The Laborecon - নিউজলেটারের বাংলা ভার্সন ইএসএসবি
বাংলাদেশ
নিউজলেটার
শ্রমার্থ
সংখ্যা ০১ ভলিউম ০১
লেখকঃ
মোঃ তারেক হোসেন
অর্থনীতির উপাত্ত বিশ্লেষক, গল্পকার।
অর্থনীতি | সমাজ | জীবন ও জীবিকা
সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
www.thelaborecon.com/shromartho
শ্রমার্থের দুনিয়া, বর্ত মান ও ভবিষ্যৎ অনাদিকাল থেকে চাওয়ার তুলনায় পাওয়ার পরিমাণ নিতান্তই অপ্রতুল ছিলো। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের শ্রমের বিনিময়ে ৩০ শতাংশ পেয়েছে আয়েশি জীবন, ভোগের উৎসব, বিলাসিতার নানাবিধ উপকরণ। দেশ সংস্কার কে না চায়? সবাই চায় দেশের সব সেক্টর পুনর্গঠন হোক, অনিয়ম দূর হোক, দুর্নীতি বন্ধ হোক, নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে সবকিছু যেন চলে। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক, দেশ উন্নত হোক - এসব চাওয়া আপামর জনতার। এ চাওয়া গুলো অযৌক্তিক নয়, কিংবা অসম্ভব, অযাচিতও নয়। জনগণের প্রতিটি চাওয়ার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, রয়েছে হাজার বছর ধরে চলে আসা প্রথা, রীতিনীতির দারুণ-নিদারুণ সব অভিজ্ঞতা। অনেক চাওয়া, দাবির পেছনে অনুকরণপ্রিয়তা যেমনি আছে, আবার প্রয়োজনীয়তাও আছে। এসবের পেছনে মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক, সাংস্কৃ তিক, রাজনৈতিক, ভূ -রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রভাব ফেলেছে নানা সময়ে, নানা কারণে। অনাদিকাল থেকে চাওয়ার তু লনায় পাওয়ার পরিমাণ নিতান্তই অপ্রতু ল ছিলো। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের শ্রমের বিনিময়ে ৩০ শতাংশ পেয়েছে আয়েশি জীবন, ভোগের উৎসব, বিলাসিতার নানাবিধ উপকরণ। শ্রমের বিনিময়ে প্রাথমিক চাওয়া যেহেতু খাদ্য, বস্র, বাসস্থানের যোগান দেয়া, কাজেই শ্রমের গভীরতা, মর্মার্থ অভাবের সংসারে কোন কালেই উপলব্ধ ছিলো না। শ্রম চু রি, শ্রম বৈষম্য থেকে দিনদিন ঐ ৭০ শতাংশ মানুষের চাওয়া বা চাহিদা সীমাহীন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে, তা এতকাল পর অল্প কথায় বোঝানো কি করে সম্ভব? এ সমাজের চাহিদা ২ রকম। প্রথমত, ৭০ শতাংশ মানুষের চাহিদা। যার তালিকা করে শেষ করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, ৩০ শতাংশ মানুষের চাহিদা। এ শ্রেণির মানুষের চাহিদা গুলো অন্যরকম। এরা শান্তি চায়। এদের এই একটি শব্দ 'শান্তি' চাওয়ার মধ্যেই ৭০ শতাংশ শ্রমজীবী ঘুরপাক খায়, বিহ্বলিত হয়ে থাকে। তারা তখনও জানে না, এদের চাহিদা তাদের মতো নয়। এরা গাড়ি, বিনোদন, পার্ক , বিদেশ ভ্রমণ এসবের চাহিদা করে, এ-সব স্থিতিশীল পরিবেশে পেলেই এই শ্রেণি খুশি, সন্তুষ্ট। শোষক শ্রেণির মুখের বুলি শুনলে ভাববেন এ যেন প্রজা বাৎসল্য মহারাজ স্বয়ং নাজেল হয়েছেন শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায়! কতশত উদ্যোগ নিয়ে হাজির! যেন বিধাতা তাদের মাঝে অবতার হয়ে এলেন! মেকি
সব মন ভু লানো অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে শ্রমজীবীর শ্রম চু রি এড়িয়ে যায় তারা প্রতিনিয়ত। এরপর থেকে আলোচনার সুবিধার্থে প্রথম শ্রেণির মানুষদের আমরা শ্রমজীবী এবং দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষদের পরজীবি হিসেবে বর্ণনা করবো। পুঁথিগত দর্শনের বাইরে এসে কতগুলো চমৎকার উদাহরণ, বিশ্লেষণের মাধ্যমে আপনাদের শ্রম চু রির আদ্যোপান্ত বর্ণনা করবো, ইংশাআল্লাহ। একটা কর্পোরেট হাউজের কথা চিন্তা করুন, এর কর্মঅপ্রিবেশ না, ভাবুন দৃষ্টি দিন এর ভবন, অবকাঠামোর দিকে। কি নান্দনিক তাই না? এবার মনে করার চেষ্টা করুন যখন এই ভবনটি তৈরির কাজ চলছিলো, আপনি