテ ィが行われています。牧場を抜けてさらに行くと、スワミジー(ヴ www.batj.org

Durga Puja 2017

93


MyTrip to Turkey and Italy   - Akanksha Mukherjee, Grade III

H

ello! I want to tell you about my trip to Turkey and Italy during the month of June. On June 15th we woke up early, had a bath, dressed up and drove to the airport. We then took the flight to Istanbul. It was a very long flight and I was becoming impatient and very grumpy. I was repeatedly asking my father when we will reach Istanbul? Finally after eleven hours the airplane reached Istanbul airport.

us. After staying in Rome for three days we left for Florence. We reached Florence in the evening and checked into our hotel. The hotel was really nice. It was much better than Rome. The next day we visited the Uffizi museum. Another day we took a day trip to Siena in Tuscany. There, we ate ice cream from the world’s best ice cream shop ever. For the next two days we visited different parts of city of Florence and also

Bosphorus Cruise In Istanbul we checked in a splendid hotel and immediately went to sleep as we were very tired. For the next few days, we went to many wonderful places like: Hagia Sofia, Blue Mosque, Topkapi Palace. One day we took a cruise to the Bosphorus Sea – which I really enjoyed! Another day we visited the Grand Bazar. That evening we also went to see Turkish dance. We spent four nights in Turkey, and then we went to Italy. At first we went to Rome, which was extremely hot! We went to the Trevi fountain. We ate ice cream. Then we went back to our hotel. In the following days we visited Colosseum, Vatican City, Sistine Chapel, St Peter’s Basilica, Piazza Venezia and many other museums. We had a tour guide along with

Venice the Academia museum. I was getting a little tired of watching so many museums! On the last night we watched fireworks. It was beautiful! After staying in Florence for five days, we went to Venice. In Venice, we visited an island called Murano. There we saw beautiful glass paintings. We also took two Gondola rides. In Venice I saw lots of shops selling gorgeous masks. After visiting Venice, we took an airplane and went back to Istanbul Airport. After spending three hours in the Airport, we took a flight to Tokyo. I was glad to be back home.  (Reprinted from Anjali 2013)

My Little Brother - Sneha Kundu, Grade V

M

y little brother`s name is Soham. He was born on April 8 2012. He is very cute but he is really naughty and mischievous. Everyone in the family and even my friends are scared of him. At first I was really happy to get him. He was quiet. He was nice. But best of all, somebody was finally younger than me in the family. Now he is really naughty. He bites everyone. He pulls my hair. And worst of all, everything he does that is bad, I get scolded for it. Sometimes, I wish he were never born. But sometimes he is very useful. When I get bored and I have nothing to do, I play with my brother. When I come back home 94

from school and find him awake, he always runs up to me and we start playing together. He makes me laugh when I feel like crying and he makes me cry when I feel like laughing. When my mother scolds me he hits me so that my mother has nothing to do and when he hits me, I can hardly feel anything. At the time my friends come to my house, they usually play with him. The only quiet time in the house is when he is asleep. I hope that he will be calm and quiet and the house will be as peaceful as it used to be when he was just born. I hope that he becomes a lot more helpful when we both grow up. 

Anjali

(Reprinted from Anjali 2013)

www.batj.org


Nagasaki Peace Park  - By Aishwarya Kumar, Grade III

I went on a five-day trip to Nagasaki and I am going to tell you all about it. On the 21st of July, I learned about the atomic bomb that was dropped on Nagasaki on August 9th 1945. The name of the bomb was “Fatman”; the bomber’s name was “Bockscar”. Before the atomic bomb was dropped, it was thought that it had to be done to end war. No one tried to discuss with Japan and decided to drop the bomb. Beside Nagasaki, there were few other choices – Yokohama, Kyoto, Tokyo Bay, Hiroshima and Nagasaki. The two places chosen were Hiroshima and Nagasaki. The bomb was dropped on Hiroshima on August 3rd 1945. On August 9th 1945, 11:02 AM was the exact time when the bomb was dropped on Nagasaki. It formed a mushroom cloud in the sky. A wall clock stopped at the exact time, which is kept at the museum; a schoolgirl’s lunchbox with rice had burnt up, six bottles fused together in the heat, a worker wearing working clothes at Mitsubishi steel works burnt up. Mitsubishi Steel works was 1.2 km from the hypocenter where bones of a human being was found; his hand stuck to the glass that melted in the heat of the atomic bomb and another person’s skull was found in the inner surface of a helmet. Only one of the pillars of a gate in the Sanno Shinto shrine was left around that area. I went to other places but this is the main part I remember about Nagasaki. Now I will tell you about peace and if you were living in Nagasaki on August 9th 1945 imagine how would it have felt? First of all, you should know that peace can be more powerful than anything. “Peace is powerful” - the statue of the man in the Peace Park seemed to say. That’s all I know about August 9th 1945.  (Reprinted from Anjali 2008)

www.batj.org

Durga Puja 2017

95


The Las Vegas Incident - Arnab Karmokar, Grade V

S

omething strange was going in the city of Las Vegas. A lot of people noticed one strange creature in a forest in the city outskirts, and a lot of visitors were fuming with anger. This was also making people living in the city leave, and the city is having population loss. The city is having trouble and the time is running out. According to experts on population and society, in about 3~4 weeks, the population of Las Vegas will be gone, and in about three months, the state of Nevada will lose all of their citizens. This may be the biggest crisis in Nevada history. But luckily, there will be one investigator who will investigate this problem. His name is Fred Derek. Frederick Louis “Fred” Derek is a young man from London, United Kingdom, as he moved over from The United Kingdom to The United States for his father’s work since last September. And he wasn’t making that many friends at school as he wasn’t much of an energetic and athletic kid. Instead, he was more of a person who read college textbooks for fun and wrote lots of essays and non-fictional stories for extra credit at school. He loved noticing about the world’s bad things and changing them into good things, and was hoping to be a non-fictional author or a science teacher. And when he heard the news that his present hometown, Las Vegas was in big trouble, he decided to help. Now, let’s get into the main story:

Fred woke up at 6:30 in the morning. He finished his breakfast at around 7:15 am. Until now was his usual routine. But, today he would leave home for some different cause. Today was his first day to go to the Las Vegas’ metropolitan department. Usually, he would go to school and that’s where he would learn all sorts of new techniques. Now, he would go to the department to use all those techniques. A few weeks ago, the streets were filled with visitors, and there was no space for a kid to walk. Now, there were no visitors at all. Only a few people who live in the city are walking for their own needs. This was due to the crazy creature, which is still unknown. This creature, he (or she), was found in the Muddy Mountains’ Forest area, and according to an eye witness, this creature had two hairy wing like arms, two hairy feet, and had a bird-like face. Another witness said that this creature had two feet, two hands, had two wings, and had a human-like face. Fred had an important job. This may change the whole state of Nevada. If he does a mistake, then a big deal might happen. This mission is very strict and unpredictable. As he was walking to the metropolitan department, he bought a salad for lunch. He always took his favorite Italian dressing, but today he got a different dressing to go with the salad. He was bound for a new challenge. ‘Lots of smaller challenges, makes a big challenge’, his home room teacher once said. A few minutes later, Fred reached the department. He thought the department was filled with lots of secretaries rushing from one side to another, and had lots and lots of desks, chairs, air conditioners etc., but, Fred’s guess was wrong. As a matter of 96 www.batj.org Anjali