হতো এর পাশ দিয়ে হেঁ টে যাচ্ছিলেন, দেখেছিলেন কত শত শ্রমজীবী মানুষ ঝু লে ঝু লে এই ভবনের ইট, রড, টাইলস কিংবা রংয়ের কাজ করছিলো! এই ভবনটিকে অস্তিত্বে নিয়ে আসার পেছনে যারা রাতদিন এক করে খাটা-খটু নি করেছিলো তারা কি এই ভবনে শ্রম নিয়োগের পর যে বিনিময় পেয়েছিলো তার পর কোন পেনশন পেয়ে আসছিলো? না, পায়নি, পাচ্ছে না। কিন্তু ভবনের অবকাঠামো বাবদ ব্যয়ের সমপরিমাণ লাভ কি কর্পোরেট পরজীবী ২০/৩০ বছর পর উঠিয়ে নেয়নি? বিনিয়োগ সম্পূর্ণ রিটার্ন পাওয়ার পর , ২য় পর্যায়ে লাভের টাকা গুলো এখন কার পকেটে যাচ্ছে? বলবেন, বিনিয়োগ যে করেছে তার প্রাপ্য। আচ্ছা! তাহলে শ্রম বিনিয়োগের জন্য সেই শ্রমজীবীর লাভ কোথায় যাবে? সেই লাভের অংশ কে বা কারা নিয়ে গেল? না চু রি করলো! সুদের নামে ‘ব্যাংক ব্যবস্থার শুভঙ্করের ফাঁকি’ হয়তো শুনেছেন, কিন্তু শ্রম চু রির কথা কজনই বা বলে। এই সভ্যতা এভাবেই মহাচু রির আয়োজন করে রেখেছে সর্বত্র। এই সুযোগে বলে রাখি, নোট রাখুন, চু রির অপরাধ এজন্যই অঙ্গহানি! এই চু রির গভীরতা বুঝতে হলে ‘শ্রম’ কী, তা জানা জরুরি। সহজ কথায় জ্ঞান, দক্ষতা, সময় — এ তিনের সমন্বয়ে যা হয়, তাই শ্রম। জ্ঞান, দক্ষতা, সময় - আলাদাভাবে চু রি করা যায় না। যখন এগুলো শ্রমে রূপ লাভ করে, তখন ই চু রি করা সম্ভব। তবে এ চু রিকে নবমাত্রা দিয়েছে ফিয়েত কারেন্সি তথা আমি আপনার পকেটে থাকা ‘অর্থ/মুদ্রা/কাগুজে টাকা’ এজন্যই এ চু রি জটিল, দুর্বোধ্য, আলোচনার বাইরে।
https://www.youtube.com/@TheLaborecon https://www.facebook.com/Shromartho
ভাবুন - আপনার সন্তানকে আপনি ১০০০ টাকার একটা নোট দিলেন, হাত খরচের জন্য। সে এই টাকা হাতে নিয়ে যদি ভাবে, বাবার ১২ ঘণ্টার সময়, ২০/২৫ বছরের অভিজ্ঞতা/পড়াশোনা, এক জীবনের জ্ঞানের অনির্ণেয় সমাহার এই কাগজের নোটটিতে! তার চোখ ছলছল করে উঠবে, যা তা কিনে খরচ করা কিংবা অপব্যয়ের দূর-চিন্তাও তার আসবে না। কারণ তার কাছে এই টাকার পেছনের শ্রম গল্প জানা, রহস্য উন্মোচিত। এই হাজার টাকার নোট যতক্ষণ তার পকেটে থাকবে, তার মানে সে তার বাবার ঐ টাকার সমপরিমাণ শ্রম নিয়ে ঘুরবে! গায়ে শিহরণ দেয়ার মতো অনুভূ তি। শ্রমের অন্তর্নিহিত মানে কেনই-বা মানুষ বেমালুম, কেন এতো শ্রম চু রি, কিভাবে এর থেকে পরিত্রাণ মিলবে? বাঁচার জায়গা কই? জীবনানন্দের ভাষায়‘তোমাকে দেখার মতো চোখ নেই—তবু, গভীর বিস্ময়ে আমি টের পাই—তু মি আজো এই পৃথিবীতে র'য়ে গেছ। কোথাও সান্ত্বনা নেই পৃথিবীতে আজ; বহুদিন থেকে শান্তি নেই। নীড় নেই পাখিরো মতন কোনো হৃদয়ের তরে। পাখি নেই। মানুষের হৃদয়কে না জাগালে তাকে ভোর, পাখি, অথবা বসন্তকাল ব'লে আজ তার মানবকে কি ক'রে চেনাতে পারে কেউ।’
যা দেখি না, তাকে নিয়ে বলা বেশ কঠিন। এই পৃথিবীতে শ্রম আছে, শ্রম চু রি আছে, আর তা না দেখার ভান করে থাকার মতো মানুষও আছি আমরা। শ্রমিকদের বিনিয়োগকৃ ত শ্রমের প্রতিদান হিসেবে তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে- একমাত্র যাকাত তথা বছর শেষে মোট সম্পদের বা নগদ অর্থের ২.৫% পরজীবীদের থেকে বলপ্রয়োগ করে হলেও নিয়ে তা বঞ্চিত শ্রমজীবীদের হিসাবে পাঠানো অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে, শ্রম চু রি বা শ্রমের শোষণ অনাদিকাল চলতে থাকবে। “I swear by this city” — শহরের ব্যস্ত মানুষের শ্রম চু রির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেই আল্লাহর এমন শপথ! সূরা বালাদে যে শ্রমের গভীর অর্থ পরবর্তী আলোচনায় বিস্তারিতভাবে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো ইংশাআল্লাহ। ... চলবে।
প্রকাশক: বাংলাদেশ অর্থনীতি ছাত্র সমিতি E-mail: ecowatch.leanews@outlook.com