The Las Vegas Incident fact, there was no air conditioners on the first floor and had a lot of desks and chairs, but not as lot as he thought. Also there was about only ten secretaries. “Hello!” a secretary came up to him, “are you Frederick Derek?” The secretary looked like she was in her twenties but talked and smelled like she was in her fifties. “Umm, yes, my name is Frederick Derek, but I prefer Fred. You see, I have come from Lantern Lane for the invest-.” Fred had no chance of replying back, because the secretary looked like she had no time to waist and just said, “I know everything already. Go to the second floor this second. Your partner has been waiting for you for fifteen minutes.” ‘A partner?’ Fred thought as he went to the second floor. He was wondering this much, because when he volunteered for the investigation, the person on the phone never mentioned that there was a partner. And anyways, he never ever wanted a partner. On the second floor, there was a table and three chairs. One was empty. The other two chairs had a person on each. On one chair sat a big and fat man, who looked like he was in his sixties. On the other chair sat a girl, maybe about his own age. She had freckles on her face, and had brown hair. Anyways, he sat on the empty chair and the old man started giving a short speech. “Well, hello Mr. Frederick Derek and Ms. Theodora Violet. Thank you for coming today’s first investigators’ team meeting. I am the chairman of the investigators’ team, Hudson Thomas. Let’s work very well with each other. Theodora, please give us an introduction of yourself first.” Theodora stood up and gave her intro. “Hi guys, my name is Theodora, but I personally prefer Violetta, so if you wanna ask something, just say Violetta and I’ll help you guys. And I’m more of an athletic kind of girl so that is why I thought of joining in. Nice to meet you. Thank you.” Next was Fred’s turn. Fred stood up. And he said, “hello Mr. Hudson Thomas and Violetta, my name is Frederick as Mr. T said, but I personally prefer Fred, so just say Fred and I’ll be right at your business. I’m more of a nerd, as my classmates say, because I like reading college textbooks etc., so I would like to be more athletic than now. Please cooperate with me. Thank you very much.” And that’s how the first day went. Mr. T. was a lazy guy, Fred thought as he went to shop groceries for his parents as his mom instructed. He was a kind of person who read stashed magazines in weekends and drank lots of milk shake when he worked. In other words, he was a lazy guy. The next day, Fred had the same routine as his previous day. Violetta and Mr. T. were already there when he reached the department, and then Mr. T. explained about today’s routine. Here’s the plan: 1. 10:00 am @ Department, Violetta and Fred start searching forests and city areas 2. 12:30 am @ Starbucks, Use the coupon and get a random drink and food! 3. 1:00 pm @ Starbucks, again start searching forests and city areas where you have never been today! 4. 2:30 pm @ Forest or city area, start coming back to department 5. 3:00 pm @ Department, start giving a brief report on what happened today 6. 3:30 pm @ Department, bye bye and see you tomorrow! But before all this, Mr. T. needed to give out important documents, the “coupon” for Starbucks, and also the badges. So, he gave those stuff out to the two young adults, and they left for the outdoors. “So, where do you wanna go first? The Muddy Mountains’ Area? The Downtown area? The-.” again, Fred got stopped by Violetta as she said, “totally, we need to go to Downtown. Gotta lotta shopping to do.” Girls, Fred thought the two went towards Downtown. When Fred and Violetta were at Downtown, the clock showed 10:25 am. Violetta asked Fred, “Let’s go check out The Las Vegas North Premium Outlets.” Fred was confused. The two were supposed to search and figure out one of the biggest problems in Nevada history and now, a team mate wanted to go to a mall to shop. “Not today, Violetta, today we didn’t come to Downtown to play and have fun, we came here to search for this crazy creature that ruined the city of Las Vegas and the state of Nevada, remember? So, I was suggesting that we should look at the streets of Downtown and search from there, but what do y’ think?” “We could’ve searched in the mall, you big dummy, but whatever, you can go there, and I will go to the mall.” She said as she went away and took a taxi. Fred went to the nearest Starbucks after he searched the streets. He was exhausted. He walked for two hours straight, he ran away from strange people, he got lost and walked a lot to get back to where he started off with. In other words, he was very exhausted. After a while, he went out of the Starbucks café and called Violetta. The ring was going for a while, and eventually she answered the call. “What the heck is wrong?” Violetta asked, seemingly very surprised. “Meet me at The Muddy Mountains’ main gate. Waiting for you there,” Fred said as he hung up. What is wrong with him? Violetta thought as she went to the Muddy Mountains’ main gate. Fred was waiting for her, and then, Fred told Violetta, “I was thinking that we should investigate here. Is it ok?” Violetta gave thumbs up and then, the two left for the investigation. They were never giving up. They needed to find the creature that ruined it for everything. After a while, Violetta was tired and said, “let’s take a break, already I’m so exhausted!” But Fred was never willing to give up. The two walked for two hours since they reached the Muddy Mountains’ area. The two were supposed to get tired by now. As Violetta was sitting on the ground and taking a break, something caught her eyes. She called Fred on her phone. An answer came quickly. “What on earth had happened?” Fred asked. “I found some crazy creature that I never ever looked at before. Come here ASAP. I’m really near to the information center north. Immediately. Bye,” and she hung up. After a few minutes, Fred got together with Violetta. “So what’s suspicious?” Fred asked Violetta. Violetta gave her explanation and point of view about a creature that had wings. As they were getting close to the creature, the creature was yawning, and was wanting to sleep. As he dozed off into sleep, the two caught the creature. www.batj.org

Durga Puja 2017

97


The Las Vegas Incident “Aaaaaaaaaaaaah!” The creature yelled out. “Aaaaaaaaaaaaah!” Violetta and Fred yelled out. Both sides fell to the ground, as the creature’s face got off. Underneath the Bird like face, was a regular human face that somehow, looked familiar to Fred. “Jacob?” Fred noticed the creature, “What the heck are you doing wearing some costume?” “You know the creature?” Violetta asked with a quick reflection. Jacob told his story: “I am a regular kid who is a student at Ernest A. Becker Sr. Middle School. Fred’s in my same class. I was rehearsing for the school play when a bee came into our classroom where we rehearsed. That bee seemed to follow me, because he was looking into my eyes and was ready to sting me. I was scared of insects, especially bees, so I jumped out of the classroom and ran into the woods. After the bee seemed to forget about me and left, I noticed that I was in the middle of the woods. So since then, I am staying in the woods, hoping that somebody could rescue me. I scared people off because my character in the play was a bird, but that time I took of my mask off so some people thought that I was this unknown creature.” A few months later, peace had come back to the city of Las Vegas and the state of Nevada. All the visitors came back and the streets were crowded with tons of people. This crisis has been solved in a fun way by two mighty and brave teens; Fred, and Violetta. 

The Parcel - Amartya Mukherjee, Grade VI or not, this letter was posted more than 20 years ago!”

L

et me tell you an amazing story that happened a few weeks ago.

“Dear Abhay” On a Sunday afternoon I went to my friend, Abhay's house and was playing computer games with my best friends - Abhay & Sai. Then the doorbell rang and a postman delivered a parcel. It was addressed to "Dear Abhay". As my friend Abhay opened the parcel - we were very surprised. It contained baby clothes and was addressed to "Dear Abhay" who was over 10 years old! "Hah? Baby stuff?" said Abhay in a very surprised manner "It was sent by my grandfather ..." Sai & I started laughing "Baby stuff! Your grandfather thinks that you are a baby!” "Something is very strange" said Abhay "This letter was sent from Cape Town in South Africa. But I don't have any relatives in South Africa!” Then I suggested "Ok, let’s go to the post-office and find more about this strange parcel."

The Post-Office The following week, the three of us went to the post office and showed them this letter. After a while the postman told us something very strange - "Believe it 98

I asked, "You mean to say that a letter addressed to Ojima 6-14-4-201, by a South African, in the name of Abhay was posted more than 20 years ago?" The postman replied "Exactly!” Then Sai said "So there must have been another Abhay, living in the same address 20 years ago!” Abhay replied "Exactly - but how do we find out who it was?” Then I had an idea. I suggested "Let’s use Google to find out all the Abhay's living in Japan. We can contact them if it is possible." My friends agreed. "That's a terrific idea” said Abhay "I am also curious as to how many more Abhay's live in Japan!"

Abhay Ranjan Shah As we Googled using the search phrase "Abhay Japan" we got 16 contacts. We then found the email address of each one of them and emailed them asking if any of them had relatives from South Africa. A few days later we received an email from Abhay Ranjan Shah. Abhay told us that he was now 20 years old and was born in Ojima 6-14-4-201. He also told us that his maternal grandfather lived in South Africa. Several times - his grandfather had enquired if they received his gift. However Abhay and his parents thought that the old man was perhaps dreaming and didn't take him too seriously. "Unfortunately, my grandfather died around 5 years ago." said Abhay Ranjan Shah, "and I never got a chance to say ‘Thank you’ for this wonderful gift!” 

Anjali

(Reprinted from Anjali 2010)

www.batj.org


The Nefilibatic Noma - Utsho Bose, Grade IX The evening was vermilion, drenched in her memory. That memory, undaunted, the sun, not set. The Raven had set sail, it’s wings in motion. While they carried his mother into the darkness. Her scream sent shivers down his spine. Like a doe, brought at bay. His father had rushed, his sister soaking in scarlet elixir. Her eyes unfazed, towards the setting sun. Something lost, something gained, he wondered, As he blew bubbles through the blower. The pain of the hiraeth, the contemplation of loss, Seemed to be giving way to momentary bliss. Ignorance, overshadowed by acceptance crept back into its burrow. He turned to bid the radiant giver of life, goodbye. His father’s crutch, shining in the beautifully depressing memories. The stillness of the moment, the dying delirium, Mixed colour. The dogs pricked their ears, The boy raised his head, every cell awakened. Etched with the familiarity of the sound.  His father erect, the air brought the smell of his sister’s blood. The die had been cast. The dogs of war unleashed, upon the final hiding place. There wasn’t a moment to run, no moment to face. Silence broken, metal on metal, blood on Earth. Fate, remorseless. The house lay watching, apparently, unmoved, While they faced destiny, with arms wide open. Each second lasted an eternity, The  puppet masters had fallen, The puppets still on stage, possibly inert. The air pungent, with the echo of a nomad. A song unsung, a faded memory, Eroded footprints on Earth, The last bubble, not blown. (Reprinted from Anjali 2014)

www.batj.org

Durga Puja 2017

99


Celebration by Ayuona Gupta 5yrs (2013)

Dancing girl by Ayana Roy Nandi Gr III

Funtime by Ashmita Pal 6yrs (2013) 100

Anjali

www.batj.org


Fruit Basket by Tuhin Nag Gr V (2012)

Zodiac by Nimisha Anand Gr VIII (2015)

Krishna by Kavya Sharma Gr IX (2014) www.batj.org

Durga Puja 2017

101


Photography

Summer Trails by Sudeb Chattopadhyay

Innocence by Sanjib Chanda


s t r

A

Chigiri-e by Jyotirmoy Ray (2010)

Fuji-Sunfower by Arakawa Saburo (2014)


Zinnia by Mimi Dhar (2010)

Life partner by Sushmita & Amrita Pal (2013)

Anjali


Red and Blue by Sanchita Ghosh (2012)

Anjali Editorial Team


BENGALI ASSOCIATION OF TOKYO, JAPAN (BATJ) STATEMENT OF ACCOUNT FOR 2016-2017 INCOME ITEM

EXPENDITURE AMOUNT

Opening Balance on Aug 10 2016 (from 2015-2016)

ITEM

AMOUNT

Expenses for Durga Puja, Anjali Yen 1,920,249 printing, Saraswati Puja, Poila Break up – Boisakh Celebration, Community  In bank a/c Yen 575,379 meetings, Storage of Durga Pratima, Yen 369,536 Hall rentals, Rehearsals etc.  Cash in hand Collection by subscriptions, Yen 1,163,643 Yen 2,138,977 Closing balance on Aug 4, 2017 pronami, advertisements in (carried forward to 2017-2018) Anjali etc. Break up –  In bank a/c Yen 515,675  Cash in hand Yen 647,968

TOTAL

Yen 944,915

Yen 3,083,892

TOTAL

Yen 3,083,892

SINCERE THANKS FROM

Bengali Association of Tokyo, Japan www.batj.org

For assistance on the occasion of Durga Puja on October 8, 2016 - Mr. and Mrs. Ranjan Das for providing fruits and sweets for the Puja - Mr. and Mrs. Partha Kumar for providing sweets for the Puja - Mr. and Mrs. Biswanath Paul for providing fruits and flowers for the Puja - Mr. and Mrs. Prabir Patra for providing flower bouquets for Pratima decoration - Mr. and Mrs. Satnam Singh (Moti) for providing Sweets for the Puja For assistance on the occasion of Saraswati Puja on February 5, 2017 - Mr. and Mrs. Biswanath Paul for providing dry fruits and flowers for the Puja - Mr. and Mrs. Ranjan Das for providing sweets for the Puja - Mr. and Mrs. Sanjib Chanda for providing sweets for the Puja - Mr. and Mrs. Arani Bhattacharya for providing fresh fruits for the Puja


May Maa Durga’s Blessings Bring Peace and Harmony to All - A well wisher Carica Celapi PS-501 Carica is a powerful and delicious food supplement made of fermented papaya. Papaya has been called “golden tree of life” and has been a favourite substance from ancient times. Carica is produced from papaya by excellent world renowned Japanese fermentation technology. Carica Celapi PS501 is made from unripened papayas which have been selected carefully. After taking the skin, seed and juice from the fruit without oxidation, they are fermented and ripened, then dried naturally. There is no process of extracting just one component or chemical treatment. Also there are no additives such as vitamins or calcium. The manufacturing process is natural and holistic. a. b.

“Carica Celapi PS-501” , 100 sachets (3grams each) 25,000yen “Carica Celapi PS-501” , 40 sachets (3grams each) 12,000yen

For more information or order 0120-65-8631(free call)

Free catalogs (in Japanese) is available

Amrit, Inc. ( 有限会社アムリット )

Ayurveda, Jyotish, Gandharva-veda, Amrit Kalash

〒510-0815 三重県四日市市野田1-2-23 TEL 059-340-5139 FAX 059-340-5175 E-mail: info@amrit.jp URL: http://www.amrit.jp

アーユルヴェーダ インド占星術 太古インド音楽 ヴェーダ天文台

Amrit, Ghee, Incenses, Aroma oils, Herbal teas, Spices, Ancient Indian Music CD, Books, Indian Astrology, Ayurveda, 本物研究所代理店


Best Wishes From Rokko Sarees & Fabrics Co., Ltd. Famous for Japanese and Indian Sarees and Fabrics

Batra Insurance Agents for Comprehensive Fire, Comprehensive Automobile, Personal and Public Liability, Overseas Travel Personal Accident Insurance and

Since 1972

Reverse OTPA for Short Term Medical Insurance needs for your relatives visiting Japan.

Tokyo Office (JR Ebisu St. East Exit) Pine Crest 1Fl., 1-7-3, Hiro-o, Shibuya-ku, Tokyo. 150-0012 Tel.: 03-3400-6887 Fax: 03-3400-6889 Mobile: 090-9848-4373

Priya

e-mail: rokko_sarees@f02.itscom.net batra-insurance@f02.itscom.net

The Indian Restaurant

Priya signifies extreme care, dedication and love, emotions that arise from the well of our heart. Violent in passion, yet remarkably restrained in manifestation. Priya sums up Indian Hospitality - Athithi Deva Bhavo (the guest is our God). At Priya, we are guided solely by the traditional Indian Philosophy. Yes, God is our guest tonight.

अितथी दवेो भवः 5-2-25 Hiroo Hongoku Building 3rd Floor Shibuya-ku Tokyo 東京都渋谷区広尾 5-2-25 本国ビル 3F Telephone: 03-5941-6996


Phone: 81-46-873-0428 Fax: 81-46-873-0592 Website: http://www.vedanta.jp Email: info@vedanta.jp

â&#x20AC;&#x153;Questions of law are not decided in an intellectual quarantine area in which legal doctrine and the local history of the dispute alone are retained and all else is forcibly excluded . We cannot afford to be ignorant of the world in which disputes arise .â&#x20AC;? - Radhabinod Pal -


At the MAHARAJA GROUP restaurants we use carefully selected ingredients, extracting nutritional and medicinal juices of the spices and herbs, which nourishes our dishes, while supporting the environment by retaining its

originality, we also ensure that every dish is made healthy and delicious to the palate.

MARUNOUCHI MAHARAJA (丸の内) __________ 03-5221-8271 SHINAGAWA MAHARAJA (品川) _____________ 03-5769-8707 KHAZANA ODAIBA (お台場) ________________ 03-3599-6551 SHIN-YOKOHAMA MAHARAJA (新横浜) _______ 045-350-6324 KHAZANA SAKURAGICHO (桜木町) ___________ 045-682-2873 BOMBAY CAFE HARUMI (晴海) ______________ 03-5144-8256 SPICE HEAVEN SHINJUKU (新宿) _____________ 03-5325-6797 NAGOYA MAHARAJA (名古屋) ______________ 052-587-5755


MOST AUTHENTIC INDIAN FOOD IN TOWN OPEN DAILY: 11:30 a.m.-11 p.m. (LAST ORDER 10 p.m.)

MOTI AKASAKA, near T.B.S. 2-14-31-3F CENTER MINAMI, AKASAKA, YOKOHAMA

MINATO-KU, TOKYO

TEL (03) 3584-6640, 6649

TRY OUR SOUTH INDIAN SPECIALITIES


With Best Wishes

  Please contact us for: 1) Remittance Services 2) Deposit Services 3) Trade-related Services                 

         

Tokyo

and 

4) Foreign Exchange

Marunouchi Nakadori Bldg. 2-2-3, Marunouchi Chiyoda-ku, Tokyo 100-0005 Phone: 03-3212-0911 e-mail: boitok@gol.com

Osaka

Nihon Seimei Sakaisuji Honmachi Bldg. 1-8-12, Honmachi Chuo-Ku, Osaka 541-0053 Phone: 06-6261-4035 e-mail: boi.osaka@bankofindia.co.in

Please visit us at http:///www/boijapan.com


Heartiest Gᶐᶃᶃᶒᶇᶌᶅᶑᴾᶄᶐᶍᾼ

The New India Assurance Co. Ltd (A GOVT. OF INDIA UNDERTAKING) 1-24-1, Nishi-Shinjuku, Shinjuku-Ku TOKYO 160-0023 67 GLORIOUS YEARS OF DEDICATED SERVICES IN JAPAN AN INDIAN MULTI-NATIONAL SINCE 1920 WITH PRESENCE IN 28 COUNTRIES Branches: Tokyo, Osaka, Nagoya, Hiroshima, Sapporo, Okayama Sub Branches : Fukuyama, Iwakuni, Shiimonoseki, Gifu, Himeji Please visit us at www.newindia.co.jp


Wishing All A Very Joyous Durga Puja - Amitava From Amitava Ghosh (080 3177 6563)


120

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2017

121


122

Anjali

www.batj.org


www.batj.org

Durga Puja 2017

123


124

Anjali

www.batj.org

Anjali 2017 Magazine  

Anjali is the yearly Tokyo Durga Puja magazine. It is a multilingual literary magazine published during Durga Puja (one of the most importan...

Advertisement